গল্প: রহস্যে ঘেরা বাড়ি (০২)

পর্ব:০২

লেখক:রাকিবুর রহমান আতিক

.
ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখলাম আমি কোনো এক অচেনা রাস্তা ধরে হাঁটছি। কোথায় যাচ্ছি জানি না। সামনেই কেউ একজন হাতের ইশারায় আমাকে ডাকছে আর তার পেছন পেছন আমি হাঁটছি । হঠাৎ মিউজিকের আওয়াজ এসে আমার কানে বাজলো সেই সাথে আমার ঘুম ও ভেঙ্গে গেলো। ঘুম ভাঙতেই দেখলাম আমার ফোনে রিং হচ্ছে। ফোনটি হাতে নিতেই দেখলাম মিতা কল করেছে। ফোনটা ধরে বললাম- এই তুই সবসময় ভুল সময়ে এন্ট্রি মারিস কেন?


ওপাশ থেকে মিতা বলল- ভুল সময়! কেনোরে কারো সাথে রোমান্স করছিলি নাকি?


আরে না ঘুমের মধ্যে আমার স্বপ্নের রাজকন্যাকে স্বপ্ন দেখছিলাম।


মিতা বলল- ওল্লে আমার রাজকুমার, ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখেছিস একবার কয়টা বাজে। এরপর রাজকুমারীকে নয়, ফইন্নিকে স্বপ্ন দেখবি বুঝলি।


মিতার কথা শোনে ঘড়ির দিকে তাকালাম। হায় সর্বনাশ সাড়ে নয়টা। দশটা থেকে অফিস শুরু। অফিসে যেতেই তো আধাঘণ্টার চেয়ে বেশি সময় লাগে। তৈরি হবো কখন। তার উপর যদি জ্যামে পড়ি তাহলে তো কথাই নেই।

বিছানা থেকে নেমে তাড়াতাড়ি ছোটঘরে গেলাম। সংক্ষিপ্ত ইন্টারভিউ দিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। কোনো রকমে একটি প্যান্ট আর শার্ট গাঁয়ে দিয়ে টাই, জুতা সব হাতে নিয়েই দৌড়ে বের হলাম। কপাল ভালো বের হতেই একটি সি এন জি পেয়ে গেলাম। গাড়িতে বসেই জুতা টাই পড়ে নিলাম।

আসলেই আজকে আমার কপালটা ভালো। রাস্তায় কোনো যানজট নেই। অন্যদিন তাড়াতাড়ি বের হলেও রাস্তায় যানজটের কারণে অফিসে যেতে প্রায়ই দশ পনেরো মিনিট দেরি হয় আমার নয় সবার। অফিসের স্যারের ও দেরি হয়।

স্যার বিষয়টা বুঝেন কেউ তো আর ইচ্ছে করে দেরি করে না। তাই দশ পনেরো মিনিট দেরি হলে কাউকে কিছু বলেন না। আজ যানজট না থাকায় অনেকটাই বেঁচে গেছি। না হলে কখন যে অফিসে গিয়ে পৌঁছাতাম কে জানে।


অফিসে পৌঁছে গাড়ি ভাড়া দিয়ে গিয়ে নিজের কেবিনে প্রবেশ করলাম।আমার কেবিনে লাগানো দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকাতেই আমি কিছুটা চমকে উঠলাম। ঘড়িতে তখন মাত্র ১০:০০ টা বাজে। আমি যখন বাসা থেকে বের হয়েছিলাম তখন ৯ :৪৫। পনেরো মিনিটে কীভাবে অফিসে এলাম। মনে মনে ভাবলাম ঘড়িটা হয়তো খারাপ হয়ে গেছে। পকেট থেকে মোবাইল বের করে সময় দেখলাম।

মোবাইলেও তখন ১০:০০ টা। তার মানে ঘড়ি ঠিক আছে। তাহলে আমি এতো তাড়াতাড়ি কীভাবে এলাম। সম্ভবত আমার ভুল। হয়তো বাড়িতে থাকতেই ঘড়িতে সাড়ে আটটা কে সাড়ে নয়টা ধরে নিয়েছিলাম। আর এই বিষয়ে না ভেবে নিজের কাজ করতে লাগলাম। মাসের শেষ। হিসেব টা মিলিয়ে নিতে হবে। গতকাল জাবেদা করে রেখেছিলাম।

আজ খতিয়ান করে নিলেই অনেক কাজ এগিয়ে যাবে। তাই বসে বসে প্রথমে জাবেদায় একটু চোখ বুলিয়ে নিলাম। কোনো ভুল আছে কিনা দেখার জন্য। জাবেদায় চোখ বুলানোর সময় দরজায় কেউ নক করলো। নিচের দিকে তাকিয়েই বললাম ইয়েস কামিং।


মিতা রুমে প্রবেশ করে বলল– কী রে তুই আমাকে মিথ্যা বললি কেন?
আমি তোকে কী মিথ্যা বললাম?


তোকে যখন আমি ফোন দিলাম তুই বললি আমার ফোন পেয়ে তোর ঘুম ভেঙেছে।


হ্যা তোর ফোন পেয়েই তো আমি ঘুম থেকে উঠলাম।
আমার ফোন পেয়েই যদি ঘুম থেকে উঠিস তাহলে এতো তাড়াতাড়ি অফিসে আসলি কীভাবে?


আচ্ছা মিতা তুমি আমায় কয়টার সময় ফোন দিয়েছিলি?
কয়টার সময় আবার, সাড়ে নয়টায়।
তুই ঠিক বলছিস তো। একবার ফোন লিস্ট চেক কর।
মিতা আমার কথা শোনে তার মোবাইল ফোনটা আমার সামনে দিল। হ্যাঁ ঠিকই আছে। ঠিক সাড়ে নয়টায় আমার। নাম্বারটি ডায়াল করা। আমি তড়িঘড়ি করে আমার মোবাইল বের করলাম আমার মোবাইলেও মিতার নাম্বার সাড়ে নয়টায় রিসিভ হয়েছে। তাহলে আমি কীভাবে ৪৫ মিনিটের পথ ১৫ মিনিটে চলে এলাম। কিছুই মাথায় ঢুকছে না।

চলবে………

Leave a Comment