গল্প:রৌদ্রময় বালুচর(০১)

পর্ব:০১

দুপুরের রোদটা একটু একটু করে হেলে পড়ছে পশ্চিমে। নদীর ওপারে পাতলা কুয়াশার মতো গ্রমাটা ধোঁয়া ধোঁয়া লাগে, আর ঘাটের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মিম বলে উঠল— “আচ্ছা জারা, তুই কোনোদিন সময়মতো ফিরবি না, তাই না?”

জারা হাসে না। চোখে রোদ পড়ছে, এক হাতে চোখ আড়াল করে ঘড়ির দিকে তাকায়। ১টা ৫৮ বাজে । সে জানে—নদী পেরুতে দেরি মানে আজ সন্ধ্যা হবে আগেই। আর মায়ের ফোন রিং দিতে শুরু করবে ঠিক দু’মিনিটের মধ্যে।

— “আজকে সত্যি দেরি হয়ে গেল রে মিম,“নদী পার হতে যদি আরও পাঁচ মিনিট লাগে, আম্মু হয়তো মনে করবে কিছু একটা হয়েছে।”বলল জারা “

মিম মুখ বাঁকিয়ে বলে,“তোর আম্মু তো রেডিও! সকাল থেকে একটাই গান চালায়—‘মেয়ে হলে সময় বুঝে চলতে হয়!’”

— “আরে এটা গান না, আমাদের নিয়তি!”

জারার কথাটা একদম থেমে যায়, সামনে তাকিয়ে।

ঘাটের পাশে আজ নৌকা নেই। ওপারে চলে গেছে। বসে থাকা ছাড়া উপায় নেই।দুজনেই চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে, নদীর স্রোত দেখে।

অবশেষে নৌকাটা ফিরে আসে। তারা উঠে বসে।

নদী পার হতে হতে দু’জনেই চুপচাপ, হাওয়া বইছে ধীরে। ভেতরে জমে আছে একটা অজানা অস্থিরতা।নদীর ওপারেই ঘাট। ওরা নামতে গিয়েই, হঠাৎ মিম হোঁচট খেয়ে পড়ে যায়।

— “আহ্! জারা… পা-টা… মনে হয় মচকেছে।”

জারা সঙ্গে সঙ্গে নিচু হয়ে পড়ে ওর পাশে।

— “ধর, ধীরে ওঠ। হাঁটতে পারিস?”

— “ব্যথা বেশ লাগছে। হাঁটা তো দূরের কথা, দাঁড়াতেও পারছি না ঠিকমতো।”

জারা চারপাশে তাকায়। রিকশা নেই, আশপাশে লোকও কম। সময় পেরিয়ে যাচ্ছে।ঠিক তখন, হঠাৎ পেছন থেকে একটা লোক আসে—একজন মাঝবয়সী ড্রাইভার।শালীন মুখ, পরিচ্ছন্ন পোশাক।

— “আপু, চাইলে গাড়িতে করে পাঠিয়ে দিতে পারি। আমার স্যার পাঠিয়েছেন, বলেন আপনারা অসুবিধায় আছেন।”

জারা অবাক হয়ে তাকায়।

— “স্যার? কে?”

— “তিনি নাম বলেননি, শুধু বলেছিলেন আপনাদের দেখলেই বুঝবেন।”

জারার মনে অনেক প্রশ্ন। কিন্তু এখন মিমকে বাড়ি পৌঁছানোই সবচেয়ে জরুরি।মিমকে হাত ধরে গাড়িতে বসায় জারা। দরজাটা বন্ধ করার সময় ফিসফিস করে বলে, “বাড়ি গিয়ে আম্মুকে বলিস, আমি দেরি করলেও তোর জন্য রয়ে গিয়েছিলাম, ঠিক আছে ?”

মিম হেসে মাথা নাড়ে। গাড়িটা ধীরে ধীরে চলে যায়।

জারা দাঁড়িয়ে থাকে রাস্তার ধারে। চারপাশে তখন সন্ধ্যার আলো নামছে।

নদী পার হওয়া মেয়েটা একা। পেছনে শুধু প্রশ্ন…

“কে পাঠাল গাড়িটা?”

(আসুন পরিচয় হয়ে নেই আমরা। আমি মানজারা আমি খুব শান্ত সভাবের মেয়ে। বয়স বেশি না মাএ ১৭ বছর। উচ্চতা ৪ ফুড ১১ইঞ্চি। কারো সাথে এক কথা উপরে আর এক কথা বলতে পারি না। ভয় করে। হাত পা ভয়ে ঠান্ডা হয়ে যায় আমার।বাবা আনিসুর রহমান আর মা মারজিয়া বেগম। আমার দুই ভাই। আর আমি আমার বাবার একমাএ রাজকন্যা।বড় ভাইয়ার নাম জাহির। বড় ভাই আর আব্বু দেশের বাহিরে থাকে। এক কথায় যাকে প্রবাসি বলে আর কি।আর আমার ছোট ভাইয়ের নাম জোহান।আমি গ্রামের মেয়ে। আর যার সাথে এতোখন ঝগড়া করছিলাম সে হচ্ছে আমার বেস্টফ্রেন্ড মিম। আমার আরো একটা বেস্টফ্রেন্ড আছে সে হচ্ছে ফিহা।আজ সে কলেজে আসে নি। তাই আমি আর মিমই এসেছি।)

আম্মুর আজ শরীর টা বেশি ভালো ছিল না। তাই আমিই রান্না করে আম্মুকে খাইয়ে দিয়ে নিজেও খেয়ে এসেছি। আব্বু আর ভাইয়া ফোন দিয়ে বার বার করে বলে দিয়েছে কলেজ থেকে আজ যেনো তাড়াতাড়ি ফিরে আসি।

না হলে আমার ছোট ভাই আবার আম্মুকে বেশি বিরক্ত করবে।

বয়স বেশি না হলেও বয়সের তোলনায় জোহান একটু বেশি কথা বলে। সে এবার ক্লাস ওয়ানে পড়ে। সাত বছর বয়স ওর।

আর আমি তাড়াতাড়ি না ফিরে আরো দেরি করে আজ বাড়ি ফিরছি। সাদে আম্মু বলে জারা তুই শুরু বকা খাওয়ার কাজ করিস।

এসব বিষয় নিয়ে বেশি মাথা না খাটিয়ে হাঁটা ধরে বড় মাঠের দিকে জারা। ্ জারা গেটের সামনে এসে দরোয়ান চাচাকে বলে,

__“ চাচা গেটটা একটু কষ্ট করে খুলে দিবেন প্লিজ। ”

দারোয়ান চাচা বিরক্তি মুখে বলে,

__“ আজকে এই মাঠে কেউ ঢুকতে পারবে না। বড় সাহেবের ছেলে – মেয়েরা আসবে এখানে। এখন যাও এখান থেকে।”

__“ চাচা আমি তো প্রায় সময়ই যাই এখান দিয়ে প্লিজ আজকে যেতে দিন আমাকে। আজ ধেরি হয়ে গেছে কলেজ থেকে ফিরতে তাই একটু দয়া করে গেট টা খুলে দিন। ” বলল জারা

দরোয়ান চাচা এবার আরও ক্ষীপ্ত কন্ঠে বলে,

__“বললাম না আজ যেতে পারবে না তুমি। ভিতরে ঢুকার পারমিশন নেই।”

এবার জারা কিছু বলতে নিবে এমন সময় গাড়ির হর্নের শব্দ শুনে পিছন ফিরে দেখে গাড়ি দারিয়ে আছে।

গাড়ি দারিয়ে থাকতে দেখে দারোয়ান দৌড়ে চলে আসে গাড়ির কাছে। এসে দেখে তার ছোট সাবেরা চলে এসেছে। আবারও এক দৌড় দিয়ে বড় গেট টা খুলে দিলো গাড়ি ডোকার জন্য। গেট খুলে দিয়ে আবার দারোয়ান এসে দাঁড়ায় জারা সামনে।

__“ মা আজ তুমি কষ্ট করে রাস্তা দিয়ে চলে যাও অন্য দিন এসো আমি গেট খুলে দিব। আজ ভিতরে ঢুকা যাবে না।”

এই কথা শুনে জারা আর কিছু বলতে পরালো না গেটের সামনে থেকে গুরে চলে আসতে নিলে পিছন থেকে ডাক পরে জারার….

এই সাদা পরি…🤍 জারা পিছনে গুরে দেখে একটা আট বা নয় বছরের বাচ্চা মেয়ে তাকে গাড়ি ভিতর থেকে সাদা পরি বলে ডাকছে। গাড়ি থেকে নেমে এক দৌড়ে চলে আসে বাচ্চা মেয়ে টা জারার কাছে। জারা বাচ্চা মেয়েটার গাল টেনে দিয়ে বলে

__“ কি বুলবুল পাখি তুমি কি আমাকে চিনো।”

মেয়েটার সহজ জবাব দেয়,

… “না…

__“ তাহলে আমাকে এই নামে ডাকছো কেনো তুমি! ” বলল জারা

__“ আমি এখানে গুরতে এসেছি আর তোমাকে দেখে তো সাদা পরি লাগছে কারণ তুমি প্রায় সব কিছু সাদা পরে আছো।” বললো মেয়েটা।

জারা বলল,

__“ ওহ এই কারণে তুমি আমাকে সাদা পরি ডাকছে। ”

__“ হুমমম ”

__“ তুমি খুব কিউট মেয়ে। ”বলল জারা…

__“ আর তুমি ও” মেয়েটা উজ্জ্বল মুখে বলে।

__“ তাই….?” বলল জারা

__“ হুম…”

ওদের দুইজনের কথা বলার ব্যাপার টা একজন গাড়িতে বসে খুব ভালো করে পর্যবেক্ষণ করছে। লোকটি জারা কে পা থেকে মাথা পর্যন্ত সুক্ষ ভাবে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে পরনে সাদা কলেজ ড্রেস মাথায় সাদা হিজাব আর কাঁদে কলেজ ব্যাগ।মুখে মাক্স পরা।

জারা কলেজ শেষে বাড়ি ফিরছিল। গাঢ় নীল-সাদা কলেজ ড্রেসে সে যেন একেবারে সাদামাটা, তবুও চোখ ফেরানো যায় না এমনই এক সৌন্দর্য তার মধ্যে। হাতে বই, কাঁধে ব্যাগ, আর মুখে হালকা ক্লান্তি মেশানো এক রহস্যময় শান্তি।

রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা কালো গাড়িটার ভেতর বসে ছিল আরমান।তারা অনেক আগেই চলে এসেছিল, কিন্তু রাস্তায় জারাকে দেখে গাড়ি থামিয়ে দেয় । শহরের নামকরা ব্যবসায়ীর ছেলে, চিরকাল যার চারপাশে বিলাসিতা, কিন্তু মনটা আজ যেন হঠাৎ থমকে গেল।

জারাকে দেখেই আরমানের মনে হলো—

“এই মেয়েটাকে আগে কখনও দেখেছি বলে মনে হয় না, কিন্তু মনে হচ্ছে কতকাল ধরে খুঁজছিলাম ওকেই!”

জারা তার পাশ দিয়ে হেঁটে গেল, কিছু জানল না। কিন্তু আরমান জানে, তার জীবনের গল্পটা ওই মুহূর্তেই বদলে গেছে।

এই জেরিন তুমি ঐখানে কি করো তাড়াতাড়ি গাড়িতে উঠে এসো বলার সাথে সাথে ব্যাক্তিটা দেন ভাঙ্গে সঙ্গে সঙ্গে। সমানে তাকিয়ে দেখে চলে যাচ্ছে মেন রাস্তার দিকে জারা।একবারও পিছন ফিরে আর তাকালো না জারা।

মেঝো ভাইয়ের ডাক শুনে দৌড়ে চলে আসে জেরিন গাড়ির কাছে।

জেরিন নামটি শুনে জারা ভেবে নেয় বাচ্চা মেয়েটার নাম জেরিন।

জারা আর সেখানে দাঁড়ালো না হাঁটা দড়লো মেন রাস্তার দিকে।

গাড়ি দুটি গেটের ভিতরে প্রবেশ করার সময় একটা কালো রঙের গাড়ি হুট করে থেমে যায় আর একটি গাড়ি ভিতরে চলে যায়।

গাড়ির জানালার গ্লাস মানিয়ে দারোয়ান কে ডাক দেয় সেই গম্ভীর লোকটি।

“দারোয়ান আঙ্কেল এদিকে আসোন একটু তাড়াতাড়ি।”

দারোয়ান ডাক শুনে দৌড়ে চলে আসে গাড়ির কাছে আর বলে কি বলবেন ছোট সাহেব..?

গম্ভীর লোকটি – এই মেয়েটা এখানে কি করছিলো এতোখন সময় ধরে।

দারোয়ান চাচা- ইয়ে মানে …”ছোট সাহেব এই মেয়েটা ভিতররে প্রবেশ করতে চেয়ে ছিলো। সে নাকি এদিক দিয়ে বাড়িতে ফিরবে তাই।

গম্ভীর লোকটি – ওহহহ আচ্ছা।

আপনি বললে আর কাউকে ভিতরে ঢুকতে দিব না ছোট সাহেব আপনারা যে কয়দিন আছেন এখানে বলল দারোয়ান..

গম্ভীর লোকটি – না তার কোনো দরকার নেই। আর আগে যেমন চলতো এখনও তাই যেনো হয়। আমরা এখানে ঘুরতে এসেছি আর ঘুরতে এসে যদি শুধু সাদা আর লাল বালি দেখে দিন পার করি তাহলে কি হবে দারোয়ান আঙ্কেল।আর কয়দিন পর এখানে কারখানার কাজ শুরু করে দিব তাই এখন যে যার মতো ঘুরতে পারবে। কাউকে বারণ করবে না আপনি। আর এখন যে মেয়েটা চলে গেছে তাকে আর কখনো যেনো না দেখি গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে। মেয়েটা আসলে সাথে সাথে গেট খুলে দিবেন।মনে থাকবে আপনার..?

দারোয়ান চাচা- কেনো সাহেব মেয়ে টা আসলে কেন গেট খুলে দিতে হবে। সবাই তো যে যার মতো গেট খুলে ঢুকে পরে ভিতরে সব সময় “আমাকে গেট খুলতে হয় না।

,

,

,

গম্ভীর লোকটি -তার কৈফিয়ত কি আপনাকে দিতে হবে এখন আমাকে।আর আগে নিজের গেট সামলান আঙ্কেল নয় তো সবাই আপনার পারসোনাল জিনিস দেখে ফেলবে।আর যা বললাম মনে থাকে যেনো, দ্বিতীয় কোন প্রশ্ন নয়.!

এই বলে চলে গেলো গাড়ি নিয়ে ভিতরে।

,

,

আর দারোয়ান চাচা ভাবেতে থাকে ছোট সাহেব তার কোন গেটের কথা বলছে। ভাবনার মাঝে হঠাৎ মনে পরে সে তো ইয়ে করে চলে আসে তাড়াতাড়ি মেয়েটাকে দেখে, তাই আর পেন্টের চেইন লাগানোর কথা ভেমালুম ভুলে গেছি..

হায় আল্লাহ আজ আমার সব মান সম্মান শেষ হয়ে গেছে ছোট সাহেবের কাছে মনে মনে বলতে থাকে দারোয়ান

,

,

( আসসালামু আলাইকুম। আমি নতুন গল্প লিখা শুরু করেছি ভুল হলে প্লিজ আমাকে যানাবে আমি তা সংসোদন করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ| ভালো লাগে ফলো দিয়ে পাসে থাকবেন।)

Leave a Comment