RE: The Barter System (By:andygarfield) -
Bad Boy - 09-02-2026
(rest of the chapter...)
৭.৩. অলৌকিক জাগরণ ও অশ্রুর ধারা
ইন্দিরা ওঁর নিচে এক তীব্র ধনুকের মতো বেঁকে উঠলেন। বুকের ভেতরের সমস্ত বাতাস এক সেকেন্ডের জন্য থমকে গিয়ে এক অলৌকিক, অচেনা শব্দের আকারে ওষ্ঠাধর থেকে ছিটকে বেরোলো। দুটো হাত এক তীব্র আদিম তাড়নায় রাহুলের দুই কাঁধের ওপর গিয়ে পড়ল, নখগুলো ওর চামড়ায় বসে যাচ্ছিল। পুরো শরীরটা এক তীব্র বৈদ্যুতিক তরঙ্গের মতো কেঁপে উঠে বারবার শিউরে উঠতে লাগল।
গলার গভীর থেকে এক সুতীব্র আর্তনাদ চিরে বেরোলো, "আহ্হ্হ্হ্—!!!! রাহুল—!!!! উফ্ফ্ফ্ফ্—!!!!"
ওর নামটা গলা থেকে এক চরম ভাঙা, অবাধ্য ও আদিম স্বরে আছড়ে পড়ল। নিতম্বদুটো বিছানা থেকে নিজে থেকেই সামান্য ওপরে উঠে গেল, শরীরের প্রতিটা পেশি তখন এক অদ্ভুত চরম তৃপ্তির তরঙ্গে কাঁপছিল।
বেশ কয়েক মুহূর্ত তিনি ওভাবেই একদম স্থির, নিঃশ্বাসহীন হয়ে রইলেন—পুরো শরীরটা তখন কাঁপছে। তারপর এক ঝটকায় আবার বিছানার চাদরের ওপর ভেঙে পড়লেন তিনি। বুকটা তখন কোনো এক হাপরের মতো দ্রুত ওঠানামা করছে।
বেশ কিছুক্ষণ পর, তিনি যখন কথা বললেন, গলার স্বর বড্ড নিচু, প্রায় অস্ফুট—এক চরম ঘোর এবং আচ্ছন্নতায় ভরা:
"...ওহ্ গড....ওহ্ ঈশ্বর..."
রাহুল অবশেষে সেই সুবাসিত, লালা-আর্দ্র বোঁটা থেকে নিজের মুখটা সরিয়ে নিল। সে ওঁর ওপরে নিজের কনুইয়ের ভর দিয়ে মুখের দিকে তাকাল। ইন্দিরা তখন হাঁপাচ্ছেন, ফর্সা গাল বেয়ে দুটো চোখের কোণ থেকে নিঃশব্দে অশ্রুর ধারা নেমে আসছে।
রাহুল বড্ড ভয় পেয়ে আরও কাছে ঝুঁকে এল, "মা... মা তুমি ঠিক আছো? কী হয়েছে তোমার? আমি কি তোমাকে বড্ড বেশি ব্যথা দিয়ে ফেলেছি?"
ইন্দিরার শ্বাস তখনও স্বাভাবিক হয়নি। বুকটা দ্রুত ওঠানামা করছিল, চোখদুটো ছাদের সিলিংটার দিকে স্থির হয়ে তাকিয়ে ছিল। আঙুলগুলো বিছানার চাদরটাকে বড্ড শক্ত করে মুচড়ে ধরে রেখেছিল, ওখানটায় হাত কাঁপছিল। গাল বেয়ে সেই জল গড়িয়ে পড়ছিল—সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত, নিঃশব্দ অশ্রু।
তিনি খুব ধীরে চোখদুটো ছাদ থেকে সরিয়ে রাহুলের মুখের ওপর নিয়ে এলেন। চোখদুটো বড্ড বড় বড়, এক অদ্ভুত বিস্ময়ে ভরা। তারপর মুখের সেই কঠিন ভাবটা গলে গিয়ে এক পরম অসহায়, কোমল ও সংবেদনশীল রূপ নিল। কাঁপতে থাকা ডান হাতটা তুলে তিনি ওর গালে আঙুলগুলো ছোঁয়ালেন—একদম পালকের মতো হালকা ছোঁয়া।
"আমি..." গলার স্বরটা ভেঙে গেল। তিনি একবার ঢোক গিললেন। "...ঠিক আছি রে সোনা ....একদম ঠিক আছি," ফিসফিসানিটা ঘরের নীরবতায় প্রায় হারিয়ে যাচ্ছিল।
রাহুল বড্ড কনফিউজড হয়ে গেল, "কী হয়েছে, মা? আমি কি তোমাকে সত্যিই হার্ট করেছি? তুমি কাঁদছ কেন তাহলে?"
ইন্দিরা কয়েক মুহূর্তের জন্য দ্বিধায় পড়লেন। ফর্সা গালদুটো এক তীব্র লজ্জায় লাল হয়ে উঠল। তিনি ওর চোখের দিকে সরাসরি তাকাতে পারছিলেন না, দৃষ্টি এদিক-ওদিক ঘুরছিল। আঙুলগুলো ওর চুলে বড্ড যান্ত্রিকভাবে বিলি কাটতে লাগল, যেন তিনি নিজের ভেতরের লজ্জাটাকে লুকাতে চাইছেন।
"আমি... আসলে..." তিনি এক হালকা, মায়াবী নিশ্বাস ছাড়লেন, মুখভঙ্গি বড্ড লাজুক শোনাল। "খুব শান্তি লাগছে রে... শরীরটা একদম...শান্ত হয়ে গেল রে, সোনা। আমি... একদম...মানে... একদমই...আশা করিনি এটা। আমি জানতামই না যে আমার এই... ইয়ে মানে...আমি... আবার কোনোদিন এইভাবে ফিল করতে পারব..." চোখদুটো আবার ওর চোখের ওপর এসে স্থির হলো, নিজের ভেতরে ঘটে যাওয়া এই অলৌকিক ঘটনাটা তিনি নিজেই যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। "আমি... তোকে খুব ভয় পাইয়ে দিয়েছি, না রে সোনা?"
রাহুল নিষ্পাপ চোখে এক তীব্র বিভ্রান্তি নিয়ে বলল, "তুমি তো আমাকে সত্যিই এখন ভয় পাইয়ে দিচ্ছ, মা... আমি তোমার চোখে জল দেখছি... অথচ তুমি বলছ তোমার ভালো লাগছিল...শান্তি লাগছিল... আমি কিচ্ছু বুঝতে পারছি না, মা..."
ইন্দিরা আর এক সেকেন্ডও দেরি করলেন না। দুটো হাত দিয়ে রাহুলের মুখটা পরম মমতায় কাপের মতো ধরে ফেললেন। বুড়ো আঙুলদুটো দিয়ে ওর কপালে আর চোখে থাকা সেই চিন্তার রেখাগুলো আলতো করে মুছে দিলেন। নিজের শ্বাসটাকে একটু স্থির করার চেষ্টা করলেন, গলা দিয়ে এক আশ্বস্তকারী, নরম সুর বেরোলো:
"সোনা, আমার কথা শোন—সবকিছু একদম ঠিক আছে, বড্ড অদ্ভুত আর সুন্দর একটা অনুভূতি দিয়েছিস তুই। ওটা জাস্ট... ওটা আমাকে বড্ড বেশি নাড়িয়ে দিয়েছিল রে।"
তিনি আবার ঢোক গিললেন, গলা আরও বেশি নরম হয়ে এল, "আমি জানতামই না যে আমার এই বয়সের শরীরটা এখনও এভাবে রিয়্যাক্ট করতে পারে। সেই... সেই তীব্রতাটা বড্ড আচমকা ছিল।" আঙুলগুলো ওর গালে আরাম দিচ্ছিল। "আর এই চোখের জল?" ঠোঁটের কোণে এক হালকা, লজ্জামাখা হাসির রেখা দেখা দিল, "ওটা এমনিই হয় রে সোনা... যখন কোনো অনুভূতি মনকে বড্ড বেশি ছুঁয়ে যায়... এটা তো...এটা তো আনন্দের কান্না রে বাবু।"
রাহুল এবার একটু আশ্বস্ত হয়ে বড্ড নিচু আর মিষ্টি গলায় বলল, "তার মানে... আমি তোমাকে আরাম দিয়েছি, মা?"
ইন্দিরা খুব ধীরে মাথা নেড়ে সায় দিলেন। গালে সেই লাজুক লালচে ভাবটা তখনও স্পষ্ট, গলার স্বর এক নিচু ফিসফিসানিতে নেমে এল।
"হ্যাঁ রে সোনা," তিনি বললেন, "তুই আমাকে বড্ড আরাম দিয়েছিস... আমার কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি।"
তিনি ওর দিকে তাকিয়ে রইলেন, চোখে তখন এক অবাধ্য ভালোবাসা আর ওম। "আমি জাস্ট... একদম এক্সপেক্ট করিনি এটা, এই যা। আর আমি তোকে ভয় পাইয়ে দিতে চাইনি ওভাবে... ওমন আওয়াজ করে..."
কথাটা শেষ করেই তিনি চোখদুটো ওর ওপর থেকে সরিয়ে নিলেন। দৃষ্টি চলে গেল ঘরের দেওয়ালে থাকা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেই সুন্দর ছবিটার ওপর। ওভাবে ছবিটার দিকে তাকাতেই ইন্দিরা যেন কোন একটা ঘোরের মধ্যে চলে গেলেন। ঠোঁটের কোণে এক অদ্ভুত বিস্ময় আর ভক্তি নিয়ে ফিসফিস করতে লাগলেন, যেন স্বয়ং কৃষ্ণের কাছে ঈশ্বরের কাছে নিজের ভেতরের অলৌকিক রূপটা স্বীকার করছেন:
"আমার ছেলে... আমার ছোট্ট সোনা ছেলেটা... আমাকে আবার..."
রাহুল একদম বোকার মতো তাকিয়ে সেই বিড়বিড়ানি শুনতে লাগল। ইন্দিরা ওভাবেই শ্রীকৃষ্ণের ছবির দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলেন, শ্বাস তখনও সামান্য কাঁপছিল, শরীর ওর ছোঁয়ার সেই রেশ থেকে বেরোতে পারছিল না। গলার স্বর এক গভীর শ্রদ্ধায় আর আচ্ছন্নতায় ভরা:
"ও... ও আমাকে আবার নতুন করে জাগিয়ে তুলল," কথার মধ্যে এক তীব্র অবিশ্বাসের সুর, "এত বছর পর... আমার নিজের সন্তানই..." তিনি ছবির দিকে তাকিয়ে অস্পষ্ট ভাবে বলে যেতে লাগলেন..., "আমার মিষ্টি সোনাটা... ও কী করে... ও কীভাবে এটা পারল..." শ্বাস আবার আটকে গেল, বড্ড পবিত্র শোনাল সেই রূপ। "কেউ কোনোদিন... কোনোদিন আমাকে এভাবে... ওর বাবাও কোনোদিন পারেনি..."
তারপর তিনি কয়েকবার চোখ পিটপিট করলেন—যেন আবার বাস্তবে ফিরে এলেন। চোখদুটো আবার রাহুলের ওপর এসে ফোকাস হলো, মুখভঙ্গি এবার এতটাই নরম আর সংবেদনশীল হয়ে উঠল যে তা সহ্য করা কঠিন। বুড়ো আঙুলটা ওর নিচের ঠোঁটের ওপর আলতো করে ঘষতে ঘষতে তিনি বললেন:
"তুই... তুই বড্ড নিষ্পাপ রে সোনা। তুই বড্ড বোকা... তুই বুঝতেও পারিসনি তুই তোর মায়ের সাথে একটু আগে কী করলি, তাই না?"
রাহুল মাথা নেড়ে বলল, "না মা... তুমি এমন অদ্ভুত বিহেভ কেন করছ?"
ইন্দিরা এক দীর্ঘ, কাঁপানো শ্বাস ফেলে ওর মুখটা দুই হাতের মধ্যে আরেকটু শক্ত করে ধরলেন, যাতে সে চোখের দিকে সোজা তাকিয়ে থাকে। চোখদুটো গভীর, সংবেদনশীল কিন্তু এক তীব্র মায়ায় ভরা।
"কারণ," গলার স্বর আবেগে বুঁদ হয়ে আসছিল, "তুই আমার ভেতরের এমন একটা তালা খুলে দিয়েছিস... যা আমি ভেবেছিলাম চিরকালের মতো হারিয়ে গেছে।" আঙুলগুলো ওর গালদুটোকে আদর দিচ্ছিল, পরের কথাগুলো এক পরম সততায় কাঁপছিল, "আমি এখন বুঝতে পারছি না যে তোকে এই অবাধ্যতার জন্য বকব... নাকি তোকে থ্যাঙ্ক ইউ বলব।"
রাহুল ওঁর এই দ্বিধা দেখে বুকের ওপর নিজের হাতদুটো রেখে বলল, "তাহলে তার চেয়ে ভালো... আমি তোমাকে একটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরি? ওসব বকা বা থ্যাঙ্কস-এর দরকার নেই।"
ইন্দিরার বুকের ভেতরের শ্বাসটা ক্ষণিকের জন্য থমকে গেল—তারপর চোখ দিয়ে আর এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল এবং তিনি একটা হালকা, ভেজা হাসি হেসে মাথাটা নাড়লেন।
"হ্যাঁ," ফিসফিসানিটা বড্ড আকুল শোনাল। দুটো হাত নিজে থেকেই ওপরে উঠে এল এবং তিনি নিজের সেই খোলা বুকের সাথে রাহুলকে এক পরম শক্ত আশ্লেষে জড়িয়ে ধরলেন।
এই আলিঙ্গনটা বড্ড বেশি শক্ত ছিল—যেন এক তীব্র অসহায়তায় তিনি সন্তানকে নিজের আঁকড়ে ধরার খুঁটি বানিয়েছেন। মুখটা ওর চুলের মধ্যে লুকিয়ে রইল, বুকের ভেতরের হৃদপিণ্ডের ধুকপুক শব্দটা রাহুলের নিজের বুকের সাথে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল।
"ঠিক এইভাবে..." ঠোঁট থেকে বেরোলো, "ঠিক এইভাবে জড়িয়ে ধরে রাখ আমাকে..."
রাহুল সেই খোলা পিঠের ওপর নিজের হাতদুটো আরেকটু শক্ত করে চেপে ধরে বলল, "আমি তোমাকে বড্ড ভালোবাসি, মা..."
ইন্দিরা চোখদুটো বুজে নিলেন, ওর চুলে ঠোঁটদুটো ডোবানো ছিল। হাতদুটো তাকে আরও কাছে টেনে নিল, যেন তাকে এভাবে নিজের বুকের সাথে লেপ্টে রাখাই এই মুহূর্তে নিজেকে সামলানোর একমাত্র উপায়। গলার স্বর এক পরম, গভীর আবেগে কাঁপছিল:
"আমিও তোকে বড্ড ভালোবাসি... ওলে আমার সোনাটা লে, আমার মনাটা, আমার পুচুটা, আমার বুকুবুকু, আমার পুতুপুতু..." এই আদুরে গলা রাহুল বহু বছর শোনেনি। তারপর, খানিকটা থেমে, তিনি ফিসফিস করলেন, "আমার সোনা... আমার একমাত্র সন্তান।" গলার স্বর শেষ শব্দটাতে এসে একটু ভেঙে গেল, আঙুলগুলো ওর চুলে কাঁপছিল। "তুই যে আমার জীবনের একমাত্র আলো রে, সোনা... তুই সেটা জানিস তো?"
৭.৪. নিশীথের শান্তি ও সুব্রতর বার্তা
রাহুল বুকের ওপর শুয়ে লক্ষ্য করল, ইন্দিরার শরীরটা যেন বড্ড বেশি শিথিল হয়ে আসছে, চোখদুটো ঘুমে জড়িয়ে আসছে। সে খুব নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করল, "মা... খুব ঘুম পেয়ে গেছে, না? তোমাকে হঠাৎ বেশ ক্লান্ত লাগছে।"
ইন্দিরা ঠোঁট থেকে এক হালকা, ক্লান্তির শ্বাস ছাড়লেন—ঠোঁটের কোণে এক মিষ্টি হাসি। উষ্ণ শ্বাস ওর চুলে লাগছিল।
"হ্যাঁ রে সোনা... একটু পাচ্ছে," তিনি স্বীকার করলেন, গলার স্বর বড্ড নিঝুম শোনাল। "অনেক রাত হয়ে গেল।"
এক সেকেন্ডের বিরতি, আঙুলগুলো ওভাবেই ওর চুলে আলতো করে বিলি কাটছিল।
"আর তাছাড়া...তুই তো আমার সব এনার্জি চুষে নিয়েছিস আজ।" গলার স্বরে এক প্রচ্ছন্ন হাসি মাখানো ছিল। তিনি শরীরটা সামান্য পিছিয়ে ওর মুখের দিকে আর একবার তাকালেন। চোখে এক অদ্ভুত কৌতুকী ওম। "এমনিতে তুই যখন বাঁদরামো করিস... তার চেয়েও অনেক বেশি ক্লান্ত করে দিলি আজ আমাকে।"
রাহুল ওর সেই নিষ্পাপ, মিষ্টি মুখটা করে বলল, "কিন্তু মা... তুমি তো এতক্ষণ ধরে বিছানায় ওভাবেই শুয়েই আছ... আমিই বরং রান্নাঘরে গিয়ে সব বাসন মাজলাম, আর তুমি বলছ আমি তোমাকে ক্লান্ত করে দিয়েছি? এটা কেমন কথা?"
ইন্দিরা এই চরম সরলতা দেখে আর নিজের হাসি চেপে রাখতে পারলেন না। ঠোঁটের কোণে এক পরম মায়াবী ও আদুরে হাসি নিয়ে তিনি ওর চোয়ালের রেখায় আবার আঙুল ছোঁয়ালেন।
"আমার সোনা ছেলে রে..." গলার সুর বড্ড বেশি ভালোবাসায় মাখানো, "তুই এতটাই নিষ্পাপ... তোর এই ইনোসেন্সটাই বড্ড বেশি সুন্দর।" তিনি ক্ষণিকের জন্য থামলেন, চোখদুটো স্নেহে বুঁদ হয়ে আসছিল, গলার স্বর আর এক ধাপ নেমে এল, "তোকে ওসব কথা আর একদিন বুঝিয়ে বলব। কিন্তু এখন... জাস্ট আমার সাথে এভাবে শুয়ে থাক, সোনা।"
"ঠিক আছে, মা... আমারও একটু ঘুম ঘুম পাচ্ছে এবার," রাহুল ওর গায়ের ওপর নিজের চাদরটা, যেটা খাটের এক কোণে পাট করে রাখা ছিল, সেটা বিছিয়ে দিল। "মা তোমার কি চাদর লাগবে? আমি আলমারি থেকে আরেকটা চাদর বার করে আনব?"
ইন্দিরা কয়েক মুহূর্তের জন্য ভাবলেন, চোখে তখন এক চরম ক্লান্তির ছাপ। চোখদুটো ক্রমশ ছোট হয়ে আসছিল।
"তোর চাদরটাই তো বেশ বড়, ওটাতে আমাদের দুজনের হয়ে যাবে," গলার স্বর ক্রমশ হালকা হয়ে আসছিল, "আমার জাস্ট তোকে বড্ড কাছে দরকার।"
তিনি হাত দিয়ে ওর শরীরটাকে নিজের দিকে আরেকটু টেনে নিলেন, পুরো শরীরটা ওর শরীরের উষ্ণতায় আলগা হয়ে গেল। চোখদুটো বন্ধ হয়ে আসছিল।
"ঠিক এইখানটায়..." ঠোঁট থেকে এক শেষ ফিসফিসানি বেরোলো, "আমাকে জড়িয়ে ধরে থাক, সোনা।"
তারা দুজনে এক অভিন্ন চাদরের নিচে একে অপরের শরীরের সমস্ত ওম ভাগ করে নিয়ে একদম জড়াজড়ি করে শুয়ে রইল। অন্ধকারের সেই নিবিড় আশ্রয়ে রাহুলের একটা পা অবচেতনভাবেই ইন্দিরার পায়ের ওপর উঠে এল, আর ইন্দিরাও পরম নির্ভরতায় নিজের একটা পা ওর পায়ের ওপর তুলে দিয়ে ওকে আরও নিবিড়ভাবে পেঁচিয়ে ধরলেন। তাদের শরীরের এই অপূর্ব বুনন যেন বাইরের পৃথিবী থেকে তাদের সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিল।
রাহুল কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল, "আরাম লাগছে তো, মা?"
"একদম পারফেক্ট..." উত্তর এল।
ঠিক তখনই, এই মায়াবী নিস্তব্ধতা ভেঙে খাটের পাশের টেবিলে রাখা ইন্দিরার ফোনটা মৃদু কম্পনে কেঁপে উঠল। হোয়াটসঅ্যাপের নোটিফিকেশন টোন।
ইন্দিরা একটা হালকা বিরক্তি মিশ্রিত দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাত বাড়িয়ে ফোনটা তুলে নিলেন। স্ক্রিনে সুব্রতর নাম। ফ্লাইট ল্যান্ড করেছে।
ইন্দিরা ফোনটা দেখে রাহুলকে বললেন, "তোর বাবার মেসেজ এসেছে রে। ও পৌঁছে গেছে। এখন বাজে দুটো, তারমানে লেট্ করেনি, রাইট টাইম একদম।"
রাহুল ইন্দিরার বুকের খাঁজের ভেতর মুখ গুঁজে রেখে বলল, "হুঁম, ভালো, ভালো...."
ইন্দিরা সুব্রতর মেসেজের চ্যাটে ঢুকলেন। সুব্রত লিখেছেন:
“ফ্লাইট এইমাত্র ল্যান্ড করল, ইন্দিরা। জানি তুমি এতক্ষণে গভীর ঘুমে। আমি জাস্ট জানিয়ে রাখলাম যে ঠিকঠাক পৌঁছেছি। সকালে কথা হবে।”
ইন্দিরা এক হাত দিয়ে টাইপ করতে লাগলেন, অন্য হাতটা ওভাবেই রাহুলের পিঠের ওপর রাখা ছিল। তিনি অত্যন্ত স্বাভাবিক ও ঘরোয়া সুরে উত্তর দিলেন:
“ঠিকঠাক পৌঁছেছ জেনে নিশ্চিন্ত হলাম। এবার তাড়াতাড়ি হোটেলে গিয়ে রেস্ট নাও।”
সেকেন্ড কয়েকের মধ্যেই স্ক্রিনের ওপারে সুব্রতর টাইপিং দেখাতে শুরু করল। মেসেজটা পড়ে সুব্রত যে যথেষ্ট অবাক হয়েছেন, তা ওঁর পরের মেসেজেই স্পষ্ট হয়ে গেল:
“আরে! তুমি এখনও জেগে আছো? রাত দুটো বাজে! শরীর খারাপ করবে তো। কী করছিলে এত রাত পর্যন্ত?”
ইন্দিরা মেসেজটা দেখে ক্ষণিকের জন্য থামলেন। আঙুলগুলো কিপ্যাডের ওপর স্থির। তিনি চোখ নামিয়ে বিছানায় তাঁর বুকের সাথে লেপ্টে থাকা রাহুলের দিকে একবার তাকালেন। ছেলের নিশ্চিন্ত, প্রশান্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে তাঁর ঠোঁটের কোণে এক রহস্যময়, প্রচ্ছন্ন হাসি ফুটে উঠল। তিনি যে আজ রাতে ঠিক কী করছিলেন, তা পৃথিবীর আর কেউ কোনোদিন জানতে পারবে না। একটু সময় নিয়ে তিনি সুব্রতকে তাঁর চেনা, প্রফেশনাল অধ্যাপিকার বর্মে ঢেকে উত্তর লিখলেন:
“পিএইচডি-র একটা পেপার রিভিউ করতে বসেছিলাম, খেয়ালই ছিল না এত রাত হয়ে যাবে। এই জাস্ট শেষ হলো। এবার শুয়ে পড়ছি।”
সুব্রত ওপাশ থেকে রিপ্লাই দিলেন:
“হুম, নিজের শরীরের দিকেও একটু নজর রেখো। তা রাহুল কী করছে? ও ঘুমিয়েছে?”
ইন্দিরা এবার কোনো দ্বিধা ছাড়াই স্ক্রিনে টাইপ করলেন:
“হ্যাঁ, ও তো ঘুমিয়ে কাদা। আজ সারাদিন পরীক্ষার জন্য অনেক ধকল গেছে তো, ও সটান ঘুম। যাই হোক, তুমি এবার হোটেলে গিয়ে রেস্ট নাও।”
মেসেজটা পাঠিয়েই ইন্দিরা ফোনটা আবার টেবিলের ওপর রেখে দিলেন এবং স্ক্রিনটা অন্ধকার হয়ে গেল। তিনি আবার সম্পূর্ণভাবে রাহুলের দিকে ঘুরে হাতদুটো ওর পিঠে জড়িয়ে নিলেন।
রাহুল কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল, "মা, আমি কিন্তু কাল সকালের জন্য কোনো অ্যালার্ম সেট করছি না, ওকে?"
ইন্দিরা ওর বুকের মধ্যে নিজের মুখটা আরেকটু গুঁজে দিয়ে এক হালকা, আদুরে শব্দ করলেন। চোখদুটো বন্ধই ছিল। অনাবৃত বুকের ওম আর চেনা সুবাসে নাকটা ডুবিয়ে দিলেন তিনি।
"কোনো অ্যালার্মের দরকার নেই, সোনা..." গলার স্বর ক্রমশ জড়িয়ে আসছিল, কিন্তু তাতে এক চরম অধিকারবোধ স্পষ্ট, "কাল তো শনিবার, আমরা যতক্ষণ খুশি ঘুমাব।" তিনি ওর শরীরের সাথে নিজের শরীরটাকে আরেকটু মিশিয়ে দিয়ে হাতের গ্রিপটা শক্ত করলেন, গলা ঘুমের ঘোরে বড্ড আবছা শোনাল, "শুধু তুই... মায়ের কাছে থাক...কোথাও যাস না...."
রাহুল একটু দুষ্টুমি করে কানের কাছে ফিসফিস করল, "আমি আবার কোথায় যাব, মা? এটা তো আমারই ঘর, ভুলে গেলে?"
ইন্দিরা বুকের মধ্যেই মুখ রেখে এক হালকা হাসি হাসলেন। ওর বুকে একটা ছোট্ট আদুরে চিমটি কাটলেন।
"বড্ড পেকেছিস তুই..." গলা দিয়ে এক শেষ মিইয়ে যাওয়া শাসন বেরোলো, "তুই খুব ভালো করেই জানিস আমি কী বলতে চাইছি।"
শ্বাসের গতি ক্রমশ ধীর আর গভীর হয়ে আসছিল—শরীরটা ওর শরীরের আরও কাছে সরে এল, যেন তিনি ঘুমের মধ্যেও চান যে এই পরম শান্তিতে ভরা স্বর্গটা কোনোদিন হারিয়ে না যায়।
"উমম... সোনা ছেলে আমার..." ঠোঁট থেকে এক শেষ, আদুরে অস্ফুট শব্দ বেরোলো, এবং তিনি সম্পূর্ণভাবে ঘুমের দেশে তলিয়ে গেলেন। শরীরের সমস্ত উত্তাপ রাহুলের খোলা বুকের সাথে এক হয়ে মিশে রইল।
রাহুল সেই শান্ত, সুন্দর মুখের দিকে তাকিয়ে মায়ের কপালে নিজের ঠোঁট দিয়ে এক শেষ চুমু খেল।
"গুড নাইট, মা। ভালো করে ঘুমাও।"
ইন্দিরা ঘুমের ঘোরেই এক মৃদু শব্দ করলেন—তিনি ইতিমধ্যেই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, কিন্তু তাঁর অবচেতন শরীরটা ওর শরীরের সাথে আরও একটু জড়িয়ে গেল, নাকটা ওর বক্ষবৃন্তে ঘষা খেল। মুখ থেকে এক শেষ অস্পষ্ট ফিসফিসানি বেরোলো:
"গুড নাইট, সোনা... সুইট ড্রিমস..."
শ্বাসের ছন্দ মুহূর্তের মধ্যে একদম স্বাভাবিক আর শান্ত হয়ে গেল। সারা ঘর জুড়ে তখন এক নিবিড়, পবিত্র নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে—এক অন্ধকার নিশীথ, যা ভেতরের সমস্ত গোপন কথা নিজের বুকে লুকিয়ে এক অলৌকিক শান্তির চাদর বিছিয়ে দিয়েছে।(rest of the chapter...)
৭.৩. অলৌকিক জাগরণ ও অশ্রুর ধারা
ইন্দিরা ওঁর নিচে এক তীব্র ধনুকের মতো বেঁকে উঠলেন। বুকের ভেতরের সমস্ত বাতাস এক সেকেন্ডের জন্য থমকে গিয়ে এক অলৌকিক, অচেনা শব্দের আকারে ওষ্ঠাধর থেকে ছিটকে বেরোলো। দুটো হাত এক তীব্র আদিম তাড়নায় রাহুলের দুই কাঁধের ওপর গিয়ে পড়ল, নখগুলো ওর চামড়ায় বসে যাচ্ছিল। পুরো শরীরটা এক তীব্র বৈদ্যুতিক তরঙ্গের মতো কেঁপে উঠে বারবার শিউরে উঠতে লাগল।
গলার গভীর থেকে এক সুতীব্র আর্তনাদ চিরে বেরোলো, "আহ্হ্হ্হ্—!!!! রাহুল—!!!! উফ্ফ্ফ্ফ্—!!!!"
ওর নামটা গলা থেকে এক চরম ভাঙা, অবাধ্য ও আদিম স্বরে আছড়ে পড়ল। নিতম্বদুটো বিছানা থেকে নিজে থেকেই সামান্য ওপরে উঠে গেল, শরীরের প্রতিটা পেশি তখন এক অদ্ভুত চরম তৃপ্তির তরঙ্গে কাঁপছিল।
বেশ কয়েক মুহূর্ত তিনি ওভাবেই একদম স্থির, নিঃশ্বাসহীন হয়ে রইলেন—পুরো শরীরটা তখন কাঁপছে। তারপর এক ঝটকায় আবার বিছানার চাদরের ওপর ভেঙে পড়লেন তিনি। বুকটা তখন কোনো এক হাপরের মতো দ্রুত ওঠানামা করছে।
বেশ কিছুক্ষণ পর, তিনি যখন কথা বললেন, গলার স্বর বড্ড নিচু, প্রায় অস্ফুট—এক চরম ঘোর এবং আচ্ছন্নতায় ভরা:
"...ওহ্ গড....ওহ্ ঈশ্বর..."
রাহুল অবশেষে সেই সুবাসিত, লালা-আর্দ্র বোঁটা থেকে নিজের মুখটা সরিয়ে নিল। সে ওঁর ওপরে নিজের কনুইয়ের ভর দিয়ে মুখের দিকে তাকাল। ইন্দিরা তখন হাঁপাচ্ছেন, ফর্সা গাল বেয়ে দুটো চোখের কোণ থেকে নিঃশব্দে অশ্রুর ধারা নেমে আসছে।
রাহুল বড্ড ভয় পেয়ে আরও কাছে ঝুঁকে এল, "মা... মা তুমি ঠিক আছো? কী হয়েছে তোমার? আমি কি তোমাকে বড্ড বেশি ব্যথা দিয়ে ফেলেছি?"
ইন্দিরার শ্বাস তখনও স্বাভাবিক হয়নি। বুকটা দ্রুত ওঠানামা করছিল, চোখদুটো ছাদের সিলিংটার দিকে স্থির হয়ে তাকিয়ে ছিল। আঙুলগুলো বিছানার চাদরটাকে বড্ড শক্ত করে মুচড়ে ধরে রেখেছিল, ওখানটায় হাত কাঁপছিল। গাল বেয়ে সেই জল গড়িয়ে পড়ছিল—সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত, নিঃশব্দ অশ্রু।
তিনি খুব ধীরে চোখদুটো ছাদ থেকে সরিয়ে রাহুলের মুখের ওপর নিয়ে এলেন। চোখদুটো বড্ড বড় বড়, এক অদ্ভুত বিস্ময়ে ভরা। তারপর মুখের সেই কঠিন ভাবটা গলে গিয়ে এক পরম অসহায়, কোমল ও সংবেদনশীল রূপ নিল। কাঁপতে থাকা ডান হাতটা তুলে তিনি ওর গালে আঙুলগুলো ছোঁয়ালেন—একদম পালকের মতো হালকা ছোঁয়া।
"আমি..." গলার স্বরটা ভেঙে গেল। তিনি একবার ঢোক গিললেন। "...ঠিক আছি রে সোনা ....একদম ঠিক আছি," ফিসফিসানিটা ঘরের নীরবতায় প্রায় হারিয়ে যাচ্ছিল।
রাহুল বড্ড কনফিউজড হয়ে গেল, "কী হয়েছে, মা? আমি কি তোমাকে সত্যিই হার্ট করেছি? তুমি কাঁদছ কেন তাহলে?"
ইন্দিরা কয়েক মুহূর্তের জন্য দ্বিধায় পড়লেন। ফর্সা গালদুটো এক তীব্র লজ্জায় লাল হয়ে উঠল। তিনি ওর চোখের দিকে সরাসরি তাকাতে পারছিলেন না, দৃষ্টি এদিক-ওদিক ঘুরছিল। আঙুলগুলো ওর চুলে বড্ড যান্ত্রিকভাবে বিলি কাটতে লাগল, যেন তিনি নিজের ভেতরের লজ্জাটাকে লুকাতে চাইছেন।
"আমি... আসলে..." তিনি এক হালকা, মায়াবী নিশ্বাস ছাড়লেন, মুখভঙ্গি বড্ড লাজুক শোনাল। "খুব শান্তি লাগছে রে... শরীরটা একদম...শান্ত হয়ে গেল রে, সোনা। আমি... একদম...মানে... একদমই...আশা করিনি এটা। আমি জানতামই না যে আমার এই... ইয়ে মানে...আমি... আবার কোনোদিন এইভাবে ফিল করতে পারব..." চোখদুটো আবার ওর চোখের ওপর এসে স্থির হলো, নিজের ভেতরে ঘটে যাওয়া এই অলৌকিক ঘটনাটা তিনি নিজেই যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। "আমি... তোকে খুব ভয় পাইয়ে দিয়েছি, না রে সোনা?"
রাহুল নিষ্পাপ চোখে এক তীব্র বিভ্রান্তি নিয়ে বলল, "তুমি তো আমাকে সত্যিই এখন ভয় পাইয়ে দিচ্ছ, মা... আমি তোমার চোখে জল দেখছি... অথচ তুমি বলছ তোমার ভালো লাগছিল...শান্তি লাগছিল... আমি কিচ্ছু বুঝতে পারছি না, মা..."
ইন্দিরা আর এক সেকেন্ডও দেরি করলেন না। দুটো হাত দিয়ে রাহুলের মুখটা পরম মমতায় কাপের মতো ধরে ফেললেন। বুড়ো আঙুলদুটো দিয়ে ওর কপালে আর চোখে থাকা সেই চিন্তার রেখাগুলো আলতো করে মুছে দিলেন। নিজের শ্বাসটাকে একটু স্থির করার চেষ্টা করলেন, গলা দিয়ে এক আশ্বস্তকারী, নরম সুর বেরোলো:
"সোনা, আমার কথা শোন—সবকিছু একদম ঠিক আছে, বড্ড অদ্ভুত আর সুন্দর একটা অনুভূতি দিয়েছিস তুই। ওটা জাস্ট... ওটা আমাকে বড্ড বেশি নাড়িয়ে দিয়েছিল রে।"
তিনি আবার ঢোক গিললেন, গলা আরও বেশি নরম হয়ে এল, "আমি জানতামই না যে আমার এই বয়সের শরীরটা এখনও এভাবে রিয়্যাক্ট করতে পারে। সেই... সেই তীব্রতাটা বড্ড আচমকা ছিল।" আঙুলগুলো ওর গালে আরাম দিচ্ছিল। "আর এই চোখের জল?" ঠোঁটের কোণে এক হালকা, লজ্জামাখা হাসির রেখা দেখা দিল, "ওটা এমনিই হয় রে সোনা... যখন কোনো অনুভূতি মনকে বড্ড বেশি ছুঁয়ে যায়... এটা তো...এটা তো আনন্দের কান্না রে বাবু।"
রাহুল এবার একটু আশ্বস্ত হয়ে বড্ড নিচু আর মিষ্টি গলায় বলল, "তার মানে... আমি তোমাকে আরাম দিয়েছি, মা?"
ইন্দিরা খুব ধীরে মাথা নেড়ে সায় দিলেন। গালে সেই লাজুক লালচে ভাবটা তখনও স্পষ্ট, গলার স্বর এক নিচু ফিসফিসানিতে নেমে এল।
"হ্যাঁ রে সোনা," তিনি বললেন, "তুই আমাকে বড্ড আরাম দিয়েছিস... আমার কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি।"
তিনি ওর দিকে তাকিয়ে রইলেন, চোখে তখন এক অবাধ্য ভালোবাসা আর ওম। "আমি জাস্ট... একদম এক্সপেক্ট করিনি এটা, এই যা। আর আমি তোকে ভয় পাইয়ে দিতে চাইনি ওভাবে... ওমন আওয়াজ করে..."
কথাটা শেষ করেই তিনি চোখদুটো ওর ওপর থেকে সরিয়ে নিলেন। দৃষ্টি চলে গেল ঘরের দেওয়ালে থাকা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেই সুন্দর ছবিটার ওপর। ওভাবে ছবিটার দিকে তাকাতেই ইন্দিরা যেন কোন একটা ঘোরের মধ্যে চলে গেলেন। ঠোঁটের কোণে এক অদ্ভুত বিস্ময় আর ভক্তি নিয়ে ফিসফিস করতে লাগলেন, যেন স্বয়ং কৃষ্ণের কাছে ঈশ্বরের কাছে নিজের ভেতরের অলৌকিক রূপটা স্বীকার করছেন:
"আমার ছেলে... আমার ছোট্ট সোনা ছেলেটা... আমাকে আবার..."
রাহুল একদম বোকার মতো তাকিয়ে সেই বিড়বিড়ানি শুনতে লাগল। ইন্দিরা ওভাবেই শ্রীকৃষ্ণের ছবির দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলেন, শ্বাস তখনও সামান্য কাঁপছিল, শরীর ওর ছোঁয়ার সেই রেশ থেকে বেরোতে পারছিল না। গলার স্বর এক গভীর শ্রদ্ধায় আর আচ্ছন্নতায় ভরা:
"ও... ও আমাকে আবার নতুন করে জাগিয়ে তুলল," কথার মধ্যে এক তীব্র অবিশ্বাসের সুর, "এত বছর পর... আমার নিজের সন্তানই..." তিনি ছবির দিকে তাকিয়ে অস্পষ্ট ভাবে বলে যেতে লাগলেন..., "আমার মিষ্টি সোনাটা... ও কী করে... ও কীভাবে এটা পারল..." শ্বাস আবার আটকে গেল, বড্ড পবিত্র শোনাল সেই রূপ। "কেউ কোনোদিন... কোনোদিন আমাকে এভাবে... ওর বাবাও কোনোদিন পারেনি..."
তারপর তিনি কয়েকবার চোখ পিটপিট করলেন—যেন আবার বাস্তবে ফিরে এলেন। চোখদুটো আবার রাহুলের ওপর এসে ফোকাস হলো, মুখভঙ্গি এবার এতটাই নরম আর সংবেদনশীল হয়ে উঠল যে তা সহ্য করা কঠিন। বুড়ো আঙুলটা ওর নিচের ঠোঁটের ওপর আলতো করে ঘষতে ঘষতে তিনি বললেন:
"তুই... তুই বড্ড নিষ্পাপ রে সোনা। তুই বড্ড বোকা... তুই বুঝতেও পারিসনি তুই তোর মায়ের সাথে একটু আগে কী করলি, তাই না?"
রাহুল মাথা নেড়ে বলল, "না মা... তুমি এমন অদ্ভুত বিহেভ কেন করছ?"
ইন্দিরা এক দীর্ঘ, কাঁপানো শ্বাস ফেলে ওর মুখটা দুই হাতের মধ্যে আরেকটু শক্ত করে ধরলেন, যাতে সে চোখের দিকে সোজা তাকিয়ে থাকে। চোখদুটো গভীর, সংবেদনশীল কিন্তু এক তীব্র মায়ায় ভরা।
"কারণ," গলার স্বর আবেগে বুঁদ হয়ে আসছিল, "তুই আমার ভেতরের এমন একটা তালা খুলে দিয়েছিস... যা আমি ভেবেছিলাম চিরকালের মতো হারিয়ে গেছে।" আঙুলগুলো ওর গালদুটোকে আদর দিচ্ছিল, পরের কথাগুলো এক পরম সততায় কাঁপছিল, "আমি এখন বুঝতে পারছি না যে তোকে এই অবাধ্যতার জন্য বকব... নাকি তোকে থ্যাঙ্ক ইউ বলব।"
রাহুল ওঁর এই দ্বিধা দেখে বুকের ওপর নিজের হাতদুটো রেখে বলল, "তাহলে তার চেয়ে ভালো... আমি তোমাকে একটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরি? ওসব বকা বা থ্যাঙ্কস-এর দরকার নেই।"
ইন্দিরার বুকের ভেতরের শ্বাসটা ক্ষণিকের জন্য থমকে গেল—তারপর চোখ দিয়ে আর এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল এবং তিনি একটা হালকা, ভেজা হাসি হেসে মাথাটা নাড়লেন।
"হ্যাঁ," ফিসফিসানিটা বড্ড আকুল শোনাল। দুটো হাত নিজে থেকেই ওপরে উঠে এল এবং তিনি নিজের সেই খোলা বুকের সাথে রাহুলকে এক পরম শক্ত আশ্লেষে জড়িয়ে ধরলেন।
এই আলিঙ্গনটা বড্ড বেশি শক্ত ছিল—যেন এক তীব্র অসহায়তায় তিনি সন্তানকে নিজের আঁকড়ে ধরার খুঁটি বানিয়েছেন। মুখটা ওর চুলের মধ্যে লুকিয়ে রইল, বুকের ভেতরের হৃদপিণ্ডের ধুকপুক শব্দটা রাহুলের নিজের বুকের সাথে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল।
"ঠিক এইভাবে..." ঠোঁট থেকে বেরোলো, "ঠিক এইভাবে জড়িয়ে ধরে রাখ আমাকে..."
রাহুল সেই খোলা পিঠের ওপর নিজের হাতদুটো আরেকটু শক্ত করে চেপে ধরে বলল, "আমি তোমাকে বড্ড ভালোবাসি, মা..."
ইন্দিরা চোখদুটো বুজে নিলেন, ওর চুলে ঠোঁটদুটো ডোবানো ছিল। হাতদুটো তাকে আরও কাছে টেনে নিল, যেন তাকে এভাবে নিজের বুকের সাথে লেপ্টে রাখাই এই মুহূর্তে নিজেকে সামলানোর একমাত্র উপায়। গলার স্বর এক পরম, গভীর আবেগে কাঁপছিল:
"আমিও তোকে বড্ড ভালোবাসি... ওলে আমার সোনাটা লে, আমার মনাটা, আমার পুচুটা, আমার বুকুবুকু, আমার পুতুপুতু..." এই আদুরে গলা রাহুল বহু বছর শোনেনি। তারপর, খানিকটা থেমে, তিনি ফিসফিস করলেন, "আমার সোনা... আমার একমাত্র সন্তান।" গলার স্বর শেষ শব্দটাতে এসে একটু ভেঙে গেল, আঙুলগুলো ওর চুলে কাঁপছিল। "তুই যে আমার জীবনের একমাত্র আলো রে, সোনা... তুই সেটা জানিস তো?"
৭.৪. নিশীথের শান্তি ও সুব্রতর বার্তা
রাহুল বুকের ওপর শুয়ে লক্ষ্য করল, ইন্দিরার শরীরটা যেন বড্ড বেশি শিথিল হয়ে আসছে, চোখদুটো ঘুমে জড়িয়ে আসছে। সে খুব নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করল, "মা... খুব ঘুম পেয়ে গেছে, না? তোমাকে হঠাৎ বেশ ক্লান্ত লাগছে।"
ইন্দিরা ঠোঁট থেকে এক হালকা, ক্লান্তির শ্বাস ছাড়লেন—ঠোঁটের কোণে এক মিষ্টি হাসি। উষ্ণ শ্বাস ওর চুলে লাগছিল।
"হ্যাঁ রে সোনা... একটু পাচ্ছে," তিনি স্বীকার করলেন, গলার স্বর বড্ড নিঝুম শোনাল। "অনেক রাত হয়ে গেল।"
এক সেকেন্ডের বিরতি, আঙুলগুলো ওভাবেই ওর চুলে আলতো করে বিলি কাটছিল।
"আর তাছাড়া...তুই তো আমার সব এনার্জি চুষে নিয়েছিস আজ।" গলার স্বরে এক প্রচ্ছন্ন হাসি মাখানো ছিল। তিনি শরীরটা সামান্য পিছিয়ে ওর মুখের দিকে আর একবার তাকালেন। চোখে এক অদ্ভুত কৌতুকী ওম। "এমনিতে তুই যখন বাঁদরামো করিস... তার চেয়েও অনেক বেশি ক্লান্ত করে দিলি আজ আমাকে।"
রাহুল ওর সেই নিষ্পাপ, মিষ্টি মুখটা করে বলল, "কিন্তু মা... তুমি তো এতক্ষণ ধরে বিছানায় ওভাবেই শুয়েই আছ... আমিই বরং রান্নাঘরে গিয়ে সব বাসন মাজলাম, আর তুমি বলছ আমি তোমাকে ক্লান্ত করে দিয়েছি? এটা কেমন কথা?"
ইন্দিরা এই চরম সরলতা দেখে আর নিজের হাসি চেপে রাখতে পারলেন না। ঠোঁটের কোণে এক পরম মায়াবী ও আদুরে হাসি নিয়ে তিনি ওর চোয়ালের রেখায় আবার আঙুল ছোঁয়ালেন।
"আমার সোনা ছেলে রে..." গলার সুর বড্ড বেশি ভালোবাসায় মাখানো, "তুই এতটাই নিষ্পাপ... তোর এই ইনোসেন্সটাই বড্ড বেশি সুন্দর।" তিনি ক্ষণিকের জন্য থামলেন, চোখদুটো স্নেহে বুঁদ হয়ে আসছিল, গলার স্বর আর এক ধাপ নেমে এল, "তোকে ওসব কথা আর একদিন বুঝিয়ে বলব। কিন্তু এখন... জাস্ট আমার সাথে এভাবে শুয়ে থাক, সোনা।"
"ঠিক আছে, মা... আমারও একটু ঘুম ঘুম পাচ্ছে এবার," রাহুল ওর গায়ের ওপর নিজের চাদরটা, যেটা খাটের এক কোণে পাট করে রাখা ছিল, সেটা বিছিয়ে দিল। "মা তোমার কি চাদর লাগবে? আমি আলমারি থেকে আরেকটা চাদর বার করে আনব?"
ইন্দিরা কয়েক মুহূর্তের জন্য ভাবলেন, চোখে তখন এক চরম ক্লান্তির ছাপ। চোখদুটো ক্রমশ ছোট হয়ে আসছিল।
"তোর চাদরটাই তো বেশ বড়, ওটাতে আমাদের দুজনের হয়ে যাবে," গলার স্বর ক্রমশ হালকা হয়ে আসছিল, "আমার জাস্ট তোকে বড্ড কাছে দরকার।"
তিনি হাত দিয়ে ওর শরীরটাকে নিজের দিকে আরেকটু টেনে নিলেন, পুরো শরীরটা ওর শরীরের উষ্ণতায় আলগা হয়ে গেল। চোখদুটো বন্ধ হয়ে আসছিল।
"ঠিক এইখানটায়..." ঠোঁট থেকে এক শেষ ফিসফিসানি বেরোলো, "আমাকে জড়িয়ে ধরে থাক, সোনা।"
তারা দুজনে এক অভিন্ন চাদরের নিচে একে অপরের শরীরের সমস্ত ওম ভাগ করে নিয়ে একদম জড়াজড়ি করে শুয়ে রইল। অন্ধকারের সেই নিবিড় আশ্রয়ে রাহুলের একটা পা অবচেতনভাবেই ইন্দিরার পায়ের ওপর উঠে এল, আর ইন্দিরাও পরম নির্ভরতায় নিজের একটা পা ওর পায়ের ওপর তুলে দিয়ে ওকে আরও নিবিড়ভাবে পেঁচিয়ে ধরলেন। তাদের শরীরের এই অপূর্ব বুনন যেন বাইরের পৃথিবী থেকে তাদের সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিল।
রাহুল কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল, "আরাম লাগছে তো, মা?"
"একদম পারফেক্ট..." উত্তর এল।
ঠিক তখনই, এই মায়াবী নিস্তব্ধতা ভেঙে খাটের পাশের টেবিলে রাখা ইন্দিরার ফোনটা মৃদু কম্পনে কেঁপে উঠল। হোয়াটসঅ্যাপের নোটিফিকেশন টোন।
ইন্দিরা একটা হালকা বিরক্তি মিশ্রিত দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাত বাড়িয়ে ফোনটা তুলে নিলেন। স্ক্রিনে সুব্রতর নাম। ফ্লাইট ল্যান্ড করেছে।
ইন্দিরা ফোনটা দেখে রাহুলকে বললেন, "তোর বাবার মেসেজ এসেছে রে। ও পৌঁছে গেছে। এখন বাজে দুটো, তারমানে লেট্ করেনি, রাইট টাইম একদম।"
রাহুল ইন্দিরার বুকের খাঁজের ভেতর মুখ গুঁজে রেখে বলল, "হুঁম, ভালো, ভালো...."
ইন্দিরা সুব্রতর মেসেজের চ্যাটে ঢুকলেন। সুব্রত লিখেছেন:
“ফ্লাইট এইমাত্র ল্যান্ড করল, ইন্দিরা। জানি তুমি এতক্ষণে গভীর ঘুমে। আমি জাস্ট জানিয়ে রাখলাম যে ঠিকঠাক পৌঁছেছি। সকালে কথা হবে।”
ইন্দিরা এক হাত দিয়ে টাইপ করতে লাগলেন, অন্য হাতটা ওভাবেই রাহুলের পিঠের ওপর রাখা ছিল। তিনি অত্যন্ত স্বাভাবিক ও ঘরোয়া সুরে উত্তর দিলেন:
“ঠিকঠাক পৌঁছেছ জেনে নিশ্চিন্ত হলাম। এবার তাড়াতাড়ি হোটেলে গিয়ে রেস্ট নাও।”
সেকেন্ড কয়েকের মধ্যেই স্ক্রিনের ওপারে সুব্রতর টাইপিং দেখাতে শুরু করল। মেসেজটা পড়ে সুব্রত যে যথেষ্ট অবাক হয়েছেন, তা ওঁর পরের মেসেজেই স্পষ্ট হয়ে গেল:
RE: The Barter System (By:andygarfield) -
Bad Boy - 09-02-2026
“আরে! তুমি এখনও জেগে আছো? রাত দুটো বাজে! শরীর খারাপ করবে তো। কী করছিলে এত রাত পর্যন্ত?”
ইন্দিরা মেসেজটা দেখে ক্ষণিকের জন্য থামলেন। আঙুলগুলো কিপ্যাডের ওপর স্থির। তিনি চোখ নামিয়ে বিছানায় তাঁর বুকের সাথে লেপ্টে থাকা রাহুলের দিকে একবার তাকালেন। ছেলের নিশ্চিন্ত, প্রশান্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে তাঁর ঠোঁটের কোণে এক রহস্যময়, প্রচ্ছন্ন হাসি ফুটে উঠল। তিনি যে আজ রাতে ঠিক কী করছিলেন, তা পৃথিবীর আর কেউ কোনোদিন জানতে পারবে না। একটু সময় নিয়ে তিনি সুব্রতকে তাঁর চেনা, প্রফেশনাল অধ্যাপিকার বর্মে ঢেকে উত্তর লিখলেন:
“পিএইচডি-র একটা পেপার রিভিউ করতে বসেছিলাম, খেয়ালই ছিল না এত রাত হয়ে যাবে। এই জাস্ট শেষ হলো। এবার শুয়ে পড়ছি।”
সুব্রত ওপাশ থেকে রিপ্লাই দিলেন:
“হুম, নিজের শরীরের দিকেও একটু নজর রেখো। তা রাহুল কী করছে? ও ঘুমিয়েছে?”
ইন্দিরা এবার কোনো দ্বিধা ছাড়াই স্ক্রিনে টাইপ করলেন:
মেসেজটা পাঠিয়েই ইন্দিরা ফোনটা আবার টেবিলের ওপর রেখে দিলেন এবং স্ক্রিনটা অন্ধকার হয়ে গেল। তিনি আবার সম্পূর্ণভাবে রাহুলের দিকে ঘুরে হাতদুটো ওর পিঠে জড়িয়ে নিলেন।
রাহুল কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল, "মা, আমি কিন্তু কাল সকালের জন্য কোনো অ্যালার্ম সেট করছি না, ওকে?"
ইন্দিরা ওর বুকের মধ্যে নিজের মুখটা আরেকটু গুঁজে দিয়ে এক হালকা, আদুরে শব্দ করলেন। চোখদুটো বন্ধই ছিল। অনাবৃত বুকের ওম আর চেনা সুবাসে নাকটা ডুবিয়ে দিলেন তিনি।
"কোনো অ্যালার্মের দরকার নেই, সোনা..." গলার স্বর ক্রমশ জড়িয়ে আসছিল, কিন্তু তাতে এক চরম অধিকারবোধ স্পষ্ট, "কাল তো শনিবার, আমরা যতক্ষণ খুশি ঘুমাব।" তিনি ওর শরীরের সাথে নিজের শরীরটাকে আরেকটু মিশিয়ে দিয়ে হাতের গ্রিপটা শক্ত করলেন, গলা ঘুমের ঘোরে বড্ড আবছা শোনাল, "শুধু তুই... মায়ের কাছে থাক...কোথাও যাস না...."
রাহুল একটু দুষ্টুমি করে কানের কাছে ফিসফিস করল, "আমি আবার কোথায় যাব, মা? এটা তো আমারই ঘর, ভুলে গেলে?"
ইন্দিরা বুকের মধ্যেই মুখ রেখে এক হালকা হাসি হাসলেন। ওর বুকে একটা ছোট্ট আদুরে চিমটি কাটলেন।
"বড্ড পেকেছিস তুই..." গলা দিয়ে এক শেষ মিইয়ে যাওয়া শাসন বেরোলো, "তুই খুব ভালো করেই জানিস আমি কী বলতে চাইছি।"
শ্বাসের গতি ক্রমশ ধীর আর গভীর হয়ে আসছিল—শরীরটা ওর শরীরের আরও কাছে সরে এল, যেন তিনি ঘুমের মধ্যেও চান যে এই পরম শান্তিতে ভরা স্বর্গটা কোনোদিন হারিয়ে না যায়।
"উমম... সোনা ছেলে আমার..." ঠোঁট থেকে এক শেষ, আদুরে অস্ফুট শব্দ বেরোলো, এবং তিনি সম্পূর্ণভাবে ঘুমের দেশে তলিয়ে গেলেন। শরীরের সমস্ত উত্তাপ রাহুলের খোলা বুকের সাথে এক হয়ে মিশে রইল।
রাহুল সেই শান্ত, সুন্দর মুখের দিকে তাকিয়ে মায়ের কপালে নিজের ঠোঁট দিয়ে এক শেষ চুমু খেল।
"গুড নাইট, মা। ভালো করে ঘুমাও।"
ইন্দিরা ঘুমের ঘোরেই এক মৃদু শব্দ করলেন—তিনি ইতিমধ্যেই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, কিন্তু তাঁর অবচেতন শরীরটা ওর শরীরের সাথে আরও একটু জড়িয়ে গেল, নাকটা ওর বক্ষবৃন্তে ঘষা খেল। মুখ থেকে এক শেষ অস্পষ্ট ফিসফিসানি বেরোলো:
"গুড নাইট, সোনা... সুইট ড্রিমস..."
শ্বাসের ছন্দ মুহূর্তের মধ্যে একদম স্বাভাবিক আর শান্ত হয়ে গেল। সারা ঘর জুড়ে তখন এক নিবিড়, পবিত্র নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে—এক অন্ধকার নিশীথ, যা ভেতরের সমস্ত গোপন কথা নিজের বুকে লুকিয়ে এক অলৌকিক শান্তির চাদর বিছিয়ে দিয়েছে।
“হ্যাঁ, ও তো ঘুমিয়ে কাদা। আজ সারাদিন পরীক্ষার জন্য অনেক ধকল গেছে তো, ও সটান ঘুম। যাই হোক, তুমি এবার হোটেলে গিয়ে রেস্ট নাও।”
অষ্টম পরিচ্ছেদ: সকালের রোদ, যুক্তির জাল এবং এক অলিখিত রূপকথা
৮.১. নিশীথের ছেদ ও এক অবাধ্য তৃষ্ণা
রাত তখন তিনটে। বাইরের পৃথিবী এক নিশ্ছিদ্র ঘুমের গভীরে তলিয়ে আছে। ঘরের ভেতরের বাতাস বড্ড ভারী, শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্রের একটানা, একঘেয়ে মৃদু গুঞ্জন ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই। অন্ধকারের চাদরে মোড়া বিছানায় রাহুলের ঘুমটা হঠাৎ করেই খুব হালকা হয়ে এল। অবচেতন মন যেন কোনো এক পরম উষ্ণতার অভাব টের পেয়েছে। ও চোখ না খুলেই হাতটা বাড়িয়ে দিল নিজের পাশে, যেখানে এতক্ষণ এক স্বর্গীয় ওম ছিল। কিন্তু ওর আঙুলগুলো কেবলই বিছানার ঠান্ডা, মসৃণ চাদর ছুঁল।
কোথাও কেউ নেই।
মুহূর্তের মধ্যে রাহুলের বুকের ভেতরটা ছ্যাঁত করে উঠল। ওর তন্দ্রাচ্ছন্ন মগজে এক তীব্র, অযৌক্তিক ভয়ের স্রোত বয়ে গেল—মা কি চলে গেল? মা কি কোনো কারণে রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ায় আবার নিজের ঘরে গিয়ে শুয়েছে? হৃৎপিণ্ডের ধুকপুকানিটা রাতের নিস্তব্ধতায় হাতুড়ির মতো বাজতে লাগল। ধড়ফড় করে বিছানায় উঠে বসল সে। ঘুটঘুটে অন্ধকার ঘর, চোখ সয়ে আসতে কিছুটা সময় লাগল।
ও খুব সন্তর্পণে বিছানা থেকে পা নামিয়ে দরজার দিকে এগোতে যাবে, ঠিক তখনই ওর ঘরের সাথে লাগোয়া বাথরুমের ভেতর থেকে ফ্লাশ হওয়ার শব্দটা নিস্তব্ধতাকে চিরে দিল। জলের তীব্র শব্দটা শুনে রাহুলের বুকের ওপর থেকে যেন একটা জগদ্দল পাথর নেমে গেল। ও থমকে দাঁড়াল।
বাথরুমের দরজাটা সামান্য ক্যাঁচ শব্দ করে খুলল। আবছা অন্ধকারের মধ্যে বেরিয়ে এলেন ইন্দিরা। ওঁর শরীরের ওপরের অংশ আগের মতোই সম্পূর্ণ অনাবৃত, কিন্তু রাতের এই শেষ প্রহরের ঠান্ডা থেকে নিজেকে বাঁচাতে তিনি নিজের শাড়ির সামনের দিকটা খুব আলতো করে বুকের ওপর জড়িয়ে রেখেছেন।
রাহুল আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। ও দু-পা এগিয়ে গিয়ে সেই অন্ধকারের মধ্যেই মাকে পরম আকুলতায় নিজের দুই হাতের বাহুপাশে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। ওর আলিঙ্গনটা এতটাই তীব্র ছিল যে ইন্দিরা সামান্য টলে গেলেন।
"পাগল ছেলে একটা," ইন্দিরা ওর পিঠে হাত বুলিয়ে অত্যন্ত নরম, প্রশ্রয়ে ভেজা গলায় ফিসফিস করে উঠলেন, "ভাবলি মা তোকে ছেড়ে নিজের ঘরে ফিরে গেছে? বোকা... আয়, শুয়ে পড়... রাত তিনটে বাজে এখন... আয় আমার সাথে।"
তিনি ওকে নিজের সাথে জড়িয়ে ধরে বিছানার দিকে নিয়ে গেলেন। খুব আলতো করে ওকে তোশকের ওপর শুইয়ে দিয়ে নিজেও ঠিক ওর গা ঘেঁষে শুয়ে পড়লেন। নিজের শরীরের সমস্ত উত্তাপ দিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরে ফিসফিস করলেন, "আর কোনো কথা নয়, এবার ঘুমা সোনা।"
কিন্তু রাহুল চোখ বন্ধ করল না। ও এক অদ্ভুত জেদ নিয়ে অন্ধকারের মধ্যেই মায়ের দিকে তাকিয়ে রইল, ওর মুখটা একদম ফুলে আছে। ইন্দিরা ওর এই নীরব প্রতিরোধ দেখে সামান্য অবাক হলেন।
"কী হলো, সোনা?" তিনি খুব নরম গলায় জিজ্ঞেস করলেন।
রাহুল কোনো কথা না বলে নিজের চোখ দিয়ে ওঁর বুকের ওপর জড়িয়ে রাখা শাড়ির অংশটার দিকে ইশারা করল। ওটা যেন ওর কাছে এক অদৃশ্য দেওয়াল, এক অনভিপ্রেত বাধা।
ইন্দিরা ছেলের এই না-বলা আবদারটা বুঝতে পেরে এক দীর্ঘ, কৃত্রিম বিরক্তির শ্বাস ফেললেন। ঠোঁটের কোণে এক প্রশ্রয়ের হাসি ফুটে উঠল।
"ওহ গড, তুই সত্যিই ইম্পসিবল, সোনা... আমার এই নেকা ছেলেটাকে নিয়ে আমি কী করব?" তিনি খুব নিচু, আদুরে গলায় বকতে শুরু করলেন, "আমার বাবুটার আজ রাতে মায়ের বুকে কোনো কাপড়ই সহ্য হচ্ছে না, তাই তো? আরে বাবা, বাথরুম যাওয়ার সময় একটু ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছিল, তাই শাড়িটা বুকে জড়িয়ে নিয়েছিলাম একটু... তুই না... পারিসও বটে... আচ্ছা বাবা, ঠিক আছে..."
কথা বলতে বলতেই তিনি খুব ধীর হাতে বুকের ওপর থেকে শাড়ির অংশটা সরিয়ে নিলেন, নিজের ওপরের অংশটাকে আরেকবার সম্পূর্ণ অনাবৃত করে দিলেন। তারপর রাহুলকে টেনে নিলেন নিজের সেই উন্মুক্ত, উষ্ণ ত্বকের একদম গভীরে।
"উমমম... আহ্... আমার বাবু..." তিনি এক গভীর স্বস্তির শ্বাস ফেলে ফিসফিস করলেন, "এবার খুশি তো সোনা? মা এখানেই আছে, একদম তোর কাছে... এবার ঘুমা, মায়ের সাথে ঘুমা।"
রাহুল আরও একটু ওপরে উঠে এল, যাতে ওর মুখটা মায়ের মুখের একদম কাছাকাছি থাকে। এই সামান্য নড়াচড়ায় ওর অনাবৃত, শক্ত বুকের পেশির সাথে ইন্দিরার ফর্সা বুকের ঘর্ষণ লাগল এবং ইন্দিরার নরম স্তনবৃন্ত রাহুলের নিজের স্তনবৃন্তের সাথে আলতো করে ঘষা খেয়ে গেল। ইন্দিরা সামান্য শিউরে উঠে একটা হালকা, আরামের শ্বাস ফেললেন। রাহুলের ঠোঁটদুটো এবার পরম আদরে ইন্দিরার ডান গাল এবং ঘাড়ের সংযোগস্থলে একটা উষ্ণ, নরম চুমু এঁকে দিল।
"প্রমিস করো মা..." রাহুল ওঁর গলার খাঁজে মুখ রেখেই ফিসফিস করে বলল, "সকাল হওয়ার আগে তুমি আর একবারও আমাকে ছেড়ে উঠবে না।"
ইন্দিরা এক অদ্ভুত মমতায় খিলখিল করে হেসে উঠলেন। হাসির সাথে সাথে ওঁর ডান হাতটা অত্যন্ত স্বাভাবিক ছন্দে রাহুলের চওড়া, পেশিবহুল পিঠের ওপর আলতো করে মাসাজ করতে শুরু করল।
"পাগল ছেলে! এরকম প্রমিস কেউ কোনোদিন করতে পারে নাকি?" তিনি হাসতে হাসতেই ওর চুলে মুখ ঘষলেন। "এটা তো মানুষের ব্ল্যাডারের ব্যাপার রে বোকা... এটা তো আর সবসময় নিজের কন্ট্রোলে থাকে না। আবার পেলে আবার উঠব।"
রাহুল ওর চিবুকটা ওঁর বুকের ওপর ঠেকিয়ে একটু অভিমানী সুরে বলল, "ঠিক আছে, কিন্তু অন্তত আমরা কাল অনেক বেলায় উঠব। তাই তো?"
"হুমম..." ইন্দিরা চোখ বন্ধ করেই উত্তর দিলেন।
কিন্তু রাহুলের তীক্ষ্ণ কান সেই 'হুমম'-এর পেছনের সামান্য দ্বিধাটুকু ঠিকই ধরে ফেলল। সে মাথাটা সামান্য তুলে ভুরু কুঁচকে তাকাল।
"কী হুমম? ওইরকম ভাবে বললে কেন? তুমি কি সকালে উঠে পড়বে নাকি?" রাহুল একটু সন্দিগ্ধ গলায় বলল, "একটু আগেই তো বললে কোনো অ্যালার্ম দেবে না, আর এখন বলছ সকালে উঠবে?"
ইন্দিরা এবার চোখ মেলে ওর দিকে তাকিয়ে একটা হালকা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। ওঁর হাতটা তখনো রাহুলের পিঠে অবিরাম আদর বুলিয়ে দিচ্ছে। "না না, আমি তো অ্যালার্ম দেব না প্রমিস করেছি। কিন্তু আমার ঘুম যখন ন্যাচারাল নিয়মে ভাঙবে, তখন তো আমাকে উঠতেই হবে রে সোনা। আমি তো আর তোর মতো কুম্ভকর্ণ নই যে বেলা অবধি নাক ডাকিয়ে ঘুমাব। তাছাড়া..." তিনি একটু থামলেন, "তোর বাবা তো নেই বাড়িতে। কাল সকালে উঠে আমাকে তো বাজারে দৌড়তে হবে... সবজি, মাছ এসব তো আনতেই হবে, নাহলে গঙ্গা মাসি রান্নাটা করবে কী দিয়ে?"
রাহুলের মুখের ভাবটা মুহূর্তের মধ্যে করুণ হয়ে গেল। সে প্রায় ডুকরে ওঠার মতো গলায় বলে উঠল, "ওহ গড মা, প্লিজ না! কাল সকালে অত তাড়াতাড়ি তুমি আমাকে ছেড়ে বাজারে চলে যাবে? একদম না! প্লিজ যেও না মা..." সে ঠোঁট দুটোকে বাচ্চাদের মতো ফুলিয়ে মায়ের গালে আরও একটা চুমু খেল।
ইন্দিরা এবার এক কপট বিরক্তির ভান করলেন। "তাহলে বাজারটা কে করবে শুনি? তুই? তুই আনবি পাবদা মাছ আর আলু পটল ঝিঙে?"
রাহুল চুপ করে গেল। ওর মুখটা অন্ধকারে আরও বেশি করুণ আর বিষণ্ণ দেখাচ্ছিল। ও মনে মনে ভাবছিল, কীভাবে মাকে আটকানো যায়। হঠাৎ ওর মাথায় একটা বুদ্ধি বিদ্যুৎঝলকের মতো খেলে গেল। আরে! এত সোজা একটা সমাধান ও আগে কেন ভাবেনি?
"আরে মা!" রাহুল হঠাৎ বেশ উচ্ছ্বসিত হয়ে বিছানায় একটু সোজা হলো। "তুমি ব্লিনকিট (Blinkit) করে নিলেই তো পারো! তাহলে তো আর তোমাকে সকালে উঠে বাজারে যেতে হবে না। ইজি-পিজি!"
ইন্দিরা ভুরু কুঁচকে ওর দিকে তাকালেন। "ব্লিনকিট? সেটা আবার কী বস্তু?"
রাহুল যেন আকাশ থেকে পড়ল। "কী মা! তুমি ব্লিনকিট জানো না? আরে মা, এটা ২০২৬ সাল, ১৯২৬ নয়! তুমি জাস্ট ভাবতেও পারবে না এখন শপিং করা কতটা ইজি হয়ে গেছে!"
এরপর রাহুল অত্যন্ত উৎসাহের সাথে মাকে বোঝাতে শুরু করল কীভাবে ব্লিনকিট কাজ করে, কীভাবে অ্যাপ থেকে টাটকা সবজি থেকে শুরু করে মাছ, মাংস, এমনকি খাতার পেন পর্যন্ত কেনা যায়, আর কীভাবে মাত্র দশ-পনেরো মিনিটের মধ্যে ওরা সব বাড়িতে ডেলিভারি করে দেয়।
ইন্দিরার চোখেমুখে এক ধরনের বিস্ময় আর কৌতূহল ফুটে উঠল। তিনি বেশ অবাক হয়ে বললেন, "সত্যিই? দশ মিনিটে বাড়িতে দিয়ে যায়? কিন্তু... কোয়ালিটি? আমি তো নিজে হাতে টিপে না দেখলে, ফ্রেশনেস চেক না করলে সবজি কিনি না। ওরা যদি পচা বা বাসি জিনিস গছিয়ে দেয়?"
রাহুল মায়ের এই সংশয় কাটাতে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলল, "আরে না মা, একদম ফ্রেশ জিনিস দেয়। আর যদি বাই চান্স কিছু খারাপ বেরোয়, তাহলে আমি প্রমিস করছি, আমি নিজে গিয়ে তখন বাজার থেকে সব কিনে আনব। ঠিক আছে?"
ইন্দিরা ওর এই বড় বড় কথা শুনে আবার সেই খিলখিল হাসিতে ভেঙে পড়লেন। তিনি রাহুলের নাকটা ধরে একটা আলতো চিমটি কেটে বললেন, "তুই? যে জীবনে একটা কাঁচালঙ্কাও কিনে আনেনি, সে আনবে পুরো বাজার করে? আহ্লাদি বাঁদর কোথাকার! তোকে দিয়ে বাজার হবে!"
রাহুল একটু লাজুক হেসে ওঁর অনাবৃত কাঁধের ওপর নিজের নাকটা ঘষল। "আহা, যাই হোক না কেন, তুমি জাস্ট আমার ওপর ভরসা রাখো। কোয়ালিটি খুব ভালো হয়, আমি আমার বন্ধুদের কাছে শুনেছি। তুমি কাল জাস্ট রেস্ট নেবে, আর বাজার ব্লিনকিট করে দেবে।"
ইন্দিরা এবার একটু প্রশ্রয়ের হাসি হেসে বললেন, "ঠিক আছে বাবা, তাই হবে। কিন্তু আমার ফোনে তো ওইসব অ্যাপ-ট্যাপ নেই। সকালে উঠে তোর ফোন থেকেই অর্ডার করতে হবে কিন্তু।"
"ডান! কোনো প্রবলেম নেই," রাহুল পরম শান্তিতে আবার ওঁর বুকের গভীরে সেঁধিয়ে গেল।
ইন্দিরা নিজের ঠোঁটদুটো রাহুলের কপালের ওপর ছুঁইয়ে একটা দীর্ঘ চুমু খেলেন। তারপর অত্যন্ত নরম গলায় বললেন, "যাই হোক, আমাকে দশটার আগে তো উঠতেই হবে সোনা। গঙ্গা মাসি তো ঠিক দশটায় কলিং বেল বাজাবে। তখন তো আর এই অবস্থায় শুয়ে থাকা যাবে না।"
রাহুল আরামের আবেশে চোখ বন্ধ করেই ফিসফিস করল, "ওকে ওকে, এখনো তো অনেক সময় আছে মা। চলো, এবার ঘুমাই।"
"হুমম... ঘুমা এবার, বড্ড বকবক করিস তুই," ইন্দিরা হাসতে হাসতে ওকে আরও শক্ত করে নিজের উন্মুক্ত বুকের সাথে লেপ্টে ধরলেন।
এরপর আর কোনো কথা হলো না। কেবল কয়েকটা অস্ফুট আদরের শব্দ, আর একে অপরের ত্বকের সাথে ত্বকের সেই চরম নিবিড় নৈকট্য। বাইরের পৃথিবীর সমস্ত চিন্তা ঝেড়ে ফেলে, মা ও ছেলে একে অপরকে পরম আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে আবার সেই আদিম, অলৌকিক ঘুমের রাজ্যে তলিয়ে গেল।
৮.২. ভোরের জাগরণ ও এক মখমলি স্পর্শ
বাইরে তখন সকাল সাড়ে নটা। কলকাতার ঘুম ততক্ষণে পুরোপুরি ভেঙে গেছে। দূরে মেইন রোডে বাস আর অটো রিকশার অবিরাম হর্ন, গলির মোড়ে চায়ের দোকানের কেটলির শোঁ শোঁ শব্দ, আর বাচ্চাদের হাত ধরে কলেজ-পানে হাঁটা মায়েদের ব্যস্ত কোলাহল—সব মিলিয়ে এক চেনা, রোজকার বাস্তব পৃথিবীর ছবি। কিন্তু এই অ্যাপার্টমেন্টের বন্ধ জানলার ওপারে, এই চার দেওয়ালের ভেতরে যেন সময় একদম থমকে আছে। বাইরের সেই রূঢ় বাস্তবের সাথে এই ঘরের কোনো মিল নেই। এখানে অন্য এক মা এবং ছেলে পৃথিবীর সমস্ত নিয়মকানুন, সমস্ত কোলাহল থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে এক বিছানায় একে অপরের সাথে লেপ্টে শুয়ে আছে—উর্ধাঙ্গ-অনাবৃত, এক অলৌকিক প্রশান্তিতে।
জানলার ভারী পর্দার ফাঁক দিয়ে সকালের তীব্র উজ্জ্বল আলোর একটা সরু রেখা ঘরের মেঝেতে এসে পড়েছে।
ইন্দিরার ঘুমটা ভেঙেছে একটু আগেই। তিনি উঠে বসেছেন, ওপরের অংশ এখনও সম্পূর্ণ অনাবৃত। ফর্সা ত্বকের ওপর ভোরের সেই আবছা আলো এক অদ্ভুত মায়াবী আভা তৈরি করেছে। ওঁর ডান হাতে ধরা মোবাইল ফোন; চোখের চশমাটা পরে নিয়ে তিনি অত্যন্ত মন দিয়ে ইউনিভার্সিটির কিছু জরুরি ইমেইল পড়ছেন আর টাইপ করে রিপ্লাই দিচ্ছেন। ঘরে কেবল ওঁর ফোনের টাচ স্ক্রিনের কিবোর্ডে ঠকঠক শব্দ।
রাহুল খুব ধীরে চোখের পাতা খুলল। ঘুম-ভাঙা চোখে ও দেখল ওর ঠিক পাশেই, বিছানায় বসে আছেন ওর মা। ওই অনাবৃত, মসৃণ পিঠটা ওর চোখের সামনে। ও আর নিজেকে আটকে রাখতে পারল না। খুব সন্তর্পণে বিছানার ওপর দিয়ে পিছলে উঠে গিয়ে পেছন থেকে নিজের দুটো হাত দিয়ে মায়ের কোমরটা পরম আদরে জড়িয়ে ধরল। নিজের মুখটা নিয়ে গেল ওঁর পিঠের সেই ফর্সা, মসৃণ ত্বকের ওপর। অত্যন্ত নরম, দীর্ঘ ও উষ্ণ চুমু আঁকতে শুরু করল ওঁর শিরদাঁড়া বরাবর।
রাহুলের ঠোঁটের সেই আচমকা উষ্ণ স্পর্শে ইন্দিরা শিউরে উঠলেন। সকালের সামান্য ঠান্ডা ত্বকে এই তীব্র ওম এক অদ্ভুত শিহরণ জাগাল।
"আহ্... সোনা... তুই না... এভাবে চমকে দেয় কেউ? আরেকটু হলে ফোনটা হাত থেকে পড়ে যেতো," ইন্দিরা ঘাড়টা সামান্য পেছনে হেলিয়ে ওর দিকে তাকালেন। ছেলের মুখ দেখতেই ওঁর দৃষ্টিটা পরম স্নেহে ভরে উঠলো। "গুড মর্নিং, ঘুম হলো ঠিকঠাক?"
রাহুল ওঁর পিঠে মুখ রেখেই, আলতো করে ঠোঁট ঘষতে ঘষতে অস্ফুট স্বরে বলল, "হ্যাঁ মা... বেস্ট স্লিপ এভার।"
ইন্দিরা এক হালকা, খিলখিল হাসিতে ভেঙে পড়লেন। কাঁধদুটো সামান্য সংকুচিত করে তিনি বললেন, "আহ্ সোনা... সুড়সুড়ি লাগছে তো... ছাড় না, আমাকে ইমেইলগুলোর রিপ্লাই দিতে দে।"
রাহুল এবার একটু অবাধ্যের মতো গোঙানি দিয়ে উঠল, "উফ মা... সবসময় শুধু কাজ আর কাজ... আমার স্মার্ট আর হার্ডওয়ার্কিং মা..." বলতে বলতেই ও কয়েকটা উষ্ণ চুমু খেল ওঁর অনাবৃত পিঠে।
ইন্দিরা ওর এই আদরের অত্যাচারে সামান্য ছটফট করে উঠলেন। "উফ সোনা... একদম দুষ্টুমি করবি না... সারা রাত তো আমাকে আদর করলি, আর এখন সকাল বেলা আবার শুরু করেছিস?" তিনি চোখ ঘুরিয়ে বেডসাইড টেবিলের ঘড়িটার দিকে তাকালেন। "ওহ, নটা পঁয়তিরিশ বেজে গেছে অলরেডি। যাই গিয়ে পর্দাগুলো সরাই এবার; কাল বিকেল থেকে বন্ধ হয়ে আছে। উমম... ছাড় এবার... সোনা... আহ্... থামা না... তুই বড্ড বাড়াবাড়ি করছিস..."
মায়ের এই কৃত্রিম ধমক শুনে রাহুল অবশেষে একটু আলগা করল হাতের বাঁধন। ইন্দিরা এক ঝটকায় বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালেন। শরীরে ওপরের অংশে বিন্দুমাত্র কোনো সুতো নেই, ঠিক সেই অবস্থাতেই তিনি দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে গেলেন জানলার দিকে। এক টানে সরিয়ে দিলেন ভারী পর্দাগুলো।
মুহূর্তের মধ্যে সকালের তীব্র, তীক্ষ্ণ আর উজ্জ্বল রোদে ভেসে গেল গোটা ঘর।
রাহুল বিছানায় উঠে বসে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল ওঁর দিকে। ওর মগজের ভেতর তখন এক অদ্ভুত ঘোরের সৃষ্টি হয়েছে। সকালের এই কড়া আলোয়, জানলার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ওর মা-কে কোনো সাধারণ মানবী বলে মনে হচ্ছিল না। ফর্সা ত্বক রোদ মেখে ঝলমল করছে; ওঁর এলোমেলো চুল, শান্ত চোখ আর ওই মাতৃত্বের অহংকারে ভরা অনাবৃত রূপ—রাহুলের মনে হলো, পৃথিবীর কোনো ভাস্কর্য, কোনো দেবী বোধহয় এতটা সুন্দর, এতটা পবিত্র হতে পারে না। এই নারী ওর মা, ওর জীবনের সবচেয়ে পরম সম্পদ।
ইন্দিরা পর্দা সরিয়ে আবার বিছানার দিকে হেঁটে এলেন। চেয়ারের ওপর রাখা নিজের ব্রা-টার দিকে হাত বাড়াতে যাবেন, ঠিক তখনই রাহুল ছোঁ মেরে ওঁর একটা হাত শক্ত করে চেপে ধরল।
"কী হলো?" ইন্দিরা ভুরু কুঁচকে নিচের দিকে তাকালেন।
রাহুল অনুনয়ের সুরে, বাচ্চাদের মতো হাত ধরে টেনে বলল, "মা, এক্ষুনি যেও না প্লিজ... আর পাঁচটা মিনিট, বিছানায় আসো না।"
ইন্দিরা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাথা নাড়লেন, "উফ রাহুল, কী নেকা ছেলে রে তুই... কাল সারাটা রাত তো তোর সাথে এই বিছানায় ছিলাম—না, শুধু সারারাত নয়, কাল সন্ধে থেকে... আর তুই এখনও পাঁচ মিনিটের জন্য বায়না করছিস... মায়ের আজ কত কাজ আছে, সোনা..."
রাহুল নাছোড়বান্দা। সে হাতটা কিছুতেই ছাড়ল না। "প্লিজ মা... জাস্ট পাঁচটা মিনিট।"
ইন্দিরা এবার একটু কড়া গলায়, কিন্তু যুক্তির আশ্রয় নিয়ে বললেন, "উফফ...না না, ওরম ছেলেমানুষি করিস না রাহুল, আমি পর্দা টর্দা সব সরিয়ে দিয়েছি... ঘরে এখন দিনের আলো, বড্ড ব্রাইট... রাহুল, লোকে বাইরে থেকে দেখতে পাবে আমাদের... আর আমি তো এখন... মানে, আমি তো এখন ইনডিসেন্ট অবস্থায় আছি..."
রাহুল এবার ওর সেই বিখ্যাত, ধূর্ত হাসিটা হাসল। ও জানে ওর মায়ের মতো একজন অধ্যাপকের সাথে যুক্তির লড়াইয়ে কীভাবে জিততে হয়।
"আহা মা, তুমি কি ভেবেছ যেকোনো একটা র্যান্ডম লজিক দিলেই আমি ছেড়ে দেব?" রাহুল ঠোঁট টিপে হাসতে হাসতে বলল, "তুমি নিজেই তো এই জাস্ট এই অবস্থাতেই জানলার একদম কাছে গিয়ে পর্দাগুলো খুললে... কই, তখন তো তোমার মনে হলো না যে বাইরের লোক দেখতে পাবে? আসো তো মা, কেউ দেখবে না..."
ইন্দিরা ছেলের এই অকাট্য যুক্তির ফাঁদে পড়ে একেবারে হতবাক। ওঁর চোখদুটো কপালে উঠল, কিন্তু ভেতরে ভেতরে এক চরম পরাজয়ের হাসি ফুটে উঠল। তিনি বুঝলেন, এই তর্কবাগীশ ছেলের কাছে ওঁর কোনো যুক্তিই টিকবে না। এক চরম কৃত্রিম বিরক্তির সাথে তিনি নিজের ব্রা-টা আবার চেয়ারের ওপর ছুঁড়ে ফেলে দিলেন এবং বিছানায় উঠে এসে ওর পাশে বসে পড়লেন।
"উফ ভগবান, তোর যুক্তির সাথে আমি কিছুতেই পেরে উঠব না," তিনি বিড়বিড় করে বললেন, "এমনি তো আর আমার ছেলে হোসনি... সবসময় শুধু তর্ক... সবসময় র্যাশনাল... আস্ত একটা বাঁদর সায়েন্টিস্ট জন্ম দিয়েছি আমি!"
"হা হা হা হা, বাঁদর সায়েন্টিস্ট নাকি!" রাহুল এক বিজয়ী হাসিতে উদ্ভাসিত হয়ে ওকে টেনে নিজের পাশে শুইয়ে নিল। তারা দুজনে আবার একে অপরের মুখোমুখি, একদম গায়ে গা লাগিয়ে শুয়ে পড়ল।
"মা, একটা কথা বলব?" রাহুল ফিসফিস করে বলল।
"কী?"
"তোমাকে এখন বড্ড সুন্দর লাগছে। কাল রাতে আবছা আলোয় ভালো করে দেখতে পাইনি, কিন্তু এখন এই দিনের আলোয়... তোমাকে এত... এত সুন্দর লাগছে মা... আমার সুন্দরী মা।" ও নিজের বুকের সাথে মাকে আরও শক্ত করে চেপে ধরল।
"তোর মতো মাখন-মাখানো কথা এই পৃথিবীতে কেউ বলতে পারে না," ইন্দিরা ওর চুলে হাত বুলিয়ে দিয়ে হাসতে হাসতে বললেন, "মা-কে পটিয়ে কাজ হাসিল করায় তোর জুড়ি মেলা ভার। সাংঘাতিক ধূর্ত তুই!"
"আমি সত্যি বলছি মা!" রাহুল প্রতিবাদ করল, ওর চোখদুটো তখন মায়ের অনাবৃত ফর্সা ত্বকের ওপর ঘুরে বেড়াচ্ছে। হঠাৎ ওর নজর গিয়ে পড়ল ওঁর বাঁ কাঁধের নিচের সেই ছোট কালো তিলটার ওপর। "এই দেখো, দিনের আলোয়... তোমার এই তিলটা কেমন গ্লো করছে... কী সুন্দর..."
কথাটা বলেই ও ঘাড় নিচু করে সেই তিলটার ওপর পর পর বেশ কয়েকটা অত্যন্ত নরম, আদুরে চুমু এঁকে দিল।
ইন্দিরা এই তীব্র আদরে সামান্য ছটফট করে উঠলেন, ওঁর গলার স্বর ভালোবাসায় গলে গেল, "উফ সোনা... বড্ড আহ্লাদি তুই... তুই সত্যিই ইম্পসিবল, জানিস? আমার মনে হয় না পৃথিবীর আর কোনো ছেলে তার মায়ের তিলকে তোর মতো এত পছন্দ করে বা এত আদর দেয়।"
"পৃথিবীর অন্য মা-ছেলের কথায় আমার কী দরকার!" রাহুল তিলটায় শেষ একটা চুমু খেয়ে নিজের মুখটা একটু নিচের দিকে নামাল। ওর ঠোঁট জোড়া এবার এসে ঠেকল ইন্দিরার অনাবৃত বগলের সেই মসৃণ, সুগন্ধী ত্বকে। "এটাও এত ব্রাইট লাগছে মা... এত সুন্দর।"
রাহুলের ঠোঁটের স্পর্শ বগলে লাগতেই ইন্দিরা এক তীব্র সুড়সুড়ির চোটে চমকে উঠলেন, শরীরটা ধনুকের মতো বেঁকে গেল। "আহ্ উফফ রাহুল, আবার বগলে শুরু করলি? তুই একটা পাগল!"
রাহুল কিন্তু ছাড়ল না। ও বগলের নরম ত্বকে পর পর ছোট ছোট চুমু খেতে লাগল, আর তার ফাঁকে ফাঁকে শ্বাস নিয়ে বিড়বিড় করে বলতে লাগল, "এত সুন্দর... আমার বড্ড ভালো লাগছে মা... স্পেশালি এই চুলগুলো, এত সফট... এত জেন্টল..." ও নিজের নাক আর ঠোঁটটা বগলের সেই হালকা চুলের ওপর বেশ কয়েকবার ঘষে দিল।
ইন্দিরা এবার আর হাসির তোড় সামলাতে পারলেন না। শরীর কাঁপিয়ে হাসতে হাসতে বললেন, "রাহুল... আহ্... সোনা... থামা... বড্ড সুড়সুড়ি লাগছে! উফ, মরে গেলাম আমি... ছাড় না বাঁদর ছেলে!"
রাহুল মুখটা তুলে ওঁর দিকে তাকাল। ওর চোখে এক চরম নিষ্পাপ কৌতূহল। "মা, আমি সিনেমায় নায়িকাদের দেখেছি, ওদের আন্ডারআর্মস একদম শেভ করা থাকে... তুমি কেন ওগুলো শেভ করো না, মা?"
ইন্দিরা ওর এই চরম ব্যক্তিগত প্রশ্ন শুনে প্রথমে একটু চমকে গেলেন। চোখে এক তীব্র কৃত্রিম রাগ আর মাতৃসুলভ শাসনের ভঙ্গি ফুটিয়ে তুললেন তিনি। "মায়ের কাছে এসব কী ধরনের প্রশ্ন রে, রাহুল? লজ্জা করে না তোর?"
"আহা মা, এতে লজ্জার কী আছে?" রাহুল ওর সেই পরিচিত, মিষ্টি গলাটা ব্যবহার করল। "আমি তো তোমার ছেলে, আমি তো তোমার সব দেখছি। জাস্ট একটা সিম্পল প্রশ্ন... বলো না প্লিজ?"
ছেলের এই মিষ্টি কথায় ইন্দিরার ভেতরের সেই কঠোর দেয়ালটা মুহূর্তেই ধসে পড়ল। তিনি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে নিজের পার্সোনাল চয়েসের কথা বোঝাতে লাগলেন।
"ওয়েল, আমি করি না কারণ আমার ভালো লাগে না," তিনি শান্ত গলায় বললেন। "আমি নিজের ন্যাচারাল স্টেট মেনটেইন করতেই ভালোবাসি। তাছাড়া আমি তো স্লিভলেস ব্লাউজ পরি না, তাই কেউ তো আর দেখতেও পায় না... ওয়েল... প্রায় কেউই না..." তিনি হঠাৎ চোখ পাকিয়ে ওর দিকে তাকালেন, ঠোঁটে প্রশ্রয়ের হাসি, "...শুধু আমার এই বজ্জাত, বাঁদর ছেলেটা ছাড়া... যে মায়ের বগলে এমনভাবে চুমু খাচ্ছে যেন কত দামি একটা জিনিস... উফ... ছাড়... আহ্... আবার শুরু করলি...কাতুকুতু লাগছে বললাম তো... উফফ..."
রাহুল ওঁর চোখের দিকে একদম স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। "আমার এভাবেই পছন্দ মা। প্লিজ মা, প্রমিস করো তুমি এভাবেই রাখবে? কখনো কাটবে না?"
ইন্দিরা এবার এক চরম নাটকীয় দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। ওঁর চোখেমুখে এক অদ্ভুত বিস্ময় আর প্রশ্রয়ের চূড়ান্ত রূপ। "তুই...তুই না....তোর কি মুখে কোনো কথাই আটকায় না? তুই বুঝতে পারছিস মুখ দিয়ে কী বলছিস? আমি তোর মা, আর তুই আমাকে রিকোয়েস্ট করছিস... কীসের জন্য? আমার বগলের চুলের জন্য... ওহ গড... আনবিলিভেবল! তুই সত্যিই আনবিলিভেবল! এই ব্রহ্মাণ্ডের ইতিহাসে কোনো ছেলে কোনোদিন এমন কথা বলেনি... আচ্ছা ঠিক আছে, ঠিক আছে... নেকা ছেলে... আমি এভাবেই রাখব... আমার আন্ডারআর্মস আমি ন্যাচারালই রাখব, শুধু তোর জন্য... উফ, এই ছেলেটার জন্য আমাকে কী কী যে করতে হয়..."
রাহুল আনন্দে আটখানা হয়ে মাকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। "ওহ, থ্যাংক ইউ থ্যাংক ইউ মা! ইউ আর দ্য বেস্ট!"
"হ্যাঁ, সে তো বলবেই। নিজের সব ফালতু আবদার মিটিয়ে নিয়ে এখন তেল দেওয়া হচ্ছে," ইন্দিরা চোখ উলটে একগাল হাসলেন। "তোর সাথে পেরে ওঠা আমার সাধ্যের বাইরে।"
কথাটা বলেই ইন্দিরা রাহুলের বুকের মধ্যে আরও একটু সেঁধিয়ে গেলেন। রাহুল এবার দু-হাত দিয়ে মায়ের সেই অনাবৃত, উষ্ণ শরীরটাকে একেবারে নিজের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে চেপে ধরল। দুজনের অনাবৃত ঊর্ধ্বাঙ্গ একে অপরের সাথে এমনভাবে মিশে গেল যে মাঝখানে কোনো বাতাস ঢোকার জায়গাও রইল না। হঠাৎ করেই রাহুল খুব ধীর, কিন্তু একটানা একটা ছন্দে নিজের চওড়া, পেশিবহুল বুকটা ইন্দিরার ফর্সা, নরম স্তনযুগলের ওপর ঘষতে শুরু করল। ত্বকের সাথে ত্বকের সেই উষ্ণ ঘর্ষণে একটা অদ্ভুত, মাদকতাময় শিহরণ তৈরি হলো।
ইন্দিরা প্রথমে একটু চমকে উঠলেন। ওঁর চোখদুটো আধবোঁজা হয়ে এল। "উফ্... কী... কী করছিস কী, রাহুল..." তিনি অত্যন্ত অস্ফুট, মিইয়ে আসা গলায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেন, "এরকম... এরকম ঘষছিস কেন..."
রাহুল ঘর্ষণটা থামাল না, বরং ওর মুখটা ইন্দিরার কানের কাছে নিয়ে গিয়ে এক গভীর ঘোরের মধ্যে ফিসফিস করে বলল, "বড্ড ভালো লাগছে মা... এরম করতে... তোমার স্কিনটা খুব সফট মা... বড্ড আরাম লাগছে..."
ইন্দিরার ভেতরের সেই সামান্য প্রতিরোধটুকুও সকালের উজ্জ্বল রোদে শিশিরের মতো গলে গেল। ওঁর ঠোঁট থেকে একটা দীর্ঘ, কাঁপানো দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল, "আহ্... সোনা..." দুজনের বুকের সেই একটানা, নরম ঘর্ষণে ঘরের স্তব্ধতা ভেঙে তৈরি হতে লাগল চামড়ার ওপর চামড়া পিছলে যাওয়ার এক অতি মৃদু, ভিজে শব্দ—শশশ্... উমম...।
"উফ্... কী যে করিস তুই... পাগল করে দিবি তুই একদিন আমাকে..." ইন্দিরা চোখ বুজে ফিসফিস করলেন, ওঁর হাতদুটো রাহুলের পিঠে শক্ত হয়ে বসল।
"আহ....কী দারুন ফিল হচ্ছে মা, উম....আহ....মা...তোমার আরাম লাগছে তো?" রাহুল ওঁর ঘাড়ে মুখ গুঁজে আরও একটু জোরে বুকটা ঘষতে ঘষতে বলল।
"উমম... হুম...সোনা... আহ্... একটু আস্তে সোনা... উমম..." ইন্দিরার গলা থেকে বেরিয়ে আসা অস্ফুট, প্রশান্তির স্বরগুলো সকালের এই উজ্জ্বল আলোতেও ঘরটাকে এক চরম আদিম, নিষিদ্ধ মখমলি আবেশে ভরিয়ে দিল।
এই তীব্র, মোহময় ঘর্ষণের ঘোরে তারা দুজনেই যেন বাহ্যজ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল, আর হয়তো এভাবেই অনন্তকাল কেটে যেত, যদি না বাস্তব পৃথিবীর সময়ের কাঁটা আচমকা তাদের এই স্বর্গীয় বুদবুদটাকে ভেঙে দিত।
(rest of the Chapter continued in the next post...)
RE: The Barter System (By:andygarfield) -
Bad Boy - 09-02-2026
(rest of the Chapter...)
৮.৩. চুক্তির অন্তিমকাল
ঠিক সেই মুহূর্তেই ইন্দিরার চোখ চলে গেল দেওয়াল ঘড়িটার দিকে। দশটা বেজে গেছে। ইন্দিরার গলার স্বর এবার আর প্রশ্রয়ের রইল না, এক দৃঢ় অথচ স্নেহময়ী শিক্ষিকার রূপ নিল।
"সোনা, সময় শেষ। দশটা বেজে গেছে। এবার আমাকে যেতে হবে। আর কনট্র্যাক্ট অনুযায়ী আমাদের মা-ছেলের আদর-সেশন কিন্তু অনেক আগেই অফিশিয়ালি শেষ হয়ে গেছে।"
রাহুল সাথে সাথে নিজের মুখটা ইন্দিরার গলার খাঁজে গুঁজে দিয়ে এক চরম নাটকীয় ভঙ্গিতে ডুকরে কাঁদার ভান করল, "ওহ গড না, কেন... কেন শেষ হতে হবে? আমি তো কিছুই পেলাম না!"
ইন্দিরা ওর এই ওভার-অ্যাক্টিং দেখে হো হো করে হেসে উঠলেন। "সোনা... কী ড্রামা কুইন রে তুই! কিন্তু সিরিয়াসলি রাহুল, আমাকে এবার উঠতেই হবে। গঙ্গা মাসি চলে আসবে একটু পরেই। তুই তো আর চাস না গঙ্গা মাসি আমাদের এই অবস্থায় দেখুক, তাই না?"
রাহুল কাঁধ ঝাঁকিয়ে বড্ড উদাসীনভাবে বলল, "আমার বয়েই গেল।"
ইন্দিরা এবার ওর কাঁধে একটা হালকা চাপড় মারলেন। "বজ্জাত ছেলে! মাথা খারাপ হয়ে গেছে তোর? প্রমিস, কন্ট্রাক্ট, সবকিছুর কী হবে? আমাকে এবার রেডি হতে হবে সোনা। আমার চুল পুরো ঘেঁটে আছে, শাড়ি ঘেঁটে আছে... আর সবকিছুর জন্য দায়ী হলো..." তিনি আঙুল দিয়ে ওর কাঁধে ছোট ছোট চিমটি কাটতে লাগলেন—কখনও একটু জোরে, কখনও একদম আলতো আদুরে চিমটি, "...আমার এই পাজি আহ্লাদি ছেলেটা... যে কাল সন্ধে থেকে মাকে নিয়ে যা খুশি তাই করে চলেছে।"
রাহুল হাসতে হাসতে "আউচ! মা! লাগছে তো!" বলে ছটফট করতে লাগল।
চিমটি কাটা শেষ হলে রাহুল একটু শান্ত হয়ে একগাল দুষ্টুমি মেশানো হাসি হেসে বলল, "আচ্ছা মা, ধরো গঙ্গা মাসি যদি এই মুহূর্তে হঠাৎ করে এই ঘরে চলে আসে, তাহলে ও কী বলবে?"
এই কথাটা শোনা মাত্রই ইন্দিরার ফর্সা মুখটা এক চরম লজ্জায় আর অস্বস্তিতে লাল হয়ে উঠল। ওঁর চোখদুটো কল্পিত আতঙ্কে বড় বড় হয়ে গেল। তিনি তড়িঘড়ি নিজের হাতদুটো দিয়ে উন্মুক্ত বুকটা ঢাকার একটা বৃথা চেষ্টা করে অত্যন্ত লাজুক আর ভীত গলায় বললেন, "ওহ গড, রাহুল! এসব কী অলুক্ষুণে কথা বলছিস তুই! ভাবলেই আমার হাত-পা সেঁধিয়ে যাচ্ছে লজ্জায়। জাস্ট ইমাজিন কর, কী বিভৎস একটা স্ক্যান্ডাল হবে! না না, তুই এসব আজেবাজে কথা একদম ভাববি না।"
কিন্তু রাহুল থামার পাত্র নয়। মায়ের এই লজ্জামাখা, ভীত মুখটা দেখে ওর ভেতরে দুষ্টুমির পোকা আরও নড়ে উঠল। সে বিছানায় সামান্য সোজা হয়ে বসে, চোখদুটো বড় বড় করে, হাতদুটো কপালে ঠেকিয়ে একদম নিখুঁত হিন্দি অ্যাকসেন্টে গঙ্গা মাসির গলার স্বর নকল করতে শুরু করল।
"আরে মা, জাস্ট ভাবো," রাহুল অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে বলতে লাগল, "গঙ্গা মাসি ঘরে ঢুকেই আমাদের এই অবস্থায় দেখে হাত থেকে ঝাঁটা-টাটা ফেলে দিয়ে কপালে হাত দিয়ে ঠিক এইভাবেই চ্যাঁচাতে শুরু করবে— 'হে ভগবান! ইয়ে কেয়া দেখ রহি হুঁ মে? সেন ম্যাডাম জি, ইতনা বড়ি প্রফেসার... অউর আপনে জওয়ান লড়কে কে সাথ এসে বিনা কাপড়ে কে সো রহি হ্যায়? আরে রাম-রাম! ম্যায় তো সোচ ভী নহী সকতি! মা অউর বেটা দোনো এক দুসরে কা নঙ্গী তন সে চিপক কে পিয়্যার কর রহে হ্যায়! অগর কোই বাহার কা দেখ লেগা তো সমাজ মে থু-থু হো যায়েগা, মুঁহ দিখানে লায়েক নহী রহেঙ্গে সেন সাহাব কে লোগ! রাম-রাম-রাম! কলযুগ আ গয়া হ্যায়!'"
ইন্দিরা প্রথমে মুখ টিপে নিজের গাম্ভীর্য ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন। "চুপ কর রাহুল, কী অসভ্য তুই..." বলে তিনি ওকে থামানোর চেষ্টা করলেন, কিন্তু রাহুলের ওই নিখুঁত গলা আর মুখের ভঙ্গি দেখে ওঁর সেই লজ্জার দেওয়াল ক্রমশ ফাটতে শুরু করল। ঠোঁটের কোণ দিয়ে একটা চাপা হাসির শব্দ ছিটকে বেরোল।
রাহুল মায়ের হাসি দেখে আরও উৎসাহ পেয়ে গেল। ও হাসির ফাঁকেই আবার সেই অ্যাকসেন্টে শুরু করল: "আর তারপর আমাকে দেখে চোখ কপালে তুলে বলবে— 'অউর ইয়ে রাহুল বাবা! কলেজ জানে কা উমর হো গয়া, লেকিন অভী তক অপনী মা কা নঙ্গী ছাতী সে ছাতী মিলা কে লেটা হুয়া হ্যায়! এক ঠো জওয়ান বেটা অপনী মা কো এসে পকড় কে উসকে উপর লেটা হুয়া হ্যায়? ইয়ে কোন্ সা রিস্তা হ্যায় ভগবান? অ্যায়সা পাপ দেখনে সে পহলে মেরা আঁখ কেউ নহী ফুট গয়া? লাজ-শরম সব বেচ খায়ী হ্যায়!'"
ছেলের মুখে গঙ্গা মাসির এই সংলাপ শুনে ইন্দিরা আর কিছুতেই নিজের আভিজাত্য বা লজ্জা ধরে রাখতে পারলেন না। তিনি খিলখিল করে হাসতে হাসতে বিছানায় লুটিয়ে পড়লেন। এক হাতে পেট চেপে ধরে হাসির চোটে ওঁর চোখে জল আসার উপক্রম হলো। দুজনেই হাসতে হাসতে একে অপরের গায়ের ওপর গড়িয়ে পড়ল। বেশ কিছুক্ষণ ধরে তাদের এই শ্বাসরুদ্ধকর হাসি আর খুনসুটি চলল।
কিন্তু হাসির রেশ কাটতেই ইন্দিরার মুখটা একটু গম্ভীর হয়ে এল। তিনি রাহুলের চুলে হাত বুলিয়ে অত্যন্ত নিবিড় আর সাবধানী গলায় বললেন, "কিন্তু জোকস অ্যাপার্ট, রাহুল... এই বিষয়টা কিন্তু একদম আমাদের দুজনের মধ্যেকার সিক্রেট। আমি তোকে কালকে এটা নিয়ে বলেছি, আবার মনে করিয়ে দিচ্ছি। বাইরের সমাজ, এমনকি তোর বাবা বা গঙ্গা মাসিও এই পবিত্র বন্ডিংটা বুঝবে না। তুই আমার নিজের নাড়ি-ছেঁড়া ধন, আমি তোকে আমার বুকে জড়িয়ে শুয়ে আছি, তুই কাল আমার...আমার বুক থেকে খেয়েছিস... এতে তো খারাপ কিছু নেই। কিন্তু সমাজ তো আর সেই ফিলিংটা বুঝবে না। তাই তোকে খুব সতর্ক থাকতে হবে সোনা। আমাদের এই স্পেশাল আদর যেন এই ঘরের চার দেওয়ালের বাইরে এক ইঞ্চিও না যায়।"
রাহুল মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে খুব শান্তভাবে মাথা নাড়ল। "আমি জানি মা, তুমি একদম চিন্তা কোরো না। আমি কাউকে কিচ্ছু বুঝতে দেব না।"
ইন্দিরা এবার মানসিকভাবে নিজের সেই প্রফেশনাল, ব্যস্ত মায়ের রুটিনে ফিরে গেলেন। তিনি মনে মনে হিসেব কষতে কষতে বললেন, "এনিওয়ে, আজ আমার পাহাড়প্রমাণ কাজ বাকি। কাল সন্ধের পেন্ডিং কাজগুলো, আর আজকের নতুন কাজ।"
তিনি আঙুল গুনে গুনে বলতে লাগলেন, "আমাকে দুটো বড় লেকচার প্রিপেয়ার করতে হবে, পিএইচডি স্কলারদের তিনটে পেপার চেক করতে হবে... তার ওপর গঙ্গা মাসিকে মেনু বলে দেওয়া, বাড়ির বাজার—সব আমাকে একা হাতে সামলাতে হবে।"
তিনি হঠাৎ রাহুলের দিকে কড়া চোখে তাকালেন। "আর তোর তো আজ টিউশন যাওয়া আছে! সারাদিন কি এভাবেই শুয়ে থাকবি? নাকি আমি লাঠি নিয়ে তাড়া করব?"
রাহুল মুখটা বাঁকিয়ে বলল, "উফ মা, তুমি না একটা রিংমাস্টার। একটু আগে অত আদর করলে, আর এখন লাঠি নিয়ে তাড়া করার কথা বলছ!"
ইন্দিরার গলার স্বর ওর কথাকে পাত্তা না দিয়ে এবার একদম সেই চিরচেনা মাতৃসুলভ প্রোটেকটিভ সুরে নেমে এল। "কিন্তু রাহুল, কাল রাতে আমাদের ঘুমোতে অনেক দেরি হয়েছে। তোর আট ঘণ্টার ঘুম খুব জরুরি। তাই টিউশন থেকে ফিরে কিন্তু অবশ্যই একটা ন্যাপ নিবি।"
রাহুল সাথে সাথে বার্গেনিং শুরু করল, "তাহলে তুমিও একটা ন্যাপ নিও, মা। তুমিও তো ঘুমাওনি।"
ইন্দিরা মাথা নাড়লেন, "হ্যাঁ, হয়তো নেব।"
রাহুল চোখদুটো ছোট ছোট করে দুষ্টুমিভরা হাসিতে বলল, "ওহ... তাহলে আমার ঘরে আবার এসো, আমরা একসাথে ন্যাপ নেব। ঠিক এভাবেই।"
ইন্দিরা চোখ পাকিয়ে ওর দিকে তাকালেন, গলার স্বরে কড়া শাসন। "না, তুই আমাকে অনেক পেয়েছিস। আজ আর কোনো আদর নয়, আর একসাথে শুয়ে থাকাও নয়। আমি কাজ টাজ সেরে আমার ঘরে একটু গড়িয়ে নেব খন। আর কোনো কথা নয়।" তিনি ঘড়ির দিকে তাকালেন। "ওকে, দশটা বেজে পাঁচ। গঙ্গা মাসি জাস্ট চলে এল বলে।"
ইন্দিরা বিছানা থেকে ওঠার জন্য কনুইয়ের ওপর ভর দিলেন। কিন্তু রাহুল ওর কোমরটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে এক টানে ওঁকে আবার বিছানায় শুইয়ে দিল।
"মা, প্লিজ, আর জাস্ট পাঁচটা মিনিট।"
ইন্দিরা ওর এই ছটফটানি আর লেপ্টে থাকার কাছে সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়লেন। তিনি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ওর শরীরটাকে টেনে একদম নিজের শরীরের ওপর তুলে নিলেন। ওকে নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে বুকের সাথে চেপে ধরলেন।
"তুই জাস্ট... বড্ড... বড্ড দুষ্টুমি করিস মায়ের সাথে, সোনা... আমি তোকে নিয়ে কী করব বল দেখি?" তিনি ওর পিঠে হাত বুলিয়ে বলতে লাগলেন, "তুই মায়ের আদর এত এত ভালোবাসিস? তুই একটা পাগল, আস্ত একটা পাগল... ঠিক আছে, জাস্ট পাঁচ মিনিটের আদর, সোনা... তারপর প্লিজ... আমাকে উঠতে হবে... আমার ব্রা পরতে একটু সময় লাগে।"
রাহুল ওঁর গলার খাঁজে মুখ গুঁজে পরম আদুরে গলায় ফিসফিস করল, "আমি হুক লাগিয়ে দেব মা, তুমি চিন্তা কোরো না।"
ইন্দিরা একটা নরম, মায়াবী হাসি হাসলেন, বুকের ভেতরটা এক পরম শান্তিতে ভরে উঠল। "আমার ছোট্ট বাচ্চাটা কত্ত বড় হয়ে গেছে..."
আরও পাঁচ-সাত মিনিট ওই তীব্র, নিস্তব্ধ আলিঙ্গনের পর ইন্দিরা অবশেষে বিছানার ধারে উঠে বসলেন। তিনি নিজের ব্রা-টা হাতে নিয়ে কাঁধের ওপর দিয়ে ফিতে দুটো গলালেন, তারপর পেছনের হুকগুলো আটকানোর জন্য হাতদুটো পিঠের দিকে নিয়ে গেলেন। রাহুল, একদম বাধ্য ছাত্রের মতো ওঁর পেছনে উঠে বসল। সে খুব সাবধানে মায়ের হাত থেকে ব্রায়ের কাপড়ের অংশটা নিয়ে নিখুঁতভাবে হুকগুলো মেলাতে শুরু করল।
রাহুলের আঙুলের সেই নরম, উষ্ণ ছোঁয়া যখন ইন্দিরার অনাবৃত পিঠে লাগছিল, ইন্দিরার চোখদুটো তখন জানলার দিক থেকে ঘুরে ঘরের দেওয়ালে থাকা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বাঁধানো ছবিটার ওপর গিয়ে স্থির হলো।
ওঁর মনের ভেতর এক গভীর, সাহিত্যিক আর কাব্যিক দোলাচল তৈরি হলো। তিনি বুঝতে পারলেন, এই সবকিছু কোনো স্বপ্ন নয়; এটা ওঁর অত্যন্ত বাস্তব, ভারী এক সত্য। তিনি ডক্টর ইন্দিরা সেন, সমাজের চোখে একজন উচ্চশিক্ষিতা, সম্মাননীয় ও প্রাজ্ঞ নারী... অথচ, তিনিই নিজের সাবালক ছেলের সাথে এই চরম বাধাহীন, গভীর শারীরিক ও মানসিক নৈকট্য উদযাপন করেছেন। আর ঠিক এই মুহূর্তে, এই উজ্জ্বল সকালের আলোয়, ওঁর সেই বড় হয়ে যাওয়া ছেলেটি অত্যন্ত সাবধানে, পরম শ্রদ্ধায় তার মায়ের ব্রায়ের হুক লাগিয়ে দিচ্ছে। রাহুলের আঙুলের ওই উষ্ণতা, ওই পরম নির্ভরতা—ইন্দিরা নিজের ভেতরে এক গভীর নীরবতার সাথে এই সত্যটাকে বরণ করে নিলেন।
ঠিক যেই মুহূর্তে শেষ হুকটা খট করে আটকে গেল, রাহুল ওঁর পিঠ থেকে মুখ তুলে একরাশ প্রত্যাশা নিয়ে জিজ্ঞেস করল, "মা, আবার কখন তোমাকে আদর করতে পারব?"
ইন্দিরা ঘাড় ঘুরিয়ে ওর এই অফুরন্ত লোভ দেখে চোখ উলটোলেন। "এতকিছুর পর... কাল সন্ধে, সারারাত, আর আজকের সকাল... তুই আরও চাস? তুই এত এত... আহ্লাদি... বজ্জাত ছেলে কোথাকার।"
তিনি নিজের ব্লাউজটা হাতে নিয়ে অনায়াসে সেটা গায়ে গলালেন, শাড়িটা কাঁধের ওপর ঠিক করতে করতে বললেন, "আজ আর নয় সোনা, তোকে বললাম তো, আজ প্রচুর কাজের চাপ... হয়তো... অন্য কোনোদিন..."
তিনি পুরোপুরি বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালেন। এবার ওঁর গলার স্বর সম্পূর্ণ পালটে এক কঠোর, রুটিন-মেনে-চলা মায়ের মতো হয়ে গেল।
"এবার একদম সোজা বিছানা থেকে ওঠ। গিয়ে দাঁত মাজ, ভালো করে চান কর। একদম কোনো ঝামেলা না করে ব্রেকফাস্ট খাবি, সিম্পল ব্রেড, জ্যাম, আর ডিমসেদ্ধ... একদম ঘ্যানঘ্যান করবি না... আর বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে আমার ঘরে একবার দেখা করে যাবি, কল্লোল স্যারের মাইনেটা দিয়ে দেব, ওনাকে দিয়ে দিবি আজকে মনে করে।"
রাহুল হাসতে হাসতে বলল, "হ্যাঁ মা, আমি সব করে নেব। তুমি চিন্তা কোরো না।"
"ও আরেকটা জিনিস, বাজার!" ইন্দিরার হঠাৎ মনে পড়ল। "তুই কি ব্লিনকিট না ফ্লিনকিট কিসব বলছিলি না? ওটায় করে দিতে পারবি? আমি নিচে রান্নাঘরে গিয়ে দেখে নিই একবার কী কী লাগবে, সেইমতো লিস্ট বানিয়ে তোকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দেব, ওকে? তুই একটু ওগুলো তাড়াতাড়ি অর্ডার করে দিস।"
বাধ্য সুবোধ বালকের মতো রাহুল বলল "ঠিক আছে মা, তাই হবে। করে দেব।"
ইন্দিরা হালকা হেসে মাথা নেড়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেলেন—এই নিবিড় পরিবেশ ছেড়ে প্রতিদিনের চেনা, একঘেয়ে রুটিনে নিজেকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য। কিন্তু ঠিক যেই মুহূর্তে ওঁর হাত দরজার হ্যান্ডেলটা স্পর্শ করল, এক তীব্র, ভারী শারীরিক সত্য ওঁর মগজে আঘাত করল। কাল রাতের সেই গভীর, বাধাহীন স্তন্যপানের সময় ওঁর শরীরে যে বিক্রিয়া হয়েছিল, তার স্পষ্ট স্মৃতিটা ওঁর মনে ভেসে উঠল। তিনি থমকে দাঁড়ালেন। মুখটা এক গভীর চিন্তায় আচ্ছন্ন হলো। তিনি ঘুরে আবার রাহুলের দিকে তাকালেন।
"ওহ রাহুল," তিনি খুব স্বাভাবিক শোনানোর চেষ্টা করে বললেন, "তোর কাছে তো রুম ফ্রেশনার আছে, তাই না?"
রাহুল একটু অবাক হয়ে মাথা নাড়ল।
"ঠিক আছে। ঘরে ভালো করে একটু স্প্রে করে দিস তো," ইন্দিরা খুব শান্ত কিন্তু জোরালো গলায় বললেন, "গঙ্গা মাসি ঘর পরিষ্কার করতে ঢোকার আগে অবশ্যই করবি।" কাল রাতে বাথরুমে যাওয়ার কথা মনে পড়তেই তিনি দ্রুত যোগ করলেন, "ওহ, আর বাথরুমেও একটু স্প্রে করে দিস।"
রাহুল ঘাড় কাত করে, নিষ্পাপভাবে জিজ্ঞেস করল, "ঠিক আছে মা, কিন্তু কেন?"
ইন্দিরা কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইলেন। নিজের চোখদুটো সামান্য এদিক-ওদিক করে তিনি সত্যটাকে নিজের ভেতরেই লুকিয়ে রাখলেন। "উমম... আমি তোকে পরে বলব। তুই জাস্ট স্প্রে করে দিস, কেমন সোনা?"
তিনি ওকে শেষ এক দীর্ঘ, মায়াবী দৃষ্টি দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন এবং খুব নিঃশব্দে দরজাটা ভেজিয়ে দিলেন।
RE: The Barter System (By:andygarfield) -
Bad Boy - 09-02-2026
নবম পরিচ্ছেদ: অলিখিত রূপকথা
৯.১. শনিবারের অলস প্রহর
শনিবারের বেলা তখন খানিকটা গড়িয়েছে। বাইরের পৃথিবীতে ব্যস্ততার পারদ চড়লেও, ইন্দিরা সেনের স্টাডি রুমটিতে সময় যেন এক অদ্ভুত, মন্থর ছন্দে থমকে আছে। ঘরের প্রতিটি কোণায় বইয়ের সারি, আর জানলার ভারী পর্দার ফাঁক দিয়ে ঠিকরে আসা শরতের উজ্জ্বল রোদের তির্যক রেখা মেঝের কার্পেটে এক মায়াবী আলপনা এঁকেছে। বাতাসে পুরনো কাগজের সোঁদা গন্ধের সাথে মিশে আছে ইন্দিরার সদ্য শেষ হওয়া ব্ল্যাক কফির তীব্র সুবাস। ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছেন তিনি, চোখে রিডিং গ্লাস। চোখের পাতা প্রায় পড়ছেই না। স্ক্রিনে ভাসছে মুঘল স্থাপত্যের ওপর লেখা এক তরুণ স্কলারের একটি জটিল গবেষণাপত্র। ইন্দিরার ভুরু সামান্য কুঁচকানো, পেশাদারিত্বের এক নিশ্ছিদ্র বর্মে তিনি এখন সম্পূর্ণ আচ্ছাদিত। চারপাশের জগতের সমস্ত শব্দ, সমস্ত কোলাহল তাঁর এই গভীর মনোনিবেশের কাছে হার মেনেছে।
হঠাৎই, কোনো আগাম শব্দ ছাড়াই, দুটো উষ্ণ, পরিচিত হাত তাঁর কাঁধের ওপর আলতো করে এসে বসল।
ইন্দিরার শরীরটা যেন এক লহমায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলো। এক তীব্র চমকে তিনি প্রায় চেয়ার ছেড়ে লাফিয়ে উঠছিলেন, হাত থেকে কফির খালি মগটা উলটে যেতে যেতেও কোনোরকমে বেঁচে গেল। বুকটা ধড়ফড় করে উঠল এক আদিম ত্রাসে।
"উফ্! মা, সরি... সরি! আমি একদমই তোমাকে ভয় পাইয়ে দিতে চাইনি।"
পেছন ফিরে তাকাতেই ইন্দিরা দেখলেন, তাঁর সেই অতি পরিচিত, অবাধ্য ছেলেটি দাঁড়িয়ে আছে। রাহুলের পরনে একটা কলার দেয়া টিশার্ট আর জিনস। ছেলেটার মুখে এক গাল নিষ্পাপ, লজ্জিত হাসি।
ইন্দিরা কয়েক সেকেন্ড সময় নিলেন নিজের শ্বাসটাকে স্বাভাবিক করতে। বুকের ভেতরের ধুকপুকানিটা একটু শান্ত হতেই তাঁর পেশাদারি গাম্ভীর্য গলে গিয়ে সেখানে এক চিরচেনা মাতৃরূপ জায়গা করে নিল। ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক প্রশ্রয়ের হাসি। তিনি চশমাটা খুলে টেবিলের ওপর রাখলেন।
"তোর জন্য সত্যিই একদিন আমার হার্ট অ্যাটাক হবে দেখিস" তিনি কৃত্রিম বিরক্তির সাথে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। "দরজায় অন্তত একটা নক তো করতে পারিস! আমি এতটা কনসেন্ট্রেট করে পড়ছিলাম..."
"সরি গো মা," রাহুল আরেকটু এগিয়ে এসে টেবিলের পাশে দাঁড়াল। "আমি আর অত খেয়াল করিনি। যাই হোক, তোমার দেওয়া লিস্টটা আমি ব্লিনকিটে অর্ডার করে দিয়েছি।"
ইন্দিরা পুরোপুরি চেয়ারটা ঘুরিয়ে ছেলের দিকে ফিরলেন। তাঁর চোখদুটো স্বয়ংক্রিয়ভাবেই রাহুলের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত একবার স্ক্যান করে নিল—মায়ের সেই চিরাচরিত অভ্যাস।
"সবকটা সবজিই পেয়েছিস? আর মাছগুলো? আর আমার ওষুধটা?"
"হ্যাঁ, বললাম না তোমায়, ওখানে সবই পাওয়া যায়। দ্যাখো না, মিনিট দশেকের মধ্যে দিয়ে যাবে। আর টাকাও অ্যাপেই দিয়ে দিয়েছি, তোমায় কিছু করতে হবে না।"
"ওহ, দাঁড়া দাঁড়া, তাহলে তোকে টাকাটা দিয়ে দিই। কত পড়ল রে?"
"আরে বাবা, এত ব্যস্ত হয়ো না তো! পরে দিয়ো খন। তুমি শুধু কল্লোল স্যারের টাকাটা দাও।"
"ও হ্যাঁ তাই তো..." ইন্দিরা আঙুল দিয়ে নির্দেশ করে বললেন, "ওই সেকেন্ড ড্রয়ারটা খোল, ভেতরে একটা সাদা খাম রাখা আছে। ওটা দিয়ে দিস।"
রাহুল ড্রয়ার খুলে সাদা খামটা বের করে নিজের ব্যাগের ভেতর ঢুকিয়ে দিল। ইন্দিরা হঠাৎ বলে উঠলেন, "ওই, আজকে তোর অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেয়ার কথা না? গত সপ্তাহে তো স্যার অ্যাসাইনমেন্ট দিয়েছিলেন..."
"উফফ মা, তোমার দেখছি সব মনে থাকে। আমার বহু আগেই অ্যাসাইনমেন্ট করা হয়ে গেছে, তুমি জাস্ট টেনশন করা বন্ধ করো তো।" রাহুল একটু হাসল।
"আমি টেনশন করব না তো কে করবে শুনি? তুই যা ভুলো মনের ছেলে!" ইন্দিরা মৃদু ধমক দিলেন। "আর শোন, সাবধানে যাবি। ক্লাস শেষ হয়ে গেলে বেরিয়ে বন্ধুদের সাথে আবার এদিক-ওদিক আড্ডা মারতে চলে যাস না। সোজা বাড়ি ফিরবি, বুঝলি?"
"হ্যাঁ গো আমার রিংমাস্টার মা, একদম সোজা বাড়ি ফিরব," রাহুল হাসতে হাসতে বলল।
তারপর, কোনো ভূমিকা ছাড়াই, রাহুল একটু ঝুঁকে এসে পেছন থেকে দু-হাত দিয়ে ইন্দিরার গলা আর কাঁধ জড়িয়ে ধরল। ওর চিবুকটা এসে ঠেকল ইন্দিরার কাঁধের ওপর।
এই আচমকা, নিবিড় আলিঙ্গনে ইন্দিরার মেরুদণ্ড বেয়ে এক অদ্ভুত শিহরণ খেলে গেল। কিন্তু একই সাথে তাঁর সচেতন মগজটা সজাগ হয়ে উঠল। তাঁর তীক্ষ্ণ শ্রবণশক্তিতে ততক্ষণে ধরা পড়েছে করিডোরের ওপারের শব্দটা।
"উমম... সোনা..." ইন্দিরা খুব নিচু গলায়, প্রায় ফিসফিস করে বললেন, শরীরটা সামান্য আড়ষ্ট হয়ে এসেছে তাঁর। "গঙ্গা মাসি কিন্তু ঠিক ওই সামনের বাথরুমটাই পরিষ্কার করছে..."
চারপাশের পরিবেশটা যেন মুহূর্তের মধ্যে এক স্নায়বিক চাপে ভারী হয়ে উঠল। স্টাডি রুমের খোলা দরজা দিয়ে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে করিডোর সংলগ্ন বাথরুমের ভেতরের শব্দ—জলের ঝপঝপ আওয়াজ, ফ্লোরে প্লাস্টিকের ঝাড়ু ঘষার একটানা খসখস শব্দ, আর তার সাথে মিশে আছে লাইসলের সেই তীব্র, ঝাঁঝালো গন্ধ, যা পুরো করিডোরটাকে ভরিয়ে তুলেছে। যেকোনো মুহূর্তে গঙ্গা মাসি বাথরুম থেকে বেরিয়ে এই খোলা দরজার সামনে দিয়ে হেঁটে যেতে পারে।
"মা... মাসি তো নিজের কাজে বিজি... দেখতে পাবে না..." রাহুল ওঁর কাঁধের ওপর মাথাটা রেখেই ফিসফিস করে বলল, ওর গলার স্বরে এক অদ্ভুত, অবাধ্য আদুরেপনা। "জাস্ট একটুক্ষণ... আমি তোমাকে সারাটা দুপুর বড্ড মিস করব মা..."
ইন্দিরার চোখদুটো কপালে উঠল। তিনি এক কৃত্রিম বিরক্তি আর লোকলজ্জার ভয়ে চোখ পাকিয়ে নিজের হাতটা দিয়ে রাহুলের জড়িয়ে থাকা হাতের ওপর একটা হালকা চড় কষালেন।
"উফ্, রাহুল! ছাড় বলছি..." তিনি এমন একটা ফিসফিসানিতে ধমক দিলেন যা গঙ্গা মাসির কান অব্দি পৌঁছানোর কোনো সম্ভাবনাই নেই, "তুই একটা আস্ত ড্রামাবাজ জানিস তো? সারা দুপুর মিস করবি? একটুও লজ্জা করে না এসব বলতে, হুমম? কাল সারারাত ধরে মা তোকে বুকে জড়িয়ে আদর দিয়ে দিয়ে তোকে একদম মাথায় তুলে বাঁদর করে দিয়েছে, যা বুঝতে পারছি... তাই এখন টিউশন যাওয়ার আগেও সেই বাঁদরামি চলছে..."
রাহুল মায়ের এই ধমককে বিন্দুমাত্র পাত্তা দিল না। বরং ওর ঠোঁটের কোণে এক চতুর, দুষ্টু হাসি ফুটে উঠল।
"হ্যাঁ, আমি বাঁদরই তো। তোমার নিজের বাঁদর ছেলে," রাহুল ফিসফিস করে বলে ওর আলিঙ্গনটা আরও একটু শক্ত করল। ইন্দিরার গায়ের সাথে নিজেকে আরও গভীরভাবে লেপ্টে দিয়ে ও সরাসরি ইন্দিরার ফর্সা গালে একটা উষ্ণ, গাঢ় চুমু এঁকে দিল।
ইন্দিরার বুকের ভেতরটা এক অদ্ভুত ত্রাস আর রোমাঞ্চে কেঁপে উঠল। তিনি দ্রুত ঘাড় ঘুরিয়ে দরজার দিকে তাকালেন।
"উফ্ সোনা... পাগল হলি নাকি? ছাড়... মাসি ঠিক ওখানেই আছে... যদি হঠাৎ করে দরজার সামনে চলে আসে, কী ভাববে বল তো? একটা ধেড়ে ছেলে তার মায়ের ঘাড়ে এভাবে ঝুলে আছে... ছাড় সোনা, প্লিজ..."
"ভাবলে ভাববে," রাহুল বিন্দুমাত্র না দমে আরেকবার ওঁর ঘাড়ের কাছে মুখ ঘষল।
"তোর সাথে সত্যিই পারা যায় না!" ইন্দিরা এবার সত্যিই একটু জোর করে ওকে নিজের গা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেন। "আহ্, সোনা... তোর এবার সত্যিই দেরি হয়ে যাবে। আর আমাকে একটু শান্তিতে এই পেপারটা শেষ করতে দে, প্লিজ। তুই তো মায়ের বাধ্য ছেলে, তাই না? লক্ষ্মীটি, এবার যা..."
রাহুল অবশেষে ওঁর পিঠ থেকে নিজেকে একটু আলগা করল। কিন্তু ওর চোখের সেই নিবিড়, নির্ভরশীল চাউনিটা ইন্দিরার মুখের ওপরই স্থির রইল।
"ঠিক আছে মা, যাচ্ছি," ও খুব মিষ্টি করে হাসল।
ইন্দিরা কয়েক সেকেন্ড ওর ওই মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর তাঁর চোখ আবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছুটে গেল খোলা দরজার দিকে। করিডোরে লাইসলের গন্ধটা এখনও তীব্র, জলের শব্দটাও আসছে। তিনি আবার রাহুলের দিকে তাকালেন। তাঁর ভেতরের সেই কঠোর অধ্যাপক রূপটি আবার একবার পরাস্ত হলো সেই অন্ধ মাতৃত্বের কাছে।
"রাহুল, দাঁড়া..." ইন্দিরা খুব স্বাভাবিক, শান্ত গলায় ডাকলেন। তারপর হাত দিয়ে ইশারা করে বললেন, "এদিকে একটু মুখটা নিচু কর তো।"
রাহুল কিছুটা অবাক হয়ে গেল। ও ভাবল, হয়তো ওর চুলে কোনো ধুলো আটকে আছে, বা গালে কিছু লেগে আছে যা মায়ের ওই তীক্ষ্ণ চোখে ধরা পড়েছে।
"কী হলো মা? চুলে কিছু আটকে আছে নাকি? না মুখে কিছু লেগে আছে?" কৌতূহলী চোখে প্রশ্ন করতে করতে রাহুল বাধ্য ছেলের মতো চেয়ারে বসে থাকা মায়ের দিকে সামান্য ঝুঁকে এল।
ইন্দিরার ঠোঁটের কোণে এক মায়াবী, প্রশ্রয়ের হাসি ফুটে উঠল। তিনি কোনো উত্তর দিলেন না, কোনো ধুলোও ঝাড়লেন না। তার বদলে তিনি তাঁর ডান হাতটা বাড়িয়ে রাহুলের গালটা পরম মমতায় আলতো করে ধরলেন। তারপর সামান্য মাথা উঁচু করে রাহুলের গালে একটা নরম, দীর্ঘ ও গভীর চুমু এঁকে দিলেন।
চুমুর পর রাহুল একটু অপ্রস্তুত অথচ লাজুক মুখে হাসল। "উফফ মা! তুমিও না! আমাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিলে, আমি ভাবলাম মুখটুখ বোধহয় নোংরা হয়ে আছে।"
ইন্দিরা একগাল হেসে ওর নাকে আলতো করে একটা চিমটি কাটলেন। "কেন? আমার ছেলেকে আমি চুমু খেতে পারি না? নাকি বড্ড বড় হয়ে গেছিস? তোর মতো একটা বাঁদর ছেলে আমাকে আদর করে যাবে আর আমি কিছু বলব না, তা তো হয় না।"
রাহুল খিলখিল করে হেসে উঠল।
ঠোঁটের কোণে এক প্রশ্রয়ের, মায়াবী হাসি ফুটিয়ে তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন, "ওকে... এবার শান্তি হয়েছে তোর? আমার অ্যাটেনশন-সিকার, আহ্লাদি বাবুটার পেট ভরেছে? এবার যা... আর একটাও কথা নয়। সোজা পড়তে যা।" তিনি ওর বুকে একটা হালকা, আদুরে ধাক্কা দিলেন।
রাহুল একটু অপ্রস্তুত হয়ে হাসল, চোখে তখন এক অদ্ভুত ঘোর। "মা... আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি।"
ইন্দিরা চোখ উলটে এক চরম নাটকীয় ভঙ্গিতে শ্বাস ফেললেন, যেন এই ছেলের আদিখ্যেতায় তিনি চূড়ান্ত বিরক্ত, যদিও তাঁর ঠোঁটের কোণের হাসিটা অন্য কথা বলছিল। "হয়েছে, আর মাখন লাগাতে হবে না। যা এবার।"
রাহুল ঘর থেকে বেরিয়ে যেতেই ইন্দিরা আবার নিজের ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে ঘুরলেন। কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ তাঁর চোখ স্ক্রিনের অক্ষরে ফোকাস করতে পারল না। বুকের ভেতরটা এক অদ্ভুত, সংজ্ঞাহীন দোলাচলে কাঁপছিল তাঁর।
৯.২. হোয়াটসঅ্যাপের নীরব বিস্ফোরণ
দুপুরের কড়া রোদ তখন একটু একটু করে ম্লান হতে শুরু করেছে। ঘড়ির কাঁটা চারটে ছুঁয়েছে। ইন্দিরার ল্যাপটপের পাশে রাখা ফোনটা স্ক্রিন অফ অবস্থাতেই পড়ে আছে। তাঁর ভেতরের সেই মাতৃসত্তাটা ক্রমশ একটু অস্থির হয়ে উঠছিল। রাহুলের তো এতক্ষণে বাড়ি ফিরে আসার কথা।
আর থাকতে না পেরে ইন্দিরা ফোনটা হাতে তুলে নিলেন। হোয়াটসঅ্যাপ খুলে রাহুলের চ্যাটবক্সে গিয়ে দ্রুত টাইপ করলেন:
"রাহুল, তোর কি এখনও ক্লাস শেষ হয়নি? চারটে বাজে তো!"
মেসেজটা পাঠানোর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ব্লু-টিক হয়ে গেল। স্ক্রিনের ওপরে ভেসে উঠল ‘টাইপিং...’।
একটু পরেই রাহুলের মেসেজ এল, পরপর কয়েকটা রাগী আর কান্নার ইমোজি দিয়ে:
"না মা! ক্লাস শেষ হয়নি। উলটে আরও ক্লাস চাপিয়ে দিয়েছেন! ??"
ইন্দিরা একটু অবাক হয়ে লিখলেন:
"মানে? এক্সট্রা ক্লাস?"
রাহুলের রিপ্লাই এল:
"আরে আগের সপ্তাহে স্যার ছিলেন না বলে দুটো ক্লাস অফ হয়েছিল না? তাই সিলেবাস শেষ হবে না বলে স্যার আজ এক্সট্রা ক্লাস নিচ্ছেন। উফফ, জাস্ট ফ্রাস্ট্রেটিং লাগছে! আমার বাড়ি ফিরতে ফিরতে সেই সাড়ে ছ'টা বেজে যাবে, একদম ডিনারের সময়। জাস্ট জঘন্য একটা দিন!"
ইন্দিরা বুঝতে পারলেন ছেলেটার মেজাজ কতটা খারাপ হয়ে আছে। তিনি অত্যন্ত শান্ত, মাতৃসুলভ ভঙ্গিতে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন:
"আহা রাহুল, রাগ করে না। এটা তো হতেই পারে। নরমাল ব্যাপার। এই ক্লাসটাই তো গত সপ্তাহে হওয়ার কথা ছিল, তার জায়গায় না হয় আজকে হচ্ছে, কি হয়েছে তাতে? তুই তো জানিস, আমাকেও কত দিন সিলেবাস কভার করার জন্য ইউনিভার্সিটিতে এক্সট্রা লেকচার দিতে হয়। মন দিয়ে ক্লাসটা কর, মেজাজ খারাপ করিস না।"
রাহুলের তরফ থেকে একটুক্ষণ কোনো মেসেজ এল না। তারপর একটা ছোট্ট মেসেজ ঢুকল:
"হুম। তা তোমার কী খবর ওদিকে? পেপারটা শেষ হলো?"
ইন্দিরা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে টাইপ করলেন:
"আর বলিস না। কাজের তো কোনো শেষ নেই। এখনও সেই পেপারটা নিয়েই পড়ে আছি, মাথা ধরে গেছে একদম। একটানা বসে ঘাড়টাও বড্ড ব্যথা করছে। বড্ড টায়ার্ড লাগছে।"
মেসেজটা পড়ার পর রাহুলের রিপ্লাই এল বেশ দ্রুত, একরাশ উদ্বেগের সাথে:
"ইশশ... খুব মাথা ধরেছে? তুমি একটু রেস্ট নাও না মা। আমি তোমায় বলেছিলাম না এতক্ষণ টানা ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে বসবে না! এক কাজ করো, চোখ বন্ধ করে একটু শুয়ে থাকো।"
ছেলের এই উদ্বেগ দেখে ইন্দিরার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল। তিনি দ্রুত টাইপ করলেন:
"রেস্ট নেওয়ার উপায় নেই রে সোনা। এই পেপারটা আজকেই সাবমিট করতে হবে। তার ওপর কাল তোর বাবা ফিরবে, তার আগে সব গুছিয়ে রাখতে হবে।"
স্ক্রিনে আবার ‘টাইপিং...’ ভেসে উঠল। রাহুল লিখল:
"আচ্ছা, তুমি একদম চিন্তা কোরো না। আমি তো সাড়ে ছটায় ফিরছি। ফিরে আমি তোমার ঘাড় আর মাথা টিপে দেব। দেখবে, একদম ম্যাজিকের মতো ব্যথা গায়েব হয়ে যাবে।"
ছেলের এই মিষ্টি আবদার আর যত্ন নেওয়ার কথা পড়ে ইন্দিরার বুকের ভেতরটা এক অদ্ভুত মমতায় ভরে গেল। তিনি মুচকি হেসে টাইপ করলেন:
"ওরে বাবা! আমার ছেলের কত খেয়াল মায়ের জন্য! তোর আর মাথা টিপে দিতে হবে না, তুই সাবধানে ক্লাস শেষ করে বাড়ি ফিরলেই আমার শান্তি।"
রাহুল যেন নাছোড়বান্দা, ওর পরের মেসেজ এল:
"না মা, আমি সিরিয়াস। আমি বাড়ি ফিরে তোমার সব ক্লান্তি, সব স্ট্রেস দূর করে দেব। তুমি জাস্ট রিল্যাক্স করবে।"
ইন্দিরা এবার বেশ মজাই পেলেন। ছেলেটা বড় হয়ে গেছে ঠিকই, কিন্তু মায়ের খেয়াল রাখার একটা অদ্ভুত চেষ্টা ওর মধ্যে সবসময় থাকে। তিনি প্রশ্রয়ের সুরে লিখলেন:
"আচ্ছা বাবা, দেখা যাবে তোর কত ম্যাজিক। এখন এসব কথা রাখ, স্যারের লেকচারে মন দে।"
কয়েক মুহূর্ত পর রাহুলের দিক থেকে মেসেজ এল:
"কিন্তু আমার তো একটা কন্ডিশন আছে..."
ইন্দিরা ভুরু কুঁচকে একটু অবাক হলেন। আবার কীসের কন্ডিশন? তিনি টাইপ করলেন:
"আবার কন্ডিশন? কীসের কন্ডিশন?"
স্ক্রিনে কয়েক সেকেন্ড ধরে ‘টাইপিং...’ চলল। তারপর রাহুলের যে মেসেজটা স্ক্রিনে ফুটে উঠল, তা ইন্দিরার চোখের সামনে যেন এক টুকরো বোমার মতো ফাটল।
"আমি তোমার মাথা টিপে দেব, তোমার সব স্ট্রেস দূর করব, কিন্তু তার বদলে... বাড়ি ফেরার পর... কাল রাতের মতো... আমাকে একটু আদর করতে দেবে প্লিজ?"
শব্দগুলো পড়ার সাথে সাথে ইন্দিরার বুকের ভেতরটা যেন এক লহমায় স্তব্ধ হয়ে গেল। হাতের তালু দুটো মুহূর্তের মধ্যে ঘেমে উঠল। হৃৎপিণ্ডটা এক আদিম, বন্য ত্রাসে এমনভাবে আছড়ে পড়তে লাগল যে তাঁর মনে হলো বুকের পাঁজরে কেউ হাতুড়ি পেটাচ্ছে। তিনি বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যে রাহুল টিউশনের মতো একটা পাবলিক স্পেসে বসে হোয়াটসঅ্যাপে এরকম একটা মেসেজ টাইপ করার সাহস দেখিয়েছে!
কাঁপাকাঁপা হাতে, এক চরম প্যানিক আর রাগের মিশ্রণে তিনি দ্রুত টাইপ করতে শুরু করলেন:
"রাহুল! তোর কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে? তুই পুরোপুরি পাগল হয়ে গেছিস? তুই এখন কোথায় বসে আছিস? ক্লাসের মধ্যে? তোর চারপাশে তো স্টুডেন্টরা গিজগিজ করছে! যদি কেউ তোর ফোনের স্ক্রিনে উঁকি মারে? যদি কেউ তোর এই মেসেজটা পড়ে নেয়? তুই বুঝতেই পারছিস তুই কী সর্বনাশ করছিস? তুই এসব কী লিখছিস চ্যাটে!"
মেসেজটা সেন্ড করেই তিনি রুদ্ধশ্বাসে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
ওপাশ থেকে রাহুলের রিপ্লাই এল খুব দ্রুত, যেন সে পরিস্থিতিটাকে একদম হালকা করতে চাইছে:
"মা... উফফ, তুমি জাস্ট রিল্যাক্স করো! আমি ক্লাসরুমে নেই। নেক্সট ক্লাস শুরুর আগে স্যার ব্রেক দিয়েছেন, আমি এখন টিউশন সেন্টারের বাইরে একটা ফাঁকা জায়গায় বসে মেসেজ করছি। আমার ধারেকাছে একটাও লোক নেই। তুমি প্লিজ একটু শান্ত হবে? তুমি এমনভাবে রিয়্যাক্ট করছ যেন আমি কোনো ইললিগাল বা ক্রিমিনাল কিছু করে বসেছি! আমার জাস্ট এখানে আসার পর মনটা খারাপ লাগছিল, তাই ভাবলাম মায়ের কাছে একটু আদর চাইব... বাড়ি ফিরে একটু আদর করব মাকে। এতে প্রবলেমটা কীসের, মা?"
ইন্দিরার কপালে তখন বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে। এই ছেলেটার এই চরম অবাধ্যতা আর পরিস্থিতি না বোঝার ক্ষমতা তাঁকে পাগল করে দিচ্ছিল। তিনি টাইপ করলেন:
"প্রবলেমটা কীসের? তুই বুঝতে পারছিস না প্রবলেমটা কোথায়? তুই এখন পড়াশোনা করতে গেছিস, রাহুল! ওই পরিবেশে বসে তোর মাথায় এইসব চিন্তা আসছে কী করে? তোর এখন শুধু ক্লাসের পড়ায় ফোকাস করা উচিত। আর এইসব ফালতু কথা চ্যাটে লেখা এক্ষুনি বন্ধ কর। এটা হোয়াটসঅ্যাপ! তোর যদি খুব বলার ইচ্ছেই ছিল, তুই বাড়ি ফিরে তো আমাকে সামনাসামনি বলতে পারতিস! চ্যাটে এসব কেন লিখছিস?"
ইন্দিরা ভেবেছিলেন এই কড়া ধমকে রাহুল একটু শান্ত হবে বা ভয় পাবে। কিন্তু তার বদলে রাহুলের পরের মেসেজটা পড়ে ইন্দিরার মুখটা অপমানে আর এক অদ্ভুত লজ্জায় লাল হয়ে গেল।
"ওহ আচ্ছা! তার মানে আমি যদি বাড়ি ফিরে সামনাসামনি তোমাকে এই কথাটা বলতাম, তাহলে তুমি আমাকে আদর করতে দিতে? তাহলে ডিল ডান?" সাথে একটা চোখ-টেপা ইমোজি।
ইন্দিরার রাগে সারা শরীর রি-রি করে উঠল। এই ধূর্ত, পাকা ছেলেটা তাঁরই কথার ফাঁদ দিয়ে তাঁকেই আটকাচ্ছে! কাল রাতের ওই নিবিড় আদরের পর থেকে ছেলেটার আবদার আর আদুরেপনা যেন সমস্ত সীমানা, সমস্ত যুক্তির দেওয়াল ভেঙে ফেলতে চাইছে। মায়ের একটুখানি প্রশ্রয় পেয়ে ছেলেটা যেন একদম পাগল হয়ে গেছে। তিনি আর এক মুহূর্তও এই চ্যাট কন্টিনিউ করতে চাইলেন না।
পরপর কয়েকটা লাল রঙের রাগী ইমোজি সিলেক্ট করে তিনি সেন্ড করলেন, তারপর লিখলেন:
"রাহুল, দিস ইস এনাফ! আমি আর তোর সাথে একটাও কথা বলতে চাই না এখন। আমার অনেক কাজ আছে, আমি কাজে ফিরে যাচ্ছি। তুই ক্লাস কর।"
মেসেজটা পাঠিয়েই তিনি ধপ করে ফোনটা টেবিলের ওপর উলটে রাখলেন। বুকের ভেতরটা তখনও হাঁপাচ্ছে। তিনি চোখ বন্ধ করে চেয়ারে হেলান দিলেন।
৯.৩. এক হিমশীতল বাস্তবতা
সূর্য ততক্ষণে দিগন্তের ওপারে হারিয়ে গেছে। কলকাতার রাস্তায় জ্বলে উঠেছে নিয়ন আলো। ঘড়ির কাঁটা সাড়ে ছ'টা ছুঁইছুঁই।
রাহুল অত্যন্ত ক্লান্ত শরীরে লিফট থেকে নেমে নিজের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে এসে দাঁড়াল। সারাটা দিন ওই একঘেয়ে ক্লাসে ওর মগজ রীতিমতো শুকিয়ে গেছে। কিন্তু বাড়ি ফেরার পথে ওর মনের ভেতর একটাই চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিল—মা। কাল রাতের সেই অলৌকিক, স্বর্গীয় নৈকট্যটা ওর মগজে এক নেশার মতো গেঁথে আছে। ও ভেবেছিল বাড়ি ফিরলেই হয়তো মা দরজা খুলবে, আর ও সোজা গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরবে।
ও কলিং বেলটা বাজাল।
কয়েক সেকেন্ড পর দরজার লক খোলার শব্দ হলো। কিন্তু দরজাটা খুলতেই রাহুলের বুকের ভেতর জমে থাকা সমস্ত প্রত্যাশা এক লহমায় ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।
দরজায় দাঁড়িয়ে আছে গঙ্গা মাসি।
"আরে রাহুল বাবা, আ গয়ে আপ? বড়ে থকে হুয়ে লগ রহে হো!" গঙ্গা মাসি একগাল হেসে হিন্দিতে অভ্যর্থনা জানাল।
রাহুল এক মুহূর্তের জন্য যেন পাথর হয়ে গেল। ওর মাথা থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে গিয়েছিল যে গঙ্গা মাসি আগামী কয়েকদিন ওদের বাড়িতেই থাকছে! মাসির স্বামী কী একটা কাজে অন্য শহরে গেছে, তাই মা-ই মাসিকে বলে দিয়েছেন রাতে কদিন এখানে থেকে যেতে। কাল সন্ধেবেলা মাসি ছিল না, তাই বাড়িটা ফাঁকা ছিল। কিন্তু আজ...
বাস্তবের এই হিমশীতল ধাক্কাটা রাহুলের মগজে আছড়ে পড়তেই ওর মনের ভেতরের সেই কল্পনার রঙিন মহলটা ধসে পড়ল।
"মা কোথায় মাসি?" রাহুল জুতো খুলতে খুলতে অত্যন্ত নিস্পৃহ গলায় জিজ্ঞেস করল।
"আরে ম্যাডাম জি তো একদম বিজি হ্যায় বাবা!" গঙ্গা মাসি দরজায় ছিটকিনি তুলে দিতে দিতে বলল, "সারা দিন অপনে উস কামরে মে ল্যাপটপ লে কর বঠী হ্যায়। ম্যায়নে তো উনকা খানা ভি কামরে মে দে দিয়া। উনহোনে বোলা কি উনকো একদম ডিস্টার্ব না কিয়া যায়ে। আপ হাত-মুঁহ ধো লো, ম্যায় আপকা খানা লাগা দেতী হুঁ।"
রাহুলের বুকের ভেতরটা এক তীব্র অপমানে আর অভিমানে ভরে উঠল। মা এত ব্যস্ত যে ওর সাথে দেখা করতেও এল না? কিন্তু এমনটা তো আগে কোনোদিন হয়নি! মা বাড়িতে থাকলে যত কাজের চাপই থাকুক না কেন, নিজের হাতে রাহুলকে ডিনার সার্ভ করবেই, আর ওরা সবসময় একসাথেই খায়। এমনকি বাবা যখন বাড়িতে থাকে, মায়ের সেই রাশভারী আর মেপে চলা আচরণের মধ্যেও অন্তত ডিনার টেবিলটায় মায়ের মুখোমুখি বসে খাওয়ার সুযোগটুকু রাহুল পেত। বাবার সামনে মায়ের ওই দূরত্বটুকুও রাহুল মুখ বুজে মেনে নিত, কারণ ওই ডিনারের সময়টুকুই ওর মনের ক্লান্তি দূর করে দিত। কিন্তু আজ? দুপুরবেলায় হোয়াটসঅ্যাপে ওই ধমক দেওয়ার পর থেকে মা ওর সাথে কোনো যোগাযোগ তো করেইনি, উল্টে আজ রাতে ওর সাথে ডিনার করাটাও এড়িয়ে গেল? মাসিকে দিয়ে ওর খাবার সার্ভ করাচ্ছে?
রাহুল আর একটা কথাও বলল না। সে নিজের ঘরে গিয়ে ব্যাগটা ছুঁড়ে ফেলল বিছানায়। বাথরুমে গিয়ে মুখে চোখে জল দিয়ে সোজা এসে বসল ডাইনিং টেবিলে। বিশাল ওই ডাইনিং টেবিলটায় ও একা বসে গঙ্গা মাসির দেওয়া ডিনারটা গিলতে লাগল। খাবারগুলো যেন ওর গলায় আটকে যাচ্ছিল। নিঃশব্দে খাওয়া শেষ করে ও সোজা নিজের ঘরে চলে গেল। দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ করে দিয়ে ও নিজের স্টাডি টেবিলে বসল। বইখাতা বের করে এক রোবটের মতো ডুবে গেল আগামী সোমবারের অ্যাসাইনমেন্টগুলোর মধ্যে। ওর মনে হলো, ঠিক আছে, মা যখন ব্যস্ততা দেখাচ্ছে, তখন ও-ও কাউকে ডিস্টার্ব করবে না।
রাত এগোতে লাগল। ঘড়ির কাঁটা দশটা পেরিয়ে এগারোটার ঘরে পৌঁছাল। পুরো ফ্ল্যাট নিস্তব্ধ। গঙ্গা মাসি নিজের ঘরে শুতে চলে গেছে।
রাহুল হঠাৎ চেয়ার ছেড়ে উঠল। ওর ভেতরের অভিমানটা এবার একটা চরম বিন্দুতে পৌঁছেছে। ও সোজা হেঁটে গেল ইন্দিরার স্টাডি রুমের দিকে। দরজাটা ভেজানো ছিল। ও টোকা দিল।
"কাম ইন," ভেতর থেকে ইন্দিরার গম্ভীর, ক্লান্ত গলা ভেসে এল।
রাহুল দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল।
ইন্দিরা ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে ওর দিকে তাকালেন। আর তাকানো মাত্রই তাঁর চোখের দৃষ্টি এক চরম মাতৃসুলভ ক্রোধে জ্বলে উঠল।
"রাহুল! তুই একবার নিজের ফোনটা চেক করেছিস?" ইন্দিরার গলার স্বর রীতিমতো ফুঁসছিল। তিনি চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। "আমি তোকে ঠিক ক'বার কল করেছি, তুই বলতে পারিস? তুই সেই সাড়ে ছ'টায় বাড়ি ফিরেছিস, ডিনার করে নিজের ঘরে ঢুকে গেছিস, আর আমাকে একবার জানানোর প্রয়োজনও বোধ করিসনি যে তুই ফিরেছিস? তুই কি ভুলে গেছিস যে তোর একটা মা আছে, যে তোর জন্য চিন্তা করতে পারে? নাকি তোর কাছে মায়ের চিন্তার কোনো দামই নেই?"
ইন্দিরা টেবিলের ওপর থেকে নিজের ফোনটা তুলে নিলেন, তাঁর হাত সামান্য কাঁপছে রাগে। "আমি এখানে বসে বসে পাগল হয়ে যাচ্ছি! আমি ভাবছি ছেলেটা এখনও ফিরল না কেন, রাস্তায় কোনো বিপদ হলো কি না! থ্যাঙ্ক গড গঙ্গা মাসি ছিল। ও এসে আমাকে বলল যে তুই ফিরেছিস, খেয়ে নিজের ঘরে পড়াশোনা করতে ঢুকে গেছিস। তোর কি একবারও মনে হলো না যে স্টাডি রুমের দরজাটা একটু নক করে মাকে মুখটা দেখিয়ে যাই? ইউ হ্যাভ বিকাম সো ইনসেনসিটিভ, রাহুল!"
রাহুল মায়ের এই দীর্ঘ, রাগী মনোলগটা শুনে প্রথমে একটু চমকে গেল। ও পকেট থেকে ফোনটা বের করে দেখল। সত্যিই মায়ের তিনটে মিসড কল।
"আমার ফোনটা সাইলেন্ট করা ছিল, মা," রাহুল অত্যন্ত নিস্পৃহ, ঠান্ডা গলায় বলল। "ক্লাসের সময় সাইলেন্ট করেছিলাম, তারপর আর অন করা হয়নি। আর আমি বাড়ি ফিরেই সোজা পড়তে বসে গেছি। সামনে সপ্তাহে অনেক অ্যাসাইনমেন্ট আছে, সেগুলোর স্ট্রেস ছিল।"
ইন্দিরা এক মুহূর্ত থমকালেন। ছেলের এই নির্বিকার উত্তর তাঁকে আরও রাগিয়ে দিল। "স্ট্রেস ছিল? স্ট্রেস থাকলে মাকে একবার বলা যায় না যে আমি বাড়ি ফিরেছি?"
রাহুল চোখের দৃষ্টিটা স্থির রেখে বলল, "মা, তুমি তো জানতে আমার সাড়ে ছটায় ফেরার কথা। তুমি তো একবার নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে এসে দেখতে পারতে! তুমি তো একবারও নিজে থেকে আমার খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করোনি।"
ইন্দিরার ভেতরের রাগটা এবার যেন বারুদের মতো জ্বলে উঠল। তিনি টেবিলের ওপর হাত দুটো ভর দিয়ে সামান্য সামনের দিকে ঝুঁকে এক কড়া, তীক্ষ্ণ গলায় বললেন, "খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করিনি? তোর কি মনে হয় এটা আমার দায়িত্ব যে তুই বাড়ি ফিরেছিস কি না সেটা বাড়ি ঘুরে ঘুরে তদন্ত করে বেড়াব? তুই কি ছোট বাচ্চা? এটা তোর বেসিক কার্টেসি যে বাড়ি ফিরে মাকে জানাবি! আর হ্যাঁ, আমি ইচ্ছে করেই তোর কাছে যাইনি! আই ইনটেনশনালি ডিডনট কাম টু ইউ! তোকে একটা লেসন দেওয়ার দরকার ছিল।"
রাহুল চুপ করে রইল, কিন্তু ওর চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল।
"তুই দুপুরে হোয়াটসঅ্যাপে যা করেছিলিস," ইন্দিরা ফুঁসতে ফুঁসতে বলতে লাগলেন, "তোর ওই স্পর্ধার জন্যই আমি ইচ্ছে করে নিজের ঘরে বসেছিলাম। আমি দেখতে চাইছিলাম তোর নিজের দায়িত্ববোধ বলে কিছু আছে কি না! কিন্তু তুই প্রমাণ করে দিলি তোর কাছে নিজের জেদটাই সব! বাড়ি ফিরেছি - শুধু এই কথাটুকু মাকে বলতে আসতে পারলি না।"
"কিন্তু বলে কী লাভ হতো, মা?" রাহুলের গলার স্বরে এবার এক তীব্র, জমাট বাঁধা অভিমান ফুটে উঠল। ও সোজা মায়ের চোখের দিকে তাকাল। "আমার বাড়ি ফেরা না-ফেরাতে তোমার কী-ই বা এসে যায়? আমি তো টিউশনে সারাদিন পড়াশোনাই করছিলাম, আর বাড়ি ফিরেও সেই পড়াশোনাই করছি। ডিফারেন্সটা কোথায়?"
ইন্দিরা অবাক হয়ে গেলেন। তাঁর ভ্রু কুঁচকে গেল। "মানে? তুই এসব কী বলছিস, রাহুল?"
"হ্যাঁ তো, ঠিকই তো বলছি," রাহুল একটু ঘাড় বাঁকিয়ে, এক চরম উপেক্ষার সুরে বলল। "তুমি তো আজকে সারাটা দিন বড্ড বিজি। দুপুরে তো মেসেজে পরিষ্কার বুঝিয়ে দিলে যে আমাকে তোমার দরকার নেই। আর এখন বলছ তুমি ইচ্ছে করেই আমার কাছে আসোনি। তা আমি ভাবলাম, কেন আমি শুধু শুধু তোমাকে ডিস্টার্ব করব? আমি আমার কাজটাই করি। তাই আমি সোমবারের সমস্ত অ্যাসাইনমেন্ট, সমস্ত হোমওয়ার্ক কমপ্লিট করে ফেলেছি। যাতে তোমার ওই মহামূল্যবান সময় আমি একটুও নষ্ট না করি।"
ইন্দিরা স্তব্ধ হয়ে গেলেন। তাঁর ভেতরের রাগটা এক লহমায় কোথায় যেন উধাও হয়ে গেল। "তুই সোমবারের সব হোমওয়ার্ক শেষ করে ফেলেছিস? দ্যাটস... দ্যাটস ভেরি গুড, রাহুল..." তাঁর গলার স্বর এখন অনেক নরম, কিন্তু ভেতরে এক অদ্ভুত অস্বস্তি।
"হ্যাঁ, হোয়াটএভার," রাহুল কাঁধ ঝাঁকাল। ওর মুখের ভাষায় এক চরম ডিটাচমেন্ট। "যাই হোক... আমি আর তোমাকে ডিস্টার্ব করতে চাই না। তোমার পেপার রিভিশন এমনিতেই অনেক ডিলে হয়ে গেছে আমার জন্য। আমি যাই, গিয়ে আরও একটু পড়ি।"
কথাটা বলেই রাহুল ঘুরে দরজার দিকে পা বাড়াল।
"রাহুল... দাঁড়া।"
(rest of the Chapter continued in the next post...)
RE: The Barter System (By:andygarfield) -
Bad Boy - 09-02-2026
(rest of the Chapter....)
ইন্দিরার গলার স্বরটা এবার আর কোনো কড়া মায়ের নয়, বরং এক চরম অপরাধবোধে ভোগা, নরম এবং অসহায় এক নারীর। তিনি দ্রুত টেবিলের পাশ থেকে বেরিয়ে এসে রাহুলের দিকে এগিয়ে গেলেন।
"হুম... মনে হচ্ছে আজ কেউ একজন মায়ের ওপর খুব রেগে আছে..." তিনি খুব মোলায়েম, আদুরে গলায় বললেন।
রাহুল দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল, কিন্তু কিছু বলল না। ওর মুখটা এক চরম অভিমানে ফুলে আছে, ঠিক যেমন ছোটবেলায় খেলনা না পেলে করত।
ইন্দিরা এগিয়ে এসে ওর একদম সামনে দাঁড়ালেন। তিনি নিজের হাতটা বাড়িয়ে ওর অবাধ্য, রুক্ষ চুলগুলোর মধ্যে আঙুল চালিয়ে দিলেন। "ওকে বাবা... আই অ্যাম সরি। আমার একটু আগে ওভাবে তোর ওপর রাগ করাটা ঠিক হয়নি। আমি তো জানতাম না তোর ফোন সাইলেন্ট ছিল, আর তুই এতটা স্ট্রেসড ছিলি... মায়ের ওপর রাগ করে না, সোনা..."
রাহুল মাথা নিচু করে রইল। ওর ঠোঁট দুটো কেঁপে উঠল।
"রাগ করব না তো কী করব?" ও মুখ নিচু করেই গজগজ করে বলল, "আমি যদি বাড়ি ফিরে তোমার ঘরে এসে বলতাম যে আমি ফিরেছি, তাহলেও তো তুমি একই কাজ করতে। তুমি বলতে... ‘ওকে, এবার নিজের ঘরে যা... আমি বড্ড বিজি...’ বা ওই জাতীয় কিছু। তুমি তো আজ আমার সাথে ভালো করে কোনো কথাই বলতে চাওনি। দুপুরের মেসেজে সেটা খুব ক্লিয়ারলি বুঝিয়ে দিয়েছ।"
ইন্দিরা ওর এই কথাগুলো শুনে এক তীব্র অপরাধবোধে কুঁকড়ে গেলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, দুপুরবেলার ওই কড়া মেসেজটা ছেলেটার মনে কতটা গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। তিনি ওর গালদুটো নিজের হাতের তালুতে তুলে ধরলেন।
"রাহুল... কাম অন... ওভাবে বলিস না সোনা..." ইন্দিরার গলায় এখন এক অদ্ভুত কাতরতা।
"আমি তো সত্যি কথাই বলছি," রাহুল চোখ তুলে তাকাল, ওর চোখে এক অদ্ভুত আর্দ্রতা। "আমি জাস্ট বুঝতে পারি না, একটুখানি আদর চাওয়াতে প্রবলেমটা কোথায় ছিল? আমি সারাটা দিন টিউশনে প্রচুর খেটেছি....আর আমার মনটা কেমন যেন করছিল, ভালো লাগছিল না পড়তে, তোমার কথা মনে পড়ছিল... আর সেই জন্যই তো আমি তোমাকে দুপুরে মেসেজটা করেছিলাম। আমি তো জাস্ট একটু মায়ের আদর চেয়েছিলাম..."
ইন্দিরার বুকের ভেতরটা যেন দুমড়ে মুচড়ে গেল। তিনি ডেসপারেট হয়ে ওকে বোঝানোর চেষ্টা করতে লাগলেন। "সোনা... প্লিজ ওভাবে বলিস না... তুই তো জানিস মা আজ কতটা ব্যস্ত রে... আমাকে আজ রাতের মধ্যে এই পেপারটা রিভিউ করে পাঠাতেই হবে সোনা... প্লিজ বোঝার চেষ্টা কর... ডোন্ট বিহেভ লাইক আ বেবি, রাহুল... প্লিজ মায়ের ওপর আর রাগ করে থাকিস না..."
রাহুল ওর সেই আর্দ্র, অভিমানী চোখদুটো মায়ের চোখের ওপর স্থির রেখে অত্যন্ত নিচু গলায় বলল, "আজকে আমি একা বসে ডিনার করেছি, মা... সম্পূর্ণ একা।"
"তুমি জানো এটা আমার কাছে কতটা কষ্টের? আজ পর্যন্ত এমন কোনোদিন হয়নি যে তুমি বাড়িতে আছো অথচ আমি একা খাচ্ছি। বাবার সামনে তুমি যখন একদম প্রফেসরের মতো গম্ভীর হয়ে থাকো, আমাকে শাসন করো, আমি তো কিছু মনে করি না। কারণ আমি জানি ওই ডিনার টেবিলটাই আমার একমাত্র শান্তি। আমি শুধু তোমার মুখোমুখি বসে অন্তত এটুকু ফিল করতে পারি যে তুমি আছো। কিন্তু আজ... আজ তুমি সেটাও কেড়ে নিলে? দুপুরে আমি শুধু একটুখানি আদর চেয়েছিলাম বলে তুমি আমাকে এভাবে শাস্তি দিলে? তুমি তো জানো আমি তোমাকে ছাড়া আর কাউকে চিনি না... তুমি এতটা হার্শ কী করে হতে পারলে মা?"
ছেলেটার এই লম্বা, হাহাকার মাখানো কথাগুলো ইন্দিরার কানে এক তীব্র চাবুকের মতো আছড়ে পড়ল। তিনি কয়েক সেকেন্ডের জন্য সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। তাঁর ভেতরের সমস্ত যুক্তি, সমস্ত কাজের প্রেশার, গঙ্গা মাসির উপস্থিতি, আর ওই লেসন শেখানোর অহংকার—সবকিছু যেন এক লহমায় অর্থহীন হয়ে গেল। এই ছেলেটা, তাঁর নিজের নাড়ি-ছেঁড়া ধন, আজ সারা দিন তাঁর একটু ছোঁয়ার জন্য, একটু আদরের জন্য চাতকের মতো বসে আছে। আর তিনি নিজের ইগো আর নিয়মের বেড়াজালে আটকে ওকে এই অসীম কষ্ট দিয়েছেন।
তিনি খুব ধীরে ধীরে রাহুলের চিবুকটা নিজের আঙুল দিয়ে আলতো করে ওপরে তুললেন। তাঁর চোখের দৃষ্টি এখন এক চরম মাতৃত্বের ওমে আর এক নিষিদ্ধ প্রশ্রয়ে গলে গেছে।
"ওকে..." তিনি ফিসফিস করে বললেন, গলার স্বরটা বড্ড ভারী, "...পাঁচ মিনিট... ওকে, সোনা?"
রাহুলের সেই আর্দ্র, অভিমানী চোখদুটো মুহূর্তের মধ্যে এক অলৌকিক আলোয় ঝলমল করে উঠল। ওর ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক অবিশ্বাসের হাসি।
"হ্যাঁ সোনা..." ইন্দিরা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "কিন্তু জাস্ট পাঁচ মিনিট। গঙ্গা মাসি এই বাড়িতেই আছে... আর আমাকে সত্যি সত্যি কাজে ফিরতে হবে।"
রাহুলের বুকের ভেতরটা তখন তীব্র উত্তেজনায় কাঁপছে। ও তোতলামির সুরে বলে উঠল, "ও... ও... ওকে মা... তা... তাহলে... আমার ঘরে?"
ইন্দিরা একটু অবাক হয়ে মাথা নাড়লেন। "না না, শুধু শুধু তোর ঘরে কেন যাব? আমরা তো দুজনেই এই ঘরে আছি, তাই না?" তিনি ঘুরে দাঁড়িয়ে ধীর পায়ে নিজের ঘরের বিশালাকায় নরম বিছানাটার দিকে পা বাড়ালেন।
রাহুল দরজার কাছে এক মুহূর্তের জন্য যেন জমে গেল।
ইন্দিরা বিছানায় গিয়ে আরাম করে বসলেন। তারপর রাহুলের দিকে তাকিয়ে খুব শান্ত, অথচ এক অদ্ভুত উত্তেজনায় মাখানো গলায় বললেন, "সোনা... দরজাটা একটু ভেজিয়ে দিবি প্লিজ?"
রাহুল যন্ত্রচালিতের মতো ঘুরে দরজাটা ভেজিয়ে দিল।
"ইউ নো হোয়াট?" ইন্দিরার গলার স্বর এবার ফিসফিসানিতে নেমে এল, "ওটা লক করে দে। ছিটকিনিটা তুলে দে।"
৯.৪. ইন্দিরার স্নেহপ্রপাত
রাহুলের হৃৎপিণ্ডটা এক লাফে গলার কাছে উঠে এল। ও কাঁপা হাতে দরজার ছিটকিনিটা তুলে দিল। 'খট' করে একটা ছোট্ট ধাতব শব্দ হলো। আর সেই শব্দের সাথেই যেন বাইরের পৃথিবীর সমস্ত নিয়মকানুন এই ঘরের বাইরে চিরকালের জন্য তালাবন্ধ হয়ে গেল।
স্টাডি রুমের ওই নিভৃত পরিবেশটা এখন এক অদ্ভুত, দমবন্ধ করা রোমাঞ্চে ভারী হয়ে উঠেছে। বইয়ের তাকগুলোর ছায়া, টেবিল ল্যাম্পের হলুদ আলো, আর জানলার ফাঁক দিয়ে আসা রাতের কলকাতার নিস্তব্ধতা—সব মিলিয়ে এক মায়াবী আবহ তৈরি করেছে।
ইন্দিরা বিছানার ওপর একটু হেলান দিয়ে শুয়ে পড়লেন। তাঁর চোখদুটো এখন এক চরম আহ্বান আর ভালোবাসায় চকচক করছে।
"আয় এবার এদিকে, সোনা," তিনি দুই হাত প্রসারিত করে ডাকলেন, "অনেকক্ষণ ধরে আমার ছেলেটা একটা স্যাড বাচ্চার মতো মুখ করে আছে। তুই তো জানিস, আমার বাবুটার মুখ ভার থাকলে মায়ের বুকের ভেতরটা কেমন ফেটে যায়, তাই না? আয় এবার... জাস্ট পাঁচ মিনিট কিন্তু... আয় মায়ের কাছে।"
রাহুল আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। ও এগিয়ে গিয়ে বিছানায় উঠল এবং সোজা ইন্দিরার গায়ের ওপর গিয়ে পড়ল। ইন্দিরা দুই হাত দিয়ে ওকে পরম আশ্লেষে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলেন।
"উমম... আমার সোনা... আমার মিষ্টি বাচ্চাটা..." ইন্দিরা একনাগাড়ে ওকে আদর করতে লাগলেন, ওঁর ঠোঁটদুটো রাহুলের কপালে, চুলে, গালে পরপর অজস্র চুমু খেতে লাগল। "মা তোকে বড্ড ভালোবাসে রে... বড্ড ভালোবাসে... মায়ের ওপর আর রাগ নেই তো? আমার লক্ষ্মী সোনা... আমার অভিমানী বাবু..."
রাহুল ওঁর কাঁধের কাছে মুখ গুঁজে এক বুক গভীর শ্বাস নিল, তারপর মুখটা সামান্য তুলে মায়ের গালে, থুতনিতে পাগলের মতো চুমু খেতে লাগল। ওরা দুজন একে অপরকে এতটাই শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিল যে মনে হচ্ছিল ওদের দুজনের শরীরের মাঝে এক চুলও ফাঁকা জায়গা নেই।
কয়েক মিনিটের এই তীব্র, রুদ্ধশ্বাস আলিঙ্গনের পর রাহুল একটু মুখ তুলল। ওর চোখে তখন এক অবাধ্য তৃষ্ণা।
"মা..." ও ফিসফিস করে বলল, "আমি তোমাকে সারাটা দিন বড্ড মিস করেছি।"
ইন্দিরা ওর এই ঘোর লাগা চোখের দিকে তাকিয়ে খিলখিল করে হেসে উঠলেন। "তুই জাস্ট হোপলেস, রাহুল..."
"মা..." রাহুলের গলার স্বর এবার একটু কেঁপে উঠল, ও আঙুল দিয়ে ইন্দিরার ব্লাউজের ওপরের দিকে একটু টান দিল। "চলো না... কালকের মতো... একটু স্কিন-টু-স্কিন করি?"
ইন্দিরা ভুরু কুঁচকে একটু অবাক হলেন। "কী? স্কিন-টু-স্কিন? মানে?"
রাহুল একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেল। ও আঙুল দিয়ে ব্লাউজের কাপড়টা সামান্য ছুঁয়ে, তোতলামির সুরে আর বড্ড নিষ্পাপ গলায় বোঝানোর চেষ্টা করল, "মানে... ওই যে... কাল রাতের মতো... তোমার স্কিনের সাথে... আমার স্কিন... মানে তুমি ব্লাউজটা একটু... ইয়ে করবে?"
ইন্দিরার চোখদুটো মুহূর্তের মধ্যে বড় বড় হয়ে গেল। তিনি দ্রুত রাহুলের হাতটা সরিয়ে দিলেন। "না না সোনা... একদম না... প্লিজ... আমি তোকে বললাম না, আমাকে কাজে ফিরতে হবে... আর গঙ্গা মাসির আমাকে দরকার পড়তে পারে, কখন যে দুম করে চলে এসে দরজায় নক করবে তার কোনো গ্যারান্টি নেই।"
"মা, প্লিজ... খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে..." রাহুল অনুনয় করতে লাগল।
"না সোনা... আমি তোকে বললাম তো... এখন না... প্লিজ মায়ের কথা শোন, সোনা।" ইন্দিরার গলায় এখন এক তীব্র স্নায়বিক চাপ।
রাহুল বুঝল যে মা এখন কিছুতেই রাজি হবে না। ওর চোখদুটো হঠাৎ একটু নরম হয়ে এল। রাহুলের মনে পড়ে গেল মায়ের শরীরের সেই বিশেষ জায়গাটার কথা, যা কাল রাতের পর থেকে ওর কাছে বড্ড প্রিয় আর আপন হয়ে উঠেছে।
"মা... তাহলে... তাহলে অন্তত আমাকে ওই তিলটা একবার দেখতে দেবে?" ও একদম বাচ্চাদের মতো করে আবদার করল।
ইন্দিরা চরম বিস্ময়ে আর লজ্জায় হতবাক হয়ে গেলেন। "সোনা... তুই এসব কী বলছিস..."
"প্লিজ মা... আমার ওই তিলটা বড্ড ভালো লাগে..." রাহুল এক ঘোরের মধ্যে বলতে লাগল।
"কিন্তু রাহুল, আমি তোকে বললাম না আমি এখন ব্লাউজ খুলতে পারব না!"
"মা... কাল তো বাবা ফিরে আসবে..." রাহুলের গলার স্বরে এক তীব্র হাহাকার, "ভগবান জানেন এরপর কবে আমি আবার এই চান্স পাব... আমি শুধু তোমার ওই সুন্দর তিলটা একবার দেখতে চাই মা... প্লিজ... জাস্ট একটা চুমু খাব ওখানটায়... প্লিজ মা।"
ছেলের এই ডেসপারেট, করুণ আর্তি শুনে ইন্দিরার ভেতরের শেষ প্রতিরক্ষার দেওয়ালটাও ভেঙে পড়ল। তিনি একটা দীর্ঘ, পরাস্ত শ্বাস ফেললেন।
"সোনা... আমি... আমি তো..." তিনি বিড়বিড় করে বললেন, হাতদুটো তাঁর ব্লাউজের ওপরের বোতামের দিকে চলে গেল। "দেখ, আমি কিন্তু শুধু ওপরের একটুখানি খুলে দিতে পারি... পুরোপুরি খোলা যাবে না কিন্তু। আমি জাস্ট এইটুকু করতে পারি তোর জন্য, নাহলে বড্ড রিস্কি হয়ে যাবে। গঙ্গা মাসি যদি হঠাৎ নক করে, আমি অত তাড়াতাড়ি আবার সব পরে পুরো রেডি হতে পারব না সোনা... বুঝলি?"
রাহুল মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে রইল, ওর নিশ্বাস ভারী হয়ে এসেছে। ইন্দিরা ওর চোখের এই আকুলতা দেখে আর নিজেকে আটকাতে পারলেন না। তিনি খুব দ্রুত, কাঁপা হাতে ব্লাউজের ওপরের কয়েকটা বোতাম খুলে ফেললেন। তারপর ব্লাউজের কাপড়টা কাঁধ থেকে সামান্য একটু নিচের দিকে নামিয়ে দিলেন। তাঁর ফর্সা, মসৃণ ত্বকটা টেবিল ল্যাম্পের আলোয় ঝলমল করে উঠল। কিন্তু সেই কাঙ্ক্ষিত তিলটা তখনও তাঁর ব্রায়ের ফিতের ঠিক নিচে ঢাকা পড়ে আছে।
তিনি নিজেই খুব সাবধানে, পরম মমতায় নিজের ব্রায়ের সেই ফিতেটা ধরে একটু বাঁ দিকে সরিয়ে দিলেন।
আর অমনি, ফর্সা ত্বকের ওপর সেই গোল, চকচকে তিলটা রাহুলের চোখের সামনে উন্মুক্ত হয়ে গেল।
"ওই যে... সোনা..." ইন্দিরা চোখ বন্ধ করে ফিসফিস করে উঠলেন, ওঁর গলাটা এক অদ্ভুত মাতৃত্বের গভীরতায় আর প্রশ্রয়ে ভারী হয়ে এসেছে, "এই তো... দেখতে পেয়েছিস? এবার খুশি তো তুই?"
রাহুলের শ্বাস তখন প্রায় আটকে আসার জোগাড়। ও মন্ত্রমুগ্ধের মতো ফিসফিস করে বলল, "ওহ মা... হ্যাঁ... আমি বড্ড খুশি... থ্যাঙ্ক ইউ মা... থ্যাঙ্ক ইউ..."
কথাটা শেষ করেই রাহুল ওর মুখটা সোজা নামিয়ে নিয়ে গেল ওই তিলটার ওপর। ওর উষ্ণ, আর্দ্র ঠোঁটদুটো ওই ফর্সা ত্বকের ওপর, ঠিক তিলটার মাঝখানে এক গভীর, দীর্ঘস্থায়ী চুমু এঁকে দিল।
রাহুলের ঠোঁটের সেই তীব্র, উষ্ণ স্পর্শ লাগতেই ইন্দিরার মুখ থেকে এক অস্ফুট শব্দ ছিটকে বেরোলো।
"আহ্... হ্যাঁ সোনা... ঠিক ওখানটায়..." তিনি নিজের হাতদুটো রাহুলের মাথার পেছনে শক্ত করে চেপে ধরলেন, তাঁর আঙুলগুলো রাহুলের চুলের গভীরে ঢুকে গেল। "এই তো... মা এখানেই আছে... আমার বেচারা সোনাটা... সারাটা দিন এত খেটেছে শুধু মায়ের কাছ থেকে একটু আদর পাওয়ার জন্য... কর সোনা, আদর কর মাকে..."
রাহুল পরম আবেশে মায়ের ত্বকে ঠোঁট ঘষতে ঘষতে অস্ফুট স্বরে বলল, "উমম... মা... তোমার গায়ের গন্ধটা এত সুন্দর... আমার সারা জীবনের জন্য এখানেই থেকে যেতে ইচ্ছে করছে..."
ইন্দিরা ওর মাথাটা নিজের বুকের ওপর আরও শক্ত করে চেপে ধরলেন। তাঁর চোখদুটো টেবিল ল্যাম্পের আলো পেরিয়ে ঘরের সামনের দেওয়ালটার ওপর গিয়ে স্থির হলো। সেখানে একটা পুরোনো, বাঁধানো ফ্যামিলি ফটো টাঙানো আছে। ছবিতে সুব্রত দাঁড়িয়ে আছেন, আর ইন্দিরার কোলে বছর পাঁচেকের ছোট্ট একটা রাহুল, যে মায়ের শাড়ির আঁচলটা মুঠো করে ধরে খিলখিল করে হাসছে। ছবিটার দিকে তাকিয়ে ইন্দিরার বুকের ভেতরটা এক অবর্ণনীয় মাতৃত্বের জোয়ারে উথলে উঠল। এই যে এত বড়, চওড়া কাঁধের একটা যুবক আজ তাঁর বুকের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে এত আকুল হয়ে আদর চাইছে—এ তো সেই একই ছোট্ট ছেলেটা! সমাজ একে যাই বলুক, ইন্দিরার কাছে এ কেবলই তাঁর নিজের নাড়ি-ছেঁড়া ধন, যে একটুখানি আশ্রয়ের জন্য মায়ের গায়ের ওম খুঁজছে।
"আমার পাগল ছেলেটা," ইন্দিরা ফিসফিস করে বললেন, তাঁর চোখদুটো জলে চিকচিক করে উঠল, "তুই এত বড় হয়ে গেছিস... কিন্তু মায়ের কাছে তুই সেই ছোট্টটিই আছিস, রাহুল। তোর যখনই মাকে দরকার হবে... তুই ঠিক এভাবেই মায়ের কাছে ছুটে আসবি, কেমন?"
"আমি তোমাকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি, মা," রাহুল ওঁর গলার কাছে ফিসফিস করে বলল।
তারপর, এক চরম ঘোরের মাথায়, রাহুল হঠাৎ ওর জিভের ডগাটা বের করে ওই তিলটার ওপর খুব আলতো করে ছুঁইয়ে দিল।
এই সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত, ভিজে স্পর্শটা লাগতেই ইন্দিরার সারা শরীর ধনুকের মতো বেঁকে উঠল। এক তীব্র শিহরণ ওঁর মেরুদণ্ড বেয়ে নেমে গেল। তিনি এক ঝটকায় রাহুলের মাথাটা সামান্য দূরে সরিয়ে দিলেন।
"আআআহহহ!! উফ্ রাহুল! কী করছিস কী তুই!" তিনি চোখ পাকিয়ে শাসনের সুরে বলে উঠলেন, যদিও তাঁর গালদুটো লজ্জায় টকটকে লাল। "কী করলি এক্ষুনি ওটা? বল?"
রাহুল একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেল। ও মুখটা নিচু করে অত্যন্ত করুণ গলায় বলল, "সরি মা... আমি বুঝতে পারিনি... আসলে...মানে... কালকের পর থেকে.... এই তিলটা আমার এত ভালো লেগেছে যে... আমি জাস্ট আটকাতে পারলাম না নিজেকে মা। সরি, ভেরি সরি মা... আর করব না।"
ছেলের এই করুণ, লজ্জিত মুখটা দেখে ইন্দিরা একটু চুপ করে রইলেন। তিনি ওর কপালে হাত বুলিয়ে অত্যন্ত শান্ত, মাতৃসুলভ গলায় বললেন, "সোনা, মা তোকে বকছে না... কিন্তু তুই তো জানিস এটা ঠিক স্বাভাবিক নয়। কাল রাতের ব্যাপারটা.... ওটা একটা অন্য ব্যাপার ছিল... কিন্তু তুই বারবার এরকম করলে মায়েরও তো অস্বস্তি হয় রে... তুই এত বড় ছেলে, তুই তো বুঝবি বিষয়গুলো, তাই না?"
রাহুল চোখ নিচু করেই বলল, "আমি জানি মা... কিন্তু আমি সত্যিই আটকাতে পারিনি। তোমার ওই জায়গাটা... বড্ড ভালো লাগে আমার..."
ছেলের এই সহজ কথা শুনে ইন্দিরার ভেতরের প্রতিরক্ষার শেষ দেওয়ালটুকুও ধসে পড়ল। তিনি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ওর চিবুকটা ধরে আবার ওপরে তুললেন। তাঁর চোখে এখন এক অদ্ভুত নরম, প্রশ্রয়ে ভরা আলো।
"পাগল ছেলে," তিনি অত্যন্ত নিচু, মায়াবী গলায় ফিসফিস করে বললেন, "আসলে ওখানটায় বড্ড সুড়সুড়ি লাগে রে... তুই যদি ওভাবে করতে চাস... সেটা তাহলে মাকে একটু আগে থেকে বলে দিতে পারতিস তো..."
রাহুল অবিশ্বাসে চোখ বড় বড় করে তাকাল। তারপর ওর মুখে ফুটে উঠল এক চরম তৃপ্তির হাসি।
ও একটু আমতা আমতা করে, বেশ তোতলামির সুরে জিজ্ঞেস করল, "মা... তা... তাহলে... আমি কি... মানে, আমি কি একটু..."
ইন্দিরা ওর এই ঘাবড়ে যাওয়া চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলেন ছেলে ঠিক কী চাইছে। তাঁর বুকের ভেতরটা এক অদ্ভুত লজ্জায় আর আদরে কেঁপে উঠল। "কী রে? কী বলবি স্পষ্ট করে বল না।"
"আমি কি তোমার ওই তিলটায় একটু... একটু চাটতে পারি, মা?" রাহুলের গলার স্বরে এক চরম আকুতি, যেন সে পৃথিবীর সবচেয়ে মহামূল্যবান কোনো জিনিসের অনুমতি চাইছে।
ছেলের এই চরম অবাধ্য অথচ নিষ্পাপ আবদারে ইন্দিরার ফর্সা গালদুটো মুহূর্তের মধ্যে লজ্জায় টকটকে লাল হয়ে উঠল। তিনি আর মুখে কোনো কথা বলতে পারলেন না, কেবল একটা মিষ্টি, লাজুক হাসি ঠোঁটের কোণে ফুটিয়ে খুব আলতো করে মাথা নেড়ে সম্মতি জানালেন।
ও আবার মুখটা নামিয়ে নিয়ে গেল ওই তিলটার ওপর। আর এবার অত্যন্ত ধীর, নরম আর সাবলীলভাবে ওর জিভটা ওই ফর্সা ত্বকের ওপর খেলা করতে লাগল।
রাহুলের ভিজে, উষ্ণ জিভের সেই ধীর এবং ছন্দোবদ্ধ স্পর্শে ইন্দিরার চোখদুটো আপনা থেকেই বুজে এল। ঘরের স্তব্ধতাকে ছাপিয়ে তাঁর গলা দিয়ে বেরিয়ে এল এক অস্ফুট, দীর্ঘ তৃপ্তির শব্দ— "উমমম... আহ্... হ্যাঁ সোনা...আহ্হ... হিহি... কাতুকুতু লাগছে রে... একটু আস্তে... না না... থামতে হবে না... তুই করতে থাক... আহঃ... উমম..." তাঁর ফর্সা আঙুলগুলো রাহুলের মাথার চুলে আরও একটু নিবিড়ভাবে জড়িয়ে গেল, যেন তাকে নিজের বুকের ওমের আরও গভীরে টেনে নিতে চাইছেন।
"কী আদর খেতে ভালোবাসে আমার ছেলেটা..." ইন্দিরা ঘোরের ঘোরে ফিসফিস করে বলতে লাগলেন, তাঁর উষ্ণ শ্বাস রাহুলের চুলে আছড়ে পড়ছিল। "একটা আঠারো বছরের ধেড়ে ছেলে মায়ের তিল নিয়ে এমন পাগলামি করছে, কেউ দেখলে হাসতে হাসতে মরে যাবে রে বাঁদর..." তিনি একাধারে হাসছিলেন আবার জিভের ওই নরম, সুড়সুড়ি মাখানো স্পর্শে তাঁর শরীর মাঝে মাঝেই সামান্য কেঁপে উঠছিল। "উফ্, তুই তো একদম বিড়ালছানার মতো চাটতে শুরু করলি রে....আহ্হ্হ....উহুহু..." তিনি খিলখিল করে হেসে উঠেও ওকে সরিয়ে দিলেন না। বরং এক অদ্ভুত, আদিম মাতৃত্বের প্রশ্রয়ে ফিসফিস করলেন, "তোর এই নেকামো আর আবদারের কাছে আমি সত্যিই হেরে যাই সোনা। কোথায় একটু বড় হবি, তা নয়, দিন দিন আরও কচি খোকা হয়ে যাচ্ছিস! নে, আদর খা... বড্ড তো অভিমান হয়েছিল মায়ের ওপর... " এক চরম প্রশ্রয়ে তিনি ওই পাঁচটা মিনিট নিজেকে সম্পূর্ণ সমর্পণ করে দিলেন।
পাঁচ মিনিট পর।
রাহুল অবশেষে মুখটা তুলল। ওর চোখেমুখে এক অদ্ভুত প্রশান্তি, এক চরম তৃপ্তির হাসি।
ইন্দিরা ওর চুলে হাত বুলিয়ে দিয়ে একটু হেসে জিজ্ঞেস করলেন, "কী রে? মা তোকে ভালো করে আদর দিল তো, সোনা? নাকি এখনও মায়ের ওপর অভিমান করে আছিস?"
রাহুল একগাল হেসে মাথা নাড়ল। "না মা, আর কোনো অভিমান নেই। আমার জন্য এটা করলে, তার জন্য থ্যাঙ্ক ইউ।"
তারা দুজনে বিছানায় একে অপরের মুখোমুখি শুয়ে রইল। মুখদুটো বড্ড কাছাকাছি, এতটাই কাছে যে রাহুলের নিঃশ্বাস ইন্দিরার ফর্সা ত্বকে এসে পড়ছিল। রাহুল এর আগে কোনোদিন মায়ের মুখ এত কাছ থেকে দেখেনি, কাল রাতেও না। টেবিল ল্যাম্পের নরম হলুদ আলোয় ইন্দিরার মুখের প্রতিটি ইঞ্চি যেন এক নিখুঁত শিল্পের মতো ফুটে উঠেছে। তাঁর টানা টানা চোখ, ঘন চোখের পাতা, তীক্ষ্ণ নাক, আর ফর্সা গালে বয়সের এক অদ্ভুত, প্রাজ্ঞ লাবণ্য—সবকিছু মিলিয়ে তাঁকে এক অপার্থিব সৌন্দর্যের অধিকারিণী মনে হচ্ছিল।
রাহুল মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল, "মা... তোমাকে এত কাছ থেকে দেখতে যে কতটা সুন্দর লাগে... তুমি জাস্ট ভাবতেও পারবে না।"
ইন্দিরা ওর কথায় একটু হেসে, ভ্রু তুলে বললেন, "উফ্, আবার? তুই তো আজ সকালেই এই একই কথা বলছিলি! তোর কি কোনো নতুন ডায়লগ নেই?"
রাহুল একটুও না দমে হাসল। "সকালে বলেছি বলে কি এখন আর বলতে পারব না? আমি তো আর বানিয়ে কিছু বলছি না। যা চোখের সামনে দেখছি, যেটা ফ্যাক্ট, সেটাই বলছি। তুমি সত্যিই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী মা।"
"হয়েছে, হয়েছে," ইন্দিরা হাসতে হাসতে ওর গালে আলতো করে একটা চিমটি কাটলেন। "বড্ড পাকা কথা শিখেছিস!"
রাহুল একটু এগিয়ে গিয়ে মায়ের মুখের আরও কাছে এল। ওর চোখদুটো ভালোবাসায় চকচক করছে। "ওহ মা... আই জাস্ট... লাভ ইউ... লাভ ইউ... লাভ ইউ..."
কথাটা বলতে বলতেই রাহুল ওঁর মুখের ওপর আদরের বন্যা বইয়ে দিল। সে পরম মমতায় ওঁর কপালে, গালে, থুতনিতে, কানের লতিতে, নাকে, এমনকি ওঁর বন্ধ করা চোখের পাতার ওপর দ্রুত, উষ্ণ চুমু খেতে শুরু করল।
"উফ্... রাহুল! কী করছিস... আহ্... সুড়সুড়ি লাগছে... হিহি..." ইন্দিরা ওর এই পাগলাটে, এলোমেলো আদরে খিলখিল করে হাসতে লাগলেন। ওঁর গালদুটো লজ্জায় আর আনন্দে লাল হয়ে উঠল। "ছাড় সোনা... বড্ড কাতুকুতু লাগছে... উফ্ তোর যে কী হয় না মাঝে মাঝে...পাগল কোথাকার!"
রাহুল থামল না। ওর চুমুর তীব্রতা আর গভীরতা যেন আরও বাড়তে লাগল। পুরো মুখটায় অজস্র চুমু খাওয়ার পর, শুধু একটা জায়গাই বাকি রইল।
ওঁর নরম, গোলাপি ঠোঁটজোড়া।
রাহুল হঠাৎ থেমে গেল। সে একটু ঝুঁকে এল, তারপর আবার একটু ইতস্তত করে থামল। সে কিছু বলল না, কিন্তু ওর গভীর, ঘোর-লাগা চোখদুটো ইন্দিরার ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে নীরব অনুমতি চাইছিল।
ইন্দিরার চোখের দৃষ্টি ওর চোখের সাথে মিলল। তিনি বুঝতে পারলেন ছেলে কী চাইছে। মুহূর্তের মধ্যে তাঁর ফর্সা মুখটা লজ্জায় টকটকে লাল হয়ে গেল। তিনি বড্ড লাজুক আর কাঁপা গলায় ফিসফিস করে উঠলেন, "না... ওখানে নয়..."
রাহুল চোখদুটো দিয়ে মিনতি করতে করতে অত্যন্ত নিচু, ফিসফিস করা গলায় জিজ্ঞেস করল, "কেন নয়, মা?"
ইন্দিরা নিজের চোখদুটো সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেন, গলার স্বরটা বড্ড মিইয়ে আসা, অস্ফুট শোনাল, "না... ছেলেরা... মাকে ওখানে চুমু খায় না..."
রাহুল একদৃষ্টে ওঁর দিকে তাকিয়ে রইল, ওর চোখের সেই আর্তি যেন সমস্ত নিয়ম ভাঙতে চাইছে। ওর ঠোঁটদুটো শুধু ফিসফিস করে উচ্চারণ করল, "মা... প্লিজ?"
ইন্দিরার বুকের ভেতরটা এক অদ্ভুত, নিষিদ্ধ রোমাঞ্চে আর অসীম স্নেহে তোলপাড় হয়ে গেল। লজ্জায় তাঁর পুরো মুখটা আর গলা লাল হয়ে উঠেছে। তিনি অত্যন্ত নরম, কাঁপা স্বরে বললেন, "মায়ের লজ্জা করছে, সোনা..."
রাহুল এবার ওর সেই মোক্ষম অস্ত্রটা প্রয়োগ করল—ঠোঁট ফুলিয়ে একদম ছোট বাচ্চার মতো একটা অভিমানী, 'পাউট' ফেস করল।
ছেলের এই নিষ্পাপ, আদুরে মুখটা দেখে ইন্দিরা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। তিনি ওর দিকে তাকালেন, তারপর খুব ধীরে ধীরে, লাজুকভাবে সামান্য একটু উঠে এসে নিজের নরম ঠোঁটদুটো রাহুলের ঠোঁটের ওপর আলতো করে ছুঁইয়ে দিলেন।
জাস্ট একটা নরম, স্নেহের পরশ।
চুমুটা খাওয়ার পরমুহূর্তেই ইন্দিরা লজ্জায় নিজের দুই হাত দিয়ে মুখটা ঢেকে ফেললেন। তাঁর ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে একটা লাজুক হাসি ছিটকে বেরোল, আর তিনি মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিলেন।
রাহুল এক তীব্র, রুদ্ধশ্বাস আনন্দে মাকে দুই হাত দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। ও ওঁর ঘাড়ে মুখ গুঁজে বারবার বলতে লাগল, "আই লাভ ইউ মা... আই লাভ ইউ সো মাচ..."
ইন্দিরাও হাসতে হাসতে ওকে জড়িয়ে ধরলেন।
তারপর, কয়েক মুহূর্তের এই স্বর্গীয় আদরের পর, ইন্দিরা আস্তে আস্তে নিজেকে একটু ছাড়িয়ে নিলেন। "এবার ওঠ সোনা... আমাকে সত্যিই কাজগুলো শেষ করতে হবে।"
তিনি দ্রুত উঠে বসলেন। তাঁর ফর্সা গালদুটো তখন লজ্জায় আর উত্তেজনায় টকটকে লাল। তিনি খুব তাড়াহুড়ো করে নিজের ব্রায়ের ফিতেটা ঠিক জায়গায় বসালেন, তারপর ব্লাউজটা কাঁধের ওপর তুলে বোতামগুলো আটকে নিলেন। তাঁর আঙুলগুলো তখনও সামান্য কাঁপছে। শাড়িটা ঠিক করে নিয়ে তিনি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
রাহুল ওর দিকে তাকিয়ে একটা শেষ, তৃপ্তিকর আলিঙ্গন করল।
ইন্দিরা ওর গালে একটা আলতো চিমটি কেটে হাসলেন, "আমার পাগল, বোকা ছেলে একটা... যা এবার... মাকে কাজ শেষ করতে দে।"
রাহুল খাট থেকে নেমে দরজার দিকে পা বাড়াল। কিন্তু হঠাৎ কী মনে করে ও দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে মায়ের দিকে তাকাল। ওর মুখে এক অদ্ভুত, নাটকীয় গাম্ভীর্য।
"মা... কাল তো বাবা ফিরে আসবে," রাহুল একটু থমকে বলল, "তার মানে... আবার সেই আগের মতো?"
ইন্দিরা চোখ উলটে এক চরম বিরক্তির ভান করলেন। "উফ্ সোনা, তুই এত ড্রামা করতে পারিস না! যা হবে দেখা যাবে, ওসব মাথা থেকে বাদ দে। এখন যা... গুডনাইট।"
রাহুল হাসতে হাসতে বলল, "গুডনাইট মা।" তারপর ও দরজাটা খুলে বেরিয়ে গেল।
দরজাটা বন্ধ হওয়ার সাথে সাথেই স্টাডি রুমটা আবার সেই আদিম নিস্তব্ধতায় ডুবে গেল। ইন্দিরা সেন একা বসে রইলেন সেই বিছানায়, তাঁর বুকটা তখনও সামান্য দ্রুত ওঠানামা করছে। টেবিল ল্যাম্পের আলোয় তাঁর ছায়াটা দেওয়ালে দীর্ঘ হয়ে পড়েছে। তিনি মনে মনে ভাবলেন, হয়তো এই পাঁচটা মিনিট ছিল তাঁদের এই রূপকথার শেষ অধ্যায়। কাল দুপুর গড়াতে না গড়াতেই সুব্রত ফিরে আসবে এই বাড়িতে। আর সুব্রতর সেই ভারী জুতোর শব্দ, তার স্যুটকেসের চাকার আওয়াজ এই বাড়ির প্রতিটি কোণা থেকে এই দুদিনের গোপন, নিষিদ্ধ আর অলৌকিক স্মৃতিগুলোকে মুছে ফেলবে। ডক্টর ইন্দিরা সেনকে আবার পরতে হবে তাঁর সেই নিখুঁত, প্রাজ্ঞ আর গাম্ভীর্যপূর্ণ স্ত্রীর মুখোশ। কিন্তু তিনি এও জানেন, তাঁর ব্লাউজের নিচে ঢাকা পড়া ওই ছোট্ট কালো তিলটার ওপর রাহুলের ঠোঁটের আর জিভের সেই আর্দ্র, উষ্ণ স্মৃতিটা কোনোদিনও মুছবে না। আর ঠিক একটু আগের ওই নিষিদ্ধ, লাজুক চুম্বন... ওটা একটা অলিখিত চুক্তির মতো তাঁর শরীরের গভীরে আজীবন স্পন্দিত হতে থাকবে।
RE: The Barter System (By:andygarfield) -
Bad Boy - 09-02-2026
দশম পরিচ্ছেদ: মুখোশের অন্তরাল এবং এক আদিম জলের চুক্তি
১০.১. রুটিনের আবর্তে প্রত্যাবর্তন ও স্বাভাবিকতার নিখুঁত মুখোশ
সুব্রত সেনের ফিরে আসার পর থেকেই সেন বাড়ির রুটিন আবার তার নিজস্ব চিরচেনা, সুশৃঙ্খল কক্ষপথে ফিরে গিয়েছিল। গত শুক্রবার রাতের আর শনিবার সন্ধ্যার সেই অলৌকিক, নিষিদ্ধ এবং আদিম ঘোরের ছিটেফোঁটা প্রমাণও আর এই বাড়ির কোথাও অবশিষ্ট নেই। সদর দরজা দিয়ে সুব্রত যখন তাঁর চামড়ার ভারী স্যুটকেস হাতে প্রবেশ করেছিলেন, তখন থেকেই পুরো বাড়ির রসায়নটা এক লহমায় বদলে গিয়েছিল। যে দেওয়ালগুলো ওই দু'দিন ধরে মা এবং ছেলের এক পরম, গোপন চুক্তির সাক্ষী ছিল, সেই দেওয়ালগুলোই যেন মুহূর্তে এক অদৃশ্য সামাজিক বর্মে নিজেদের ঢেকে ফেলেছিল।
ইন্দিরা তাঁর সেই প্রাজ্ঞ, রাশভারী এবং নিখুঁত স্ত্রীর চরিত্রটিতে ফিরে যেতে এক সেকেন্ডও সময় নেননি। সুব্রত ফিরে আসার পর থেকে তিনি তাঁর সেই চিরচেনা রূপটিই বজায় রেখেছেন। ডাইনিং টেবিলে বসে কফিতে চুমুক দেওয়ার সময় তাঁর সেই মেপে মেপে কথা বলা, খবরের কাগজের পাতা উল্টানোর সেই আভিজাত্যপূর্ণ শব্দ, কিংবা সুব্রতর সাথে ইউনিভার্সিটির পলিটিক্স নিয়ে আলোচনার সময় তাঁর গলার সেই তীক্ষ্ণ, আত্মবিশ্বাসী স্বর—সবকিছুই প্রমাণ করছিল যে তিনি কতটা নিখুঁতভাবে নিজের চারপাশের গণ্ডিটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। সুব্রতর সামনে তিনি রাহুলের সাথে সেই পুরোনো, পরিমিত দূরত্বটাই বজায় রেখে চলেছেন। ছেলের পড়াশোনার খোঁজ নেওয়া, সেমিস্টারের পরীক্ষা নিয়ে গম্ভীরভাবে আলোচনা করা, কিংবা কোনো ভুল করলে সেই চেনা কড়া নজরে তাকানো—কোথাও বিন্দুমাত্র ফাঁক নেই। সুব্রতর চোখে, তাঁর স্ত্রী এবং ছেলের সম্পর্কটা ঠিক ততটাই শৃঙ্খলাপরায়ণ ও স্বাস্থ্যকর, যতটা তিনি নিজে বিশ্বাস করেন।
কিন্তু এই নিখুঁত স্বাভাবিকতার মুখোশের আড়ালেই চলছিল এক অন্য মনস্তাত্ত্বিক খেলা। যখনই সুব্রত বাড়িতে থাকতেন না, বা নিজের ঘরে ল্যাপটপ নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকতেন, তখন সেই ভারী, গম্ভীর মুখোশে সূক্ষ্ম ফাটল ধরত। শুধুমাত্র রাহুলের সামনে, যখন তারা সম্পূর্ণ একা, ইন্দিরার সেই আভিজাত্যের বর্মটা সামান্য হলেও গলে গিয়ে সেখানে এক প্রশ্রয়, এক প্রচ্ছন্ন চপলতা উঁকি দিত। করিডোর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় হঠাৎ করে কেউ না দেখতে পেলে রাহুলের চুলে একটা হালকা, আদুরে টান দেওয়া, কিংবা ডাইনিং টেবিলে বসে হঠাৎ করেই ছেলের গালটা আলতো করে টিপে দিয়ে ফিসফিস করে "পাকা ছেলে" বলা—এই ছোট ছোট, কিন্তু নিবিড় মুহূর্তগুলোই গত কয়েকটা দিনে রাহুলের একমাত্র অক্সিজেন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ইন্দিরার এই দ্বৈত রূপ—বাইরে এক কঠোর, মাপা শাসন এবং ভেতরে এক স্নেহময়ী মায়ের প্রশ্রয়—রাহুলের কাছে এক নেশার মতো হয়ে উঠেছিল। কিন্তু ওর জন্য এটুকুই যথেষ্ট ছিল না। গত শুক্র ও শনিবারের সেই চরম, বাধাহীন সমর্পণের পর, এই ছোটখাটো স্পর্শগুলো ওর অবাধ্য, তৃষ্ণার্ত মনকে শান্ত করতে পারছিল না।
দেখতে দেখতে ছ'টা দিন কেটে গেল। শুক্রবারের সন্ধে। সুব্রত নিজের ঘরে দরজা ভেজিয়ে কোনো এক ক্লায়েন্টের সাথে দীর্ঘ ভার্চুয়াল মিটিং-এ ব্যস্ত। পুরো বাড়িটা একটা অদ্ভুত, ভারী নিস্তব্ধতায় ডুবে আছে। ড্রয়িংরুমের বিশাল ঘড়িটার টিকটিক শব্দ ছাড়া আর কোনো আওয়াজ নেই।
ইন্দিরা এবং রাহুল এখন রান্নাঘরে। রান্নার মাসি একটু আগেই কাজ শেষ করে চলে গেছে। সিঙ্কের ওপর জমে থাকা ডিনারের কিছু এঁটো বাসন পরিষ্কার করার কাজে হাত লাগিয়েছেন ইন্দিরা, আর রাহুল একটা শুকনো সুতির কাপড় দিয়ে সেই ধোয়া বাসনগুলো পরম নিপুণতায় মুছে শেলফে সাজিয়ে রাখছে। রান্নাঘরের সাদা, উজ্জ্বল এলইডি আলো ইন্দিরার ফর্সা, তীক্ষ্ণ মুখমন্ডলের ওপর এসে পড়েছে। তাঁর পরনে একটা হালকা নীল রঙের সুতির শাড়ি, আঁচলটা কোমরে গোঁজা। জলের কলের সেই একটানা, মৃদু শব্দটার আড়ালেই চলছিল তাদের নীরব কথাপোকথন।
রাহুল আর পারছিল না। গত ছয়দিনের এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতি ওর ভেতরের সমস্ত ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে দিচ্ছিল। সে হাতের প্লেটটা একটু বেশি শব্দ করে কাউন্টারের ওপর নামিয়ে রাখল।
"মা, আমি আর জাস্ট পারছি না," রাহুল ফিসফিস করে বলল, গলার স্বরে এক তীব্র, চাপা অভিযোগ। "তুমি একদম পালটে গেছ। বাবা ফেরার পর থেকে তুমি আমার সাথে জাস্ট একটা রোবটের মতো বিহেভ করছ। ওই শনিবার রাতের পর থেকে তুমি আমাকে একবারের জন্যও কাছে ডাকলে না। জাস্ট একটা হাগ করতেও দিলে না!"
ইন্দিরা সিঙ্কের ওপর ঝুঁকে একটা কাঁচের বাটি মাজছিলেন। ছেলের এই অভিযোগ শুনে তিনি সাবান মাখা হাতদুটো সিঙ্কের ভেতরেই রেখে ঘাড় ঘুরিয়ে ওর দিকে তাকালেন। চোখের দৃষ্টিতে এক মাতৃসুলভ বিরক্তি, কিন্তু ঠোঁটের কোণে লুকিয়ে থাকা সেই চেনা প্রশ্রয়ের হাসিটা তিনি আড়াল করতে পারলেন না।
"উফ্, আবার সেই ঘ্যানঘ্যান শুরু করলি?" ইন্দিরা একটা কৃত্রিম, দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফিসফিস করে ধমকে উঠলেন। "একবার নিজের দিকে তাকিয়ে দেখ তো! এত এত আদর, এত স্পেশাল ট্রিটমেন্ট দিলাম তোকে, আর কিছু দিন যেতে না যেতেই তোর মুখে এইসব কথা? তোর মতো এমন ঘ্যানঘ্যানে বাঁদরকে আর কোন মা এত সহ্য করে রে? আমাকে জাস্ট একটা অন্য মায়ের নাম বল তো, যে নিজের ছেলের ফালতু আবদার মেটাতে এত কিছু করে?"
রাহুল বিন্দুমাত্র দমে না গিয়ে হাতের কাপড়টা দিয়ে আরেকটা প্লেট মুছতে মুছতে বাঁকা হাসল। "আমি কী করে বলব মা? আমি তো আর অন্য মায়েদের অত কাছ থেকে চিনি না। অন্য মায়েরা তাদের ছেলেদেরকে কতটা আদর করে, বা কী কী করে, সেটা তো আমার জানার কথা নয়।"
ইন্দিরা এবার একগাল সাবানের ফেনা নিয়ে রাহুলের গায়ে ছিটিয়ে দেওয়ার একটা মিথ্যা ভঙ্গি করলেন। চোখ দুটো বড় বড় করে এক আদুরে রাগে বললেন, "খালি পাকা পাকা কথা! অন্য মায়েদের কথা তোর জানতে হবে না! তুই নিজে কতটা ডিমান্ডিং আর অকৃতজ্ঞ, সেটা বুঝলেই হবে। আমি তোকে যতটা মাথায় তুলে রাখি, আমি তোকে যতটা প্যাম্পার করি... পৃথিবীর আর কোনো মা তার এত বড় ধেড়ে ছেলেকে এত লাই দেয় না। বড্ড স্পয়েল্ড হয়ে গেছিস তুই, রাহুল। মাথায় চড়ে বসেছিস আদরে আদরে।"
"সত্যি? আমি স্পয়েল্ড?" রাহুল এবার একটু ঘাড় বাঁকিয়ে, অভিমানী সুরে ফিসফিস করল। "আমি হচ্ছি সেই ছেলে, যাকে সবসময় নিজের মায়ের এই মেকি, রাশভারী, গম্ভীর মুখোশটা সহ্য করতে হয়। আমি তো তোমার আসল রূপটা, তোমার এই নরম, আদুরে দিকটা শুধু তখনই দেখতে পাই যখন কাছাকাছি কেউ থাকে না! যেমন এখন। অন্য মায়েরা তো তাদের ছেলেদের সবসময় আদর করে। ওই তো, বরুণের মায়ের কথাই ধরো না... যখনই বরুণকে নিয়ে শপিং মলে যায় বা পাড়ার রাস্তায় হাঁটে, কেমন ওর হাতটা শক্ত করে ধরে থাকে। আমি তো কতদিন দেখেছি রাস্তায় সবার সামনেই বরুণকে কেমন জড়িয়ে ধরে..."
বরুণের মায়ের প্রসঙ্গটা উঠতেই ইন্দিরার মুখের রেখাগুলো এক লহমায় কঠিন হয়ে গেল। তাঁর সেই প্রচ্ছন্ন হাসির আভা মুছে গিয়ে সেখানে এক অভিজাত, বুদ্ধিজীবী নারীর অহংকার ফুটে উঠল। তিনি ভুরু দুটো কুঁচকে কলটা বন্ধ করলেন। একটা তোয়ালেতে হাত মুছতে মুছতে অত্যন্ত প্রখর, ফিসফিস স্বরে বললেন:
"উফ্, আবার ওই বরুণের মা? তোকে বারণ করেছি না বাইরের লোকের পার্সোনাল ব্যাপার নিয়ে কথা না বলতে? আর প্লিজ রাহুল, আমাকে ওইসব লোকদেখানো আদিখ্যেতার সাথে কমপেয়ার করবি না। আমি তোকে ওরকম ন্যাতাক্যাতা করে আদর করি না কারণ আমি চাই তুই একজন দায়িত্বশীল, স্বাবলম্বী পুরুষ হয়ে ওঠ। আমি তোকে ওরকম একটা 'মাম্মিজ বয়' বানাতে চাই না, বুঝতে পেরেছিস?"
রাহুল বাসন মোছার কাপড়টা কাউন্টারে নামিয়ে রেখে ইন্দিরার দিকে একদম সোজা তাকাল। চোখের দৃষ্টিতে এক তীক্ষ্ণ, ধূর্ত প্রশ্ন। "তাই নাকি? তুমি কি সত্যিই মনে করো... যে আমি মাম্মিজ বয় নই?"
ইন্দিরা তাঁর হাতের তোয়ালেটা কাউন্টারের ওপর একটা মৃদু 'ঠপ' শব্দ করে নামিয়ে রাখলেন। তারপর কিচেন কাউন্টারের মার্বেলের স্লাবে একটু হেলান দিয়ে দাঁড়ালেন। তাঁর ফর্সা মুখে এখন এক ব্যঙ্গাত্মক, কিন্তু একই সাথে স্নেহমাখা দৃষ্টি। তিনি রাহুলের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত ধীরে, চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন:
"অন্তত বরুণের মতো ওরকম অপদার্থ 'মাম্মিজ বয়' তুই নোস। ওই ছেলেটার তো নিজের নাকটা মুছতেও মায়ের পারমিশন লাগে! তুই ওর চেয়ে অনেক বেশি সেলফ-সাফিসিয়েন্ট, নিজের কাজ নিজে করতে পারিস। তুই শুধু... তুই জাস্ট বড্ড বেশি ডিমান্ডিং... আর মাঝে মাঝে এতটাই ঘ্যানঘ্যান করিস যে আমার তোর কান মূলে দিতে ইচ্ছে করে।"
"মা! তুমিই বললে বাইরের লোকের ব্যাপারে কমেন্ট না করতে, আর সেই তুমিই দুম করে বরুণকে অপদার্থ-টপদার্থ বলে কত কী না বলতে লাগলে! "
নিজের বলা কথাগুলোর জন্য এক ধরণের অস্বস্তি বোধ করলেন ইন্দিরা। কারোর নামে কুৎসা করা তাঁর স্বভাবে নেই, অথচ তিনি সেটাই করলেন। কেন এমন করলেন তিনি? রাহুল বরুণের মায়ের সাথে তাঁর তুলনা টানতেই কি ওঁর মাতৃত্ব ও নারীত্বের ইগোতে আঘাত লাগল?
রাহুল লক্ষ করল, তার মা কেমন যেন অন্যমনস্ক হয়ে কী সব ভেবে চলেছেন। রাহুলের আর এই প্রসঙ্গে ইন্দিরাকে বিব্রত করতে ইচ্ছে করল না। ও এক পা এগিয়ে গিয়ে ইন্দিরার ডান হাতটা নিজের দুহাতের মুঠোয় শক্ত করে ধরে ফেলল। ওর চোখের সেই চপলতা মুছে গিয়ে সেখানে এক আর্তি ফুটে উঠেছে।
"মা... ওসব বাদ দাও... বলছি যে... চলো না..." রাহুল একদম ফিসফিস করে, প্রায় অনুনয়ের সুরে বলল, "চলো না আমার ঘরে... জাস্ট একটুক্ষণের জন্য... পাঁচ মিনিটের জন্য হলেও একটু আদর করবে চলো না... প্লিজ মা।"
রাহুলের এই আচমকা শারীরিক স্পর্শ আর প্রস্তাবে ইন্দিরার শরীরটা যেন একটা তীব্র ইলেকট্রিক শকের মতো কেঁপে উঠল। তিনি এক ঝটকায় নিজের হাতটা রাহুলের মুঠো থেকে ছাড়িয়ে নিলেন। তাঁর ফর্সা গালদুটো মুহূর্তের মধ্যে লজ্জায় আর এক অদ্ভুত নার্ভাসনেসে টকটকে লাল হয়ে গেল। তিনি এমন একটা ভান করলেন যেন অত্যন্ত কেলেঙ্কারির কিছু একটা ঘটে গেছে, কিন্তু তাঁর এই ভানটার মধ্যে কোনো আসল রাগ ছিল না, পুরোটাই ছিল একজন মায়ের অবচেতন আত্মরক্ষা। তাঁর বড় বড়, সন্ত্রস্ত চোখদুটো রান্নাঘরের দরজা পেরিয়ে উপরের করিডোরের দিকে চলে গেল, যেখান থেকে সোজা তাঁর ঘরের আলোটা দেখা যাচ্ছে, যেখানে সুব্রত বসে জুম মিটিং সারছেন ।
"রাহুল!" ইন্দিরা দাঁতে দাঁত চেপে এক তীব্র, শ্বাসরুদ্ধকর ফিসফিসানিতে ধমকে উঠলেন। "তোর কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে? তোর বাবা এখন বাড়িতে, আর তুই এখানে দাঁড়িয়ে এসব ফালতু কথা বলছিস?"
"আহা মা, বাবা তো নিজের কাজের মধ্যে একদম ডুবে আছে," রাহুল বিন্দুমাত্র না দমে যুক্তি দিল। "এই শোনো শোনো, একটু কান খাড়া করলেই বাবার বকবক করার শব্দ শোনা যাচ্ছে। বাবা কোনোমতেই বেরোবে না এখন।"
ইন্দিরা দুশ্চিন্তায় নিজের নাকের ওপরের অংশটা দুই আঙুল দিয়ে চেপে ধরলেন। তাঁর বুকের ভেতরটা তখন ধড়ফড় করছে। "ওসব কনফারেন্স কল আমি খুব ভালো করে চিনি, রাহুল। যেকোনো মুহূর্তে তোর বাবা ঘর থেকে বেরিয়ে জল খেতে আসতে পারে, বা অন্য কোনো ব্যাপারে আমার খোঁজ করতে পারে। না না রাহুল, এটা খুব রিস্কি হয়ে যাবে। তুই জানিস আমাদের কতটা সাবধানে থাকতে হবে সোনা। আমরা ওরম হুটহাট যা খুশি তাই করতে পারি না। উই হ্যাভ টু বি ডিসক্রিট!"
রাহুল এবার একটু মুখটা ফুলিয়ে, ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল, "হুম... আমি তো সিওর বরুণের মা নিশ্চয়ই বরুণকে ওদের ড্রয়িংরুমে, ওর বাবার সামনে বসেই বুকে জড়িয়ে আদর করে। ওদের তো কোনো ডিসক্রিট হওয়ার ব্যাপার নেই।"
ইন্দিরা এবার সত্যিই বিরক্ত হলেন। ওই বারবার একই তুলনা তাঁর ইগোতে মারাত্মক আঘাত করছিল। তিনি চোখদুটো ছোট ছোট করে অত্যন্ত বিরক্তির সাথে ফিসফিস করে বললেন, "উফ্, ভগবান! আবার ওই বরুণ! শোন রাহুল, ওরা ওরকম করতে পারে কারণ ওদের কোনো ফিল্টার নেই। ওরা বড্ড বেশি ক্যাজুয়াল। তুই আর আমি... আমরা ওদের মতো নই।"
রাহুল এবার ওর সেই ধূর্ত হাসিটা হাসল। ও জানে ওর মায়ের এই বিশাল অহংকারটাকে কীভাবে নিজের কাজে লাগাতে হয়। "ওহ্, আচ্ছা! আসল কথা হলো তুমি বরুণের মায়ের মতো নও... রাইট? কারণ তুমি তো হলে 'দ্য ইন্দিরা সেন'।"
ছেলের মুখে নিজের এই উপাধিটা শুনে ইন্দিরার ঠোঁটের কোণে একটা অবাধ্য হাসি উঁকি দিল, কিন্তু তিনি সেটাকে জোর করে চেপে রাখলেন। তিনি নিজের শাড়ির আঁচলটা একটু ঠিক করে নিয়ে এক নাটকীয় এবং রাজকীয় ভঙ্গিতে ঘাড়টা একটু সোজা করে দাঁড়ালেন।
"হ্যাঁ, দ্য ইন্দিরা সেন," তিনি অত্যন্ত গর্বের সাথে ফিসফিস করলেন। "এবং হ্যাঁ, আমার একটা নিজস্ব ডেকোরাম আছে। আমি অন্তত বরুণের মায়ের মতো সবার সামনে খোলা খাতার মতো নিজেকে মেলে ধরি না। আমার একটা স্ট্যান্ডার্ড আছে। আমার ক্লাস আছে।"
রাহুল এবার একদম মোক্ষম চালটা চালল। একটু ঝুঁকে এসে ফিসফিস করে বলল, "তাই? তা ক্লাসওয়ালা মায়েরা কি তাদের ছেলেদের আদর করে না?"
ইন্দিরা আত্মরক্ষার খাতিরে নিজের বুকের ওপর হাতদুটো আড়াআড়িভাবে বেঁধে ফেললেন। "আমার কথার উলটোপালটা মানে করবি না তুই। অবশ্যই ক্লাসওয়ালা মায়েরা তাদের ছেলেদের আদর করে। কিন্তু তাই বলে বরুণের মায়ের মতো... সবার সামনে... ওইভাবে নয়।"
রাহুল ওর চোখদুটো দুষ্টুমিতে ভরিয়ে তুলে বলল, "ওহ আচ্ছা... তার মানে ক্লাসওয়ালা মায়েরা শুধু তখনই তাদের ছেলেদের আদর করে, যখন তাদের হাসব্যান্ড বিজনেস ট্যুরে যায়... তাই তো?"
রাহুলের মুখের এই কথাগুলো শোনার পর ইন্দিরার শরীরটা যেন বরফ হয়ে গেল। তাঁর সেই নিখুঁত, রাজকীয় অহংকারের মুখোশটা এক সেকেন্ডে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। তাঁর চোখদুটো বিস্ময়ে আর চরম লজ্জায় এতটাই বড় হয়ে গেল যে মনে হলো ঠিকরে বেরিয়ে আসবে। ফর্সা গাল, গলা, এমনকি কান পর্যন্ত এক গাঢ় লাল রঙে রাঙা হয়ে গেল। তিনি কয়েক মুহূর্ত কোনো কথাই বলতে পারলেন না, শুধু খাবি খেলেন। তারপর এক চরম বিভ্রান্ত, লজ্জামাখা এবং প্রচ্ছন্ন হাসিতে ফেটে পড়ে তিনি ফিসফিস করে হিসহিসিয়ে উঠলেন:
"রাহুল! তোর... তোর একটুও লজ্জা করে না নিজের মায়ের মুখের ওপর এত নির্লজ্জের মতো কথা বলতে? তুই একটা আস্ত অসভ্য, ইনসাফারেবল বাঁদর! ভাগ্যিস তোর বাবা জানে না আমি তোকে কতটা স্পয়েল করি... আর এসবের জন্য কে দায়ী শুনি? তুই! তুই তোর ওই ফালতু, ধূর্ত 'বার্টার সিস্টেম' দিয়ে আমাকে এসব করতে বাধ্য করেছিস!"
রাহুল চোখ উলটে, একদম নাটুকে ভঙ্গিতে নিজের ডিফেন্স শুরু করল। "ওহ, এখন আমি ধূর্ত হয়ে গেলাম? তুমি আমাকে প্রতিটা ধাপে খাটিয়ে খাটিয়ে সব আদায় করতে বাধ্য করেছ, মা! মনে নেই? আমাকে প্রতিটা ধাপে প্রুভ করতে হয়েছে নিজেকে! ওই বিশ্রী কঠিন এমসিকিউ এক্সামে ফুল মার্কস পেতে হয়েছিল শুধু একটা রাতের জন্য তোমাকে জড়িয়ে ধরার পারমিশন পেতে! তারপর ওই বিছানায় শুয়ে তুমি আবার আমার কেমিস্ট্রির ভাইভা নিলে... কারণ তোমার ব্লাউজের কাপড় আমার গায়ে খসখস করছিল শুনেও এমনি তুমি ওটা খুলতে চাইছিলে না! আর তারপর... ওই মাঝরাতে আমাকে রান্নাঘরে পাঠিয়ে এঁটো বাসন মাজিয়েছ, তবে গিয়ে তুমি আমাকে...."
ইন্দিরার অবস্থা তখন দেখার মতো। একদিকে সুব্রত শুনতে পাবে সেই চরম আতঙ্ক, অন্যদিকে রাহুলের এই ঠোঁটকাটা সত্যি কথাগুলো তাঁকে এক অদ্ভুত অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে। তিনি প্রায় প্যানিক করতে করতে হাত নেড়ে ফিসফিস করে ধমকাতে লাগলেন:
"আস্তে! আস্তে কথা বল, রাহুল! উফ্, তুই এত লাউডলি কথা বলছিস কেন? তোর বাবা শুনতে পেয়ে যাবে তো! আর আমি তোকে বারণ করছি, ওই প্রাইভেট ডিটেইলসগুলো এভাবে মুখের ওপর বলবি না আমাকে! তোকে নিয়ে পারা যায় না সত্যি!"
ইন্দিরার এই ধমকের মধ্যে কোনো সত্যিকারের রাগ ছিল না, পুরোটাই ছিল এক লজ্জামিশ্রিত অসহায়তা। রাহুল সেটা খুব ভালো করেই বুঝতে পারল। ও এবার আর তর্কে গেল না। ও এক পা এগিয়ে গিয়ে ইন্দিরার হাতদুটো খুব নরম করে নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নিল। ওর গলার স্বর এবার একদম বদলে গিয়ে এক গভীর, আর্দ্র এবং তীব্র ভালোবাসার সুরে নেমে এল।
"মা..." রাহুল ফিসফিস করে বলল, ওর চোখের দৃষ্টিতে এক আকুল তৃষ্ণা। "বাবা ফেরার পর থেকে আমি তোমাকে একবারও ভালো করে জড়িয়ে ধরতে পারিনি। একবারও না। তুমি আমাকে বলো... গত শুক্রবার রাতে যেভাবে আমি তোমার বুকে ছিলাম... যে আরামটা পেয়েছিলাম... তার পর আমি কী করে এখন তোমার এই দূরে দূরে থাকাটা মেনে নিই? আমার যে বুকের ভেতরটা ফেটে যাচ্ছে মা..."
রাহুল একটু থামল, তারপর ওর গলাটা আবেগে বুজে এল, "আর... আর ওই শনিবারের রাতটা... শনিবারের রাতটা..."
ছেলের এই আকুলতা দেখে ইন্দিরার ভেতরের সমস্ত যুক্তির প্রাচীর, সমস্ত সামাজিক ভয় ততক্ষণে গলতে শুরু করেছে। তিনি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলেন, তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এই যুবক ছেলেটার মধ্যে লুকিয়ে থাকা সেই তৃষ্ণার্ত শিশুটিকে। তাঁর গলাটাও বড্ড নরম শোনাল, "শনিবার রাতে কী... কী হয়েছিল, সোনা?"
রাহুল ওর চোখ দুটো নামিয়ে নিল, একটু তোতলাতে তোতলাতে বলল, "তোমার মনে নেই মা... আমি যে... তোমার..."
ইন্দিরার ফর্সা গালদুটো লজ্জায় লাল হয়ে উঠল। তিনি মুখটা সামান্য অন্যদিকে ঘুরিয়ে অত্যন্ত নরম, মাতৃসুলভ ফিসফিসানিতে বললেন, "হ্যাঁ... আমার ওই তিলটা নিয়ে তোর ওই বোকা বোকা পাগলামি... উফ্ রাহুল... একদম একটা ক্রেজি বাচ্চার মতো... তুই... তুই ওটা..." শব্দটা উচ্চারণ করতে তাঁর নিজেরই কেমন একটা আড়ষ্ট লাগছিল, কিন্তু চোখ সরিয়েই তিনি বললেন, "...ওটা চাটছিলিস... আমি এখনও বুঝি না, সোনা, তোর যে কী হয়..."
"হ্যাঁ মা, কিন্তু শুধু তো ওটা নয়," রাহুল এবার একদম বিড়বিড় করে বলতে শুরু করল, কথাগুলো গুছিয়ে বলতে ওর খুব কষ্ট হচ্ছিল। "তুমি আমাকে দিয়েছিলে... আরও একটা জিনিস... মা... ইয়ে মানে... তোমার... তোমার ঠোঁটদুটো..."
ইন্দিরা বুঝতে পারলেন ছেলে কোন দিকে যাচ্ছে। তাঁর শ্বাসটা একটু ভারী হয়ে এল। তিনি অত্যন্ত ইতস্তত করে, প্রায় অসংলগ্নভাবে বললেন, "সোনা... ওই ব্যাপারটা... আমি তো ওটা একদমই করতে চাইনি... তুই এমন একটা বাচ্চাদের মতো জেদ ধরেছিলি... তবে তারপরে তো সব ঠিকঠাক ভাবেই মিটে গেছিল... আই গেস ইট ওয়াজ ওকে..." ইন্দিরার নিজেরও যেন বাক্য গঠন করতে কষ্ট হচ্ছিল এই চরম অস্বস্তিকর আর নিষিদ্ধ প্রসঙ্গটায়।
রাহুল তখন এক ঘোরের মধ্যে। "ইট ওয়াজ... মা, আমি বলে বোঝাতে পারব না আমার ঠিক কেমন ফিল হচ্ছিল..."
ইন্দিরা একটু নার্ভাস হয়ে বললেন, "কেন সোনা... আমার তো মনে আছে, ওরপর আমাদের একটু কথাও হলো... তোর বাবার ফিরে আসা নিয়ে... তারপর তুই গুডনাইট বলে চলে গেলি... সবই তো ঠিক ছিল, তাই না? তোর কি... তোর কি খুব অদ্ভুত লাগছিল?"
রাহুল মাথা নিচু করে, প্রায় অস্পষ্ট আর জড়ানো স্বরে বিড়বিড় করল, "মা, ওটা আমার ফার্স্ট টাইম ছিল... কারোর ঠোঁটে কিস করা... আর সেটাও... সেটাও..." ও একটু থামল, একটা ঢোক গিলল। "মা, আমি ওই রাতে অনেকক্ষণ ঘুমোতেই পারিনি... আমার ভেতরে সারাক্ষণ ওই ফিলিংসটা ঘুরপাক খাচ্ছিল... এমনকি যখন ঘুমিয়ে পড়লাম... আমার স্বপ্নে... আমি ওটাই বারবার দেখছিলাম... তুমি ছিলে... আমি ছিলাম... তুমি আমার গালদুটো ধরেছিলে... আর তারপর তুমি..."
রাহুলের কথার মাঝপথেই ইন্দিরার পুরো মুখমণ্ডল এক চরম লজ্জায় আর অদ্ভুত, গোপন এক আতঙ্কে টকটকে লাল হয়ে উঠল। তিনি তড়িঘড়ি ওর হাতদুটো চেপে ধরে, এক চাপা প্যানিকের সুরে ওকে থামিয়ে দিলেন, "থাক রাহুল... বাদ দে... তোকে আর বলতে হবে না..."
রাহুল এবার ওর সেই আর্দ্র, তৃষ্ণার্ত চোখদুটো তুলে মায়ের দিকে তাকাল। "মা... প্লিজ... এই মুহূর্তে আমার যে শুধু তোমাকেই বড্ড দরকার মা... জাস্ট একটুখানি সময়ের জন্য... দেবে না একটু?"
রাহুলের এই গলার স্বর, এই চোখের চাউনি ইন্দিরার ভেতরের সমস্ত অবশিষ্ট প্রতিরক্ষাকে এক নিমেষে গুঁড়িয়ে দিল। তাঁর নিজের বুকের ভেতরেও যে গত ছ'দিন ধরে এক অদ্ভুত হাহাকার চলছিল, তা আজ আর অস্বীকার করার উপায় রইল না। তিনি হার মানলেন। এক দীর্ঘ, পরাস্ত দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি রাহুলের হাতের ওপর নিজের হাতটা রাখলেন।
"তুই... তুই একটা আস্ত একগুঁয়ে বাঁদর," তিনি ফিসফিস করে বললেন, গলার স্বরে এক চরম মাতৃত্বের আত্মসমর্পণ। "ঠিক আছে... চল। কিন্তু একদম কোনো আওয়াজ করবি না, আর খুব তাড়াতাড়ি... মনে থাকে যেন।"
রাহুলের মুখটা এক লহমায় হাজার ওয়াটের আলোর মতো উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
ইন্দিরা খুব সাবধানে রান্নাঘরের দরজা দিয়ে বেরিয়ে এলেন। তাঁর বুকের ভেতরটা তখন ধড়ফড় করছে। টেনশন আর নার্ভাসনেসে তাঁর মগজটা ঠিকমতো কাজ করছিল না। তিনি রাহুলের হাতটা শক্ত করে ধরে সামনের দিকে এগোতে লাগলেন। কিন্তু এই চরম প্যানিকের ঘোরে তাঁর অবচেতন মন এক মারাত্মক ভুল করে বসল। তিনি রাহুলকে টেনে নিয়ে সোজা এগোতে লাগলেন বসার ঘরের বড় সোফাটার দিকে।
রাহুল অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। "মা! তুমি কী করছ? তুমি কি পাগল হয়ে গেলে? লিভিং রুমে? পুরো ওপেন স্পেসে?"
ইন্দিরা চমকে উঠলেন। তাঁর ধ্যান ভাঙল। তিনি এদিক-ওদিক তাকিয়ে বুঝতে পারলেন তিনি কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন। এক চরম আতঙ্কে তাঁর চোখদুটো বড় বড় হয়ে গেল, তিনি নিজের হাত দিয়ে নিজের মুখটা চেপে ধরলেন। তাঁর ফর্সা গালদুটো লজ্জায় একদম লাল হয়ে গেল। তিনি নিজেকে এক ঝটকায় সামলে নিয়ে এক চরম ফিসফিসানিতে ধমকে উঠলেন, "তুই আমাকে কী ধরনের মা ভাবিস, হ্যাঁ? লিভিং রুমে? ইমপসিবল!"
কিন্তু টেনশনে তাঁর মুখ দিয়ে চরম ভুল শব্দটা বেরিয়ে এল, "আমার ঘর। এক্ষুনি চল।"
রাহুল এবার আরও জোরে ফিসফিস করে উঠল, "মা! তোমার ঘরেই তো বাবা বসে আছে!!! তুমি কি সত্যিই পাগল হয়ে গেলে আজ?"
ইন্দিরা এবার নিজের কপালে নিজেই একটা হাত চাপড়ালেন। নিজের এই বোকা বোকা ভুলে তাঁর নিজেরই চরম বিরক্তি আর লজ্জা লাগছিল। তিনি চোখ উলটে, দাঁতে দাঁত চেপে ফিসফিস করে বললেন, "উফ্! আমার ঘর না, তোর ঘর, আমি তোর ঘরের কথা বলতে চাইছিলাম! তোর এই ফালতু প্রপোজাল আমাকে এত নার্ভাস করে দিয়েছে যে আমি উলটোপালটা বকছি! চল শিগগির!"
তিনি আর এক সেকেন্ডও দাঁড়ালেন না। রাহুলের কবজিটা শক্ত করে খামচে ধরে তিনি প্রায় ওকে টানতে টানতে উপরে উঠে গেলেন এবং ওর বেডরুমের ভেতর ওকে একরকম ঠেলেই ঢুকিয়ে দিলেন।
ভেতরে ঢুকেই তিনি অত্যন্ত দ্রুত হাতে দরজাটা বন্ধ করে দিলেন। বন্ধ দরজার গায়ে নিজের পিঠটা ঠেকিয়ে তিনি একটা দীর্ঘ, হাঁপানো শ্বাস ফেললেন। তাঁর চোখদুটো বন্ধ, বুকটা দ্রুত ওঠানামা করছে। ঠিক যেন কোনো টিনএজ মেয়ে কোনো গোপন প্রেমিকের সাথে লুকিয়ে দেখা করতে এসে নার্ভাস হয়ে পড়েছে। তিনি বিড়বিড় করে ফিসফিস করলেন, "হে ভগবান... এই ছেলেটা একদিন আমার হার্ট অ্যাটাক করিয়েই ছাড়বে!"
১০.২. শয়নকক্ষের অভয়ারণ্য
বন্ধ দরজার ভেতরের পরিবেশটা বাইরের করিডোরের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে কোনো ভয়ের ছায়া নেই, আছে কেবল এক উষ্ণ এবং নিভৃত অভয়ারণ্য। জানলার ভারী পর্দাগুলো টানা, ঘরের ভেতর একটা আবছা, মখমলি অন্ধকার।
রাহুল এক লাফে নিজের বিছানায় গিয়ে উঠল। ওর চোখেমুখে এক অদ্ভুত, নিষ্পাপ এবং শিশুর মতো উত্তেজনা। ও হাত বাড়িয়ে ফিসফিস করে ডাকল, "মা... আসো না... প্লিজ জলদি আসো।"
ইন্দিরা দরজার ওপর থেকে পিঠ সরিয়ে একটা গভীর, স্নেহমাখা এবং কৌতুকী দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তাঁর ঠোঁটের কোণে এক পরম প্রশ্রয়ের হাসি। তিনি ধীর পায়ে বিছানার কাছে এগিয়ে গেলেন।
আর যেই মুহূর্তে তিনি বিছানায় এসে রাহুলের পাশে শুলেন, রাহুলও দেরি না করে নিজের দুহাত দিয়ে ইন্দিরার কোমর এবং পিঠ শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরল। ইন্দিরাও নিজের হাতদুটো দিয়ে ওর পিঠটাকে পরম আশ্লেষে নিজের বুকের সাথে লেপ্টে ধরলেন। গত ছয় দিনের সেই দীর্ঘ, তৃষ্ণার্ত শূন্যতা যেন এই একটা আলিঙ্গনেই অনেকটা পূর্ণ হয়ে গেল।
"উফ্... মা..." রাহুল ওঁর গলার কাছে মুখ গুঁজে ফিসফিস করে বলতে লাগল, গলার স্বর আবেগে বুজে আসছে। "ফাইনালি... এতগুলো লম্বা দিন পর... আমি তোমাকে এভাবে ছুঁতে পারলাম। আমার যে কী শান্তি লাগছে মা, আমি তোমাকে বোঝাতে পারব না..."
ইন্দিরার আঙুলগুলো রাহুলের চুলে পরম মমতায় বিলি কাটতে লাগল। "আমি জানি সোনা... আমি জানি... মা এখানেই আছে..."
রাহুল বুকের সাথে আরও একটু লেপ্টে গিয়ে খুব নিচু, অনুনয়ের সুরে বলল, "মা... আজকে অন্তত একটু... একটু স্কিন-টু-স্কিন করি না প্লিজ?"
ইন্দিরার পিঠের ওপর হাত বোলানো আঙুলগুলো মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। তাঁর বুকের ভেতরটা একটা অজানা শিহরণে কেঁপে উঠল। তিনি একটা গভীর শ্বাস নিয়ে অত্যন্ত নরম, কিন্তু দৃঢ় ফিসফিসানিতে বললেন:
"না সোনা... একদম না। প্রচন্ড রিস্কি এটা, প্লিজ বোঝার চেষ্টা কর বাবু। তোর বাবা যেকোনো মুহূর্তে আমার খোঁজ করতে পারে। প্লিজ... জাস্ট এভাবেই আমাকে জড়িয়ে ধরে রাখ।"
রাহুল ওঁর বুকের সাথে নিজেকে আরও একটু শক্ত করে চেপে ধরল। "আমি তোমাকে বড্ড ভালোবাসি, মা..."
ইন্দিরা নিজের মুখটা রাহুলের গলার খাঁজে গুঁজে দিলেন। তাঁর হাতের আঙুলগুলো রাহুলের শার্টের কাপড়টাকে শক্ত করে খামচে ধরল। তিনি এক চরম, আদুরে ফিসফিসানিতে বললেন, "তুই একদিন ঠিক আমাকে কোনো সাংঘাতিক বিপদে ফেলবি। সেদিন যে কি হবে আমি জানি না।"
"বিপদ টিপদের কথা এখন না বললেই নয়? বাদ দাও না মা, প্লিজ..."
"আচ্ছা বাবা, আচ্ছা"—বলে ইন্দিরা রাহুলের ঘাড়ে আর কাঁধে চুমু খেতে লাগলেন। মায়ের ঠোঁটের ছোঁয়ায় রাহুলের সারা শরীরে একটা মায়াবী শিহরণ জাগল।
কয়েক মুহূর্ত এই নিবিড় স্তব্ধতায় কাটার পর, রাহুল একটু উঠে বসে বলল: "মা, অন্তত আমার জামাটা খুলব? বড্ড গরম লাগছে। আর চিন্তা করো না মা, বাবা যদি ডাকে আমি সঙ্গে সঙ্গে পরে নেবো, আমার পরতে দু'সেকেন্ডও লাগবে না।"
ইন্দিরা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মৃদু হেসে বললেন, "উফফ এই ছেলেটা না... যা করবি কর, ওইসব গরম লাগার অজুহাত দিতে হবে না মাকে।"
রাহুল হাসিমুখে সঙ্গে সঙ্গে ওর জামাটা খুলে বিছানার পাশের চেয়ারে ছুঁড়ে দিল। "আঃ, অনেক আরাম লাগছে এবার।"
রাহুল খালি গায়ে মায়ের বুকের কাছে আরও একটু লেপ্টে এল। কিছুক্ষণ এই উষ্ণতায় চুপচাপ শুয়ে থাকার পর, রাহুল খুব আদুরে, অস্পষ্ট গলায় ফিসফিস করে বলল, "মা... আমার না তোমাকে খুব চুমু খেতে ইচ্ছে করছে..."
ইন্দিরা একটু হেসে বললেন, "এতে আবার জিজ্ঞেস করার কী আছে?" তিনি নিজের ফর্সা ডান গালটা রাহুলের দিকে এগিয়ে দিলেন।
রাহুল মুখটা সামান্য সরিয়ে নিয়ে তোতলামির সুরে বলল, "না মা... ওখানে না... ওই যে... গত শনিবারের মতো..."
ইন্দিরার শরীরের পেশিগুলো এক লহমায় শক্ত হয়ে গেল। তিনি একটু পিছিয়ে গিয়ে চরম দ্বিধাগ্রস্ত, আড়ষ্ট গলায় বললেন, "না না সোনা, ওটা একদম ঠিক নয়। আমি তোকে আগেই বলেছি, গত শনিবার... যা হয়ে গেছে, হয়ে গেছে... ওটা ওখানেই শেষ।"
রাহুল মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত আর্দ্র, ঘোরে-থাকা গলায় বলল, "মা... আমি তোমায় কিচেনে বলছিলাম না যে তারপর আমার কেমন ফিল হয়েছিল... তুমি তো আমাকে শেষ করতেই দিলে না... মা, স্বপ্নে... আমি দেখলাম তুমি আর আমি ঠিক এভাবেই শুয়ে আছি... আমার বিছানায়... আর তুমি আমাকে... ওটা করতে দিলে..."
ইন্দিরার ফর্সা গালদুটো লজ্জায় টকটকে লাল হয়ে উঠল। তিনি নিজের চোখদুটো সরিয়ে নিয়ে অত্যন্ত অসংলগ্ন, কাঁপা ফিসফিসানিতে বললেন, "কিন্তু... সোনা... ওটা তো সত্যি ছিল না... ওটা একটা স্বপ্ন ছিল মাত্র... এটা তো... এটা তো ঠিক নয় রে... মা আর ছেলে... আমি তোকে আগেই বলেছি..."
রাহুল অনুনয় করতে লাগল। "কিন্তু আমার যে বড্ড ভালো লেগেছিল মা... আমি তোমাকে বোঝাতে পারব না... প্লিজ মা... তোমার ঠোঁটদুটো... এত সুন্দর... এত নরম..."
ইন্দিরার বুকের ভেতরটা এক চরম নিষিদ্ধ আবেগে তোলপাড় করে উঠল। তিনি লজ্জায় চোখ বন্ধ করে ফিসফিস করে ধমক দিলেন, "নিজের মাকে এসব কথা বলিস না, সোনা..."
রাহুল ওঁর গলার কাছে মুখ গুঁজে ফিসফিস করল, "আমি সত্যি বলছি মা... তুমিই... তুমিই আমার সবকিছু... আমি তোমাকে বড্ড ভালোবাসি মা..."
ইন্দিরার নিশ্বাস ভারী হয়ে এসেছে। "না না সোনা... প্লিজ, এটা....এটা পসিবল নয়....আমরা করতে পারি না এটা সোনা... অমন করে না বাবু, প্লিজ বোঝার চেষ্টা কর..."
রাহুলের গলার স্বরে এবার এক তীব্র অভিমান আর আর্জি, "মা... গত শনিবার তো তুমি এতটা 'না' করোনি... আজ কেন এত বাধা দিচ্ছ..."
ইন্দিরা প্রায় অসংলগ্ন, ঘোরের ঘোরে বিড়বিড় করলেন, "সোনা... প্লিজ মায়ের সাথে তর্ক করিস না... মায়ের সাথে এমন করিস না... আমি জাস্ট...আমার মাথা কাজ করছে না... আমি ঠিকমতো চিন্তা করতে পারছি না..."
রাহুল ফিসফিস করে বলল, "তাহলে চিন্তা কোরো না, মা..."
ইন্দিরা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে, চোখ তুলে এক চরম অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন, "কেন... তুই কেন আমার ঠোঁটেই চুমু খেতে চাস, সোনা... তুই তো আমার থুতনিতে চুমু খেতে পারিস... ডিফারেন্সটা কোথায়?"
রাহুল অত্যন্ত ধূর্ত, অথচ নেশাগ্রস্ত গলায় ফিসফিস করল, "একজ্যাক্টলি... থুতনি, ঠোঁট... যদি কোনো ডিফারেন্স না-ই থাকে, তাহলে ঠোঁটে নয় কেন, মা?"
ইন্দিরার আবেগতাড়িত চোখে তখন সবে জল এসেছে, কিন্তু তার মধ্যে নিজের ছেলের এই কথাটা শুনে না হেসেও পারলেন না। এক অদ্ভুত, অশ্রুসজল হাসিতে তাঁর মুখটা ভরে উঠল।
"উফ্ রাহুল... তুই সবসময় এত স্মার্টঅ্যাস কেন রে? আমার জ্ঞানী ছেলেটা..." তিনি ঘোরের বশবর্তী হয়ে নিজের মুখটা রাহুলের মুখের আরও একটু কাছে নিয়ে এলেন। তাঁর গলার স্বর এবার একদম অসংলগ্ন, ভাঙা ভাঙা। "তুই তোর মাকে এত ভালোবাসিস, সোনা? কেন... কেন আমাকে এত ভালোবাসিস তুই?"
রাহুল একদৃষ্টে মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, "তুমি এত কঠিন প্রশ্ন কেন করো মা... আমি জানি না... আমি শুধু এটুকু জানি যে আমি তোমাকে পৃথিবীর অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি ভালোবাসি... আর আমার মনের ভেতর তুমি ছাড়া আর কেউ নেই মা..."
ইন্দিরার চোখের কোণ থেকে এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল। তিনি এক চরম ইমোশনাল ঘোরে আচ্ছন্ন হয়ে ফিসফিস করলেন, "ওহ আমার সোনা... আমার বাবু..."
কয়েক মুহূর্তের এক ভারী, স্তব্ধ নীরবতা। তারপর, অত্যন্ত নিচু, প্রায় শোনা যায় না এমন এক কাঁপানো ফিসফিসানিতে তিনি বললেন, "সোনা... ঠোঁটদুটো... কাছে নিয়ে আয়..."
রাহুল যেন এক অলৌকিক ঘোরের মধ্যে মন্ত্রমুগ্ধের মতো নিজের মুখটা এগিয়ে নিয়ে গেল। আর ইন্দিরা নিজেই সামান্য এগিয়ে এসে সেই বাকি দূরত্বটুকু ঘুচিয়ে দিলেন।
(rest of the Chapter in the next post...)
RE: The Barter System (By:andygarfield) -
Bad Boy - 09-02-2026
(rest of the Chapter...)
তাঁদের ঠোঁটজোড়া একে অপরের সাথে মিলে গেল। গত শনিবারের সেই লাজুক, ক্ষণস্থায়ী স্পর্শের মতো নয়—এবার চুম্বনটা ছিল অনেক দীর্ঘ, অনেক গভীর। দুজনে একে অপরকে এতটাই শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছিল যে মনে হচ্ছিল তাদের শরীরের মাঝখানে কোনো বাতাস ঢোকার জায়গাও নেই। ঘরের ওই স্তব্ধ, মখমলি অন্ধকারে কেবল শোনা যাচ্ছিল তাদের দ্রুত, উষ্ণ শ্বাসের শব্দ আর ঠোঁট মিলে যাওয়ার এক পরম পবিত্র, মাদকতাময় আর্তি। এই চুম্বনের মধ্যে কোনো কলুষতা ছিল না, ছিল কেবল এক আদিম, শর্তহীন ভালোবাসা আর একে অপরের মধ্যে হারিয়ে যাওয়ার এক গভীর আকাঙ্ক্ষা।
বেশ কিছুক্ষণ পর, যখন তাঁরা চুম্বন ভাঙলেন, ইন্দিরার চোখদুটো অশ্রুসজল। তিনি দেখলেন, রাহুলের চোখদুটোও জলে চিকচিক করছে।
ইন্দিরা এক চরম আবেগে আপ্লুত হয়ে ফিসফিস করলেন, "ওহ সোনা..."
রাহুলও আবেগতাড়িত, ঘোরের মধ্যে ডুবে থাকা গলায় বলল, "মা... তুমি কি... তুমি কি আমাকে... একটু খাওয়াবে..."
ইন্দিরা প্রথমে রাহুলের কথার অর্থ বুঝতে পারলেন না। "খাওয়াব মানে... কী খাবি..." বলতে বলতেই তিনি থেমে গেলেন। তাঁর মগজে এক ঝটকায় রিয়েলিটিটা আছড়ে পড়ল। তিনি বুঝতে পারলেন রাহুল ঠিক কী চাইছে।
মুহূর্তের মধ্যে তাঁর সেই ঘোরটা কেটে গেল। তিনি তড়িঘড়ি নিজের চোখের জলটা মুছে ফেলে এক চরম অসহায়, অথচ সতর্ক গলায় বললেন, "না না না, রাহুল, এখন নয়, প্লিজ... আমাকে ওভাবে রিকোয়েস্ট করিস না..." তাঁর এই বাধাদানের মধ্যে রাহুলের প্রতি কোনো রাগ ছিল না, ছিল কেবল পরিস্থিতির প্রতি এক ভয়াবহ অসহায়তা।
রাহুল এখনও সেই ইমোশনাল ঘোরের মধ্যেই আছে। ও প্রায় ডুকরে ওঠার মতো ফিসফিস করে বলল, "মা... প্লিজ... আমার সত্যিই... এটা বড্ড দরকার মা..."
ইন্দিরা নিজেও প্রায় অনুনয়ের সুরে বলে উঠলেন, "ওভাবে বলিস না সোনা... তুই ওভাবে বললে আমার বুকটা ফেটে যায়... কিন্তু তুই তো জানিস এটা এখন কতটা রিস্কি..."
রাহুল বড্ড করুণ গলায় বলল, "জাস্ট একটুখানি মা..."
ইন্দিরা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বোঝানোর চেষ্টা করলেন, "বোঝার চেষ্টা কর সোনা, আমি এখন....এই.... এগুলো খুলতে পারব না... গত শনিবার বাড়িতে শুধু গঙ্গা মাসি ছিল, তাতেই আমি এগুলো খুলিনি... আর এখন তো তোর বাবা বাড়িতে! এটা দশ গুণ বেশি রিস্কি, সোনা!"
রাহুল মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে বড্ড অসহায়ভাবে বলল, "মা... সত্যিই কি কোনো উপায় নেই? গত শনিবার তো তুমি একটুখানি খুলেই... ম্যানেজ করেছিলে..."
ইন্দিরা একদৃষ্টে ওর তৃষ্ণার্ত, আর্দ্র চোখদুটোর দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর এক চরম অসহায়, পরাস্ত দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফিসফিস করলেন, "সোনা... আমি না হয়... ব্লাউজটা একটুখানি নামিয়ে... তোকে বুকের একটা দিক বের করে দিতে পারব..."
রাহুল তড়িঘড়ি বলল, "মা আমি চাই না তুমি আনকমফোর্টেবল ফিল করো বা তোমার কোথাও ব্যথা লাগুক... তুমি শিওর তো, কষ্ট হবে না তো?"
ইন্দিরা মাথা নেড়ে নিজের ব্লাউজের ওপরের অংশের দিকে একবার তাকালেন। তারপর রাহুলের চোখের দিকে তাকিয়ে এক অদ্ভুত, মাতৃসুলভ প্রশ্রয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "তুই সত্যিই আমার...আমার ওইটা... এখন খেতে চাস, সোনা?"
রাহুল একদম একটা নিষ্পাপ বাচ্চার মতো ওপর-নিচ মাথা নাড়ল।
ইন্দিরা এক গভীর শ্বাস নিলেন। "ঠিক আছে... আমার মনে হয় আমি ম্যানেজ করে নিতে পারব।"
তিনি খুব সাবধানে নিজের শাড়ির আঁচলটা সরিয়ে ব্লাউজের ওপরের বোতামগুলো খুলতে শুরু করলেন। তারপর ব্লাউজ এবং তার নিচের ব্রায়ের ফিতেটা বাঁ কাঁধ থেকে নামিয়ে, কাপড়টাকে একটু নিচের দিকে টেনে নিজের বাঁ দিকের ফর্সা, নিটোল স্তনটিকে মুক্ত করে দিলেন।
ঘরের আবছা আলোয় সেই সুডৌল স্তন আর তার গাঢ় বাদামি বৃন্তটি রাহুলের চোখের সামনে ফুটে উঠল। রাহুল আর এক মুহূর্তও দেরি না করে নিজের মুখটা নামিয়ে নিয়ে গিয়ে সেই বৃন্তটিকে পরম তৃষ্ণায় নিজের ঠোঁটের উষ্ণ আবরণে টেনে নিল।
রাহুলের ঠোঁট আর জিভের সেই উষ্ণ, আর্দ্র স্পর্শ লাগতেই ইন্দিরার মুখ থেকে এক অস্ফুট, দীর্ঘ স্বস্তির শ্বাস বেরিয়ে এল। "উমমম... আহ্... হ্যাঁ সোনা..." তিনি নিজের একটা হাত রাহুলের মাথার পেছনে শক্ত করে চেপে ধরলেন, তাঁর আঙুলগুলো রাহুলের চুলের গভীরে ঢুকে গেল। "আমার লক্ষ্মী সোনাটা... খা... মায়ের বুক থেকে পেট ভরে খা..."
রাহুল অত্যন্ত ধীর, কিন্তু একটানা একটা ছন্দে স্তনটি চুষতে লাগল। ওর মুখের ভেতর থেকে একটা অস্ফুট শব্দ বেরোলো, "উমমম... মা..."
ইন্দিরা চোখ বন্ধ করে সেই আদিম, অলৌকিক অনুভূতিতে নিজেকে ভাসিয়ে দিলেন। "উফ্... আমার বাবুটা... ঠিক এভাবেই... বড্ড ভালো লাগছে রে সোনা... উমম..." তাঁর ফর্সা আঙুলগুলো রাহুলের চুলে আরও একটু নিবিড়ভাবে জড়িয়ে গেল। "তোর মায়ের বুকটা যে শুধু তোর জন্যই রে সোনা... আহ্... আমার মিষ্টি বাচ্চাটা..."
রাহুল আরো আবেগপ্রবণ হয়ে জোরে জোরে মায়ের স্তনবৃন্ত কে মুখের মধ্যে টেনে চুষতে লাগল।
"আহ্... সোনা..." এক চরম ঘোরে তাঁর চোখদুটো বুজে এল, শ্বাসটা কেঁপে উঠল। তাঁর আঙুলগুলো রাহুলের চুলে শক্ত করে চেপে বসল। "একটু আস্তে কর রে বাবু... উফ্... ওহ্... আহ্ সোনা... দাঁত বসাস না... ব্যথা লাগে...আহ্হ্হ.... প্লিজ বাবু... বললাম না আস্তে আস্তে চুষতে... উমম..."
প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে এই স্বর্গীয়, স্তব্ধ পরিবেশের মধ্যেই রাহুল মায়ের বুক থেকে সেই অদৃশ্য সুধা পান করতে থাকল। ঘরের নিস্তব্ধতা ভেঙে শুধু শোনা যাচ্ছিল তাদের দুজনের শ্বাসের শব্দ আর রাহুলের ঠোঁটের সেই ভিজে, ছন্দোবদ্ধ আওয়াজ।
কিন্তু হঠাৎ করেই, এই মায়াবী ঘোরের মাঝখানে একটা শব্দ আছড়ে পড়ল।
খটাস!
বাইরের করিডোর থেকে একটা দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ। সুব্রতর ঘরের দরজা।
ইন্দিরার চোখদুটো মুহূর্তের মধ্যে বড় বড় হয়ে গেল। শরীরটা এক চরম আতঙ্কে বরফ হয়ে গেল। "রাহুল! থাম!" তিনি রুদ্ধশ্বাসে ফিসফিস করে উঠলেন, হাত দিয়ে রাহুলের মাথাটা দ্রুত নিজের বুক থেকে সরিয়ে দিলেন। "তোর বাবার মিটিং শেষ হয়ে গেছে! ঘর থেকে বেরোনোর শব্দ পেলাম!"
রাহুল এক ঝটকায় মুখ সরিয়ে নিয়ে সোজা হয়ে বসল। ওর চোখেমুখে এক তীব্র হতাশা আর আতঙ্ক।
ইন্দিরা এক সেকেন্ডও নষ্ট না করে কাঁপা কাঁপা হাতে নিজের ব্রায়ের ফিতে আর ব্লাউজটা টেনে ওপরে তুললেন এবং অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বোতামগুলো আটকে নিলেন। তাঁর বুকের ভেতরটা তখন হাতুড়ির মতো পিটছে।
"মা..." রাহুল বড্ড করুণ, হতাশ গলায় ডাকল।
ইন্দিরা তড়িঘড়ি নিজের শাড়ির আঁচলটা গায়ে জড়িয়ে নিয়ে বিছানা থেকে নামার উপক্রম করলেন। "আমাকে যেতে হবে সোনা... এক্ষুনি..."
রাহুল দ্রুত বিছানা থেকে নেমে এসে মাকে পেছন থেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। ওর মুখে এক চরম বিষণ্ণতার ছাপ। "মা... থাকো না একটু ....বাবা আবার ঘরে নিজের কাজে ফিরে যাবে... কিচ্ছু হবে না...."
ইন্দিরা ঘুরে দাঁড়িয়ে ওর এই করুণ মুখের দিকে তাকালেন। তাঁর মাতৃসত্তাটা এক অদ্ভুত যন্ত্রণায় মোচড় দিয়ে উঠল। তিনি নিজের দুই হাত দিয়ে রাহুলের গালদুটো আলতো করে ধরলেন।
"মা-কে এখন যেতেই হবে সোনা..." তিনি খুব নরম, ফিসফিস করা গলায় সান্ত্বনা দিলেন। "কিন্তু তুই ওই স্যাড ফেসটা করিস না প্লিজ..... ঠিক আছে, শোন... আমি একটা প্রমিস করছি।"
রাহুল একটু চোখ তুলে তাকাল।
"আমি চেষ্টা করব রাতে তোকে টেক্সট করার, ঠিক আছে সোনা?" ইন্দিরা এক পরম প্রশ্রয়ে ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন। "তোর বাবা যখন ঘুমিয়ে পড়বে, আমরা কিছুক্ষণ হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট করব। ওকে বাবু? তাহলে তোর মনটা একটু ভালো হবে?"
রাহুলের বিষণ্ণ মুখটা এক লহমায় একটু উজ্জ্বল হয়ে উঠল। ও একটু হাসল এবং মাথা নেড়ে বলল, "ওকে মা, সাউন্ডস গুড।"
ইন্দিরা ওর কপালে একটা দ্রুত, স্নেহমাখা চুমু খেয়ে বললেন, "গুড বয়।"
তারপর তিনি আর এক মুহূর্তও না দাঁড়িয়ে খুব সাবধানে, নিঃশব্দে দরজাটা খুলে করিডোরে বেরিয়ে গেলেন।
১০.৩. গোপন ফোনালাপ ও আগামীর নকশা
রাত তখন সাড়ে বারোটা পেরিয়ে গেছে। সুব্রত ততক্ষণে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তাঁর নাক ডাকার মৃদু, একটানা শব্দ অন্ধকার ঘরটায় গমগম করছে।
ইন্দিরা খুব সাবধানে নিজের পাশ ফিরে শুলেন। বিছানার পাশের টেবিল থেকে নিজের ফোনটা তুলে নিলেন তিনি। স্ক্রিনের আলোটা একদম কমিয়ে দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ ওপেন করলেন। রাহুলের চ্যাট উইন্ডোতে গিয়ে দেখলেন ও 'অনলাইন' দেখাচ্ছে। ইন্দিরার ঠোঁটের কোণে একটা প্রশ্রয়ের হাসি ফুটে উঠল। তিনি অত্যন্ত দ্রুত আঙুল চালিয়ে টাইপ করলেন:
ইন্দিরা: "জেগে আছিস?"
মেসেজটা ডেলিভার হওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ব্লু-টিক হয়ে গেল। আর প্রায় সাথে সাথেই রিপ্লাই এল।
রাহুল: "হ্যাঁ মা।"
ইন্দিরা অন্ধকারে একটু হাসলেন। ছেলেটা যেন ঠিক এই মুহূর্তটার জন্যই চাতকের মতো বসেছিল। তিনি টাইপ করলেন:
ইন্দিরা: "

[ বাপরে! এত ফাস্ট রিপ্লাই! তুই কি সারাক্ষণ ফোনটা হাতে নিয়েই বসেছিলিস নাকি?"
রাহুল: "অবশ্যই! আমি তো তোমার মেসেজেরই ওয়েট করছিলাম।"
ইন্দিরা ইচ্ছে করেই শাসনমিশ্রিত ভঙ্গিতে লিখলেন,
ইন্দিরা: "পাকা ছেলে! সারাদিন কত খাটনি গেছে, কাল আবার সকাল সকাল উঠতে হবে। এখন তো তোর ঘুমানো উচিত, তাই না?"
নিজের ঘরে, অন্ধকার বিছানায় শুয়ে থাকা রাহুলের মুখে একটা চওড়া হাসি ফুটে উঠল। ও টাইপ করল:
রাহুল: "ঘুম কি আর এমনি এমনি আসে! বাবা ঘুমিয়েছে?"
ইন্দিরা পাশ ফিরে ঘুমন্ত সুব্রতর দিকে একবার তাকালেন। একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে তিনি স্ক্রিনে লিখলেন:
ইন্দিরা: "হ্যাঁ, অনেকক্ষণ। একদম অঘোরে ঘুমোচ্ছে। এতক্ষণ মিটিংয়ের ধকল গেছে তো।"
রাহুল: "যাক, বাঁচা গেল।"
ইন্দিরা এবার একটু কপট অভিমান আর মাতৃসুলভ অহংকারের মিশেলে টাইপ করলেন:
ইন্দিরা: "যাই হোক, অন্তত একটা থ্যাঙ্ক ইউ তো বলতে পারিস আমাকে! তুই যা যা ফালতু আর রিডিকিউলাস আবদার করলি, আমি তো সবেতেই রাজি হলাম আজ।"
কয়েক মুহূর্ত পর রাহুলের মেসেজ এল:
রাহুল: "থ্যাঙ্ক ইউ মা। ইউ আর দ্য বেস্ট। কিন্তু অনেস্টলি বলতে গেলে..."
ইন্দিরা ভুরু কুঁচকে স্ক্রিনের দিকে তাকালেন। আবার কীসের ফন্দি আঁটছে এই ছেলে? তিনি লিখলেন:
ইন্দিরা: "অনেস্টলি কী?"
রাহুলের ঘর থেকে মেসেজ আসতে একটু সময় লাগল। ও যেন শব্দগুলো খুব গুছিয়ে লিখছিল।
রাহুল: "আজকেরটা খুব সুন্দর ছিল, আমার খুব ভালো লেগেছে... কিন্তু গত শুক্রবার রাতে আমরা যখন স্কিন-টু-স্কিন ছিলাম, সেই ফিলিংসটার ধারেকাছেও এটা আসে না।"
মেসেজটা পড়ার সাথে সাথে ইন্দিরার বুকের ভেতরটা এক অজানা শিহরণে কেঁপে উঠল। তিনি ফোনটা বুকের ওপর নামিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। এই ছেলেটার কোনো লিমিট নেই। তিনি আবার কিপ্যাডে আঙুল রাখলেন।
ইন্দিরা: "উফ্, তোর ডিমান্ডের কোনো শেষ নেই, তাই না? তুই বুঝতে পারছিস না পরিস্থিতিটা কতটা জটিল? তোর বাবা বাড়িতে আছে, আর আমি এসব কী করছি তোর সাথে? এনিওয়ে, ওটা একটা ওয়ান-টাইম রিওয়ার্ড ছিল, রাহুল। দ্যাটস ইট।"
রাহুল: "ওয়ান-টাইম কেন হবে মা? আমরা তো একটু চেষ্টা করলেই একটা সেফ উপায় বের করে নিতে পারি।"
রাহুল: "আর সত্যি করে বলো, আমি জানি তুমিও আমাকে আগের মতো কাছে টানার সুযোগ খুঁজছ। তাই না?"
ইন্দিরা এই গোপন, নিষিদ্ধ খেলার রোমাঞ্চ আর ছেলের এই চরম স্পর্ধার কথা পড়ে মনে মনে হাসলেন। তিনি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে টাইপ করলেন:
ইন্দিরা: "বড্ড পেকেছিস তুই! সব ব্যাপারেই তোর একটা না একটা ফন্দি চাই। ঠিক আছে, দেখি তোর মাথায় কী মাস্টারপ্ল্যান ঘুরছে।"
রাহুল: "ডান! তাহলে শোনো আমার আইডিয়াটা...

"
ইন্দিরা: "বল, শুনি। তোর বাবা বাড়িতে থাকতে তুই স্কিন-টু-স্কিনের মতো একটা চরম রিস্কি জিনিস কীভাবে এক্সিকিউট করার প্ল্যান করছিস, সেটা ভেবেই আমার অদ্ভুত লাগছে।"
রাহুল নিজের অন্ধকার ঘরে বিছানায় শুয়ে এবার একটু নড়েচড়ে বসল। ও টাইপ করতে শুরু করল:
রাহুল: "গত শুক্রবার রাতে তুমি তোমার কিছু নস্টালজিক স্মৃতির কথা বলছিলে... মনে আছে? আমি বলেছিলাম আমি সেই ফিলিংসটা রিক্রিয়েট করতে চাই।"
ইন্দিরা মেসেজটা পড়লেন। তাঁর মনে পড়ে গেল শুক্রবার রাতের সেই চরম মুহূর্তের কথা, যে অনুভূতির স্বাদ তিনি মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও আরো একবার পেয়েছিলেন। তিনি লিখলেন:
ইন্দিরা: "হ্যাঁ, তুই আমার বুকে... ওই ব্যাপারটা।"
রাহুল: "তুমি আরও একটা স্মৃতির কথা বলছিলে। যখন আমি একদম ছোট ছিলাম, তখন তুমি আমাকে স্নান করিয়ে দিতে আর নিজে স্নান করতে... কারণ তুমি আমাকে বাথরুমের বাইরে একা ছাড়তে পারতে না। মনে আছে?"
ইন্দিরার আঙুলগুলো স্ক্রিনের ওপর থমকে গেল। তাঁর চোখের দৃষ্টিটা এক অদ্ভুত নস্টালজিয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে এল। তিনি খুব ধীর গতিতে টাইপ করলেন:
ইন্দিরা: "হ্যাঁ... তুই একদম একটা বাঁদরছানার মতো আমার গায়ের সাথে লেপ্টে থাকতিস।"
রাহুল: "এবার কি তুমি বুঝতে পারছ আমার প্ল্যানটা কী?"
ইন্দিরা ফোনের স্ক্রিনের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন। তাঁর বুকের ভেতরটা এবার সত্যি সত্যিই ধড়ফড় করতে শুরু করেছে। তিনি বুঝতে পারছিলেন রাহুল কী চাইছে, কিন্তু সেটা লিখে কনফার্ম করতে তাঁর হাত কাঁপছিল। তিনি একটা ঢোক গিলে টাইপ করলেন:
ইন্দিরা: "তুই চাইছিস... মায়ের সাথে স্নান করার ওই স্মৃতিটা রিক্রিয়েট করতে?"
রাহুল: "হ্যাঁ।"
এই একটা শব্দের মেসেজটা পড়ে ইন্দিরার শ্বাস আটকে এল। তিনি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। যুক্তিবাদী সত্তাটা প্রবলভাবে জেগে উঠল। তিনি দ্রুত টাইপ করলেন:
ইন্দিরা: "এটা জাস্ট রিডিকিউলাস, রাহুল! এত অ্যাবসার্ড কথা আমি জীবনেও শুনিনি! এটা ইমপসিবল। ছেলে বড় হয়ে যাওয়ার পর মা আর ছেলে একসাথে স্নান করতে পারে না!"
রাহুল: "কোথায় লেখা আছে এরকম কোনো রুল?"
ইন্দিরা: "কোনো রুল বুক নেই ঠিকই, কিন্তু এটা ঠিক নয়। এটা একেবারেই অ্যাক্সেপ্টেবল নয়।"
রাহুল এবার ওর তূণীর থেকে সবচেয়ে মোক্ষম ব্রহ্মাস্ত্রটা বের করল। ও খুব ঠান্ডা মাথায় টাইপ করল:
রাহুল: "মা... গত শুক্রবার রাতে আমি যখন তোমার বুকে... মুখ দিয়েছিলাম... তুমি তো নিজেই বলেছিলে ওটা তোমাকে এমন একটা শান্তি দিচ্ছিল যা তুমি জীবনেও পাওনি। যদি ওইটা করা ওকে হয়, তাহলে এটাও তো ওকে হওয়া উচিত।"
রাহুলের এই অকাট্য, ধ্বংসাত্মক যুক্তির মেসেজটা পড়ে ইন্দিরার সমস্ত প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে গেল। তিনি অন্ধকারের মধ্যেই নিজের কপালে হাত দিলেন। ছেলেটা তাঁকে তাঁর নিজের কথা দিয়েই আটকে দিয়েছে। তিনি মরিয়া হয়ে টাইপ করলেন:
ইন্দিরা: "এটা কোনো লজিক বা রুলের ব্যাপার নয়। এটা পুরোপুরি আমার ফিলিংসের ব্যাপার। আমার এসব একদম প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। তুই একটা পাগল।"
রাহুল: "মা, ভেবে দেখো, আমরা কিন্তু এটা খুব ইজিলি করতে পারি, বাবা বাড়িতে থাকলেও। কারণ বাবা কোনোদিনও ভুলে তোমার প্রাইভেট বাথরুমে নক করবে না, বা ওই বাথরুমটা ইউজ করবে না। আমি শিওর।"
ইন্দিরা: "তোর বাবা ঢুকবে না, কিন্তু আমি তো জানব... আমি তো জানব যে আমি আমার ছেলের সাথে বাথরুমের ভেতরে কী করছি... সত্যি করে বল তো, তোর কাছে কি এটা সত্যিই শুধু একটা মেমরি রিক্রিয়েট করার ব্যাপার? আর কিছু না?"
রাহুলের ঘর থেকে এবার রিপ্লাই আসতে একটু বেশি সময় লাগল। ও নিজের ইমোশনগুলোকে টেক্সটের মাধ্যমে বোঝানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছিল।
রাহুল: "শুধু তাই নয় মা... এটা ভালোবাসা। কারণ আমি তোমাকে এই পৃথিবীর সবকিছুর চেয়ে বেশি ভালোবাসি। আজ সন্ধেবেলাও আমি তোমাকে এটাই বলেছিলাম। আমার আর কিচ্ছু চাই না জীবনে। আমার শুধু আমার মাকে চাই।"
রাহুলের এই চরম সমর্পণ আর ভালোবাসার মেসেজটা পড়ে ইন্দিরার বুকের ভেতরটা যেন একটা দাবানলের মতো জ্বলে উঠল। তাঁর ভেতরের মাতৃত্ব, নারীত্ব আর সমস্ত অবদমিত আকাঙ্ক্ষা একাকার হয়ে গেল। তিনি একটা দীর্ঘ, কাঁপানো শ্বাস ছাড়লেন। কিন্তু তবুও তাঁর ভেতরের অভিভাবক সত্তাটা শেষবারের মতো একটা জোরালো প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করল। তিনি টাইপ করলেন:
ইন্দিরা: "রাহুল... তুই খুব ভালো করেই জানিস ঠিক কী কথা বললে আমি দুর্বল হয়ে পড়ি। কিন্তু তুই বুঝতে পারছিস তুই প্র্যাক্টিক্যালি কী চাইছিস? একসাথে স্নান করা মানে... আমাকে তোর সামনে পুরোপুরি জামাকাপড় ছাড়া থাকতে হবে! তুই জানিস এটা কতটা অস্বস্তিকর?"
রাহুল: "তাতে কী প্রবলেম মা? আমি তো অলরেডি তোমার ওপরের দিকটা দেখেছি। তুমি তো আজকেও আমাকে দেখালে। গত শুক্রবারও দেখেছি।"
ইন্দিরা অন্ধকারে নিজের কপালে হাত দিলেন। তিনি দ্রুত টাইপ করলেন:
ইন্দিরা: "ওটা জাস্ট একটুখানি ছিল, সোনা। একটা নির্দিষ্ট লিমিট অবধি। কিন্তু পুরো শরীর দেখানো... একজন মায়ের তার এত বড় ছেলের সামনে সম্পূর্ণ নগ্ন হওয়া... এটার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত! এটা চরম লজ্জার ব্যাপার। আমি পারব না।"
রাহুল এবার ওর সবচেয়ে মোক্ষম যুক্তিটা দিল:
রাহুল: "লজ্জা কিসের মা? তুমি তো নিজেই বললে, আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন তুমি আমাকে নিয়ে একসাথে বাথরুমে স্নান করতে। তখন কি তুমি জামাকাপড় পরে থাকতে? তখন তো তুমি... ন্যাংটোই ছিলে, তাই না? তাহলে এখন কেন এত লজ্জা করছ?"
ইন্দিরা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে স্তব্ধ হয়ে গেলেন। ছেলেটা তাঁকে তাঁর নিজের কথা দিয়েই কীভাবে আটকাচ্ছে! তিনি মরিয়া হয়ে টাইপ করলেন:
ইন্দিরা: "তখন তুই এক ফোঁটা বাচ্চা ছিলিস! আর এখন তুই ১৯ বছরের ধেড়ে জোয়ান ছেলে! দুটোর মধ্যে কোনো কম্পারিজন হয় না, রাহুল।"
রাহুল: "কিন্তু মা, শুধু তো তুমি নও। বাথরুমে তো আমিও ন্যাংটো হয়ে থাকব। আমার তো কোনো লজ্জা করছে না। আমি তো ওকে আছি। তাহলে তোমার কেন করবে?"
ইন্দিরার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। তিনি কাঁপাকাঁপা হাতে টাইপ করলেন:
ইন্দিরা: "রাহুল! দুটো কি এক জিনিস হলো? তুই ছেলে, আমি তোর মা—একজন নারী! আর তাছাড়া তুই নিজে কি বুঝতে পারছিস তুই কী বলছিস? একটা সাবালক ছেলে তার মায়ের সামনে..."
রাহুল: "আমি শুধু আমার মায়ের সামনে থাকব মা, অন্য কারোর সামনে তো নয়। আর তুমিই তো আমাকে জন্ম দিয়েছ, তুমি তো আমার সবটাই দেখেছ ছোটবেলা থেকে।"
ইন্দিরা: "ছোটবেলায় দেখেছি, এখন তো তুই বড় হয়েছিস! বড্ড অদ্ভুত আর অস্বস্তিকর এটা। আমার মাথা কাজ করছে না, রাহুল। তুই আমাকে এমন একটা সিচুয়েশনে ফেলছিস যেখানে আমার ইমোশন আর লজিক দুটোই গুলিয়ে যাচ্ছে। এটা বড্ড বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে।"
রাহুল বুঝতে পারল মায়ের যুক্তির দেওয়াল ভাঙতে শুরু করেছে এবং মা এখন একটা চরম মানসিক দ্বন্দ্বে ভুগছে।
রাহুল: "তাহলে লজিক দিয়ে ভেবো না মা। আর চট করে হ্যাঁ-ও বোলো না। আমাকে এটা অর্জন করতে দাও। ঠিক আগের মতো। লেটস গো ব্যাক টু আওয়ার বার্টার সিস্টেম। তুমি আমাকে এমন কোনো কঠিন চ্যালেঞ্জ দাও, যেটা পূরণ করলে তবেই তুমি আমাকে এই রিওয়ার্ডটা দেবে।"
মেসেজটা পাঠিয়ে রাহুল উত্তেজনার সাথে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।
ইন্দিরা মেসেজটা পড়লেন। প্রস্তাবটার চরম স্পর্ধা এবং তাঁর নিজের ভেতরের এক আদিম, নিষিদ্ধ কৌতূহল তাঁকে মুহূর্তের জন্য পুরোপুরি স্থবির করে দিল। তিনি ফোনটা বুকের ওপর নামিয়ে রাখলেন। চোখদুটো বন্ধ করে অন্ধকারে নিঃশ্বাস নিতে লাগলেন। তাঁর ভেতরের সমাজ, সংস্কার আর মাতৃত্বের এক অদ্ভুত সংঘাত চলছিল। এক মিনিট... দু'মিনিট... তাঁর ফোনের স্ক্রিনের আলোটা ধীরে ধীরে নিভে গেল।
এদিকে নিজের ঘরে শুয়ে রাহুল ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠছিল। হোয়াটসঅ্যাপে মায়ের নামের নিচে 'অনলাইন' দেখাচ্ছে, কিন্তু কোনো 'টাইপিং...' লেখা আসছে না। তিন মিনিট কেটে গেল। রাহুলের বুকের ভেতরটা এবার আশঙ্কায় কাঁপতে শুরু করল। মা কি সত্যি সত্যিই বড্ড বেশি রেগে গেল? মা কি আর কথা বলবে না?
ও আর থাকতে না পেরে দ্রুত টাইপ করল:
রাহুল: "মা? তুমি আছ?"
রাহুল: "মা, প্লিজ কিছু তো বলো... তুমি কি রেগে গেলে?"
রাহুল: "মা... তুমি কি অনলাইন আছ?"
ইন্দিরা ফোনের ভাইব্রেশন শুনে চোখ খুললেন। স্ক্রিনে পর পর তিনটে মেসেজ। ছেলের এই ভয় পাওয়া, আকুল মেসেজগুলো পড়ে তাঁর ভেতরের সমস্ত যুদ্ধের অবসান ঘটল। একটা দীর্ঘ, কাঁপানো শ্বাস ছেড়ে তিনি একটা নরম, অসহায় হাসি হাসলেন। ছেলেটা তাঁকে কোনো দিক থেকেই পালানোর রাস্তা দিচ্ছে না। তিনি পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে টাইপ করতে শুরু করলেন।
রাহুল দেখল স্ক্রিনে ফাইনালি 'টাইপিং...' ভেসে উঠেছে। ওর হৃৎপিণ্ডটা গলার কাছে চলে এল।
ইন্দিরা: "বার্টার সিস্টেম! সবসময় তোর ওই জঘন্য বার্টার সিস্টেম। ঠিক আছে। আমি খেলব তোর এই বার্টার গেম। আমি আমার কন্ডিশন নিয়ে রেডি।"
রাহুল: "উফ্, বাঁচালে মা! থ্যাঙ্ক ইউ! তো বলো, চ্যালেঞ্জটা কি খুব কঠিন হতে চলেছে? আমার তো সামনে কোনো এক্সামও নেই।"
ইন্দিরা বিছানায় সামান্য উঠে বসলেন। অন্ধকারেও তাঁর ভেতরের সেই কড়া, শৃঙ্খলাপরায়ণ মায়ের রূপটা আবার ফিরে এল। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় নিজের শর্তগুলো টাইপ করতে লাগলেন:
ইন্দিরা: "আমি একজন মা, রাহুল। তাই আমার চ্যালেঞ্জগুলো সবসময় তোর ডিসিপ্লিন আর পড়াশোনার কথা ভেবেই হবে। তোর তো সামনের সোম আর মঙ্গলবার ছুটি, তাই না?"
রাহুল: "হ্যাঁ মা।"
ইন্দিরা: "বেশ। আগামী চার দিন—অর্থাৎ শনিবার, রবিবার, সোমবার আর মঙ্গলবার—তুই কমপ্লিট আইসোলেশনে থাকবি। কোনো ফোন নয়, কোনো ভিডিও গেম নয়, কোনো বন্ধুদের সাথে চ্যাটিং নয়, কোনো সোশ্যাল মিডিয়া নয়। তোর ফোন কাল সকালেই তুই আমার কাছে জমা করে দিবি।"
ইন্দিরা: "তুই তোর ল্যাপটপ বা পিসি ইউজ করতে পারিস, কিন্তু সেটা শুধুমাত্র পড়াশোনার রিসার্চের জন্য, এবং সেটাও কমপ্লিটলি আমার সুপারভিশনের আন্ডারে।"
রাহুল মেসেজগুলো পড়ে একটু থমকাল বটে, কিন্তু প্রাপ্তির আনন্দ এতটাই বিশাল যে, এই চার দিনের আত্মত্যাগ তার কাছে নিতান্তই তুচ্ছ।
ইন্দিরা: "আর সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট কথা... এই চার দিন, রোজ রাত ঠিক ন'টার সময় তুই লিভিং রুমে আমার সামনে এসে দাঁড়াবি। সারাদিন তুই কী কী পড়াশোনা করেছিস, কী কী শিখেছিস—তার একটা কমপ্লিট ভার্বাল সামারি তুই আমাকে দিবি। আর আমি যতবার চাইব তোকে ওই টপিকগুলোর ওপর ক্রস-কোয়েশ্চেন করতে পারব, সেই রাইট আমার থাকবে। বুঝতে পেরেছিস?"
রাহুল: "ওকে মা, বুঝতে পেরেছি। ডান। কিন্তু রিওয়ার্ডটা কবে পাব? মঙ্গলবার তো বাবা বাড়িতেই থাকবে।"
ইন্দিরা এবার অন্ধকারে এক অদ্ভুত, তৃপ্ত এবং রহস্যময় হাসি হাসলেন। তাঁর কাছে এমন একটা গোপন খবর ছিল যা রাহুল জানত না। তিনি টাইপ করলেন:
ইন্দিরা: "তোর বাবার আগামী বুধবার বিকেল থেকে শুরু করে রাত অবধি রোটারি ক্লাবে একটা ইম্পর্ট্যান্ট মিটিং আছে। তাই, তোর ওই মহামূল্যবান রিওয়ার্ডটা এক্সিকিউট হবে বুধবার বিকেলে... ২২শে এপ্রিল।"
১০.৪. চুক্তির দলিল
রাহুল নিজের অন্ধকার ঘরে বিছানায় শুয়ে উত্তেজনার চোটে প্রায় ছটফট করে উঠল। গতবারের মতোই ওর স্বভাবসিদ্ধ আইনি মনটা জেগে উঠেছে। ও দ্রুত টাইপ করল:
রাহুল: "মা, আমি চাই এটা অফিশিয়াল হোক। যেমন আমরা আগেরবার কাগজে লিখেছিলাম। এবার হোয়াটসঅ্যাপেই একটা কন্ট্রাক্ট লিখে দাও।"
সুব্রতর পাশে শুয়ে থাকা ইন্দিরার ঠোঁটের কোণে একটা চওড়া, প্রশ্রয়ের হাসি ফুটে উঠল। এই ছেলেটার সব কিছুতেই একটা নিখুঁত ডকুমেন্টেশন চাই। তিনি টাইপ করলেন:
ইন্দিরা: "আজ কত তারিখ?"
রাহুল: "১৭ই এপ্রিল। মা, তুমিও সত্যি, ফোনেই তো ডেট দেখা যায়।"
ইন্দিরা: "একদম পাকামো করবি না তো! অনেক রাত হয়েছে, আর মায়েরও বয়স হয়েছে, সবসময় মাথা কাজ করে না।"
ইন্দিরা বিছানার হেডবোর্ডে মাথা ঠেকিয়ে অত্যন্ত নিখুঁত, আইনি ভাষায় মেসেজটা ড্রাফট করতে শুরু করলেন। কয়েক মিনিট সময় নিয়ে তিনি পুরো চুক্তিটা টাইপ করলেন এবং সেন্ড করলেন:
ইন্দিরা:
"বিনিময় চুক্তিপত্র (Barter Agreement)
তারিখ: ১৭ই এপ্রিল
পক্ষসমূহ: ডক্টর ইন্দিরা সেন (মা) এবং রাহুল সেন (ছেলে)
শর্তাবলী:
১. রাহুল সেন আগামী চার দিন (শনিবার, রবিবার, সোমবার এবং মঙ্গলবার) সম্পূর্ণ ডিজিটাল বিচ্ছিন্নতায় (আইসোলেশনে) থাকবে। তার মোবাইল ফোন মায়ের কাছে জমা থাকবে।
২. সে কেবলমাত্র মায়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পড়াশোনার স্বার্থে কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারবে।
৩. উক্ত চার দিন, প্রতিদিন রাত ৯.০০ ঘটিকায় রাহুলকে বসার ঘরে মায়ের সামনে উপস্থিত হয়ে সারাদিনের পঠিত বিষয়ের একটি সম্পূর্ণ মৌখিক সারাংশ প্রদান করতে হবে। মা যেকোনো প্রশ্ন করার অধিকার সংরক্ষণ করেন।
পুরস্কার:
রাহুল যদি উপরের সমস্ত শর্তাবলী নিখুঁতভাবে এবং মায়ের পূর্ণ সন্তুষ্টির সাথে পালন করতে সক্ষম হয়, তবে আগামী ২২শে এপ্রিল (বুধবার) বিকেলে মা তাকে নিম্নলিখিত পুরস্কারটি প্রদান করবেন:
মা এবং ছেলে মায়ের ব্যক্তিগত স্নানাগারে একসাথে স্নান করবে।
গোপনীয়তা:
এই চুক্তিপত্র এবং এর অন্তর্নিহিত বিষয়বস্তু সম্পূর্ণভাবে গোপন এবং শুধুমাত্র স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।"
মেসেজটা পাঠিয়ে ইন্দিরা আবার টাইপ করলেন:
ইন্দিরা: "স্বাক্ষর: ডক্টর ইন্দিরা সেন। নে, এবার তুই সাইন কর।"
রাহুলের ঘর থেকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রিপ্লাই এল:
রাহুল: "Signed by: Rahul Sen ✍️

miling-face-with-sunglasses: "
ইন্দিরা মেসেজটা দেখে একটু মুচকি হাসলেন। তারপর একটা তাচ্ছিল্য মেশানো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে টাইপ করলেন:
ইন্দিরা: "কী রে? তুই কি সত্যিই চার দিন ধরে একটা গুড, ডিসিপ্লিনড বয় হয়ে থাকতে পারবি?"
রাহুল অত্যন্ত সিরিয়াস এবং তীব্র আন্তরিকতার সাথে রিপ্লাই দিল:
রাহুল: "আমি তোমার জন্য পৃথিবীর যেকোনো কিছু করতে পারি, মা।"
স্ক্রিনের ওপর ভেসে ওঠা এই ছোট্ট লাইনটা পড়ে ইন্দিরার বুকের ভেতরটা এক অদ্ভুত আবেগে মোচড় দিয়ে উঠল। তাঁর চোখের কোলটা হালকা ভিজে এল। তিনি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে, নিজের আবেগ লুকিয়ে টাইপ করলেন:
ইন্দিরা: "এমন কিছু বলিস না যেটা নিয়ে পরে তুই নিজেই পস্তাবি। আমি দেখব আগামী চার দিন তোর রেজোলিউশন কতটা স্ট্রং থাকে। কাল সকাল ঠিক সাতটার সময় ডাইনিং টেবিলে রিপোর্ট করবি, তোর ফোন নিয়ে। আমার হাতে জমা দিবি। এর যেন অন্যথা না হয়, রাহুল।"
রাহুল: "তুমি যা বলছ, তাই হবে মা। ওহ, আর একটা কথা... বুধবার আমি কলেজ থেকে তাহলে একটু আগে ফিরে আসার চেষ্টা করব। তুমিও একটু চেষ্টা কোরো, কেমন? আর আমি সকালে স্নান করে যাব না, ওকে? কারণ বিকেলে তো আমরা একসাথে স্নান করব... রাইট মা? ?"
ইন্দিরা ভেতরে ভেতরে খুশি হলেও, মেসেজে এক কড়া ভঙ্গি ফুটিয়ে তুললেন:
ইন্দিরা: "হ্যাঁ, আমরা স্নান করব ঠিকই। কিন্তু তুই যদি তোর কন্ডিশনগুলো ঠিকঠাক মানিস তবেই। আর তুই যে বলছিস সকালে স্নান করবি না... কলেজ থেকে যখন ঘেমো ভূত হয়ে ফিরবি, তখন কিন্তু এক্সপেক্ট করবি না যে তোর গায়ের গন্ধে আমি খুব ইমপ্রেসড হব! ?"
রাহুল: "তাতে কী এসে যায় মা? তুমি তো আমাকে ধুইয়ে একদম পরিষ্কার করেই দেবে।

[ "
ইন্দিরা অন্ধকারে নিঃশব্দে হাসলেন। ছেলেটা জাস্ট ইমপসিবল।
ইন্দিরা: "হুমম, তা অবশ্য ঠিক। আমি তোকে ঘষেমেজে একদম চকচকে করে দেব। কিন্তু প্লিজ, কলেজে অন্তত একটু ডিওডোরেন্ট মেখে যাস, ওকে?"
রাহুল: "ওকে, মা। আর একটা কথা... আমরা কি একই সাবান মাখব, মা?"
ইন্দিরার আঙুলগুলো কিপ্যাডের ওপর দ্রুত চলতে লাগল:
ইন্দিরা: "উফফ তুই পারিসও বটে রাহুল! তোর কি মুখে কোনো ফিল্টার নেই রে? যা মনে আসে সব মাকে বলে দিস... হ্যাঁ, অবশ্যই একই সাবান মাখব, বোকা ছেলে কোথাকার। তুই কি ভেবেছিস আমি দুটো আলাদা সাবান রাখব? একটা আমার জন্য, আর একটা আমার রাজপুত্তুরের জন্য? ধুর, একটাই সাবান আমরা দুজনে মাখব।"
রাহুলের মেসেজ এল:
রাহুল: "আর মা... তুমি আমাকে শ্যাম্পু করে দেবে তো?"
ইন্দিরা: "হ্যাঁ রে বাবা, শ্যাম্পু করে দেব, ভালো করে স্নান করিয়ে দেব। সব করব।"
রাহুলের দিক থেকে এবার রিপ্লাই আসতে একটু সময় লাগল। ও যেন একটু দ্বিধা নিয়েই টাইপ করল:
রাহুল: "আর... আর আমি? আমিও কি তোমাকে শ্যাম্পু আর... সাবান মাখিয়ে দিতে পারব? :pleading-face: "
ইন্দিরা চোখ বড় বড় করে, অন্ধকারে এক চরম কৃত্রিম বিরক্তি আর প্রশ্রয়ের ভান করে টাইপ করলেন:
ইন্দিরা: "উফ্, তোর ডিমান্ডের তো কোনো শেষ নেই দেখছি! মায়ের সব কিছুতেই ভাগ বসাতে হবে? বাঁদর ছেলে! ঠিক আছে... তাই দিস। মা আর ছেলের তো ব্যাপার... দিবি তুইও মাখিয়ে।"
রাহুলের মেসেজে এবার এক পরম তৃপ্তি আর আনন্দের জোয়ার ফুটে উঠল:
রাহুল: "তার মানে... আমার গা থেকে একদম তোমার গায়ের গন্ধ বেরোবে। ❤️"
মেসেজটা পড়ে ইন্দিরার বুকের ভেতরের শ্বাসটা আটকে গেল। তাঁর চোখদুটো এক অসীম উষ্ণতা আর পরম মমত্বে গাঢ় হয়ে এল। অন্ধকার ঘরে, স্বামীর পাশে শুয়ে থেকেও তিনি যেন এই মুহূর্তে কেবলই তাঁর ছেলের ভালোবাসার ঘেরাটোপে বন্দি। তিনি এক চরম পবিত্র আবেগে টাইপ করলেন:
ইন্দিরা: "হ্যাঁ... তুই একদম আমার মতো গন্ধ পাবি। আর আমি... আমি তোর মতো গন্ধ পাব।"
রাহুল: "ওহ মা... বুধবার আমি আমার মাকে আবার পুরোপুরি নিজের করে পাব... আমি প্রচন্ড খুশি মা... প্রচন্ড খুশি। ইচ্ছে করছে এক্ষুনি তোমার ঘরে গিয়ে তোমাকে একটা টাইট হাগ দিই।"
ইন্দিরা ফোনটা নিজের বুকের ওপর চেপে ধরলেন। তাঁরও ইচ্ছে করছিল ছেলেকে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরতে। তিনি একটা গভীর শ্বাস নিয়ে টাইপ করলেন:
ইন্দিরা: "আমার গুড বয় হয়ে থাকিস সোনা... আগামী চারটে দিন... নিজের প্রমিসটা রাখিস... গুডনাইট বাবু।"
রাহুল: "প্রমিস মা। গুডনাইট। লাভ ইউ।

miling-face-with-hearts: "
RE: The Barter System (By:andygarfield) -
Bad Boy - 09-02-2026
একাদশ পরিচ্ছেদ: বাষ্পার্ত দেওয়াল এবং এক চূড়ান্ত সমর্পণ
১১.১. চার দিনের তপস্যার ফল
শনিবার, রবিবার, সোমবার এবং মঙ্গলবার—এই চারটে দিন সেন বাড়ির ভেতরে যেন এক দমবন্ধ করা স্তব্ধতায় কেটে গেল। এপ্রিল মাসের শেষের দিক, কলকাতার বাইরের আকাশ থেকে তখন যেন আগুনের হলকা নামছে। পিচগলা রাস্তা, গাছের পাতায় জমে থাকা ধুলো, আর রোদের তীব্র চোখরাঙানি—সব মিলিয়ে বাইরের পৃথিবীটা যখন দহনজ্বালায় পুড়ছে, ইন্দিরার ফ্ল্যাটের ভেতরে তখন চলছিল এক অন্য রকম মনস্তাত্ত্বিক দহন।
রাহুলের নিভৃতবাস ছিল নিখুঁত। সম্পূর্ণ, নিশ্ছিদ্র এবং নিখাদ মনোযোগে অনন্য। ওর মোবাইল ফোনটা ইন্দিরার ড্রয়ারের ভেতর বন্ধ করা। ল্যাপটপটা কেবলই উইকিপিডিয়া আর পড়ার বই বা নোটস-এর পিডিএফ খোলার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল। সারাদিনে রাহুল নিজের ঘর থেকে বেরোত শুধু খাওয়ার জন্য। সুব্রত বাড়িতে থাকলে হয়তো তাঁর মতো নিয়মানুবর্তিতার পরাকাষ্ঠার কাছেও রাহুলের এই আচরণ প্রয়োজনাতিরিক্ত ঠেকত, কিন্তু কাজের চাপে সে নিজেও বাড়িতে থাকাকালীন নিজের ঘরেই বেশি সময় কাটিয়েছে।"
ইন্দিরা এই চারটে দিন করিডোর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মাঝে মাঝেই রাহুলের ঘরের ভেজানো দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরেছেন। টেবিল ল্যাম্পের আলোয় ছেলেটার ঝুঁকে থাকা পিঠ, বইয়ের পাতার ওপর দিয়ে দ্রুত চলতে থাকা কলম, আর ওর কপালে জমে থাকা বিন্দু বিন্দু ঘাম—এই দৃশ্যটা ইন্দিরার বুকের ভেতরে এক অদ্ভুত দোলাচল তৈরি করত। একদিকে এক চরম মাতৃসুলভ গর্ব, যে তাঁর ছেলে কতটা বাধ্য, কতটা শৃঙ্খলাপরায়ণ; আর অন্যদিকে এক চোরা, উষ্ণ আর্তি—যে এই ছেলেটা, এই উনিশ বছরের তরতাজা যুবক, শুধুমাত্র তাঁর শরীরের একটুখানি ছোঁয়া, একটুখানি সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য এতটা তীব্র সাধনা করছে। এই ভেবে ইন্দিরার নিজের শরীরের ভেতরেই এক অচেনা, নিষিদ্ধ উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ত। তিনি বুঝতে পারছিলেন না, ছেলেটা কি পারবে? কিন্তু রাহুলের এই পাগলের মতো পরিশ্রম দেখে তিনি মনে মনে এক অনির্বচনীয় তৃপ্তি অনুভব করছিলেন।
মঙ্গলবার রাত। প্রায় নটা বাজে। লিভিং রুমের আলো প্রায় সবই নেভানো, কেবল কোনের দিকে একটা স্ট্যান্ড ল্যাম্প থেকে নরম, মায়াবী হলুদ আলো ঘরের কার্পেটের ওপর এসে পড়েছে। বাইরের রাস্তায় গাড়ির শব্দ কমে এসেছে; অনেক দূরে কোনো এক নেড়ি কুকুরের একটানা ডাক ভাসছে। সুব্রত নিজের ঘরে আগামীকালের মিটিংয়ের খসড়া বানাতে ব্যস্ত।
ঠিক সেই সময় সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে লিভিং রুমে এসে দাঁড়াল রাহুল। ওর পরনে একটা ঢিলেঢালা সুতির টি-শার্ট আর শর্টস। কাঁধ দুটো সামান্য ঝুলে পড়েছে, চোখের নিচে কালচে ছোপ, মুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। কিন্তু ওই ক্লান্তির মধ্যেও ওর চোখের মণি দুটো এক তীক্ষ্ণ, নতুন আত্মবিশ্বাসে চকচক করছে।
ইন্দিরা সোফায় বসেছিলেন। কোলে রাখা মহাভারতের ফেমিনিস্ট ইন্টারপ্রিটেশনের পেপারটিতে তাঁর চোখ থাকলেও, মন ছিল না। তিনি রাহুলের দিকে তাকালেন।
"মা," রাহুল খুব নিচু, ফিসফিস করা গলায় শুরু করল, "আজ আমি ফিজিক্যাল কেমিস্ট্রি নিয়ে পড়াশুনা করেছি। অ্যাটমিক স্ট্রাকচার, কেমিক্যাল বন্ডিং আর মলিকিউলার অরবিটাল থিওরি..."
এরপর রাহুল একটানা প্রায় দশ মিনিট ধরে, নিখুঁতভাবে ওর সারাদিনের পড়াশোনার সামারি দিয়ে গেল। ওর গলার স্বরে কোনো বিরতি ছিল না, কোনো জড়তা ছিল না।
ইন্দিরা একদৃষ্টে তাকিয়ে ছিলেন ওর মুখের দিকে। ওর বলা থিয়োরিগুলো তিনি খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর চোখের দৃষ্টি আটকে ছিল ওর মুখের ওই শ্রান্ত রেখাগুলোতে। ওর কণ্ঠস্বর থামতেই ইন্দিরা একটা গভীর শ্বাস নিলেন। তাঁর গলার স্বরে এক অদ্ভুত, মুগ্ধতার রেশ, যা তিনি শত চেষ্টা করেও ঢাকতে পারলেন না।
"অ্যাটমিক স্ট্রাকচার..." তিনি একটু টেনে, অত্যন্ত নিচু ও গাঢ় স্বরে ফিসফিস করলেন। "দ্যাটস আ টাফ সাবজেক্ট। আজ খুব খাটনি গেছে, তাই না রে সোনা? চোখের কোলটায় তো কালি পড়ে গেছে।"
রাহুল একটা ক্লান্ত কিন্তু তৃপ্ত হাসি হাসল। "হ্যাঁ মা... খুব খাটনি গেছে আজ। কিন্তু অনেক কিছু শিখেছি।"
ইন্দিরা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। তিনি সোফা থেকে সামান্য উঠে দাঁড়িয়ে হাতটা বাড়িয়ে দিলেন ওর মুখের দিকে। খুব আলতো করে, পরম মমতায় ওর কপালের ওপর এসে পড়া রুক্ষ, অবাধ্য চুলের গোছাটা সরিয়ে দিলেন। তাঁর এই ছোঁয়াটা ছিল একদম মাতৃসুলভ, কিন্তু তাঁর ফর্সা আঙুলগুলো রাহুলের কপালের ঘর্মাক্ত, উষ্ণ ত্বকের ওপর প্রয়োজনের চেয়ে অন্তত কয়েক সেকেন্ড বেশি স্থির হয়ে রইল। লিভিং রুমের ওই আবছা আলোয়, ওই নিস্তব্ধতার মধ্যে মা আর ছেলের মাঝখানের বাতাসে যেন এক পবিত্র, অথচ নিষিদ্ধ তৃষ্ণা কম্পিত হতে লাগল।
"খুব সুন্দর বুঝিয়েছিস তুই," ইন্দিরা খুব নিচু, প্রায় গলার ভেতরের স্বরে বিড়বিড় করলেন। "আমার মতো নন-কেমিস্ট্রির ব্যাকগ্রাউন্ডের একজন কে এতো গুছিয়ে ব্যাপারটা বোঝাতে পেরেছিস, এটা একদমই সহজ কাজ নয় রাহুল..." তিনি একটু থামলেন, চোখদুটো রাহুলের চোখের ওপর একদম স্থির রেখে ফিসফিস করলেন, "কালকের জন্য রেডি তো তুই?"
রাহুলের চোখদুটো আশায় আর এক তীব্র আবেগে বড় বড় হয়ে গেল। ও মায়ের ওই চোখের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করল, "তাহলে... তুমি স্যাটিসফায়েড, মা? আমি কি তোমাকে খুশি করতে পেরেছি?"
ইন্দিরার বুক চিরে একটা দীর্ঘ, কাঁপানো শ্বাস বেরিয়ে এল। তিনি আরও এক পা এগিয়ে এলেন। কিছুক্ষণের জন্য তিনি ভুলে গেলেন ওপরের ঘরে সুব্রতর উপস্থিতির কথা। নিজের দুটো সুন্দর, নরম হাত দিয়ে রাহুলের মুখটা একদম কাপের মতো করে ধরলেন। তাঁর বুড়ো আঙুলদুটো খুব আদরে রাহুলের চোখের নিচের ওই ক্লান্তির কালো দাগগুলোর ওপর বুলিয়ে দিতে লাগল। তাঁর গলার স্বর এবার এক আন্তরিক পূজারিণীর মতো শ্রদ্ধায় আর ভালোবাসায় বুজে এল:
"সোনা... তুই তো সবসময়ই আমার মুখ উজ্জ্বল করিস... হ্যাঁ। আমি পুরোপুরি স্যাটিসফায়েড।" তাঁর গলার কাছে একটা ঢোক গেলার শব্দ হলো, শ্বাসটা একটু আটকে গেল। "কাল... কাল আমি আমার প্রমিস রাখব।"
কথাটা শোনার সাথে সাথেই রাহুলের মুখের সমস্ত ক্লান্তি যেন এক জাদুমন্ত্রে উবে গেল। ওর চোখদুটো আনন্দে নেচে উঠল। "ওহ মা! সত্যি? আমি...আই অ্যাম সো হ্যাপি! আমার লাফিয়ে লাফিয়ে নাচতে ইচ্ছে করছে..."
"উশশশ..." ইন্দিরা সাথে সাথে নিজের একটা তর্জনী ওর ঠোঁটের ওপর চেপে ধরলেন, চোখদুটো সতর্কতায় বড় বড় হয়ে গেল। "আস্তে, সোনা... একদম চুপ! তোর বাবা শুনতে পাবে।"
তাঁর হাতদুটো রাহুলের মুখ থেকে পিছলে নেমে এসে ওর দুই কাঁধের ওপর স্থির হলো। তিনি ওর চোখের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন। ইন্দিরার চোখের ওই দৃষ্টিতে তখন এক অদ্ভুত, জটিল ঝড়—একদিকে আগামীকালের সেই চরম মুহূর্তের প্রত্যাশা, অন্যদিকে এক অজানা ভয়, আর তার সাথে মিশে থাকা এক অবদমিত কামনা। তাঁর গলার স্বর এবার বেশ নিচু, ভারী এবং কিছুটা ফ্যাসফ্যাসে শোনাল:
"আমাকে একটা প্রমিস কর... প্রমিস কর যে আজ রাতে তুই খুব ভালো করে ঘুমোবি। তোর এখন ভালো মতন রেস্ট দরকার। তোকে বড্ড ক্লান্ত দেখাচ্ছে, সোনা।"
রাহুল ওর সেই চিরচেনা, চপল আনন্দে ঘাড় নাড়ল। "হ্যাঁ হ্যাঁ, অফকোর্স আমি ঘুমাব। কিন্তু তার আগে... আমার ফোনটা দাও। চার দিন ধরে ওটার মুখ দেখিনি আমি!"
ছেলের এই শিশুসুলভ রূপটা দেখে ইন্দিরা নিজের সমস্ত টেনশনের মধ্যেও একটা নরম, খিলখিল হাসি হাসলেন। তাতে কোনো বিরক্তি ছিল না, পুরোটাই প্রশ্রয়। তিনি একটা হাত ওর কাঁধ থেকে নামিয়ে সোফার ওপর রাখা নিজের ছোট হ্যান্ডব্যাগটার চেইন খুললেন। সেখান থেকে রাহুলের ফোনটা বের করে ওর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে হাসিমুখে বললেন, "এই নে তোর প্রাণভোমরা।"
রাহুল ফোনটা হাতে নিতেই ওর আঙুলগুলো দ্রুত স্ক্রিনের ওপর চলতে শুরু করল। কিন্তু ওর মগজ তখন ফোন নয়, অন্য এক হিসাবে ব্যস্ত।
"থ্যাঙ্কস মা," রাহুল চোখ না তুলেই ফিসফিস করে বলল। "তাহলে... কাল আমি কলেজ থেকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফিরে আসব। খুব জোর দুটো বাজবে। তুমি কখন ফিরছ?"
ইন্দিরা একটু মাথাটা একপাশে হেলিয়ে, গলার স্বরে হালকা কৌতুক মিশিয়ে বললেন, "কাল? আমার তো চারটের মধ্যে ফেরার কথা। তবে মিটিং তাড়াতাড়ি শেষ হলে আগেও চলে আসতে পারি।" তিনি ওর হাতের ফোনের দিকে তাকিয়ে একটু অনুযোগের সুরে বললেন, "আর শোন, ফোন পেলি বলে সারারাত যেন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বসে থাকিস না। ঘুমোবি কিন্তু, সোনা।"
রাহুল ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে বড্ড অস্থিরভাবে একটু নড়েচড়ে দাঁড়াল। ওর চোখেমুখে এক নতুন উদ্দীপনার ছাপ। "হ্যাঁ হ্যাঁ, ঘুমাব। কিন্তু আগে কালকের প্ল্যানটা ফাইনালাইজ করে নিই। তুমি প্লিজ চেষ্টা কোরো তিনটের মধ্যে বাড়ি ঢুকে যাওয়ার। বাবা তো দুপুর দেড়টা নাগাদ বেরিয়ে যাচ্ছে, তাই না? আর বাবার যা শিডিউল, রাত আটটার আগে তো কিছুতেই ফিরবে না। এই ক্লাবের মিটিংগুলো তো বড্ড লম্বা চলে, তাই না মা?"
ছেলের এই নিখুঁত প্ল্যানিং দেখে ইন্দিরার ভুরু দুটো কপালে উঠল। তাঁর গলার স্বরে এক মজামিশ্রিত বিস্ময় আর সামান্য বিরক্তি ফুটে উঠল: "বাপ রে! তুই তো দেখছি একদম অঙ্কের মতো সব হিসেব কষে বসে আছিস! হ্যাঁ... ঠিকই বলেছিস। তোর বাবা দেড়টা নাগাদ বেরোবে। আর রোটারি ক্লাবের এই মিটিং-গুলো বছরে দু-একবারই হয়, তাই অনেক রাত অবধি চলে, আটটা-ন'টার আগে তো ফিরবেই না।" তিনি ঠোঁটের কোণে একটা বাঁকা, প্রশ্রয়ের হাসি ঝুলিয়ে ওর চোখের দিকে তাকালেন, "আচ্ছা ঠিক আছে... আমি চেষ্টা করব তিনটের মধ্যে চলে আসার।"
রাহুল এক চরম স্বস্তিতে আর আনন্দে মায়ের একটা হাত নিজের দুহাতের মুঠোয় চেপে ধরল। ওর গলার স্বরে এক অদ্ভুত আকুলতা। "আমি প্রচন্ড এক্সাইটেড, মা। কাল... কাল আমি আবার আমার ছোটবেলার ওই মেমরিটা রিক্রিয়েট করতে পারব। ওটা জাস্ট...অসাধারণ হবে মা, খুব মজা হবে! আমি এখনই ফিল করতে পারছি।"
ইন্দিরার বুকের ভেতরটা এক অজানা আশঙ্কায় আর রোমাঞ্চে কেঁপে উঠল। তিনি রাহুলের কাঁধে আলতো করে একটা চাপ দিলেন। তাঁর মুখের অভিব্যক্তি তখন এক জটিল ধাঁধা—যাতে মিশে আছে গভীর স্নেহ, লোকলজ্জার ভয়, এবং পরাস্ত হওয়ার হাসি।
"উফ্, তুই যে কী লেভেলের একটা একগুঁয়ে ছেলে, তুই জানিস সেটা?" তিনি মাথা নাড়তে নাড়তে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। "আমি এখনও নিজের মনকে বিশ্বাস করাতে পারছি না যে তুই আমাকে দিয়ে শেষমেশ এই কাজটা করাচ্ছিস... আর তুই বলছিস এটা মজা?" তিনি একটা শুকনো, তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলেন। "তুই একদিন হার্ট অ্যাটাকে আমার প্রাণটা নিবি, আমি বলে দিচ্ছি। দেখবি, হয়তো কাল ওই শাওয়ারের ভেতরেই..."
কথাটা শেষ হওয়ার আগেই রাহুলের মুখের হাসি এক লহমায় উবে গিয়ে সেখানে এক ভয়ার্ত গাম্ভীর্য ফুটে উঠল। ও মায়ের দুটো কাঁধ খুব শক্ত করে চেপে ধরল। "না না... একদম মরার কথা বলবে না... তুমি কি পাগল হয়ে গেলে? এসব কী অলক্ষুণে কথা বলছ!"
ইন্দিরার চোখদুটো বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল, আর পরক্ষণেই তিনি এক গভীর, বাঁধনহারা নরম হাসিতে গলে গেলেন। ছেলের এই নিখাদ ভালোবাসা তাঁকে সবসময় বড্ড দুর্বল করে দেয়। তিনি একটু ঝুঁকে এসে নিজের ফর্সা, নরম আঙুলগুলো রাহুলের গালের ওপর বুলিয়ে দিয়ে আশ্বস্ত করার সুরে বললেন:
"আহা, রিল্যাক্স সোনা... রিল্যাক্স! আমি তো জাস্ট কথার কথা বলছিলাম। তোর মা কোথাও যাচ্ছে না তোকে ছেড়ে।"
কথাটা শোনার সাথে সাথেই রাহুল কোনো নিয়মকানুন, কোনো ভয়ডরের তোয়াক্কা না করে এক ঝটকায় মাকে নিজের বুকের সাথে বড্ড শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। ওর মুখটা ইন্দিরার ঘাড়ের কাছে গোঁজা। "ওহ মা..."
ইন্দিরার মেরুদণ্ড বেয়ে এক ঝটকা বিদ্যুৎ বয়ে গেল। তিনি মুহূর্তের জন্য ওই আলিঙ্গনে সাড়া দিলেও, পরক্ষণেই তাঁর পারিপার্শ্বিক জ্ঞান ফিরে এল। তিনি খুব সাবধানে, কিন্তু শক্ত হাতে ওর বুক থেকে নিজেকে একটু ছাড়িয়ে নিলেন।
"আহ্ সোনা... আবার পাগলামি শুরু করলি! এখানে নয়। এটা লিভিং রুম, ভুলে গেলি? তোর বাবা যেকোনো মুহূর্তে চলে আসতে পারে..." তাঁর গলার স্বর আতঙ্কে ফিসফিস করছিল।
রাহুল একটু পিছিয়ে গিয়ে মুখটা কাঁচুমাচু করে বলল, "ওকে ওকে, বুঝতে পেরেছি। কিন্তু কাল... কাল বাথরুমের ভেতর... তুমি আমাকে যত খুশি হাগ করতে দেবে, প্রমিস করো! ওখানে তো বাবা থাকবে না, সো ওখানে তোমার কোনো এক্সকিউজ শুনব না আমি।"
এক চাপা নার্ভাসনেস আর মাতাল করা হাসি মেখে ইন্দিরা নিজের চোখ বুজলেন। তাঁর হৃৎপিণ্ডটা তখন পাগলের মতো দৌড়চ্ছে। "উফ্... তুই বড্ড ন্যাকা, আর বড্ড নিডি একটা ছেলে! আচ্ছা বাবা ঠিক আছে, প্রমিস।"
রাহুল আলতো করে বলে উঠল, "আর চুমু খেতেও দেবে তো, মা?"
ইন্দিরা চট করে চোখ ফিরিয়ে নিলেন। মুখে এক কৃত্রিম বিরক্তি ফুটিয়ে ফিসফিসিয়েই বললেন, "উফফ, যা তো! রাত হয়ে গেছে, শুতে যা।"
রাহুল একগাল হেসে, গুডনাইট বলে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়াল।
লিভিং রুমের ওই আবছা, হলুদ আলোর নিচে ইন্দিরা সেন একা দাঁড়িয়ে রইলেন। তাঁর চোখের দৃষ্টি ওই শূন্য করিডোরের দিকে। তাঁর মুখের ওপর দিয়ে মুহূর্তের মধ্যে হাজারটা ইমোশন বয়ে গেল—কখনও অপরাধবোধ, কখনও এক সুপ্ত ভয়, কখনও বা এক অজানা কামনার তাপ। তিনি নিজের দুহাতের আঙুল দিয়ে কপালের দুপাশটা টিপে ধরলেন। তিনি খুব ভালো করেই জানেন, কাল দুপুরে ওই বাথরুমের দরজা বন্ধ হওয়ার পর তাঁরা দুজনে এমন এক সীমারেখা পার হতে চলেছেন, যার ওপারে বাইরের জগৎটা একই থাকবে—শুধু বদলে যাবে তাঁদের নিজেদের মাঝখানের পৃথিবীটা। তিনি ফাঁকা ঘরটার দিকে তাকিয়ে, একটা গভীর, কাঁপানো শ্বাস ফেলে বিড়বিড় করলেন:
"আমার পাগল... মা ন্যাওটা ছেলে একটা।"
১১.২. আগাম প্রত্যাবর্তন এবং এক উষ্ণ অভ্যর্থনা
পরের দিন। বুধবার।
এপ্রিলের সেই রুক্ষ, দহনক্লান্ত দুপুর। বাইরের রাস্তায় রোদের তাপে যেন আগুন ঝরছে। ঘড়ির কাঁটায় ঠিক দুপুর দুটো। রাহুল কলেজ থেকে ফিরে সোজা নিজের ঘরে ঢুকেছে। সুব্রত কাঁটায় কাঁটায় দুপুর একটাতেই ফাইলপত্তর নিয়ে ক্লাবের মিটিংয়ে বেরিয়ে গেছে। পুরো ফ্ল্যাটটাই এখন নিঝুম, খাঁ খাঁ করছে; গঙ্গামাসিও সকালের কাজ সেরে বেরিয়ে গেছে।
ঠিক সওয়া দুটো।
সদর দরজার লকে চাবি ঘোরার একটা মৃদু 'খট' শব্দ হলো। নিজের বাড়ি হওয়া সত্ত্বেও দরজাটা খুব সন্তর্পণে খুলে ভেতরে ঢুকলেন ইন্দিরা। তাঁর পরনে বাদামি পাড়ের একটা অফ-হোয়াইট শাড়ি। কাঁধের সাইডব্যাগটা তিনি সোফার সামনের ছোট টেবিলটার ওপর নামিয়ে রাখলেন। তারপর সোফায় পিঠ ঠেকিয়ে, চোখ বুজে একটা দীর্ঘ, কম্পিত শ্বাস ছাড়লেন। এই শ্বাসের মধ্যে যেমন ছিল এক অপরাধবোধের ক্লান্তি, তেমনই লুকিয়ে ছিল এক বাঁধভাঙা উত্তেজনা।
তিনি চোখ খুলে করিডোরের দিকে তাকিয়ে ইতস্তত করা গলায় ডাকলেন: "সোনা? আছিস?"
কথাটা শেষ হতে না হতেই রাহুলের ঘরের দরজা খুলে গেল এবং সে প্রায় দৌড়তে দৌড়তে নেমে এসে মায়ের সামনে দাঁড়াল। ওর চোখেমুখে এক অদ্ভুত, বন্য আনন্দ।
"মা! তুমি চলে এসেছ! তুমি তো বললে তিনটেয় ফিরবে, তুমি এত তাড়াতাড়ি চলে এলে! ওহ গড, দিস ইস পারফেক্ট!"
ইন্দিরার ফর্সা মুখে এক চওড়া, মায়াবী হাসি ফুটে উঠল। চোখের কোণগুলো স্নেহে কুঁচকে গেল। তিনি দু-পা এগিয়ে গিয়ে নিজের দুই হাত দিয়ে রাহুলের মুখটা পরম মমতায় তুলে ধরলেন। "বলেছিলাম তো, তাই না? কিন্তু আমার মিটিংটা তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল, আর... আর মনে হলো একটু জলদিই বাড়ি ফিরে যাই।" তিনি ওর চোখের ওই জ্বলজ্বলে উত্তেজনার দিকে তাকিয়ে একটু কৌতুকী সুরে বললেন, "তোকে দেখে তো মনে হচ্ছে তুই একটু বেশিই এক্সাইটেড হয়ে আছিস।"
রাহুল এবার মায়ের দুটো কাঁধ ধরে একদম ছোট বাচ্চাদের মতো লাফাতে শুরু করল। "কী বলছ মা! আমি এক্সাইটেড হব না? আমি তো আনন্দে পাগল হয়ে যাচ্ছি! এত এত এত এক্সাইটেড আমি!"
ইন্দিরা খিলখিল করে হাসতে হাসতে এক হাত দিয়ে ওর লাফানো থামানোর চেষ্টা করলেন, অন্য হাতটা তখনও ওর গালে। "ওকে, ওকে, শান্ত হ সোনা! ওরম ভাবে লাফায় কেউ! তোকে দেখে এখন কী মনে হচ্ছে বল তো? ঠিক যেন একটা ছটফটে কুকুরছানা!"
রাহুল ওর লাফানো থামিয়ে, আদুরে ভঙ্গিতে মায়ের কাঁধের ওপর নিজের মাথাটা এলিয়ে দিল। তারপর ঘাড়ের কাছে নাকটা ঘষে জোরে জোরে শ্বাস নিতে নিতে বলল:
"হ্যাঁ মা... আমি তোমার কুকুরছানাই তো... স্নিফ স্নিফ... হুমমম... তুমি আজ সকালে স্নান করোনি মা... ঠিক আমারই মতো... তোমার গায়ের গন্ধ শুঁকে বুঝতে পারছি..."
ইন্দিরার ফর্সা গাল, কান, গলা—সবকিছু মুহূর্তের মধ্যে এক গাঢ়, লাল রক্তিমাভায় ভরে উঠল। এই অন্তরঙ্গ, ব্যক্তিগত কথাটায় তিনি একই সাথে চমকে গেলেন, লজ্জা পেলেন, আবার তাঁর ভেতরের নারীসত্তা এক অদ্ভুত, উষ্ণ রোমাঞ্চে শিউরে উঠল। তিনি ওকে নিজের গা থেকে না সরিয়েই, কাঁধের ওপর একটা হালকা, আদুরে চড় কষালেন।
"ওহ মাই গড, চুপ কর অসভ্য ছেলে! সব ব্যাপারে পাকা পাকা কমেন্ট না করলে চলে না তোর?" তিনি নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে ওর কানের কাছে মুখটা নামালেন; তারপর এক প্রচ্ছন্ন ষড়যন্ত্রের সুরে ফিসফিস করে উঠলেন, "হ্যাঁ মিস্টার ব্যোমকেশ বক্সী, ঠিক ধরেছিস। আমি স্নান করিনি। এবার খুশি তো তুই?"
রাহুল মুখটা তুলে নিস্পৃহ ভঙ্গিতে বলল, "আমার বয়েই গেল! তুমি সকালে স্নান করেছ কি করোনি তাতে আমার কী? আমার কাছে শুধু একটাই ব্যাপার ম্যাটার করে... তুমি এখন স্নান করবে কি না..."
ইন্দিরা চোখ উলটোলেন। তাঁর গাল তখনও গোলাপি। গলার স্বর এবার নরম হয়ে খাদে নেমে এল। তিনি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে ফিসফিস করলেন:
"হ্যাঁ, সোনা... এখন স্নান করব... আমার এই পাগল ছেলেটার সাথে..."
রাহুল আর এক মুহূর্তও নষ্ট করল না। ও সটান মায়ের একটা হাত ধরে প্রায় টানতে টানতে সিঁড়ির দিকে এগোতে লাগল। "চলো চলো চলো... আর এক সেকেন্ডও লেট করা যাবে না..."
"উফ্, কী যে করি তোকে নিয়ে! কী একগুঁয়ে, ইনসাফারেবল ছেলে তৈরি হচ্ছিস দিন দিন!" ইন্দিরা এক হাতে ওঁর সাইডব্যাগ টা তুলে নিয়ে হাসতে হাসতে ওর টানে পা মেলালেন। সিঁড়ি দিয়ে উঠে করিডোর ধরে মা আর ছেলের এই হেঁটে যাওয়াটা যেন কোনো এক অলিখিত, নিষিদ্ধ স্বর্গের দিকের যাত্রা।
তারা দুজনে এসে পৌঁছল ইন্দিরার শোবার ঘরের সামনে। শোবার ঘরের ঠিক উল্টোদিকেই তাঁর ব্যক্তিগত বাথরুমটি, আর সুব্রতর নিজস্ব বাথরুমটি এই দীর্ঘ করিডোরের একদম অন্য প্রান্তে। বাথরুমটা বেশ বড়সড়, ভেতরেই জামাকাপড় নিয়ে অনায়াসে বদলে নেওয়া যায়। রাহুল ভেবেছিল মা হয়তো সোজা বাথরুমের দিকেই এগোবে। কিন্তু তাকে অবাক করে দিয়ে ইন্দিরা নিজের শোবার ঘরে ঢুকলেন, তারপর সাইডব্যাগ থেকে ল্যাপটপটা বের করে সোজা বিছানায় গিয়ে বসলেন এবং ল্যাপটপটা অন করলেন।
রাহুলের মুখটা এক লহমায় চুপসে গেল। ও চরম হতাশায় আর বিরক্তিতে প্রায় চেঁচিয়ে উঠল: "মা! হোয়াট ইজ দিস? এটা কিন্তু একদম আনফেয়ার হচ্ছে! তুমি এখন কাজ করবে? আমাকে এত বড় একটা প্রমিস করার পর? এটা কী ধরণের জোক মা?"
ইন্দিরা ওর এই ফ্রাস্ট্রেশন দেখে একগাল উষ্ণ, প্রশ্রয়ের হাসি হাসলেন। "মাই গড, সোনা! একটু রিল্যাক্স কর, রিল্যাক্স! আমি জাস্ট দুটো ইমেইল সেন্ড করব, দ্যাটস ইট। ওহ্ বাই দ্য ওয়ে, তোর স্নান সেরে পরার জামাপ্যান্ট কোথায়? যা, ওরম মুখ চুন করে দাঁড়িয়ে না থেকে নিজের ঘর থেকে ওগুলো নিয়ে আয় আগে। এনে বাথরুমের রডটার ওপর মেলে রাখিস। এক্ষুনি যা...আমি জাস্ট এইটুকু শেষ করেই আসছি। ওহ্ ভালো কথা, তোর তোয়ালেটাও তো লাগবে! ওটাও তোর বাথরুম থেকে নিয়ে আয়।"
রাহুল একটু শান্ত হলো। "ওকে ওকে, বুঝতে পেরেছি। আমি যাচ্ছি।"
মায়ের আদেশ শুনে রাহুল নিজের ঘরের দিকে এগিয়ে গেল। ঘরের আলমারিটা খুলে সে কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। এক অদ্ভুত উত্তেজনা আর নার্ভাসনেসে তার হাত দুটো কাঁপছিল। শেষমেশ সে আলগা সুতোর একটা ঢিলেঢালা সাদা টি-শার্ট আর একটা ছাই রঙের শর্টস বেছে নিল—এমন পোশাক যা এই চড়া গরমে শরীরে আরাম দেয়। নিজের বাথরুমে ঢুকে সে আলনা থেকে তোয়ালেটা টেনে নিল। তোয়ালের খসখসে টেক্সচারটা হাতের মুঠোয় আসতেই তার বুকের ভেতরটা এক অজানা আশঙ্কায় আর তীব্র আকাঙ্ক্ষায় ধক করে উঠল। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সে মায়ের সাথে স্নান করতে চলেছে—পুরো বিষয়টা যে কোনো অলীক স্বপ্ন নয়, এক অমোঘ বাস্তব, সেটা যেন সে নিজের মনকে বিশ্বাস করাতে পারছিল না।
রাহুল আলতো পায়ে ইন্দিরার শোবার ঘরের ঠিক উল্টোদিকে থাকা সেই বড়সড় বাথরুমটায় ঢুকল। দরজাটা আলতো করে ভেজিয়ে দিয়ে, নিজের ঘর থেকে আনা জামাকাপড় আর তোয়ালেটা সে যত্ন করে ঝুলিয়ে রাখল ভেতরের রডটার ওপর। সবকিছু গুছিয়ে রাখার সময় তার হাত দুটো সামান্য কাঁপছিল, কারণ সে অনুভব করতে পারছিল এই বাথরুমের প্রতিটা কোনায় তার মায়ের একান্ত ব্যক্তিগত সুবাস মিশে আছে।
বাইরে, বিছানায় বসে থাকা ইন্দিরার আঙুলগুলো কিবোর্ডের ওপর শুধু অর্থহীনভাবে ঘুরছিল। তিনি আসলে কোনো ইমেইল পাঠাচ্ছিলেন না। এই ল্যাপটপ খোলাটা ছিল তাঁর একটা মনস্তাত্ত্বিক বাহানা। একটা ডিলে ট্যাকটিক্স। বাথরুমের ওই দরজার ওপারে যে চরম, অলঙ্ঘনীয় সীমারেখাটা তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে, সেটার মুখোমুখি হওয়ার আগে তাঁর নিজের শ্বাসটাকে একটু গুছিয়ে নেওয়ার দরকার ছিল।
রাহুলের বাথরুমে ঢোকার শব্দ তিনি পেয়েছেন। ইন্দিরা মনে মনে ভাবলেন, এবার যেতে হবে, ছেলেটা অপেক্ষা করে আছে। ল্যাপটপের স্ক্রিনটা বন্ধ করে দিলেন। বিছানা থেকে নেমে ধীর পায়ে নিজের আলমারির সামনে এসে দাঁড়ালেন। আলমারির ভেতর থেকে তিনি বের করে নিলেন নিত্যদিনের চেনা এক সুতির শাড়ি। হালকা হলুদ রঙের ওপর ছোট ছোট সাদা ফুলের প্রিন্ট—একেবারে সাদামাটা, ঘরে পরার মতো হালকা কাপড়, যা এই তপ্ত গরমে শরীরে আরাম দেয়। এর পর বের করলেন শাড়ির রঙের সাথে মেলানো একটি কচি কলাপাতা সবুজ রঙের ব্লাউজ, আর সাদা রঙের সায়া। সবশেষে আলমারির ভেতরের ড্রয়ার থেকে তুলে নিলেন তাঁর পরিপাটি করে রাখা অন্তর্বাস দুটি। একটি দুধসাদা রঙের বক্ষবন্ধনী আর অন্যটি গাঢ় বাদামি রঙের প্যান্টি।
ইন্দিরা এসে দাঁড়ালেন বাথরুমের দরজার সামনে। বুকের ভেতরের স্পন্দনটা যেন নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক চরম গতিতে ছুটছিল। তিনি চোখ বুজে, একটা লম্বা, নিয়ন্ত্রিত শ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করার শেষ চেষ্টা করলেন। তারপর খুব আলতো করে দরজাটা ঠেলে দিলেন।
দরজাটা খুলতেই রাহুলের মুখোমুখি হলেন। বুকের ভেতরের ধকধকানিটা আড়াল করে তিনি স্বাভাবিক গলায় বললেন,"কী রে? সব নিয়ে এসেছিস তো?"
"হ্যাঁ মা... একদম... ওই তো রডটার ওপর রেখে দিয়েছি।" রাহুল মিষ্টি ও নরম গলায় বলে উঠল।
ইন্দিরা ভেতরে ঢুকে দরজাটা বন্ধ করে দিলেন। লকের 'ক্লিক' শব্দটা বাথরুমের টাইলসে প্রতিধ্বনিত হলো। এটা কোনো সাধারণ দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ নয়, এই শব্দটা যেন চেনা পৃথিবীর সমস্ত নিয়ম আর শাসনকে তাঁদের থেকে চিরতরে বিচ্ছিন্ন করে দিল।
ইন্দিরা ভেতরে ঢুকে নিজের হাত থেকে শাড়ি, ব্লাউজ আর অন্তর্বাসগুলো বাথরুমের সেই লম্বা রডটার ওপর যত্নে গুছিয়ে রাখলেন। ঠিক পাশেই রাখা রাহুলের জামাকাপড়গুলোর সাথে তাঁর পোশাকের এই আলতো স্পর্শটুকুও যেন এক নীরব স্বীকারোক্তি। বাথরুমের ভেতরটা তখন এক ভারী, সংবেদনশীল আবহে থমথম করছে। এপ্রিলের চড়া দুপুরের আর্দ্রতা আর বদ্ধ বাতাসের নিস্তব্ধতা দেওয়ালগুলোতে আছাড় খাচ্ছিল। সেই থমথমে নীরবতার মাঝে শুধু কাঁপছিল ইন্দিরার গায়ের সেই চেনা ফ্রেঞ্চ পারফিউম আর গ্রীষ্মের হালকা ঘামের এক নিজস্ব, তীব্র সুবাস। মা আর ছেলের মাঝখানের মাত্র কয়েক ইঞ্চির দূরত্বে বাতাসের উত্তাপ তখন এতটাই চড়া যে, একে অপরের নিশ্বাসের শব্দটুকুও যেন এক আচ্ছন্ন করা মাদকতা তৈরি করছিল।
ইন্দিরা শাওয়ারের জায়গাটার ঠিক বাইরে, কাঁচের পার্টিশনের পাশে এসে দাঁড়ালেন। নিজের কাঁধ থেকে শাড়ির আঁচলটা আলগা করে নিচে নামিয়ে দিলেন। তাঁর মুখে এক অদ্ভুত লাজুক, নার্ভাস হাসি, যা একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের মুখে একেবারেই বেমানান। তিনি রাহুলের দিকে তাকিয়ে, হাতদুটো নিজের ব্লাউজের বোতামের কাছে নিয়ে গিয়ে একটু ইতস্তত করে বললেন:
"একটু... একটু ঘুরে দাঁড়া তো, সোনা।"
রাহুল ঘুরতে গিয়েও থমকে গেল। ওর চোখে এক বিস্ময় আর যুক্তি। "কেন মা? ঘুরে দাঁড়াব কেন? গত শুক্রবার রাতেই তো আমি তোমার...মানে তোমাকে... ওটা খোলা অবস্থায় দেখেছি... আমরা তো ওভাবেই স্কিন-টু-স্কিন ছিলাম। আর...স্নান করার সময় তো...সবটাই...সবটাই দেখা যাবে..."
এই কথাগুলো সরাসরি ইন্দিরার ফর্সা মুখে এক তীব্র লাল আভা ছড়িয়ে পড়ল। গত শুক্রবার রাতের ও তার পরবর্তী কিছু মুহূর্তের সেই চরম আদিম স্মৃতি—রাহুলের খালি বুকের সাথে তাঁর নিজের অনাবৃত শরীরের ঘর্ষণ, তাঁর কাঁধের নিচের জন্মদাগে রাহুলের জিভের স্পর্শ, তাঁর স্তনবৃন্তে ছেলেটার ওই পাগল করা চোষন—সবকিছু এক নিমেষে তাঁর চোখের সামনে ভেসে উঠল। তাঁর হাতদুটো ব্লাউজের ওপরেই কাঁপতে লাগল। তিনি তীব্র এক সংকোচে, কাঁপানো গলায় ফিসফিস করে উঠলেন:
"আমি... আমি জানি তুই দেখেছিস... কিন্তু আমি— প্লিজ, রাহুল। একটু ঘুরে দাঁড়া।"
রাহুল এবার একটু টিজিং হাসি হাসল। "কে এখন বোকার মতন কথা বলছে, মা?"
ইন্দিরা একটা নরম, অসহায় হাসি হাসলেন, নিজের এই অহেতুক আড়ষ্টতার কাছে নিজেই যেন হেরে যাচ্ছেন। "ওকে, ওকে, ইউ আর রাইট। আমিই বোকামো করছি। এটা সত্যিই খুব স্টুপিড। আমি জানি সেটা।" তিনি গলার স্বর থেকে সেই অনিশ্চয়তাটা ঝেড়ে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা করলেন। "কিন্তু আমি...ইয়ে মানে... আমি হয়তো একটু... নার্ভাস। জাস্ট... জাস্ট একটু ঘুরে দাঁড়া না, প্লিজ।"
রাহুল আর কথা না বাড়িয়ে বাধ্য ছেলের মতো ঘুরে দাঁড়াল। ওর পিঠটা এখন ইন্দিরার দিকে।
ইন্দিরা একটা দীর্ঘ, কাঁপা শ্বাস ছাড়লেন। তাঁর কাঁপতে থাকা ফর্সা আঙুলগুলো এবার অত্যন্ত শৃঙ্খলার সাথে ব্লাউজের বোতামগুলো খুলতে শুরু করল। প্রতিটা বোতাম খোলার সাথে সাথে তাঁর ঠোঁট থেকে একটা করে ছোট, নার্ভাস নিশ্বাস বেরোচ্ছিল। অবশেষে ব্লাউজটা খুলে ফেললেন। তারই সাথে আলগা হয়ে গেল কোমরের শাড়ির বাঁধনটা, নিথর হয়ে নেমে এল পায়ের কাছে। তারপর পেছনের হুকটা খুলে নিজের ব্রা-টাকেও শরীর থেকে আলগা করে দিলেন। শাড়ি, ব্লাউজ, আর ব্রা একটা নরম খসখস শব্দ করে পাশে রাখা লন্ড্রি বাস্কেটের ওপর গিয়ে পড়ল। তিনি এখন সম্পূর্ণ অনাবৃত বক্ষে দাঁড়িয়ে আছেন, অনেকটা সেই গত শুক্রবার রাতের মতো। কিন্তু তিনি খুব ভালো করেই জানেন, আজকের গণ্ডিটা আরও অনেক দূর যাবে। কোমরের নিচে এখন কেবল সায়াটা জড়ানো। সেটা খোলার পালা এবার।
"তোমার কি হলো? এখনও কমপ্লিট হয়নি?" রাহুল ওপাশ থেকেই অধৈর্য গলায় চেঁচিয়ে উঠল। "এতক্ষণে তো আমি একটা আস্ত সিনেমা দেখে শেষ করে ফেলতাম!"
ইন্দিরা এই দমবন্ধ করা টেনশনের মধ্যেও একটু খিলখিল করে হেসে উঠলেন। ছেলের এই ছেলেমানুষিটাই ওঁর নার্ভাসনেস কাটানোর সবচেয়ে বড় ওষুধ।
"আবার পাকা পাকা কথা! আমি তোকে বলেছি না, ওদিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে থাকতে? যতক্ষণ না আমি বলছি, একদম ঘাড় ঘোরাবি না। আর না, আমার এখনও কমপ্লিট হয়নি। চুপ করে দাঁড়া। একটু পেশেন্স রাখ।"
ইন্দিরা দেখলেন, রাহুল ওভাবেই উলটো দিকে দাঁড়িয়ে নিজের টি-শার্টটা এক টানে মাথা গলিয়ে খুলে ফেলল। ওর পিঠের সেই চওড়া, মসৃণ পেশিগুলো বাথরুমের আলোয় চকচক করে উঠল। ওর পরনে এখন শুধু একটা কালো শর্টস। ইন্দিরা মনে মনে এক চরম মাতৃত্বের আদরে ভাবলেন: 'আমার দুষ্টু, একগুঁয়ে ছেলেটা...'
এবার ইন্দিরার হাত নেমে গেল সায়ার বাঁধনের কাছে। তাঁর আঙুলগুলো বড্ড কাঁপছিল। তিনি খুব ধীর, মন্ত্রমুগ্ধের মতো টানে সায়ার দড়িটা আলগা করে দিলেন। কাপড়টা তাঁর কোমর থেকে খসে পড়ে একদম পায়ের কাছে মেঝেতে একটা অর্ধবৃত্ত তৈরি করল। তিনি এখন প্রায় বিবস্ত্র, পরনে কেবল তাঁর লাল রঙের প্যান্টি।
"সোনা..." ইন্দিরা ডাকলেন, গলার স্বর বড্ড নিচু। "তুই এখনও ঘুরিসনি তো?"
"না না..." রাহুল বিরক্তির সুরে বলল, "কিন্তু জলদি করো মা... তুমি কিন্তু প্রেশাস টাইমগুলো ওয়েস্ট করছ..."
ইন্দিরা একটা প্রশান্ত, পরাস্ত হাসি হাসলেন। তিনি নিজের প্যান্টিটাও সম্পূর্ণ খুলে ফেললেন। এবার তিনি আক্ষরিক অর্থেই সম্পূর্ণ নগ্ন। তিনি এক পা এগিয়ে গিয়ে শাওয়ারের কলের কাছটায় গিয়ে দাঁড়ালেন। নিচের ঠান্ডা মেঝের স্পর্শে তাঁর পায়ের ফর্সা উষ্ণ ত্বকটা এক লহমায় শিরশির করে উঠল।
তিনি অত্যন্ত নরম, মায়ের আদর মাখানো গলায় ডাকলেন। "রাহুল, আমার হয়ে গেছে; এবার ঘুরতে পারিস।"
(...continued in the next post)
RE: The Barter System (By:andygarfield) -
Bad Boy - 09-02-2026
(...continuation of Chapter 11)
১১.৩. নগ্নতার মুখোমুখি এবং এক স্বর্গীয় অভয়
রাহুল ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াল।
আর ঠিক সেই মুহূর্তে, বাথরুমের ভিতরের পরিবেশটা এক গভীর ও নিবিড় নিস্তব্ধতায় ডুবে গেল। রাহুল ওর উনিশ বছরের জীবনে এই প্রথমবার, সম্পূর্ণ, তীব্র এবং তীক্ষ্ণ সজ্ঞানে ওর মাকে পুরোপুরি উলঙ্গ অবস্থায় দেখল। ওর চোখদুটো স্থির, পলক পড়ছে না। ইন্দিরার সেই ফর্সা, নিটোল, এবং মাতৃসুলভ শরীরটা ওর সামনে এক আদিম, অপার্থিব মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে।
ধ্রুপদী রোম্যান্টিক সাহিত্যের কোনো নিখুঁত ভাস্কর্যের মতোই অপরূপ সেই পরিপুষ্ট অবয়ব। তাঁর মসৃণ, ফর্সা কাঁধের রেখাটা এক অপরূপ লালিত্যে নেমে এসেছে দুপাশের বাহুমূলে। সেই উন্মুক্ত পূর্ণ বক্ষপট যেন একই সঙ্গে মাতৃত্বের পবিত্রতা এবং নারীত্বের পূর্ণতাকে ধারণ করে আছে; তাঁর সুডৌল, ভারী ও নিটোল স্তনযুগল, যার চূড়ায় ফুটে থাকা গাঢ় বাদামি বৃন্ত দুটি যেন কোনো শিল্পীর তুলিতে আঁকা নিপুণ নিখুঁত বিন্দুর মতো। তার ঠিক নিচেই এক মসৃণ, পেলব প্রান্তর নেমে গেছে মাংসল কোমরের দিকে, যেখানে নাভির গভীরতা এক স্নিগ্ধ রহস্যের সৃষ্টি করেছে। কোমর থেকে দুপাশের নিতম্বের গভীর ও সুডৌল বিস্তার এক মোহময় বক্ররেখায় নেমে এসেছে নিচে, আর তার ঠিক মধ্যবর্তী এক গোপন, ছায়াঘেরা উপত্যকা—যেখানে ঊরুমূলের কাছে হালকা রোমের এক কোমল ও নিবিড় আস্তরণ এই আদিমতম, পবিত্রতম নারীত্বকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। তাঁর ভারী উরুর মসৃণতা থেকে শুরু করে পায়ের পাতা পর্যন্ত সম্পূর্ণ শরীরটি এক অনবদ্য, স্বর্গীয় সুষমায় ভাস্বর হয়ে উঠেছে।
ইন্দিরা রাহুলের এই একদৃষ্টে, ঘোরের মতো তাকিয়ে থাকা দেখে সম্পূর্ণ থমকে গেলেন। তাঁর গালদুটো এক গাঢ় ক্রিমসন রঙে রেঙে উঠল। শ্বাসটা বুকের ভেতর আটকে গেল। তাঁর হাত দুটো অবচেতনভাবেই এক আড়াল খোঁজার চেষ্টায় সচল হয়ে উঠল; একটি হাত চেপে বসল তাঁর অনাবৃত বুকের ওপর, আর অন্য হাতটি নেমে গেল নিম্নাঙ্গের সম্পূর্ণ অনাবৃত, গোপন সেই অবয়বটুকুকে ঢাকতে। কিন্তু পরক্ষণেই এক অমোঘ আত্মসমর্পণে তিনি নিজেকে সামলে নিলেন, হাত দুটো আলগা করে নামিয়ে নিলেন পাশে। তিনি একটু গলা খাঁকারি দিয়ে, কোনোমতে নিজের গলার স্বরটাকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে বললেন:
"ওভাবে কাঠের পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে থাকিস না। তোর শর্টসটা খোল, খুলে ওই বাস্কেটটার মধ্যে ফেলে দে। এবার স্নান করতে হবে তো..."
রাহুল যেন কোনো এক ঘোর থেকে জেগে উঠল। ও মন্ত্রমুগ্ধের মতো মাথা নেড়ে, খুব ধীরে ধীরে নিজের কালো শর্টসটা কোমর থেকে নামিয়ে পাশে থাকা লন্ড্রি বাস্কেটটায় রেখে দিল।
এখন ওরা দুজনেই সম্পূর্ণ নগ্ন।
ইন্দিরার শরীরের ভেতর দিয়ে এক অজানা ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল। তিনি চোখ তুলে রাহুলের ওই সম্পূর্ণ নগ্ন, পুরুষালি শরীরের দিকে তাকালেন। ওর ওই মেদহীন, পেশিবহুল শরীরের দিকে তাকিয়ে তাঁর নিজের ভেতরে এক চরম, গভীর মাতৃত্বের আর নারীত্বের স্ফুরণ ঘটল। তিনি আবার একটু গলা খাঁকারি দিয়ে, নিজের একটা কাঁপতে থাকা হাত রাহুলের দিকে বাড়িয়ে দিলেন।
"আয়... আমার কাছে আয়।"
রাহুল এক পা এগিয়েও থমকে গেল। ওর গলার স্বর একদম তোতলাতে তোতলাতে, অসহায়ভাবে বেরোলো: "মা... আমি... এবার যে আমার বড্ড নার্ভাস লাগছে..."
ইন্দিরার ভেতরের লজ্জা, আড়ষ্টতা অনেকাংশে মুছে গেল; বরং তাঁর মনের গভীরে এক স্নেহের ও ভালোবাসার জোয়ার বয়ে গেল—তাঁর বাবুসোনাটার বড্ড অস্বস্তি হচ্ছে, লজ্জা পাচ্ছে ছেলেটা; মা হয়ে তাঁকেই তো সামলাতে হবে। ইন্দিরার মুখে ফুটে উঠল এক বাঁধভাঙা মাতৃত্বের ওম। তিনি নিজের বাড়ানো হাতটা ওভাবেই রাখলেন, আর তাঁর নরম মধুমাখা কণ্ঠে বলে উঠলেন:
"ইটস ওকে... সোনা, ভয় পাস না। এটা তো আমি। আর তো কেউ নেই এখানে, জাস্ট আমরা দুজন... আয় আমার কাছে। প্লিজ।"
রাহুল খুব লাজুক পায়ে আরও দু-পা এগিয়ে এল। ওর একটা হাত খুব সন্তর্পণে গিয়ে ইন্দিরার বাড়ানো হাতের তালুতে বসল।
"মা..." রাহুল ফিসফিস করল, "আমি তো তোমাকে আগে কোনোদিন... এভাবে দেখিনি... বোধহয় সেই জন্যই আমার এতটা নার্ভাস লাগছে..."
ইন্দিরা ওকে হালকা টানে নিজের আরও কাছে নিয়ে এলেন। ওদের দুজনের সম্পূর্ণ নগ্ন শরীর এখন একে অপরের থেকে মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে। দুজনের গায়ের তাপ একে অপরকে ছুঁয়ে যাচ্ছে।
ইন্দিরা ফিসফিস করে বললেন: "ইটস ওকে। তুই সেই শুক্রবারেও এরম লজ্জা পাচ্ছিলিস, মনে আছে? সোনা, আমি জানি... এটা...এটা অন্যরকম একটা সিচুয়েশন। কিন্তু এটা তো আমিই, রে সোনা... এটা তো তোর মা-ই। আমার দিকে তাকা একবার? এই তো.....এই তো আমার লক্ষ্মী সোনাটা... আর লজ্জা পাস না বাবু... মায়ের কাছে কিসের লজ্জা বল তো?"
রাহুল একটা গভীর শ্বাস নিয়ে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করল। ইন্দিরার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, "হ্যাঁ... আমার তো লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই, তাই না মা? এটা তো তুমি। কোনো বাইরের র্যান্ডম স্ট্রেঞ্জার তো নয়। এটা আমার নিজের মা।"
ইন্দিরার ঠোঁটে এক পরম, মায়াবী হাসি ফুটে উঠল। তিনি নিজের বাঁ হাতটা তুলে রাহুলের কপালের ওপর লেপ্টে থাকা চুলের গোছাটা সরিয়ে দিলেন। "একদম ঠিক, সোনা। এটা জাস্ট আমি—তোর মা। এখানে লজ্জা পাওয়ার বা নার্ভাস হওয়ার কিচ্ছু নেই। এই মুহূর্তটা... হ্যাঁ, একটু অন্যরকম ঠিকই। কিন্তু এতে দোষের তো কিছু নেই রে, সোনা। আমি তো তোর মা-ই। আমার বাবুটা তার মায়ের সাথে চান করবে, এতে দোষের কি আছে?"
রাহুল মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে বড্ড সরল গলায় জিজ্ঞেস করল: "আর... আর এটা তো... যেমন আমি ছোটবেলায় তোমার সাথে করতাম... ঠিক তেমনই, তাই না মা?"
ইন্দিরা একটা নরম, কাঁপানো হাসি হাসলেন। তাঁর ফর্সা হাতটা রাহুলের গাল বেয়ে নেমে এসে ওর চোয়ালের রেখা ছুঁয়ে দিল।
"হ্যাঁ... ঠিক তেমনই, যেমন তুই ছোটবেলায় করতিস... শুধু তফাত হলো... তুই যে এখন অনেক বড় হয়ে গেছিস। আমার বিগ স্ট্রং বয়....আমার.... হ্যান্ডসাম বয়... আয়... এবার শাওয়ারের নিচে আয়।"
তাঁরা দুজনে একসাথে এসে দাঁড়ালেন কাঁচ-ঘেরা সেই শাওয়ার কিউবিকলটার ভেতর। ইন্দিরা শাওয়ারের নবটা ঘুরিয়ে দিতেই ওপর থেকে নেমে এল জলের ধারা। এপ্রিলের এই তপ্ত দুপুরে সেই ঠান্ডা জলের ধারা তাঁদের তপ্ত শরীরে এক পরম আরামের পরশ বুলিয়ে দিল। বাথরুমের এই বিশেষ অংশটি বেশ ছোট; ঘেরা জায়গায় দুজনের একসাথে দাঁড়ানো বেশ কঠিন। রাহুল প্রথম থেকেই নিজেকে গুটিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল, যাতে কোনোভাবেই মায়ের খুব কাছাকাছি এসে না পড়ে। কিন্তু সেই সংকীর্ণ জায়গায় জলের একটানা পতনের মাঝে তার সেই চেষ্টা বারবার ব্যর্থ হচ্ছিল; প্রতি মুহূর্তে তাঁদের দুজনের ভেজা, অনাবৃত ত্বক একে অপরের সাথে আলতো করে ছুঁয়ে যাচ্ছিল। সেই ঠান্ডা জলের স্পর্শের চেয়েও ত্বকের এই আকস্মিক ও অনবরত নৈকট্য তাঁদের ভেতরের নিষিদ্ধ দহনকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছিল।
রাহুল চারপাশটা দেখে বলল, "এত বড় বাথরুম, কিন্তু এই শাওয়ারের জায়গাটা একটু ছোট, মা..."
ইন্দিরা শাওয়ার হেডের অ্যাঙ্গেলটা একটু ঠিক করতে করতে, ঠোঁটে এক সূক্ষ্ম হাসি নিয়ে বললেন, "হ্যাঁ... একটু টাইট স্পেস।"
রাহুল: "হ্যাঁ... তবে একজনের জন্য একদম পারফেক্ট।"
ইন্দিরা এবার হালকা হেসে এক আদুরে ভঙ্গিতে নিজের দুহাত রাহুলের দুই কাঁধের ওপর রাখলেন। "একজনের জন্যই পারফেক্ট... কিন্তু তুই যখন জেদ ধরেছিস যে এটাকে দুজনের স্পেস বানাবি, তখন আমাদের এভাবেই অ্যাডজাস্ট করতে হবে। এবার একদম চুপ করে দাঁড়া দেখি। আমি আগে তোর চুলটা ধুয়ে দিই। সকালে স্নান করিস নি, চুলটা কাকের বাসা হয়ে গেছে একদম।"
ইন্দিরা দেয়ালের সাথে সেঁটে থাকা শাওয়ার র্যাক থেকে একটা শ্যাম্পুর বোতল তুলে নিলেন। বেশ খানিকটা শ্যাম্পু নিজের তালুতে নিয়ে তারপর সেটা দুহাতে ঘষে রাহুলের মাথার চুলে মাখাতে শুরু করলেন। তাঁর ফর্সা, নরম আঙুলগুলো রাহুলের মাথার স্ক্যাল্পে এক অদ্ভুত, আরামদায়ক ম্যাসাজ দিচ্ছিল। ওদিকে শীতল জলের ধারা ওদের দুজনের শরীরের ওপর দিয়ে অবিরাম বয়ে যাচ্ছিল; আর সেই সংকীর্ণ জায়গায় ইন্দিরার নরম, ভেজা শরীরটা বারবার রাহুলের শরীরের সাথে ঘষা খাচ্ছিল।
ইন্দিরা শ্যাম্পুর ফেনা রাহুলের চুলে ঘষতে ঘষতে হঠাৎ সেই গুরুগম্ভীর, অথচ মিষ্টি গলায় বলে উঠলেন, "চুলগুলোর কী হাল করেছিস তুই! কবে যে নিজের যত্ন নিতে শিখবি কে জানে!"
রাহুল চোখ বুজেই মায়ের হাতের সেই জাদুকরী স্পর্শ উপভোগ করছিল। ও হেসে বলল, "জানোই তো মা, এত পড়াশোনার প্রেশার, কেরিয়ারের টেনশন... এসব করার এত সময় কোথায় মা?"
ইন্দিরা ওর মাথার পেছনে আলতো করে আঙুল চালাতে চালাতে বললেন, "কেরিয়ার তো গড়তেই হবে। কিন্তু তাই বলে নিজের শরীরটাকে তো আর অবহেলা করলে চলবে না। শরীর ঠিক না থাকলে পড়াশুনাটা ঠিক করে করবি কী করে?"
"করব মা, তুমি বলছ যখন এবার থেকে সপ্তাহে দুদিন শ্যাম্পু করব," রাহুল মায়ের ভেজা কোমরের কাছে নিজের হাতটা একটু গুটিয়ে রেখে বলল, "কিন্তু তোমার মত এত সুন্দর করে শ্যাম্পু করতে তো পারব না।"
ইন্দিরা হালকা হেসে ওর কপালে একটু ফেনা মাখিয়ে দিয়ে বললেন, "পাকা ছেলে! সব সময় মাকে তেল দেওয়া চাই, না?"
ঠিক সেই সময় রাহুলের চোখ গেল ওদের ঠিক পাশের কাঁচের পার্টিশন পেরিয়ে বেসিনের ওপরের বড় আয়নাটার দিকে। ও লক্ষ্য করল আয়নার এক কোণে কয়েকটা টিপ আটকে আছে।
"মা, আয়নার ওই কোণে ওগুলো কী?" রাহুল একটু কৌতূহলী গলায় জিজ্ঞেস করল।
ইন্দিরা ঘাড় ঘুরিয়ে সেদিকে তাকিয়ে একটু হাসলেন। "কী আবার? আমার টিপ।"
রাহুল মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে খুব মোলায়েম গলায় বলল, "জানো মা, টিপ পরলে তোমাকে দারুণ দেখতে লাগে। একদম অন্যরকম একটা বিউটি ফুটে ওঠে তোমার মুখে, আমি ঠিক বলে বোঝাতে পারব না। মনে হয় সারাক্ষণ তোমাকেই দেখতে থাকি।"
ইন্দিরা রাহুলের কথায় খিলখিল করে হেসে উঠলেন। তাঁর সেই হাসিতে ভেজা শরীরটা দুলে উঠল, রাহুলের শরীরের সাথে আরেকবার ঘষা খেয়ে এক চরম শিহরণ তৈরি করল। "উফ্! তুই তো আবার মায়ের সবকিছুতেই রূপ উথলে পড়তে দেখিস। বড্ড মা-ন্যাওটা হয়েছিস তুই! মাকে নিয়ে তোর প্যাম্পারিং-এর আর শেষ নেই সত্যি।"
"সত্যি বলছি মা," রাহুল একটু জোর দিয়ে বলল, "কিন্তু জানো, একটা জিনিস আমি কোনোদিন দেখিনি।"
ইন্দিরা ওর চুলের সামনের দিকটায় আঙুল চালাতে চালাতে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলেন, "কী দেখিসনি?"
"স্নান সেরে বেরোনোর পর, তোমার ওই ভিজে চুলে, যখন টপটপ করে জল ঝরতে থাকে... ঠিক ওই অবস্থায় তোমাকে কখনো টিপ পরা দেখিনি আমি। তুমি মনে হয় সবসময়েই ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকোনোর পর টিপ পর।"
ইন্দিরা এবার শব্দ করে হেসে উঠলেন, এক নিখাদ মাতৃসুলভ খুনসুটিতে ওর গালটা হালকা করে টিপে দিয়ে বললেন, "উফ্! তোর হয়েছে টা কী, রাহুল? এসব মাথায় আসে কী করে তোর? ঘরে বসে এইসব ভাবিস নাকি? এত কিছু থাকতে আমার ভিজে চুলে টিপ পড়া নিয়ে... হায় ভগবান! আমি কি কোনো বাংলা সিনেমার নায়িকা নাকি?"
রাহুল জেদ ধরার মতো আদুরে গলায় বলল, "তুমি নায়িকাদের চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর মা। আজ পরবে মা? প্লিজ? স্নানের পর যখন আমরা বাইরে যাব, চুলটা ভিজে ভিজে থাকা অবস্থায় একটা লাল টিপ পরবে? শুধু আমার জন্য?"
ইন্দিরা একটা প্রশ্রয়ের দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তাঁর চোখদুটো অপরিসীম স্নেহে ছলছল করে উঠল। "আচ্ছা বাবা, আচ্ছা। বড্ড জ্বালাস তুই। ঠিক আছে, পরব খন। সত্যি সোনা, কিছু আবদার করতে পারিস তুই বটে!"
এই সাধারণ, ঘরোয়া খুনসুটি আর কথাবার্তার মাঝেই পরিস্থিতি ক্রমশ এক আদিম মাদকতায় আচ্ছন্ন হয়ে উঠছিল। জলের ঝমঝম শব্দ, শ্যাম্পুর তীব্র সুবাস, মায়ের হাতের জাদুকরী বিলি কাটা, আর তার সাথে সেই সংকীর্ণ পরিসরে ভেজা, অনাবৃত ত্বকের অনবরত ঘর্ষণ। ইন্দিরার নরম স্তনযুগল বারবার রাহুলের শক্ত বুকের ওপর ঘষে যাচ্ছিল, তাঁর উরুর মসৃণ স্পর্শ রাহুলের পায়ের সাথে এক অদ্ভুত উত্তাপ তৈরি করছিল। এই চরম, তীব্র অনুভূতির জোয়ার ধীরে ধীরে রাহুলের ভেতরের সমস্ত সংযমের বাঁধ এক লহমায় ভেঙে চুরমার করে দিল। ও আর একটা মুহূর্তও অপেক্ষা করতে পারল না। নিজের দুটো হাত বাড়িয়ে ইন্দিরাকে এক তীব্র, মরিয়া, উন্মত্ত আলিঙ্গনে নিজের বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। ওর মুখটা গিয়ে সোজা গুঁজে গেল ইন্দিরার ভেজা ঘাড়ের সুকোমল ভাঁজে।
"ওহ মা... ওহ্ মা... এটা এত আরামের... আমার যে কী ভাল লাগছে... আমি জাস্ট পাগল হয়ে যাচ্ছি..."
ইন্দিরার মুখ থেকে এক তীব্র, শ্রুতিগোচর দীর্ঘশ্বাস ছিটকে বেরোলো। এই নগ্ন, ভেজা, উত্তপ্ত শরীরদুটো যখন একদম এক ছাঁচে মিশে গেল, তখন সেই অনুভূতির তীব্রতা ইন্দিরার কল্পনারও বাইরে ছিল। ত্বকের সাথে ত্বকের ঘর্ষণ, আর জলের পিচ্ছিল আবেশ—তাঁদের ভেতরের এই আদিম নৈকট্যকে এক ধাক্কায় যেন হাজার গুণ বাড়িয়ে দিল। তাঁর নিজের দুটো হাত স্বতঃস্ফূর্তভাবেই রাহুলের পিঠের ওপর গিয়ে ওকে আরও শক্ত করে নিজের সাথে পেঁচিয়ে ধরল। তাঁর গলার স্বর একটা কাঁপানো ফিসফিসানিতে ভেঙে গেল: "সোনা..."
রাহুল ওঁকে আরও শক্ত করে নিজের বুকের সাথে পিষতে পিষতে, নিজের হাতদুটো ইন্দিরার ভেজা, মসৃণ পিঠের ওপর বোলাতে লাগল। আর ইন্দিরাও নিজের ফর্সা হাতদুটো দিয়ে রাহুলের ভেজা কাঁধ আর মেরুদণ্ডের চওড়া পেশিগুলোকে পরম মমতায় হাত বুলিয়ে আদর করতে লাগলেন।
"হ্যাঁ মা?" রাহুল এক কাঁপানো, ঘোরের ঘোরে সাড়া দিল।
ইন্দিরা একটা তীব্র শিহরণে কেঁপে উঠলেন, তাঁর শ্বাসটা একটা অস্ফুট শব্দে আটকে গেল: "...কিচ্ছু না... কিচ্ছু না। জাস্ট... জাস্ট এভাবেই থাক।"
রাহুল নিজের বুকটাকে ইন্দিরার স্তনের ওপর আরও জোরে ঘষে দিয়ে বলল: "ওহ মা... জীবনে এত আরাম আমি কোনোদিন পাইনি..."
ইন্দিরা নিজের মুখটা রাহুলের গলার কাছে, ঠিক কলারবোনের খাঁজে গুঁজে দিলেন। শ্যাম্পুর ধুয়ে আসা ফেনার গন্ধে মেশানো ওর গায়ের ওই তীব্র, নিজস্ব সুবাসটা তিনি গভীর শ্বাসে নিজের ভেতরে টেনে নিতে লাগলেন। তাঁর পুরো শরীরটা এক অমেয় তীব্রতায় কাঁপছিল। "আমাকে ছাড়িস না..."
রাহুল: "ওহ... আমার মা... আমার সোনা মা... যে মাকে আমি পৃথিবীর সবকিছুর চেয়ে বেশি ভালোবাসি... আমার সবকিছু তুমি..."
ইন্দিরা নিজের চোখদুটো বুজে ফেললেন। তাঁর বুকের ভেতরের ভয় আর অনিশ্চয়তাকে ছাপিয়ে জেগে উঠল এক আদিম, উন্মত্ত মাতৃত্বের তীব্র ব্যাকুলতা। তিনি ওর বুক থেকে নিজেকে সামান্য একটু দূরে সরিয়ে, মায়াভরা চোখে ওর চোখের দিকে তাকালেন। "সোনা... আমার ছেলে... আমার বাবুসোনা..."
রাহুল ওর ঘোরের চোখে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল: "আমি জাস্ট বিশ্বাস করতে পারছি না... এটা কি কোনো স্বপ্ন, মা?"
ইন্দিরার কাঁপতে থাকা হাতদুটো রাহুলের মুখটা ছুঁয়ে দিল। তাঁর বুড়ো আঙুল দিয়ে রাহুলের গাল বেয়ে নামা জলের ফোঁটাগুলো আলতো করে ডলতে ডলতে তিনি বললেন: "না... না সোনা। এটা কোনো স্বপ্ন নয়।" তিনি নিজের কপালটা রাহুলের কপালের সাথে ঠেকিয়ে দিলেন। তাঁর উষ্ণ, ভেজা নিশ্বাস রাহুলের ঠোঁটের ওপর আছড়ে পড়ছিল। "মা এখানেই আছে, সোনা। তোর একদম সামনে। তোকে জড়িয়ে ধরে আছে।"
"ওহ মা..." রাহুল পাগলের মতো ইন্দিরার ভেজা গালে, পর পর অজস্র নরম, পালকের মতো হালকা চুমু খেতে শুরু করল।
ইন্দিরার মুখ থেকে ছোট ছোট, প্রশান্তির শব্দ বেরোতে লাগল। তাঁর আঙুলগুলো রাহুলের ভেজা চুলের গভীরে ঢুকে ওকে আরও কাছে টেনে নিল। তিনি ঘাড়টা সামান্য বেঁকিয়ে, রাহুলের কপালে, গালে, চিবুকে কয়েকটা গভীর, দীর্ঘ, পরম আদুরে চুমু এঁকে দিলেন। "আমার মিষ্টি ছেলে।"
রাহুল মিনমিন করে বলল, "মা....একটা....একটা....ঠোঁটে খাও না..."
এক লহমায় ইন্দিরার মুখটি নুয়ে পড়ল, সংকোচের লাল আভা চুইয়ে পড়ল ওঁর গালে। তবে সেই দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে তিনি আবার মুখ তুললেন এবং রাহুলের অবাধ্য দৃষ্টির মুখোমুখি হলেন। তাঁর চোখের কোণে তখন এক লাজুক আবেশ। তিনি রাহুলের ভেজা চিবুকটা আলতো করে ছুঁয়ে ফিসফিস করে বললেন, "এখনই না বাবু... আগে তোর গা-টা ধুইয়ে দিই... লক্ষ্মী সোনা আমার..."
১১.৪. ধৌত করার আরাধনা
রাহুল একটু মুখটা পিছিয়ে, ইন্দিরার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল: "তুমি কি... আমাকে এবার সাবান মাখিয়ে দেবে, মা?"
ইন্দিরা খুব ধীর লয়ে মাথা নাড়লেন। তাঁর চোখের দৃষ্টি তখন এক অতল, গভীর ভালোবাসায় পরিপূর্ণ। তাঁর হাতদুটো রাহুলের বুক থেকে পিছলে নেমে ওর কোমরের কাছে এসে স্থির হলো। "হ্যাঁ... হ্যাঁ, আমি দেব। ঘুরে দাঁড়া। আমি আগে তোর পিঠটা পরিষ্কার করে দিই।"
রাহুল ঘুরে দাঁড়াল। ওর সেই মেদহীন, চওড়া পেশিবহুল পিঠটা এখন ইন্দিরার চোখের সামনে অনাবৃত। জলের ধারা বেয়ে নামছিল ওর সুগঠিত কাঁধ আর মেরুদণ্ডের খাঁজ ধরে। ছেলের এই তরতাজা, পুরুষালি অবয়বের দিকে তাকিয়ে ইন্দিরা মুহূর্তের জন্য মন্ত্রমুগ্ধের মতো স্তব্ধ হয়ে রইলেন। তাঁর চোখের সামনে ছোটবেলার সেই ছোট্ট বাবুসোনাটা যেন এক লহমায় এক পূর্ণাঙ্গ যুবকের রূপ নিয়েছে। এক অদ্ভুত অজানা আবেশে ইন্দিরা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না; তিনি একটু ঝুঁকে রাহুলের মেরুদণ্ডের ঠিক মাঝখানটায় ঠোঁট ডুবিয়ে এক গভীর চুমু এঁকে দিলেন।
জলের শীতলতার মাঝে মায়ের ঠোঁটের সেই আকস্মিক উষ্ণ ছোঁয়ায় রাহুল থরথর করে কেঁপে উঠল। ও এক অদ্ভুত আদুরে হাসিতে কুঁকড়ে গিয়ে মৃদু অভিযোগের সুরে বলল, "উফফ মা! এটা কী হল? অন্তত একটা ওয়ার্নিং তো দিতে পারতে!"
ইন্দিরা মুখে এক কৃত্রিম বিরক্তি ফুটিয়ে চোখের কোণ দিয়ে হেসে উঠলেন। ওর কাঁধে আলতো করে একটা চাপড় মেরে বললেন, "ওহ আচ্ছা! বাবু যখন নিজে হুট করে যা খুশি তাই করে, তখন কোনো দোষ নেই! আর মা একটু করলেই যত সমস্যা, তাই না?"
মায়ের এই মিষ্টি ধমক শুনে রাহুল আর নিজের হাসি চেপে রাখতে পারল না। বন্ধ বাথরুমের সেই আর্দ্র, জলসিক্ত বাতাসে দুজনেরই হালকা, মনখোলা হাসির শব্দ প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। হাসতে হাসতেই ইন্দিরা এক স্নেহমাখা খামখেয়ালে পেছন থেকে রাহুলকে দু-হাতে জড়িয়ে ধরলেন। তাঁর সম্পূর্ণ অনাবৃত, ভেজা শরীরটা নিবিড়ভাবে মিশে গেল রাহুলের চওড়া পিঠের সাথে। জলের তীব্র পতনের মাঝেই ইন্দিরার উদ্বেলিত স্তন যুগল আর তাঁর বক্ষের সংবেদনশীল অগ্রভাগ রাহুলের ভেজা পিঠের সুগঠিত পেশির ওপর এক অবাধ্য মাদকতায় একাধিকবার ঘষা খেল। এই আকস্মিক, নগ্ন ঘর্ষণের তীব্রতায় ইন্দিরার স্তনবৃন্ত নিমেষের মধ্যে শক্ত হয়ে উঠল।
"সাবান মাখাবে না মা?" রাহুলের কথায় হঠাৎ ইন্দিরার হুঁশ ফিরে এল।
ইন্দিরা সাবানদানির ওপর থেকে একটা সুন্দর, হালকা গন্ধওয়ালা বার সাবান তুলে নিলেন। সেটা শাওয়ারের জলে ভিজিয়ে দু হাত দিয়ে হালকা করে ঘষতে লাগলেন।
রাহুল ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল। "এটা কি সেই সাবানটা, যেটা তুমি রোজ মাখো?"
ইন্দিরা: "হ্যাঁ, এটাই সেই সাবান। এবার একদম চুপ করে দাঁড়া... আমাকে তোর পিঠটা পরিষ্কার করতে দে।" তাঁর ফর্সা, নরম আঙুলের মুঠোয় থাকা সেই ভেজা সাবানটি তিনি আলতো করে চেপে ধরলেন রাহুলের পিঠের ওপর। তারপর অত্যন্ত ধীর ও ছান্দিক লয়ে, সাবানের বারটি সরাসরি ওর পিঠের সুগঠিত পেশি আর মেরুদণ্ডের হাড়ের খাঁজগুলো বরাবর বৃত্তাকারে ঘষতে শুরু করলেন। জলের শীতলতার মাঝে সুগন্ধি সাবানের সেই মসৃণ, পিছল ছোঁয়া রাহুলের পিঠের প্রতিটা কোনায় এক শীতল আরামের আবেশ ছড়িয়ে দিতে লাগল।
রাহুল একটু বিজ্ঞের মতো গলা করে বলল: "কিন্তু মা, ডাক্তাররা তো বলে যে প্রত্যেকের নিজস্ব আলাদা সাবান ব্যবহার করা উচিত। আর তুমি এখন তোমার নিজের সাবানটাই আমার পিঠে ঘষে দিলে।"
ইন্দিরা খিলখিল হাসিতে ভেঙে পড়লেন। এই পারস্পরিক নগ্নতার মধ্যেও ছেলের এই স্বভাবসিদ্ধ লজিক তাঁকে বেশ আনন্দ দিচ্ছিল। "কথাটা ঠিকই বলেছিস, সোনা... কিন্তু... আমরা তো এখন একই শাওয়ারে, একসাথে স্নান করছি, তাই না? সো, এই ক্ষেত্রে আমার মনে হয় সাবানটা শেয়ার করা যেতেই পারে।"
রাহুল: "উঁহু... ব্যাপারটা ক্লিয়ার হলো না.... তুমি বলতে চাইছো..."
ইন্দিরা বুঝলেন তাঁর যুক্তিটা বেশ বোকা বোকা হয়ে গেছে। কিন্তু ফালতু তর্ক করে এই নিবিড় মুহূর্তকে মাটি করতে তিনি মোটেই চান না। রাহুলের ঘাড়ের পেছনে নিজের ঠোঁটদুটো নিয়ে গিয়ে বলে উঠলেন: "থাম তো, বড় মেডিক্যাল এক্সপার্ট এলেন আমার! তুই সত্যিই একটা পাগল ছেলে... আরে, সাবান তো সাবানই, ওতে আবার আলাদা কী! গায়ে মাখলেই ফেনা হবে আর ময়লা যাবে। আর তুই নিজেই তো সেদিন ন্যাকামো করে হোয়াটসঅ্যাপে লিখেছিলি, যে আমরা কি একই সাবান ইউজ করবো... আর এখন লজিক কপচাচ্ছিস? এবার বকবক বন্ধ করে চুপচাপ দাঁড়া।"
ইন্দিরা বেশ কিছুক্ষণ সময় নিয়ে রাহুলের পিঠটা সাবান দিয়ে ম্যাসাজ করলেন। ওর কাঁধের শক্ত পেশি আর পিঠের খাঁজগুলো তাঁর হাতের ছোঁয়ার অনন্য আরামে শিথিল হয়ে আসছিল। এরপর তাঁর হাত ধীরে ধীরে নেমে এল ওর কোমরের কাছে। সেখানে সাবান মাখানোর পর্ব শেষ হলে তাঁর চোখ চলে গেল আরও নিচে—রাহুলের নিতম্বের ওপর।
রাহুলের সুগঠিত, টানটান নিতম্বের দিকে চোখ পড়তেই ইন্দিরা মুহূর্তের জন্য মনে মনে বেশ চমৎকৃত হলেন; ছেলের শরীরের এই যুবকোচিত ও দৃঢ় অবয়ব তাঁকে এক অদ্ভুত মুগ্ধতায় আচ্ছন্ন করল। তিনি আর দেরি না করে নিজের নরম হাত দুটি দিয়ে সাবানের পিছল বারটি ওর সেই টানটান নিতম্বের পেশিতে স্পর্শ করলেন। জলের শীতলতার মাঝে ত্বকে ত্বকে লাগা সেই নিবিড় স্পর্শের তীব্রতা বজায় রেখেই তিনি হালকা মজাচ্ছলে বলে উঠিলেন, "বা রে! তুই তো বেশ ফিটফাট চেহারা বানিয়েছিস রে সোনা। তুই কি ইদানীং লুকিয়ে লুকিয়ে ঘরে এক্সারসাইজ করিস নাকি রে?"
রাহুল চট করে ঘাড় ঘুরিয়ে মায়ের দিকে তাকাল, মুখে এক চিলতে অবাক হাসি, "কই, না তো! কেন বলো তো?"
ইন্দিরা ওর নিতম্বের ওপর হাত রেখেই হালকা হেসে বললেন, "না মানে, আমি তো অবাক! বাড়ি এসেই তো নিজের ঘরে বসে থাকিস—হয় পড়াশোনা করিস, না হয় বন্ধুদের সাথে চ্যাট আর ল্যাপটপে গেম খেলিস। কোনোদিন তো তোকে মাঠে গিয়ে আউটডোর স্পোর্টস খেলতেও দেখলাম না। তাহলে এমন টানটান চেহারা হলো কী করে, শুনি?"
রাহুল একটু লাজুক হেসে ওর নিতম্বে মায়ের হাতের সেই জাদুকরী ছোঁয়া উপভোগ করতে করতে বলল, "আহা, কলেজে ক্লাসের ফাঁকে বন্ধুদের সাথে মাঝেমাঝে মাঠে একটু দৌড়াদৌড়ি করি তো! আর তার ওপর বাড়িতে তোমার হাতের এত ভালো হেলথি খাবার পাচ্ছি, শরীর তো একটু ভালো হবেই, মা!"
ছেলের মুখে নিজের রান্নার এই প্রশংসা শুনে ইন্দিরা ফিক করে হেসে ফেললেন। ওর নিতম্বের মাংসল অংশে আলতো করে একটা আদুরে চাপড় মেরে খুনসুটির সুরে বললেন, "ওহ আচ্ছা! মায়ের হাতের রান্নার এতই কদর তাহলে? তা বাবু যখন ঘরে থাকেন, তখন তো পাতে এটা নেই, ওটা খাব না বলে বায়নার শেষ থাকে না! এখন তার বোধোদয় হয়েছে, যে মায়ের হাতের রান্নার জন্যই নিজে একটা ফিট, হ্যান্ডসাম বয় হয়ে উঠেছে।"
মায়ের এই আদুরে খোঁটা শুনে রাহুল নিজের হাসি চেপে রাখতে পারল না। নিঝুম দুপুরে ঠান্ডা জলের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা মা ও ছেলে অনাবৃত শরীরে তাদের চেনা খুনসুটিতে মেতে উঠল।
এর পর ইন্দিরা ভাল করে রাহুলের নিতম্বে সাবান ঘষতে শুরু করলেন। রাহুল চোখ বন্ধ করে মায়ের হাতের পিচ্ছিল আদর উপভোগ করতে লাগল। খানিক পর, অত্যন্ত ধীর লয়ে, এক অনিবার্য নিয়তিতে ইন্দিরার আঙুলগুলো পিছলে গেল দুটি নিতম্বের গভীর খাঁজের অন্তরালে। এই জায়গাটা স্পর্শ করতেই ইন্দিরার পেটের ভেতর হাজারটা প্রজাপতি একসাথে ডানা ঝাপটে উঠল। তিনি একটা গভীর শ্বাস নিলেন। তারপর ধীরছন্দে ওর নিতম্বের খাঁজের ভিতর সাবান দিয়ে ঘষতে শুরু করলেন।
তিনি লক্ষ্য করলেন, তাঁর হাতের এই স্পর্শে রাহুল কাঁপছে, ওর শ্বাস দ্রুত হয়ে যাচ্ছে। রাহুলের এই ব্যাকুল প্রতিক্রিয়া ইন্দিরার অন্তরে এক অনির্বচনীয় স্পন্দন জাগাচ্ছিল, যেখানে তাঁর চিরন্তন মাতৃত্বের অন্ধ স্নেহটুকুই যেন কোনো অবাধ্য আবেশে একাকার হয়ে এক প্রগাঢ়, তীব্র কামনার রূপ ধারণ করছিল। তিনি ফিসফিস করে বললেন: "রিল্যাক্স, সোনা... জাস্ট আমাকে... তোকে ভালো করে সাবানটা মাখাতে দে। এই তো... হয়ে গেছে। তোর পেছনটা একদম ক্লিন। এবার ঘুরে দাঁড়া। আমি সামনের দিকটা পরিষ্কার করব।"
রাহুল ঘুরে দাঁড়াল। ওর সামনের পুরো নগ্ন শরীরটা এখন ইন্দিরার সামনে।
ইন্দিরা ওর কলারবোন আর বুকের চওড়া ছাতিতে সাবান মাখাতে শুরু করলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে তাঁর দৃষ্টি স্থির হলো রাহুলের সামনের উন্মুক্ত অবয়বের ওপর। চওড়া, মেদহীন ছাতি, যার পেশিগুলো বয়সের সাথে সাথে এক সুনির্দিষ্ট কাঠিন্য পেয়েছে। পেটের কাছে হালকা খাঁজ কাটা অ্যাবস, আর তার নিচ দিয়ে নেমে যাওয়া সেই পুরুষালি 'ভি' লাইন, যা ওর নাভির নিচ থেকে শুরু হয়ে নিম্নাঙ্গের দিকে হারিয়ে গেছে। জলের ফোঁটাগুলো ওর বুকের ওই মসৃণ ত্বকের ওপর দিয়ে গড়িয়ে পড়ছিল।
ইন্দিরার হাতদুটো ওর বুকের ওপর সাবান ঘষতে ঘষতে সাময়িকভাবে একটু ধীর হয়ে এল। রাহুলের শরীরী মাধুর্যে তিনি যেন সম্পূর্ণ আচ্ছন্ন। তাঁর অবচেতন মন এই প্রথমবার রাহুলকে শুধুমাত্র নিজের নম্র, ভদ্র, পড়ুয়া সন্তান হিসেবে নয়, বরং একজন সম্পূর্ণ, সুগঠিত এবং অত্যন্ত আকর্ষণীয় সন্তান হিসেবে দেখল। তাঁর সর্বাঙ্গীন চেতনা কোনো এক গোপন ভালোলাগায় আচ্ছন্ন হয়ে গেল। ছেলের এই ভরাট হয়ে ওঠা পেশি, এই যৌবনের উদ্দীপ্ত লাবণ্য তাঁর বুকের ভেতরকার হৃৎস্পন্দনকে অদ্ভুতভাবে বাড়িয়ে দিল। তিনি চোখ তুলে রাহুলের মুখের দিকে তাকালেন, তারপর জোর করে নিজের মনকে আবার সেই সাধারণ রোজকার মাতৃসুলভ আবরণে ঢেকে নেওয়ার চেষ্টা করলেন।
নিজের গলার স্বরটাকে 'আর পাঁচটা মায়ের মতো' রাখার চেষ্টা করে তিনি বললেন: "তা... আজ কলেজে কী কী করলি? ওই যে অ্যাসাইনমেন্টটা নিয়ে টেনশন করছিলি, ওটা শেষ করেছিস?"
তাঁর আঙুলগুলো রাহুলের বুকের নিচ দিয়ে, ওর পাঁজরের হাড়গুলো ছুঁয়ে পেটের ওই পেশিবহুল অংশের ওপর নেমে এল। সাবানের ফেনা আর ঠান্ডা জলের স্রোতে ইন্দিরার স্পর্শ রাহুলের শরীরে এক অমোঘ মাদকতা ছড়াচ্ছিল।
রাহুল একটু বিরক্তিতে চোখ বুজে মায়ের হাতের সুখ নিতে নিতে বলল: "ওহ কাম অন মা... এই কদিন এতো খাটলাম... ওটা আমি পরের সপ্তাহে নামাব..."
ইন্দিরা এবার এক কৃত্রিম বিরক্তি নিয়ে তাঁর সাবান মাখা হাতদুটোকে রাহুলের হিপবোন বা কোমরের হাড়ের ওপর নামিয়ে আনলেন। "এটাই তোর রোগ, তুই বড্ড বেশি কাজ ফেলে রাখিস, জানিস তো? তুই ব্রিলিয়ান্ট হতে পারিস, কিন্তু তুই বড্ড লেজি একটা ছেলে।"
রাহুল: "তুমি এটা কী করে বলতে পারো, মা? গত তিন দিন ধরে আমি যা করেছি, তারপরও?"
ইন্দিরা ওর হিপবোনের ওপর হাত রেখেই একগাল হাসলেন, তাঁর চোখদুটো রাহুলের ভিজে, উত্তপ্ত শরীরের ওপর ঘুরে বেড়াচ্ছিল: "ফেয়ার এনাফ। তবে আমি ওটা নিয়ে তো কিছু বলিনি। আমি ইন জেনারাল বলছি আর কী। তুই খুব হার্ডওয়ার্কিং হতে পারিস... যখন তোর সেটা হওয়ার ইচ্ছা থাকে, বা কেউ তোকে বাধ্য করে, তখন। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই... তুই একটা লেজি লেজি বাঁদর।"
তিনি এবার তাঁর সাবান মাখা হাতদুটো রাহুলের উরুর ওপর নামিয়ে নিয়ে গেলেন। অত্যন্ত ধীর ছন্দে তিনি ওর উরুর শক্ত পেশিগুলোতে সাবান মাখাতে লাগলেন। "তোর কি কোনো আইডিয়া আছে, আমি কতবার তোর টিচারদের মুখে শুনেছি যে, 'রাহুল যদি একটু মন দিয়ে পড়ত, তাহলে ফাটিয়ে দিত'?" তিনি কথা বলতে বলতেই নিজের ফর্সা আঙুলগুলো রাহুলের দুই উরুর ভেতরের দিকের চরম সংবেদনশীল ত্বকটার ওপর দিয়ে আলতো করে বুলিয়ে দিলেন।
এই অভাবনীয়, নরম আর পিছল স্পর্শে রাহুলের শরীর যেন একটা ইলেকট্রিক শকে কেঁপে উঠল। কিন্তু সেই অনুভূতিকে খানিকটা দমিয়ে ও সাথে সাথে একটু কাঁপানো গলায় প্রতিবাদ করে উঠল: "ওহ কাম অন! টিচাররা ওসব কিচ্ছু বলে না। তুমি নিজে থেকে গল্প বানিও না, মা..."
কিন্তু ওর কথাগুলো যেন মাঝপথেই আটকে গেল। মায়ের ফর্সা হাতের ওই অবিরত, মসৃণ ঘর্ষণ ওর ভেতরের এক ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরিকে জাগিয়ে তুলেছিল। রাহুলের শরীর ওর মগজের নির্দেশ অমান্য করে বসল। দেখতে দেখতেই ওর নিম্নাঙ্গের সেই ঘুমন্ত অঙ্গটি এক প্রবল রক্তস্রোতে জেগে উঠতে শুরু করল। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেটি সম্পূর্ণ ঋজু, কঠিন এবং স্ফীত হয়ে উঠল।
রাহুল এক চরম অস্বস্তিতে এবং লজ্জায় কুঁকড়ে গেল। ও প্রবৃত্তিগতভাবেই একটু পাশ ফিরে নিজের ওই আকস্মিক পরিবর্তনটাকে লুকোনোর চেষ্টা করল। একজন আদ্যোপান্ত 'নার্ড' বা বইপাগল ছেলে হিসেবে, যার সারা দিন কাটে কেমিস্ট্রির জটিল কনসেপ্ট আর সমীকরণের সাথে, এমন শারীরিক উত্তেজনা ওর জীবনে বড্ড বিরল। সমবয়সী অন্য ছেলেদের মতো ওর দিন অথবা রাত এই ধরনের চিন্তায় কাটে না; ওর শরীর এই চরম উত্তেজনার সাথে একেবারেই অভ্যস্ত নয়। গত শুক্রবার রাতে মায়ের বুকে মুখ রাখার সেই চরম মুহূর্তেও ওর শরীরের ঠিক এই একই প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। কিন্তু সেদিন ও আপ্রাণ চেষ্টায় নিজের নিম্নাঙ্গকে মায়ের শরীর থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল, পাছে মা টের পেয়ে রেগে যায় বা অস্বস্তিতে পড়ে। আর আজ, একেবারে নিজের মায়ের সামনে, এমন সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় নিজের শরীরের এই নিয়ন্ত্রণহীন, প্রকট রূপান্তর ওকে এক চরম লজ্জায় আর অপরাধবোধে ডুবিয়ে দিল।
ইন্দিরা ওর হিপবোনের ওপর হাত রেখেই একগাল হাসতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু হঠাৎ ওঁর চোখ নিচে নেমে গেল। তাঁর সাবান মাখা হাতদুটো মাঝপথেই স্থির হয়ে গেল। শ্বাসটা যেন গলায় আটকে গেল। তিনি একদৃষ্টে, চোখের পলক না ফেলে তাকিয়ে রইলেন রাহুলের ওই সম্পূর্ণ জাগ্রত, স্ফীত এবং দৃঢ় পুরুষাঙ্গটির দিকে। একজন মায়ের চোখে নিজের সদ্য যুবক ছেলের এই পূর্ণাঙ্গ, আদিম পৌরুষের রূপ এক অদ্ভুত ধাক্কা দিল। তিনি যেন মন্ত্রমুগ্ধ, সম্মোহিত হয়ে পড়েছেন। ওই মেদহীন, ভিজে শরীরের মাঝখানে ওর ওই ঋজু অঙ্গটি যেন এক আদিম শক্তির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ইন্দিরার ফর্সা গালদুটো দাউদাউ করে জ্বলে উঠল, কিন্তু তিনি চোখ সরাতে পারলেন না। তিনি মুখে কিছুই বললেন না, শুধু একটা বড় করে ঢোক গিললেন। তাঁর নারীসত্তার গভীরতম তলে একটা নিষিদ্ধ, উষ্ণ স্রোত বয়ে গেল।
তারপর, নিজের গলার স্বরটাকে কোনোমতে স্বাভাবিক করার আপ্রাণ চেষ্টা করে, একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের সাবান মাখা হাতদুটো রাহুলের হাঁটুর ওপর ঘষতে ঘষতে বললেন: "ফাইন, ফাইন। আমি তোকে আর খ্যাপাব না বাবা।"
(...rest of the chapter continued in the next post)
RE: The Barter System (By:andygarfield) -
Bad Boy - 09-02-2026
(...last part of Chapter 11)
১১.৫. তপ্ত লাভার বিস্ফোরণ
দেখতে দেখতে আরও পাঁচ মিনিট কেটে গেল। রাহুলের দুই পা, পিঠ, বুক, পেট—সব সাবান দিয়ে পরিষ্কার। শুধু ওর কুঁচকির জায়গাটা এবং সেই উদ্দীপ্ত অঙ্গটি এখনও ছোঁয়া হয়নি।
রাহুল তখন লজ্জায় আর চরম অস্বস্তিতে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ওর ওই তীব্র পুরুষালি উত্তেজনার দৃশ্যমান রূপটির দিকে তাকাতে ওর নিজেরই সংকোচ বোধ হচ্ছে। ইন্দিরা এক চরম অনিশ্চয়তায় আর ভয়ে রাহুলের নত মুখের দিকে তাকালেন। তাঁর নিজের বুকেও তখন হাতুড়ির ঘা পড়ছে। একটা গভীর, অন্ধকার দৃষ্টিতে ফিসফিস করে তিনি বললেন:
"সোনা... আমি... আমাকে কি ওটাও..." তিনি থমকালেন। শব্দগুলো যেন গলায় আটকে যাচ্ছে। "মানে, তুই কি ওই জায়গাটা নিজে পরিষ্কার করে নিতে পারবি? নাকি... নাকি তুই চাস আমিই..."
রাহুল মাথা তুলে মায়ের চোখের দিকে তাকাতেই পারল না। ওর কান দুটো লজ্জায় টকটকে লাল হয়ে গেছে। ও চরম অস্বস্তিতে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে, অত্যন্ত নিচু, জড়ানো ও মিনমিনে গলায় বিড়বিড় করে বলল, "আমি... আমি জানি না মা... তোমার... তোমার যা ইচ্ছে... তুমি যা ভালো বোঝো..."
ছেলের এই অসহায়, সমর্পণ করা উত্তরের পর বাথরুমের ভেতর কয়েক মুহূর্তের জন্য শুধু জলের শব্দ ছাড়া আর কিছুই শোনা গেল না। ইন্দিরা নিজের নিচের ঠোঁটটা কামড়ে ধরলেন। তাঁর বুকের ভেতর প্রবল দহন। তাঁর যুক্তিবাদী মন বলছে এখন সাবানটা রাহুলের হাতে ধরিয়ে দেওয়া উচিত, কিন্তু তাঁর ভেতরের এক আদিম নারীসত্তা যেন সেই সাবানটাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চাইছে। তিনি ধীর পায়ে একটু নড়লেন। মনে মনে নিজেকে বোঝানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেন, নিজের এই প্রবল ইচ্ছাকে একটা সাধারণ মাতৃসুলভ রূপ দেওয়ার জন্য একটা দুর্বল যুক্তি খাড়া করার চেষ্টা করলেন।
"হ্যাঁ... মানে..." ইন্দিরা খুব অস্পষ্ট, কাঁপানো গলায় ফিসফিস করে উঠলেন, যেন ছেলেকে নয়, নিজেকেই নিজে বোঝাচ্ছেন। "আমি তো তোর পিঠ পরিষ্কার করলাম... বুক করলাম, পাগুলোও করে দিলাম... তাহলে ওটা কেন বাদ থাকবে... তাই না? ওটাও... ওটাও করে দেওয়াই ভালো..."
রাহুল কোনো উত্তর দিল না, শুধু ওর ভেজা শরীরটা উত্তেজনার পারদে সামান্য কেঁপে উঠল।
ইন্দিরার গলাটা আরেকটু গাঢ় হলো, কিন্তু কাঁপুনিটা গেল না। তিনি নিজের দৃষ্টিটাকে রাহুলের ওই উদ্দীপ্ত অঙ্গটির ওপর স্থির রেখেই বিড়বিড় করতে লাগলেন, "তাছাড়া তুই যা অলস... নিজে তো ঠিকঠাক পরিষ্কারও করিস না। নাহলে তো ওখানেই নোংরা থেকে যাবে... আমি যখন আজ স্নান করাচ্ছিই, তখন... তখন তো পুরোটা পরিষ্কার করে দেওয়াই উচিত, তাই না?"
এই দুর্বল যুক্তিগুলো আওড়াতে আওড়াতেই তাঁর কাঁপতে থাকা ফর্সা আঙুলগুলো ধীরে ধীরে নিচের দিকে নামল, এবং রাহুলের কুঁচকির কাছে গিয়ে অত্যন্ত সন্তর্পণে প্রথম স্পর্শটা করল। তাঁর হাতদুটো এবার পুরোপুরি রাহুলের কুঁচকিতে ঢুকে গেল। তিনি সাবানের ফেনা দিয়ে জায়গাটা ঘষতে লাগলেন। "এই তো... ঠিক আছে তো সোনা?"
রাহুল খুব নিচু, ঘোরের ঘোরে একটা অস্ফুট শব্দ করল: "হ্যাঁ মা..."
ইন্দিরার হাতের স্পর্শগুলো থেকে প্রাথমিক আড়ষ্টতাটুকু ধীরে ধীরে কেটে যাচ্ছিল। একই সাথে, এক অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে তাঁর আঙুলগুলো যেন নিজের অজান্তেই একটু বেশি নিবিড় হয়ে উঠছিল। সাবানের ফেনা আর ঠান্ডা জলের স্রোতের মাঝে তাঁর ফর্সা আঙুলগুলো যখন অত্যন্ত সন্তর্পণে রাহুলের অণ্ডকোষের পেলব ত্বকের কাছে পৌঁছল, তখন তিনি একবারের জন্য একটু থমকালেন। একটা তীক্ষ্ণ শ্বাস ভেতরে টানলেন।
এই চরম সংবেদনশীল জায়গায় মায়ের হাতের ওই পিচ্ছিল, অচেনা ছোঁয়া লাগতেই রাহুলের শরীরটা যেন ধনুকের মতো সামান্য বেঁকে গেল। ওর গলা চিরে একটা অস্ফুট, চাপা গোঙানি—"উহ্..."—বেরিয়ে এল। ও নিজের চোখ দুটো শক্ত করে বুজে ফেলল, হাতের মুঠো দুটো অজান্তেই শক্ত হয়ে গেল। লজ্জায়, অস্বস্তিতে আর এক অচেনা, তীব্র সুখে ওর মাথাটা বুকের কাছে আরও বেশি ঝুঁকে পড়ল।
ছেলের এই আকস্মিক প্রতিক্রিয়ায় ইন্দিরা কিছুটা ঘাবড়ে গেলেন। তাঁর সাবান মাখানো হাতটা ওই জায়গাতেই স্থির হয়ে গেল। তিনি ভয়ে ভয়ে, অত্যন্ত নিচু, মাতৃত্বের আদরে মাখানো গলায় ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করলেন, "কী হলো রে সোনা? লাগছে...? আমি কি ব্যথা দিয়ে ফেললাম?"
রাহুল চোখ না খুলেই মাথাটা দুপাশে নাড়ল। ওর শ্বাস তখন আরও দ্রুত হয়ে এসেছে। জলের ঝমঝম শব্দের মাঝে ও প্রায় শোনা যায় না এমন গলায়, তোতলাতে তোতলাতে বলল, "না... না মা... ব্যথা লাগছে না... জাস্ট... কিরম... অন্যরকম লাগছে..."
ছেলের ওই দুর্বল, খাবি খাওয়া গলাটা শুনে ইন্দিরার ভেতরের সংশয় ধীরে ধীরে গলে গেল, এবং এক মায়ের অধিকারবোধ আর স্নেহের আতিশয্য তাঁকে গ্রাস করল। তিনি আবার অত্যন্ত আলতো, কিন্তু এক সুনির্দিষ্ট, ধীর ছন্দে সেখানে সাবান ঘষতে লাগলেন। তাঁর গলা দিয়ে একটা ফ্যাঁসফ্যাঁসে, আদুরে ফিসফিসানি বেরোলো, "ইটস ওকে... ভয় পাস না বাবু... আমি খুব আস্তে আস্তে করছি... তুই জাস্ট রিল্যাক্স কর... কিচ্ছু হবে না..."
সাবানের ফেনার পিচ্ছিল আবেশে তাঁর নরম আঙুলগুলোর এই ধীর, সন্তর্পিত ঘর্ষণ রাহুলের অনভিজ্ঞ শরীরকে ক্রমশ এক চরম উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিচ্ছিল। ইন্দিরার আঙুলগুলো যখন অত্যন্ত আদরে ওর অণ্ডকোষের সংবেদনশীল ভাঁজগুলো পরিষ্কার করছিল, ঠিক তখনই সেই শিহরণ জাগানো ছোঁয়ার প্রভাবে ওর ঠিক ওপরেই থাকা সম্পূর্ণ জাগ্রত অঙ্গটি আপনাআপনি কয়েকবার থিরথির করে কেঁপে উঠল। উত্তেজনার চরম সীমায় পৌঁছে সেটি যেন চোখের পলকে আরও কঠিন, আরও স্ফীত হয়ে উঠল, এবং অবচেতনভাবেই মায়ের ওই ফর্সা হাতের উষ্ণতাটুকু পাওয়ার আকুলতায় সামান্য ঝুঁকে এল।
রাহুল নিজের অবাধ্য শরীরের এই প্রকট প্রতিক্রিয়াটা কিছুতেই লুকাতে পারল না, লজ্জায় ওর কান দুটো টকটকে লাল হয়ে গেল। ওর মুখ থেকে বারবার ছোট ছোট, চাপা শ্বাস বেরিয়ে আসছিল।
ছেলের শরীরের এই অনিয়ন্ত্রিত স্পন্দন ইন্দিরার আঙুলের ঠিক নিচেই এক তীব্র উত্তাপ ছড়াচ্ছিল। অণ্ডকোষের চারপাশ পরিষ্কার করতে করতেই, এক অনিবার্য নিয়তির মতো ইন্দিরার ডান হাতের ফর্সা আঙুলগুলো এবার সন্তর্পণে আরেকটু ওপরের দিকে উঠতে লাগল। আর তারপর, এক চরম, রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তে... তিনি তাঁর ডান হাতের সবকটি আঙুল দিয়ে রাহুলের সেই উত্তপ্ত, আরও কঠিন হয়ে ওঠা স্পন্দনশীল পুরুষাঙ্গটিকে সম্পূর্ণভাবে জড়িয়ে ধরলেন।
প্রথম স্পর্শটা ছিল আড়ষ্ট, প্রায় কাঁপতে থাকা। রাহুলের অঙ্গের সেই তীব্র, দবদব করা উত্তাপ ইন্দিরার হাতের তালুতে ছ্যাঁকা লাগার মতো এসে পৌঁছল। তিনি প্রায় আঁতকে উঠে হাতটা একটু আলগা করে নিলেন। তাঁর ফর্সা গালদুটো তখন লজ্জায় আর উত্তেজনায় পুড়ছে।
"সোনা... আমি..." তিনি ঢোক গিললেন, চোখদুটো রাহুলের নত মুখের দিকে স্থির রেখে অত্যন্ত নিচু, জড়ানো গলায় ফিসফিস করে উঠলেন, "আমি জাস্ট... সাবান লাগিয়ে দিচ্ছি... জায়গাটা... পরিষ্কার করতে হবে তো... তুই একদম... একদম নরমাল থাক..."
রাহুল তখন লজ্জায় মাটিতে মিশে যাচ্ছে। চোখ দুটো শক্ত করে বোজা। জলের শব্দের মাঝে ওর গলাটা বড্ড মিনমিনে আর কাঁপানো শোনাল, "হ্যাঁ... মা... তুমি... তুমি জাস্ট... ধুয়ে দাও..."
সাবানের ফেনা আর ঠান্ডা জলের স্রোতে ইন্দিরার হাতের একটা ধীর, আড়ষ্ট ওঠানামা শুরু হলো। প্রথম কয়েকবার হাতটা ওপরে-নিচে হতেই রাহুলের মুখ থেকে একটা চাপা, আকস্মিক গোঙানি বেরিয়ে এল—"উহ্... মা..."। ওর শিরদাঁড়া বেয়ে যেন একটা প্রবল বিদ্যুৎ খেলে গেল।
ছেলের ওই চাপা আর্তনাদ শুনে ইন্দিরা প্রথমে একটু ঘাবড়ে গেলেও, পরক্ষণেই তাঁর ভেতরের সুরক্ষাদায়ী মাতৃসত্তা প্রবল হয়ে উঠল। তিনি ভাবলেন ছেলেটা বুঝি ভয় পাচ্ছে বা অস্বস্তি বোধ করছে।
"কী হলো সোনা? লাগছে রে খুব?" তিনি খাবি-খাওয়া গলায় জিজ্ঞেস করলেন। "আমি কি... আরও আস্তে করব...?"
"না... মানে... হ্যাঁ... একটু..." রাহুল ঘোরের মধ্যে তোতলাতে তোতলাতে বলল। ওর শ্বাস এখন ছোট আর খাবি খাওয়ার মতো হয়ে আসছে। "মা... আমার কেমন যেন... গুলিয়ে যাচ্ছে সব..."
ইন্দিরার হাতের তালুর ভেতরে রাহুলের সেই অঙ্গের দ্রুত, পাগলাটে স্পন্দনটা এখন আরও স্পষ্ট। তাঁর নিজের শ্বাসও তখন দ্রুত হয়ে এসেছে। ছেলেকে শান্ত করার জন্য তিনি নিজের হাতের গতিটাকে আরেকটু মসৃণ, আরেকটু সাবলীল করলেন। সাবানের পিছল আবেশে ওই ঘর্ষণটা একটা একটানা ছন্দ পেল।
"ইটস ওকে... অত ভাবিস না সোনা... মা তো আস্তে আস্তেই করছে..." ইন্দিরার গলার স্বর এখন একদম ছোট বাচ্চাকে ঘুম পাড়ানোর মতো মোলায়েম আর আদুরে হয়ে উঠেছে। "উশশশ... রিল্যাক্স কর সোনা... কিচ্ছু হয়নি... মা তো শুধু পরিষ্কার করে দিচ্ছে আমার ময়লা বাবুটাকে..."
"আহ্... মা... উমমম..." রাহুলের গোঙানিগুলো এখন আর চাপা থাকছে না। ওর গলার ভেতর থেকে ওঠা শব্দগুলো শাওয়ারের জলের শব্দের চেয়েও জোরে শোনা যাচ্ছে। ওর কোমরটা অবচেতনভাবেই ইন্দিরার হাতের দিকে সামান্য এগোতে শুরু করেছে।
ইন্দিরা ওর মাথার চুলে অন্য হাতটা দিয়ে বিলি কাটতে কাটতে আরও গভীর, মাতৃসুলভ আদরে ফিসফিস করতে লাগলেন। "এই তো আমার লক্ষ্মী ছেলে... আহারে, বড্ড কষ্ট হচ্ছে আমার বাবুটার? মা জানে, সোনা... মা সব জানে। জাস্ট মায়ের হাতের ছোঁয়াটা ফিল কর... তুই বড্ড ভালো ছেলে আমার... বড্ড মিষ্টি আমার সোনাটা..."
ইন্দিরার হাতের ছন্দের গতি ক্রমেই বাড়তে লাগল। সাবান আর জলের পিচ্ছিল আবেশে তাঁর নরম আঙুলগুলোর সেই অবিরত ঘর্ষণ রাহুলের অনভিজ্ঞ শরীরটাকে এক চরম প্রান্তিকের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল। রাহুলের মুখ থেকে এবার টানা, আর্দ্র গোঙানি বেরোতে শুরু করল—"উফ্... আআহ্... মা... মাগো..."
ছেলের এই অবাধ্য, পাগলপারা শব্দগুলো শুনে ইন্দিরা ওকে আরও একটু কাছে টেনে নিলেন। ঘাড়ের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে একদম শিশুর মতো ভুলিয়ে রাখার সুরে বিড়বিড় করতে লাগলেন, "ওহ সোনা রে... আমার ছোট্ট বাবুটা... আমার চাঁদের কণা... একটু ধৈর্য ধর সোনা... মা তো করে দিচ্ছে... এই তো প্রায় হয়ে এসেছে... মা আছে না? মা সব ঠিক করে দেবে সোনা..."
রাহুল আর নিজের ভেতরের অনুভূতিটাকে আটকে রাখতে পারল না। ঘোরের ঘোরে, একটা দীর্ঘ, কাঁপানো শ্বাস নিয়ে ও তোতলাতে তোতলাতে বলে উঠল, "মা... এটা... এটা বড্ড ভালো লাগছে... উমমম... খুব আরাম লাগছে মা..."
রাহুলের মগজের সমস্ত ভাবনা, সমস্ত অঙ্ক আর কেমিস্ট্রির ফর্মুলাগুলো যেন এক লহমায় মুছে গেল। ওর মনে হচ্ছিল ওর শিরদাঁড়া বেয়ে এক প্রবল বিদ্যুতের স্রোত সোজা মাথার তালুতে গিয়ে আছড়ে পড়ছে।
"মা... ওহ মা... আআহ্..." রাহুল এবার প্রায় কেঁদে ওঠার মতো স্বরে গোঙাতে লাগল, শরীরটা কাঁপছে থরথর করে। ওর শ্বাসপ্রশ্বাস এখন চরম দ্রুত আর অনিয়ন্ত্রিত। "মা... আমি... আমি আর দাঁড়াতে পারছি না... আমার পা কাঁপছে মা..."
ইন্দিরা ওর এই চরম অসহায়তা আর সমর্পণ দেখে এক অদ্ভুত, নেশাগ্রস্ত তৃপ্তি পেলেন। তাঁর হাতের ওঠানামা এখন এক নিপুণ, একটানা ছন্দে বাঁধা। "আমি ধরে আছি তোকে... আমি ধরে আছি... কিচ্ছু হবে না সোনা... আমার আদরের রাজপুত্তুর... তোর এই সবটা তো আমারই তৈরি... একটুও ভয় পাবি না... মা আছে তো..."
ওর নিম্নাঙ্গে এক অচেনা, প্রবল চাপ তৈরি হচ্ছিল, এমন একটা অনুভূতি যা ও আগে কখনো এত তীব্রভাবে অনুভব করেনি।
"মা..." রাহুল হাঁপাতে হাঁপাতে, একটা তীব্র ঘোরের মধ্যে অস্ফুট স্বরে ডাকল।
ইন্দিরা নিজের হাতের ছন্দে বিন্দুমাত্র বিরতি না দিয়ে, পরম মমতায় ওর গালে নিজের গালটা ঘষে ফিসফিস করলেন, "হ্যাঁ বাবু... বল আমার মানিক..."
রাহুল চোখ দুটো শক্ত করে বুজে, এক চরম অসহায় আর নিষ্পাপ গলায় খাবি খেতে খেতে বলে উঠল: "মা... আমার মনে হয়... আমার হিসি পাচ্ছে..."
ছেলের এই অভাবনীয়, শিশুসুলভ কথাটা শুনে ইন্দিরা মুহূর্তের জন্য সত্যিই বেশ চমকে গেলেন। এই চরম আদিম উত্তেজনার মুহূর্তে এমন একটা কথা শুনে তিনি সাময়িকভাবে একটু বিভ্রান্ত হয়ে পড়লেন। কিন্তু এই মানসিক বিস্ময়ের মাঝেই, তাঁর হাতের গতি কমার বদলে এক অদ্ভুত, অবচেতন তাগিদে আরও একটু দ্রুত আর নিবিড় হয়ে উঠল।
তিনি অবাক হয়ে, অত্যন্ত নরম এবং ফিসফিস করা গলায় বলে উঠলেন, "অ্যাঁ...? এখন...? সোনা, তুই এখন হিসি করবি...?"
কিন্তু কথাটা বলতে বলতেই নিজের দ্রুত চলতে থাকা হাতের মুঠোয় রাহুলের শরীরের সেই চরম টান আর স্পন্দন অনুভব করে একজন অভিজ্ঞ নারী হিসেবে তিনি ঠিক বুঝতে পারলেন আসলে কী হতে চলেছে।
"ওহ্... এটা তো... "
কিন্তু ইন্দিরার মুখের কথা আর শেষ হলো না। তাঁর হাতের ওই দ্রুত, মসৃণ ঘর্ষণের মাঝখানেই রাহুলের শরীরের ভেতরের সেই অবদমিত আগ্নেয়গিরি সজোরে ফেটে পড়ল।
"আহ্হ্হঃ মাআআআআআ!!!!"
রাহুলের শরীরটা ধনুকের মতো বেঁকে গেল। ও এক তীব্র শ্বাস নিয়ে চোখ দুটো শক্ত করে বুজে ফেলল। ওর গলা চিরে একটা অস্ফুট, ভাঙা গোঙানি ছিটকে বেরোলো। আর পরক্ষণেই, ওর পুরুষাঙ্গ থেকে এক উষ্ণ, ঘন, তপ্ত স্রোত প্রবল বেগে ছিটকে বেরিয়ে এল। সেই তপ্ত তরলের প্রথম ঝলকটা সোজা গিয়ে আছড়ে পড়ল ইন্দিরার সাবান মাখা হাতের তালুর ওপর, কিন্তু বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে পরবর্তী ঘন ধারাগুলো ছিটকে গিয়ে সজোরে লেপ্টে গেল ইন্দিরার ফর্সা, অনাবৃত, ভেজা পেটের ওপর। বাথরুমের ঠান্ডা জল আর সাবানের ফেনার মাঝখানে রাহুলের শরীরের সেই উষ্ণ, আঠালো তরল ইন্দিরার নাভির চারপাশে এক অদ্ভুত, বন্য বৈপরীত্য তৈরি করল।
ইন্দিরা প্রথম কয়েক সেকেন্ডের জন্য যেন পাথর হয়ে গেলেন। তাঁর হাতের তালুতে আর নিজের অনাবৃত পেটের ওপর ওই উষ্ণ, ঘন তরলের প্রলেপটা তাঁকে স্তব্ধ করে দিল। তিনি চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলেন নিজের পেটের দিকে। কিন্তু পরক্ষণেই এক অবর্ণনীয়, ঘোর লাগা রোমাঞ্চ আর এক অপরিসীম মাতৃসুলভ মমতা তাঁকে গ্রাস করল। তিনি কোনো রকম বিরক্তি বা ঘৃণা না দেখিয়ে, অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে নিজের হাতটা শাওয়ারের জলের ধারার নিচে নিয়ে গিয়ে ধুয়ে ফেললেন এবং হাতের জল দিয়ে নিজের পেটের ওপরটাও আলতো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিলেন।
এদিকে রাহুলের অবস্থা তখন শোচনীয়। ওর সারা জীবনের রুটিন ছিল কেবলই বইয়ের পাতা আর পড়াশোনার সিলেবাস। ওর এই উনিশ বছরের জীবনে ও কখনও সচেতনভাবে, জেগে থাকা অবস্থায় এই চরম শারীরিক স্খলনের স্বাদ পায়নি। হয়তো ঘুমের ঘোরে এক-আধবার স্বপ্নদোষ হয়েছিল, কিন্তু বাস্তব জীবনে একজন নারীর হাতের স্পর্শে এই প্রবল, সর্বগ্রাসী তৃপ্তির বিস্ফোরণ ওর কাছে সম্পূর্ণ অজানা ছিল। কিন্তু রাহুল অত্যন্ত মেধাবী ছেলে; হিউম্যান বায়োলজি সম্বন্ধে ওর জ্ঞান কম কিছু নয়। ও খুব ভালো করেই বুঝতে পারছিল যে এইমাত্র বায়োলজিক্যালি ঠিক কী ঘটনা ঘটে গেল।
এই চরম তৃপ্তির রেশ কাটতে না কাটতেই এক গভীর, অসহনীয় ক্লান্তি আর তার সাথে এক তীব্র, বুক-কাঁপানো লজ্জা ওকে গ্রাস করল। ও এইমাত্র নিজের মায়ের হাতের ওপর নিজের স্খলন ঘটিয়েছে! লজ্জায় ওর মাথাটা আপনাআপনি বুকের কাছে ঝুঁকে পড়ল। ওর হাঁটু দুটো কাঁপছিল, মনে হচ্ছিল এখনই হয়তো মেঝেতে পড়ে যাবে।
ইন্দিরা বুঝতে পারলেন রাহুলের অবস্থা। তিনি এক মুহূর্তও দেরি না করে এগিয়ে গিয়ে রাহুলকে নিজের বুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন। তাঁর ভেজা, নগ্ন শরীরটা ওর ক্লান্ত শরীরের জন্য এক পরম আশ্রয় হয়ে উঠল। তাঁর নিজের ভেতরের নারীসত্তাও তখন এক তীব্র, অবদমিত উত্তেজনায় থরথর করে কাঁপছে, বুকটা দ্রুত ওঠানামা করছে। তিনি রাহুলের ভিজে চুলে ঘন ঘন, গভীর চুমু খেতে খেতে অত্যন্ত ভারী, নেশাগ্রস্ত আর আদুরে গলায় তোতলাতে তোতলাতে ফিসফিস করলেন:
"উশশশ... ইটস ওকে... ইটস ওকে, সোনা আমার... একটুও ঘাবড়াস না বাবু... একদম... একদম ঠিক আছে..." তাঁর গলাটা উত্তেজনায় বুজে আসছিল, কথার মাঝে ছোট ছোট শ্বাস নিচ্ছিলেন তিনি। "এটা... এটা একদমই ন্যাচারাল রে মানিক... এতে ভয় পাওয়ার... বা মায়ের কাছে লজ্জা পাওয়ার... কিচ্ছু নেই... উমম... একটুও লজ্জা পাবি না..."
তিনি নিজের গালটা রাহুলের কপালের সাথে ঘষে, ওকে আরও একটু ওমের ভেতর টেনে নিয়ে কাঁপানো গলায় বিড়বিড় করলেন, "মা... মা তো তোর কাছেই আছে... তাই না? আমি... আমি সব... সব সামলে নেব... তুই জাস্ট রিল্যাক্স কর... আমার মিষ্টি বাবুটা..."
রাহুল মায়ের কাঁধে মুখ গুঁজে শুধু হ্যাঁ-সূচক একটা ছোট শ্বাস ফেলল। ওর শরীর তখন চরম ক্লান্তিতে নেতিয়ে পড়েছে।
ইন্দিরা ওর মুখের দিকে তাকালেন। রাহুলের চোখের পাতাগুলো ভারী হয়ে এসেছে, মুখের রেখায় এক তীব্র অবসাদ। ইন্দিরার খুব ইচ্ছে করছিল ছেলেটাকে আরও কিছুক্ষণ নিজের কাছে আটকে রাখতে, এই নিষিদ্ধ নৈকট্যের ঘোরটাকে আরও একটু প্রলম্বিত করতে। কিন্তু ছেলের এই ক্লান্ত, বিধ্বস্ত রূপ দেখে তাঁর মাতৃসত্তা বাধা দিল।
"তোর বড্ড ক্লান্তি লাগছে, তাই না সোনা?" ইন্দিরা রাহুলের কপালে একটা দীর্ঘ চুমু খেয়ে বললেন। "ঠিক আছে... তুই... তুই বরং এখন যা। ভালো করে গা মুছে জামাকাপড় পরে নিজের ঘরে যা। একটু রেস্ট নে। মাথাটা ভালো করে মুছিস কিন্তু। আমি স্নানটা সেরে আসছি। ঠিক আছে সোনা?"
ইন্দিরা এক সেকেন্ড থেমে আবার বলে উঠলেন, "ওহ হ্যাঁ, রান্নাঘরে দেখবি কয়েকটা কলা রাখা আছে, পারলে দুটো খেয়ে নে। খালি পেটে থাকিস না সোনা, ওকে? আর, একটু বেশি করে জল খাস..."
রাহুল কোনোমতে মাথা নেড়ে সায় দিল। ও আস্তে আস্তে মায়ের আলিঙ্গন থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে শাওয়ার কিউবিকল থেকে বাইরে পা রাখল। রডের ওপর মেলে রাখা নিজের তোয়ালেটা টেনে নিয়ে এলোমেলোভাবে গা মুছে নিল। তারপর কোনোমতে নিজের সাদা টি-শার্ট আর শর্টসটা গলিয়ে নিয়ে ও বাথরুম থেকে বেরিয়ে এল। ও চৌকাঠ পেরিয়ে করিডোরে পা রাখতেই পেছন থেকে দরজার লকে একটা মৃদু 'ক্লিক' শব্দ শোনা গেল। ইন্দিরা ভেতর থেকে বাথরুমের দরজাটা লক করে দিলেন।
করিডোরের হাওয়াটা ওর গায়ে লাগতেই ওর কিছুটা ঘোর কাটল। ও ধীর পায়ে নিজের ঘরে গিয়ে ঢুকল। শরীরের ভেতরের সেই প্রবল বিস্ফোরণের পর এক অদ্ভুত শূন্যতা আর ক্লান্তি ওকে গ্রাস করেছিল। ড্রেসিং টেবিলের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ও ভেজা চুলগুলো চিরুনি দিয়ে কয়েকবার আঁচড়ে নিল। টেবিলের ওপর রাখা ওয়াটার ফ্লাস্ক থেকে এক গ্লাস জল ঢেলে এক চুমুকে খেয়ে নিল ও। বুকের ধুকপুকানিটা এখন কিছুটা শান্ত হয়েছে। মায়ের কথা মনে পড়ল ওর—মা খেয়ে নিতে বলেছে। সত্যিই ওর পেটের ভেতরটা কেমন যেন খালি খালি লাগছিল, এক তীব্র ক্ষুধা চাগাড় দিয়ে উঠেছে।
রাহুল ঘর থেকে বেরিয়ে রান্নাঘরের দিকে যাওয়ার জন্য আবার করিডোরে পা রাখল। দুপুরবেলার পুরো বাড়িটা এক গভীর নিস্তব্ধতায় ডুবে আছে।
কিন্তু কয়েক পা এগোতেই ওর পা দুটো হঠাৎ থমকে গেল। করিডোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে একটা অদ্ভুত, চাপা শব্দ ভেসে আসছিল। শব্দটা আসছে মায়ের বাথরুমের দিক থেকে। শাওয়ারের জলের একটানা ঝমঝম শব্দের আড়ালে অন্য একটা শব্দ—এক অদ্ভুত, দ্রুত ও ছান্দিক জলের ঝাপটানি, আর তার সাথে একটা খাবি খাওয়া, অস্ফুট গোঙানি। "উমমম... উফ্..."
রাহুল ভুরু কুঁচকাল। ওর ক্লান্ত, অনভিজ্ঞ মগজ প্রথমে শব্দটার অর্থ বুঝতে পারল না। মা কি কাঁদছে? বাথরুমের ভেজা মেঝেতে পা পিছলে পড়ে গিয়ে কোথাও ব্যথা পেল? এক বুক উদ্বেগ নিয়ে ও নিঃশব্দ পায়ে বাথরুমের বন্ধ দরজার দিকে এগিয়ে গেল।
দরজার খুব কাছাকাছি আসতেই শব্দগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ওর কানে আছড়ে পড়ল। না, এটা কোনো কান্নার বা ব্যথার শব্দ নয়। এটা এক রুদ্ধশ্বাস, বেপরোয়া আর তীব্র সুখের গোঙানি।
"আহ্... আআহ্... উমমম..."
ইন্দিরার গলা কাঁপছিল এক তীব্র, বন্য যন্ত্রণায় আর চরম তৃপ্তিতে। রাহুলের উনিশ বছরের মগজ হয়তো মেয়েদের এই চরম শারীরিক তৃপ্তি লাভের যান্ত্রিক খুঁটিনাটিগুলো পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারছিল না, কিন্তু ওই বাথরুমের ভেতর থেকে ভেসে আসা একজন নারীর ওই আদিম, উদ্দাম সুখের শব্দগুলো বোঝার জন্য খুব বেশি অভিজ্ঞতার প্রয়োজন ছিল না। ওর মা... ওর সেই প্রাজ্ঞ, রাশভারী, গম্ভীর মা ওই বন্ধ দরজার ওপারে একা দাঁড়িয়ে নিজের সাথে ঠিক কী করছেন, তার একটা সুনির্দিষ্ট ও জ্বলজ্বলে ছবি রাহুলের চোখের সামনে ভেসে উঠল।
লজ্জায় আর এক অদ্ভুত, নিষিদ্ধ উত্তেজনায় রাহুলের কান দুটো গরম হয়ে উঠল। ওর মনে হলো এই মুহূর্তে এখান থেকে চলে যাওয়া উচিত, মায়ের এই একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তে এভাবে আড়ি পাতা ঠিক নয়। ও পা বাড়িয়ে চলে যেতে চাইল, কিন্তু ওর পা দুটো যেন মেঝের সাথে সেঁটে গেছে। একটা অজানা সম্মোহন ওকে দরজার বাইরে আটকে রাখল।
আর ঠিক তখনই... জলের ঝমঝম শব্দের আড়াল থেকে একটা স্পষ্ট ধ্বনি ওর কানে এল।
"উফ্... রাহুল..."
রাহুলের বুকের ভেতর হৃৎপিণ্ডটা যেন এক লহমায় থমকে গেল। ওর শিরদাঁড়া বেয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত নেমে গেল। ও কি ভুল শুনল? ও নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। শ্বাস আটকে, কান খাড়া করে ও আরও গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করল।
ভেতর থেকে ইন্দিরার সেই তৃষ্ণার্ত, পাগলপারা গলা এবার আরও স্পষ্ট, আরও নির্লজ্জ হয়ে ভেসে এল।
"আহ্ সোনা... হ্যাঁ... আমার বাবুটা... উফ্ রাহুল... তোর ওই... আমাকে... আআহ্... হ্যাঁ... কর সোনা... আমার সোনা ছেলে... ওহ্..."
রাহুলের পায়ের তলার মাটি যেন দু-ভাগ হয়ে গেল। মগজের ভেতরটা একটা প্রবল বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল, আর কানের কাছে যেন হাজারটা ঘণ্টা একসাথে বাজতে শুরু করল। বন্ধ দরজার ওপারে, শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে ওর মা নিজের নারীশরীরের চরম তৃপ্তি খুঁজছেন—আর সেই চরম, আদিম মুহূর্তে তাঁর ঠোঁটে, তাঁর ভাবনায়, তাঁর প্রতিটি রুদ্ধশ্বাস গোঙানিতে মিশে আছে শুধু ওর নাম! শুধু রাহুল!