
পর্ব:০১
আহামেদ বাড়ি। এলাকার সব থেকে সমৃদ্ধ ও সম্মানিত যৌথ পরিবার বাড়ি। আজ এ বাড়িতে আনন্দের ঝড় সোহেল আহামেদের মেয়ে রিয়ার বিয়ে।
সোহেল আহামেদ হলেন আহামেদ বংশের বড় ছেলে এবং তার ছোট ভাই সৈয়দ আহামেদ।
সোহেল আহামেদ এবং সানজিদা আহমেদের তিন সন্তান :
১/ বড় মেয়ে : রিয়া।
২/ মেজো ছেলে : রাহাদ।
৩/ এবং ছোট মেয়ে : রিতু।
আর সৈয়দ আহমেদ এবং মনিরা আহামেদের একমাত্র রাজকন্যা আদিবা আহামেদ রিক্তা।
রাহাদ, রিতু রিক্তার বড় কিন্তু রিয়ার ছোট। তিন বোন রাদের আদরের। বাড়ির সবারই আদরের কিন্তু তিন বোন রাদের প্রান। যদি তিন বোনের কোনো আঘাত পায়। মনে হয় তিন বোন না সে আঘাত টা পেয়েছে।
বিয়ে বাড়ি। হলির রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে সবাই নাচ,গান, হাসি, মজা, হোলি খেলা সব মিলিয়ে যেন উৎসবের চূড়ান্ত রূপ।
সবাই হোলি খেলছে। আর রিক্তা চুপ করে এক কোনে দাড়িয়ে দেখছে কারন সে এইসব ততোটা পছন্দ করে না।
রিতু দৌড়ে এসে একমুঠো লাল হোলির রঙ লাগিয়ে দেয় রিক্তার তুলতুলে নরম গালে। সে রঙ দিয়ে দৌড়ে ছুটে পালিয়ে যায়।
হঠাৎ ঘটনায় রিক্তা ভেবাচেকা খেয়ে যায়।
স্বাভাবিক হয়ে চিৎকার করে বলে„“রিতুর বাচ্চা তুই শেষ। দাড়া বলছি।
এই বলে রিক্তা রিতুর পিছনে ছুটতে থাকে।
দুবোনের খুনসুটিতে মেতে উঠেছে আহামেদ বাড়ি । দুবোন যখন দৌড়াচ্ছে হঠাৎ রিতু কারো পিছনে গিয়ে লুকিয়ে যায়।
রিক্তা খেয়াল না করে সামনের দিকে দৌড়াতেই ধাক্কা লাগে একটা ছেলের সাথে। রিক্তা ভালো করে খেয়াল করতে পারলো না কে ছেলেটা?
পরেই যাচ্ছিল রিক্তা। ছেলেটা রিক্তার কোমর ধরে নিজের সাথে পেচিয়ে নেয় । রিক্তার রঙ মাখা হাত আর রিক্তার মাথা দুটোই ছেলে টার সাদা শার্টে বুক বরাবর গিয়ে লাগে।রিক্তা ভয়ে চোখ খিঁচে রাখে।
রিক্তার নাকে একটা perfume smell আসে।তার নাম dark said… এই perfume এর smell রিক্তার খুব পছন্দের। আর এই perfume এতো একটা পাওয়া যায় না।
রিক্তা অনুভব করলো তাকে কেউ আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে দরে রেখেছে, আর কারো বুকে সে মাথা দিয়ে আছে তাই সে পিটপিট করে চোখ খুললো।
দেখে সে কোনো ছেলে বুকে মাথা দিয়ে আছে। আর ছেলেটা তাকে কোমর পেচিয়ে ধরে রেখেছে। রিক্তা ছিটকে গিয়ে দূরে সরে যায়।
দূরে গিয়ে ছেলেটাকে মাথা থেকে পা অবদ্ধী পরক করে নেয় :
ছেলে টা হয়তো ৬ ফুট, ফর্সা শ্যমলা গায়ের রঙ, জিম করা বডি, সাদা শার্ট,কালো পেন্ট, কালো ফিতার ঘড়ি,চুল গুলো জেল দিয়ে সেট করা, চাহনি, উফফ এক কথায় ভিলেন + হিরো।
রিক্তা দেন ভাঙলো ছেলেটির কথায়।
ছেলেটা রেগে বলে „“ what nonsense এই মেয়ে চোখ কোথায় থাকে দিলে তো আমার শার্ট নষ্ট করে।”
রিক্তাও রেগে গিয়ে বলে „“আরে mr দোষ টা তো আপনার আর আমাকে বকছেন। বাহ mr বাহ”
( শেষ কথা টা রিক্তা হাতে তালি দিতে দিতে বলে)
ছেলে টা শার্ট যারা দিতে দিতে বলে „“ জীবনে কারো সাহায্য করাটাই হলো বড় ভুল।”
রিক্তা কোমরে হাত দিয়ে রাগ দেখিয়ে বলে„“ তো আপনাকে কে বলছে আমাকে সাহায্য করুন। আজব।”
ছেলেটা কিছু বলতে যাবে। পিছন থেকে রিতু হাসতে হাসতে বেড়িয়ে বলে „“আরে থামো তোমার।”
দুজন ভ্রু কুঁচকে তাকায় রিতুর দিকে।
রিতু রিক্তার কাছে গিয়ে ফিসফিস বলে„“আপু এ হলো শুভ ভাইয়া।”
রিক্তা ভ্রু কুঁচকে বলে „“কোন শুভ?”
“আরে। আমাদের ফুপাতো ভাই হয়। আর তুমি যাকে পছন্দ করতে। সেই এই মহান ছেলে শুভ ভাইয়া।”
রিক্তার চোখ বড় বড় হয়ে যায়।মানে যার জন্য এতোদিন মনে ভালোবাসা জমিয়ে রেখেছে আর আজ তাকে সামনাসামনি দেখে তাকে চিনতে পারছে না।
শুভ রিতুর দিকে তাকিয়ে বলে „“ তুমি নিশ্চয়ই রিতু? রাইট??”
রিতু মিষ্টি হেসে বলে „“হুম। শুভ ভাইয়া। কেমন আছো?”
“আলহামদুলিল্লাহ ভালো। তুমি? আর তুমি আমাকে চিনো?”
“আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আর হ্যাঁ আমি তোমাকে চিনি।”
” ওহ।
“তা তুমি কবে বাড়ি এসেছে?”
“আজকেই।”
রিতু অবাক হয়ে বলে„“কিহ……. ফুপ্পি জানে?”
“না বলি নি সারপ্রাইজ দিবো বলে।
“ওহ। তাহলে ঘরে যাও
শুভ রিক্তার পানে একবার তাকিয়ে লাগেজ নিয়ে ঘরের উদ্দেশ্য চলে যায়।
রিক্তা রিতুর দিকে রাগি ভাবে তাকায়। তারপর দাতে দাত চেপে বলে „“রিতুর বাচ্চা.. তোর আজ রক্ষা নেইরে।”
রিতু আম্মু বলে চিৎকার দিয়ে দৌড়ে চলে যায়।
রিক্তা আর রিতুর পিছন পিছন যায় না। কারণ বাড়ি ভর্তি লোকজন। তাই সে ঘরের উদ্দেশ্য চলে যায়।
রিক্তা সদর দরজায় এসে দাঁড়ায়।
তার চোখ গিয়ে পড়ে বসার ঘরের দিকে। আকলিমা খান তার ছেলের বুকের সঙ্গে লেপ্টে হাউমাউ করে কাঁদছে।
রিক্তার পা থমকে যায়।
আকলিমা খান ভেজা কণ্ঠে বলে„“তুই আসবি আমাকে বললি না কেন? আমাকে তোর মা মনে হয় না শুভ?”
শুভ মৃদু হাসি মুখে মাকে সোজা করে দাঁড় করিয়ে দুই হাতে চোখের জল মুছতে মুছতে বলে„“আর কেঁদো না। আর যদি আগেই বলতাম তাহলে সারপ্রাইজটা তাহলে হতো কী করে বলো?”
কিন্তু আকলিমা খানের কান্না থামে না।
ছয় বছর পর নিজের নারি ছেড়া ধনকে দেখছেন তিনি।
স্বাভাবিক এমন অনুভব কোনো মায়ের পক্ষে চেপে রাখা সম্ভব নয়।
শুভ মুচকি হেসে বলে„“এত বছর পর বাড়ি ফিরলাম। ভাবছিলাম মায়ের হাসি মুখটা দেখবো। আর দেখো এমন কান্না!”
তার পর হালকা দমকের সুরে বলে„“যদি আরও কাঁদো, তাহলে বিকেলের ফ্লাইটে আবার আমেরিকা ফিরে” যাবো।
আকলিমা খান চোখের জল মুছতে মুছতে বলে„“ কথা দে বাবা, আর যাবি না।”
শুভ মায়ের হাতে হাত রেখে বলে„“হুম এবার আর যাবো না। তাই তো বলছি কান্না থামাও।”
কথা শেষ হতেই উপরের ঘর থেকে শিখা ভাইয়া বলে চিৎকার দিয়ে দৌড়ে নেমে আসে। শুভর বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে হাউমাউ করে কাঁদে„“ভাইয়া! ভাইয়া! আমাকে তো বলতে পারতে তুমি আসবে!”
শুভ শিখার চোখের জল মুছিয়ে বলে„“পাগলি বোন আমার যদি বলতাম তাহলে সারপ্রাইজ হতো বল?”
“তাই বলে…!”
“হুম এখন থাম।”
শুভ সোফায় বসে সবাইকে একে একে সালাম ও কুশল বিনিময় করতে থাকে।
এমন সময় সৈয়দ আহামেদ বলেন„“আচ্ছা তুমি হঠাৎ এই বাড়িতে আসলে কিভাবে?”
সোহেল আহামেদও বলেন„“হুম সেটাই তো? কোনো খবরই তো দিলে না?”
শুভ একটু সবার আড়ালে মুচকি হাসে।
রিয়া ও রাহাদের দিকে তাকিয়ে মোলায়ম কন্ঠে বলে „“ আমি এয়ারপোর্ট থেকে সোজা খান বাড়ি গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে জানতে পারি তারা আহামেদ বাড়ি। ভাইয়া, ভাবি, ছোট আম্মু, দাদিজান সবাইকে সালাম দিয়ে, রিয়ার কাছ থেকে এই বাড়ির ঠিকানা নিই। তার পর রওনা হই।
কপাল খারাপ হলে যা হয় আর কি, মাঝ পথে গাড়ি নষ্ট হয়ে গেল।
অনেকদিন ব্যবহার না করায় সমস্যা হয়েছিল। পরে রাহাদকে ফোন করি, ও আমার জন্য গাড়ি পাঠায়। আমি ড্রাইভার আঙ্কেল কে ফোন করে গাড়ি গ্যারেজে পাঠিয়ে নিজে এখানে চলে আসি।”
সবাই এবার রাহাদ রিয়ার দিকে তাকায়।
রিয়া ভয় মেশানো গলায় বলে„“আমি নাই! রাহাদ বলেছে।”
রাহাদও দ্রুত বলে„“ না না, আমি না রিয়া আপু।”
শুভ হালকা দমক দিয়ে বলে„“থাম তোরা।”
ঠিক তখনই আকলিমা খানের চোখ পড়ে দরজার দিকে।
তিনি দেখতে পান
রিক্তা চুপচাপ এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে।
তার চোখে লুকানো কতশত না বলা কথা।
রিক্তা চুপ করে সরদ দরজার এক কোনে দাড়িয়ে আছে ।
সেটা আকলিমা খান দেখে এবং রিক্তার উদ্দেশ্য বলে „“কি রে মা ওখানে কেনো এখানে আয়।”
রিক্তা আকলিমা খানের ডাকে ছুটে যায় তার কাছে। রিক্তা আকলিমা খানকে খুব ভালোবাসে। রিয়া, রাহাদ রিতুও ভালোবাসে।
রিক্তা আকলিমা খানের পাশে বসে। আকলিমা খান পরম যত্নে রিক্তার মাথায় হাত ভুলিয়ে দেয়„“পাগলি মেয়ে। কোথায় ছিলি মা?”
রিক্তা আহ্লাদী কন্ঠে বলে „“কোথাও না এখানেই ছিলাম বান্ধবিদের সাথে।”
“রিতু কোথায়। আর খেয়েছিস।”
রিক্তা নাক কুঁচকে বলে „“খাবো না খিদে নেই। আর রিতু হোলি খেলছে।”
আকলিমা খান দমকের স্বরে বলে „“ এখানে আসছি পর থেকেই দেখি তুই খাবারে অনিয়ম করছিস। এরকম করলে তো অসুস্থ হয়ে যাবি মা। যা গিয়ে রিতুকে ডেকে দুজনে খেয়ে নে।
“আচ্ছা পরে যাই।”
আকলিমা খান রিক্তার কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলে„“ একে চিনো??”
( সামনের ব্যাক্তিকে দেখিয়ে বলে)
রিক্তা লাজুক হেসে উওর দেয় „“হুম। চিনি দেখেছি ডাক্তার সাহেব কে।”
আকলিমা খান ভ্রু কুঁচকে বলে „“মানে। কখন? কিভাবে?”
রিক্তা সোফা থেকে উঠতে উঠতে বলে „“বুঝবে না ফুপ্পি”
আকলিমা খান হাসি মুখে বলে„“পাগলি মেয়ে।”
রিক্তা উপরের রুমের উদ্দেশ্য যেতে থাকে কয়েক সিড়ি উঠতেই মনিরা আহামেদ বললেন „“ মা রিক্তা।”
রিক্তা পিছনে তাকিয়ে বলে „“হুম আম্মু বলো।”
“তোমার ভাইয়াকে রাহাদের রুম দেখিয়ে দাও একটু রেষ্ট নিক অনেক দূর থেকে আসছে তো।”
মনিরা আহামেদ শুভর দিকে তাকিয়ে বলে „“ যাও বাবা ওর সাথে আর ও তোমার সৈয়দ মামার মেয়ে।”
শুভ ছোট করে উওর দেয় „“ হুম।”
শুভ লাগেজ নিয়ে রিক্তার পিছন পিছন যেতে থাকে। রাহাদের রুমের সামনে এসে রিক্তা বলে „“ এইযে এটা রুম।”
এই কথা বলেই সে সোজা তার রুমে চলে আসে। রুমে এসে বিছানার উপর উবুর হয়ে শুয়ে হাতে ফোন নিয়ে Fecbook কে একটা পোস্ট করলো„
~ ~ ~” আপেক্ষার পহোর শেষ। অবশেষে আমার রাজা আবার বাড়ি ফিরলো। ” _ My Hero 🫣
তার দশ মিনিট পর রিক্তা ফোনে টুং করে একটা মেসেজে এলো। রিক্তা মেসেজ টি দেখে on করলো। মেসেজ টি পড়ে সে অবাক।
অচেনা একটা id থেকে মেসেজ আসছে „“ হুম আমার পিচ্চি মায়াবিনী বৌ।”
রিক্তা অবাক হয়ে বিরবির করে „“ এই… নামে আমাকে কেউ ডাকতো। কিন্তু কে আমার কিছু মনে পরছে না। দূর থাক যার মন চায় সে দেক গিয়ে আমার কি তাতে।”
বিকাল।
রিতু রিক্তা সোহেল আহামেদের পাশে বসে আছে।
সোহেল আহামেদ খবর কাগজ পড়তে পড়তে বলেন „“কি ব্যপার। তোমার এভাবে এখানে বসে আছো। কিছু হয়েছে?”
রিক্তা আমতা আমতা করে বলে „“বড় আব্বু আজ একটা জিনিস চাইবো দিবেন তো বলুন?”
সোহেল আহামেদ মুচকি হেসে বলে „“ কখনো কি কোনো ইচ্ছে অপুরন রেখেছি বলো??”
“না আব্বু।”
” তাহলে বলো কি চাই?”
রিক্তা রিতু একসাথে বলে „“ আমরা ছোটরা মিলে ছোট করে মেহেদী অনুষ্ঠান করতে চাই প্লিজ বড় আব্বু না করবেন না।”
সোহেল আহামেদ দু মেয়ের মাথায় হাত রেখে বল„“ পাগলি মেয়ে এতে এতো ভয় কিসের। আচ্ছা আমি রাহাদকে বলবো নি। এবার হয়েছে।”
রিতু রিক্তা একসাথে সোহেল আহামেদ কে জরিয়ে দরে বলে „“ আমাদের আব্বু best।”
সৈয়দ আহামেদ মুখ ছোট করে বলেন „“ হুম বড় আব্বু best। আমি পঁচা আমাকে আদর করে না সব আদর বড় আব্বুর না।”
রিক্তা রিতু দুজনে ছুটে যায় সৈয়দ আহমেদ কে জরিয়ে দরে বলে„“ আমাদের দুই আব্বু best। পৃথিবীর সব থেকে ভালো আব্বু আমাদের।”
দুই ভাই হো হো করে হেসে উঠে।
সবাই তৈরি হচ্ছে মেহেদী অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য। ছোট করে আহামেদ বাড়ির ছাদে এসটেজ সাজিয়েছে। মেয়েরা নিল শাড়ি আর ছেলেরা নিল পাঞ্জাবি।
রিক্তা তৈরি হয়ে শিখাকে তারা দিচ্ছে তারাতাড়ি করার জন্য।
রিক্তার সাজগোছ পছন্দ করে না তাই সে সহজ ভাবে তৈরি হয়েছে যেমন :- সবুজ গাউন পড়েছে, চুল হাঁটু অবদ্ধি ছারা, হাতে চিকন বেচ লাই, গলায় চিকন নেকলেস যার , কানে জুমকা ছোট,ঠোঁটে চায়না লিববাম্ব ব্যাস এতো টুকুই এতেই রিক্তাকে পরি লাগছে। শাড়ি চুরি মেকাব এসব জিনিস রিক্তার অপছন্দের।
রিক্তা বিরক্ত হয়ে বলে „“ হয়েছে?”
শিখা শাড়ির আচল ঠিক করতে করতে বলে „“ হুম শেষ চল।”
রিক্তা বিরক্তি নিয়ে বলে „“ মহারানি চলেন।”
রিক্তা শিখা দুজনে রিয়ার রুমের উদ্দেশ্য যাচ্ছে। দুজনে কথায় এতোটাই ব্যস্থ ছিলো যে তাদের পাশ দিয়ে সাকিব, শুভ, ইব্রাহিম যাচ্ছে তার বলতেই পারে না।
হঠাৎ রিক্তার উরন্তো গাউনের ওরনা শুভর ঘড়িতে গিয়ে আটকায়। ওরনায় টান লাগাতেই রিক্তা দাড়িয়ে যায়।
রিক্তা পিছনে ফিরে তাকায়।
শুভও ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকায়।
তাদের চোখাচোখি হয়ে যায়
কয়েক সেকেন্ড পর শুভ চোখ সরিয়ে নেয়। রিক্তাও চোখ সরিয়ে নেয়।
শুভ তার ঘড়ি থেকে ওড়নার আঁচল ছাড়াতে ছাড়াতে বলে „“ ওড়না যখন সামলাতে না পারিস তো ওড়না পরিস কেন।”
রিক্তা কিছু বলতে যাবে কিন্তু তার গলা দিয়ে কোনো শব্দ বেড় হচ্ছে না
শুভ আর কোনো কথা না বলে সোজা তার কাজের উদ্দেশ্য সে চলে যায়। পায়ে পা মিলায় ইব্রাহিম, সাকিব।
রিক্তা স্তব্ধ হয়ে শুভর যাওয়ার পানে তাকিয়ে থাকে।
শিখা রিক্তাকে মৃদু ধাক্কা দিয়ে মুচকি হেসে বলে „“কিরে ভাবি কি হলো? নজর লেগে যাবে।”
রিক্তা চোখ নামিয়ে শিখার দিকে তাকিয়ে রাগে কটমট করে বলে „“ দেখ শিখা কলেজ বলিস ভালো কথা কিন্তু বাড়িতে বলিস না। আর তোর ভাইকে কি ছোটবেলায় মুখে মধু দিস নাই?”
শিখা ভ্রু কুঁচকে বলে „“ মানে?”
” মানে কথা বললে মনে হয় মুখ দিয়ে কথা না তিতা রস ঝরে।”
রিক্তার কথা শুনে শিখা হাসতে হাসতে বলে„“ সেটা তোর ফুপি কে জিজ্ঞেস কর।”
” হুম করবো।”
শিখা একটু ভাবুক ভঙ্গিতে বলে „“ জানু দেখেছো বাংলা ছবির মতো কি সুন্দর তোমার ওড়না ভাইয়ার ঘড়িতে গিয়ে লাগলো।”
” বেডার ভাব বেশি।”
” তোর ভবিষ্যৎ হাসবেন্ড।”
” বাদ দে। চলো ।”
” হুম, চল,চল।”
দুজনে রিয়ার রুমে যায়।
রিক্তা রুমের ভিতরে ডুকতে ডুকতে বলে „“ মাশাল্লাহ আপু তোমাকে আজ অন্য রকম লাগছে।”
রিয়া আয়না দেখছিল। রিক্তার কথায় আয়না থেকে চোখ সরিয়ে রিক্তার দিকে তাকিয়ে বলে„“ কেমন?”
রিক্তা মুচকি হেসে বলে „“ হৃদয় ভাইয়ার বউ বউ লাগছে”
” পাকনি বুড়ি তাই।”
” হুম। রিয়া আপু দেখো তো আমাকে কেমন লাগছে?”
রিয়া বাঁকা হেসে উওর দেয় „“ পুরো শুভর বউ বউ “
শিখা হেসে বলে „“ হুম ঠিক বলছো।”
রিক্তা লজ্জায় মাথা নিচু করে রাখে।
রিয়া রিক্তার থুতনিতে দুই আঙুল দিয়ে মাথা উঁচু করিয়ে বলে „“ আরে আমার লজ্জাবতী বোন। এতো লজ্জা কোথায় রাখিস?”
রিক্তা লাজুক হেসে বলে „“ বাদ দাও চলো।”
” হুম আপু চলো দেড়ি হয়ে যাচ্ছে।”
রিক্তা শিখা শিখা। তিনজন মিলে ছাদে যায়।
রিয়াকে মেহেদী দেওয়ার জন্য পার্লার থেকে ৪ জন মেয়ে এনেছে।
প্রথমে রিয়া, রিক্তা,শিখা, রিতু এদের দেওয়া শুরু করেছে।
রিয়া, শিখার মেহেদী দেওয়া শেষ। রিক্তা রিতুর ১ হাত বাকি। তখন রিক্তার ফোনে টুং করে একটা মেসেজে এলো।
রিক্তার এক হাতে দিয়ে মেসেজ টি অপেন করলো।
সেই অচেনা ব্যক্তি „“ ও হে মায়াবিনী তোমার এতো রুপ কেনো? একটু কম হলে ক্ষতি কি? তোমার রুপে আমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি। তুমি কি তা জানো? না কি জেনেও না জানার অভিনয় করো?”
রিক্তা এবার উপস্থিত সবার দিকে এক পলক দেখে। কিন্তু কাউকে সন্দেহের মনে হয় না। তাই সে রিপ্লাই দিল „“ আপনি কি আমাকে চিনেন?”
” আমি তোমার মহারাজ। আর নাম সেটা পরে জানলে হবে।”
” অদ্ভুত লোক তো আপনি। চিনি না জানি না আর আপনি নাকি মহারাজ। দিবাগত দেখেন।”
” আমাকে চিনবেন একদিন।”
“আপনি কি আমার কাছের কেউ?”
“হুম খুব কাছের মানুষ।”
” আমার মনে হয় না।”
“কারন?”
” কারন আমি আপনাকে কখনো দেখিনি। আমি দেখতে চাই। আপনি কে?”
” কিছু দির অপেক্ষা করো দেখবে।”
রিক্তা আর মেসেজ দিলো না।
রিক্তা যখন ফোনে ব্যস্ত তখন শিখা দুষ্টামি করে রিক্তার হাতে শুভর নাম লেখে । রিক্তা হাতের দিকে তাকাতেই অবাক।।
রিক্তা শিখার দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে বলে „“ এটা কি করলি তোর বজ্জাত ভাই দেখলে খবর আছে।”
” আরে বেবি চিন্তা করো না কিছু হবে না আমি আছি।”
” সমস্যা হলে তোর খবর আছে”
মেহেদী অনুষ্ঠান শেষ হয় রাত ১২ টা।
রিক্তা, রিতু,শিখা এক জায়গায় ঘুমাবে।
রিতুর রুম আছে রাত হলে সে রিক্তার কাছে ঘুমায়। তাই আজ শিখাও যোগ দিল।
রিয়া তার রুমেই ঘুমাবে।
রাহাদের রুমে। রাহাদ,শুভ,সাকিব,রাইসুল,এরা ঘুমাবে।
রাত ১ টা সবাই ঘুমেই গেছে। শুভর চোখে ঘুম নেই। সে বিছানা ছেড়ে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়িয়ে।
আকাশের পানে তাকিয়ে থেকে বলে „“ জানিস চাঁদ। তোর মতো না আমার ও একটা চাঁদ আছে। তোকে যেমন সবাই দেখে। তাকেও সবাই দেখে। র্পাথক একটাই যেমন আমার ভালোবাসার কথা তোকে বলি তাকে বলতে পারি না। কেনো জানিস? কারন আমার ভয় যদি সে আমার কাছ থেকে দূরে সরে যায়।”
শেষ কথা বলে দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে।
পিছন থেকে রাহাদ সব শুনে বলে„“ ভাই নিরাশ হয়ে ও না তুমি। তাকে তুমিই পাবে। আমি কথা দিচ্ছি আমি নিজে দাড়িয়ে তোমার হাতে তুলে দিবো।”
শুভ পিছন ফিরে বলে „“ তুই জানিস কোন পরিস্থিতিতে আমি আছি?”
রাহাদ শুভর কাদে হাত রেখে বলে „“ জানি ভাইয়া।”
শুভ কথা ঘুরিয়ে বলে „“তুই ঘুমাস নাই?”
রাহাদ বুঝতে পারছে শুভ কথা ঘুরাচ্ছে তাই সেও বলে „“ হুম ঘুমিয়ে ছিলাম তোমাকে পাশে না দেখে উঠে গেছি।”
” যা গিয়ে ঘুমা। কাল অনেক কাজ আছে।”
” হুম। তুমি চলো ঘুমাবে।”
” যা তুই। আমি আসছি।”
“ভাইয়া তুমি এখন সিগারেট খাবে তাই না?”
শুভ মৃদু হেসে বলে „“ তুই যা আমি আসবো।”
রাহাদ আর কিছু বলে না। রাহাদ শুভ কে চিনে তার মন খারাপ হলে সে সিগারেট খায়। তাই সে রুমে গিয়ে শুয়ে পরে।
শুভ একটা সিগারেট দোরায়। কয়েক টান দিয়ে একটা কেন্ডি মুখে দিয়ে রুমে গিয়ে শুয়ে পরে।
সকাল।
আহামেদ বাড়ির টেবিলে সবাই নাস্তা করতে বসছে।
মনিরা আহামেদ, সানজিদা আহমেদ আকলিমা খান এবং সাথে কয়েক জন কাজের বুয়া। তারা সবাই মিলে নাস্তা দিচ্ছে।
খাবার টেবিলে বসে আছেন সোহেল আহামেদ, সৈয়দ আহামেদ, রিক্তা,রিতু,শিখা, রিয়া, রাহাদ,সাকিব, মিলি ( মিলি হলো শুভর চাচতো বোন)
রিক্তার খাওয়া শেষ সে উঠে বেসিন থেকে হাত দুতে যাবে তখন মনিরা আহামেদ বলে „“মা রিক্তা এই নাস্তার প্লেট টা শুভকে দিয়ে আয়। ছেলেটা কাল রাতে কিছু খায়নি।”
রিক্তা কখনো গুরুজনের কথা অমান্য করে নি। তাই সে হাত ধুয়ে। হাতে প্লেট নিয়ে কাঁপা কাঁপা পায়ে এগিয়ে যায় রাহাদের রুমের উদ্দেশ্য।
দরজার সামনে এসে দাড়ায়।
কয়েক বার ডাক দিছে কিন্তু ভিতর থেকে কোনো সারা নেই। তাই সে হালকা ধাক্কা দিয়ে রুমে ডুকে।
রুমে ডুকেই থমকে যায়। সেই সুগন্ধ যেটা সে খুব পছন্দ করে। কয়েক মিনিট পর রিক্তা খাবার প্লেট টি টেবিলে রেখে চলে যাওয়ার জন্য ঘুরতেই দেখে শুভ ভিজা চুল মুছতে মুছতে এদিকেই আসছে।
রিক্তা শুভকে উন্মুক্ত শরীরে দেখে তাড়াতাড়ি চোখ বন্ধ করে নেয়।
শুভ রিক্তাকে দেখে ভড়কে যায়।
রিক্তা চোখ খিচে অন্য দিকে ফিরে বলে„“ শুভ ভাই আপনি কিছু একটা পড়েন প্লিজ।”
শুভ রিক্তার পাশে খাট থেকে টি শার্ট টা নেওয়ার জন্য হাত বাড়াতেই রিক্তা চিৎকার করে বলে „“প্লিজ আপনি আমার কাছে আসবেন না। আমি এখনো ছোট “
শুভ থতমত খেয়ে যায়।
শুভ আস্তে করে বলে „“ তোর পিছনে আমার টি শার্ট।”
রিক্তা লজ্জায় মাথা নিচু ফেলে।
শুভ টি শার্ট পড়ে নেয়।
রিক্তা বুঝতে পারে শুভ কিছু একটা পড়ে নিয়েছে তাই সে শুভর দিকে ঘুড়ে তাকায়।
শুভ এক পা দুপা করে রিক্তার কাছে যেতে থাকে। আর রিক্তা পিছনে।
এক পর্যায় রিক্তা রাহাদের আলমারির সাথে ঠেকে যায়। শুভ রিক্তার দিকে কিছুটা ঝুকে বলে„“ এতো লজ্জা কোথায় রাখিস পিচ্চি?”
শুভ যখন রিক্তার কাছে এসেছিল তখন রিক্তা চোখ বুঝে নেয়। শুভর গরম নিশ্বাস রিক্তার সারা অঙ্গে আছরে পরছে। শুভর কথায় চোখ খুলে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলে „“ মানে?”
শুভ নিজের অবস্থান বুঝতে পেড়ে রিক্তার কাছে থেকে দূরে সরে আসে তার পর গম্ভীর স্বরে বলে „“ কেনো এসেছিস এখানে?”
রিক্তা কিছুটা শান্ত গলায় বলে „“ আম্মু খাবার পাঠাইছে। আপনি কাল রাতে কিছু খান নি তাই।”
শুভ খাটে বসতে বসতে গম্ভীর কণ্ঠে বলে „“ এই রুমে হুটহাট চলে আসবি না। কারন কখন কি হয়ে যায় বলা খুব মুসকিল।”
রিক্তার ছোট মাথায় কিছু ঢুকে না। তাই সে ছোট করে আচ্ছা বলে রুম থেকে চলে যায়।
রিক্তা আনমনে সিঁড়ি দিয়ে নামছে আর শুভর সাথে ঘটে যাওয়া কিছু মুহূর্ত ভাবছে। শুভর কাছে আসা, তার কথা, তার গরম নিশ্বাস, তার উন্মুক্ত শরীর। ইসস রিক্তার লজ্জায় মাটির নিচে ডুকে যেতে ইচ্ছে করছে।
তখন রাহাদ ফোন টিপতে টিপতে উপরের দিকে উঠছে সে রিক্তাকে খেয়াল করে নি, রিক্তাও খেয়াল করেনি। তখনি রাহাদের সাথে ধাক্কা খেয়ে নিচে পড়ে যায়। হাতে হালকা ব্যথা পায়।
রাহাদ অস্থির হয়ে যায়। তার কলিজার বোন যে ব্যথা পেয়েছে „“ রিক্তা বোনু তুই কোথায় ব্যথা পেয়েছিস?বল,বল আমাকে।”
রিক্তা তার ব্যথা হাত নিয়ন্ত্রণ করে বলে „“ ভাইয়া শান্ত হও আমি ব্যথা পাইনি।”
রাহাদ হালকা রাগ নিয়ে বলে „“ বললেই হলো চল আমার সাথে হাতে মলম লাগাতে হবে।”
রিক্তা দূরত দাড়িয়ে বলে „“ভাইয়া আমি ঠিক আছি দেখো…”
রাহাদ দমকের স্বরে বলে „“ রিক্তা তোকে কি বলেছি?”
রিক্তা ভালো করেই জানে রাহাদ কেমন?
সে যদি একবার কিছু বলে, সেটা যদি কেউ না করে, তাহলে পুরো বাড়ি মাথায় তুলে নেবে। তাই রিক্তা কোনো কিছু না বলে সোজা রাহাদের পিছু পিছু হাঁটতে থাকে।
রুমের সামনে এসে রাহাদ মৃদু ধাক্কা দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে।
শুভ তখনও ফোন টিপছিল। দরজা খোলার শব্দে সে সেই দিকে তাকায়।
রাহাদ ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে প্রশ্ন করে „“ কি করছো ভাইয়া ?
শুভ ফোনে নজর রেখে গম্ভীর কণ্ঠে বলে „“ important কাজ করছি
” খেয়েছো?”
” হুম খেয়েছি। তুই খেয়েছিস?”
“ হুম খেয়েছি।”
রাহাদ তার ড্রয়ার থেকে মলম খুঁজতে থাকে। রিক্তা দরজার পাশে দাড়িয়ে দাড়িয়ে দাত দিয়ে নক কাটছে।
শুভ রাহাদের দিকে তাকিয়ে কুঁচকে বলে „“ কি খুঁজছিস?”
রাহাদ মলম খুঁজতে খুঁজতে জবাব দেয় „“আর বলো না ভাইয়া। এই পাগলি বোনুকে নিয়ে যে আর পারিনা।”
শুভ রিক্তার পানে এক পলক তাকিয়ে পুনরায় রাহাদের দিকে তাকিয়ে বলে „“ কেন? কি করেছ?”
রাহাদ রিক্তার দিকে তাকিয়ে মৃদু রাগী কন্ঠে বলে „“ কোথা থেকে ছুটে এসে সিঁড়ি দিয়ে নামছিল। তখন আমার সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গিয়ে হাতে ব্যথা পায়। তো আমি বললাম মলম লাগাতে হবে কিন্তু আমার বোন কিছুতেই সে লাগাবে না। তাই তাকে ধরে বেধে নিয়ে আসেছি।”
শুভ মৃদু স্বরে বলে „“পিচ্চি মানুষ একটু দুষ্টুমি তো করবেই।”
রিক্তা দরজার কোনে দাড়িয়ে দাতে দাত চেপে সব কথা শুনছিল। শেষের শুভর কথা শুনে একটু রাগ হলো তাও কিছু বলল না।
রাহাদ মলম খুঁজে পেয়ে যেইনা রিক্তার কাছে আসতে যাবে, তঅমনি রাহাদের কাছে ইম্পর্টেন্ট একটা কল আসে। তাই সে শুভর উদ্দেশ্যে বলে „“ভাইয়া, তুমি একটু বোনুকে মলম লাগিয়ে দাও না প্লিজ। আমার একটা গুরুত্বপূর্ণ কল এসেছে।
রাহাদ শুভকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়েই সোজা রুমে বাইরে চলে যায়।
শুভ ফোনটা পাশে রেখে বলে „“এই পিচ্চি মেয়ে এখানে বস।”
রিক্তা সেখানে চুপচাপ ঠায় দাঁড়িয়ে আছে।
শুভ একটু জোরে গলায় বলে „“কি হলো? কথা কি কানে যায় না? এখানে বসতে বললাম তো।”
রিক্তা বাধ্য মেয়ের মতো খাটের এক কোনে গিয়ে বসে।
শুভ আবার গম্ভীর কণ্ঠে বলে „“ Give me your hand picchi”
রিক্তা রেগে গিয়ে বলে„“এই যে ডাক্তার সাহেব এত পিচি পিচি করেন না। তাহলে আপনার কপালে পিচি জুটবে।”
শুভ হেসে বলে „“তাই..”
রিক্তা শুভর হাসির পানে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।মনে মনে আওড়ায় „“ কি মায়াবী হাসি আর ব্যাটা সারাক্ষণ মুখ গোমড়া করে রাখে।”
শুভ রিক্তাকে তার পানে তাকিয়ে থাকতে দেখে হাসি থামিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলে „“হাত দে..”
রিক্তা এবার পরলো মহা মুশকিলে। তার যেই হাতে মেহেদী সেই হাতেই ব্যথা এখন যদি শুভ দেখে ফেলে তাহলে কি হবে?
শুভ মৃদু ধমক দিয়ে বলল :„“আচ্ছা তুই কোন জায়গায় থাকিস কথা বললে কথা শুনিস না?”
রিক্তা আল্লাহকে ভরসা করে কাঁপা কাঁপা হাত বাড়িয়ে দেয় শুভর দিকে।
শুভ দুই আঙুলের মাথায় কিছু মলম লাগিয়ে যে না রিক্তার হাতে লাগাতে যাবে ঠিক তখনই শুভর চোখে পরে রিক্তার হাতে মেহেদী দিয়ে লেখা Shuvo।
নাম দেখেই শুভ মাথা গরম হয়ে যায়। দাঁতে দাঁত চেপে বলে „“ এটা কি? কোন সাহসে আমার নাম লিখেছিস তোর হাতে?”
রিক্তা ভয় পেয়ে যায় শুভর রাগ দেখে।
শুভ বাজ পড়া কণ্ঠে বলল „“ কোন সাহসে আমার নাম লিখেছিস তোর হাতে? কে সাহস দিল তোকে?”
শুভর কন্ঠে রিক্তা কিছুটা কেঁপে উঠে।
শুভ রিক্তার হাত থেকে মেহেদী তোলার জন্য ঘষতে থাকে রিক্তার হাতের তালুতে।
দুুধে আলতা শরীর রিক্তার। সামান্য টাচ করলে মনে হয় সেখান দিয়ে রক্ত বের হবে। আর সেই জায়গায় শুভ খুব খারাপ ভাবে ঘষতে থাকে।
রিক্তার ব্যথায় চোখ দিয়ে পানি বেরিয়ে যায়। তাও সেই শব্দ করে কান্না করে না।দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামরে দরে মিনমিনিয়ে বলে „“ শুভ ভাই ব্যথা লাগছে ছাড়েনা আমার…”
আর বলতে পারলো না
শুভ বাজ পড়া কণ্ঠে শুধালো„“আর একবার যদি দেখি তোর হাতে আমার নাম। তাহলে বলে দিচ্ছি এখন তো তোর হাত থেকে নাম উঠছি ওই সময় হাত থাকবে না।”
রিক্তার কণ্ঠে বুক ফেটে যাচ্ছে যন্ত্রনায়।মনে মনে বলে „“ কি এমন অপরাধ করেছি আমি? শুধু তো নামই লিখেছি। আপনি এমন করলেন না শুভ ভাই! আপনার সাথে আর কখনো কথা বলবো না দেখবেন।”
রিক্তা অবাধ্য চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পরছে।
শুভ মেহেদী উঠিয়ে সেখানে হালকা মলম লাগিয়ে দেয় এবং সাদা কাপড় দিয়ে বেন্ডিস করে দিয়েছে ।
রিক্তার এক মুহূর্ত দেরি না করে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। রুম থেকে বেরোতেই শিখার সামনে পড়ে।
শিখা আড়াল থেকে সবই শুনেছে। তার ভাই যে এতো নিষ্ঠুর আগে কখনো কল্পনা করতে পারিনি।
শিখা আস্তে করে বলে „“দেখি তোর হাতটা?”
“কেনো?”
শিখা রিক্তার পিছন থেকে হাত সামনে আনে। হাতটা অসম্ভব লাল, রক্ত জমাট হয়ে আছে। শিখার চোখ দিয়ে দু-এক ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পরে „“সরি বোন। আমি কল্পনাও করিনি কখনো এমনটা হবে। বিশ্বাস কর আমি তোকে ইচ্ছে করে এমনটা করতে চাইনি।”
রিক্তা নিজেকে শক্ত করে বলে „“ এটা তোর কোন দোষ না। ভাগ্যে যা ছিল তাই হয়েছে।”
শিখা রাগী কণ্ঠে বলে „“ তুই আমার সাথে আম্মুর কাছে চল। এর একটা বন্দোবস্ত করতেই হবে।”
শিখা যেই না অন্যদিকে ঘুরে হাঁটতে যাবে রিক্তা অমনি শিখার পিছন থেকে হাত টেনে ধরে বলে „“ আল্লাহর কসম। তুই ফুপিকে কিছু বলিস না।”
শিখা কান্না করা কণ্ঠে বলল „“ তুই এমন কেন রে? তোকে যে আঘাত দিল আর তুই তাকে বাঁচাচ্ছিস।”
রিক্তা চোখের পানি মুছিয়ে দিতে দিতে বলে „“ চল নিতে যাই বাদ দে এসব।”
দুজন মিল নিয়ে গিয়ে সোফায় বসে।
আকলিমা খান ওদের দুজনকে একসাথে দেখে তাদের কাছে এসে বসে ওদের দুজনের মাঝে „“ কি হলো রিক্তা আমার আম্মুটার মন খারাপ কেন?”
রিক্তা আকলিমা খানের কোলে মাথা রেখে বলে „“ কিছু হয়নি ফুপী।”
আকলিমা খান রিক্তা ও শিখার পাশে বসে বলে „“ কি রে রিক্তা তোর কি হয়েছে?”
রিক্তা আকলিমা খানের কোলে মাথা রাখতে রাখতে বলে „“ কিছু হয়নি ফুপী।”
আকলিমা খান রিক্তা মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে তার চোখে পড়ে রিক্তার হাত। যেটা ফুল লাল হয়ে আছে।
আকলিমা খান„“ রিক্তা… তোর হাতে কি হয়েছে?”
এই কথা শুনে মনিরা আহমেদ এবং সানজিদা আহমেদ রান্নাঘর থেকে ছুটে আসে।
রিক্তা তড়িঘড়ি করে বলে „“ কিছু হয়নি।”
এই কথা পিছন থেকে শুভ শুনে ফেলে। সে অবাক „“ যেই আমি তাকে এতো ব্যথা দিলাম আর সে আমার জন্য মিথ্যা বলছে?”
শুভ মুচকি হাসলো।
সানজিদা আহমেদ বললেন „“ কিরে রিক্তা মা তুই হাতে ব্যথা পেলে কিভাবে?”
রিক্তা মৃদু স্বরে বলে „“ ওই কিছু না বড় আম্মু সামান্য একটু লেগেছে।”
মনিরা আহমেদ রাগী কন্ঠে বলেন „“ তোকে কতবার বলেছি সাবধানে একটু চলাফেরা কর তুই আমার কথা একদমই শুনিস না।”
আকলিমা খান মনিরা আহমেদের উদ্দেশ্যে বললেন „“ থাক না ভাবি এমনিতেই মেয়েটা ব্যথা পেয়েছে। তার মধ্যে আপনি তাকে বকছেন ।”
মনিরা আহমেদ বলেন „“জানেন না আফা। এই মেয়েটাকে নিয়ে যে আর পারা যায় না। সারাক্ষণ ছুটাছুটি করে৷ আর ব্যথা পেলে রাহাদ আমাদের উপর রাগ দেখায়।”
আকলিমা খান মজার ছলে বলে „“ থাক তোমাদের আর পালতে হবে না। আমার বউকে আমি নিয়ে যাব। এখন তো ছেলেটা আমেরিকা থেকে ফিরেছে।”
আকলিমা খানের কথা শুনে সবাই একসাথে হেসে উঠে।
রিতু দৌড়ে এসে বলে „“রিক্তা আপু তোমাকে রিয়া আপু ছাদে ডাকছে।”
শিখা জিজ্ঞেস করে „“কেনো রে..”
“ জানি না তোমরা দুজন আসো।”
“যা তুই আমি আসছি।”
রিতু আচ্ছা বলে আবার ছাদে চলে যায়।
রিক্তা আস্তে আস্তে উপরে উঠছে উদ্দেশ্য ছাদে যাওয়া। আর শিখা তাকে তার অন্য হাত ধরে হাঁটছে।
ছাদে উঠে দেখে রিয়া, রিতু ছাদের বেঞ্চে বসে আছে। রিক্তা শিখাও যোগ দিল।
রিয়ার চোখ যায় সাদা কাপড় দিয়ে পেঁচানো রিক্তর হাত।তাই সে জানতে চায় „“ কিরে রিক্তা তোর হাতে কি হয়েছে?”
রিক্তার চোখে অশ্রু এসে ভর করে।চোখের জল আড়াল করে আস্তে করে বলে „“ তেমন কিছু না ভালোবাসার ফল।”
” মানে?”
শিখা সব খুলে বলে।
রিয়া সব শুনে রাগ হয়। যে বোনকে কখনো কেউ টোকা পযন্ত দেয়নি আর সেই বোন কে সে অতাচার করছে। না এটা মানা যায় না।
তাই রিয়া সিদ্ধান্ত নিলো পরে এই বিষয় কথা বলবে।
তারা ৪ বোন মিলে ছাদে বসে খুব গল্প করছে। ছাদের এক পাশে সুন্দর একটি ফুলের বাগান সে টা রিক্তা নিজের হাতে তৈরি করেছে। ওখানে নানান রকমের ফুল আছে : – অপরাজিতা, সোনালু, ভৃঙ্গরাজ, বেলি, শিউলি, রজনী, সন্ধ্যামালতি, কৃষ্ণচূড়া, জারবেরা,রঙ্গন, ইত্যাদি। এগুলো রিক্তা নিজে সাজিয়েছে মাঝে মাঝে রিয়া, রিতু পানি দেয়।
রিয়া রিক্তা রিতু শিখা ৩ জনের উদ্দেশ্য বলে „“ কিরে তোরা নাচবি না।”
“হয় কিন্তু রিক্তার একটু সমস্যা হয় দেখে ও নাচবে না 😔
” আচ্ছা তোরা এখন নেচে দেখো?
রিতু খুশি হয়ে বলে „“ঠিক বলেছো আপু।”
শিখা ও বলে „“ হুম আপু।”
“আমি মনে হয় পারবো না?”
” আচ্ছা তুই আমাকে নেচে দেখা ভুল হলে ঠিক করে দিবো।”
” তারপরও আপু…”
রিয়া রিক্তার গালে হাত রেখে বুঝানোর স্বরে বলে „“ তুই তো হারা পাত্র না। তাহলে তুই হেরে যাবি?”
রিক্তা বুঝে গেছে তার বোন এখন তাকে সাহস দিবে। রিক্তা মুচকি হেসে দাঁড়িয়ে বলে „“ আমি প্রস্তুত আমি হাল ছাড়বো না। আমি হাল ছাড়া শিখি নাই।”
রিয়া মুচকি হেসে বলে „“ এই তো আমার বোন। যা নাচার জন্য তৈরি হ।”
৩ জন প্রস্তুত নিচ্ছে। ৩ জনেই গোল জামা পড়া। ঠিক ভাবে দাঁড়িয়ে রিক্তা বলে „“ শুরু করি 👍”
রিয়া ছোট সাউন্ড বক্স ছাড়লো গান চলতে শুরু হলো :
chunnari chunnari song।
এই গানে নাচলো নাচটা খুব সুন্দর হয়েছে।
ওদের নাচ শেষ তবে রিক্তার কোনো সমস্যা হয়নি । রিয়া করতালি দিলো তাদের নাচ দেখে„“ খুব সুন্দর হইছে।”
পিছন থেকে সাকিব বলে উঠে : হুম সত্যি বলছি খুব বাজে নাচ।”
তার সাথে তাল দিয়ে রাহাদ বলে „“ হুম একদম বাজে নাচ। এই নাচ পেতনী দেখলে ভয় চলে যাবে।”
একসাথে সবাই হো হো করে হেসে উঠে।
রিক্তা, শিখা, রিতু, মুখ ভেংচি কেটে রিয়ার পাশে গিয়ে বসে ।
তাদের কান্ডে অনেক কষ্ট করে হাসি লুকিয়ে রিয়া বলে „“ তোরা কখন এলি?”
তারা সবাই ভিতরে আসতে থাকে।
মিরাজ বলে „“ এখন বাড়ির সবাই আসছে।”
রিয়া শুভর উদ্দেশ্যে„“ ওহ। শুভ তোর বাড়ির কেউ আসে নাই?”
চিরোচেনা গম্ভীর কস্ঠের জবাবা „“হুম আসছে।”
সোহাগ রিয়াকে উচ্ছ্বাস নিয়ে বলে „“ রিয়া চল কিছু একটা গেম খেলি। কাল তো তুই চলে যাবি আবার কখন আসবি তখন তো আমরা না থাকতেও পারি।”
সাথে সাকিবও বলে „“ হুম। সোহাগ ভাইয়া ঠিক বলেছে।”
সোহাগ, সাবির আরো লোক এদের পরিচয় দেয় :
সোহাগ, সাহিন, সুমন, নুপুর, বৃষ্টি এরা হচ্ছে রিয়ার মামা তো ভাই বোন। মুক্তা, মিরন, উর্মি এরা হচ্ছে রিয়ার খালাতো ভাই বোন। সাকিব, সুমি, সুরাইয়া এরা হচ্ছে রিক্তার বড় মামার সন্তান। রিয়ার মামা মামির সাথে রিক্তার মামা মামির সম্পর্ক ভালো হওয়ায় তাদের সন্তানদেরও একে অপরের সাথে সম্পর্ক খুব ভালো। রাইসুল, ইব্রাহিম, মিরাজ, ফাহিম, ইরা, ইশিতা, এরা হচ্ছে রিয়া শুভর খুব ক্লোজ ফ্রেন্ড এবং বেস্ট ফ্রেন্ড। ফাহিম বিয়ে করেছে এক বছর, ইব্রাহিম সামনে বিয়ে করবে, মিরা বিবাহিত। আর বাকিরা বিয়ে করে নি।রাহাদের ফ্রেন্ড এসেছে সিয়াম,জিসান এরা শুধু রাহাদের একার ফ্রেন্ড না এরা সাকিবেরও ফ্রেন্ড। রাহাদ সাকিব বেস্ট ফ্রেন্ড সাথে সিয়াম, জিসান।
সবাই গোল হয়ে বসে ছাদের মেঝেতে। কিন্তু রিক্তা বসে না। সে বেঞ্চে পা জুলিয়ে অন্য দিকে ফিরে আছে।
রিয়া ভ্রু কুঁচকে বলে „“কি রে রিক্তা তুই খেলবি না?”
রিক্তা সোজা সাপটা জবাব „“ইচ্ছে নেই।”
সাকিব, রাহাদ উঠে গিয়ে রিক্তার পাশে বসে। সাকিব জিজ্ঞেস করে„“কি হয়েছে আমার বোনের?
রিক্তা মাথা নিচু করে বলে „“ কিছু হয় নি। তোমরা খেলো।”
রাহাদ রিক্তাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে বলে „“এদিকে তাকা “
রিক্তা রাহাদের দিকে ফিরে তাকায়
রাহাদ দুই হাতে কান ধরে বলে „“ এই দেখ তোর ভাই কানে ধরছে ব্যথা দেওয়ার জন্য। এবার তো আয়।”
রিক্তা রাহাদের কান থেকে হাত নামিয়ে বলে „“কি করছো? সবাই দেখছে তো।”
“তাহলে চল।”
রিক্তা এবার সবার দিকে তাকায় সবাই তার আগ্রহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
রিক্তা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে বলে „“ আমি খেলবো।”
রিক্তার একটা কথায় সবার মুখে হাসি ফুটে উঠে ।
রিক্তার বসতে হলো শুভর পাশে। রিক্তার অস্বস্তি লাগছে কিন্তু করার কিছুই নাই।
সবাই বসে এই জায়গাটাই খালি আছে।
খেলা শুরু হলো। সাকিব বোতল ঘুরালো।
পড়লো সোহাগের দিকে।
রিয়া জিজ্ঞেস করে „“ Truth and Dear?”
সোহাগ „“ dear.”
” তুই আজ আমাকে এবং সকলকে একটা করে চকলেট খাওয়াবি।”
” তোরা কি মানুষ না জংলী? তোদের চকলেট খাওয়াতে গেলে আমি ফকির হয়ে যাবো”
” না খাওয়াতে হবে।”
” হ্যাঁ খাওয়াতে হবে।”
” প্রয়োজনে কোঠা আনদোলন করবো।”
রিতুর কথায় সবাই হেসে উঠে।
” আচ্ছা খাওয়াবো এখন খেল।”
সাকিব আবার বোতল ঘুরালো এবার শিখার দিকে।
রিতু জিজ্ঞেস করে „“ আপু truth and dear?”
” dear.”
রিক্তা চট করে বলে „“তুই আজ নাচ দিবি তাও রাহাদ ভাইয়ার সাথে।”
কথাটা করনোকহর হতেই রাহাদ শিখা চেচিয়ে বলে „“ কিহ…..”
তাদের চেঁচানো দেখে সবাই কানে আঙুল দেয়।
” হ্যাঁ,যা বলেছি তাই। তুই আর ভাইয়া নাচবি।”
শিখা কটমট করে বলে „“ হাতের সাথে কি মাথা গেছে তোর কি সব বলছিস তুই?”
” হাত মাথা সব ঠিক আছে।”
সবাই বলল „“ হুম হুম শিখা রাহাদ নাচবে।”
” কি বলছিস তুই রিক্তা ……”
রিক্তা ভাব নিয়ে বলে„“ আমি বলি নি জনগণ বলেছে।”
সবাই হেসে উঠলো।
ওদের খেলার মাঝে রিক্তা রিতুর উদ্দেশ্য বলে „“রিতু রুম থেকে আমার ফোন টা এনে দে বোন।”
রিতু আচ্ছা বলে চুপ চাপ রুমের উদ্দেশ্যে যেতে থাকে।
সাকিব বোতল ঘুরালো এবার পড়লো রাহাদের দিকে।
সাকিব „“truth and dear?”
রাহাদ „“ truth।”
সাকিব „“তুই কি কাউকে পছন্দ করিস?”
রাহাদ মৃদু হেসে বলে „“ না। যদি পাই তাহলে ঠিকই করবো। আর আমার মনে হয় না আমার মনের মতো মেয়ে পাবো।”
সাকিব ভ্রু কুঁচকে বলে „“কেন? তুই কি রকম মেয়ে পছন্দ করিস?”
” এক কথায় নরম হৃদয়ের মানুষ।”
সাকিব বুঝে যায় এরা এক একটা কবি হয়ে গেছে তাই সে বলে „“ভাই তুই তোর মনের মতো মেয়ে খুঁজতে থাক আর আমরা খেলি।”
সবাই খিলখিল করে হেসে ওঠে।
রিতু রিক্তার ফোন এনে রিক্তার কাছে দেয়।
রিক্তা ফোন হাতে পেয়ে ফোন চালু করতেই দেখে ওই ব্যক্তির মেসেজ „“ কি হলো মায়াবিনীর মায়াবিলতা? আজ কি তোমার মন খুব খারাপ? হাতে খুব বেশি ব্যথা করছে?”
রিক্তা অবাকের চরম পর্যায় মনে মনে আওড়ায় „“ কে এই লোক? সে আমার খবর জানে কিভাবে?”
রিক্তা রিপ্লাই দিল „“আপনি কিভাবে জানেন আমার হাতে ব্যথা?”
ওপাশ থেকে কোনো উত্তর নেই।
বোতল পড়লো শুভর দিকে। সবাই একসাথে চেচিয়ে দিয়ে ওঠে।
তাতে রিক্তার ধ্যান ভাঙে।
ঈশিতা উচ্ছ্বাস নিয়ে বলে„“আমি করবো?”
রিয়া বলে „“ওকে।”
ঈশিতা „“ truth and dear?”
শুভ বুকে হাত রেখে হতভম্ব হয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। ঈশিতার কথায় জবাব দেয় „“ ভাই একটু জন্য আমার হার্ট এটাক হয়নি।”
“তুই বল কোনটা নিবি?”
” তোদের মাঝে dear নেওয়া যাবে না তাই truth।”
“তুই কি কাউকে ভালোবাসিস?”
শুভ কিছুক্ষণ চুপ করে ঈশিতা মনোভাব বুঝার চেষ্টা করলো তারপর বলে „“ হুম।”
রিয়া, রাহাদ, সাকিব, সোহাগ, আরো কিছু লোক বাদে সবাই বেশ অবাক।
রিক্তা ফ্যালফ্যাল নয়নে তাকিয়ে আছে শুভর দিকে। তারপর চোখ নামিয়ে নেয়।
শিখা রিক্তার হাত নিজের মুঠো বন্দী করে চোখের ইশারায় বলে„“ রিক্তা কিছু হয়নি এই সব মিথ্যা।”
রিক্তা জানে এটা তাকে ভরসা দেওয়ার জন্য কথা তাই সে চোখের ইশারায় বলে „“হুম জানি।”
রাইসুল দাত কিরমির করতে করতে বলে „“শালা এতদিন তোর সাথে চললাম তোর মনের কথাই জানতে পারলাম না?আরে আমরা তো বন্ধু নামে কলংক।”
মিরা বলে „“ আচ্ছা দেখি সেই রূপবতীর ছবি। তার রাজাকে কত জনকে প্রপোজ করেছে কিন্তু সে রিজেক্ট করে দিয়েছে। কারণ সেই রূপবতীর জন্য।”
শুভ গভীর কণ্ঠে বলে „“তার ছবি নেই।”
” তার সম্পর্কে কিছু বল নাম কি? থাকে কোথায়?
শুভ আকাশের দিকে তাকিয়ে মোলায়েম কন্ঠে বলে „“নাম হৃদয় হরনী। আর থাকে আমার মনে। তার সুন্দর্য দিয়ে গোটা একটা বই লেখলেও হবে না। তার চোখ সূক্ষ্ম তিরের মতো তাকালে হৃদয় ছিদ্র হতে বাধ্য ,তার টোল পরা গালের হাসি আমার বাচার অক্সিজেন, কথা, চলাফেরা (শুভ বুকের বা পাশে হাত রেখে উচ্চারণ করে) ইসস।বিশ্বাস কর যখন প্রণয়নী আমার সামনে থাকে আমি উন্মাদ হয়ে যাই। আর সে আসলেই সুন্দরী। দুধে আলতা গায়ের রং, কালো ঘন চুল।”
সবাই খুব আগ্রহ নিয়ে তার কথা শুনছে।
কিছু লোক বুছে গেছে শুভ কার কথা বলছে।
রিক্তা মাথা নিচু করে শুনছে। তার অবাধ্য চোখ তার কথা শুনছে না। চোখ দিয়ে কয়েক ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পরে।
শিখা বিষয় টা লক্ষ করে রিক্তার হাত শক্ত করে ধরে।
রিক্তা সবার আড়ালে চোখের পানি মুছে ফেলে।
শিখা সবার উদ্দেশ্য গম্ভীর কণ্ঠে বলে „“ এবার খেলাটা শুরু করলে ভালো হতো।”
শিখার কথায় সবাই তার দিকে তাকায়।
নুপুর বলে „“ কেন আপু? হবু ভাবির কথা শুনতে ভালো লাগছে না?
” কে কার ভাবি? যাকে চিনি না সে কিসের ভাবি?”
” আরে ভাইয়া আনলেই তো দেখবে।”
” সেটা যখন আনবে তখন।”
সাকিব শুভর উদ্দেশ্যে বলে „“ মাইরী বোন পাইছোস একটা ঝগরুটে।”
শিখা কটমট করে বলে „“ আমি ঝগরুটে?”
” না খালা ঝগরুটে না আপনি।”
রিয়া বলে „“ বাদ দে সাকিব শুধু শুধু মেয়েটাকে চেতাস না।”
সাকবি কথা না বাড়িয়ে বোতল ঘুড়ালো এবার রিক্তার দিকে।
রাহাদ জিজ্ঞেস করে „“ বোনু Truth and dear?”
রিক্তা মৃদু স্বরে বলে „“ ভাইয়া আমি খেলবো না তোমরা খেলো।”
” তা বললে হবে?”
রিতু, সুরাইয়া, বৃষ্টি, নুপুর রিক্তাকে জোর করতে থাকে।
রিক্তা বাধ্য হয়ে বলে „“ আচ্ছা Dear.”
রিয়া বলল „“তুই একটা গান বল।”
রাহাদ বলে „“ হ্যাঁ বোনুর গানের গলা খুব ভালো। যখন আমার মন খারাপ থাকে তখন বোনু গান খেয়ে আমার মন ভালো করে।”
সাকিব, সোহাগ, সুমন, মিরন সবাই বলে „“ সত্যি তাহলে তো শুনতে হয়।
শিখাও উচ্ছ্বাস নিয়ে বলে „“ হুম যখন কলেজে কোনো অনুষ্ঠান হয় তখন রিক্তা বক্তব্য দেয়।”
” তাহলে আমাদের গান শুনাতেই হবে।”
” না ভাইয়া আজ অন্য কোনোদিন শুনাবো। আজ মনটা ভালো না।”
” না না আমরা শুনবো। শুনবো।”
সাকিব বলে „“ তাহলে কিন্তু আমি তোর সঙ্গে কথা বলবো না”
” আরে ভাইয়া রাগ করো না আজ সত্যি ভালো লাগছে না।”
শিখা, রিতু, সুরাইয়া, বৃষ্টি, নুপুর একসঙ্গে বলে „“ মানবো না মানি না।
রিক্তা শিখাকে চিমটি কেটে বলে „“ শিখার বাচ্চা চুপ থাক।”
শিখা মৃদু চিৎকার দিয়ে বলে „“ আহ বেবি লাগছে।”
” লাগুক তোর তুই গান বলতে জোর করছিস কেন?”
শিখা ভাব নিয়ে রিতু,বৃষ্টি, সুরাইয়া তাদের উদ্দেশ্য বলে „“ কি যেনো বলে ছিলো। আমি বলিনি..”
পরের লাইন ছোটরা চেচিয়ে বলে „“ জনগণ বলেছে।”
সবাই হেসে উঠে।
রিক্তা কিছুক্ষণ চুপ থেকে গাইতে লাগলো „“ আমার একলা আকাশ থমকে গেছে রাতের স্রোতে ভেসে।
শুধু তোমায় ভালোবেসে
আমার দিন গুলো রঙ চিনেছে
তোমার কাছে এসে
শুধু তোমায় ভালোবেসে
শেষ লাইন টা শুভর দিকে তাকিয়ে বলেছে।
যেটা অনেকে খেয়াল করেনি।”
রিক্তার গান থামতেই সবাই একসাথে হাত তালি দিলো। তখন দরজায় এসে দাড়ালো মিলি। মিলি শুভর চাচাতো বোন সে শুভকে পছন্দ করে সেটা সবাই জানে।
মিলি এসে শুভর পাশে দাড়ায় উদ্দেশ্য শুভর পাশে বসা। কিন্তু এতে করে শুভর কোনো হেলদোল নেই।
রিক্তাকে মিলি উদ্দেশ্য করে বলে „“ রিক্তা তুমি অন্য পাশে বসো আমি এখানে বসবো”
মিলি, রিক্তা, শিখা একই কলেজে পড়ে। মিলি তাদের এক বেচ সামনে।
রিক্তা চট করে দাঁড়িয়ে বলে „“আমি আর খেলবো না। আমি চলে যাই।”
সবাই তাকায় রিক্তার দিকে রিয়া ভ্রু কুঁচকে বলে „“ কি হলো?”
” ভালো লাগছে না তাই রুমে চলে যাই।”
শিখাও উঠে দাঁড়িয়ে বলে„“আমিও চলে যাই।”
বাকিরা আর কিছু বলল না।
দুজন রুমে চলে আসে শিখা রুমে ঢুকেই দরজা লক করে দেয়।
রুমে ঢুকতেই রিক্তা বিছানায় ধাপাস করে বসে পরে মিনি দৌড়ে আসে রিক্তার কোলে।
রিক্তা মিনিকে কোলে নিয়ে ফুপিয়ে কেদে উঠে।
পাশে বসে শিখা সান্ত্বনা দিচ্ছে। এই সান্ত্বনা দেওয়া ছাড়া আর কিছু করার নাই তার „“ আচ্ছা তুই না, আদিবা আহমেদ রিক্তা।”
সেই আদিবা সে কখনো কোনো যুদ্ধে হার মানে না।
তাহলে এখন কেনো বোকার মতো কান্না করছিস।
আর শুভ ভাইয়া যা বলেছে সব মিথ্যা। সব মিথ্যা।
রিক্তার কানে শিখার সেই শব্দগুলো বাজছে।
তুই আদিবা আহমেদ রিক্তা।
তুই ভেঙে পড়ার মেয়ে না।
তারপরও তার অবাধ্য চোখ কি শোনে „“ শুভ ভাই কিভাবে পারলো বলো?কিভাবে?”
শিখা রিক্তার মাথায় হাত রেখে মলিন স্বরে বলে „“ শোন তোর কপালে যে আছে সে শত বাধা পার করে হলেও সে আসবে তোর কাছে।”
শিখার কথায় রিক্তার চুপ হয়ে যায়। কেউ যেন এদিকে আসছে।
শিখাও বুঝে চুপ হয়ে যায়।
রিতু দরজায় টোকা দিল„“ রিক্তা আপু..?”
শিখা উঠে গিয়ে দরজা খোলে।
রিতু একটু অবাক হলো কারণ রিক্তা কখনো দরজা লক করে বসে থাকে না তার উপর শিখা।
সে এতো মাথা ঘামায় না।
সে ভিতরে ঢুকে দেখে রিক্তা মুখখানা ফেঁকাসে হয়ে আছে।।
রিতু ভ্রু কচকে রিক্তার দিকে তাকায় আরেক বার শিখার দিকে।
তারপর বলে „“ কি হয়েছে আপুর ?”
রিক্তা খুব রেগে গিয়ে বলে „“কেনো এসেছিস?”
রিতু ভয় পেয়ে যায় রিক্তার রাগান্বিত কন্ঠে। তারপরও স্বাভাবিক থেকে বলে „“না মানে তুমি কি করছো তা দেখতে এলাম।”
রিক্তা চটে গিয়ে বলে „” ভুতের সাথে কথা বলছি। বলবি কথা আয় বস এখানে?”
শিখা রিক্তাকে ধমক দিয়ে বলে „“ পাগল হয়েছিস? তোর দমকে মেযেটা ভয় পাচ্ছে।”
রিক্তা চুপ হয়ে যায়। শিখা রিতুর উদ্দেশ্যে বলে „“রিক্তার মাথা ব্যথা উঠেছে। তুমি গিয়ে ওর মেডিসিন আর এক কাপ কফি নিয়ে এসো।”
রিতু বুঝে যায় রিক্তার মাথা ব্যথা উঠেছে। এটা এই প্রথম না। আরও কতবার হয়েছে তাই এটাতে বাড়ির সবাই অভ্যস্ত।
রিতু মাথা নেড়ে হ্যাঁ সম্মতি জানিয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে যায়।
শিখা রিক্তাকে বুঝিয়ে শান্ত করিয়ে সে রিয়ার রুমে চলে যায়
আর রিতু নিচে রান্না ঘরে গিয়ে ছোট আম্মু মানে মনিরা আহামেদকে বলে „“ ছোট আম্মু রিক্তা আপুর মাথা ব্যথা করছে সে একটু কফি খাবে।”
মনিরা আহামেদ বলেন „“ হঠাৎ মাথা ব্যথা কেনো?”
” জানি না তুমি দেও দেড়ি হলে আমার রাগারাগি করবে।”
মনিরা আহামেদ লিগার দিয়ে এক কাপ কফি বানিয়ে দেয়। রিতুর এক হাতে কফি, আরেক হাতে মেডিসিন।
সে রিক্তার দরজার সামনে এসে বলে„“ রিক্তা আপু দরজা খুলো।
কিন্তু ভিভর থেকে কোনো সারা নেই
একবার, দুইবার, তিনবার……
ভিতর থেকে কোনো সাড়া নেই। তাই রিতু নিচে গিয়ে মনিরা আহমেদকে বলে„“ছোট আম্মু, আপু দরজা খুলছে “
আকলিমা খান ভ্রু কুঁচকে বলে „“ কেনো? মেয়ে টা না এখন কফি চাইলো, তাহলে দরজা খুলছে না কেন?”
সানজিদা আহমেদ বলেন„“ হয়তো ঘুমিয়ে গেছে।”
রিতু„“ তাও যেতে পারে।”
বিকাল
তৃব স্বরে ফোন বাজছে। বন্ধ রুমে মনে হচ্ছে জংকার তুলে ফেলেছে
রিক্তা ঘুঘুম চোখে তাকালে পাশে থাকা ফোনের স্ক্রিনে।
রিক্তা ঘুমন্ত চোখ আবেশে ভ্রু কুঁচকে গেলো। অয়েসপুষ্ট স্বরে বলে„“ শুভ ভাই ফোন করেছে কেনো?”
হ্যাঁ, ফোন দিয়েছে শুভ। রিক্তার কাছে অনেক আগে থেকেই শুভর ফোন নাম্বার ছিল,কিন্তু কখনো ফোন করেনি। রিক্তা নাম্বার টি সেভ করেছিল “বজ্জাত ডাক্তার সাহেব “
মনে জমে থাকা অভিমান নিয়ে কল কেটে দেয়। কিন্তু অপাশ থেকে অনাবরত কল আসতে থাকে।
রিক্তা বিরক্ত হয়ে ফোন হাতে নিয়ে উঠে বসে। কিছুক্ষণ ফোনের দিকে তাকিয়ে থেকে কল ধরে রাগান্বিত কন্ঠে বলে „“ কি সমস্যা? দেখছেন যে কল ধরছি না তাও বার বার কল করছেন কেনো?”
রিক্তা ঝাঁজালো কন্ঠে শুনে শিখা ফিউজ হয়ে হা হয়ে থাকে। বেচারার ফোনে চার্জ নেই দেখে শুভর ফোন থেকে কল করেছে। এমনিতেই কল ধরছে না আবার ধরেই রাগী কন্ঠে।
শিখা ভেবলার মতো উচ্চারণ করে „“ আমি শিখা….”
কন্ঠে নরম করে রিক্তা বলে„“ সরি জানু আমি ভেবেছিলাম তোর বজ্জাত ভাই।”
” আস্তে বল পাশেই আছে”
” তুই ফোন কেন করেছিস? রুমে আসতে কষ্ট হয় মহারানী?”
এমনিতেই রুমের দরজা বন্ধ করে আছে তারউপর তার সাথেই রাগ দেখায়। শিখা বিরক্ত হয়ে বলে „“ ওরে আমার বেগম সাহেবা। আপনি যদি রুমের দরজা বন্ধ করে রাখেন তাহলে আমি যাবো কি করে? আমার তো কাউয়ার পাখা নেই যে উরে উরে জানালা দিয়ে যাবো”
নিজের বোকামি বুঝতে পেরে আস্তে করে বলে „“মনেই ছিল না। ওয়েট। তোর ফোন কই?”
“আর বলিস না, আমার ফোনের চার্জ শেষ। তাই ভাইয়ার ফোন দিয়ে দিলাম কিন্তু তুই তো ফোন ধরেই কি ঝারি।”
” আমি তো মনে করেছি তোর ভাই তাই ধরেনি।তুই ফোন দিবি তা জানি? আচ্ছা তাহলে রাখি তাহলে”
শিখা তরিঘড়ি কন্ঠে বলে „“ এই..দাঁড়া দাঁড়া…”
” হুম বল।”
“কখন তৈরি হবি?”
“পরে ৫ টা বাজে।”
শিখা কটমট করে বলে „“দেখ কয়টা বাজে। ৬ টা…”
রিক্তা দেওয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে চেচিয়ে বলে „“ আল্লাহ গো…আমি এতো সময় দরে ঘুমিয়েছিলাম। আম্মু বড় আম্মু সবাই কি ভাবে আর তার উপর রুমের দরজা লাগানো। শিখার বাচ্চা ফোন রাখ।”
এই বলে ফোন কেটে দেয়।
রিক্তা ফ্রেশ হয়ে নিচে গিয়ে গল্প করতে থাকে।
রিয়া উপর থেকে রিক্তাকে ডাক দেয় রিক্তা ও চলে যায়।
রিয়া রিক্তাকে একটা শপিং ব্যাগ দিয়ে বলে „“ নে তোর গিফট।”
রিক্তা শপিং ব্যাগটা হাতে নিয়ে খুলে দেখলো নিল রঙের লেহেঙ্গা। খুব সুন্দর। সাথে কিছু জুয়েলারি।
রিক্তা বেশ মুগ্ধ হয়।
রিয়া জানতে চাইলো „“ কেমন লেগেছে?”
রিক্তা রিয়াকে জড়িয়ে ধরে বলে„“ খুব সুন্দর হয়েছে আপু”
রিক্তা রিতু শিখার উদ্দেশ্যে বলে „“ তোরা কি পেয়েছিস?”
রিতু „“ হুম রাহাদ ভাইয়া কিনার সময় শিখা আপুকে আর আমাকে ফোনে দেখিয়েছে। তাই আমরা শাড়ি নিয়েছি”।
রিক্তা চোখ নাক মুখ কুঁচকে বলে : ইস…. শাড়ি আমার একদম পছন্দ না।”
শিখা „“ তোর তো প্রতিদিন পড়া লাগবে যদি শুভ ভাইয়ার বউ হস।”
রিক্তা শিখাকে আলতো করে থাপ্পড় দিয়ে বলে „“ দূর! ছোট বড়দের সামনে এসব বলতে নেই।”
রিয়া মুচকি হেসে বলে „“ হয়েছে পাগলিরা, এখন গিয়ে তৈরি হও।”
আসে রিক্তা রিয়াকে বলেছিল ” আমাদের তিনজন কে তোমার গায় হলুদে এক রকম ড্রেস গিফট করবে “
রিয়াও মেনে নিয়ে বলেছিল ” রিতু শিখাকে দিবে রাহাদ আর আমি তোকে দিবো।”
এতে রাহাদও মেনে নিয়েছে।
রিক্তা, শিখা, রিতু একরুমে যায় তৈরি হতে। আর সবাই যে যেখানে পায় সেখানেই যায়