
পর্ব:০৩
আজ বাড়িটা অনেক শান্ত লাগছে। কোনো কোলাহল নেই। এমনটা তো থাকে না। কই গেলো সবাই। আগে তো চেচামেচির জালায় বাড়িতেই থাকা যেতে না। জোহান কী বাড়িতে নেই..? কই গেলো সে..? নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে ফ্রেশ হয়ে রুম থেকে বের হয়ে ড্রইং রুমে আসি। ড্রইং রুমে আম্মু কে না দেখে ডাক দিলাম…..
__” আম্মু…. ওওওওও” আম্মু। জোহান কী বাড়িতে নেই..??
মেয়ের এমন হাক ছাড়া ডাক শুনে রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন মারজিয়া বেগম রেগে গিয়ে বললেন,
__”কী হয়েছে কী…?? এমন ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার মতো ডাকছিস কেনো…?”
আম্মুর কথা বলার ধরন দেখে মনে হচ্ছে রেগে আছে অনেক। আবার হাসি পাচ্ছে….. হাসি টা নিজের মাঝে দমিয়ে রেখে আম্মুকে বললাম,
__”আম্মু আমি তোমার বাচ্চা ছাগলের নই…!!আর তিন নাম্বার বাচ্চা হবে না দুই নাম্বার বাচ্চা হবে ঠিক আছে…!! ”
বলেই আবার হেসে দিলাম বএিশ পাটি দাঁত বের করে.।. হিহিহি….” হিহিহিহি…!! মারজিয়া বেগম একটু শক্ত করে বলেন
__“ মায়ের ভুল না ধরে আগে বল কী জন্য ডাকছিলি এমন করে…??
__ “আম্মু জোহান কি আজ বাড়িতে নেই..?? আমি বাড়িতে আসার পর থেকে একবারও দেখলাম না…!!
__‘জোহান কে নতুন জায়গায় টিউশন পড়তে পাঠিয়েছি। সেখানেই গেছে.!ফিরে আসবে কিছুক্ষন পরে…। ” বলেন মারজিয়া বেগম
__“ নতুন জায়গায় কেনো টিউশনি করতে দিয়েছো…? আগের জায়গায় কি হয়েছে..?? ” বললো জারা..
__ “ তোর গুনধর ভাই স্যারের কাছে আমার প্রসংশা করতে গিয়ে তো আরেক জায়গায় বিয়ে ঠিক করে আসছে । আমার সাথে বিয়ে ঠিক করছে স্যারের মামার সাথে। স্যার ফোন দিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করে আমি এই বিয়েতে রাজি কি না…?? কি লজ্জায়ই পরতে হলো আমাকে তখন…!!সব সময় বেশি কথা বলে.! কতো বার না করি বেশি কথা না বলতে তারপরও বলে *শয়তান ছেলে…!!তাই বেতন দিয়ে আগের জায়গায় না করে দিয়েছি…!!”
বলেই আবার হাটা শুরু করলেন রান্না ঘরের দিকে মারজিয়া বেগম। মায়ের রিয়াকশন দেকে আর কিছু বলার সাহস হলো না। ড্রইং রুমের সোফায় বসে টিভি অন করলাম….
( জারাদের বাড়ি এতো টাও বড় না। একতালা বাড়ি। তিনটা বেডরুম, একটা ওয়াশরুম আর একটা রান্না ঘর…!! জারাদের একটা টিনের ঘরও আছে কিন্তু সেটা পোরোনো। থাকে না কেউ কিন্তু ঘরটা পরিপাটি করে রাখে। বলাতো যায় না কখন মেহমান চলে আসে তাই…)
টিভি দেখার মাঝে ফোন বেজে ওঠে। সোফায় বসে থেকেই পিছনে গুরে দেখে মায়ের ফোন বাজে….।বসে থেকে মাকে ডাক দেয় জারা…..
___ “আম্মু তোমার ফোন বাজে..। দেখো কে ফোন দিয়েছে..??
মেয়ের ডাক শুনে কপালে বাজ পড়ে মারজিয়া বেগম এর”- রেগে বলেন,
__“ বসে না থেকে উঠে দেখতে পারিস না কে ফোন দিয়েছে। এটার জন্য ও মাকে ডাকতে হবে.?যতসব।”
কি আর করার বসা থেকে উঠে টেবিলের উপর থেকে মোবাইল টা নিয়ে দেখি, আব্বু ফোন দিয়েছে, তাই সাথে সাথে কলটা ধরে বলতে লাগলাম….
__“ আসসালামু আলাইকুম আব্বু। কেমন আছো তুমি..??
আনিছুর রহমান __“ ওয়ালাইকুমুস সালাম। আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি মা। তোমরা সবাই কেমন আছো…?? “
বাবার গলার স্বর শুনে ফুপিয়ে কেঁদে উঠে জারা। যাদিও তার বাবা প্রতি দিন কল করে তারপরও বাবার আদর কি আর ফোনে কথা বলে পাওয়া যাবে নিজেকে কোনো রকম সামলিয়ে বাবার কথার উত্তর দেয় জারা….
“___ আলহামদুলিল্লাহ! আমরাও ভালো আছি আব্বু। আব্বু তুমি কবে আসবে ঐ দূর দেশ থেকে। কতো দিন হলো তোমায় কাছ থেকে দেখি না। একটু ছুঁয়ে দেখতে পারি না। তোমার কোলে মাথা রেখে একটু ঘুমাতে পারি না। যানো আব্বু আমি তোমায় কতো মিস করি….!”
বলে আবারও কান্না করতে থাকে। মেয়ের কথা শুনে কি বলবেন তিনি খুঁজে পাচ্ছে না। সেই ছোট্টো থাকতে রেখে এসেছে এই দূর দেশে।১১ বছরের মেয়ে আর ৩ মাসের ছেলেকে রেখে এসেছে।কষ্ট তো হয়ই একটু…..!!
__” মা তুমি তো যানো আমি তোমাদের চোখের পানি সহ্য করতে পারি না।”
মেয়ের কান্নার শব্দ শুনে রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন মারজিয়া বেগম। এসে দেখে বাপ আর মেয়ে মিলে কান্না করছে.। মেকি রাগ দেখিয়ে মেয়েকে দুই এক কথা শুনালেন যেনো কান্না করাটা বন্ধ করে,
__“ এরকম কান্না করছিস কেনো..?? তোর বাবা তো প্রতি দিন ফোন করে। এখন কান্না করে রাতে মাথা ব্যাথা নিয়ে তো আর ঘুমাতে পারবি না। তখন আমাকেই এই অসুস্থ শরীর নিয়ে তোর সেবা করতে হবে। তোর যে মাইগ্রেন এর ব্যথা আছে ভুলে গেছিস।?
যা খাবার খেয়ে ঘরে যা….. “
ফুঁপাতে, ফুপাতে খাবার টা খেয়ে সোজা রুমে চলে আসে ভদ্র মেয়ের মতো জারা। বেডে শুয়ে কল করে গ্রুপের মাঝে। যে গ্রুপে শুধু তারা তিন বান্ধবী এড আছে। জারা,মিম আর ফিহা।
_________________
নিজের রুমে এসে আরমান লাইগেজ টা রাখে এক পাশে। রুমের চারপাশ টা ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে দেখে রুমে শুধু একটা বেড ছাড়া কিছু নেই। ক্লান্ত শরীরের খিটখিটে মেজাজে টা আরো বিগড়ে যায়। ফোঁস করে একটা শ্বাস ফেলে। আরমানের রুটায় ওয়াশরুম এটাআর্চ করা। তাই আর বেশি কিছু না ভেবে আগে একটা লম্বা সাওয়ার নিয়ে নেয়। সাওয়ার নিয়ে বের হয়ে দেখে ওর রুমে রোহান বসে আছে।সাথে সাথে কপালে বাজ পড়ে এই ঝামেলা এা আবার এখানে কি করে…?? তখনই প্রশ্ন ছোড়ে দেয় সে,
__“ এই রুমে কি তোর রোহান…? ”
__“ শা*লা এখানের রুম দেখেছিস একবার..?? একটা বেড ছাড়া আর কিছু নেই এখানে…?? কি করে থাকব বল ..??
__ “ তো আমি কি করব…?? তোর থাকতে মন না চাইলে যেতে পারিস, আমি মানা করব না…. গাঁ ছাড়া ভাব নিয়ে কথা টা বলল আরমান…..!!”
__“ ভাই দেখ এটা একটা সিরিয়াস বিষয়। তোর রুমের ওয়াশরুম ছাড়া মাএ একটা ওয়াশরুম আছে এখানে। ওয়াশরুমের সমানে এখন বিশাল বড় লাইন গেছে আছে।। আমি সুযোগই পাচ্ছি না ফ্রেশ হাওয়ার জন্য। জেরি,জিনিয়া ফ্রেশ হয়ে বের হওয়ার পর জাহেদ ঢুকেছে ওয়াশরুমে, এখনো বের হচ্ছে না। তাই তো আমি তোর রুমে এসেছি ফ্রেশ হতে..।”
কাঁদার ভান করে বলে রোহান। আরমান বলে,
___“ হুম বোঝলাম। ফ্রেশ হবি ভালো কথা কিন্তু আমার কোনো জিনিসে হাত দিবি না, এমনি আমার বডিওয়াশ এ-ও না….!!মাথায় যেনো থাকে…..
___“ হুমমমম…..হুমমমম.. বোঝেছি তোর ঐ ব্রান্ডের- ফানন্ডের কেদা রামের বডি ওয়াশ ব্যবহার করার আমার কোনো শখ নেই হুমমম..!আমার এই দশ টাকার ডেটল সাবান যথেষ্ট…।।
___“ ইস্টুপিট..! এটা কেদা রামের হবে না “ক্লেদালামের” হবে। এতো পড়াশোনা করে মুর্খই রয়ে গেলি…!! ”
__”হুম হয়েছে তোর আমাকে সুশিক্ষা দেওয়া…? হয়ে থাকলে সর সামনে থেকে আমি ফ্রেশ হব….রোহান
আরমান রোহানের সাথে আর কথা বারায় না। লাগেইজ থেকে নিজের পরার জন্য একটা ট্রাউজার আর ট্রি শার্ট বরে করে পরে নেয়।নিজের বেজা চোল গুলোতে হাত বোলাতে বোলাতে বেরিয়ে পরে রুম থেকে। রুম থেকে বের হয়ে দেখে জেরি বারান্দায় বসে আছে। ওর দিকে এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করে,
__”সিস্টার কি হইছে..?? এখানে বসে আছো কেনো..??’’
জেরিন তার সব ভাইবোনের ছোট বলে সবার খুব আদরের। জেরিন মন খারাপ করে বলে
__ ‘‘ ভাইয়া আমার আর আপুর রুমে শুধু একটা বেড কি করে রাতে ঘুমাব…??
__”আজ রাতটা মেনেজ করে নাও কাল সবকিছুর ব্যবস্থা করে দিব ইনশাআল্লাহ। এখন সন্ধা হয়ে আসছে রুমে যাও ভাইয়া সবার খাবারের ব্যবস্থা করছি ওকে। ’’
এই বলে রুমে আসে আরমান আর ফোন করে একজন লোকে আর বলে তাদের রাতের খাবারের ব্যবস্থা করতে। কথা বলে পকেটে মোবাইল রাখতে যাবে এমন সময় কল আসে একটা। মোবাইল টা পকেট থেকে বের করে দেখে ওর বাবা কল করেছে।
__” আসসালামু আলাইকুম আব্বু…!!
ওপাশ থেকে আরিফ খান বলেন,
__“ওয়ালাইকুমুস সালাম মাই সান। ঠিক মতো পৌঁছে গেছো তোমরা। কোনো সমস্যা হয় নি তো..??
__”না আব্বু কোনো সমস্যা হয় নি। এখানে সব ঠিক আছে শুরু রুমে কিছু জিনিসপএ দরকার। তা কালকের মাঝে ব্যবস্থা করে নিব।”
__”আচ্ছা ঠিক আছে বোঝলাম কিন্তু তুমি রাশেস কে কেনো সাথে করে নিয়ে যাও নি..?? ( রাশেদ হচ্ছে আরমান খান এর পার্সোনাল সেক্রেটারি)
__” আমি ওরে ইচ্ছে করে নিয়ে আসিনি। আমি ওরে কিছু কাজ দিয়ে এসেছি সেগুলো শেষ হলো চলে আসবে।”
__”আচ্ছা ঠিক আছে। এখন তাহলে রেস্ট নাও সবাই। আর তোমার বোনদের দেখে রেখো। ”
__“ হুমমম.!” বলে কল কেটে দেয় আরমান..!
_______________
__”কি অবস্থা..? কেমন আছিস সবাই.? বললো ফিহা…
__“ তুই আমাদের সাথে কথাই বলিস না শয়তান কোথাকার….!” মিম
__”কেন ভাই আমি আবার কি করলাম তোদের..?? ফিহা
__ “ অনেক কিছু করেছি। আজ কলেজে যাসনি কেনো…?” জারা
__ “ আচ্ছা রাগ করিস না দোস্ত কাল যাবো পাক্কা দেখেনিস….!!ফিহা
__” কাল তুই যা কলেজে আমরা যাব না… মিম
__” কেনো যাবি না তোরা.?আমি তো বললাম কাল যাব কলেজে…!!” মন খারাপ করে বলে ফিহা
__ “ আরে গাদী কাল শুক্রবার। কাল তোর কোন জামাইয়ের কলেজ খোলা থাকবে….” বললো জারা
__”ওহহহহহ..হে তো আমি তো ভুলেই গেছি কাল শুক্রবার….!! ” কেবলা মার্কা হাসি দিয়ে বলে ফিহা
__“ আচ্ছা জাটা তুই ঠিক মতো বাড়িতে পৌঁছাতে পেরেছি তো..? কোনো সমস্যা হয় নি…?? ” মিম
__“ মাঠ দিয়ে যেতে পারি নি আমি। মাঠের ভিতরে ডুকতে দেয়নি আমাকে দারোয়ান চাচা।বললো কোন সাহেব টাহেব আসবে নাকি তাই আমাকে তাড়িয়ে দিয়েছে….!” মন খারাপ করে বলে জারা…….!
__”কি ঐ দারোয়ান এর এতো বড় সাহস আমার বান্ধবী কে ডুকতে দেয়নি..?? রবিবার শুধু কলেজে গিয়ে নেই একবার, তারপর মজা দেখাব ঐ দারোয়ান বুড়োকে… হুমমম….!” বললো মিম
__”আচ্ছা এসব বাদ দেহ এখন। তোর পায়ে মলম গালিয়েছিস…?”
প্রশ্ন করলো জারা.।এদের কথা শুনে ফিহা বলে,
__“ কি হয়েছে মিম তোর…??”
__” রাস্তায় পড়ে গিয়ে পায়ে অনেক ব্যথা পেয়েছে.।কতো বার বলি উঁচু জোতা পরে কলেজে আসবি না। কে শুনে কার কথা। ডং করে উঁচু জোতা পরে এখন পায়ে ব্যথা পেয়ে বসে আছে। ”বললল..জারা…….
__”আরে এতো ব্যথাও পাই নি। রবিবারে বটতলায় দেখা হবে। জারা তুই কিন্তু আমার জন্য দাঁড়াবি ঠিক আছে এখন রাখি মা ডাকছে….বলেই কলটা কেটে দিলো মিম।
চলবে….
( আসসালামু আলাইকুম। ভুল হলে যানিয়ে যাবেন। সাংসদন করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ)