গল্প:মাই বিলাভড সানফ্লাওয়ার (পর্ব:০২)

লেখিকা : আসফিয়া রহমান
 



———————— 


অর্ণব ও সাফিন দুজনেই ঢাকা মেডিকেল কলেজে ইন্টার্নশিপ

করছে; প্রায় শেষের দিকে। মেডিকেল কলেজের পাশেই একই

সাথে থাকে দুই বন্ধু।



পরদিন অর্ণব নীলক্ষেত গিয়েছিল দরকারি একটা বই কিনতে,

তখন হঠাৎই ওর দেখা হয়ে গেল বিনীতাদের সাথে। বিনীতা

প্রথমে চিনতে না পারলেও রূপন্তি চিনে ফেলল প্রথমবারেই।



“কেমন আছেন ভাইয়া? কালকে আপনার সাথেই দেখা

হয়েছিল না?”



অর্ণব সৌজন্যতামূলক হাসলো,


“হ্যাঁ। আমি ভালো আছি। আপনারা কেমন আছেন?”


“আমরাও ভালো আছি। বই কিনতে এসেছেন?”

হেসে জিজ্ঞেস করল রূপন্তি।


“হ্যাঁ। মেডিকেলের একটা বই কিনতে এসেছি। আপনারা?”


রূপন্তি বিনীতার দিকে তাকিয়ে বলল, 

“বিনীতা কিছু উপন্যাসের বই কিনবে। আজকে আমাদের

ক্লাস নেই তাই এই সময়ে আসা। আমার ঘুমানোর ইচ্ছা ছিল

কিন্তু এই বিনীতা জোর করে নিয়ে এসেছে।”



বিনীতা কনুই দিয়ে একটা গুঁতো দিল বাচাল রূপন্তিকে।

সবসময় বেশি কথা বলা মেয়েটার স্বভাব। অপরিচিত

ছেলেটার সামনে বান্ধবীর মানসম্মানের দফারফা করতেও

দুবার ভাবল না মেয়েটা!



গুঁতো খেয়ে রূপন্তি চুপ করে গেল! বিনীতা কথা বলল

এতক্ষণে, “আসলে সকাল থেকে বোর হচ্ছিলাম তাই

ভাবলাম নীলক্ষেত থেকে ঘুরে আসি, সাথে বইও‌ কেনা হয়ে

যাবে।”



“ওহ। আপনারা কিসে পড়াশুনা করছেন?” 

অর্ণব জিজ্ঞেস করল।


রূপন্তি বলল,

“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে।” 


“ওহ্ আচ্ছা। আমার বইটা পেয়ে গেছি। আপনাদের কেনা

হয়েছে?” অর্ণব ওর কাঙ্খিত বইটি দোকানদারের দিকে

বাড়িয়ে দিল।


“কিরে বিনীতা, হয়েছে তোর?”

“হ্যাঁ, এইতো হয়ে গেছে। মামা এই বইগুলো নিব।”


দোকানদার অর্ণব আর বিনীতা দুজনার বই প্যাক করতে শুরু

করল।



ওদের দিকে ফিরে তাকিয়ে অর্ণব জিজ্ঞেস করল, “আচ্ছা,

তাহলে আমাদের পরিচয় উপলক্ষে এক কাপ চা খাওয়া যাক?

কি বলেন মিস রূপন্তি?” 

“নিশ্চয়ই!”

____________________

টি স্টলে তিনটা চায়ের অর্ডার দিয়ে অর্ণব খানিকটা দূরে গিয়ে

ফোন লাগালো সাফিনের নাম্বারে, 

— সাফিন, কই তুই?

— আমি তো এখনো হসপিটালেই আছি। এখন ওয়ার্ড শেষ

হলো কেবল। বের হব একটু পরেই। তুই কোথায়?

— আমি নীলক্ষেত এসেছিলাম একটা বই কিনতে। এখানে

এসে মিস বিনীতা আর মিস রূপন্তিদের সাথে দেখা হলো।

— হ্যাঁ? এরা কারা?

— কালকের মেয়েদুটো!

— কিহ্! এই তুই আবার মজা করছিস আমার সাথে?

— একটা টি স্টলে আছি আমরা। তুই আসবি কি না?”

— মানে তুই মজা করছিস না? ওহ্ মাই গড! কি বলিস দোস্ত!

তুই আমাকে ছেড়ে আমার ক্রাসের সাথে বসে বসে চা

খাচ্ছিস!!! তুই দাঁড়া আমি এখনই আসতেছি…


— কতক্ষণ লাগবে আসতে? বেশিক্ষন দাঁড়ানো যাবে না।


— তুই দাঁড়া আমি আসি আগে। তোর খবর আছে!


হুমকি দেয়ার স্বরে বলল সাফিন। তারপর ফোন কেটে দ্রুত

বের হয়ে পড়ল হাসপাতাল থেকে।

______________________


“আমার ফ্রেন্ড, সাফিন।” অর্ণব পরিচয় করিয়ে দিল।


“হ্যালো!” সাফিন হাত নাড়লো বিনীতাদের উদ্দেশ্যে।


“হাই! আমি রূপন্তি।”


“আমি বিনীতা। কেমন আছেন?”


“জ্বি, ভালো আছি। আপনারা কেমন আছেন?”


“আমরাও ভালো আছি।” রুপন্তি জবাব দিল।


“আমারও অর্ণবের সাথেই আসার কথা ছিল। হঠাৎ ওয়ার্ডে

ডিউটি পড়ে গেল, ওয়ার্ড শেষ করে বের হতে হতে দেরি হয়ে

গেছে। আপনাদের সাথে অর্ণবের দেখা হলো কোথায়? ওকে

তো কোথাও খুঁজেই পাওয়া যায় না সারাদিন কাজ নিয়ে পড়ে

থাকে।” একসাথে অনেকগুলো প্রশ্ন করে বসলো সাফিন।



“আমরা বই কিনতে এসেছিলাম। উনিও বই কিনতে

এসেছিলেন, বইয়ের দোকানে দেখা হল। রুপন্তি ওনাকে

প্রথম চিনতে পেরেছে। সেখান থেকেই কথা হলো।” 


বিনীতা বললো।



“আপনিও কি মেডিকেলে পড়ছেন?”


” হ্যাঁ! পড়ছি মানে… আমাদের দুইজনের ইন্টার্নশিপ শেষের

দিকে। আপনারা কিসে পড়ছেন?”


“আমরা ঢাবিতে সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছি।” 


“নিন, চা চলে এসেছে।” চা চলে আসতেই অর্ণব বলল

এবার।



সবাই চা খাওয়া শুরু করলেও বিনীতা চা হাতে নিয়ে বসে

আছে। একটু পরপর ফুঁ দিচ্ছে।



“কি ব্যাপার আপনি খাচ্ছেন না যে? কোন সমস্যা?” 

অর্ণব খেয়াল করল বিনীতা তখন থেকে চায়ে ফুঁ দিয়েই

যাচ্ছে।


অর্ণবের প্রশ্ন শুনে বিনীতা তড়িঘড়ি করে বলল, “না না, কোন

সমস্যা নেই! আমি আসলে তা একটু ঠান্ডা করে খাই তো, তাই

আরকি!” 



আরো গুটিকয়েক কথাবার্তা হলো ওদের মধ্যে। চায়ের

আড্ডা শেষে এবার বিদায় নেবার পালা।



বিনীতা-রূপন্তি অর্ণবদের থেকে বিদায় নিয়ে হলের দিকে

রওনা দিল। সাফিনরাও ফিরে গেল বাসার দিকে।



“অর্ণব, আমার না রূপন্তি মেয়েটাকে খুবই ভালো লেগেছে।

এত কথা হলো কিন্তু দেখেছিস নাম্বার নিতে ভুলে গেছি!

আবার কিভাবে দেখা হবে!!”



“তোর তো কত মেয়েকেই ভালো লাগে, এটা আর নতুন কি!”

অর্ণব ওর দিকে চোখ ছোট করে তাকালো। 



সাফিন প্রতিবাদ করতে চাইল অর্ণবের কথায়,

“আরে না, এবারের ব্যাপারটা আলাদা। তুই বুঝতে পারছিস

না। রূপন্তিকে আমার বেশিই ভালো লেগেছে।” 


“আচ্ছা, বুঝেছি! আরেকদিন দেখা হলে নাম্বার নিয়ে নিস

তবে।” 



“আরেকদিন দেখা হবে কিভাবে সেটাই তো বুঝতে পারছি

না!” সাফিনের গলার হতাশা।



অর্ণবের গলাটা যেন একটু রহস্যময় শোনালো এবার,


“দেখা যাক আবার দেখা হয় কিনা…!”


To be continued…

Leave a Comment