গল্প:অমৃত্যু তোকে চাই(০৪)

লেখিকা:রাহিচৌধুরীতোহা

পর্ব :৪

রিক্তা শিখার হাত থেকে ফোন নিয়ে নাচটা দেখতে থাকে। কিছুক্ষন পর বলে „“ দেখ শিখা, তোর ভাইয়াকে কত সুন্দর লাগছে। বেডায় সারাক্ষণ শুধু মুখ গোমড়া করে রাখে। সয়তান বেডা ।

পাশ থেকে শুভ বলে„“ কি আমি সয়তান?

” হুম “
এটা বলেই রিক্তা ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়। দেখে শিখা নেই, তার পাশে বসা শুভ।
রিক্তা ভয় পেয়ে যায় তড়িঘড়ি করে বলে „“ না না, আপনি সয়তান না।

এই বলে সে উঠে যেতে নিবে, তার লেহেঙ্গার ওড়না শুভর ঘড়িতে আটকে যায় আর সেটা টান খেতেই সে দাঁড়িয়ে পড়ে।

শুভ তার ঘড়ি থেকে ওড়নার আঁচল ছাড়াতে ছাড়াতে বলে„“ এভাবে যদি বারবার ভয়ে চলে যায় পরে কি হবে? “

রিক্তার ছোট মাথা শুভর কথা কিছুই ডুকলো না।


রিক্তায় শুভ কথায় লজ্জা ছাদের এক কোনে দাড়িয়ে থাকে। তখন মিলি আসে।
মিলি রিক্তার পাশে ঘেঁষে দাড়িয়ে বলে„“ তোমার সাথে কিছু কথা আছে।”

রিক্তা তার উপস্থিতি টের পেয়ে গুরে তাকায় তার দিকে। তার পর মিষ্টি স্বরে বলে „“জ্বি বলেন আপু।”

মিলি বুকের কাছে হাত ভাজ করে সোজা হয়ে দাড়িয়ে বলে „“ তুমি শুভ কে ভুলে যাও।”

মিলির কথায় রিক্তার ভরকে যায়। যকে গত ২ বছর ধরে মনে প্রানে ভালোবেসে এসেছে এখন না কি তাকে ভুলে যেতে হবে। রিক্তা বিস্ময় নিয়ে বলে „“কি বলছেন আপু?”
” হ্যাঁ যা শুনেছো তাই। যতো টাকা লাগবে আমি দিবো তুমি শুভর আশে পাশে থাকবে না। ওকে আমি ভালোবাসি।”

এতো ক্ষনে রিক্তা কিছুটা বুঝতে পারলো।
রিক্তাও কম কিসে সেও পালটা উওর দেয় „“আপনার টাকা আপনার কাছেই রাখুন। আর শুভ ভাই যাকে পছন্দ করবে সে তারই। বুঝলেন।”
এই বলে রিক্তা যেতে নিবে।
পিছন থেকে মিলি রিক্তার হাত চেপে ধরে। রিক্তাও পেচ কাটিয়ে মিলির হাত পিছনে চেপে ধরে বলে „“শুনে রাখুন আমাকে যতোটা বোকা ভাবছেন আমি কিন্তু ততোটাও বোকা না। কথা টা কি কানে গিয়েছে?”

এই বলে রিক্তা হাত ছেড়ে বলে „“ I am not as stupid as you think I am If you feel with me, you will think about it a thousand times.”

এই বলে রিক্তা এসটেজে চলে আসে।

মিলি রাগে দাত কট মট করতে করতে বলে„“এই মেয়েকে হালকা ভাবলে চলবে না। কথায় আছে না সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকাতে হয়।
এই বলে সয়তানি হাসে মিলি।”

কিছুখন পর হঠাৎ লাইট বন্ধ হয়ে যায়। রিক্তা ভ্রু কুঁচকে বলে „“ আব্বু এই সব কি লাইট এনেছে। শুধু শুধু অফ হয়ে যায়।”

গানের আওয়াজ বেসে আসে।
এসটেজে কিছু লোক উঠতে থাকে আবছা আলোয় বুজা যাচ্ছে শুভর টিম। কিছুটা লাইট অন হলো। সবাই কালো ড্রেস মাথা থেকে পা অবদ্ধ কালো। গলায় লাল ওরনা। সবাইকে মানিয়েছে। এক এক করে উঠছে আর গাইছে
শুভ: Maatooi jigar.
রাহাদ : katil hai na zor.
সাকিব : ik noor-e nabe.
সোহাগ :ya hai tabaahi
সোহান :gardan suraahi.
রাহাদ : bali ilaahi
শুভ : afgnan halebi Mashooa farebi.
সবাই একসাথে : ghaoyal bial tera deeana. Bhai wah, bhal wah.
(এভাবে তারা এন্ট্রি নিয়েছিল আর পুরো গান তো দেওয়া যায় না তাই এতো টুকু দিয়েছি।)

নাচ শেষ সবাই কর তালি দিতে থাকে। রিক্তা বেশ অবাক „“কি হচ্ছে এই সব। আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা।”

ওইদিকে শুভ, রাহাদ,সাকিব,ইব্রাহিম,ফাহিম, সিয়াম আরো অনেকেই ড্রিংক করেছে। ড্রিংক করার ফলে শুভ মাতলামি করছে। শুভ অতিরিক্ত ড্রিংক করছে।

রাহাদ শুভকে সামলাতে সামলাতে সে নিজেও হয়রান। রাহাদও ড্রাংক। কিন্তু কম। রাহাদ শুভর এক হাত তার কাদে দিয়ে তাকে জাপটে ধরে রুমের দিকে নিয়ে যেতে থাকে। বিরক্ত নিয়ে বলে „“শালাকে অতিরিক্ত ড্রিংক করতে না করেছি। কিন্তু না সে করেই গিয়েছে। এখন তাকে নিয়ে আমার জালা।”

রাহাদ শুভকে হালকা লেবু খাইয়ে শুইয়ে দেয়। কেউ যদি জানতে পারে তারা ড্রিংক করেছে তাহলে আর বাড়ি থাকা লাগবে না।

অনুষ্ঠান শেষ হয় রাত ১২ টায়। এই বাড়িতে অনুষ্ঠান করা নিষেধ। তাও তারা নিয়ম ভেঙে অনুষ্ঠান করেছে তাই তারা তারি শেষ করেছে।

কাল যে যেখানে শুয়েছে সে সেখানেই।
☁️ সকাল বেলা।

আজ রিয়াকে নিয়ে যাবে। তার ব্যবস্তা করছে সবাই।
রিয়া সকাল থেকে মন খারাপ করে বসে আছে। তার পাশে বসে মজা করছে রিক্তা, শিখা, রিতু, সুরাইয়া, নুপুর, বৃষ্টি, মিলি, আর শুভর দাদি। সে আজেই এসেছে।
নিচ থেকে রাহাদের কন্ঠ বেসে আসে „“এই তোরা যেকোনো একজন এদিকে আয় তো।”

রিক্তা শিখাকে পাঠায়।

শিখা রাহাদের পাশে গিয়ে কাচুমাচু করে বলে „“জ…জ্বি। বলেন ভাইয়া।”

রাহাদ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় শিখার দিকে। তার পর বলে„“ গিয়ে শুভ ভাইয়াকে ডাক দিয়ে নিচে আসতে বলো …..”

শিখা মাথা নাড়িয়ে সম্মতী জানায়।
এই বলে সে রিয়ার রুমে চলে যায়। গিয়ে মিলি কে দেখিয়ে রিক্তাকে বলে „“ রাহাদ ভাইয়া বলছে শুভ ভাইয়া কে ডেকে আনতে।”

রিক্তা বুঝে যায় কিসের জন্য শিখা এই কথা বলছে তাই সেও বলে „“আচ্ছা যাচ্ছি।”

মিলি মিষ্টি করে বলে „“তা রিক্তাকে বলার কি আছে। তুমি গিয়ে ডাকলেই৷ তো হয়।”

রিক্তাও বলে „“থাক আপু আমি গিয়ে ডেকে দেই”

শুভর দাদি এনিফা খান বলেন „“নাত বউ একলা যাস না। পরে কিন্তু নাতি তোকে আর ছাড়বে না।”

সহসা সবাই হেসে উঠে। এনিফা খান এরকমই সবার সাথে মজা করে।

রিক্তাও হেসে বলে „“তোমার জন্য জামাই টাকে আর পাই কই গো…”

মিলি রাগে ফুসছে।

রিক্তা মিলিকে দেখে এনিফা খানের উদ্দেশ্যে বলে „“ সতিন বুড়ি ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিয়ে রাখো কখন যেন বোমা ব্লাস্ট হয়।”
এই বলে রিক্তা দৌড়ে পালায়।

শিখা ছাড়া আর কেউ বুঝলো না।

রিক্তা রাহাদের রুমের দিকে যেতে থাকে আর গুনগুন করে গায় –
~ ~ একটা প্রেমের গান লিখেছি..
আর তাতে আপনার নাম লিখেছি।
মাঝ রাতে বনাম হয়েছে মন..

রুমের সামনে এসে দাড়ায় মনে সাহস জোগায়। কিছুক্ষণ ঘনঘন শ্বাস নেয় আর ছাড়ে। তারপর নক করে ভিতরে যায়।
দেখে শুভ কালকের অবস্থায়ই শুয়ে আছে।
রিক্তা ভ্রু কুঁচকে শুভর দিকে এগিয়ে যায় „“ শুভ ভাই সকাল হয়েছে। উঠেন ভাইয়া ডাকছে।”

শুভর কোনো সারা নেই। এখনোও তার গোর কাটেনি।
রিক্তা হাত বাড়িয়ে দেখার চেষ্টা করছে শুভ কি জেগে আছে কি না। আচমকা শুভ রিক্তার হাতে ধরে টেনে তার বুকের মাঝে চেপে ধরে বিরবির করে বলে „“প্লিজ মায়াবী লতা নড়ো না।”

রিক্তা উঠার জন্য ছটফট করেছে।
শুভ ঘুমের মধ্যে কপাল কুঁচকে বলে „“রিক্তা মার খাবি। নড়তে না করেছি না নড়বি না।”

রিক্তা শুভর বুক বারাবর একটা চিমটি কাটে।

শুভ হকচকিয়ে উঠে বসে রিক্তা ছেড়ে দেয়।
ছাড়া ফেতেই রিক্তা বসা থেকে উঠে দাড়িয়ে পরে। শুভ ভালো করে চোখ খুলে রিক্তাকে দেখে শুভ থতমত খেয়ে যায়।
শুভ আস্তে করে জিজ্ঞেস করে „“তুই এখানে কেনো?”

রিক্তা বিরক্ত হয়ে বলে „“সেই কখন থেকে ডাকছি কানে যায় না?”

“তোর যেই পিচ্চি আওয়াজ, আবার সেটা কান পর্যন্ত,।”
শুভ ঠ্যাটার স্বরে বলল।

রিক্তা রেগে গিয়ে জানালার র্পদা সরাতে সরাতে বলে„“এই পিচ্চি পিচ্চি করবেন না তো ভালো লাগে না।”
রিক্তাকে পিছন থেকে পুরো গিন্নিদের মতো লাগছে।
শুভ সেদিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো।
“তুই যখন ডাক্তার সাহেব ডাক্তার সাহেব বলে আমার মাথা খাস তখন?”
খাট থেকে নামতে নামতে বলে শুভ।

রিক্তা পিছনে ঘুরে কোমরে হাত দিয়ে বলে „“ডাক্তারকে কি বলে শুনি? ডাক্তার কে ডাক্তার সাহেব বলবো না কি এই যে মিস্টার শুভ খান এটা বলে ডাকবো?”

শুভ টাওয়াল নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকতে ঢুকতে বলে „“ প্রয়োজনে তাই বলবি।”

রিক্তা মনে মনে বলে „“ বদমেজাজি ঘাড় তেরা লোকটাকে ডাক্তার কে বানালো ভাই।”

🌄 সন্ধ্যা।

রিক্তারা তৈরি হচ্ছে কিছুক্ষণ পর বর আসবে। রিক্তা সাদা গাউন পরছে, ঠোঁটে হালকা কোরিয়ান ভেসলিন দিয়েছে, রাহাদের দেওয়া s নামের লোকেটওয়ালা চেন পরেছে, কানে ছোট জুমকা, হাতে চিকন বেচ লাইট, হাঁটু অবদ্ধ চুল গুলো ছাড়া, চুলে ছোট দুইটা বেবি হেয়ার ক্লিপ, এনাফ এতো টুকুই রিক্তার যথেষ্ট।
শিখা পরেছে গোলাপি থ্রি পিস তার সাজও সাদা মাটা রিক্তার মতো।
রিতু পরেছে লাল গাউন তাকেও কম সুন্দর লাগছে না।
তিনজন বসে আছে রিয়ার কাছে।
রিক্তা শিখার উদেশ্য বলে „“ বাহিরে যাবি?”

শিখা উওরে বলে „“না রে তুই যা।”

রিক্তা উঠে নিচে যেতে থাকে।
রিক্তা নিচে নামতেই রাহাদ কে দেখে বলে „“ভাইয়া আজ আমাকে কেমন লাগছে?”

রাহাদ ঠাট্টার গলায় বলে „“ আজ পেতনী কে আরো পেতনী লাগছে।”

রিক্তা রেগেমেগে লাল „“কিহ। দাঁড়াও।”

এই বলে রিক্তা চেচিয়ে ডাকতে থাকে „“বড় আব্বু, বড় আব্বু,।”

রাহাদ তাড়াতাড়ি করে বলে „“ না না আমার বোনুকে পেতনী একদমি লাগছে না।”
তারপর সাকিব কে বলে „“ওই তোর কাছে লাগে?”
সাকিব তারাতাড়ি উওর দেয় „“ না না।”
রাহাদ সোহাগ কে জিজ্ঞেস করে „“ ভাইয়া তোমার লাগছে?”
সিয়াম বলে „“না না একদম না।”

রাহাদ রিক্তাকে বলে „“ দেখেছিস তোকে পেতনী লাগছে না এবার থাম।”

” থামতে পারি এক শর্তে।”

রাহাদ ভ্রু কুঁচকে বলে „“কি শর্ত?”

“আমাকে আপুর বিয়ের এসটেজ ঘুড়িয়ে দেখাও। “– বেশ আনন্দ নিয়ে বলল রিক্তা।

রাহাদ মৃদু হেসে বলে „“ আচ্ছা চল৷।”
তারপর একটা গোলাপের থালা দেখিয়ে বলে „” ওই থালাটা নিয়ে চল।”

রিক্তা থালাটা হাতে নিয়ে রাহাদের পিছন পিছন যেতে থাকে।

এসটেজে এসে দেখে খুব সুন্দর করে সাজিয়েছে। চারদিকে ফুল৷ মৌ মৌ করছে সব রিয়ার পছন্দ মতে হয়েছে। রাহাদের বন্ধুরা আসতেই তাদের কাছে রাহাদ চলে যায়। যাওয়ার আগে বলে গিয়েছে „“ রিক্তা তুই দেখ আমি ৫ মিনিটের ভিতরে আসছি। কোথাও যাবি না।”

রিক্তা মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সম্মতি দেয়।

রিক্তা ঘুড়ে ঘুড়ে দেখছে তখন উপর থেকে একজন কর্মচারি বলে „“ আফামুনি ওই লাল গোলাপ ফুলের পাপরির থালা টা দেন।

লোকটা বেশ উপর থেকে বলেছে। রিক্তা সেই জায়গায় ছুঁতে না পারায় একটা চেয়ার এনে দাড়িয়ে থালাটা এগিয়ে দিতেই সে পরে যায়। পরে যাওয়ার আগেই শুভ রিক্তাকে কোলে ধরে ফেলে।
শুভ প্রথম থেকেই দেখছে রিক্তার কান্ড।
ওইদিকে অন্য একজন আড়ালে রাগে জলছে। কারন তার প্ল্যান ফেল হয়ে গেলো। সে আর কেউ না শুভর চাচাতো বোন মিলি। সে চেয়ার টাকে ভেঙে রেখেছে যাতে রিক্তা দাড়ালেই পরে যাবে সেই উদ্দেশ্য। আফসোস কথায় আছে অন্যর জন্য কুয়া খুরলে সেই কুয়ায় নিজেকেই পরতে হয়।

রিক্তার হাতে থাকা সব গোলাপ ফুল তাদের দুজনের উপর পরে। শুভর আকাশ থমকে যায় শুভর মনে হয় আকাশ থেকে নামা কোনো সদ্য সাদা পরি তার কোলে লেপ্টে শুয়ে আছে।
ভয়ে রিক্তার চোখ খিঁচে বন্ধ করে আছে। রিক্তা অনুভব করলো সে শূন্যে ভাসছে। সেটা বুজার জন্য পিটপিট করে চোখ খুলে। চোখ খুলতেই শুভর চোখে চোখ পরে। রিক্তা তারাতাড়ি চোখ সরিয়ে নেয়।
শুভ কিছু টা ধাতস্থ হয়ে রিক্তাকে নামিয়ে দিয়ে দমকের স্বরে বলে „“এই মেয়ে তোমার কি চোখ নেই? দেখে চলাফেরা করতে পারো না?”

রিক্তা চুপ করে মাথা নিচু করে সব শুনছে।

শুভ বিরক্তি নিয়ে বলে „“ কাকে কি বলছি পিচ্চির আবার বুদ্ধি!”

রিক্তা এবার জবাব দেয় „“ দেখুন ডাক্তার সাহেব কথায় কথায় পিচ্চি বলবেন না। আমি কলেজ সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি।”

শুভ কিছুটা ঝুকে বলে, „“ তো তাহলে কি বলবো ম্যম?”

শুভকে সামনে ঝুকতে দেখে রিক্তা লজ্জা লাল হয়ে গেছে। রিক্তা শুভকে দু হাতে ধাক্কা দিয়ে চলে যেতে যেতে বলে „“যা খুশি”

পিছনে শুভ হাসছে।


সবাই বরের অপেক্ষায়। তাদে অবসান ঘটিয়ে বর আসলো। মেয়েরা গিয়ে গেট দরেছে। সচারাচর সব বিয়ের গেইটের টাকা নিয়ে যা হয় তাদের সাথেও তাই হলো।
তারা টাকা দিবে না আর তারা টাকা ছাড়া ছাড়বে না।

রিক্তা চেহারায় বিরক্তি ফুটিয়ে বলে „“ দেখন আপনারা নতুন মেহমান। আর আমাদের একটা নিয়ম আছে যে নতুন মেহমান কে বেশিক্ষণ বাহিরে দাড়িয়ে থাকতে নেই। তাই বলছি টাকা দিন। এবং ভিতরে প্রবেশ করেন”

হৃদয়ের এক বন্ধু বলে „“ কেনো বিয়াইন এতো তাড়া কিসের। জামাইকে ঘরে রেখে আসছেন?”

বিরের মাজ থেকে একজন বলে „“ অবশ্যই। জামাই ছেলে মেয়ে রেখে আসছে তো। এখন ভালোই ভালোই দিয়ে দাও।”
এটা আর কেউ না সয়ং আব্রাহাম খান শুভ।

শুভকে দেখতেই ছেলেটা মাথা নিচু করে সম্মান জানিয়ে ভয়ারতো কন্ঠে বলে „“ ইয়ে শুভ স্যার। আপনি এখানে কেনো,?”

সবাই অবাক।

শুভ পকেটে হাত রাখতে রাখতে বলে „“ এটা আমার মামাতো বোনের বিয়ে।”

ছেলেটা ছোট করে বলল „“ I’m so sorry sir. স্যার আমি বুঝতে পারি নাই ওনি আপনার মামাতো বোন”।

শুভ গম্ভীর কণ্ঠে বলে „“ তোমার এটার জন্য অফিসে কথা বলো।”
আর টাকা টা দিয়ে তাড়াতাড়ি আসো।
এই বলে শুভ রিক্তার হাত ধরে চলে যায়।

হৃদয় ছেলেটাকে৷ ফিসফিস করে বলে„“ তুই চিনিস ওকে?”

ছেলেটি ভয়ার্ত কন্ঠে বলে „“ আমি স্বপ্ন নীল নীড় নামে যেই মোল টাতে চাকরি করি! সেটার মালিক আব্রাহাম খান শুভ।”

হৃদয় অবাক। যতো বার ফোনে কথা বলেছে ততবারই শুভ হাসপাতালের কথা বলেছে আর আজ শুনে বিক্ষাতো স্বপ্ন নীল নীড় মোল সে নাকি শুভর।

( এটা কল্পনা তোমার কেউ বাস্তবে খুজতো যেও না)

রিক্তা শুভর হাত জারা দিয়ে ছাড়িয়ে নেয়।
শুভ পিছনে ঘুরে ভ্রু কুঁচকে বলে „“সমস্যা কি?”

“আপনি এভাবে টানতে টানতে নিয়ে আসলেন কেনো?”

“তোর এখন রিয়ার কাছে থাকা উচিত”

“তা আমি পরে যাবো।”

শুভ মোলায়েম কন্ঠে বলে „“দেখ ওখানে অনেক ছেলে মানুষ আছে৷ আর তুই মেয়ে তুই সেখানে গেলে ছেলে গুলো নানান কথা বলবে তোর কি তা শুনতে ভালো লাগবে?”

“মোটেও না।”

” তাই বলছি রিয়ার কাছে যা।”

রিক্তা হ্যাঁ সূচক সম্মতি জানায়।

বর পক্ষকে ভিতরে এসটেজে বসানো হয়। খাবার খাওয়ানো হয়। এবার বিয়ের পালা …
( আমি কখনো বিয়ে পড়াতে দেখি নি। তাই আমি সোজা কবুলে চলে গেলাম)

কাজি সাহেব রিয়াকে বলল „“রাজি থাকলে বলো মা” কবুল!

রিয়া চুপ করে চোখের জল বিসর্জন দিচ্ছে।

কাজি সাহেব আবার বলল „“বলো মা কবুল!”

রিয়াকে সবাই বলছে” কবুল ” বলতে।

রিয়া কান্না দরা কন্ঠে বলে „“ কবুল।”

কাজি সহ সবাই বলে „“আলহামদুলিল্লাহ।”

কাজি এবার হৃদয় কে বলল „“ বলো বাবা কবুল!”

হৃদয় দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে বলে „“ কবুল।”

কাজি সাহেব সবার উদ্দেশ্য বলে „“ বিবাহ সম্পূর্ণ। আজ থেকে তারা নতুন অধ্যায় শুরু করলো। তাদের সংসার মৃত্যুর আগ পর্যন্তটিকে থাকুক সবাই বলো আমিন।”

একসাথে সবাই বলে „“ আমিন।”

এবার বিদায়ের পালা …

চলবে…….

Leave a Comment