
লেখিকা:প্রিয়াংশি চৌধুরী
পর্ব:০২
| প্রীতিষার অনবরত ধাক্কাধাক্কিতে পুরনো কাঠের দরজার কপাট অবশেষে কটকট শব্দে খুলে গেলো ভেতর থেকেই। আর দরজার সামনেই দেখা মেলে কাঙ্খিত ব্যক্তিটির। তবে প্রীতিষা আগের মতো হম্বিতম্বি করতে পারলো না, কেমন জানো স্থির হয়ে গেলো। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা কাবিরের চেহারাটা প্রথম দেখাতেই একজন মানুষকে বিভ্রান্ত করে দেওয়ার মতো। একটা সাধারণ খয়েরি শার্ট আর কোমরে লুঙ্গি পেচাঁনো। শ্যামবর্নের লোকটার মাথা ভর্তি ঘন ঝাকড়া চুল, যা এলোমেলো-অগোছালো হয়ে আছে, ধুসর বাদামি চোখ আর মসৃন কালচে ঠোঁ’ট। এভাবে একদম খুটিয়ে খুটিয়ে কাবিরকে ছোট ছোট চোখে পরোখ করে নিলো প্রীতিষা। কিন্তু আশ্চর্যের কথা, এখন এই লোকটাকে ওই মহিলার কথামতো তথাকথিত গু’ন্ডা গু’ন্ডা লাগছে না। প্রীতিষা ভেবেছিলো পেটমো*টা, টাক*লা কোনো গুন্ডা হবে হয়তো! কিন্তু এতো জোয়ান গুন্ডা! বয়সই বা কত হবে? এই সাতাশ-আটাশ। আশ্চর্যের বিষয়! নিজের এমন উদ্ভব ভাবনায় নিজেই গুলিয়ে ফেলল সবকিছু। তবে কি ভুল ঠিকানায় চলে এসেছে সে? অন্য বাড়িতে এসে পড়লো নাতো! ভাবনার ঘোর ভাঙল কাবিরের চটাস চটাস তুড়ির শব্দে। মেয়েটার মুখের সামনে হাত তুলে কাবির কটমট চোখে তাকিয়ে গলা খাঁকারি দিয়ে বলল, “ওই কেরা রে! যেইভাবে দরজা ধাক্কাধাক্কি করতাছিলেন, আমার দরজাটা আরেকটু হইলে ভাইঙ্গা যাইত। তহন জরিমানা দিতেন আপনে? কি সমস্যা কন? আমার বাড়িতে ক্যান! আমি তো আপনারে চিনিও না, জীবনে দেখছি বইলা মনেও নাই। কাহিনি কি?” প্রীতিষা হাত তুলে থামিয়ে দিলো, “আরে থামুন! এত প্রশ্ন একসাথে? নিজেই সব একা একা বলে যাচ্ছেন। আমাকে বলার সুযোগ অব্দি দিচ্ছেন না! “ কাবির বিরক্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, “আচ্ছা, কন।” খানিক বিভ্রান্ত দৃষ্টিতে প্রীতিষা জিজ্ঞেস করে, “আপনার নাম কি…কাবির?” কাবির ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল, “আমার বাড়িতে আইসা আমারেই জিগায়, আমি কাবির নাকি! হাসাইলেন বেডি।” প্রীতিষা চোখ উল্টে সামলে নিয়ে হঠাৎ আগের রূপে ফিরে বলল, “আপনি মারামারি করতে গিয়ে আমার শখের স্কুটি ভেঙে ফেলেছেন। তার ক্ষতিপূরণ দিন এবার।” কাবির ভ্রু কোঁচকালো, “ওহ, তাইলে ওই হুন্ডা আপনের আছিলো?” -“হুন্ডা না, স্কুটি!” সরল মনে ভুল শুধরে দিলো প্রীতিষা। ভুল ধরিয়ে দেওয়ায় কাবিরের মুখ আরও গোমড়া হলো। তাই কোনোরকমে মুখ কুচকে বলল, “হইছে হইছে, বুঝছি। একই জিনিস। কয় টেকা লাগবো কন? দিয়া দিতাছি। কাবির কারও টেকা মাইরা খায় না।” শেষ কথাটা বেশ গর্বের সহিত বলল কাবির। সত্যিই তাই। তবে প্রীতিষা এবার ভাবনায় পড়ে গেলো। কত টাকা লাগবে সেও তো জানে না, মাত্র সার্ভিসিং এ পাঠিয়েছে। তাই ঠোঁট উল্টে বলল, “আসলে ঠিক কত টাকা লাগবে, সেই সঠিক এমাউন্ট’টা এখনি বলতে পারছি না। মাত্রই সার্ভিসিং এ পাঠালাম।” এই শুনে কাবির হঠাৎ হু-হা করে হেসে উঠল উচ্চস্বরে। প্রীতিষা বিরক্ত চোখে তাকাল, “কি আজব? এভাবে হাসছেন কেন?” কাবির হাসতে হাসতেই বলে, “মাইনসে ঠিকি কয়, মাইয়া মাইনসের বুদ্ধি হাটুর তলে থাকে। আরে, আপনে হিসাবটা জাইনা আইবেন না আমার কাছে! তার আগেই আমার বাড়ি আইয়া লাত্থালাত্থি লাগাইছেন। হুদাই সময় নষ্ট করলো আমার, যানগা এহন। ঘুমামু আমি।” শেষ কথাটা হাই তুলে বলল কাবির। প্রীতিষা দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “পরে যদি আপনাকে না পাই? তাই তো আগেই এসেছি! আচ্ছা, পরে এসে টাকা নিয়ে যাব। আপনি এইসময় এখানেই থাকবেন তো?” বিরক্তির দীর্ঘশ্বাস ফেলে কাবির বলল, “আমারে সবসময় পাইবেন না। আমি কাজে ব্যস্ত থাকি, তারও ঠিকঠিকানা নাই। এক কাজ করেন, নাম্বারটা রাইখা দেন।” প্রীতিষা খোঁচা মেরে বলল, “রাস্তাঘাটে গুন্ডামি করাও নাকি কাজ!” কাবির এবার দাঁত বের করে হাসল, “গুন্ডামি করি নাই। খালি উচিত শিক্ষা দিছি, যেইটা দরকার আছিলো। এখন বেশি কথা না কইয়া নাম্বার লেখেন।” শেষ কথাটা বলে কাবির ঝরঝর করে নম্বর বলে দিলো। প্রীতিষাও গম্ভীর মুখে সেটা ফোনে সেভ করল। এরপর বিন্দুমাত্র অপেক্ষা করার সুযোগ দিলো না কাবির। আর কোনো বিদায় বা সৌজন্যতা না দেখিয়েই কাবির দুম করে দরজা বন্ধ করে দিলো প্রীতিষার মুখের উপর। শুধু দরজা বন্ধ করার আগে বলল, “টাটা, গু’ড নাইট। ন’ট সি ই’উ!” প্রীতিষা চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ বিস্মিত দৃষ্টিতে। এইটা বুঝলো কাবির নামক লোকটা অত্যন্ত রূঢ়, ত্যাড়া, অভদ্র। একটু বুনো ষা’ড় টাইপ। তবে আর যাইহোক, ভয়ংকর কোনো গুন্ডা নয়। পরক্ষণেই মুখ বাঁকিয়ে নিজেও বেরিয়ে এলো সেখান থেকে। তার কাজ হলো পাওনা আদায়, আর কিছু নয়। এরপর গভীর শ্বাস ফেলে সে হাঁটতে লাগল বাজারের দিকে। এরপর রিকশায় উঠে সোজা বাড়ি ফেরার জন্যই পথ ধরল। মাথার উপর সূর্যের রোদ চিকচিক করছে এখন। ক্লান্ত ভঙ্গিমায় হাত ঘড়িতে সময় দেখে নিলো, বাজে বারোটা তেত্রিশ। *************** ঘড়ির কাঁটা ঠিক বারোটা পঞ্চাশ ছুঁতেই প্রীষানের গাড়ি এসে থামে প্রতিদিনের মতো। দূর থেকে ছুটে আসে ছোট্ট প্রীভান। স্কুলব্যাগ দুলছে, চোখে তীব্র উচ্ছ্বাসের ঝিলিক। প্রীষানের ছোট ছেলের নাম প্রীভান। বর্তমানে ক্লাস ফাইভে পড়ছে। ছুটি হলে বরাবরের মতো বাবাকে দেখেই ছুটে চলে আসা তার অভ্যাস। যার আজও ব্যাতিক্রম হলো না। প্রীষানও হাসি মুখে ছেলেকে আগলে নেয়। বুকে জড়িয়ে নেয়। আর সাথে ছেলেকে নিয়ে খুনসুটি করতে থাকে। প্রীভান হেসে বলে, “পাপা! তুমি এত পাঞ্চুয়াল কিভাবে? সবসময় তোমাকে এসেই পাই। একদিনও লেট হয় না। হিরোদের মতো একদম!” হাসিমাখা মুখে ছেলেকে গাড়িতে নিজের পাশে বসিয়ে সিটবেল্ট লাগাতে লাগাতে প্রীষান বলল, “পাপাদের পাঞ্চুয়ালই হতেই হয়, প্রিন্স। তাদের সবদিক হিরোদের মতোই সামলাতে হয়।” প্রীভান গর্বে ফুলে উঠে বলল, “দ্যাটস হোয়াই ইউ আর মাই পা’পা। মাই হি’রো, মাই আইড’ল। আচ্ছা, আপুকে ড্র’প করতে হবে কিন্তু আজ? মনে আছে তো? “ গাড়ির ইঞ্জিন স্টার্ট করেই প্রীষান জানাল, “হ্যাঁ, বাবা। মনে আছে। আর আজ আমাদের দু’জনকে ট্রিট দেবে বলেছে তোমার আপু। প্রিন্সেসকে ড্রপ করে আমরা কাচ্চি ডাইনে যাচ্ছি। আর প্রীতিষার জন্য বিরিয়ানি প্যাক করে নেবো আমরা।” প্রীভান খুশিতে হইচই করে উঠল, “ইয়াপ! তারাতাড়ি চলো, পাপা। আমার তো খুব জোর খিদে পেয়ে গেছে!” ————– বিন্দুবাসিনী গার্লস হাই স্কুলের সামনে প্রীষানের গাড়ি থামতেই প্রিহা দ্রুত এসে গাড়িতে উঠে পিছনের সিটে বসে ব্যাগ নামাল। প্রীষান গাড়ি চালাতে চালাতেই জিজ্ঞেস করে, “আজ স্কুল কেমন কাটলো, প্রিন্সেস?” প্রিহা হেলান দিয়ে হেসে বলল, “গ্রেট পাপা! তবে আজ একটা কাহিনি হয়েছে জানো?” প্রীষান বলল, “কি?” প্রিহা হেসে লুটোপুটি খাচ্ছে যেন। তারপর বলতে শুরু করে, “আমার এক ফ্রেন্ড বলছিলো আজ, তোর ভাইয়া তো খুব হ্যান্ডসাম! আমি বললাম, আমার তো কোনো ভাইয়া নেই, ছোট ভাই আছে। পরে ও বলল, তাহলে তোকে প্রতিদিন বাসায় কে নিয়ে যায়? আমি বললাম, ওটা তো আমার পাপা! সবাই তো থমকে গেলো! আর ওদের মুখটা জাস্ট দেখার মতো ছিলো!” প্রীভান নিজেও হেসে ফেলেছে। গাড়ির ভেতর মুহূর্তেই হাসির রোল। প্রীভান বলেই ফেলে, “আমাদের পাপা তো আসলেই হ্যান্ডসাম! কিন্তু তাই বলে পাপাকে আমাদের ভাইয়া বানিয়ে দেবে! সো ফানি!” প্রীষান মজা করে হেসে বলে, “হয়েছে হয়েছে, আর পারছি না কমপ্লিমেন্ট নিতে! আমারও লজ্জা লাগে, সোনারা! নাও, চলে এসেছি। নামো এবার। ” কাচ্চি ডাইনের সামনে গাড়ি থামতেই তিনজনে নেমে পড়ে। প্রীষান গাড়ি পার্কিং করে এসে বাচ্চাদের সাথে রেস্টুরেন্টে ঢুকে পড়ে। বাচ্চাদের সাথে খাওয়া-দাওয়া, আড্ডা দেয় মন ভরে। টেবিলে বসে কাচ্চির ঘ্রাণ, আর টেবিলজুড়ে দু’জনের গল্পের ফোয়ারা ছুটেছে। প্রিহা বিরিয়ানি খেতে খেতেই জানতে চাইলো, “খাবার কেমন লাগছে, পাপা?” প্রীষান খেতে খেতে হাসিমুখে বলল, “টু গুড, প্রিন্সেস। তোমাদের সাথে সময় কাটাতে পারলে সব এমনিই ভালো লাগে। তাছাড়া খাবারের টেস্টও দারুন।” তিনজনের আড্ডা-হাসি,মজার ফাঁকে হঠাৎ প্রিহা একটু সোজা হয়ে বসে বলল, “আগে একবার আমি ফ্রেন্ডদের সাথে এখানে এসেছিলাম, পাপা। তখন তেহেরি খেয়েছিলাম, উফ! কী দারুণ ছিলো! ওনাদের রান্না সত্যিই বেস্ট। তাই ভাবলাম, তোমাদের ট্রিট এখানেই দেবো।” প্রীষান নম্র হাসি নিয়ে প্রশ্ন করল, “আচ্ছা। কিসের ট্রিট তা তো এখনো বললে না, প্রিন্সেস?” মেয়েটা মুখে বিজয়ের হাসি হেসে নিয়ে বলল, “ডিবেট কম্পিটিশনে ফার্স্ট হয়েছি, পাপা। সেটা উদযাপনেই আজ তোমরা আমার অতিথি।” “আ’ম প্রাউড অফ মাই প্রিন্সে’স,” প্রীষানের কণ্ঠে গর্বের কোমল স্বর। . প্রীভান ওমনি বলে উঠল, “তর্কে তো তুই জিতবি, এটা জানা কথাই! সারাদিন বাসায় প্র্যাকটিস করিস। কি ঠিক বললাম তো?” প্রীভানের খোচা টের পেতেই প্রিহা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকায়। প্রীভান তা বুঝে সঙ্গে সঙ্গে মাথা নিচু করে চুপ হয়ে যায়, তবে ঠোঁটের কোণে লুকোনো দুষ্টু হাসি থেকেই যায়। প্রীষান বলল, “ঝগড়া করে না, বাচ্চারা। আর প্রীভান, খাবারে লেট হচ্ছে তোমার। “ প্রিহার খাওয়া শেষ হলো মাত্র। প্রীষানেরও শেষ। কিন্তু প্রীভানের খেতে লেট হচ্ছে। তাই প্রিহা বসে না থেকে একটু মাথা কাত করে ফোনের স্ক্রিনটা ঠিকঠাক করল। আলোটা মুখে নরমভাবে পড়ছে কি না সেটাও দেখে নিলো। তারপরই ফোন উপরে তুলে বলল, ” খাওয়া হয়েছে, আসো একটা সেলফি নিই সবাই। তাকাও ফোনের দিকে। ফুফুমণিকে দেখাবো।” বাবা-ছেলে তৈরি হলো প্রিহার কথায়৷ স্ক্রিনে প্রতিফলিত মুখগুলো হাসির ঢেউয়ে হালকা কেঁপে উঠল। ক্লিক…ক্লিক শব্দে একাধিকবার মুহূর্তগুলো বন্দী হয়ে গেলো প্রিহার ছোট্ট ফোনটায়। ছবিগুলো দেখে ওর চোখ দু’টো ঝিলমিল করে উঠল। প্রিহা উচ্ছ্বসিত হয়ে বলে, ” পাপা, খাওয়া শেষে মিরর পিক তুলব ওই জায়গাটায়। ওই জায়গায় লাইট পড়ে খুব সুন্দর ছবি আসে!” পাশ থেকে প্রীভান মুচকি হেসে বলল, ” আমিও কয়েকটা পোজ দিব। তুলে দিস ছবি। “ প্রিহা নিছক মজা করে জিভ বের করে বলল, ” পারবো না!” ছেলেটা একটু কাঁচুমাচুভাবে বলল, ” এমন করিস কেন আপু? প্লিজ, তুলে দিস না…” প্রিহার চোখ নরম হয়ে এলো। বলল, ” আচ্ছা, আচ্ছা দেব। আর পাপা, তোমারও কয়েকটা স্টাইলিশ ছবি উঠাবো। চলো, তারাতাড়ি। আবার লোকজন না এসে পড়ে, ফাঁকা আছে এখন। “ এবার প্রিহাই সবাইকে টেনে তুলল। প্রিহা নিজের বাবাকে দাঁড় করাল রেস্টুরেন্টের এক কোণের দেয়ালের কাছে। যেখানে আলোটা নরম সোনালি হয়ে মুখে পড়ে, ডেকোরেট করা। প্রিহা ফোনটা সামান্য বাঁকা এংগেলে রেখে বলল, ” পাপা, একটা হাতটা পকেটে রাখো… হ্যাঁ, এভাবেই… এখন একটু পাশ ফিরে তাকাও। এস্থেটি’ক লাগবে ছবিটা!” প্রীষান একটু লজ্জা পেলেও মেয়ের উৎসাহে নিজেকে গুছিয়ে নিলো। বাইরে যতই গম্ভীর হোক না কেন, বাচ্চাদের সাথে খোলামেলা, মিশুক প্রকৃতির সে। তাই মেয়ের কথামতো পোজ নিলো। আর প্রিহাও ছবি উঠাতে থাকে। প্রীভান পাশেই দাঁড়িয়ে পোজ প্র্যাকটিস করছে। কখনো কলার ঠিক করছে, কখনো চুলে হাত দিচ্ছে। প্রিহা হেসে ফেলছে মাঝেমাঝে। ওদের দু’জনের বাচ্চাসুলভ পাগলামি দেখে পুলকিত হচ্ছে প্রীষানও। শেষ ছবিটা বাবা-ছেলের তুলে দিলো প্রিহা। ছবিটা তুলেই প্রিহা বলে উঠল, ” পারফেক্ট! আজকে তোমাদের দু’জনের ছবি দারুণ এসেছে।” প্রীভান খুশি হয়ে বলে, “হ্যাঁ, আপু। আমাকে দেখো, দারুন লাগছে না!” প্রিহা মুখ কুচকে বলে, “বাঁদর লাগছে! “ প্রীভান রাগে না বরং হেসে ফেলে। প্রীষান তাদের দু’জনকে দেখে নিরব হয়ে থাকে। চোখের সামনে তার পৃথিবীর দুই উজ্জ্বল অংশ। একটি অপূর্ণ জীবনের পূর্ণতা। ছেলেকে জন্ম দিতে গিয়ে স্ত্রীকে হারিয়েছে সে। তাকে হারানোর পর কত অন্ধকার রাত পেরিয়ে সে আজ এখানে পৌঁছেছে। বুকের ভেতর দুঃখের দহন এখনো আছে, কিন্তু সেই দহন ঢেকে রাখে এই দুই শিশুমুখ। প্রিহা আর প্রীভান, তার রক্ত। তার বেঁচে থাকার একমাত্র কারণ। আর আছে তার বোন। যে এখনো মায়া দিয়ে আগলে রেখেছে ভাঙা পরিবারের শেষ বাঁধন। মেয়েটাও যে এতিম, বড় ভাই ছাড়া আর কেও নেই দুনিয়ায়। এদের জন্যই বেঁচে আছে প্রীষান। প্রীষান চুপচাপ তাকিয়ে থাকে তাদের দিকে। এই দুজন তার অংশ, তার অস্তিত্ব। আর এই দুটো মিলিয়ে তার জীবনের সুতো এখনো দৃঢ়ভাবে ধরে আছে। এই দুই অস্তিত্বই তার শক্তি, তার শান্তি, তার বাঁচার কারণ। বাচ্চাদের কথার মাঝেই প্রীষান প্রিহা আর প্রীভানের মাথায় চু’মু দিলো। তার জীবনে সুখ শব্দের অর্থ এরাই। সময় থমকে আছে যেন। প্রীষান আসার আগে প্রীতিষার জন্য প্যাক করে নেয় এক প্যাকেট বিরিয়ানি। ঘ্রাণ ভাসে কাচ্চির, আর তাদের জীবনে জমে ওঠে নিখাদ একটি মুহূর্ত…একটি পরিপূর্ণ পরিবারিক দুপুর। এইসব কিছু অদূরে থেকেই লক্ষ করছিলো একজন। সে টেবিলে একটি স্ট্রবেরি জুস নিয়ে বসেছে। মাঝে মাঝে পাইপে চুমুকও দিচ্ছে তবে চোখ সামনে নিবদ্ধ, অপলকভাবে। আচমকা প্রিয় পুরুষটিকে এমন চমৎকার রুপে দেখে অবাক হলো সে। যদিও তাকে গুরুগম্ভীর ছাড়া অন্য কোনো রুপে দেখার সুযোগ হয়নি। তবে আজ দেখে নিলো, প্রিয় পুরুষটির কোমল ,নরম সত্তা। এইসব মুহুর্তে ডুবে ছিলো সে, এক বাবার সত্তাকে দেখে আরও একবার মুগ্ধ হলো। এমনিতেই মুগ্ধতার শেষ নেই আর যে কতরুপ দেখাবে তার প্রানপ্রিয় পুরুষ! অদূরে লক্ষ করা মেয়েটি আর কেউ না, সে কায়রা তাজলিন খান। চলমান……. [ কেমন লেগেছে জানাবেন। গঠনমুলক মন্তব্য চাই সবার। সবাই রেসপন্স করবেন আশা করি। আর ভুল-ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং 🦋] |