<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>        <rss version="2.0"
             xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
             xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
             xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
             xmlns:admin="http://webns.net/mvcb/"
             xmlns:rdf="http://www.w3.org/1999/02/22-rdf-syntax-ns#"
             xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/">
        <channel>
            <title>
									Xgossip Forum - Recent Posts				            </title>
            <link>https://xgossip.fun/community/</link>
            <description>Xgossip Discussion Board</description>
            <language>en-US</language>
            <lastBuildDate>Mon, 26 Oct 2026 16:37:53 +0000</lastBuildDate>
            <generator>wpForo</generator>
            <ttl>60</ttl>
							                    <item>
                        <title>RE: গল্প: বিষাদও বসন্ত (writer:Alakananda Aindri)</title>
                        <link>https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%93-%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4-writeralakananda-aindri/paged/3/#post-311</link>
                        <pubDate>Sat, 26 Sep 2026 05:14:21 +0000</pubDate>
                        <description><![CDATA[পর্ব:২০
 
 
 
তখন রাত বারোটা। মিথির পেটের চামড়ায় কিছুটা ব্যাথা। আজকাল খাবার হজম হতে সমস্যা হয়। রাতের বেলায় আরো বেশিই বোধহয় সমস্যাটা অনুভব হয়। কাজ থেকে ফেরার পথে ও সিঁড়ি বেয়ে উঠতেও কষ্ট ল...]]></description>
                        <content:encoded><![CDATA[<div style="text-align: center"><br /><strong>পর্ব:২০</strong></div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center"><br /><br /><strong>তখন রাত বারোটা। মিথির পেটের চামড়ায় কিছুটা ব্যাথা। আজকাল খাবার হজম হতে সমস্যা হয়। রাতের বেলায় আরো বেশিই বোধহয় সমস্যাটা অনুভব হয়। কাজ থেকে ফেরার পথে ও সিঁড়ি বেয়ে উঠতেও কষ্ট লাগছিল। পায়ের মাংসপেশিও কেমন টান পড়ে আছে। গোড়ালিটা ব্যাথা করছে। মিথি ছোটশ্বাস ফেলে। সামনেই পরীক্ষার ডেইট। হিয়াটা এত কষ্ট করছে ওর জন্য, এডমিশন টেস্টের আবেদন গুলো অব্দি ওকে নিয়ে গিয়ে জোর করে করে করিয়েছে। কোন টপিক না বুঝলে তা বুঝিয়ে দিচ্ছে। কোচিং এ কোয়েইশ্চেন গুলো হুবুহু মিথিকে এক্সাম দেওয়ার জন্য বাসায় এসে বানিয়ে দেয়। তারপর ও যদি মিথি ঝিমিয়ে থাকে কিভাবে হবে? মিথি এই দেড়- দুই মাস যথেষ্ট সময় দিয়েছে পড়ালেখার পেছনে। এখনো হিয়ার পাশে বসে প্রশ্ন সলভ করছে। মূলত এই দুয়েক মাস ও বই নিয়ে বসেছেও হিয়ার জন্য। হিয়া জোর করেছে বলেই নিজের মধ্যে একটা আত্মবিশ্বাস রেখে পড়ছে এখনো। মিথির আজকাল নিজেকে নিয়ে হতাশ লাগে না। মনে হয় না পৃৃথিবীতে সে খুব একটা বিপদে ফেঁসে গেছে। বরং মনে হয় যে কোন সমস্যায় অতিক্রম করা যায়। যে কোন কঠিন রাস্তায় পার হওয়া যায়। অতো অসাধ্য কিছুই না।তেমনই এই পরীক্ষার অধ্যায়টাও ও পার করে নিবে কোন মতে। কোন না কোন ভাবে ঠিকই কিছু একটা হয়ে যাবে। মিথি ছোটশ্বাস ফেলে। হাতের কলম রেখে হিয়ার দিকে চাইতেই হিয়া উৎফুল্ল স্বরে শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ চা আনি মিথি?মাথা ঝিমঝিম করছে।তোর ও বোধহয় ঘুম পাচ্ছে।”</strong><br /><br /><strong>এটা ঠিক, মিথির চোখ ছোট ছোট হয়ে এসেছে। ঘুম আসার দরুন কিছুটা লালচেও হয়ে এল। তবে ম্যাথ সলভ করার কারণে তেমন ভাবে ঘুমকে পাত্তা দিচ্ছে না চোখ। মিথি উঠল। হিয়ার দিকে চেয়ে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ আমি করে আনি? ”</strong><br /><br /><strong>হিয়া সঙ্গে সঙ্গেই উত্তর করল,</strong><br /><br /><strong>“ একদমই না। তুই বেলকনি থেকে হেঁটে আয় বরং। আমিই করছি। ”</strong><br /><br /><strong>মিথি ছোটশ্বাস ফেলে। টেবিল ল্যাম্পের মতো ল্যাম্পটা অফ করে বেলকনির দিকে গেল। রিধি বোধহয় বেঘোরে ঘুমোচ্ছে। আর ফিজার উপস্থিতি টের পাওয়া গেল বেলকনিতে। ফিসফিস করা কথার স্বরে। মিথি পা ফেলতেই কানে এল ফিসফিস করা স্বর। মিথি তাকাল। বেলকনি দিয়ে রাস্তায় স্পষ্ট দেখা গেল আয়মানের প্রতিচ্ছবি ও। ও হাসল। ফিজা বোধহয় অপ্রস্তুত হয়ে কল রাখল। মিথিকে শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ তোদের দুইজনের পড়ালেখা শেষ নাকি? ”</strong><br /><br /><strong>মিথি হাসল। বলল,</strong><br /><br /><strong>“ হিয়া চা করতে গেল আপু। তোমার জন্যও বলি? ”</strong><br /><br /><strong>ফিজা ভ্রু কুঁচকে শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ এতরাতে চা? ”</strong><br /><br /><strong>“ ঘুম পাচ্ছিল। তোমার জন্য বলি? ”</strong><br /><br /><strong>“ আচ্ছা বল। ”</strong><br /><br /><strong>মিথি গেল। হিয়াকে চায়ের জল বসাতে দেখাতে বলল,</strong><br /><br /><strong>” ফিজা আপুও জেগে আছে। আপুর জন্যও দে হিয়া। ”</strong><br /><br /><strong>হিয়া তাকাল। আরো এক কাপ চায়ের জল বেশি দিল। অতঃপর বলল,</strong><br /><br /><strong>” রিধি বেয়াদবটা কি করছে? ঘুমোচ্ছে?”</strong><br /><br /><strong>” সাড়াশব্দ নেই। বোধহয় ঘুমোচ্ছেই। ”</strong><br /><br /><strong>“ রিধিটা আর ঘুমাবে কেন ? চড় মেরে তোল  ওরে। ”</strong><br /><br /><strong>মিথি হেসে ফেলল। পা বাড়িয়ে গেল রুমের আলো জ্বালাল। রিধিকে বাচ্চাদের মতো ঘুমোতে দেখে ও আবারও হেসে ফেলল। ঘুমোতে ঘুমোতে প্রায় বিছানা থেকে গড়িয়ে ফ্লোরে চলে এসেছে মেয়েটা। শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ বেচারি কি সুন্দর ঘুমাচ্ছে। চড় মারবি কেন?”</strong><br /><strong> </strong><br /><strong>হিয়ার চায়ের জল বসিয়ে দিয়ে নিজেও এল। রিধিকে নাদুস নুদুস বাচ্চার মতো আরামে ঘুমাতে দেখে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ তো কি করব? আমরা সবাই জেগে আছি। ওর ঘুমানো অন্যায় না বল? ”</strong><br /><br /><strong>পেছন থেকে ফিজা বলল,</strong><br /><br /><strong>“ ডাকতে থাক,উঠে যাবে। ”</strong><br /><br /><strong>মিথি প্রথমে ডাকল। কাজ হলো না দেখে হিয়া সত্যিই সত্যিই আলতো হাতে চড় মারল গালে। অথচ এতেও উঠল না। মিথি সর্বশেষ উপায় হিসেবে রিধির লম্বার চুলের থেকে দু দুটো চুল টেনে ধরল। মুহুর্তেই রিধি কুঁকড়ে উঠার ন্যায় মাথায় হাত রাখল। মুখ কুঁচকে এল কেমন যেন। চোখজোড়া বহুকষ্টে মেলে ধরে সবাইকে এমন জাগ্রত আর রুমে আলো জ্বলতে দেখে ঘুমঘুম স্বরে শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ সকাল হয়ে গেছে মিথি আপু? ”</strong><br /><br /><strong>মিথি যেন সত্যি কথাই বলছে এমন একটা হাবভাব ধরে শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ অলরেডি দুপুর হয়ে গেছে রিধি। এতোটা সময় কি করে ঘুমালে? তোমার না এক্সাম? ”</strong><br /><br /><strong>বোকা রিধি মুহুর্তেই লাফ মেরে উঠে পড়ল। চোখ কচলে ঘুম সরানোর চেষ্টা করতে করতে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ কি বলছো? দুপুর হয়ে গেছে? আমি তো এলার্ম দিয়েছিলাম আপু।  ”</strong><br /><br /><strong>মিথি আবারও অবুঝ শিশুর মতো করে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ কখন দিয়েছো? বাজে নি তো। সময় দেখো ফোনে। দুপুর বেরিয়ে বিকেল। ”</strong><br /><br /><strong>রিধি প্রায় কেঁদেই দিবে যেন। মোবাইল নিয়ে সময় দেখল ও। বারোটা সাতাশ এইটুকুই দেখল ও। অথচ পি.এম., এ.এম. খেয়ালই করল না। কাঁদোকাঁদো হয়ে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ আমার পরীক্ষা আপু। কি করব এবার? ”</strong><br /><br /><strong>হিয়া পাশ থেকে এসে রিধির পাশে বসল। রিধির মাথায় সজোরে একটা চড় বসিয়ে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ রিধি, তোরে কি এমনি এমনি বোকা বলি? সময় দেখ ভালো করে। ”</strong><br /><br /><strong>রিধি আবারও সময় দেখল। আবারও দেখল বারোটা আটাশ। হিয়া এবার কপাল কুঁচকেই বলল,</strong><br /><br /><strong>“ আরে গর্দভ, ভালোভাবে দেখ। ”</strong><br /><br /><strong>রিধি এতক্ষনে খেয়াল করল। অতঃপর মিথির দিকে চেয়ে কেমন ফুঁসে উঠল। শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ মিথি আপু! তুমি আমাকে বোকা বানালে। তোমারে আমি ভালো ভাবতাম। ”</strong><br /><br /><strong>মিথিও হেসে ফেলল। জবাব দিল,</strong><br /><br /><strong>“ সঙ্গদোষে লোহা ভাসে মিথি। তোমাদের সাথে মিশে মিশে হয়ে যাচ্ছি। আমার দোষ কি বলো? ”</strong><br /><br /><strong>.</strong><br /><br /><strong>মিথির আজকাল অনেক রকমই শারিরীক সমস্যার দেখা মিলছে। রাতে ঘুম হচ্ছে না খুব একটা।চোখের নিচে বিস্তর কালি জমেছে মেয়েটার। খাবার খেয়ে হজম হচ্ছে না, পেট জমে যাচ্ছে। অল্প খেলেও এই সমস্যাটা এখন নিয়মিত হচ্ছে৷  এমনকি পায়ের মাংসপেশিও টানটান হয়ে থাকে। এসব সমস্যার কারণেই হিয়া সহ ডক্টরের কাছে যাবে। কাজ থেকে ছুটি নিয়েছে ও তাই। মিথি আর হিয়া নিচে নামার সময় ওদের সাথে ফিজাও নামল। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকতেই দেখা গেল ওপাশ আয়মানও এসেছে। ওদের সাথে হালকা কথোপকোতন সারতেই এবার হিমেলকেও দেখা গেল। একপাশে হাত পা টানটান করে দাঁড়িয়ে আছে। আয়মান কথা শেষ করে হিমেলের পাশে গিয়ে দাঁড়াল। হেসে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ তুই আমার বেলায় অলওয়েজ লেইট করিস শা'লা।সময় দেখ। ”</strong><br /><br /><strong>হিমেল গম্ভীর কন্ঠে উত্তর করল,</strong><br /><br /><strong>“ ভালো করেছি। ”</strong><br /><br /><strong>আয়মান ফুঁসে উঠে। হিমেলের পিঠ বরাবর একটা ঘুষি বসিয়ে আবারও ফিজার দিকে গেল। কয়েকটা কথা বলল। হিয়া ওদের কথা বলাও দেখল আবারও হিমেলকেও ওভাবে একা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল। অতঃপর বিরস স্বরে শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ আয়মান ভাই? এই হিমেল নামের মানুষটা কেমন অদ্ভুত না? ”</strong><br /><br /><strong>উত্তর এল,</strong><br /><br /><strong>“ হান্ড্রেড পার্সেন্ট অদ্ভুত! ”</strong><br /><br /><strong>ঠিক তখনই হিমেল এসে আয়মানকে টেনে নিতে লাগল। রিক্সা পেয়ে গেছে। অন্যদিনের মতো ভদ্রতা দেখিয়ে আজ এদের কাউকেই রিক্সা অফার করেনি হিমেল। আয়মানকে টেনে ধরে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ দেরি হয়ে যাচ্ছে। রিক্সা পেয়ে গেছি, চলে যাচ্ছি। তুই মেয়েদের মাঝখানে থাকতে চাইলে ছেড়ে যেতে পারি। ”</strong><br /><br /><strong>আয়মান খেঁকিয়ে উঠল। শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ ফিজাকে এভাবে দাঁড় করিয়ে রেখে রিক্সা নিয়ে চলে যাব? এইজন্য মাত্রই হিয়া তোরে অদ্ভুত বলেছে। ”</strong><br /><br /><strong>হিমেল ভ্রু কুঁচকে নিল। ওকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল? তাও মেয়েদের মধ্যে। ভ্রু কুঁচকে তাকাতেই আয়মান আবারও হিয়াকে ইঙ্গিত করে বলে উঠল,</strong><br /><br /><strong>“ এই হিয়া, অদ্ভুত না ও? বলেছো না তুমি? আমি কি মিথ্যে বলছি?আমিও সহমত। কোন প্রেমিককে দেখেছো প্রেমিকাকে রেখে চলে যেতে? ”</strong><br /><br /><strong>“ তাহলে তুই থাক। আমিই যাচ্ছি। ”</strong><br /><br /><strong>“ তোর বন্ধুর প্রিয়তমা। রিক্সাটা পেয়েছিস। এভাবে নিয়ে চলে যেতে বিবেকে বাঁধবে না তোর? ”</strong><br /><br /><strong>“ বাঁধছে না। সবাই তো আর তোর মতো না যে কোনকিছু অফার করলেই লুফে নিবে। যেচে কোনকিছু অফার করে অপমানিত বোধ করতে চাইছি না। ”</strong><br /><br /><strong>হিয়া মিনমিন চোখে দেখে যাচ্ছিল। ঠোঁট আওড়িয়ে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ আসলেই অদ্ভুত। ”</strong><br /><br /><strong>মিথি সঙ্গে সঙ্গেই হিয়ার হাতে চড় বসাল। সতর্ক করল যে শুনে নিবে। আসলেই শুনলও হিমেল। হিয়ার দিকে চেয়ে শুধাল,</strong><br /><br /><strong>” ঠিক ধরেছেন মিস হিয়া। অদ্ভুতই। ”</strong><br /><br /><strong>মিথি হিমেলের দিকে তাকিয়ে ছিল। কথাটা শুনছিল। ঠিক তখনই হিমেল সরু চাহনিতে মিথিকে দেখল। অতঃপর চোখমুখের অবস্থা লক্ষ্য করে মিথির পাশে থাকা হিয়াকে জিজ্ঞেস করল,</strong><br /><br /><strong>“ মিস হিয়া, আপনার বান্ধবী খাওয়া দাওয়া করে না ঠিকমতো? উনার চোখমুখের এই ভয়াবহ পরিণতি কেন?”</strong><br /><br /><strong>মিথি হিমেলের দিকে চাইল। ওর নিজের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করাতে ও নিজেই উত্তর দিল,</strong><br /><br /><strong>“হিমেল ভাই, খাওয়া দাওয়া করি আমি ঠিকমতো। ”</strong><br /><br /><strong>হিমেল ভ্রু বাঁকাল। তিক্ত বিরক্ত স্বরে উত্তর করল,</strong><br /><br /><strong>“ তোকে জিজ্ঞেস করেছি? নাকি তোর সাথে কথা বলেছি? ”</strong><br /><br /><strong>মিথি নিরাশ হলো এমন কথায়। শুধু বলল,</strong><br /><br /><strong>“ আপনি অযথায় রাগ করছেন।অথচ আপনার সাথে আমার কোন ঝামেলা হয়নি হিমেল ভাই। ”</strong><br /><br /><strong>হিমেলের মুখ টানটান। গম্ভীর মুখে শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ তোর তো আমার নাম জানার কথা নয় মিথি। আমি তোর অপরিচিত। আমার জন্য ও তুই অপরিচিত। হিসেব কাটকাট। ”</strong><br /><br /><strong>মিথি এবার চুপসে যাওয়া মুখে তাকাল। বলল,</strong><br /><br /><strong>“ আপনিও তো আমার নাম বললেন মাত্র। ”</strong><br /><br /><strong>হিমেল ভ্রু নাচিয়ে শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ নাম জানলে নাম বলব না? ”</strong><br /><br /><strong>“আপনার মুখে নাম শুনে মনে হচ্ছে না আমি আপনার অপরিচিত। ”</strong><br /><br /><strong>হিমেল সরাসরি নজর ফেলল।ছোটশ্বাস টেনে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ ওকে, মিথিয়া মাহমুদ।আমি আপনাকে আজ থেকে জানি না।”</strong><br /><br /><strong>এটুকু বলেই ধপধাপ পা ফেলে হিমেল এগিয়ে গিয়ে রিক্সায় বসল।পিছু পিছু দৌড়ে গেল আয়মানও। ফিজার দিকে চেয়ে চোখেমুখে বুঝাল ও অসহায়। অন্যদিকে হিয়া চোখমুখ গোলগোল করে তাকিয়ে মিথিকে শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ কি হলো এটা? ”</strong><br /><br /><strong>মিথি ছোটশ্বাস টেনে উত্তর করে,</strong><br /><br /><strong>“ রিক্সা পাচ্ছিলাম না।  দাঁড়িয়ে ছিলাম। উনি রিক্সা অফার করেছিলেন কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাই নি তাই বোধহয়। ”</strong><br /><br /><strong>হিয়া কপাল কুঁচকে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ তো কাজে লাগালে কি হতো? ছেলেটা ভালো। অন্তত অন্য নজরে তোকে নিশ্চয় রিক্সা অফার করেনি? পরিচিত বলেই করেছে।”</strong><br /><br /><strong>“ জানি। ”</strong><br /><br /><strong>“ কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ছেলেটা তোকে অন্য নজরে দেখলে দেখতেও পারে।নয়তো এমন রাগ দেখাবে কেন? ”</strong><br /><br /><strong>“ পাগল। উনি সবসময়ই আমার সাথে এমন রাগ রাগ বিহেভিয়ারই দেখিয়ে এসেছেন। তবে উনি আমাকে ছোটবোনের মতোই দেখেছেন সবসময়।অন্য নজরে তাকায়নি। শুধু আমি কেন, গ্রামের কোন মেয়েকেই তেমন চাহনিতে দেখে নি উনি। ”</strong><br /><br /><strong>হিয়াও সহমত জানিয়ে শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ তোর মতো আমিও খেয়াল করেছি এই লোক কোন মেয়েকে তেমন বিরক্ত টিরক্ত করে না। তেমন নজরে তাকায় না। তাই বললাম ছেলেটা ভালোই। ”</strong><br /><br /><strong>মিথি এবার হেসে ফেলল। বলল,</strong><br /><br /><strong>“ বিয়ে করে আমার ভাবী হয়ে যা প্লিজ। ”</strong><br /><br /><strong>“ দূররর, বিষয়টা ততটুকুও নয়। আসলে উনার ব্যাক্তিত্ব সুন্দর তাই চোখে পড়েছে। ”</strong><br /><br /><strong>.</strong><br /><br /><strong>হিয়া আর মিথি হসপিটালে পৌঁছেছে একটু আগেই। তাদের সিরিয়াল ডাকতে দেরি আছে। বাইরেই বসে আছে দুইজন। ওদের থেকে দুই চেয়ার পরেই একজোড়ক দম্পতিকে দেখা গেল। মেয়েটা সম্ভবত সন্তানসম্ভাবা। আর মেয়েটার স্বামী এই কয়েক মিনিটেই মেয়েটাকে একবার জল এগিয়ে দিচ্ছে, একবার ফল এগিয়ে দিচ্ছে। কিছুটা সময় আগে কপালেও হাত রাখল। বোধহয় উত্তাপ পরখ করছে। হিয়া ওদিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। আজ যদি মিথির স্বামীটা এমন হতো তাহলে মিথিও এই যত্নটা পেত। মিথিও এই ভালোবাসাটা পেত। ওর জানামতে ওর বান্ধবী ছোট থেকেই সহজ সরল, ভালো মনের মেয়ে। তবে বিধাতা এমনটা কেন করল? মিথির ভাগ্যেই কেন এমনটা লিখল? হিয়া বারবার এই দম্পতিকে আড়াল করে মিথির দিক করে বসতে চাইল যাতে মিথি খেয়াল না করে। তা বুঝেই মিথি হেসে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ আমি দেখেছি হিয়া। বিষয়টা আসলে সুন্দরই। ”</strong><br /><br /><strong>হিয়া অপ্রস্তুত হাসল। বলল,</strong><br /><br /><strong>“ নতুন মা বাবা হচ্ছে হয়তো দুইজনে।”</strong><br /><br /><strong>মিথিও হাসল। শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ আরেহ ভালোবাসা থাকলে নতুন বাবা মা হতে হয় না। বার কয়েক বাবা মা হলেও একই যত্নই থাকবে, একই ভালোবাসাই থাকবে। ”</strong><br /><br /><strong>.</strong><br /><br /><strong>মুহুর আজকাল আদ্রর প্রতি ভালোবাসার অনুভূতি কাজ করে কম, বরং বিরক্তিই বেশি কাজ করে। আদ্রর যে যত্নগুলো, ভালোবাসাগুলো ও আগে পাওয়ার জন্য পাগল হয়ে থাকল সেগুলোকেই আজকাল ওর দমবন্ধ লাগে। অসহ্য লাগে আদ্রকে। তবুও আদ্রকে প্রকাশ করতে পারে না। মুহু ছোটশ্বাস ফেলে। ও নিজেই বিশ্বাস করত আদ্রর উপর থেকে ওর কখনো মন উঠবে না। আদ্রকে আস্ত একটা মুগ্ধতা মনে করত ও। আদ্রকে ফেলেই শান্তি শান্তি লাগল। আদুরে অনুভূতি মন ছুঁয়ে যেত। অথচ আজকাল অনুভূতির পরিবর্তন ঘটেছে। আদ্রর প্রতি ভালোবাসা বদলাচ্ছে। কোথাও একটা সমস্ত অনুভূতি ছিন্নভিন্ন হয়ে এসেছে আদ্রর প্রতি। বাকি যেটুকু মুহু দেখিয়ে যাচ্ছে, কিংবা দেখাচ্ছে তা কেবলই অভিনয়। আগের মতো সত্য নয়। মুহুর আজকাল মুগ্ধতা সব গিয়ে জমেছে মিস্টার এহসানের প্রতি। একটা চতুর, জ্ঞানী লোক এহসান। বয়সে তার চাইতে প্রায় ছয় বছরের বড়। অথচ কাজ কর্মে কতোটা পরিপক্ব, কতোটা চতুর এই লোক। আদ্রর মতো বদমেজাজী, শর্ট টেম্পার আর বোকা নয়। মুহু আজও মিস্টার এহসানের সাথে দেখা করেছে।আদ্রকে জানায়নি। মূলত কোন এক অদৃশ্য টানেই ও বারবার মিস্টার এহসানের সাথে দেখা করছে, মিস্টার এহসান যা বলছে তাই করছে। নিজের এহেন পরিণতি দেখে মুহুর নিজেরই মাঝেমাঝে কেমন লাগে। ও বোধহয় আসক্ত হয়ে যাচ্ছে ছেলেটার প্রতি। অসহ্য রকমের  ভালো  লাগা নিয়ে আজকাল মরেও যেতে ইচ্ছে করছে। যেমনটা আদ্রর বেলায় শুরুর দিকে মন চাইত। নতুন নতুন প্রেমে পড়ার অনুভূতি। মুহু যখন এহসানকে ভেবে ভেবে সময় নষ্ট করছিল ঠিক তখনই আদ্র কল করল। মুহুর এত এত মুগ্ধতা, ভালো লাগা য় হঠাৎ আদ্রর কল পেয়ে ও কপাল কুঁচকাল। প্রথম দফায় কল না তুললেও দ্বিতীয় দফায় কল তুলল। হেসে শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ কি করছো আদ্র? ”</strong><br /><br /><strong>আদ্র শুনল। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ দরজা খুলো। চাবি নেই সাথে। ”</strong><br /><br /><strong>“ এতরাতে কেন এসেছো? কাল সকালে আসলেই হতো। ”</strong><br /><br /><strong>আদ্র আবারও দাঁতে দাঁত চাপে। নিজেকে যথেষ্ট ঠান্ডা রাখার চেষ্টা চালিয়ে বলে,</strong><br /><br /><strong>“ কেন? আসাতে বিরক্ত লাগছে নাকি? আগে লাগত না যখন আমায় কল করে করে উম্মাদের মতো তোর বাসায় নিয়ে আসতি? চালাকি করবি না মুহু, বারবার বলছি আমার সাথে চালাকি করবি না। মে'রে ফেলব আমি। ”</strong><br /><br /><strong>মুহু ছোটশ্বাস ফেলল।আর একটা কথাও না বলে কল রেখে দিল। উঠে গিয়ে দরজা খুলল। অতঃপর আদ্রকে দেখে শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ বারবার এইসব তুইতোকারি আমি নিব না আদ্র। কি ভাবছো নিজেকে তুমি? কোথাকার কি হও তুমি? ”</strong><br /><br /><strong>আদ্র রুমে ডুকল। দরজা লাগিয়ে সোফায় দাঁতে দাঁত চেপে বসল ও৷ চোয়াল শক্ত করে কিছুটা সময় থম মেরে বসে থাকল।অতঃপর হুট করেই মুহুর ড্রয়িং রুমে রাখা কাঁচের টি টেবিলটা লাথি মেরে ভেঙ্গে ফেলল। রাগে চোখমুখ লাল করে শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ আবারও, আবারও ঐ মিস্টার  এহসান!  তুই গিয়েছিলি না ওই লোকের সাথে দেখা করতে? কেন গিয়েছিলি? বল কেন গিয়েছিলি? আমাকে ভালো লাগছে না আর তাই না? ঐ লোককে ভালো লাগছে তোর জা"নোয়ার? ”</strong><br /><br /><strong>আচমকা বিকট শব্দে মুহু যেমন ভয়ে কেঁপে উঠল ঠিক তেমনই আদ্রর ভয়ানক রূপ দেখেও কাঁপল। ও আদ্রকে শান্ত করার উপায় পায় না। চোখজোড়া লাল টকটকে হয়ে আছে। মুখ অবয়ব ভয়নক। মুহু পিঁছিয়ে যায়। কাঁপে স্বরে বলে,</strong><br /><br /><strong>“ আ্ আদ্র শান্ত হও। শান্ত হও আদ্র। আমি এক্সপ্লেইন করছি। ”</strong><br /><br /><strong>আদ্র হেসে উঠল। মুহু আরো দুয়েক পা পিছাতেই ও বলল,</strong><br /><br /><strong>“ ভয় পাচ্ছিস? এই ভয়টা আগে পাওয়া উচিত ছিল না? ছিল কিনা? আমাকে ভালোবেসেছিলি মুহু, আমাকে। সে আমি বিনা অন্য কেউ তোর মনে থাকলে সোজা মে'রে ফেলতেও হাত কাঁপবে না আমার। ”</strong><br /><br /><strong>মুহু কেঁদে ফেলবে যেন ভয়ে। ঘন ঘন শ্বাস টেনে ও আচমকা আদ্রকে শান্ত করার জন্য জড়িয়ে ধরল। ও জানে, আদ্র ওর জন্য পাগল। ও জানে, আদ্র ওকে ভালোবাসে। সুতারায় প্রিয়তমার জড়িয়ে ধরাতে নিশ্চয় আদ্র শান্ত হবে।  অথচ শান্ত হলো। মুহু এবারে ইমোশনাল হয়েই ঠোঁট ছোঁয়াল আদ্রর গলায়। শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ আদ্র, শান্ত হও। শান্ত হও আদ্র। ওটা বিজন্যাস এর খাতিরে। আর কিছুই না। তুমি অতিরিক্ত ভাবছো আদ্র। আমার সাথে মিস্টার এহসানের কিছু নেই। কিছুই না। আমি জানি, তুমি আমায় ভালোবাসো। আমিও তোমায় ভালোবাসি আদ্র। আমার মনে শুধু তুমিই আছো। ”</strong><br /><br /><strong>অথচ মুহু নিজেই জানে ওর মন থেকে আদ্র মুঁছে যাচ্ছে। কয়েকদিন পর হয়তো আদ্রর লেশমাত্রও ওর মনে থাকবে না। ও এখন মিস্টার এহসানের প্রতি মুগ্ধ। মিস্টার এহসানের প্রতি দুর্বল। কিন্তু আদ্র? আদ্রর থেকে রেহাই পাবে কি করে ও? আদ্রকে ছেড়ে আসার জন্য ওকে নিশ্চয় পার্ফেক্ট প্ল্যান করতে হবে। ঠান্ডা মাথায়! </strong><br /><br /></div>]]></content:encoded>
						                            <category domain="https://xgossip.fun/community/"></category>                        <dc:creator>Alakananda Aindri</dc:creator>
                        <guid isPermaLink="true">https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%93-%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4-writeralakananda-aindri/paged/3/#post-311</guid>
                    </item>
				                    <item>
                        <title>RE: গল্প: বিষাদও বসন্ত (writer:Alakananda Aindri)</title>
                        <link>https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%93-%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4-writeralakananda-aindri/paged/3/#post-310</link>
                        <pubDate>Sat, 26 Sep 2026 05:11:40 +0000</pubDate>
                        <description><![CDATA[পর্ব:১৯
 
 
 মিথির এভাবে করে দু দুটো মাস গেল ভালোভাবেই। এতদিন মিথি সন্তানসম্ভাবা এটা চোখের দেখাতেই না বুঝা গেলেও এখন দৈহিক গঠনের কারণে বুঝা যায় একটু একটু৷ তবুও এখনও পর্যন্ত যে কারোর কোন প...]]></description>
                        <content:encoded><![CDATA[<div style="text-align: center"><br /><strong>পর্ব:১৯</strong></div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center"><br /><strong> </strong><br /><strong>মিথির এভাবে করে দু দুটো মাস গেল ভালোভাবেই। এতদিন মিথি সন্তানসম্ভাবা এটা চোখের দেখাতেই না বুঝা গেলেও এখন দৈহিক গঠনের কারণে বুঝা যায় একটু একটু৷ তবুও এখনও পর্যন্ত যে কারোর কোন প্রশ্নের সম্মুখীন হয়নি এতেই মিথি বোধহয় সুখী অনুভব করে। আজকাল মানুষের কথাকে ও ভয় পায়। মানুষজনকেও ভয় পায়। মানুষজনের প্রশ্নকে তো আরো। মিথি ছোটশ্বাস ফেলে। এখন রাত আটটা। তার কাজ শেষ। বাসায় যাওয়ার জন্য বেরিয়ে যেতে নিতেই দেখা হলো ডক্টর ফাজরিনের সাথে। মিথিকে দেখে সর্বপ্রথম সে হাসল। বলল,</strong><br /><br /><strong>“ মিথি, ভালো আছো? ”</strong><br /><br /><strong>মিথি তাকাল। বিনিময়ে সেও হাসল৷ তবে মনে প্রশ্ন আসে আদ্রর সাথে কি ডক্টর ফাজরিনের যোগাযোগ হয়? কোনভাবে বলে দিলে? আদ্র জেনে গেলে? শুকনো হেসে বলল,</strong><br /><br /><strong>” ভালো আছি। আপনি? ”</strong><br /><br /><strong>“ একদম ভালো। তুমি এখানে জব করছো? এই অবস্থায় এতোটা পরিশ্রম শরীরে সইতে পারবে? ”</strong><br /><br /><strong>মিথি হেসে জানাল,</strong><br /><br /><strong>“ পারছি। ”</strong><br /><br /><strong>ডক্টর ফাজরিন মিষ্টি করে হাসল। বলল,</strong><br /><br /><strong>“ যত্ন নিও নিজের  এবং বাচ্চার। ভালো থেকো। মেয়েদের আত্মনির্ভরশীল হওয়া অবশ্যই ভালো ”</strong><br /><br /><strong>এটুকু বলেই ডক্টর ফাজরিন পা বাড়াল। মিথি তাকিয়ে দেখল। অতঃপর সেও পা বাড়াল নিজের মতো। রাতের শহরে তখন ব্যস্ততার ছাপ স্পষ্ট। চারপাশে মৃদুমন্দ হাওয়া৷ অথচ রাস্তায় এত গাড়ির সরগমেও রিক্সা মিলছে না। মিথি কিছুটা বিরক্তই হলো৷ প্রায় মিনিট বিশ দাঁড়িয়েও যখন রিক্সা পেল না তখন হতাশ হলো ও। ঠিক তখনই আচমকা নিজের সামনে একটা রিক্সা থামতে দেখা গেল। মিথি ভ্রু কুঁচকাল। রিক্সায় বসা মানুষটা হিমেল ভাই। মিথির দিকে চেয়ে ভ্রু কুঁচকাল সে। জিজ্ঞেস করল,</strong><br /><br /><strong>“ রিক্সা নেই? ”</strong><br /><br /><strong>মিথি তাকাল। উত্তরে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ আজ পাচ্ছি না। ”</strong><br /><br /><strong>হিমেল কিছুটা সময় চুপ থাকল। অতঃপর এদিক ওদিক চেয়ে দেখল খালি রিক্সার দেখা মিলছে না। তাই আবারও জিজ্ঞেস করল,</strong><br /><br /><strong>“ একই রিক্সায় যেতে অসুবিধা হবে তোর? ”</strong><br /><br /><strong>মিথি শুনল বোধহয়। তবুও জিজ্ঞেস করল,</strong><br /><br /><strong>“ জ্বী? ”</strong><br /><br /><strong>“ এই রিক্সায় যেতে অসুবিধা হবে তোর? ”</strong><br /><br /><strong>মিথি এবার ইতস্থত বোধ করল। হিমেল ভাই এর সাথে তার ইদানিং কয়েকদিন পরপরই দেখা হচ্ছে । কথা হচ্ছে। এবং না চাইতেও সাহায্য নিতে হচ্ছে। এই যেমন সেদিন ছাতা নিতে হলো, কয়েকদিন রিক্সা পাচ্ছে না বলে এখানে দাঁড়িয়ে ছিল ও। তখনও হিমেল তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল যতোটা সময় রিক্সা পায়নি। মিথি ইতস্থত বোধ করে উত্তর করল,</strong><br /><br /><strong>“ আমি একটু পর রিক্সা পেলে চলে যাব হিমেল ভাই। পেয়ে যাব আশা করি। আপনি চলে যান।  ”</strong><br /><br /><strong>হিমেলের উত্তরটা মোটেও পছন্দ হলো না। জানাল,</strong><br /><br /><strong>“ পেয়ে যাবি তা আমিও জানি। কিন্তু কখন পাবি তা তুই জানিস? এতোটা সময় দাঁড়িয়ে থাকতে ভালো লাগবে নিশ্চয় তোর?  ”</strong><br /><br /><strong>“ এতক্ষন অপেক্ষা করেছি যখন আর কিছুটা সময় অপেক্ষা করলে পাব। ”</strong><br /><br /><strong>হিমেল ছোটশ্বাস ফেলে। মিথি যে ওর সাথে এক রিক্সায় কখনোই যাবে না তা  হিমেল ভালোভাবেই জানে৷ তাই নেমে গেল দ্রুত। জানাল,</strong><br /><br /><strong>“ আমি নেমে গেছি। তুই এবার যেতে পারিস। ”</strong><br /><br /><strong>“ প্রয়োজন নেই তো হিমেল ভাই। আমি একটু পর চলে যাব রিক্সা পেলেই। ”</strong><br /><br /><strong>“ আমার সাথে যেতেই তো অসুবিধা ছিল তাই না? নেমে গেলাম তো। একা যেতেও অসুবিধা হবে নাকি তোর? ”</strong><br /><br /><strong>মিথি উত্তর করল,</strong><br /><br /><strong>“ না, কিন্তু ওটা আপনি নিয়েছেন। আপনার নিশ্চয় দেরি হবে। আমি ঠিক চলে যেতে পারব প্রতিদিনের মতো। ”</strong><br /><br /><strong>হিমেলের এবার কপাল কুঁচকে এল। ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করল,</strong><br /><br /><strong>” আমি তোকে খারাপ কিছু বলিনি নিশ্চয়? কিংবা খারাপ কোন উদ্দেশ্য নিশ্চয় আমার নেই এতে?  ”</strong><br /><br /><strong>মিথি বিনয়ী স্বরে জানাল,</strong><br /><br /><strong>“ আপনি ভুল বুঝছেন। আমি সত্যিই আপনার থেকে এই সাহায্যটা নিতে চাইছি না বলেই উঠছি না। আর অন্যকিছু না। ”</strong><br /><br /><strong>“ কেন? আমি অপরিচিত?  ”</strong><br /><br /><strong>“ আপনি আমার গ্রামের বড়ভাই। এইছাড়া খুব একটা পরিচিতি আমাদের নেই হিমেল ভাই। ছোট থেকে আপনাকে হিমেল ভাই হিসেবে জেনে এসেছি এটাই বলতে গেলে পরিচয়। কিন্তু এতবার সাহায্য নেওয়ার মতো আমার আপন কেউ নন আপনি।মোটকথা,  আমি বারবার আপনার থেকে সাহায্য নিতে চাইছি না৷ ”</strong><br /><br /><strong>“ তুই আমাকে অপরিচিত বলছিস তাই তো? ওকে ফাইন। আমিও তোকে চিনি না আজ থেকে। ”</strong><br /><br /><strong>মিথি নিরাশ হলো। পরপরই খালি রিক্সা দেখা গেল। হাত উঁচিয়ে রিক্সাটা ইশারা করে মিথি শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ রিক্সা পেয়ে গেছি হিমেল ভাই। আপনিও চলে যান। ”</strong><br /><br /><strong>.</strong><br /><br /><strong>রিধি তখন সন্ধ্যায় দোকানে এসেছিল কিসের জন্য। দোকান থেকে জিনিসপত্র কিনে আবারও সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে নিতেই দেখা হলো সেই অতি পরিচিত রিধির সেই অপছন্দে আন্টির সাথে। ভদ্র মহিলাও বোধহয় দোকানের জন্যই নামছিল। রিধিকে দেখে মুহুর্তেই ভ্রু কুঁচকে ডাকল,</strong><br /><br /><strong>“ এই রিধি, এই? ”</strong><br /><br /><strong>রিধির পছন্দ হয় না এই মহিলাকে। তবুও হেসে বলল, </strong><br /><br /><strong>“ কি আন্টি? কিছু বলবেন? ”</strong><br /><br /><strong>ভদ্রমহিলা সন্দেহি নজরে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ তোমাদের সাথে যে মেয়েটা থাকে? ঐ যে মিথি নাকি টিথি নাম।  ও প্র্যাগনেন্ট নাকি? দেখতে তো লাগে প্রেগন্যান্ট! কিছু হবে নাকি ঐ মেয়ের?”</strong><br /><br /><strong>রিধি বিরক্ত হয় মনে মনে। বলল,</strong><br /><br /><strong>“ প্রেগন্যান্ট মনে হলে তো কিছু হবে অবশ্যই আন্টি। ”</strong><br /><br /><strong>“ আরেহ মজা করছি না। সত্যি বলো। কিছু হবে? পেটটা কেমন ফুলো ফুলো৷”</strong><br /><br /><strong>রিধি হতাশ স্বরে জানাল,</strong><br /><br /><strong>“ হ্যাঁ, আপু প্র্যাগনেন্ট।” </strong><br /><br /><strong>ভদ্রমহিলা চমকে উঠলেন যেন। শুধালেন,</strong><br /><br /><strong>“ সে কি!” </strong><br /><br /><strong>রিধি ভ্রু কুঁচকে জানাল,</strong><br /><br /><strong>“ কি? আপনার ধারণা সঠিক হলো। আপনার তো খুশি হওয়া উচিত। তা না করে এমন চ্যাৎ করে উঠলেন। ”</strong><br /><br /><strong>ভদ্রমহিলা সন্দেহি দৃষ্টিতে আবারও ফিসফিস স্বরে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ বিয়েশাদী হয়েছে মেয়ের? ”</strong><br /><br /><strong>“ কেন হবে না? নাকে নাকফুল, হাতে চুড়ি দেখেন নি নাকি আপনি আন্টি? ”</strong><br /><br /><strong>“ তো বিয়ে হলে এভাবে পোয়াতি মেয়ে একা থাকে কেন পরিবার ছাড়া? তোমাদের সাথে এভাবে থাকে কেন? এই সময়ে কত কি সমস্যা হয়। ”</strong><br /><br /><strong>রিধি চোখ ছোট ছোট করে তাকায়। বলে,</strong><br /><br /><strong>“ হয়তো কোন কারণ আছে তাই থাকছে আন্টি। ”</strong><br /><br /><strong>” স্বামীর সাথে সম্পর্ক ভালো তো? কই এতদিনেও তো কোনদিন স্বামীকে এসে দেখে যেতে দেখলাম। নিশ্চয় সংসারে কোন সমস্যা চলছে তাই না?”</strong><br /><br /><strong>রিধির বিরক্ত লাগে। তবুও জানাল,</strong><br /><br /><strong>“ আপনার কৌতুহল দেখে আমার হাসি পাচ্ছে আন্টি। আপুর এডমিশন টেস্ট না সামনে? ঐ কারণেই আপুর বান্ধবী মানে হিয়া আপু সহ একসাথে এখানে থাকছে। আর কিছুই না। আপনি একটু বেশিই বুঝেন। ”</strong><br /><br /><strong>ভদ্রমহিলা এবার বোধহয় কিঞ্চিৎ রাগ করলেন। জানালেন,</strong><br /><br /><strong>“ মোটেই বেশি বুঝছি না। আমার মন বলছে তোমরা কিছু লুকিয়ে যাচ্ছো।আধো মেয়ে বিবাহিত কিনা তাও সন্দেহ! ”</strong><br /><br /><strong>রিধি এবার সরাসরিই বিরক্তি দেখাল। উত্তর না করে ধপাধপ পা পেলে উঠে গেল। হতাশ হয়ে মুখটা বাংলার পাঁচের মতো করে এক কিনারায় বসতেই হিয়া তাকাল। ভ্রু উঁচিয়ে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ কি হয়েছে? ”</strong><br /><br /><strong>রিধি বলল,</strong><br /><br /><strong>“ ঐ যে আন্টিটা । বিরক্তিকর!  মিথি আপুর সম্পর্কে তদন্ত করা শুরু করে দিয়েছে। ”</strong><br /><br /><strong>“ কেন?” </strong><br /><br /><strong>“ মিথি আপু প্রগন্যান্ট তাই।” </strong><br /><br /><strong>“ তো? ”</strong><br /><br /><strong>“ ওটা তো এতদিন বুঝে নি। এখন বুঝা যাচ্ছে। তাই মহিলার আজগুবি কথাবার্তা আরকি। বাদ দাও। ”</strong><br /><br /><strong>হিয়া ছোটশ্বাস ফেলে জানাল,</strong><br /><br /><strong>“ ওহ। মিথিকে বলিস না এসব। ও আবার ভাবতে শুরু করে দিবে। ”</strong><br /><br /><strong>“ আচ্ছা। ”</strong><br /><br /><strong>হিয়া কথা শেষ করে আবার নিজের জায়গায় গেল। ফোন হাতে নিতেই দেখা গেল দীপ্রর মিসড কল। এগারোটা কল। তাও প্রায় দশ মিনিট আগের। মোবাইল সাইলেন্ট থাকাতেই বোধহয় শুনে নি ও। হিয়া ক্লান্ত ভঙ্গিতে ফোনে তুল নিয়ে কল ব্যাক করল। দীপ্র কল তুলতেই উত্তর করল,</strong><br /><br /><strong>“ দীপ্র? কল দিয়েছিলি? ”</strong><br /><br /><strong>ওপাশ থেকে উত্তর এল,</strong><br /><br /><strong>“ কেন তোর ফোনে মিসড কলের নোটিফিকেশন দেখায় না হিয়া? ”</strong><br /><br /><strong>হিয়া ছোটশ্বাস ফেলল ত্যাড়া কথা শুনে। প্রশ্ন করল,</strong><br /><br /><strong>“ কেন কল দিয়েছিস? ”</strong><br /><br /><strong>“ এমনিই। ”</strong><br /><br /><strong>“ কোচিং এ তো নিয়মিত আসিসই না দীপ্র। পড়ালেখা কেমন চলছে তোর? ”</strong><br /><br /><strong>দীপ্র হতাশ স্বরে জানাল,</strong><br /><br /><strong>“ পড়ালেখায় মন দিল কিছুই বসছে না।তবে আমার খুব ইচ্ছে তোর সাথে একই ভার্সিটিতে চান্স পাওয়ার হিয়া। যদিও পরীক্ষার ডেইট কাছে এসেছে বলে পড়ার ইচ্ছে আরো মরে গিয়েছে। চল এডমিশন টেস্ট ফেস্ট না দিয়ে তুই আর আমি প্রাইভেট কোন ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে যাই হিয়া। গুড আইডিয়া না?”</strong><br /><br /><strong>“ গুড। ভেরি গুড। কিন্তু তোর বাপের অনেক টাকা থাকলেও আমার বাপের নেই। সো ঐ প্ল্যান বাদ। আচ্ছা, তোর সেই পছন্দের মেয়ের মন জয় করতে পারলি? ওজন তো খুব কমালি। ঐদিন দেখলাম আগের থেকে বহু ওজন কমিয়েছিস। মুখচোখ শুকিয়ে গেল। ”</strong><br /><br /><strong> দীপ্র শুধাল,</strong><br /><br /><strong>” হু কমিয়েছি তো। কত কষ্ট করেছি৷  সুন্দর দেখাচ্ছিল নাকি আমায়? ”</strong><br /><br /><strong>“ ওভাবে দিন রাত পড়ে থেকে না খেয়ে  ডায়েট মেইনটেন করলে আর দিনরাত এভাবে দৌড়াদৌড়ি আর জিমে গেলে আমারও  ওজন কমবে। আমাকেও সুন্দর দেখাবে। ”</strong><br /><br /><strong>দীপ্র সঙ্গে সঙ্গেই জানাল,</strong><br /><br /><strong>“  তুই ওজন কমালে ব্যাঙ এর মতো লাগবে। ”</strong><br /><br /><strong>“ আমি তোর মতো পাগল ও নই যে ছেলে পটানোর জন্য ওজন কমাবো দীপ্র। আই থিংক মেয়েরা এমনই ভালো। ”</strong><br /><br /><strong>“ হ্যাঁ, হ্যাঁ ঠিক। তোকে এভাবে দেখেই অনেক ছেলে পটে যাচ্ছে হিয়া চিকন হলে তো আরো ছেলে পটে যাবে। তাই তোর ওজন কমানোর চিন্তাও নেই। ”</strong><br /><br /><strong>হিয়া ছোটশ্বাস ফেলে। কথা বলতে বলতে আজগুবি টপিক উঠে এসেছে। তাই শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ এসব আজব টপিক বাদ দে। কল দিয়েছিস কেন? ”</strong><br /><br /><strong>“ তোর বাসার ওখান দিয়েই যাচ্ছিলাম। প্রায় পাঁচদিন হলো তোর সাথে দেখা হয়নাই। তাই ভাবলাম দেখা করি। কিন্তু তুই তো কলই তুললি না।”</strong><br /><br /><strong>“ সাইলেন্ট ছিল ফোন। ”</strong><br /><br /><strong>“ ওহ। দিপা আপু আসছে আজ দেশে। আম্মু বলেছিল তোকেও বলতে। আসবি? ”</strong><br /><br /><strong>হিয়া ভ্রু কুঁচকে শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ ইনভাইট করতে কেউ যদি এভাবে আসবি কিনা জিজ্ঞেস করে তো উত্তর কি দেওয়া যায়? ”</strong><br /><br /><strong>”না মানে তোকে তো এর আগেও বলেছিলাম। আসিস নি। ”</strong><br /><br /><strong>হিয়া উত্তর করল না এবারে। কয়েক সেকেন্ড যাওয়ার পর বলল,</strong><br /><br /><strong>” আমার বাসা থেকে কতটুকু দূরে গেলি এই দশ মিনিটে? ”</strong><br /><br /><strong>“ বেশি না। তোদের রাস্তার মোড়ের রেস্টুরেন্টে।”</strong><br /><br /><strong>হিয়া মুহুর্তে প্রশ্ন ছুড়ল, </strong><br /><br /><strong>” রেস্টুরেন্টে? তোর ওজন সতর্কতা?” </strong><br /><br /><strong>“ তোর কল পেয়ে ওখানে বাইক থামিয়েছি। রেস্টুরেন্টে ডুকিনি। ”</strong><br /><br /><strong>হিয়া হেসে ফেলল। এই ছেলেটাকে সে পরিচয়ের শুরু থেকেই দেখছে ওজন নিয়ে লড়াই করতে। কিন্তু ইদানিং বেশিই করছে। দীপ্রকে তো ওর স্বাস্থ্য বেশি থাকায় অবস্থায়ও খারাপ লাগে নি। গালটা একদম সাদা ধবধবে হাসের ছানার ন্যায় ছিল। দীপ্রর গায়ের রং সাদা আর লম্বা হওয়াতে ওকে সাদা ভূতও বলে বেড়াত হিয়া। হিয়া শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ ভেরি গুড। আমার বাসার নিচে আয়। তারপর রেস্টুরেন্টে গিয়ে পেট ভরে খাব। টাকা কিন্তু তুই পে করবি দীপ্র। ”</strong><br /><br /><strong>দীপ্র মুহুর্তেই শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ ঠেকা পড়ছে আমার? তুই খাবি তুই পে করবি। আমি নাই। ”</strong><br /><br /><strong>“ ছিঃ! বোনের খাওয়ার বিলও পে করত পারবি না?”</strong><br /><br /><strong>“ কোন বোন? ”</strong><br /><br /><strong>হিয়া উত্তর করল সঙ্গে সঙ্গে, </strong><br /><br /><strong>“ তোর দূর সম্পর্কের খালাতো বোন হই দীপ্র। বোনের মতোই তো। ”</strong><br /><br /><strong>দীপ্র প্রথমে চোখ ছোট ছোট করে চাইল। অতঃপর বলল,</strong><br /><br /><strong>“ শুনে খুবই খুশি হলাম। কিন্তু আমার পকেটে এই মুহুর্তে টাকার ট ও নেই যে আমি তোকে খাওয়াব রেস্টুরেন্টে নিয়ে।” </strong><br /><br /><strong>“ কষ্ট পেলাম।” </strong><br /><br /><strong>“ না করেছি কষ্ট পেতে?”</strong><br /><br /><strong>হিয়া মুখচোখ নিরাশ করে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ ফোন রাখ বেয়াদব। ঘুম দিব আমি। ”</strong><br /><br /><strong>বিপরীতে দীপ্র শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ আমি আসলে তোর মুখে থাপ্পড় পড়বে হিয়া। বাসা থেকে নিচে আয়৷ আমি তোর বাসার নিচে আসছি। ”</strong><br /><br /><strong>.</strong><br /><br /><strong>মুহিবের হাতে একটা স্বস্তা সিগারেট। খুব যত্ন নিয়ে ও ঠোঁটে ছোঁয়ায়। অতঃপর নিকোটিনের ধোঁয়া আকাশে উড়িয়ে দিতে দিতে বিড়বিড় করে,</strong><br /><br /><strong>“ ফুল, কেমন আছিস? জানি ভালো নেই৷ তবুও আমার সাহস নেই ফুল তোকে ভালো রাখার দায়িত্ব নেওয়ার। তোকে একবার দেখতে যাওয়ার ও সাহস নেই। যদি ভুলবাল অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হই? সেদিন তোর ভাবী যেমন প্রশ্ন করল। এই ভয়েই আমি গ্রামে যাচ্ছি না ফুল। আমি আসলে তোর অনুভূতির সত্যিই মূল্য দিইনি ফুল। সত্যিই তোকে ভালোবাসিনি। ভালোবাসলে মানুষ সর্বপ্রথম নিজের সম্মান নিয়ে ভাবতে পারে বল? যেদিন তোর ভাবী আমায় কল দিল, আমি সেদিনই টের পেলাম আমি তোকে ভালোবাসিনি ফুল। আমার যা কিছু আছে তা এক আকাশ পরিমাণ আপসোস। তোকে কেন তখন গুরুত্ব দিলাম না ফুল? এই আপসোস নিয়ে আমি আজীবন কাঁটাব কি করে? ”</strong><br /><br /><strong>রিধি পাশে এসে দাঁড়াল দুয়েক সেকেন্ড হলো। মুহিবের এমন আকাশে দিকে চেয়ে বিড়বিড় করা দেখে ও ভ্রু কুঁচকে নিল। এসেছিল রাগ ঝাড়তে মুহিবের উপর। অথচ এখন কৌতুহল জম্মাচ্ছে এই লোকের প্রতি। কি বিড়বিড় করছে এ? রিধি ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,</strong><br /><br /><strong>”প্রেমিকার শোকে পাগল টাগল হয়ে গিয়েছেন নাকি মুহিব ভাই? কি বিড়বিড় করছেন এমন? ”</strong><br /><br /><strong>মুহিব থেমে গেল। পাশ ফিরে চাইল রিধির দিকে। ভ্রু বাঁকিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে মুখের সিগারেট ধোঁয়াটা আচমকা ছেড়ে দিল রিধির মুখের উপর। রিধি সঙ্গে সঙ্গেই নাক মুখ কুঁচকে নিয়ে কেশে উঠল। অবশেষে কাশি থামিয়ে রিধি উত্তর করল, </strong><br /><br /><strong>“ মুহিব ভাই? সমস্যা কি? আপনি সবসময় আমার উপর এমন তোড়জোড় করেন কেন? ধোঁয়া কেন ছাড়লেন হ্যাঁ? কেন? ”</strong><br /><br /><strong>মুহিব উত্তর করল,</strong><br /><br /><strong>“ সবসময় আমি সিগারেট মুখে তুললেই তোমাকে আমার পাশে পাই কেন? নিশ্চয় তোমারও সিগারেটের ধোঁয়া ভালো লাগে? ”</strong><br /><br /><strong>“ মোটেই না। ”</strong><br /><br /><strong>” তো দাঁড়িয়ে আছো কেন? নাকি আমাকে ভালো লাগে? ”</strong><br /><br /><strong>রিধি মুহুর্তেই নাক মুখ কুঁচকে উত্তর করল,</strong><br /><br /><strong>” ছিঃ! আমি এসেছি রাগ ঝাড়তে।”</strong><br /><br /><strong>“ তো রাগ ঝেড়ে বিদায় হও। ”</strong><br /><br /><strong>রিধি এসেছিল কত কথা শুনাবে। অথচ গুলিয়ে ফেলেছে। কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে ও দম ফেলে শুধাল রাগী কন্ঠে, </strong><br /><br /><strong>” আমি পড়ালেখা না করলে আপনার সমস্যা কি? আমার আব্বুকে বলেছেন কেন আমি পরীক্ষায় গোল্লা পাই, পড়ালেখা করি না। আপনার সমস্যা কি হু?”</strong><br /><br /><strong>মুহিব ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়েই সিগারেটের ধোঁয়া ছুঁড়ল। বলল,</strong><br /><br /><strong>“ যেটা সত্যি ওটাই তো বললাম। সমস্যা কি? ”</strong><br /><br /><strong>“ এটা সত্যি না। ”</strong><br /><br /><strong>“ মিথ্যে?তুমি পড়ালেখা করো?”</strong><br /><br /><strong>“ আমি পড়ালেখা করি। শুধু একটা পরীক্ষাতেই গোল্লা পেয়েছি। বুঝেছেন?” </strong><br /><br /><strong>মুহিব হেসে ফেলল। শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ গোল্লা ইজ গোল্লাই। একটা পরীক্ষা হোক আর দশটা পরীক্ষা। ”</strong><br /><br /><strong>“আমার আপনাকে অসহ্য লাগে। ”</strong><br /><br /><strong>মুহিব এবারেও হাসল। আশ্চর্যভাবে খেয়াল করল ও, এই মেয়েটার সাথে কথা বললে তার হাসি আসে। মন ভালো হয়। প্রফুল্ল লাগে এই মেয়ের বোকা বোকা কথা শুনলে। মন খারাপ হলর এবার থেকে এই মেয়ের সাথে কথা বলা যেতেই পারে! মুহিব শুধাল,</strong><br /><br /><strong>” তোমাকে আমার খুব সহ্যকর লাগে এমনও নয়। ”</strong><br /><br /><strong>” এই যে আপনি সারাদিন সিগারেট ফুকেন। জানে আপনার পরিবার? ”</strong><br /><br /><strong>“কেন? ”</strong><br /><br /><strong>রিধি নাক মুখ কুঁচকে বলল,</strong><br /><br /><strong>” আপনি আমার আব্বুকে আজেবাজে কথা বলেছেন। এখন আমিও আপনার আব্বু আম্মুকে আজেবাজে কথা বলব। ”</strong><br /><br /><strong>মুহিব ভ্রু নাচিয়ে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ কি বলবে? ”</strong><br /><br /><strong>“ এই যে আপনি কোন মেয়ের থেকে ছ্যাঁকা খেয়ে সিগারেট ফুকেন রোজ, এটাই। ”</strong><br /><br /><strong>মুহিব হাসল। বলল,</strong><br /><br /><strong>“ তুমি বোকা রিধি। এটা ছ্যাঁকা নয়। ”</strong><br /><br /><strong>“ তো কি? ”</strong><br /><br /><strong>মুহিব চুপ থাকল। অতঃপর কিছুটা সময় চুপ থেকে গম্ভীর গলায় বলল,</strong><br /><br /><strong>“ আপসোস।”</strong><br /><br /><strong>“ না পাওয়ার আপসোস? ”</strong><br /><br /><strong>“ না, কাউকে সঠিক সময়ে মূল্য দিতে না পারার আপসোস। ”</strong><br /><br /><strong>“ তো এখন দেন মূল্য। ”</strong><br /><br /><strong>“ এটাও সম্ভব নয়। ”</strong><br /><br /><strong>রিধি ভ্রু কুঁচকে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ বিয়ে করে নিয়েছে নাকি আপনাকে ফেলে রেখে? ”</strong><br /><br /><strong>“ হ্যাঁ। ”</strong><br /><br /><strong>রিধি যেন পৈশাচিক আনন্দ পেল এবার। একদম ভালো হয়েছে। এই লোক কষ্ট পেয়ে সমুদ্রে ভেসে যাক।  পৈশাচিক আনন্দ নিয়েই বলল ও,</strong><br /><br /><strong>“একদম উচিত কাজ করেছে। ঐ মেয়েটাকে সামনে ফেলে আমি একশোটা ধন্যবাদ দিতাম গুণে গুণে। ”</strong><br /><br /><strong>. </strong><br /><br /><strong>মুহুর সাথে  সেদিনের পর থেকে আদ্রর আচরণ বোধহয় বদলাতে শুরু করল। যাকে এতোটা ভালোবেসেছে, আদুরে পুতুলের ন্যায় যত্ন করেছে তার প্রতি আদ্রর আচরণ বদলে যাচ্ছে। আদ্র নিজের প্রতিই বিরক্ত হলো বোধহয়৷ মুহু সাতদিনের ট্যুরে গিয়েছে। কোম্পানি থেকে যাওয়া। অথচ সে একই ট্যুরে মিস্টার এহসানও গিয়েছে৷ সাত সাতটা দিন ট্যুর শেষে ফেরার পর মুহু এবার আদ্রর সাথে দেখা করে নি। আদ্র কল দিয়ে ডাকেও নি৷ তবুও আদ্র এসেছে মুহুকে দেখার জন্য। এতগুলো দিন দেখেনি বলে কথা।অতঃপর ঘন্টা দুয়েক মুহু আর আদ্রর সময়টা ভালোই কাঁটল। ফুরফুরে প্রেমিক প্রেমিকার ন্যায়। কিন্তু এর পরমুহুর্তেই মিস্টার এহসানের কল এল মুহুর ফোনে। আদ্র ভ্র কুঁচকে ফেলে৷ এত রাতে সে কেন কল করবে মুহুকে? আদ্র নিজেই শুধাল, </strong><br /><br /><strong>“ মুহু? আবার সে মিস্টার এহসান? সোজাসুজি বলো, তুমি তার প্রতি ইন্টারেস্টেড? ”</strong><br /><br /><strong>মুহুকে বিরক্ত দেখাল এই প্রশ্নে। ফোনটা কেড়ে নিল ও। আদ্র আবারও বলল,</strong><br /><br /><strong>“ আর কতবার এই নিয়ে ঝামেলা করব আমরা? পছন্দ হচ্ছে না আমাকে আর? নাকি নতুন পুরুষ দেখে চোখে লেগেছে? কোনটা? ”</strong><br /><br /><strong>মুহু তখনই জানাল,</strong><br /><br /><strong>“ আদ্র ভুল বুঝছো তুমি আমায়। ”</strong><br /><br /><strong>“ আমি যা বুঝার বুঝতে পারছি মুহু। ছোট বাচ্চা নই আমি। তুমি বলো? পুষছে না আর আমাকে দিয়ে তাই তো? কি চাইছো শিউরলি বলো। ”</strong><br /><br /><strong>মুহুকে আদ্রকে জড়িয়ে ধরল। মেয়েলি গলায় শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ আমি তোমাকে ভালোবাসি আদ্র৷” </strong><br /><br /><strong>আদ্র তাচ্ছিল্য নিয়ে হাসল যেন। মুহুর চোখে চেয়ে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ অথচ আমি স্পষ্ট দেখছি তুমি অন্য এক পুরুষকে চাইছো। ছিঃ!”</strong><br /><br /><strong>মুহুও শুধাল এবারে,</strong><br /><br /><strong>“ তুমি অন্য এক নারীকে বিয়ে করেছো। আমি মেনে নিয়েছিলাম তা তাই না? তাহলে আমার বিজন্যাস পার্টনার নিয়ে তোমার অসুবিধা হবে কেন? ”</strong><br /><br /><strong>আদ্রু ভ্রু কুুচকে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ শর্ত কি রেখেছিলে? আমার বিয়ে করা বউকে আমি ছুঁতেও পারব না। যদি ছুঁই তুমি সম্পর্ক ভেঙ্গে দিবে। বলেছিলে কিনা?” </strong><br /><br /><strong>মুহু তাচ্ছিল্য নিয়ে শুধাল,</strong><br /><br /><strong>” তোমার মতো পুরুষ বউকে ছুঁয়ে দেখেনি আদ্র? এটুকু বিশ্বাসযোগ্য? যে বিয়ের আগেই প্রেমিকাকে ছুঁতে পারে সে বিয়ের পর বউকে ছুঁয়ে দেখেনি? অধিকার থাকা স্বত্ত্বেও? ”</strong><br /><br /><strong>আদ্রর এদিকটায় নড়বড়ে হলেও ও দেখাল না৷ মুহুর গাল চেপে চোয়াল শক্ত করে শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ তোকর ছুঁয়েছি কারণ তুই-ই প্রথমে আমার কাছে আসতি বুঝলি? আমি প্রথমে তোর কাছে যাইনি। তুই অধিকার দিয়েছিস বলেই কাছে গিয়েছি। আর কারোর কাছে গিয়েছি? তুই আমার মতো পুরুষ বলতে কি বুঝালি?  কি বুঝালি বল? ” </strong></div>]]></content:encoded>
						                            <category domain="https://xgossip.fun/community/"></category>                        <dc:creator>Alakananda Aindri</dc:creator>
                        <guid isPermaLink="true">https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%93-%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4-writeralakananda-aindri/paged/3/#post-310</guid>
                    </item>
				                    <item>
                        <title>RE: গল্প: বিষাদও বসন্ত (writer:Alakananda Aindri)</title>
                        <link>https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%93-%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4-writeralakananda-aindri/paged/3/#post-309</link>
                        <pubDate>Sat, 26 Sep 2026 05:10:18 +0000</pubDate>
                        <description><![CDATA[পর্ব:১৮ 
&nbsp;
মিথি ফিরল রাত আটটায়। আজ তুলনামূলক কাজের চাপ বেশিই ছিল বোধহয়। মিথি দুপুরেও খাওয়া হলো না। ক্ষিধেতে ওর পেট ছোঁ ছো করছে। স্বাভাবিক ভাবেই প্র্যাগনেন্সিতে ক্ষিধের পরিমাণ বেশি থাক...]]></description>
                        <content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center"><br /><strong>পর্ব:১৮</strong><br /><strong> </strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p style="text-align: center"><br /><br /><strong>মিথি ফিরল রাত আটটায়। আজ তুলনামূলক কাজের চাপ বেশিই ছিল বোধহয়। মিথি দুপুরেও খাওয়া হলো না। ক্ষিধেতে ওর পেট ছোঁ ছো করছে। স্বাভাবিক ভাবেই প্র্যাগনেন্সিতে ক্ষিধের পরিমাণ বেশি থাকে, তার উপর এতোটা সময় ও খায় নি৷  শারিরীক ক্লান্তি আর দুর্বলতা নিয়ে ও সর্বপ্রথম হাত মুখ ধুঁয়ে খাওয়ার উদ্দেশ্যে রান্নাঘরেই গেল। অথচ হতাশ হলে যখন দেখা গেল হাড়ি পাতিল গুলো মোটামুটি খালিই পড়ে আছে। মিথি ছোট শ্বাস ফেলল। হিয়া সম্ভবত আজ বাড়ি গিয়েছে। রিধি আর ফিজা রান্নায় মোটামুটি কাঁচা। এই কারণেই বোধহয় যা ছিল তা দুইজনে ভাগাভাগি করে খাওয়ার পর আর রান্না করে রাখা হয় নি। মিথি বাইরে একবার তাকাল। ফিজা আপু ফিরেনি, রিধিও পড়ছে। অতঃপর ক্ষিধে নিয়েই মিথি হাড়িটা ধুঁয়ে নিল। চাল ধুঁয়ে চুলোয় বসাতে নিতেই দেখা গেল গ্যাসের তামাশা।খুবই অল্প তাপ৷ সকালের দিকেও কিংবা দুপুরে ও লাইন গ্যাস হওয়াতে এই সমস্যাটা ফেইস করতে হচ্ছে। মিথি ছোট শ্বাস ফেলে ওভাবেই চুলোয় ভাতের হাড়ি বসিয়ে বের হয়ে এল। একপাশে বসতে নিতেই রিধি বলল,</strong><br /><br /><strong>“ তোমার মুখচোখ খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছে মিথি আপু। ঘুমাও কিছুক্ষন। ”</strong><br /><br /><strong>মিথি উত্তর করল,</strong><br /><br /><strong>“ হ্যাঁ, ঘুমাব। ”</strong><br /><br /><strong>রিধি ফের বলল,</strong><br /><br /><strong>“হিয়া আপু কল করেছিল। তোমার কথা জিজ্ঞেস করেছে। যায় হোক, কেমন চলছে প্রথম কাজ করা? সব ভালো ওখানে? ”</strong><br /><br /><strong>“ ভালো চলছে। কিছুক্ষেত্রে মানিয়ে নিচ্ছি । কিছুক্ষেত্রে অত্যাধিক ভালো এমন৷ ”</strong><br /><br /><strong>এটুকু বলে মিথি চোখ বুঝল কিঞ্চিৎ। মাথাটাও ব্যাথা করছে ওর। সাথে ঘুম ঘুম ও লাগছে।পায়ের দিকটায় কিঞ্চিৎ টান পড়ে আছে। বোধহয় হাঁটাচলার কারণে। মিথি এসব নিয়েই কিছুটা সময় ওভাবে বসে থাকতেই রিধির ফোনে কল এল। হিয়া কল করেছে। শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ মিথি? ”</strong><br /><br /><strong>মিথি ফোন কানে নিল রিধির থেকে। ওপাশ থেকে আবার বলল,</strong><br /><br /><strong>“ কতক্ষন হলো ফিরেছিস? আমি রিধিকে আরো দুবার কল  করেছিলাম। ”</strong><br /><br /><strong>“ রিধি বলেছিল। ভালোভাবে পৌঁছেছিস?কল করে খোঁজ নিতে পারিনি আমি। ”</strong><br /><br /><strong>“ দূর পাগল।আমি তোর খোঁজ নিব নাকি তুই?  খাওয়া হয়েছে তোর? ”</strong><br /><br /><strong>মিথি উত্তর করল,</strong><br /><br /><strong>“ হয়নি। রান্না বসিয়েছি। তাও গ্যাসের অবস্থা খু্ব খারাপ। গ্যাস আসলে রান্না হয়ে যাবে আশা করি। ”</strong><br /><br /><strong>“ দুপুরেও তো খাস নি আজ। ক্ষিধে লাগছে না? ”</strong><br /><br /><strong>মিথির ক্ষিধে লেগেছে। একটু বেশিই লেগেছে। তবুও বলল,</strong><br /><br /><strong>“ তেমন লাগে নি। ”</strong><br /><br /><strong>“ মিথ্যে বলছিস। রুমে কিছু এমনি আছে কিনা দেখ। ফল- টল কিছু আছে কিনা দেখ। আপাতত থাকলে খেয়ে নে৷ ক্ষতি হবে এভাবে। ”</strong><br /><br /><strong>“ হু। ”</strong><br /><br /><strong>হিয়া আবারও বলল,</strong><br /><br /><strong>“ তোর ভাইকে দেখেছিলাম আজ মিথি৷ ”</strong><br /><br /><strong>“ ওহ। আমার কথা জিজ্ঞেস করেছে?”</strong><br /><br /><strong>“ না, তবে বলল তুই যাতে বাড়িতে যাস। তোর বর তোকে নিতে এসেছিল, খোঁজ করেছিল। ”</strong><br /><br /><strong>মিথি ভ্রু উঁচাল। বলল,</strong><br /><br /><strong>“ আদ্র? ”</strong><br /><br /><strong>“ হ্যাঁ,তোর বর। ”</strong><br /><br /><strong>“ কেন? ”</strong><br /><br /><strong>“ বলল সে তার ভুল বুঝতে পেরেছে। তুই যাতে সবটা ভুলে ফিরে যাস। শুধু শুধু রাগ অভিমান করে একটা সংসার ভেঙ্গে লাভ আছে নাকি?  এসব বলল।”</strong><br /><br /><strong>“ ওহ। ”</strong><br /><br /><strong>হিয়া আবারও বলল,</strong><br /><br /><strong>“ তোর ভাই তোর সাথে দেখা ও করতে চাইল মিথি। ”</strong><br /><br /><strong>মিথি ক্লান্ত গলায় জানাল,</strong><br /><br /><strong>“ হয়তো এসবই বলবে৷ বুঝতে পেরেছি। ”</strong><br /><br /><strong>হিয়া কৌতুহল নিয়ে শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ তুই ফিরবি? ফিরে যাবি মিথি? ”</strong><br /><br /><strong>মিথি চুপ থাকল। অনেকটা সময় পর শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ আদ্র যদি ভুল বুঝতে পারে তাহলে ফেরা উচিত আমার? ”</strong><br /><br /><strong>হিয়া জবাব দিল,</strong><br /><br /><strong>“ না!  কুকুর সবসময় কুকুরই থাকে মিথি। ফিরবি না তুই। একদমই ফিরবি না। ”</strong><br /><br /><strong>.</strong><br /><br /><strong>আদ্রর মা বিরিয়ানি রান্না করেছে। আদ্রর পছন্দের খাবার। আগে হলে আদ্র মা নিজেই ছেলেকে ডেকে আদর যত্ন করে খাওয়াতো। অথচ আজ ডাকল না অব্দি। টেবিলে যেভাবে বেড়ে রাখা ওভাবেই আছে। আদ্র মায়ের দিকে চাইল একবার। বলল,</strong><br /><br /><strong>“ অনেকদিন পর তুমি বিরিয়ানি রান্না করেছো নিজ হাতে আম্মু। ”</strong><br /><br /><strong>আদ্রর মা হাসল। ছেলের পাশের চেয়ারে বসে হঠাৎ শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ আদ্র, মিথি গিয়েছে আজ অনেকগুলো দিন। তুমি ভালো আছো এখন তাই না? আশা করি সুখে আছো। ”</strong><br /><br /><strong>মিথির কথা হঠাৎ তোলার কারণ হলো আদ্রর মা হিয়ার খবর জানতে পেরেছে মিথির ভাই এর মাধ্যমে। ওখানে গিয়ে হিয়ার সাথে দেখা করবে। সুযোগ মিললে মিথির সাথেও দেখা করবে। অনেকদিন মেয়েটার খোঁজ নিতে পারেনি সে। কোন মাধ্যমই পায়নি। আদ্র মায়ের কথা শুনে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ আমি ফিরিয়ে আনতে গিয়েছিলাম ওকে আম্মু। ও না ফিরলে আমার কি করার? জোর করে আনব ওকে আমি? ”</strong><br /><br /><strong>“ নিশ্চয় ও ফিরে আসার মতো ভালো কোন কাজ তুমি করোনি আদ্র। নিজের সন্তানকে কি করে মানুষ চায় না? ছিঃ!আমার মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে তোমাকে বিষ খাইয়ে মে'রে ফেলি আদ্র। এতোটা অমানুষকে আমি কি করে বড় করেছি। ”</strong><br /><br /><strong>আদ্রু ভ্রু কুঁচকে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ মিথি তোমার কাছে আমার চাইতেও আপন? ”</strong><br /><br /><strong>“ কারণ ও তোমার মতো অমানুষ নয় আদ্র। ওর চারিত্রিক গুণাবলী যথেষ্ট সুন্দর। ও আমার বংশধরকে বহন করছে শত বাঁধা পেরিয়েও। আর এদিকে তুমি এমন একটা অমানুষ তৈরি হয়েছো যে তোমার জন্য আমি ওকে হারিয়ে ফেলেছি। যোগাযোগের সর্বনিম্ন মাধ্যমও খুঁজে পাচ্ছি না। ”</strong><br /><br /><strong>আদ্রর রাগ লাগল। সবসময় মিথি ভালো এটা শুনতে তার ইচ্ছে হয় না। অসহ্য লাগে। মিথিকে পেলে ও বুঝাত সব হারে হারে। সবটা দেখাত৷ আদ্র রাগে মুখ টান টান করেই বলে,</strong><br /><br /><strong>“ মিথির জায়গায় তুমি মুহুকে এক্সেপ্ট করলে তো এসব হতো না আম্মু। আমিও তোমার চোখে অমানুষ হতাম না। ”</strong><br /><br /><strong>আদ্র মাও রেগে জানাল,</strong><br /><br /><strong>“ মিথির জায়গায় তুমি মুহুকে বসাও কিভাবে? কোথায় মুহু আর কোথায় মিথি? আমি শিওর মুহুর মতো মেয়েরা কখনো সংসার করতে পারবে না। তুমি দেখে নিও আদ্র, মুহু তোমায় কখনোই বিয়ে করতে রাজি হবে না। মুহুরা সংসার করতে জানেই না আদ্র। ওরা বাঁচে আলাতা অহং নিয়ে। ”</strong><br /><br /><strong>আদ্র তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ মোটেই না। মুহু আমায় নিয়ে সংসার  করার স্বপ্ন দেখে। ”</strong><br /><br /><strong>“ তাই নাকি? হাসালে। তাহলে করছো না কেন বিয়ে? সমাজের চোখে তো তোমার আর মুহুর সম্পর্কটা খুব একটা পবিত্র দেখাচ্ছে না। এমনকি আমার চোখেও না। ”</strong><br /><br /><strong>আদ্রর রাগে হাঁসফাঁস লাগে। ওটুকু বলেই ও না খেয়ে উঠে গেল। হনহন করে নিজের ঘরে গেল। অতঃপর আবারও বের হয়ে এল। সদর দরজার দিকে যেতে যেতে আদ্রর মা বলল,</strong><br /><br /><strong>“ অপাত্রে ভালোবাসা দান করলে পরে আপসোস করতে হয় আদ্র। আমি শিওর তুমিও একদিন খুব পস্তাবে। খুব!  ”</strong><br /><br /><strong>আদ্রর সদর দরজায় গিয়ে দাঁড়াল। তাচ্ছিল্য নিয়ে হেসে শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ ঐ গেঁয়ো মিথির জন্য? জীবনেও না!”</strong><br /><br /><strong>.</strong><br /><br /><strong>মিস্টার এহসান। মুহুর বর্তমান বিজন্যাস পার্টনারই বলা চলে এই ছেলেটাকে। চোখে মুখে আলাদা তেজ ফুটে উঠে যেন তাকালেই। একটা আলাদা দম্ভ, অহংকার। মুহু প্রায় মিনিট দশ হলো গ্লাসের এ পাশ থেকে এই ছেলের চোখ মুখের তেজ, জেদ, দম্ভ পরখ করছে। ও ইন্টারেস্টেড হয়ে পড়ছে এই ছেলের প্রতি? কোন ভাবে আগ্রহ জম্মাচ্ছে এই ছেলের প্রতি? না নাহ! ও তো আদ্রকে ভালোবাসে। আদ্রকেই চেয়ে এসেছে এতকাল। ওর দুনিয়াতে সবচাইতে আপন মানুষটাই হলো আদ্র। তাহলে? ও কেন এই ছেলেটার পেছনে এত সময় নষ্ট করছে হু? মুহু ছোট শ্বাস টানে। অতঃপর পা বাড়িয়ে সামনে এগিয়ে ছেলেটার কাছে গেল। হেসে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ মিস্টার এহসান?  সময় নষ্ট হলো আপনার? ”</strong><br /><br /><strong>এহসানের চোখে মুখে বিরক্তি এবং  সুস্পষ্ট দম্ভ নিয়ে জানাল,</strong><br /><br /><strong>“ এহসান লাইফে শুধু শুধু সময় নষ্ট করে না মিস মুহু। টেন মিনিটস ইনভেস্ট করে টেন ক্রোর আর্ন করে নিতে জানে এহসান৷ ”</strong><br /><br /><strong>“ ভেরি গুড। আপনি চাইলে কালও কিছুটা সময় নষ্ট করতে পারেন আমার জন্য। করবেন? ”</strong><br /><br /><strong>“ কোন দরকারে? ”</strong><br /><br /><strong>মুহু সুন্দরভাবেই হেসে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ আমার জম্মদিন। নর্মালি মানুষ মা বাবা পরিবার নিয়ে জম্মদিন সেলিব্রেট করে। কিন্তু আমি অফিসের সবার সাথেই সেলিব্রেট করি। আপনাকেও ইনভাইটেশন কার্ড দেওয়ার ছিল। ”</strong><br /><br /><strong>সাধারণত মুহুর মতো মেয়ে এমন হেসে হেসে কথা বলে নিজের জম্মদিনে যেতে বললে যে কোন পুরুষই বোধহয় উতলা হবে। গদগদ হয়ে রাজি হয়ে যাবে। অথচ এহসানকে রাজি হতে দেখা গেল না। বরং বলল,</strong><br /><br /><strong>“ আপনার কেন মনে হলো আপনি ইনভাইটেশন কার্ড দিলেই আমি সত্যি সত্যিই আপনার বার্থডে সেলিব্রেট করতে চলে আসব? ”</strong><br /><br /><strong>“ আসতে হয় মিস্টার এহসান। কোম্পানির সুবিধার্থে সম্পর্ক ভালো বজায় রাখতে হলেও আসতে হয়। বিজন্যাস সম্পর্কে মোটামুটি আমার ভালো ধারণা আছে। ”</strong><br /><br /><strong>এহসান ভ্রু নাচিয়ে শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ এমনও তো হতে পারে আমি সম্পর্ক ভালো রাখার সুবিধার্থে কিছুই করলাম না। তবুও আপনি সম্পর্কটা সুন্দরই রাখলেন অদৃশ্য কোন টানে। হতে পারে না? ”</strong><br /><br /><strong>মুহু হেসে চাইল। এই এহসানের কথায় আসলেই কোন টান আছে।নয়তো মুহু এই ছেলের কথা শুনে এতোটা উৎফুল্ল বোধ করত ? বলল,</strong><br /><br /><strong>“ আপনার কথায় আলাদা এক চতুরতা স্পষ্ট মিঃ এহসান। ”</strong><br /><br /><strong>“ এমন তো না যে আপনি কোন বোকা মহিলা৷ হয়তো আমার চতুরতায় সামলে উঠতে পারছেন না এই আরকি।”</strong><br /><br /><strong>“ আই থিংক আপনি সুন্দর ফ্লার্টও করতে পারেন মিস্টার এহসান। ”</strong><br /><br /><strong>“ আমি ফ্লার্ট করলে আপনি এতক্ষনে এতটুকুতে আটকে থাকতেন না মিস মুহু। বহু আগেই বহু কিছু অফার করে বসতেন। ”</strong><br /><br /><strong>“ যেমন? ”</strong><br /><br /><strong>এহসান উঠল। বলল,</strong><br /><br /><strong>“ আপনি জানেন আমি কি মিন করছি।”</strong><br /><br /><strong>মুহু তাকাল। এহসান নিজের আলাদা ভাব নিয়েই হেঁটে গেল। আজ মুহুই ডিনার অফার করেছিল এহসানকে। তাই কথাটা চেপে গেল। এহসানের পিছু পিছু গেল। অতঃপর গাড়িতে উঠল এহসানের সাথে সংকোচ ছাড়াই। </strong><br /><br /><strong>.</strong><br /><br /><strong>আদ্র মুহুর অফিসেই এসেছিল। জানতে পারল কোথাও গিয়েছে। অতঃপর মুহুর বিশ্বস্ত একজন থেকে কোথায় গিয়েছে তা ঠিকানা নিয়ে গিয়ে দেখা গেল রেস্টুরেন্টে মুহু এবং আরেকজন অপরিচিত ছেলে। আদ্র ভ্রু কুঁচকাল। কিয়ৎক্ষন চেয়ে থেকে আবার বের হয়ে এল ও। কল দিল মুহুকে। কল তুলতেই শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ মুহু?  ”</strong><br /><br /><strong>“ হু আদ্র, বলো। ”</strong><br /><br /><strong>আদ্র জিজ্ঞেস করে,</strong><br /><br /><strong>“ কোথায় তুমি? ”</strong><br /><br /><strong>উত্তর এল,</strong><br /><br /><strong>“ একটা মিটিং ছিল। আধঘন্টার মধ্যে বাসায় পৌঁছাব আদ্র। ”</strong><br /><br /><strong>“ আমি অপেক্ষা করছি। আসো। ”</strong><br /><br /><strong>মুহু সত্যিই আধঘন্টার মধ্যে এল। আদ্রর রাগ লাগছে অযথাই। চোখমুখ লাল হয়ে আছে। রাগে হাঁসফাঁস লাগছে।চেহারাও অস্বাভািবিক লাগছে। মুহু আসতেই আদ্র চোখ তুলে চাইল। শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ মুহু? ”</strong><br /><br /><strong>মুহু তাকাল। কিয়ৎক্ষন পরখ করে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ কি হয়েছে আদ্র? এমন কেন চোখমুখের অবস্থা? ঠিক আছো তুমি?”</strong><br /><br /><strong>আদ্র আচমকাই মুহুকেই জড়িয়ে ধরল। কেন ধরল তা বোধহয় ও নিজেও জানে না। রোধ হয়ে নিঃশ্বাস ফেলে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ মুহু? ”</strong><br /><br /><strong>মুহু হাত বুলাল ওর মাথায়। শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ হ্যাঁ, বলো আদ্র। রেগে আছো তুমি? কষ্ট হচ্ছে?  এমন করছো কেন? ”</strong><br /><br /><strong>“ আমি তোমাকে ভালোবাসি মুহু। জানো তুমি তাই না? আমার সাথে চিট করার সাহসও করো না মুহু। কখনো করো না। ”</strong><br /><br /><strong>“ হঠাৎ? হঠাৎ এই কথা?”</strong><br /><br /><strong>আদ্র ওভাবেই ওকে জড়িয়ে আছে ঘাড়ে মুখ গুঁজে। বলল,</strong><br /><br /><strong>“ তুমিও আমায় ভালোবাসো রাইট? ”</strong><br /><br /><strong>“ বাসি। বাসি তো। ”</strong><br /><br /><strong>“ তো আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাইছি। এই মুহুর্তেই। আমার আর এই রকমের সম্পর্কটা ভালো লাগছে না। আঁই নিড ইয়্যু মুহু।চলো বিয়ে করে কোথাও চলে যাই।   ”</strong><br /><br /><strong>মুহু অবাক হলো যেন। শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ কিসব বলছো আদ্র? </strong><br /><br /><strong>আদ্র মুখ তুলে। বলে,</strong><br /><br /><strong>“ ভালোবাসো রাইট? তো বিয়ে করতে কি সমস্যা মুহু? আমরা অনেক আগেই বিয়ে করে ফেললে মিথি কোনভাবেই আমার লাইফে আসতে পারত না। আম্মু মিথিকে বিয়ে করতে বলার পরও আমি তোমাকে বিয়ে করার অফার দিয়েছিলাম। কি এত সমস্যা বিয়েতে তোমার? ”</strong><br /><br /><strong>মুহু  মুহুর্তেই বলল,</strong><br /><br /><strong>“ আমি এখনই বিয়ে করতে চাই না। সামনে পুরো ক্যারিয়ার পড়ে আছে আমার। ”</strong><br /><br /><strong>“ তো এটা তোমার ভালোবাসা? আশ্চর্য! এতসব করতে তোমার সমস্যা হচ্ছে না, শুধু বিয়েতেই সমস্যা!  ”</strong><br /><br /><strong>মুহু রেগে গেল যেন আচমকা। চিৎকার করে শুধাল,</strong><br /><br /><strong>“ টিপিক্যাল পুরুষদের মতো চিন্তা করছো আদ্র। বিয়ে ছাড়া মানুষ টাইম স্পেন্ড করে না বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ডের সাথে? বিয়ে বাধ্যতামূলক হু? বিয়ে করে কয়জন সুখী আছে আদ্র? তোমার বউ সুখী হয়েছে বিয়ে করে? ”</strong><br /><br /><strong>আদ্র রাগে কপাল কুঁচকাল। মুহুর থুতনি চেপে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ আমার বউ সুখী হয়নি বলে কি বুঝাতে চাইছো তুমি? আন্সার মি মুহু।”</strong><br /><br /><strong>“ তুমি একজন ভালো হাজব্যান্ড নও বাট একজন ভালো লাভার আদ্র এটাই বললাম। যদি বিয়ের পর তুমি বদলে যাও? ”</strong><br /><br /><strong>আদ্র রাগে চোয়াল শক্ত করে। দাঁতে দাঁত চাপে। অতঃপর মুহুর গাল চেপে ধরে বলল,</strong><br /><br /><strong>“ আমি ভালো হাজব্যান্ড হইনি কার জন্য? তোর জন্য মুহু। তুই কি চেয়েছিলি? আমি একাধারে দুইজনকে ভালোবাসব? তোকেও আবার মিথিকে ও? ভালো তো তোকেই বেসেছিলাম এইজন্য মন থেকে সরাতে পারছি না। নয়তো সরিয়ে ফেলে দিয়ে সংসার করতাম মন দিয়ে। ”</strong><br /><br /><strong>এইটুকু বলেই ও আবারও বের হয়ে গেল। মুহু হতবিহ্বল! ওর সাথে আদ্র এমন ব্যবহার কখনো করেনি। কখনো না।ও যেভাবে বলতো আদ্র ওভাবে করতো। ওকে পুতুলের মতো ট্রিট করত। আজ কি হলো? এমন করল কেন আদ্র? </strong><br /><br /></p>
<p>&nbsp;</p>]]></content:encoded>
						                            <category domain="https://xgossip.fun/community/"></category>                        <dc:creator>Alakananda Aindri</dc:creator>
                        <guid isPermaLink="true">https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%93-%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4-writeralakananda-aindri/paged/3/#post-309</guid>
                    </item>
				                    <item>
                        <title>RE: গল্প: বিষাদও বসন্ত (writer:Alakananda Aindri)</title>
                        <link>https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%93-%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4-writeralakananda-aindri/paged/3/#post-308</link>
                        <pubDate>Sat, 26 Sep 2026 05:09:25 +0000</pubDate>
                        <description><![CDATA[পর্ব:১৭ 
&nbsp;
&nbsp;
&nbsp;
মিথির একটা হসপিটালে পার্টটাইম জব হলো হিয়ার বন্ধু দীপ্রর মাধ্যমেই। মোটামুটি অল্প পরিশ্রম এবং সহজ কাজ। এই যেমন রোগীর সিরিয়াল দেওয়া, ডেস্ক ঠিক রাখা, রোগীর তথ্য...]]></description>
                        <content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center"><strong> <br />পর্ব:১৭<br /> </strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p style="text-align: center"><strong><br /><br />মিথির একটা হসপিটালে পার্টটাইম জব হলো হিয়ার বন্ধু দীপ্রর মাধ্যমেই। মোটামুটি অল্প পরিশ্রম এবং সহজ কাজ। এই যেমন রোগীর সিরিয়াল দেওয়া, ডেস্ক ঠিক রাখা, রোগীর তথ্য লেখা, রোগী দেখার সময় ডক্টরকে সাহায্য করা ইত্যাদি। মিথির অবশ্য এটা প্রত্যাখান করার সুযোগ ও নেই। আপাতত নিজের চলার জন্য এবং নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হলেও জবটা ওর দরকার। করতে হবে এটা। মিথি হিয়া দুইজনই খুশি হলো এতে। এবং আজই ও প্রথম দিনের মতো জয়েন করল।দিয়ে গেল হিয়াই।  সব কাজ বুঝে নিয়ে মোটামুটি করার চেষ্টা করল। অতঃপর এক পর্যায়ে ডক্টর ফাজরিনকে দেখা গেল। বোধহয় এই হসপিটালেও বসেন উনি।  মিথি প্রথমেই দেখেই শুকনো ঢোক গিলে। সেদিনকার রাতের সে ভয়ানক ঘটনাগুলো আবারও চোখের সামনে ভাসে। মিথি মুখ লুকিয়ে ডক্টর ফাজরিনের সম্মুখীন না হওয়ার জন্য অন্য পাশে ফিরতে নিল। অথচ লাভ হলো না খুব একটা। ডক্টর ফাজরিন নিজ থেকেই পেছন থেকে বলে উঠল,<br /><br />“ তুমি আদ্রর ওয়াইফ না? কি যেন নাম  ছিল?  মিথি, মিথি রাইট তুমি? ”<br /><br />মিথি আবারও শুকনো ঢোক গিলে। আদ্রর পরিচয়ে পরিচিত হতে ওর লজ্জা লাগছে। ইচ্ছেও হচ্ছে না ওর নামটা মুখে আনতে। ছোট করে বলল, <br /><br />“ হ্যাঁ, মিথি। ”<br /><br />ডক্টর ফাজরিন হেসে বলল,<br /><br />“ কেমন আছো এখন? সুস্থ আছো রাইট? আদ্র পরে আর ঝামেলা করেছে হুহ? ”<br /><br />মিথি ছোটশ্বাস ফেলে জানাল,<br /><br />” আগের থেকে ভালো আছি। ”<br /><br />ডক্টর ফাজরিন ঘড়ির দিকে চাইল। অতঃপর হেসে কিছুটা তাড়া দেখিয়ে বলল,<br /><br />“ আচ্ছা,ভালো থেকো হুহ? আমাকে ও.টি রুমে যেতে হবে একটু। খেয়াল রেখেো নিজের হু? এই সময়ে খুব সতর্ক থাকতে হবে। আদ্রকেও বলে দিও আরো সচেতন হতে। ”<br /><br />সচেতন? আদ্র সচেতন হবে? হাস্যকর!মিথি তাচ্ছিল্য নিয়ে হাসল। ততক্ষনে ডক্টর ফাজরিন চলে গিয়েছে নিজ ব্যস্ততায়। অতঃপর মিথি নিজের মতো নিজের কর্মব্যস্ততা শেষ করল সেদিনকার মতো। কাজ শেষে রাত আটটা কি নয়টার দিকে হিয়া এল। নিচে দাঁড়িয়ে থাকল। সাথে অবশ্য দীপ্রও আছে।দীপ্রকে হিয়া এনেছে এই কারণেই কারণ মিথি দীপ্রকে সরাসরি ধন্যবাদ দিতে চেয়েছিল।   দীপ্র সম্পর্কে হিয়ার দূর সম্পর্কের খালাতো ভাই এবং বন্ধু। কোচিং এই বন্ধুত্বের  সম্পর্কটা আরো ভালো হয়েছে।  মিথির সাথে পরিচয়টা আজ হলেও বেশ মিশুক ও।আর এই অল্প সময়েই দীপ্রর সাথে মিথির ভালো সখ্যতাও গড়ে উঠল।  এই যে জবটার জন্যও মিথি নিজেই ওকে ধন্যবাদ জানাল সম্মুখে দাঁড়িয়ে। অতঃপর তিনজনই একসাথে হেঁটে বাসায় ফিরতে নিল। হিয়া দীপ্রর দিকে চেয়ে দ্রুত শুধাল,<br /><br />“ তোকে আমাদের সাথে যেতে হবে না দীপ্র। চলে যা। শুধু শুধু হেঁটে কষ্ট করবি কেন? ”<br /><br />দীপ্র তাকাল। পকেটে দুই হাত গুঁজে উত্তর দিল,<br /><br />“ হাঁটলে ওজন কমবে আমার। সমস্যা নেই। চল তোরা আগে আগে। ”<br /><br />দীপ্র অল্প স্বাস্থ্যবান। ছোটবেলা থেকেই বাবা মায়ের এক মাত্র ছেলে হওয়াতে  ও গোলুমুলু ছিল আদরে যত্নে। অথচ এই স্বাস্থ্যবান খ্যাতিটা দীপ্রর ভালো লাগে না। হাই স্কুলে উঠার পর থেকেই ভালো লাগে না। ছোটবেলায় হয়তো রাগ করত, জেদ করত কিন্তু এখন এটা চাপা দীর্ঘশ্বাসে পরিণত হয়েছে।অতঃপর এখন লম্বায়ও দীপ্র বেশ লম্বা হওয়াতে খুব একটা স্বাস্থবান মনে হয় না দীপ্রকে।প্রায় ছয় ফুট লম্বা ছেলেটার ভারিক্কি দেহ নিয়ে এখনো মজা চলে। এখনো কোচিং এর অনেকেই দীপ্রকে মাঝেমাঝে মোটা সম্বোধন করেই কথা বলে। দীপ্র হেসে উড়ালেও হিয়ার মানতে বিরক্ত লাগে। এইজন্য সে বেশ কয়েকবার বেশ কয়েকজনের সাথে কথা কাঁটাকাঁটিও করেছে। দুয়েকজনের সাথে ঝগড়াটা একটু গভীররকমেই হয়েছে। আর মূলত তারপরই দীপ্র ওকে বুঝাতে এসেছিল যে এসব নিয়ে ঝগড়া না করতে। মানুষের চিন্তাভাবনাকে তো ও বদলাতে পারবে না। দীপ্র সত্যিই বুদ্ধিমান, চমৎকার একটা ছেলে। যাকে মাঝেমাঝে হিয়ার মনে হয় বেশ বুদ্ধিজ্ঞান সম্পন্ন। আবার মাঝে মাঝে মনে হয় বাচ্চা একটা। হিয়া তাকাল দীপ্রর দিকে। দীপ্রর ফর্সা আলুথালু গালে দাঁড়ির ছায়া জম্মাচ্ছে। একদম বাচ্চাদের মতো লাগে এই ছেলের মুখটা। হিয়া হেসেই বলল,<br /><br />“ তুই ওজন কমালে তোর গালটা এমন দেখাবে পরে? হাঁটতে হবে না বাপ, তুই রিক্সা নিয়ে বাসায় চলে যা। আমরাও রিক্সা নিয়ে বাসায় চলে যাচ্ছি। মিথির এমনিতেও কষ্ট হবে হেঁটে যেতে। এমনিতেও এইটুকু হেঁটে তোর খুব বেশি ওজন কমবে না। ”<br /><br />দীপ্র ভ্রু কুঁচকায়। বলল,<br /><br />“ তোর কি মনে হচ্ছে যে আমি ওজন কমাতে পারব না হিয়া? আমি অলরেডি এই মাসে আট কেজি  ওজন কমিয়েছি। ”<br /><br />“ পারবি। কিন্তু আমি চাইছি না তুই এখন পড়ালেখা বাদ দিয়ে এসবে মনোযোগ দে। ওজন কমানো কোন কঠিন বিষয় না। পরেও পারবি। ”<br /><br />দীপ্র হিয়ার থেকে লম্বা। বেশ লম্বা। ঘাড় নামিয়ে শুধাল,<br /><br />“ আর যদি আমি এভাবে থেকে যাই? ”<br /><br />হিয়া চমৎকার ভাবে শুধাল,<br /><br />“ তবুও তুই আমাদের দীপ্রই থাকবি দীপ্র। আমি তোকে ওজন কমানো বাধ্যতামূলক একবারও বলিনি।তুই যেমন তেমনই সুন্দর আছিস। তুই-ই পাগলের মতো পড়ালেখা বাদ দিয়ে সকাল -সন্ধ্যা- রাত জিমে গিয়ে পড়ে আছিস। ”<br /><br />“ আমি তো আর দেশে থাকব না,  পড়ালেখা করে আর কি করব? আইলস করে বাইরে ট্রাই করার ইচ্ছা আছে।কিন্তু তার আগে ওজন কমিয়ে সুন্দর হয়ে যেতে হবে বুঝলি? ”<br /><br />হিয়া কপাল কুঁচকায়। শুধাল,<br /><br />“ এমনিতে কি বান্দর দেখায় তোকে? সত্যি করে বল, কোন মেয়ের জন্য ওজন কমাতে উঠে পড়ে লেগেছিস ভাই? রিজেক্ট করেছে নাকি? ”<br /><br />দীপ্র বলল,<br /><br />“ রিজেক্টেড যাতে না হতে হয় তার জন্য নিজেকর পরিবর্তন করছি। কারণ আমি সত্যিই তাকে চাই। ”<br /><br />হিয়া হাসল। যেন দীপ্র মজার কোন কথা বলল। শুধাল,<br /><br />“ একেই বলে বুদ্ধিহীন পুরুষ!  আরেহ গরু, যে মেয়ের জন্য তুই এত ভাবছিস টাইম  নষ্ট করছিস, পরিবর্তন করছিস নিজেন সে মেয়ে তোকে নিয়ে এতোটা ভাববে কি গ্যারান্টি আছে? আজকালকার রিলেশনের ভ্যালু আছে? বেশিরভাগই টাইম পাস আর স্বার্থের জন্য হয়। তুই বাচ্চা বাচ্চা মানুষ, তোকে তো সহজ সরল পেয়ে আরো ঠকাবে। কোন গ্যারান্টি নেই এসবের। ”<br /><br />“ নেই? ”<br /><br />“ একদমই না। এর চাইতে খালা দেখেশুনে তোকে হাজার গুণ সুন্দরী মেয়ে বিয়ে করাবে দেখে নিস ভাই। অপেক্ষা কর কেবল। ”<br /><br />দীপ্র শুধাল,<br /><br />“ করছি তো। তোর কি মনে হচ্ছে আমি ডেস্পারেট এসবে? ”<br /><br />হিয়া সুন্দরভাবে উত্তর করল,<br /><br />“ না, তোকে আমার ভদ্র মনে হয়েছে বলেই বন্ধুত্ব করেছি। এসব প্রেম ভালোবাসায় ডেস্পারেট  জানলে বন্ধুত্ব করতাম না আমি। ”<br /><br />মিথি চুপচাপ ওদের কথা শুনছে। বলার মতো ওর কিছু নেইও৷ তাছাড়া এতোটা সময় এখানে থাকার পর ক্লান্তিতে ওর চোখ নিভু নিভু যেন। শরীর ভেঙ্গে আসছে কেমন। পেটে ক্ষিধেও লেগেছে । আজকাল কিছুক্ষন পরপরই ক্ষিধে পায় ওর। বোধহয় প্রেগন্যান্সির কারণে। মিথি চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতেই একটা রিক্সা দেখা গেল। দীপ্রই ডাকল। অতঃপর শুধাল,<br /><br />“ হিয়া, মিথি ? ”<br /><br />হিয়া বলল,<br /><br />“ কি? ”<br /><br />“ উঠে যা তোরা। রিক্সা নাও পেতে পারিস। মিথি?  উঠে যা সাবধানে।  ”<br /><br />এই যে এই অল্প সময়েও মিথিকে তুই সম্বোধন এবং নাম ধরে এভাবে বলা সত্যিই আপন আপন লাগল। মিথি আর হিয়া মাথা নাড়িয়ে উঠে গেল। <br /><br />.<br /><br />শীতকালের সকালে হুট করেই ঝরঝরে বৃষ্টির ছোঁয়া। আজ সকাল থেকেই বেশ ঠান্ডা পড়েছে। এতোটা ঠান্ডা যে হাত পা জমে আসছে। অথচ মিথির আজ চাকরির তৃতীয় দিন। প্রথম,দ্বিতীয় দিন হিয়াই দিয়ে এসেছে, হিয়াই এনেছে। আজ অবশ্য হিয়া নেই। মিথি একা যাবে বলেই বের হয়েছিল। অথচ নেমে বাইরে ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি দেখে কপাল কুঁচকাল ও। কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি ইতোমধ্যে গায়েও পড়েছে। অথচ মিথি ছাতা আনে নি। বলতে গেলে এই মুহুর্তে ওর নিজের ছাতা নেইও। কিনতে হবে। তাই আর উপরেও গেল না। ওভাবেই রিক্সার জন্য দাঁড়িয়ে থাকল৷ অতঃপর কিয়ৎক্ষন পর পাশের বিল্ডিং থেকে হিমেল এবং ওর ভাই এর মেয়ে সিমরানকে বের হতে দেখা গেল। হিমেল সিমরানকে ছাতা মেলে  দিচ্ছে। অপর হাতে নিজের ছাতাটাও মেলে নিয়ে দোকানে গেল। কিছু একটা কিনে  সিমরান যখন আবার ফিরে আসতে নিল তখনই মিথির সাথে চোখাচোখি হলো। সিমরান ওকে দেখেই খুশি হয়ে  এগিয়ে এল। মিথিও হেসে শুধাল,<br /><br />“ সিমরান,  তুমি?  ভালো আছো? ”<br /><br />সিমরানও সঙ্গে সঙ্গেই শুধাল,<br /><br />“ তুমি এখানে? ভালো আছো? ”<br /><br />“ হ্যাঁ। তুমি? ”<br /><br />“ আমিও। শীত করছে না তোমার? বৃষ্টি পড়ছে তো। ”<br /><br />মিথি হেসে জবাব দিল,<br /><br />“ হু। থেমে যাবে হয়তো। তুমি একা যেতে পারবে বাসায়? ”<br /><br />মিথি ভেবেছিল হিমেল সিমরানকে একাই পাঠিয়ে দিয়েছে। অথচ সিমরান জবাব দিল,<br /><br />“ চাচ্চু আছে সাথে। ”<br /><br />এইটুকু বলেই আঙ্গুল উঁচিয়ে একচু পেছনে হিমেলকে দেখাল। মিথি তাকাল। ঠিক তখনই আবার চোখাচোখি হলো হিমেলের সাথেও৷ হিমেল ভ্রু কুঁচকে বলল,<br /><br />“ কি? ওভাবে তাকিয়ে আছিস কেন? ”<br /><br />মিথি অপ্রস্তুত হলো যেন। ও তাকিয়ে থাকে নি। শুধু তাকিয়েছে মাত্র।তবুও বলল,<br /><br />“ না, এমনিই।”<br /><br />হিমেলের ভ্রুজোড়া কুঁচকানো। কয়েক সেকেন্ড মিথির দিকে খেয়াল করে আরো কুঁচকে এল ভ্রু জোড়া। অতঃপর মেলে রাখা ছাতাটা সিমরানের দিকে বাড়িয়ে বলল,<br /><br />“ সিমরু, এটা তাকে দাও। ”<br /><br />সিমরান কথামতো নিল। মিথির দিকে এগিয়ে বলল,<br /><br />“ তোমার জন্য। নাও। ”<br /><br />মিথির চোখ ছোট হয়ে এল।  উত্তর কি দেওয়া উচিত? উশখুশ করে বলে,<br /><br />“ কিন্তু আমার তো দরকার হবে না সিমরান। এক্ষুনিই চলে যাব। তুমি রেখে দাও। ”<br /><br />হিমেলের মুখ গম্ভীর দেখাল এবারে বেশ। মিথির দিকে চেয়ে কাটকাট গলায় বলে উঠল ও, <br /><br />“ মিথি, টেইক ইট।”<br /><br />“ হু?”<br /><br />আবারও গম্ভীর গলায় উত্তর এল,<br /><br />“ ওটা নিতে বললাম।” <br /><br />মিথি নাকোচ করে জানাল,<br /><br />“ লাগবে না হিমেল ভাই। ”<br /><br />“ লাগবে কি লাগবে না তা আমি তোকে জিজ্ঞেস করিনি মিথি। ”<br /><br />মিথি নমনীয় গলায় জানাল,<br /><br />“ আমার সত্যিই লাগবে না হিমেল ভাই। আমাকে যেতে হবে এক জায়গায়। বৃষ্টি অতো বেশিও না। সমস্যা হবে না আমার। ”  <br /><br />“ তো? ” <br /><br />“ এইটুকু বৃষ্টিতে ছাতা না নিলেও হবে হিমেল ভাই। ”<br /><br />“ যদি বৃষ্টি নামে তখন এই ঠান্ডার মধ্যে ভিজতে নিশ্চয় ভালো লাগবে তোর? ”<br /><br />মিথি এবারে চোখ ছোট ছোট করে নিল।  কিছুটা সময় চুপ থেকে হাত বাড়িয়ে নিল ছাতাটা ও। হিমেল তাকাল। বলল,<br /><br />“ আমার তো সন্দেহ হচ্ছে তুই চোখে দেখতে পাস কিনা মিথি। ”<br /><br />“ পাই হিমেল ভাই। ”<br /><br />“ ঝড়বৃষ্টির অনুভূতি বুঝিস? ”<br /><br />“ বুঝি। ”<br /><br />হিমেল এবারে চুপ থাকল। সিমরানের হাত ধরে যেতে যেতে শুধাল,<br /><br />“ আই থিংক সিমরান তোর থেকে ভালো বুঝে কখন কি করা উচিত হবে মিথি। ”<br /><br />.<br /><br />রিধির মাথা ব্যাথা করছে। চোখ খিচে অনেকটা সময় ও মুহিবের বুঝানো ম্যাথটক বুঝার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ইচ্ছে হচ্ছে না। তাই কিছুটা সময় পর পাশের মেয়েটার সাথে সবে মুখ খুলেছে ঐ মুহুর্তেই মুহিব তাকাল ওর দিকে।মার্কার দিয়ে ইশারা দিয়ে বলল,<br /><br />“ লাস্ট টেবিল!  রিধি। কথা বলছো কেন এভাবে? বুঝাতে কষ্ট হচ্ছে না আমার? ”<br /><br />রিধি দাঁড়াল। বোকা বোকা স্বরে বলল,<br /><br />“ আমি তো মাত্রই বললাম মুহিব ভাই। ”<br /><br />“ মাত্র নাকি অনেকক্ষন তা তে ম্যাটার না। এতক্ষন যা বুঝিয়েছি বুঝেছো কিছু? পরীক্ষায় গোল্লা পাও তো এই কারণেই। ”<br /><br />রিধির নাক ফুলে উঠল। রাগে ও কথাই বলল না আর। মুহিব আবারও বলল,<br /><br />“ এখানে এসে এটা আবার রিপিট করে বুঝাবে। বুঝাতে পারলে শাস্তি নেই। বুঝাতে না পারলে বাইরে গিয়ে কানে ধরে দাঁড়িয়ে থাকবে। ”<br /><br />“ হু?” <br /><br />“ কানে শোন নি? ”<br /><br />রিধির রাগে দুঃখে চোখ টলমল করে। ও আর দাঁড়ালই না। ব্যাগ গুঁছিয়ে কাঁধে নিয়ে বাইরে যেতে নিল। যাওয়ার সময়ও মুহিব আবারও বলল,<br /><br />“ কানে ধরে দাঁড়াবে বাইরে। চলে যেতে বলিনি আমি। ”<br /><br />রিধি ফোঁস করে তাকাল। রাগে হাঁসফাঁস করে ও তাকিয়ে বাইরে গেল। কান ধরে দাঁড়িয়ে ও সবার প্রথমে মুহিবের গোষ্ঠি উদ্ধার করল। <br /><br />.<br /><br />ফিজা সে রাত আটটা থেকেই মায়ের সাথে কথা বলছে। জরুরী আলাপ।কথার এতোটা সময়ে এসেও ওর মা ওকে কেবল এটাই বুঝাল যে, <br /><br />“ ফিজা? মেয়ে হয়েছো যখন তোমায় বিয়ে দিতে হবে না? নাকি সারাজীবন তোমায় আমরা রেখে দিতে পারব? ”<br /><br />ফিজা উত্তর করল,<br /><br />“ আমি পড়ালেখাটা শেষ করেই বিয়ে করব আম্মু। এখন না। ”<br /><br />“ ভালো সম্বন্ধ হলে বিয়ে দিব না? তোমার আব্বুর ও শরীর খারাপ দিন দিন বেড়ে চলেছে। বিয়ের পরও তো মানুষ পড়ালেখা করে ফিজা। তুমি জানো না তোমার আব্বুর অলরেডি ওপেন হার্ট সার্জারী করানো। মানুষটার অসুস্থতা সম্পর্কে জানো না নাকি?”<br /><br />“জানি৷ কিন্তু আমি পড়ালেখা শেষ করি প্লিজ আম্মু। তারপর ভাবি?”<br /><br />“তোমার কথা যদি আমরা সব রাখতে পারি তুমি কেন রাখবে না? তোমার আব্বুর দিকও ভাবা উচিত তোমার। ”<br /><br />“ আব্বুর শরীর খারাপ, জানি তো আমি আম্মু। কিন্তু বিয়েটাই সমাধান? ”<br /><br />ওপাশ থেকে জানানো হলো, <br /><br />“ তোমার আব্বুর বন্ধুর ছেলে। নিজ থেকে প্রস্তাব দিয়েছে। না করি কিভাবে? তোমার আব্বুর ও তো একটা মুখ আছে তাই না? ”<br /><br />ফিজা অনেকটা সময়ে এভাবে কথা বলেই কল রাখল। মেজাজ খারাপ লাগছে ওর। মায়ের সাথে কথা কাঁটাকাটি হয়েছে কিছুটা। না চাইতেও হয়েছে। এদিকে ওপাশ থেকে আয়মানও বেশ কয়েকবার কল দিল। ফিজা মেজাজ খারাপ নিয়েই কল তুলল। ওপাশ থেকে আয়মান বলল,<br /><br />“ এত সময় ব্যস্ত? কার সাথে কথা বলছিলে ফিজা যে ফোন তোলার সময় নেই?”<br /><br />ফিজা শুধাল,<br /><br />“ তুমিও এতবার কল দিচ্ছিলে কেন? কথা বলছি তো আমি কারোর সাথে। ”<br /><br />ফিজার গলা শুনে আয়মান থেমে গেল। ছোটশ্বাস ফেলে শুধাল,<br /><br />“ কেউ কিছু বলেছে ? ”<br /><br />“ না। ”<br /><br />আয়মান শান্তস্বরে জানাল,<br /><br />“ তাহলে? কথার টোন এমন কেন?” <br /><br />ফিজা ছোটশ্বাস ফেলল। বলল,<br /><br />“ কিছু বলবে আয়মান? না বললে ফোন রাখো। আম্মু কল দিচ্ছে। ”<br /><br />“ কিছু হয়েছে? তুমি টেনশন করছো কিছু নিয়ে? ”<br /><br />ফিজা বলল,<br /><br />“ তেমন নয়। তোমার তো পরীক্ষা দুয়েকদিন পর? পড়ো আয়মান। আমি পরে কথা বলব তোমার সাথে। ”<br /><br /> </strong></p>]]></content:encoded>
						                            <category domain="https://xgossip.fun/community/"></category>                        <dc:creator>Alakananda Aindri</dc:creator>
                        <guid isPermaLink="true">https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%93-%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4-writeralakananda-aindri/paged/3/#post-308</guid>
                    </item>
				                    <item>
                        <title>RE: গল্প: বিষাদও বসন্ত (writer:Alakananda Aindri)</title>
                        <link>https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%93-%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4-writeralakananda-aindri/paged/2/#post-307</link>
                        <pubDate>Sat, 26 Sep 2026 04:48:30 +0000</pubDate>
                        <description><![CDATA[পর্ব :১৬
&nbsp;
&nbsp;
সপ্তাহখানেকে মিথি প্রায় বারো জনের থেকে প্র্যাক্টিকাল খাতা লেখার অর্ডার পেল। এবং এগুলো পেতে সাহায্যটা রিধিই করল সবচাইতে বেশি৷ রিধি এ নিয়ে বেশ উৎফুল্ল।মিথিও আগের সেই ...]]></description>
                        <content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center"><strong><br />পর্ব :১৬</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p style="text-align: center"><strong><br /><br />সপ্তাহখানেকে মিথি প্রায় বারো জনের থেকে প্র্যাক্টিকাল খাতা লেখার অর্ডার পেল। এবং এগুলো পেতে সাহায্যটা রিধিই করল সবচাইতে বেশি৷ রিধি এ নিয়ে বেশ উৎফুল্ল।মিথিও আগের সেই মনমরা ভাব, মন খারাপ থেকে বেরিয়ে এসেছে। মূলত রিধি, ফিজা এমন প্রফুল্লময় মেয়েদের সাথে থাকলে নিজের মাঝে সত্যিই আলাতা এক সজীবতা আসে। মনে হয় সেও ওদের মতো হাসতে পারবে। মন খারাপটা টিকে থাকে না। মিথি এ নিয়ে অবশ্য নিজে নিজেই মনের ভেতর শান্তি অনুভব করে। এই যে এই সুন্দর জীবনটা? এটা তার গত এক বছরের জীবন থেকে হাজারগুণ সুন্দর। হাজার গুণ শান্তির! মিথি ছোট নিঃশ্বাস ফেলল। গত দুইদিনের সহ আজকের রান্নাটা ও করেছে। এসবে ব্যস্ত থাকতে ওর ভালোই লাগছে। সাথে এই মেয়েগুলো থাকলে কোন কথাই নেই। মিথি, হিয়া  মিলেই খাওয়ার জন্য চারজনের প্লেটে খাবার নিল। অতঃপর ফিজা আর রিধি তা নিয়ে গেল। চারজন ফ্লোরে গোল হয়ে বসেই খাবারগুলো মুখে তুলতে তুলতে গল্পগুজব করল। রিধি চোখ ফিটফিট করে শুধাল,<br /><br />“ হিয়া আপুর থেকে মিথির আপুর রান্নার স্বাদ বেশি। এর জন্য আমি তোমার কাছে রান্নার ক্লাস করব মিথি আপু। ” <br /><br />হিয়া সরু চাহনিতে চাইল। রিধির দিকে চেয়ে শুধাল,<br /><br />“ এবার থেকে আমি যেদিন যেদিন রান্না করব সেদিন সেদিন তুই খেতে পারবি না রিধি। তোর জন্য আমার রান্না করা খাবার আজ থেকে বাতিল।”<br /><br />“ কেন বাতিল? সবাই খেলে আমি কেন খেতে পারব না? ”<br /><br />মিথি তাকাল। এদের দুইজনের কথা শুনে হেসে ফেলল ও। হিয়ার দিকে চেয়ে বলল,<br /><br />“ হিয়া আপু, আমায় খেতে দিয়েন। নাকি আমাকেও দিবেন না? আমার জন্য বাতিল করলে কিন্তু আড়ি আপনার সাথে।  ”<br /><br />হিয়া কথাটা শুনে মিথির দিকে তাকাল।মিথিকে অনেকদিন পর এভাবে কথা বলতে শুনছে ও। আগেও কলেজ লাইফ অথবা স্কুল লাইফে ওদের কোনকিছু নিয়ে ঝগড়া হলে একে অপরের সাথে কথা বলত না। আড়ির পর্ব চলত। অতঃপর আবার মিশে যেত। হিয়ার সত্যিই খুশি লাগল পুরাতন মিথির মতো কথা শুনে। ভ্রু বাঁকিয়ে বলল,<br /><br />“ তুই কে যে তোর জন্য বাতিল করা যাবে না? তোর জন্যও বাতিল। তবে আমার বাচ্চাটার জন্য বাতিল না। এই আরকি। ”<br /><br />মিথি হেসে ফেলল। মুখে গ্রাস নিতে নিতে বলল,<br /><br />“ কষ্ট পেলাম হিয়া আপু।”<br /><br />“ আপনার কষ্ট দেখে আমি খুবই দুঃখিত আপু। কিন্তু কি করব বলুন? কিছু করার নেই।”<br /><br />রিধি মুখ ফুলিয়ে শুধাল,<br /><br />“ তুমি খুব নির্দয় হিয়া আপু। আমার মতো নিষ্পাপ বাচ্চাকে পর্যন্ত কষ্ট দিয়েছো। মিথি আপুর মতো সহজ সরল মেয়েটাকেও কষ্ট দিয়েছো। ”<br /><br />হিয়া ভ্রু বাঁকিয়ে শুধাল,<br /><br />“ তুই কবে থেকে নিষ্পাপ রিধি? আমি তো আসার পর থেকেই তোরে চিনে ফেলছি। ”<br /><br />রিধি মুহুর্তেই জিজ্ঞেস করল,<br /><br />“ কি পাপ করেছি বলো? ”<br /><br />“ আমার তেলের বোতলটা ফেলে সব তেল ফ্লোরে ফেলে দিয়েছিলি রিধির বাচ্চা রিধি। ”<br /><br />“ ভুলবশত। ভুলবশত পাপ করলে কি তাকে পাপ বলে ফিজা আপু? ”<br /><br />ফিজা এতোটা সময় চুপই ছিল। যেন একদম মনোযোগ দিয়ে খাবার খাচ্ছে ও। কিন্তু এতোটা সময় পর আর চুপ থাকতে পারল না। রিধিকে উৎসাহ দেওয়ার অভিনয় করে শুধাল,<br /><br />“ না, তাকে ভুলপাপ বলে। সেদিক থেকে তুই ভুল নিষ্পাপ রিধি।হতেই পারে এমনটা! নো প্রবলেম।”<br /><br />রিধি ফোঁস করে কাঁদো কাঁদো হয়ে শুধাল,<br /><br />“ ফিজা আপু! ”<br /><br />মুহুর্তেই বাকি তিনজন হেসে উঠল সমস্বরে। রিধিটা সত্যিই একটা বাচ্চা। প্রানবন্ত, চঞ্চল চড়ুই পাখি যেন। যে সবাইকে হাসাতে পারে। <br /><br />.<br /><br />মিথি আর হিয়া বিকালের দিকেই ছাদে গিয়েছিল কাপড় আনতে। শুক্রবার ছিল। মোটামুটি সপ্তাহের সব কাপড় ধোঁয়ার পর ছাদে শুঁকাতে দিয়েছিল। এতোটা সময়ে শুঁকিয়েও গিয়েছে। দুইজনে একে একে কাপড়গুলো নিল।হিয়া ওপাশটায় ফুলের টবে ফুুটে থাকা ফুলটার ছবি তুলতে ব্যস্ত তখন মধ্যবয়স্কা এক মহিলাকে দেখা গেল। মিথিকে দেখেই এগিয়ে এসে হেসে শুধাল, <br /><br />“  ওদের সাথে নতুন নাকি তুমি? আগে তো দেখিনি। ”<br /><br />মিথি হাসল। হেসে উত্তর করল,<br /><br />“ বেশ কয়েকদিন হলো এসেছি। আপনি? ”<br /><br />ভদ্রমহিলা উত্তর করলেন,<br /><br />“ তোমাদর উপর তলায় থাকি। ওরা প্রায়সই ফ্রিজে মাছ মাংস রাখতে যায় তো তাই চিনি। তোমাকে তেমন দেখিনি কখনো। ”<br /><br />“ আমি নতুন তো তাই। "<br /><br />“কিসে পড়ো? ”<br /><br />মিথি প্রশ্নটা শুনে প্রথম দফায় কিছুটা চুপ থাকল। অতঃপর জানাল,<br /><br />“ হু? এইচ এস সি দিয়েছি। সামনে হয়তো ভর্তি পরীক্ষা দিব। ”<br /><br />“ হয়তো কেন? পড়ালেখার জন্য এসেছো যখন অবশ্যই দিবে তাই না? কোন কোন ভার্সিটিতে দিবে? ”<br /><br />পড়ালেখার জন্যই? মিথি তো পড়ালেখার জন্যই এতদূর এখানে আসেনি। এসেছে নিজের অস্তিত্ব রক্ষার্থে, নিজের সন্তানের অস্তিত্ব রক্ষার্থে। তবুও হেসে ভদ্র মহিলার আরো অনেক প্রশ্ন থেকে বাঁচতে উত্তর করল,<br /><br />“ এখনো ভাবিনি আসলে ওভাবে কোন কোন ভার্সিটিতে দিব।”<br /><br />“ ওহ। ভালো করে পড়ালেখা করছো তো? ”<br /><br />মিথি মিথ্যেটা বলল,<br /><br />“ এইতো করছি। ”<br /><br />এইটুকু বলার পরই নিচ থেকে রিধি এল। মিথিকে ঝাপটে ধরে একপাশে নিয়ে গেল মহিলা সরে যেতেই। অতঃপর ফিসফাস করে বলল,<br /><br />“ তুমি এই বাচাল মহিলার সাথে কি করছিলে মিথি আপু? তোমাকে নিশ্চয় পড়ালেখার বিষয়ে প্রশ্ন প্রশ্ন করে করে কান খেয়ে  নিয়েছে বলো? ভদ্র মহিলা পেশায় প্রফেসর। এইজন্যই পড়ালেখা নিয়ে প্রশ্ন করে বিরক্ত করে এত। ”<br /><br />মিথি হাসল। রিধির যে পড়ালেখার বিষয়ে প্রশ্ন করা খুব একটা পছন্দের না এও বুঝে নিল। হেসে বলল,<br /><br />“ কান খেতে পারেনি রে রিধি। তোর খেয়েছিল? ”<br /><br />“ আমার তো কয়েকবারই কান খেয়ে ফেলেছিল আপু। ”<br /><br />মিথি রিধির কানের দিকে চাইল। হাত দিয়ে ওর কান টেনে বলল,<br /><br />“ তোর কানের জায়গায় কান আছে কিভাবে? ”<br /><br />রিধি মুখটা বাংলার পাঁচ করে বলল,<br /><br />“দূররর মিথি আপু!কথার কথা।  তুমি খুব ভালো ভাবছো নাকি এই মহিলাকে? ”<br /><br />মিথি মজা পেল রিধির মুখ দেখে। হেসে বলল,<br /><br />“ রিধি, তুই খুব মজার জানিস? তোর চেহারা দেখলেই আমার হাসি আসছে। যায় হোক, এই মহিলা তোর পছন্দের নয় তা বুঝলাম। কিন্তু কি করে ফেলেছে তোর সাথে ?”<br /><br />“ কিছুই করেনি। কিন্তু ভালো লাগে না।”<br /><br />.<br /><br />বিকালের দিকেই মিথি আর হিয়া গিয়েছিল একটা হসপিটালে জবের কথাবার্তা বলতে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটা পেয়েছে হিয়ারই এক বন্ধু দীপ্রর মাধ্যমে। সম্ভবত চেম্বার এসিস্ট্যান্ট। তবুও মিথির জন্য এটাও অনেক সাহায্য করবে যদি হয়ে যায়। মিথিরা ওখান থেকে ফিরল সন্ধ্যায়। অতঃপর সন্ধ্যা থেকে হিয়ার সাথে সাথে মিথি ওবই নিয়ে বসেছে। গত কয়েকদিন যাবৎও ও বই নিয়ে বসছে। যদিও জানে না খুব একটা লাভ এতে হবে কিনা। তবে থেমে গেলে  তো চলবে না। তাছাড়া হিয়ার প্রেশারে হলেও ও বসেছে। হিয়া ওকে এই কয়েকদিনে অনেকটাই সাহায্য করেছে। কোথাও না বুঝলে বুঝিয়ে দিচ্ছে ভালোভাবেই। মিথি মাঝে মাঝে এই মেয়েটার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা অনুভব করে। এই যে এই সুন্দর জীবনটা? এটা হিয়া না থাকলে কখনো পেত না ও। কখনোই না। মিথি কিছুটা সময় পড়ল। কিছুটা সময় প্র্যাক্টিকাল খাতাতে সময় দিল। অতঃপর রাতে খেয়ে ঘুমোতে যাওয়ার সময়ে বিছানা ঠিক করল হিয়াই। মিথিকে বলল,<br /><br />“ তোর নিশ্চয় এভাবে নিচে ঘুমাতে অসুবিধা হয় তাইনা মিথি? যদি ক্ষতি হয় এতে? ”<br /><br />মিথি বালিশে মাথা এলিয়ে রাখল। বলল,<br /><br />“ আমার অসুবিধা হচ্ছে না। ফ্লোরে হলেও নিচে তো মোটা  রকমের বিছানা। তো?  ক্ষতি কেন হবে এতে? ”<br /><br />পাশাপাশি বালিশে মাথা রাখল হিয়াও। বলল,<br /><br />“ তুই আমাদের মতো হলে বলতাম না<br />কি সমস্যা? তোর ভেতরে একটা পিচ্চি আছে যে এই কারণে চিন্তিত । ”<br /><br />” উহ!  কিছু হবে না তার। তার আম্মুর সাথে সাথে সেও খুশি নিশ্চয়। ”<br /><br />হিয়া হাসল। মিথিও হাসল। পৃথিবীটা আসলে তার জন্য অতোটা নিষ্ঠুর হয় না৷ এতেটাও নির্দয় নয়। এই যে তার স্বামী, ভাই, ভাবী সবাই তাকে নিয়ে এতটা উপেক্ষা, অবহেলা দেখাল? অথচ কোন এক জায়গায় তাকে  কিছু মানুষ কতোটা ভালোবাসে। কতোটা চিন্তা করে। এসব ভেবেই তো মিথির সুখ সুখ লাগে। খুশিতে চোখ টলমল করে। মিথি হিয়ার দিকে ফিরল। বলল,<br /><br />“ হিয়া, আমি যে কি পরিমাণ কৃতজ্ঞ থাকব তোর কাছে এই সুন্দর জীবনটা আমাকে দেওয়ার জন্য। তুই জানিস আমার আগের জীবনটা থেকে এই জীবনটা কতোটা সুখের? ”<br /><br />“তুই জানিস মিথি তুই সহ আমার এই জীবনটাও অনেক হ্যাপি।মাঝখানের সময়টায় আমি তোকে অনেক মিস করতাম মিথি। ”<br /><br />মিথিও ছোটশ্বাস ফেলে জানাল,<br /><br />“ তুই আমার লাইফে নিঃসন্দেহে একটা ভালো প্রাপ্তি হিয়া। সবসময় এভাবে আমার পাশে থাকিস হিয়া। সবসময় থাকিস। ”<br /><br />.<br /><br />মুহু। বাহ্যিক দিক থেকে অত্যাধিক সৌন্দর্যের একটা মেয়ে। যাকে দেখলেই যে কোন পুরুষেরই মন গলে গিয়ে একটা শান্তি শান্তি অনুভূতি দৃষ্টি হওয়ার কথা। যাকে দেখলে যে কোন পুরুষেরই আগ্রহ আসার কথা। অথচ মুহু বরাবর এমনটাতেই অভ্যস্ত।  ও সবসময়ই দেখেছে সব পুরুষের মুগ্ধ চাহনি। সব পুরুষের তার প্রতি আগ্রহ। বাবা মায়ের এক মাত্র মেয়ে হওয়াতে বোধহয় ছোট থেকেই ও সবকিছুতে অগ্রাধিকার পেতে ভালোবাসত। বরাবর পেয়ে এসেছেও তা। অথচ আজ কয়েকদিন হলো একটা ছেলে ওর প্রতি অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। বিজন্যাসের ডিল ফাইনাল করতে সময় নিচ্ছে এটিটিউড দেখিয়ে। মুহু এ নিয়ে বিরক্তই হলো কিছু। বিকালের দিকে যোগাযোগ করার জন্য কল ও করেছিল সে এই ছেলেকে। অথচ কল তোলা হয়নি। মুহুর এই পর্যায়ে আরো অপমান লাগল। সে দেখতে সুন্দরী, স্বভাবতই ছেলেটা উচিত ছিল মুহুকে অগ্রাধিকার দেওয়া।উচিত নয়, এমনটাই তো হয় সব ক্ষেত্রে। এই ক্ষেত্রে হলো না বলে মুহুর ইগোতে লাগল। একটা রেস্টুরেন্টে এতোটা সময় যাবৎ বসে আছে ও। তাও ঐ ছেলেটার জন্যই।কোম্পানির কিছু বিষয়ে কথা বলবে বলেই ডেকেছিল । অথচ ছেলেটা তাকে এতোটা সময় বসিয়ে রাখার পর কল করে এই মাত্র জানাল যে সে আসতে পারছে না৷ মুহুর এই মুহুর্তেই এ ছেলেটার প্রতি আকাশসম রাগ জম্মাল। যেখানে ও সবসময় ছেলেদের চোখে নিজের জন্য আগ্রহ দেখে অভ্যস্ত ওখানে এই ছেলের এই অনাগ্রহ, ইগ্নোর করা, তাকে অগ্রাধিকার না দেওয়া ওর বিরক্ত লাগছে। শুধুই বিরক্ত! এর জায়গায় আদ্র হলে? আদ্র  হলে ও আসার আধঘন্টা আগে এসেই বসে থাকত আদ্র। <br /><br />.<br /><br />মিথি প্র্যাক্টিকাল খাতা লিখছে কথাটা ফিজার থেকে আয়মান শুনেছিল। অতঃপর আয়মানের জমে থাকা দুটো এসাইনমেন্ট ও ভাবল মিথিকে দেওয়া যেতে পারে। ভাবা অনুযায়ী কাজও করল। ফিজাে মাধ্যমে মিথিকে লিখতে দিল। অতঃপর এক সপ্তাহের মধ্যে লিখে দিলে হবে বলেছিল। মিথিরও লেখা শেষ জানিয়েছিল দুয়েকদিন আগে। আয়মানের আজ লাগবে। এদিকে ফিজাটাও ভার্সিটিতে। অবশেষে মিথিকেই নামতে হবে। আয়মানাে দিয়ে আসতে হবে। এদিকে আয়মান হিমেলকে নিয়েই প্রায় পনেরো মিনিট হলো দাঁড়িয়ে আছে। কিছুটক সময় পর হিমেল নিজেই বিরক্ত হয়ে বলল,<br /><br />“কার জন্য এতোটা সময় দাঁড়িয়ে আছিস? ”<br /><br />আয়মান ঘড়ি দেখল। বলল,<br /><br />“ উফফ!  এসাইনমেন্ট লাগবে তো। তোর নির্ঘাত কম্প্লিট? নিজে নিজে কম্প্লিট করে ফেলেছিস নিশ্চয়? ”<br /><br />হিমেল ভ্রু নাচিয়ে বলল,<br /><br />“ কোন দুঃখে আমি নিজের এসাইনমেন্ট নিজে করব? ”<br /><br />“ তো? সাবিহা করে দিয়েছে? ”<br /><br />হিমেলকে বিরক্ত দেখাল যেন এবারে। রাশভারী স্বরে বলল,<br /><br />“ ও কেন করে দিবে? ’<br /><br />আয়মান কপাল কুঁচকে বলল,<br /><br />“ করে দেয় নাই? ”<br /><br />হিমেলকে এবার সত্যি সত্যিই অনেক বিরক্ত দেখাল। গম্ভীর স্বরে বলল,<br /><br />“ সব কথাতে সাবিহাকে আনা পছন্দ করছি না আয়মান। আমি ওকে তেমন চোখে দেখি না যেমনটা তুই মিন করছিস।সো এই বিষয়ে আর কথা তুলবি না। ” <br /><br />আয়মান চুপ করে গেল  এবারে। হিমেল কখনো কখনো তার সাথেও একেবারে গম্ভীর রূপ ধরে বসে থাকে। আয়মান সামনে তাকাতেই দেখল মিথি নেমেছে। মাথায় ঘোমটা টেনে নিচে এসে দাঁড়াতেই আয়মান বলে উঠল,<br /><br />“ নেমেছে।”<br /><br />হিমেল ভ্রু বাঁকিয়ে বলল,<br /><br />“ কি? ”<br /><br />আয়মান আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে বলল,<br /><br />“ ঐ যে। মিথি। ”<br /><br />হিমেল তাকাল। সঙ্গে সঙ্গেই ভ্রু বাঁকাল। এটা মিথিই তো নাকি? হ্যাঁ মিথিই তো। একদম মিথির মতোই। তার মানে ঐদিনের ধারণাটা ভুল নয়? বিড়বিড় করে বলল,<br /><br />“ তার মানে সেদিনও ওটা ওই ছিল? আমি ভুল ছিলাম না তার মানে? ”<br /><br />এটুকু বিড়বিড় করে বলেই সরু চোখে মিথিকে দেখল। অন্যদিকে  মিথি ততক্ষনে এগিয়ে এল৷ সাথে রিধিকেও এনেছে অবশ্য। আয়মানকে দেখেই সবার প্রথমে এসাইনমেন্ট বাড়িযে বলল,<br /><br />“ আপনার এসাইনমেন্ট আয়মান ভাই।”<br /><br />রিধি চোখ সরু করে তাকাল। বিড়বিড় করে মিথির কানের কাছে বলল,<br /><br />“ মানুষ কত বড়লোক  হলে এসাইনমেন্ট গার্লফ্রেন্ডের টাকা দিয়ে করায় বলো তো মিথি আপু? ”<br /><br />রিধি কথাটা বলেছে কারণ এর টাকাটা ফিজাই দিয়েছে।যদিও আয়মান শোনে নি। আয়মান মিথির কথা থেকেই উত্তর করল,<br /><br />“ধন্যবাদ। ভালো আছো দুইজনে? ”<br /><br />রিধি হেসে বলল,<br /><br />“ ভালো আছি দুলাব্রো। আপনি? ”<br /><br />আয়মান হাসল। উত্তর করল,<br /><br />“ ভালো। ফিজা কি ভার্সিটিতে? ”<br /><br />“ হ্যাঁ, আপু তো সকালে গেল। ”<br /><br />“ আচ্ছা। ”<br /><br />মিথি বোধহয় হিমেলকে খেয়ালই করল না আয়মানের পেছনে। একইভাবে আবার চলেও গেল। হিমেল তখনও ভ্রু কুঁচকে রেখেছে।তাকিয়ে আছে মিথির যাওয়ার দিকে। আয়মান তা দেখে বলল,<br /><br />“ কি দেখছিস? ”<br /><br />হিমেল একইভাবেই তাকিয়ে থেকে বলল,<br /><br />“ ও কে হয় তোর? ”<br /><br />আয়মান ও সম্বোধন শুনে ভ্রু বাঁকাল। তার বন্ধু সাধারণত কোন মেয়ের দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকে না। তার উপর ও সম্বোধন তো জীবনেও না। কিন্তু এই ক্ষেত্রে এ দুটোই হয়েছে দেখে সন্দেহ জাগে। ব্যাঙ্গাত্মক স্বরে বলল,<br /><br />“ ওওও? বাহ! কিন্তু আনফরসুনেটলি ও বিবাহিত দোস্ত। ”<br /><br />হিমেল দাঁতে দাঁত চাপে। আয়মানের দিকে চেয়ে রাগে চোয়াল শক্ত করে বলল,<br /><br /> “ ওকে আমি চিনি ইডিয়েট। ”<br /><br />“ কিভাবে? ”<br /><br />“ তোকে বলতে ইচ্ছে করছে না। তুই বল ও এখানে কেন? তোর সাথেই বা পরিচয় কিভাবে? ”<br /><br />বেচারা আয়মান ফোঁস করে শ্বাস ছাড়ল। অতঃপর রিক্সায় উঠে যেতে যেতে বন্ধুকে শুধাল কিভাবে মিথিকে চেনে। মিথিই বা কেন এখানে, কি সমস্যার কারণে। মোটামুটি ফিজার থেকে যতোটা শুনেছে সবটাই উগড়ে দিল বন্ধুকে। হিমেল সবটা শুনে শুধু দাঁতে দাঁত চাপল। রাগে চোয়াল শক্ত করে বিড়বিড় করে দুটো গা'লি উচ্চারণ করল সর্বপ্রথম।<br /><br />চলবে...<br /><br /></strong></p>]]></content:encoded>
						                            <category domain="https://xgossip.fun/community/"></category>                        <dc:creator>Alakananda Aindri</dc:creator>
                        <guid isPermaLink="true">https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%93-%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4-writeralakananda-aindri/paged/2/#post-307</guid>
                    </item>
				                    <item>
                        <title>নিষ্পাপ ফুল (লেখিকা:মেহেরিশ আহমেদ হিয়া)</title>
                        <link>https://xgossip.fun/community/short-stories/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%aa-%e0%a6%ab%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%b0/#post-306</link>
                        <pubDate>Fri, 25 Sep 2026 08:38:38 +0000</pubDate>
                        <description><![CDATA[নিস্তব্ধ রজনী। ঘড়ির কাঁটায় সময় ঠিক সাড়ে বারোটা। গ্ৰামে এই সময় কে গভীর রাত বলে বিবেচনা করা হয়। পাড়া মহল্লায় মানুষজন নয়টার মধ্যেই খাবার খেয়ে ঘুমাতে চলে যায়। নিজের ছোট্ট দোচালা টিনের...]]></description>
                        <content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center"><strong>নিস্তব্ধ রজনী। ঘড়ির কাঁটায় সময় ঠিক সাড়ে বারোটা। গ্ৰামে এই সময় কে গভীর রাত বলে বিবেচনা করা হয়। পাড়া মহল্লায় মানুষজন নয়টার মধ্যেই খাবার খেয়ে ঘুমাতে চলে যায়। নিজের ছোট্ট দোচালা টিনের ঘরের দরজায় পিঁড়িতে বসে আছে নিরু। টেবিলের উপরে রাখা হারিকেনের নিভু নিভু আলোয় সামান্য আলোকিত ঘর। বড় চৌকির উপর ঘুমিয়ে আছে তার এক বছরের মেয়ে নুহা। নিরুর নজর বাড়ির রাস্তায় নিবদ্ধ। হয়তো কারো অপেক্ষায় আছে। অনুভূতি শূন্য চোখ দুটোর নিচে কালি পড়ে গেছে অনেক খানি! ফর্সা মুখশ্রী কেমন ফ্যাকাশে হয়ে আছে। অনেকক্ষণ পর দূরে হতে সামান্য আলোর দেখা মিললো। এদিকেই আসছে। আস্তে আস্তে দৃশ্যমান হলো রিক্সা চালিয়ে আসা নিরুর স্বামী মিলন। নিরু শক্ত মুখে উঠে দাঁড়ালো। মিলন রিক্সা রেখে ঘরে এসেই ঝাঁঝালো গলায় শুনাল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ কিরে ফকিন্নির ঝি ভাত কই? ভাত দে তাড়াতাড়ি ”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>মিলনের এমন সম্বোধনে একটুও অবাক হলো না নিরু। গত আড়াই বছর ধরে তো এটাই শুনে আসছে। নিঃশব্দে হারিকেন নিয়ে চলে গেলো খাবার আনতে। নিরু ভিতরে যেতেই মিলন দরজায় খিল এঁটে দিলো। হাত পাখা দিয়ে বাতাস করতে করতে চৌকির উপর বসলো। একটা বারের জন্যও তাকিয়ে দেখলো না মেয়েকে। নিজের মতো আপন মনে বাতাস করছে। হঠাৎ নজর গেলো টেবিলের উপর রাখা রিচার্জেবল ফ্যানের দিকে। চোখ ছোট ছোট হয়ে গেলো তার। পরখ করে দেখলো ফ্যান টা। দেখে মনে হচ্ছে বেশ পুরনো হবে। চলন্ত ফ্যানের বাতাসে আরামে ঘুমাচ্ছে নুহা। সেই ঘুম যেন সহ্য হলো না মিলনের। এক টান দিয়ে মেয়েকে তুলে ছুড়ে ফেললো পাকা মেঝেতে। উচ্চ শব্দে কেঁদে উঠলো ছোট নাজুক প্রাণটি। কান্নার শব্দে ছুটে এলো নিরু। মেয়েকে বুকে আগলে নিয়ে মিলনের দিকে তাকিয়ে বলল </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ আপনে কি জানো'য়ার? এমনে মাইডারে আছাড় মার'লেন ক্যান?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>কাঁদতে কাঁদতে মেয়েকে বুকের সঙ্গে চেপে ধরল। নুহা কান্না বন্ধ করে জননীর বুকের সঙ্গে লেপ্টে রইলো। মিলন এসে নিরুর চুলের মুঠি শক্ত করে চেপে ধরে বলল</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ শালী কার লগে তেজ দেখাস তুই হ্যাঁ। ঘরের মইধ্যে এইডা আইলো কেমনে! তোর কোন নাগর দিয়া গেছে এডা ”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ আল্লাহর দোহাই লাগে চুপ করেন আপনে। এডা আইজ মুন্নি আপা দিলো নুহা লাইগা ”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>মিলন বিশ্বাস করলো না। উল্টো ইচ্ছে মতো মা'রধর করে বিছানায় চলে গেলো। নিরু ব্যথায় জর্জরিত শরীর টেনে কোনো রকম উঠে অন্য চৌকিতে নুহাকে শুইয়ে দিলো। মাথার পাশে বসে হাতপাখা করতে লাগলো‌। একটু পর মিলনের কন্ঠ ভেসে এলো </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ ওই এদিকে আয় তাতাড়ি ”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>নিরু ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো মিলনের কাছে। তার জানা আছে এখন মিলন কি করবে। রাতে আঁধার নিজের শরীর বিলিয়ে দিলো স্বামীর নিকট। </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>শেষ রাতের দিকে মিলন তাকে ছেড়ে অন্য পাশ ফিরে শুয়ে পড়লো। নিরু নিরবে চোখের জল ছেড়ে দিলো। বিয়ের আড়াই বছর হতে চললো। অথচ আজ অবধি একটা ভালো ব্যবহার করে নি মিলন। সবসময় কুকুর বিড়ালের মতো ব্যবহার করেছে। তার অবশ্য কিছু কারণ রয়েছে বটে। নিরুর বাবার চাকর ছিল মিলন। তিনি ভীষণ রুক্ষ ব্যবহার করতেন চাকরদের সঙ্গে। গ্ৰামের কেউ তাকে পছন্দ করতো না কিন্তু কিছু বলার সাহস ও ছিল না। তিনি ছিলেন গ্ৰামের মহাজন। তার মৃ'ত্যুর পর নিরু বিয়ে হয় মিলনের সঙ্গে। </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>সকাল সকাল উঠে নিরু চুলার দুয়ারে বসে একটা পেঁয়াজ কেটে নিলো। রাতের পান্তা ভাতের সঙ্গে পেঁয়াজ , মরিচ আর সামান্য লবণ ছিটিয়ে নিলো। একটা প্লেটে এগিয়ে দিলো মিলনের দিকে। অন্যটা থেকে নিজে খেলো আর নুহাকে সামান্য খাইয়ে দিলো। খাওয়া শেষে নিরু ঘরে এলো রান্না কিছু আছে কিনা দেখতে। মিলন এসে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে ঘাড়ে চুমু দিয়ে বলল </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ বউ তোর মুন্নি আপা আর কি দিছে রে কাইল”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ কিছু বাটি চামচ পেলেট দিছে। ওই ফ্যান ডা দিছে আর চুড়ি দিছে কয় মুঠ ”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>নিরুর কথায় মিলনের চোখ চকচক করে উঠলো। আস্তে আস্তে বলল</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ চুড়ি গুলি দে তো একটু ”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ ক্যান!”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>অবাক কন্ঠে শুধাল নিরু। মিলন মনে মনে বিরক্ত হলেও প্রকাশ করলো না।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ আরে দে না এত্তু দেহি ”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>নিরু ট্যাংকের ভেতর থেকে বের করে দিলো। ছয় মুঠ কাঁচের চুড়ি। সঙ্গে চুলের ফিতা আছে কিছু। মিলন খপ করে দু মুঠো ছুড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেলো ঘর থেকে! তাড়াতাড়ি রিক্সা নিয়ে বেরিয়ে গেলো। পিছন থেকে নিরু চিৎকার করেও লাভ হলো না। রান্না শেষ করে নিরু মুন্নি আপার বাড়ি কাজ করতে চলে গেলো। এভাবে বেশ কয়েকদিন কেটে গেল। প্রায় সময় মিলন ঘরের জিনিসপত্র নিয়ে বিক্রি করে দেয়। কিন্তু সে টাকা আর ঘরে আসে না। ঠিক মতো রিক্সাও চালায় না এখন। নিরুর সন্দেহ হয়। জিজ্ঞেস করলে মিলন জানায় এলাকার রিপন রা নাকি কি খেলে সে শুধু দেখে। নিরু কথা বিশ্বাস করল না। </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>এর শুরু হলো আরো অত্যাচার। মিলন সবসময় নিরুর উপর অত্যাচার করে টাকা নিয়ে যেতো। ও বাড়ি কাজ করে সেই সুবাদে তারা যা কিছু দিতো সব নিয়ে বেচে দিতো। শেষে নিজের রিক্সাটাও বিক্রি করে দিলো</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ সত্য কইরা কন আপনে জুয়া খেলেন?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ হ খেলা কি করবি এহন ”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>বেশ তেজ নিয়ে বলল মিলন। নিরু বাকরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ এই আমার দিকে তাকান। আমার লাইগা আপনের মাইয়ার লাইগা চিন্তা হয় না আপনের! মাইয়াডার ভবিষ্যৎ কি?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ না হয় না। ওর সব চাইতে বড় অপরাধ ও মাইয়া। আমার কিছু কইরা ও তো খাওয়াই তে পারবো না। বাইচ্চা থাইকা শুধু আমার খরচ করে যতসব ”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>রেগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো মিলন। নিরু কাঁদতে কাঁদতে কাজে চলে গেলো। বাড়িতে একা রয়ে গেলো ছোট্ট নুহা। বাড়ির অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে খেলতে গেলো। সবাই বাড়ির সামনে বড় রাস্তায় খেলছে। একটু পর পর বড় বড় গাড়ি ছুটে আসছে। ওরা দৌড়াদৌড়ি করছে এমন সময় অপর পাশ দিয়ে বড় মালবাহী ট্রাক দ্রুত বেগে ছুটে এলো। মূহুর্তের মধ্যে হাসির আসর কে কান্নার আসরে পরিনত করে দিলো। পাকা রাস্তার উপর পড়ে আছে নুহার নিহর দেহ। বাড়ির লোকজন ছুটে এলো।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>নিরুর কাজ শেষ। আজকে বেতন পেয়েছে সেই সঙ্গে ভালো খাবার ও। খুশি মনে বেরিয়ে পড়লো। বাড়ির কাছাকাছি আসতে নজর পড়লো লোকজন জড়ো হয়ে থাকা রাস্তায়। এগিয়ে গিয়ে দেখতে চাইলো সে। নিরুকে দেখেই সবাই সরে গিয়ে জায়গা করে দিলো। তাতেই যেন শরীর রক্ত পানি হয়ে গেলো। পায়ের তলা টা কেমন শূন্য অনুভব করল। বুকটা যেন কেউ ছিঁড়ে নিয়ে গেছে। মেয়েকে জাপটে ধরে চিৎকার করে কেঁদে উঠলো। </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ আম্মা আম্মারে উঠ মা। দেখ আম্মা কি আনছি তোর লাইগা। উঠ না মা। আম্মার নিঃশ্বাস টা বন্ধ হইয়া আসতেছে। উঠ মা। ও ভাবী কও ওরে উঠতে ”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>জোড়ে জোড়ে চিৎকার দিয়ে কাঁদছে নিরু। সকলে অসহায় চোখে চেয়ে দেখলো। একজন এগিয়ে এসে তার ভ্যান তুলে নিলো নুহাকে। ভ্যান ছুটলো হাসপাতালের উদ্দেশ্যে। মেয়ের খবর শুনে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলো মিলন। সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে দাঁড়িয়ে আছে নিরু। মিলন আসতেই তার দিকে তাকিয়ে হাসলো। এই অবস্থায় নিরুর হাসি একদম আশা করেনি মিলন।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ ওই নিরু আমার মাইয়া কই! ওর কি অবস্থা ক "</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ আপনার কি মাইয়া আছে মিলন সাব! ওইডা আমার মাইয়া আপনের কিছু না। জানেন এহানে আনার পর ও বাইচা ছিল। সাহেব রা কইছে অপারেশন করতে মেলা টাহা লাগবো। আমি দিতে পারি নাই। আমার মাইয়া ডা আমার চোখের সামনে দিয়া মই'রা গেলো। আমি কিছু করতে পারি নাই ”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>নিরুর কথায় মিলন স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। কান কে বিশ্বাস করতে পারছে না। তার মেয়ে আর নেই। </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ টাহা লাগবো না আপনের এই যে নেন। সব নিয়া যান কিন্তু আমার মাইয়া ডারে আমার বুকে আইনা দেন ”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>জোরে চিৎকার করে কাঁদছে নিরু। অসহায় চেয়ে আছে মিলন। তার কাঁদা উচিত নয়। তার অবহেলায় আজ তার মেয়ে চলে গেছে বহু দূরে। একজন মানুষ খারাপ কাজ করলে তার প্রভাব আশেপাশের মানুষ গুলোর উপর ও সমান ভাবে পড়ে।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>    — সমাপ্ত —</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>]]></content:encoded>
						                            <category domain="https://xgossip.fun/community/"></category>                        <dc:creator>Sojib Miya</dc:creator>
                        <guid isPermaLink="true">https://xgossip.fun/community/short-stories/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%aa-%e0%a6%ab%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%b0/#post-306</guid>
                    </item>
				                    <item>
                        <title>RE: গল্প: আপনি আমার ভীষণ কাছের কেউ (লেখনিতে:সুমাইয়া তুলি)</title>
                        <link>https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%80%e0%a6%b7%e0%a6%a3-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0/paged/3/#post-305</link>
                        <pubDate>Thu, 17 Sep 2026 23:04:22 +0000</pubDate>
                        <description><![CDATA[পর্ব: ১০ 
 
        
 
জঙ্গলের গভীরে দাঁড়িয়ে আছে একটি পোড়াবাড়ি। সময়ের নির্মম স্পর্শে যার দেয়াল ভেঙে চুরমার হয়েছে, জানালার কাঁচ ফেটে ছড়িয়ে আছে বিষণ্ণতার মতো, আর চারপাশে মাকড়সার জাল যেন নি...]]></description>
                        <content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>পর্ব: ১০ </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>        </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>জঙ্গলের গভীরে দাঁড়িয়ে আছে একটি পোড়াবাড়ি। সময়ের নির্মম স্পর্শে যার দেয়াল ভেঙে চুরমার হয়েছে, জানালার কাঁচ ফেটে ছড়িয়ে আছে বিষণ্ণতার মতো, আর চারপাশে মাকড়সার জাল যেন নিঃশব্দে বুনে চলেছে পরিত্যক্ততার ইতিহাস। বাতাসে মিশে আছে পচা কাঠ আর ভেজা মাটির তীব্র গন্ধ, যা প্রতিটি নিঃশ্বাসে এনে দেয় এক অদ্ভুত শীতলতা। দূর থেকে ভেসে আসছে অজানা পশুপাখির ডাক কখনো তীক্ষ্ণ, কখনো গভীর গম্ভীর—শুনে মনে হয় এই জঙ্গল যেম নিজস্ব এক রহস্যময় ভাষায় কথা বলছে।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>এই নিস্তব্ধ, ভয়ার্ত পরিবেশের মাঝেই বাড়ির এক কোণে, ভাঙা একটি চেয়ারে বসে আছে লিলি। কিছুক্ষণ আগেই সে উপলব্ধি করেছে সে কিডন্যাপ হয়েছে। অথচ বিষয়টা তার কাছে ঠিক মিলছে না। টিভিতে সে যতবার কিডন্যাপিং দেখেছে, সেখানে তো হাত-পা-মুখ বেঁধে রাখা হয়। কিন্তু তাকে তো কিছুই করা হয়নি! বরং এক অদ্ভুত ‘ভি আই পি ট্রিটমেন্ট’ দেওয়া হচ্ছে। অথচ সে তো কোনো ভি আই পি নয়—তার চৌদ্দ গুষ্টিতে কেউ ভি আই পি আছে বলেও মনে হয় না।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>এই অদ্ভুত পরিস্থিতিতে সামান্য সাহস সঞ্চয় করে সামনে বসে ক্যারাম খেলায় মগ্ন দুই ছেলেকে উদ্দেশ করে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ভাইয়া।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>কিন্তু ছেলেদুটো খেলায় এতটাই ডুবে ছিল যে লিলির কণ্ঠ তাদের কানে পৌঁছালই না। কৌতূহলী হয়ে লিলি একটু এগিয়ে গেল। কাছে গিয়ে দেখল, তাদের মধ্যে একজন যে তাকে মিথ্যে বলে গাড়িতে উঠিয়েছিল। সে বারবার হেরে যাচ্ছে। লিলির ভালোই ক্যারাম খেলতে পারে; বাবার সঙ্গে প্রায়ই খেলত। তাই সে হেরে যাওয়া ছেলেটিকে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আরে ওদিক থেকে বাকা করে মারুন।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>এবার দুজনেই ঘুরে তাকাল লিলির দিকে। জিতে যাওয়া ছেলেটি, যার নাম রহিম, কিছুটা বিরক্ত গলায় বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“এই কাশেম এইডারে বান্দোস নাই ক্যান? তোরে না কইলাম এইডারে বাইন্দা রাখতে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>কাশেম নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে উত্তর দিল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“দেহেন ভাই মাইয়াগো গায়ে হাত দেওয়ার পলিসি আমার নাই। আর ওই যতক্ষণ আমার আন্ডারে আছে ততক্ষণ ওর গায়ে কেউ হাত দিবেন না। আম্মায় আমারে কইছিল কাশেম আর যাই করস মাইয়াগো গায়ে কখনো হাত দিবি না। তর মা বোইনের গায়ে কেউ হাত দিলে তোর ভাল লাগবো? তাই আমি এই পলিসি বানাইছি।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>কাশেমের দীর্ঘ বক্তৃতায় রহিম কিছুটা থেমে গেল। এমনিতেই সাদিদের বউকে তুলে এনে তার মনে ভয় কাজ করছে। কখন কী হয়ে যায়! এদিকে কথাগুলো শুনে লিলি বুঝে ফেলল। এই ছেলেগুলো অন্তত তার ক্ষতি করবে না। তাই সাহস একটু বেড়ে গেল। সে আবার বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ভাইয়া আমি যেভাবে বললাম ও ভাবে চাল দিয়ে দেখুন?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>কাশেম আবার তাকাল তার দিকে। লিলি চোখের ইশারায় চাল দেওয়ার নির্দেশ দিল। কাশেম তার কথা মতো চাল দিতেই—এই প্রথম সে রহিমের বিপরীতে জিতে গেল। রহিম সঙ্গে সঙ্গে চেঁচিয়ে উঠল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“হইব না হইব না তুই ওই মাইয়ার কথা শুনছোস।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>কাশেম প্রতিবাদ করল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“তো কি হইছে ওই তো আর আমার চাল দিয়া দেয় নাই।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলিও সঙ্গে সঙ্গে যোগ করল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ঠিক কথা আমি তো ওনার চাল দেই নি। উনি নিজের হাত দিয়ে চেলেছে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>কিছুক্ষণ তর্ক-বিতর্কের পর লিলিই বসে গেল রহিমের সঙ্গে একদান খেলতে। যেখানে তার ভয় পেয়ে কাঁদার কথা ছিল, সেখানে সে ক্যারামের প্রতিটি দানে জিতে হেসে লুটোপুটি খাচ্ছে। সত্যিই কি আজব এক কিডন্যাপিং!</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>খেলার মাঝপথে হঠাৎ ভেসে এলো এক বিকট শব্দ। সবাই থেমে গেল। বিশাল কাঠের ফটক পেরিয়ে ভেতরে ঢুকছে সাদিদ—তার পেছনে আরিফ, হাসান, আর সঙ্গে অনেকগুলো গার্ড। বাইরে পাহারায় থাকা ছেলেগুলো মাটিতে পড়ে কাতরাচ্ছে। শুভ্র পাঞ্জাবির হাতা গুটিয়ে সাদিদ এগিয়ে এসে সামনে দৃশ্যটা দেখে থমকে গেল। তার হ্যাজেল রঙের চোখে ভেসে উঠল এক অদ্ভুত দৃষ্টি। যেই মেয়েকে নিয়ে সে এতক্ষণ উদ্বিগ্ন ছিল সেই মেয়েই কিনা নির্ভয়ে বসে ছেলেগুলোর সাথে ক্যারাম খেলছে!</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>এদিকে মাটিতে ছেলেদের পড়ে থাকতে দেখে লিলি উঠে দৌড়ে গেল সাদিদের কাছে। উৎফুল্ল কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আপনি কি ঢিসুম ঢিসুম করে ছেলেগুলো কে মেরেছেন? আপনি মারামারিও পারেন?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>তার প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই সাদিদের শক্ত হাতের চড় এসে পড়ল তার গালে। জীবনের প্রথম চড় খেয়ে মুহূর্তেই দুনিয়া ঘুরে উঠল লিলির। বিস্ময় কাটার আগেই সাদিদ তার বাহু শক্ত করে চেপে ধরে চিৎকার করে উঠল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“এই তোমার কি কমনসেন্স নেই? মাথার মধ্যে কি গোবর ভড়া।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>এই অবস্থাতেও লিলি গালে হাত দিয়ে ছলছল চোখে, মুখ ফুলিয়ে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“লিলির মাথায় গোবর ভড়া না লিলি অনেক বুদ্ধিমতী।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>সাদিদ বিরক্ত হয়ে তাকিয়ে রইল। এই মেয়েকে নিয়ে সে কোথায় যাবে! একটা চড় খেয়েও এর বোধশক্তি ঠিক জায়গায় আসেনি! গলায় বিরক্তির সুর এনে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“হ্যাঁ এতোটাই বুদ্ধিমতী যে সুরসুর করে অচেনা অজানা মানুষের সাথে চলে এসেছে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি মিনমিন করে উত্তর দিল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আমার কি দোষ ওরাই তো বলল আপনি নাকি ওদের পাঠিয়েছেন?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>সাদিদ আবার কিছু বলতে যাবে, ঠিক তখনই আরিফ এসে তাকে থামাল। এদিকে কাশেম আর রহিমকে ইতিমধ্যে বেঁধে ফেলা হয়েছে। আরিফ বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ছোট মানুষ একটা ভুল করেছে তাই বলে তুই ওর গায়ে হাত তুলবি। সুন্দর করে বুঝি…”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>সাদিদ রাগী চোখে তাকাতেই আরিফ থেমে গেল। মুহূর্তেই সুর বদলে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“সাদি তো ঠিকই বলেছে লিলি এমন অচেনা মানুষের সাথে কেউ চলে আসে?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>চড় খেয়ে লিলির গাল এখনও ব্যাথায় টনটন করছে। তার ওপর এত বকা শুনে কান্নাভেজা কণ্ঠে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আপনারা সবাই খারাপ আমি শাশুড়ী আম্মুর কাছে আপনাদের নামে নালিশ দেব।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>সাদিদ তার হাত শক্ত করে ধরে বাইরে এগোতে এগোতে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“সাথে নিজের করা বোকামির কথাও বলো।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি ব্যথায় কুঁকড়ে উঠে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ইস ছাড়ুন লাগছে আমার। আরে ওদেরকে কেন বেধেছেন? ওরা অনেক ভালো হয়তো বাধ্য হয়ে আমাকে কিডন্যাপ করেছিল। কিছুটাকা দিয়ে ছেড়ে দিন। জানেন ওরা আমায় ভি আই পি দের মতো ট্রিট করেছে। হাত পাও বাধেনি। আর…”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“জাস্ট শাট আপ।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>সাদিদের বজ্রনিনাদে লিলির সাথে বাকিরাও স্তব্ধ হয়ে গেল। ঠিক সেই মুহূর্তে, হঠাৎ করেই বাইরে থেকে ছুটে এলো একটি গুলি। যেটা সোজা গিয়ে বিদ্ধ হলো কাশেমের হাতে। আতঙ্কভরা এক আর্তচিৎকার ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে। মুহূর্তেই পরিবেশের আবহ বদলে গেল। লিলি ভয়ে কেঁপে উঠে ঝট করে জড়িয়ে ধরল সাদিদকে। সাদিদও এক মুহূর্ত দেরি না করে তাকে নিজের আড়ালে টেনে নিল, আর দ্রুত বের করল নিজের লাইসেন্সকৃত পিস্তল। </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>যে ব্যক্তি গুলি করেছিল, সে লিলিকে সাদিদের বাহুতে আশ্রয় নিতে দেখে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। বড় বড় পা ফেলে এগিয়ে এলো সে। লিলির বাহু চেপে ধরার আগেই সাদিদ তার হাত শক্ত করে আটকে দিল। দু’জনের চোখাচোখি হতেই যেন সময় এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। অদ্ভুত, গভীর এক দৃষ্টিতে সাদিদের দিকে তাকিয়ে রইল ইহরান। হ্যাঁ, কাশেমকে গুলি করা ব্যক্তি আর কেউ নয়, ইহরানই। তার সঙ্গে এসেছে একদল লোক দেখতে গার্ড হলেও আচরণে তারা গুন্ডা চেয়ে কম নয়।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি তখনও ভয়ে সাদিদের বুকে মুখ লুকিয়ে আছে। সেই দৃশ্য দেখে রাগে হিসহিসিয়ে উঠল ইহরান,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“Come to me, Blueberry.”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>এই অদ্ভুত সম্বোধন শুনে সাদিদের পাশাপাশি লিলিও চমকে উঠল। ধীরে ধীরে মুখ তুলে তাকাল সে লোকটার দিকে।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আরে আপনি তো সেই।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>সাদিদ শান্ত স্বরে জিজ্ঞেস করল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ওকে চেন তুমি?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>তার কণ্ঠের এই অস্বাভাবিক শান্ত ভাব লিলিকে আরও বিচলিত করল। কিছুটা থেমে গিয়ে ভয়ে ভয়ে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ওই ভার্সিটির প্রথম দিন উনি আমাকে বাসায় পৌছে দিয়েছিলেন।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>সাদিদ ঠোঁটে হালকা বিদ্রূপের রেখা ফুটিয়ে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“মানে অচেনা মানুষের সাথে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তোমার আগে থেকেই আছে?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>এই শান্ত সুরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ঝড়টা লিলি স্পষ্ট টের পেল। ঠিক তখনই ইহরান লিলির হাত ধরে ফেলল। সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে উঠল লিলি,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“এই কি করছেন? আমার হাত ধরছেন কেন আপনি?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>ইহরান গভীর কণ্ঠে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“Don’t you remember me, Blueberry?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>সাদিদের দৃষ্টি নেমে এলো তাদের জোড়া লাগা হাতে। মুহূর্তেই তার মনে ভেসে উঠল কিছু তিক্ত স্মৃতি। যে স্মৃতির পুনরাবৃত্তি সে আর ঘটতে দিতে চায় না। এবার তার ভেতরের দখলদার সত্তা জেগে উঠল প্রবলভাবে। যে লিলিকে সে বউ বলে মেনে নেয়নি, সেই লিলিকেই উপরই আজ নিজের অধিকার দাবি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। হাত তুলে এক ঘুসি বসাল ইহরানের মুখে। গর্জে উঠল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“How dare you touch her, bastard!”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>ইহরান টলে গেলেও থামল না। ঠোঁটের কোণে জমে ওঠা র/ক্ত মুছে সেও পাল্টা ঘুসি মারল সাদিদকে।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“How dare you come between us! She is my love!”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>আরিফ এগিয়ে আসতে যাচ্ছিল, কিন্তু তার আগেই সাদিদ আরেকটি ঘুসি মারল ইহরানের নাক বরাবর,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“She is my wife.”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>সবকিছু এত দ্রুত ঘটল যে আরিফ, এমনকি লিলিও প্রথমে কিছুই বুঝে উঠতে পারল না। কিন্তু ইহরান আবার আক্রমণ করতে এগিয়ে আসতেই লিলি দৌড়ে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল দুজনের মাঝখানে। থেমে গেল ইহরান।মারামারিতে সাদিদের ঠোঁটের কোণ কেটে গেছে। সেখানে জমে আছে র/ক্ত। সেটা দেখে লিলির ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। এতক্ষণ যে মানুষটাকে ভয় পাচ্ছিল, সেই ইহরানের দিকেই এবার সাহস করে ঘুরে দাঁড়াল সে। ভেজা চোখ নিয়ে কঠিন কণ্ঠে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আপনার সমস্যা কি? এমন করছেন কেন? সেদিন আপনি আমায় সাহায্য করেছিলেন জন্য কি মাথা কিনে নিয়েছেন? ওনাকে আঘাত করলেন কোন সাহসে?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>ইহরান কিছুটা আহত স্বরে আবার শুধাল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ Don’t you remember me, Blueberry?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আপ……”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি কিছু বলতে যাচ্ছিল তার আগেই সাদিদ তাকে টেনে নিজের কাছে নিয়ে এলো। ঠান্ডা, কঠিন কণ্ঠে ইহরানকে সতর্ক করে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“Stay away from her.”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>এরপর প্রায় জোর করেই লিলিকে নিয়ে বেরিয়ে গেল গাড়ির দিকে। তাদের পেছন পেছন বেরিয়ে এলো আরিফ, হাসান আর গার্ডরা। পেছনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে উঠল ইহরান,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“Why can’t you remember me, Blueberry? Why?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>ইহরানের অসহায়তা আর উন্মাদন কন্ঠে শুনে তার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভয়ে ভয়ে এগিয়ে এসে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“Sir… are you okay?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>ইহরান অস্থির, প্রায় পাগলাটে ভঙ্গিতে বলে উঠল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“How can I be okay? তুই দেখলি ব্লুবেরি ওর জন্য কতটা ডেস্পারেট হয়ে গেছিল। আমারও তো এখানে আঘাত লেগেছে। কই ওতো সেটা দেখল না। কেন দেখল না বল কেন দেখল না? Ahh…I just… can’t take this!” </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>এদিকে সাদিদের গাড়ি লিলিকে নিয়ে অনেকটা দূরে এগিয়ে গেছে। তবে সেই জায়গাতে এখনো দারিয়ে আছে আরিফ আর হাসান। আরিফ এখনো যেন এক ধরনের ঘোরের মধ্যে আছে।লিলি এই গোপন প্রেমিক আবার আসল কোথা থেকে? </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>হাসান সাদিদের চলে যাওয়ার পানে তাকিয়ে নিচু স্বরে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ভাইয়ের কপালটা এমন কেন? আগে প্রেমিকার পেছনে একজন লেগেছিল। এখন বউয়ের পেছনে লেগেছে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>আরিফ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“একটু ভুল বললি ব্যাটা। আগের কাহিনীর সাথে এই কাহিনীর আকাশ পাতাল পার্থক্য। এবার মেয়েটা সাদিদের বউ। দেখলি না কি বলল। আর লিলি কখনোই ওই মেয়ের মতো নয়।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>———</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>ফুল স্পিডে গাড়ি ছুটিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সাদিদ। চারপাশের দৃশ্য ঝাপসা হয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে দ্রুতগতির সাথে। সিটের সঙ্গে একদম লেগে বসে আছে লিলি ঠোঁট কাঁপিয়ে দোয়া-দরুদ পড়ছে সে। মনে হচ্ছে, এই বুঝি তার প্রাণপাখি ফুরুত হয়ে যাবে। তবে সাদিদের এসবে খেয়াল কোথায়? তার ভেতরে তো জমে আছে অন্য এক আগুন।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>অনেকটা সময় পর, একেবারে ফাঁকা রাস্তায় এসে হঠাৎ জোরে ব্রেক কষল সে। আকস্মিক ধাক্কায় লিলি সামনের দিকে ঝুঁকে পড়লেও সিটবেল্ট তাকে রক্ষা করল। গাড়ি থামিয়ে স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখে মাথা নিচু করে রইল সাদিদ। তার শ্বাস ভারী হয়ে আসছে, কাঁধ ওঠানামা করছে ধীরে ধীরে। যেন নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখার শেষ চেষ্টা করছে সে।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>তার এই অবস্থা দেখে লিলি কিছুটা দ্বিধা নিয়েই বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আপনি ঠিক আছেন?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>মুহূর্তেই সাদিদের শক্তপোক্ত হাত এসে চেপে ধরল লিলির গাল। তার চোখ-মুখে জমে আছে রাগ। দাঁতে দাঁত চেপে বলল, </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“তোকে আলাদা ভেবেছিলাম… তবে তোরা সবাই এক। কে হয় ওই ছেলেটা তোর?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>]]></content:encoded>
						                            <category domain="https://xgossip.fun/community/"></category>                        <dc:creator>Sojib Miya</dc:creator>
                        <guid isPermaLink="true">https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%80%e0%a6%b7%e0%a6%a3-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0/paged/3/#post-305</guid>
                    </item>
				                    <item>
                        <title>RE: গল্প: আপনি আমার ভীষণ কাছের কেউ (লেখনিতে:সুমাইয়া তুলি)</title>
                        <link>https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%80%e0%a6%b7%e0%a6%a3-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0/paged/2/#post-304</link>
                        <pubDate>Thu, 17 Sep 2026 23:03:32 +0000</pubDate>
                        <description><![CDATA[পর্ব: ৯
 
       
 
ভোরের আলো খোলা জানালা দিয়ে লিলির চোখে এসে পড়তেই পিটপিট করে চোখ মেলে তাকাল সে। পাশ ফিরে নিচে তাকিয়ে দেখল, কাল্লুর শোয়ার জায়গাটা ফাঁকা। ঘুমঘুম চোখে বিছানা থেকে চার...]]></description>
                        <content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>পর্ব: ৯</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>       </strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>ভোরের আলো খোলা জানালা দিয়ে লিলির চোখে এসে পড়তেই পিটপিট করে চোখ মেলে তাকাল সে। পাশ ফিরে নিচে তাকিয়ে দেখল, কাল্লুর শোয়ার জায়গাটা ফাঁকা। ঘুমঘুম চোখে বিছানা থেকে চারপাশে খোঁজা শুরু করল লিলি। এমন সময় নিচ থেকে ভেসে এলো বাহারি কাকার চিৎকার। এই বিকট চিৎকারে ঘুম উবে গেল লিলির। একছুটে নিচে গিয়ে দেখল, কাল্লু বাহারি কাকার লুঙ্গি ধরে ঝুলে আছে। এদিকে বাহারি কাকা এক হাতে লুঙ্গি ধরে, অন্য হাতে কাল্লুকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে।</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ছাড় হামার লুঙ্গি, হতচ্ছাড়া কালি বিল্লি! হায় হায়, এতো মহা মুশকিল! এই কালি বিল্লি ঘরের ভেতরটাতে ঢুকল কী করে?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি এগিয়ে গিয়ে সামনে দাঁড়াতেই কাল্লু বাহারি কাকাকে ছেড়ে লিলির দিকে এগিয়ে এলো। তবে বাহারি কাকা ভাবলেন, কাল্লু বুঝি লিলিকে আক্রমণ করতে যাচ্ছে। তাই তো তার হাতে থাকা ফাঁকা বালতিটা দিয়ে চেপে ধরলেন কাল্লুকে। সঙ্গে সঙ্গে লিলি বলে উঠল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আরে আরে, ভারী কাকা! কী করছেন? কাল্লু তো দম আটকে মরে যাবে! তারপর ওর বাপ আমাদের দম আটকে মেরে ফেলবে!”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“বউমনি, আপনি চিন্তা করবেন না। হামি এই কালি বিল্লি কে বাইরটাতে ফেলে দিয়ে আসব।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি কপাল চাপড়ে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আরে, এটাকে বাইরে ফেলবেন কেন? এটা তো আপনার সাদিদ বাবার বিল্লি!”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>বাহারি কাকা কাল্লুকে বালতি চাপা দিয়েই বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“কিন্তু সাদিদ বাবা তো এসব পালতু জানওয়ার পছন্দ করে না।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>বোকা লিলি এতক্ষণে বুঝতে পারল আরিফের মিথ্যাচার। সেইজন্যই হয়তো সাদিদ কালকে প্রশ্ন করেছিল, এটা লিলির বিড়াল কি না। তবে এতকিছুর পরেও সে বিড়ালটাকে ফেলে দিতে পারল না। এক রাতেই বিড়ালটার প্রতি তার মায়া কাজ করা শুরু করেছে। তাই বাহারি কাকাকে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“যা হোক, ওকে ছেড়ে দিন, ভারী কাকা।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“কিন্তু…?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“চিন্তা করবেন না, ও এখন থেকে ভালো হয়ে থাকবে। আমি ট্রেনিং দেব ওকে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>বাহারি কাকাও ছেড়ে দিল কাল্লুকে। ছাড়া পেয়ে সে একবার তার ঘোলা চোখ দিয়ে তাকাল বাহারির দিকে। তার চাহনির অর্থ এই—'এবারকার মতো বেঁচে গেলি, তবে পরের বার আর এই সুযোগ আসবে না।' অতঃপর ভদ্র বিড়ালের মতো লেজ নেড়ে লিলির পায়ের কাছে গিয়ে আদুরে স্বরে ডাকতে শুরু করল। লিলিও মুচকি হেসে তাকে নিয়ে ঘরে চলে গেল। এদিকে বাহারি কাকা মুখ এই বিড়ালের নিখুঁত অভিনয় দেখে হা হয়ে গেল।</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>———</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>আজ ভার্সিটি আছে লিলির। তবে সে ঠিক করেছে, সাদিদকে আর বিরক্ত করবে না একা একাই যাবে। রেডি হয়ে নিচে নেমে এসে দেখল, ডাইনিং টেবিলে সাদিদ বসে ব্রেকফাস্ট করছে। নিলিপ্ত চোখে সাদিদের দিকে তাকাল সে। আজ লোকটা সাদা পাঞ্জাবি পরেছে। এই কয়েক দিনে সাদিদকে সাদা ছাড়া অন্য কোনো রঙের পাঞ্জাবিতে দেখেনি। কিন্তু অফিসে কেউ পাঞ্জাবি পরে যায়? গত পরশু তো ফরমাল ড্রেসেই গিয়েছিল! লোকটার পোশাকের এই দ্বৈত আচরণ বোঝে না লিলি। তাই চোখ সরিয়ে চুপচাপ ব্রেকফাস্ট করতে বসল। তার যে এখনো অজানা, স্বামীর রাজনীতি করার বিষয়টা।</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>এদিকে সাদিদ বেশ কিছুক্ষণ ধরে লিলিকে পর্যবেক্ষণ করছে। আড়চোখে কয়েকবার তাকিয়েছেও। একটা মিষ্টি রঙের পাকিস্তানি থ্রি-পিস পরে, মাথায় হিজাব বেঁধেছে লিলি। না চাইতেও বারবার তার দিকে তাকাচ্ছে সাদিদ। এই কাজে নিজের ওপর নিজেই বিরক্ত হলো সে। খাওয়া শেষে লিলি কোনো কথা না বলে বাইরে পা বাড়াতেই পেছন থেকে ভেসে এলো সাদিদের গম্ভীর কণ্ঠ,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>— “কোথায় যাচ্ছো?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>কণ্ঠস্বর শুনে লিলির পা থেমে গেল। সাধারণত সাদিদ আগ বাড়িয়ে কথা বলে না। আজ তাহলে কী হলো? অতোসতো না ভেবে উত্তর দিল </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>— “ভার্সিটিতে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>সাদিদ গাম্ভীর্য বজায় রেখে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>— “একা যেতে হবে না। ড্রাইভারকে বলে দিয়েছি, সে পৌঁছে দেবে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>— “হ্যাঁ, তারপর আমাকে আনার কথা ভুলে যাবে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>সাদিদ জবাব দিল না আর। এমনিতেই মোরশেদ দেওয়ান ওত পেতে আছে তার পরিবারের ক্ষতি করার জন্য। সাদিদ কিছুতেই চায় না, তার জন্য এই মেয়েটার কোনো ক্ষতি হোক। এমনিতেই ড্রাইভার জ্যামে আটকে যাওয়ায় সেদিন নাকি মেয়েটাকে নিয়ে আসতে পারেনি। তখন যদি মেয়েটার কিছু হয়ে যেত, মাকে কী জবাব দিত সে? </strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>অতঃপর একসাথেই দুজনে বাড়ি থেকে বের হলো তবে ভিন্ন বাহন ও ভিন্ন গন্তব্যে। </strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>———</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>ভার্সিটি প্রাঙ্গণে পৌঁছানোর আগেই লিলির চোখ পড়ল রাস্তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রিমার উপর। তাই ড্রাইভারকে বলে নেমে পড়ল মাঝ রাস্তাতেই। রিমা সামনের একটা ভবনের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছে। লিলি অন্যমনস্ক রিমার কাঁধে হাত রেখে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“কিরে, তুই এখানে কী করছিস?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>রিমা বান্ধবী কে দেখে উৎফুল্ল হয়ে হাত নাড়িয়ে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আরে দোস্ত, তুই তো একটুর জন্য মিস করে গেলি! এখনই তো আমাদের হবু এমপি তার অফিসে ঢুকলো। হায়, কী জোস দেখতে!”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>ভ্রু কুচকে লিলি শুধাল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“নির্বাচন তো এখনো হয়নি, তাই না? আর তুই কী করে জানলি যে ওই লোকটাই জিতবে?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আরে, জিতবে, জিতবে! উনিই জিতবে। তুই তো জানিসই না, ওনার সমর্থক কতগুলো! এবার সাদি ভাই-ই জিতবে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>‘সাদি’ নামটা শুনে লিলির বুক ধক করে উঠল। কোন সাদির কথা বলছে রিমা? তার স্বামীর? কিন্তু তা কী করে সম্ভব? উনার নাম তো সাদিদ! তাছাড়া উনি তো পারিবারিক ব্যবসা সামলান, রাজনীতি তো আর করেন না। আর এক নাম তো অনেকের থাকতে পারে। তাই বিষয়টা মাথা থেকে উড়িয়ে দিয়ে রিমাকে ধরে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“চল, এখানে দাঁড়িয়ে নেতাদের না দেখে ক্লাসে চল।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আরে, হ্যাঁ! আমি তো ভুলেই গেছি, আজ তো ওই প্রফেসর সাহিলের ক্লাস আছে। ওই ব্যাডাও কিন্তু দেখতে জোস!”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি কপাল চাপড়ে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“তোর চোখই খারাপ, অসভ্য মেয়ে!”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি প্রায় টানতে টানতে রিমাকে ক্লাসে নিয়ে গেল। ততক্ষণে প্রফেসর ঢুকে পড়েছেন। লিলি কিছুটা ভয়ে ভয়ে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“মে আই কাম ইন, স্যার?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“নো, ইউ কান্ট!”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>কাঠখোট্টা কন্ঠে বলে উঠলো প্রফেসর সাহিল। তারপর পেছন ফিরে তাদেরকে দেখে গম্ভীর কণ্ঠে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“নাম কী?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“তাবাসসুম রিমা।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>রিমা ঝটপট উত্তর দিল। লিলি চুপ করে থাকায় রিমা তাকে ধাক্কা দিতেই সে বলে উঠল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ফাইজা মুনতাহা লিলি।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“প্রফেসর রুমে ঢোকার আগে আপনাদের ঢোকা উচিত ছিল না কি?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>রিমা নিচু স্বরে বলল, </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“সরি, স্যার। আর হবে না।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“হুম, মনে যেন থাকে। ভেতরে আসুন।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি আর রিমা গিয়ে বসল পেছনের বেঞ্চে। রিমা মুখটা কালো করে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“সিনিয়র দের কাছে শুনেছিলাম এই প্রফেসর অনেক ভালো। এখন তো দেখছি একটুও ভালো না। প্রথম দিনই ধমক দিল।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি নিজেও অসহায় মুখ করে আওড়াল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“এইটুকু বকা শুনে যদি তোর এই অবস্থা হয় তাহলে আমার জায়গায় থাকলে তো তুই নির্ঘাত হার্ট অ্যাটাক করতি।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>আজ টিচারদের একটা মিটিং থাকায় শেষের ক্লাসটা ক্যানসেল হয়ে গেছে, তাই সকলেই যে যার গন্তব্যে চলে যাচ্ছে। লিলি আর রিমা গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। রিমা জিজ্ঞেস করল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>— “ভাইয়া কি তোকে নিতে আসবে?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি ভাবনায় পড়ে গেল। সাদিদ বলেছে আজ ড্রাইভার তাকে নিতে আসবে। তবে আজ তো একটা ক্লাস ক্যানসেল হয়ে গেছে। তাই ড্রাইভার আসলেও তো দেরি করে আসবে। তার ভাবনার মাঝেই একটি গাড়ি এসে থামল রিমা ও লিলির সামনে। গাড়ি থেকে একজন ছেলে বেরিয়ে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ম্যাম, স্যার আপনাকে নিতে পাঠিয়েছেন। আসুন।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি কিছুটা অবাক হলো। এটা তো তাদের ড্রাইভার নয়। তাই ছেলেটাকে শুধালো,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আপনি কি আমাকে বলছেন?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>ছেলেটা অতি নম্র গলায় বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আপনাকেই বলছি। আপনি লিলি ম্যাডাম, না? আসলে আগের ড্রাইভার হঠাৎই অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় স্যার আমাকে পাঠিয়েছেন আপনাকে নিতে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>অপরিচিত লোকটার কাছে নিজের নাম শুনে লিলি ভাবল, হয়তো সাদিদই তাকে পাঠিয়েছে, নাহলে ছেলেটা তার নাম কিভাবে জানল। তাই রিমাকে বিদায় দিয়ে ছেলেটার সঙ্গে চলে গেল লিলি।</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>———</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>পার্টি অফিসের নিচতলার সোফায় বসে মনের আনন্দে বাদাম চিবোচ্ছে আরিফ। কাল সে যে চালটা দিয়েছে না! ড্যাম শিওর, লিলি এখন ওই ঘরে আর একা থাকার সাহস করবে না। তবে একটা ঝামেলা আছে—বিড়ালটাকে আবার নিয়ে আসতে হবে, নাহলে লিলি তার চাল বুঝে যেতে পারে। এসব ভাবনার মাঝেই তার চোখ পড়ল সামনে ডেস্কে আপনমনে গুনগুনিয়ে গান গাইতে থাকা হাসিবের উপর।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“কি হে, বৎস, ধনিয়া মৎস। আজ এতো খুশির আছে কি কোনো উৎস?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“উৎস তো আপনি, ভাই।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>আরিফ কিছুটা সন্দিহান কণ্ঠে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আমি কি করেছি আবার?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“কি করেন নি সেটা বলুন। কাল আপনি আমার যে উপকার করলেন, তা আমি জন্মেও ভুলব না।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>হাসানের কথা শুনে আরিফ সিনা টান দিয়ে বসে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“এতো বড় মহৎ কাজ করে সেটা আমি জানি না—এ কেমন কথা! না না, বৎস, তাড়াতাড়ি পিটিয়ে ফেলো আমার সেই মহৎ কাজের ঢ্যাঁড়া। জনগণেরও তো অধিকার আছে আমার সেই মহৎ কীর্তি সম্পর্কে জানার।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ভাই, কাল আপনি ফোন করে বললেন না আমি যেন একটা কালো বিড়াল যোগাড় করি।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“হ্যাঁ, বলেছিলাম।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“তো আমি আমার চাচাতো বোনের ওই ভোটকা কালো বিড়ালটা আপনাকে দিয়ে দিয়েছি। বিশ্বাস করুন, ভাই, এতে আমার সঙ্গে আমার পুরো বাড়ির পুরুষ সদস্যরা এতো খুশি হয়েছে যে আব্বা তো বলেই দিয়েছে আপনাকে আমাদের বাসায় দাওয়াত দিতে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>আরিফ কিছুটা কনফিউজড হয়ে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“বুঝলাম না। বিড়ালের সাথে বাড়ির পুরুষ সদস্যদের খুশি হওয়ার সম্পর্ক কি?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>হাসান এবার কিছুটা কাছে এগিয়ে এসে নিচু স্বরে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ওইটা একটা লুচ্চা বিড়াল। ওই খালি মাইয়া মানুষের সাথেই চুপচাপ থাকে আর পুরুষ দেখলেই ঘপ করে, জায়গামতো খামচি দিয়ে ধরে। কতবার যে ওর হাতের খামচি খাইছি, ভাই।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>এই কথা শুনে আরিফ পাক্কা দুই সেকেন্ড কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বসে রইল। অতপর হাত থেকে সমস্ত বাদাম ফেলে দিয়ে মৃদু চেচিয়ে উঠল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“হাসাইন্না, তুই এই কথা আমারে আগে কবি না।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>তারপর হন্তদন্ত হয়ে দোতলায় সাদিদের কক্ষের দিকে যেতে যেতে আওড়াল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“সাদিদ রে, আবার তোর কপাল পুড়ল। বাট নো টেনশন, এবার কিছুতেই তোকে আমি কষ্ট পেতে দেব না। দরকার পড়লে ঝাটার বাড়ি দিয়ে ওই লুচ্চা কাল্লুকে আমি বাড়ি ছাড়া করব।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>---</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>ইদানীং সাদিদের উপর অনেক চাপ যাচ্ছে মানসিক ও শারীরিক উভয় দিক দিয়েই। আজ সে অফিসে যায়নি, পার্টি অফিসে এসেছে। তার উপর পুরো পার্টির চোখ। যদিও সাদিদের আত্মবিশ্বাস আছে নিজের উপর, তবুও কোথাও না কোথাও একটা দ্বিধা থেকেই যায়। নিজের অফিস রুমের কাচের দেয়ালের বাইরে তাকিয়ে এইসবই ভাবছিল সে। এমন সময় রাস্তার সিগনালে থামা একটি গাড়ির খোলা জানালায় চোখ আটকে গেল সাদিদের। মিষ্টি কালারের জামা পড়া মেয়েটা অনেকটা লিলির মতো দেখতে। ভালো করে খেয়াল করে দেখল, ওটা লিলিই।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“এই মেয়ে ওই গাড়িতে কি করছে?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>গাড়িটার ড্রাইভিং সিটে বসা ছেলেটাকে দেখে টহল নড়ল সাদিদের। হঠাৎই মাথা গরম হয়ে গেল তার। এক ছুটে দোতলার অফিস রুম থেকে নিচে নামার সময় ধাক্কা লাগল আরিফের সাথে। আরিফ কিছু বলার আগেই ঝড়ের বেগে নিচে নেমে গেছে সাদিদ। আরিফও বুঝতে পারল এখানে কোনো ঝামেলা আছে, তাই সে ও ছুটল সাদিদের পিছু।</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>সাদিদ নিচে নেমে আসতে আসতে সিগনাল ছেড়ে দিয়েছে। তা দেখে সাদিদ পাশের দেয়ালে ঠেস দিয়ে বলে উঠল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“সিট! সিট! সিট! ড্যাম!”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>এদিকে আরিফ দৌড়ে তার কাছে এসে শুধালো,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“কি হয়েছে?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>সাদিদ কোনো উত্তর না দিয়ে গাড়ির পাশে রাখা বাইকে চেপে বসল। বাইক ফুল স্পিডে নিয়ে ধাওয়া করল, লিলিকে নিয়ে যাওয়া গাড়িটাকে। পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা আরিফ ও হাসান বুঝল গুরুতর কোনো সমস্যা হয়েছে, তাই তারাও কালবিলম্ব না করে সাদিদের পিছু নিল।</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>]]></content:encoded>
						                            <category domain="https://xgossip.fun/community/"></category>                        <dc:creator>Sojib Miya</dc:creator>
                        <guid isPermaLink="true">https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%80%e0%a6%b7%e0%a6%a3-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0/paged/2/#post-304</guid>
                    </item>
				                    <item>
                        <title>RE: গল্প: আপনি আমার ভীষণ কাছের কেউ (লেখনিতে:সুমাইয়া তুলি)</title>
                        <link>https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%80%e0%a6%b7%e0%a6%a3-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0/paged/2/#post-303</link>
                        <pubDate>Thu, 17 Sep 2026 23:02:40 +0000</pubDate>
                        <description><![CDATA[পর্ব: ৮
 
    
&nbsp;
 
ধরনিতে রাত নেমেছে, ঘন কালো আঁধারে মুখ লুকিয়েছে চাঁদ। দুপুরে আরিফকে একটা জরুরি কলের টানে ছুটতে হয়েছিল, লিলির হাতের রান্নার স্বাদ গ্রহণের সৌভাগ্য তার আর হয়নি। এ...]]></description>
                        <content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>পর্ব: ৮</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>    </strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>ধরনিতে রাত নেমেছে, ঘন কালো আঁধারে মুখ লুকিয়েছে চাঁদ। দুপুরে আরিফকে একটা জরুরি কলের টানে ছুটতে হয়েছিল, লিলির হাতের রান্নার স্বাদ গ্রহণের সৌভাগ্য তার আর হয়নি। এই নিয়ে বেচারার আফসোসের শেষ ছিল না। আর সাদিদ? সে তো আরিফ চলে যাওয়ার পরে সেই যে ঘরে ঢুকেছে, আর বের হওয়ার নাম নেয়নি। লিলি বুঝতে পারে না একজন মানুষ এতোটা গম্ভীর, চুপচাপ কী করে থাকতে পারে?</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>টেবিলের ওপর রাখা ফোনটা হঠাৎ তীক্ষ্ণ শব্দে বেজে উঠল। লিলির মনোযোগ ছিন্ন হলো। কাছে গিয়ে দেখল, স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করছে ‘আম্মু’ শব্দটা। পরিবারের কথা মনে পড়তেই তার বুকের ভেতরটা কেমন ভারী হয়ে এলো। মিসেস পারভিন নিয়মিত ফোন করেন, কিন্তু লিলি বারবার তা এড়িয়ে চলে। এই কয়েকদিনে মায়ের সঙ্গে হাতেগোনা কয়েকবার অল্প কথা হলেও, বাবার সঙ্গে একবারও কথা হয়নি। ফোনটা একবার বেজে থেমে গেল, আবার বেজে উঠতেই লিলি ধীরে ধীরে হাত বাড়াল। ফোন কানে তুলতেই ওপার থেকে মিসেস পারভিনের উৎকণ্ঠিত কণ্ঠ ভেসে এলো,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“লিলি, কেমন আছিস?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলির গলায় অভিমান ঝরে পড়ল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“যেমন রেখেছ, তেমন।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>মেয়ের অভিমানে ভরা কণ্ঠ শুনে মিসেস পারভীনের সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ল স্বামীর উপর। তবে মেয়েকে তা বুঝতে দিলেন না।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“জানি, তুই রেগে আছিস। শোন, একটা কথা বলি। বাবা-মা কখনো সন্তানের খারাপ চায় না। তোর বাবাও তোর খারাপ চাইনি।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“খারাপ চাওনি, তবে জোর করে এমন একজনের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছ, যে আমাকে বউ বলেই মানে না!”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>মেয়ের মুখে এমন কথা শুনে মিসেস পারভিন স্তব্ধ হয়ে গেল। বিয়ের দিনেই তিনি আঁচ করেছিলেন এইরকম কিছু। তবু তিনি নিজেকে সামলে বললেন,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ধৈর্য ধর, মা। একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে। ধৈর্যশীলদের আল্লাহ উত্তম পুরস্কার দেন। আমরা তোকে জোর করে বিয়ে দিতে চাইনি, কিন্তু…”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“কিন্তু কী, আম্মু?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>কৌতূহলী গলায় জিজ্ঞেস করল লিলি। মিসেস পারভিন একটু থামলেন, চাইলেও বলতে পারলেন না ইরহামের বিষয়টা। তাই প্রসঙ্গ পাল্টে বললেন,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“সাদিদের বাবা তোর বাবার পুরোনো বন্ধু। তারা নাকি অনেক আগেই তোদের বিয়ে ঠিক করেছিল। তবে এই বিষয়ে আমরা কেউই জানতাম না। এখন তো উনি বেঁচে নেই। তাই হয়তো তার কথাটা রাখতেই তোর বাবা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলির মুখে আর কথা এলো না। ফোনটা কেটে দিয়ে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তারা তো তাদের ওয়াদা রক্ষা করল। কিন্তু একবার লিলিকে জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন বোধ করল না যে সে এই ওয়াদা বহন করতে পারবে কিনা। সাদিদ তাকে কাছে ঘেঁষতে দেয় না, তার সঙ্গে ভালো করে কথা বলে না, তবু সবাই বলে, “সব ঠিক হয়ে যাবে।” কীভাবে ঠিক হবে? কেউ তার উত্তর কেউ দেয় না।</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>নিজের মনের ভাবনাগুলোকে চাপা দিয়ে একসময় ঘুমানোর চেষ্টা করল লিলি। তবে তা আর হলো কই? বেলকনিতে কিছু একটা পড়ার শব্দে কেঁপে উঠল পুরো ঘর। হঠাৎ লিলির মনে পড়ল কাল্লুর কথা। শোয়া থেকে লাফিয়ে উঠে বসল সে। মন খারাপের জায়গাটা দখল করে নিল ভয়। কম্ফোর্টার মুড়ি দিয়ে ভয়ে ভয়ে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ক.ক.কে?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>প্রশ্নটা করে নিজেকেই বোকা মনে হলো তার। কে আর থাকবে ওখানে? কিছু হয়তো পড়ে গেছে। তবে লিলির মনের ভাবনাকে ভুল প্রমাণ করে বেলকনি থেকে ভেসে এলো সেই অপার্থিব শব্দ।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“মিয়াওওওও।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আল্লাহ গো কাল্লু.....”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>এক লাফে বিছানা থেকে নেমে দৌড় দিল কক্ষের বাইরে। পুরো বাড়ি অন্ধকার। ভীতু লিলি এই অন্ধকারে আরও ভয় পেয়ে গেল। তার মনে হতে লাগল, তার পেছনেই বোধহয় দাঁড়িয়ে আছে কাল্লু—না না, কাল্লুর আত্মা। রুদ্ধশ্বাসে ছুটে গেল সাদিদের কক্ষের পানে। দুজনের কক্ষের দূরত্ব যদিও বেশি নয়। পাশাপাশি কক্ষ তাদের। তবুও আজ যেন এই স্বল্প দূরত্বই তার কাছে হাজার মাইল মনে হচ্ছে। সাদিদের কক্ষের দরজার সামনে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠল সে। নিজের সর্বশক্তি দিয়ে দরজায় বাড়ি দিয়ে ডেকে উঠবে, তখনই মনে পড়ল লোকটাকে সে কী বলে ডাকবে? ওতো বড় মানুষকে কি আর নাম ধরে ডাকা যায়! তাই সম্বোধন ছাড়াই ডাকল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“শুনছেন, শুনছেন?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>তবে অপর পাশ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা গেল না। লিলি হাল না ছেড়ে আরও জোরে চেঁচিয়ে উঠল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“শুনছেন স্বামী, ওগো কাল্লুর বাবা, আপনার কাল্লুর আত্মা আমার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। তাড়াতাড়ি দরজা খুলুনননন।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি পুনরায় হাত তুলে দরজায় বাড়ি মারতে গেলে সেটা গিয়ে সরাসরি লাগল সাদিদের বুকে। সে ততক্ষণে দরজা খুলে দিয়েছে। মূলত সাদিদ ঘুমোয়নি তখনও। অফিসের কিছু কাজ করছিল। লিলির প্রথম ডাকটা সে শুনেও ইচ্ছে করে সাড়া দেয়নি। তবে কাল্লুর বাবা নামক অদ্ভুত সম্বোধনে কৌতূহলী হয়ে দরজাটা খুলে দিয়েছে।</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি সাদিদের বুকে ঘুষিটা মেরে নিজেই কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল। সে তো ইচ্ছে করে মারেনি, ভুল করে লেগে গেছে। সাদিদ তার দিকে কপাল কুঁচকে তাকিয়ে আছে। লিলি একবার তাকাল সাদিদের পানে। তার পড়নে বাসার সাধারণ টি-শার্ট ট্রাউজার। রাতের বেলাও চুলগুলো সুন্দর করে সেট করা। সাদিদের হাতের পেশিবহুল মাংসপেশি দৃশ্যমান হয়ে আছে, যা এই প্রথম খেয়াল করল লিলি। এই কয়দিনে সাদিদকে সে পাঞ্জাবি অথবা অফিসের থ্রি-পিস স্যুটেই বেশি দেখেছে। লোকটা তারমানে জিম করে। আচ্ছা, ওই হাত দিয়ে লিলিকে এক আছাড় মারলে তো লিলিকে এই পৃথিবীতেই খুঁজে পাওয়া যাবে না। তওবা তওবা, কী অলক্ষণে কথা! লিলিকে কেন মারতে যাবে? লিলি তো এই পৃথিবীর সবচেয়ে ভদ্র মেয়ে।</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“দেখা শেষ?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>সাদিদের কথায় তার দিক থেকে চোখ সরিয়ে নিল লিলি। সে কি এতক্ষণ এই খারুস গোমড়া মুখোটার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে ছিল নাকি? ছি ছি, লোকটা কী ভাবল—কি লজ্জাজনক পরিস্থিতি! তখনই আবার মনে পড়ল কাল্লুর বিষয়টা। আকস্মিক সাদিদকে ঠেলে ঢুকে পড়ল তার ঘরে। এতে সাদিদের কপালের ভাঁজ আরও গাঢ় হলো। লিলি সাদিদের বিছানায় পায়ের উপর পা তুলে বসে ভয়ে ভয়ে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আমার ঘরে কাল্লু?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“হু ইস কাল্লু? আর এত কড়া সিকিউরিটির মাঝে বাসায় মানুষ ঢুকবে কী করে?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ও মানুষ না তো!”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>সাদিদ কিছুটা বিরক্তি নিয়ে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“তো কে? ভূত?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“হু! আপনি কাল্লুকে ভুলে গেছেন কী করে? সে না আপনার ছেলে?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“হোয়াট রাবিশ। আমার ছেলে আসবে কোথা থেকে? এক্ষুনি রুম থেকে বের হও, স্টুপিড।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি এবার একটা ভয়ংকর কাজ করে বসলো। সাদিদের বিছানায় শুয়ে তার কম্ফোর্টারে নিজেকে আড়াল করে নিল।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“না, যাব না। ওখানে কাল্লু আছে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>যেখানে সাদিদ তার নিজের রুম কারো সাথে শেয়ার করতে রাজি নয়, সেখানে কি না এই মেয়ে তার বেডে শুয়ে আছে। আর এই কাল্লুটা কে?</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“তুমি আমার বেডে শুয়েছো কেন?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি কম্ফর্টার থেকে মাথা বের করে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“কেন, আপনার বেডে শুলে কি আপনার বেড ক্ষয়ে যাবে? আর তাছাড়া ….”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“মিয়াওওও।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>আবার সেই বিড়ালের ডাক শোনা গেল। তবে এবারের ডাকটা অনেক কাছ থেকে ভেসে আসছে। মনে হয় সাদিদের কক্ষের বাইরে সে আছে।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আল্লাহ গো, কাল্লু চলে এসেছে, তাড়াতাড়ি দরজা বন্ধ করুন।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>সাদিদ নিজেও বিড়ালের ডাক শুনতে পেয়েছে। তবে বাড়িতে বিড়াল আসবে কোথা থেকে! আর এই মেয়ে সামান্য একটা বিড়ালকে ভয় পাচ্ছে! সাদিদ দরজা বন্ধ না করে এগিয়ে গেল সেদিকে। তা দেখে চেঁচিয়ে উঠল লিলি,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“কি করছেন কি! যাবেন না।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>তার চেঁচানো দেখে ঘর কাঁপিয়ে ধমক দিয়ে উঠল সাদিদ,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“জাস্ট শাট আপ।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি মুখ ভেঙিয়ে কম্ফর্টারের ভেতর ঢুকে বিরবিরিয়ে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“এই দুনিয়ায় ভালো মানুষের দাম নেই। যা যা, আরও এগিয়ে যা তারপর কাল্লু তোর ঘাড় মটকে দিক। তাতে আমার কি? খারুস একটা।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>এদিকে কিছুক্ষণের মধ্যেই সাদিদ রুমে ফিরে এলো। তবে একা নয়, তার বাঁ হাতের দুই আঙুলে ধরা একটা কালো বিড়ালসহ। বিড়ালটাকে সে এমনভাবে ধরেছে যেন সে কোনো আবর্জনা। বড় বড় পা ফেলে লিলির কাছে এসে গম্ভীর কণ্ঠে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“এটা তোমার প্যেট?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি সামান্য উঁকি দিয়ে দেখল হলুদ-সবুজ বা অ্যাম্বার টোনের চোখের অধিকারী কুচকুচে কালো বিড়ালটাকে। পরক্ষণেই ভয়ে মাথা লুকিয়ে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আমার কেন হতে যাবে! ওটা তো আপনার কাল্লু। দেখছেন না, আপনাদের চোখের রংও একই। আর তাছাড়া ওর সম্পর্কে আরিফ ভাইয়া আমায় সব বলেছে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>এটা সত্য বিড়ালটার অ্যাম্বার আইজের সাথে সাদিদের হ্যাজেল আইসের অনেকটা মিল আছে। দুজনের চোখের মনিতেই হালকা হলুদ-সবুজের মিশেল আছে। লিলির কথা শুনে সাদিদ কিছুটা ব্যঙ্গ করে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“হ্যাঁ, এক পাগল বলেছে, আরেক পাগল তা বিশ্বাস করেছে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি কম্ফর্টারের ভেতর থেকে আবার বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আপনি ভূতকে কীভাবে ধরে আছেন?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>এই প্রশ্নে সাদিদ দাঁতে দাঁত চেপে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ইডিয়ট, মাথামোটা একটা।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>বলেই বিড়ালটাকে ঘরের বাইরে ছেড়ে দিল। বিড়ালটা মিউ মিউ শব্দে ডাকা শুরু করল। সেই ডাক শুনে আরও গুটিয়ে গেল লিলি। জোরে জোরে দোয়া পড়া শুরু করল। তবে হঠাৎ তার মনে হলো—সে হাওয়ায় ভাসছে। কম্ফর্টার থেকে মাথা বের করে দেখল, সে সাদিদের কোলে। সামান্য চেঁচিয়ে সাদিদের গলা জড়িয়ে ধরতে চাইলেও কম্ফর্টারের কারণে তা পারল না।</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>সাদিদ তাকে ঘরের বাইরে ঠাস করে নামিয়ে দিয়ে মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিল। মেঝেতে থম মেরে বসে রইল লিলি। এই মুহূর্তে নিজের সাথে কি হলো এটা বুঝতে কিছুটা সময় লাগল তার। তাকে দেখে লেজ নাড়িয়ে কালো বিড়ালটা এগিয়ে এসে গা ঘেঁষে বসে পরল। ব্যাস, চেঁচিয়ে উঠল লিলি,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“দূরে দূরে সর কাল্লুউউউ। দরজা খুলুন স্বামী, আপনার কাল্লু আমাকে খেয়ে ফেলল। আপনি অকালেই বিধবা হয়ে গেলেন গো।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলির চেঁচামেচি শুনেও দরজা খুলল না তার পাষাণ স্বামী। আর না কালো বিড়ালটা ভয় পেল। উপরন্তু আরও গা ঘেঁষে লেজ নাড়িয়ে ডেকে উঠল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“মিয়াও।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>ভয়ে ভয়ে চোখ মেলে তাকাল লিলি। বিড়ালটা তার অদ্ভুত চোখ মেলে তাকিয়ে আছে লিলির পানে। লিলি কিছুটা সাহস নিয়ে কম্ফর্টার থেকে এক হাত বের করে ছুঁয়ে দিল বিড়ালটার গায়ের নরম পশম। বিড়ালটাও আদর পেয়ে লেপ্টে গেল তার সাথে। চমকে উঠল লিলি।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আরে, তুই তো ভূত না। তাহলে আরিফ ভাইয়া যে বলল!”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি কিছুক্ষণ বসে থেকে উঠে দাঁড়াল। নিজের কক্ষের পানে পা বাড়াতেই দেখল, বিড়ালটাও তার পিছু নিয়েছে।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আমার পিছু আসছিস কেন?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“মিয়াও।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>বিড়ালের কথায় লিলি কী বুঝল কে জানে! শুধু বিজ্ঞদের মতো গম্ভীর মুখ করে সাদিদের ঘর দেখিয়ে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ঠিক আছে, আজকে রাতটা তোকে থাকতে দেব। তবে কালকে থেকে তোর বাপের ঘরে থাকবি। মনে থাকবে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>বিড়ালটাও লেজ নাড়িয়ে সায় জানাল। লিলি ঘরে গিয়ে সাদিদের কম্ফর্টার দিয়ে কাল্লুর জন্য একটা থাকার জায়গা বানিয়ে দিল। তারপর বিড়ালটাকে সেখানে বসিয়ে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“লোকটা কি পাষাণ! তোকে কিভাবে ঘর থেকে বের করে দিল! আচ্ছা, তুই যদি ভূত না হোস, তাহলে এতোদিন কোথায় ছিলি, কাল্লু?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>অবলা বিড়াল টা কি আর লিলির কথার মানে বোঝে? সে তো নরম বিছানা পেয়ে শুয়ে পরেছে। এমনিতেই বিড়াল আরামপ্রিয় প্রানী। তার উপর উষ্ণ নরম বিছানা। এর মাঝে কি আর মানুষের বকবক শোনার সময় তার আছে?</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>]]></content:encoded>
						                            <category domain="https://xgossip.fun/community/"></category>                        <dc:creator>Sojib Miya</dc:creator>
                        <guid isPermaLink="true">https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%80%e0%a6%b7%e0%a6%a3-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0/paged/2/#post-303</guid>
                    </item>
				                    <item>
                        <title>RE: গল্প: আপনি আমার ভীষণ কাছের কেউ (লেখনিতে:সুমাইয়া তুলি)</title>
                        <link>https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%80%e0%a6%b7%e0%a6%a3-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0/paged/2/#post-302</link>
                        <pubDate>Thu, 17 Sep 2026 23:01:43 +0000</pubDate>
                        <description><![CDATA[পর্ব : ৭
 
         
 
আজ লিলির বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। তাই মনের আনন্দে রান্নাঘরে বিরিয়ানি তৈরিতে মগ্ন সে। যদিও মনে হয় না খারুসটা এসব খাবে। তাতে লিলির কী! সে আর ওই লোকের জন্য খাবার বানাবে...]]></description>
                        <content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center"><strong>  </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>পর্ব : ৭</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>         </strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>আজ লিলির বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। তাই মনের আনন্দে রান্নাঘরে বিরিয়ানি তৈরিতে মগ্ন সে। যদিও মনে হয় না খারুসটা এসব খাবে। তাতে লিলির কী! সে আর ওই লোকের জন্য খাবার বানাবে না—না, না, না!</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>এমন খুশির মুহূর্তে কলিংবেলের আওয়াজে তার ভাবনার স্রোত ছিন্ন হলো। এ বাড়িতে কলিংবেল বাজার ঘটনা বিরল। সাদিদের কাছে অতিরিক্ত চাবি থাকায় সে কখনো দরজায় বেল বাজায় না। তাহলে এই অসময়ে কে এলো? বাহারি কাকাও তো আশেপাশে নেই। অনেক ভেবেচিন্তে দরজা খুলতেই লিলির চোখ পড়ল এক লম্বা, হাস্যোজ্জ্বল যুবকের ওপর। তার পেছনে দাঁড়িয়ে সেই চিরচেনা গম্ভীরমুখো সাদিদ। দরজা খোলামাত্র সাদিদ লিলিকে পাশ কাটিয়ে ভেতরে চলে গেল। লিলি তার দিকে ভ্রূক্ষেপ না করে অবাক চোখে সামনের অপরিচিত তরুণের দিকে তাকাল। লোকটি লিলিকে দেখে একটু থমকে গিয়ে বলে উঠল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আরে, এ তো দেখি একটা বাচ্চা!”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>অপরিচিত লোকের মুখে এমন কথা শুনে কিছুটা বিব্রত হলো লিলি। লোকটা সেটা বুঝতে পেরে হেসে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আমি আরিফ। সাদিদের জানেজিগার, মানে বেস্ট ফ্রেন্ড। আপনি নিশ্চয়ই সাদিদের বউ? মানে আমাদের ভাবি। আসলে কী বলুন তো, ওই সাদি ব্যাটা আমাকে আপনার নামটাই বলেনি, ভাবি।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>আরিফের সহজ-সরল কথায় লিলির জড়তা অনেকটাই কেটে গেল। তবে “ভাবি” ডাকটা শুনে লজ্জা এসে ঘিরে ধরল তাকে। মিহি কণ্ঠে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আমি লিলি। বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন কেন, ভাইয়া? ভেতরে আসুন।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>আরিফ কালবিলম্ব না করে ভেতরে এলো। তার মুখে সেই চমৎকার হাসি এখনো অটুট। সোফায় বসতে বসতে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“বাহ, আপনার নামটা কিন্তু ভীষণ সুন্দর।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি পুনরায় হেসে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ধন্যবাদ, ভাইয়া। আপনি চা খাবেন, না কফি?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“চা-ই ভালো, তবে একটু কম চিনি দিয়ে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি চা আনতে গেলেই আরিফ আর বসে রইল না। ঝড়ের বেগে ছুট লাগাল সাদিদের কক্ষে। সাদিদ কেবলই ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়েছে। এমন সময় একপ্রকার দৌড়ে তার রুমে প্রবেশ করল আরিফ। সাদিদ কপাল কুচকে একবার তার পানে তাকিয়ে চোখ সরিয়ে নিল। আরিফ হাঁপাতে হাঁপাতে রুদ্ধ শ্বাসে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“তুই বাল্যবিবাহ কেন করেছিস, সাদি? মেয়েটা তো একটা বাচ্চা!”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>সাদিদ অনিচ্ছা সত্ত্বেও গমগমে গলায় বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“She is 19.”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>আরিফ মুখটা হাঁ করে ধপ করে বিছানায় বসে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“দেখে তো মনে হয় এইট-নাইনে পড়ে!”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>স্বল্পভাষী সাদিদ তাকে আর কিছুই বলল না। তার ঘরের পুরো একটা দেয়াল জুড়ে লাগানো কাপবোর্ড খুলে একটা সাদা শার্ট বের করে পরে নিল। এমন সময় আবার চেঁচিয়ে উঠল আরিফ,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“এই, এই! সরে যা, আমাকে দেখতে দে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>সাদিদ বিরক্ত হয়ে সরে যেতেই আরিফ কাপবোর্ড খুলে চারপাশে চোখ বুলিয়ে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“বিবাহিত হয়েও কেন ব্যাচেলরদের মতো আছে তোর কাপবোর্ড? তোর বউ কি তোর সঙ্গে থাকে না?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>এবার মৌনব্রত পালন করল সাদিদ। ব্যাস, যা বোঝার বুঝে গেল আরিফ। মনে মনে একটা ফন্দি এটে রুম থেকে বেরিয়ে গেল সে।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>চা নিয়ে ফিরে এসে লিলি দেখল আরিফ ওপর থেকে নামছে। লিলিকে দেখে দাঁত কেলিয়ে হেসে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আরে, চা হয়ে গেছে! আপনি... থাক, তুমি করে বলি। তুমি আমার থেকে অনেক ছোট।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলিও মাথা নাড়ল। তারও এই “আপনি” সম্বোধন শুনতে কেমন যেন লাগছিল। চায়ে চুমুক দিয়ে আরিফ বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“চাটা কিন্তু দারুণ বানাও তুমি। আমি যখন-তখন আসব এটা খেতে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“নিশ্চয়ই, ভাইয়া।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>তারপর এককথা-দু’কথায় আরিফ ভাব জমিয়ে নিল লিলির সঙ্গে। চঞ্চল লিলিও মিশে গেল তার সঙ্গে। কথার একপর্যায়ে আরিফ বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“তুমি তো আমার ছোট বোনের মতো! আমার বোন থাকলে এমনই হতো। আমার মতোই চঞ্চল।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>শেষের কথাটা গর্ব করে বলল আরিফ। লিলি মুচকি হেসে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“তাহলে আপনি আমার ভাইয়া হয়ে যান না কেন? আমার তো কোনো বড় ভাই নেই।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>আরিফের চোখ চকচক করে উঠল। সে হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“সত্যি? আমাকে ভাই বানাবে? তাহলে ঠিক আছে। আজ, এখন, এই মুহূর্ত থেকে আমি তোমার অফিসিয়াল বড় ভাই। সাদি কোনো তেড়িবেড়ি করলেই সোজা আমাকে বলে দেবে। বাকিটা আমি সামলে নেব।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>সাদিদকে টাইট দেওয়ার কথা শুনে লিলিও খুশি হয়ে বলে উঠল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ঠিক আছে, ঠিক আছে!”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>সিঁড়ির সামনে দাঁড়িয়ে এই দু’জনের কাণ্ড তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করল সাদিদ। অতঃপর বিড়বিড় করে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“এক পাগলের ভাত নাই, আরেক পাগলের আমদানি!”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>আরিফ সাদিদকে নিচে নামতে দেখে কিছুটা চেঁচিয়ে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“দেখ, সাদিদ! তোর বউ আমাকে ভাই বানিয়েছে। এখন থেকে আমি তোর শালা-সম্বন্ধি। আমাকে সম্মান দিয়ে কথা বলবি।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>আরিফের কথায় পাত্তা না দিয়ে সাদিদ বিরক্তি নিয়ে সোফায় বসে হাতে থাকা ম্যাকবুকে নজর রাখল। আরিফ আর লিলি পুনরায় গল্পে মশগুল হলো। গল্প বললে ভুল হবে—আরিফ তো তার গোপন প্ল্যান সফল করার পায়তারা করছে।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“তুমি কি সাদিদের পাশের ওই রুমটায় থাকো, লিলি?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি ফটাফট বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“হ্যাঁ।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>আতকে উঠল আরিফ,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“সর্বনাশ!”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“কেন, ভাইয়া? কী হয়েছে?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>আরিফ ভীষণ চিন্তিত হয়ে কিছুটা নিচু স্বরে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আসলে এই বাড়িতে কিছু সমস্যা আছে। স্পেশালি ওই রুমটায়।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>কিছুটা চিন্তিত হয়ে বলল লিলি,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“মানে?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>আরিফ একবার তাকাল সাদিদের পানে। সে ম্যাকবুকে ব্যস্ত, কানে আবার ইয়ারপড দেওয়া। আরিফ মনে মনে একটা পৈশাচিক হাসি দিল। অতঃপর ভয়াবহ কণ্ঠে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“অনেক দিন আগের কথা… সাদিদের একটা পোষা বিড়াল ছিল। কুচকুচে কালো রঙের। নাম তার কাল্লু। তুমি বর্তমানে যে রুমটায় থাকো, সেই রুমেই থাকত ওই কালো বিড়াল। ওর আবার পছন্দ ছিল সামনের বাড়ির একটা সাদা বিড়ালকে। তবে একদিন…”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“একদিন?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করল লিলি। তা দেখে আরিফ আরো নাটকীয় স্বরে বলল, </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“একদিন ওই সাদা বিড়ালটার মালিক অন্য এক বিড়ালের সঙ্গে তার বিয়ে দিয়ে দেয়। দুঃখে কষ্টে আমাদের কাল্লু এই ঘরের বারান্দা থেকে লাফ দিয়ে মরে যায়। তবে এখানেই সব থেমে থাকেনি। এরপর থেকেই প্রায় প্রতিদিন রাতেই সে ওই ঘরে আসে। বেলকনিতে দাঁড়িয়ে তার প্রেমিকাকে খোঁজে। মাঝে মাঝে তো সারা বাড়ি ঘুরে বেড়ায়।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি প্রথমে কিছুটা ভয় পেল, পরক্ষণেই কিছু একটা ভেবে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“তবে আমি তো অনেক দিন থেকে ওখানে থাকছি। এমন কিছু তো দেখিনি।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আরে দেখবে কী করে! এতদিন তো ভূতেদের ভ্যাকেশন চলছিল। তবে আমার জানামতে দু’এক দিন আগেই ভ্যাকেশন শেষ হয়েছে। এখন ও চলে আসবে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>আরিফের গাজাখুরি কথা শুনে লিলি আহাম্মকের মতো বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ভূতেদেরও আবার ভ্যাকেশন থাকে?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আলবাত থাকে! ভূত বলে কি ওরা মানুষ না? ওদেরও তো ছুটির প্রয়োজন হয়। মানুষকে ভয় দেখাতে দেখাতে ওরাও তো বিরক্ত হয়!”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“হ্যাঁ… এটাও তো ঠিক…”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>গভীর চিন্তায় পড়ে গেল লিলি। কপালে কয়েকটা সূক্ষ্ম রেখা ফুটে উঠল তার। এদিকে তার এই অবস্থা দেখে মনে মনে খুশিতে আত্মহারা হলো আরিফ। মিটমিট করে হেসে একবার তাকাল সাদিদের পানে। মুহূর্তেই তার মুখের হাসিটা গায়েব হয়ে গেল। কারণ সাদিদ ভ্রু কুচকে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। ভ্যাবাচেকা খেয়ে মুহূর্তেই প্রসঙ্গ পাল্টে ফেলল আরিফ,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আজ কিন্তু তোমার হাতের রান্না না খেয়ে যাচ্ছি না। ভালো কথা, তুমি রান্না জানো তো?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি আগের সব চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“হ্যাঁ, পারি তো! লিলি অলরাউন্ডার। সে সব পারে!”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>তার কথা শুনে সাদিদ ঘুরে তাকাল তার দিকে। মনে মনে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“হ্যাঁ, সব পারে। তবে বাদরামিটা একটু বেশিই পারে… স্টুপিড!”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>———</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>আলিশান রুমের সোফায় পা’র উপর পা তুলে বসে আছে মোরশেদ দেওয়ান। তার সামনে আহত অবস্থায় বসে আছে তিনটা ছেলে, যাদেরকে সাদিদ ধরে রেখেছিল। ছেলেগুলোর দিকে তাকিয়ে কুটিল হেসে মোরশেদ বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>—“এই যে, আমার এই আলিশান ঘর দেখছো না, এইসব আমি এমনি বানাই নাই। জনগণের রক্ত শুষে নিয়ে বানাইছি। এই যে এই বাড়ির এক এক টা ইট, সবগুলাই জনগণের টাকায় কেনা। তাও কেউ বুঝতে পারে নাই, তাদের কাছে আমি ফেরেশতা!”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>একনাগারে কথাগুলো বলে একটু থেমে মুখে এক তীব্র, গা জ্বালানো হাসি দিয়ে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“পরপর দুইবার আমি এমপি ছিলাম, কোন প্রতিদ্বন্দ্বীও ছিল না। কিন্তু এইবার এই দুই দিনের ছোকরা আসছে আমার সাথে পাঙ্গা নিতে! চারদিকে শুধু তারই জয়জয়কার এটা আমি কী করে হতে দেই? এই আসনে একবার বসেছি, এত সহজে এইটা ছাড়ি কিভাবে?”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>মোরশেদের এমন কথা শুনে ছেলে তিনটা কিছুটা ঘাবড়ে গেল। তারা জানে, মোরশেদ কতটা নিকৃষ্ট মস্তিষ্কের মানুষ। তাদের মধ্যে একজন সাহস করে বলে উঠল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“বলেন তো, একবারে দুনিয়া থেকেই পাঠায় দেই? বারবার এমন টুকটাক ঝামেলা করে তো কোনো কাজ হচ্ছে না।”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>ছেলেটার দিকে তাকিয়ে মোরশেদ বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“সবুর করো, সবুর। জানো না, কান টানলে মাথা আসে? তার যে কোন একটা কান কে নিয়ে আসো, তারপর দেখি কে কাকে শহর ছাড়া করে!”</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>  </strong></p>]]></content:encoded>
						                            <category domain="https://xgossip.fun/community/"></category>                        <dc:creator>Sojib Miya</dc:creator>
                        <guid isPermaLink="true">https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%80%e0%a6%b7%e0%a6%a3-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0/paged/2/#post-302</guid>
                    </item>
							        </channel>
        </rss>
		