গল্প:রিদ মায়ার প্রেমগাঁথা(০৩)

লেখিকাঃরিক্তাইসলাম মায়া

পর্ব:০৩


সকাল ৮ঃ১৫। রিদ গোসলে। মায়া তাড়াহুড়ো করে রিদের ঘরে ঢুকলো। রিদকে ঘরে না দেখে বন্ধ দরজার ওয়াশরুমের দিকে তাকিয়ে বুঝল রিদের গোসল শেষ হয়নি। মায়া হাতে গরম কফিটা বিছানার পাশে বেড সাইটের টেবিলে উপর রেখে ঝটপট নিজেদের বিছানা গোছাল। সকালে সুফিয়া খানের ফোন এসেছিল মায়াকে ঐ বাড়িতে না পেয়ে। তিনি কথায় কথায় জানাই মায়াকে আজ কালের মধ্যে আশুগঞ্জ পাঠানো হবে আরিফের আবদারে। সেখানে থেকে ওদের আনুষ্ঠানিক বিয়ে আয়োজনে মায়াকে খান বাড়িতে তুলা হবে। ব্যাপারটায় মায়া ভিষণ খুশি যদিও রিদ জানে না। তবে আনুষ্ঠানিক বিয়েতে যখন রিদ রাজি হয়েছে তারমানে মায়াকেও ওর বাপের বাড়ি পাঠাতে রিদ অমত করবে না। মায়া বিছানা গুছিয়ে রিদের শার্ট প্যান্ট কর্বাট থেকে খোলে রাখল। রিদের কফিতে হাত দিয়ে দেখল কফিটা ঠান্ডা। সেথায় মায়া আবারও কফিটা গরম করে নিয়ে এসে দেখল রিদ তখনো বের হয়নি। রিদ এতো সময় নিয়ে গোসল করার কথা না।

রিদের ফোন চার্জে, পাশে রিদের ব্ল্যাক কফি রাখতে গিয়ে মায়া চট করে বন্ধ ওয়াশরুমের দরজা দিকে তাকিয়ে কফির কাপটা আবার হাতে নিলো। যদিও মায়া রিদের তেঁতো কফি খাই না। কিন্তু রিদকে নিজের এঁটো কফি খাওয়াতে চাই বলে মায়া ঝটপট করে রিদের কফিতে চুমুক বসাতে মায়া জিব্ব পুড়লো সাথে নাক মুখ ছিটকে ওয়াক করে থুতু ফেলে বলল..

‘ ওয়াক থু! ছিঃ কি তিতা কফি?

তেঁতো কফিতে মায়ার মুখ বিস্বাদে জ্বলে উঠল। নাক মুখ কুঁচকে মাথা নাড়াল। কিন্তু রিদকে মায়ার খাওয়া এঁটো খাবার খাওয়াবে বলে মায়া পুনরায় কফিতে চুমুক বসাতে গিয়ে রিদ খট করে দরজা খোলে বেরুতে মায়া থতমত খেয়ে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে জিব্ব পুড়ে চেঁচিয়ে উঠল, হাতের কফিটা বেড সাইটের টেবিলে পুনরায় রেখে দু’হাতে মুখ চেপে পালিয়ে যেতে চাইলে রিদ এগিয়ে এসে মায়ার বাহু চেপে নিজের দিকে টেনে বলল…

‘ কি হয়েছে মুখে দেখি?

‘ কিছু হয়নি ছাড়ুন। আমি আইস দিব।

রিদ জোর করে মায়ার মুখ থেকে হাত সরিয়ে দিয়ে মায়া গাল চেপে ঠোঁট উঁচু করে বলল…

‘ ঠোঁট পুড়েছে?
‘ না জিব্ব।
‘ কিভাবে?
‘ আপনার তেঁতো কফি খেতে গিয়ে এমন হয়েছে।

‘ তাহলে তেঁতো কফি খেতে গেলে কেন?

‘ এমনি খেয়েছিলাম একটু টেস্ট করতে।

‘ আচ্ছা হ্যা করো, আমি দেখি কি হয়েছে।

‘ না ছাড়ুন। কিছু হয়নি। আমি আইস ঘষে দিলে ঠিক হয়ে যাব।

রিদ বিরক্তির কপাল কুঁচকে মায়ার গালে চাপ বাড়িয়ে দ্বিগুণ ঠোঁট উঁচিয়ে বলল..

‘ হা করো।

মায়া উপায় না পেয়ে হা করতে রিদ ফের বলল…
‘ জিব্বটা বের করো।

মায়া একটু দ্বিধাবোধ করলো। কিন্তু রিদ একহাতে মায়ার ঘাড় আর অপর হাতে মায়ার গাল চেপে রাখায় মায়া নড়াচড়া করার সুযোগ না পেয়ে ছোট গোলাপি রঙের জিহ্বাটা বের করতে রিদ সেদিকে দৃষ্টি পেলে পরখ করল। মায়ার গালের হাতটা ছেড়ে মায়ার জীহ্ব ছুঁয়ে বলল রিদ..

‘ এখানে পুড়েছে?

মায়া মাথা ঝাঁকাল। যার অর্থ হ্যা। রিদ নুইয়ে মায়া জিবে নিজের ঠোঁট ছুঁয়াতে মায়া আতকে চট করে জিব মুখে ভিতর পুড়ে নিতে রিদ মায়ার চুলের মুষ্টি পিছনে টেনে মুখটা উপর কর। মায়ার মুখের উপর ঝুঁকে বিরক্তি গলায় বলল…

‘ মুখ খোলো।
‘ না।
‘ রিত।

রিদের ধমকে মায়া লজ্জা আড়ষ্ট হয়ে জিহ্ব বের করল। রিদ ভেজা ঠোঁটে ফের মায়ার জিহবে নিজের ঠোঁট ছুঁয়ে শব্দ করে চুমু খেল। একটা, দুইটা, তিনটা, পরপর বেশ কয়েকটা। মায়া লজ্জা লাল হয়ে উঠল। রিদ মায়ার কম্পিত শরীরটা কোমর চেপে নিজের বুকে ঠেকাল। রিদ বেশ সময় নিয়ে মায়া জিহবে ঠোঁট চেপে শেষ বার শব্দ করে চুমু খেয়ে বলল…

‘ বেশি জ্বলছে?

রিদ মায়া চুল ছাড়লেও কোমর ছাড়ল না। মায়া লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে অসম্মতিতে মাথা নাড়াতে রিদ বলল..

‘ গরম কফিতে মুখ দিচ্ছিলে কেন?

রিদের কথায় মায়া মিনমিন করে বলল…

‘ আপনি সবকিছুতে নাক ছিটকান সেজন্য আমি আপনার কফি খেয়ে এঁটো করতে চাচ্ছিলাম।

‘ নাক আমি সবার জন্য ছিটকায় তোমার জন্য না।তোমার কোনো কিছুতে আমার শক কিংবা ঘৃণা আসে না রিত।

মায়া অবিশ্বাস্যের নেয় শুধালো রিদকে বলল…

‘ সত্যি?

রিদ ঝুঁকে মায়ার গালে শব্দ করে চুমু খেয়ে বলল…

‘ তুমি আমার অমূল্য সম্পদ রিত। যার মূল্যায়ন আমার জীবনে অতুলনীয়। সামান্য কফির কেন তোমার সাথে এই জীবন ভাগাভাগি করতে প্রস্তুত।

রিদ খালি গায়ে মায়াকে দু’হাতে জড়িয়ে মায়ার গালে নিজের নাক ঘঁষল। মায়া শিরশির করে কেঁপে রিদকে টেনে দাঁড় করে প্রসঙ্গ পাল্টে বলল…

‘ আচ্ছা আপনি সবসময় আমাকে রিত, রিত, বলে ডাকেন কেন?

‘ তাহলে কি ডাকব?

‘ আমার নাম রিক্তা ইসলাম মায়া। দুটো নামের একটা নামও আপনি ডাকেন না কখনো। মাঝেমধ্যে যখন আপনি আমায় রিত! রিত! বলে চেঁচিয়ে ডাকেন তখন আমার মনে হয় আপনি আমাকে না নিজেকে ডাকছেন। আপনার নামের সাথে আমি নিজের গুলিয়ে ফিলি।

রিদ অল্প হেঁসে মায়ার নাক টেনে বলল…

‘ সেজন্য তো ডাকি ম্যাডাম।
‘ মানে?
‘ আমার নাম কি?

মায়া রিদের নাম জবানে বলতে ইতস্তত করায় রিদ ফের বলল…
‘ বলো।
‘ আব্রাহাম রিদ খান।
‘ শট নাম কি?
‘ রিদ।
‘ আমি তোমাকে কি ডাকি?
‘ রিত।

‘ এখন রিদ আর রিত দু’টো নামের শব্দ গুলো এলোমেলো করে একটা আরেকটার সাথে মিলাও।

‘ মানে দুটো নাম ভাঙব?
‘ হুম।
‘ কিভাবে?

‘ ধরো রিদের রি’ আর রিতের ত’ নিলে যেমন রিত হয় তেমন রিতের, রি’ আর রিদের, দ’ নিলেও রিদ হবে। মানে আমাকে ভাঙলেও তোমাকে খোঁজে পাওয়া যাবে আবার তোমাকে ভাঙলেও আমাকে খোঁজে পাওয়া যাবে বুঝেছেন ম্যাডাম?

মায়া হতবাকের নেয় মাথা নাড়াল। আসলেই তো ব্যাপারটা চমৎকার। মায়া এই সুন্দর বিষয়টা আগে লক্ষ করেনি কেন? রিদ মায়ার কপালে ঠুকা দিয়ে সরে দাঁড়াল। মায়া নামিয়ে দেওয়া শার্ট প্যান্ট পড়ে অফিসে জন্য রেডি হলো। রিদ ভেজা চুলে বিছানায় বসে মায়াকে কাছে ডেকে বলল…
‘ কাছে এসো।

রিদ মায়াকে ডেকে নিজেই হাত টেনে মায়াকে মধ্যস্থতায় দাঁড় করিয়ে বলল…

‘ মাথা মুছো।

মায়া তোয়াল না খোঁজে নিজের সুতির ওড়নাটা দিয়ে রিদের মাথা মুছতে মুছতে নিজেদের বিয়ের প্রসঙ্গ টেনে বলল…

‘ আম্মু বলেছে কিছুক্ষণ পর এখানে আসবে আমাকে নিতে। আজ নয়তো কাল আমাকে আশুগঞ্জ পাঠিয়ে দিবেন বলেছে। আরিফ ভাই আমাদের বাড়ি থেকে আমাদের বিয়ে হবে আয়োজন করতে চাই। এতে অবশ্য কারও কোনো অমত নেই।

মায়ার কথা শেষ হতে রিদ তপ্ত মেজাজ চোয়াল শক্ত করে বলল…

‘ বউ আমার, বিয়ে আমার আর ডিসিশন দিবে অন্য কেউ? কেন আমি কি তাদের হাতে ভাত খাই?

রিদকে রেগে যেতে দেখে মায়া রিদকে বুঝতে চেয়ে বলল..

‘ আপনি ভুল ভাবছেন নেতা সাহেব। দুই পরিবার সালাহ চাই বলে এমন ডিসিশন নেওয়া। তাছাড়া এটা তো আর আমার পরিবারের একা ডিসিশন না। আপনার পরিবার সম্মতি দেওয়াতেই…

মায়ার কথা মাঝে রিদ মায়াকে ঠেলে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে উঠে দাঁড়াল। চোয়াল শক্ত করে চিবিয়ে বলল…

‘ রংঢংয়ের বিয়ে করতে চাইলে আমার বাড়ি থেকে অনুষ্ঠান করো আর নয়তো বিয়ে ক্যান্সেল। আমি তোমার বাড়িতে যেতে পারব না। অপমানিত স্থানে আমি দ্বিতীয়বার ফিরে যাই না।

রিদের কথায় মায়াও খানিকটা রাগ দেখিয়ে বলল…

‘ আপনি এখন আমার পরিবারকে ছোট করছেন নেতা সাহেব।

‘ আমি ছোট করছি না। তাঁরা আমাকে ছোট করেছে সেজন্য আমি দূরত্ব বজায় রাখছি। শোনো রিত,
কোনো কিছুর শুরু আমি করি না। কিন্তু কেউ আমাকে তুচ্ছ করবে আর আমি তাকে সম্মান ঠুকব এতোটাও ভালো নয়। বউ ভালোবাসি কিন্তু শশুর বাড়ি অপমান ভুলে যায়নি। আমার সাথে সংসার করতে চাইলে আমার বাড়ি থেকে অনুষ্ঠান হবে নয়তো…

‘ নয়তো কি হ্যাঁ? অন্যায় তো আপনিও করেছেন, আমিতো আপনাকে ক্ষমা করে একটা সুযোগ দিয়েছি তাহলে আমার পরিবার কেন পাবে না সেই সুযোগটা? সব ভুলেরও তো ক্ষমা আছে তাহলে আপনি কেন সবকিছু মনে পোষে রাখছেন এখনো?

মায়া তর্কে রিদের মেজাজ খিঁচে যায়। সে মুখেমুখে তর্ক বিষয়টা নিতে পারে না। রিদ মেজাজ খিঁচে দাঁতে দাঁত পিষে বলল…

‘ আমি তোর মতোন ভালো মানুষ না তাই কাউকে ক্ষমা করতে পারি না। এখন তর্ক করবি না। আমার মেজাজ খারাপ হচ্ছে।

রাগারাগি মাথায় মায়াও একটা অভাবীয় কথা বলে ফেলল রিদকে….

‘ আমি কিছু বললেই আপনার মেজাজ গরম হয়ে যায়। আর আপনি যেসব করেন তখন মানুষের কষ্ট লাগে না?
‘ না।

‘ কেন আমার বাবা আপনার কাছে মেয়ে বিক্রি করে দিয়েছিল যে আমি আর বাপের বাড়িতে যেতে পারব না এমন কিছু? আমার পরিবারকে ক্ষমা করতে না পারলে সেই পরিবারের মেয়ের সাথে কিভাবে শুন। তখন ঘৃণা লাগে না ছুঁতে?

‘ ঠাস’ রিদের শক্ত হাতের থাপ্পড়ে মায়া ছিটকে পড়ল খাটের কিনারায়। অল্পের জন্য মায়া কঁপাল ফাটেনি খাটের কোণায় লেগে। তবে মায়ার ঠোঁট কেটেছে। রিদ মায়াকে থাপ্পড় দিয়েও রাগ কমেনি, সোফার টেবিল তুলে ছুড়ে মারল কালো বড়ো টিভিটার উপর। বিকট শব্দ অসংখ্য কাঁচের টুকরো নেয় ভেঙে পড়ল সব। রিদ গর্জে উঠে মায়াকে বলল…

‘ রিদ খান ছুঁয়েছে বলে তোর এতো দেমাগ। যাহ ছোব না আর। যে নারী স্বামী সম্মান বুঝে না সেই নারীর প্রয়োজন এই রিদ খানের নেই। তুই তোর নোংরা শরীর নিয়ে বেরিয়ে যাবি আমার ঘর থেকে। তোর সাথে সংসারের মাইরে বাপ।

রিদ তপ্ত রাগে অগ্নিশিখা নেয় বেরিয়ে যায়। মায়া অঝোর ধারায় ফুপাতে লাগল। রিদের রাগ বেশি মায়া জানে। রাগারাগিতে মায়া চুপ করে গেলে হয়তো রিদও চুপ করে যেত। মাথা গরম থাকায় মায়াও রাগ সহ্য করতে পারেনি আর তাতে দুজনের সম্পর্কে ফাটল ধরে। জেদি মায়া রিদের সাথে রাগ নিয়ে আরেকটা ভুল কাজ করল বাসা থেকে বেরিয়ে গিয়ে। কোথায় গেছে কেউ জানে না। জানার কথাও না। সুফিয়া খান মনে করেন মায়া রিদের সঙ্গে রিদের বাড়িতে আছে। রিদও সারাদিন রাগে মধ্য রাতে বাড়ি ফিরে তখনো ওর ঘরটা ভাংচুর দেখে লোক লাগিয়ে পরিষ্কার করল তারপরও মায়ার খোঁজ করল না। কারণ রিদের ধারণা মায়াকে হয়তো সুফিয়া খান এসে নিয়ে গেছে যেহেতু মায়া আজ সকাল বলেছিল মায়াকে নিতে সুফিয়া খান আসবে তাই। এই ধারণায় গোটা একটা দিন গেল রাত পোহালো। মায়ার সন্ধানে পরদিন বারোটা দিকে সুফিয়া খান এলো রিদের বাড়িতে তিনি। খালি বাড়িতে মায়ার দেখে না পেয়ে তিনি সার্ভেন্ড ডেকে বলল…

‘ তোমাদের ম্যাডাম কোথায়?

রিদের বাসায় একজন শেফ আর একজন বয়স্ক লতিফা থাকে। তার পাশাপাশি রান্নার বাজারজাত করার একটা ছেলে আছে রানা। সুফিয়া খান তিনজনকে ডাকল। লতিফা বলল…

‘ বড় ম্যাডাম, আমি কাল বাইত গেছিলাম আইছি আইজ সোহালে এলাইগা কইতে পারুম না ছুডো ম্যাডাম কই আছে। তয় ছুডো ম্যাডামরে আমি এইহানে আইয়া পাইছি না। ছুডো ম্যাডাম এই বাইত নাই।

‘ তোমাদের স্যারের সাথে গেছে তাহলে?

‘ কইতে পারুম না বড় ম্যাডাম।

‘ আপনরা কেউ কিছু বলতে পারবেন?

শেফ হানিফ সেও একই ভঙ্গিতে মাথা নাড়াল জানে না বলে। শিক্ষিত হানিফ শুদ্ধ ভাষায় বলল…

‘ ম্যাডাম কাল সকালে আমি রানাকে নিয়ে বাজার করতে গিয়েছিলাম সেজন্য মায়া ম্যাডামের কথা বলতে পারব না। তবে কাল থেকে আমরাও মায়া ম্যাডামকে এই বাড়িতে দেখিনি। হয়তো স্যার বলতে পারবেন।

‘ আচ্ছা যান আপনারা। লতিফা আমাকে একটা কফি দাও।

‘ জি ম্যাডাম।

সুফিয়া খান রিদকে কল মিলাল। স্বাভাবিক ধরে নিল মায়া রিদের সঙ্গে আছে কোথাও। যেহেতু তিনি আজ চট্টগ্রামে ফিরে যাবেন তাই মায়াকে আশুগঞ্জ পাঠিয়ে দিয়ে যাবেন তিনি। রিদ সুফিয়া খানের কল রিসিভ করতে সুফিয়া খান বলল…

‘ মায়াকে বাসায় পাঠাও রিদ। আমি অপেক্ষা করছি।

অসময়ে রিদ কাজে ব্যস্ত। অফিসে ডেস্কে বসে ল্যাপটপে নতুন প্রজেক্টের কাজ দেখছিল। মায়ের কথায় রিদ বিরক্তির গলায় বলল….

‘ আম্মু বিরক্ত করো না। ব্যস্ত আমি।

গম্ভীর সুফিয়া খানের কপাল কুঁচকে গেল। অসন্তুষ্টি গলায় বলল..

‘ রিদ তুমি জানো অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা আমি বলি না। মায়াকে দিয়ে যাও আমি তোমার বাড়িতে বসে আছি। লেট করবে না। আমাদের বেরুতে হবে। মায়াকে আশুগঞ্জ নামিয়ে আমি চট্টগ্রাম ফিরব।

‘ আমার কাছে রিত নেই।
‘ নেই মানে? কোথায় গিয়েছে ওহ? তোমার বাড়িতেও নেই।

‘ কাল ওহ তোমার বাসায় যায়নি?
‘ না।

মায়ের কথায় এবার রিদের টনক নড়ল। রিদের জানা মতে মায়া কাল সকালে বেরিয়ে গিয়েছিল, যদি সুফিয়া খানের বাড়িতে না যাই তাহলে কোথায় গিয়েছে?

‘ শিট।
রিদ দৌড়ে বেরিয়ে গেল। রিদকে হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে যেতে দেখে আসিফও পিছনে দৌড়াল। আচানক রিদ কল কেটে দিতেই সুফিয়া খান বুঝল মায়া নিখোঁজ। তিনি তৎক্ষনাৎ আরিফকে কল মিলাতে, আরিফ বেশ স্বাভাবিক নেয় সুফিয়া কলটা রিসিভ করল। যেহেতু সুফিয়া খানের সাথে মায়ার বিয়ের ব্যাপার প্রায় কথা হয় আরিফের বলতে গেলে রোজ। আজ মায়াকে আশুগঞ্জ দিয়ে যাওয়া কথা বিষয়টা মাথায় রেখে আরিফ সালাম দিয়ে বলল…

‘ আসসালামু আলাইকুম আন্টি।

সুফিয়া খান তাড়াহুড়ো না করে বরং গম্ভীর্যতা নিয়ে সালামে উত্তর দিয়ে বলল…

‘ মায়া গিয়েছে তোমাদের বাড়িতে?

‘ মায়া? নাতো আন্টি আসিনি। কেন কি হয়েছে? মায়াতো আপনার সাথে আসার কথা ছিল আন্টি। আপনি বলেছিলেন মায়াকে আমাদের বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে যাবেন তাহলে?

আরিফকে অস্থির হতে দেখে তিনি বুঝলেন মায়া আশুগঞ্জ যায়নি। মায়ার পরিবারকে আপাতত মায়া নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টা লুকিয়ে চতুর সুফিয়া খান বললেন…

‘ আসলে আমার সাথেই যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু হঠাৎ আমার কাজ পড়ে যাওয়ায় মায়াকে আমি ড্রাইভারের সাথে পাঠিয়ে ছিলাম। হয়তো পৌঁছায় নি। পৌঁছালে আমাকে ইনফর্ম করবে কেমন?

‘ জি আচ্ছা আন্টি।

আরিফের কল কেটে সুফিয়া খান চিন্তিত মুখে উঠে দাঁড়াল মেয়েটা হঠাৎ কোথায় যেতে পারে কাউকে না জানিয়ে। নিশ্চয়ই রিদ কিছু বলেছে বলেই মায়া বাড়ি ছেড়েছে। কিন্তু মায়া উনার কাছে না গিয়ে কোথায় যেতে পারে এই অপরিচিত শহরে? নাকি উনার কাছে যেতে গিয়ে মায়া পথ হারিয়ে কোনো বিপদে পড়েছে? সুফিয়া খানের শক্ত মনে আড়ালে উনার মাতৃত্বের মনটা ভয়ে কু’ডাকছে। মায়া চব্বিশ ঘণ্টার উপরের নিখোঁজ, বাইরে মানুষের মতোন দেখতে হিংস্র পশুর অভাব নেই। তারা নারীর গন্ধে খোঁজে বেরায়। আল্লাহ না করুন মায়া কোনো অমানুষের হাতে না পড়ুক। প্রচন্ড অস্থিরতায় সুফিয়া খান ঘর থেকে বেরুলো। গেইটে দুজন দারোয়ান দাঁড়িয়ে। তাঁরা নিশ্চয়ই বলতে পারবে মায়া কখন বের হয়েছিল কাল। তিনি মায়ার খোঁজে গেইটে পাহারাদার দুজন ডেকে প্রশ্ন করে বলল…

‘ আপনার ম্যাডাম কাল কয়টার সময় বাসা থেকে বেরিয়ে ছিল কিছু বলতে পারবেন?

মুন্না আর ইকবাল দুজন গেইট পাহারাদার একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করে খানিকটা ইতস্ততায় মুন্না বলল…

‘ ম্যাডাম, ছোটো ম্যাডামরে আমরা কেও বাইত থেইক্কা বাইর হইতে দেহি নাই।

‘ দেখো নাই মানে? গেইট পাহারায় তোমরা ছিলে তাহলে তোমাদের চোখের উপর দিয়ে একটা মেয়ে হাওয়া হয়ে গেছে? নাকি তোমরা গেইটে পাহারায় ছিলে না?

সুফিয়া খানের শক্ত চোয়ালে কথায় ভয় পেয়ে গেল দারোয়ান দুজন। তাঁরা দুজন মাঝেমধ্যে একটুআধটু সময় দিনের বেলা ঘুমিয়ে যায় বসে বসে। তখন যদি সেই সুযোগে ওদের ম্যাডাম বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় তাহলে ওরা বলতে পারবে না। দুজনকে চুপ করে থাকতে দেখে সুফিয়া খান রাগে দাঁত পিষল। হাতে ফোনটায় কারো নাম্বারে ডায়েল করতে করতে বলল….

‘ তোদের দুজনকে আমি পুলিশে দিব। তোদের পাহারা দেওয়া অবস্থায় একটা মেয়ে কিভাবে বাসা থেকে বেরিয়ে যায় সেই কৈফিয়ত তোরা আমাকে দিবি।

ছেলে দুটো দৌড়ে এসে সুফিয়া খানের পায়ে পড়ে আহাজারি করে বলল…

‘ ম্যাডাম আমাগোরে মাফ কইরা দেন। আমরা কেও বুঝবার পারি নাই ছোটো ম্যাডাম চইলা যাইব। ম্যাডাম আমাগোরে মাফ কইরা দেন। আর এমন হইব না।

চলিত…

Leave a Comment