<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>        <rss version="2.0"
             xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
             xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
             xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
             xmlns:admin="http://webns.net/mvcb/"
             xmlns:rdf="http://www.w3.org/1999/02/22-rdf-syntax-ns#"
             xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/">
        <channel>
            <title>
									Xgossip Forum - Recent Posts				            </title>
            <link>https://xgossip.fun/community/</link>
            <description>Xgossip Discussion Board</description>
            <language>en-US</language>
            <lastBuildDate>Fri, 11 Sep 2026 11:08:25 +0000</lastBuildDate>
            <generator>wpForo</generator>
            <ttl>60</ttl>
							                    <item>
                        <title>RE: গল্প: আপনি আমার ভীষণ কাছের কেউ (লেখনিতে:সুমাইয়া তুলি)</title>
                        <link>https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%80%e0%a6%b7%e0%a6%a3-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0/paged/2/#post-287</link>
                        <pubDate>Tue, 08 Sep 2026 07:03:34 +0000</pubDate>
                        <description><![CDATA[Part:06
&nbsp;
&nbsp;
&nbsp;
&nbsp;
&nbsp;
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এসে থামতেই লিলি ধীরে দরজাটা খুলে নেমে পড়ল। সকালের মিষ্টি আলোয় তার মুখে ফুটে উঠল একটুখানি কোমল হাসি। কৃতজ্ঞতার স্ব...]]></description>
                        <content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center"><em><strong>Part:06</strong></em></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এসে থামতেই লিলি ধীরে দরজাটা খুলে নেমে পড়ল। সকালের মিষ্টি আলোয় তার মুখে ফুটে উঠল একটুখানি কোমল হাসি। কৃতজ্ঞতার স্বরে সাদিদকে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “ধন্যবাদ।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>কিন্তু গোমড়া মুখে বসে থাকা সাদিদ কোনো উত্তর দিল না। যেন কথাগুলো তার কানে পৌঁছাই নি। মুহূর্তের মধ্যেই সে গাড়িটা ঘুরিয়ে দ্রুত চলে গেল। ধুলো উড়িয়ে দূরে মিলিয়ে যাওয়া সেই গাড়ির দিকে কিছুক্ষণ নিষ্পলক তাকিয়ে রইল লিলি। তারপর নিঃশ্বাস ফেলে মনে মনে বলল — এই মানুষটার মুখ থেকে কথা আশা করাটাই বোধহয় সবচেয়ে বড় বোকামি।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে পা রাখতেই লিলির চোখে ভেসে উঠল এক রঙিন, প্রাণবন্ত পৃথিবী। চারদিকে তরুণ প্রাণের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে আছে। কোথাও ছাত্রছাত্রীরা গাছের ছায়ায় বসে গল্প করছে, কোথাও হাসির রোল উঠছে আড্ডার ফাঁকে। কেউ তাড়াহুড়ো করে ক্লাসে ছুটছে, কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে নিশ্চিন্তে হাঁটছে। এই প্রাণবন্ত পরিবেশ মুহূর্তেই লিলির মনকে অদ্ভুতভাবে উজ্জীবিত করে তুলল। এসব দেখতে দেখতে সে যখন ক্লাসরুমের দিকে এগোচ্ছিল,তখন হঠাৎই সামনে থেকে আসা একজনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে গেল।দুজনেই খানিকটা টলে উঠল। লিলি তড়িঘড়ি করে মেয়েটিকে বলল</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “সরি সরি।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>মেয়েটি হালকা হাসি দিয়ে বলল </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “আরে ইটস ওকে।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>লিলি একটু অপ্রস্তুত হয়ে আবার বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “এগেইন সরি। আপনার লাগেনি তো?”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>তার ‘আপনি’ সম্বোধন শুনে মেয়েটি হঠাৎ হেসে উঠল। চোখে দুষ্টুমি ঝিলিক দিয়ে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “আমরা সম্ভবত সেম ব্যাচ। তাহলে তুমি আমায় আপনি করে বলছো কেন?”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>লিলি একটু লজ্জা পেয়ে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “আসলে…”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>মেয়েটি হাত তুলে থামিয়ে দিয়ে হেসে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “আরে থাক থাক, সমস্যা নেই। বাই দা চৌরাস্তা, আমি রিমা। তুমি?”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>রিমার প্রাণখোলা কণ্ঠে লিলির মনটা হঠাৎই হালকা হয়ে গেল। সেও মৃদু হেসে বলল </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “লিলি।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>ক্লাস চলাকালীনই তাদের আলাপ ধীরে ধীরে আরও গভীর হতে লাগল। কথা বলতে বলতে বোঝা গেল, দুজনের মন-মানসিকতার মধ্যেও বেশ মিল রয়েছে। খুব অল্প সময়েই একটা সহজ বন্ধুত্ব গড়ে উঠল তাদের মধ্যে। ক্লাস শেষ হওয়ার পর রিমা লিলিকে ক্যান্টিনে নিয়ে গেল। ক্যান্টিনের কোণার একটা টেবিলে বসে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ হাতে নিয়ে গল্পে মেতে উঠল তারা।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>রিমা হঠাৎ বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “দেখ, আমার কিন্তু তুমি-টুমি পোষাবে না। আমি তোকে ‘তুই’ করেই বলব।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>লিলি হেসে মাথা নাড়ল। তার আপত্তি নেই।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>রিমা আবার জিজ্ঞেস করল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “তোর বাড়ি কোথায়, লিলি?”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>প্রশ্নটা শুনে লিলি চুপ হয়ে গেল। তারপর ধীরে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “আমি এখন আমার... শ্বশুরবাড়িতে থাকি।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>রিমা বিস্ময়ে চোখ বড় বড় করে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “কি! তোর বিয়ে হয়ে গেছে? কবে? কীভাবে? বল বল, সব বল!”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “হ্যাঁ, বিয়ে করেছি। একটু জটিল গল্প। পরে নাহ বলব।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>রিমা চোখ টিপে মুচকি হেসে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “ঠিক আছে, কিন্তু পুরো গল্প শুনতে চাই, কেমন? তা, তোর হাজব্যান্ড কেমন?”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>লিলির ঠোঁটে তখনও হাসি লেগে আছে, কিন্তু মনে মনে সাদিদের পিন্ডি চটকিয়ে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>'কেমন আবার গোমড়া মুখো, খারুস, অসভ্য, হনুমান একটা।'</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>তবে এসব কথা কি আর নতুন বন্ধুকে বলা যায়? তাই নিজের মনের কথাগুলো গোপন রেখে সে শান্ত স্বরে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “অনেক ভালো। আমি হলফ করে বলতে পারি, তার মতো মানুষ এই পৃথিবীতে আর এক পিসও নেই।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>রিমা আর বেশি ঘাঁটাল না বিষয়টা। সেও হাসতে হাসতে অন্য প্রসঙ্গে চলে গেল। </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>———</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>নিজের অফিসকক্ষে বসে মনোযোগ দিয়ে কিছু ফাইলপত্র উল্টেপাল্টে দেখছে সাদিদ। বড় টেবিলের ওপর ছড়িয়ে থাকা নথিগুলোতে চোখ রাখলেও তার মন পুরোপুরি সেখানে নেই। আজ আবার অকারণে কিছু তিক্ত স্মৃতি মাথার ভেতর ভেসে উঠায় তার মেজাজটা ভালো নেই।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>এমন সময় দরজায় হালকা নক শোনা গেল।সাদিদ সংক্ষিপ্ত স্বরে বলল</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“কাম ইন,” </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে সেক্রেটারি বিনয়ী ভঙ্গিতে বলল, </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“স্যার, মোরশেদ দেওয়ান এসেছে। আপনার সঙ্গে দেখা করতে চাইছে।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>নামটা শুনতেই সাদিদের ভ্রু সামান্য কুঁচকে গেল। মোরশেদ দেওয়ান, লোকটার সঙ্গে তার একটা সাক্ষাৎ সত্যিই জরুরি ছিল—কিন্তু সেটা অফিসে নয়। আসন্ন নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে সাদিদের ব্যবসায়িক প্রভাব আর মানুষের মধ্যে তার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা মোরশেদের জন্য স্পষ্ট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও লোকটা নিজে থেকেই এখানে চলে এসেছে।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে সাদিদ ঠান্ডা গলায় বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“পাঠিয়ে দাও।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>অল্পক্ষণের মধ্যেই দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করল একজন মাঝবয়সী পুরুষ। পরনে সাদা পাঞ্জাবি। কৃষ্ণবর্ণ মুখ, কিন্তু চোখদুটো অদ্ভুতভাবে তীক্ষ্ণ, সবসময় হিসেব কষে চলা এক ধূর্ত দৃষ্টি। কক্ষে ঢুকেই লোকটা মুচকি হেসে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“কেমন আছো, সাদিদ?”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>সাদিদ চেয়ারে হেলান দিয়ে শান্ত স্বরে উত্তর দিল </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “ভালো। বলুন, কী ব্যাপার?”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>মোরশেদ তার ঠোঁটের হাসিটা আরেকটু প্রসারিত করল।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “আরে, কী আর ব্যাপার হতে পারে বলো! তোমার সঙ্গে একটু দেখা করতে এলাম। হাজার হোক, আমরা তো এখন একই খেলায় নেমেছি। কেউ হাড়বো কেউ বা জিতব।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>সাদিদ ধীরে ঠোঁটে একটুখানি বাকা হাসি ফুটিয়ে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“আমি কোনো খেলা খেলতে আসিনি, মোরশেদ সাহেব। আর না হাড়তে শিখেছি।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>এই কথায় মোরশেদের মুখের হাসি এক ঝটকায় মিলিয়ে গেল। চোখে কড়া দৃষ্টি নিয়ে সে গম্ভীর কণ্ঠে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “দেখো, ছেলে। আমি ভদ্রভাবে বলছি নির্বাচন থেকে সরে যাও। তুমি ব্যবসায়ী মানুষ, ব্যবসা করো। এই রাজনীতি করে কী লাভ!”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>কথাগুলো শেষ হতেই সাদিদ ধীরে ধীরে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। তার চোখে তখন স্পষ্ট রাগের ঝলক। তবু ঠোঁটে একটা স্থির হাসি রেখে সে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“ হুমকি দিচ্ছেন, মোরশেদ সাহেব? তবে দুঃখজনকভাবে আমি ভয় পেলাম না। তাছাড়া… ব্যবসায়ী মানুষ কিন্তু ভালো রাজনীতি করতে পারে। কিছুদিন পরেই আপনি তার প্রমাণ পাবেন।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>এই স্পষ্ট প্রত্যাখ্যান শুনে মোরশেদের মুখ লাল হয়ে উঠল রাগে। তিনি মূলত চেয়েছিলেন ভয় দেখিয়ে তথবা কথা বলে যেভাবেই হোক সাদিদ কে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিতে। তবে তা আর হলো কই। ধীর পায়ে দরজার দিকে এগিয়ে যেতে গিয়ে থেমে বলল</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“কাজটা ভালো করলে না, সাদিদ।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>সাদিদ কোনো উত্তর দিল না। সে স্থির চোখে দরজার দিকে তাকিয়ে রইল, যতক্ষণ না মোরশেদ বেরিয়ে যায়। দরজা বন্ধ হতেই ঘরের ভেতর আবার নীরবতা নেমে এল। কিন্তু সাদিদের মাথার ভেতর তখন দ্রুত হিসেব কষা শুরু হয়েছে। সে খুব ভালো করেই জানে মোরশেদ দেওয়ান বসে থাকার মানুষ নয়। লোকটা নিশ্চয়ই আবার কোনো না কোনো গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করবে। কিছুক্ষণ ভেবে ফোনটা তুলে নিয়ে হাসিবকে কল করল। কল রিসিভ হতেই সাদিদ সংক্ষিপ্ত স্বরে জিজ্ঞেস করল</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“কাজ হয়েছে?”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>অপর পাশ থেকে হাসিবের গলা ভেসে এল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“হ্যাঁ ভাই, সবকয়টা কে ধরে নিয়ে এসেছি। গোডাউনে আছে।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>এই কথাটা শুনে সাদিদের ঠোঁটে ধীরে ধীরে একটুখানি ক্রুর হাসি ফুটে উঠল।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“ওদের খাতির-যত্ন কর। রাতে আসছি।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“ঠিক আছে ভাই।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>ফোন কেটে দিয়ে সাদিদ কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর কোটটা ঠিক করে নিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। আজ গুরুত্বপূর্ণ একটা মিটিংয় আছে। আর ডিলটা অফিসের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>———</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>লিলির দিনটা মোটামুটি ভালোই কাটল। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়, নতুন বন্ধু, নতুন পরিবেশ সবকিছুই তাকে এক অদ্ভুত উচ্ছ্বাসে ভরিয়ে রেখেছিল সারাদিন। কিন্তু ছুটি হওয়ার পর যখন সে গেটের সামনে এসে দাঁড়াল, তখনই সেই ভালো লাগার আবেশে হঠাৎ ফাটল ধরল। চারদিকে তাকিয়ে বুঝল সাদিদ এখনো আসেনি। কিছুটা অস্বস্তি নিয়ে ব্যাগের ভেতর হাত ঢুকিয়ে ফোনটা বের করল লিলি। নম্বরটা ডায়াল করবে ভেবেই হঠাৎ মনে পড়ল—সে তো সাদিদের ফোন নম্বরই জানে না! মুহূর্তেই তার মুখের ভাব বদলে গেল। যেই সামান্য টাকাটা নিয়ে বেরিয়েছিল, সেটাও তো ক্যান্টিনে আড্ডা দিতে দিতেই শেষ করে ফেলেছে।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>তাহলে এখন সে বাড়ি যাবে কীভাবে? চারপাশে তাকিয়ে লিলি বুঝতে পারল, জায়গাটা দ্রুত ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ আগেও যেখানে ছাত্রছাত্রীদের কোলাহলে মুখর ছিল, এখন সেখানে কেবল ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কয়েকজন মানুষ। চারপাশে এক ধরনের নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে। অপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে থাকা ঠিক হবে না ভেবে লিলি ধীরে ধীরে হাঁটা শুরু করল।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>কিছুদূর এগোনোর পর হঠাৎ তার মনে হলো কেউ যেন তাকে অনুসরণ করছে। প্রথমে বিষয়টা গুরুত্ব দিল না। হয়তো কাকতালীয়ভাবেই কেউ একই পথে যাচ্ছে।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>কিন্তু একটু পরে পিছনে তাকাতেই দেখল, দুটো ছেলে সত্যিই তার পিছু নিয়েছে। মনের ভেতর একটা ভয় নেমে এলো। তবু নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করল লিলি। হাঁটার গতি একটু বাড়াল।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>তবে ছেলেদুটোও দ্রুত পায়ে তার দিকে এগিয়ে আসছে। এবার সত্যিই ভয় পেয়ে গেল সে। হৃদপিণ্ড যেন বুকের ভেতর জোরে ধকধক করতে লাগল। একসময় আর নিজেকে সামলাতে না পেরে দৌড়ে উঠল লিলি। পেছনে তাকিয়ে দেখল—ছেলেদুটো তখনো তার পিছু নিয়েই ছুটছে।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>দৌড়াতে দৌড়াতে হঠাৎ সামনে থাকা একজনের সঙ্গে জোরে ধাক্কা খেল সে। ভারসাম্য হারিয়ে সোজা মাটিতে পড়ে গেল। অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে যাওয়া লিলিকে দেখে লোকটা তাড়াতাড়ি এগিয়ে এলো।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “ঠিক আছেন আপনি?”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>লিলি তাড়াহুড়ো করে উঠে দাঁড়াল। জামায় লেগে থাকা ধুলো ঝাড়তে ঝাড়তে পিছনে তাকাল।আশ্চর্যজনকভাবে ছেলেদুটো ততক্ষণে কোথাও নেই। যেন মুহূর্তের মধ্যেই অদৃশ্য হয়ে গেছে। লিলির দৃষ্টি অনুসরণ করে অচেনা লোকটাও সেই দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকাল। তারপর গম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “ফলো করছিল?”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>লিলি নীরবে মাথা নাড়ল। তারপর চোখ তুলে প্রথমবারের মতো ভালো করে তাকাল লোকটার দিকে। লোকটার উচ্চতা প্রায় সাদিদের সমান। সুঠাম গড়ন, প্রশস্ত কাঁধ। তবে তার গায়ের রঙটা অস্বাভাবিক রকম উজ্জ্বল—একটু বিদেশিদের মতো। আবার পুরোপুরি বিদেশিও মনে হয় না। অদ্ভুতভাবে লোকটাকে খুব পরিচিত লাগল লিলির। কোথায় যেন আগে দেখেছে। কিন্তু যতই মনে করার চেষ্টা করুক, ঠিক কোথায় দেখেছে তা কিছুতেই মনে পড়ল না।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>এদিকে লিলির কথা শুনে লোকটার চোখে এক মুহূর্তের জন্য অজানা ক্রোধের ঝলক ফুটে উঠল। কিন্তু সে তা সঙ্গে সঙ্গে চাপা দিয়ে</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “আপনি এই সময় এই রাস্তায় কী করছেন? সাধারণত এই সময় রাস্তাগুলো খুব ফাঁকা থাকে।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>লিলি একটু ইতস্তত করে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “ওই... বাসায় যাচ্ছিলাম।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “একা একা? আসুন, আমি আপনাকে পৌঁছে দিচ্ছি। এই সময় রাস্তাটা নিরাপদ নয়।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>লিলি তাড়াতাড়ি মাথা নাড়ল।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “না, তার কোনো প্রয়োজন নেই। আমি যেতে পারব।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “এই সময় কোনো গাড়ি পাবেন না। বাই দ্য ওয়ে… আপনি কি আমাকে ভয় পাচ্ছেন?”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>লিলি ভ্রু কুঁচকে একটু বুক চিতিয়ে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “ভয় কেন পাব? আমি অনেক সাহসী।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>তার সেই বাচ্চাসুলভ ভঙ্গি দেখে লোকটার চোখে মৃদু হাসি ফুটে উঠল।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “তাহলে তো হলোই। চলুন, আপনাকে পৌঁছে দিয়ে আসি।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>লিলি কিছুক্ষণ চুপচাপ লোকটার দিকে তাকিয়ে রইল। চেহারা দেখে তাকে ভদ্রলোকই মনে হচ্ছে। তাছাড়া তার কাছে এখন কোনো টাকাও নেই, আর সাদিদও আসেনি তাকে নিতে। অনেক ভেবেচিন্তে শেষ পর্যন্ত সে রাজি হলো। গাড়িতে উঠে বসতেই ঠিকানাটা বলল লিলি। খুব বেশি সময় লাগল না কিছুক্ষণের মধ্যেই গাড়ি এসে থামল সাদিদের বাড়ির সামনে। গাড়ি থেকে নেমে লিলি ভদ্রভাবে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “ধন্যবাদ।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>তারপর দ্রুত পায়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকে গেল।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>গেট পেরিয়ে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া সেই মেয়েটির দিকে কিছুক্ষণ স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল লোকটা। তার ঠোঁটে ধীরে ধীরে এক অদ্ভুত হাসি ফুটে উঠল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“Blueberry, my blueberry. You are still like before—sweet and soft, just like a blueberry. Finally, I found you, sweetheart. Now all that’s left is to keep you all to myself.”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>———</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>রাত গভীর হয়ে এসেছে। শহরের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে একটি পরিত্যক্ত গোডাউন। দীর্ঘদিনের অবহেলায় যার ভেতরটা ধুলোবালিতে ঢেকে গেছে। চারপাশে ছড়িয়ে আছে ভাঙা কাঠের বাক্স, মরিচা ধরা লোহার টুকরো। বহুদিন বন্ধ থাকার কারণে ভেতরে একটা ভ্যাপসা, দমবন্ধ করা গন্ধ জমে আছে।গোডাউনের এক কোণে তিনজন যুবক হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছে। তাদের মুখে ভয় আর ক্রোধ মিশে তৈরি হয়েছে অদ্ভুত এক অভিব্যক্তি। চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>গোডাউনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে হাসিব। আগের আঘাত কাটিয়ে এখন সে মোটামুটি সুস্থ। তার পাশে আরও দুজন লোক দাঁড়িয়ে আছে। একজনের হাতে লোহার রড, আরেকজনের হাতে পিস্তল। তাদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঠিক তখনই গোডাউনের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল সাদিদ। পরনে এখনো তার অফিসের সেই গেটআপ।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>হাসিব এগিয়ে এসে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “ভাই, এরাই সেদিন সেমিনারে গণ্ডগোল করেছিল। এরা মোরশেদের লোক। তবে বলছে, মোরশেদ নাকি এসবের মধ্যে ছিল না।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>সাদিদ ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে বাঁধা অবস্থায় থাকা একজন যুবকের সামনে দাঁড়াল। ছেলেটির ঠোঁটের পাশে শুকিয়ে যাওয়া রক্তের দাগ লেগে আছে।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>অতপর শান্ত অথচ বরফশীতল বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “জানের ভয় নেই নাকি? বাহ… তোরা তো দেখছি ভীষণ সাহসী।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>ছেলেটি দাঁতে দাঁত চেপে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “ভাই ছিল না এসবে।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>সাদিদ ঠোঁটের কোণে সামান্য হাসি ফুটিয়ে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “ইমপ্রেসিভ। তোদের কে তো ভালোই ট্রেনিং দিয়েছে… মোরশেদ দেওয়ান।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>হাসিব পাশে দাঁড়িয়ে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “ভাই, এরা বলছে মোরশেদ আপনার পরিবারের ওপর নজর রাখছে।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>এই কথাটা শুনে সাদিদের ভ্রু কুঁচকে উঠল। হঠাৎ করেই তার মনে পড়ল বিচ্ছু মেয়েটার কথা। সকালে তাকে ভার্সিটিতে নামিয়ে দিয়ে আসার পর আর খোঁজ নেওয়া হয়নি। তবে ড্রাইভারকে তো বলে দিয়েছিল মেয়েটাকে নিয়ে আসতে। তাই বিষয়টা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলল সাদিদ। ঠিক তখনই হঠাৎ গোডাউনের ভেতর আরেকটা গলা ভেসে উঠল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “আমাকে ছাড়া ওদের মারিস নাআআআ! আমিও মারব রে পাগলা!”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>কথাটা শুনে সাদিদের মুখে চরম হতাশার ছাপ ফুটে উঠল। বাড়িতে একটা পাগল, বাইরে আরেকটা। মাঝখানে ফেসে গেছে সাদিদ।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>ওই একটা গান আছে না,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>&#x1f3b6;</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>বাবা তোমার দরবারে সব পাগলের খেলা</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>হরেক রকম পাগল এসে মিলাইছে মেলা</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>বাবা তোমার দরবারে সব পাগলের খেলা</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>এই মুহূর্তে ঠিক এই অবস্থাই সাদিদের জীবনের। বাড়ি হোক বা বাইরে চারপাশে শুধু পাগল আর পাগল। সুস্থ মানুষের দেখা পাওয়া যেন দিন দিন তার জন্য দুষ্কর হয়ে উঠছে। এদিকে হাসিব আরিফের কথা শুনে এগিয়ে এসে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “কিন্তু ভাই, ধোলাইয়ের পর্ব তো শেষ।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>আরিফ নাটকীয় ভঙ্গিতে বুক চাপড়ে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “না না না! এটা হতে পারে নাআআ! আমাকে ছাড়া তোরা এটা কী করে করতে পারলি, পাষণ্ড!”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>সাদিদ এবার গম্ভীর কণ্ঠে ডাকল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “আরিফ।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>আরিফ সঙ্গে সঙ্গে মেকি কান্নার ভান করে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “সবসময় তুই এমন করিস। তোর সাথে আর কথা নেই, সাদি মামা।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>এদিকে হাসিব তাদের এই নাটকীয় দৃশ্য দেখে হতভম্ব হয়ে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“এদেরকে কি ছেড়ে দেব, নাকি আরেকটু ‘খাতির’ করব ভাই?”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>আরিফ তো খুশিতে লাফিয়ে উঠে বলতে যাচ্ছিল—আরেকটু খাতির করি। কিন্তু তার আশায় মাটিচাপা দিয়ে সাদিদ শান্ত গলায় বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “ছেড়ে দে।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>তারপর বাঁধা ছেলেগুলোর দিকে তাকিয়ে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “বলে দিস তোদের বসকে… যদি সে আমার পরিবারের দিকে নজর দেয়, তাহলে তার জন্য এই শহরে টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>কথাটা বলেই সাদিদ ঘুরে দাঁড়াল। আরিফও তার সঙ্গে গোডাউন থেকে বেরিয়ে এল। গাড়ির কাছে এসে সাদিদ ড্রাইভিং সিটে বসতেই আরিফ তাড়াতাড়ি পাশের সিট দখল করে নিল। গাড়ি ছাড়ার আগ মুহূর্তে সে কিছুক্ষণ সাদিদের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থেকে হঠাৎই বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “শুনেছি বিয়ে হলে মানুষের রূপ বাড়ে। এখনই তো দেখছি সেটা সত্যি কথা রে ভাই।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>সাদিদ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “গাড়ি স্টার্ট নিচ্ছে না। একটু ঠেলা দে।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>আরিফ সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজিত হয়ে নেমে পড়ল।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “আরে এটা আবার কোনো কথা হলো! বিপদে তো বন্ধুই বন্ধুর কাজে আসে। নো টেনশন সাদি মামা। আমার শরীরে অনেক শক্তি জিমে যাওয়া শুরু করেছি না! এক ধাক্কাতেই গাড়ি উগান্ডা চলে যাবে।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>কিন্তু আরিফের সেই উগান্ডা পাঠানোর স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই চোখের পলকে সাদিদ দরজা বন্ধ করে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চলে গেল।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>আরিফ হতভম্ব হয়ে প্রায় দুই সেকেন্ড দাঁড়িয়ে রইল। তারপর ব্যাপারটা বুঝতে পেরে চিৎকার করে উঠল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “সাদিইইই! তুই বউয়ের জুতার বাড়ি খাবিইইই!”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>তারপর নাটকীয় ভঙ্গিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>— “আল্লাহ! তোমার কাছে বিচার দিলাম। ওই নাকউঁচু সাদিরে যেন একদিন ওর বউ নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরায়!”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>]]></content:encoded>
						                            <category domain="https://xgossip.fun/community/"></category>                        <dc:creator>Bara Miya</dc:creator>
                        <guid isPermaLink="true">https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%80%e0%a6%b7%e0%a6%a3-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0/paged/2/#post-287</guid>
                    </item>
				                    <item>
                        <title>RE: গল্প: আপনি আমার ভীষণ কাছের কেউ (লেখনিতে:সুমাইয়া তুলি)</title>
                        <link>https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%80%e0%a6%b7%e0%a6%a3-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0/paged/2/#post-286</link>
                        <pubDate>Tue, 08 Sep 2026 07:00:46 +0000</pubDate>
                        <description><![CDATA[Part:05
&nbsp;
&nbsp;
 
 
বহমান সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না।
মাঝে কেটে গেছে তিনটে দিন। এই তিনদিনে লিলি সাদিদের মুখোমুখি হয়েছে হাতেগোনা কয়েকবার মাত্র। সেদিনের ঘটনাটিও সে আর আয়েশা বেগমক...]]></description>
                        <content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center"><strong>Part:05</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>বহমান সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>মাঝে কেটে গেছে তিনটে দিন। এই তিনদিনে লিলি সাদিদের মুখোমুখি হয়েছে হাতেগোনা কয়েকবার মাত্র। সেদিনের ঘটনাটিও সে আর আয়েশা বেগমকে জানায়নি।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>আজকের সন্ধ্যাটা লিলির জন্য যেন একটু বেশিই গুমোট। না, বাইরের আকাশে কোনো মেঘ জমেনি; তবু ঘরের ভেতরের আবহাওয়ায় যেন এক অদৃশ্য গুমোট ভাব জমে উঠেছে। কারণ আজ আয়েশা বেগম ফিরে যাচ্ছেন রাজশাহী। যেহেতু সাদিদ শুধু ঢাকার ব্যবসাগুলোই সামলায়, তাই রাজশাহীসহ পরিবারের অন্যান্য ব্যবসার দায়িত্ব মূলত থাকে আয়েশা বেগমের কাঁধেই। তার ওপর এখন আবার সাদিদ নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছে। আশা করা যায়, এই ব্যস্ততার মাঝেও সে অন্তত ব্যবসার দায়িত্ব থেকে নিজেকে পুরোপুরি সরিয়ে নেবে না এতটুকু ভরসা তো করাই যায়।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>কিন্তু আয়েশা বেগমের এই চলে যাওয়া লিলি কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। তার কণ্ঠে অবুঝ শিশুর আবদারের সুর ভেসে ওঠে। সে আকুল হয়ে বলে ওঠে,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“আমি আপনার সাথে যেতে চাই, শাশুড়ি আম্মু।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>বারবার একই কথা শুনে বিরক্ত হয়ে আয়েশা বেগম গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠলেন,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“দেখো মেয়ে, আর একবার যদি তুমি এই বাড়ি থেকে যাওয়ার কথা বলো, তাহলে সংসার আর পড়াশোনা দুটোই হারাবে।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>আমি জানি, তুমি হয়তো ওকে ভয় পাও। কিন্তু ভয় পেয়ে দূরে সরে গেলে সবই হারাবে। ওর বাহ্যিক রূপের আবরণের আড়ালে যে মানুষটা লুকিয়ে আছে, তাকে জানার চেষ্টা করো।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>তারপর বিদায়ের সেই আবেগঘন মুহূর্তে তিনি লিলিকে দিয়ে গেলেন একগুচ্ছ উপদেশ। এই অল্প কয়েকদিনেই আয়েশা বেগম বুঝে গেছেন লিলি চঞ্চল, প্রাণবন্ত এক মেয়ে। আর তার দৃঢ় বিশ্বাস, এই মেয়েটিলাই একদিন পারবে তার গাম্ভীর্যে মোড়া ছেলেটাকে সত্যিকারের সংসারী করে তুলতে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>আয়েশা বেগমের চলে যাওয়া লিলির মনে এক অদ্ভুত অপূর্ণ শূন্যতার জন্ম দিল। এই কয়েকদিনেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন তার আপনজনের মতো। আর তার থেকেও বড় কথা—এখন এই বিশাল বাড়িতে তাকে থাকতে হবে ওই খারুস, অসভ্য লোকটার সঙ্গেই।তবুও শাশুড়ির বলা কথাগুলো মনে করে লিলি মনে মনে এক দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিল। এই স্বামী নামক আসামিকে সে একদিন জব্দ করেই ছাড়বে।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>———</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>রান্না জিনিসটা লিলি ভালোই পারে। একপ্রকার শখের বসেই এটা শেখা তার। তবে এই শখ যে আজ এভাবে কাজে লেগে যাবে, তা কি আর বোকা লিলি জানত! শাশুড়ি না থাকায় আজ সাদিদের জন্য সে নিজেই রান্না করেছে। আয়েশা বেগম এই ক’দিনেই তাকে সাদিদের পছন্দসই খাবারগুলো রান্না করা শিখিয়ে দিয়েছেন। যদিও লিলির মতে ওগুলোকে ঠিক রান্না বলা যায় না। ঘাসপাতা সেদ্ধকে আবার রান্না বলে নাকি!</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>যাহোক, লিলি সেই “ঘাসপাতা” অর্থাৎ তেল-মশলা ছাড়া মিক্সড ভেজিটেবল কারি আর চিকেন স্যুপ । তবে ঠিক কেমন হয়েছে, তা সে বুঝতে পারছে না। নিজে চেখে দেখারও কোনো ইচ্ছে নেই তার। যদিও মনে মনে একটু ভয়ও কাজ করছে কিছু কম-বেশি হলে গোমড়া মুখোটা খাবে কি না সন্দেহ! বাহারি কাকাও আজ এখানে উপস্থিত নেই। থাকলে তাকে একটু টেস্ট করতে দেওয়া যেত।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>বাহারি বাড়ির পেছনের তিন রুম বিশিষ্ট সার্ভেন্ট কোয়ার্টারে থাকে। আগে এই বাড়িতে তার অগাধ আসা-যাওয়া থাকলেও লিলি আসার পর থেকে শুধুমাত্র প্রয়োজনেই সে এই তল্লাটে আসে। তা ছাড়া তাকে খুব একটা দেখা যায় না।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>টেবিলে সাদিদের খাবার সাজিয়ে রেখে নিজে বসে পড়ল গরম গরম ভাত আর গলদা চিংড়ি ভুনা নিয়ে। এটা শাশুড়ি দুপুরে রান্না করে রেখে গিয়েছিলেন। আর চিংড়ি মাছ তো লিলির ভীষণ পছন্দের। নিজের খাওয়ার পাট চুকিয়ে লিলি বসে রইল তার অপ্রিয় খারুস মশাইয়ের জন্য।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>তবে বসে থাকতে থাকতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে, সে নিজেও টের পায়নি। দরজা খোলার শব্দে যখন তার ঘুম ভাঙল, তখন ঘড়ির কাঁটা বারোটার ঘর ছুঁয়েছে। ঘুমঘুম চোখে লিলি তাকিয়ে দেখল—সাদিদ এসেছে। কিন্তু সে লিলিকে দেখেও না দেখার ভান করে সোজা ভেতরের দিকে চলে গেল। সাদিদের এই নির্লিপ্ত ভাব দেখে লিলি যেমন অবাক হলো, তেমনি রেগেও গেল। তাই তো আচমকাই চেঁচিয়ে উঠল সে। না হলে এমনিতে সে অত্যন্ত ভদ্র, শান্ত-শিষ্ট মেয়ে।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“খাবার খেয়ে যান।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>সিঁড়ি বেয়ে উঠতে থাকা সাদিদ থেমে গেল তার কথায়। কপালটা অজান্তেই কুঁচকে গেল। পেছন ফিরে তাকাল লিলির দিকে। তার সেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেখে কিছুটা ভড়কে গেল লিলি, তবে বাইরে তা প্রকাশ করল না। পিটপিট করে তাকিয়ে রইল সাদিদের পানে। সাদিদ তাকে উপেক্ষা করে আবার এগিয়ে যেতে চাইলে লিলি আগের চেয়ে দ্বিগুণ জোরে বলে উঠল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“খাবাবাবার খেয়েয়েয়ে…”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“শাট আপ, স্টুপিড!”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>সাদিদের ধমক যেন গোটা ঘরজুড়ে প্রতিধ্বনিত হলো। কেঁপে উঠল লিলি।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“কি শুরু করেছ তুমি?”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>পুনরায় তার গম্ভীর কণ্ঠে লিলি আবার কেঁপে উঠল। তার এই কাঁপাকাঁপি দেখে চরম বিরক্ত হলো সাদিদ।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“মৃগী হয়েছে তোমার?”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>লিলি অবাক হয়ে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“তা কেন হবে?”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“তাহলে এত কাঁপাকাঁপি করছ কেন, স্টুপিড?”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>সাদিদের কথাকে অপমান হিসেবে নিয়ে সহসা মিলিটারিদের মতো সোজা হয়ে দাঁড়াল লিলি। বুকভরা শ্বাস নিয়ে আবার বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“খাবার খেয়ে যান।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>বিরক্ত সাদিদ গমগমে গলায় বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“তোমাকে ওয়ার্ন করিনি এমন বউগিরি দেখাবে না।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>মনে মনে সাদিদকে ভেংচি কাটল লিলি। এই খারুসকে বউগিরি দেখাতে তার বয়েই গেছে!</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“আমার কোনো ইচ্ছে নেই আপনাকে বউগিরি দেখানোর। আপনি খাবার খেয়ে যান।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>একই কথা বারবার শুনে ক্লান্ত সাদিদ আর ঝামেলা করতে চাইল না। তাই বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“খেয়ে এসেছি।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“এই এই, মিথ্যে কথা! আপনি আমার রান্না খাবেন না বলে এই কথা বলছেন, তাই না?”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“বুঝেছ যখন, তাহলে এত বকবক করছ কেন?”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“আমার কোনো শখ নেই আপনার সাথে কথা বলার। নেহাৎই শাশুড়ি আম্মু বলেছে তাই।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>সাদিদ তাকে ইগনোর করে চলে যেতে চাইল। সারাদিন এমনিতেই প্রচুর ধকল গেছে তার ওপর দিয়ে। এখন তার দরকার একটু বিশ্রাম। আর সেখানে এই মেয়ে বকবক করে তার মাথা খাচ্ছে। সাদিদকে চলে যেতে দেখে লিলি আবার বলে উঠল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“আপনি যদি না খান, তাহলে আমি মাইক লাগিয়ে বলে বেড়াব। আপনি আমাকে মেরেছেন! শাশুড়ি আম্মুকেও বলে দেব। সবাইকে বলে দেব!”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>কিন্তু তার কথায় কোনো পাত্তা না দিয়ে হনহন করে নিজের কক্ষে চলে গেল সাদিদ। লিলির এবার সত্যিই তার ওপর অভিমান হলো। সে কত কষ্ট করে রান্না করল একটু খেলে কি এমন ক্ষতি হতো!</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>———</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>রাত কেটে নতুন দিনের আলো ফুটে উঠেছে। লিলি ফজরের নামাজ আদায় করার পর আর ঘুমোতে পারেনি। উত্তেজনায় তার চোখে ঘুমই আসেনি। আজ যে তার ভার্সিটিতে প্রথম দিন! তাই সকাল সকাল তৈরি হয়ে ডাইনিং টেবিলে বসে আছে সে। নিজের হাতেই বানিয়েছে রুটি আর সবজি। সকালে আর সাদিদের জন্য আলাদা করে রান্না করেনি সে। সবকিছু ঠিকঠাকই আছে তবে একটা সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। আজ তাকে ভার্সিটিতে নিয়ে যাবে কে? শাশুড়ি আম্মুও তো নেই। আর রইল সাদিদ,সে কি আর লিলিকে নিয়ে যাবে!</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>ঠিক সেই সময় সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামল সাদিদ। পরনে ফর্মাল ড্রেস, হাতে রোলেক্সের ঘড়ি। চুলগুলো জেল দিয়ে সুন্দর করে সেট করা। সব মিলিয়ে একদম পারফেক্ট জেন্টলম্যান। না চাইতেও আড়চোখে কয়েকবার তার দিকে তাকাল লিলি। সাদিদ বরাবরের মতো লিলিকে এড়িয়ে গিয়ে চুপচাপ ডাইনিং টেবিলে বসে গম্ভীর গলায় ডাক দিল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“বাহারি কাকা!”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>কিছুক্ষণের মধ্যেই বাহারি কাকা ছুটে এলেন।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“কি হইয়েছে সাদিদ বাবা?”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“আমার ব্রেকফাস্ট কোথায়?”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“হামি এক্ষুনি লিয়ে আসছি।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>এরই মধ্যে বাহারি কাকা এনে দিল অ্যাভোকাডো, সালাদ আর সবুজ রঙের জুস। কিসের জুস কে জানে। লিলি একবার চোখ ঘুরিয়ে দেখে নাক সিঁটকালো, “এগুলো আবার কেউ খায় নাকি! একেবারে অখাদ্য! ছি!”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>খাওয়া শেষ করে সাদিদ যখন উঠে যাচ্ছিল, তখন হঠাৎ লিলি বলে উঠল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“আজ আমার ভার্সিটির প্রথম দিন।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>সাদিদ ফিরে তাকিয়ে শান্ত কণ্ঠে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“তো?”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>ভীষণ রাগ হলো লিলির। তবুও নিজেকে শান্ত রেখে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“আমাকে একটু পৌঁছে দেবেন?”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>সাদিদ নির্লিপ্ত স্বরে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“ড্রাইভারকে বলে দিচ্ছি, সে তোমাকে পৌঁছে দেবে।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>লিলি ঝট করে বলে উঠল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“শাশুড়ি আম্মু কাল ফোন করে বলেছে আপনি যদি আমাকে না দিয়ে আসেন, তাহলে যেন তাকে বলে দিই। যাই, আগে শাশুড়ি আম্মুকে বলে আসি।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>এই বলে লিলি ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়িয়ে নিজের ব্যাগ থেকে ফোন বের করল। সাদিদ তার দিকে কড়া দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। বাই এনি চান্স, এই মেয়ে কি কাল রাত থেকেই তাকে ব্ল্যাকমেইল করছে? এদিকে লিলি আপন মনে তখনও বকবক করে যাচ্ছে,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“ইসস! যদি ড্রাইভার গাড়ি চালানোর সময় এক্সিডেন্ট করে ফেলে! তাহলে আমার কি হবে? এত কম বয়সে আমি মরে গেলে পৃথিবীর কত বড় ক্ষতি হয়ে যাবে—বুঝতে পারছেন বাহারি কাকা? থাক, আগে শাশুড়ি আম্মুকেই বলি।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>লিলির যুক্তিহীন কথায় বিরক্ত হলো সাদিদ। তর্ক করার মতো সময় বা ইচ্ছা—কোনোটাই আজ তার নেই। অফিসে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আছে, তারপর আবার পার্টি অফিসেও যেতে হবে। তাই বিরক্ত হয়ে সামনে এগোতে এগোতে বিড়বিড় করে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“ড্রামাকুইন! স্টুপিড একটা।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>এদিকে লিলি সঙ্গে সঙ্গেই বলে উঠল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“কি বললেন? আমাকে সঙ্গে যেতে? আহা তার কি দরকার! আমি তো ড্রাইভারের সাথেই যেতে পারতাম। যাহোক, আপনি এতো করে যেহেতু বলছেন তাহলে নাহয় আপনার সাথেই যাই।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>চড়া গলায় কথাগুলো বলে সাদিদের পিছু পিছু দৌড়াতে শুরু করল লিলি। সাদিদ গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে পড়তেই লিলি গিয়ে বসে পড়ল তার পাশের সিটে। কোনো কথা না বলে গাড়ি চালাতে শুরু করল সাদিদ। লিলি কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে জানালার বাইরে চোখ ফেরাল। বাইরের যানজটভরা দৃশ্যটা আজ তার কাছে অদ্ভুত সুন্দর লাগছে।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>হঠাৎ সিগন্যাল এসে গাড়ি থেমে গেল। সাদিদের মুখে ফুটে উঠল বিরক্তির ছাপ। ঠিক তখনই তার চোখ গিয়ে পড়ল ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা এক দম্পতির দিকে।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>মেয়েটা ফুল চাইতেই ছেলেটা পাশের দোকান থেকে একগুচ্ছ ফুল কিনে এনে মেয়েটার হাতে ধরিয়ে দিল। চোখের সামনে এই দৃশ্যটা হঠাৎ করেই সাদিদ কে মনে করিয়ে দিল তার অতীতের এক স্মৃতিকে।</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>স্মৃতির পাতায়…</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“গোলাপি গোলাপ সৌন্দর্য, প্রশংসা ও বন্ধুত্বের প্রতীক। সাদা গোলাপ শুদ্ধতা, শান্তির প্রতীক। হলুদ গোলাপ বন্ধুত্বের প্রতীক।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“আর লাল?”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>সাদিদের প্রশ্নে মেয়েটা হেসে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“ভালোবাসার প্রতীক। কিন্তু আমার লাল গোলাপ পছন্দ নয়।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>সাদিদ মেয়েটার কথায় সামান্য হেসে ফুলের তোড়া থেকে লাল গোলাপগুলো সরিয়ে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“এই জন্যই তুমি সবার থেকে ব্যাতিক্রম।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>থুতনিতে হাত ঠেকিয়ে মেয়েটা বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“ব্যাতিক্রম জিনিস কিন্তু খুব সহজেই হারিয়ে যায়, কাইরান সাহেব।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“হারাতে চাইছো নাকি?”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>মেয়েটা উচ্চস্বরে হেসে উঠল। তারপর বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“হারাব তো বটেই। তবে তার আগে আপনার মনের সব ভালোবাসা নিংড়ে নিয়ে যাব, যাতে এই হৃদয় আর কখনো অন্য কাউকে ভালোবাসতে না পারে।”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>তীব্র হর্নের শব্দে ভেঙে গেল সাদিদের স্মৃতির ঘোর। সিগন্যাল ছাড়ার অনেকক্ষণ পরেও গাড়ি না চলায় পেছনের গাড়িগুলো হর্ন দিতে শুরু করেছে। সাদিদের মুখে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই দেখে লিলি পাশ থেকে বলল,</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>—“আপনি ঠিক আছেন?”</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong>সাদিদ শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার গাড়ি চালু করল। লিলি চুপচাপ বসে রইল। সাদিদের চোখে লুকিয়ে থাকা স্মৃতির ধারা সে দেখতে পেল না। এক অজানা অথবা জানা যাত্রা পথে, দুই ভিন্ন পৃথিবীর মানুষ পাশাপাশি বসা সত্ত্বেও কত দূরত্বই না তাদের মাঝে বিদ্যমান!</strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>
<p style="text-align: center"><em><strong> </strong></em></p>]]></content:encoded>
						                            <category domain="https://xgossip.fun/community/"></category>                        <dc:creator>Bara Miya</dc:creator>
                        <guid isPermaLink="true">https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%80%e0%a6%b7%e0%a6%a3-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0/paged/2/#post-286</guid>
                    </item>
				                    <item>
                        <title>RE: গল্প: আপনি আমার ভীষণ কাছের কেউ (লেখনিতে:সুমাইয়া তুলি)</title>
                        <link>https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%80%e0%a6%b7%e0%a6%a3-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0/#post-285</link>
                        <pubDate>Tue, 08 Sep 2026 06:59:54 +0000</pubDate>
                        <description><![CDATA[Part:04
&nbsp;
&nbsp;
 
দূর থেকে পাখিদের কলরব ভেসে আসছে। ধরনীর বুকে আবারও এক নতুন দিনের সূচনা হয়েছে। সকালের মৃদু আলো ধীরে ধীরে চারপাশকে আলোকিত করে তুলছে।আজ লিলি ঘুম থেকে বেশ তাড়াতাড়িই ...]]></description>
                        <content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center"><strong>Part:04</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>দূর থেকে পাখিদের কলরব ভেসে আসছে। ধরনীর বুকে আবারও এক নতুন দিনের সূচনা হয়েছে। সকালের মৃদু আলো ধীরে ধীরে চারপাশকে আলোকিত করে তুলছে।আজ লিলি ঘুম থেকে বেশ তাড়াতাড়িই উঠে পড়েছে। ঘুম জড়ানো চোখে একটু সময় বসে থেকে আড়মোড়া ভেঙে নিল। তারপর আলমারি খুলে একটা সালোয়ার-কামিজ বের করল। শাশুড়ি আম্মু অবশ্য তাকে শাড়ি পরতে বলেছিলেন, কিন্তু শাড়ি পরে কি আর ভার্সিটিতে যাওয়া যায়! হাঁটতে গিয়েই যদি হোঁচট খেয়ে পড়ে যায়! তখন কি একটা অবস্থা হবে ভাবতেই নিজের মুখ কুঁচকে ফেলল লিলি। শেষ পর্যন্ত সালোয়ার-কামিজই পরে নিল। তৈরি হয়ে আয়েশা বেগমের কক্ষের সামনে এসে কিছুটা দ্বিধা নিয়ে দরজায় নক করল।</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“শাশুড়ি আম্মু?”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>ভেতর থেকে গম্ভীর স্বর ভেসে এলো।</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“ভেতরে এসো।”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>লিলি ধীরে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল।আয়েশা বেগম ইতোমধ্যেই তৈরি হয়ে বিছানার পাশে বসে আছেন। তাঁর পরিপাটি সাজ আর গম্ভীর মুখাবয়ব সব সময়ের মতোই কঠোর ও স্থির। তিনি একবার লিলির দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে বললেন,</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“রেডি হয়ে গেছ?”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>লিলি মাথা নিচু করে উত্তর দিল,</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“জি।”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>কিছুক্ষণ নীরবতা রইল ঘরের ভেতর। তারপর আয়েশা বেগম দীর্ঘ একটা নিঃশ্বাস ফেলে বললেন,</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“ঠিক আছে। আজকের জন্য এই পোশাকই চলবে। তবে কাল থেকে আমি তোমাকে শাড়ি পরা শিখিয়ে দেব। বাড়িতে থাকলে শাড়িই পরবে।”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>লিলি নিঃশব্দে মাথা নাড়ল। আয়েশা বেগম আবার বললেন,</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“তোমার সব ডকুমেন্ট নিয়েছ?”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>লিলি নিজের ছোট্ট ব্যাগটা একটু তুলে ধরে বলল,</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“জি, সব গুছিয়ে নিয়েছি।”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“হুম। চলো তাহলে।”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>আয়েশা বেগম উঠে দাঁড়ালেন। লিলি তাঁর পিছু পিছু বেরিয়ে এলো। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় অজান্তেই তার চোখ চলে গেল সাদিদের ঘরের দরজার দিকে। দরজাটা বন্ধ। খারুসটা কি এখনও ঘুমাচ্ছে? নাকি অনেক আগেই বেরিয়ে গেছে? অদ্ভুতভাবে তার মনে হলো—যদি আরেকবার তার সাথে দেখা হয়ে যেত! কিন্তু পরক্ষণেই মনে পড়ে গেল সাদিদের গতকালের সেই কঠিন কথাগুলো। মুহূর্তেই নিজের ভাবনাটাকে ঝেড়ে ফেলল সে। গাড়িতে উঠে বসার পর আয়েশা বেগম বললেন,</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“শোনো, সংসার করার পাশাপাশি পড়াশোনাটাও ঠিকঠাক করতে হবে। সাদিদ কিন্তু পড়াশোনায় ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট ছিল। বুঝতে পেরেছ?”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>লিলি বিস্মিত চোখে তাকাল।</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“উনি এত ট্যালেন্টেড! সেই জন্যই তো সবসময় এমন গোমড়া মুখ করে থাকেন।”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>আয়েশা বেগমের ঠোঁটে তখন খুব সূক্ষ্ম একটুখানি হাসি ফুটে উঠল যা লিলি এর আগে কখনও দেখেনি। কিন্তু এখানে হাসার কী আছে? কিছুক্ষণ পর জানালার বাইরে তাকাল লিলি। ঢাকার সকালের ব্যস্ত রাস্তাগুলো অবিরাম ছুটে চলেছে ঠিক তার নিজের জীবনের মতোই।</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে পৌঁছাতেই উত্তেজনায় লিলির বুকটা ধড়ফড় করে উঠল। আয়েশা বেগম তাকে নিয়ে গেলেন অফিস রুমে। সেখানে একজন মধ্যবয়সী অধ্যাপক তাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তাদের দেখে তিনি হাসিমুখে বললেন,</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“মিসেস আয়েশা! আসুন, আসুন। আপনার অপেক্ষাতেই ছিলাম। এই তাহলে আপনার বউমা?”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>আয়েশা বেগম মাথা নেড়ে বললেন,</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“হ্যাঁ, এ হলো লিলি। ফাইজা মুনতাহা লিলি।”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>এরপর কিছুক্ষণ কথাবার্তা আর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষে লিলির ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো। সবশেষে দুজন ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে গাড়ির দিকে হাঁটতে লাগলেন। গাড়ি যখন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পেরিয়ে কিছুটা দূরে এগিয়ে গেছে, তখন হঠাৎ লিলির চোখ পড়ল রাস্তার অপর পাশে একটি বড় বিল্ডিংয়ের সামনে টাঙানো সাইনবোর্ডে।</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>‘ইয়ুথ ফর চেঞ্জ : ন্যায় ও উন্নয়নের পথে।’</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>লিলির দৃষ্টি অজান্তেই স্থির হয়ে গেল লেখাটার ওপর। ঠিক তখনই বিল্ডিংয়ের সামনে একটা কালো গাড়ি এসে থামল। সেখান থেকে নেমে এল একজন মানুষ—লম্বা দেহ, চোখে কালো সানগ্লাস, মুখে মাস্ক। কেন যেন লিলির বুকের ভেতরটা হঠাৎ কেঁপে উঠল। লোকটাকে অনেকটা মিস্টার খারুসের মতো লাগছে… কিন্তু দূর থেকে ঠিকমতো বোঝা যাচ্ছে না।</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>সে ধীরে আয়েশা বেগমের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“শাশুড়ি আম্মু, ওটা কীসের অফিস?”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>আয়েশা বেগম একবার ব্যানারের দিকে তাকালেন। তারপর দ্রুত চোখ ফিরিয়ে নিয়ে বললেন,</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“ওটা রাজনীতির অফিস। এসব নিয়ে তোমার মাথা ঘামানোর দরকার নেই।”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>লিলি আর কিছু বলল না। কিন্তু তার মনে এক অদ্ভুত কৌতূহল জন্ম নিল। সে আবার জানালার বাইরে তাকাল। লম্বা মানুষটা ততক্ষণে অফিসের ভেতরে ঢুকে গেছে।</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>———</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>পার্টি অফিসে~~</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>আজ কিছুটা দেরিতেই পার্টি অফিসে ঢুকল সাদিদ। সাধারণত সময়ের ব্যাপারে সে খুবই পাংচুয়াল। কিন্তু আজ অজান্তেই কিছু সময় নষ্ট হয়ে গেছে। অফিসে ঢুকতেই দেখল রাশেদ কিছু কাগজপত্র গোছাচ্ছে। হাসানের অনুপস্থিতিতে এই দায়িত্ব এখন তার ওপরই এসে পড়েছে। তখনই দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল ক্লান্ত আরিফ। তাকে দেখে সাদিদ জিজ্ঞেস করল,</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“হাসান কেমন আছে?”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>আরিফ ঢুলতে ঢুলতে এসে সোফার ওপর সটান শুয়ে পড়ল। তার শরীর যেন আর চলছেই না। সারারাত হাসপাতালেই কাটিয়েছে সে। যদিও সাদিদও তার সঙ্গেই ছিল।</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“ভালোই আছে। কয়েকদিনের মধ্যে ডিসচার্জ হয়ে যাবে। এসব বাদ দে… বল, ভাবির সাথে দেখা করাবি কবে? সেমিনারের জন্য তো তোর বিয়েতেই খেতে পারলাম না।”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>এক মুহূর্তেই সাদিদের মুখভঙ্গি গম্ভীর হয়ে গেল। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“এইসব ফালতু আবদার আমার সামনে আর করবি না।”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>আরিফ নাটকীয়ভাবে উঠে বসে বুকের ওপর হাত রেখে বলল,</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“আমার ভাবী! আমার বন্ধুর বউ! তার সঙ্গে দেখা করতে চাওয়া ফালতু আবদার? তুই কি লজ্জা পাচ্ছিস, নাকি ভাবীকে লুকিয়ে রাখতে চাস?”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>একটু থেমে হেসে আবার বলল,</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“লুকিয়ে রেখে লাভ নেই। আমি সেই মহীয়সী নারীকে দেখতে চাই, যে তোর মতো পাষাণ পুরুষকে বিয়ে করে নিজের জীবন ধ্বংস করেছে।”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>সাদিদ বিরক্ত হয়ে বলল,</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“আরিফ, আমার অনেক কাজ আছে। কাজের কথা থাকলে বল, না হলে ফোট।”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“আরে, সব সময় কাজ কাজ করলে তোর বউ ভাববে তুই নিরামিষ তখন—”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>কথা শেষ হওয়ার আগেই সাদিদ চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল। দৃশ্যটা দেখেই আরিফ এক লাফে দরজার কাছে গিয়ে বলল,</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“কুল কুল সাদি মামা কুল! এত হাইপার হোস না। যাচ্ছি তো আমি! আর আসব না! একেবারে ভাবির চাঁদমুখ দর্শন করতেই তোর বাড়িতে পদার্পণ করিব! ইয়ে মেরা বাচন হ্যায় ওর মেরা বাচন হি হে শাসসসসসস…</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>এরপর আর বাকিটা বলা হলো না। কারণ সাদিদকে এগিয়ে আসতে দেখেই সে দৌড় লাগিয়েছে। সাদিদ চোখ বন্ধ করে কপালে হাত রেখে ধীরে ধীরে নিজের মাথা ম্যাসাজ করে রাগটা সংযত করার চেষ্টা করছে। হঠাৎ তার বন্ধ চোখের পাতায় ভেসে উঠল এক দৃশ্য,</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>আয়েশা বেগমের পেছন থেকে উঁকি দিয়ে তাকে দেখছে লিলি। ফট করে চোখ খুলল সাদিদ। কি এক মুসিবত এই মেয়ে কেন তার মাথায় ঘুরছে?</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>প্রথমে মেয়েটাকে সে একেবারেই সাধাসিধে ভেবেছিল। কিন্তু গতকালের অভিশাপের ঘটনার পর বুঝেছে এই মেয়ে আরিফের চেয়েও বড় বিচ্ছু।</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>এদিকে আরিফ বাহিরে গিয়ে হেসে উঠল। অবশেষে সাদিদ কে মুভ অন করানোর একটা উপায় পাওয়া গেছে। না খুব তাড়াতাড়ি মেয়েটার সাথে দেখা করতে হবে আরিফ কে। তাকে কিছু টিপস দিতে হবে যাতে সেই গোমড়ামুখোকে বাগে আনতে পারে।</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>———</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>বিয়ের দ্বিতীয় দিনেই স্বামীর তিলে তিলে গড়া সুন্দর ফুলের বাগানের যত্ন নিচ্ছে তার প্রাণপ্রিয়া স্ত্রী। মনে মনে এই হেডলাইনটা ভেবেই একগাল হাসল লিলি। তার পাশেই ভয়ে ভয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাহারি। সাদিদ নিজের বাগানে অন্য কারও উপস্থিতি একেবারেই সহ্য করতে পারে না। এমনকি বাহারিকেও ঢুকতে দেয় না। নিজেই সব গাছের যত্ন নেয়।</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“হ্যালো ভারি কাকা… হ্যালো… শুনতে পাচ্ছেন?”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>অন্যমনস্ক বাহারির মুখের সামনে হাত নারিয়ে কথাগুলো বলছে লিলি। সে বুঝতে পারছে না ভারি কাকা নস্ট ফোনের মতো হ্যাং হয়ে আছে কেন? লিলির এহেন আচরণে নিজের ভাবনার জগৎ থেকে বেরিয়ে এলো বাহারি। তড়িঘড়ি করে বলল,</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“কি হইছে বউমনি?”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>লিলি হাঁফ ছেড়ে বলল,</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“যাক, অবশেষে আপনি ফিরে এসেছেন। আমি তো কতক্ষণ ধরে বলছি পানির লাইনটা দিন!”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>বাহারি দ্বিধাভরে বলল,</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“বলছি কি বউমনি… বাগানে ফানি লা দিলেই কি লয়?”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>লিলি আত্মবিশ্বাসী গলায় বলল,</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“কেন হবে না? আমি শাশুড়ি আম্মুকে বলেই এসেছি। তাই ওই খারুসকে ভয় পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। সে আমাদের একটা চুলও বাকা করতে পারবে না।”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>পেছন থেকে হঠাৎ একটি গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এলো,</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“ওহ আই সি।”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“ইয়াপ… এইটা তো খারুসটার কণ্ঠ… কিন্তু সেএএ—”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>কথা শেষ হওয়ার আগেই পেছনে তাকিয়ে দেখল সাদিদ দাঁড়িয়ে আছে। বাহারি ততক্ষণে লিলিকে একা রেখে চুপিসারে পালিয়েছে।অগত্যা লিলি মুখে জোরপূর্বক হাসি ঝুলিয়ে বলল,</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“হে হে… আসলে ইয়ে মানে হয়েছে কি…”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>রাগে সাদিদের চোখ লাল হয়ে গেছে। নিজের ব্যাক্তিগত জিনিসে কারও হস্তক্ষেপ সে পছন্দ করে না। আর এই বাগানে তো একেবারেই না।</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“তুমি এখানে কি করছো, স্টুপিড?”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>তার গম্ভীর কণ্ঠে কেঁপে উঠল লিলি। আমতা আমতা করে বলল,</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“অই… আপনার বাগানে ইয়া বড় বড় পোকা এসেছিল। তাই শাশুড়ি আম্মু সেগুলো তাড়ানোর গুরুদায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন।”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“What?”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>লিলি ঢোক গিলে বলল,</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“হোয়াট ফোয়াট নয়। সত্যি কথা।”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>সাদিদ অনেক কষ্টে নিজের রাগ সংযত করে বলল,</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“জাস্ট গেট লস্ট। আর যেন তোমাকে আমার জিনিসের আশেপাশে না দেখি।”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>কথাটা ভীষণ গায়ে লাগল লিলির। তাই সাদিদের সামনেই সে এক সাংঘাতিক কাজ করে বসল। হলুদ গোলাপের গাছ থেকে ফটাফট তিন-চারটা গোলাপ ছিঁড়ে নিয়ে বলল,</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“একশো একবার আসব!”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>সাদিদ লিলির কথা শোনেনি। তার দৃষ্টি আটকে আছে লিলির হাতে ধরা ছেঁড়া গোলাপগুলোর দিকে। হঠাৎ ঝড়ের বেগে এগিয়ে এসে লিলির গাল চেপে ধরে হিসহিসিয়ে বলল,</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“বিয়ে করেছি মানে এই নয় যে তোমাকে বউয়ের মর্যাদা দিয়েছি। তাই বেশি অধিকার দেখাতে এসো না জানে মেরে ফেলব।”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>গালের ব্যথায় লিলি সাদিদের বুকে কিল ঘুষি মারতে লাগল। অবশেষে সাদিদ তাকে ছেড়ে দিল। ছলছল চোখে লিলি বলল,</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>—“আমি শাশুড়ি আম্মুকে বলে দেব আপনি আমাকে মেরেছেন! অসভ্য লোক!”</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>কথা শেষ করেই দৌড়ে বাড়ির ভেতরে চলে গেল। তার গালটা এখনও ব্যাথায় টনটন করছে। হাত থেকে গোলাপগুলো অনেক আগেই পড়ে গেছে। সাদিদ কিছুক্ষণ স্থির হয়ে সেই গোলাপগুলোর দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর বিরক্তিতে নিজের স্পাইক করা চুলে হাত চালিয়ে গাড়ির দিকে হাঁটা দিল। আজ কাজ তাড়াতাড়ি শেষ হয়েছিল বলেই বাড়ি এসেছিল। কিন্তু এখন আর ভেতরে যাওয়ার ইচ্ছে নেই। সবকিছুই কেমন অসহ্য লাগছে। কেন সবসময় এমনটা তার সাথেই হয়? সে তো এসব কিছুই চায়নি…</em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em>  </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>
<p style="text-align: center"><strong><em> </em></strong></p>]]></content:encoded>
						                            <category domain="https://xgossip.fun/community/"></category>                        <dc:creator>Bara Miya</dc:creator>
                        <guid isPermaLink="true">https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%80%e0%a6%b7%e0%a6%a3-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0/#post-285</guid>
                    </item>
				                    <item>
                        <title>RE: গল্প: আপনি আমার ভীষণ কাছের কেউ (লেখনিতে:সুমাইয়া তুলি)</title>
                        <link>https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%80%e0%a6%b7%e0%a6%a3-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0/#post-284</link>
                        <pubDate>Tue, 08 Sep 2026 06:57:29 +0000</pubDate>
                        <description><![CDATA[part:03
&nbsp;
&nbsp;
&nbsp;
 
উন্মাদের মতো বসার কক্ষের জিনিসপত্র ছোড়াছুড়ি করছে এক শ্বেতাঙ্গ যুবক। তার উন্মত্ত আচরণ দেখে উপস্থিত কেউই তাকে থামাতে এগিয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না। একের প...]]></description>
                        <content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center"><strong>part:03</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>উন্মাদের মতো বসার কক্ষের জিনিসপত্র ছোড়াছুড়ি করছে এক শ্বেতাঙ্গ যুবক। তার উন্মত্ত আচরণ দেখে উপস্থিত কেউই তাকে থামাতে এগিয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না। একের পর এক জিনিস ছুড়ে মারছে সে, আর বিকট স্বরে চিৎকার করছে।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“মানি না এই বিয়ে! কিছুতেই মানি না! ব্লুবেরি শুধু আমার… শুধুই আমার! আয়ায়ায়ায়া!”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>বলেই হঠাৎ সোফার সামনে রাখা সেন্টার টেবিলটি দু’হাতে তুলে সজোরে উল্টে দিল সে। ঠিক তার সামনের সোফাতেই নির্বিকার চিত্তে বসে আছেন রায়ান সাহেব। এই ছেলেটির উন্মত্ততা থেকে মেয়েকে বাঁচাতেই তো তিনি এত তাড়াহুড়ো করে লিলির বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেটি লিলির খালাতো ভাই। মিসেস পারভীনের বড় বোনের ছেলে। তারা স্বপরিবারে লন্ডনে বসবাস করেন। ঘটনার সূত্রপাত হয় আজ থেকে ঠিক ছয় বছর আগে। সেবার মিসেস পারভীনের বড় বোন পারুল, তার স্বামী ইহসান শেখ এবং তাদের একমাত্র ছেলে ইহরান শেখ স্বপরিবারে বেড়াতে এসেছিলেন বোনের বাড়িতে।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>তখন লিলি সবে চৌদ্দ বছরে পা দেওয়া এক কিশোরী। আর ইহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এক তাগড়া যুবক। সেই সফরেই কিভাবে যেন লিলিকে ভীষণভাবে পছন্দ হয়ে যায় ইহরানের। পছন্দ ধীরে ধীরে এক ধরনের পাগলামো তে পরিণত হয়। একপর্যায়ে ছেলের এই একগুঁয়ে আবদারে অতিষ্ঠ হয়ে মিসেস পারুল বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু রায়ান সাহেব কিছুতেই এত অল্প বয়সে মেয়ের বিয়ে দিতে রাজি হলেন না। তার উপর সেই সুদূর বিদেশে একমাত্র সন্তানকে পাঠানোর ব্যাপারেও তিনি সম্পূর্ণ অনাগ্রহী ছিলেন।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>কিন্তু তার এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি ইহরান। ছোটবেলা থেকেই সে ভীষণ একরোখা স্বভাবের। যা তার পছন্দ, তা সে যে কোনো মূল্যে পেতে চায়। সেদিনও আজকের মতোই উন্মত্ত আচরণ শুরু করেছিল সে। আদরের ছেলের এমন অবস্থা দেখে ইহসান শেখ বহু বুঝিয়ে-সুঝিয়ে রায়ান সাহেবকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। শেষমেশ রায়ান সাহেব বলেন, বিয়ে দেবেন তবে এখন নয়। লিলি বড় হলে। আর সেই সময়ের মধ্যে ইহরান একবারও লিলির সামনে আসতে পারবে না।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>ইহরান এতে প্রথমে মোটেই রাজি হয়নি। কিন্তু বাবার অনুরোধ ও বোঝানোর কাছে শেষ পর্যন্ত নত স্বীকার করেছিল। যদিও আড়ালে-আবডালে লিলির খোঁজ ঠিকই রাখত সে। এ বিষয়টি অবশ্য রায়ান সাহেবের দৃষ্টিগোচর হয়নি। তবে তিনিও চুপ ছিলেন কারণ তার মনে তখন অন্য এক পরিকল্পনা চলছিল।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>এদিকে নিজের এলোমেলো চুলগুলো মাথার পেছনে ঠেলে দিয়ে ইহরান হিসহিসিয়ে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আপনি কি ভেবেছেন বিয়ে দিয়ে দিলেই ব্লুবেরির কাছ থেকে আমাকে দূরে রাখতে পারবেন? তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন। দশ বাচ্চার মা হয়ে গেলেও ব্লুবেরিকে আমি আমার কাছে নিয়ে আসবই।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>রায়ান সাহেব শান্ত কণ্ঠে বললেন,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“তোমার কি মনে হয় তুমি পদ্মাকে নিয়ে আসতে চাইবে আর তার স্বামী স্বেচ্ছায় তাকে তোমার হাতে তুলে দেবে?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>‘তার স্বামী’ এই দুটি শব্দ তীরের মতো গিয়ে বিঁধল ইহরানের বুকে। সে ছাড়া অন্য কেউ তার ব্লুবেরির স্বামী এই চিন্তাটুকুই তার নিঃশ্বাস আটকে দিচ্ছে। হঠাৎই সে নিজের গায়ের কালো শার্টের ওপরের কয়েকটি বোতাম টেনে ছিঁড়ে ফেলল। এক হাতে নিজের চুল শক্ত করে ধরে ঘরের ভেতর পায়চারি করে, অস্ফুট স্বরে কিছু বিড়বিড় করতে লাগল।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>তার এই ভয়ংকর রূপ দেখে মিসেস পারভীনের গলা শুকিয়ে আসছে। তিনি আগেই আন্দাজ করেছিলেন লিলির বিয়ের খবর শুনলে ইহরান নিশ্চয়ই ছুটে আসবে। হলোও তাই। তার ভাবনার মাঝেই ইহরান হঠাৎ চিৎকার করে উঠল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“পৃথিবীর কেউ ব্লুবেরিকে আমার কাছে নিয়ে আসা থেকে আটকাতে পারবে না! আর যদি কেউ আমাদের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাকে… তাকে আমি নিজের হাতে খু/ন করব!”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>নিজের কথা শেষ করেই বড় বড় পা ফেলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল সে। তার প্রস্থানে যেন ঘরে উপস্থিত সবাই একসাথে হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। কাজের লোকেরা দ্রুত ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জিনিসপত্র গুছিয়ে ঘর পরিষ্কার করতে লেগে পড়ল। শুধু মিসেস পারভীন স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে ছলছল চোখে তাকিয়ে রইলেন ইহরানের চলে যাওয়ার পথে। বোনের ছেলেটিকে তিনি ভীষণ স্নেহ করেন। তার গভীর ইচ্ছে ছিল লিলির সাথেই ইহরানের বিয়ে দেওয়ার। কিন্তু রায়ান সাহেব যে হঠাৎ করেই সম্পূর্ণ অন্য কিছু করে বসলেন। বলাবাহুল্য, লিলির এই আকস্মিক বিয়ের খবরটিও মিসেস পারভীন শেষ মুহূর্তে এসে জানতে পেরেছিলেন।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>স্ত্রীর মুখের অস্বস্তি ও দ্বিধা লক্ষ্য করে রায়ান সাহেব শান্ত স্বরে বললেন,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“সারা জীবন তুমি আমার সিদ্ধান্তের উপর কখনো আঙুল তোলোনি, পারভীন। সেই ভরসাটা এবারও রেখো। অচিরেই প্রমাণ হবে আমি কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিইনি।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>মিসেস পারভীন নীরব রইলেন। তিনি কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছেন না লিলি কীভাবে সাদিদের সাথে সুখী হবে, যেখানে সাদিদ বিয়ের দিনই তাকে ফেলে চলে গেছে?</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>———</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>বাহারি গিয়ে আয়েশা বেগমকে ডেকে আনার পর তিনি লিলিকে সাদিদের ঘরের পাশের রুমটিতে নিয়ে গেলেন। কোমরে ব্যথানাশক স্প্রে করে দিয়ে বিশ্রাম নিতে বলে, নীরবে সেখান থেকে চলে গেলেন।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>সন্ধ্যা ছয়টা হঠাৎই ঘুম ভেঙে গেল লিলির। চোখ মেলে দেয়ালে ঝুলে থাকা ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে আস্তে করে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ইস! এতটা সময় ঘুমিয়েছি? নামাজটাই তো কাজা হয়ে গেল…”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>তাড়াতাড়ি বিছানা ছেড়ে উঠে ওয়াশরুমে গেল। ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে আসার পর কিছুক্ষণ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে রইল। মনে এক অদ্ভুত দ্বিধা কাজ করছে তার। সে বুঝতে পারছে না এখন কি নিচে যাওয়া উচিত? আবার ঘরে বসেই বা করবে কী?</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>একটু ভেবে শেষ পর্যন্ত সব দ্বিধা আর সংকোচ সরিয়ে রেখে ধীরে ধীরে দরজাটা খুলল সে। দরজা খুলতেই মুখোমুখি হয়ে গেল আয়েশা বেগমের সাথে। তাকে দেখে লিলির কাছে মনে হলো, হালকা রঙের শাড়িতে আত্মবিশ্বাসী এক নারীর দৃঢ় উপস্থিতি যেন পুরো করিডোরটা ভরিয়ে রেখেছে। আয়েশা বেগম ভ্রু কুঁচকে তাকালেন লিলির দিকে। ছেলের রূঢ় ব্যবহার সম্পর্কে তিনি ইতোমধ্যেই অবগত। আর তিনি এটাও বুঝতে পারছেন এখনই কিছু একটা না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই স্বাভাবিক গলায় বললেন,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আমার সাথে এসো।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি কিছুই বুঝতে না পেরে চুপচাপ তার পেছনে হাঁটতে লাগল। এই মুহূর্তে লিলি বসে আছে আয়েশা বেগমের রুমে। আয়েশা বেগম তাকে নিজের সামনে বসিয়ে স্বভাবসুলভ গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“শোনো মেয়ে, সময় থাকতে থাকতে নিজের স্বামীকে নিজের আঁচলে বাঁধতে শেখো। ও তোমাকে রুম থেকে বের করে দিল, আর তুমি সুরসুর করে বের হয়ে এলে? কেন প্রতিবাদ করতে পারোনি?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>শাশুড়ির এমন কথা শুনে বেশ অবাক হয়ে গেল লিলি। সে কি বলত? একজন লোক যদি তাকে নিজের ঘরে থাকতে না দেয়, তাহলে সেই বা কী করতে পারে? আয়েশা বেগম আবার বললেন,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“কি হলো? কথা বলো না কেন? শোন, এরকম চুপচাপ স্বভাবে থাকা যাবে না। তোমাকে তোমার নিজের অধিকার বুঝে নিতে হবে। আর এসব কি পরেছো? কাল থেকে শাড়ি পরে সেজেগুজে থাকবে সব সময়।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>শাশুড়ির কথায় লিলি নিজের দিকে তাকাল। সে একটি হালকা গোলাপি রঙের থ্রি-পিস পরে আছে। তবে সমস্যা হলো সে শাড়ি পরতেই জানে না। তাই একটু সাহস সঞ্চয় করে আস্তে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“কিন্তু… আমি তো শাড়ি পরতে পারি না।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলির কথায় মিসেস আয়েশা বেগম ভীষণ বিরক্ত হলেন। আজকালকার মেয়েরা কেন শাড়ি পরতে পারে না আল্লাহই জানেন। আবার লিলির দিকে ভালো করে তাকালেন তিনি। মেয়েটা নিতান্তই এখনও বাচ্চা। তার মুখ দেখে কেউ বলবে না যে তার বয়স উনিশ। মুখটায় এক ধরনের সরল মায়া লেগে আছে। আয়েশা বেগমের ভীষণ ইচ্ছে ছিল একটা মেয়ে সন্তানের। কিন্তু সেই ইচ্ছে কখনোই পূরণ হয়নি। এই মেয়েটার ছোট্ট, মায়াময় মুখটা তার অদ্ভুত রকম ভালো লাগে। তবে তিনি এটাও বুঝতে পারছেন লিলি তাকে বেশ ভয় পায়। তাই কণ্ঠটা একটু নরম করে বললেন,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ঠিক আছে, আমি শিখিয়ে দেব। আর কাল সকালে তৈরি থেকো। তোমাকে ভার্সিটিতে ভর্তি করতে নিয়ে যাব। তোমার সব ডকুমেন্ট সাথে এনেছো তো?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>আয়েশা বেগমের কথা শুনে ভীষণ অবাক হয়ে গেল লিলি। সে তো ভেবেছিল বিয়ের মাধ্যমে তার পড়াশোনার ইতি ঘটেছে। বিয়ের পরেও যে তাকে পড়তে দেওয়া হবে। এটা সে কখনো কল্পনাও করেনি। তাই একটু ইতস্তত করে মিনমিন করে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“কিন্তু… আমি তো আর কোনো পরীক্ষার ফর্ম তুলিনি।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>তা শুনে আয়েশা বেগম বললেন,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আর পরিক্ষা দিতে হবে না। প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি করে দেব তোমাকে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>এই কথা শুনে নিজের বাবার প্রতি আরও বেশি অভিমান জন্মালো লিলির মনে। এই কথাটুকুই তো সে তার বাবার মুখ থেকে শুনতে চেয়েছিল। কই তিনি তো তা বলেননি! এমন তো নয় যে তারা অসচ্ছল পরিবার। তাহলে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পাওয়ার মতো তুচ্ছ একটি কারণে তার বিয়ে কেন দিয়ে দেওয়া হলো?</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>———</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>সন্ধ্যার পর থেকে লিলি শাশুড়ির পিছে পিছে ঘুরছে। আয়েশা বেগম ছেলের জন্য রান্না করছেন। লিলি বারবার সাহায্য করতে চাইলে তিনি ধমক দিয়ে থামিয়ে দিয়েছেন। তবুও মুখ গোমড়া করে মেয়েটা তার পিছু পিছু ঘুরছে। বিষয়টা আয়েশা বেগমের কাছে বেশ লাগছে। এই সময় একদম রেডি হয়ে নিচে নামল সাদিদ। রান্নাঘর থেকে লক্ষ্য করে আয়েশা বেগম বললেন,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“কোথায় যাচ্ছো এই অসময়ে?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>সাদিদ পাঞ্জাবির হাতা গুটিয়ে তাকাল মায়ের দিকে। ঠিক তখনই চোখ পড়ল আয়েশা বেগমের পেছনে লুকিয়ে থাকা লিলির উপর। মেয়েটার উচ্চতা প্রায় পাঁচ ফিট এক, আর আয়েশা বেগম নিজে পাঁচ ফিট পাঁচ। তাই তো অনায়াসে তার পেছনে লুকে থাকতে পারছে।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি উকি দিয়ে সাদিদকে দেখার চেষ্টা করল। দেখতে পেল সে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। সঙ্গে সঙ্গে আবারও আয়েশা বেগমের পেছনে লুকিয়ে পড়ল। লিলি মূলত ভয় পাচ্ছে সাদিদ যদি তখনকার ঘটনা শাশুড়ি আম্মু কে বলে দেয়। তবে এমন কিছুই হলো না। সাদিদ বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“একটু কাজ আছে তাই যেতে হবে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>আয়েশা বেগম তো চেনেন নিজের ছেলে কে তাই আর মানা করলেন না উল্টো গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ডিনার করে যাও।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“বাহির থেকে করে নেব।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>তারপর চলে গেল সাদিদ। আয়েশা বেগম কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলেন, তারপর নিজের কাজে মনোযোগ দিলেন। লিলি এখনও সাদিদের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। লোকটা কে তার বেশ লেগেছে। তবে তার ব্যাবহার ভালো না। খারুস একটা। হঠাৎ মনে পড়ল তার লাগেজের কথা। সেটা তো সাদিদের রুমেই আছে। এই তো সুযোগ ওটা নিয়ে আসার। তাই আয়েশা বেগম কে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“শাশুড়ি আম্মু, আমার লাগেজ তো ওনার রুমে। ওটা নিয়ে আসি।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>আয়েশা বেগম কিছু ভেবে বললেন,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“যাও।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>অনুমতি পেয়ে লিলি ছুটে লাগল, যেন এখন না গেলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ লেগে যাবে। আয়েশা বেগম লিলির পেছনে তাকিয়ে আনমনে বললেন,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“লাগেজের সঙ্গে তোমাকেও সাদিদের মনে আর ঘরে জায়গা করে নিতে হবে। তবেই ছেলেটার ছন্নছাড়া জীবনটা হয়তো একটু গতি পাবে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>বানানের ভুল ত্রুটি হলে জানাবেন।  </strong></p>]]></content:encoded>
						                            <category domain="https://xgossip.fun/community/"></category>                        <dc:creator>Bara Miya</dc:creator>
                        <guid isPermaLink="true">https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%80%e0%a6%b7%e0%a6%a3-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0/#post-284</guid>
                    </item>
				                    <item>
                        <title>RE: গল্প: আপনি আমার ভীষণ কাছের কেউ (লেখনিতে:সুমাইয়া তুলি)</title>
                        <link>https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%80%e0%a6%b7%e0%a6%a3-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0/#post-283</link>
                        <pubDate>Tue, 08 Sep 2026 06:56:20 +0000</pubDate>
                        <description><![CDATA[part:02
&nbsp;
&nbsp;
 
এক দীর্ঘ, ক্লান্তিকর রাতের অবসানে পর গাড়িটা এসে থামল এক ডুপ্লেক্স বাড়ির সামনে। প্রথম আলোর স্পর্শে যেন নতুন করে জেগে উঠল চারপাশটা। বাড়ির বাগানজুড়ে ছড়িয়ে আছে এক অ...]]></description>
                        <content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center"><strong>part:02</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>এক দীর্ঘ, ক্লান্তিকর রাতের অবসানে পর গাড়িটা এসে থামল এক ডুপ্লেক্স বাড়ির সামনে। প্রথম আলোর স্পর্শে যেন নতুন করে জেগে উঠল চারপাশটা। বাড়ির বাগানজুড়ে ছড়িয়ে আছে এক অপার্থিব সৌন্দর্য। সুচারুভাবে ছাঁটা গাছপালা, বাহারি ফুলে মোড়া সরু পথ, আর সবকিছু মিলিয়ে যেন এক শান্ত, নির্মল রাজপ্রাসাদের আবহ। গাড়ির শব্দ পেতেই গেটের পাশে দাঁড়ানো দারোয়ানটি তৎক্ষণাৎ দৌড়ে এসে গেট খুলে দিল। ভেতরটা তখন নিস্তব্ধ কেবল দূর থেকে কোথাও পাখির ডাক ভেসে আসছে মাঝেমধ্যে।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>গাড়ির পেছনের সিটে ঘুমিয়ে আছে লিলি। সারাদিনের ধকল, রাতভর অভুক্ত থাকা আর অজানা ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা মিলিয়ে ঘুমটাই যেন তার কাছে একমাত্র আশ্রয় হয়ে উঠেছিল। ক্লান্ত শরীরটা ভেঙে পড়েছিল অবসাদে, আর মনের ভেতর জমে ছিল অসংখ্য প্রশ্ন। তবুও সে কিছু বলেনি।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>কিন্তু আয়েশা বেগম? তিনি সারা রাত এক মুহূর্তের জন্যও চোখের পাতা এক করতে পারেননি। গাড়িতে বসেই জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিলেন দীর্ঘ সময়। গভীর রাতে লিলির প্রচণ্ড খিদে পেয়েছিল। পেটের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠলেও মুখ ফুটে কিছু বলার সাহস হয়নি। শাশুড়ির কঠিন মুখের দিকে একবার তাকিয়েই সে আর কথা বাড়ায়নি। কেন জানি না এই মহিলাকে তার ভীষণ ভয় করছে।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>গাড়ি থামতেই লিলির ঘুম ভেঙে গেল। চোখ খুলেই দেখল তারা এসে দাঁড়িয়েছে এক অপূর্ব সুন্দর বাড়ির সামনে। তবে বাড়ির চেয়ে তার দৃষ্টি বেশি আটকে গেল চারপাশের বাগানে। ছোটবেলা থেকেই গাছপালার প্রতি তার এক অদ্ভুত টান। এই নিখুঁত, যত্নে সাজানো বাগান যেন তার ক্লান্ত হৃদয়ে একফোঁটা প্রশান্তির ছোঁয়া এনে দিল। ঠিক তখনই তার কানে ভেসে এলো এক কঠিন কণ্ঠের ডাক,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>— “কি হলো, গাড়ি থেকে নামছো না কেন?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>চমকে উঠল লিলি। আয়েশা বেগম ইতোমধ্যেই দরজার দিকে হাঁটতে শুরু করেছেন। চারপাশে তাকানো বন্ধ করে লিলি চুপচাপ গাড়ি থেকে নেমে পড়ল। শাশুড়ির পেছন পেছন হাঁটতে লাগল। বাড়ির কলিং বেল টিপতেই এক মধ্যবয়সী লোক দরজা খুলে দিল। আয়েশা বেগম গম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>— “সাদিদ কোথায়, বাহারি?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>লোকটি কিছুটা সংকুচিত গলায় উত্তর দিল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>— “সাদিদ বাবা তো এখানটাতে আসে লাই, বড়ম্যাডাম।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>এক মুহূর্তের জন্য আয়েশা বেগমের মুখে উদ্বেগের ছায়া নেমে এল। তবে তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। তিনি দ্রুত নিজের ভাবনা গুছিয়ে নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগলেন। পেছন ফিরে আবার বললেন,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>— “ওখানে দাঁড়িয়ে না থেকে, আমার সাথে চলো।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি দ্রুত পা চালিয়ে তার পিছু নিল। চারপাশটা খুঁটিয়ে দেখছিল সে। বাড়িটা ভীষণ পরিপাটি ও গোছানো। তবুও কোথাও যেন এক অদ্ভুত গুমোট ভাব ছড়িয়ে আছে। ঠিক যেমনটা তার শাশুড়ির ভেতরেও অনুভব হয়।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>———</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>ঢাকার এক সরকারি হাসপাতালের করিডোরজুড়ে তখন মানুষের ভিড় আর অস্থিরতা। কোথাও অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন, কোথাও বা কান্নার শব্দ। কেউ ট্রলিতে করে আহত কাউকে নিয়ে যাচ্ছে, কেউ আবার চিকিৎসকের সামনে দাঁড়িয়ে দ্রুত চিকিৎসার জন্য অনুরোধ করছে। পুরো ওয়ার্ডজুড়ে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজমান।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>একটা বেডের পাশে বসে আছে সাদিদ। মুখে তার কঠোর এক অভিব্যক্তি ফুটে উঠেছে। তার গায়ে এখনো সাদা শেরওয়ানি, হাতার কাপড় গুটানো কনুই পর্যন্ত। বুকের কাছে ঘাম জমে কাপড়টা শরীরের সাথে লেপ্টে গেছে, যাতে তার সুগঠিত বুকের রেখাগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সামনের বেডে কপাল ও হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় শুয়ে আছে হাসিব।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>অবশেষে সাদিদ মুখ খুলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“কখন শুরু হয়েছিল এসব?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>আরিফ কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল। গলা যেন শুকিয়ে এলো। পুরো সেমিনারের নিরাপত্তার দায়িত্ব ছিল তার ওপরই। অথচ বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো—সেমিনার লণ্ডভণ্ড, ছেলেরা আহত, কেউ কেউ হাসপাতালে। তাই গলা পরিষ্কার করে সে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>— “সাদি… ওরা মোরশেদ দেওয়ানের লোক ছিল। আমরা অনেক সতর্ক ছিলাম। সেমিনারের চারপাশে আমাদের ছেলেরা ছড়িয়ে ছিল চেকপোস্টে, প্রবেশপথে, এমনকি চেয়ার সারির মাঝেও। যাতে একটা পিঁপড়েও ঢুকতে না পারে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>একটু থেমে সে চোখ নামিয়ে নিল। তারপর আবার বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“কিন্তু ওরা সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে গেছিল ভাই। প্ল্যাকার্ড হাতে, সেমিনারের টি-শার্ট পরে, কেউ কেউ ক্যামেরাম্যান সেজে ছিল। আমরা বুঝতেই পারিনি ওরা মোরশেদের পেইড গুন্ডা। সেমিনার শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই হঠাৎ বিশৃঙ্খলা শুরু করে চেয়ার ছোঁড়াছুঁড়ি, স্লোগান, মারামারি। আমাদের ছেলেদের স্পিরিটটাই ভেঙে দিয়েছে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>সাদিদ ধীরে ধীরে চোখ তুলে আরিফের দিকে তাকাল। তার চোখে যেন আগুন জ্বলছে। রাগে হিসহিস করে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“তাদের কেউ ছাড় পাবে না। মোরশেদ ভুল করেছে। আমার এলাকায় দাঁড়িয়ে আমার ছেলেদের ছুঁয়ে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>একটু থেমে সে আরও বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আর স্পিরিট কি এত সস্তা জিনিস নাকি, যে এতটুকুতেই ভেঙে যাবে? রাজনীতির মঞ্চে এরকম অহরহই হয়। কিন্তু তাতে হার মানলে চলবে!”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>তার কথায় মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানাল আরিফ আর হাসান। </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>———</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>বেলা তখন মধ্যাহ্ন। হাসপাতাল থেকে সাদিদ ফিরল নিজের বাড়িতে। মাথায় ঘুরছে হাজারো চিন্তা। এক্সট্রা চাবি সবসময় তার কাছে থাকে, তাই কলিং বেল না টিপেই দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়ল। ছোটবেলায় পড়াশোনার জন্য ঢাকায় থাকতে হতো বলে এই বাড়িটা তার দাদু তাকে উপহার দিয়েছিলেন। বরাবরের মতোই এটা তার শান্তির নীড়। কিন্তু আজ সেই শান্ত নীড়ে ফিরতেই পেছন থেকে ভেসে এলো এক কঠিন কন্ঠস্বর,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“কাল বিয়ের আসর থেকে চলে কেন গেলে, সাদিদ?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>সাদিদ থমকে দাঁড়াল। এই সময়ে মায়ের এখানে থাকা তার কাছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত। তবুও স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“গতকালের সেমিনারে সমস্যা হয়েছিল।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>আয়েশা বেগম কড়া স্বরে বললেন,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“এই ফালতু কারণের জন্য তুমি নিজের বিয়ের আসর থেকে উঠে চলে এসেছ?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>সাদিদ শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>— “রাজনীতি আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>এবার আয়েশা বেগম সত্যিই রাগে ফেটে পড়লেন।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>— “তুমি কি ঠিক করেছো রাজনীতি ছাড়বে না? আমি কখনোই তোমার এই রাজনীতি করাকে সাপোর্ট করিনি। আর এখন তো একদমই না! তুমি আমাদের ফ্যামিলি বিজনেসে জয়েন করছো—এটাই ফাইনাল।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>সাদিদ বিন্দুমাত্র উত্তেজিত না হয়ে শান্ত গলায় বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>— “অসম্ভব। রাজনীতি আমার রক্তে মিশে গেছে। আর এবারের নির্বাচনে আমি দাঁড়াচ্ছি।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>এই বলে সে নিজের রুমের দিকে এগোতেই পেছন থেকে আবার শোনা গেল তার মায়ের তেজী কণ্ঠ,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>— “রাজনীতি… রাজনীতি… রাজনীতি! এই পথে ধ্বংস ছাড়া কিছুই পাবে না তুমি সাদিদ। একদিন এই রাজনীতি তোমাকে নিঃস্ব করে দেবে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>মায়ের কথায় থামল না সে। নিজের রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে পেছন ঘুরতেই ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এলো এক রমনী। যাকে দেখে সাদিদ চরম বিরক্তি নিয়ে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>— “এই মেয়ে আমার রুমে কি করছো তুমি?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি ভয়ে কিছুটা সঙ্কুচিত হয়ে গেল। শাশুড়ি মা তো তাকে এই রুমেই থাকতে বলেছিলেন। তাহলে সে এখানেই থাকবে এটাই তো স্বাভাবিক। এদিকে লিলি চুপ করে থাকায় সাদিদ গম্ভীর কণ্ঠে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>— “বাড়িতে আরও অনেক রুম আছে। যেটাতে ইচ্ছে গিয়ে থাকো। তবে আমার রুমের আশেপাশেও আর আসবে না।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি পিটপিট করে তাকিয়ে রইল তার দিকে।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>লোকটা দেখতে মাশাআল্লাহ… কিন্তু ব্যবহার আস্তাগফিরুল্লাহ! মেয়েটাকে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে সাদিদ বিরক্ত হয়ে ‘চ্’ শব্দ করল। তারপর হাত ধরে টেনে লিলিকে ঘরের বাইরে বের করে দিল।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>শাড়িতে পা জড়িয়ে পড়ে যেতে যেতে কোনোরকমে নিজেকে সামলে নিল লিলি।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>পরক্ষণেই তার মুখের সামনে দরজাটা ধপ করে বন্ধ করে দিল সাদিদ। কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইল সে। এই লোক তার সাথে এমন আচরণ করছে কেন? একটু পরে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>— “খারুস! অসভ্য লোক! অভিশাপ দিলাম জীবনে তোর বিয়ে হবে না। আর যদি হয়ও, তাহলে হবে একটা পেত্নীর সাথে। বাসর রাতেই সে তোর ঘাড় মটকে দেবে!”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>পরক্ষণেই হঠাৎ কিছু মনে পড়তেই চমকে উঠল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>— “তওবা তওবা! ওই খারুসটার বউ তো আমিই!”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>ঠিক তখনই আচমকা খুলে গেল সাদিদের ঘরের দরজা। সেখানে বিরক্ত মুখে দাঁড়িয়ে আছে সাদিদ। লিলিও আহাম্মক হয়ে তাকিয়ে রইল তার পানে। সাদিদ দাঁত চেপে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>— “বলা শেষ? এখন আমার রুমের সামনে থেকে দূর হও ইডিয়েট।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>শেষের কথাটা চেচিয়ে বলায় লিলি ভয় পেয়ে এক হাতে শাড়ি সামলে দ্রুত হাঁটতে শুরু করল। কিন্তু চুলের ভেজা পানি মেঝেতে পড়ে জায়গাটা পিচ্ছিল হয়ে ছিল। পা ফেলতেই</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>ধপ করে পড়ে গেল সে।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>— “ও মাগো! আমার কোমড়টা শেষ!”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>সাদিদ সবই দেখল। কিন্তু সাহায্য করার বদলে আবারও লিলির মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিল। শব্দে কেঁপে উঠল লিলি। সে ভেবেছিল লোকটা হয়তো সাহায্য করবে। কিন্তু না! এই লোকটা সত্যিই একটা বদজাত।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>এদিকে তার চিৎকার শুনে ছুটে এলো বাহারি।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>— “কি হইছে বউমনি? আপনি ফড়ে গেলেন কেমনে?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>লোকটা বাঙালি নয়। তবে দীর্ঘদিন বাঙালিদের সঙ্গে থাকতে থাকতে বেশ ভালোই বাংলা রপ্ত করেছে। তার কথা শুনে লিলি কিছুটা লজ্জা পেল। মুখে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ভাড়ী কাকা, আমাকে একটু তুলবেন?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>বাহারি হকচকিয়ে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>— “আগ্গে বউমনি, হামার নাম তো বাহারি!”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>— “সেটাই তো বললাম ভাড়ী কাকা।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>বাহারি পুরোপুরি বিভ্রান্ত হয়ে গেল। তবুও লিলিকে ধরে তুলল। উঠে দাঁড়িয়ে লিলি কোমরে হাত দিয়ে আহাজারি শুরু করল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>— “আহা! আমার এত সুন্দর কোমড়টাই বুঝি ভেঙে গেল রেএএ!”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>বাহারি উদ্বিগ্ন হয়ে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>— “হামি গিয়ে বড়ম্যাডামকে ডেকে লিয়ে আসি। আপনি দাঁড়ান বউমনি।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>বাহারি চলে যেতেই লিলি একবার তাকাল সাদিদের ঘরের বন্ধ দরজার দিকে। মনে মনে ভাবল - লোকটা যদি তাকে মেনেই না নেয়… তাহলে বিয়ে করল কেন?</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>]]></content:encoded>
						                            <category domain="https://xgossip.fun/community/"></category>                        <dc:creator>Bara Miya</dc:creator>
                        <guid isPermaLink="true">https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%80%e0%a6%b7%e0%a6%a3-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0/#post-283</guid>
                    </item>
				                    <item>
                        <title>RE: গল্প: আপনি আমার ভীষণ কাছের কেউ (লেখনিতে:সুমাইয়া তুলি)</title>
                        <link>https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%80%e0%a6%b7%e0%a6%a3-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0/#post-282</link>
                        <pubDate>Tue, 08 Sep 2026 06:55:23 +0000</pubDate>
                        <description><![CDATA[Part:01
&nbsp;
কবুল বলেই বিয়ের আসর ছেড়ে উঠে দাঁড়াল সাদিদ। যেন এই বিয়েতে তার ভূমিকা শুধু ওই তিনটে শব্দ বলা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। পেছন থেকে তার মা আয়েশা বেগম বলে উঠলেন, 
—“কোথায় যাচ্ছো সাদ...]]></description>
                        <content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center"><strong>Part:01</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p style="text-align: center"><strong>কবুল বলেই বিয়ের আসর ছেড়ে উঠে দাঁড়াল সাদিদ। যেন এই বিয়েতে তার ভূমিকা শুধু ওই তিনটে শব্দ বলা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। পেছন থেকে তার মা আয়েশা বেগম বলে উঠলেন, </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“কোথায় যাচ্ছো সাদিদ?” </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>সাদিদ নামক ব্যাক্তি একরাশ বিরক্তি নিয়ে বলল, </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“প্লিজ আম্মু! বিয়ে করতে বলেছ, করেছি। আর বাধা দিও না। এখন আমায় যেতে হবে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>তার এই কথায় চারদিকে শুরু হলো তীব্র সমালোচনা। এদিকে একের পর এক কান্ডে হতভম্ব নববধূ লিলি। শুধুমাত্র ঢাবিতে চান্স না পাওয়ায় অচেনা-অজানা একজনের সাথে বিয়ে দেওয়া হয়েছে তার৷ বিষয় টা ঠিক হজম হচ্ছে না লিলির। চারপাশের এতো কোলাহলের মাঝেও তার কানে কিছুই ঢুকছে না।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>এই তো একটু আগে সামনের হুজুর টাইপ লোকটার গম্ভীর কণ্ঠে যখন বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>— “বলো মা, কবুল?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>বাবা-মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে লিলি তীব্র অভিমানে চোখ নামিয়ে নিল। মনে মনে ঠিক করল সে আর থাকবে না এদের সাথে। চলে যাবে। তাই ফটাফট বলে ফেলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>— “কবুল, কবুল, কবুল।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>রায়ন সাহেব মেয়ের এই কাজে অবাক হলেন না। তবে তার যে এখানে কিছুই করার নেই। লিলি কবুল বলার পরপরই, বর কবুল বলেই আসর ছেড়ে উঠে চলে গেল। এটা দেখে লিলির বাবা মায়ের প্রতি অভিমান আরও তীব্র হলো। </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>বাবা তাকে এত তাড়াতাড়ি জোর করে বিয়ে দিল তো দিল, এমন একজনের সঙ্গে দিল, যে কিনা তাকে বিয়ের আসরেই ফেলে চলে গেল! সে তো লোকটাকে চেনেও না, পাশে বসে থাকলেও লোকটাকে একবার চোখ তুলে দেখা হয় নি তার। শুধু নামটা শুনেছে — কাইরান শাহরিয়ার সাদিদ। আর চলে যাওয়ার সময় পেছন থেকে দেখেছে।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>বিয়ের আসর থেকে সাদিদকে এভাবে চলে যেতে দেখে লিলির বাবা রায়ন সাহেব এগিয়ে গেলেন আয়েশা বেগমের দিকে,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“এটা কী হলো, ভাবি? সাদিদ এভাবে চলে গেল কেন? ও কি এই বিয়েতে রাজি ছিল না?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>আয়েশা বেগম চুপচাপ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন। তিনি বরাবরই গম্ভীর স্বভাবের মানুষ। তাঁর ছেলেটাও হয়েছে তারই মতো চুপচাপ, নিজের মতো চলা, মাথা গরম, আর ভীষণ রকমের জেদি। অনেক কষ্টে তিনি ছেলেকে বিয়ের জন্য রাজি করিয়ে ছিলেন। তবে কে জানত সে এমন একটা কাজ করবে!</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>তবুও নিজেকে দ্রুত সামলে নিয়ে বললেন,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“এসব নিয়ে ভাববেন না। লিলি এখন আমাদের বাড়ির বউ। ওকে আমি নিজের মেয়ের মতোই দেখব। সাদিদ হয়তো একটু জেদি, তবে খারাপ ছেলে নয়। নিজের দায়িত্বে সে অবহেলা করবে না।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>সবকিছু হঠাৎই গতি পেল। বিদায়ের আয়োজন শুরু হয়ে গেল। লিলি বুঝে ওঠার আগেই সবার ভিড়, আলতো কান্না, ঝাপসা আলো সব মিলিয়ে কেমন একটা ঘোরের মধ্যে পড়ে গেল সে। গাড়িতে ওঠার সময় একবার ফিরে তাকাল বাবা-মায়ের মুখের পানে। পরপরই চোখ সরিয়ে নিল অভিমানে। </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>আজ সকালেও তো সব ছিল স্বাভাবিক। প্রতিদিনের মতো ঘুম থেকে উঠে মা-বাবার সঙ্গে খাওয়া, হাসিঠাট্টা সব ঠিকই ছিল। তবে বিকেলের দিকেই আচমকা সব পাল্টে গেল। হুট করেই তার মা মিসেস পারভীন তাকে সাজাতে শুরু করলেন। মাকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি কোনো উত্তর দেননি। তখনই পাশ থেকে তার ছোট চাচাতো বোন বলে ওঠে,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“কেন ফাইজা আপু, তুমি কি জানো না আজকে তো তোমার বিয়ে?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>প্রথমে তার কথা বিশ্বাস না করলেও পরিবারের সবার অস্বাভাবিক আচরণ আর মায়ের নীরবতা তাকে নিশ্চিত করে দিল মেয়েটা সত্যিই বলছে। তখনই লিলির মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। নিজের আকস্মিক বিয়ের কথা শোনার পর যখন বাবা-মাকে বোঝাতে চাইল, সে এই বিয়ে করতে চায় না। তখন তার বাবা একটা কথাই বলেছিলেন,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>— “ঢাবিতে তো চান্স পাওনি, তাই বিয়ে দিয়ে দিচ্ছি। তোমার আর পড়াশোনা করতে হবে না।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>ব্যস, এতটুকুই লিলির ছোট্ট মনে তীব্র অভিমান জমার জন্য যথেষ্ট ছিল। </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলির পুরো নাম ফাইজা মুনতাহা লিলি। ‘লিলি’ নামটা তার দাদির দেওয়া। যদিও সরাসরি তিনি এই নাম রাখেননি। দাদির মতে, সে পদ্মফুলের মতো কোমল ও সুন্দর। তাই তিনি প্রথমে তার নাম পদ্ম রেখে ছিলেন। কিন্তু কালেভদ্রে কিভাবে জানি সবাই তাকে পদ্মর থেকে লিলি বলে ডাকা শুরু করল। তারপর জন্মনিবন্ধনেও সেই নামই দেওয়া হলো। </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলি তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। বাবার স্বপ্ন ছিল সে যাতে ঢাবি তে পড়ে৷ সেই কথামতোই এইচএসসি পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির জন্য দিনরাত প্রস্তুতি নিয়েছিল লিলি। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে সেখানে চান্স হয় নি তার। এতে তার বাবা তার উপর বেজায় অভিমান করেছিল। কিন্তু সেই জন্য যে বিয়েই দিয়ে দেবে তা লিলি ভাবতেও পারেনি। অতপর লিলি আর কোনো প্রশ্ন করেনি। বাবা-মায়ের প্রতি তীব্র অভিমান নিয়ে চুপচাপ পুতুলের মতো বিয়েটা করে নিয়েছে সাদিদ নামক ওই অজ্ঞাত পুরুষকে। </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>———</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>লিলির ভাবনার ছেদ ঘটে যখন গাড়িটা এসে থামে এক বড় দোতলা বাড়ির সামনে। বাড়িটা পুরোনো আমলের আদলে গড়া। বেশ বড়, ছিমছাম। ঝাড়বাতির আলোয় চিকমিক করছে চারিপাশ। বাড়ির লোকেরা ব্যস্ত হয়ে উঠলো নতুন বউকে ঘরে তুলতে। আর অপরিচিত অনেক মানুষ তো আছেই। লিলি চুপচাপ মাথা নিচু করে সবার কথা শুনছে। গাঁ ভর্তি গহনা, ভারী শাড়ি পড়ে পা ফেলে হাঁটতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে তার। তবে মুখ ফুটে কিছু বলতে পারছে না।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>সবাই যখন লিলিকে ঘরে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখনই আয়েশা বেগম এক কাজের লোককে ডেকে জিজ্ঞেস করেন,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“সাদিদ এসেছে?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>ছেলেটি একটু ইতস্তত করে মাথা নাড়ে,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আজ্ঞে না ভাইজান তো এখানে আসেনি।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>উত্তরটা আয়েশা বেগমের পছন্দ হলো না। সামান্য বিরক্তি নিয়ে ধীরে বললেন,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ঠিক আছে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>তার মুখ দেখে বোঝার উপায় নেই তিনি কি ভাবছেন। হঠাৎ করে লিলির কাছে গিয়ে তার হাত ধরে গাড়ির দিকে নিয়ে যেতে লাগলেন।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>তা দেখে আয়েশা বেগমের বড় জা মিসেস সানজিদা উদ্বিগ্ন হয়ে বলে উঠলেন,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ওকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছিস?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ওর যেখানে থাকা দরকার সেখানে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>গম্ভীর কণ্ঠে এতটুকু বলেই লিলিকে নিয়ে রওনা দিলেন কোনো এক অজানা বা চিরচেনা গন্তব্যের দিকে। তবে লিলি এসবের কিছুই বুঝতে পারছে না। তার শাশুড়ি তাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? তাকে কি বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে আসবে? তাহলে বিয়েটা কেন করানো হলো? তারউপর খিদেয় তার পেটে ইঁদুর দৌড়াচ্ছে। বাবা মায়ের উপর রাগ করে তো বিকেলের পর কিছুই খাওয়া হয়নি তার। আর কিছু ভাবতে পারছে না লিলি। কোন মোড়ে যাচ্ছে তার জীবন সবকিছুই যে ধোঁয়াশা।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>———</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে টিএসসি চত্বরে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই দলের মাঝে তুমুল সংঘর্ষ বেধেছে। চারদিকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার সেল নিক্ষেপ করেছে, কিন্তু তাতেও যেন উত্তেজনা একটুও কমছে না। উত্তাল জনতার মাঝে ক্রমেই বাড়ছে বিশৃঙ্খলা।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>ঠিক এমন সময় ঝড়ের বেগে সেখানে এসে থামল একটি জিপ। গাড়ির দরজা খুলে ধীর পায়ে নেমে এলো এক যুবক। পরনের গাঢ় রঙের শেরওয়ানি। জিপ থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই সে হাতা গুটিয়ে নিল। সামনে তাকাতেই তার চোখে পড়ল কয়েকজন ছেলে মিলে রাস্তায় ফেলে একজনকে নির্মমভাবে মারছে।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>মুহূর্তেই রাগে তার পেশিবহুল হাতের শিরাগুলো ফুলে উঠল তার। জ্বলে উঠল তার হলুদ সবুজ মিশেলের হ্যাজেল আইস।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>আর এক মুহূর্তও দেরি করল না সে। জিপের ব্যাকসিট থেকে একটা হকি স্টিক তুলে নিয়ে দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেল সামনে। তারপর শুরু হলো তার তাণ্ডব। সামনে থাকা ছেলেগুলোকে একের পর এক আঘাত করতে লাগল। হকি স্টিকের আঘাতে একসময় ছেলেগুলো রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। এতক্ষণ মার খাওয়া ছেলেটা কোনোমতে উঠে দাঁড়িয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ভাই, আমরা তো শান্তিপূর্ণভাবেই সমাবেশ করছিলাম। ওরাই এসে ঝামেলা বাধিয়েছে।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>পুরুষটি কিছু বলল না। শুধু বড় বড় শ্বাস নিতে লাগল, যেন নিজের ভেতরের আগুনটাকে কোনোমতে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। ঠিক তখনই দূর থেকে লাঠি হাতে দৌড়ে এলো আরেকটা ছেলে। কাছে এসেই হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আজকের দিনে তুই কেন আসতে গেলি, সাদিদ? আমি সবটা সামলে নিতাম।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>গম্ভীর কণ্ঠে চিৎকার করে উঠল সাদিদ,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“Shut up, idiot! কখন এই ঝামেলা শুরু হয়েছে? তোরা থাকতে কেন বাহিরের মানুষের কাছ থেকে আমায় এই খবর জানতে হবে?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>আরিফ চুপ করে সাদিদের কথাগুলো নিঃশব্দে গিলে নিল। আজ সাদিদের বিয়ে ছিল। এমন দিনে কি আর তাকে ডাকা যায়! তাই ম্লান কণ্ঠে সে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“আজ তো তোর বিয়ে ছিল, তাই…”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>কথা শেষ করতে না দিতেই সাদিদ আবার কঠিন গলায় বলে উঠল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“Don’t say that. আম্মুর ছেলের বউয়ের দরকার ছিল, দিয়ে দিয়েছি। ব্যাস। এছাড়া ওই মেয়ের আমার জীবনে কোনো জায়গা নেই। They’re all the same.”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>কথা শেষ করেই সে আবার ভিড়ের ভেতর ঢুকে গেল। তাকে সামনে আসতে দেখে অনেকেই পালিয়ে গেছে। তবুও যারা রয়ে গেছে, তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল সাদিদ। একের পর এক তাদের বেধড়ক পেটাতে লাগল। কে জানে কোথাকার কোন রাগ, কোন যন্ত্রণা সে আজ এভাবে ঝাড়ছে।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>আরিফ দূর থেকে তাকিয়ে রইল তার দিকে। পাশেই আহত অবস্থায় বসে থাকা হাসান ধীরে ধীরে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“ভাই… কি এখনো তাকে ভুলতে পারেনি?”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>আরিফ নিঃশব্দে হাসানের কাঁধে হাত রাখল। তারপর গভীর, হতাশ কণ্ঠে বলল,</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>—“তাকে নয়… তার করা কাজটাকে ভুলতে পারেনি।”</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>
<div id="wpfa-2327" class="wpforo-attached-file"><a class="wpforo-default-attachment" href="//xgossip.fun/wp-content/uploads/wpforo/default_attachments/1788850523-FB_IMG_1788850501507.jpg" target="_blank" title="FB_IMG_1788850501507.jpg"><i class="fas fa-paperclip"></i>&nbsp;FB_IMG_1788850501507.jpg</a></div>]]></content:encoded>
						                            <category domain="https://xgossip.fun/community/"></category>                        <dc:creator>Bara Miya</dc:creator>
                        <guid isPermaLink="true">https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%80%e0%a6%b7%e0%a6%a3-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%b0/#post-282</guid>
                    </item>
				                    <item>
                        <title>Andhar Some words about the movie</title>
                        <link>https://xgossip.fun/community/general-discussionentertainmenttechnologysportsoff-topic/andhar-some-words-about-the-movie/#post-281</link>
                        <pubDate>Mon, 07 Sep 2026 22:53:11 +0000</pubDate>
                        <description><![CDATA[একটা কথা আছে - বাঙালি নামাজের কাতার ছাড়া আর কাউকেই সামনে আগাইতে দেয় না। পিছনে ধরে রাখা আমাদের একটা জাতিগত অভ্যাস! &#x1f610;
 
হরর জনরা পৃথিবীর প্রায় সব বড় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিরই খুব কমন একটা ...]]></description>
                        <content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center"><strong>একটা কথা আছে - বাঙালি নামাজের কাতার ছাড়া আর কাউকেই সামনে আগাইতে দেয় না। পিছনে ধরে রাখা আমাদের একটা জাতিগত অভ্যাস! &#x1f610;</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>হরর জনরা পৃথিবীর প্রায় সব বড় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিরই খুব কমন একটা সেগমেন্ট। হলিউডে তো হাজার হাজার হরর সিনেমা হয়েছে। টার্কিশ, স্প্যানিশ, ইন্দোনেশিয়ান ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও হরর সিনেমার বিশাল একটা অডিয়েন্স বেইজ আছে। এমনকি আমাদের পাশের দেশ ইন্ডিয়াতেও নিয়মিত হরর সিনেমা তৈরি হচ্ছে।</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>কিন্তু এই জায়গাটাতেই আমরা অনেকটা পিছিয়ে। শুধু পিছিয়েই না, আমাদের হরর জনরায় এখন পর্যন্ত রিমার্কেবল কোন সিনেমাই নেই, যেগুলো নিয়ে গর্ব করে কথা বলা যায়। বরং গুটিকয়েক সিনেমা পরবর্তীতে ট্রল ম্যাটেরিয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে।</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>সেদিক থেকে দেখলে রায়হান রাফি এবার হরর জনরাতেও একটা নতুন স্ট্যান্ডার্ড সেট করার চেষ্টা করছেন। আর সত্যি বলতে এখন পর্যন্ত ANDHAR-এর টিজার কাটকে আমার কাছে ঢালিউডের সেরা হরর টিজারই মনে হয়েছে।</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>তবে একটা বিষয় মাথায় রাখা দরকার - হরর, অ্যাকশন কিংবা থ্রিলার নিয়ে ওয়ার্ল্ডে এত বেশি সিনেমা তৈরি হয়েছে যে আপনি যতই ইউনিকভাবে বানানোর চেষ্টা করেন, কোনো না কোনো সিনেমার সঙ্গে কিছুটা মিল বা রেফারেন্স পাওয়া যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। শতভাগ নতুন কিছু বানানো এই জনরাগুলোতে সত্যিই কঠিন।</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>কিন্তু সমস্যা তখনই হয়, যখন সিনেমা মুক্তির আগেই টিজারের কয়েকটা মিল দেখে পুরো সিনেমাকে হলিউড থেকে কপি বা ইন্সপায়ার্ড বলে অপিনিয়ন দিয়ে দেওয়া হয়!</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>আরশাদ আদনানের মতো একজন প্রযোজক যদি শুধু টিজার দেখেই সিনেমার ভেতরের গল্প বা মেকিং সোর্স সম্পর্কে এতটা নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছে যান, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই - এটা আসলে কিসের ইঙ্গিত??? </strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>কিছু সিমিলারিটি বা রেফারেন্স যদি সত্যিই থেকেও থাকে, তাতেই বা সমস্যাটা কোথায়? আগে সিনেমাটা আসুক, দেখা যাক রাফি আসলে কী বানিয়েছেন। ভালো হলে প্রশংসা করব, খারাপ হলে সমালোচনা করার মত বহুত মানুষ আছে।</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>আমার কাছে মনে হয়েছে, মূল সমস্যাটা সিনেমার সিমিলারিটিতে না, মেন্টালিটিতে।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে এমনিতেই কালে-ভদ্রে ভালো সিনেমা আসে। হলের সংকট আছে, দর্শক ফেরানোর চ্যালেঞ্জ আছে, ইন্ডাস্ট্রি নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে কেউ যদি নতুন কিছু করার চেষ্টা করে, একটা নতুন জনরায় স্ট্যান্ডার্ড সেট করার চেষ্টা করে তাকে সামনে এগোতে দেওয়া উচিত।</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>কিন্তু না... কেউ একটু সামনে এগোতে গেলেই তাকে টেনে ধরতে হবে, খুঁত খুঁজতে হবে, বিতর্ক তৈরি করতে হবে!</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>তাতে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি রসাতলে যাক - কার কী আসে যায়!</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>শেষ পর্যন্ত তো একই ইন্ডাস্ট্রির সিনেমা। একজনের সাফল্য মানে পুরো ইন্ডাস্ট্রির জন্যই নতুন একটা দরজা খুলে যাওয়া।</strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong>তাই আগে সিনেমাটা আসুক। তারপর জাজ করা হোক - কপি, ইন্সপিরেশন নাকি সত্যিই নতুন কিছু!</strong></p>
<p style="text-align: center"><strong>&#x270d;&#xfe0f; CrackedFlix </strong></p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center"><strong> </strong></p>]]></content:encoded>
						                            <category domain="https://xgossip.fun/community/"></category>                        <dc:creator>Bara Miya</dc:creator>
                        <guid isPermaLink="true">https://xgossip.fun/community/general-discussionentertainmenttechnologysportsoff-topic/andhar-some-words-about-the-movie/#post-281</guid>
                    </item>
				                    <item>
                        <title>এই অশ্লীল শব্দের ব্যবহারটি কিভাবে বাংলায় এলো ( কেবল মানসিক ভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য )</title>
                        <link>https://xgossip.fun/community/general-discussionentertainmenttechnologysportsoff-topic/%e0%a6%8f%e0%a6%87-%e0%a6%85%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a7%80%e0%a6%b2-%e0%a6%b6%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%ac%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0/#post-280</link>
                        <pubDate>Fri, 04 Sep 2026 08:13:30 +0000</pubDate>
                        <description><![CDATA[পেছন মারা একটি অশ্লীল শব্দ, এর সঙ্গে পায়ুকাম জড়িত আছে, কোনও ভদ্রমানুষ এর ব্যবহার করে না, কিন্তু প্রথম যে মুসলমান শাসক একটি নৌসেনা গঠন করেছিলেন এবং পূর্ববঙ্গ অভিযান করতে প্রয়াস পেয়েছিলেন এবং ...]]></description>
                        <content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center">পেছন মারা একটি অশ্লীল শব্দ, এর সঙ্গে পায়ুকাম জড়িত আছে, কোনও ভদ্রমানুষ এর ব্যবহার করে না, কিন্তু প্রথম যে মুসলমান শাসক একটি নৌসেনা গঠন করেছিলেন এবং পূর্ববঙ্গ অভিযান করতে প্রয়াস পেয়েছিলেন এবং ব্যর্থও হয়েছিলেন, সেই গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ খিলজির পূর্ববঙ্গ অভিযানে ব্যর্থ হওয়ার ইতিহাস পাঠান্তে আরেকবার অনুধাবন করলাম, এই পেছন মারার কনসেপ্ট কিভাবে এসেছিল। আপনি সম্মুখ যুদ্ধ করতে যাচ্ছেন, এমন সময় আপনার মিত্র বা শত্রু, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মিত্র কেউ, এসে পেছন থেকে অতর্কিতে আক্রমণ করল।</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">অর্থাৎ পেছন মেরে দিল।</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">ইওয়াজ খিলজির জীবনে এটাই ঘটে। তিনি রণতরী সাজিয়ে ঘটা করে পূর্ববঙ্গ আক্রমণ করতে গেছিলেন। কিন্তু তখন তো সারা উত্তর ভারত জুড়ে এইসব ডাকাত কাম নতুন শাসকদের মধ্যে প্রচণ্ড খেয়োখেয়ি চলছে। ফলে লখনৌতি অরক্ষিত দেখে ইলতুৎমিশের পুত্র মালিক নাসিরউদ্দিন দ্রুত এসে লখনৌতি দখল করে বেচারা ইওয়াজের পেছন মেরে দিলেন। ইওয়াজ ফিরে এসে যুদ্ধ করলেন বটে, কিন্তু হারলেন, এবং বন্দী হলেন, সেই সঙ্গে ইওয়াজের সমস্ত আমিরও বন্দী হলেন। ইওয়াজ যথারীতি নিহত হন এরপর। ৬২৪ হিজরা, ১২২৭ খ্রিষ্টাব্দ। বেচারা গেছিলেন বঙ্গ জয় করে অতুল কীর্তি স্থাপন করতে, শেষে কিনা প্রাণটাই খোয়ালেন, তাও পেছন থেকে আক্রমণে।</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">দীর্ঘ বারো বছর রাজত্ব করা এই গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজই কেশব ও বিশ্বরূপসেনের লিপির গর্গযবন হতে পারেন, যাকে হারিয়ে কেশব ও বিশ্বরূপ গর্গযবনান্বয়প্রলয়কালরুদ্র উপাধি নেন, আমার মতে (গারঝা নামক একটা তুর্কি ক্ল্যান বোঝাতে গর্গযবন লেখা হয়েছে এমন তত্ত্বও আছে অবশ্য)।</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">চর্যার যুগ পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রাচীন যুগে এই পেছন মারা প্রবাদটি আমাদের দেশে প্রচলিত ছিল না বলেই মনে হচ্ছে। এটি সম্ভবত মধ্যযুগের অবদান। মধ্যযুগের শাসকদের এভাবে অনেকবার পেছন মারা গিয়েছিল। শুরু সম্ভবত নদীয়ায় লক্ষ্মণসেনের ওপরে সেই অতর্কিতে ambush দিয়ে। শেষ হয়েছে সিরাজকে দিয়ে, মীরজাফর যা করেছিলেন সেটাও তো ওই জিনিসই ছিল।</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p style="text-align: center">নবারুণ ভট্টাচার্য এবং বাঙালির ইতিহাস, দুইই অত্যন্ত প্রিয়, নইলে এমন একটা অভদ্র বিষয়ে লিখতে অগ্রসর হতাম না। পাঠক নিজগুণে মার্জনা করবেন।</p>
<p style="text-align: center"> </p>
<p>&nbsp;</p>
<p style="text-align: center">তথ্য:তমাল দাশগুপ্ত</p>
<p style="text-align: center"> </p>]]></content:encoded>
						                            <category domain="https://xgossip.fun/community/"></category>                        <dc:creator>Bara Miya</dc:creator>
                        <guid isPermaLink="true">https://xgossip.fun/community/general-discussionentertainmenttechnologysportsoff-topic/%e0%a6%8f%e0%a6%87-%e0%a6%85%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a7%80%e0%a6%b2-%e0%a6%b6%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%ac%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0/#post-280</guid>
                    </item>
				                    <item>
                        <title>RE: গল্প:নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা</title>
                        <link>https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%ad%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ae-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a7%80-2/#post-279</link>
                        <pubDate>Thu, 03 Sep 2026 23:17:10 +0000</pubDate>
                        <description><![CDATA[পর্ব:০৩-০২
 
 
 
 
দরজার সামনে থেকে সর তোরা।
ইরফান কড়া কন্ঠে বলল।
 
নীলা ইরফানের চোখে চোখ রেখে বলল ___
কেন ভাইয়া? আমাদের পরিবারের নিয়ম ভুলে গেছো নাকি?কারোর বিয়ে হলে ছোটরাই তো বা...]]></description>
                        <content:encoded><![CDATA[<div style="text-align: center"> <span style="text-decoration: underline"><em><strong><span style="font-size: 18pt">পর্ব:০৩-০২</span></strong></em></span></div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">দরজার সামনে থেকে সর তোরা।</div>
<div style="text-align: center">ইরফান কড়া কন্ঠে বলল।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">নীলা ইরফানের চোখে চোখ রেখে বলল ___</div>
<div style="text-align: center">কেন ভাইয়া? আমাদের পরিবারের নিয়ম ভুলে গেছো নাকি?কারোর বিয়ে হলে ছোটরাই তো বাসর ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা টাকা নেওয়ার জন্য। কতক কষ্ট করে আমরা তোমাদের বাসর ঘর সাজালাম এইটা তো আমাদের প্রাপ্তি।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">নীলার কথা শুনে ইরফান এবং আরশি এক সাথে অবাক হয়। তাদের বাসর ঘর নীলা সাজিয়েছে।আরশি আর নিজেকে দমিয়ে না রেখে বলে উঠে___</div>
<div style="text-align: center">তুই নিজ হাতে আমাদের বাসর ঘর সাজিয়েছিস? </div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">নীলা স্মিত হেসে জবাব দিল ___</div>
<div style="text-align: center">কেন নয় ভাবি? এতটুকু তো করাই যায়।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">নীলার এমন সম্পর্ক রক্ষা জনক ডাক শুনে আরশি অবাক হয় যেমন ঠিক তেমনি নীলাকে কষ্ট পেতে না দেখে ভেতর ভেতর রাগে জ্বলে উঠলো।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">ইরফান এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নীলার দিকে। পরনে তার নীল রঙের শাড়ি।এই রঙ নীলার খুব পছন্দের কিন্তু ইরফানের অপছন্দ বলে নীলা এই রঙের জিনিস পত্রের ধারের কাছেও যেত না। অথচ আজ সেই নীলা তার পছন্দকে উপেক্ষা করে নিজের পছন্দের কাজ করল‌। ইরফানের কাছে যেন এই নীলা অচেনা। ইরফান রাগী কন্ঠে বলল____</div>
<div style="text-align: center">নীলা তোকে না বলেছিলাম আমার নীল রং পছন্দ না তাহলে এই রঙের শাড়ি কেন পরেছিস।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">নীলার ঠোঁটে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠলো।সে ইরফানের চোখে চোখ রেখে বলল___</div>
<div style="text-align: center">আমি কেন তোমার পছন্দ অপছন্দের খেয়াল রাখবো? তোমার বউ আছে তাকে বরং বলো নীল রঙের জিনিস থেকে দূরে থাকতে।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">নীলার কথা শুনে ইরফান স্তব্ধ হয়ে গেল।নীলা কখনো তার মুখের উপর এইভাবে কথা বলে নি।নীলার কথা শুনে আরশি তৎক্ষণাৎ বলে উঠলো ___</div>
<div style="text-align: center">না বাবা আমার নীল রঙ অনেক পছন্দ। আমি কারোর জন্য নিজের পছন্দ বিসর্জন দিতে পারবো না।আর আমি ভীষণ ক্লান্ত তোমাদের যা নেওয়ার আছে তা নিজেদের ভাইয়ের কাছ থেকে নাও।আমি রুমে গেলাম।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">কথা গুলো বলেই আরশি নীলা আর ইবাদের মাঝ দিয়ে রুমে চলে গেল। ইরফান এখনো স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।কোই নীলা তো কখনো এভাবে বলেনি যে সে নিজের পছন্দকে বিসর্জন দিতে পারবে না। অথচ আরশি কত সহজেই কথা গুলো বলে ফেলল।এই মুহূর্তে যদি আরশি যায়গায় নীলা থাকতো তাহলে কখনোই ইরফান কে এইভাবে ছেড়ে চলে যেত না বরং বলতো আমিও যেমন ক্লান্ত আমার ইরফান ভাই ও তেমন ক্লান্ত।ওকে কেউ বিরক্ত করো না।</div>
<div style="text-align: center">ইরফান নিজের চিন্তায় মগ্ন ছিল তখনই আবির</div>
<div style="text-align: center"> বলে উঠলো ___</div>
<div style="text-align: center">ভাইয়া রুমে গিয়ে চিন্তা ভাবনা করো। আপাতত আমাদের কে টাকা দাও।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">ইরফান নড়ে চড়ে উঠলো আবিরের কথায়।সে ভীষণ ক্লান্ত এবং বুকের মাঝে এক অজানা শূন্যতা অনুভব করছে তাই আর কথা না বাড়িয়ে জিজ্ঞেস করল__</div>
<div style="text-align: center">কত টাকা।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">আবির আর ইবাদ দাঁত বের করে হাসি দিয়ে বলল___</div>
<div style="text-align: center">বেশি না মাত্র ১০ হাজার।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">ইরফান পকেটে থাকে টাকা বান্ডিল বের করে চেক করে দেখল তার কাছে আছে কেবল ৭ হাজার টাকা।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">নীলা বাঁকা হাসে বললো ___</div>
<div style="text-align: center">ভাইয়া এর থেকে বেশি তো আমার কাছেই আছে। যাইহোক এগুলোই দাও আমরা ম্যানেজ করে নিব।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">ইরফান কিছুটা লজ্জা পেল নীলার কথায়। আগে অনেক টাকা নিয়েছে নীলার কাছ থেকে কিন্তু কখনো লজ্জা পায়নি কিন্তু আজ পাচ্ছে।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">ইরফান নীলার দিকে টাকা গুলো এগিয়ে দিতেই নীলা আবির কে উদ্দেশ্য করে বলল ___</div>
<div style="text-align: center">ভাইয়া টাকা গুলো নিয়ে ছাদে আসো আমরা আড্ডা দেই। কথাটি বলেই নীলা জবা ফুল কানের পেছনে গুজে সামনের দিকে এগিয়ে গেল। ইরফান আহত দৃষ্টিতে কেবল চেয়ে রইল নীলার পানে। ভাবলো হয়তো নীলা অন্তত একবার পেছন ফিরবে। কিন্তু নীলা সোজা ছাদের দিকে চলে গেল।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">_________</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">মায়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে মিহাল। ইসরাতুল ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললেন ___</div>
<div style="text-align: center">কি হয়েছে বাবা? </div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">মিহাল আহত কন্ঠে বলল___</div>
<div style="text-align: center">মিনু আন্টির কথা মনে পড়ছে।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">ইসরাতুল ঠিকই বুঝতে পারলেন ছেলে তার মিনু আন্টির জন্য না বরং মিনু আন্টির ছেলে মুনভির জন্য কষ্ট পাচ্ছে। কিন্তু মিনুর কথা শুনে তার মনে পুরোনো স্মৃতি জাগ্রত হলো। অবশ্য এগুলো সে কখনোই ভুলেনি।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">মিহাল মায়ের নিরবতা কারণ উপলব্ধি করতে পেরে বলল____</div>
<div style="text-align: center">তোমার ছেলের উপর ভরসা রাখ মা।আমি সব ঠিক করে দেবো।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">ইসরাতুল কিছু বলল না কেবল ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে নীরবে চোখের জল ফেলল.।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">_____________</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">বাসর ঘরে ঢুকতেই ইরফানের যেন জান যায় যায় অবস্থা। পুরো রুম জবা ফুল দিয়ে সাজানো। সাথে নীল রঙের জালি কাপড়‌।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">আরশি এতক্ষণে পরনে লাল রঙের শাড়ি খুলে ইরফানের শার্ট এবং টাওজার পরে বসে আছে।তার খেয়ালই নেই যে এই রুমে তার স্বামী ঠিকমত দম দিতে পারবেনা। </div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">ইরফান আরশি কে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আরশি বলে উঠলো ___</div>
<div style="text-align: center">ওহ্ কামন ইরফান, আজ কিছু হবে না। আমি অনেক ক্লান্ত। আর এমনিতেও তোমাদের বাড়ি আসার পর থেকে আমার পরিবার কম কথা শোনায়নি আমাকে। আজকে রাতে কিছু হবার আশা করোনা। আর এমন তো নয় যে আমাদের মাঝে কখনো কিছু হয়নি। এসব তো অনেক আগেও অনেকবার হয়েছে। তাই আমাকে এখন ঘুমাতে দাও।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">কথাগুলো বলে আরশি বিছানায় শুয়ে পরল গায়ে কমফোর্ট জড়িয়ে।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">ইরফান রাগে দুঃখে গজগজ করতে করতে রুম থেকে বেরিয়ে ছাদের উদ্দেশ্যে চলে গেল।তার রাগ মূলত আরশির উপর কিন্তু নীলার উপর আজ সে তার সকল রাগ ঝাড়বে। </div>
<div style="text-align: center">নীলা, আবির আর ইবাদ মিলে ছাদে চেহারা নিয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিল এবং আইসক্রিম খাচ্ছিলো। এমন সময় ইরফান রাগে গজগজ করতে করতে ছাদে এলো এবং নীলার হাত থেকে আইসক্রিম কেড়ে নিয়ে মেঝেতে ফেলে দিল।</div>
<div style="text-align: center"> তারপর দাঁতের দাঁত চেপে বলল ____</div>
<div style="text-align: center">তুই চাস না আমি বাসর করি।</div>
<div style="text-align: center">তাই ইচ্ছে করে এমন করেছিস তাই না? </div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">ইরফানের কাজ দেখে আবির রেগে গেল।ইবাদ কেবল নিরব দর্শকের মত সবকিছু দেখতে লাগলো। </div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">নীলা শব্দ করে হেসে উঠলো। তার হাসি শুনে সবাই অবাক। নীলা হাসতে হাসতে বলল____</div>
<div style="text-align: center">তোমার বাসর করা নিয়ে আমার কোন সমস্যা নেই ইরফান ভাইয়া। এখন তুমি আমার বেস্ট ফ্রেন্ডের সাথে বাসর করবে নাকি রাস্তার কুকুরের সাথে সেটা নিতান্তই তোমার ব্যাপার।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">নীলার কথা শুনে ইবাদ আর আবির শব্দ করে হেসে উঠলো।আর ইরফান আবারো স্তব্ধ হয়ে গেল। সে যেন এই নীলার রূপ হতে অজ্ঞাত </div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div> </div>
<div> </div>]]></content:encoded>
						                            <category domain="https://xgossip.fun/community/"></category>                        <dc:creator>Bara Miya</dc:creator>
                        <guid isPermaLink="true">https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%ad%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ae-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a7%80-2/#post-279</guid>
                    </item>
				                    <item>
                        <title>RE: গল্প:নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা</title>
                        <link>https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%ad%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ae-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a7%80-2/#post-278</link>
                        <pubDate>Thu, 03 Sep 2026 23:15:53 +0000</pubDate>
                        <description><![CDATA[পর্ব:০৩
 
 
 
মুনভি? 
পেছন থেকে এক পুরুষালি কন্ঠ ভেসে এলো মুভির কানে। মুনভির কন্ঠটি চিনতে সমস্যা হলো না।এ যে তার অতি প্রাণ প্রিয় বন্ধুর কন্ঠ।মুনভি চেয়ার সমেত পেছনে ফিরল।তার ডেস্কের সা...]]></description>
                        <content:encoded><![CDATA[<div style="text-align: center"> <em><strong><span style="font-size: 14pt">পর্ব:০৩</span></strong></em></div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">মুনভি? </div>
<div style="text-align: center">পেছন থেকে এক পুরুষালি কন্ঠ ভেসে এলো মুভির কানে। মুনভির কন্ঠটি চিনতে সমস্যা হলো না।এ যে তার অতি প্রাণ প্রিয় বন্ধুর কন্ঠ।মুনভি চেয়ার সমেত পেছনে ফিরল।তার ডেস্কের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটিকে দেখে বাঁকা হাসলো। পরনের সাদা এপ্রোন খুলে চেয়ারের উপর রাখল।চেহারা ছেড়ে উঠে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিটির দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো। তার পুরো নাম শাহরিয়ার মুনভি।পেশায় সে একজন ডাক্তার।Hôpital Européen Georges-Pompidou(ইউরোপীয় হাসপাতাল জর্জেস পম্পিডো) তে সে একজন Cardiologist.(হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ) ব্যক্তিটির একদম মুখোমুখি দাঁড়িয়ে শান্ত কন্ঠে বলল ___</div>
<div style="text-align: center">মিহাল খান মাই ডিয়ার বেস্ট ফ্রেন্ড।আই মিন এক্স বেস্ট ফ্রেন্ড।উই মিট আফটার আ লং টাইম।তো এখানে কি করে আসা? </div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">মুনভির বলা কথাগুলো শুনে মিহালের ঠোঁটেও স্মিত হাসি ফুটে উঠল।এক জীবনে দুজন দুজনের জন্য জান দিয়ে দিতে প্রস্তুত ছিল।আর এখন দুজন দুজনের জান নিয়ে নিতে প্রস্তুত।কি অদ্ভুত এই বন্ধুত্ব।মিহাল নিজের মস্তিষ্ক হতে অন্যান্য চিন্তা ভাবনা দূর করে বলল___</div>
<div style="text-align: center">"এখান দিয়ে যাচ্ছিলাম ভাবলাম নিজের শত্রুর খোঁজ খবর নিয়ে যাই।যত যাই হোক এক জীবনে তো বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলাম।"</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">মিহালের কথা শুনে মুনভির ঠোঁট তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠল।সে বিদ্রুপ করে বলল ____</div>
<div style="text-align: center">ছিলাম তো বেস্ট ফ্রেন্ড।(বেস্ট ফ্রেন্ড কথাটি সে জোড় লাগিয়ে বলল।)এক সময় অনেক ভালো বন্ধু ছিলাম।সেই বন্ধুত্বের হত্যা নিজ হাতে করেছিস তুই মিহাল।তাই এখন আমার তোকে মারতেও হাত কাঁপবে না। ঠিক যেমন তোর আমাদের বন্ধুত্বকে হত্যা করতে হাত কাঁপেনি।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">মুনভির কথা শুনে মিহাল ভেতরে ভেতরে ক্ষতবিক্ষত হলেও তা প্রকাশ করল না। বরং শব্দ করে হেসে উঠলো।তার এহেন কান্ডে অবশ্য মুনভি অবাক হলো না। ছোট বেলা থেকেই তাদের বন্ধুত্ব ছিল তো তাই সে মিহাল কে যতটা চেনে মিহাল নিজেও নিজেকে ততটা চেনে না।মিহাল নিজের হাসি আয়ত্তে এনে বলল___</div>
<div style="text-align: center">যখন বন্ধুত্ব ছিল তখন যদি সেই বন্ধুর জন্য মরতে পারি, তাহলে এখন না হয় বন্ধুত্ব শেষ হয়ে জন্মে উঠা শত্রুতামিতে শত্রুর হাতে মরব।তফাত নেই তো কোনো।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">মিহালের কথায় মনক্ষুণ্ণ হলো মুনভি।এত সহজেই কি বন্ধুত্ব শেষ করা যায় যত সহজে মিহাল বলল কথাটি। কিন্তু সে মুখ ফুটে কিছু বলল না।মুনভি কে চুপ থাকতে দেখে শায়ান শান্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করল___</div>
<div style="text-align: center">মিনু আন্টি কেমন আছেন? </div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">মিহালের কথা শুনে মুনভি কিছুটা স্বাভাবিক হলো। তারপর সেও শান্ত কন্ঠে উত্তর দিল ___</div>
<div style="text-align: center">আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আমার সাথে যাই হোক না কেন মা তোকে খুব ভালো বাসে।সময় করে বাড়ি আসিস।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">মিহাল যেন এই কথাটি শোনার অপেক্ষায় ছিল।কেবল মাথা নাড়িয়ে মুনভির কেবিন থেকে বের হয়ে এলো।বের হয়ে বাইরে থেকে দরজা মিশিয়ে দিল এবং নিজে দরজার সাথে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে রইল।চোখ বন্ধ করে ঘনঘন নিঃশ্বাস নিতে লাগলো এবং যথাসম্ভব নিজের আবেগ কে নিজের আয়ত্তে আনার চেষ্টা চালালো।যখন বুঝতে পারলো সে স্বাভাবিক হয়ে গেছে তখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে বলতে লাগলো ___</div>
<div style="text-align: center">মিহাল খান নিজের আয়ত্তে সব কিছু রাখতে পারে এমনকি নিজের আবেগও।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">কিন্তু পরক্ষণেই আহত কন্ঠে বলল___</div>
<div style="text-align: center">আমি না হয় সত্য জানি না, আমি না হয় সব কিছু শেষ করেছি। কিন্তু চাইলেই তো একবার আমাকে জড়িয়ে ধরে বলতে পারতি, "মিহাল আমি কিছুই করিনি।তুই যা জানিস সব মিথ্যে।"ট্রাস্ট মি মুনভি সকল প্রমাণ কে প্রত্যাখ্যান করে কেবল তোর কথা বিশ্বাস করতাম। কিন্তু তুই কি করলি? আমাদের বন্ধুত্বের উপরে নিজের ইগো কে বেছে নিলি? এক্সপ্লেইন পর্যন্ত করলি না।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">কথা গুলো বলে মিহাল দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়লো তারপর গলার টাই ঢিলা করতে করতে বলল__</div>
<div style="text-align: center">সত্য কখনো লুকানো যায় না। খুব শীঘ্রই আমি সত্যি জেনে ছাড়বো। কিন্তু এই সবের মাঝে যে আমাদের বন্ধুত্ব নষ্ট হয়েছে তা কখনোই ঠিক হবে না।</div>
<div style="text-align: center">কথা গুলো বলেই মিহাল হসপিটাল থেকে হনহনিয়ে বের হয়ে গেল।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">অন্যদিকে কেবিনের ভেতর বসে থাকা মুনভি আহত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে দরজার দিকে। তারপর তাচ্ছিল্যের স্বরে বলল____</div>
<div style="text-align: center">ঠিকই তো আগের মতোন অধিকার দেখিয়ে পারমিশন না নিয়ে আমার কেবিনে ঢুকে পরলি।অথচ যাওয়ার আগে একবারও পিছনে ফেরার প্রয়োজন বোধ করলি না? এই ছিল তোর বন্ধুত্ব? সত্য একদিন ঠিকই প্রকাশ পাবে কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে যাবে মিহাল।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">_____________</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">নীলা, আবির এবং ইবাদ মিলে ইরফান আর আরশির বাসর ঘর সাজাচ্ছে। বাড়ির সবাই অবাক না হয়ে পারছে না নীলা কে দেখে।নীলয় মির্জা দরজার ফাঁক দিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মেয়েকে দেখছেন।চোখ উনার অশ্রুসিক্ত। </div>
<div style="text-align: center">হারিয়ে গেলেন পুরোনো স্মৃতির মাঝে___</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">অতীত ____</div>
<div style="text-align: center">বড় আব্বু দেখো না ইরফান ভাইয়া তার এক বান্ধবীর সাথে কথা বলতে বলতে বাড়ি আসছে।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">৭ বছরের নীলা নিজের বড় চাচারা কাছে এসে উনার ছেলের নামে বিচার দিল।নীলার কথা শুনে উপস্থিত সকলে নীলার দিকে দৃষ্টিপাত করল। সেখান নীলয় মির্জা, ইমরান মির্জা, আকাশ মির্জা সকলের উপস্থিত ছিলেন। </div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">ইমরান মির্জা নিজের ভাইজি কে কাছে টেনে নিজের পাশে বসিয়ে আদুরে স্বরে বললেন___</div>
<div style="text-align: center">কেন আমার নীলা মার বুঝি কষ্ট হচ্ছে? </div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">নীলা মাথা নাড়িয়ে বলল___</div>
<div style="text-align: center">"তুমিই তো বলেছিলে ইরফান ভাইয়ার সাথে আমার বিয়ে দিবে তাই যাতে বড় হয়ে কখনো অন্য কোনো ছেলের সাথে কথা না বলি। তাহলে ইরফান ভাইয়া কেন অন্য মেয়ের সাথে কথা বলছে? কই আমি তো কোন ছেলের সাথে কথা বলি না। আমি আমার জিনিস অন্য কারোর সাথে ভাগ করতে পারবো না।আমার মানে সেইটা সম্পূর্ণ আমার।"</div>
<div style="text-align: center">নীলার এমন অধিকারী কথা শুনে সবাই অবাক হয়ে গিয়েছিল।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">পুরোনো কথা মনে পড়তেই নীলয় মির্জার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল‌।সাত বছরের নীলা তার ইরফান ভাইয়ার সাথে অন্য কোনো মেয়েকে দেখতে পারতো না। অথচ আজ ২১ বছরের নীলা(অনেকেই বছর নিয়ে কনফিউজ কারণ আমি একবার চেন্জ করে ২৩ দিয়েছিলাম। কিন্তু ২১ই ঠিক আছে।) নিজের হাতে তার ইরফান ভাইয়ার বাসর ঘর সাজাতে ব্যস্ত।এই দৃশ্য নীলয় মির্জা আর বেশিক্ষণ দেখতে পারলেন না।তার মেয়ে যতোই শক্ত দেখাক না কেন নিজেকে কিন্তু ভেতর ভেতর যে শেষ হয়ে গেছে তা তিনি বাবা হয়ে বেশ ভালো ভাবেই বুঝতে পারছেন। চোখের পানি মুছে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ালেন।বরণ হবার পর যে তিনি সেই নিজের রুমে ঢুকে ছিলেন এরপর মাত্র বের হলেন মেয়ের খুঁজে।এখন মেয়েকে শক্ত হয়ে থাকতে দেখে তিনি আরো বেশি ভেঙে পরলেন।আর মেয়ের সামনে নিজের ভেঙে যাওয়ার রূপ প্রকাশ করতে চান না বলে আপনার নিজের রুমে চলে গেলেন। </div>
<div style="text-align: center">________________</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">পুরো রুম জবা ফুল দিয়ে সাজালো নীলা। টুকটুকে লাল রঙের জবা ফুল নীলার খুব পছন্দ। কিন্তু ইরফান জবা ফুল পছন্দ করতো না বলে সে নিজের পছন্দ কে বিসর্জন দিয়েছিল কোনো এক কালে।আজ সে নিজের হাতেই ইরফানের বাসর ঘর জবা ফুল দিয়ে সাজালো। সাথে নীল রঙের জালি কাপড় যাতে ইরফানের মনে হয় এইটা তার বাসর ঘর না বরং সাজা পাওয়ার ঘর।আবির আর ইবাদ নীলার সাথে দাঁড়িয়ে পুরো রুমে ভালো করে চোখ বুলায়। আবিরের বুক মোচড় দিয়ে উঠলো আজ এই খানে তার বোনের থাকার কথা ছিল অথচ নিয়তির পরিহাসের ফলে তার বোন এই রুম সাজালো।মুখ দিয়ে এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে তারপর নীলার উদ্দেশ্যে বলল___</div>
<div style="text-align: center">সাব্বাস নীলু সাব্বাস। এই না হলে আমার বোন।</div>
<div style="text-align: center">ইবাদ বলে উঠলো ____</div>
<div style="text-align: center">"আয়না ঘরের দিন শেষ, বাসর ঘরকে সাজা ঘরে পরিণত করে হল বাংলাদেশ।"</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">আবির শব্দ করে হেসে উঠলো ইবাদের কথা শুনে।নীলা বাঁকা হাসলো তারপর বলল____</div>
<div style="text-align: center">এখন সবাই যার যার রুমে গিয়ে তৈরি হয়ে আসো। বাসর ঘরে ঢুকতে দেওয়ার আগে বরের কাছ থেকে টাকা নিতে হবে তো। </div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">আবির আরেক দফা অবাক হলো নীলার কথা শুনে।আজ যেন অবাক দিবস। কিন্তু কিছু না বলে আবির আর ইবাদ নিজেদের ঘরে চলে গেল।নীলা একবার চোখ বুলিয়ে নিল ঘরটাতে। চোখের কোণে তার জল জমেছে খানিকটা।নীলা রুমে থাকা ফুল গুলোতে আলতো করে হাত বুলিয়ে আহত কন্ঠে বলল___</div>
<div style="text-align: center">আমায় কেন ধোঁকা দিলে ইরফান ভাই? আমি কি দোষ করেছিলাম? আমার সত্যিকারের ভালবাসার এত বড় পুরস্কার না দিলেও পারতে। কোনো কু নজর নেই তোমার নতুন সংসারের প্রতি আর না আছে কোনো অভিশাপ। কিন্তু তোমরা আমাকে এমন ভাবে ভেঙে দিয়েছো যে এখন আমি নতুন নীলা হয়ে জন্মেছি। কিন্তু আমার মনের ভালোবাসা বিশ্বাস অনুভূতি এগুলো আর কখনো কারোর জন্য জন্মাতে পারবে না। আমাকে এমন ভাবে না ভাঙলেও পারতে।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">কথা গুলো বলতে বলতে নীলার চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পরার আগেই নীলা উপরের দিকে তাকালো। চোখের পানি চোখে রয়ে গেল। তারপর নিজেকে স্বাভাবিক </div>
<div style="text-align: center">করে বলল___</div>
<div style="text-align: center">তোমরা যদি ভেবে থাকো আমি পাঁচ দশটা ন্যাকা মানুষের মতো বলবো "অথচ আজও লাশ তার খুনি কে ভালোবেসে" তাহলে তোমরা ভুল ভাবছো। খুনের বদলে খুন করবো না বরং তোমাদের করা খুনের প্রতিশোধ নেব।</div>
<div style="text-align: center">কথাটি বলে বাঁকা হেসে রুম ত্যাগ করল নীলা।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">পুরো মির্জা বাড়ি আজ থমথমে। ইরফান আর আরশি ইমরান মির্জার রুম দাঁড়িয়ে আছে। ইরফানের মা তো ছেলের দিকে তাকিয়েও দেখছে না। ইমরান খান নিজের ছেলের উদ্দেশে আবার বলে উঠলেন ____</div>
<div style="text-align: center">লজ্জা করল না এমন নিচু কাজ করতে? বিয়েতে মত ছিল না তাহলে কেন মেয়েটির মন নিয়ে খেললে? গায়ে হলুদের দিন কেন হাসতে হাসতে আনন্দ করলে? আর বিয়ের দিনই কেন এমন কাজ করলে? একটা মেয়ের জন্য তার বিয়ের দিন বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়া কতটা অপমানজনক তাকে তুমি জানো? অবশ্য তুমি কি করে জানবে তোমার তো নিজেরই কোন মান নেই। </div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">"বাবা"</div>
<div style="text-align: center">ইরফান ডাকটি বলতেই ইমরান খান ছেলেকে চুপ করিয়ে দিয়ে বলল___</div>
<div style="text-align: center">আমাকে বারবার বাবা ডেকে মনে করিয়ে দিও না যে আমি তোমার মত কুলাঙ্গার কে জন্ম দিয়েছি।যখন বেকার ছিলে তখন নীলা তোমার পাশে ছিল। আজ তুমি যতটুকু তার পেছনে কেবল রয়েছে নীলা আর তুমি সেই নীলা কেই এখন প্রত্যাখ্যান করলে? নীলাকে প্রত্যাখ্যান করার যোগ্যতা কি আদৌ আছে তোমার মাঝে? </div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">ইরফান প্রতি উত্তরে বলার কিছু খুঁজে পেল না। ইমরান মির্জার এইবার নিজের পুত্রবধূর দিকে তাকিয়ে শান্ত কন্ঠে বললেন ____</div>
<div style="text-align: center">যেখানে নিজের ছেলে দোষী সেখানে তুমি পরের মেয়ে তোমাকে আমি দোষারোপ করব না। কিন্তু একটা কথা মাথায় রাখবে যেই যায়গায় নীলা আমার ছেলেকে সাফল্যতা পেতে সাহায্য করেছে, সেই জায়গায় আমার ছেলে নীলাকে ছেড়ে দিয়েছে। তুমি তো তুচ্ছ্য নীলার সামনে।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">ইমরান মির্জার কথা বেশ বিধলো আরশির গায়ে।সে যেই না মুখ খুলে কিছু বলতে নিবে তার আগেই ইরফান তার হাত চেপে ধরলো।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">ইমরান মির্জা তাদের উভয়ের উদ্দেশ্যে বলল___</div>
<div style="text-align: center">যাও এখন নিজেদের ঘরে যাও।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">ইরফান আর আরশি নির্লজ্জের মত ইমরান মির্জার রুম থেকে বের হয়ে গেল। আস্তে আস্তে এগিয়ে যেতে লাগলো ইরফানের ঘরের দিকে। ইরফান নিজের ঘরের সামনে যেতেই গান শুনতে পেল কোনো এক মেয়েলি কন্ঠের।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center">নীলা ইরফানের ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছে‌।তার এক পাশে আবির এবং অন্য পাশে ইবাদ দাঁড়িয়ে আছে। নীলার পরনে তার নীল শাড়ি এবং সাথে মেচিং করা চুড়ি এবং জুয়েলারি।নীলার হাতে রক্ত জবা ফুল। সে রক্ত জবা ফুলে হাত বুলাতে বুলাতে গান গাইলো ____</div>
<div style="text-align: center">হাতে চুড়ি ছাম ছাম বাজে</div>
<div style="text-align: center">বসে না মন কোনো কাজে,</div>
<div style="text-align: center">প্রেম আসে যায় মনে</div>
<div style="text-align: center">তোকে না পাওয়ার কারণে।</div>
<div style="text-align: center"> </div>
<div style="text-align: center"> </div>]]></content:encoded>
						                            <category domain="https://xgossip.fun/community/"></category>                        <dc:creator>Bara Miya</dc:creator>
                        <guid isPermaLink="true">https://xgossip.fun/community/romantic-stories/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%ad%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ae-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a7%80-2/#post-278</guid>
                    </item>
							        </channel>
        </rss>
		