RE: গল্প: অযাচিত প্রণয় (Writer: Sana Sheikh) -
X Man - 09-01-2026
11
পরের দিন বেশ বেলা করে ঘুম থেকে ওঠে তুলি। গত রাতে দুটো মুভি দেখে ঘুমিয়েছিল শেষ রাতের দিকে।
তাই এখন আর ঘুম ছুটতে চাইছে না। মনে হচ্ছে আরও কতক্ষন ঘুমিয়ে নিতে। কিন্তু ঘুমোনো যাবে না। ইমরানের জন্য রান্না করতে হবে। ও খাবার খাবে তারপর মেডিসিন খাবে। এমনিতেই অনেক বেলা হয়ে গেছে। বেড থেকে নেমে হেলে দুলে ড্রেস নিয়ে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে। একে বারে শাওয়ার নিয়ে নেবে।
,
,
রান্না শেষ করতে করতে প্রায় এগারোটা বেজে যায়।
তাড়াহুড়ো করে ডাইনিং টেবিলে খাবার সাজিয়ে রেখে ইমরানের রুমের সামনে এসে দাঁড়ায়। ডোর খোলাই রয়েছে তাই ডোর ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করে। পুরো রুম অন্ধকারে তলিয়ে আছে এখনো। মনে হচ্ছে এখনো বোধহয় মাঝরাত। এগিয়ে গিয়ে লাইট অন করে। ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে তুলির চোখ কপালে। রুমের প্রায় অর্ধেক জিনিস এলোমেলো করে ফ্লোরে ছড়িয়ে রেখেছে।
তাকায় বেডের দিকে। বালিশ ছাড়া ব্ল্যাঙ্কেট দিয়ে মাজা অব্দি ঢেকে উপুর হয়ে ঘুমিয়ে আছে। তিন টা বালিশ ই ফ্লোরে পড়ে আছে। বেডে শুয়েও আছে এলোমেলো হয়ে।
তুলি বালিশ তিন টা তুলে বেডের এক পাশে রাখে। ইমরানের মাথার কাছে দাঁড়িয়ে ডেকে ওঠে,
_ ঘুম থেকে ওঠো।
কোনো সাড়া শব্দ নেই।
গায়ে হাত দিতেই বুঝতে পারে জ্বর এখন আগের মত আর ওঠেনি। ধাক্কা দিয়ে বলে,
_ শুনতে পাচ্ছো ? ওঠো।
নড়ে চড়ে ওঠে ইমরান। চোখ বন্ধ রেখেই ব্ল্যাঙ্কেট দিয়ে পুরো শরীর ঢেকে নেয়। তারপর ঘুম জড়ানো গলায় বলে,
_ দেরি আছে।
_ এগারোটার উপরে বেজে গেছে।
_ তো কি হয়েছে ? আমি তো ঘুমিয়েছিই একটু আগে।
জ্বালাবে না তো যাও।
_ রাত তিন টার সময় ঘুমিয়ে বলছো একটু আগে ঘুমিয়েছি।
_ সকালে আটটার পর ঘুমিয়েছি।
_ কি বললে ?
মাথা তুলে তুলির মুখের দিকে তাকায়।
_ কখন ঘুমিয়েছো ?
_ এক বছর আগে।
বিরক্ত হয় তুলি। টেনে গায়ের উপর থেকে ব্ল্যাঙ্কেট সরিয়ে নেয়। ভাঁজ করতে করতে বলে,
_ রাতে মাথায় ভূ/ত চড়ে বসেছিল নাকি ? রুমের এই অবস্থা করেছো কেন ?
ইমরান নিজেও ফ্লোরের দিকে তাকায়। সত্যি বলতে তো রাগে এই অবস্থা করেছিল। কিন্তু কিসের জন্য রাগ হচ্ছিল ইমরান নিজেই বুঝতে পারেনি। একে তো রাগ হচ্ছিল তার উপর আবার ঘুম আসছিল না।
শেষে মেজাজ ঠান্ডা করার জন্য রুমের বারোটা বাজিয়ে ছিল। শুয়ে বসে ছটফট করতে করতে সকালে আটটার পর ঘুমিয়েছিল।
এখনো ঘুম ছাড়েনি, মাথা ভার ভার হয়ে আছে। আরেকটু ঘুমোতে পারলে ভালো লাগতো।
তুলি বালিশ আর ব্ল্যাঙ্কেট জায়গা মত রাখতে রাখতে বলে,
_ যাও ফ্রেশ হয়ে আসো। খাবার খেয়ে মেডিসিন খাও। নয়তো আবার জ্বর বেড়ে যাবে।
_ আমাকে নিয়ে অত ভাবতে হবে না তোমার।
তুলি ঘাড় ঘুরিয়ে ইমরানের দিকে তাকিয়ে বলে,
_ তাহলে কাকে নিয়ে ভাববো ?
_ জানিনা আমি।
_ আমি জানি। সে আসলে তাকে নিয়েই ভাববো, এখন কার মতন তোমাকে নিয়েই ভাবী। তোমাকে নিয়ে ভাবার মতন তো কেউ নেই এখন।
_ তুলি।
_ চিৎকার না করে ওয়াশরুমে যাও। খাবার ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।
রাগে গজগজ করতে করতে বেড থেকে নেমে ওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে যায় ইমরান।
তুলি বেডের চাদর টান টান করে রেখে ফ্লোরের সব কিছু গুছিয়ে রাখতে শুরু করে।
,
,
খাবার খেতে বসেছে দুজন। খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে ইমরানের মুখের দিকে তাকায় তুলি। ইমরানকে দেখতে কেমন রাগী রাগী মনে হচ্ছে। রেগে আছে নাকি ?
খাওয়া শেষের দিকে আসলে তুলি বলে,
_ কিছু হয়েছে ?
খেকি দিয়ে ওঠে ইমরান।
_ কি হবে ?
চমকে ওঠে তুলি। বুকে থু থু দেয়। এভাবে বলতে হয় ? একটু ভালো ভাবে বললে কি হয় ? জীবনেও খ্যাক খ্যাক করা ছাড়বে না ব্যাটা ভন্ড বদ লোক। তুলি তবুও দমে না গিয়ে আবার বলে,
_ এভাবে বলার কি আছে ? একটু ভালো ভাবে কথা বলতে পারো না ? লিয়ামকে দেখো না কিভাবে কথা বলে ? ওতো তোমারি বন্ধু , এক সাথে এত বছর ধরে রয়েছো। ওর কাছ থেকে কিছু শিখতে তো পারো। ওকে দেখে শিখবে কিভাবে কথা বলতে হয়। সব সময় শুধু খ্যাক খ্যাক। আমি বলে তোমার খ্যাক খ্যাক শুনেও চুপ করে থাকি। অন্য কেউ আসলে কিন্তু তোমার এই খ্যাক খ্যাক করা স্বভাব সহ্য করবে না। মুখের উপর লাথি দিয়ে চলে যাবে। তাই লাথি না খেতে চাইলে আগে থেকেই ভালো ভাবে মিষ্টি করে কথা বলার ট্রেনিং নেবে লিয়াম এর কাছ থেকে।
_ চুপ করবি নাকি তুলে একটা আছাড় মারবো ?
_ এই যে আবার খ্যাক খ্যাক করছে। ভালো কথা বলছি ভালো লাগছে না ?
_ তোর মুখ কিন্তু সেলাই করে দেবো আমি।
_ সেলাই করার জন্য সুই সুতা লাগে। তোমার কাছে আছে সুই সুতা ?
_ মেজাজ টা গরম না করে চুপ কর।
_ মেজাজ সারা জীবন ঠান্ডা থাকবে তোমার। কোনো দিন আসবো না তোমার মেজাজ গরম করতে। তার বিনিময়ে আমাকে শুধু একটা বার বাংলাদেশে পাঠিয়ে দাও। পাঠাতে হবে না শুধু টাকা দাও। প্রমিজ করছি বাংলাদেশে ফিরেই তোমার টাকা ব্যাক পাঠিয়ে দেবো।
ইমরানের রাগ তরতর করে বেড়তে থাকলেও বহু কষ্টে চুপ করে রইলো। রাত থেকে মেজাজ এমনিতেই গরম হয়ে রয়েছে। তুলির কথা গুলো শুনে এখন আরো গরম হচ্ছে।
ইমরানের মুখ লাল বর্ণ ধারণ করতে দেখে তুলি কিছু সময় তাকিয়ে থেকে বলে,
_ থাক তোমার টাকা দেওয়া লাগবে না। আমি নিজেই ম্যানেজ করে নেব।
ইমরান কিছু না বলে হাত ধুয়ে উঠে দাঁড়ায়। গজগজ করতে করতে লম্বা লম্বা কদমে নিজের রুমের দিকে এগিয়ে যায়। রাগে মস্তিষ্ক টগবগ করছে।
তুলি খাওয়া শেষ করে টেবিল গুছিয়ে রাখে। এটো থালা বাসন কিচেনে নিয়ে ধুয়ে রেখে দেয়। তখন রান্নার পর কিচেন পরিষ্কার করা হয়নি। তাই এখন পরিষ্কার করে রাখে।
সব কাজ শেষ করে আয়েশি ভঙ্গিতে সোফায় গিয়ে বসে। সোফায় বসতেই রাতের কথা স্মরণ হয়। স্মরণ হতেই মুচকি হেসে ওঠে।
,
,
সন্ধ্যার পর লিয়াম আসে ওদের ফ্ল্যাটে। লিয়াম এর হাতে দুটো প্যাকেট রয়েছে। প্যাকেট দুটো তুলির দিকে এগিয়ে দেয়।
তুলি প্যাকেট দুটো হাতে নিয়ে বলে,
_ কি এগুলো ?
_ একটা গ্রিল চিকেন, চিংড়ি ফ্রাই আর সফ্ট ড্রিংকস।
_ এগুলো কেন ?
_ আমার খেতে ইচ্ছে করছিল। তারপর ভাবলাম প্যাকেট করে নিয়ে যাই তোমার আর ইমরানের সঙ্গে খাবো। তাই নিয়ে এসেছি, একা একা খাওয়ার চেয়ে কয়েক জন মিলে খেলে বেশি ভালো লাগে।
লিয়াম এর কথা শুনে মুচকি হাসে তুলি। লিয়াম ভুল কিছু বলেনি। একা খাওয়ার চেয়ে কয়েক জন মিলে খেলে আসলেই খাবারের স্বাদ যেন বেড়ে যায় কয়েক গুণ। সেই সঙ্গে একটা ভালো লাগাও কাজ করে মনে, তৃপ্তিও পাওয়া যায়।
_ ইমরান কোথায় ?
_ রুমে।
_ আচ্ছা তুমি এগুলো প্লেটে বেড়ে নাও আমি ইমরানকে ডেকে নিয়ে আসছি।
_ হুম।
তুলি প্যাকেট দুটো হাতে নিয়ে কিচেনের দিকে এগিয়ে যায়। লিয়াম ইমরানের রুমে এসে দাঁড়ায়। কিন্তু ইমরান নেই রুমে। ওয়াশরুমের ডোরের দিকে তাকিয়ে দেখে ডোর ভেতর থেকে লক করা। তাই রুম থেকে বেরিয়ে আসে।
এসে দাঁড়ায় ড্রইং রুমে।
লিয়াম তুলিকে ছোট বোন বা বন্ধুর বউ ব্যতীত অন্য কিছু ভাবেনি কখনো। তুলি এখানে আসার পর থেকে লিয়াম যতটা হাসি খুশি থাকে তা আগে কখনো হয়নি। লিয়াম হাসি খুশি চঞ্চল স্বভাবের হলেও এখন কার মত ভালো লাগতো না আগে। লিয়াম হাজারো মেয়ের সাথে কথা বলেছে। অনেক মেয়ের সাথে রিলেশন ও করেছে। এখনো মাঝে মধ্যে ডেটে যায় জীবন সঙ্গী নির্বাচনের জন্য। তবে কাউকে সেভাবে কখনো ভালো লাগেনি লিয়াম এর। ও হাজারো মেয়ের সাথে ফ্লার্ট করলেও মন থেকে ভালোবাসতে পারেনি কাউকে। হসপিটালের নার্স, মহিলা ডক্টর , মহিলা পেশেন্ট দের সাথেও ফ্লার্ট করে। তারাও বিরক্ত না হয়ে উল্টো ওর তালে তাল মেলায়।
সেসবের মাঝে সাময়িক সময়ের জন্য আনন্দ পেলেও স্থায়ী আনন্দ পায়নি কখনো। কিন্তু তুলির সাথে বন্ধুত্ব হওয়ার পর সেই আনন্দ টা অনুভব করে লিয়াম। লিয়াম কোনো মেয়ের সাথে অল্প সময় কথা বললেই মেয়েটার সম্পর্কে সব ধারণা করতে পারে। কিভাবে যেন বুঝতে পেরে যায় সব কিছু।
তুলি মেয়ে টা অন্য সব মেয়েদের থেকে অনেক আলাদা। তাই তুলিকে ভালো লাগে ওর কাছে। তুলির মধ্যে কোনো কিছু পাওয়ার প্রবণতা নেই। লিয়াম এর সাথে কথা বললেও সব সময় দূরত্ব বজায় রাখে। নিজের বড় ভাই না থাকায় লিয়ামকে বড় ভাই বানিয়েছে। লিয়াম আগেই বুঝতে পেরেছে তুলি ইমরানকে ভালোবাসে। তাই লিয়াম ইমরানকে জেলাসি ফিল করানোর জন্য চলে আসে এই ফ্ল্যাটে। ইমরানকে দেখিয়ে দেখিয়ে তুলির সাথে বেশি বেশি কথা বলে, হাসাহাসি করে।
কিন্তু ব্যাটা ইমরান সে সব কিছু যেন অনায়াসে হজম করে নেয়। কিন্তু গত রাতের ঘটনায় যা বোঝার বুঝে গেছে লিয়াম। আগেও একটু একটু বুঝতে পেরেছিল তবে শিওর ছিল না। কাঠখোট্টা, বদমেজাজি, নিরামিষ ইমরানকে দেখে সহজে কিছু অনুমান করা যায় না।
কারণ ইমরান আগে থেকেই এমন।
কিন্তু গত রাতের ঘটনার পর এত টুকু বুঝতে পেরেছে যে তুলিকে ভালো না বাসলেও ওকে তুলির আশে পাশে দেখলে জেলাসিতে জ্বলে পুড়ে যায়।
রাতের ঘটনা স্মরণ করে মুচকি হেসে ওঠে। ভালো না বেসে যাবে কোথায় ? তুলির প্রেমে ফেলেই ক্ষান্ত হবে লিয়াম।
হঠাৎ তুলির চিৎকারে দৌড়ে কিচেনে প্রবেশ করে। তুলি আঙ্গুল ধরে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। টপ টপ করে র/ক্ত পড়ছে হাতের মুঠোয় থেকে।
_ হাতে কি হয়েছে তোমার ?
_ একটু কে/টে গেলো।
_ কিভাবে দেখি কত টুকু কে/টে/ছে ।
_ শসা কা/টতে গিয়ে কে/টে গেছে, বেশি কা/টে/নি।
_ দেখি হাত এদিকে দাও।
বলেই তুলির হাত টেনে নিজের সম্মুখে ধরে।
বাম হাতের একটা আঙ্গুল বেশ খানিক টা কে/টে হা হয়ে গেছে। গলগল করে র/ক্ত পড়ছে সেখান থেকে।
_ ফার্স্ট এইড বক্স টা কোথায় ?
_ আপনার বন্ধুর রুমে।
_ তুমি আঙ্গুল টা শক্ত করে চেপে ধরে রাখো আমি আসছি।
তুলি আঙ্গুল টা চেপে ধরে। লিয়াম কিচেন থেকে বেরিয়ে এক প্রকার দৌড়ে ইমরানের রুমের দিকে এগিয়ে যায়। তুলি কিচেন থেকে বেরিয়ে ড্রইং রুমে আসে।
লিয়াম ইমরানের রুমে এসে দেখে ইমরান ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এসেছে। চোখে মুখে এখনো পানি , হাতে টাওয়েল।
_ ফার্স্ট এইড বক্স টা কোথায় ইমরান ?
ইমরান হাত দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
_ কার কি হয়েছে ?
_ তুলির হাত কে/টে গেছে।
বলেই রুম থেকে বেরিয়ে যায়। ইমরান কিছু সময় দাঁড়িয়ে থেকে হাতের টাওয়েল ছুঁড়ে ফেলে রুম থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসে।
ড্রইং রুমে এসে দেখে লিয়াম আর তুলি মুখোমুখি হয়ে সোফায় বসে আছে। লিয়াম কটন দিয়ে তুলির হাতের রক্ত পরিষ্কার করছে আর তুলিকে বার বার জিজ্ঞেস করছে অনেক ব্যাথা করছে কিনা।
ইমরান আর আগায় না। ওখানেই দাঁড়িয়ে রইলো। তুলির হাত কে/টে/ছে। তুলি ওকে না ডেকে পাশের ফ্ল্যাট থেকে লিয়ামকে ডেকে এনেছে। ওর থেকে লিয়াম বড় হয়ে গেছে ? ওকে ডাকা যেতো না একবার ? লিয়ামকে কেন ডাকতে হবে ?
চোখ মুখ শক্ত করে সোফায় বসে থাকা দুজনের দিকে তাকিয়ে রইলো। ইচ্ছে তো করছে লিয়ামকে তুলে ফ্ল্যাটের বাইরে নিয়ে ফেলে দিয়ে আসতে। আর তুলিকে ধরে উদ্যম মাধ্যম দিতে। হাসবেন্ড কে না ডেকে ফ্রেন্ড কে ডেকেছে। তাও কার ফ্রেন্ড ? তুলির নিজের ফ্রেন্ড তো না।
আর লিয়াম কেও বলিহারি, ওর ফ্রেন্ড হয়ে ওকে ছেড়ে সারা দিন আর বউয়ের সাথে পটর পটর করে। ও যে ওর ফ্রেন্ড সেটা যেন লিয়াম ভুলেই গেছে। ফ্ল্যাটে আসার পর থেকে যাওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত শুধু তুলি আর তুলি।
রাগ হচ্ছে ভীষণ। রাগে ফোস ফোস করতে করতে আগের জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলো।
একবার লিয়াম এখান থেকে বের হোক তার পর দেখাবে মজা। জামাই ছেড়ে জামাইয়ের বন্ধু কে ডাকা !
RE: গল্প: অযাচিত প্রণয় (Writer: Sana Sheikh) -
X Man - 09-01-2026
Part:12
ডাইনিং টেবিলে খেতে বসেছে তিন জন। যদিও ইমরান খেতে চায়নি। ওকে জোর করে বসিয়েছে লিয়াম।
তাই বাধ্য হয়ে ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও খাচ্ছে ওদের দুজনের সাথে। কোনো কিছুই যেন ওর গলা দিয়ে নামছে না। জোর করে করে গিলছে বেচারা ইমরান।
খেতে খেতেও হেসে হেসে কথা বলছে তুলি আর লিয়াম। যা দেখে ইমরানের রাগ আরো বাড়ছে। না পারছে কিছু বলতে আর না পারছে কিছু করতে।
খাওয়া শেষ হওয়ার সাথে সাথেই লিয়াম এর ফোন বেজে ওঠে। অপরিচিত নাম্বার দেখে ভ্রু কুঁচকে রিসিভ করে। ওপাশ থেকে ভেসে আসে মেয়েলি গলার স্বর। নাম বলতেই চিনতে পারে লিয়াম। ফোন কানে ধরে রেখেই ইমরান আর তুলির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায় নিজের ফ্ল্যাটে।
টরন্টো শহরে যাওয়ার পর ফ্যামিলি থেকে ওর বিয়ের জন্য একটা মেয়ে দেখেছিল। সকলের বেশ পছন্দ হয়েছে। লিয়াম এর ও পছন্দ হয়েছে। তবে কোনো একটা কারণে কথাবার্তা আর আগায়নি। মেয়ের ফ্যামিলি থেকেই আবার যোগাযোগ করেছে ওদের সাথে। সেই মেয়ে টাই কল করেছে এখন। তার সাথে কথা বলার জন্যই চলে গেলো।
ইমরান আর তুলির ও খাওয়া শেষ হয়। খাওয়া শেষ হলেও ইমরান চেয়ারেই বসে রইলো। তুলি এটো প্লেট বাটি গুছিয়ে কিচেনে রেখে আসে। বাড়তি খাবার ফ্রিজে তুলে রেখে দেয়। কিচেনের লাইট অফ করে দিয়ে এসে দাঁড়ায় ইমরানের কাছে ,
_ এভাবেই বসে থেকে রাত পাড় করার চিন্তা করেছো নাকি ?
ইমরান বলে না কিছু। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সামনের দিকে। কি ভাবছে এক মনে কে জানে ? নড়ছে না চড়ছেও না, চোখের পলক ও ফেলছে না।
তুলি বাম হাত টা উচু করে ইমরানের মুখের সামনে নাড়িয়ে বলে ,
_ মাছের মতো চোখ খোলা রেখে ঘুমিয়ে গেলে নাকি ? ও হ্যালো শুনতে পাচ্ছো আমার কথা ?
তুলির বাম হাত টা খপ করে থাবা দিয়ে ধরে ইমরান । হঠাৎ এভাবে ধরায় চমকে ওঠে তুলি। হাত টান দিয়ে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে,
_ কি করছো ছাড়ো ব্যাথা পাচ্ছি।
_ খুব সাহস বেড়েছে তোর না ?
_ সাহসের কি করলাম আবার ? আমার একটুও সাহস নেই , আমার কলিজা এই এত টুকুনি। এই টুকুনি কলিজা নিয়ে তোমার মত বাঘের সামনে সাহস দেখানোর সাহস আছে নাকি আমার ? নাইতো এখন হাত ছাড়ো।
_ হাত কে/টে/ছে কিভাবে ?
_ শসা কা/ট/তে গিয়ে।
_ আমাকে না ডেকে লিয়ামকে ডেকেছিস কেন ?
_ আশ্চর্য্য, আমি লিয়ামকে ডাকতে যাবো কেন ? লিয়াম এসেছিল বলেই তো হাত টা কে/টে/ছিল।
_ মানে ?
_ লিয়াম খাবার গুলো নিয়ে এসেছিল। এগুলোর সাথে শসা খাওয়ার জন্য শসা কা/ট/তে গিয়েছিলাম। কিন্তু ভুল করে আঙ্গুল কে/টে ফেলেছি।
_ আমাকে ডাকলি না কেন ?
_ আমি তো কাউকেই ডাকিনী। হাত ছাড়ো, ডাকাতের মতো চেপে ধরেছে কিভাবে ? ব্যাথা পাচ্ছি ছাড়ো।
তুলির হাত ছাড়লো না ইমরান বরং হাত ধরে রেখেই উঠে দাঁড়ালো। হাতের কব্জি মুঠো করে ধরে টেনে নিয়ে এগিয়ে যায় কিচেনের দিকে।
_ ওদিকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছো ?
কোনো কথা বলে না ইমরান। তুলির হাত ধরে রেখেই কিচেনের লাইট অন করে। তারপর বেসিনের সামনে এসে দাঁড়ায়।
_ এক চুল নরবি তো ধরে আছাড় মা/র/বো।
ইমরানের রাগী গলার স্বর শুনে মুখ তুলে ওর মুখের দিকে তাকায় তুলি। এমন রেগে আছে কেন ? রেগে যাওয়ার মতন কি করেছে ?
তুলির আঙ্গুলের ব্যান্ডেজ খুলতে শুরু করে ইমরান।
_ আরে কি করছো , ব্যান্ডেজ খুলছো কেন ? ব্যাথা লাগছে ছাড়ো।
বলেই হাত টানাটানি শুরু করে তুলি। ইমরান শক্ত করে ধরে রেখে ব্যান্ডেজ খুলছে। পুরোপুরি ব্যান্ডেজ খুলে আঙ্গুলের দিকে দৃষ্টি স্থির করে। বেশ খানিক টা কে/টে গেছে। ট্যাপ অন করে পানির নিচে তুলির হাত ধরে রাখে। ঘষে ঘষে হাত টা ধুতে শুরু করে। যেন হাত থেকে কিছু তোলার চেষ্টা করছে।
_ আমার হাতে কোনো নোংরা ময়লা নেই। হাত এভাবে ধুচ্ছো কেন ? ব্যাথা পাচ্ছি তো ছাড়ো, র/ক্ত বেরিয়ে গেলো আবার।
আসলেই র/ক্ত বেরিয়ে এসেছে আবার। পানির সংস্পর্শে এসে ক্ষত স্থান ভিজে হা হয়ে গেছে আবার।
_ ডাক্তার হয়ে কসাইয়ের মতো আচরণ করছো কেন ? ও বুঝেছি তুমি তো ধরতে গেলে এক প্রকার কসাই ই। ওদের মতো তুমিও চামড়া মাংস কা/টো। ওদের আর তোমার মধ্যে একটাই পার্থক্য তুমি সেলাই করো ওরা করে না।
একটু চুপ থেকে আবার বলে,
_ একটুও দয়া মায়া নেই নাকি অন্তরে ? এভাবে ব্যাথা দিচ্ছ কেন হাতে ? ডাক্তাররা তো দয়া মায়া হীন পাষাণ হৃদয়ের হয়, তুমিও তাই। একটুও দয়া মায়া নেই তোমার মনে। লিয়াম এর কাছ থেকে দয়া মায়া জন্মানোর ট্রেনিং নেবে।
রেগে তুলির মুখের দিকে তাকায় ইমরান। হাত ধরে টেনে আবার ড্রইং রুমে নিয়ে আসে। সোফায় বসিয়ে টি টেবিলের উপর থেকে টিস্যু পেপার নিয়ে তুলির পুরো হাত মুছিয়ে দিয়ে ফার্স্ট এইড বক্স টা খোলে। তারপর ভায়োডিন লাগাতে শুরু করে ক্ষত স্থানে।
_ আআআ জ্বলছে।
তুলির চিৎকার শুনে তড়িৎ গতিতে ওর মুখের দিকে তাকায় ইমরান। তারপর আবার হাতের দিকে তাকিয়ে আঙ্গুলের ক্ষত স্থানে ফু দিতে শুরু করে। কয়েক সেকেন্ড পর ফু দেওয়া বন্ধ করে তুলির মুখের দিকে তাকায়। চিবিয়ে চিবিয়ে বলে,
_ ভায়োডিন লাগালে জ্বলে ?
তুলি দাঁত কেলিয়ে হেঁসে বলে,
_ ব্যাথা করছে।
_ আঙ্গুল কা/টা/র সময় মনে ছিল না ব্যাথা করবে ? কা/টা/কা/টি করার সময় মন কোথায় থাকে ?
_ তোমার কাছে।
মনে মনে বলে বাক্য গুলো। ইমরান পুনরায় ভায়োডিন লাগিয়ে অয়েটমেন্ট লাগায় তারপর ব্যান্ডেজ করতে শুরু করে।
তুলি সুর ধরে বলে,
_ জ্বলে জ্বলে জ্বলে........
আবার তুলির মুখের দিকে তাকায়।
_ কোথায় জ্বলে ?
তুলি ডান হাত তুলে এক আঙ্গুল ইমরানের বুকের বা পাশে ঠেকিয়ে বলে,
_ এখানে।
ইমরান নিজের বুকের বা পাশে তাকায়। আবার তুলির মুখের দিকে তাকায়। তারপর পুনরায় ব্যান্ডেজ আঁধতে বাঁধতে বলে,
_ গ্যাসের সমস্যা হয়েছে হয়তো। গ্যাসের মেডিসিন খা ঠিক হয়ে যাবে।
তুলি ইমরানের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে দাঁত কটমট করে। মনে মনে বলে,
_ ব্যাটা আনরোমান্টিক খাটাশ, সার ওয়ালা সাদা মুলা কোথাকার। আমার বুকে জ্বলছে না, জ্বলছে তো তোর বুকে। সেজন্যই তো এমন করছিস।
ব্যান্ডেজ বাঁধা হয়ে গেলে তুলি হাত সরিয়ে নেয়।
_ মেয়েটার নাম কি ?
ইমরান অবাক হয়ে বলে,
_ কোন মেয়ে ?
_ আরে তোমার গার্লফ্রেন্ড, জানের জিগার কলিজার টুকরা প্রেমিকা, তোমার জান্টুস পাখি।
_ মুখের ভাষা ঠিক করে কথা বল তুলি। এই সব কি কথা ?
_ যা বাবা কি এমন বললাম ?
_ কি বলেছিস জানিস না ?
_ ওই সব কথা বাদ দাও। এখন বলো মেয়েটার নাম কি, দেখতে কেমন ? মেয়ে টা কে আসতে বলো আমি একটু দেখে যাই।
_ কোন মেয়ে ? কিসের মেয়ে ? পা/গল হয়েছিস নাকি ?
_ পা/গ/ল হতে যাবো কেন ? তোমার গার্লফ্রেন্ডের কথা বলছি আমি। কপাল পোড়া মেয়ে টা কে দেখতে খুব ইচ্ছে করছে। তোমার মতন খ্যাক শিয়ালের সাথে মেয়ে টা থাকবে কিভাবে ? যেই মুখের ভাষা তোমার। খ্যাক খ্যাক করা ছাড়া তো মুখের ভাষা বের হয় না। সব মেয়ে কিন্তু তুলিকা জান্নাত না, যে তোমার খ্যাক খ্যাক মুখ বুজে চুপ চাপ সহ্য করবে। একটু মিষ্টি করে কথা বইলো মেয়েটার সাথে নয়তো মুখে লাথি দিয়ে চলে যাবে।
_ কোনো গার্লফ্রেন্ড নেই আমার। উল্টা পাল্টা কথা একদম বলবি না। আগেও সিঙ্গেল ছিলাম এখনো সিঙ্গ
_ এখনো সিঙ্গেল আছি তাইতো ? কিন্তু আমি তো জানি তুমি সিঙ্গেল না। ভয় নেই তোমার গার্লফ্রেন্ড কে কোনো কু বুদ্ধি দেবো না আমি। শুধু একটু দেখবো। যাওয়ার আগে এটাই আমার শেষ ইচ্ছে , তোমার গার্লফ্রেন্ড কে দেখবো।
_ কোথায় যাবি তুই ?
তুলি অন্য দিকে তাকিয়ে বলে,
_ আগামী কাল আমি বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছি।
অবাক হয় ইমরান। অবাক হয়েই বলে,
_ টাকা কোথায় পেলি ? কে দিয়েছে ?
_ কেউ দেয়নি তবে আগামী কাল দেবে।
_ কে ?
_ লিয়াম।
ইমরান রেগে বলে,
_ তুই ওর কাছে টাকা চেয়েছিস কেন ?
_ একেবারে নিচ্ছি নাকি ? বাংলাদেশে ফিরেই ব্যাক করে দেবো।
_ তুই চাইবি কেন ওর কাছে ?
_ তুমি তো দেবে না , আমি কি করবো তাহলে ? বাড়ি থেকেও কেউ দেবে না। আমি এখন টাকা জোগাড় করতে রাস্তায় ভিক্ষা করতে নামবো নাকি ?
_ বেশি বেশি বলছিস কিন্তু তুলি।
_ একদম না , কমই বলেছি। তোমার ফ্ল্যাটে এত দিন ধরে রয়েছি তাই যাওয়ার আগে তোমাকে বলে গেলাম। এখন আমি ঘুমোতে যাই ভোরে দ্রুত ঘুম থেকে উঠতে হবে।
বলেই সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। ধীর পায়ে এগিয়ে যায় নিজের জন্য বরাদ্দকৃত রুমের দিকে।
থম ধরে বসে রইলো ইমরান। রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে।
কত বড় সাহস এই মেয়ের !
তুলি রুমে এসে ফ্রেশ হয়েই শুয়ে পড়ে।
ইমরান এখনো আগের মতোই বসে রয়েছে।
রাত বাড়ে কিন্তু ইমরান সোফা থেকে ওঠে না, রুমেও যায় না। সকালে হসপিটালে যেতে হবে, এখন না ঘুমালে সকালে উঠতে পারবে না। সেদিকে খেয়াল নেই। সব কিছু বাদ দিয়ে তুলির কথাই ভেবে চলেছে।
চোখ যায় টি টেবিলের উপর রাখা ফার্স্ট এইড বক্সের উপর। তখন রাগের মাথায় শুধু শুধু মেয়ে টা কে কষ্ট দিলো। লিয়াম আগেই ফ্ল্যাটে এসেছিল ইমরান বুঝতে পারেনি। ওয়াশরুমে ছিল তাই হয়তো কলিং বেলের শব্দ ওর কানে পৌঁছায় নি। ভেবেছে হাত কা/টা/র পর তুলি ওকে না ডেকে লিয়ামকে ডেকেছে।
লিয়াম তুলিকে ছুঁয়েছে, ধরেছে ওর সহ্য হয়নি। তুলি লিয়াম এর সাথে হেসে হেসে কথা বললে ওর বুকে বড্ড যন্ত্রণা হয়। দুজন কে একসাথে দেখলেই ওর মাথা গরম হয়ে যায়। আর এই দুজন ওর মাথা গরম করার জন্যই যেন আরো বেশি হেসে হেসে কথা বলে। ওকে দেখিয়ে দেখিয়ে এটা ওটা ছোড়াছুড়ি করে।
ঘড়ির কাঁটা বারোটা পাড় করে যায়। সোফা থেকে উঠে দাঁড়ায় ইমরান। বড় বড় কদমে এগিয়ে যায় তুলির রুমের সামনে। হাত দিয়ে ডোর ঠ্যালা দিতেই বরাবরের মতো ডোর খুলে যায়। পুরো রুম অন্ধকারে তলিয়ে আছে, ভোঁ ভোঁ করে ঘুরছে ফ্যান। অন্ধকারে অনুমান করে হেঁটে গিয়ে লাইট অন করে। বেডের দিকে তাকিয়ে দেখে চাদর দিয়ে গলা অব্দি ঢেকে ঘুমিয়ে আছে তুলি। লাইটের আলো চোখে মুখে পড়ায় নাক মুখ কুঁচকে নিয়েছে। ফ্যানের বাতাসে ছোট ছোট চুল গুলো উড়ছে।
ঘুমন্ত তুলিকে দেখতে আজ ভারী সুন্দর লাগছে ইমরানের কাছে। ইমরান এগিয়ে আসে বেডের কাছে। তুলির গায়ের উপর থেকে চাদর টেনে সরিয়ে নেয়।
নড়ে চড়ে উঠে আবার শান্ত হয়ে যায়। হাত বাড়িয়ে তুলিকে পাঁজা কোলে তুলে নেয় ইমরান। বড় বড় কদমে রুম থেকে বেরিয়ে আসে।
তুলি ঘুমোরের মধ্যেই বুঝতে পারে হাওয়ায় ভাসছে। ফট করে চোখ খুলে তাকায়। চোখের সামনে ভেসে ওঠে ইমরানের থমথমে গম্ভীর মুখশ্রী। যখন বুঝতে পারে ইমরানের কোলে রয়েছে তখন নড়া চড়া শুরু করে দেয়। বলা যায় কোলের উপর এক প্রকার লাফালাফি শুরু করেছে। ওর লাফালাফির কারণে দাঁড়িয়ে পড়েছে ইমরানের। ইমরানের বুকে দুই হাতে ধাক্কা দিয়ে বলে,
_ কি করছো ? কোথায় নিয়ে যাচ্ছো আমাকে ? ছাড়ো, নামাও কোল থেকে।
ইমরান শান্ত কন্ঠে বলে,
_ ছটফট না করে চুপ করে থাক।
_ আমাকে মে/রে গুম করে দেওয়ার জন্য নিয়ে যাচ্ছো আর বলছো চুপ থাকতে ! আমি ম/রলে কিন্তু তুমি শান্তিতে বাঁচতে পারবে না ডাক্তার। তাই ভালোয় ভালোয় বলছি ছেড়ে দাও আমাকে।
ইমরান তুলিকে কোলে নিয়ে নিজের রুমে প্রবেশ করে। তারপর নিজের বেডে শুইয়ে দেয়।ডোর লক করার জন্য এগিয়ে যায় ডোরের কাছে। তুলি যখন দেখে ইমরানের বেডে শুয়ে আছে তখন লাফিয়ে বেড থেকে নেমে দাঁড়ায়। দৌড়ে ডোরের কাছে এগিয়ে আসে। ততক্ষণে ইমরান ডোর লক করে উল্টো ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তুলিকে নিজের সামনে দেখে তুলির হাত ধরে শক্ত করে। তুলি হাত টানাটানি করে বলে,
_ হাত ছাড়ো আমার। এখানে নিয়ে এসেছো কেন আমাকে ? মতলব কী তোমার ?
ইমরান হাত ছেড়ে দেয়। তুলি সাথে সাথেই ইমরানকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে ডোর খোলার জন্য উদ্যত হয়।
পেছন থেকে জাপ্টে ধরে ইমরান। জড়িয়ে ধরে রেখেই উচু করে বেডের দিকে এগিয়ে যায়। বেডের কাছে এসে ছেড়ে দিতেই আবার দৌড় দেওয়ার জন্য উদ্যত হয় তুলি। এবার সামনে থেকেই শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ইমরান। এমন ভাবে ধরেছে যে তুলির সাধ্য নেই এই বাহু বন্ধন থেকে নিজেকে মুক্ত করার।
RE: গল্প: অযাচিত প্রণয় (Writer: Sana Sheikh) -
X Man - 09-01-2026
13
ইমরানের বাহু বন্ধন থেকে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা ধস্তা ধ্বস্তি করে যায় তুলি। মুখ দিয়েও সমানে বলে যায় ছেড়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেকে মুক্ত করতে পারে না। একজন শক্তিশালী যুবকের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া কি এতই সহজ ? ইমরান তো ছাড়ছেই না ওকে। নিজের সব শক্তি দিয়ে বুকে চেপে ধরে রয়েছে।
নিজেকে মুক্ত করতে না পেরে ইমরানের বুকের সাথে লেপ্টে রইলো তুলি। শক্তি ফুরিয়ে গেছে এখন।
দুজনেই চুপ , পুরো রুম নিশ্চুপ। কোনো শব্দ নেই রুমে শুধু শোনা যাচ্ছে দুজনের দ্রুত ফেলা শ্বাসের শব্দ।
চুপ থাকতে থাকতে হঠাৎ ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে তুলি।
হকচকিয়ে যায় ইমরান। দ্রুত হাতের বাঁধন আলগা করে বলে,
_ সরি আমি এত শক্ত করে ধরতে চাইনি। ব্যাথা পেয়েছো ?
কিছু বলে না তুলি। ওর কান্নার জোর বাড়ে। ইমরান তুলির বাহু ধরে বুক থেকে সরানোর চেষ্টা করে। কিন্তু দেখে ও নিজে তুলিকে ছেড়ে দিলেও তুলি নিজেই ওকে জড়িয়ে ধরে রয়েছে। বুক থেকে সরানোর চেষ্টা করলেও পারে না। তাই নিজেও আবার জড়িয়ে ধরে। তুলিকে জড়িয়ে ধরার পর থেকে কেমন যেন ভালো লাগছে ইমরানের। বুকের ভেতর কেমন শান্তি শান্তি লাগছে। এত দিন ধরে লাগা অশান্তি এক নিমিষেই গায়েব হয়ে গেছে। যদি আগে থেকে বুঝতে পারতো তুলিকে জড়িয়ে ধরলে এত ভালো লাগবে , এত শান্তি শান্তি লাগবে তাহলে সারা দিন জড়িয়ে ধরেই বসে থাকতো।
তুলির কান্না না কমে উল্টো ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।
তুলির চোখের পানিতে ইমরানের টিশার্ট ভিজে যাচ্ছে। ভেজা ভেজা অনুভব হচ্ছে বুকে।
_ কাদঁছো কেন ? কি হয়েছে ? অনেক ব্যাথা পেয়েছো ? ভুল হয়ে গেছে এত শক্ত করে ধরতে চাইনি আমি। কোথায় ব্যাথা পেয়েছো দেখি।
তুলি তবুও কিছু বলে না। ইমরানের বুক থেকে মুখ ও তোলে না।
কত শক্ত করে ধরেছে যে মেয়ে টা ব্যাথা পেয়ে কেঁদেই দিল ! রাগের মাথায় এত শক্ত করে ধরা উচিত হয়নি।
ইমরান তুলির পিঠে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। পুনরায় পিঠে হাত বুলিয়ে বলে,
_ কান্না বন্ধ করো তুলি।
তুলির কান্না বন্ধ হয় না, কান্নার জোর বাড়ে আরো। হাতের বাঁধন শক্ত হয়। শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রেখেছে ইমরানকে , যেন ছেড়ে দিলেই হারিয়ে যাবে।
ইমরান বুঝতে পারে না কিভাবে তুলির কান্না বন্ধ করবে। তাই কিছু সময় চুপ চাপ দাঁড়িয়ে রইলো।
আস্তে আস্তে তুলির কান্নার বেগ কমে আসে। কিন্তু এখনো আগের মতোই শক্ত করে ধরে রয়েছে ইমরান কে। মুখ গুজে রয়েছে ইমরানের বুকে।
কান্নার বেগ কমে আসতেই আবার মাথায় পিঠে হাত বুলিয়ে বলে,
_ কোথায় কোথায় ব্যাথা পেয়েছো দেখি।
তুলি বুক থেকে মুখ তোলে। মুখ উচু করে তাকায় ইমরানের মুখের দিকে। ফর্সা চোখ মুখ লাল হয়ে গেছে।
ইমরান তুলির চোখের পানি মুছে দেয়। কিন্তু তখনই আবার গড়িয়ে পড়ে গাল দুটো ভিজে যায়। আবার পানি মুছতে মুছতে বলে,
_ কি হয়েছে ?
_ তুমি ভীষণ খারাপ।
_ আমি জানি আমি খারাপ। এখন বলো কোথায় ব্যাথা পেয়েছো।
তুলি নিজের বুকের বা পাশে আঙ্গুল ঠেকিয়ে বলে,
_ এখানে।
_ আমি এত শক্ত করে চেপে ধরতে চাইনি।
_ আরো শক্ত করে চেপে ধরো। পারলে তোমার বুকের ভেতর পুরে নাও। তুমি শক্ত করে চেপে ধরাতেই তো ব্যাথা কমেছে।
বলেই আবার ইমরানের বুকে মুখ গোজে। রসকষ হীন ইমরান থ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো কিছু সময়। তুলির কথা গুলো বুঝতে সময় লাগে ওর। যখন বুঝতে পারে তখন চোখ দুটো বড় বড় হয়ে যায়। তবে জড়িয়ে ধরে থাকতে ওরো মন্দ লাগছে না। অনেক বেশিই ভালো লাগছে এভাবে জড়িয়ে ধরে থাকতে।
দুই হাতে আবার জড়িয়ে ধরে তুলি কে।
এভাবে জড়িয়ে ধরে থেকেই অনেক টা সময় পেরিয়ে যায়। কতটা সময় পেরিয়ে গেছে জানা নেই দুজনের।
তুলি এখনো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাদঁছে। কেন কাদঁছে তুলি জানে না কিন্তু ওর কান্না পাচ্ছে ভীষণ। ইমরান জড়িয়ে ধরার পর প্রথমে রাগ উঠলেও শান্ত হয়ে ওর বুকে লেপ্টে থাকার কিছু সময় পর থেকে ভালো লাগছিল। আর হঠাৎ করে ভীষণ কান্নাও পাচ্ছিল। এখনো কান্না পাচ্ছে। নিজেকে থামাতেই পারছে না।
ইমরান তুলিকে নিজের কাছ থেকে ছাড়িয়ে বেডে বসায়। সেন্টার টেবিলের উপর রাখা জগ থেকে গ্লাসে পানি ঢেলে তুলিকে খাওয়ায়। তুলির হাত সহ পুরো শরীর থরথর করে কাপছে। পানির গ্লাস টাও ঠিক ভাবে ধরতে পারছে না।
ইমরান নিজেও পানি খায়। তারপর তুলির পাশে বসে।
_ তুলি।
ইমরানের দিকে তাকায় তুলি। দুই চোখ বেয়ে এখনো গড়িয়ে পড়ছে পানি। ইমরানের কেমন মায়া হচ্ছে ভেজা চোখ দুটো দেখে।
_ তুমি সত্যি সত্যিই আগামী কাল চলে যাবে ?
_ কি মনে হচ্ছে ?
নাক টেনে ভেজা গলায় কথা গুলো বলে তুলি।
_ আমি তো কারো মনের কথা বুঝতে পারি না। এই ক্ষমতা আমার নেই। বোঝার চেষ্টা করলে হয়তো বুঝতে পারবো, তবে কখনো বোঝার চেষ্টাও করি না। আমি নিজের মনের কথাই তো বুঝতে পারি না সেখানে তোমার মনের কথা কিভাবে বুঝবো ?
কিছু বলে না তুলি।
_ লিয়াম এর কাছ থেকে তুমি সত্যি সত্যিই টাকা চেয়েছো ?
এখনো চুপ রইলো তুলি।
_ কথা বলো।
_ আমাকে এখানে নিয়ে এসেছো কেন ?
_ এটা আমার প্রশ্নের উত্তর না।
_ আমি তোমাকে এই প্রশ্ন টা আগেই করেছিলাম। আমি আমার রুমে ঘুমিয়ে ছিলাম। তুমি ঘুমন্ত আমি কে কেন তুলে নিয়ে এসেছো ?
_ আমার সাথে রাখার জন্য।
_ মানে ?
_ এখন থেকে তুমি আমার সাথে এই রুমেই থাকবে।
_ হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত !
বেড থেকে নেমে তুলির সামনে হাঁটু মুড়ে বসে ইমরান। তুলির দুই হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলে,
_ আমি চাই না তুমি আমার থেকে দূরে যাও। আমি জানি আমার উপর রেগে আছো তুমি। আর রেগে থাকা টাও স্বাভাবিক। হাসবেন্ড হওয়া সত্ত্বেও আমি তোমার কোনো দায়িত্ব পালন করিনি। তোমার হক আদায় করিনি। তুমি তো ছোট থেকেই জানো আমি কেমন স্বভাবের মানুষ। অন্যের মন বোঝার চেষ্টা আমি কখনোই করিনি, আর এই ক্ষমতা আমার নেই ও। আমার যা মনে হয়েছে , যেমন মনে হয়েছে তাই করেছি , তেমনই করেছি। অন্যের কথা খুব কমই শুনেছি আমি। জোর করে বিয়ে টা দেওয়ার কারণে আমি মেনে নিতে পারছিলাম না। আর আমার এখন বিয়ে করার ও কোনো ইচ্ছে ছিল না। রাগ আর জেদের কারণেই তোমাকে মেনে নিতে পারছিলাম না।
_ এখন মেনে নিয়েছো ?
কিছুক্ষণ চুপ রইলো ইমরান। তারপর ঢোঁক গিলে বলে,
_ মেনে নিয়েছি কিনা জানিনা তবে এখন থেকে তুমি আমার সাথেই থাকবে। এই রুমে থাকবে আমার সাথে ঘুমাবে।
_ আজকে হঠাৎ এগুলো বলছো কেন ? মাথা খারাপ হয়েছে ? নাকি নেশা করেছো ?
_ কিছু হয়নি আমি একদম ঠিক আছি।
_ কিন্তু আমি তোমার সাথে আর থাকবো না।
_ কেন ?
_ আমি তোমাকে মেনে নিতে পারিনি আর পারবোও না।
_ বিয়ে করার সময় মনে ছিল না ? তখন বিয়ে করলি কেন ? বিয়ে যখন করেছিস তখন আমার সাথেই থাকতে হবে। আমাকেই মেনে নিতে হবে।
_ দুজন কেই জোর করে বিয়ে টা দেওয়া হয়েছিল। তখন তুমি কেন আটকাওনি বিয়ে ? তুমি কেন বিয়ে করেছো ? তুমি মেনে নিতে পেরেছো আমাকে ? তাহলে আমি কেন মেনে নেবো ?
_ গলার জোর বেড়েছে এখন ?
_ আগে কম ছিল নাকি ?
_ আমার বুকে মুখ গুঁজে কাদলি কেন ?
_ তুমি বুকে চেপে ধরেছিলে কেন ?
_ আমি ধরবো বলেই তোর কাদতে হবে ? আমার বুকে মুখ গুঁজে কেঁদে নিজের কষ্ট কমালি আর এখন আমাকে ছেড়েই চলে যাবি !
_ আমি নিজে থেকে এসেছিলাম তোমার বুকে মুখ গুঁজে কাদার জন্য ? তুমি জোর করে তুলে নিয়ে এসেছো। জোর করে জড়িয়েও ধরে ছিলে।
_ মুখে মুখে তর্ক করবি না তুলি।
_ একশো বার করবো, হাত ছাড়ো আমার।
ছারে না ইমরান , আরো শক্ত করে ধরে রাখে।
_ যত দ্রুত পারো ডি/ভো/র্স পেপার পাঠিয়ে দিও।
ডি/ভো/র্স না হলে তো দ্বিতীয় বিয়ে করতেও পারবো না।
অবাক হয়ে তুলির মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো ইমরান। তুলির মুখ দেখে মনে হচ্ছে না মজা করছে। একদম সিরিয়াস মনে হচ্ছে।
_ দ্বিতীয় বিয়ে করার কথাও ভেবে ফেলেছিস ?
_ ভাববো না ? তোমার জন্য কি সারা জীবন এভাবেই পাড় করে দেবো নাকি ? সামনে আমার সুন্দর একটা ফিউচার পড়ে আছে, সেটা কেন তোমার জন্য নষ্ট করবো আমি ? যত তাড়াতাড়ি পারো ডি/ভো/র্স দিয়ে দেবে।
_ আমি ডি/ভো/র্স দেবো না।
_ আমি তোমার সাথে থাকবো না। আর যাই হোক এভাবে সংসার হয় না। এক ছাদের দিকে থাকলেই ভালো থাকা যায় না। ভালো থাকার জন্য অনেক কিছু করতে হয় , তুমি কখনো করেছো আমার জন্য ? আমি কেন থাকবো তোমার সাথে ? ও নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করবে সেজন্য তাই না ? আমি বাংলাদেশে ফিরে খুব তাড়াতাড়ি আবার বিয়ে করবো। বিয়ে তে তোমাকে দাওয়াত ও দেবো , ছুটি নিয়ে যেও বিয়ের দাওয়াত খেতে। পারলে বাসর ঘর টাও সাজিয়ে দিয়ে আসবে। দোয়া করবো তোমার জন্য যেন খুব শীগ্রই তুমিও বিয়ে করতে পারো, আর এক হালি বাচ্চা জন্ম দিতে পারো। তুমিও দোয়া করো আমাদের জন্য যেনো আমাদের এক ডজন বাচ্চা হয়।
ইমরানের মুখের রঙ কেমন যেন ফ্যাকাশে হয়ে যায়। আচমকা তুলির হাত ছেড়ে কোমর জড়িয়ে ধরে শক্ত করে। দুজনের মধ্যে চুল পরিমাণ ফাঁকা নেই। তুলি ইমরানের বাহু তে ধাক্কা দিয়ে বলে,
_ কি করছো ছাড়ো, অন্যের হবু বউ কে এভাবে কেন ধরছো ? লজ্জা শরমের মাথা খেয়েছো নাকি ?
_ আমি ছাড়া কেউ ছুঁতে পারবে না তোকে। তোকে ছোঁয়ার অধিকার শুধু আমার। তুই আমার বউ , তুই অন্যের বউ হতে যাবি কেন ? বিয়ে আর ছোঁয়া তো দূরে থাক তোর আশে পাশে যে আসবে তাকে ধরে ধরে আইসিইউ তে পাঠাবো আমি। তুই আমার শুধু আমার।
_ অ্যাহ্ আসছে আমার ওয়ালা, ছাড়ো।
_ তিন কবুল বলে বিয়ে করেছি, রেজিস্ট্রি পেপারে সাইন করেছি। তিন শতাধিক মানুষের সামনে বিয়ে করেছি তোকে। তুই আমার, তুই আমার বউ , আর তুই সারা জীবন আমারি থাকবি।
_ থাকবো না। ভোর হলেই চলে যাবো আমি। তখন সারা জীবন আমার আমার করে হেদিয়ে ম/রলেও লাভ নেই।
ছাড়ো এখন ব্যাগ প্যাক করতে হবে। শান্তি মতো একটু ঘুমতেও পারলাম না। এত গুলো দিন জ্বালিয়েও শান্তি হয়নি শেষ রাত টাও জ্বালিয়ে মা/র/ছে।
বলেই কোনো রকমে ইমরানের হাত আলগা করে বেড থেকে উঠে দাঁড়ায়। ডোরের দিকে পা বাড়াতেই ইমরান তুলির দুই পা জাপটে ধরে।
_ আমাকে ছেড়ে যাবি না তুলি, আমি তোকে ছাড়া থাকতে পারবো না। তুই যা বলবি যেই শাস্তি দিবি সব মাথা পেতে নেবো আমি কিন্তু তুই আমাকে ছেড়ে যাস না। আমি নিজেকে পরিবর্তন করবো, তুই যেভাবে বলবি সেভাবেই চলবো। আমি তোকে অন্য কারো সাথে সহ্য করতে পারবো না , আমি ম/রে যাবো তুলি। তুই অন্য কারো হলে আমি সত্যি সত্যিই ম/রে যাবো।
RE: গল্প: অযাচিত প্রণয় (Writer: Sana Sheikh) -
X Man - 09-01-2026
Part:14
_ আমাকে ছেড়ে যাবি না তুলি, আমি তোকে ছাড়া থাকতে পারবো না। তুই যা বলবি যেই শাস্তি দিবি সব মাথা পেতে নেবো আমি কিন্তু তুই আমাকে ছেড়ে যাস না। আমি নিজেকে পরিবর্তন করবো, তুই যেভাবে বলবি সেভাবেই চলবো। আমি তোকে অন্য কারো সাথে সহ্য করতে পারবো না , আমি ম/রে যাবো তুলি। তুই অন্য কারো হলে আমি সত্যি সত্যিই ম/রে যাবো।
ইমরান এভাবে পা জড়িয়ে ধরবে কল্পনাও করেনি তুলি। এমন আচরণে থ হয়ে তাকিয়ে রইলো ইমরানের দিকে। ইমরান হাঁটুতে ভর করে ওর হাঁটু জড়িয়ে ধরে মাজার সাথে মাথা ঠেকিয়ে একই বাক্য জপে চলেছে। নিচু হয়ে ইমরানকে সরানোর চেষ্টা করে বলে,
_ কি করছো মাথা খারাপ হয়েছে নাকি ? এভাবে পা জড়িয়ে ধরেছো কেন ? পা ছাড়ো।
_ না ছাড়বো না, তুই আগে বল তুই আমাকে ছেড়ে যাবি না। তুই অন্য কারো বউ হবি না। তুই আমার শুধু আমার, তুই আমার থাকবি , আমার কাছে আমার সাথেই থাকবি বল।
_ না থাকবো না, ছাড়ো এখন।
_ জীবনেও ছাড়বো না। এভাবে বসে ধরে রেখেই ম/রে যাবো তাও ছাড়বো না। আমি ম/রে গেলেও তুই শুধু আমারি থাকবি। তোকে ছোঁয়ার অধিকার ইহ জগতের কারো নেই। তোকে ছোঁয়ার অধিকার যদি কারো থাকে সেটা শুধু মাত্র আমার এই ইমরান মাহমুদুল এর।
_ দেখো ডাক্তার তোমার সাথে কিন্তু এসব যায় না। তোমার পার্সোনালিটি এমন নয়। আমাকে ছাড়ো আর নিজের আসল রূপে ফেরো।
_ আরে রাখ তোর পার্সোনালিটি। আসল রূপ আর পার্সোনালিটি ধুয়ে আমি পানি খাবো নাকি ? তুই এমন কেন করছিস তুলি ? তুই তো আমার সম্পর্কে অবগত বল ! আমি চাইলেও নিজের অনুভূতি কাউকে বোঝাতে পারি না। কারো অনুভূতি বুঝতে পারি না, নিজের অনুভূতিও বুঝতে পারি না। তুই আমাকে হার্ট লেস বলিস না ? আমি আসলেই হার্ট লেস মানুষ। তাইতো এত দিনেও তোকে বুঝতে পারিনি। যখন তোকে বুঝতে পারলাম তখন নিজের ইগোর কারণে তোকে বোঝাতে পারলাম না। তুই তো জানিস আমার ইগো বেশি। পুরোনো সব কিছু বাদ। তুই আমার কাছে থেকে যা। কষ্ট হলে একটু মানিয়ে নিবি। আমি চেষ্টা করবো নিজেকে তোর মনের মতো করে তৈরি করতে। তুই অন্য কারো বউ হলে আমি ম/রে যাবো। তোকে অন্য কেউ ছোঁবে আমি মানতে পারবো না। তোর আশে পাশে কাউকে সহ্য হয় না আমার। তুই আমার কাছ থেকে গিয়ে অন্য কারো বউ হবি , অন্য কেউ তোকে ছোঁবে, অন্য কেউ তোকে ভালোবাসবে , আমি কিভাবে সহ্য করবো তুলি ? তোর ওই কথা গুলো শুনেই আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। ওই কথা গুলো সত্যি হলে আমি শেষ হয়ে যাবো। তুই ওই কথা গুলো আর জীবনেও উচ্চারণ করবি না। আমি নিজের আগের সব অভ্যাস, স্বভাব পরিবর্তন করবো। তোর জন্য নিজেকে পরিবর্তন করবো।
_ আমার জন্য কেন নিজেকে পরিবর্তন করবে ? আমি কি হই তোমার যে আমার জন্য নিজেকে পরিবর্তন করবে ?
_ তুই জানিস না আমাদের মধ্যকার সম্পর্ক কি ? তুই আমার বউ , আমার স্ত্রী, আমার অর্ধাঙ্গিনী, আমার সহধর্মিনী, আমার অন্তর্বাসিনি, আমার অনন্ত কালের সঙ্গিনী। তুই আমাকে ছেড়ে যাস না তুলি।
ইমরানের কথা গুলো শুনে তুলি ওর দিকে শুধু তাকিয়ে রইলো। মুখ দিয়ে আর কোনো কথা বের হচ্ছে না। ইমরানের বলা কথা গুলো মস্তিষ্কে রিপিট হচ্ছে বার বার। ইমরানকে আর উপেক্ষা করার সাধ্য আছে নাকি তুলির ? কথা গুলোর মধ্যে কি ছিল ? কি ছিল ওই কন্ঠে ? এই কথা , এই কন্ঠ তো ডাক্তার ইমরান মাহমুদুল এর না। তার কণ্ঠে এই সব বাক্য উচ্চারণ হতেই পারে না , অসম্ভব। শেষের বাক্য গুলো তে ছিল কাছে রাখার আকুলতা আর ব্যাকুলতা, তীব্র মায়া আর ভালোবাসা।
তুলি ইমরানের এলোমেলো অবিন্যস্ত চুলে হাত বুলায়। ইমরান মুখ তুলে তাকায়। দুই চোখে টলমলে পানি, চোখ দুটো কেমন লাল লাল হয়ে গেছে। এই ইমরানকে তুলি আজ প্রথম দেখছে। এই ইমরানের সাথে সাক্ষাৎ আজকের আগে কখনো কোনো দিন হয়নি তুলির।
তুলি ইমরানের দুই গালে হাত রাখে। ইমরানের হাতের বাঁধন আলগা হয়। তুলিও হাঁটুতে ভর করে বসে ইমরানের সামনে। ইমরানের হাত তখন তুলির পিঠে।
ইমরানের দুই গালে হাত রেখেই বলে,
_ ভালোবাসো ?
মাথা ঝাঁকায় ইমরান , ভালোবাসে।
_ তুই ভালোবাসিস না আমায় ?
_ বাসি তো , অনেক আগে থেকেই ভালোবাসি তোমাকে।
_ বলিসনি কেন তাহলে ?
_ তুমিও তো বলোনি।
_ তুই তো জানিস আমি কেমন। কিন্তু তুই তো আমার মতন না। তুই কেন বলিসনি ? সব কিছুতেই তো ত্যারামি করিস, তাহলে ত্যারামি করে অধিকার খাটিয়ে কেন আমার কাছে আসিসনি ? ভালোবাসতে কেন বাধ্য করিসনি ? আমি দূরে থেকেছি বলে তুই কেন দূরে থেকেছিস ? জোর খাটাতে পারিসনি ? অধিকার দেখাতে আসিসনি কেন ? তোর তো অধিকার ছিল আছে আমার উপর। ছেলেরা চাপা স্বভাবের হয়। আমরা সব কিছু চেপে রাখতে পারি কিন্তু তুই কেন চেপে রেখেছিস ? তোরা মেয়েরা তো কোনো কিছু চেপে রাখতে পারিস না, তাহলে কেন চেপে রেখেছিস ?
_ এখন সব আমার দোষ ? তুমি আমাকে সব সময় তোমার কাছ থেকে দূরে রেখেছো। নিজের কাছে তো ঘেঁষতেও দাওনি।
_ অধিকার তো ছিল জোর করে কেন আগাসনি ?
_ সব সময় অধিকার খাটালেই সম্পর্ক ঠিক হয় না।
_ সরি।
_ আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছো তুমি।
_ সব কিছুর জন্য সরি। আর কোনো কষ্ট পেতে দেবো না। কোনো কষ্ট আর ছুঁতে পারবে না তোমাকে।
তুলির চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়া পানি মুছে দেয় ইমরান। গালে হাত রেখে বলে,
_ এত ভালোবেসেও আমাকে একা ফেলে বাংলাদেশে ফিরে যেতে চেয়েছিলে কেন ?
_ কে যেতে চেয়েছে ?
_ তুমি।
_ কখন ?
_ কতক্ষন আগেই তো বললে বাংলাদেশে ফিরে যাবে।
_ ওটা তো এমনিই বলেছিলাম।
_ মানে ?
_ বাংলাদেশে যদি ফিরেই যাবো তাহলে এসেছিলাম কেন এত দূর ?
_ তুমি ফিরে যাচ্ছো না ?
_ না।
_ লিয়াম এর কাছে টাকা চাওনি ?
_ নাহ্ ।
_ মিথ্যে বলেছো আমাকে ?
_ হ্যাঁ। মিথ্যে না বললে তো তুমি সত্যি বলতে না। দিনের পর দিন আমাকে কষ্ট পেতে হতো। নিঃসঙ্গতায় ডুবে পাগল হয়ে যেতাম। তোমার অবহেলা , আমার দিকে ফিরে না তাকানো, আমার সাথে কথা না বলা এই সব কিছু আমাকে ভেতর থেকে শেষ করে দিচ্ছিল। সহ্য করতে পারছিলাম না আর। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েই নিয়েছিলাম বাংলাদেশে ফিরে যাবো। তারপর মনে হলো আরো কিছু দিন দেখি যদি তোমার মন পরিবর্তন হয়। যদি একটু মায়া জন্মে আমার জন্য, যদি একটু ভালোবাসো।
জড়িয়ে ধরে তুলি কে। বলতে দেয় না আর কিছু। কেন যেনো তুলির বলা কথা গুলো বুকে আঘাত হানছে।
শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রেখে বলে,
_ আর অবহেলা করবো না, একটুও না। অনেক মায়া জন্মেছে তোমার প্রতি। অনেক ভালোবাসি তোমাকে। নিজেকে পুরোপুরি পরিবর্তন করে ফেলবো। আমার জন্য তোমাকে আর কস্ট পেতে হবে না। তোমার যেমন আমি কে পছন্দ সেরকম ভাবে নিজেকে গড়ে তুলবো। শুধু তুমি বাকি জীবন টা আমার সাথে পাড় করবে আমার সাথে , আমার হাত ধরে।
_ আমি তোমার আছি , তোমার ছিলাম আর তোমারই থাকবো। অনন্ত কাল আমি তোমার , তুমি আমার। তোমাকে পরিবর্তন হতে হবে না। আমি এমন তুমি কেই ভালোবেসে ছিলাম। বেশি কিছু চাই না আমি শুধু চাই, তোমার চব্বিশ ঘণ্টা সময় থেকে কয়েক ঘণ্টা আমাকে দেবে। তোমার ব্যস্ত সময় থেকে সময় বের করে আমার সাথে একটু কথা বলবে। আর রোজ একটু করে ভালোবাসবে, আর তারপর আস্তে আস্তে অনেক বেশি ভালোবাসবে।
_ মাত্র এত টুকু ?
_ হুম , তোমার কাছে এত টুকু মনে হলেও এই টুকুই আমার কাছে অনেক।
_ আর এক ডজন বাচ্চা যে চাইলে ?
_ তুমি চাইলেই হবে।
_ এক ডজন বাচ্চা দিয়ে তুমি সুস্থ থাকবে ?
_ ডাক্তার হয়েছো কি করতে ? তুমি চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ রাখবে আমাকে।
হেসে ওঠে ইমরান।
হঠাৎ লিয়াম এর কথা স্মরণ হয়।
_ তুমি আর লিয়াম প্ল্যান করে আমাকে জ্বালাতে তাই না ?
_ জ্বলতে তুমি ?
_ সে আর বলতে। মাঝে মধ্যে তো ইচ্ছে করতো লিয়ামকে ফুটবলের মতো কিক দিয়ে মাঠের বাইরে আই মিন ফ্ল্যাটের বাইরে পাঠিয়ে দেই।
_ লিয়াম ভাইয়া অনেক ভালো মনের একজন মানুষ।
_ হুম ভালো মনের মানুষ। ও এই পর্যন্ত যত বার গার্লফ্রেন্ড চেঞ্জ করেছে আর মেয়েদের সাথে ফ্লার্ট করেছে তুমি তোমার এত বছরে তত বার ওয়াশরুমেও যাওনি। কোনো ডাক্তার এমন লুচু হয় আমি জীবনে দেখিনি।
ইমরানের কথা শুনে হাসে তুলি। তুলির ও লিয়ামকে দেখে প্রথম দিকে বেশ অবাক লাগতো। ওর জানা মতে ডাক্তাররা হয় গম্ভীর চুপ চাপ স্বভাবের। এদের ঠোঁটে কোনো দিন হাসির দেখা মেলে না। সেখানে লিয়াম একজন সার্জন হয়েও কেমন হাসি খুশি রিল্যাক্স মুডে থাকে। লিয়ামকে একবার ও তুলি গম্ভীর বা চুপ চাপ দেখেনি।
_ আমার মাঝে মধ্যে ভীষণ অবাক লাগে যে লিয়াম আমার ফ্রেন্ড। আমাদের দুজনের পার্সোনালিটি একদম আলাদা। কিন্তু তার পরেও আমরা ফ্রেন্ড। লিয়াম আমাকে প্রচন্ড বিরক্ত করতো আগে। যখন বুঝতো আমি বিরক্ত হচ্ছি তখন আরো বেশি করে বিরক্ত করতো। তবে তুমি ঠিকই বলেছো লিয়াম যেমন চরিত্রের হোক না কেন ফ্রেন্ডের দিক থেকে আসলেই ভালো মনের ছেলে। ওর সাথে থাকলে মন খারাপ ভালো হয়ে যায়।
তুলি ইমরানের বুক থেকে মুখ তুলে ইমরানের মুখের দিকে তাকায়।
_ তুমি যদি আমার সাথে ঠিক ভাবে কথা না বলো, আগের মতো খ্যাক খ্যাক করো তাহলে কিন্তু আমি বাংলাদেশে ফিরে যাবো আর অন্য সুন্দর মিষ্ট ভাষী ছেলেকে বি
আর বলতে পারে না তুলি। ইমরান নিজের ওষ্ঠদয় দিয়ে তুলির ওষ্ঠদয় চেপে ধরে। হঠাৎ আক্রমণে স্তব্ধ হয়ে বসে থাকে তুলি। কিছু সময় পেরিয়ে যায়। ইমরান ছেড়ে দেয় তুলি কে। তুলি যেন এখনো ঘোরের মাঝেই রয়েছে।
_ আরো বলবি এসব কথা ?
তুলি দুদিকে মাথা নাড়ায়। মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে না। ইমরান কিছু সময় তুলির মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে আবার চেপে ধরে ওষ্ঠদয়। তুলি
নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা না করে ইমরানের সাথে তাল মেলায়। রেসপন্স পেয়ে ইমরান আর নিজেকে সামলাতে পারে না। আরো শক্ত করে চেপে ধরে তুলিকে , একই সাথে ধরে তুলিও।
শ্বাস ফুরিয়ে এলে দুজনেই দুজন কে ছেড়ে দেয়। জোড়ে জোড়ে শ্বাস টেনে নেয় দুজনেই। ইমরান উঠে দাঁড়ায়। তুলিকে পাঁজা কোলে তুলে বেডে শুইয়ে দেয়। রুমের বড় লাইট অফ করে ড্রিম লাইট অন করে। তারপর দ্রুত এগিয়ে আসে বেডের কাছে। তুলি তাকিয়ে আছে ইমরানের দিকেই।
গায়ের টিশার্ট খুলে ফ্লোরে ফেলে দেয়। আলগোছে তুলির উপর ছেড়ে দেয় নিজের ভর। তুলির কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে,
_ আমাদের না হওয়া বাসর টা আজ হলে তোমার কোনো আপত্তি আছে ?
তুলির কান গরম হয়ে ওঠে। মুখে বলতে পারে না কিছুই। দুই চোখ খিঁচে বন্ধ করে খামচে ধরে বেড কভার। ইমরান মুচকি হাসে। মুখ তুলে তুলির মুখের দিকে তাকায়। বন্ধ চোখের পাতায় আলতো করে চুমু খায়। আরেকটু উচু হয়ে পুরো মুখে ফু দেয়। চোখ মেলে তাকায় তুলি। ইমরান হেসে আবার মুখ এগিয়ে নেয় তুলির কানের কাছে। ফিসফিস করে বলে,
_ নীরবতা সম্মতির লক্ষণ। তাহলে ধরে নেবো তোমার সম্মতি আছে ?
তুলি তবুও কিছু বলে না। ইমরান আগের মতোই ফিসফিস করে বলে,
_ যা ছিল আজ অপ্রত্যাশিত, অকল্পনীয় তাই হবে। আমাদের দুজনের এই #অযাচিত_প্রণয় আজ পূর্ণতা লাভ করবে।
ইমরানের ফিসফিস করে বলা কথা গুলো শুনে কেঁপে ওঠে তুলি।
ইমরান আবারো ফিসফিস করে বলে,
_ আগামী বছর এই দিনে এক ডজন বাচ্চাদের মধ্য থেকে একজন থাকবে তোমার কোলে, আল্লাহ তায়ালা মুখ তুলে চাইলে দুজন ও থাকতে পারে। আমার তো আবার এনার্জি কম না।
তুলির কান গরম হয়ে ওঠে আবার। কি নির্লজ্জ লোকরে বাবা। এই কি সেই ইমরান ? নাকি জ্বীন ভূ/ত ভর করেছে ?
_ রাত তো ফুরিয়ে যাচ্ছে। তোমার মাঝে ডুবে যেতে আর তর সইছে না, ডুব দেই ?
বলেই তুলির কানের লতিতে চুমু খায়। আবারো কেঁপে ওঠে তুলি। ঘাড়ে আলতো করে কামড় দেয় কয়েক টা।
সময়ের ব্যবধানে তলিয়ে যায় একে অপরের মাঝে।
RE: গল্প: অযাচিত প্রণয় (Writer: Sana Sheikh) -
X Man - 09-01-2026
Part:15 & Last
সকাল সাত টায় ঘুম থেকে ওঠে ইমরান। চোখ মেলে তাকাতে পারছে না। ঘুমে দুই চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। জোর করেই শোয়া থেকে উঠে বসে। অসুস্থ থাকার কারণে দুই তিন দিন ঘুমোতে পারেনি রাতে ঠিক মত। আর গত রাতেও ঘুমোতে পারেনি। শেষ রাতে ঘুমিয়েছিল।
এলোমেলো চুল গুলো হাত দিয়ে ঠিক করে নেয়। আলসেমি ভঙ্গিতে দুই হাত দুদিকে মেলে দেয়। তারপর ঘাড় ঘুরিয়ে পাশে ঘুমিয়ে থাকা তুলির দিকে তাকায়।
বিভোর হয়ে ঘুমিয়ে আছে।
ঝুঁকে গিয়ে তুলির কপালে চুমু খায়। তারপর বেড থেকে নেমে দাঁড়ায়।
দশ মিনিটে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে আসে। তারপর দ্রুত কিচেনের দিকে এগিয়ে যায়। কিচেনে এসে আগে একটা সসপ্যানে পানি গরম হতে দেয়। কেবিনেট খুলে নুডুলস বের করে। ফ্রিজ থেকে ডিম বের করে।
এক মগ কফি বানায় আগে। কফি খেতে খেতে নুডুলস রান্না করতে শুরু করে।
নুডুলস রান্না করে খেতে খেতে আটটা বেজে যায়। দ্রুত রুমে এসে হসপিটালের জন্য তৈরি হয়ে নেয়।
তৈরি হয়ে প্রয়োজনীয় সব কিছু নিয়ে বেডের কাছে এসে দাঁড়ায়।
_ তুলি, তুলি।
ঘুম ঘুম চোখের পাতা টেনে তুলে তাকায় তুলি। ইমরানকে তৈরি হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে চোখ কচলে আবার তাকায়।
_ আমি হসপিটালে যাচ্ছি তুমি উঠে ফ্রেশ হয়ে ডাইনিং টেবিলের উপর নুডুলস ঢেকে রাখা আছে খেয়ে নিও। ঠান্ডা হয়ে গেলে কিন্তু ভালো লাগবে না। ওঠো এখন খেয়ে আবার ঘুমিও।
তুলির রাতের কথা স্মরণ হয়। লজ্জায় বন্ধ বন্ধ চোখ দুটো একে বারে বন্ধ হয়ে যায়। গাল দুটো ও লাল হয়ে ওঠে। চাদর টেনে মাথা মুখ ঢেকে নেয়।
তুলির হঠাৎ কি হলো ইমরান বুঝতে না পেরে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইলো। কিছু সময় পর যখন বুঝতে পারে তখন ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে ওঠে। চাদর টেনে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে বলে,
_ আরে লজ্জা পাচ্ছো কেন এভাবে ? ওঠো।
_ তুমি যাও আমি পরে খেয়ে নেবো।
_ না আমি তোমার মুখ দেখবো বের হও চাদরের নিচ থেকে।
তুলি বের তো হয় না উল্টো শক্ত করে চাদর ধরে রাখে।
_ আচ্ছা আমি যাচ্ছি দ্রুত উঠে খেয়ে নিও।
বলেই চাদর ছেড়ে দিয়ে সরে যায় ইমরান। ইমরানের সাড়া শব্দ না পেয়ে চাদরের নিচ থেকে মাথা বের করে ডোরের দিকে তাকায় তুলি। ইমরানকে দেখতে না পেয়ে শোয়া থেকে উঠে বসে। এলোমেলো আদোভেজা চুল গুলো হাত খোঁপা করে নেয়। বেড থেকে নামার জন্য উদ্যত হয়। নিজের বাম পাশে তাকাতেই চমকে উঠে লাফিয়ে পিছিয়ে যায়। বুকে হাত দিয়ে বেডে উপুর হয়ে বসে পড়ে। ভয়ে আত্মারাম খাঁচাছাড়া। ইমরান শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। না গিয়ে বেডের পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছে। তুলি হঠাৎ দেখে ভয় পেয়ে গেছে।
একটু পর সোজা হয়ে বসে তুলি। বুকে থু থু দিয়ে ইমরানের দিকে তাকিয়ে বলে,
_ মা/রতে চাও নাকি ? না গিয়ে এভাবে ভূ/তের মতো দাঁড়িয়ে আছো কেন ?
হাতের জিনিস গুলো বেডের পাশে রেখে তুলির পা ধরে টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসে। গম্ভীর গলায় বলে,
_ বউ থাকতে বউ কে আদর না করে কীভাবে চলে যাই? যাওয়ার আগে বউ কে একটু আদর করবো না।
চোখ নামিয়ে নেয় তুলি। তুলির দুই গালে হাত রেখে বলে,
_ এত লজ্জা কোথায় থাকে ?
তুলি বলে না কিছু। ইমরান ঝুঁকে গিয়ে তুলির পুরো মুখে অসংখ্য চুমু এঁকে দেয়। খোঁপা করা চুল গুলো খুলে দিয়ে বলে,
_ তোমাকে খোলা চুলে বেশি সুন্দর দেখায়।
ইমরানের চোখে চোখ রাখে তুলি। লজ্জায় পুনরায় চোখ নামিয়ে নেয়। ইমরান জড়িয়ে ধরে বলে,
_ থাক আর লজ্জা পেতে হবে না। দেরি হয়ে যাচ্ছে আমার। আসছি আমি ফ্রেশ হয়ে দ্রুত খেয়ে নিও কিন্তু।
_ আচ্ছা।
_ আমার পাওনা কিন্তু দাওনি তুমি।
বুঝতে না পেরে ইমরানের মুখের দিকে তাকায় তুলি।
_ কি পাও তুমি আমার কাছে ?
ইমরান ঝুঁকে এসে তুলির কানে কানে ফিসফিস করে বলে,
_ একটা চুমুও দাওনি তুমি। সব শুধু আমিই দেবো তুমি দেবে না ?
তুলি ফট করে ইমরানের দুই গালে হাত রাখে। টপাটপ কয়েক টা চুমু খেয়ে দ্রুত ইমরানের বুকে মুখ লুকায়। কি লজ্জা কি লজ্জা। মুচকি হাসে ইমরান। তুলির এলোমেলো চুল গুলো আরো এলোমেলো করে দেয়।
_ লেট হয়ে গেলো আসছি আমি , বাই।
তুলিকে ছেড়ে বেডে রাখা জিনিস গুলো হাতে তুলে নিয়ে ডোরের দিকে এগিয়ে যায়। বেড থেকে নেমে তুলিও যায় পেছন পেছন। ইমরান ফ্ল্যাটের বাইরে গিয়ে ডোর লাগানোর সময় তুলিকে দেখতে পেয়ে দৌড়ে ভেতরে এসে তুলিকে জড়িয়ে ধরে একটা চুমু খায়। তারপর আবার দৌড়ে বেরিয়ে যেতে যেতে বলে,
_ বাই , ডোর ভেতর থেকে লক করে দাও।
বলতে বলতে চোখের আড়ালে চলে যায়। ইমরানের পাগলামি দেখে মুচকি হাসে তুলি। এক দিনে এত পরিবর্তন ? স্বপ্নের মতো লাগছে তুলির কাছে। মনে হচ্ছে ঘুম ভেঙে গেলে সব মিথ্যে হয়ে যাবে। আগের ইমরান ফিরে আসবে , এই ইমরান হারিয়ে যাবে।
স্বপ্ন হলে তুলি চায় এই স্বপ্ন শেষ না হোক। আর যদি বাস্তব হয় তাহলে এই ইমরান আর কোনো দিন পরিবর্তন না হোক।
ডোর লক করে নিজের রুমে প্রবেশ করে ফ্রেশ হওয়ার জন্য।
,
,
খাবার খেয়ে উঠতেই তুলির ফোন বেজে ওঠে। হাতে নিয়ে দেখে মিসেস ইরানী কল করেছেন। ফোন টা হাতে নিয়ে সোফায় এসে বসে। তারপর কল রিসিভ করে সম্মুখে ধরে।
_ কেমন আছিস তুলি ?
_ আলহামদুলিল্লাহ ভালো, তুমি কেমন আছো ?
_ আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভালো আছি। কি করছিস ? খেয়েছিস ?
_ মাত্র খেয়ে উঠলাম।
_ ওহ , ইমরান কোথায় ? হসপিটালে চলে গেছে ?
_ হুম।
_ তোকে আজকে খুশি খুশি মনে হচ্ছে। কোনো কারণে খুশি নাকি ?
তুলির চোখে মুখে লজ্জারা এসে ভিড় জমায়।
_ আবার দেখি লজ্জাও পাচ্ছিস। ব্যাপার কি বল তো।
তুলি কিছু না বলে কল কেটে দেয়। ভীষণ লজ্জা করছে। রাতের ঘটনা স্মরণ হলেই লজ্জাবতীর ন্যায় নুইয়ে যাচ্ছে।
মিসেস ইরানী আবার কল করেন। তুলি কে/টে দিয়ে অডিও কল করে।
_ কিছু না বলে কল কে/টে দিলি কেন ?
_ কি বলবো ?
_ তোকে খুশি খুশি মনে হচ্ছে আবার লজ্জাও পাচ্ছিস। আমি যা ভাবছি তাই সত্যি নাকি ?
_ কি ভাবছো ?
_ ইমরান তোকে মেনে নিয়েছে ?
_ হুম।
আস্তে করে বলে।
_ তোরা রাতে একসাথে ছিলি ?
_ হুম।
এবারেও আস্তে করেই বলে। মিসেস ইরানী যে আন্দাজ করতে পেরে যাবেন ভাবেনি তুলি।
মিসেস ইরানী স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়েন। তুলি আর ইমরানের চিন্তায় কত রাত তিনি নির্ঘুম পাড় করেছেন সেটা তিনি আর আল্লাহ তায়ালা জানেন। সারাক্ষণ টেনশনে থাকতেন দুজনের কি হবে ? সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে ? দুজনের ভবিষ্যৎ কী ? নানান টেনশানে খেতে পারেন না , ঘুমোতে পারেন না। নামাজে বসে কত চোখের পানি ফেলেছেন। আল্লাহ কে বার বার বলেছেন তার ছেলেকে সুবুদ্ধি দেওয়ার জন্য। ইমরানের মনে তুলির প্রতি মায়া ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিতে। আজ যেন তার সেই সব টেনশন উধাও হয়ে গেলো। আল্লাহ তায়ালা ওনার দোয়া কবুল করেছেন। প্রাণ ভরে শ্বাস টেনে নিয়ে বলেন ,
_ এই মীরাক্কেল টা হলো কিভাবে ?
তুলি খুলে বলে সব কিছু। সব শোনার পর মিসেস ইরানী এক প্রকার তব্দা ধরে থাকেন। তার মুখ টা কিঞ্চিৎ হা হয়ে গেছে। অবাক হয়ে বলেন ,
_ কি বলছিস তুলি ? শেষ পর্যন্ত তোকে আটকানোর জন্য তোর পা ধরে বসে ছিল !
_ হুম , শুধু পা ধরেনি কেঁদেছেও তোমার ছেলে।
_ আরো একটু শিক্ষা দেওয়া উচিত ছিল। তোকেও তো অনেক কষ্ট দিয়েছে।
_ আমাকে কষ্ট দিলেও আমি তো তাকে তার মতো করে কষ্ট দিতে পারলাম না মা।
_ যাই হোক যা হয়েছে ভালো হয়েছে। আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া।
মিসেস ইরানী একটু চুপ থেকে আবার বলেন,
_ শোন না মা তোদের দুজনের তো বেশ বয়স হয়েছে। বাচ্চা নিয়ে নে। ম/রা/র আগে যেন নাতি পুতি দেখে যেতে পারি।
_ ম/র/বে কেন ? আল্লাহর কাছে দোয়া করি আরো শত বছর বেঁচে থাকো তোমরা।
_ আচ্ছা তোকে পরে কল করছি। এখন ইমরানকে কল করে একটু জ্বা/লাই। বউ মানিনা মানবনা , বিয়ে মানিনা মানবনা করে করে মুখে ফ্যানা তুলে এখন বউ কে আটকানোর জন্য বউয়ের পা ধরে বসে থাকা !
দুই চার টা কথা শুনিয়ে আসি।
_ না থাক মা এখন আর এসব বলার দরকার নেই। এমনিতেই বলে মেয়েদের পেটে কথা হজম হয় না। এখন তুমি কিছু বললে বলবে আমার পেটে কথা হজম হয়নি সব বলে দিয়েছি তোমাকে।
_ আমি কি এমন কিছু বলবো নাকি ? আমি বলবো তোকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসবো আমাদের কাছে। তারপর ভালো ছেলে খুঁজে বিয়ে দিয়ে দেবো।
_ স্ট্রোক করবে তোমার ছেলে।
_ দেখি কি করে।
_ না কিছু বলতে হবে না। কিছু বললে হয়তো সিরিয়াস ভাবে নেবে। রাতে কেমন করছিল তুমি তো জানো না। দেখলে বুঝতে পারতে। আর এখন হসপিটালে রয়েছে কিছু বলে বিভ্রান্ত করার দরকার নেই। কাজে মন বসাতে পারবে না, ভুল ভাল কিছু করে ফেলবে।
,
,
তুলির জিনিস পত্র সব কিছু ইমরানের রুমে নিয়ে আসে। এখন থেকে ও যখন এখানে থাকবে তখন ওর জিনিস গুলো কেন ওই রুমে থাকবে ? সব কিছু এনে সুন্দর করে পুরো রুম গোছায়। যদিও ইমরানের রুম সব সময় গোছানোই থাকে।
দুপুরে হালকা খাবার রান্না করে খায়। বিকেলে রান্না করবে যেন ইমরান গরম গরম টাটকা খাবার খেতে পারে।
বিকেলে বসে বসে টিভি দেখছিল। আজকে যেন ঘড়ির কাঁটা থেমে রয়েছে। কিছুতেই সময় পেরিয়ে যাচ্ছে না।
অপেক্ষা শেষ হচ্ছে না।
হঠাৎ ফোনের ম্যাসেজ টোন বেজে ওঠে। ফোন হাতে নিয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে দেখে ইমরানের ম্যাসেজ। ঠোঁটে হাসি ফুটে ওঠে। এর মধ্যে সময় বের করে দুবার কল করেছিল ইমরান।
ম্যাসেজ ওপেন করে দেখে লেখা আছে।
"রাতের খাবার রান্না করতে হবে না,বাইরে খাবো আজ"
এত টুকুই ম্যাসেজ। তবুও তুলির ভালো লাগে। আজকে যে ওর কত খুশি লাগছে। ডানা মেলে আকাশে উড়তে ইচ্ছে করছে।
,
,
দ্রুত ফিরতে চাইলেও ইমরানের ফিরতে ফিরতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে আসে।
কলিং বেল চেপতেই তুলি ডোর খুলে দেয়। হাসি মুখে ভেতরে প্রবেশ করে ইমরান। তুলি ডোর লক করে দেয়। ইমরান তুলির দিকে তাকিয়ে বলে,
_ এখন তো হাগ দিতে পারবো না, হসপিটাল থেকে ফিরলাম।
তুলি হেসে বলে,
_ মাথা খারাপ হয়ে গেছে নাকি ডাক্তার ?
_ একটু তো হয়েছেই।
_ সেটা রাতেই বুঝতে পেরেছি। যাও ফ্রেশ হয়ে নাও।
_ তুমিও ফ্রেশ হয়ে তৈরি হয়ে নাও। আজ তোমাকে নিয়ে অটোয়ার রাস্তায় হাটবো। তোমার হাত ধরে হাটা হয়নি এখনো। মন খুলে কথা বলা হয়নি তোমার সাথে। আজ একে অপরের হাত ধরে হাটবো, একে অপরের মনের কথা শুনবো। সেই সাথে করবো জোস্না বিলাস।
তুলি ইমরানের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো। ইমরান তুলির হাত ধরে টেনে রুমের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলে,
_ চলো রাত শেষ হয়ে যাবে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে।
ফ্রেশ হয়ে তৈরি হয়ে নেয় দুজনেই। তুলি অফ হোয়াইট কালারের একটা গাউন পড়েছে সাথে ম্যাচিং হিজাব। ইমরান ক্যাজুয়াল শার্ট প্যান্ট পড়েছে তুলির সাথে ম্যাচিং করে।
দুজনেই আয়নার সামনে দাঁড়ায়। বেশ সুন্দর মানিয়েছে দুজন কে। ইমরান তো তুলির দিক থেকে চোখ ফেরাতেই পারে না। তুলির এক হাত নিজের হাতের মুঠোয় পুরে নিয়ে বলে,
_ যাওয়া যাক ?
_ হুম।
দুজন এক সাথে ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে আসে।
লিয়াম দুপুরের দিকে টরন্টো শহরে ফিরে গেছে। দুদিন পর ফিরে আসবে। ওর এঙ্গেজমেন্ট ঠিক হয়ে গেছে। এঙ্গেজমেন্ট সেরেই চলে আসবে। ইমরান আর তুলি কেও নিয়ে যেতে চেয়েছিল তবে ইমরানের ছুটি নেই বলে নিয়ে যেতে পারেনি। কিন্তু বিয়ের সময় ঠিকই নিয়ে যাবে।
সময় তখন সন্ধ্যা সাত টা। অটোয়ার রাস্তা নিয়ন আলোয় আলোকিত। অনেক কাপল ওদের দুজনের মতোই নিরিবিলি শান্ত রাস্তায় একে অপরের হাত ধরে হাঁটছে। কেউ কেউ জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ কেউ আবার একে অপর কে কিস করছে রাস্তায় দাঁড়িয়েই খোলা মেলা ভাবে। এসব দেখে তুলি নাক মুখ কুঁচকে বলে ,
_ এরা এত নির্লজ্জ্ব কেন ? লজ্জা শরম নেই ? এদের ঘর বাড়ি নেই নাকি ? মানুষ কে দেখিয়ে দেখিয়ে এসব করতে হয় ?
ইমরান হেসে এক হাতে তুলিকে আগলে নিয়ে বলে,
_ এসব এখানে সাধারণ বিষয়। অহরহ এসব দেখা যায় রাস্তায়। এরা এর চেয়েও বেশি কিছু করে ফেলে রাস্তায়।
হাঁটতে হাঁটতে অনেক টা পথ চলে আসে দুজন। হাঁটতে ভালো লাগছে। হঠাৎ তুলি ইমরানের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,
_ তুমি আমাকে চড় মেরেছিলে।
_ মনে আছে এখনো ? এই চড়ের জন্যই আমাকে অপছন্দ করতে নাকি ?
তুলি মাথা নাড়ায়। এই কারণেই অপছন্দ করতো।
তুলি ইমরানের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো। ইমরান সামনের দিকে দৃষ্টি রেখে হাঁটতে হাঁটতে বলে,
_ সেদিন যখন তুমি সোপিস টা ভাঙলে তখন ভয় পেয়ে গিয়েছিলে। সামনেই সোপিসের ভাঙ্গা খণ্ড গুলো পড়ে ছিল। আমি সামনে আগাতে নিষেধ করছিলাম বার বার কিন্তু তার পরেও তুমি সামনে এগিয়ে ভাঙ্গা খণ্ড গুলোর উপর পা দিয়েছিলে। তখন তোমার পা কে/টে গিয়েছিল। আমার কথা না শুনে পা কে/টে ফেলেছিলে তাই রেগে একটা চড় মে/রে/ছিলাম। মে/রে/ছিলাম সেটা মনে রেখেছো অথচ আদরও যে করেছিলাম সেটা ভুলে গেছো।
লজ্জা পেয়ে চোখ সরিয়ে নেয় তুলি। আসলেই তো
মে/রে/ছিল সেটা মনে রেখেছে অথচ আদরও যে করেছিল সেটা ভুলে গেছে।
হাঁটতে হাঁটতে রাস্তার পাশের একটা দোকানে হাওয়াই মিঠাই দেখতে পায় তুলি। এই দেশে হাওয়াই মিঠাই পাওয়া যায় ?
তুলির চোখ অনুসরণ করে তাকায় ইমরান।
_ তুমি দাঁড়াও আমি আসছি এক্ষনি।
_ কোথায় যাচ্ছো ?
_ দুই মিনিট।
তুলি আগের জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলো। ইমরানকে রাস্তা পাড় হতে দেখে বুঝতে পারে কোথায় যাচ্ছে।
তুলি অবাক হয়, ও কিছুই বললো না অথচ ইমরান বুঝতে পেরে গেলো ! কিভাবে বুঝলো ? চোখ দেখে মন পড়ে ফেললো ? কিন্তু ওর চোখ ও তো দেখেনি।
ইমরান দুটো হাওয়াই মিঠাই নিয়ে ফিরে আসে। একটা পিঙ্ক অন্য টা কালার ফুল। দুটোই তুলির হাতে ধরিয়ে দেয়।
_ একটা তুমি খাও।
_ এসব খাই না, তুমি খাও।
_ দুটো দুই হাতে থাকলে কিভাবে খাবো ?
_ একটা আমার হাতে দাও।
তুলি একটা ইমরানের হাতে দিয়ে অন্য টা খুলে একটু ইমরানের মুখে পুরে দেয় জোর করে। তারপর নিজে খায়। দুজন একসাথে এগিয়ে যায় আবার। কত দূর যাবে জানে না দুজন। কয়েক টা রেস্টুরেন্ট পেছনে ফেলে এসেছে। ইমরান দেখে তুলির হাত ধরে হাঁটতে পারছে না। কিছু সময় তুলির দিকে তাকিয়ে থেকে আচমকা তুলিকে পাঁজা কোলে তুলে নেয়।
_ আরে কি করছো পড়ে যাবো তো।
_ আমি ধ্বংস না হলে তুমি পড়বে না।
তুলি ইমরানের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো। ইমরান ঝুঁকে তুলির কপালে চুমু আকে।
_ কি করছো ? পাবলিক প্লেস এটা।
_ কেউ দেখছে না। তুমি খাও।
তুলিকে কোলে নিয়েই সামনের দিকে এগিয়ে যায়। তুলির বেশ ভালো লাগছে ইমরানের কোলে চরে রাতের রাস্তায় এভাবে চলতে।
ইমরান সামনের দিকে দৃষ্টি রেখে হাঁটতে হাঁটতে বলে,
_ আমার কাছ থেকে তুমি এ যাবত যত টুকু কষ্ট পেয়েছো সেই সব কষ্ট আমি বিলীন করে দেবো অল্প সময়ে। আমার কাছ থেকে চুল পরিমাণ কষ্ট পাবে না তুমি আর হঠাৎ যদি কখনো আমি বেশি রেগে যাই তুমি শক্ত করে জড়িয়ে ধরবে। তোমার জড়িয়ে ধরায় শান্তি আছে, রাগ বিলীন হয়ে যায়। তোমার ছোঁয়ায় যাদু আছে যা আমাকে শান্ত করবে। তোমার একটু ছোঁয়ায় আমার হৃদয় শীতল হয়। তোমাকে বলে বোঝাতে পারবো না আমি "তুমি পুরোটাই যাদু"। চব্বিশ ঘণ্টা ও হয়নি আমি তোমাতে হারিয়ে গিয়েছি। তোমাকে ছাড়া কিছুই ভাবতে পারছি না। হসপিটালের একেক টা মিনিট আমার কাছে ঘণ্টার মতো মনে হয়েছে। তোমার কাছে ছুটে আসার জন্য মন ব্যাকুল হয়ে উঠেছিল। আমদের প্রণয় অযাচিত হলেও এটা যেন হওয়ারই ছিল। সারা জীবন আগলে রাখবো তোমায় এই বুকের মাঝে শুধু তুমি থেকো এই বদরাগী বদমেজাজি ইমরানের পাশে।
আবেগে আপ্লুত হয় তুলি। শুধু শুধু চোখ দিয়ে পানি বেরিয়ে এসেছে। এরকম কথা শুনে কারো চোখ দিয়ে পানি বের হয় ? কিন্তু তুলির হচ্ছে কারণ , এই কথা গুলো কোনো দিন ইমরানের মুখ থেকে শুনবে কল্পনাও করেনি, দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি। অপ্রত্যাশিত, অকল্পনীয়, অযাচিত এই বাক্য গুলো তুলির মন দুলিয়ে তুলছে।
না চাইতেও চোখ দিয়ে পানি বেরিয়ে আসছে।
ডান হাতে ইমরানের পিঠ জড়িয়ে ধরে বুকের বা পাশে মাথা ঠেকায়। ইমরানের মুখের দিকে তাকিয়ে ধরা গলায় বলে,
_ তুমি অনেক ভালো ডাক্তার সাহেব।
_ তুমিও।
~সমাপ্ত~
পুরো গল্প টা কেমন লেগেছে অবশ্যই মতামত জানাবেন সবাই।