গল্প: আমি তার সন্ধ্যামালতী(০১)

“ব্রেকিংনিউজ, স্ত্রীর অ’ত্যা’চা’র সইতে না পেরে নিজের মৃত্যুর মি’থ্যা খবর ছড়িয়ে পালিয়েছিলেন স্বামী৷ তাকে খুঁজে বের করে পিটিয়ে আবার ঘরে ফিরিয়ে আনলেন স্ত্রী।”

লন্ডনের বিলাশবহুল এক বাড়িতে ৩০ বছরের একটি ছেলে দাম্ভিকতার সাথে বসে আছে। উপরোক্ত লেখাটি এক মেয়ে তাকে মেনশন করে পোস্ট করেছে। যা ছেলেটির মস্তিষ্ক জ্বালিয়ে দিচ্ছে বলে মনে হলো। বা হাতের মুঠোয় ফোনটি শ’ক্ত করে রাখে। চোখমুখ অজস্র ক্রোধে ভরপুর৷ ডান হাতের এক আঙুল পিস্তলের ট্রিগারে।
ছেলেটির দু’পাশে কালো পোষাক পরিহিত প্রায় ১৫ জন লোক দাঁড়ানো। যাদের প্রত্যেকের চোখে কালো চশমা। ছেলেটি ঘাড় এদিক-ওদিক নাড়ায়। ক্রোধান্বিত মুখের ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটেছে। ধীরে ধীরে সে হাসি বিদঘুটে হতে শুরু করে। নিস্তব্ধ ঘরজুড়ে বিদঘুটে হাসির শব্দ ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যেকে আতঙ্কগ্রস্ত। ছেলেটি পিস্তলের ট্রিগারে দু’বার চাপ দেয়, সাথে সাথে তার সম্মুখ বরাবর একটি বড়সড় একুরিয়াম ফেটে সব পানি আছড়ে পড়ে মেঝেতে। রঙবেরঙের বড়বড় মাছগুলো পা’গ’লের মতো চারিদিকে ছুটে বেড়ায়। পানিতে হাবুডুবু খাওয়ার আশায় ছটফটায়।

ছেলেটি উঠে দাঁড়ায়। তার পরনে সাদা শার্ট-কোর্ট, সাদা প্যান্ট। এখনো পুরো মুখজুড়ে ক্রোধের ছড়াছড়ি। কয়েকটি মাছ ঝাঁপিয়ে ঝাঁপিয়ে এসে মালিকের চরণে মাথা ঠেকায়। বোধয় পানির সন্ধ্যান না পেয়ে এহেন কাজ তাদের।
ছেলেটি ডান হাতের পিস্তল তুলে তার ঘাড়ে দু’বার ডলে। ঘাড় নাড়লো কয়েকবার পা’গ’লের ন্যায়। কয়েক সেকেন্ড না পেরোতেই তার বাদিকে দাঁড়ানো একটি লোকের কপাল বরাবর পিস্তল ঠেকায়। লোকটি ভীত হয়৷ গলা শুকিয়ে কাঠ হয়। সামনে দাঁড়ানো তাদের বসের ভাই বস,, যার পাশে তাদের কলিজা হাতে নিয়ে থাকতে হয়৷
ছেলেটি তার সামনে দাঁড়ানো লোকটির দিকে চেয়ে হুংকার ছেড়ে বলে,
“কে করেছে এই কাজ? হু ইজ সি?”

লোকটি তার বসের কথার উত্তর দিতে পারে না। দিবে কি করে, তার কাছে এমনকি কারো কাছেই এর উত্তর নেই। কেউই জানেনা৷ অথচ তাদের বস কোনো কথা শোনে না। লোকটি ভীতি ঢোক গিলে। দৃষ্টি নিচু। কিছু বলার সাহস হয়না।
ছেলেটির দৃষ্টি তার সামনে দাঁড়ানো লোকটির দিকে স্থির থাকলেও ডান হাত ঘুরিয়ে ডানদিকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো পাঁচজন লোকের পা বরাবর দক্ষহাতে একে একে শুট করে দেয়। প্রত্যেকের মাঝ থেকে আ’র্ত’না’দের শব্দ বেরিয়ে আসে। তবে ছেলেটির মাঝে কোনো ভাবান্তর নেই। তার সামনে দন্ডায়মান লোকের পেট বরাবর পিস্তল ঠেকায় পুনরায়। লোকটি সাথে সাথে তার বসের দিকে তাকায়। অপরাধীর ন্যায় বলতে নেয়,

“বস আমাকে মা’র…….

পুরো লাইন শেষ করতে পারেনা। মাঝপথে থেমে যায় তার বুলি পরপর দু’টো শুট করে দেয়ায়।
ছেলেটি আধম’রা লোকটিকে বা হাতে ধাক্কা মে’রে ফেলে দেয়। সকলে পায়ে গু’লি খাওয়ার পর-ও শান্ত হয়ে আছে। মনে মনে আলহামদুলিল্লাহ বলছে, এ যাত্রায় তারা বেঁচে গিয়েছে বলে।

মাফিয়ার বেশে থাকা ছেলেটি গটগট পায়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। পিছু পিছু যায় অক্ষ’ত লোকগুলো।
কয়েক পা এগোনোর পর সামনে একটি মেয়েকে দেখে ছেলেটির পা থেমে যায়৷ মেয়েটির পরনে সাদা শার্ট-প্যান্ট। মেয়েটি একজন গার্ড বোঝা যাচ্ছে। ছেলেটি মেয়েটির পা থেকে মাথা পর্যন্ত চোখ বুলায়। ফোনে পোস্টটিতে চোখ বুলালো একবার৷ আবারো মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেসে বিড়বিড় করে,
“লামিয়া!”

ছেলেটি ফোন পকেটে রেখে বা হাতের দু’আঙুল ইশারা করে গুরুগম্ভীর কণ্ঠে বলে,
“কাম।”

মেয়েটি ভীতি ঢোক গিলল। তবে বসের কথা অমান্য করার সাহস তার নেই। ছোট ছোট পায়ে এগিয়ে আসে সামনের দিকে। মেয়েটি কাছাকাছি আসতেই ছেলেটি বা হাতে মেয়েটির চুলের মুঠি চেপে ধরে। মেয়েটি ভ’য়ে চেঁচিয়ে ওঠে। ছেলেটি বিন্দুমাত্র সময় ব্য’য় না করে মেয়েটির পেট বরাবর পরপর তিনটে শুট করে দেয়৷
মেয়েটির চোখদু’টো স্বাভাবিক এর চেয়ে বড় হয়ে যায়। ছেলেটি মেয়েটির চুলের মুঠি ছেড়ে দিলে মেয়েটি বামদিকে হেলে ঠাস করে পড়ে যায়।

মেয়েটির থেকে কয়েক হাত দূরত্বে দাঁড়ানো JD. মেয়েটির এহেন পরিণতিতে তার উপর আহামরি প্রভাব ফেলল বলে মনে হয় না৷ তবে তার দৃষ্টি সামনে দাঁড়ানো ছেলেটির পানে। চোখেমুখে কৌতুহল। মৃদুস্বরে আওড়ায়,

“AV?”

নিজের নামের ছোট্ট ফর্ম শুনে এভি সামনে তাকায়। চোখেমুখে এতক্ষণের জমা ক্রোধ মিলিয়ে যেতে শুরু করেছে। তার মতে, তার সাথে যে ফা’জ’লামো করেছে, তাকে শিক্ষা দিতে পেরেছে। আদোও কি এটা সত্য? এভি জেডির দিকে তাকিয়ে সূক্ষ্ম হাসে। জেডি ভ্রু কুঁচকে বলে,

“সব ঠিকঠাক?”

এভি হাতের পিস্তল দ্বারা ক’বার কপাল ঘষল। জেডির দিকে চেয়ে এখনো। গম্ভীর গলায় বলে,
“অল ওকে।”

জেডি হাসল। পিছনে দাঁড়ানো গার্ডগুলোর মাঝে কারো মাঝে তেমন কোনো ভাবান্তর নেই। তবে কেউ কেউ দীর্ঘশ্বাস ফেলে। মানুষ খু’ন করে কি সুন্দর দু’জন হাসে! অবশ্য তারা এসব দেখেই অভ্যস্ত।
এভি সামনের দিক এক পা বাড়ায় জেডির দিকে এগোনোর জন্য। তখনই তার মাথা ঘুরে ওঠে৷ থেমে যায় এগিয়ে আনতে চাওয়া দ্বিতীয় পা। বিরক্তি নিয়ে জেডির দিকে তাকায়৷ দৃষ্টি ঝাপসা লাগছে। মাথায় কি যেন কিলবিল করছে। প্রচন্ড মাথা ব্য’থায় কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে এভির শরীর নেতিয়ে আসে। দাঁড়িয়ে থাকার সক্ষমতা হারায়। ধপ করে বসে পড়ে হাঁটুগেড়ে। হাত থেকে পিস্তল পড়ে ছিটকে যায়৷

জেডি এভির বেহাল দশায় আঁতকে ওঠে। এভির দিকে দৌড়ে আসতে আসতে চিৎকার দেয়,
“এভি????????”

সামনে শয়নরত মেয়েটির লা’শের উপর দিয়ে এক লাফে ডিঙিয়ে জেডি এভির পাশে এসে বসে। ততক্ষণে এভি অজ্ঞান হয়ে পড়ে গিয়েছে। জেডি এভির দু’গালে দু’হাত রেখে কাঁপা কণ্ঠে বলে,
“এভি? এভি?? হোয়াট হ্যাপেন্ড? চোখ খোল। এভি???”

নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকা এভি কোনো সাড়া দিল না। জেডির দৃষ্টি জুড়ে অসহায়ত্ব। একজন গার্ড বিড়বিড় করে,
“যেমন কর্ম, তেমন ফল।”

সাথে সাথে জেডি তার পিছন থেকে পিস্তল বের করে সামনে দন্ডায়মান গার্ডের বুক বরাবর পুরো ছয়টি গু’লি একাধারে করে লোকটির বুক একেবারে ঝাঁজরা করে দেয়। দৃষ্টিতে আ’গু’ন জ্ব’লছে। বাকিদের উদ্দেশ্যে সিংহের ন্যায় হুংকার ছেড়ে বলে,
“ওকে গুণে গুণে শতটা পিস করবি। গো ফাস্ট।”

কথাটি বলে জেডি হাতের পিস্তল ছুঁড়ে ফেলে এভির দিকে তাকায়৷ মুহূর্তেই চোখমুখের হিংস্রতা মিলিয়ে যায়। ফুটে ওঠে তীব্র অসহায়ত্ব। থেমে থেমে আওড়ায়,
“এভি প্লিজ কাম ব্যাক! প্লিজ!”
__________________

ভোরের আলো ফুটেছে আরও ঘণ্টা দুই আগে। ধরনীর বুকে মিষ্টি রোদ আছড়ে পড়ছে৷ যার কিছু অংশ বেলকনিতে জায়গা করে নিয়েছে। আবার কিছু অংশ সন্ধ্যার চোখে, মুখে এসে পড়েছে। মেয়েটির পরনে সাদা শাড়ি। তার উপর একটি পাতলা চাদর জড়ানো। দৃষ্টি বাগানের একদিকে নিশ্চিন্তে দন্ডায়মান বকুলগাছটির দিকে। সন্ধ্যা থেকে থেকে একা একাই বিড়বিড়িয়ে কিছু বলে। কখনো নিশ্চুপ হয়ে যায়। আবার কখনো চোখের কোণ ঝাপসা হয়৷

গত দশ মিনিট যাবৎ আসমানী নওয়ান সন্ধ্যার পাশে দাঁড়িয়ে মেয়েটির গতিবিধি লক্ষ্য করছিলেন। ডান হাত উঠিয়ে সন্ধ্যার মাথায় রেখে মৃদুস্বরে বলে,
“খাবিনা জান্নাত? অনেক বেলা হয়েছে।”

ভদ্রমহিলার কথায় সন্ধ্যার মাঝে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা গেল না। একবারো তাকালো না পর্যন্ত তার খালাম্মার পানে। বেলকনির গ্রিলের সাথে মাথা ঠেকিয়ে চোখজোড়া বুজে নেয় সে। আসমানী নওয়ান একটি চেয়ার টেনে সন্ধ্যার পাশে বসে। মেয়েটির মাথায় আলতো হাতে হাত বুলিয়ে বলে,
“আর কখন খাবি মা?”

সন্ধ্যা একটু হাসলো বোধয়। বলে,
“অপেক্ষা করছি আম্মা। অপেক্ষা। একটু অপেক্ষা করতে দাও।”

“কার জন্য অপেক্ষা করছিস?”

“তোমার ছেলে আর…আর আমার স্বামী।”

“সে যে আর……

মাঝপথে থামিয়ে দেয় সন্ধ্যা। চোখ মেলে তার খালাম্মার দিকে চেয়ে বলে,
“জানি সে নেই। তবুও অপেক্ষা করব। মিথ্যে অপেক্ষা। কেন বাঁধা দাও আমায়? এভাবে ভালো লাগে। একা খেতে ইচ্ছে করেনা। তুমি যাও। আমাকে একা থাকতে দাও।”

এটুকু বলে সন্ধ্যা পুনরায় চোখ বুজে নেয়। আসমানী নওয়ান সন্ধ্যার লাল লাল দু’টো চোখ দেখে অবাক হলেন না। তবে ভেতর থেকে তীব্র আ’র্ত’না’দে ভরা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে। খুব বুঝল সন্ধ্যা গতরাতে ঘুমায় নি। এ তো নতুন নয়। গত চারমাসে মেয়েটা চাররাত ঠিক করে ঘুমিয়েছে কি-না ঠিক নেই। সে বলে,
“রাতে ঘুমাস না কেন বল তো? এভাবে চলতে থাকলে বাঁচবি?

সন্ধ্যা হাসল। মেয়েটা আজকাল প্রায়শই হাসে। অথচ তার হাসিতে প্রাণ থাকে না। মৃ’ত হাসি তার মুখে অনায়াসেই ফোটে আজকাল। বলে,
“রাতে আমি তার সাথে অনেক কথা বলি জানো আম্মা? সবাই গভীরঘুমে আচ্ছন্ন থাকে। আর তোমার ছেলে আমার সাথে গল্প করে। সে অনেক গল্প। আবার খুব সুন্দর করে হাসে। কিন্তু….

থেমে যায় সন্ধ্যা। শুকনো হয়ে আসা গলা ভেজায় কয়েকবার। ভাঙা ভাঙা স্বরে বলে,
“সে আর আমায় ভালোবাসে না আম্মা। আমি তাকে ছুঁতে গেলে, সে হারিয়ে যায়। আর তারপর…তারপর আর আসে না। আবার পরের রাতের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। সে আসে। আমার সাথে কথা বলে। থেকে থেকে খুব হাসে, জানো? আমিও মন ভরে দেখি। ধীরে ধীরে দিনের আলো ফুটতে শুরু করে। সে-ও হারিয়ে যায়। আমি অসহায় হয়ে পড়ি। গলা ফাটিয়ে ডাকি। আরেকটু থেকে যেতে বলি। কিন্তু সে বসে না আমার পাশে৷ সে যে স্বা’র্থ’পর হয়ে গেছে। এখন আর আমার কথা রাখে না। তাই চলে যায়। আমাকে রেখে শুধু চলে যায়।”

আসমানী নওয়ানের চোখজোড়া ভিজে ওঠে। গত চারমাসের প্রথম এক মাস সে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। কি জানি সন্ধ্যা তখন কিভাবে ছিল! সময়ের সাথে সাথে ভদ্রমহিলা নিজেকে শক্ত করল। তার এই মেয়েটাকে আগলে রাখতে হবে তো! সে আসল মেয়ের কাছে। ততদিনে সন্ধ্যার কতশত পরিবর্তন হয়ে গেল! ভদ্রমহিলা নিরব অশ্রু ফেলে। মেয়েটাকে মাঝে মাঝে পা’গ’ল লাগে। এসব কথা কোনো সুস্থ মানুষ বলে? আসমানী নওয়ান শাড়ির আঁচলে চোখ মুছে বলেন,
“খেয়ে নিবি চল। তারপর ডক্টরের কাছে নিয়ে যাবো।”

সন্ধ্যা এবারেও হাসল। ডান চোখের কোণ ঘেঁষে একফোঁটা জল বেলকনির রেলিঙের উপর পড়ে। মেয়েটি ব্য’থিত স্বরে বলে,
“আমি পা’গ’ল নই গো আম্মা। আমি পা’গ’ল নই। তোমরা কেন আমাকে বারবার পা’গ’লের ডক্টর দেখাও?”

“তবে কেন এসব বলিস? আকাশ কোথা থেকে আসবে বল তো? তুই কেন অবুঝ পনা করিস মা?”

সন্ধ্যা এ পর্যায়ে ফুঁপিয়ে উঠল। তখনই দরজায় এসে দাঁড়ায় লামিয়া। পরনে কলেজ ড্রেস। প্রিতিদিন সকাল করে সন্ধ্যাদের বাড়ি আসে। মাঝে মাঝে সন্ধ্যাকে টেনে কলেজে নিয়ে যায়৷ কখনো বা সন্ধ্যাকে খাইয়ে, ঘুম পাড়িয়ে সে কলেজ যায়। আবার কখনো সে কলেজ মিস দিয়ে সন্ধ্যার সাথেই থেকে যায়। সন্ধ্যাকে এভাবে ফোঁপাতে দেখে মেয়েটি অবাক না হলেও ভীষণ বিচলিত হলো। এগিয়ে এসে সন্ধ্যার পিছনে দাঁড়ালো। আসমানী নওয়ান লামিয়াকে দেখে একটু ভরসা পায়। লামিয়ার পাশে দাঁড়ালে লামিয়া ভদ্রমহিলার দিকে চেয়ে বলে, “চিন্তা করবেন না আন্টি। ও ঠিক হয়ে যাবে।”

আসমানী নওয়ান ঝাপসা চোখে চেয়ে রইলেন। নিজেকে সামলে বলে,
“ওকে খাইয়ে দিও তো মা। কাল রাতেও খাওয়াতে পারিনি।”

লামিয়া মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দেয়, সে খাওয়াবে তার বান্ধবীকে। আসমানী নওয়ান প্রস্থান করেন জায়গাটি। লামিয়া সন্ধ্যার পাশে বসে। মৃদুস্বরে বলে,
“গতরাতে কি কি বলল আকাশ ভাইয়া?”

সন্ধ্যা মাথা তুলে চেঁচিয়ে বলে,
“আমি তো পা’গ’ল। কেন এসেছিস পা’গ’লের পা’গ’লামি দেখতে? ঠিক হব না আমি। যা এবার।”

কথাগুলো বলতে বলতে সন্ধ্যা লামিয়াকে ঠেলে। লামিয়া অসহায় চোখে তাকায়৷ মৃদুস্বরে বলে,
“আমি তোকে কখন পা’গ’ল বললাম? এরকম করিস না। আমার কথা শোন।”

সন্ধ্যা ভেজা কণ্ঠে বলে,
“উনি নেই। তুই জানিস। তবুও কেন বলছিস সে আমায় কি কি বলল? আমি তো বলেছিই আমি পা’গ’ল। এখন যা।”

লামিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,
“মানিস তাহলে, যার জন্য রাতের ঘুম কামাই করিস। সে শুধুই তোর কল্পনা?”

সন্ধ্যা শান্ত চোখে তাকায় তার বান্ধবীর দিকে। দু’চোখ বেয়ে টুপ করে কয়েকফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ে। ধরা গলায় বলে,
“সব বুঝি আমি। সব জানি। কিন্তু মানবো কি করে? সে ভালোবাসতে শিখিয়ে গিয়েছে। ভুলে যেতে শেখায়নি তো! ভীষণ স্বা’র্থ’পর সে। আমার ভালো থাকা কে’ড়ে নিয়ে হারিয়ে গেছে। হারিয়ে গেছে!”

সন্ধ্যা দুর্বল শরীরটা বেলকনির রেলিঙে ঠেকায়। শব্দহীন নির্জীব হেসে বলে,
“সে চলে গেল। যাওয়ার আগে দিয়ে গেল পাহাড়সম দুঃখ!”

লামিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলে। এগিয়ে এসে সন্ধ্যাকে ধরে টেনে তোলার চেষ্টা করে। সন্ধ্যা ওঠে না। লামিয়া সন্ধ্যাকে টানে আর বলে,
“এমন বাচ্চাদের মতো করিস কেন বল তো? তুই এখন একা না। নিজের জন্য না হোক, পেটে যে আছে তার জন্য হলেও নিজের যত্ন নে। আকাশ ভাইয়ার কথা মেনে হলেও তার অংশের যত্ন নে।”

সন্ধ্যা নাক টানল। চোখ বুজে চুপ করে রইল। কিচ্ছু বলল না। লামিয়া বেশ শক্তি খাঁটিয়ে সন্ধ্যাকে টেনে দাঁড় করালে সন্ধ্যা রে’গে লামিয়ার গালে গায়ের জোরে একটা থা’প্প’ড় মে’রে দেয়। লামিয়া বিস্ময় দৃষ্টিতে তাকায়। মলিন গলায় বলে, “আমায় মা’র’লি?”

সন্ধ্যা ঢোক গিলে কাঁপা স্বরে বলে,
“আ.আমি ইচ্ছে করে মা’রিনি।”

এটুকু বলতে বলতে সন্ধ্যা আবার-ও ফুঁপিয়ে ওঠে। ফোঁপানো কণ্ঠে বলে,
“আমি ভালো না৷ আমি শুধু তেকে আ’ঘা’ত করি। চলে যা তুই। আমি একা থাকব।”

লামিয়া মলিন মুখে চেয়ে রয় বান্ধবীর পানে। সেই বোকাসোকা, ভীতু সন্ধ্যা আকাশের সাথেই হারিয়ে গিয়েছে। মেয়েটা যেমনি জিদ্দি হয়েছে, তেমনি একটু এদিক-ওদিক হলেই মে’রে দেয়। সন্ধ্যার মা’রের স্বীকার অবশ্য সেই হয়েছে এ পর্যন্ত। মাঝে মাঝে ভীষণ অবাক হয় আগের সন্ধ্যার সাথে মেলাতে না পেরে। কিন্তু বান্ধবীর পরিস্থিতির কথা মনে পড়লে সন্ধ্যার দেয়া চড়-থা’প্প’ড় সব মুছে যায়। মন খারাপ হয় প্রিয় বান্ধবীকে এভাবে পু’ড়’তে দেখে। লামিয়া এগিয়ে এসে সন্ধ্যাকে জড়িয়ে ধরে। সন্ধ্যা বান্ধবীকে আঁকড়ে ধরে। কান্নাভেজা কণ্ঠে বলে,

“আমি পারিনা লামিয়া। খুব খারাপ হয়ে গিয়েছি আমি। সবাইকে ক’ষ্ট দিই। কিন্তু আকাশ চলে আসলে আমি ভালো হয়ে যাবো। খুব লক্ষী হয়ে যাবো। উনাকে আসতে বল না? আমি তার অংশকে খুব ভালোবাসি। খুব যত্ন করতে চাই তার। কিন্তু আমি ভেঙে যাই। আমার উনাকে লাগবে। অনেকগুলো দিন হয়েছে উনাকে ছাড়া। আর পারছি না। আর না।”

লামিয়ার চোখ ভিজল। সন্ধ্যার পিঠে হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিয়ে বলে,
“ধৈর্য রাখ পাখি। আকাশ ভাইয়ার অংশ একবার তোর কোলে চলে আসলে দেখবি তুই খুব ভালো থাকবি। তিনি যাওয়ার আগে তোকে অনেক বড় উপহার দিয়ে গেছে।”

সন্ধ্যা কিছু বলল না। অনেকটা সময় পর সন্ধ্যা শান্ত হয়। লামিয়া সন্ধ্যাকে চেয়ারে বসিয়ে তার ফোন বের করে বলে,
“একটা অকাজ করেছি। দেখবি?”

সন্ধ্যা প্রশ্নাত্মক চোখে তাকায়। লামিয়া বা হাতে সন্ধ্যার মুখ মুছে দিয়ে তার ফোন সন্ধ্যার সামনে ধরে বলে,
“দেখ একবার। কনফার্ম হাসবি।”

সন্ধ্যা লামিয়ার ফোনে চোখ বুলায়। একজনকে মেনশন করে একটি পোস্ট করা।
“ব্রেকিংনিউজ, স্ত্রীর অ’ত্যা’চা’র সইতে না পেরে নিজের মৃত্যুর মি’থ্যা খবর ছড়িয়ে পালিয়েছিলেন স্বামী৷ তাকে খুঁজে বের করে পিটিয়ে আবার ঘরে ফিরিয়ে আনলেন স্ত্রী।”

লেখাটি পড়ে সন্ধ্যা ভ্রু কুঁচকে বলে,
“এভি কে?”

লামিয়া অসহায় কণ্ঠে বলে,
“তোর হাসি আসলো না? আচ্ছা না হাসলি। পরে সময় করে হাসবি নাহয়। চিনিনা একে। লিস্টে ছিল। একটু মজা করলাম আর কি।”

সন্ধ্যা বিরক্তি কণ্ঠে বলে,
“ঝামেলায় পড়লে সেখানে আমি যাবো না।”

লামিয়া গালে হাত দিয়ে বলে,
“কি বলিস? আমাকে মে’রে মে’রে তোর হাত অনেক শ’ক্ত হয়ে গেছে। তোর এক থাবড়া খেলে বিপক্ষ দল বাপ বাপ করে পালাবে। ঝামেলা যেখানে তুই উপস্থিত থাকবি সেখানে।”

সন্ধ্যা কিছু বলল না। লামিয়া পিছন থেকে সন্ধ্যার গলা জড়িয়ে ধরে ধরে সন্ধ্যার মাথার উপর তার থুতনি রেখে বলে,
“এ্যাই পাখি, তোকে আমি স্কুটি চালানো শেখাবো। বুঝলি? কালক থেকেই এই মিশনে নামবো।”

কথাটা বলে দু’হাতে সন্ধ্যার গাল টানে আর বলে,
“এখন হাসবি। নয়তো খবর আছে। সব তোর হাসির জন্য করছি। প্রতিদান না দিলে ভালো হবে না বলে দিলাম।”

এবার বোধয় সন্ধ্যা একটু হাসল। যদিও চোখেমুখে বিষাদের ছায়া। তবে বান্ধবীর পা’গ’লা’মো দেখে সে বরাবরই অবাক হয়। মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হয়, ‘তুই চলে যাস না কেন? আমি পা’গ’লের সাথ কে দেয়?’
সন্ধ্যার ভেতর থেকে উত্তর আসে, ‘লামিয়ার মতো পা’গ’ল বোকাসোকা বান্ধবীরা তার মতো পা’গ’লের সাথ দেয়।’
__________________

গত দু’দিন আগে ইরাকে নিয়ে সৌম্য ইরার বাবার বাড়ি এসেছিল। ইরা অনেকদিন যাবৎ আসতে চাইছিল। সৌম্য তার অসুস্থ বোনুকে ছাড়া আসতে পারতো না। ইরাও জোর করত না। সবশেষে সৌম্য দু’দিন আগে ইরাকে নিয়ে বেড়াতে এসেছিল। বাসের মাঝ বরাবর ডানপাশের দু’টো সিটে সৌম্য আর ইরা বসেছে। জানালার দিকটায় ইরা বসেছে। পাশের সিটে সৌম্য। বাস এখনো স্থির৷ আর মিনিট পাঁচ পর ছাড়বে হয়ত।

একটি বাচ্চা মেয়ের কান্নার আওয়াজে সকলের ধ্যান ভাঙে। ইরা তাকায় মেয়েটির দিকে। তাদের পাশে অবস্থানরত সিটে বসা এক মা। মায়ের কোলে কান্নারত মেয়ে। ইরার মনে হলো, বাচ্চা মেয়েটি তার দিকে তাকিয়ে কাঁদছে। ইরা ঢোক গিলল। বাচ্চা মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে আঙুল দিয়ে ইরার দিকে ইশারা করে আর বলে,
“মা বূত বূত! বূত মা!

ইরা তার মুখ থেকে সরে যাওয়া শাড়ির আঁচল টেনে দ্রুত মুখের ডানপাশ ঢেকে নেয়। বা হাতে সৌম্য’র শার্ট শ’ক্ত করে ধরে। মাথা নিচু করে নেয়৷ জলে ভরা চোখ থেকে টুপটুপ করে কয়েক ফোঁটা পানি গড়িয়ে তার কোলে পড়ে।
সৌম্য অবাক হয়ে বাচ্চা মেয়েটির পানে চেয়ে আছে। বাচ্চার মা তার বাচ্চাকে শান্ত করার চেষ্টা করছে। সৌম্য দৃষ্টি নামিয়ে নিয়ে ঢোক গিলল। বাস স্টার্ট দিয়েছে মাত্র। এখনো চলতে শুরু করেনি।
সৌম্য তার শার্ট আঁকড়ে ধরা ইরার হাত ডানহাতে চেপে ধরে মৃদুস্বরে বলে,
“এসো।”

ইরা একটি বাক্য খরচ করল না৷ সৌম্য’র পিছু পিছু যায়। সৌম্য ইরার হাত ধরে ধীরে ধীরে গেইটের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। হেল্পার সৌম্যকে দেখে বলে,
“আরে ভাই বাস ছেড়ে দিয়েছে। আপনারা কই যান?”

সৌম্য উত্তর দেয়,
“নেমে যাবো। সাইড দিন।”

“যাবেন না?”

“না।”

“ভাড়া ফেরত পাবেন না কিন্তু।”

“লাগবে না।”

হেল্পার বাস থেকে নেমে দাঁড়ালে সৌম্য ইরাকে নিয়ে বাস থেকে নেমে যায়। হেল্পার বাসে উঠে পড়লে বাস ছেড়ে দেয়। সৌম্য ইরাকে নিয়ে কাউন্টারে যায়। এরপরের বাসের টিকিট কাটে। কাউন্টার থেকে জানায় একঘণ্টা পর বাস আসবে। সৌম্য ইরাকে নিয়ে রাস্তার পাশে পাতানো বসার জায়গায় বসে। ইরা সেই যে মাথা নিচু করেছে একবারের জন্য-ও মাথা উঠায়নি। কিছুক্ষণ পর পর ডান হাত উঠিয়ে ভেজা চোখ মুছে। সৌম্য মৃদুস্বরে ডাকে,
“ইরাবতী?”

সাড়া নেই। না মুখে আর না তো আকারে-ইঙ্গিতে। সৌম্য কয়েকবার ডাকল,
“ইরাবতী? ইরাবতী? ইরাবতী?

ইরার চোখের বাঁধ ভেঙেছে। এক পর্যায়ে মেয়েটা ফুঁপিয়ে উঠল। সৌম্য চোখ বুজে মলিন সুরে বলে, আমি ব্য’থা পাচ্ছি ইরাবতী।”

এ পর্যায়ে ইরা মাথা উঁচু করে। সৌম্য’র দিকে দৃষ্টি ফেলে। একই সময় সৌম্য ইরার পানে তাকায়। হাত বাড়িয়ে ইরার পুরো মুখ উম্মুক্ত করে দেয়। ইরার চোখ বেয়ে অশ্রু গড়ায়। সৌম্য চেয়ে রয় ইরার পানে। ইরার মুখের বা পাশটা জায়গায় জায়গায় পো’ড়া, যেটা অতটা বোঝা যায় না। তবে ডান পাশ পুরোটা পো’ড়া। বাচ্চারা দেখলে ভ’য় পাবে। পাবে না, অলরেডি পেয়েছে। আর ইরাবতী পেয়েছে দুঃখ! একসময় যে চেহারার প্রশংসায় সকলের মুখে ফেনা উঠত। আজ সেই চেহারা দেখে সকলে দূরত্ব বাড়ায় তার থেকে। আর বাচ্চারা পায় ভ’য়। কিন্তু সৌম্য? মুগ্ধতা বাড়ে হয়ত! বিশ্বসুন্দরীদের মুখের দিকে দু’মিনিট তাকিয়ে থাকার ধৈর্য হয়না ছেলেটার। অথচ তার পো’ড়া মুখের বউয়ের দিকে তাকালে চোখ সরে না। আজ-ও সৌম্য দেখল ইরাকে। সবসময় দেখে। দু’হাতে ইরার চোখ মুছে দেয়। বা হাত ইরার গালে রেখে মৃদু হেসে বলে,

“আমার ইরাবতীর ভালোবাসার প্রতীক এটা। জন্মদাগের ন্যায় আজীবন রয়ে যাবে। আমার মতো ভাগ্যবান স্বামী লাখে একটা। ভাগ্যবান হওয়ার কারণ, বউ তুমি। আমার মুগ্ধতা।”

অতি আবেগে মেয়েটার চোখ নতুন করে ভরে ওঠে। এতোক্ষণের খারাপ লাগা নিমিষেই হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। ভাঙা গলায় বলে,
“অনেক ভালোবাসি তোমাকে।”

সৌম্য’র হাসি দীর্ঘ হয়। ইরার বা হাত তার বুকে চেপে পিছনদিকে সামান্য হেলান দিয়ে চোখ বুজে নেয়। মৃদুস্বরে বলে,
“আমাকে দুঃখ দিতে চাইলে, কাঁদতে পারো।”

ইরা অপরাধীর ন্যায় বলে,
“দুঃখিত! আর কাঁদবো না।”

সৌম্য হাসল। ইরা মুগ্ধ চোখে চেয়ে দেখল তার শ্যামপুরুষের হাসি।
______________________

জেডি কেবিনের বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিল। মাত্র ডক্টর তাকে কিছু কথা বলে গিয়েছে, যা শুনে সে বারবার ঢোক গিলে শুকনো গলা ভেজানোর বৃথা চেষ্টা করছে। ভেতরে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না। আসন্ন পরিস্থিতি ধারণা করে সে ভীত হচ্ছে। নিজেকে বুঝিয়ে সুজিয়ে কেবিনের ভেতর যাওয়ার জন্য দু’পা এগিয়ে থেমে যায়। ভেতর থেকে এভি নিজেই বেরিয়ে এসেছে। জেডি এভিকে দেখে মৃদু হাসার চেষ্টা করল। কিন্তু এভি হাসল না। ক্রোধে ভরা দৃষ্টি জেডির পানে। অতিরিক্ত রা’গে চোখের সাদা অংশ লালিত হয়ে আছে। সোনালি চোখের মণি দু’টো আরও ঝলমল করে। জেডি কিছু বলতে চাইছে। সেই সুযোগ দিল না এভি জেডিকে। ঝড়ের বেগে তেড়ে এসে জেডিকে ধাক্কা মে’রে চিৎপটাং করে ফেলে দেয় মেঝেতে। এভি জেডির দু’পাশে হাঁটু গেড়ে বসে সমানে জেডির মুখ বরাবর ঘুষি মা’র’তে থাকে। জেডি এভিকে আটকানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। সকল গার্ড অবাক হয়ে চেয়ে আছে। জেডির অবস্থা খারাপ বুঝতে পেরে কয়েকজন এভির দিকে গা’ন তাক করে। জেডি ডানদিক থেকে হাত উঠিয়ে ইশারা করে, যার অর্থ ‘গা’ন নামাও।’
একজন বুঝতে পেরে বাকিদের গা’ন নামাতে বললে তারা গা’ন নামিয়ে নেয়।

এক পর্যায়ে এভি শান্ত হয়। তবে দৃষ্টি কঠিন। জেডির মুখ দিয়ে র’ক্ত বেরিয়ে গিয়েছে। অথচ ছেলেটা হাসছে। এভি রে’গে জেডির মুখে আরেকটা ঘুষি মা’রে। জেডি এবার শব্দ করে হেসে ওঠে। ব্য’থা পাওয়ার বিন্দুমাত্র চিহ্ন তার মুখাবয়বে নেই। এভি চরম বিরক্ত হয়ে জেডির উপর থেকে উঠে দাঁড়ায়। হসপিটাল থেকে বেরিয়ে যেতে নিলে জেডি ব্য’থাতুর আওয়াজের ভান করে বলে,

“হেই আকাশ ভিরাজ নওয়ান, ‘মাই এভিজান’ ট্রিটমেন্ট করা আমার। নয়ত ম’রে যাবো।”

এভি জেডির দিকে ফিরে রে’গে বলে,
“ম’র তুই।”

জেভি ডান হাতে বুক ডলে অসহায়ের ভান করে বলে,
“দুঃখ পেলাম।”

এভি বিরক্ত হলো। দাঁড়ালো না এখানে। জেডি জিজ্ঞেস করে,
“কোথায় যাচ্ছিস?”

“বাংলাদেশ।”

“আমিও যাবো।”

এভি রে’গে বলে,
“স্বার্থপরের বাচ্চা৷ তুই এখানে পঁচে ম’র।

চলবে ইনশাআল্লাহ~~

Leave a Comment