আমার প্রথম প্রেম -
X Man - 08-29-2026
(এতদিন শুধু গল্প পড়েছি আজ নিজেলেখার চেষ্টা করছি। আমার জীবনের কিছুটা বাস্তব আর কিছুটা কাল্পনিকতা মিশিয়ে লেখা হবে। কাচা হাতে লেখা ভালো না লাগলে মাফ করবেন।)
আজ অফিসের কাজে সকাল থেকে মতিঝিল। কাজের প্রচন্ড চাপ কিন্তু কাজে আমার মন একদমই নেই।
বিকেল ৪ টায় কাজ শেষ করে অফিস থেকে বের হয়ে পরলাম। আকাশ টা আমার মনের মতই ভার হয়ে আছে।
যেন যে কোন মুহূর্তে আছরে পরবে। গরম ও পড়েছে বেশ। এমনিতে গাড়ি ড্রাইভ করতে আমার ভালই লাগে বলা যায় এটা আমার হবি। কিন্তু আজ অসহ্য লাগছে।
কি করা যায় ভাবতে ভাবতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ড্রাইভ করতে লাগলাম।
মনে পড়ে যাচ্ছে আজ থেকে ১৬ বছর আগের কথা।তাকে প্রথম দেখে ছিলাম।
তখন নতুন ক্লাস সিক্স এ ভর্তি হয়েছি। জানুযারি মাসের ১৮ তারিখ নতুন একটা কোচিং এ ভর্তি হয়েছি। সেদিন ছিলো কোচিং এ ১ম দিন।
কোচিং এ ডুকে ক্লাস সিক্স এর ক্লাস কোন রুমে হয়ে খুজছি।
একজন স্যার রুম দেখিয়ে দিলো।
ক্লাসে গিয়ে দেখলাম শুধু একটা মেয়ে বসে আছে। আমি ডুকতেই সে আমার দিকে তাকালো আমার কাছে মনে হলো মেয়েটা পরীর মত সুন্দর।
আমি ডুকে একটা বেঞ্চ এ বসতেই মেয়েটা বলো উঠলো ভালো হলে আরেকজন তাহলে ভর্তি হয়েছে। গত তিনদিন যাবত আমি একা ক্লাস করছি।
আমি হা করে তাকে দেখছি মেয়েটা কি আসলেই এত সুন্দর নাকি আমার কাছে সুন্দর লাগছে। ও নিজে থেকেই ওর নামটা বললো মনিষা আমাকে আমার নাম জিজ্ঞেস করলো আমি বললাম রেহান। ক্লাস শুরু হবার কথা ৩ টায় এখন ঘড়িতে দেখলাম ৩টা ১৮ বাজে স্যারের দেখা নেই।
মনিষা বললো গত তিনদিন ধরে শুধু গণিত ক্লাস নিচ্ছে আমি একা তাই অন্য ক্লাস ও নিচ্ছে না।
আরও বললো ওর বাসা কোচিং এর পাশেই দুই গলি পরের গলিতে।
আমিও আমার বাসার ঠিকানা বললাম। আরও নানা রকম কথা হলো।
ঘড়িতে তখন ৩ টা ৪৪ স্যার আসে না তাই দুজনেই ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে কোচিং এর অফিস রুমের দিকে গেলাম।
সেখানে পরিচালক স্যারের রুমে সব স্যার জটলা পাকিয়ে আছে।
কিছু ছাত্র ছাত্রী ও আছে একজনকে জিজ্ঞেস করতে বললো পরিচালক স্যারের নাকি সকাল থেকে মাথার চুল আস্তে করে টান দিলেই উঠে আসছে। পরিচালক স্যার টান দিয়েও দেখালো যে কটা ধরে টান দিচ্ছে সব গুলোই উঠে আসছে। মনিষা পাশ থেকে বললো তাহলে আজ আর ক্লাস হবে না বাড়ি যাই। বলে সে অফিস রুম থেকে বের হয়ে আসলো।
কোচিং এর বাইরে বের হয়ে সে বললো কালকে কিন্তু পুরো ৩ টা তেই চলো এসো। আমি বললাম ঠিক আছে। সে চলে যাচ্ছে আমি দাড়িয়ে দেখছি।
বাসার দিকে হাঁটা দিলাম মেয়েটার কথাই বার বার মনে আসছে এত সুন্দর একটা মেয়ে। এমন অনুভুতিতো আমার জিবনেও হয় নাই। ভাবতে ভাবতে কখন যে বাড়ি চলে আসলাম বুঝতেই পারলাম না।
বাসাতে ব্যাগ রেখে বের হয়ে গেলাম আমি আবার আমার মামাতো ভাইয়ের সাথে সেই সময় খুব আড্ডা দিতাম ও তখন ও ক্লাস নাইনে পরে- ২-৪ টা প্রেম ও করেছে।
ওকে বলেই বসলাম মনিষার কথা যে তাকে আমার কেন জানি খুব ভালো লেগেছে ও বললো আরে পাগল এটা ভালো বাসারে।
এখন বড় হচ্ছিস ক্লাস সিক্স উঠলি তাও বুঝলি না আমি বললাম দুর ভাই মেয়েটা! ও বললো তাতে কি ভালবাসা ধর্ম মানে না।
আরও কয়েকদিন যাক তারপর একদিন সাহস করে বলে দিবি তুই ওকে পছন্দ করিস তাহলেই তো হলো।
সন্ধ্যায় বাসায় ফিরলাম ভাবলাম কালকে কোচিং এ ৩ টার আগেই যাবো। ও নিশ্চয়ই ৩টার আগেই আসবে। রাত যেন আর কাটছেই না।
সকালে স্কুল গেলাম স্কুল থেকে ফিরে তাড়াতাড়ি কোচিং এ গেলাম। না মনিষা এখন ও আসে নি আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম এর মধ্যে দেখলাম আর ২ টা ছেলে ২ টা মেয়ে ক্লাসে ডুকলো তারা নতুন ভর্তি হয়েছে বুঝলাম আজকে রাইট টাইমে ক্লাস শুরু হয়েছে কিন্তু মনিষার দেখা নেই।
ক্লাস চলছে আমার তো ক্লাসে মনেই নাই।
হঠাৎ পরিচালক স্যার ক্লাসে আসলো কথায় কথায় বললো যে মেয়েটা সবার আগে ভর্তি হলো সে মেয়েটা আজকে বলে গেল আর আসবে না।
ওর বাবার বদলি হয়েছে তাই অন্য জেলায় চলে যাবে ২-৩ দিনের মধ্যে।
শুনে মনটাই খারাপ হয়ে গেল এটা একটা কথা।
কোচিং শেষ করে বের হলাম। কোচিং এর পাশে ৩ টা গলিই ২ বার করে চক্কর দিলাম এই আশায় যদি দেখা পাই।
না কপাল খারাপ আর দেখা পেলাম না। রাগে আমিও কোচিং বাদ দিলাম। বাড়ি থেকে বললো কোচিং কেন করবো না বললাম স্কুলের স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়বো।
ক্লাস সিক্স শেষ সেভেনে উঠলাম। বছরের মাঝামাঝি ছেলে পেলে বলাবলি করছে শুনলাম আমাদের ক্লাসে একটা নতুন মেয়ে ভর্তি হয়েছে।
পরেরদিন স্কুলে গিয়ে আমি অবাক আরে এতো মনিষা। আমি তাকে মোটামুটি ভুলেই গেছিলাম।
তাকে দেখে এবার যেন মনে সত্যিই প্রেম জেগে উঠলো। তার সামন দিয়ে ২-৩ বার যাওয়া আশা করলাম চেয়েও দেখলো কিন্তু কোন কথা বললো না।
তাহলে কি ভুলে গেছে আমাকে চিনতে পারে নাই। মনে হচ্চে মেয়েটা এই দেড় বলরে আরও সুন্দর হয়ে গেছে। মাত্র কিছু দিনের মধ্যে দেখলাম সব স্যারেদের পছন্দে ছাত্রী হয়ে উঠেছে। ভালো পড়া শুনা পারে আমি হলাম গর্দভ ছাত্র! বুঝলাম কিছু দিনের মধ্যে সম্ভব না। আমার পক্ষে তাকে বলা আমি তাকে পছন্দ করি।
শেষে কোন ভাবে ক্লাসের সবাই যেনে গেলে মান সম্মান নিয়ে টানাটানি তার মধ্যে আবার আমি মুসলিম ও * ।
যত দিন যায় ওর প্রতি আমার ভালোবাসা বাড়তে থাকে। একি ক্লাসে পড়ি তাই বন্ধু হিসেবে কখনও কখনও কথা হয়। না স্কুল জীবন শেষ করে ইন্টারের কলেজেও এক সাথে পড়াশুনা করলাম কিন্তু বলার সাহস হলো না আমার আমি ওকে কতটা ভালোবাসি।
ইন্টার শেষ আমি চলে আসলাম ঢাকা। ভর্তি হলাম ঢাকা কলেজে ও ভালো ছাত্রী ছিলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে গেল। দুরত্ব হয়ে গেল।
বছরে ২-১ বার নিজ শহরে দেখা হলেও হতো। কিন্তু আমার মন থেকে ও কখনই দুরে যেতে পারে নি। এমন কোন দিন নেই আমি ওর কথা মনে করি নি।
সৃষ্টিকর্তার কাছে ওকে চেয়ে কত দোআ করছি কিন্তু আমি জানি সম্ভব না।
বর্তমানে আমি চাকুরী করছি। ঢাকায় একটা ফ্লাট ভাড়া নিয়ে ব্যাচেলর হয়েই আছি।
(গল্পের শুরুর সময়ে ফেরত)
গাড়ি ড্রাইভ করছি আর ভাবছি যাকে এত ভালোবাসি অথচ বলতে পারলাম না। গতকাল তার বিয়ে হয়ে গেছে। এজন্য মনটা এতটাই খারাপ লাগছে বলার মত না।
প্রচন্ড বাতাস শুরু হয়েছে। ধুলোও সব অন্ধকার ঝড় নামবে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের চত্বরের পাশে রাস্তায় গাড়িটা ব্রেক করলাম। প্রচন্ড বৃষ্টি শুরু হলো।
প্রায় ৩০ মিনিট যাবত বৃষ্টি হচ্ছে আমি গাড়িতে বসে। একটু সামনের দিতে আগালাম দুর থেকে দেখলাম একটা মেয়ে রাস্তার পাশেই বৃষ্টিতে দাড়িয়ে আছে পাথরের মত।
সবাই যতটা পরে বৃষ্টি থেকে বাচতে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে অথচ ওই মেয়ে পাথরের মত নিচের দিকে মুখ করে দাড়িয়ে আসে৷
আরেক টা সামনে এগুতেই কলিজাটা কেঁপে উঠলো মনে হলো মনিষা।
পরক্ষণেই ভাবলাম দুর কালকে ওর বিয়ে হয়ে গেছে আর আমি কি ভাবছি।
তবু সামনে এগিয়ে গেলাম!
মাত্র দশ হাত দুরে মেয়েটা গাড়ির গ্লাস নামিযে ভালো করে দেখলাম এবং এবার মনে হচ্ছে আমি সেন্সলেস হয়ে যাবো।
হ্যা এটা মনিষাই শিউর আমি শিউর মনিষা।
চলবে ---------
( লেখক নতুন হিসেবে কিছু কিছু জায়গায় ভুল ছিলো তাই আমি যত দূর পারছি সংশোধন করেছি।)
পর্ব ০১
লেখক রেহান ইসলাম
RE: আমার প্রথম প্রেম -
X Man - 08-29-2026
পর্ব :০২
মনিষা.....
হঠাৎ করেই প্রচন্ড জোরে বাজ পড়ার শব্দ হলো আমার গাড়ি সহ আমি আমি নিজেও কেপে উঠলাম!যে কারো কলিজা শুকিয়ে যাবে এমন বাজ পরার শব্দ শুনলে।
তাকিয়ে দেখলাম মনিষা একটুকু ও নড়লো না। একভাবে নিচের দিকে চেয়ে আছে। ও যে কাঁদছে সেটা আমি ঠিকই বুঝতে পারলাম।
কিন্তু কেন কিভাবে আমি যতটুকু খোঁজ নিয়েছিলাম তাতে জানতে পেরিছলাম। গতকাল ওর বিয়ে হবার কথা। প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে আশে পাশে কাছাকাছি কোন মানুষ জন নেই। আমি গাড়ি থেকে নেমে পরলাম।
আমার বুকটা দুরুদুরু করে কাপছে আমার যেন এখন বিশ্বাস হচ্ছে না এটা মনিষা!গাড়ি থেকে নামে ২ পা হাটতেই পুরো শরীর ভিজে গেল। মনিষা তো একদম ভিজে কাদা।
সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম ডাক দিলাম মনিষা।
যেন শুনতেই পেল না জোরে করে ডাক দিলাম মনিষা।
সাথে সাথে পূর্বের থেকেও জোরে একটা বাজ পরার শব্দ। মনিষা আমার দিকে তাকালো কিছু বলতে চাইলো বলার আগেই মাটিতে পরে গেল জ্ঞান হারিয়ে!
আমি দ্রুত ওকে ধরতে গিয়েও ধরতে পারি নি ধপাস করে মাটিতে পরে গেল।প্রচন্ড বৃষ্টি আর বাজ পরার শব্দ।
কি করবো না ভেবেই ওকে পাজা কোলা করে তুলে গাড়ির দিকে নিয়ে গেলাম। গাড়ির পেছনের দরজা খুলে খুব কষ্টে বসিয়ে দিলাম।
গাড়িতে উঠে গাড়ি স্টাট দিয়ে বাসার দিকে যেতে লাগলাম। প্রচন্ড বৃষ্টিতেও রাস্তার যানজট একটুও কমে নি।
মনিষা কে নিয়ে আমি আমার বাসার সামনে আসতেই দাড়োয়ান দরজা খুলে দিলো। গাড়ি নিয়ে দ্রুত ডুকে পরলাম এখন কি করবো। মনিষাকে এভাবে নিয়ে যেতে যদি কেউ দেখে ফেলে। লিফটের কাছে পার্কিং এর জায়গাটা ফাকা। সেখানে আসলে বাড়ির মালিকের গাড়ি থাকে। সাত পাচ না ভেবে দ্রুত গাড়িটা সেখানে পার্কিং করলাম।
মনিষাকে কয়েক বার ডাক দিলাম না কোন সাড়া নেই। দাড়োয়ান ও দরজার পাশে নিচে৷
রুমে চলে গেছে আশে পাশে কেউ নেই। দ্রুত মনিষাকে গাড়ি থেকে বের করলাম লিফটের বোতাম চাপতেই দরজা খুলে গেল। মনে মনে ভাবলাম আল্লাহ কেউ যেন না দেখে এমন অবস্থায়। ৭ নম্বার বোতাম চাপ দিতেই লিফট চলা শুরু করলো।
যেন মনে হচ্ছিলো আজকে লিফট এত ধীরে কেন উঠছে৷ লিফটের দরজা খুলতেই আশপাশ দেখে নিলাম না কেউ নেই। দ্রুত বের হয়ে নিজের ফ্লাটের দরজার সামনে এসে দরজা চাবি দিয়ে খুলে ডুকে পরতেই যেন হাফ ছেড়ে বাচলাম। দ্রুত মনিষাকে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিলাম।
মনিষার দিকে তাকালাম কি নিষ্পাপ একটা মুখ। ৩ বছর পর আজ তাকে আবার দেখলাম। জীবনের প্রথম তাকে ছুয়ে দেখলাম।
মনে কোন খারাপ ইচ্ছা নয় বরং হৃদয় থেকে বের হয়ে আসা ভালোবাসার চোখে। জীবনে তো অনেক মেয়েকেই দেখেছি কিন্তু এই মেয়েটাকে আমার মনে হয় সে এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে।
মন চাচ্ছে ওর কপালে একটা চুমু দেই। একটু ছুয়ে দেখি। সামনে এগিয়ে ওর হাতটা ধরি। এগিয়ে গেলাম হাতটা ধরলাম একি এত গরম।কপালে হাত দিয়ে বুঝলাম ওর শরীর জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে।
কি করি এখন ওর শরীরে ভেজা কাপড়। আমি ওকে কয়েকবার ডাকলাম না কোন সারাশব্দ নেই। কি করি?এ কাপড় কি ভাবে পাল্টাবো এখন।ভেজা কাপড়ে যে জ্বর আরও বেড়ে যাবে কি করি এখন।
হটাৎ কলিং বেল এর শব্দ। হাটাৎ করে শুনে যেন কলিজাটা কেপে উঠলো। কে এলো এই সময় আমার বাসায়তো তেমন কেউ আসে না। নাকি মনিষাকে নিয়ে আসতে অন্য ফ্লাটের কেউ দেখলো। দরজার দিকে এগিয়ে গেলাম। সাহস করে দরজাটা খুললাম।
আরে এ তো রহিমা আপা আমার বাসায় কাজ করে। কলিজায় পানি এলো। আমি বললাম আরে রহিমা আপা এই সময় আপনি এত বৃষ্টির মধ্যে।
রহিমা: স্যার ছুটি নিবার আইলাম।
আমি বললাম ছুটি হটাৎ-
আমার বোনের খুব অসুখ হেরে দেহার লাগি দেশের বাড়ি যামু।
আমি বললাম ও আচ্ছা কয়দিনের ছুটি লাগবে।
স্যার ৩ দিন স্যার ১ দিনে যাইতে একদিন আইতে আর ১ দিন দেশে থাকমু স্যার। তয় একটা কথা কই।
আমি বললাম বল-
যদি সামনের মাসের বেতন ডা আগাম দিতেন খুব ভালা হইতো স্যার।
আমি বললাম আচ্ছা দাড়াও আনছি।
হটাৎ আমার মনে হলো হু এই তো সুযোগ রহিমা আপাতে দিয়ে মনিষার কাপড়টা চেন্জ করিয়ে নেই।
বললাম রহিমা আপা ভেতরে আসেন তো একটা কাজ করে দেন।
কি কাজ স্যার।
আমি বললাম আসেন আমার সাথে রুমে গিয়েই মনিষাকে দেখে ভুত দেখার মত চমকে উঠলো রহিমা আপা। কিছু বলতে চেয়েও যেন বললো না।
আমি বললাম ওর খুব জ্বর। বৃষ্টিতে ভিজেছে তো। আপনি ওর কাপড়টা চেন্জ করে দিন তো।
রহিমা আপা বললো আচ্ছা হের কাপড় দেন বদলাই দিতাছি।
এই রে এবার মনিষার কাপড় আমি কই পাবো। এখন কি করি ওর সাথে তো কোন ব্যাগ ছিলোই না।
আমি বললাম দাড়ান আনতেছি নিজের রুমে গিয়ে আমার একটা ট্রাউজার আর একটা টিশার্ট এনে দিলাম এগুলো পড়ায় দেন।
রহিমা আপা আশ্চর্য নজরে আমার দিকে তাকালো কিন্তু কিছু বললো না।
আমি রুমের দরজা চাপিয়ে বের হয়ে আসলাম। প্রায় ১০ মিনিট পর রহিমা আপা রের হয় এলো মনিষার ভেজা কাপড় হাতে। আমি বললাম দাড়ান টাকা আনছি।
টাকা নিয়ে ফেরত এসে দেখি ড্রাইনিং এর ওয়াসরুমে কাপড় ধোয়ার শব্দ বুঝলাম রহিমা আপা কাপড় গুলো ধুয়ে দিচ্ছে।
মনিষার কাছে গেলাম বাহ রহিমা আপা বের সুন্দর করে চুল আর শরীর মুছে কাপড় পরিয়ে আবার উপর দিয়ে কাঁথা ও দিয়ে দিয়েছে। আবার বুদ্ধি করে ভেজা জায়গা থেকে পাশে সরিয়ে শুইয়ে দিয়েছে।
রহিমা আপা বাইরে থেকে ডাক দিলেন। বের হলাম বললো ম্যাডামের কাপড় বারান্দায় নাইড়া দিসি স্যার। আমি বললাম খুব ভালো করছো। বলে টাকাটা এগিয়ে দিলাম।
হাত বাড়িয়ে টাকা টা নিলো।
আমি বললাম গুনে দেখেন।
উনি গোনা শুরু করলো বললো স্যার ২ হাজার টেক্যা বেশি আছে।
বললাম রাখেন আপনার বোন অসুস্থ তার চিকিৎসা করাইয়েন।
রহিমা আপা বললো ঠিক আছে স্যার তাইলে আমি গেলাম স্যার।
বললাম ঠিক আছে। টাকাটা বেশি দিলাম যাতে কথাটা গোপন রাখে আবার কাকে বলে বসবে।সেও বুঝতে পেরেছে কেন বেশি টাকা দিলাম।
মনিষার কাছে ফিরে এলাম। কপালে হাত দিয়ে দেখি প্রচন্ড জ্বর কি করি এ তো বেহুস ওষুধ ও খাওযাতে পারবো না।
একটা কাপড় আমি কিছু পানি এনে মাথায় জল পট্টি দেয়া শুরু করলাম প্রায় ৪০ মিনিট পর মনে হলো জ্বরটা একটু কমে এসেছে।
হঠাৎ আমার মনে হলো আচ্ছা আমার জানা মতে গত কাল ওর বিয়ে ছিলো। তাহলে ও ঢাকায় কি করে তাও একা এই অবস্থায় কেন। কিভাবে জানা যায় এখন ও তো বেহুস?
মনিষার পাশে বসেই ফেসবুকে ডুকলাম। হটাৎ অনুরাধার ছবি সামনে এলো। আরে এতো মনিষার বেস্টফেন্ড এর কাছে কিছু জানা যাইতে পরে৷ কপাল জোরে মেসেন্জারে একটিভ ও পেলাম।
আসলে অনুরাধা মনিষা আমি একই স্কুলে পড়েছি। অনুরাধা ফেসবুকে ফেন্ড থাকলোও কখন কথা হয় নি। তাই মেসেজ দিতে একটু ইতস্তত বোধ হচ্ছিলো তাও দিয়েই দিলাম।
-কিরে কি খবর?
অনু: এইতো ভালো তোর কি খবর।
আছি রে ভালই।
-তো মনিষার বিয়েতে কেমন মজা করলি।
অনু: আর মজা।
-কেন রে কি হইছে।
অনু: বিয়েটা হলো কই।
-কেন কি হইছে।
অনু: বিয়ের দিন বিকেল থেকে মনিষা গায়েব।
-মানে।
অনু: মানে গায়েব কই গেছে কে জানে।
-তোর না বেস্ট ফেন্ড তুই জানিস না।
-অনু: না রে। বিয়ের আগেও তো ওরে খুব হাসি খুশি লাগলো কিন্তু কেন যে পালাইলো তাই তো বুঝলাম না।
-তো তোরা খোজা খুজি করলি না।
অনু: খুজছি তো এখন কই গেছে কে জানে। ওর বাবা কতটা ছোট হলো সবার সামনে বল৷ বিয়ে করবি না আগেই বলতি। রাগে ওর বাবা বলছে ওকে যেন কেউ না খোজে এমন মেয়ে তার দরকার নেই।
-আমি বললাম বলিস কি?
অনু: হু কী আর করার বল ও জানে ও কই গেছে। আচ্ছা রে আবার পরে কথা হবে।
-আমি বললাম ওকে বায়।
-মনিষার কপালে হাত দিয়ে বুঝলাম জ্বরটা এখন আর নেই।
আমি নিজেও ক্লান্ত থাকায় নিজের রুশে এসে একটু শুয়েছি কখন যে ঘুমিয়ে গেছি সে খেয়াল আর নেই।
ঘুম ভাঙলো ভোর ৫.৫০ মিনিটে।
একপ্রকার দৌড়ে মনিষার রুমে গেলাম।
দেখলাম মনিষা......
চলবে --------------
(লেখকের প্রথম গল্প এ-ই টা কিছু যা-ই গাই ভুল ছিলো সেটাকে আমি যতো দুর পেরেছি ঠিক করেছি আর যদি কোনো ভুলত্রুটি থাকে জানাবেন সংশোধন করবে।
আর কেমন লাগলো জানাবেন প্লিজ, পেইজে নতুন হলে ফলো করে যাবেন সবাই )
RE: আমার প্রথম প্রেম -
X Man - 08-29-2026
Part:03
একপ্রকার দৌড়ে মনিষার রুমে গেলাম।
দেখলাম মনিষা......
------------------------
দেখলাম মনিষা উঠে পরেছে ঘরের এদিক সেদিক তাকিয়ে দেখছে অবাক চোখে।
দরজার দিকে তাকাতেই সে আমাকে দেখলো। মনিষা কিছু বলার আগেই আমি ও জিজ্ঞেস করলাম এখন তার কেমন লাগছে।
মনিষা আমাকে বললো সে এখানে কিভাবে এলো আমি তাকে সব খুলে বললাম।
আরও বললাম জ্বর কমেছে কি না সে বললো তার জ্বর নেই।
বিছানা থেকে নেমে পড়লো সে কিছু একটা বলতে চেয়েও চুপ হয়ে গেল জিজ্ঞেস করলাম কিছু বলবে কি না।
একটু ইতস্ততভাবে জিজ্ঞেস করলো ওয়াসরুম। আমি রুমের সাথে লাগোয়া ওয়াসরুম দেখিয়ে দিলাম।
সে ওয়াসরুমে চলে গেল আমি সেই রুম থেকে বের হয়ে ডাইনিং এ এসে বসলাম।
প্রায় দশ মিনিট পর মনিষা রুম থেকে বের হয়ে আসলো।
আর প্রথমেই জিজ্ঞেস করলো তার কাপর কে চেঞ্জ করে দিয়েছে। আমি তাকে সব বললাম বিশ্বাস মনে হয় করলো।
জিজ্ঞেস করলো আর কে কে থাকে আমার সাথে।
বললাম আমি একা থাকি বাবা মা তো দেশের বাড়িতেই থাকে।
আর বোনের তো বিয়ে হয়ে গেছে। আমি তাকে বললাম তুমি এখানে ঢাকায় একা রাস্তায় কি করছিলে। মনিষা মাথা নিচু করে ফেললো।
প্রায় ১ মিনিট সে চুপ আমি আর তাকে কিছু বললাম না। দেখলাম সে কাঁদতে শুরু করেছে।
তার কান্না দেখে মনে হলো আমার কলিজায় কেউ ছুরি চালিয়ে দিয়েছে। আমি তাকে থামতে বললাম আরও বললাম আমাকে বলতে না চাইলে সমস্যা নেই। মনিষা চুপ করে রইলো।
আমি বললাম কাল থেকে তোমার কোন খাওয়া দাওয়া হয় নি আমি তোমার জন্য খাবারের ব্যবস্থা করছি। আমি রান্না ঘরের দিকে চলে আসলাম কফির জন্য পানি গরম দিলাম। কিন্তু এই ভোর ৬ টার সময় কি খেতে দেব। তাড়াহুড়া করে কফি আর বিস্কিট খেতে দিলাম। আর বললাম এটা দিয়ে শুরু করো আমি বাইরে খেতে কিছু খাবার কিনে আনি।
মনিষা বললো এত ব্যস্ত হবার কিছু নেই।আমারা দুজনে কফি খেতে থাকলাম। ওর যে প্রচন্ড ক্ষুধা পেয়েছে সে আমি বুঝলাম।
আমি বললাম মনিষা তুমি থাকো আমি একটু বাইরে থেকে আসছি। ফ্লাট থেকে বের হয়ে বাসার কাছাকাছি একটা খাবারের হোটেলে গেলাম কয়েকটা নান রুটি ডাল আর সবজি নিয়ে ফিরে এলাম।
মনিষা তখনও ডাইনিং এই বসে আছে। আমি দ্রুত তাকে প্লেট এ করে খাবার সাজিয়ে দিলাম। বুঝলাম সে একটু লজ্জা বোধ করছে তাকে খেতে বলে আমি খাওয়া শুরু করলাম আমারও প্রচন্ড ক্ষুধা লেগেছে কাল রাতে কিছু খাওয়া হয় নি। খাওয়া শেষে মনিষাকে বললাম রুমে শুয়ে রেস্ট নিতে। মনিষা সেখানেই বসে রইলো আমি বললাম কিছু বলবে সে মাথা নাড়ালো বললাম বলো।
সে বলা শুরু করলো তুমি তখন জিজ্ঞেস করলে না আমি একা ঢাকায় কি করি।
-আমি মাথা নাড়লাম।
সে বললো পরশু আমার বিয়ের কথা ছিলো আমি বিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে আসি ঢাকাতে। ফেসবুকে একটা ছেলের সাথে আমার গত ২ বছর যাবত কথা হতো। খুব বিশ্বাস করে তার কথায় আমি বিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে আসি। সে আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আসতে বলে। বাসা থেকে কিছু কাপড় আর আমার বিয়ের ৬ ভরি গহনা আর আমার জমানো ২৫০০০ ছিলো একটা ব্যাগে।
শহিদ মিনারের ওখানে তার সাথে আমার দেখা হয় সে বলে চলো তোমাকে আমার বাসায় নিয়ে যাই। এই বলে সে একটা সিএনজি ডাকতে যায় কিছুসময় পর সে একটা সিএনজি ডেকে আনে। আমার হাত থেকে ব্যাগ আর আমার কাধের ব্যাগটা নিয়ে সিএনজিতে রাখে। আর সে উঠে বসে সিএনজিতে আমি উঠতে যাবো আর ঠিক সেই সময় সিএনজি একটানে সেখান থেকে চলে যায়।
আমি অবাক হয়ে শুনছি সব কথা বললাম কয়টায় ঘটনা এটা বললো ২ টার দিকের।
আমি যখন গতকাল মনিষা দেখেছি তখন প্রায় ৫ টা বাজে মানে ৩ ঘন্টা মনিষা সেখানেই দাড়িয়ে ছিলো।
মনিষা বলতে লাগলো যাকে ভালো বেসে বাবা মা মান সম্মানের কথা না ভেবে বাড়ি থেকে পালিয়ে এলাম সে আমাকে এভাবে ধোকা দিলো।
দেখলাম মনিষার চোখ বেয়ে পানি পরছে।
-আমি বললাম এর আগে তোমরা কত বার দেখা করছো?
-মনিষা বললো এই প্রথম।
আমি বললাম যাকে পূর্বে দেখ নি তার উপর এ ভাবে বিশ্বাস করা টা ঠিক হয় নি।
আচ্ছা ওর ছবি আছে তোমার কাছে পুলিশ কমপ্লেন করা যাবে।
মনিষা বললো ওর মোবাইলে ছিলো কিন্তু ওর মোবাইল ও তো নিয়ে গেছে।
আমি বললাম ওর ফেসবুক আইডি ওখানে তো আছে তাই না এই বলে আমার মোবাইলটা মনিষার দিকে এগিয়ে দিলাম।
মনিষা বললো না ওর আইডিতে ওর কোন ছবি দেয়া নেই। তারপরও আমি বললাম আচ্ছা হোক তুমি ওর আইডি বের করো দেখি যদি কিছু বের করাই যায়।
মনিষা আমার হাত থেকে ফোন নিয়ে ফেসবুকে সার্চ করলো না পাওয়া গেল না। নির্ঘাত সেই আইডি ডিএক্টিভেট করছে। বললাম ওর নম্বর এ কল দাও। না ওই নম্বর এ কল ও ডুকছে না।
আর কোন উপায় নাই এখন আর কি তবুও বললাম সমস্যা নেই আমার একজন পরিচিত লোক আছে এই নম্বর যে এনএইডি দিয়ে কেনা সেটা বের করা যায়।
মনিষা একটা বড় করে নিশ্বাস ছাড়লো বুঝলাম সে পুরো হতাশাগ্রস্ত। মনিষার চোখ দিয়ে অনর্গল পানি ঝরছে আমি বলা কেঁদে না।
মনিষা বললো এখন আমি কি করবো, বাসা ফেরা আমার পক্ষে সম্ভব না, এই মুখ নিয়ে আমি আমার বাবার সামনে দাড়াতে পারবো না।আমার কি বলা উচিত আমি বুঝলাম না।
মনিষা উঠে দাড়ালো বললো তার কাপড় গুলো কোথায় আসি বললাম বারান্দায়।
সাথে করে নিয়ে দেখিয়ে এলাম সে কাপড়গুলো নিলো। সারারাতে সব শুকিয়ে গিয়েছে।
রুমের দরজা লক করে কিছুক্ষণ পর সে বের হয়ে আসলো। তার কাপড় সে পরে নিয়েছে।
আমাকে বললো রেহান আমার যাওয়া উচিত।
-আমি বললাম কোথায় যাবে ও বললো জানি না। তবে বাড়ি ফেরা সম্ভব না। এ বলে সে দরজা৷ দিকে যাচ্ছে।
আমি বললাম মনিষা তুমি একটা মেয়ে মানুষ৷ এ শহরের দিনের বেলায় ও মেয়েরা সেফ না। আর কোথাও যাওয়ার জায়গা যখন নেই তখন যাবে কোথায়।
মনিষা চুপ করে রইলো। আমি বললাম মনিষা তুমি আমার এখানে থাকতে পারো আমার কোন সমস্যা নেই। মনিষা আমার দিকে তাকালো ।
আমি বললাম না মানে যতদিন তোমার কোন ব্যবস্থা না হচ্ছে আর কি এখানে থাকো। মনিষা বললো এ হয় না রেহান আমি তোমার উপর বোঝা হয়ে থাকতে চাই না।
আমি বললাম আমি তোমাকে বোঝা মনে করি না। মনিষা আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো। আমি বললাম আসলে আমি বলতে চাচ্ছি আমরা তো বন্ধু তাই না। একসাথে স্কুল কলেজ পড়লাম। আর আজ তুমি বিপদে পড়েছে তোমাকে আমি সাহায্য করবো না।মনিষা চুপচাপ দাড়িয়ে রইলো আমি বললাম যাও ঘরে গিয়ে রেস্ট করো।
মনিষা আমার দিকে চেয়ে রইলো আমি বললাম যাও রুমে যাও। আস্তে আস্তে হেঁটে মনিষা আমার সামনে দিয়ে রুমে চলে গেল। আর আমার মনে এক অন্য রকম আনন্দের অনুভুতি হলো।
অফিসে ফোন করে বললাম গতকাল বৃষ্টিতে ভিজে আমি জ্বরে আক্রান্ত তাই অফিস যাবো না।
বসে বসে ভাবতে লাগলাম এখন কি করা উচিত সর্বপ্রথম যেটা মাথায় এলো তা হলো মনিষার জন্য পোষাকের ব্যবস্থা করতে হবে।
দেখলাম ১০.৩০ বাজে মার্কেট খুলেছে তাহলে মনিষার পোশাক কেনার জন্য বের হওয়া উচিত। আমি মনিষার রুমের দরজায় টোকা দিলাম। মনিষা বের হয়ে এলো আমি বললাম মনিষা আমি একটু বাইরে যাচ্ছি।
দরজা বাইরে থেকে লক করে যাচ্ছি। আর এই ফোনটা রাখো এটা আমার নম্বর দেখিয়ে দিলাম কোন সমস্যা হলে আমাকে জানিয়ো। আর অন্য কোন নম্বর৷ থেকে কল এলে ধরার দরকার নেই। মনিষার হাতে আমার বাটল ফোন টা দিয়ে আমি বের হয়ে এলাম।
মার্কেট এ চলে এলাম কি কিনবো। বাসায় তো পরবে তাহলে থ্রি পিছ ভালো হবে। একটা দোকান থেকে ৫ টা থ্রি পিছ নিলাম। কিন্তু সমস্যা হলো এটা তো সেলাই করতে হবে। মার্কেটের বাইরেই টেইলাস এর দোকান পেয়ে গেলাম। দেখলাম ৪ জন ৪টা মেশিনে কাপড় সেলাই করছে। ৩জন ছেলে একজন মেয়ে আর সবার সামনে একজন লোক বসে আছে বুঝলাম ইনি মালিক। তাকে বললাম থ্রি পিছ সেলাই করা লাগতো একটা বের করে দেখালাম। বললো হবে দিয়ে যান ৪০ টাকা পিছ মজুরি আমি বললাম ঠিক আছে করে দিন। বললো কাল নিয়ে যাবেন আমি বললাম কাল না না আজকেই লাগবে। বললো আজকে হবে না আমাদের ডেলিভারি আছে। আমি বললাম দিন না মাত্র তো ৫টা আপনার কর্মচারি আছে ৪ ছন। সবাই মিলে করলে আর কত সময়ই বা লাগবে। না রাজি হচ্ছে না বললাম আমি একটার জন্য ডাবল মজুরি দেব ৪০০ এর জায়গায় ৮০০ দেব। লোকটা একটু কাচুমাচু করে বললো আচ্ছা দিন।
বললো দিন পুরাতন জামা দিন সেটার মাপে সেলাই করে দিচ্ছি। আমি বললাম পুরাতন জামা তো নেই। লোকটা বললো তাহলে মাপ পাবো কই। এখন কি করি আসলেই তো। বললাম ফোনে মাপ শুনে করে দিতে পারবেন। বললো পারবে তবে জামা নষ্ট হলে তার দোষ দিতে পারবো না।
আমি মনিষাকে ফোন দিলাম কয়েকবার রিং হবার পর ফোন ধরলো আমি বললাম মনিষা এই টেইলাস এ একটু কথা বলো তো ফোনে জিজ্ঞেস করতেই দেখলাম টেইলাস মাস্টার খাতায় লেখছে ৩৪-৩২ আরও কি কি লেখলো।
তারপর ফোনটা কেটে দিলো।
প্রায় ৪০ মিনিট বসে থেকে সেলাই করে নিলাম। ঘড়িতে তখন ১২.৩৯ বাজে বের হয়ে হোটেল থেকে দুপুরের খাবার কিনে বসায় গেলাম।
মনিষার হাতে কাপড়গুলো দিতেই মনিষা বললো এগুলোর কি দরকার ছিলো। আমি বললাম তোমার তো লাগবে তাই আনলাম।
দুপুরে একসাথে খাবার খেলাম হরেক রকম গল্প করতে করতে যে কখন রাত হয়ে গেল বুঝলামি না।
সকালে অফিস যেতে হবে দ্রুত বাইরে গিয়ে বেশি করে খাবার কিনে আনলাম যাতে মনিষা কাল দুপুরে ও খেতে পারে।
অফিসের কাজে মন বসছে না বাসায় মনিষাকে রেখে আসলাম একা।ভাবলাম অফিস থেকে তাড়াতাড়ি বের হবো।
বের হলাম তাড়াতাড়ি কিন্তু ঢাকার যানজট আমাকে তাড়াতাড়ি ফিরতে দিলো না।
প্রচন্ড ক্লান্ত শরীরে বাসায় ফিরে যখন মনিষাকে দেখলাম মনে হলো আমার সব ক্লান্তি দুর হয়ে গেল।
রাতের খাবার আনতে বাইরে যাবো মনিষা বললো বাসায় রান্না হয় না। oz
আমি বললাম হয় কিন্তু কাজের মেয়ে ছুটিতে আছে।মনিষা বললো আচ্ছা তাহলে কাল থেকে আমি রান্না করবো এমনি বসে বসে বোর হতে হয়।
আমি বললাম ঠিক আছে কাল শুক্রবার বাজার আনবো সকালে রান্না করো। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে বাজার করতে গেলাম বেশ কিছু বাজার নিয়ে ফিরলাম।
মনিষা রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছে আমি টুকটাক সাহায্য করছি। গরমে মনিষা ঘেমে যাচ্ছে কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম যেন ওর সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলেছে। রান্না শেষ আজ প্রথম মনিষার হাতে রান্না করা কিছু খাবো।
দুপুরে এক সাথে খেতে বসলাম আহ অনেকদিন পর এমন বাসার রান্না খেলাম। কাজের লোকেরা কি যেন রান্না করে কে জানে।
মনিষাকে ধন্যবাদ জানালাম এমন রান্নার জন্য। বিকেলটা ঘুমিয়েই কাটালাম।সন্ধ্যা পার হয়ে গেছে অথচ মনিষা এখনো রুম থেকে বের হলো না। আমি ওর রুমের দরজার কাছে গিয়ে কয়েকবার ডাক দিলাম ভেতর থেক বললো আসে। দেখলাম বিছানার এক কিনারে বসে আছে। কেমন যেন লাগছে।
-মনিষা কোন সমস্যা।
কিছু একটা বলতে চেয়েও যেন বলতে পারছে না। আমি বললাম কিছু বলতে চাইলে বল। ওর মুখটা যেন লাল হয়ে গেল বললো রেহান আসলে মানে। আমি বললাম হুমম কি বল। রেহান আসলে প্যাড। বলে মাথাটা নিচু করে ফেললো আমি বুঝলাম। আমি বললাম আমি নিয়ে আসছি বের হয়ে গেলাম। একটা কসমেটিক এর দোকানে ডুকে প্যাড চাইলাম।
দোকানদার বললো বেন্ট না প্যান্টি সিস্টেম।আরে এবার কোনটা নেব তাড়াহুড়োতে ফোন ও রেখে চলে এসেছি।কি করি এবার বললাম প্যান্টি সিস্টেম টাই দেন।বুঝলাম আসলে তো একটা মেয়ের অনেক কিছুই লাগে কাল তো শুধু জামা কিনে দিয়েছি এটা তো ভাবি নাই।
দোকারদার কে বললাম ব্রা এবং প্যান্টির কথা সাইজ জিজ্ঞেস করলো মনে পড়লো দর্জির লেখা ৩৪-৩২। অনুমান করলাম ব্রা ৩৪ আর প্যান্টি ৩২ হবে। ৩ সেট নিলাম। দোকানের শ্যাম্পু সাবান দেখে মনে হলো এগুলো তো নেয়া দরকার। বড় ২টা ডাভ সাবান, ডাভ শ্যাম্পু, ফেয়ার এন্ড লাভলি ক্রিম, বডি স্প্রে নিলাম।
দ্রুত ফ্লাটে ফিরলাম মনিষার হাতে পুরে প্যাকেটটা দিয়ে বের হয়ে এলাম।
চলবে -----------
(ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন আর কেমন হলো জানাবেন)
RE: আমার প্রথম প্রেম -
X Man - 08-29-2026
Part:04
প্রায় ১৫ মিনিট পর মনিষা রুম থেকে বের হয়ে এলো। আমি ডাইনিং এ বসে ফোন টিপছিলাম। খেয়ালই করি নি কখন সামনে এসে দাড়িয়েছে।হটাৎ আমাকে ডাক দিলো আমি তাকালাম। আমাকে বললো রাতের খাবার দেব। আমি বললাম ঠিক আছে দাও। মনিষা রান্না ঘরের দিকে চলে গেল। আমি পেছন পেছন গেলাম ওকে সাহায্য করতে। খাবার গরম করতে লাগলো। আমি পাশে দাড়িয়ে দেখছি। মনিষা কোন কথা বলছে না বুঝলাম সে এখনো লজ্জা পাচ্ছে। আমার চোখেন দিকেই তাকাচ্ছে না। আমি বললাম মনিষা কোন সমস্যা।
ও ঘাড় নেড়ে না সৃচক উত্তর দিলো। আমি বললাম মনিষা ইটস ওকে এটা তো নরমাল তাই না। এতে লজ্জার কি আছে। তবুও কিছুই বললো না।
খাবার ডাইনিং এ নিতে শুরু করলো আমিও টুকটাক সাহায্য করলাম। খাবার টেবিলে দুজন মানুষ দুই পাশে খাচ্ছি। একদম নিরব ভাবে মনে হচ্ছে এখানে কারো উপস্থিতি নেই। আমি নিরাবতা ভাঙলাম বললাম মনিষা রান্নাটা কিন্তু খুবই সুন্দর হয়েছে। মনিষা হাসলো।
হাসলে ওকে দুর্দান্ত লাগে ওর দাত গুলোকে কোন মুক্তার চেয়ে কোন অংশে কম লাগে না। আমি বিমোহিত হয়ে ওকে দেখছি।বললাম মনিষা তোমার কোন কষ্ট হচ্ছে না তো এখানে থাকতে।
মনিষা বললো না রেহান কি বলছো কোন ফাইভ স্টার হোটেলের চেয়ে কোন অংশে কম নেই। তিনবেলা খাচ্ছি, এসি রুমে ঘুমোচ্ছি, যা দরকার তুমি এনে দিচ্ছো আমি তোমার এই ঋণ কিভাবে শোধ করবো রেহান।
আমি বললাম হাসি দিয়ে। ব্যস আমার দিকে তাকিয়ে হেসো তাহলেই ঋণ পরিশোধ হবে। নানা রকম কথা চললো। খাওয়া শেষ আমাদের গল্প শেষ হলো না। রান্না ঘরে দুজন মিলে এটে বাসন ধোয়ার পাশাপাশি গল্প চলছেই। স্কুল জীবনের গল্প নানান কথা। মনিষা বললো স্কুল কলেজে তো তোমার চলাফেরাই অন্য রকম ছিলো কোন মেয়ের সাথে কথাই বলতে না।আমি হাসলাম মনে মনে ভাবলাম তুমি থাকতে অন্য মেয়ের সাথে কথা কি ভাবে বলি।
আমার যে ধ্যন ধারনায় পুরোটাই তুমি আর তুমি। কথা বললে বলতে কখন যে রাত 1 টা বেজে গেছে সেই খেয়াল ই নেই। সর্বনাশ সকালে অফিস আছে। দুজন দুই রুমে চলে গেলাম সুয়ে পরলাম।ভাবছি গত ৩ দিন যাবত কত সুন্দর দিন কাটছে যদি সারাটা জীবন মনিষা এভাবেই আমার পাশে থাকতো টাকা পয়সা বাড়ি গাড়ী কোন কিছুর প্রয়োজন আমার পড়বে না। কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি সেই খেয়াল ই আমার নেই। সকালে এর্লামে এর পরও দেরিতে ঘুম ভাংলো। দ্রুত রেডি হলাম রুম থেকে বের হলাম মনিষার রুমের দরজায় টোকা দিলাম কোন সারা শব্দ নেই। দরজা ঠেলে ভিতরে ডুকলাম। মনিষা ওয়াশরুমে। কি করি আমার তো দেরি হয়ে যাচ্ছে তারমধ্যে আজকে অফিসে মিটিং আছে৷ মনিষা ওয়াস রুম থেকে বের হলো আমাকে দেখে আবার ওয়াসরুমে ডুকে গেল বুঝলাম ওড়না নিতে আবার গেয়েছিলো আমি একটু লজ্জাই পেলাম। আমি বললাম মনিষা আমি অফিস গেলাম। মনিষা বললো আরে নাস্তা করবে না। আমি বললাম সময় নেই।এখন নাস্তা তৈরী করে খাবার। মনিষা বললো নাস্তা তৈরী করাই আছে তুমি টেবিলে বস আমি দিচ্ছি।
আমি বসলাম ও নাস্তা নিয়ে এল আমি দ্রুত খেতে লাগলাম। মনিষা বললো আস্তে গলায় খাবার আটকে যাবে তো৷ ওর বলা আর আমার গলায় খাবার আটকা কেশে উঠলাম দ্রুত আমার দিকে পানি এগিয়ে দিলো। পানি খাবার পর কাশি টা কমছে না। মনিষা চেয়ার থেকে উঠে এসে আমার মাথায় আস্তে আস্তে হাত দিয়ে বারি দিতে লাগলো।
আমার অনুভুতি তখন চরমে। হটাৎ ফোন বাজলো দেখি আমার এক কলিগের ফোন। কোথায় স্যার আপনি এমডি স্যার অফিসে ঠিক ৩০ মিনিট পর মিটিং বসবে। আমি বললাস আমি রাস্তায় আসতেছি।
মনিষাকে বললাম মনিষা দরজা লাগিয়ে দাও৷ কেউ এলে দরজা খোলার দরকার নেই। আগে দরজার কি হোলে দেখবে কে। আমি ছাড়া যেই হোক খোলার দরকার নেই। আমি দরজা থেকে বের হলাম মনিষা বললো সাবধানে যেও।
বাসা থেকে বের হয়ে পাঠাও এ একটা মোটরবাইক ঠিক করলাম। আজনাগাড়ি নেয়া যাবে না এমনি দেরি। 2 মিনিটের মধ্যে মধ্যে বাইক চলে এসেছে। বাইক চলছে কিন্তু আমার মনে তখন ও মনিষা। কত সুন্দর আদর্শ গৃহবধুর মত সে নাস্তা তৈরী করে ফেলেছে। ওকে যে আমার সারা জীবনের জন্য চাই। কিন্তু সত্যি এটাই যে ওকে এটা বলার সাহস আমার একদমই নেই। কারন আমি একটা ভিতুর ডিম। আর ও যেহেতু এখন আমার সাথে রয়েছে কিছু বললে যদি ভুল বোঝে না আছে থাক কিছু বলার নেই।
দেখি বাইক আলা বলছে আরে ভাই নামেন কি হলো। দেখি অফিসের সামনেই দাড়িয়েছে। সরি ভাই অন্য খেয়ালে ছিলাম ভাড়া দিয়ে অফিসের ভিতরে দৌড় লাগালাম। সবাই কনফারেন্স রুমে অলরেডি মিটিং শুরু হয়ে গেছে আস্তে করে ভিতরে ডুকে নিজের চেয়ারে বসলাম। এমডি স্যার বক্তব্য দিচ্ছে। আমার পাশে বসা কলিগ আস্তে আস্তে বলছে কি ব্যপার রেহান ২ দিন ধরে অফিসে দেরি করে আসছো আবাকরা অফিস শেষ হবার সাথে সাথেই দৌড় লাগাচ্ছো কাহিনী কি বাড়িতে বউ আছে নাকি। সামনে এমডি স্যার বক্তব্য দিচ্ছে তার দিকে তাকিয়েই এমন ভাবে কথা গুলো বললো দুর থেকে দেখলে মনে হবে না জানি কত গভীর মনোযোগে কথা শুনছে সে।
আমি বললাম আরে না তেমন কিছু না রাত জেগে মুভি দেখেছি উঠতে দেরি হয়ে গেল আরকি। যা বুঝলাম ফরেন্ট ক্লাইন্টের সাথে মিটিং পুরো ৭ দিন। মিটিং হবে কক্সবাজারে আমাদের অফিস থেকে ২ জনকে পাঠানো হবে। এখন সিলেক্ট করা হয় নি কোন দুজন যাবে। আমি চুপচাপ আছি মনে মনে একটায় ভয় যদি আবার আমাকে যেতে বলে তখন ।
আরেকজনের পাশে ঠিক এমন ভাবে বসলাম যাতে এমডি স্যার আমার চেহারাটাই না দেখতে পারে। এমডি স্যার নানান রকম কথা বলে এখন নাম ঘোষনা করবে আমি আল্লাহ আল্লাহ করছি আমার নাম যেন না বলে। এমডি স্যার ঘোষনা দিলো রেহান এবং বৃষ্টি যাবে। কি রেহান সমস্যা নেই তো তাই না। আমি বললাম না মানে স্যার আমি গতবার ও তো আমি গেলাম এবার না হয় অন্য কাউকে দিন।
স্যার বললো আরে সে জন্যই তো তোমাকে বললাম গতবার ক্লাইটরা তোমার এপ্রোচ এ খুব খুশি হয়েছে তাই তোমাকে সিলক্ট করেছি।
আর সমস্যা কি ৭ দিন থাকবে মিটিং হবে ৩ দিন মাত্র। ঘুরেও আসলা মনে করও ছুটি কাটাতেই যাচ্ছা। ব্যাচেলর মানুষ তুমি তোমার কি সমস্যা। হোটেলের রুম বুক করা আছে ২ টা। টিকেট তোমরা কথা বলে কেটে নিও। আমি আর কিছু বলতে পারলাম না। স্যার বললো তাহলে কাল রাতে রওনা দিয়ে চলে যাও।
যে ভয় পেয়েছিলাম সেটাই হলো আমর ই নাম বললো তাও একজন মেয়ের সাথে। মেয়েটা মাত্র ২ মাস এই অফিসে জয়েন্ট করেছে।কি করি।
নিজের ডেস্ক এ গিয়ে বসলাম কাজ গুলো গুছিয়ে নিচ্ছি বুঝছি যেতেই হবে।ভাবছি মনিষাকে কি বলবো ওকে একা বাসায় রেখে যাবো কি ভাবে দুর কি করি এখন মেজাজটাই গরম হয়ে যাচ্ছে।
আমি কি করবো ভাবছি এমন সময় বৃষ্টি এলো ভাইয়া টিকেট ৩ টা কাইটেন আমার একজন যাবে। আমি বললাম ঠিক আছে। ব্যস আমার মাথায় ও চলে আসলো বৃষ্টিরযদি কাউকে সাথে নিতে পারে তাহলে তো আমিও মনিষাকে সাথে নিতেই পারি।
অফিসে বললাম কিছু কাজ আছে যেহেতু কালকে যেতে হবে তাই কাজ গুলো শেষ করতে হবে। ১২ টার দিকে অফিস থেকে বের হয়ে গেলাম। দ্রুত যাওয়ার জন্য আবার ও বাইকে রওনা দিলাম। বাসায় পৌছালাম ১ টার দিকে। ফ্লাটের কলিং বেল চাপার কিছু সময় পর দেখি রহিমা আপা দরজা খুললো। আমি বললাম আরে রহিমা আপা কবে আসলেন। আজকেই সকালে স্যার কইছি না ৩ দিন ছুডি নিমু। আমি জবানে একবারে পাক্কা। স্যার স্যার।
হুমম বলেন আপনি কি আমারে কাম থিকা ছাড়াইয়া দিবেন। কেন ছাড়াবো কেন। বাসার সব কাজ তো দেখি ম্যাডামে কইরা রাহে। আমি আইহা দেহি কান কামই নাই আমার। আমি হাসলাম বললাম আপনি ছিলেন না তাই ও করেছে। এই যে আসলেন কাল থেকে আপনি করবেন৷ বুঝলাম রহিমা আপা খুব খুশি হলো। আমি বললাম তো আপনার ম্যাডাম কোথায় এখন। ম্যাডাম রান্না করে স্যার আমি কইলাম আমি রান্না কইরা দেই হে কইলো আজ থিকা নাকি রান্না আর আমার কাম না হেই করবো। আমি বললাম আচ্ছা ঠিক আছে সমস্যা নেই আপনি অন্য অন্য কাজ গুলো করে নিয়েন।
রান্না ঘরের দিকে পা বাড়ালাম দেখি মনিষা একবারে ওড়না কোমনে বেধে রান্নার কাজে নেমে পড়েছে। আমাকে দেখে একটু অবাকই হলো বললো রেহান এত তাড়াতাড়ি কোন সমস্যা। আমি বললাম হুমম সমস্যাই তো। মনিষা আমার দিকে তাকালো আমি বললাম আরে না তেমন সমস্য না। বিষয়টা হচ্ছে অফিস থেকে আমাকে কক্সবাজার পাঠাচ্ছে একটা কাজে ৭ দিনের জন্য। মনিষা বললো ও। আমি বললাম তুমি। মনিষা আমার দিকে তাকালো আমি বললাম না ম মানে তোমাকে এখানে একা রেখে আমার পক্ষে যাওয়া সম্ভব না।
তাই বলছিলাম তুমিও চলো আমার সাথে নাকি। মনিষা চুপ করে রইলো।
মনিষা যাবে সমস্যা নেই তো কোন তাই না।মনিষা বললো ঠিক আছে যাবো। মনিষা খুব মনোযোগ দিয়ে রান্না করছে আর আমি পাশে দাড়িয়ে দেখছি চুপচাপ। মনে মনে ভাবলাম ও যদি একান্তই আমার হতো ওকে পেছন থেকে জরিয়ে ধরতাম কেমন হতো সে মুহূর্তটা। সেই মুহূর্তের কথা ভাবতে ভাবতে আমি কল্পনার রাজ্যে ডুকে গিয়েছিলাম। হুস ফিরলো মনিষার ডাকে।রেহান রেহান কি হলো আমি বললাম হুমম বলো। বললাম ফ্রেস হয়ে নাও খেতে দেই আমি বললাম হুমম যাই।
নিজের রুমে এসে ফ্রেস হয়ে বের হলাম। মনিষা টেবিলে খাবার সাজাচ্ছে। রহিমা আপা বললো স্যার তাইলে আমি গেলাম স্যার। আমি বললাম শুনুন আগামি ৭ দিন আপনার ছুটি ঢাকার বাইরে যাবো। একদম সাত দিনের দিন আসবেন। রহিমা আপা চলে গেল। আমি আর মনিষা খেতে বসলাম। বুঝলাম না মনিষা যাই রান্না করে তাই আমার কাছে অমৃতের মত লাগে।
নাকি ওকে ভালো বাসি বলে ওর সবটাই আমার ভালো লাগে। মনিষাকে বললাম মনিষা বিকেলে কিন্তু একটু বের হতে হবে। কক্সবাজার যাবো কিছু কেনাকাটা করতে হবে। মনিষা বললো আচ্ছা ঠিক আছে। বিকেলে মনিষাকে নিয়ে বের হলাম। এই প্রথম মনিষাকে নিয়ে বের হলাম। মনিষার জন্য কিছু কাপড় চোপর কিনলাম ওকে ২ টা শাড়ি ও কিনে দিলাম।একটা মোবাইল আর সিম ও কিনে দিলাম।যদিও মনিষা বার বার না করছিলো কিন্তু আমি জানি মোবাইল ছাড়া এখনকার দিনে আসলে কারোই ভালো লাগে না।
বিকেল থেকে রাত হয়ে গেল মার্কেট করতে করতে রাতের খাবারটা বাইরের রেস্টুরেন্টে এ করেই ফিরলাম। প্রচন্ড ক্লান্ত অনুভব করলাম। ১ বেলা মার্কেট করে আমি শেষ কিন্তু মনিষার মাঝে কোন ক্লান্ত ভাব দেখলাম না। বুঝলাম হাজার হলেও মেয়ে মানুষ শপিং করতে গিয়ে এরা ক্লান্ত হয় না। রুমে গিয়ে শুইতেই ঘুমিয়ে গেলাম। ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখছি আমি আর মনিষা কক্সবাজার বীচ এ হাটছি আর আমাদের মাঝে একটা ৩-৪ বছরেে ফুটফুটে মেয়ে দেখতে হুবুহু মনিষার মতো। আমাদের দুজনের হাত ধরে হাটছে। এল্যামের শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেল ফালতু বাজার আর সময় পেল না এত সুন্দর স্বপ্নটা নষ্ট করে দিলো। মনে মনে বললাম আল্লাহ প্লিজ স্বপ্নটা সত্যি করে দাও।
অফিস যেতে হবে প্রচুর কাজ করতে হবে আজকে ক্লাইন্টেদের সাথের মিটিং এর যাবতীয় সব ঠিক করতে হবে। অফিসে পৌছে বৃষ্টির সাথে বসে যাবতীয় কাজ শেষ করলাম গত রাতেই ৪ টা টিকেট বুক করেছি। বৃষ্টিকে বলে দিলাম ১১ টায় বাস সময় মত যেন চলে আসে।
রাত ১০ আমি আর মনিষা সিএনজি করে বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালাম। দেখলাম বৃষ্টি ও চলে চলে আসছে। ওর সাথে একজন ছেলে আছে বয়ফ্রেন্ড হবে হয়তো। মনিষার সাথে বৃষ্টিকে পরিচয় করিয়ে দিলাম।বাসে উঠে বসলাম আমি আর মনিষা পাশাপাশি আর ওরা দুজন পাশাপাশি।
মনিষাকে বললাম এর আগে কক্সবাজার গিয়েছিলো। মনিষা বললো এর আগে প্রায় ৩-৪ বার প্লান করেও শেসমেস যেতে পারে নি।
আমি বললাম দেখলে তুমি প্লান করেও যেতে পারো নি আর আমি তোমাকে কোন রকম প্লান ছাড়াই কক্সবাজার নিয়ে যাচ্ছি। মনিষা হাসলো। আমি নানান রকম কথা বলেই চলছি হঠাৎ দেখি মনিষা আমার কাধে মাথা রাখলো। ওর দিকে তাকালাম দেখলাম ঘুমিয়ে গেছে। এর মানে অনেক সময় যাবত আমি একাই কথা বলছিলাম। মনিষাকে এভাবেই সারা জীবন আমার কাধে চাই। একটু পর দেখি মনিষা আমাকে ওর হাত দিয়ে আমার বাহু জড়িয়ে ধরেছে ওর গরম নিশ্বাস আমার কাধে পরছে এ যন আমার জন্য স্বর্গ সুখ।
বাসের এসির বাতাসে ঠান্ডা লাগছে একটা কম্বল টেনে নিয়ে আমার আর মনিষার উপর নিলাম।। আমি বাসের হাল্কা আলোও কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি সে খেয়াল আমার নেই। যখন ঘুম ভাঙলো তখন দেখলাম আমরা প্রায় কক্সবাজারের কাছাকাছি আর হয়তো ৩০ মিনিট লাগবে সর্বোচ্চ। আমি মনিষাকে দেখছি রাতে যে ভাবে জড়িয়ে ঘরেছিলো ঠিক সে ভাবেই ধরে আছে। ওর নিস্পাপ মুখটা আমি দেখছি।
হঠাৎ বাসের ঝাঁকিতে মনিষার ঘুম ভেঙে গেল। তাড়াহুড়ো করে আমাকে ছেড়ে নিজেকে আলাদা করলো। হয়তো লজ্জা পেয়েছে। আমি পরিস্থিতি সামাল দিয়ে বললাম আহা কি নাক ডেকেই না ঘুমুচ্ছিলে।
মনিষা বললো না কখনোই না আমি নাক ডাকিই না। তুমি কি করে বুঝবে যে তুমি নাক ডাক আমি শুনছি তাই বললাম। না না আমি নাক ডাকি। আমার হেসে দিলাম মনিষা বাচ্চাদের মত করছো তুমি। মনিষা লজ্জা পেয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিলো তবুও বলতে লাগলো আমি কিন্তু নাক ডাকি না। আমি বললাম আচ্ছা বাবা ঠিক আছে তুমি নাক ডাকো না।মনিষা হেসে উঠলো। বললাম কিছুক্ষনের মধ্যে নামবো আমরা রেডি হও। কিছু সময় পর আমারা নেমে পড়লাম।
হোটেলে গিয়ে চাবি নিয়ো রুমে চলে গেলাম। মনিষাকে বললাম রুম একটাই নিয়েছি তোমাকে আলাদা রুমে দিলে আমি টেনশনে ঘুমাতে পারতাম না। তুমি বিছানায় ঘুমিয়ে আমি নিচে শুয়ে নেব। অফিস থেকে রুম বুক করা সিঙ্গেল বেড এর রুম বুক করে দিয়েছে। কোন সমস্যা নেই তো মনিষা। মনিষা বললো তোমার সাথে এক ছাদের নিচে থেকেছি তোমাকে বিশ্বাস করি বলেই। নিচে শুতে হবে না বিছানাই শুইয়ো। একজন সকালের নাস্তা দিয়ে গেল। ফ্রেস হয়ে খাবার খেয়ে নিলাম। ক্লান্ত থাকায় ঘুমিয়ে পরলাম মনিষা ও আমার পাশেই শুয়েছে মাঝে আমি নিজে থেকেই একটা বালিশ দিয়েছি।ঘুম ভাঙলো বিকেল ৩ টায় আমার চোখের সামনে মনিষা ঘুমিয়ে আছে। ওকে দেখছি মনে হচ্ছে এ ভাবে ওকে দেখতে দেখতে সারা জীবন পার করে দিতে পারবো।
বিকেলে মনিষাকে নিয়ে বীচে ঘুরতে গেলাম। মনিষা বাচ্চাদের মত ঢেউয়ের সামনে দৌড়াচ্ছে। একটা ঘোড়াতে উঠিয়ে ঘুরালাম। আর সন্ধ্যায় নানা রকম সামুদ্রিক মাছ দিয়ে ভুঁড়ি ভোজ। বীচ থেকে ফিরতে ফিরতে রাত ৮ টার দিকে ফিরলাম। অফিস থেকে ফোন দিয়ে অলরেডি জানিয়েছে কাল সকাল ১০ টায় মিটিং। কিছু কাজ শেষ করে রাত ১১ টার দিকে ঘুমিয়ে পড়লাম।
ঘুম ভাঙলো মনিষার ডাকে। আমি তড়িঘড়ি করে উঠলাম কি, হয়েছে মনিষা। মনিষা বললো কিছু না উঠ তাড়াতাড়ি সূর্য উদয় দেখবো ও এই কথা। বললাম বারান্দায় দাড়ালেই দেখতে পারবে এর আগে আমি এই হোটেলের বারান্দায় দাড়িয়েই দেখেছি। মনিষা বললা না চলো না বীচে যাই সেখান থেকে দেখবো। কি আর করি প্রিয়তমার কথা কি আর ফেলা যায়। হাটা দিলাম বীচের দিকে এই রকম গরমের দিনেও ভোর বেলা বীচের আবহাওয়া মোটামুটি ঠান্ডা আমি আর মনিষা সূর্য উদয় দেখছি।
আরও অনেক মানুষই আছে দেখলাম বৃষ্টি আর ওই ছেলেটাও আছে । কাল থেকে এদের দেখা নেই।যদিও কাল রাতেই মিটিং ১০ টায় ফোনে বলে দিয়েছি। রুমে ফিরে ফ্রেস হলাম। ৯.৩০ এ বৃষ্টি এলো। মনিষাকে বললাম একা কোথাও যেও না আমি মিটিং শেষ করে আসি।
বের হলাম অন্য এক হোটেলে মিটিং ফিক্সড করা হয়েছে। সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত মিটিং চললো। যা বুঝলাম ক্লাইন্ট আমাদের কাজে খুশি। হয়তো কালকে মিটিং হলেই কাজটা হয়ে যাবে। যদিও কথা ছিলো এক দিন পর পর ৩ দিন হবে কিন্তু ক্লাইন্ট নিজেই কালকে মিটিং করতে চাইলো। রুমে ফিরলাম।
আমাকে দেখে মনিষা খুশি হলো। বললাম কি করছিলে কি আর করবো বসে বসে বোর হচ্ছিলাম। আমি বললাম আমি চলে এসেছি আর বোর হতে হবে না। বিকেলে বের হলাম আজকে কক্সবাজার শহরটা ঘুরে দেখালাম মনিষাকে। নানা রকম জিনিস কেনা হলো নানান রকম খাবার খাওয়া হলো। রাত ১০ টা আমি আর মনিষা বীচে বালুর উপর বসে চাদের আলোও সমুদ্র দেখছি। নিরাবতা ভেঙে মনিষা বললো ধন্যবাদ রেহান।
কেন।
এত সুন্দর করে আমার সমুদ্র দেখার ইচ্ছা পূরন করে।
আমি বললাম আর কি ইচ্ছে আছে তোমার।
কেন।
আমি বলেই ফেললাম আলাদীনের জ্বীনের মত তোমার সকল ইচ্ছা পূরন করে দেব।
মনিষা হাসলো।
হাসলে কেন।
আমার জীবনা বড়ই অনিশ্চিত হয়ে গেছে রেহান। তোমার আশ্রয়ে হয়তো এখনো বেচে আছি নইলে হয়তো এ কয়দিনে মরেই যেতাম।
আমি বললাম কি বলছো মনিষা।
তুমি জানো বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে আমি এক প্রকারে ঠিক ই করে নিয়েছিলাম এ জীবন আর রাখবো না। কিন্তু তুমি আমাকে বাচিয়ে দিলে।
জীবন কি এতই সহজ মনিষা যে চাইলেই শেষ করা যায়।
কি করবো বলো নিজ হাতে আমার ভাগ্য আমি বদলে ফেলেছি রেহান আজ বলতে গেলে আমার সব কিছু থেকেও নেই। মনিষা কেদে দিলো।
আমি ওকে সান্তনা দিলাম কিছু ভেবো না আমি তোমার সব সমস্যা ঠিক করে দেব। আমি তোমার বাবার সাথে কথা বলবো।
মনিষা হাসলো। তুমি আমার বাবাকে জানোনা রেহান উনি কোনদিন আমাকে নিজের মেয়ে হিসেবে মেনে নেবে না।
বুঝলাম এভাবে থাকলে মনিষার মন আরও বেশি খারাপ হবে। উঠে দাড়ালাম বললাম মনিষা চলো চাদের আলোও সমুদ্রের ধার ধরে একটু হেটে বেড়াই।
বেশ কিছু সময় আমরা হাটলাম। কোন কথা ছাড়াই।
তারপর ফিরে এলাম রুমে ঘুমিয়ে পরলাম।
পরদিন মোটমুটি মিটিং এ সব কম্পিলিট হয়ে গেল ৭ দিনের কাজ ৩ দিনে কম্পিলিট। ক্লাইন্ট খুশি তো বস খুশি বললো ৭ দিন কাটিয়ে আসো সমস্যা নেই।
বৃষ্টিকে বললাম তোমরা তাহলে থাকো আমরা একটু ৩ দিন অন্য জায়গায় কাটাই। রুমে ফিরলাম।
মনিষাকে বললাম সমুদ্র কেমন দেখলে।
ভালোই কিন্তু আমি জানতাম সমুদ্রের পানি নীল হয় কিন্তু এখানে তো ঘোলা পানি।বললাম সকালে রেডি থেকো তোমাকে নীল জলরাশি দেখাবো
সকাল ৯ টার জাহাজে রওনা দিলাম সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্যে। জাহাজ চলা শুরু করলো আর দেখা গেল এক অপূর্ব দৃশ্য। জাহাজের সাথে পাখিরাও উড়তে শুরু করলো। মনিষা খুব মজা পেল।এই পাখিগুলোর দিকে বিস্কিট চিপস ছুড়ে দিলে পাখিগুলো উড়ে সে গুলো খায়। দেখা মিললো নীল জলরাশি।
সমুদ্রের নীল দেখতে পেলে মনিষা।
হুমম।
মন ভালো হয়েছে।
খুব।
এ ভাবেই হাসতে থেকো মনিষা কান্না করলে তোমাকে একদমই ভালো লাগে না।
এক গভীর মায়া ভরা চোখে মনিষা আমার দিকে তাকালো।
কিন্তু আমি সেই চোখের ভাষা পড়তে পারলাম না।
চলবে —------------
RE: আমার প্রথম প্রেম -
X Man - 08-29-2026
Part:05
মনিশার চোখের ভাষা পড়ার মত ক্ষমতা আমার মত অধমের নেই। আমরা রুমে ফিরলাম । দিন তিনেক পর আবার ফিরে এলাম জ্যামের শহরে ।
যেভাবে চলে সে ভাবেই চলতে লাগলো আমাদের জীবন। আজ ৩ মাস হলো মনিষা আমার সাথে আছে। আমাদের মাঝে এক ধরনের আলাদা বোঝাপোড়া হয়ে গেছে। যে কেউ বাসায় এসে আমাদের দেখলে ভাববে আমরা স্বামী স্ত্রী । আমি সকাল বেলা অফিস যাই । মনিষা আমার জন্য অপেক্ষা করে । আমি ফিরলে সে আমাকে তার সারা দিনের জমানো গল্প শোনায় আমি বিমোহিত হয়ে সেই গল্প শুনি।ছুটির দিনে আমরা বাইরে বেড়াতে যাই। ওর সকল চাওয়া পুরন করা যেন আমার সবচেয়ে বড় কাজ।
আমি অফিস থেকে ফেড়ার সাথে সাথে সে আমার জন্য কফি নিয়ে হাজির হবে। এটা তার নিত্য দিনের কাজ। আশেপাশের ফ্লাটের সবার ধারনা আমরা স্বামী স্ত্রী।মনিষা মোটামুটি তার মায়ের সাথে ফোনে কথা বলতো আমি তা জানি। হটাৎ একদিন সকালে মনিষার মা ফোন করেছে তার বাবা নাকি খুব অসুস্থ । মনিষার উচিত তার বাবার এই শেষ সময় তার কাছে গিয়ে ক্ষমা চাওয়া। মনিষা ব্যাকুল হয়ে পড়লো ।
কান্না করছে মেয়েটা ।
রেহান প্লিজ আমাকে বাবার কাছে নিয়ে চলো ।
হ্যা মনিষা নিয়ে যাবো।
মনিষা দ্রুত রেডি হতে চলে গেল । আমি অঝিসে ফোন দিলাম ছুটি নিলাম ।
আমি ড্রাইভিং করছি মনিষা আমার পাশে বসা ।জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে রয়েছে। আমার মাথায় তখন একটাই ভয় তাহলে কি মনিষাকে হারাতে যাচ্ছি। ওর বাড়িতে গেলে কি আর ও ফিরবে। না তা সম্ভব নয় । এই একটা ভয় আমাকে কষ্ট দিয়ে যাচ্ছে।
আমি কি মনিষাকে বলে দেব আমি ওকে কতটা ভালোবাসি। কিন্তু ও যদি অন্য কিছু মনে করে। আমি পারবো না শেষে এখন যে সম্পর্ক তাও যদি নষ্ট হয়ে যায় ।
সকালে রওনা দিয়ে মনিষার গ্রামের বাড়ি পৌছালাম সন্ধ্যার দিকে।
সবাই মনিষাকে দেখে অনেক খুশি হলো আমাকে ও অতি আদরে ঘরে নিয়ে গেল তারা ।
একটু পর দেখি একজন মনিষার সামনে এসে দাড়ালো মনিষা বলে উঠলো বাবা । বুঝলাম এটা মনিষার বাবা । কিন্তু তিনি তো অসুস্ত । কিন্তু সে তো একদম সুস্থ দেখছি। মনিষার বাবা আমার সামনে এসে বসলো আমাকে বললো নাম। আমি বললাম রেহান। দেখলাম রুমে কয়েকজন লোক ঢুকলো ।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই হিংস্র পশুর মত আমার উপর লাফিয়ে পড়লো । মনিষা চিৎকার করে আমার দিকে দৌড়ে আসতে চাইলো ওর বাবা ওকে আটকে ধরলো। মনিষা চিৎকার করে কাদছে আমাকে ছাড়তে বলছে।
বাবা ওর কোন দোষ নেই আমি ওর সাথে যায় নি বাবা । ওকে ছেড়ে দাও। ও আর কোন দিন এখানে আসবে না বাবা ওকে ছেড়ে দাও বাবা। আমি ওর কাছে যাবো না বাবা।
মারতে মারতে আমাকে মেঝেতে শুইয়ে ফেলেছে আমার শরীরে উপর শুধু লাথি আর লাথি পড়ছে । ঠোট আর গাল ফেটে রক্ত পড়ছে। পেটটা প্রচন্ড ব্যথা করছে। মনিষা ওর বাবার পা জরিয়ে ধরলো
বাবা ওকে ছেড়ে দাও বাবা ওর কোন দোষ নেই আমি একা গিয়েছিলাম বাবা।
মনিষার বাবা তাদের ইসারা করলো তারা আমাকে মারা বন্ধ করলো । আমি শুধু মনিষাকে দেখছি মেয়েটা আমার জন্য কাদছে। এটা কি আমার সৌভাগ্য । আমার গাল বেয়ে রক্ত পড়ছে সারা শরীরে প্রচন্ড ব্যথা।
মনিষার বাবা তাদের ইসারা করতেই তারা আমার ঘাড় ধরে বাইরে বের করে আনলো ।
আমাকে আমার গাড়ির সামনে এনে ধাক্কা দিয়ে বললো তোর কপাল ভালো রে । আমাদের তো প্লান ছিলো তোকে মেরে মাটি চাপা দেয়া রে । যা ভাগ এখান থেকে । দাদার দয়ায় বেচে গেলি ।
আমি গাড়িতে উঠলাম শরীরে ব্যাথায় ঠিক মত বসতে পারছি না । দেখলাম রুম থেকে মনিষার বাবা বের হয়ে এলেন তিনি মনিষার হাত ধরে আছে । মনিষার দুই চোখ দিয়ে পানি ঝরছে। মনিষা আমাকে ইসারা করলো করলো চলে যেতে । আমি গাড়ি স্টাট দিলাম মনিষাকে শেষ বার দেখে নিলাম ।
এত মার খেয়ে আমার চোখে পানি আসে নি । কিন্তু এবার চলে এলো । শরীরে ব্যথা যে মনের ব্যথার তুলনায় কিছুই না । সমস্ত শরীর ব্যথা । গাড়ি চালাতে কষ্ট হচ্চে। এখান থেকে আমার গ্রামের বাড়ি সব্বোচ্চ ৪০ কিলো মিটার । কিন্তু এ অবস্থায় আমার বাড়ি যাওয়া ঠিক হবে না । ঢাকা এখান থেকে ২৫০ কিমি । তবুও ঢাকার দিকে রওনা দিলাম । আমার শরীরে অবস্থা খারাপ । ড্রাইভিং এ কোন মনোযোগ
আমার নেই। আমি কি মনিষাকে এবারে হারিয়ে ফেললাম।
বহু কষ্টে ঢাকায় পৌছালাম । কোন রকমে গাড়িটা র্পাক করে লিফট দিয়ে ফ্লাটে উঠলাম । এ অবস্থায় যদি কেউ আমাকে দেখে নির্ঘাত ভাববে চুরি করতে গিয়ে গণধোলাই খেয়েছি। আমি বিছানায় গিয়ে আছরে পরলাম ব্যাস আমি হারিয়ে গেলাম ঘুমের গভীর অতলে।
আমি আর মনিষা পাহাড়ি একটা রাস্তা দিয়ে হাটছি।
তোমার শরীরে কি খুব ব্যথা রেহান।
না মনিষা তুমি সাথে থাকলে আমার কোন ব্যথা অনুভব হয় না মনিষা।
কিন্তু আমি তো সাথে নেই রেহান।
কই তুমি তো আমার পাশেই দাড়িয়ে আছো।
মনিষা হা হা করে হেসে উঠলো আর চিৎকার করে বলছে আমি নেই রেহান তুমি আমাকে হারিয়ে ফেলেছো।
মনিষা দৌড়ে গিয়ে পাহাড় থেকে লাফ দিলো । আমি চিৎকার করে তাকে ধরতে গেলাম কিন্তু পারলাম না।
আমি চিৎকার করতে করতে ঘুম থেকে উঠে পড়েছি।
মনিষা …………..
সারা শরীরে তিব্র ব্যথা অনুভব করলাম । নড়তেই পারছি না । পেটে প্রচন্ড ক্ষুধা । বহু কষ্টে আমি রান্না ঘর পর্যন্ত গেলাম ।কয়েকটা বিস্কিট খেলাম । গরম পানি দিয়ে গোছল করলাম। কেয়ারটেকার কে দিয়ে খাবার আনালাম ।
কেয়ারটেকার: স্যার আপনারে এ কি অবস্থা ।
বললাম ডাকাতের পাল্লায় পরেছিলাম।
আজ অনেকদিন পর দুপুরের খাবার বাহির থেকে এনে খাচ্ছি।
মনিষার কড়া মানা ছিলো বাহিরের খাবার না খাওয়া।
বারবার মনিষার কথা মনে পড়ছে। মনিষার ফোনে ফোন দিলাম । জানি কল যাবে না । এতক্ষণে হয়তো তারা মনিষার ফোনটা ও কেড়ে নিয়েছে।
আজ ৭ দিন মনিষা আমার সাথে নেই । আমি বুঝতে পারছি আমি ধীরে ধীরে পাগল হয়ে যাচ্ছি। আমি আমার চারপাশে খালি মনিষাকে দেখতে পাই। শুধু মনিষার কথাই শুনতে পাই।
শুধূ ঘর আর অফিস । অফিসে নিজেকে খুব সামলিয়ে রাখি। কিন্ত ঘরে ফিরে আমি মনিষার সাথে কথা বলি। আমি তাকে সব সময় নিজের কাছে দেখতে পাই। একটাই সমস্যা আগে সে কথা বলতো আমি শুনতাম এখন শুধু আমি কথা বলি সে সুনে যায় চুপচাপ।।।।।।
RE: আমার প্রথম প্রেম -
X Man - 08-29-2026
Part:06
আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি। ঘর থেক অফিস। অফিস থেকে ঘর। আমার নিত্য দিনের কাজ হয়ে উঠলো। ঘরে ফিরলেই আমি মনিষাকে দেখতে পাই সারা রাত আমি তার সাথে কথা বলি।
শরীরের অবস্থা খারাপ। দুচোখের নিচে কালি পরে গেছে। ওজন ৬ কেজি কমে গেছে। একজন সুস্থ মানুষের দিনে ৬ ঘন্টা ঘুমানোর প্রয়োজন। আমি ঘুমাই স
র্বোচ্চ ২-৩ ঘন্টা।
সারদিন মাথা ব্যথা।
বুঝলাম এ ভাবে চলতে থাকলে আমি দ্রতই মরে যাবো।
হটাৎ একদিন বাবা মা এলেন। আমাকে দেখে তারা অবাক এ কি অবস্থা আমার।
মা তো কেদেই দিলো। তাদের ধারনা আমি নেশা করা শুরু করেছি। বাবা বললেন চল আমাদের সাথে থাকবি তোর চাকরি করতে হবে না।
আমি কোন রকমে তাদের সামাল দিলাম।
তাদের কষ্ট দেখে আমার ও কষ্ট লাগলো। না নিজেকে সামলাতে হবে। আমাকে এ সব থেকে বের হতে হবে। আমার একটা স্বাভাবিক জীবন প্রয়োজন।
একজন সাইকিয়াট্রিস্ট দেখানো প্রয়োজন।
সময় করে একজন সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে গেলাম।
সব খুলে বললাম তাকে।
ডাক্তার ঃ তার মানে আপনি তাকে দেখতে পারছেন।
হুমম।
সব সময়।
না যখন আমি একা বাড়িতে থাকি।
এখন কি দেখতে পারছেন।
না।
হুমম।বুঝলাম। আপনি মেয়েটিকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। সে আপনার কাছে নেই। তাই আপনার সাব-কনশাস মাইন্ড মেয়েটিকে আপনার সামনে উপস্থাপন করে।দেখুন এমন কেস সচরাচর চোখে পড়ে না। তবে আমার আপনাকে উপদেশ আপনি মেয়েটাকে বলে দিন। আপনি তাকে ভালোবাসেন। দেখুন মেয়েটি হ্যা অথবা না যে কোন একটি উত্তর তো দেবে। এতে আপনার সাব-কনশাস মাইন্ডে তার প্রভাব পড়বে। আর কিছুদিন রেস্টের চিন্তা করুন।
পারলে কোথাও থেকে ঘুরে আসুন। পরিবার আত্নীয় স্বজনের সাথে কথা বলুন। তাদের সাথে সময় কাটান। যতটা সম্ভব মেয়েটিকে ভুলে থাকুন। পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করুন। আর আমি কিছু ওষুধ রিকমেন্ড করছি। টাইমলি ওষুধ গুলো নিন। আশা করি ঠিক হয়ে যাবেন। আর আবার যদি আপনার সামনে সেই মেয়েকে দেখেন তাহলে তাকে ইগনোর করুন। তাকে দেখেও না দেখার ভান করুন এবং তার সাথে কোন প্রকার কথা বলবেন না।
আমি চলে এলাম ফ্লাটে। পরদিন বাবা মা চলে গেলেন আমাকে বারবার সাথে নিতে চাইলেন। আমি বললাম অফিসে ছুটি নেই। বহু কষ্টে তাদের বুঝিয়ে বিদায় দিলাম।
রাতে সুয়ে রয়েছি। মনিষা আমার পাশে সুয়ে আছে। সে আমার দিকে তাকিয়ে আছে ভাবলেশহীন ভাবে। আমি ডাক্তারের কথা মত তার সাথে কোন কথা বলছি না। তাকে ইগনোর করছি।
ডাক্তার হাই পাওয়ারের ঘুমের ওষুধ দিয়েছে।
কখন ঘুমিয়ে পরেছি জানি না।
হাটাৎ দেখলাম মনিষা। তার হাত পা শিকল দিয়ে বাধা। মনিষা কাদছে। আমাকে ডাকছে। কোথায় তুমি রেহান আমাকে নিয়ে যাও তোমার কাছে। আমি যে তোমার অপেক্ষা করছি।
হটাৎ ঘুম ভেঙে গেল। না আর পারছি না আমি মনিষার কাছে যাবো। আর বললো আমি ওকে ভালোবাসি। এতে কি হয় হবে। ওর বাবা হয়তো এবার আমাকে মেরেই ফেলবে তবুও সেটাই হোক। রাত তখন ৪ টা। কাপড় চোপড় একটা ব্যাগে নিয়ে বের হয়ে গেলাম। কল্যানপুরে জেলা শহরের একটা বাস আছে ভোর ৫.৩০ মিনিটে। এখন ৪.৩০ আর ১ ঘন্টা ওয়েট করতে হবে।
৫.৩০ বাজে বাস ছেড়ে দিল। পৌছালাম তখন দুপুর ১ টা বাজে। বাস থেকে নেমে একটা অটো করে চলে গেলাম মনিষার বাড়ির দিকে।
মনিষার বাড়ির কাছে যেতেই দেখি দরজা তালা দেয়া। এখন কি করি কাকে জিঙেস করি। কেউ তো নেই।
এমন সময় পেছন থেকে।
কে আপনি এখানে কি করছেন। এই বাড়িতে কেউ নেই। তারা একটা কাজে বাইরে গেছে।
আমি ঘুরে দাড়ালাম।
একটা মেয়ে পিছনে মেয়েটা যেন আমাকে দেখে চমকে উঠলো।
আপনি আপনি রেহান তাই না।
হুমম কেন।
মনিষার মোবাইলে আপনার ছবি দেখেছিলাম।আমি মনিষার চাচাতো বোন।
মনিষা কোথায়।
মনিষার কালকে বিয়ে। গতবার ও পালায় চলে গিয়েছিলো তাই ওর বিয়ের জন্য অন্য যায়গায় নিয়ে চলে গেছে কাকা [মনিষার বাবা]।
কোথায় নিয়ে গেছে আপনি জানেন।
হ্যা জানি আমারই আরেক কাকার বাড়িতে। সেখান কারই একটি ছেলের সাথে ওর বিয়ে ঠিক করা হয়েছে।
কোথায়, কোথায় সে বাসা।
আপনি কি গিয়ে কিছু করতে পারবেন। এমনিতেই কাকা আপনার উপর প্রচন্ড রেগে আছেন।
জীবন গেলে যাবে কিন্তু আমার মনিষার সাথে দেখা যে করতেই হবে। ওকে যে একটা কথা আমাকে বলতেই হবে।
কি কথা। তাকে ভালোবাসেন সেই কথা।
চমকে উঠলাম আমি। কি আপনি কি ভাবে জানেন।আমি কি বলবো।
মনিষা নিজেও যে সেই কথা বলার অপেক্ষায় আছে। আপনার উপর তার অনেক ভরসা তার বিশ্বাস আপনি তাকে নিয়ে যাবেন। কারন সে জানে আপনি তাকে ভালবাসেন।
মানে।
মানে রেহান সাহেব মেয়েদের যে একটা তৃতীয় নয়ন থাকে। সেটা দিয়ে তারা ঠিকিই বুঝতে পারে কে তার প্রতি কি মনোভাব রাখে।
এখন কোথায় মনিষা।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা তে।
মেয়েটি আমাকে পুরো ঠিকানা খুব সুন্দর করে বললো। আমি মোবাইলের নোটে সেভ করে নিলাম।
ধন্যবাদ। আমি তাহলে আসি এখন।
শুনুন রেহান সাহেব, আমার যে চাচার বাড়ি কুড়িগ্রাম তিনি কিন্তু ৩ বারের চেয়ারম্যান। পুরো গ্রামের লোকেরা তাকে খুব মানে। তাই খুব সাবধান।
ধন্যবাদ। অনেক ধন্যবাদ। আপনি তাহলে।
মাইশা। মনিষার চাচাতো বোন।
ধন্যবাদ। আপু অনেক ধন্যবাদ।
যান তাড়াতাড়ি যান কাল রাতে বিয়ে। দেখুন কিছু করতে পারেন কি না।
আমি কুড়িগ্রাম রওনা দিলাম। কুড়িগ্রাম পৌছালাম সন্ধ্যা ৭ টায়।
কুড়িগ্রাম সদর থেকে নাগেশ্বরী উপজেলা প্রায় ২১ কিলো মিটার। তার মধ্যে আমাকে যেতে হবে একটি গ্রামে। তাই রাতটি আমি কুড়িগ্রামে সদরের একটা হোটেলে কাটিয়ে দিলাম।
পর দিন ভোর বেলা আমি নাগেশ্বরী চলে গেলাম। গ্রাম খুজে পেতে বেশি কষ্ট পেতে হলো না। তিন বারের চেয়ারম্যান বাড়ি সবাই চেনে একজনকে জিজ্ঞেস করতেই বাড়ি দেখিয়ে দিলো। বিয়ে বিয়ে বাড়ি আমেজ এই বাড়িটা দেখাই যাচ্ছে। আমি বাড়ির দরজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি অনিশ্চয়তার সাথে কি হবে আমার সাথে।।।।।।।
চলবে -----------
কেমন হচ্ছে জানাবেন আর ভুল হইলে ক্ষমা করবেন।
RE: আমার প্রথম প্রেম -
X Man - 08-29-2026
Part:07 & Last
আমি দরজার দিকে এগিয়ে গেলাম। তাতেই একজনের রাগি গলায় কথা বলতে শুনলাম। যতটুকু বুঝলাম এটা মনিষার বাবার গলা।
দরজার এক পাশের ফাকা দিয়ে ভেতরে তাকালাম। দেখলাম মনিষা আর তার বাবা মুখোমুখি কথা বলছে।
মনিষার বাবাঃ তোমাকে বিয়ে করতেই হবে। আগের বার তুমি আমার মান সম্মান সব ধুলোয় মিশিয়েছো।
মনিষাঃ বাবা রেহান...
মনিষার বাবাঃ রেহান রেহান রেহান আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিলো ওই ছেলেকে বাচিয়ে ফিরে পাঠানো। ওকে যদি সে বারই মেরে ফেলতাম কোন কথাই হতো না। কোন দিন আমার সামনে পরলে ওটাই হবে ওই ছেলের শেষ দিন।
মনিষাঃ বাবা।
মনিষার বাবাঃ কোন কথা নয় বিয়ে তোমাকে করতেই হবে। আর কোন কথা না ঘরে যাও রেস্ট করো।
-মনিষা হেটে একটা ঘরে চলে গেল।
--গ্রামের ঘর
--এক সিরিয়ালে কয়েকটা ঘর।
-কি করি এখন এ বাড়িতে গেলে নির্ঘাত মৃত্যু।
না মরাই ইচ্ছা আছে আমার ।
আমার মনিষাকে নিয়ে বেচে থাকার ইচ্ছে আছে। কি করা যায় কিভাবে এই বাড়িতে প্রবেশ করা যায়। হঠাৎ মাথায় একটা আইডিয়া এলো। এই বাড়ির পেছনে যাওয়া যায়। মনিষা যে ঘরে গেছে সে ঘরের একটা জানালা পেলেই কাজ হবে।
বাড়ির পেছনে চলে গেলাম। বাড়ির পেছনে দেখলাম বিশাল দিঘি প্রচুর জঙ্গলে ভরা। দিনের বেলা সবগুলো রুমের জানালা খোলা। খুব সাবধানে প্রতিটা জানালা পার হলাম। বিয়ে বাড়ি প্রতিটা ঘর ভর্তি মানুষ।
অবশেষে মনিষা যে ঘরে সেই ঘরের জানালা পেলাম। ভেবেছিলাম মনিষাকে একাই পাবো। কিন্তু সে ঘরে প্রায় আরও ৫-৬ জন মহিলা ছিলো।
জানালার পাশে চুপচাপ দাড়িয়ে আছি। ভয় একটাই কেউ দেখে ফেললে সমস্যা। প্রায় ১ ঘন্টা পর সুযোগ পেলাম সবাই রুম থেকে বের হয়েছে।
মনিষা ঠিক জানালার দিকে পিঠ করে বসে আছে।
--মনিষা মনিষা,, এই মনিষা।
মনিষা এবার ফিরে তাকালো।
রেহান তুমি।
মনিষা দ্রুত জানালার দিকে এলো। আমি জানালার গ্রিল ধরে ছিলাম
মনিষা আমার হাত ছুয়ে ধরলো।
রেহান আমাকে নিয়ে চলো প্লিজ।
যাবো মনিষা তুমি টেনশন করো না। আমি তোমাকে অবশ্যই নিয়ে যাবো।
তুমি অপেক্ষা করো সুযোগ বুঝেই তোমাকে নিয়ে যাবো। আমি আমার ছোট মোবাইলটা মনিষাকে দিলাম। বললাম তোমাকে ম্যাসেজে জানিয়ে দেব কি ভাবে কখন। তুমি রেডি থেকো।
রেহান,,,,, মনিষা কাদছে।
আমার বুকটা ছেদ করে উঠলে। আমি মনিষার চোখের পানি মুছে দিলাম।
এমন সময় মনিষা মনিষা করতে করতে একজন রুমে ডুকলো।
আমি দ্রুত সরে গেলাম।
কি রে জানালায় কি করছিস।
মনিষাঃ কেন বাইরে তাকিয়ে ছিলাম।
ও ও।
আমি ওই বাসার থেকে প্রায় হাফ কিলো দুরে চলে এলাম।
রাস্তার একটা কালভার্টের উপর বসলাম।
কি করা যায় ভাবছি। আমার মাথায় কোন চিন্তা আসছে না। কি করবো। ওই বাড়িতে এত লোক এত লোকের মাঝে কি ভাবে সম্ভব মনিষাকে বের করে আনা।
প্রায় ১ ঘন্টা আমি সেই কালভার্টের উপর বসে কাটিয়ে দিলাম। কিন্তু কোন উপায় খুজে পেলাম না।
মেঝাঝ গরম হয়ে যাচ্ছে। একটা সিগারেট ধরিয়ে টানছি।
এমন সময় ২ টো ৭ - ৮ বছরের বাচ্চা। নিজেদের মধ্যে কথা বলতে বলতে যাচ্ছি।
জানিস আজকে বড় বাড়িতে বিয়ে।
কই আমি তো কোন বোমার আওয়াজ পেলাম না।
আরে গাধা সেটা তাদের ব্যপার বোমা না ফাটালে কি আর বিয়ে হয় না।
বাচ্চা দুটো বাজি ( ফটকা) ফাটানোর কথা বলছিলো। আইডিয়া।
হুমম এই উপায়টা কাজে লাগানো সময়
আমার এখন মোটামুটি অনেক বাজির প্রয়োজন।
পুরো গ্রামের কয়েকটি দোকান খুজেও পেলাম না।
শেষে সিদ্ধেশ্বরী উপজেলা বাজারে বাজি পেলাম। এমন বাজি নিয়েছি যেটার একটা তে আগুন দিলে সবগুলো ফাটবে।
দুপুর ২ টা।প্রচন্ড ক্ষুধা পেয়ে একটা হোটেলে ডুকে পড়লাম খেতে।আমি খাবার অর্ডার করলাম। খাবার আসলো খেতে লাগলাম।
আমার পাশের টেবিলে ২ টা ছেলে। কতই আর বয়স হবে ১৭-১৮ হতে পারে। দুজনের ধান্না কি ভাবে টাকা ইনকাম করা যায়। তারা নানা রকম প্লান করছে আবার নিজেরাই সেটা ভাঙছে। আমি শুনে যা বুঝলাম দুজনের মধ্যে একজন বিদ্যুৎ এর কাজ করতে পারে।তাদের টাকা ইনকামের কোন উপায়ই সাক্সেস হচ্ছে না। এ দুজনের কথা শুনে আরও বুঝলাম টাকা দিলে এরা মানুষ খুন করতেও দ্বিধা করবে না।
আমার মাথায় হটাৎ বুদ্ধি এলো। কেননা এই দুইটারে আমার প্লানে কোন জায়গায় কাজে লাগাই। আমি হাত ধুয়ে ওদের টেবিলে বসলাম। ওরা আমার দিকে তাকাতেই পকেট থেকে ৫ হাজার টাকা বের করে দিলাম।
ছেলে দুটোর সরাসরি প্রশ্ন কি করতে হবে। বুঝলাম এ দুইটারে দিয়ে কাজ হবে।
বললাম তেমন কিছু না খালি বাজি ফাটাতে হবে।
ওরা তাকিয়ে আমার হাতে বাজির প্যাকেট টা দেখলো। বললো এটা কোন কাজ হলো দেন বাজি ফাটায় দিচ্ছি।
আমি বললাম এখানে না। ফাটাতে হবে অন্য জায়গায়।
ওরা রাজি। কেবল বাজে বিকেল ৩ টা। এই মিশন কম্পিলিট করার সময় নির্ধারন করেছি রাত ৯ টায়।
কার মনিষার বিয়ের লগ্ন আবার রাত ১১টা ৫০ মিনিট। তাই তার ঘন্টা দুইয়েক আগে কাজটা কম্পিলিট করতেই হবে।
মনিষাকে ম্যাসেজ করলাম সব ঠিকঠাক আছে তো।
প্রায় ১০ মিনিট পর রিপ্লাই এলো হ্যা সব ঠিক আছে। মনিষাকে ম্যাসেজে পুরো প্লান জানালাম ও রেডি থাকতে বললো।
সময় যেন যাচ্ছেই না। সন্ধ্যা নেমে এলো ছেলে দুটোকে সবকিছু আবার বুঝিয়ে দিলাম।
রাত ৮ টা ৩০। আমরা ৩ জন সেই বাড়ির আশে পাশে ঘুর ঘুর করতে লাগলাম। বাড়ি ভর্তি বিয়ের মানুষ কেউ যাচ্ছে কেউ আসতেছে।
ঠিক রাত নটা আমি গেটের সমানে গিয়ে দাড়ালাম।
দুজনের মধ্যে একজনের কাজ হলো বাড়ির বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেয়া।
২য় জনের কাজ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সাথে সাথে বাজিতে আগুন লাগিয়ে বাড়ির উঠোন বরাবর ঢিল দেয়া।
বিকেল বেলা দুজনে এসে দেখে গেছে বাড়ির বিদ্যুৎ লাইন কোন দিকে দিয়ে গেছে। কপাল ভালো বিদ্যুৎ এর মিটার বাড়ির পেছনের ১ম ঘরের মাত্র ১ মানুষ উচ্চতায় লাগানো আছে। তাই সেটা কাটা কোন ব্যপারই না।
আর দুজনে মিলে মোটামুটি সবগুলে বাজি একত্রে আটকিয়েছে। যাতে একবারে সব ফাটানো যায়।
বাড়ির ওঠোন ভর্তি মানুষ। মনিষাকে বলে রেখেছি বিদ্যুৎ চলে গেলে ও যেন ঠিক ১ম ঘরের বারান্দার একদম কিনারায় চলে আসে। কারন এই জায়গাটা দরজার একদম কাছে। সব্বোচ্চ ১০ ফুট হতে পারে।
আরও বলে দিয়েছি হাতের মোবাইলের লাইট টা যেন অনঅফ করে এতে আমার বুঝতে সুবিধা হবে।
রাত নটা বাজতেই বিদ্যুৎ বন্ধ হলো। পুরো অন্ধকারে আমি দরজা দিয়ে ভেতরে ডুকলাম। দৌড়ে বারান্দার একদম সাইডে গিয়ে দাড়াতেই। বাড়ির প্রায় মাঝ বরাবর বাজি টা পরে ফাটতে শুরু করলো। লোকজন দিকবিদিকশুন্য হয়ে এ দিক ও দিক ছুটছে৷ আমি দেখলাম একজন লাইট জ্বালাতে নেভাতে নেভাতে বারান্দার এই দিকেই আসছে বুঝলাম মনিষা। মনিষার হাত ধরে টান দিয়ে দরজার দিকে ছুটলাম। এতক্ষণে বাজি ফাটা বন্ধ হয়ে গেছে।
ঠিক সেই সময় মহিলারা ঘর থেকে চিৎকার দিয়ে উঠলো মনিষা ঘরে নেই। এতক্ষনে হয়তো কারো আর বুঝতে বাকি নেই যে মনিষা কোথায়। দুজনে গেট দিয়ে বের হলাম।
বাড়ির ভেতর থেকে চিৎকার চেচামেচি শোনা যাচ্ছে। সবাই বের হও তাড়াতাড়ি খোজ সবাই এখানেই আছে। ওরা যেন গ্রাম থেকে যেন বের না হতে পারে। হারামজাদারে আজকে জিন্দা কবর দেব।
রাস্তা ধরে দৌড় দিতে চাইলাম। মনিষা আমার হাত ধরে টান দিয়ে বাড়ির পেছন দিকে ছুটলো। বাড়ির পেছন দিকে গেলাম এখানে ঝোপের অভাব নেই। অন্ধকারের মধ্যেই একটা ঝোপে দুজনে ডুকে পরলাম। কোন কিছুর ভয় যেন আমাদের আজ দমাতে পারবে না।
পুরো এলাকা জুড়ে চিৎকার।
বুঝলাম মনিষার বুদ্ধি ঠিক ছিলো। রাস্তা দিয়ে পালালে এতক্ষনে ধরা পরে যেতাম। এখন কেউ হয়তো স্বপ্নে ও চিন্তা করতে পারবে না আমারা কোথায় আছি। পুরো গ্রামে মানুষ ছড়িয়ে পরেছে।
প্রায় ২ ঘন্টা যাবত আমরা এই ঝোপে লুকিয়ে আছি। একজন আরেক জনের সাথে লেপ্টে আছি। আমাদের মাঝে কোন কথা হচ্ছে না। তবে মনে হচ্ছে দুজন দুজনার হৃদয়ের ধুকধুক শব্দ শুনতে পাচ্ছি।
বাড়ির ভেতর থেকে পুরুষের কন্ঠে শোনা যাচ্ছে কেউ একজন বলতেছে।
কেউ একজন দেখেছে আমাদের গ্রামের বাইরে যেতে তাই একন সবাই গ্রামের বাইরে যাচ্ছে আর বাসস্ট্যান্ডে আর রাস্তায় প্রতিটা গাড়ি যেন চেক করা হয় সেই জন্য তারা দ্রুত রওনা দিচ্ছে।
আমি আর মনিষা একটু হাসলাম সাথে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিলাম। মানুষ তাহলে এ ভাবেই গুজব ছড়ায় আরকি।
মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সব একদম নিশ্চুপ।
প্রায় বিয়ে বাড়ির সকল পুরুষ গ্রামের বাইরে চলে গেছে।
আমরা আরও কিছু সময় অপেক্ষা করে বের হলাম। পুরো অন্ধকার রাত। সমস্যা আমরা গ্রামের রাস্তা দিয়ে গ্রামের বাইরে যতে পারবো না।
বাড়ির পেছন থেকে বের হতেই সামনে একজন মহিলা। আমি মনিষাকে নিয়ো দৌড় দিতে চাইলাম। কিন্তু মনিষা দৌড়ালো না।
মহিলা আসলে আর কেউ না মনিষার মা।
আমাদের দিকে এগিয়ে এলেন তিনি।।
বললেন আমার মেয়ের খেয়াল রেখ বাবা। গতবার তোমাদের দুজনকে আমি আলাদা করে দিয়েছিলাম। তাই এবার আমি আবার তোমাদের কে একত্র করে দিলাম।
আমি মনিষার দিকে তাকালাম।
তুমি যখন আমার সাথে জানালা দিয়ে কথা বলছিলে মা সব শুনেছে।
আর মা না সাহায্য করলে বের হওয়া সম্ভব ছিলো না।
আমি বললাম মনিষা তাড়াতাড়ি বের হতে হবে।
মনিষার মা বললেন তোমরা রাস্তা দিয়ে গেলে ধরা পড়বে। তোমরা এক কাজ করো। তিনি একটা দিক দেখিয়ে দিয়ে বললেন তোমরা এই দিকে যাও। একটা নদী পাবে। নদীর পার দিয়ে হাটতে থাকবে অন্য গ্রামে পৌছে গেলেই আর ভয় নেই।
আমি আর মনিষা তাই করলাম। প্রায় ১৫ মিনিট হাটার পর একটা নদী পেলাম। আমরা দুজনে নদীর পার ধরে হাটছি তো হাটছি আশে পাশে কোন জন মানব নেই।
ঘড়িতে তখন রাত ৩ টা ৫০। আমরা এতদুরে চলে এসেছি যে তারা আমাদের আর খুজে পাবে না।।
মনিষা বসে পড়লো। আমিও বসলাম। সামনে নদী পেছনে ফসলের ক্ষেত। আকাশে পূর্ণিমার চাদ। যার আলোও মনিষাকে একদম সোনালি পরীর মত লাগছে।
মনে আছে মনিষা আমি তোমার সকল ইচ্ছা পূরনের কথা বলে ছিলাম।
হুমম।
বল তাহলে..
এখন তো আমরা মুক্ত..
আর কেউ আমাদের আটকাতে পারবে না।
মনিষা আমার কাধে মাথা রেখে বলতে লাগলো তার ইচ্ছার কথা গুলো।
এ অনুভুতি পৃথিবীর সকল অনুভুতিকে হার মানাবে।
আজ থেকে ১৬ বছর আগে দেখা সেই মেয়েটি..
যাকে আমি বলতে পারিনি কতটা ভালো বাসি আমি তাকে..
এখনও তাকে বলিনি তাকে ভালোবাসি কিন্তু সে আমার কাধে মাথা রেখে হাতে হাত রেখে আমাকে করেছে ধন্য।
তবুও এখনো তাকে বলা হয় নি যে সে........
আমার প্রথম প্রেম
সমাপ্ত
(গল্প টা আপনাদের কাছে কেমন লাগলো কমেন্ট করে যানাবেন
ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন আর ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি অনেক দিন পড়ে গল্প দেওয়ার জন্য।)
(ধন্যবাদ সবাই কে)