গল্প: রৌদ্রময় বালুচর(০২)

পর্ব:০২

পরন্ত বিকেল গ্রামের রাস্তা দিয়ে হাঁটছে এক রমণী। এক ঝাঁক ভয় এসে মনের মাঝে দাওয়া করছে, এই বোঝি ঝোপের আড়াল থেকে বিষাক্ত প্রাণী এসে কামরে দিবে। তারপর উপরে যদি ভূত ‘প্রেত বর করে শরীরে। কারণ গ্রামের মানুষ ভূতপ্রেত আছে বলে বিশ্বাস করে । আল্লাহ আল্লাহ বলে হাটতে থাকে রাস্তা দিয়ে।

বাড়িতে চলে এসেছি। এখন ঘরে ডুকরা পালা।

ভয় করছে যদি আচ্ছা মতো পিঠে দুই এক গাঁ পরে তখন।

__“ এতো ভেবে কাজ নেই ঢুকেই পরি,, এটা তো আমারই বাড়ি””

আম্মু তোমার শরীর এখন কেমন আছে।ঔষধ খেয়েছিলে।” ডাক দিলাম ভয়ে ভয়ে……

__ঐ এলেন বাপ ভাইয়ের আলালের দুলালি। সকালে তোকে বলে দিয়েছিলাম না তাড়াতাড়ি ফিরতে তাহলে এতো লেট হলো কেন.”” বললেন মারজিয়া বেগম….

__ জারা-আম্মু রাগ করো না আগে আমার কথা শুনো….!!

কি শুনবো তোমার কথা মাকে তো আর ভালোবাসো না। মাকে নিয়ে তো আর চিন্তা করার কিছু নেই, তাই না। আর এখজন তো আছেই বেশি কথা বলে মাথা নষ্ট করার জন্য।

সবগুলো বাপের মতো হইছে হারে ভ**জ্জাত।কি বংশ দেখতে হবে না ….! বললেন মারজিয়া বেগম

মায়েদের এই একটা সমস্যা কিছু হলেই গুষ্টি,বংশ,বাবা সহ সব এক বারে নিয়ে বলা শুরু করে। সব দোষ শুধু আমাদের বংশের আর তাদের বংশ তো দোয়া তুলশি পাতা।তাদের বংশ কোনো দোষই করে না। মনের কথা মনেই রয়ে গেল জারার। মুখে বলার আর সাহস হলো না…।

__“ এই ভাবে এখনো আমার সামনে দাড়িয়ে আছিস কেনো যা গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আমাকে উদ্ধার কর।”

মায়ের কথা শুনে হকচোকিয়ে উঠি।কথা বলার ধরন দেখে মনে হচ্ছে আবহাওয়া গরম। কিছু বলেই পিঠে দুই একটা পড়বে নিশ্চিত। এখন মাকে মানাতে হবে না হলে দেখা যাবে আব্বু আর ভাইয়াকে একবস্তা বিচার দিবে…মনে মনে ভাবতে থাকে জারা।

জারা বলে,

__“ মা আমি তো ইচ্ছে করে ধেরি করি নি মিম

রাস্তায় পড়ে গিয়ে পায়ে অনেক ব্যাথা পেয়েছে। এখন ওরে রেখে তো আর আমি চলে আসতে পারি না বলো।ওকে ডাক্তার দেখিয়ে আসতে আসতে লেট হয়ে গেছে। প্লিজ মা রাগ করো না। সোনা মা আমার।”

পরিবেশ ঠান্ডা করার জন্য দুই একটা মিথ্যা বলে ফেললাম মায়ের গলা জরিয়ে! মারজিয়া বেগম বলেন,

__“ হইছে, হইছে আর বলতে হবে না।যা গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আয় খাবার খাবি। ছেলেমেয়েদের নাটকের শেষ নেই। তা মিম এখন কেমন আছে, সব ঠিক আছে তো…।”

__“ হুম সব ঠিক আছে। আমি তাহলে এখন ফ্রেশ হয়ে আছি মা।….এই বলে চলে গেছে জারা ফ্রেশ হতে…!!

______________

প্রথম গাড়ি থেকে নেমে আসে দুই জন ছেলে আর দুইজন মেয়ে। যাদের একজনের নাম রোহান।দেখতে ফিট এন্ড ফাই যাকে বলে সুদর্শন পুরুষ আর কি।হায়ের রঙ মানানসই যা ছেলেদের মানায়। যাকে বলে শ্যাম বর্ণনের। বয়স হবে ২৬ এর মতো। উচ্চতা ৫ফুট ৮ হবে।আর একজন এর নাম হচ্ছে জাহেদ। দেখতে সুন্দর একজন যুবক। বয়স ২৪।উচ্চতা ৫ফুট ৭ এর কাছাকাছি। এখনো পড়াশোনা করে।

আর একজন মেয়েকে তো চিনিই আমরা বাচ্চা মেয়ে জেরিন। তার বড় বোন জিনিয়া।এবার ভার্সিটিতে উঠেছে।বয়স ১৯। দেখতে একদম মাশাল্লাহ সুন্দর।

উচ্চতা ৫ ফুট ২ হবে। এই রমণীকে একবার দেখলে মনে হবে চাঁদ সুন্দরী।( এটা অবশ্য একজনের দেওয়া নাম। পড়তে থাকুন যানতে পারবেন.।)

__“ এই চাঁদ সুন্দরী!তোমার ভাই এখনো আসছে না কেনো। কি করছে এতো গেটের সামনে দাড়িয়ে।” বলল রোহান।

__“ রোহান ভাইয়া আপনাকে না বারণ করেছি আমাকে এই মানে ডাকবেন না আপনি… আর আমি কি করে যানব আপনার বেস্টফ্রেন্ড গেটের সামনে দাড়িয়ে করি করছে….!! ”বলল জিনিয়া

___“ হে মানব – মানবী…. দেখো কি সুন্দর জায়গা। নদীর ঠা্ন্ডা বাতাস এসে মনটা বরিয়ে দিচ্ছে,,। ”বলল জাহেদ….!!

__“ ঐ দেখো বড় ভাইয়া চলে এসেছে।” বলল জেরিন…..

__”কী হয়েছে এখানে,,,কি সমস্যা তোদের এখানে দাড়িয়ে আছিস কেনো বাড়ির ভিতরে না ডুকে…!?”

__“ আরে আরমান আমরা তো তোর জন্যই দাড়িয়ে আছি…!” বলল রোহান

( আরমান খান। দেখতে নজর কারা একজন সুদর্শন পুরুষ। যে কোনো মেয়ে একবার দেখলে প্রেমে পড়বে যাবে। গায়ের রঙ সাদা। জিম করা বডিতে কালো রঙের শার্ট আর পড়নে ফর্মাল পেন্ট।বয়স এখন ২৭ এর ঘরে।উচ্চতা ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি। যার নাকের ডগায় রাগ থাকে সব সময়। বাবা – মায়ের এক মাএ সন্তান।” পড়াশোনা শেষ করে বাবার ব্যবসায় হাত দিয়েছে। আরমান এখানে এসেছে তার বাবার নতুন কারখানা তৈরি করার ব্যবস্থা করতে কাজ শুরু হবে কিছু দিনের মধ্যেই । আরমানের এর বাবারা দুই ভাই। আরমানের বাবার নাম আরিফ খান। মায়ের নাম ফারিয়া বেগম।আর তার ছোট আব্বুর নাম আসিফ খান। ছোট মার নাম জেসমিন বেগম।জেরিন,জিনিয়া,জাহেদ তারা তিনজন আপন ভাই বোন। তার ছোট আব্বুর সন্তান তারা। )

আরমান গম্ভীর কণ্ঠে বলে,

__“ আমি কি তোদের বলছি আমার জন্য তোরা দাড়িয়ে থাক এখানে””….!!

__” আরে ভাইয়া তেমন কিছু না, আমরা তো এখানের চারপাশ টা দেখছিলাম…!! ” বললো জাহেদ

__” যার জন্য করলাম চোরি সেই বলে চোর” ডং দেখলে বাঁচি না…!” মনে মনে আওড়াতে থাকে রোহান

__“ আচ্ছা এসব বাদ দাও এখন। চলো ভিতরে যাই সবাই। অনেক ক্লান্ত লাগছে আমার।” বলল জিনিয়া…!!

তাদের কথার মাঝে নিরভ দর্শক হচ্ছে জেরিন। যে এখোনো একটা কথা বলার সোজোগই পাচ্ছে না।তাই জেরিন সবাই মুখের দিকে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে….!!জেরিন মুখ বার করে বলে,

__“ এখন আমি কিছু বলি ভাইয়া, তোমরা তো আমাকে কথা বলার সুযোগই দিচ্ছো না..।”

__“ এই তুই কি বলবি আবার।”. বলল জাহেদ…

__“ কোনো তোমাদের মতো আমিও কথা বলব…!!”

__“ যার দাঁত নেই তার কথা বলার অধিকার ও নেই জেরি…”

মুখের উপর অপমানই করতে হবে তাকে। মানলাম আমার সামনের দুটো দাঁত নেই মানে পরে গেছে,তাই বলে এভাবে বললে…তার ভাই….মুখ কালো করে করে দাড়িয়ে আছে বড় বোনে পাশে জেরিন।

__“ জাহেদ ভাইয়া তুমি আর একবারও জেরি কে এসব কথা বলবে না। জেরি ছোট এটা তোমাকে বোঝতে হবে… শুধু বয়সেই বড় হয়েছে গা* দা..!” বলল জিনিয়া…..

জিনিয়ার কথা শুধু জাহেদর কপালে বাঝ পরে। কী বললো এই মেয়ে তার বড় ভাইকে। ঘরে তো সম্মান দেয়ই না এখনো বাইরে ও দিবে না। রাগ নিয়ে বোনের দিকে তেড়ে গিয়ে জোহান বলল….

__” এই…. এই কি বললি তুই আমাকে, আমি গা*দা। বেয়াদব মেয়ে বড় ভাইকে সম্মান করে না….

এই তোদের এসব নাটক বন্ধ কর। মেলোড্রামা শুরু করে দিয়েছিস তোরা এখানে। অসহ্য লাগছে এসব কিছু তার কাছে।

__“ তোরা ভিতরে না গেলে এখানেই দাঁড়িয়ে থাক আমি চললাম ভিতরে ফ্রেশ হতে….”

বলে আর দাঁড়ালো না সোজা হাঁটা ধরলো ভিতরে আরমান।

চলবে…..

( আসসালামু আলাইকুম। গল্পটা কেমন হইছে বলবেন। ভুল হলে আমাকে জানাবেন। ভালো লাগলে ফলো দিয়ে পাশে থাকবেন।)

Leave a Comment