
পর্ব:০২
রিক্তা তৈরি হয়ে শিখাকে তাড়া দিচ্ছে নিচে যাওয়ার জন্য।
রিক্তাকে আজ খুব মহনীয় লাগছে। পরনে নীল লেহেঙ্গা, চুল গুলো হাঁটু অবধি ছাড়া,মাথায় কয়েটা ফুল দিয়ে বাঁধা , কোনো মেকআপ নেই, চোখে কাজল, ঠোঁটে হালকা গোলাপি লিবম্বাম,কানে ছোট নীল ঝুমকা, গলায় খুব সুন্দর একটা নেকলেস, যার মাঝে লেখা S, আর হাতে চিকন বেস লাইট—এগুলো সব রিয়া দিয়েছে।
রিক্তা বেশ তাড়া দিয়ে শিখাকে বলে „“ কিরে তোদের হয়েছে? সময় নেই রে…”
শিখা রিতুর শাড়ির কুঁচি ঠিক করতে করতে বলে „“ হয়েছে একটু দাঁড়া!”
রিক্তা একটু রাগ নিয়ে বলে „“ সেই কখন থেকে বলছিস একটু, একটু, একটু…… বোন তোদের কি একটু হয় নাই?”
শিখা রিতুর কুচি ঠিক করে উঠে দাঁড়িয়ে বলে „“হয়েছে চল…”
তিনজন রুম থেকে বের হতে যাবে তখন রিতু বলে „“ তোমরা যাও আমি আসছি।”
রিক্তা বেশ রেগে গিয়ে বলে „“ এখন তোর কিসের কথা মনে পড়লো রে……”
শিখা রিক্তার হাত ধরে টেনে নিয়ে যায় রুমের বাইরে
” চল তুই ও আসবে নি……”
রিক্তা,আর শিখা মিলে রিয়ার রুমের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল তখন শুভ সামনে দাঁড়ায়। রিক্তা ভয় পেয়ে যায়। হঠাৎ সামনে এসে দাঁড়ানোতে।
শিখা এক পাশে গিয়ে দাঁড়ায়।
শুভ শিখার উদ্দেশ্য গম্ভীর কণ্ঠে শুধায় „“ তুই যা…..”
শিখা আস্তে করে বলে „“আচ্ছা”
এইবলে যেতে নিবে তখন রিক্তা রেগে গিয়ে বলে„“ তুই কোথায় যাবি?আমিও তো যাবো দাঁড়”
এই বলে রিক্তা শুভর সামনে থেকে শিখার হাত ধরে সামনে যেতে নিবে, তখন রিক্তার অন্য হাত পিছন থেকে ধরে নেয় শুভ।
রিক্তা থমকে দাড়িয়ে পরে। তার সারা শরীরে একটা হালকা বিদ্যুৎ যটকা লাগে।
শুভ রিক্তার হাত ধরা অবস্থায় শিখাকে বলে „“ শিখা তোকে কি বলেছি?”
শিখা রিক্তার হাত ছাড়িয়ে বলে „“ যাচ্ছি।”
রিক্তা শিখার হাত ধরে বলে :„“তুই কোথাও যাবি না।”
রিক্তা শুভর দিকে না তাকিয়ে বলে „“ হাত ধরেছেন কেন? হাত ছাড়ুন।”
রিক্তার কথার উত্তর না দিয়ে শিখাকে আবার গম্ভীর কণ্ঠে বলে „“ শিখা তোকে যেতে বলছি “
” শিখা তুই যাবি না “
শিখা এবার পড়ল মাঝ নদীতে। দুপাশেই আগুন। সে যাবে টা কোথায়? একপাশে বাঘ তো আরেক পাশে কুমির
শিখা কাঁদো কাঁদো মুখ করে রিক্তাকে বলে „“ভাই তোরা তোদের ঝগড়ার মাঝে আমাকে কেনো টানছিস? আমাকে ছেড়ে দে। আমি মাসুম বাচ্চা।”
এই বলে রিক্তার হাত ছাড়িয়ে দৌড়ে চলে যায়।
শুভ রিক্তাকে হেঁচকা টানে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে। কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকে রিক্তার পানে। তারপর খুব ধীরো স্বরে বলে „“ কি হয়েছে? এত অভিমান কেনো?”
রিক্তার চোখে পানি ছলছল করে। তারপর খুব অভিমান নিয়ে বলে „“ আমি কারো সাথে অভিমান করি নাই? অভিমান আপনদের সাথে হয় পর দের সাথে নয়।”
শুভ গভীর কন্ঠে বলে „“ তোর হাত টা দেখি? “
” প্রয়োজন নেই “
শুভ গম্ভীর কণ্ঠে উত্তর করে„“ সেটা তোকে জিজ্ঞেস করিনি! তোর হাত দেখা “
রিক্তা নাছর বান্দী সে হাত দেখাবে না মানে দেখাবে না। আর শুভও নাছর বান্দা সে দেখবে মানে দেখবে।
রিক্তার তেরামি দেখে শুভ রিক্তার দুই হাত দেওয়ালে চেপে ধরে।
এতে করে রিক্তার মৃদু আর্তনাদ করে উঠে
তখন ওইখান দিয়ে যাচ্ছিল ইব্রাহিম। সে এইসব দেখে ছুটে আসে তাদের কাছে।
ইব্রাহিম শুভর কাঁধে হাত রেখে বলে „“ শুভ শান্ত হও। “
শুভ রিক্তার কাছ থেকে দূরে সরে আসে। তারপর চোখ বুজে দীর্ঘ একটা শ্বাস ছেড়ে বলে „“ইব্রাহিম ওকে বল আমার সাথে আসতে।”
এই বলে সে চলে যায়।
ইব্রাহিম রিক্তার মাথায় আদরের হাত রেখে বলে„” রিক্তা বোনু যাও ওর সাথে। ও এখন নিজের ভিতর নেই।”
রিক্তা ছলছল নয়নে তাকায় তার দিকে। কিন্তু কিছু বলে না।
তারপর চুপচাপ যেতে থাকে শুভর পিছু পিছু।
রিক্তা শুভর পেছন পেছন রাহাদের রুমে আসে। রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকে চুপচাপ।
শুভ রুমের ভিতরে চলে যায়। রিক্তার টের না পেয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকিয়ে বলে „”কি রে, ওখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? তোকে কি কোলে করে আনতে হবে?”
রিক্তার চোখে জল, কণ্ঠে রাগ নিয়ে বলে „“ যা বলার বলুন, আর আমার পা আছে!”
রিক্তার কথায় বাকা হেসে রিক্তার দিকে এগোতে থাকে শুভ।
তা দেখে রিক্তা শুকনো ঢোক গিলে তড়িঘড়ি করে বলে „“ আসছি, আসছি!”
রিক্তা ভিতরে ডুকে সোফায় গিয়ে বসে অবশ্য শুভই বসতে বলেছে।
শুভ একটি ওষুধ নিয়ে এসে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে রিক্তার পায়ের সামনে।
রিক্তা তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়িয়ে বলে„“ কি করছেন ডাক্তার সাহেব! “
শুভ রিক্তার পানে তাকিয়ে বলে „“চুপ করে বসে থাক।”
“কিন্তু আপনি আমার পায়ের কাছে বসবেন না। প্লিজ!”
শুভ এবার অগ্নদৃষ্টিতে তাকায়।
শুভর আগুন চোখ দেখে রিক্তা চুপসে যায়। চুপচাপ বসে পড়ে সোফায়।
শুভ এবার নরম গলায় বলে„“ “হাতটা দে।”
এই খাটাশ বেডার সাথে রিক্তার আর তর্ক করতে ইচ্ছে করেছে না।তাই কোনো কিছু না বলে হাত বাড়িয়ে দেয় শুভর দিকে।
শুভ খুব যত্ন করে মলম লাগাচ্ছে রিক্তার হাতে।
শুভর স্পর্শে রিক্তার শরীর কেঁপে উঠছে বারং বার।
সে চেয়ে থাকে শুভর মায়াময় মুখটার দিকে।”কি অপূর্ব সুন্দর!” রিক্তা মনে মনে বলে „“ চাঁদের গায়ে দাগ আছে, আর আমার ডাক্তার সাহেবের গায়ে কোনো দাগই নেই! “
রিক্তার সব অভিমান গলে জল হয়ে যায় একনিমিশেই
তবে হঠাৎই তার চোখ পড়ে শুভর চোখের দিকে। শুভর চোখ অসম্ভব লাল হয়ে আছে!
এতক্ষণ খেয়ালই করেনি রিক্তা কিন্তু এইবার চোখ পরেছে তার চোখে।
তার বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠে।
ভাবতে থাকে „“কি হয়েছে ওনার? মন খারাপ? কেউ কি কষ্ট দিয়েছে নাকি?”
ঠিক করে নেয়, সে জিজ্ঞেস করবে কি হয়েছে? কিন্তু মনের মধ্যে ভয় করছে থাপ্পড় না মেরে দেয়।
চলবে…….