<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>        <rss version="2.0"
             xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
             xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
             xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
             xmlns:admin="http://webns.net/mvcb/"
             xmlns:rdf="http://www.w3.org/1999/02/22-rdf-syntax-ns#"
             xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/">
        <channel>
            <title>
									Xgossip Forum - Recent Topics				            </title>
            <link>https://xgossip.fun/community/</link>
            <description>Xgossip Discussion Board</description>
            <language>en-US</language>
            <lastBuildDate>Mon, 26 Oct 2026 19:54:52 +0000</lastBuildDate>
            <generator>wpForo</generator>
            <ttl>60</ttl>
							                    <item>
                        <title>নিষ্পাপ ফুল (লেখিকা:মেহেরিশ আহমেদ হিয়া)</title>
                        <link>https://xgossip.fun/community/short-stories/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%aa-%e0%a6%ab%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%b0/</link>
                        <pubDate>Fri, 25 Sep 2026 08:38:38 +0000</pubDate>
                        <description><![CDATA[নিস্তব্ধ রজনী। ঘড়ির কাঁটায় সময় ঠিক সাড়ে বারোটা। গ্ৰামে এই সময় কে গভীর রাত বলে বিবেচনা করা হয়। পাড়া মহল্লায় মানুষজন নয়টার মধ্যেই খাবার খেয়ে ঘুমাতে চলে যায়। নিজের ছোট্ট দোচালা টিনের...]]></description>
                        <content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center"><strong>নিস্তব্ধ রজনী। ঘড়ির কাঁটায় সময় ঠিক সাড়ে বারোটা। গ্ৰামে এই সময় কে গভীর রাত বলে বিবেচনা করা হয়। পাড়া মহল্লায় মানুষজন নয়টার মধ্যেই খাবার খেয়ে ঘুমাতে চলে যায়। নিজের ছোট্ট দোচালা টিনের ঘরের দরজায় পিঁড়িতে বসে আছে নিরু। টেবিলের উপরে রাখা হারিকেনের নিভু নিভু আলোয় সামান্য আলোকিত ঘর। বড় চৌকির উপর ঘুমিয়ে আছে তার এক বছরের মেয়ে নুহা। নিরুর নজর বাড়ির রাস্তায় নিবদ্ধ। হয়তো কারো অপেক্ষায় আছে। অনুভূতি শূন্য চোখ দুটোর নিচে কালি পড়ে গেছে অনেক খানি! ফর্সা মুখশ্রী কেমন ফ্যাকাশে হয়ে আছে। অনেকক্ষণ পর দূরে হতে সামান্য আলোর দেখা মিললো। এদিকেই আসছে। আস্তে আস্তে দৃশ্যমান হলো রিক্সা চালিয়ে আসা নিরুর স্বামী মিলন। নিরু শক্ত মুখে উঠে দাঁড়ালো। মিলন রিক্সা রেখে ঘরে এসেই ঝাঁঝালো গলায় শুনাল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ কিরে ফকিন্নির ঝি ভাত কই? ভাত দে তাড়াতাড়ি ”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>মিলনের এমন সম্বোধনে একটুও অবাক হলো না নিরু। গত আড়াই বছর ধরে তো এটাই শুনে আসছে। নিঃশব্দে হারিকেন নিয়ে চলে গেলো খাবার আনতে। নিরু ভিতরে যেতেই মিলন দরজায় খিল এঁটে দিলো। হাত পাখা দিয়ে বাতাস করতে করতে চৌকির উপর বসলো। একটা বারের জন্যও তাকিয়ে দেখলো না মেয়েকে। নিজের মতো আপন মনে বাতাস করছে। হঠাৎ নজর গেলো টেবিলের উপর রাখা রিচার্জেবল ফ্যানের দিকে। চোখ ছোট ছোট হয়ে গেলো তার। পরখ করে দেখলো ফ্যান টা। দেখে মনে হচ্ছে বেশ পুরনো হবে। চলন্ত ফ্যানের বাতাসে আরামে ঘুমাচ্ছে নুহা। সেই ঘুম যেন সহ্য হলো না মিলনের। এক টান দিয়ে মেয়েকে তুলে ছুড়ে ফেললো পাকা মেঝেতে। উচ্চ শব্দে কেঁদে উঠলো ছোট নাজুক প্রাণটি। কান্নার শব্দে ছুটে এলো নিরু। মেয়েকে বুকে আগলে নিয়ে মিলনের দিকে তাকিয়ে বলল </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ আপনে কি জানো'য়ার? এমনে মাইডারে আছাড় মার'লেন ক্যান?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>কাঁদতে কাঁদতে মেয়েকে বুকের সঙ্গে চেপে ধরল। নুহা কান্না বন্ধ করে জননীর বুকের সঙ্গে লেপ্টে রইলো। মিলন এসে নিরুর চুলের মুঠি শক্ত করে চেপে ধরে বলল</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ শালী কার লগে তেজ দেখাস তুই হ্যাঁ। ঘরের মইধ্যে এইডা আইলো কেমনে! তোর কোন নাগর দিয়া গেছে এডা ”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ আল্লাহর দোহাই লাগে চুপ করেন আপনে। এডা আইজ মুন্নি আপা দিলো নুহা লাইগা ”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>মিলন বিশ্বাস করলো না। উল্টো ইচ্ছে মতো মা'রধর করে বিছানায় চলে গেলো। নিরু ব্যথায় জর্জরিত শরীর টেনে কোনো রকম উঠে অন্য চৌকিতে নুহাকে শুইয়ে দিলো। মাথার পাশে বসে হাতপাখা করতে লাগলো‌। একটু পর মিলনের কন্ঠ ভেসে এলো </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ ওই এদিকে আয় তাতাড়ি ”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>নিরু ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো মিলনের কাছে। তার জানা আছে এখন মিলন কি করবে। রাতে আঁধার নিজের শরীর বিলিয়ে দিলো স্বামীর নিকট। </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>শেষ রাতের দিকে মিলন তাকে ছেড়ে অন্য পাশ ফিরে শুয়ে পড়লো। নিরু নিরবে চোখের জল ছেড়ে দিলো। বিয়ের আড়াই বছর হতে চললো। অথচ আজ অবধি একটা ভালো ব্যবহার করে নি মিলন। সবসময় কুকুর বিড়ালের মতো ব্যবহার করেছে। তার অবশ্য কিছু কারণ রয়েছে বটে। নিরুর বাবার চাকর ছিল মিলন। তিনি ভীষণ রুক্ষ ব্যবহার করতেন চাকরদের সঙ্গে। গ্ৰামের কেউ তাকে পছন্দ করতো না কিন্তু কিছু বলার সাহস ও ছিল না। তিনি ছিলেন গ্ৰামের মহাজন। তার মৃ'ত্যুর পর নিরু বিয়ে হয় মিলনের সঙ্গে। </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>সকাল সকাল উঠে নিরু চুলার দুয়ারে বসে একটা পেঁয়াজ কেটে নিলো। রাতের পান্তা ভাতের সঙ্গে পেঁয়াজ , মরিচ আর সামান্য লবণ ছিটিয়ে নিলো। একটা প্লেটে এগিয়ে দিলো মিলনের দিকে। অন্যটা থেকে নিজে খেলো আর নুহাকে সামান্য খাইয়ে দিলো। খাওয়া শেষে নিরু ঘরে এলো রান্না কিছু আছে কিনা দেখতে। মিলন এসে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে ঘাড়ে চুমু দিয়ে বলল </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ বউ তোর মুন্নি আপা আর কি দিছে রে কাইল”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ কিছু বাটি চামচ পেলেট দিছে। ওই ফ্যান ডা দিছে আর চুড়ি দিছে কয় মুঠ ”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>নিরুর কথায় মিলনের চোখ চকচক করে উঠলো। আস্তে আস্তে বলল</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ চুড়ি গুলি দে তো একটু ”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ ক্যান!”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>অবাক কন্ঠে শুধাল নিরু। মিলন মনে মনে বিরক্ত হলেও প্রকাশ করলো না।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ আরে দে না এত্তু দেহি ”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>নিরু ট্যাংকের ভেতর থেকে বের করে দিলো। ছয় মুঠ কাঁচের চুড়ি। সঙ্গে চুলের ফিতা আছে কিছু। মিলন খপ করে দু মুঠো ছুড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেলো ঘর থেকে! তাড়াতাড়ি রিক্সা নিয়ে বেরিয়ে গেলো। পিছন থেকে নিরু চিৎকার করেও লাভ হলো না। রান্না শেষ করে নিরু মুন্নি আপার বাড়ি কাজ করতে চলে গেলো। এভাবে বেশ কয়েকদিন কেটে গেল। প্রায় সময় মিলন ঘরের জিনিসপত্র নিয়ে বিক্রি করে দেয়। কিন্তু সে টাকা আর ঘরে আসে না। ঠিক মতো রিক্সাও চালায় না এখন। নিরুর সন্দেহ হয়। জিজ্ঞেস করলে মিলন জানায় এলাকার রিপন রা নাকি কি খেলে সে শুধু দেখে। নিরু কথা বিশ্বাস করল না। </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>এর শুরু হলো আরো অত্যাচার। মিলন সবসময় নিরুর উপর অত্যাচার করে টাকা নিয়ে যেতো। ও বাড়ি কাজ করে সেই সুবাদে তারা যা কিছু দিতো সব নিয়ে বেচে দিতো। শেষে নিজের রিক্সাটাও বিক্রি করে দিলো</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ সত্য কইরা কন আপনে জুয়া খেলেন?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ হ খেলা কি করবি এহন ”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>বেশ তেজ নিয়ে বলল মিলন। নিরু বাকরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ এই আমার দিকে তাকান। আমার লাইগা আপনের মাইয়ার লাইগা চিন্তা হয় না আপনের! মাইয়াডার ভবিষ্যৎ কি?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ না হয় না। ওর সব চাইতে বড় অপরাধ ও মাইয়া। আমার কিছু কইরা ও তো খাওয়াই তে পারবো না। বাইচ্চা থাইকা শুধু আমার খরচ করে যতসব ”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>রেগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো মিলন। নিরু কাঁদতে কাঁদতে কাজে চলে গেলো। বাড়িতে একা রয়ে গেলো ছোট্ট নুহা। বাড়ির অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে খেলতে গেলো। সবাই বাড়ির সামনে বড় রাস্তায় খেলছে। একটু পর পর বড় বড় গাড়ি ছুটে আসছে। ওরা দৌড়াদৌড়ি করছে এমন সময় অপর পাশ দিয়ে বড় মালবাহী ট্রাক দ্রুত বেগে ছুটে এলো। মূহুর্তের মধ্যে হাসির আসর কে কান্নার আসরে পরিনত করে দিলো। পাকা রাস্তার উপর পড়ে আছে নুহার নিহর দেহ। বাড়ির লোকজন ছুটে এলো।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>নিরুর কাজ শেষ। আজকে বেতন পেয়েছে সেই সঙ্গে ভালো খাবার ও। খুশি মনে বেরিয়ে পড়লো। বাড়ির কাছাকাছি আসতে নজর পড়লো লোকজন জড়ো হয়ে থাকা রাস্তায়। এগিয়ে গিয়ে দেখতে চাইলো সে। নিরুকে দেখেই সবাই সরে গিয়ে জায়গা করে দিলো। তাতেই যেন শরীর রক্ত পানি হয়ে গেলো। পায়ের তলা টা কেমন শূন্য অনুভব করল। বুকটা যেন কেউ ছিঁড়ে নিয়ে গেছে। মেয়েকে জাপটে ধরে চিৎকার করে কেঁদে উঠলো। </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ আম্মা আম্মারে উঠ মা। দেখ আম্মা কি আনছি তোর লাইগা। উঠ না মা। আম্মার নিঃশ্বাস টা বন্ধ হইয়া আসতেছে। উঠ মা। ও ভাবী কও ওরে উঠতে ”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>জোড়ে জোড়ে চিৎকার দিয়ে কাঁদছে নিরু। সকলে অসহায় চোখে চেয়ে দেখলো। একজন এগিয়ে এসে তার ভ্যান তুলে নিলো নুহাকে। ভ্যান ছুটলো হাসপাতালের উদ্দেশ্যে। মেয়ের খবর শুনে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলো মিলন। সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে দাঁড়িয়ে আছে নিরু। মিলন আসতেই তার দিকে তাকিয়ে হাসলো। এই অবস্থায় নিরুর হাসি একদম আশা করেনি মিলন।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ ওই নিরু আমার মাইয়া কই! ওর কি অবস্থা ক "</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ আপনার কি মাইয়া আছে মিলন সাব! ওইডা আমার মাইয়া আপনের কিছু না। জানেন এহানে আনার পর ও বাইচা ছিল। সাহেব রা কইছে অপারেশন করতে মেলা টাহা লাগবো। আমি দিতে পারি নাই। আমার মাইয়া ডা আমার চোখের সামনে দিয়া মই'রা গেলো। আমি কিছু করতে পারি নাই ”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>নিরুর কথায় মিলন স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। কান কে বিশ্বাস করতে পারছে না। তার মেয়ে আর নেই। </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>-“ টাহা লাগবো না আপনের এই যে নেন। সব নিয়া যান কিন্তু আমার মাইয়া ডারে আমার বুকে আইনা দেন ”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>জোরে চিৎকার করে কাঁদছে নিরু। অসহায় চেয়ে আছে মিলন। তার কাঁদা উচিত নয়। তার অবহেলায় আজ তার মেয়ে চলে গেছে বহু দূরে। একজন মানুষ খারাপ কাজ করলে তার প্রভাব আশেপাশের মানুষ গুলোর উপর ও সমান ভাবে পড়ে।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>    — সমাপ্ত —</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>]]></content:encoded>
						                            <category domain="https://xgossip.fun/community/"></category>                        <dc:creator>Sojib Miya</dc:creator>
                        <guid isPermaLink="true">https://xgossip.fun/community/short-stories/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%aa-%e0%a6%ab%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%b0/</guid>
                    </item>
				                    <item>
                        <title>গল্প:শিকদার মাহদি (Author:DRM Shohag)</title>
                        <link>https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%a6%e0%a6%bf-authordrm-shohag/</link>
                        <pubDate>Thu, 17 Sep 2026 05:16:51 +0000</pubDate>
                        <description><![CDATA[&nbsp;
&nbsp;
“তোমার জন্য মেয়ে দেখেছি মাহদি।দুপুরের দিকে মাহদি বাইরে থেকে মাত্র ফিরেছে। ক্লান্ত দেহ নিয়ে তার ঘরে যাচ্ছিল। দাদিজানের কথা কানে আসতেই তার পা এক মুহূর্তের জন্য থেমে যায়। তবে কো...]]></description>
                        <content:encoded><![CDATA[<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p style="text-align: center"><strong>“তোমার জন্য মেয়ে দেখেছি মাহদি।</strong><br /><br /><strong>দুপুরের দিকে মাহদি বাইরে থেকে মাত্র ফিরেছে। ক্লান্ত দেহ নিয়ে তার ঘরে যাচ্ছিল। দাদিজানের কথা কানে আসতেই তার পা এক মুহূর্তের জন্য থেমে যায়। তবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না। সামনের দিকে আরও দু'কদম এগোলে বয়স্ক ভদ্রমহিলা আফসানা বেগম পুনরায় বলেন,</strong><br /><br /><strong>মাহদি আমার ধারে এসে একটু বসো। দুইটা কথা শোনো। তোমার বয়স হইছে। বিয়ে করতে হবে তোমাকে।”</strong><br /><br /><strong>এ পর্যায়ে মাহদি স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই এসে দাঁড়ায় তার দাদিজানের সামনে। পুরো নাম ‘শিকদার মাহদি’। আফসানা বেগমের বড় ছেলের ছেলে মাহদি। বয়স ২৯ এর কোঠায় এসে ঠেকেছে মাত্র। হাইট ৬ ফুট। গায়ের রঙ অধিক ফর্সা। চোখের মণি দু'টি অ্যাম্বার অর্থাৎ হালকা সোনালি, যা অত্যধিক আকর্ষণীয়। পরনে কালো টি-শার্ট আর কালো কার্গো প্যান্ট। ঘাড় ছুঁইছুঁই সিলকি চুল। যার কিছু অংশ মাথার উপর ঝুঁটি করে রাখা।</strong><br /><strong>ডান হাতে সোনালি রঙের একটি ঘড়ি আর বাম হাতে একটি কালো ব্যাচ। ডান কানের পাতায় একটি কালো টপ। গালে চাপ দাঁড়ি। মুখাবয়বে গাম্ভীর্য। দৃঢ় চোয়ালের অধিকারী মাহদি তার দাদিজানের উদ্দেশ্যে দু'টো শব্দ আওড়ায়,</strong><br /><br /><strong>“বলো দাদিজান।”</strong><br /><br /><strong>“আমি তো বললামই। তোমার জন্য মেয়ে দেখেছি। তুমি সময় করে একবার মেয়েকে দেখে আসলে বিয়ের কথা পাকা করব।”</strong><br /><br /><strong>মাহদির চোখেমুখে বিরক্তি। এসব বিয়ে টিয়ে তার সাথে ঠিক যায় না। সেখানে মেয়ে দেখে কি করবে সে? সে বিয়ে করার পর এই বাড়িতে একটা বউ আসলে, ‘বয়স হয়েছে, বিয়ে কবে করবে’ এই প্রশ্ন দু'টো থেকে সে বাঁচতে পারবে অন্তত। অতঃপর মাহদি তার দাদিজানের প্রশ্ন এড়িয়ে না গিয়ে বলল,</strong><br /><br /><strong>“মেয়ে দেখতে হবে না। সময় করে একবার তোমরা গিয়ে বউ নিয়ে চলে এসো।”</strong><br /><br /><strong>মাহদির দাদিমা আফসানা বেগম তব্দা খেয়ে বললেন,</strong><br /><strong>“আমরা গিয়ে নিয়ে আসব মানে? তুমি গিয়ে বিয়ে করলে তারপর না ওই মেয়েকে আমাদের বাড়িতে আনতে পারবো!”</strong><br /><br /><strong>বিরক্তিতে মাহদি দু'আঙুলের সাহায্যে কপাল ঘঁষল দু'বার। অতঃপর বলে,</strong><br /><strong>“আচ্ছা চলো বিয়ে করছি। দশ মিনিটের বেশি টাইম দিতে পারবো না।”</strong><br /><br /><strong>কথাটা বলে মাহদি বাইরের দিকে যাওয়ার জন্য এক পা বাড়াতেই আফসানা বেগম খানিক বিস্মিত হয়ে বলেন,</strong><br /><strong>“আশ্চর্য তো! তুমি কি এখনই বিয়ে করতে যাচ্ছ?”</strong><br /><br /><strong>মাহদি অসহ্য কণ্ঠে বলে,</strong><br /><strong>“হ্যাঁ যাচ্ছি। প্রবলেম কি তোমার? এক্ষুনি তো বললে আমি গিয়ে বিয়ে করলে তারপর তোমরা মেয়েকে এই বাড়ি আনতে পারবে।</strong><br /><br /><strong>একটু থেমে আবারো বলে,</strong><br /><strong>মেয়ের বাসার ঠিকানাটা দাও। বিয়ে করে আসছি।”</strong><br /><br /><strong>আফসানা বেগম কি বলবেন বুঝে উঠতে পারলেন না। পাশে মাহদির ছোট চাচি মুখ চেপে হাসছে। ছেলেটার কর্মকান্ডে না হেসে পারছেন না। যেন মাহদি পুতুলের বিয়ে দিতে যাচ্ছে। ইচ্ছে হলো আর দশ মিনিটে বিয়ে পরিয়ে দিয়ে এলো!</strong><br /><strong>আফসানা বেগম নিজেকে সামলে বললেন,</strong><br /><br /><strong>“এভাবে বিয়ে হয় না মাহাদ। তুমি সন্ধ্যার পর একটু সময় বের কর। তখন আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে যাবো। এখন ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নাও।”</strong><br /><br /><strong>মাহদি তার ঘরের দিকে যেতে যেতে বলে,</strong><br /><strong>“দশ মিনিটের বেশি টাইম লাগলে বিয়ে ক্যান্সেল, মাথায় রাখবে দাদিজান।”</strong><br /><br /><strong>আফসানা বেগম হতাশ চোখে চেয়ে রইলেন নাতির পানে। মাহদির চাচি বলল,</strong><br /><strong>“মা আপনি মাহাদকে আজকেই বিয়ে দিবেন? মেয়ের পরিবার যদি রাজি না হয়?”</strong><br /><br /><strong>আফসানা বেগম মৃদুস্বরে বললেন,</strong><br /><strong>“হবে। এত বড় বাড়ি থেকে সম্মোন্ধ গিয়েছে বলে অনেক খুশি ছিল তারা। আজকে বিয়ের কথা বললেও রাজি হবে। তাছাড়া মাহদির মতিগতির ঠিক নেই। রাত পার হলেই আবার মত বদলাতে পারে। মেয়ের বাড়ি কাছেই আছে। সমস্যা হবে না। তুমি বাড়ির সবাইকে কেনাকাটা শেষ করতে বলো সন্ধ্যার আগেই।”</strong><br /><br /><strong>ভদ্রমহিলা মাথা নেড়ে সম্মতি দিলেন। কিছু একটা ভেবে বললেন,</strong><br /><strong>“আমার মনে হচ্ছে, আপনার বাউন্ডুলে নাতি বিয়েটাকে ছেলেখেলা ভাবছে। ভাবাটা অস্বাভাবিক না। ও তো এমনই।”</strong><br /><br /><strong>আফসানা বেগম সোফায় হেলান দিয়ে আস্তে করে চোখ বুজে বললেন,</strong><br /><strong>“বিয়ের বন্ধনের ভিত খুব মজবুত হয় বউমা। মরার আগে মাহদির একটা গতি করে দিয়ে যেতে চাই। ওকে একটু সংসারি দেখে যেতে চাই। খুব চিন্তা হয় আমার ছন্নছাড়া নাতিটার জন্য।”</strong><br /><br /><strong>রান্নাঘর থেকে মাহদির বড় চাচি এসে দাঁড়ায় সেখানে। শ্বাশুড়ির কথায় মুখ ঝামটায়। তাচ্ছিল্যের সুরে বিড়বিড় করে,</strong><br /><strong>‘ওই মাহদি করবে সংসার! যেখানে সেখানে গু’ন্ডামি করে বেড়ায়। সারাদিন বাইরের মানুষদের পি’টিয়ে এসে রাতে পি’টা’বে বউ। দু'দিন যেতে না যেতেই দেখব বউ পালাইছে।’</strong><br /><br /><strong>.</strong><br /><strong>রাত ৮ টায় বাড়ির মুরুব্বিরা রেডি হয়ে মাহদির জন্য অপেক্ষা করছে। মুরুব্বি বলতে মাহদির বড় চাচা আর তার কিছু বড় ভাইয়েরা আছে। মাহদির বাবা-মা আর দাদা বেঁচে নেই। ছোট চাচা আপাতত ব্যবসার কাজে দেশের বাইরে আছেন।</strong><br /><strong>এদিকে মাহদি বাড়িতে নেই। এটা নতুন নয়। দিনের ১ ঘণ্টাও বাড়িতে থাকেনা সে। শুধু রাতটুকু পার করতে বাড়ি আসে। মাঝে মাঝে তো রাতেও আসেনা। মাহদির বড় চাচা শিকদার জুনায়েদ মাহদির ফোনে পুরো ২০ বার কল দিয়েছে। কিন্তু কল রিসিভ হয়নি। বরং শেষ দু’বার কল কেটে দিয়েছে মাহদি। ভীষণ চটে গিয়েছেন ভদ্রলোক। মাহদিকে কয়েকটা গালিও দিয়ে দিয়েছে এরকম স্বাভাবের জন্য। </strong><br /><strong>অতঃপর সকলের বিরক্তি কমাতে মাহদি ৪৫ মিনিট পর বাড়ির সামনে এসে পৌঁছায়। বাড়ির গাড়ির পাশে মাহদি তার বাইক থামিয়ে মাথার হেলমেট খোলে। শিকদার জুনায়েদ রাগান্বিত স্বরে বলেন,</strong><br /><br /><strong>“তোমার কমনসেন্স নেই? কতবার কল দিয়েছি তোমাকে? আমার কল রিসিভ না করে কেটে দিয়েছ কোন সাহসে?”</strong><br /><br /><strong>মাহদি বিরক্তি কণ্ঠে বলে,</strong><br /><strong>“কোনো কমনসেন্স ওয়ালা মানুষ কল রিসিভ না হওয়ার পরও বারবার কাউকে কল দেয় না চাচা।”</strong><br /><br /><strong>শিকদার জুনায়েদ রাগে কাঁপতে লাগলেন। এই বেয়ারা ছেলের কোনো কাজে ইনভলভ হতে তার বিন্দুমাত্র ভালো লাগে না। শুধুমাত্র মায়ের মুখের উপর কথা বলতে পারে না বলে মুখ বুজে অনেককিছু সহ্য করতে হয়। রাগান্বিত স্বরে বলেন,</strong><br /><br /><strong>“আমরা তোমার জন্য কখন থেকে অপেক্ষা করছি, কোনো আইডিয়া আছে তোমার?”</strong><br /><br /><strong>মাহদি ভাবলেশহীনভাবে বলে,</strong><br /><strong>“মাহাদের বউ চাই আপনাদের। অপেক্ষা আপনারা করবেন না তো কে করবে? আমি? আজব!”</strong><br /><br /><strong>শিকদার জুনায়েদ পাল্টা আরও কিছু বলতে চাইল, কিন্তু মাহদির ছোট চাচার ছেলে সাদ তার বড় আব্বাকে কোনোরকমে সামলে বাকি ভাইরা সহ ঠেলেঠুলে গাড়িতে বসিয়ে দিল। নয়তো এই রাস্তায় চাচা ভাতিজির মাঝে এক ঘূর্ণিঝড় বয়ে যাবে। শিকদার জুনায়েদ গাড়ির মাঝে বসেই নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা চালালেন। সহ্যের একটা সীমা থাকে। যেটা মাহদি বরাবরের মতোই ক্রস করল। বড় ভাই একটা জঙ্গল রেখে গেছে তাদের সংসারে। </strong><br /><br /><strong>সাদ মাহদির পাশে এসে দাঁড়ায়। বাড়তি কথা বলে না। নয়তো মাহদির বিয়ে থেকে মত ঘুরে গেলে তাদের দাদিজান আরেক কান্ড বাঁধাবেন। এসব ঝামেলা এড়িয়ে বলল,</strong><br /><strong>“এই টি-শার্ট, প্যান্ট পরেই যাবি?”</strong><br /><br /><strong>মাহদি কপাল কুঁচকে বলে,</strong><br /><strong>“তো কি পরব?”</strong><br /><br /><strong>সাদ খেয়াল করল, মাহদির কালো হাফ হাতা টি-শার্ট হালকা কুঁচকে আছে। কালো কার্গো প্যান্টে ধুলো লেগে আছে। আবার কোথায় কি ঘটিয়ে এসেছে কে জানে! তবে মাহদির ড্রেসআপ এটাই। কিন্তু বিয়ে বাড়িতে এভাবে গেলে ব্যাপারটা ভালো দেখাবে না। অতঃপর বলে,</strong><br /><br /><strong>“তোর জন্য শেরওয়ানি…..”</strong><br /><br /><strong>সাদকে শেষ করতে না দিয়ে আবারো মাথায় হেলমেট পরতে পরতে মাহদি শক্ত গলায় তাড়া দেয়,</strong><br /><br /><strong>“ভাই, যদি চাও এই বাড়ি নতুন বউ আসুক, তাহলে টাইম লস কর না। যেকোনোমুহূর্তে চলে যাবো। এরপর বিয়ের জন্য ইহজীবনে আর আমাকে পাবেনা।”</strong><br /><br /><strong>সাদ তড়িঘড়ি করে ড্রাইভিং সিটে উঠে বসে। মাহদি টার বিশ্বাস নেই। কি আর করার! এভাবেই বিয়ে হোক। যা তা করে বিয়ে তো হচ্ছে, এরপর কি হবে কে জানে! সাদ মাহদির চেয়ে এক বছরের বড়। মাহদির সাথে তার ভালোই ভাব বলা যায়। একমাত্র তার সাথেই দু'দন্ড বসে কথা বলে মাহদি। </strong><br /><strong>কিছু একটা ভেবে সাদ জানালা দিয়ে মাথা বের করে বলে,</strong><br /><br /><strong>“মাহদি তুই তো বিয়ে করতে যাচ্ছিস। আজ অন্তত বাইক রেখে আমাদের গাড়িতে আয়।”</strong><br /><br /><strong>মাহদি বাইক স্টার্ট দিয়ে সাদের বরাবর গাড়ির কাছে এসে বাইক থামায়৷ ঘাড় ঘুরিয়ে সাদের দিকে চেয়ে হেলমেটের আড়াল থেকে গম্ভীর গলায় বলে,</strong><br /><br /><strong>“তুমি তোমার ছোট ভাইয়ের বিয়েতে ফুল ড্রেসের সঙ্গ ছাড়তে পারলে আমি আমার বাইকের সঙ্গ ছাড়ছি।”</strong><br /><br /><strong>সাদ চোখমুখ কুঁচকে তাকালো। কি শ'য়তান ছেলে। সে ভালোর জন্য বলল, আর এ কোন কথা কোথায় নিয়ে গেল। </strong><br /><strong>গাড়ির ভেতরে বসা শিকদার জুনায়েদ মাহদির কথাটা শুনতে পেয়েছে। দু'হাত মুষ্টিবদ্ধ করে বিড়বিড় করে উচ্চারণ করল,</strong><br /><strong>‘বে’হায়া ছেলে!’</strong><br /><br /><strong>.</strong><br /><strong>ঘড়ির কাটা তখন রাত ১২ টার ঘরে। পরিপাটি একটি ঘরের বিছানার মাঝে বসে আছে মেধা। গায়ে লাল রঙের বেনারসি। ছেলের বাড়ি থেকে গত দু'দিন আগে তাকে দেখতে গিয়েছিল। মেধার বিয়েতে দ্বিমত ছিল না। বাবা নেই তার। মা, বড় আপা আর সে এই তিনজনকে নিয়েই তাদের সংসার। ছেলের বাড়ি থেকে তাকেই পছন্দ করেছিল। কিন্তু আজ হঠাৎ দুপুরে জানায়, বিয়ে আজকেই হবে। এত ভালো ঘর থেকে সম্মোন্ধ গিয়েছে, এজন্য মা কোনো হম্বিতম্বি ছাড়াই রাজি হয়ে গিয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর অনেক দামি দামি জিনিস তাদের বাড়ি পাঠানো হয়, যা দিয়ে মেধা তার আপার সাহায্য নিয়ে যেটুকু পেরেছে সেজেছে। মেধা ভেবেছিল বড় বাড়ির বউ হবে, তার মানে নিশ্চয়ই খুব ধুমধাম করে বিয়ে হবে তার। সে তার বিয়েতে খুব সাজবে, খুব মজা করবে। কিন্তু সেসব কিছুই হলো না। কেমন মরা বাড়ির মতো করে বিয়ে পড়িয়ে আনলো তাকে। স্বামীকে পিছন থেকে এক নজর দেখেছিল মেধা, আর নামটা জানে। এখন তার জন্য ঘরে বসে বসে অপেক্ষা করছে। কিন্তু এই বাড়িতে পা রাখার পর মেধার কানে কিছু অদ্ভুত কথা আসে। একজন আধ বয়সী ভদ্রমহিলা অন্যজনকে বলছিল,</strong><br /><br /><strong>‘মাহদি সারাদিন গু'ন্ডামি করেই দিন পার করে। বউকে মে'রে কালকেই না বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়!’</strong><br /><br /><strong>যে এই কথা বলেছে, সেই ভদ্রমহিলা এই বাড়িরই সদস্য। কিন্তু মেধা প্রথমদিনই চিনতে পারেনি, উনি সম্পর্কে তার কি হয়! তবে ওই কথা শোনার পর থেকে মেয়েটার একটু ভয় লাগছে। সত্যি সত্যি তার স্বামী এসেই যদি তাকে ধুপধাপ মেরে দেয়! মেধা ঘামতে শুরু করল। না না সে মার খাবে না। অতঃপর ধীরে ধীরে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ায়। ঘরে অল্প পাওয়ারের একটি লাইট জ্বলছে। অরার সর্বপ্রথম চোখে পড়ল, দরজার কাছটায় টেবিলের উপর ঝুড়িভর্তি ফলের মাঝখানে একটি চা’কু রাখা। মেয়েটা ব্যস্ত পায়ে সেদিকে এগিয়ে গিয়ে চা’কু হাতে তুলে নেয়। এরপর আবারো বিছানার দিকে যেতে নেয়, তখনই দরজা খোলার শব্দ কানে আসে। কেউ একজন ঘরে এসেছে, বেশ বুঝল সে। মেধা এক মুহূর্তও অপেক্ষা না করে উল্টো ঘুরে একদম তার সামনে দাঁড়ানো লোকটার গলার দিকে হাতের চা'কু ধরে তেজ নিয়ে বলে,</strong><br /><br /><strong>“একদম আমাকে মা’রতে আসবে না। আমাকে ছোট মানুষ ভেবে ভুল করবে না। আমি কখনোই বসে বসে তোমার মা'র খাবো না। তাই সাবধান করছি। সাবধান হলে তোমাকে ছেড়ে দিব নয়তো না।”</strong><br /><br /><strong>মেধার কণ্ঠে মেকি তেজ থাকলেও, কণ্ঠস্বর কাঁপছিল, চোখেমুখেও ভীতি মেয়েটার। এদিকে ঘটনাটি মাহদির জন্য অপ্রত্যাশিত হলেও, সে একদম নির্বিকার। না চমকালো, না ভড়কালো, না অবাক হলো! বরং চোখেমুখে চরম বিরক্তি আর রাগের ছায়া। </strong><br /><strong>বিয়ে পড়ানো শেষে মাহদি সাদকে বলেছিল, </strong><br /><strong>‘ভাই এবার তোমাদের বাড়ির বউকে তোমরা নিয়ে যেও। আমার কাজ শেষ।’</strong><br /><strong>এরপর মাহদি মেধাদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। তার এহেন কান্ডে অবশ্য শিকদার জুনায়েদ আরও কয়েক দফা মাহদিকে কথা শুনিয়েছিল, কিন্তু মাহদির সেসব পাত্তা দেওয়ার সময় থাকলে তো! </strong><br /><strong>মাহদি মেধাকে একবার বিয়ে বাড়িতেই দেখেছিল। তাই চিনতে অসুবিধা হয়নি এখন।  </strong><br /><br /><strong>মেধা দু'পা উঁচু করে মাহাদের গলার কাছটায় চা'কু ধরতে চাইলেও সে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। গলা থেকে সামান্য নিচের দিকে চা'কু ধরে রাখা। মেয়েটা সেদিকে খেয়াল করল না। সে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল মাহদির পানে। লোকটার গায়ের রঙ বেশ ফর্সা। কিন্তু চোখে লাগছে, মাহদির চোখের সোনালি মণি দু'টো। </strong><br /><br /><strong>মেধার কান্ডে মাহদির ইচ্ছে করল মেয়েটাকে ঠাটিয়ে দু'টো থাপ্পড় লাগাতে। কিন্তু ঝামেলা এড়াতে নিজেকে সংযত করল। এর উপর আবার মেধাকে নিজের দিকে এমন হ্যাবলার মতো তাকিয়ে থাকতে দেখে মাহদির রাগের সাথে সাথে বিরক্তির মাত্রা বাড়লো বই কমলো না। সারাদিন ছোটাছুটি করে ফালতু ঝামেলা সামনে এলে মাথা গরম হয়ে যায়। কিন্তু সে আপাতত এই মেয়েটাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে পাশ কাটিয়ে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। </strong><br /><strong>মেধা সাথে সাথে উল্টো ঘুরে মাহদির দিকে তাকায়। চোখে পড়ল, মাহদির ঘাড় সমান সিলকি সোজা চুলের দিকে। সামনে থেকে অল্প কিছু চুল নিয়ে ছোটোখাটো একটি ঝুঁটি বাঁধা। যেটা পিছনদিকে হেলে আছে। মেধা অবশ্য এতে অবাক হলো না। কারণ সে যখন তার বাড়িতে পিছন থেকে তার স্বামীকে দেখেছিল, তখনও চুলের এই ছিরিই ছিল। তবে চেহারা তো দেখেনি। অতঃপর চটপট প্রশ্ন করে,</strong><br /><br /><strong>“তোমার নাম কি মাহদি?”</strong><br /><br /><strong>মাহদি তার ডান হাত থেকে সোনালি রঙের হাতঘড়িটা খুলে মাত্র টেবিলের উপর রেখেছে তখনই মেধার প্রশ্নে কপালে ভাঁজ পড়ে তার। মেয়েটা তাকে তুমি বলে সম্মোধন করল না? এত ভাবলো না সে। গম্ভীর গলায় ছোট একটি উত্তর করে,</strong><br /><br /><strong>“হুম।”</strong><br /><br /><strong>“তার মানে তুমিই আমার স্বামী?</strong><br /><br /><strong>মাহদির কপালের ভাঁজ গাঢ় হতে শুরু করছে। অত্যধিক বিরক্তির কারণ এটা। </strong><br /><strong>মাহদি চুপ থাকলো। মেধা আবারো বলল, </strong><br /><br /><strong>বুঝেছি, তুমি হয়ত বলতে লজ্জা পাচ্ছ। কিন্তু আমি বুঝতে পেরেছি তুমিই আমার স্বামী। এসব থাক। আমার তোমাকে পছন্দ হয়নি।”</strong><br /><br /><strong>মেধার প্রথম কথায় মাহদির রাগ হলেও শেষ লাইনটা শুনে যেন সে বেশ মজা পেল। ছোট করে বলল,</strong><br /><br /><strong>“আচ্ছা।”</strong><br /><br /><strong>মেধা ফটাফট বলে,</strong><br /><strong>“আচ্ছা মানে? তোমাকে আমার সত্যিই পছন্দ হয়নি। অপছন্দের মানুষের সাথে সংসার করা যায় না-কি?”</strong><br /><br /><strong>মাহদির ভাবলেশহীন স্বর,</strong><br /><strong>“কর না।”</strong><br /><br /><strong>মেধা ভ্রু কুঁচকে বলে,</strong><br /><strong>“তুমি সংসার করবে না?”</strong><br /><br /><strong>মাহদির একই কণ্ঠ, </strong><br /><strong>“না।”</strong><br /><br /><strong>মেধা অবাক হয়ে বলে,</strong><br /><strong>“না? তাহলে বিয়ে করলে কেন?”</strong><br /><br /><strong>মাহদির ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে। এই মেয়ে এত কথা বলছে কেন! অসহ্য কণ্ঠে বলে,</strong><br /><br /><strong>“কখন থেকে আমাকে তুমি তুমি করে সম্মোধন করছ। তুমি জানো আমার বয়স কত?”</strong><br /><br /><strong>কথাটা বলতে বলতে মাহদি মেধার একদম সামনে এসে দাঁড়ায়। মেধা সরল মনে বলে,</strong><br /><br /><strong>“কত তোমার বয়স? যদিও দেখে বোঝা যাচ্ছে, তুমি আমার চেয়ে অনেক বড় হবে। কিন্তু সঠিক বয়স জানলে বোঝা যাবে তুমি আমার চেয়ে ঠিক কত বছরের বড়!</strong><br /><br /><strong>মাহদি বিরক্ত চোখে চেয়ে আছে। এটা মেয়ে না ভাঙা রেডিও? মেধা আবারো বলে,</strong><br /><br /><strong>আসলে আমি সবাইকে অনেকবার জিজ্ঞেস করেছিলাম তোমার বয়স কত। কিন্তু কেউ বলেনি৷ আর আমার বয়স ১৯ বছর। এবার তুমি বলো, তোমার বয়স কত! </strong><br /><br /><strong>মাহদি চিবিয়ে চিবিয়ে উচ্চারণ করল,</strong><br /><strong>“২৯।”</strong><br /><br /><strong>মাহদির বয়স শুনতেই মেধা চট করে আঙুলে গুণতে শুরু করল। ছোট থেকেই এটা তার অভ্যাস। কিছুক্ষণ পর মাথা তুলে উৎফুল্ল কণ্ঠে বলে,</strong><br /><strong>“তুমি আমার চেয়ে দশ বছরের বড়।”</strong><br /><br /><strong>মেধাকে দেখে মনে হচ্ছে, সে কোনো যুদ্ধ জয় করে ফেলেছে। মাহদির কণ্ঠে তীব্র রাগ ঝরছে,</strong><br /><strong>“নিজের চেয়ে এত বছর বয়সী বড় একজনকে কিভাবে তুমি সম্মোধন করছ, সেন্স নেই তোমার?”</strong><br /><br /><strong>মেধা কপালে ভাঁজ ফেলে বলে,</strong><br /><strong>“কেন, তুমি বললে কি হবে? আমি তো সবাইকে তুমি করেই বলি।”</strong><br /><br /><strong>মাহদি দাঁতে দাঁত চেপে বলে,</strong><br /><strong>“যা ইচ্ছা বলো। কিন্তু তুমি আমার সামনে আর একটা কথাও বলবে না। আমি এখন ঘুমাবো।”</strong><br /><br /><strong>কথাটা বলে মাহদি হনহন করে এগিয়ে গিয়ে ঘরের সব আলো অফ করে দেয়। এরপর গায়ের টি-শার্ট খুলে বিছানার এক কোণায় ছুড়ে ফেলে বিছানার উপর ধপ করে উল্টো হয়ে শুয়ে পড়ে। </strong><br /><strong>ফ্রেশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। আসার পথে সাদ নিজের ঘরে টেনে নিয়ে গিয়েছিল মাহদিকে। বিয়ের ব্যাপারে কিসব আলতু ফালতু জ্ঞান দিচ্ছিল। মাহদি এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে আরেক কান দিয়ে বের করে দিয়েছে। ওসব কথা মানা তো দূর, শুনলেই মেজাজ গরম হয়। তবুও বড় ভাই সাদের কবল থেকে ছুটতে না পেরে গাট্টি মেরে কতক্ষণ বসে ছিল! সাদ তার বয়সে বড় হলেও, দু'ভাই দু'ভাইকে বন্ধুর মতোই ট্রিট করে। শুধু সম্মোধনের সময় মাহদি সাদকে ভাই আর তুমি বলে এটুকুই। </strong><br /><strong>এরপর সাদের বেকার কথাবার্তা শেষ হলে মাহদি সাদের ঘর থেকেই শাওয়ার নিয়ে ওখান থেকেই একটি টি-শার্ট আর প্যান্ট পরে একেবারে আসে নিজ ঘরে।</strong><br /><br /><strong>মেধা ঘরের চারিদিকে চোখ বুলায়। কৃত্রিম আলোর অভাবে ঘরটা ঘুটঘুটে অন্ধকার হওয়ার কথা থাকলেও জোৎস্নার আলোর ছিটেফোঁটা ঘরের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে। মেধা চেঁচামেচি না করে দ্রুত এগিয়ে এসে বিছানার কাছটায় মাহদির পাশে দাঁড়িয়ে বলে,</strong><br /><br /><strong>“এ কি তুমি ঘুমাচ্ছো কেন? নতুন বউকে ফেলে কেউ ঘুমায় না-কি?</strong><br /><br /><strong>মাহদির সাড়া নেই। মেধা হাতের চা’কুটি বেড সাইডের টেবিলের কোণায় রেখে দু'হাত কোমরে রেখে বলল,</strong><br /><strong>ঠিক আছে ঘুমাও। এমনিতেও আমি তোমার সাথে সংসার করব না।”</strong><br /><br /><strong>কথাটা বলে কিছু একটা ভেবে তাকালো মাহদির দিকে। ভাবছে এই বাড়ির লোক যে বলল, মাহদি তাকে মারবে। কই মাহদি তো মারলো না! অতঃপর অরা বিড়বিড় করল,</strong><br /><br /><strong>‘আরেকটু দেখি তোমার সাথে সংসার করা যায় কি-না!’</strong><br /><br /><strong>কথাটা বলে মেধা মাহদির দিকে ঝুঁকে জিজ্ঞেস করল,</strong><br /><br /><strong>“তুমি কি ঘুমিয়েছো?</strong><br /><br /><strong>মাহদির সাড়া নেই। মেধা অপেক্ষা করল। ফিরতি উত্তর না পেয়ে হঠাৎ ভাবুক ভঙ্গিতে বলল,</strong><br /><strong>আচ্ছা তুমি না-কি যেখানে সেখানে গু’ন্ডামি করে বেড়াও!”</strong><br /><br /><strong>মেধা কথাটা বলতে না বলতেই মাহদি বেড সাইড টেবিলের উপর থেকে একটি কাঁচের জগ নিয়ে জোরেসোরে টেবিলের কোণায় আ’ঘাত করে জগটি ভেঙে মেধার দিকে গেড়ে দেওয়ার ভঙ্গি করে রক্তচক্ষু দৃষ্টি নিক্ষেপ করে হুঁশিয়ারি দেয়,</strong><br /><br /><strong>গু’ন্ডাই তো আমি। এখন সেটার প্রমাণও দিয়ে দিব তোমাকে। ৩৬৫ দিনে পুরো বাড়ির লোক আমার মাথার যা খেতে পারেনি, তুমি মাত্র কয়েক মিনিটে আমার সেই মাথা খেয়ে ফেলেছ। এবার দেখো আমার গু’ন্ডামি।</strong><br /><br /><strong>মেধা ভয়ের চোটে মেঝেতে ঠাস করে পড়ে গিয়েছে। চোখেমুখে বিস্ময় মেয়েটার। মনে হচ্ছে তার দিকে বড়সড় কোনো দৈত্য তেড়ে আসছে। মনে হবে না-ই বা কেন! এমন বিশালদেহী লোকের এত রাগান্বিত লুক দেখলে ছোট বাচ্চারা বোধহয় এতক্ষণে কেঁদে দিত। মেধা তার ভয়ের কান্না বহুক'ষ্টে চেপে রাখলেও, গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে এসেছে মেয়েটার। ভীত কণ্ঠে আওড়ায়,</strong><br /><br /><strong>“না না এমন কর না। আমি আর তোমার মাথা খাবো না।”</strong><br /><strong> </strong><br /><strong> </strong><br /><br /><strong> </strong><br /><br /><strong>&#x1f7e5;গল্পটা একদমই অল্প কয়েকটি পর্বের মধ্যে শেষ হবে। আর হারাচ্ছি না। যাই করি না কেন, পেইজে গল্প সবসময়ই চলবে ইনশাআল্লাহ। এটা শেষ হলে হৃদয় রজনী আসবে অথবা এটার মাঝেই চলে আসবে ইনশাআল্লাহ। রানিং-এ পুরোপুরি ফিরলাম। সাথে থাইকেন। গল্পটা কেমল লাগল, অবশ্যই জানাবেন।</strong></p>]]></content:encoded>
						                            <category domain="https://xgossip.fun/community/"></category>                        <dc:creator>DRM Shohag</dc:creator>
                        <guid isPermaLink="true">https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%a6%e0%a6%bf-authordrm-shohag/</guid>
                    </item>
				                    <item>
                        <title>রাতের ঘুম হারিয়ে গেছে</title>
                        <link>https://xgossip.fun/community/kabbik-bani-kabbik-bani/%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%98%e0%a7%81%e0%a6%ae-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%97%e0%a7%87%e0%a6%9b%e0%a7%87/</link>
                        <pubDate>Mon, 14 Sep 2026 14:14:22 +0000</pubDate>
                        <description><![CDATA[রাতের ঘুম হারিয়ে গেছে, কালো রাত যেন আর কাটতেই চায় না। তোমাকে ছাড়া কোনো পথ খুঁজে পাই না, তুমি ছাড়া আমার মনও টেকে না। প্রিয়, আমি তোমার জন্য উৎসর্গিত, তোমার ভালোবাসাতেই আমি মগ্ন। তোমাকে ছা...]]></description>
                        <content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center"><span style="font-size: 12pt;color: #ff9900"><strong>রাতের ঘুম হারিয়ে গেছে, কালো রাত যেন আর কাটতেই চায় না। তোমাকে ছাড়া কোনো পথ খুঁজে পাই না, তুমি ছাড়া আমার মনও টেকে না। প্রিয়, আমি তোমার জন্য উৎসর্গিত, তোমার ভালোবাসাতেই আমি মগ্ন। তোমাকে ছাড়া থাকতে পারি না—প্রথম প্রেমেই যেন আমার হৃদয় হারিয়ে গেছে, আর এই হৃদয় তোমাকে ছাড়া কিছুতেই মানতে চায় না। &#x2764;&#xfe0f;&#x200d;&#x1fa79;&#x1f495;</strong></span></p>]]></content:encoded>
						                            <category domain="https://xgossip.fun/community/"></category>                        <dc:creator>Sojib Miya</dc:creator>
                        <guid isPermaLink="true">https://xgossip.fun/community/kabbik-bani-kabbik-bani/%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%98%e0%a7%81%e0%a6%ae-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%97%e0%a7%87%e0%a6%9b%e0%a7%87/</guid>
                    </item>
				                    <item>
                        <title>গল্প:বসন্তবীণা (লেখিকা:মেহেরিশ হিয়া)</title>
                        <link>https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a3%e0%a6%be-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87/</link>
                        <pubDate>Sun, 13 Sep 2026 22:45:37 +0000</pubDate>
                        <description><![CDATA[শীতের আড়ষ্টতা কাটিয়ে গ্ৰাম বাংলায় বসন্তের আগমন ঘটেছিল। শেখরের জীবনেও সেই একই সময় বসন্ত এক নতুন নামে ধরা দিয়েছিলো। এক বৃষ্টির রাতে অত্যন্ত দূর্বল ,ভীতু স্বভাবের শেখরের জীবনে আগমন ঘটেছিল ...]]></description>
                        <content:encoded><![CDATA[<div style="text-align: center"><strong>শীতের আড়ষ্টতা কাটিয়ে গ্ৰাম বাংলায় বসন্তের আগমন ঘটেছিল। শেখরের জীবনেও সেই একই সময় বসন্ত এক নতুন নামে ধরা দিয়েছিলো। এক বৃষ্টির রাতে অত্যন্ত দূর্বল ,ভীতু স্বভাবের শেখরের জীবনে আগমন ঘটেছিল এক সাহসী, আত্মমর্যাদা বোধ সম্পন্ন নারী রুপসেনা রহমান তনুর। গ্ৰামের মানুষের আঘাত, তিরষ্কার থেকে রক্ষা করে গড়ে তুলেছে এক নতুন মানব। উপহার দিয়েছে এক সুন্দর সুস্থ জীবন। এবং থেকে গেছে শেখরের 'রুপ' হয়ে </strong></div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div> </div>
<div> </div>
<div style="text-align: center"><strong>গল্প:বসন্তবীণা </strong></div>
<div> </div>
<div style="text-align: center"><strong>লেখিকা:মেহেরিশ হিয়া</strong></div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center"><strong> </strong></div>]]></content:encoded>
						                            <category domain="https://xgossip.fun/community/"></category>                        <dc:creator>Sojib Miya</dc:creator>
                        <guid isPermaLink="true">https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a3%e0%a6%be-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87/</guid>
                    </item>
				                    <item>
                        <title>বাংলা চলচ্চিত্র ,রেডিও ও টেলিভিশনে ভূত</title>
                        <link>https://xgossip.fun/community/general-discussionentertainmenttechnologysportsoff-topic/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%9a%e0%a6%b2%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%a1%e0%a6%bf%e0%a6%93-%e0%a6%93-%e0%a6%9f/</link>
                        <pubDate>Sun, 13 Sep 2026 16:40:57 +0000</pubDate>
                        <description><![CDATA[চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিগুলোর সিনেমার ক্যাটাগরির মধ্যে হরর মুভি বা ভূতের সিনেমা অন্যতম ।  হরর মুভি সবচেয়ে বেশি  নির্মিত হয় হলিউডে  ।ভূত নিয়ে পৃথিবীজুড়ে বিভিন্ন ভাষায় তৈরি হয়েছে চলচ্চিত্র। এ...]]></description>
                        <content:encoded><![CDATA[<div align="center"><b> </b></div>
<p align="center"><b>চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিগুলোর সিনেমার ক্যাটাগরির মধ্যে হরর মুভি বা ভূতের সিনেমা অন্যতম ।  হরর মুভি সবচেয়ে বেশি  নির্মিত হয় হলিউডে  ।<br /><br /><br /><br />ভূত নিয়ে পৃথিবীজুড়ে বিভিন্ন ভাষায় তৈরি হয়েছে চলচ্চিত্র। এসব চলচ্চিত্রের আবার কোনোটা ভয়ের, কোনোটা হাসির।  কার্টুন সিরিজ ড্যানি ফ্যান্টম, ঘোস্ট ট্র্যাকার্স, স্কুবি ডু, ট্রুথ অর স্কেয়ার ও মিস্ট্রি হান্টার্স-এর কাহিনি গড়ে উঠেছে ভূতকে কেন্দ্র করে। টম অ্যান্ড জেরিতেও একটি ভূতের পর্ব রয়েছে। যেখানে ভূত দেখে টম ভয়ে কাঁপতে থাকে, আর সেই ভূতের সঙ্গে জেরির সখ্য গড়ে ওঠে।  খুব পছন্দের ‘<span style="color: #ff857a;font-size: x-large">হ্যারিপটার</span>’ সিরিজের গল্পও গড়ে উঠেছে ভূতকে নিয়ে।<br /> <br />বাংলা ক্লাসিক সিনেমার মধ্যে ভূতের সিনেমা বা হরর মুভি খুবই কম।তবে সাদাকালোর সময়েও কয়েকটা সিনেমা  বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল, যেমন- <span style="color: #ff857a;font-size: x-large">কংকাল(১৯৫০),হানাবাড়ি(১৯৫২),মনিহারা তিন কন্যা(১৯৬১),কুহেলি(১৯৭১)</span>।</b></p>
<p align="center"> </p>
<p align="center"> </p>
<p align="center"><b><br />বর্তমান অনেক সিনেমায় ভূতকে বন্ধু ভাবাপন্ন বা কৌতুক পদ রূপে উপস্থাপন করা হয়েছে। যেমন গোপী গাইন বাঘা বাইন সিনেমাতে সত্যজিৎ রায় ভূতকে বা অশরীরী ক্ষমতাকে কমিক রূপে উপস্থাপন করেছেন।</b></p>
<p align="center"> </p>
<p align="center"><b><br />পরিমল পরিচালিত ‘<span style="color: #ff857a;font-size: x-large">নিশি তৃষ্ণা(১৯৮৯)</span>’ বাংলা চলচিচত্রের প্রথম ভ্যাম্পায়ার সিনেমা। ‘<span style="color: #ff857a;font-size: x-large">পুতুলের প্রতিশোধ’ ও ‘যেখানে ভূতের ভয়’ </span>সিনেমাগুলোও বাঙালি ভূতের গল্পের উপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে।<br />সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘<span style="color: #ff857a;font-size: x-large">অনাথ বাবুর ভয়’,’ব্রাউন সাহেবের বাড়ি’</span> উল্লেখ যোগ্য ভূতের সিনেমা।এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত সিনেমা হচ্ছে ‘<span style="color: #ff857a;font-size: x-large">ভূতের ভবিষ্যৎ’  ও</span> ‘<span style="color: #ff857a;font-size: x-large">গয়নার বক্স’</span>।<br /><br /> ভূতের ভবিষ্যৎ ভারতীয় পরিচালক অনীক দত্তের পরিচালিত প্রথম বাংলা চলচ্চিত্র। ২০১২ সালের একটি হিট ছবি। নবীন পরিচালক শুটিং এর জন্যে লোকেশন দেখতে আসেন একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে। হঠাৎ তার আলাপ হয় বাড়িরই একজন ব্যক্তির সংগে যিনি নাকি ওখানেই থাকেন। তার কাছে থেকে সেই বাড়িতে থাকা কতিপয় ভুতেদের কাহিনী শোনেন পরিচালক। যে গল্পের উপজীব্য বিষয় হল প্রমোটারি আর দখলদারীর ভিড়ে পুরোনো ভুতেরা কিভাবে স্বার্থান্বেষী মানুষদের সাথে লড়াই করে বাড়ির অধিকার অর্জন করলো। তারা প্রথমে আস্তানার খোঁজে আসে পরিত্যক্ত চৌধুরী বাড়িতে। সকলেই অপঘাতে মারা গেছিল। র&#x200d;্যামসে সাহেব এবং রায় বাহাদুর এই দুজনে বাড়ির কর্তা হিসেবে থাকতে দেন বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা জাতি, ধর্ম, পেশা, লিঙ্গ নির্বিশেষে ভুতেদের। একসময় প্রমোটারী চক্র বাড়ি দখল করতে এলে তারা বাধা দেয়। একাজে বিভিন্ন পেশার ভুতেরা একযোগে মতলব কষে হটিয়ে দেয় অসাধু ব্যবসায়ীদের। গল্পের শেষে জানা যায় যিনি এর কথক তিনিও একজন ভুত এবং বাকিদের সাথী। শেষ পর্যন্ত পরিচালক তন্দ্রা ভেঙে দেখেন পুরোটাই স্বপ্ন, কিন্তু যা দিয়ে তৈরী হতে পারে ভুতের ভবিষ্যৎ এর মত সিনেমা।<br /><br />একসময় এদেশে রেডিও ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয় গণমাধ্যম।গতানুগতিক ‘<span style="color: #ff857a;font-size: x-large">বস্তাপঁচা</span>’ আধেয় এবং ৯০’র দশকের পর ঘরে ঘরে টেলিভিশন ও স্যাটেলাইট চ্যানেলের প্রবেশ এর ফলে যেটা হলো, এদেশের বেশিরভাগ মানুষ রেডিও শোনা প্রায় ভুলেই গেল।কিন্তু কীভাবে যেন একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে এসে অনেকেই আবার রেডিও’র শ্রোতা হয়ে উঠলেন। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার বাসিন্দাদের কাছে রেডিও হয়ে উঠল নতুন এক সম্প্রচার মাধ্যম। তবে এই রেডিও আগেকার সেই এএম রেডিও নয়; নতুন প্রযুক্তি এফএম রেডিও আর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মোবাইল ফোন।<br />তখন এফ এম রেডিওগুলো তাদের অনুষ্ঠানে ভূতের গল্প যুক্ত করে। এটি প্রথম শুরু করে রেডিও ফুর্তি। এর জনপ্রিয়তা দেখে পরে অনেকেই শুরু করেছে।ভূত এফ,এম এর মতো আরও যে প্রোগামগুলি আছে তা হলোঃ-<br /><br /></b></p>
<p align="center"><span style="color: #ff857a;font-size: x-large"><b>১. ডর (এবিসি রেডিও তে)</b></span></p>
<p align="center"><span style="color: #ff857a;font-size: x-large"><b><br />২.কুয়াশা (এবিসি রেডিও )</b></span></p>
<p align="center"><span style="color: #ff857a;font-size: x-large"><b><br />৩.হরর সেগমেন্ট( রেডিও আমার)</b></span></p>
<p align="center"><span style="color: #ff857a;font-size: x-large"><b><br />৪.ভূত ভংয়কর</b></span></p>
<p align="center"><span style="color: #ff857a;font-size: x-large"><b><br />৫. মধ্যে রাতের ট্রেন,একুশে টিভি।(টেলিভিশন এর  ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষ অধিকাংশই ভারতীয় চ্যানেলগুলো দেখে থাকেন।  </b></span></p>
<p align="center"><span style="color: #ff857a;font-size: x-large"><b><br />৬.ছায়া (রেডিও আমার)</b></span></p>
<p align="center"><b><br /><br />  ই-মেইলেই নয়, অনেকেই অতিথি হয়ে এসে  নানা ঘটনা সরাসরি ভূত এফএম এ অন্য শ্রোতাদের কাছে বর্ণনা করেন।  তাদের ভূত-বিষয়ক স্পেশাল টিমও রয়েছে। যারা ভূত-বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ করে তা প্রচার করে। আর অনুষ্ঠান চলাকালীন ভৌতিক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ভৌতিক ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ব্যবহার করে থাকেন। খুব আত্নবিশ্বাসী হয়ে ও গুরুত্ব সহকারে উপস্থাপক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।এই অনুষ্ঠানগুলোর একটি প্রধান দাবি হলো- ভূত-পেত্নী আছে। এর মধ্যে দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে কুসংস্কারে বিশ্বাসী করানো হচ্ছে। খেয়াল করলে  দেখবেন যে, এই অনুষ্ঠানের অধিকাংশ শ্রোতাই তরুণ। এদের অনেকেই হয়ত এই অনুষ্ঠান শুরুর আগে এ  ধরনের কুসংস্কারে বিশ্বাসী ছিলেন না। কিন্তু প্রতিনিয়ত এই অনুষ্ঠান শোনার ফলে তাদের মধ্যে একধরনের বিশ্বাস জন্ম নিয়েছে।</b></p>
<div id="wpfa-2329" class="wpforo-attached-file"><a class="wpforo-default-attachment" href="//xgossip.fun/wp-content/uploads/wpforo/default_attachments/1789317657-00_35_36_vcd-kankaal0001.jpg" target="_blank" title="00_35_36_vcd-kankaal0001.jpg"><i class="fas fa-paperclip"></i>&nbsp;00_35_36_vcd-kankaal0001.jpg</a></div>]]></content:encoded>
						                            <category domain="https://xgossip.fun/community/"></category>                        <dc:creator>Sojib Miya</dc:creator>
                        <guid isPermaLink="true">https://xgossip.fun/community/general-discussionentertainmenttechnologysportsoff-topic/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%9a%e0%a6%b2%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%a1%e0%a6%bf%e0%a6%93-%e0%a6%93-%e0%a6%9f/</guid>
                    </item>
				                    <item>
                        <title>Andhar Some words about the movie</title>
                        <link>https://xgossip.fun/community/general-discussionentertainmenttechnologysportsoff-topic/andhar-some-words-about-the-movie/</link>
                        <pubDate>Mon, 07 Sep 2026 22:53:11 +0000</pubDate>
                        <description><![CDATA[একটা কথা আছে - বাঙালি নামাজের কাতার ছাড়া আর কাউকেই সামনে আগাইতে দেয় না। পিছনে ধরে রাখা আমাদের একটা জাতিগত অভ্যাস! &#x1f610;
 
হরর জনরা পৃথিবীর প্রায় সব বড় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিরই খুব কমন একটা ...]]></description>
                        <content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center"><strong>একটা কথা আছে - বাঙালি নামাজের কাতার ছাড়া আর কাউকেই সামনে আগাইতে দেয় না। পিছনে ধরে রাখা আমাদের একটা জাতিগত অভ্যাস! &#x1f610;</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>হরর জনরা পৃথিবীর প্রায় সব বড় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিরই খুব কমন একটা সেগমেন্ট। হলিউডে তো হাজার হাজার হরর সিনেমা হয়েছে। টার্কিশ, স্প্যানিশ, ইন্দোনেশিয়ান ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও হরর সিনেমার বিশাল একটা অডিয়েন্স বেইজ আছে। এমনকি আমাদের পাশের দেশ ইন্ডিয়াতেও নিয়মিত হরর সিনেমা তৈরি হচ্ছে।</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>কিন্তু এই জায়গাটাতেই আমরা অনেকটা পিছিয়ে। শুধু পিছিয়েই না, আমাদের হরর জনরায় এখন পর্যন্ত রিমার্কেবল কোন সিনেমাই নেই, যেগুলো নিয়ে গর্ব করে কথা বলা যায়। বরং গুটিকয়েক সিনেমা পরবর্তীতে ট্রল ম্যাটেরিয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে।</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>সেদিক থেকে দেখলে রায়হান রাফি এবার হরর জনরাতেও একটা নতুন স্ট্যান্ডার্ড সেট করার চেষ্টা করছেন। আর সত্যি বলতে এখন পর্যন্ত ANDHAR-এর টিজার কাটকে আমার কাছে ঢালিউডের সেরা হরর টিজারই মনে হয়েছে।</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>তবে একটা বিষয় মাথায় রাখা দরকার - হরর, অ্যাকশন কিংবা থ্রিলার নিয়ে ওয়ার্ল্ডে এত বেশি সিনেমা তৈরি হয়েছে যে আপনি যতই ইউনিকভাবে বানানোর চেষ্টা করেন, কোনো না কোনো সিনেমার সঙ্গে কিছুটা মিল বা রেফারেন্স পাওয়া যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। শতভাগ নতুন কিছু বানানো এই জনরাগুলোতে সত্যিই কঠিন।</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>কিন্তু সমস্যা তখনই হয়, যখন সিনেমা মুক্তির আগেই টিজারের কয়েকটা মিল দেখে পুরো সিনেমাকে হলিউড থেকে কপি বা ইন্সপায়ার্ড বলে অপিনিয়ন দিয়ে দেওয়া হয়!</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>আরশাদ আদনানের মতো একজন প্রযোজক যদি শুধু টিজার দেখেই সিনেমার ভেতরের গল্প বা মেকিং সোর্স সম্পর্কে এতটা নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছে যান, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই - এটা আসলে কিসের ইঙ্গিত??? </strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>কিছু সিমিলারিটি বা রেফারেন্স যদি সত্যিই থেকেও থাকে, তাতেই বা সমস্যাটা কোথায়? আগে সিনেমাটা আসুক, দেখা যাক রাফি আসলে কী বানিয়েছেন। ভালো হলে প্রশংসা করব, খারাপ হলে সমালোচনা করার মত বহুত মানুষ আছে।</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>আমার কাছে মনে হয়েছে, মূল সমস্যাটা সিনেমার সিমিলারিটিতে না, মেন্টালিটিতে।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে এমনিতেই কালে-ভদ্রে ভালো সিনেমা আসে। হলের সংকট আছে, দর্শক ফেরানোর চ্যালেঞ্জ আছে, ইন্ডাস্ট্রি নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে কেউ যদি নতুন কিছু করার চেষ্টা করে, একটা নতুন জনরায় স্ট্যান্ডার্ড সেট করার চেষ্টা করে তাকে সামনে এগোতে দেওয়া উচিত।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>কিন্তু না... কেউ একটু সামনে এগোতে গেলেই তাকে টেনে ধরতে হবে, খুঁত খুঁজতে হবে, বিতর্ক তৈরি করতে হবে!</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>তাতে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি রসাতলে যাক - কার কী আসে যায়!</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>শেষ পর্যন্ত তো একই ইন্ডাস্ট্রির সিনেমা। একজনের সাফল্য মানে পুরো ইন্ডাস্ট্রির জন্যই নতুন একটা দরজা খুলে যাওয়া।</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>তাই আগে সিনেমাটা আসুক। তারপর জাজ করা হোক - কপি, ইন্সপিরেশন নাকি সত্যিই নতুন কিছু!</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>&#x270d;&#xfe0f; CrackedFlix </strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>]]></content:encoded>
						                            <category domain="https://xgossip.fun/community/"></category>                        <dc:creator>Sojib Miya</dc:creator>
                        <guid isPermaLink="true">https://xgossip.fun/community/general-discussionentertainmenttechnologysportsoff-topic/andhar-some-words-about-the-movie/</guid>
                    </item>
				                    <item>
                        <title>এই অশ্লীল শব্দের ব্যবহারটি কিভাবে বাংলায় এলো ( কেবল মানসিক ভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য )</title>
                        <link>https://xgossip.fun/community/general-discussionentertainmenttechnologysportsoff-topic/%e0%a6%8f%e0%a6%87-%e0%a6%85%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a7%80%e0%a6%b2-%e0%a6%b6%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%ac%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0/</link>
                        <pubDate>Fri, 04 Sep 2026 08:13:30 +0000</pubDate>
                        <description><![CDATA[পেছন মারা একটি অশ্লীল শব্দ, এর সঙ্গে পায়ুকাম জড়িত আছে, কোনও ভদ্রমানুষ এর ব্যবহার করে না, কিন্তু প্রথম যে মুসলমান শাসক একটি নৌসেনা গঠন করেছিলেন এবং পূর্ববঙ্গ অভিযান করতে প্রয়াস পেয়েছিলেন এবং ...]]></description>
                        <content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center">পেছন মারা একটি অশ্লীল শব্দ, এর সঙ্গে পায়ুকাম জড়িত আছে, কোনও ভদ্রমানুষ এর ব্যবহার করে না, কিন্তু প্রথম যে মুসলমান শাসক একটি নৌসেনা গঠন করেছিলেন এবং পূর্ববঙ্গ অভিযান করতে প্রয়াস পেয়েছিলেন এবং ব্যর্থও হয়েছিলেন, সেই গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ খিলজির পূর্ববঙ্গ অভিযানে ব্যর্থ হওয়ার ইতিহাস পাঠান্তে আরেকবার অনুধাবন করলাম, এই পেছন মারার কনসেপ্ট কিভাবে এসেছিল। আপনি সম্মুখ যুদ্ধ করতে যাচ্ছেন, এমন সময় আপনার মিত্র বা শত্রু, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মিত্র কেউ, এসে পেছন থেকে অতর্কিতে আক্রমণ করল।</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">অর্থাৎ পেছন মেরে দিল।</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">ইওয়াজ খিলজির জীবনে এটাই ঘটে। তিনি রণতরী সাজিয়ে ঘটা করে পূর্ববঙ্গ আক্রমণ করতে গেছিলেন। কিন্তু তখন তো সারা উত্তর ভারত জুড়ে এইসব ডাকাত কাম নতুন শাসকদের মধ্যে প্রচণ্ড খেয়োখেয়ি চলছে। ফলে লখনৌতি অরক্ষিত দেখে ইলতুৎমিশের পুত্র মালিক নাসিরউদ্দিন দ্রুত এসে লখনৌতি দখল করে বেচারা ইওয়াজের পেছন মেরে দিলেন। ইওয়াজ ফিরে এসে যুদ্ধ করলেন বটে, কিন্তু হারলেন, এবং বন্দী হলেন, সেই সঙ্গে ইওয়াজের সমস্ত আমিরও বন্দী হলেন। ইওয়াজ যথারীতি নিহত হন এরপর। ৬২৪ হিজরা, ১২২৭ খ্রিষ্টাব্দ। বেচারা গেছিলেন বঙ্গ জয় করে অতুল কীর্তি স্থাপন করতে, শেষে কিনা প্রাণটাই খোয়ালেন, তাও পেছন থেকে আক্রমণে।</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">দীর্ঘ বারো বছর রাজত্ব করা এই গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজই কেশব ও বিশ্বরূপসেনের লিপির গর্গযবন হতে পারেন, যাকে হারিয়ে কেশব ও বিশ্বরূপ গর্গযবনান্বয়প্রলয়কালরুদ্র উপাধি নেন, আমার মতে (গারঝা নামক একটা তুর্কি ক্ল্যান বোঝাতে গর্গযবন লেখা হয়েছে এমন তত্ত্বও আছে অবশ্য)।</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">চর্যার যুগ পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রাচীন যুগে এই পেছন মারা প্রবাদটি আমাদের দেশে প্রচলিত ছিল না বলেই মনে হচ্ছে। এটি সম্ভবত মধ্যযুগের অবদান। মধ্যযুগের শাসকদের এভাবে অনেকবার পেছন মারা গিয়েছিল। শুরু সম্ভবত নদীয়ায় লক্ষ্মণসেনের ওপরে সেই অতর্কিতে ambush দিয়ে। শেষ হয়েছে সিরাজকে দিয়ে, মীরজাফর যা করেছিলেন সেটাও তো ওই জিনিসই ছিল।</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">নবারুণ ভট্টাচার্য এবং বাঙালির ইতিহাস, দুইই অত্যন্ত প্রিয়, নইলে এমন একটা অভদ্র বিষয়ে লিখতে অগ্রসর হতাম না। পাঠক নিজগুণে মার্জনা করবেন।</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p>&nbsp;</p>
<p style="text-align: center">তথ্য:তমাল দাশগুপ্ত</p>
<p style="text-align: center"> </p>]]></content:encoded>
						                            <category domain="https://xgossip.fun/community/"></category>                        <dc:creator>Sojib Miya</dc:creator>
                        <guid isPermaLink="true">https://xgossip.fun/community/general-discussionentertainmenttechnologysportsoff-topic/%e0%a6%8f%e0%a6%87-%e0%a6%85%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a7%80%e0%a6%b2-%e0%a6%b6%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%ac%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0/</guid>
                    </item>
				                    <item>
                        <title>গল্প:নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা</title>
                        <link>https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%ad%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ae-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a7%80-2/</link>
                        <pubDate>Thu, 03 Sep 2026 23:05:43 +0000</pubDate>
                        <description><![CDATA[মিহাল আর এক মুহূর্তও দেরি না করে অত্যন্ত পরম মায়ায় নীলার চিবুকটা আলতো করে ছুঁয়ে নিজের দিকে তুলে ধরল। তার চোখে তখন এক মহাসমুদ্র সম্বলিত ভরসা। ঠোঁটের কোণে এক চিলতে আশ্বাসের মুচকি হাসি ফুটিয়ে স...]]></description>
                        <content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center">মিহাল আর এক মুহূর্তও দেরি না করে অত্যন্ত পরম মায়ায় নীলার চিবুকটা আলতো করে ছুঁয়ে নিজের দিকে তুলে ধরল। তার চোখে তখন এক মহাসমুদ্র সম্বলিত ভরসা। ঠোঁটের কোণে এক চিলতে আশ্বাসের মুচকি হাসি ফুটিয়ে সে গভীর স্বরে বলল,</p>
<p style="text-align: center">    “আমি আছি তো নীলাঞ্জনা, তোমার বন্ধু, তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড, তোমার সবটুকু ভালোবাসা হয়ে।”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">মিহালের এই গভীর ভালোবাসার বাণী যেন আশ্বাসের বদলে নীলার মনের গহীনে এক অজানা, সুপ্ত আতঙ্কের জন্ম দিল। অতীতের সব হারানোর ক্ষতগুলো এক লহমায় জ্যান্ত হয়ে উঠল তার বুকের ভেতর। সে প্রচণ্ড ছটফট করে, এক বুক আতঙ্ক নিয়ে ব্যস্ত হয়ে বলে উঠল,</p>
<p style="text-align: center">    “না, না, না, না! আমি... আমি চাই না আপনাকে বন্ধু বানাতে! আমি চাই না আপনাকে ভালোবাসতে! আমি কোনোভাবেই চাই না আপনাকে হারাতে... পারব না, আমি আপনাকে হারাতে পারব না মিহাল! আমি জীবনে যা কিছু ভালোবেসে চেয়েছি, তার সবকিছুই হারিয়েছি। দুনিয়ার মানুষ জানুক আমি খুব স্ট্রং, খুব শক্ত... কিন্তু এতটা শক্ত বা সাহসী আমি নই যে আপনাকে হারানোর ধকল সহ্য করার ক্ষমতা রাখব! আমার চাই না এই ক্ষমতা পেতে... চাই না আপনাকে হারাতে, চাই না, চাই না।"</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"> জনরা_______রোমান্টিক, সামাজিক, সাসপেন্স।</p>
<p style="text-align: center">গল্প:নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা </p>
<p style="text-align: center">লেখিকা:নাজনীন নেছা নাবিলা</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">  </p>]]></content:encoded>
						                            <category domain="https://xgossip.fun/community/"></category>                        <dc:creator>Sojib Miya</dc:creator>
                        <guid isPermaLink="true">https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%ad%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ae-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a7%80-2/</guid>
                    </item>
				                    <item>
                        <title>গল্প:সখি তোরা প্রেম করিও না</title>
                        <link>https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b8%e0%a6%96%e0%a6%bf-%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ae-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%93-%e0%a6%a8/</link>
                        <pubDate>Wed, 02 Sep 2026 22:42:18 +0000</pubDate>
                        <description><![CDATA[নিজের স্বামীকে অন্য একটা মেয়ের সাথে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে থমকে গেল সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা নীলাশা। নিজের চোখ কে আজ বিশ্বাস করতে খুব কষ্ট হচ্ছে তার। ঘনিষ্ঠ অবস্থায় থাকা মেয়েটা আর অন্য কেউ নয়, তা...]]></description>
                        <content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center">নিজের স্বামীকে অন্য একটা মেয়ের সাথে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে থমকে গেল সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা নীলাশা। নিজের চোখ কে আজ বিশ্বাস করতে খুব কষ্ট হচ্ছে তার। ঘনিষ্ঠ অবস্থায় থাকা মেয়েটা আর অন্য কেউ নয়, তার স্বামীরই খালাতো বোন।</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">অনিকের সাথে তার বিয়ে হয়েছে প্রায় চার বছর। তার আগে এক বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল তাদের। এতগুলো দিন পর তাদের ঘর আলো করে একটা নতুন প্রাণের আগমন ঘটতে চলেছে। এই সুখের সময় অনিক যে অন্য এক নারীতে মত্ত হতে পারে, তা নীলাশা স্বপ্নেও ভাবেনি। নিজেকে ঠিক রাখতে না পেরে দরজার সাথে বাড়ি খেল। এতে আধভেজানো দরজাটা খুলে গেল। আর সেই শব্দে মুহূর্তেই ছিটকে দূরে সরে গেল ভেতরে থাকা দুই নর-নারী।</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">নীলাশাকে দেখে চমকাল তারা। কারণ সে চেকআপ করাতে হাসপাতালে গিয়েছিল। অনিক সকালে অফিসে গিয়েছিল, তবে নীলাশারা বেরিয়ে যেতেই বর্ষা তাকে ফোন করে ডেকেছে। কিছুদিন ধরে সে এই বাড়িতেই থাকছে। সকলের অগোচরে ভালোই চলছে তাদের সম্পর্ক। অনিক নিজের পরনের শার্ট ঠিক করে নীলাশার কাছে এগিয়ে এসে বলল,</p>
<p style="text-align: center">—“নীল, তুমি যেমনটা ভাবছো, এমন কিছুই হয়নি এখানে।”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">—“তো কেমন হয়েছে, অনিক?”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">—“আসলে…”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">নীলাশা ভারী পেটটা ধরে একটু এগিয়ে গিয়ে বলল,</p>
<p style="text-align: center">—“আসলে তুমি আমার অবর্তমানে আমাদের ঘরে তোমার বেস্ট ফ্রেন্ডের সাথে একান্ত কিছু সময় কাটাচ্ছিলে, তাই তো?”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">অনিক কিছু বলতে চাইল, তবে তার আগেই তাকে সপাটে চড় মারলেন তার বাবা আতিফ উদ্দিন। তিনি নীলাশার পেছনেই ছিলেন। অনিককে ডাকতে এসেছিলেন।</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">—“ছি ছি, আজ আমার লজ্জা লাগছে তোকে মতো কুলাঙ্গারকে নিজের ছেলে বলতে।”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">তার চিৎকার শুনে ঘরে ছুটে এলো অনিকের বোন অনিতা আর তার মা ফিরোজা খাতুন। অনিতা আর নীলাশা অনেক পুরোনো বন্ধু। অনিতার সূত্র ধরেই অনিকের সাথে নীলাশার পরিচয়, প্রেম, অতঃপর বিয়ে।</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">—“কি হয়েছে, বাবা?”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">কথাটা বলেই অনিতার চোখ গেল দূরে কোনো রকমে গায়ে শাড়ি জড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বর্ষার পানে। আর্তনাদ করে উঠল সে,</p>
<p style="text-align: center">—“হায় আল্লাহ!”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">ফিরোজা খাতুন পাশেই দাঁড়িয়ে সবটা দেখছেন। তবে কিছু বললেন না তিনি। অনিতা নীলাশাকে আকড়ে ধরে অনিককে উদ্দেশ্য করে বলল,</p>
<p style="text-align: center">—“এমনটা কেন করলি, ভাই? তোকে তো ভাই বলতেও লজ্জা লাগছে।”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">গর্জে উঠল অনিক,</p>
<p style="text-align: center">—“কে বলেছে ভাই বলতে? বলিস না। আমি পুরুষ মানুষ। আমারও কিছু চাহিদা আছে। নিজেকে আয়নায় দেখেছে ও? এখন তো ওর দিকে তাকাতেও ইচ্ছে করে না।”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">এবার আরেকটা চড় পড়ল তার গালে। এটা দিয়েছে নীলাশা।</p>
<p style="text-align: center">—“আমি তোমার সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখানোর জন্য জীবন-মরণ লড়ছি, আর তুমি পড়ে আছো চাহিদা নিয়ে! আর আমার নিজের এই অবস্থা তোমার বাচ্চাকে এই পৃথিবীতে আনার যুদ্ধের জন্যই হচ্ছে। তবে তোমার মতো মূর্খ ব্যক্তি তা কি করে বুঝতে পারবে?”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">এক নিশ্বাসে কথাগুলো বলে হাইপার হয়ে গেল নীলাশা। বড় বড় শ্বাস ফেলে নিজেকে সামলাতে চাইল। এমনিতে যথেষ্ট সুন্দরী সে। দুধে-আলতা গায়ের রঙ তার। বাচ্চা পেটে আসায় একটু স্বাস্থ্যটা বেড়েছে। তবে এতে তার সৌন্দর্য কমার বদলে বেড়েছে শতগুণ। তবে হারামে মজা মানুষ কি আর হালালে খুশি থাকে? অনিতা দৌড়ে গিয়ে পানি নিয়ে এলো তার জন্য। বর্ষা প্রত্যেকটা বিষয় দেখছে আর মনে মনে খুশি হচ্ছে। নীলাশার প্রত্যেকটা জিনিসের প্রতি তার যে প্রবল লোভ।</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">ছেলের কথা আর নীলাশার অবস্থা দেখে ছেলের গালে আর একটা চড় মারলেন আতিফ উদ্দিন। তা দেখে ফিরোজা খাতুন এগিয়ে এসে বললেন,</p>
<p style="text-align: center">—“কি করছো? এত বড় ছেলের গায়ে হাত তুলছো কেন?”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">—“আজ একটা কথাও বলবে না তুমি। তোমার আস্কারা পেয়েই আজ ওর এই অবস্থা।”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">তারপর ছেলেকে উদ্দেশ্য করে শক্ত কণ্ঠে বললেন,</p>
<p style="text-align: center">—“বেরিয়ে যা। এই মুহূর্তে আমার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যা।”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">—“বাবা…”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">—“ওই মুখ দিয়ে খবরদার আমায় বাবা ডাকবি না। আর এই অজাতটাকেও নিয়ে বেরিয়ে যা। ওকে এই বাড়িতে থাকতে দেওয়াটাই আমার সবচেয়ে বড় ভুল হয়েছিল।”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">—“ওগো, কি বলছো তুমি এসব? ছেলেটা কোথায় যাবে?”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">এসব দেখে বর্ষা অসহায় মুখ করে তাকাল অনিকের পানে। অনিক তাকে অভয় দিল। তাদের এই নাটক আর সহ্য করতে পারল না অনিতা। নীলাশাকে ছেড়ে বর্ষার কাছে এগিয়ে গিয়ে সশব্দে চড় মারল তার গালে। তাল সামলাতে না পেরে মেঝেতে পড়ে গেল বর্ষা।</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">চেচিয়ে উঠলো অনিক,</p>
<p style="text-align: center">—“অনিতা, তোর সাহস কি করে হয় ওর গায়ে হাত তোলার?”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">অনিকের কথা শুনে তার পানে ঘৃণাভরা দৃষ্টিতে একপলক তাকাল নীলাশা। এই মানুষটার জন্য এক সময় সে তার বাবা-মায়ের সাথে ঝামেলা করেছিল। উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়ে হওয়ায় তার বাবা কখনোই তার আর অনিকের সম্পর্কটা মেনে নেননি। নীলাশা একপ্রকার বাবা-মায়ের অমতে গিয়েই বিয়ে করেছিল তাকে। এই জন্য তার বাবা তার সাথে কথা বলে না বহুদিন। আর আজ এই পুরুষটা কি করল? তার এতো ত্যাগের কি প্রতিদান দিল? তাই তাচ্ছিল্য হেসে বলল, </p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">—“কেন? খুব কষ্ট হচ্ছে বুঝি নিজের রক্ষিতার জন্য?”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">—“নীলাশা…”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">—“আওয়াজ নিচে। এত কিছুর পরেও আমার সাথে উঁচু গলায় কথা বলার সাহস কোথায় পাও তুমি?”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">অনিক চুপ করে গেল। তাদের সাথে আর কথা না বলে ফুসতে ফুসতে বর্ষাকে নিয়ে বেরিয়ে গেল কক্ষ থেকে। পেছন থেকে তাকে আটকানোর চেষ্টা করলেন ফিরোজা খাতুন।</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">—“যাস না বাপ। যাস না।”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">মায়ের কথা না শুনে বেরিয়ে এলো অনিক। বাইরে এসে বর্ষা কাঁদো কাঁদো গলায় বলল,</p>
<p style="text-align: center">—“আমরা এখন কোথায় যাব, অনিক? সবটা আমার জন্য হয়েছে।”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">অনিক নরম কণ্ঠে বলল,</p>
<p style="text-align: center">—“তোমার কোনো দোষ নেই। আমি তোমাকে ভালোবাসি এটা বুঝতে আমার অনেক সময় লেগে গেছে। এখন আমরা আমার ফ্ল্যাটে যাব। বাচ্চাটা হওয়ার পরে না হয় নীলকে ডিভোর্স দিয়ে বাচ্চাটাকে নিজের কাছে নিয়ে আসব।”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">ডিভোর্সের কথায় খুশি হলেও বাচ্চা নিজের কাছে রাখার ব্যাপারটা ভালো লাগল না বর্ষার। সেই ছোট থেকে সে অনিককে ভালোবাসে। কিন্তু সেটা বলার আগেই তার বাবা তার বিয়ে দিয়ে দিল। সেখানে সে ভালোই ছিল। তবে একদিন যখন দেখল অনিক নীলাশার সাথে সুখী আছে, তখন আবার সেই পুরনো ভালোবাসা মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। সহ্য হলো না তাদের এই সুখ। তাই তো নিজেই স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে অসহায় সেজে এসে উঠল অনিকদের বাড়িতে। আর তারপর অনিককে নিজের জালে ফাঁসাতে তার খুব একটা সময় লাগেনি।</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">অনিক বেরিয়ে যেতেই ভেঙে পড়ল নীলাশা। তাদের এত বছরের ভালোবাসা, বিশ্বাসকে অনিক একপলকেই ভেঙে দিতে পারল? প্রতারণা করার আগে একবারও কি তাদের অনাগত সন্তানের কথা তার মনে পড়ল না?</p>
<p style="text-align: center">অনিতা এসে জড়িয়ে ধরল নীলাশাকে। সে কল্পনাও করতে পারেনি তার ভাই এমন কিছু করবে। নীলাশা নীরবে অশ্রু বিসর্জন দিয়ে গেল। এত এত ভালোবাসা, ত্যাগ, বিশ্বাস, ন্যায়নিষ্ঠার শেষে সে কি পেল সে? শুধুই প্রতারণা ছাড়া। </p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">বাইরে থেকে ফিরোজা খাতুনের কণ্ঠ ভেসে আসছে। ছেলের জন্য তিনি হা-হুতাশ করছেন। অথচ একজন নারী হয়ে একবারও তার ছেলের করা কুকর্মের কথা তার স্মরণ হলো না। আতিফ উদ্দিনের আজ নিজেকে ব্যর্থ মনে হলো। নিজের আদর্শে তিনি ছেলেটাকে মানুষ করতে পারেননি। নীলাশার মাথায় হাত রেখে অসহায় কন্ঠে বললেন,</p>
<p style="text-align: center">—“পারলে এই বাবাটা কে ক্ষমা করে দিস, মা।”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">নীলাশা তার অশ্রুভরা ডাগর ডাগর চোখ তুলে তাকাল শ্বশুর নামক বাবার পানে। নিজের বাড়ি ছেড়ে আসার পর এই লোকটা যে তাকে কখনোই বাবার অভাব বুঝতে দেননি। মাথার ওপর বটবৃক্ষের মতো ছায়া দিয়ে গেছেন সবসময়।</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"> গল্প:সখি তোরা প্রেম করিও না</p>
<p>&nbsp;</p>
<p style="text-align: center">লেখনিতে:সুমাইয়া তুলি </p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"> </p>]]></content:encoded>
						                            <category domain="https://xgossip.fun/community/"></category>                        <dc:creator>Sojib Miya</dc:creator>
                        <guid isPermaLink="true">https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b8%e0%a6%96%e0%a6%bf-%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ae-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%93-%e0%a6%a8/</guid>
                    </item>
				                    <item>
                        <title>গল্প: তিনটে জারবেরা</title>
                        <link>https://xgossip.fun/community/short-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%9f%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%be/</link>
                        <pubDate>Wed, 02 Sep 2026 22:39:42 +0000</pubDate>
                        <description><![CDATA[অণুগল্প 
 
লেখনিতে :সুমাইয়া তুলি 
গল্প: তিনটে জারবেরা 
 
—“আমি আপনাকে ভালোবাসি, হিয়ান ভাই।”
 
অনেক সাহস সঞ্চয় করে নিজের মনের কথা বলেই ফেলল অথৈ। হিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল৷ তারপর শান্...]]></description>
                        <content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center">অণুগল্প </p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">লেখনিতে :সুমাইয়া তুলি </p>
<p style="text-align: center">গল্প: তিনটে জারবেরা </p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">—“আমি আপনাকে ভালোবাসি, হিয়ান ভাই।”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">অনেক সাহস সঞ্চয় করে নিজের মনের কথা বলেই ফেলল অথৈ। হিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল৷ তারপর শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করল,“কেন?”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">প্রশ্নটা শুনে থমকে গেল অথৈ। ভালোবাসতে আবার কারণ লাগে নাকি? সে তো অকারণেই তার মনটা এই মানুষটাকে দিয়ে দিয়েছে। অথৈর নীরবতা দেখে হিয়ান মৃদু স্বরে বলল,“যেদিন এই প্রশ্নের উত্তর তোমার কাছে থাকবে, সেদিন এসে জানাবে। আমি অপেক্ষায় থাকব।”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">সাল ১৯৯৭~</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">দীর্ঘ তিন বছর পর আবার সেই মানুষটাকে দেখে পুরনো দিনের কথা স্মরণ হলো অথৈর। হাতের বইগুলো পরিষ্কার করা বাদ দিয়ে বুক শপের দরজার পানে এগিয়ে গেল অথৈ। আগের সেই ভার্সিটি পড়ুয়া হিয়ানের সাথে এই হিয়ানের আকাশ-পাতাল পার্থক্য খুঁজে পেল সে। কাস্টমার দেখে তার খালামনি আশালতা এগিয়ে এসে বললেন,“কি চাই?”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">হিয়ান একটা বুকলিস্ট বের করে বলল,“এই বইগুলো হবে?”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">লিস্ট দেখে আশালতা বললেন,“শেষের দুটো ছাড়া বাকিগুলো আছে।”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">“ঠিক আছে ওগুলোই দিন।”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">আশালতা বই বের করতে করতে অন্যমনস্ক অথৈকে বললেন,“ফুলগুলো ফুলদানিতে রেখে দে অথৈ, শুকিয়ে যাবে তো।”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">তার কথা শুনে হিয়ান তাকাল টেবিলের উপর রাখা তিনটে তিন রঙের জারবেরা ফুলের পানে। অথৈ ফুলগুলো নিয়ে রেখে দিল ফুলদানিতে। তিন বছর যাবত কেউ প্রতিদিন এই ফুল তাদের শপের সামনে রেখে যায়। শত চেষ্টা করেও সেই আগন্তুককে ধরতে পারেনি অথৈ। শেষে হাল ছেড়ে দিয়েছে। আশালতা বইগুলো প্যাকেট করে দিতেই, সেগুলোর দাম মিটিয়ে চলে গেল হিয়ান। অথৈ দৌড়ে দরজার কাছে এসে তার চলে যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইল। আশালতা ভাগ্নীর এরূপ আচরণ দেখে বললেন,“কি ব্যাপার অথৈজল? চেনাজানা না কি?”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">অথৈ ধরা পড়ে তুতলিয়ে বলল, “ওই আমাদের কলেজের পাশের ভার্সিটিতে পড়ত।”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">“শুধুই কি তাই!” সন্ধিহান কণ্ঠে বললেন আশালতা। অথৈ দরজা থেকে সরে এসে পুনরায় নিজের কাজ করতে করতে বলল,“তা ছাড়া আর কি? তুমি একটু বেশিই ভাবছো মনি।”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">অথৈয়ের এই পৃথিবীতে নিজের বলতে খালা আশালতা ছাড়া আর কেউ নেই। ছোটবেলায় একটা দুর্ঘটনায় নিজের বাবা-মাকে হারানোর পর খালা আশালতাই হয়ে ওঠে তার শেষ আশ্রয়স্থল। আশালতাও আর বিয়ে-থা করেননি। বোনের মেয়েকে নিয়ে দিব্যি জীবনটা কাটিয়ে দিচ্ছেন। এই বইয়ের দোকানটা তাদের আয়-উৎসের মূল কেন্দ্রবিন্দু।</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">আর হিয়ান... তাকে অথৈ সত্যিই প্রথম দেখেছিল তাদের কলেজের পাশের সেই বিশ্ববিদ্যালয়টাতে। উঁচা-চওড়া শ্যামবর্ণের হিয়ান প্রথম দেখাতেই যে কারো মন কাড়তে সক্ষম। হয়েছিলও তাই ! তার প্রেমে পাগল হয়েছিল অথৈ নামক বালিকা। পাগলামির একপর্যায়ে লাজলজ্জা ভুলে প্রেমনিবেদনও করেছিল। তবে হিয়ান তাকে না-ও করেনি আবার হ্যাঁও বলেনি। তারপর কিছুদিনের মাঝে অথৈয়ের কলেজ জীবন শেষ হলে আশালতা তাকে নিয়ে অন্য শহরে চলে আসেন। তারপর আজই প্রথম হিয়ানকে দেখল অথৈ।</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">বইগুলো নিয়ে ফুটপাথ দিয়ে হাঁটছে হিয়ান। চিরচেনা একটা ফুলের দোকানের পাশে এসে থেমে গেল সে। দোকান থেকে একজন মাঝবয়সী মহিলা বের হয়ে এসে বললেন,“আজকে কি এখনই ফুল নেবে? তবে তুমি তো সাধারণত রাতে ফুল নিয়ে যাও।”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">তার কথায় মৃদু হাসল হিয়ান। দোকানের লাল প্লাস্টিকের বালতিতে রাখা জারবেরা গুলোর পানে তাকিয়ে বলল,“উহু রাতেই নেব।” তার কথায় মহিলাটা হেসে মাথা নাড়ালেন। হিয়ান আবার হাঁটা ধরল। তার চোখের সামনে শুধু ভাসছে অথৈর অবাক হওয়া মুখটা। মেয়েটা তাকে অনেক দিন পরে দেখে বেশ অবাক হয়েছে। কিন্তু সে কি জানে হিয়ান তাকে প্রতিটা দিন দেখে? সে কি জানে হিয়ান তাকে কতটা ভালোবাসে? না জানে না। জানবে কি করে হিয়ান তো তাকে বলেনি আর না বুঝতে দিয়েছে। এসব ভেবে বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো হিয়ানের। </p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">মেয়েটা তাকে প্রেমনিবেদন করার অনেক আগে থেকেই হিয়ান তাকে ভালোবাসে। ইচ্ছে ছিল পড়াশোনাটা শেষ করে একটা চাকরি নিয়ে মেয়েটাকে বিয়ে করে ঘরে তুলবে। সাজাবে একটা সুন্দর সংসার। তাই তো সেদিন প্রশ্ন করে তাকে একটু ভড়কে দিয়েছিল। তারপর যথারীতি পড়াশোনা শেষ হলো মোটামুটি একটা চাকরিও পেল। তবে বিয়ে করা হলো না বাবার করে যাওয়া ধারদেনা পরিশোধ করার চক্করে। মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় ছেলেদের জীবনটা যে এমনই। তবে সে আশা ছাড়েনি। অথৈরানীকে সে সত্যি সত্যিই রানী করে রাখবে। তার জন্যই তো দিনরাত এতো পরিশ্রম। হাঁটতে হাঁটতেই কনস্ট্রাকশন বিল্ডিংয়ের সামনে এসে পৌঁছাল হিয়ান। সামনে কিছু লোক ঢালাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেখে এগিয়ে গেল সে। “কি হচ্ছে এখানে?”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">তার কথা শুনে ম্যানেজার আশরাফুল এগিয়ে এসে বললেন,“আহা হিয়ান। উত্তেজিত হইও না। আজকে ঢালাইটা দিয়া দেই।”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">“ঢালাই দেবেন মানে কি? এখনই ঢালাইয়ের জন্য বিল্ডিং প্রস্তুত নয়। আর আমি এখনো লিগ্যাল পেপারে সিগনেচার করিনি। তাই এই কাজ হবে না।”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">এক প্রকার বাধ্য হয়েই কাজ বন্ধ করতে হলো। হাজার হোক এই বিল্ডিং নির্মাণের একজন প্রকৌশলী হিয়ান। তার অনুমতি ছাড়া ঢালাই দেওয়া সম্ভব না। তবে ভেতরে ভেতরে রাগে ফুঁসে উঠলেন ম্যানেজার আশরাফুল।</p>
<p style="text-align: center">ভোররাতের কিছুক্ষণ আগে নিজের কাজ শেষ করে হিয়ান ছুটল ফুলের দোকানে। তার আসতে দেরি হলে দোকানি মহিলাটি দোকান বন্ধ করার আগে বাহিরের ঝুড়িতে তিনটে জারবেরা দিয়ে একটা সুন্দর তোড়া বানিয়ে রেখে যান। আজও তাই হয়েছে। হিয়ান ফুলগুলো নিয়ে পাশের বাক্সে টাকা রেখে দিল। প্রথম প্রথম অন্য পাশের শহর থেকে ভোরবেলা আসতে তার বেগ পেতে হতো। তবুও তার অথৈ রানীর জন্য সে আসত। হাঁটতে হাঁটতে অথৈদের বইয়ের দোকানের সামনে আসতে চারিদিকে ভোরের আলো ফুটে গেছে। হাতের ফুলগুলো দোকানের সামনে রাখতেই পেছন থেকে অথৈ বলে উঠল,“আপনি এতো সকালে এখানে কি করছেন?”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">কেঁপে উঠল হিয়ান। ব্যাগে সকালের কেনা বইগুলো এখনো তার কাছে আছে। তাই বলল,“ওই.. আমি একটা বই বদলাতে এসেছি।” অথৈ পালটা প্রশ্ন করল,“এতো সকালে?”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">“হ্যাঁ, তুমিও তো এতো সকালেই এসেছ।” একটু কাজ থাকায় আজ তারাতাড়ি এসেছে অথৈ তাই আর কিছু বলল না। এগিয়ে গিয়ে দরজা খুলতেই চোখ পড়ল হিয়ানের হাতের ফুলগুলোর দিকে। একবুক আশা নিয়ে বলল,“এগুলো আপনি এনেছেন, হিয়ান ভাই?” হিয়ান চেয়েও বলতে পারল না সত্যিটা “না আমি কেন আনতে যাব? এগুলো তো দরজার সামনে পড়া ছিল।” অথৈ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল হিয়ানের পানে অতপর হাত বাড়িয়ে বলল,“দিন ওগুলো আমার।” এই প্রথম হিয়ান আলতো হাতে ফুলের তোড়াটা এগিয়ে দিল তার গোপন প্রেয়সীর পানে। মুখে বলল,“কে দিয়েছে?” অথৈ অভিমানী কণ্ঠে বলল,“দিয়েছে কোন এক আগন্তুক। তাতে আপনার কি? আপনি তো আর দেননি!” অভিমানী কন্যার কথা শুনে একটু হাসল হিয়ান বুঝতে পারল অথৈ এখনো তাকে ভোলেনি। সে তো এটাই চেয়েছিল।</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">অথৈ বইটা বদলে দিল। হিয়ান পকেট থেকে অনেক কষ্টে টাকা জমিয়ে কেনা নোকিয়া ফোনটা বের করল। কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে অথৈকে বলল,“তোমাদের দোকানের ল্যান্ডলাইনের নাম্বারটা পাওয়া যাবে। মানে নতুন কোন বই আসলে খোঁজ নিতাম আর কি!” অথৈ কোন ভাবনা-চিন্তা ছাড়াই দিয়ে দিল নাম্বারটা।</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">তারপর থেকে শুরু হলো তাদের ফোনালাপ। সময় পেলেই হিয়ান বইয়ের বাহানায় ফোন করত অথৈকে। একপর্যায়ে সেটা ফোনালাপ থেকে বেরিয়ে টুকটাক ঘুরাঘুরিতেও রূপ নিল। মুখে ভালোবাসি না বলেও তারা প্রতিটা মুহূর্তেই প্রকাশ করল তাদের ভালোবাসা। বিষয়টা চোখ এড়ালো না আশালতার। তবে কথায় আছে না 'অভাগা যেদিকে চায় সাগর শুকায়ে যায়'। হিয়ানের ক্ষেত্রেও ঘটল তাই। দীর্ঘ তিনটে বছর পর সে অথৈয়ের একটু কাছাকাছি আসতে পেরেও পারল না। ম্যানেজার আশরাফুল ফ্রড কেসে তাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। জেল জরিমানা না হলেও উপর মহল থেকে তাকে ৩ লক্ষ টাকা পরিশোধ করে চাকরি ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে।</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">এই মুহূর্তে এতোগুলা টাকা কিভাবে পরিশোধ করবে হিয়ান? এই সংকটের মুহূর্তে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন হিয়ানের কলিগ সেলিম সাহেব “তুমি চাইলে আমি একটা সাহায্য করতে পারি। তবে দু'বছরের আগে সেখান থেকে আসতে পারবে না।” দু'বছর কথাটা শুনেই অথৈয়ের কথা মনে পড়ল হিয়ানের। মেয়েটাকে কি কখনোই তার পাওয়া হবে না! কিন্তু কোন উপায় না পেয়ে রাজি হতে হলো হিয়ানকে।</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">যাওয়ার আগে একবার সেই বুকশপে গেল হিয়ান। অথৈ না থাকলেও দেখা হয়ে গেল আশালতার সাথে। তিনি হিয়ানকে দেখে বললেন,“বসো তোমার সাথে অনেক দিন থেকেই কিছু কথা বলার ছিল।” বিধ্বস্ত হিয়ান না বসেই বলল,“আমি অথৈকে ভালোবাসি। আমায় কিছু দিন সময় দেবেন আন্টি। আমি ওকে বিয়ে করে রানী করে রাখব।”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">আশালতা সন্ধিহান কণ্ঠে বললেন,“সত্যিই রাখতে পারবে?” তার কথায় চুপ হয়ে গেল হিয়ান। সত্যিই কি তার এই অভাব-অনটনের জীবনে এটা সে পারবে? আশালতা আবার বললেন,“দেখো হিয়ান অথৈ ছোট থেকে অনেক কষ্ট করেছে। তাই আমি চাই না বিয়ের পড়েও ও কষ্ট করুক। আশা করি আমার কথা তুমি বুঝতে পারছো।”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">আর কিছু বলা হলো না হিয়ানের। বেরিয়ে গেল সে। চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ে একটা প্রজেক্টের কাজ পেয়েছে। একবুক কষ্ট নিয়ে সেখানেই চলে গেল। যাওয়ার আগে একবার পুনরায় বেজে উঠল অথৈয়ের দোকানের সেই ল্যান্ডলাইন। অথৈ সেটা তুলতেই ওপাশ থেকে হিয়ান বলল,“আমি চলে যাচ্ছি অথৈ। ভালো থেকো।” ব্যাস এতোটুকুই। দ্বিতীয়বারের মতো মন ভেঙে গেল অথৈয়ের। দোকানের সামনে জারবেরা আসাও বন্ধ হয়ে গেল। এভাবেই কেটে গেল দুটো বছর।</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">একদিন হিয়ান একজনের মাধ্যমে জানতে পারল বিয়ে ঠিক হয়েছে অথৈয়ের। দু বছর নিজেকে অনেক কষ্টে আটকে রাখলেও আর পারল না। ফোন বেজে উঠল পুনরায়। এপাশ থেকে অনেক দিন পর হিয়ানের কণ্ঠ শুনে কান্না করে অথৈ বলল,“আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে হিয়ান ভাই।” প্রতিউত্তরে হিয়ান অস্থির হয়ে বলল,“আমি আর পারছি না অথৈ। বিয়ে করবে আমায়? রানীর মতো না রাখতে পারলেও আমার সর্বস্ব দিয়ে আগলে রাখব তোমায়।”</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">এর জবাবে কি আর না বলতে পারে অথৈ। এটার জন্য যে সে বহু বছর অপেক্ষায় ছিল। আবহাওয়া খারাপ থাকা সত্ত্বেও দুই বছরের কন্ট্রাক্ট শেষ করে সেদিনই রওনা দিল হিয়ান। কলিগরা আজ যেতে মানা করলেও শুনল না। যাওয়ার আগে কনস্ট্রাকশন সাইটের বাগান থেকে তুলে নিল তিনটি জারবেরা। মেয়েটাকে এবার সে তার মনের কথা বলেই ছাড়বে। এদিকে বিয়েটা ভেঙে আশালতার সাথে ঝামেলা করে হিয়ানের অপেক্ষায় বাসস্ট্যান্ডে বসে রইল অথৈ। কিন্তু দিন পেরিয়ে রাত গড়িয়ে আরও একটা দিন এলো। এলো না শুধু হিয়ান। নিস্প্রাণ অথৈ চুপচাপ বসে রইল সেখানেই। তার কষ্টে আজ আকাশটাও কেঁদে দিল।</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">অপরদিকে প্রবল বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধ্বসে গেছে। সেখানেই নিজের শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছে হিয়ান। অথৈকে বিয়ে করার একবুক আশা নিয়ে বের হলেও তা আর পূরণ হলো না। স্বেচ্ছাসেবক দল যখন তার দেহটা উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছিল। তখনও তার প্রাণহীন দেহের হাতের মুঠোয় শক্ত করে চেপে ধরা ছিল সেই তিনটে জারবেরা। যা কাউকে দেওয়ার অর্থ 'আমি তোমাকে ভালোবাসি'...</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">সমাপ্ত</p>]]></content:encoded>
						                            <category domain="https://xgossip.fun/community/"></category>                        <dc:creator>Sojib Miya</dc:creator>
                        <guid isPermaLink="true">https://xgossip.fun/community/short-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%9f%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%be/</guid>
                    </item>
							        </channel>
        </rss>
		