মা কি আমারই মা? -
X Man - 09-10-2026
By: arnab200
বিকেলবেলার রোদটা জানলা দিয়ে এসে মায়ের ওপর পড়ছে। মা আজ বেশ সেজেছেন—পরনে বেনারসি লাল শাড়ি, সিঁথিতে টকটকে লাল সিঁদুর আর দুই হাতে উজ্জ্বল শাখা-পলা। মায়ের দুপাশে সগর্বে বসে আছে অয়ন and রাহাত , যাদের বয়স কুড়ির কোঠায়। তাদের চোখেমুখে এক অদ্ভুত প্রশান্তি, যেন তারা এই মুহূর্তটা বেশ উপভোগ করছে।
অথচ ঠিক মায়ের সামনে মেঝেতে দাঁড়িয়ে আছে বাড়ির ছেলেটি। তার বয়সও আঠারো থেকে বিশের কোঠায়, কিন্তু আজ সে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির শিকার। মায়ের গম্ভীর অথচ শান্ত দৃষ্টির নিচে, সে বাধ্য হয়ে দুই হাত দিয়ে নিজের কান ধরে দাঁড়িয়ে আছে। পড়াশোনার ফাঁকি দেওয়া বা কোনো এক দুষ্টুমির শাস্তি হিসেবে মা তাকে এই অবস্থান নিতে বলেছেন।
ঘরের বাতাসে একটা চাপা উত্তেজনা। অয়ন and রাহাত নিজেদের মধ্যে চোখাচোখি করে হালকা হাসছে,মা একটু হাসিমুখে তাদের দিকে তাকিয়ে আছেন, যেন বলছেন—"আজকের দিনটা মনে থাকবে তো?" ছেলেটি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে, অয়ন and রাহাত বসে বসে সেই দৃশ্যের সাক্ষী—এ যেন এক বিচিত্র পারিবারিক দৃশ্য, যা এই মুহূর্তকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে।
মায়ের ঘরের শান্ত পরিবেশটা মুহূর্তে যেন উত্তপ্ত হয়ে উঠল। বিছানায় বসে থাকা অয়ন আর রাহাতের মুখে এক অদ্ভুত বিজয়ের হাসি। তারা দুজনে একে অপরের দিকে তাকিয়ে চোখের ইশারায় যেন একে অপরকে উৎসাহিত করল। এরপরই রাহাত হঠাৎ সোজা হয়ে বসে ছেলেটির দিকে আঙুল তুলে ঝাঁঝালো গলায় বলে উঠল, "তোর এত বড় স্পর্ধা যে তুই আমাদের মুখের ওপর তর্ক করিস? আন্টি, দেখো তোমার ছেলেটা দিন দিন একদম বাঁদর হয়ে যাচ্ছে!"
অয়নের কণ্ঠেও যেন একই সুর ছিল, সে সায় দিয়ে বলল, "একদম ঠিক বলেছিস রাহাত। প্রীতম তো এখন কথা শোনাই ছেড়ে দিয়েছে।"
মা বিছানায় চুপচাপ বসে পুরো দৃশ্যটা দেখছিলেন। তার শান্ত মুখে কোনো বিরক্তির ছাপ নেই, বরং অয়ন আর রাহাতের অভিযোগ শুনে তিনি যেন একমত হলেন। প্রীতম আশা করেছিল মা অন্তত তার পক্ষ নেবেন, কারণ এই বিতর্কে আসলে তার কোনো দোষই ছিল না। কিন্তু অয়ন আর রাহাতের কথা শেষ হতে না হতেই মা ধীর স্বরে বলে উঠলেন, "হ্যাঁ রে, তুই সত্যি দিন দিন খুব দুষ্টু হয়ে যাচ্ছিস। এভাবে বড়দের সাথে কথা বলতে নেই।"
মায়ের এই অপ্রত্যাশিত সায় পেয়ে অয়ন আর রাহাত যেন আরও সাহসী হয়ে উঠল। তারা প্রীতমের অসহায় মুখটার দিকে তাকিয়ে এক চিলতে বাঁকা হাসি হাসল, আর প্রীতম—মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে কান ধরা অবস্থায়—বুঝতে পারল, আজ আর কোনো যুক্তিই কাজ করবে না। তার নিজের মায়ের সামনেই তার বন্ধুদের এই দাপট তাকে যেন ভেতর থেকে আরও চুপসে দিল।
প্রীতমের জন্য পরিস্থিতিটা যেন আরও কঠিন হয়ে উঠল। মা এবার একটু রাগী গলায় আদেশের সুরে বললেন, "যা, রান্নাঘর থেকে জল নিয়ে আয়। তোর বন্ধু দুটো কলেজ থেকে এসে হাঁপিয়ে উঠেছে, তাদের একটু জল দে।"
শুধু জল নয়, মায়ের নির্দেশের বহর আরও বাড়ল। তিনি গম্ভীরভাবে যোগ করলেন, "সঙ্গে আলমারিতে রাখা বিস্কুট আর কিছু খাবারও বের করে নিয়ে আসবি। দেরি করিস না, তাড়াতাড়ি যা!"
মায়ের এই কড়া নির্দেশ পাওয়ার পর প্রীতমের আর দাঁড়িয়ে থাকার উপায় রইল না। কান ধরা অবস্থাতেই সে একটু ইতস্তত করল, কিন্তু মায়ের চোখের দিকে তাকাতেই বুঝতে পারল—এখন আর কোনো দ্বিমত করার সুযোগ নেই। অয়ন আর রাহাতের দিকে তাকিয়ে সে দেখল, তারা দুজনে একে অপরের সাথে কী যেন ফিসফিস করে হাসছে। প্রীতম দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাথা নিচু করে রান্নাঘরের দিকে পা বাড়াল। তার কানে তখনও মায়ের শেষ কথাটা বাজছিল, যা তাকে আরও যেন ছোট করে দিচ্ছিল। বন্ধুরা আয়েশ করে বিছানায় বসে রইল, আর প্রীতমকে ব্যস্ত হতে হলো তাদের আপ্যায়নের জন্য।
রান্নাঘরের দিকে যেতে যেতে প্রীতম কানে শুনতে পেল অয়ন আর রাহাতের সেই চাটুকারিতার কথা। তারা দুজন এবার মায়ের সঙ্গে খুনসুটি শুরু করেছে। অয়ন একটু বাঁকা হেসে বলে উঠল, "আন্টি, আপনি এত সুন্দরী কেন? আপনার রূপের রহস্য কী বলুন তো?"
কমলা দেবী হালকা হেসে নিজের শাড়ির আঁচলটা ঠিক করতে করতে বললেন, "আরে দূর, সুন্দরী আবার কোথায়? বয়স তো বাড়ছে, দিন দিন বুড়ি হয়ে যাচ্ছি।"
কিন্তু অয়ন আর রাহাত যেন নাছোড়বান্দা। রাহাত ফিক করে হেসে বলল, "ধুর আন্টি! আপনি এখনো যা সুন্দরী! আপনার এই লাল বেনারসি, সিঁথির ওই টকটকে সিঁদুর, কপালে টিপ, আর হাতের ওই শাঁখা-পলা—সব মিলিয়ে আপনাকে তো পুরো কামদেবীর মতো লাগছে। সঙ্গে কানে ওই ঝুমকো আর পায়ে তোড়াটা যেন আপনার সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে!"
অন্য কোনো মহিলা হয়তো এই ধরনের কথায় অপমানিত বোধ করতেন বা রেগে যেতেন, কিন্তু কমলা দেবী তা করলেন না। তিনি যেন এই প্রশংসা শুনে বেশ তৃপ্তই হলেন। তিনি লাজুক মুখে মুচকি হেসে বললেন, "ধ্যাত, তোরা একদম অসভ্যের মতো কথা বলিস! চুপ কর তো এখন।"
রান্নাঘরে ঢোকার মুখে প্রীতম দাঁড়িয়ে পড়ল। মায়ের গলার সেই বিশেষ সুরটি সে চিনত—সেটা রাগের সুর নয়, বরং এক ধরনের নির্লজ্জ প্রশ্রয়। অয়ন আর রাহাতের এই বাড়াবাড়িকে মা যে এতটা উপভোগ করছেন, তা দেখে প্রীতমের বুকের ভেতরটা কষ্টে আর অপমানে মোচড় দিয়ে উঠল। সে বুঝতে পারল, রান্নাঘরে যাওয়ার এই ছোট্ট কাজটি কেবল তাকে সরিয়ে দেওয়ার একটা অজুহাত ছিল মাত্র।
প্রীতম রান্নাঘরের ব্যস্ততায় নিজেকে ডুবিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল। বিস্কুটগুলো প্লেটে সাজাতে সাজাতে তার হাত কাঁপছিল, কারণ কান খাড়া করে সে ড্রয়িং রুমের সেই অদ্ভুত কথোপকথন শুনছিল। হঠাৎ ঘরের ভেতর থেকে আসা সেই টুং টাং শব্দটা তার মনোযোগ কেড়ে নিল। শুরুতে সে ভেবেছিল হয়তো গয়না বা শাঁখার কোনো শব্দ, কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শব্দটা আরও স্পষ্ট আর জোরালো হতে লাগল।
সে থেমে গিয়ে কান পাতল। শব্দটা যেন শুধু আলঙ্কারিক ঝনঝনানি নয়, বরং আরও গভীর কিছু—হয়তো অয়ন আর রাহাত যেভাবে মায়ের খুব কাছাকাছি বসে খুনসুটি করছিল, তারই কোনো আভাস। সেই শব্দ প্রীতমের মনের সংশয়কে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। বন্ধু আর মায়ের সেই অদ্ভুত ঘনিষ্ঠতা এবং অসংলগ্ন রসিকতা তাকে অস্থির করে তুলল।
সে প্লেটটা হাতে নিয়ে রান্নাঘরের দরজার আড়ালে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। নিজের বাড়ির ড্রয়িং রুমে নিজেরই মা এবং বন্ধুদের এমন আচরণ তাকে এক গভীর মানসিক দ্বিধায় ফেলে দিল। হাতের প্লেটটা শক্ত করে ধরে সে একবার ভাবল, সরাসরি ভেতরে গিয়ে ওদের থামিয়ে দেবে কি না? কিন্তু মায়ের সেই গম্ভীর রাগ আর বন্ধুদের চাটুকারিতার দাপটের কথা ভেবে সে আবার পিছিয়ে এল। মনের ভেতর হাজারটা প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে লাগল—মা কি সত্যিই এসব উপভোগ করছেন, নাকি পরিস্থিতির চাপে সে অসহায়? প্রীতম বুঝতে পারছিল, আজ এই চা-বিস্কুট পরিবেশন করাটা কেবল একটা সাধারণ কাজ নয়, বরং এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া। সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে প্লেটটা নিয়ে আবার বাইরের দিকে পা বাড়াল।
প্রীতম রান্নাঘর থেকে ট্রে হাতে নিয়ে ড্রয়িং রুমের দরজার কাছে এসে পৌঁছাল। কিন্তু ভেতরে পা রাখার আগেই তার পায়ের তলা থেকে যেন মাটি সরে গেল। সে যা দেখল, তা তার কল্পনারও অতীত ছিল। বিছানায় অয়ন আর রাহাত মায়ের খুব কাছে বসে ছিল, কিন্তু তাদের আচরণ ছিল চরম আপত্তিকর। রাহাত মায়ের শাড়ির ওপর দিয়ে হাত দিয়ে বুকের ওপর স্তন টিপছে, আর অয়ন মায়ের ঠোঁটে চুষে চুমু খাচ্ছে।
এই বীভৎস দৃশ্য দেখে প্রীতমের হাত থেকে ট্রে প্রায় পড়ে যাচ্ছিল। তার শরীর জমে গেল, সে হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার নিজের মা এবং তার বন্ধুদের এই নির্লজ্জ কাজ তাকে চরম ধাক্কা দিল। তার চোখের সামনে পৃথিবীটা যেন উল্টেপাল্টে গেল। সে এখন কী করবে? এই অবস্থায় ভেতরে ঢুকে কি ওদের হাতেনাতে ধরবে, নাকি নীরবে এখান থেকে সরে গিয়ে এই কলঙ্কের সাক্ষী হওয়া থেকে নিজেকে বাঁচাবে?
তার মন-মস্তিষ্ক যেন কাজ করছিল না। এক মুহূর্তের জন্য তার মনে হলো সে এই মুহূর্তেই ভেতরে গিয়ে প্রতিবাদ করবে, কিন্তু পরক্ষণেই তার মায়ের সেই প্রশ্রয় দেওয়া হাসি আর বন্ধুদের চাটুকারিতার দাপট মনে পড়ল। সে বুঝতে পারল, এই অনৈতিক সম্পর্কের ব্যাপারে সে পুরোপুরি অসহায়। সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে চোখ বন্ধ করল, এরপর নিঃশব্দে ট্রেটা নিচে নামিয়ে রেখে দরজার আড়ালে নিজেকে আরও কিছুটা লুকিয়ে ফেলল। সে ভেতরে ঢুকতে পারল না, আর এভাবে দাঁড়িয়ে থাকাও তার পক্ষে অসহ্য হয়ে উঠল। সে সিদ্ধান্ত নিল, এখনই এই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবে, অন্তত আজকের মতো।
রান্নাঘরের দরজার আড়াল থেকে প্রীতম সবটা দেখছিল, তার মাথায় তখন কেবল ঘোর অন্ধকার। এরই মধ্যে হঠাৎ যেন কোনো এক অলৌকিক সচেতনতায় কমলা দেবীর সম্বিৎ ফিরল। বুঝতে পারলেন, অয়ন আর রাহাতের এই ঘনিষ্ঠতার মাঝে তার নিজের ছেলের উপস্থিতির কথা তিনি বেমালুম ভুলে গিয়েছিলেন।
আতঙ্কে আর ক্ষোভের সংমিশ্রণে তিনি এক ঝটকায় অয়ন আর রাহাতকে দুপাশে সরিয়ে দিলেন। নিজের শাড়িটা দ্রুত সামলে নিয়ে, গলা খাঁকারি দিয়ে নিজের স্বাভাবিক গাম্ভীর্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেন। তারপর অপ্রতিভ ভাবটা লুকিয়ে, বেশ চড়া গলায় চিৎকার করে উঠলেন, "কিরে! তোর চা আনতে আর কতক্ষণ লাগে? বাইরের লোকগুলো তৃষ্ণায় মরে যাচ্ছে আর তুই ভেতরে বসে কী করছিস?"
এই ডাক শুনে প্রীতমের শরীরের রক্ত যেন হিম হয়ে গেল। মা যে এত তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক হওয়ার ভান করে সব দোষ তার ওপর চাপিয়ে দিলেন, তা তার কাছে অসহ্য মনে হলো। সে বুঝতে পারল, মা এখন পরিস্থিতিটাকে অন্য দিকে ঘোরাতে চাইছেন যাতে অয়ন আর রাহাতের কোনো বদনাম না হয়। কাঁপতে থাকা হাতে ট্রে-টা তুলে নিয়ে, বিষন্ন মনে সে ড্রয়িং রুমের দিকে পা বাড়াল—নিজের বাড়ির ভেতরেই আজ সে যেন এক অচেনা অতিথির মতো অসহায়।
প্রীতম যখন ট্রে হাতে ঘরে ঢুকল, দৃশ্যটা দেখে তার চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগের সেই বীভৎস এবং আপত্তিকর ঘটনার কোনো চিহ্নই যেন নেই। অয়ন আর রাহাত এমনভাবে বসে আছে, যেন কিছুই হয়নি; মায়ের সঙ্গে তারা একদম স্বাভাবিক ভঙ্গিতে গল্প করছে। তাদের চোখেমুখে বিন্দুমাত্র অপরাধবোধ বা আক্ষেপের চিহ্ন নেই, বরং তারা যেন বেশ তৃপ্ত।
মাও অসামান্য দক্ষতায় নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছেন। শাড়ির আঁচল ঠিকঠাক, মুখে সেই পরিচিত গাম্ভীর্য আর ঠোঁটে এক আলগা হাসি। তিনি তাদের কথার সঙ্গে এমনভাবে তাল মিলিয়ে গল্প জুড়ে দিলেন, যেন ঘরের পরিবেশটা এক্কেবারেই সাধারণ।
প্রীতম কাঁপতে থাকা হাতে ট্রে-টা টেবিলের ওপর রাখল। কেউ একবারের জন্যও তার দিকে তাকাল না, কোনো ধন্যবাদ বা সৌজন্যবোধ—কিছুই নেই। সে সোফায় গিয়ে বসল, কিন্তু নিজের ঘরের পরিবেশটাই তার কাছে এখন অসহ্য মনে হচ্ছে। অয়ন, রাহাত আর তার নিজের মা—তিনজনের এই আড্ডার মাঝখানে প্রীতম নিজেকে একজন অনাকাঙ্ক্ষিত আগন্তুক বা নিছক একটা বোঝা ছাড়া আর কিছুই মনে করতে পারল না।
তারা চা আর জলখাবার খেতে খেতে এমনভাবে গল্প করছিল, যেন প্রীতম সেখানে উপস্থিতই নেই। তাদের হাসির শব্দ, মায়ের ওই বিশেষ সুরের কথোপকথন—সবই প্রীতমের মনের ক্ষতগুলোকে আরও গভীর করে দিচ্ছিল। সে বুঝতে পারল, তার নিজের বাড়িতে, নিজের মায়ের সামনেই তার অস্তিত্ব আজ অর্থহীন। ওই তিনজনের জগতের কোথাও তার কোনো স্থান নেই, সে যেন নিছক একজন দর্শক, যে কি না অমানবিক কোনো নাটকের সাক্ষী হয়ে পড়ে আছে। প্রীতমের মনে হতে লাগল, তার হৃদস্পন্দনটাও যেন ওদের আড্ডার ওই উচ্চস্বরে চাপা পড়ে যাচ্ছে।
পড়াশোনার বইয়ের পাতায় চোখ থাকলেও প্রীতমের সবটুকু চেতনা তখন ওই বন্ধ দরজার ওপারে। পড়ার ঘরের টিমটিমে আলোয় সে বসে আছে ঠিকই, কিন্তু তার কান খাড়া হয়ে আছে শোবার ঘরের দিকে। কিছু সময় পর পর সেখান থেকে ভেসে আসা অস্পষ্ট ফিসফিসানি, হাসির আওয়াজ আর আসবাবের নড়াচড়ার শব্দ তার স্নায়ুকে যেন ছিঁড়ে ফেলছিল।
সে আর স্থির থাকতে পারল না। হাতের বইটা টেবিলে ফেলে দিয়ে ধীর পায়ে সে শোবার ঘরের দরজার কাছে এগিয়ে গেল। হৃদপিণ্ড তখন বুকের ভেতর ড্রামের মতো বাজছে। দরজার ফাঁক দিয়ে দেখার সাহস হচ্ছিল না আবার কৌতূহলও দমন করতে পারছিল না। সে দরজার সেই সরু ফাঁক দিয়ে চোখ রাখল।
ঘরের ভেতরের দৃশ্যটা প্রীতমের রক্ত হিম করে দিল। দেখল, বিছানার ওপর অয়ন আর রাহাত বসে আছে, আর তার মা তাদের মাঝে বসে এমনভাবে হাসছে যা আগে কখনও দেখেনি। বিছানার চারপাশে বিছানো নতুন কেনা জিনিসপত্র—হয়তো সেগুলোর আড়ালেই লুকিয়ে ছিল কোনো এক অশোভন ইঙ্গিত। প্রীতম দেখল, মা নিজের শাড়ির আঁচলটা অনেকটা ঢিলে করে দিয়েছেন, আর অয়ন ও রাহাত তাদের অভ্যস্ত হাতের খেলায় মায়ের শরীরের সেই গোপনীয়তাটুকু নষ্ট করছে। প্রীতমের মনে হলো, এই মানুষগুলো তার মা আর বন্ধু নয়, বরং তার অস্তিত্বের ওপর এক ভয়াবহ আঘাত।
সে সেখানে আর এক মুহূর্তও দাঁড়াতে পারল না। নিজের শোবার ঘরের দরজার সামনে এই জঘন্য দৃশ্যের সাক্ষী হওয়াটা যেন তার সহ্যক্ষমতার বাইরে চলে গেল। প্রীতমের মনে হলো, যদি সে এই মুহূর্তে দরজা ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢোকে, তাহলে হয়তো কোনো একটা চূড়ান্ত পরিণতি আসবে। কিন্তু তার সেই সাহসটুকুও কি অবশিষ্ট আছে? নাকি সে নিছকই এই বাড়ির এক অসহায় দর্শক হিসেবে বেঁচে থাকবে? সে পড়ার ঘরে ফিরে এল ঠিকই, কিন্তু তার শরীর তখন কাঁপছে আর চোখের সামনে অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে। সে বুঝতে পারল, মায়ের বেডরুমের ওই বন্ধ দরজাটা কেবল একটা কাঠের কপাট নয়, বরং তার পুরো জীবনের বিশ্বাসের দেওয়াল ভেঙে পড়ার শব্দ।
প্রীতমের সারা শরীর তখন ভয়ে আর ঘৃণায় রি রি করছিল। সে জানলাটার কাছে গিয়ে নিঃশব্দে সেটার পাল্লা সামান্য ফাঁক করল—ঠিক ততটাই, যতটা দিয়ে ঘরের ভেতরের দৃশ্য স্পষ্ট দেখা যায়, কিন্তু তার নিজের উপস্থিতি যাতে বিন্দুমাত্র টের পাওয়া না যায়। বাইরের অন্ধকারের আড়াল থেকে ঘরের ভেতরের আলোয় যে দৃশ্য সে দেখল, তা তার জীবনের সবথেকে বীভৎস অভিজ্ঞতা হয়ে রইল।
শোবার ঘরের খাটের মাঝখানে মা বসে আছেন, আর তার দুই পাশে রাহাত ও অয়ন। মায়ের পরনের বেনারসি শাড়ির আঁচলটা অবিন্যস্ত হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ছে। রাহাত কোনো আড়ষ্টতা ছাড়াই মায়ের মুখ আর ঠোঁট নিজের দখলে নিয়ে চুষে খাচ্ছে, যেন কোনো আদিম নেশায় সে মত্ত। অন্যদিকে, অয়ন মায়ের ব্লাউজের ওপর দিয়ে হাত ঢুকিয়ে তার ভারী স্তন দুটো পশুর মতো টিপে যাচ্ছে।
দৃশ্যটা প্রীতমের চোখের সামনে এক বিভীষিকার মতো ভেসে উঠল। নিজের মায়ের এই নির্লজ্জ রূপ, আর তার বন্ধুদের এই পাশবিকতা—সব মিলিয়ে তার মনে হলো ঘরের বাতাসটা যেন বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। মায়ের মুখে কোনো প্রতিবাদের চিহ্ন নেই, বরং এক অদ্ভুত সম্মোহনী তৃপ্তির ছাপ স্পষ্ট। প্রীতম নিজের হাতের নখ নিজের তালুতে বিঁধিয়ে ফেলল, যেন যন্ত্রণার সাহায্যে সে এই দৃশ্য থেকে মন সরিয়ে নিতে পারে। কিন্তু তার চোখ স্থির হয়ে রইল ওই বীভৎস খেলার দিকেই। সে বুঝতে পারল, এই চার দেয়ালের ভেতরে নৈতিকতার কোনো বালাই নেই, আর সে আজ এমন এক নরকের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, যেখান থেকে ফিরে আসার কোনো পথ তার জানা নেই।
দৃশ্যটা দেখে প্রীতমের বুকের ধড়ফড়ানি কিছুটা কমলেও, তার মনের ভেতরে অন্য এক অস্বস্তির দানা বাঁধল। সে দেখল, অয়ন আর রাহাত তাদের সেই আপত্তিকর কাজ থেকে সরে এসে হঠাৎ বেশ যত্ন করে উপহার বের করছে। অয়ন ব্যাগ থেকে একটি নথনি বের করল, আর প্রীতম—অর্থাৎ অয়নের বন্ধুটি—দুই জোড়া কানের দুল বের করল মায়ের জন্য।
উপহারগুলো দেখে কমলা দেবীর চোখেমুখে এক অদ্ভুত খুশির ঝিলিক খেলে গেল। তিনি আয়নার দিকে তাকিয়ে উৎসুক ভঙ্গিতে বললেন, "বাহ! হেভি সুন্দর হয়েছে তো! এগুলো পরলে আমাকে খুব ভালো মানাবে, তাই না?"
মায়ের এই কথায় অয়ন আর রাহাত যেন কোনো এক সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। তারা খুব সাবলীলভাবে, অনেকটা অধিকারের সুরে বলে উঠল, "হ্যাঁ, অবশ্যই মানাবে। আমাদের রূপের রানী কমলা, তোমাকে সব কিছুই দারুণ লাগে।"
প্রীতম জানলার ফাঁক দিয়ে পুরো ব্যাপারটা দেখছিল। তার সবথেকে বেশি অবাক লাগল মায়ের প্রতিক্রিয়ায়। কোনো বন্ধু তাকে 'আন্টি' না বলে সরাসরি 'কমলা' বলে সম্বোধন করছে, অথচ মা বিন্দুমাত্র প্রতিবাদ করলেন না। উল্টো মায়ের সেই রূপের অহংকার আর বন্ধুদের দেওয়া সম্বোধনে এক ধরণের নীরব সম্মতির আভাস সে দেখতে পেল। এই ঘটনাটা প্রীতমের মনে একটা বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিল—মায়ের চোখে কি তাহলে সম্মানের সীমারেখাগুলো এভাবেই মুছে যাচ্ছে? সে দেখল, মা নিজের আঙুল দিয়ে কানের দুলগুলো ধরে আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি দেখছেন আর অয়ন-রাহাতের দিকে তাকিয়ে তৃপ্তির হাসি হাসছেন। প্রীতমের মনে হলো, এই উপহারগুলো কেবল অলঙ্কার নয়, বরং এই সম্পর্কের এক নতুন ধাপের প্রতীক, যা সে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না।
প্রীতম জানলার ফাঁক দিয়ে এই অমানবিক দৃশ্য দেখে পাথরের মতো জমে রইল। তার চোখের সামনেই যেন তার বাবার অস্তিত্ব মুছে ফেলা হচ্ছে। অয়ন বাবার দেওয়া সেই দামি কানের দুলগুলো অত্যন্ত অবজ্ঞার সাথে কান থেকে ছিঁড়ে ড্রেসিং টেবিলের ওপর ছুড়ে ফেলল। মা একবারও বাধা দিলেন না, বরং অয়নের আনা নতুন ঝুমকো জোড়া পরম আগ্রহে কানে পরে নিলেন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সেই নতুন অলঙ্কারে নিজেকে সাজিয়ে মা যেভাবে মুগ্ধ হয়ে দেখছিলেন, তাতে নিজের স্বামী অর্থাৎ প্রীতমের বাবার স্মৃতি বা মর্যাদার প্রতি কোনো ন্যূনতম শ্রদ্ধা অবশিষ্ট ছিল না।
এরপর রাহাত তার আনা সেই নথনিটি বের করল। রাহাতের সেই প্রশ্ন—"কমলা, আমাদের . ধর্মে এই নথনি পরানো মানে কি জানো?"—এবং তার উত্তরে নথনি পরানোকে "কোনো মহিলাকে নিজের করে পাওয়া" হিসেবে আখ্যা দেওয়াটা প্রীতমের কানে বিষের মতো ঢুকল। মায়ের সেই লজ্জিত হাসি এবং মাথা নিচু করে সেই নথনি নাকের অলঙ্কার হিসেবে গ্রহণ করাটা যেন এক চূড়ান্ত আত্মসমর্পণের দৃশ্য।
প্রীতমের সবথেকে বেশি গ্লানি হচ্ছিল এই দেখে যে, মা নিজের অলঙ্কার বা সাজগোজের আতিশয্যে এতটাই বিভোর যে, তার শরীরের আঁচলটা মেঝেতে ধুলোয় লুটোচ্ছে, তাতে তার কোনো বিকার নেই। নিজের সম্মান, তার স্বামীর স্মৃতি—সবকিছুকে পায়ের নিচে ঠেলে দিয়ে, পরপুরুষের দেওয়া উপহারে সজ্জিত হয়ে মা এক অন্য জগতের নেশায় মত্ত। প্রীতমের মনে হলো, এই ঘরের ভেতরে যে নারীটি বসে আছে, সে তার মা—যাকে সে চিনত—সে যেন কোথাও হারিয়ে গেছে, পড়ে আছে কেবল এক দেহসর্বস্ব নিস্পৃহ মূর্তি।
জানলার বাইরে থেকে প্রীতম যা দেখল, তা তার সহ্যশক্তির শেষ সীমাটুকুও ভেঙে দিল। অয়ন আর রাহাত হঠাৎ মোবাইলে উচ্চস্বরে গান ছেড়ে দিয়ে মায়ের চারপাশ ঘিরে নাচতে শুরু করল। ঘর কাঁপানো সেই গানের শব্দে প্রীতম আতঙ্কিত হয়ে পড়ল, কারণ সে জানত যেকোনো মুহূর্তেই এই শব্দ বাইরে পৌঁছে যাবে। মা নিজেও শিউরে উঠে ভীত কণ্ঠে বললেন, "সাউন্ড কমা! আমার ছেলে শুনতে পাবে!"
মায়ের এই উদ্বেগকে তারা দুজন বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিল না। অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে রাহাত তাচ্ছিল্যের সুরে বলে উঠল, "তোমার ওই ভিরু ছেলের কোনো দামই নেই। ওর কথা ভুলে যাও, আমরা শুধু তোমার কথাই ভাবব।"
এই কথা বলার পরেই তারা কোনো সংকোচ ছাড়াই মায়ের একদম গা ঘেঁষে নাচতে শুরু করল। প্রীতমের মনে হলো, তার নিজের ঘরে, তার মায়ের চোখের সামনেই তাকে এভাবে অপমানিত হতে দেখাটা কোনো দুঃস্বপ্নের চেয়ে কম নয়। মাকেও সে দেখল সেই নাচের ছন্দে নিজেকে সঁপে দিতে, যেন তিনি এক অদ্ভুত মোহে আচ্ছন্ন। অয়ন আর রাহাতের শরীরের প্রতিটি ঘনিষ্ঠ ছোঁয়া মা যেন উপভোগ করছেন। প্রীতম বুঝতে পারল, এই চার দেয়ালের ভেতরে তার উপস্থিতি বা তার অস্তিত্ব এখন সত্যিই কোনো অর্থ বহন করে না। সে নিজের হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরল, যাতে তার ফুঁপিয়ে কান্নার শব্দও বাইরে না বেরিয়ে যায়, আর জানলার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে রইল এক ভয়াবহ দৃশ্যের দিকে যা তার পুরো জগতকে তছনছ করে দিচ্ছে।
ড্রয়িংরুমের আড়াল থেকে বা জানলার বাইরে থেকে প্রীতম যা দেখল, তাতে তার চোখ ধাঁধিয়ে গেল। অয়ন আর রাহাত হঠাৎ পুরো ঘরের সব কটা লাইট জ্বালিয়ে দিল। মুহূর্তের মধ্যে শোবার ঘরটা যেন দিনের আলোর মতো ঝলমলে হয়ে উঠল। এই তীব্র আলোয় যেন তাদের সেই নগ্ন নোংরামিগুলো আরও স্পষ্ট, আরও প্রকট হয়ে উঠল।
এতক্ষণ যারা অন্ধকারের আড়ালে নিজেদের গোপন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিল, তারা এখন আলোর নিচে দাঁড়িয়ে এমনভাবে নাচানাচি করছে যেন এটাই তাদের স্বাভাবিক আচরণ। উজ্জ্বল আলোর ঝলকানিতে মা কমলা দেবীর মুখটা প্রীতমের চোখে পড়ল—একটুও অপরাধবোধ নেই, বরং অয়ন আর রাহাতের সেই কামনার ছন্দে তিনি যেন এক অদ্ভুত অহংকারে উজ্জ্বল হয়ে আছেন। সেই তীব্র আলোর নিচে মায়ের শাড়ি, গয়না, আর তার বন্ধুদের সেই অসভ্য শরীরী ভাষা প্রীতমের কাছে এক চরম বিভীষিকার মতো মনে হলো।
প্রীতম বুঝতে পারল, তারা শুধু ঘরটাই আলোকিত করেনি, বরং তাদের এই জঘন্য কাজের বীভৎসতাকেও আলোর নিচে নিয়ে এসেছে—যেন তারা পৃথিবীকে দেখাতে চায় যে তাদের এই সম্পর্কের কাছে নৈতিকতা বা লোকলজ্জার কোনো দাম নেই। প্রীতম জানলার ফাঁক থেকে আর এক মুহূর্তও চোখ সরিয়ে নিতে পারল না, অথচ তার মনে হলো এই আলোর তীব্রতা যেন তার নিজের চোখের ভেতরে গিয়ে বিঁধছে।
প্রীতমের বুকের ভেতর রাগ আর লজ্জার এক প্রচণ্ড দাবানল জ্বলছিল। তার মনে হচ্ছিল, এই মুহূর্তেই সে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়বে, অথবা এই বাড়ি থেকে চিরতরে বেরিয়ে যাবে। তার নিজের মায়ের এমন নগ্ন বিলাসিতা এবং বন্ধুদের এই অসভ্য দাপট তার ভেতরের সমস্ত অস্তিত্বকে দুমড়ে-মুচড়ে দিচ্ছিল। সে কয়েকবার পা বাড়াল এখান থেকে সরে যাওয়ার জন্য, কিন্তু প্রতিবারই তার পা থমকে গেল।
এক অদ্ভুত, অসুস্থ আকর্ষণ তাকে আটকে রাখল জানলার কাছে। তার মনে হলো, যদি সে এখনই সরে যায়, তবে সে কখনোই জানতে পারবে না এই নোংরা নাটকের চূড়ান্ত পরিণতি কী। ঘৃণা আর কৌতূহলের এক তীব্র দ্বন্দ্বে সে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছিল। সে নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করছিল—কেন সে সরে যেতে পারছে না? কেন তার আত্মা এই বীভৎসতা দেখার জন্য বারবার লালায়িত হচ্ছে?
সে জানলার কার্নিশটা শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রইল। তার হাত কাঁপছিল, কপাল বেয়ে ঘাম ঝরছিল, কিন্তু তার দৃষ্টি ছিল ঘরের সেই ঝলমলে আলোয় উদ্ভাসিত দৃশ্যের ওপর। সে যেন এক জ্যান্ত নরকের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রইল, যেখানে লজ্জা তার শেষ সীমা হারিয়ে ফেলেছে আর প্রীতমের সমস্ত পৃথিবী চোখের সামনেই ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে। সে কি নিজেকে শাস্তি দিচ্ছে, নাকি এই ঘৃণ্য বাস্তবতাকে শেষ পর্যন্ত দেখে নিজের ভিতরের সবটুকু বিশ্বাস গুঁড়িয়ে দিতে চাইছে? সে শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল, ভেতরে কী ঘটে—সেই চূড়ান্ত অঘটনের অপেক্ষায়।
দৃশ্যটি প্রীতমের কাছে এক চরম বিভীষিকার মতো অনুভূত হলো। জানলার ওপাশ থেকে সে দেখল, রাহাত মায়ের শাড়ির আঁচলটা ধরে এক অদ্ভুত বিকৃত উল্লাসে টান দিচ্ছে। আর কমলা দেবী, যিনি প্রীতমের মা, তিনি কোনো বাধা তো দিলেনই না, বরং রাহাতের সেই টানে খুশিতে আত্মহারা হয়ে পাক খেয়ে ঘুরতে শুরু করলেন।
শাড়ির ভাঁজ খুলতে খুলতে যখন তা মেঝেতে লুটোচ্ছিল, তখন পুরো ঘর জুড়ে এক বীভৎস দৃশ্য তৈরি হলো। এটি যেন প্রীতমের চোখের সামনে এক আধুনিক 'বস্ত্রহরণ'-এর দৃশ্য, যেখানে কোনো প্রতিরোধ নেই, বরং আছে এক অসুস্থ সহমর্মিতা। প্রীতমের মনে হলো, সে আজ এমন এক দুঃশাসন দেখছে, যে কেবল শাড়ি খুলছে না, বরং মা নিজেই স্বেচ্ছায় সেই আদিম খেলাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।
মায়ের চোখের সেই নেশাতুর চাহনি আর রাহাতের পৈশাচিক হাসি—দুটোই প্রীতমের মস্তিষ্কের প্রতিটি কোষকে যেন দগ্ধ করছিল। নিজের মায়ের এই নির্লজ্জ উন্মাদনা আর তার নিজের সামনে ঘটা এই চরম অবমাননা প্রীতমকে এক গভীর অন্ধকারে ঠেলে দিল। সে জানলার ফাঁক দিয়ে দেখল, শাড়ি খোলার সেই প্রতিটা পাক যেন মায়ের নৈতিকতার শেষ আবরণটুকুও মুছে ফেলছে। অয়ন এবং রাহাত এখন পুরো ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে, আর মা যেন তাদের হাতের পুতুল—অথবা এমন এক নারী, যে আজ নিজেই তার সম্ভ্রম বিসর্জন দিয়ে এই বিকৃত খেলায় মেতে উঠতে ব্যাকুল। প্রীতম নিজের চোখের ওপর হাত চাপা দিতে চাইলেও পারল না; তার শরীর জমে বরফ হয়ে গিয়েছিল, শুধু মনের ভেতরে ঘৃণা আর ধিক্কারের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছিল।
জানলার আড়ালে দাঁড়িয়ে প্রীতম দেখল, রাহাত মায়ের পরনের সেই দামি বেনারসি শাড়িটা এক ঝটকায় খুলে নিয়ে ঘরের কোণে ছুড়ে মারল। শাড়িটা উড়তে উড়তে গিয়ে আছড়ে পড়ল মাটিতে, যেন তাতে মায়ের সমস্ত কৌলিন্য ও সম্মানের অবশিষ্টাংশটুকুও বিলীন হয়ে গেল। এই চরম নগ্নতায় মা একটুও বিচলিত হলেন না, বরং রাহাতের এই আস্ফালনে তিনি যেন আরও বেশি উদ্দীপ্ত হয়ে উঠলেন।
পরক্ষণেই অয়ন আর রাহাত আবার প্রবল উন্মাদনায় নাচানাচি শুরু করে দিল। উজ্জ্বল আলোয় ঘরময় তখন এক বিশৃঙ্খল ও বিকৃত পরিবেশ। গান আর অট্টহাসির শব্দের সাথে মায়ের সেই অনাবৃত দেহের দোদুল্যমান গতি প্রীতমের কাছে এক অসহ্য বিভীষিকার মতো মনে হলো। তার মনে হলো, ঘরের ওই চার দেয়াল যেন এক জ্যান্ত নরক হয়ে উঠেছে, যেখানে কোনো মানুষের অস্তিত্ব নেই—আছে শুধু কিছু আদিম প্রবৃত্তি।
প্রীতম নিজের জানলার কার্নিশটা এমনভাবে চেপে ধরল যে তার নখ থেকে রক্ত বের হওয়ার উপক্রম হলো। তার পায়ের নিচের মাটি যেন পুরোপুরি ধসে গেছে। এই নাচ, এই উন্মাদনা, আর মায়ের ওই সম্মতিসূচক হাস্যোজ্জ্বল মুখ—এই সব মিলিয়ে প্রীতমের কাছে সত্য আর মিথ্যার সীমারেখাটাই মুছে গেল। সে কি সত্যিই তার নিজের মাকে দেখছে? নাকি এটা কোনো দুঃস্বপ্ন যা শেষ হওয়ার নামই নিচ্ছে না? সে শুধু পাথরের মতো চেয়ে রইল, কারণ এই মুহূর্তের চেয়ে ভয়াবহ আর কিছু তার জীবনে হতে পারত না।
ঘর কাঁপানো সেই অট্টহাসি আর গান হঠাৎই থেমে গেল, যার ফলে ঘরের ভেতরের নিস্তব্ধতা আরও বেশি ভারী হয়ে উঠল। প্রীতমের হৃৎপিণ্ড তখন বুকের ভেতরে অসংলগ্নভাবে কাঁপছে। জানলার সরু ফাঁক দিয়ে তার দৃষ্টি স্থির হয়ে রইল ওই বীভৎস দৃশ্যের ওপর।
অয়ন আর রাহাত যেন এখন শিকারের শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অয়ন তার দু হাত দিয়ে মাকে এমনভাবে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল, যা কোনো সন্তানের ভালোবাসা নয়, বরং চরম অধিকারবোধের পরিচায়ক। রাহাত নিশ্চিন্তে বিছানার ওপর গিয়ে বসল, যেন সে একজন দর্শক, যে পুরো ঘটনাটি উপভোগ করতে প্রস্তুত।
প্রীতম দেখল, অয়নের হাতগুলো সাপের মতো মায়ের পিঠ বেয়ে উঠে এল। প্রতিটি হুক খোলার শব্দ যেন প্রীতমের কানে এসে বাজছিল এক একটি চাবুকের মতো। ব্লাউজের হুকগুলো একটা একটা করে খুলে পড়ার সময় অয়ন যেন এক পৈশাচিক আনন্দ পাচ্ছিল, আর কমলা দেবী সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন সম্পূর্ণ নিষ্প্রভ। শেষ হুকটা খোলার সাথে সাথে অয়ন সেই লাল রঙের ব্লাউজটা মায়ের শরীর থেকে টেনে খুলে নিল এবং আগের সেই শাড়ির মতোই অবজ্ঞার সাথে ঘরের এক কোণে ছুড়ে ফেলে দিল।
আলোর ঝলকানিতে মায়ের অনাবৃত শরীরের ঊর্ধ্বাংশ প্রীতমের চোখে পড়ল। তার মনে হলো, মায়ের সেই শরীরটা আর তার নয়, সেটি এখন অয়ন আর রাহাতের লালসার এক ক্রীড়নক মাত্র। ঘৃণা, লজ্জা আর অভিমানে প্রীতমের চোয়াল শক্ত হয়ে এল। সে চেয়েও চোখ ফেরাতে পারছিল না। এই চরম নগ্নতার সামনে দাঁড়িয়ে প্রীতম অনুভব করল যে, সে যে মা-কে এতদিন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক বলে জেনে এসেছে, সেই প্রতিচ্ছবিটি চিরতরে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। পড়ার ঘরের সেই অন্ধকারের মধ্যে প্রীতম নিজের অস্তিত্বকে হারিয়ে ফেলছিল, কারণ তার চোখের সামনেই আজ তার পুরো জগত তছনছ হয়ে যাচ্ছে।
জানলার আড়াল থেকে প্রীতমের কানে প্রতিটি শব্দ যেন শেলের মতো এসে বিঁধছিল। সে দেখল, ঘরের উজ্জ্বল আলোয় মা দাঁড়িয়ে আছেন প্রায় নগ্ন অবস্থায়, পরনে শুধু অন্তর্বাস। এক সময়ের সেই স্নেহময়ী মা এখন এক কামুক দাবার ঘুঁটি হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।
প্রীতম দেখল, অয়ন সরাসরি মায়ের সেই অন্তর্বাসের ওপর দিয়েই তার স্তন দুটোর আকৃতি নিয়ে কুৎসিত ঠাট্টা করছে। অয়নের কণ্ঠে সেই প্রশ্ন শুনে প্রীতমের শরীরের রক্ত হিম হয়ে গেল—"কমলা আমার কমলা সুন্দরী, তোমার এই স্তন দুটোর সাইজ কত?"
প্রীতম আরও স্তম্ভিত হলো যখন দেখল, মা কোনো প্রতিবাদ তো করলেনই না, বরং এক অদ্ভুত লজ্জা আর আত্মসমর্পণ নিয়ে মাথা নিচু করে জবাব দিলেন, "৪২।"
এই উত্তর শুনে অয়ন আর রাহাত অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল। সেই হাসির শব্দে ঘরের পরিবেশটা আরও বিষাক্ত হয়ে উঠল। এরপর অয়ন ব্রার ওপর দিয়েই মায়ের স্তন দুটো চেপে ধরল, যেন সে কোনো জড় বস্তুর পরিমাপ নিচ্ছে। প্রীতমের মনে হলো, এই মুহূর্তেই তার হৃদস্পন্দন থেমে যাবে। সে দেখতে পাচ্ছিল, তার মা অয়ন ও রাহাতের এই নোংরা স্পর্শে কোনো অস্বস্তি বোধ করছেন না, বরং সেই লালসা তাকে যেন আরও নেশাগ্রস্ত করে তুলছে। জানলার কার্নিশটা প্রীতম তার সমস্ত শক্তি দিয়ে খামচে ধরল, তার আঙুলগুলো সাদা হয়ে গেছে, আর মনের ভেতর অসহ্য গ্লানিতে সে যেন ভেতর থেকে কুঁকড়ে যাচ্ছিল। তার চোখের সামনে তার মায়ের শরীরের এই প্রকাশ্য প্রদর্শন আর বন্ধুদের এই আস্ফালন তার অস্তিত্বের শেষ সম্বলটুকুও যেন কেড়ে নিল।
প্রীতম স্তব্ধ হয়ে দেখল, অয়ন বিছানায় সরে যেতেই রাহাত এবার মায়ের কাছে এগিয়ে এল। রাহাতের আলিঙ্গনটি ছিল বন্য এবং অধিকারসূচক। সে মায়ের মুখে বারবার চুমু খেতে লাগল আর তার হাতগুলো অসংযতভাবে মায়ের কোমরের চারপাশে ঘুরপাক খেতে শুরু করল। এই দৃশ্যটি প্রীতমের কাছে মনে হলো যেন কোনো এক পৈশাচিক শক্তির জয়জয়কার।
চুম্বনের তীব্রতায় মত্ত হয়ে রাহাত হঠাৎ মায়ের পরনের শায়ার দড়িতে এক জোরালো টান দিল। মুহূর্তের মধ্যে শায়াটি আলগা হয়ে ঝম করে মেঝেতে পড়ে গেল। এই আচমকা ঘটনায় কমলা দেবী যেন কিছুটা সম্বিৎ ফিরে পেলেন। তার চোখেমুখে মুহূর্তের জন্য ভয়ের ছায়া দেখা গেল, যেন তিনি হঠাৎ বুঝতে পারলেন যে সব সীমা অতিক্রম করে তিনি নিজেকে এক ঘোরতর বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। তিনি যেন এক নিমেষে বুঝতে পারলেন যে, তিনি এক বিরাট ভুল করে ফেলেছেন।
কিন্তু তার সেই মুহূর্তের সচেতনতাকে রাহাত পাত্তাই দিল না। তার কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই মায়ের সেই লজ্জার দিকে। সে অত্যন্ত অবজ্ঞার সাথে মেঝেতে পড়ে থাকা শায়াটি কুড়িয়ে নিল এবং অয়নের ছোঁড়া শাড়ি আর ব্লাউজের মতোই সেটিকেও ঘরের এক কোণায় সজোরে ছুড়ে ফেলে দিল।
প্রীতম দেখল, এখন তার মা দাঁড়িয়ে আছেন শুধুমাত্র অন্তর্বাসে। সেই তীব্র আলোর নিচে মায়ের নগ্নতা এখন সম্পূর্ণ, আর রাহাতের সেই দম্ভভরা আচরণ মায়ের সমস্ত ব্যক্তিত্বকে যেন ধূলায় মিশিয়ে দিচ্ছে। প্রীতমের মনের ভেতরে তখন এক গভীর শূন্যতা। সে দেখল, মা নিজের এই নগ্নতাকে আর ঢাকতে পারছেন না, আর তার সেই ভুলের উপলব্ধি সত্ত্বেও তিনি যেন রাহাতের দাপটের কাছে পুরোপুরি অসহায়। প্রীতম নিজের চোখের জল আর ধরে রাখতে পারল না, তার মনে হলো তার পৃথিবীটা আজ এক অসহ্য নোংরা খেলার মঞ্চে পরিণত হয়েছে।
RE: মা কি আমারই মা? -
X Man - 09-10-2026
Part:02
প্রীতমের কাছে মনে হলো তার ঘরের চার দেয়াল যেন ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। অয়ন আর রাহাত এখন বিছানায় রাজার ভঙ্গিতে বসে আছে, আর তার মা—যার প্রতিটি পদক্ষেপ একসময় ছিল গাম্ভীর্যের প্রতীক—তিনি এখন তাদের আদেশের ক্রীড়নক।
মা মাথা নাড়লেন, যেন তাদের দেওয়া উপহারের কথা তাঁর মনে আছে। প্রীতম দেখল, "তুই" বলে সম্বোধন করার পর মায়ের মধ্যে বিন্দুমাত্র ক্ষোভ নেই, বরং এক অদ্ভুত ভৃত্যসুলভ বাধ্যবাধকতা কাজ করছে। মা নিঃশব্দে আলমারির দিকে এগিয়ে গেলেন এবং সেখান থেকে বের করলেন সেই চার ইঞ্চি উঁচু লাল পেন্সিল হিল। প্রতিটি নড়াচড়ায় মায়ের অবিন্যস্ত শরীরটা কেঁপে উঠছিল, কিন্তু তিনি থামলেন না। হাই হিল জোড়া পায়ে গলিয়ে নেওয়ার পর তিনি যখন সোজা হয়ে দাঁড়ালেন, তখন সেই তীব্র আলোর নিচে তাঁকে এক বিভীষিকাময় মূর্তির মতো দেখাচ্ছিল—লাল রঙের ব্রা, প্যান্টি আর উজ্জ্বল লাল হাই হিল।
দুই বন্ধু হাততালি দিয়ে উঠল, তাদের চোখে সেই আদিম উল্লাস। তারা যেন কোনো পণ্য প্রদর্শনীর আনন্দ উপভোগ করছে। অয়ন ও রাহাত নির্দেশ দিল, "যা, এবার র্যাম্প ওয়াক কর।"
মা কোনো প্রশ্ন করলেন না, কোনো দ্বিধা দেখালেন না। ঘরের এক কোণা থেকে অন্য কোণায়, পায়ের সেই চার ইঞ্চি হিলের খটখট শব্দে তিনি হাঁটতে শুরু করলেন। প্রীতম দেখল, তার নিজের মা এক অমানুষিক নির্লজ্জতার সাথে তার চোখের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন, আর সেই হাঁটার ছন্দে তাদের প্রতিটা কুৎসিত চাহনি মায়ের ওপর আছড়ে পড়ছে। প্রতিটি পদক্ষেপে মা যেন নিজের সম্মান আর প্রীতমের সমস্ত অস্তিত্বকে পদদলিত করে চলেছেন। প্রীতমের মনে হলো, এই দৃশ্য দেখার পর তার বেঁচে থাকা আর না থাকা সমান। তার হৃদপিণ্ড যেন থমকে দাঁড়িয়েছে, আর চোখের সামনে মা যেন এক অপার্থিব, বিভীষিকাময় সংলাপে লিপ্ত—যেখানে মনুষ্যত্বের কোনো অবশিষ্ট নেই।
প্রীতম জানলার ফাঁক থেকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল, আর তার প্রতিটি শিরা যেন অপমানে ফেটে যাচ্ছিল। সেই তীব্র আলোর নিচে, মায়ের লাল হাই হিলের খটখট শব্দের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিটি পদক্ষেপে তার শরীরের প্রতিটি অংশ দুলছিল। লাল রঙের অন্তর্বাস পরিহিত মায়ের শরীরের সেই নগ্ন দোলন অয়ন আর রাহাত যেভাবে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল, তাতে তাদের চোখেমুখে ফুটে উঠছিল এক বিকৃত তৃপ্তি আর লালসার ছাপ।
মা যেন এক যান্ত্রিক পুতুলের মতো হেঁটে চলেছিলেন, আর প্রতিবার শরীর দুলে ওঠার সাথে সাথে দুই বন্ধুর অট্টহাসি আর কুৎসিত মন্তব্য ঘরের নিস্তব্ধতাকে আরও ভারী করে তুলছিল। তারা শুধু দেখছিলই না, বরং প্রতিটি ভঙ্গি নিয়ে এমনভাবে আলোচনা করছিল যেন মা একজন কোনো পণ্য বা প্রদর্শনী বস্তু। প্রীতমের মনে হলো, তার মায়ের শরীরের প্রতিটি স্পন্দন যেন তার নিজের বুকের ওপর হাতুড়ির ঘা হিসেবে পড়ছে।
ঘাম আর আতঙ্কে প্রীতমের সারা শরীর ভিজে যাচ্ছিল, তবুও সে চোখ ফেরাতে পারছিল না। তার মনে হচ্ছিল, এই বিকৃত আনন্দের সাক্ষী হওয়াটাই হয়তো তার বর্তমান জীবনের সবথেকে বড় শাস্তি। ঘরের সেই উজ্জ্বল আলোয় মায়ের শরীরের সেই দুলুনি আর দুই বন্ধুর সেই কামুক চাহনি প্রীতমের মস্তিষ্কে এক গভীর ক্ষত তৈরি করে দিচ্ছিল, যা কোনোদিনও মুছে যাওয়ার নয়। সে দেখল, মা নিজের সম্মান বা লজ্জা বিসর্জন দিয়ে সম্পূর্ণভাবে তাদের আদেশের অনুগত হয়ে পড়েছেন, আর সেই দোদুল্যমান শরীর যেন প্রীতমের সামনেই ধূলিসাৎ করে দিচ্ছিল পরিবারের সমস্ত পবিত্রতা।
প্রীতম দেখল, অয়ন আর রাহাত আর শুধু দর্শক হয়ে বসে রইল না। তারা দুজনে একসাথে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল এবং বিদ্যুৎগতিতে মায়ের কাছে গিয়ে পৌঁছাল। প্রীতম দেখল, মা যেন এক অসহায় পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে আছেন, আর দুই বন্ধু চারদিক থেকে তাকে ঘিরে ধরে ফেলেছে।
অয়ন আর রাহাতের চারটে হাত যেন একযোগে সচল হয়ে উঠল। মায়ের শরীরের প্রতিটি কোণে, প্রতিটি বাঁকে তাদের অসংযত হাতের স্পর্শ যেভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছিল, তা দেখে প্রীতমের দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হলো। তারা একে অপরের সাথে পাল্লা দিয়ে মায়ের শরীরের ওপর তাদের মালিকানা ফলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। মা যেন এখন তাদের খেলার সামগ্রী—যেখানে কোনো সংকোচ নেই, নেই কোনো বাধা।
প্রীতম দেখল, মায়ের মুখটা এখন দেয়ালে হেলান দেওয়া, চোখের পাতা আধবোজা, আর রাহাতের হাত মায়ের পেটের ওপর দিয়ে নিচে নামছে, অন্যদিকে অয়ন পেছন থেকে মায়ের পিঠ আর কাঁধ নিজের আয়ত্তে নিয়েছে। প্রতিটি স্পর্শে মায়ের শরীর শিউরে উঠলেও, তার মুখে কোনো প্রতিবাদের চিহ্ন নেই, বরং সেই বিকৃত আমোদ আর সম্মোহনে তিনি যেন নিজেকে পুরোপুরি বিলিয়ে দিয়েছেন। জানলার ওপাশ থেকে প্রীতম নিজের নখ দিয়ে জানলার ফ্রেমটা এমন জোরে খামচে ধরল যে, তার নিজের হাতের তালু ছিঁড়ে যাওয়ার উপক্রম হলো। তার মনে হলো, তার চোখের সামনেই তার অস্তিত্বের ভিত্তিটা চুরমার হয়ে যাচ্ছে, আর এই দুই বন্ধু মায়ের শরীরের ওপর যে অসভ্য তাণ্ডব চালাচ্ছে, তা সহ্য করা তার ক্ষমতার বাইরে। তার মাথার ভেতর তখন শুধু একটাই চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিল—এই নরক থেকে কি সত্যিই কোনো মুক্তি নেই?
প্রীতম জানলার ওপাশ থেকে দৃশ্যটি দেখে পাথরের মতো জমে রইল, তার শরীরের প্রতিটি রক্তকণিকা যেন জমে বরফ হয়ে গেছে। অয়ন এবং রাহাতের এই ক্ষমতার দাপট আর মায়ের চরম অবনমন তার সমস্ত নৈতিক বোধকে চুরমার করে দিল।
রাহাত বিছানায় বসে পুরো দৃশ্যটি উপভোগ করছিল, আর অয়ন মায়ের পেছনে গিয়ে দাঁড়াল। অয়ন যখন মায়ের সেই লাল ব্রা-টির হুকগুলো খুলল, প্রীতম দেখল ব্রা-টি খুলে মেঝেতে পড়ার সাথে সাথেই মায়ের স্তন দুটি মুক্ত হয়ে সামনে ঝুঁকে পড়ল। সেই অনাবৃত শরীরের সেই অদ্ভুত নড়াচড়ায় দুই বন্ধু অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল। অয়ন আবার সেই কদর্য প্রশ্নটিই করল, "কিরে কমলা, তোর এই স্তন দুটোর সাইজ কত?"
প্রীতম আশা করেছিল মা অন্তত এই চরম অপমানে প্রতিবাদ করবেন, কিন্তু মা বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে লজ্জার ভান করে মাথা নিচু করে উত্তর দিলেন, "৪২, মালিক।"
'মালিক'—এই একটি শব্দ প্রীতমের কানে এসে বিঁধল যেন তপ্ত লোহার শলাকা। মা, যাকে সে আজীবন মাতৃমূর্তির পবিত্রতায় দেখে এসেছে, তিনি আজ পরপুরুষকে 'মালিক' সম্বোধন করছেন! এই অকল্পনীয় পরিবর্তন প্রীতমের মনে এক গভীর মানসিক ধাক্কা দিল। সে বুঝতে পারল, ঘরের ভেতরে থাকা এই নারীটি তার চেনা সেই মানুষটি নন, বরং তিনি এমন এক ঘোর আর দাসত্বে বন্দি, যেখান থেকে বেরিয়ে আসা অসম্ভব।
অয়ন যেন আরও বেশি উৎসাহিত হয়ে উঠল। সে মায়ের পিঠের দিক থেকে এসে মায়ের সেই স্তন দুটি দুহাতে জাপটে ধরল, ঠিক যেভাবে ময়দা মাখানো হয়। মায়ের শরীরের ওপর সেই অবমাননাকর স্পর্শ দেখে প্রীতমের শ্বাসরোধ হওয়ার উপক্রম হলো। তার সামনে তার মা একজন জীবন্ত ক্রীড়নক হয়ে পড়েছেন, আর প্রীতম—যিনি তার নিজের ঘরের ভেতরেই এক দর্শক মাত্র—সেই মুহূর্তের অসহ্য গ্লানি আর ঘৃণা নিজের ভেতরে চেপে ধরে কেবল তাকিয়ে রইল। তার জগত, তার পরিচয়, আর তার মায়ের সম্মান—সবই যেন সেই দুই বন্ধুর হাতের মুঠোয় পিষ্ট হচ্ছিল।
প্রীতমের মনে হলো তার হৃদপিণ্ড বুঝি তখনই থমকে যাবে। অয়ন সরে আসতেই রাহাত বিদ্যুৎগতিতে মায়ের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। প্রীতম দেখল, রাহাত এক নিমেষে মায়ের পরিহিত শেষ বস্ত্রটুকু অর্থাৎ প্যান্টিটি টেনে মাটিতে নামিয়ে আনল। পা থেকে সেটি সরিয়ে নিয়ে রাহাত পরম তৃপ্তিতে একদফা শুঁকে দেখল, যেন কোনো মূল্যবান জিনিস সংগ্রহ করছে—তারপর সেটিকে দূরে ছুড়ে ফেলে দিল।
মুহূর্তের মধ্যে প্রীতমের মা সম্পূর্ণ উলঙ্গ অবস্থায় দাঁড়িয়ে রইল। উজ্জ্বল আলোর নিচে এই নগ্নতা প্রীতমের চোখে এক ভয়াবহ বিভীষিকা হয়ে উঠল। তবে অদ্ভুতভাবে, মায়ের সেই অনাবৃত শরীরের প্রতিটি অলঙ্কার প্রীতমের দৃষ্টি এড়ালো না। গলার হার, দুই হাতের শাখা-পলা ও চুড়ি, নাকে সেই নথনি, কানে দুল, পায়ে নূপুর এবং কোমরে সেই কোমরবন্ধ—সবকিছুই মায়ের শরীরে বর্তমান। অলঙ্কারে সুসজ্জিত এক নগ্ন শরীর, যা প্রীতমের কাছে এক চরম অসংলগ্ন এবং বীভৎস দৃশ্য।
প্রীতম ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল। তার স্মৃতিতে থাকা সেই মমতাময়ী, স্নিগ্ধ গৃহবধূ মা আর এই মুহূর্তের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এই নারী—যিনি তার নিজের শরীরকে এক ক্রীড়নকের মতো অয়ন ও রাহাতের সামনে উন্মুক্ত করে দাঁড়িয়ে আছেন—এই দুটির মধ্যে কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছিল না সে। তার মা, যিনি প্রতিদিন তাকে ভালোবাসার চাদরে আগলে রাখতেন, তিনি আজ কীভাবে এমন নির্লজ্জ এবং এই বিকৃত আনন্দের অনুগত হতে পারেন, তা প্রীতমের বোধগম্য হচ্ছিল না।
অয়ন আর রাহাত এখন দূরে গিয়ে দাঁড়িয়েছে, যেন কোনো শিল্পকর্ম বা প্রদর্শনী দেখছে—মায়ের এই সম্পূর্ণ নগ্ন ও অলঙ্কৃত রূপটিকে তারা নিবিড়ভাবে উপভোগ করছিল। প্রীতমের কাছে এই মুহূর্তটি কেবল তার মায়ের অবমাননা নয়, এটি ছিল তার নিজের অস্তিত্ব আর বিশ্বাসভঙ্গের চরম মুহূর্ত। তার মনে হচ্ছিল, সে কোনো অন্য গ্রহে এসে পড়েছে, যেখানে তার পরিচিত মানুষগুলো মুখোশ বদলে ফেলেছে, আর সে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কেবল এই ধ্বংসলীলা দেখছে।
RE: মা কি আমারই মা? -
X Man - 09-10-2026
Part:03
প্রীতমের চোখের সামনে এখন প্রতিটি মুহূর্ত অসহ্য যন্ত্রণায় রূপ নিচ্ছে। অয়ন আর রাহাতের নির্দেশে মা যখন সেই উঁচু হাই হিল পরে খটখট শব্দে বিছানার দিকে এগিয়ে গেলেন, তখন প্রতিটি শব্দ প্রীতমের মাথার ভেতরে যেন এক একটি পেরেক গেঁথে দিচ্ছিল। মায়ের সেই যান্ত্রিক বাধ্যতা এবং হাই হিলের শব্দ মিলিয়ে এক অদ্ভুত অশুভ আবহ তৈরি হয়েছিল।
বিছানায় শোয়ানো মাত্রই রাহাত কোনো দ্বিধা ছাড়াই মায়ের শরীরের ওপর উঠে বসল। প্রীতম দেখল, রাহাত কোনো বিন্দুমাত্র মমতা বা সংকোচ ছাড়াই মায়ের স্তন দুটোকে প্রবল শক্তিতে পিষতে শুরু করল, যেন সে কোনো জড় বস্তুর ওপর নিজের আধিপত্য বিস্তার করছে। তারপরই সে ঝুঁকে পড়ে মায়ের স্তনে মুখ ডুবিয়ে চোষন শুরু করল। সেই দৃশ্যে অয়ন বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে দূরে সোফায় বসে রইল, তার চোখেমুখে এক পৈশাচিক ধৈর্য—যেন সে শিকারের জন্য রাহাতের পালা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় আছে।
মায়ের সেই সম্পূর্ণ নগ্ন শরীরে অলঙ্কারগুলোর ঝনঝনানি আর রাহাতের এই পাশবিক কামনার বহিঃপ্রকাশ প্রীতমের কাছে এক চূড়ান্ত মানসিক অবসাদ নিয়ে এল। মায়ের সেই শান্ত, স্নিগ্ধ ব্যক্তিত্ব কোথায় যেন চিরতরে হারিয়ে গেছে, আর তার জায়গায় রয়ে গেছে কেবল এক বিসর্জিত সত্তা। প্রীতম জানলার কার্নিশটা এত শক্ত করে আঁকড়ে ছিল যে তার আঙুলগুলো এখন পুরোপুরি অসার হয়ে গেছে। সে দেখল, মা অয়নের সেই কামুক চাহনি এবং রাহাতের এই বর্বরতায় যেন এক সম্মোহনের আচ্ছন্নতায় ডুবে আছেন। প্রীতমের কাছে এই মুহূর্তটি ছিল তার পুরো অস্তিত্বের মৃত্যু—যেখানে সে নিজেরই মা-কে আর চিনতে পারছিল না, শুধু এক ভয়াবহ বাস্তবতাকে নিরুপায় হয়ে দেখছিল।
রাহাত বিছানার ওপর মায়ের ওপর ঝুকে পড়ল, তার চোখ দিয়ে যেন আগুনের হলকা বেরোচ্ছে। সে মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে এক বিকৃত হাসি হাসল। অট্টহাসি দিয়ে বলল, "আমি জানতাম, তোদের মতো ঘরের মহিলারা ভেতর থেকে আসলে কতটা তৃষ্ণার্ত থাকে! তোদের মতো স্বাস্থ্যবতী নারী, যাদের এমন বিশাল স্তন, ভরা পাছা আর চওড়া কোমর—তোরা আসলে ভেতর থেকে কামাগ্নির আধার। এই প্রচণ্ড কামনাই তোদের শরীরের ক্রোধের আসল কারণ, আর সেই ক্রোধের বশবর্তী হয়েই তোরা স্বামীকে সারাক্ষণ ঝাঝিয়ে কথা বলিস।"
রাহাত আরও পৈশাচিক ভঙ্গিতে মায়ের বুকের ওপর নিজের ওজন চাপিয়ে দিয়ে বলতে লাগল, "তোরা যখন রাগে চিৎকার করিস, ঝাঝিয়ে কথা বলিস, তখন তোদের শরীর আর নিজেকে সামলাতে পারে না, কাম অঙ্গ থেকে অনবরত রস ঝরতে থাকে। এমনকি রেগে গিয়ে যখন নিজের ছেলের কান মূলে দিয়ে থাপ্পড় মারিস, তখনও তোদের কামনার বাঁধ ভেঙে যায়। তোরা আসলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতেই পারিস না!"
মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে সে এক চরম অপমানজনক আস্ফালনে বলল, "কিন্তু আমার এই ছিন্ন লিঙ্গ তোদের সেই তৃষ্ণা মেটানোর জন্য একাই যথেষ্ট।" এই কথা বলেই রাহাত মায়ের ওপর আরও হিংস্র হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল। তার প্রতিটা নড়াচড়া ছিল পৈশাচিক এবং নিপীড়নে ঠাসা। অয়ন সোফায় বসে এই দৃশ্য দেখে আরও যেন উদ্বেলিত হয়ে উঠছিল, তার প্রতিটি পেশি যেন উত্তেজনায় টানটান হয়ে আছে। প্রীতম দেখল, মা যেন এক সম্মোহিত পুতুলের মতো রাহাতের এই অত্যাচারে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন, তার চোখের কোণে কোনো অশ্রু নেই, আছে কেবল এক বিকৃত প্রশান্তি। প্রীতমের মনে হলো, এই মুহূর্তের পর তার পৃথিবী আর আগের মতো থাকবে না, তার মায়ের এই রূপ তার সমস্ত স্মৃতি আর বিশ্বাসকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে যাচ্ছে।
রাহাতের গলার স্বরে এক আদিম তৃষ্ণা ও চরম ঔদ্ধত্য মিশে ছিল। সে মায়ের শরীরের ওপর ঝুঁকে থেকে, তার চিবুকটা চেপে ধরে নিচু গলায় বলল, "জানিস, অনেক দিন ধরে আমার একটা সুপ্ত ইচ্ছা ছিল। কোনো সাধারণ নারী নয়, ঠিক তোর মতো একজন ঘরের আভিজাত্য বজায় রাখা লজ্জাবতী গৃহবধূকে নিজের করে পাওয়া। বাইরে যারা ঘোমটা টেনে ধর্মের দোহাই দিয়ে সতীত্বের নাটক করে, তাদের ভেতরের আগুনটা যে কতটা প্রখর, সেটা দেখার খুব শখ ছিল আমার।"
সে এক পৈশাচিক তৃপ্তিতে মায়ের আপাদমস্তক একবার চোখ বুলিয়ে নিল এবং তারপর তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল, "এতদিন সেই সুযোগ পাইনি, কিন্তু আজ তোকে হাতের মুঠোয় পেয়েছি। আজ আর কোনো রাখঢাক নয়, আজ তোর শরীর থেকে আমি সেই সব চাহিদা উসুল করে নেব, যা তুই বছরের পর বছর নিজের ভেতরে লুকিয়ে রেখেছিস। আজ তোর এই সতীত্বের আবরণ আমি চুরমার করে দেব এবং তোকে পুরোপুরি আমার করে নেব।"
মায়ের শরীরটা রাহাতের কথায় এক অদ্ভুত শিহরণে কেঁপে উঠল। প্রীতম দেখল, মা কোনো প্রতিবাদ তো করলেনই না, বরং রাহাতের এই দম্ভোক্তিকে যেন এক চরম আস্বাদনের মতো গ্রহণ করলেন। রাহাতের সেই হাতগুলো মায়ের শরীরের আনাচে-কানাচে এমনভাবে বিচরণ করছিল, যা কেবল শারীরিক সম্পর্ক নয়, ছিল এক ধরনের দখলদারি। ঘরের সেই নিস্তব্ধতার মধ্যে প্রীতম শুনছিল রাহাতের সেই আস্ফালন, যা মায়ের মর্যাদাকে প্রতিদিন একটু একটু করে ধ্বংস করে দিচ্ছিল। অয়ন সোফায় বসে এই কথোপকথন শুনে এক বিকৃত প্রশান্তিতে নিজের ঠোঁট কামড়াচ্ছিল। প্রীতমের কাছে এই মুহূর্তটি ছিল এক অসহ্য যন্ত্রণার পরাকাষ্ঠা, যেখানে তার মা একজন গৃহবধূ থেকে হঠাৎ করেই রাহাতের এক ব্যক্তিগত উপভোগের বস্তুতে রূপান্তরিত হয়ে গেছেন।
ঘরের নিস্তব্ধতাকে চিরে রাহাতের এই অমানবিক নির্দেশ প্রীতমের কানে যেন এক দুঃস্বপ্নের সংলাপে রূপ নিল। রাহাত খাট থেকে কিছুটা দূরে সরে বসে এক অশুভ প্রশান্তি নিয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে রইল। প্রীতম দেখল, মা, যিনি এতদিন প্রীতমের কাছে ছিলেন আভিজাত্য আর স্নেহের এক পরম আশ্রয়, তিনি এখন রাহাতের প্রতিটি কথায় আতঙ্কে কুঁকড়ে যাচ্ছেন।
ভয়ার্ত কণ্ঠে মা জিজ্ঞেস করলেন, "আমি কি কিছু ভুল করে ফেললাম মালিক?" রাহাতের ঠোঁটে এক বাঁকা, নিষ্ঠুর হাসির রেখা ফুটে উঠল। সে শান্ত গলায় বলল, "না, তুই কিছু ভুল করিসনি। তবে এখন তোকে একটা নতুন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।"
মা ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে জানতে চাইলেন, "কি কাজ মালিক?"
রাহাত তখন তার পৈশাচিক নির্দেশ জারি করল। সে মায়ের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর অথচ তৃষ্ণার্ত স্বরে বলল, "এবার দু পা দুদিকে ভালো করে প্রসারিত কর এবং হাত দিয়ে টেনে ধর। তারপর আমাকে আহ্বান কর—বল, 'আসুন মালিক, আমার এই অতৃপ্ত ও গৃহবধূর পিপাসিত যোনি এবং আমার এই তুচ্ছ শরীরকে গ্রহণ করে আপনার মহান লিঙ্গ দ্বারা আমাকে তুষ্ট করুন।'"
প্রীতম দেখল, রাহাতের সেই নির্দেশনার প্রতিটি শব্দ যেন মায়ের অস্তিত্বের ওপর এক একটি আঘাত। মা দাঁড়িয়ে রইলেন থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে। তার চোখে তখন ভয়ের পাশাপাশি এক অদ্ভুত বাধ্যবাধকতার সম্মোহন। অয়ন সোফায় বসে এই দৃশ্য দেখে উদ্গ্রীব হয়ে আছে। প্রীতমের মনে হলো, এই মুহূর্তের পর আর অবশিষ্ট কিছুই নেই—মর্যাদা, লজ্জা, আর সংস্কার—সবই যেন এই কামনার আগুনের কাছে ভস্মীভূত হয়ে যাচ্ছে। তার মা এখন কেবলই রাহাতের নির্দেশের এক অসহায় পুতুল, যার প্রতিটি অঙ্গভঙ্গি রাহাতের আদেশের অপেক্ষায় স্থবির হয়ে আছে।
প্রীতমের চোখের সামনে সেই দৃশ্যটি যেন আগুনের মতো জ্বলছিল। সে দেখল, মা ধীরস্থিরভাবে বিছানায় শুয়ে পড়লেন এবং রাহাতের আদেশের অপেক্ষায় নিজের পা দুটো দুদিকে ছড়িয়ে দিলেন। সেই পরম পবিত্র গৃহবধূর গুপ্তাঙ্গ রাহাতের সামনে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হয়ে গেল, যেন সেখানে আর কোনো আড়াল বা লজ্জা অবশিষ্ট নেই।
মায়ের কণ্ঠস্বর তখন এক অদ্ভুত সম্মোহনী স্বরে কেঁপে উঠছিল, যা প্রীতমের কাছে পরিচিত অথচ একেবারেই অচেনা ঠেকছিল। মা বলতে শুরু করলেন, "আসুন মালিক, আমার এই তুচ্ছ গৃহবধূ নারীকে আপনার ওই মহান লিঙ্গ দিয়ে তুষ্ট করে আমাকে ধন্য করুন। আসুন মালিক, আমি আপনার শরীরের সমস্ত রকম খিদে মেটানোর জন্যই প্রস্তুত। আসুন আমাকে গ্রহণ করুন।"
মায়ের মুখ থেকে এই কথাগুলো শোনার সাথে সাথেই রাহাতের ভেতরের পৈশাচিকতা চরম সীমায় পৌঁছাল। সে এক ঝটকায় মায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। প্রীতম দেখল, রাহাত তার লিঙ্গ মায়ের জননীতে স্থাপন করে প্রবল বেগে চালনা শুরু করল। রাহাতের সেই প্রতিটি চালনায় বিছানাটি কেঁপে উঠছিল, আর মায়ের শরীর যেন সেই নিপীড়নের তালে তালে অসংলগ্নভাবে দুলছিল।
দূরে বসে অয়ন এই দৃশ্যটি একদৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করছিল, তার চোখে ছিল এক বিকৃত উত্তেজনা। প্রীতম জানলার ফ্রেমটা কামড়ে ধরে রইল, তার সমস্ত শরীর তখন রাগে, ঘৃণায় আর অভিমানে কাঁপছে। মায়ের এই চরম আত্মসমর্পণ আর রাহাতের সেই পশুসুলভ আচরণ প্রীতমের জগতের সব ভারসাম্য যেন এক নিমেষে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিল। সে বুঝতে পারছিল না, কেন মা নিজের সম্মানকে এভাবে বিসর্জন দিয়ে এই নরকবাস বেছে নিলেন, আর কেনই বা সে নিজে এই বিভীষিকা থেকে চোখ ফেরাতে পারছে না। প্রতিটি মুহূর্ত প্রীতমের বুকের ভেতরে এক দগদগে ক্ষত তৈরি করছিল।
প্রীতম দেখল, রাহাত এখন এক উন্মত্ত পশুতে পরিণত হয়েছে। সে মায়ের স্তন দুটোকে নিজের হাতের মুঠোয় এমনভাবে শক্ত করে চেপে ধরল যেন সেগুলোকে পিষে ফেলবে। এরপর সে মায়ের পা দুটো দুপাশে টেনে নিজের কাঁধে তুলে নিল, যাতে মায়ের শরীরের প্রতিটি ভঙ্গি তার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। রাহাতের শরীরের গতি বেড়ে গেল বহুগুণ, সে মায়ের যোনি মন্থন করছিল এক আদিম হিংস্রতায়।
রাহাত অট্টহাসি হেসে কঠোর ও তাচ্ছিল্যের সুরে বলল, "একদম ঠিক! তোদের মতো ঘরের মহিলারা ভেতর থেকে আসলে কত ক্ষুধার্ত। তোদের ওই দুর্বল স্বামীদের পক্ষে তোদের এই কামনার আগুনের কাছে পৌঁছানোও অসম্ভব। ওদের দ্বারা কি আর তোদের এই চাহিদা মেটানো সম্ভব? তার জন্য একজন সত্যিকারের শক্ত-সমর্থ পুরুষ প্রয়োজন!"
এরপর রাহাত একটু থামল, মায়ের চোখে চোখে রেখে মশকরা করে জিজ্ঞেস করল, "আচ্ছা কমলা সুন্দরী, তোর স্বামীর লিঙ্গের সাইজ কত শুনি?"
প্রীতম দেখল, মা প্রথমে সংকোচে চুপ করে ছিলেন, কিন্তু রাহাতের চাপ সহ্য করতে না পেরে ক্ষীণ কণ্ঠে বললেন, "চার ইঞ্চি।"
এই কথা শোনার সাথে সাথে রাহাতের সারা শরীরে এক পৈশাচিক অহংকার খেলে গেল। তার বুক গর্বে ফুলে উঠল, সে ঘৃণাভরে বলে উঠল, "ওইটুকু ছোট্ট জিনিস! ওটা দিয়ে কি আর কিছু হয়? ওটা দিয়ে কি আর তৃপ্তি পাওয়া যায়?"
বলেই রাহাত নিজেকে যেন এক অজেয় পুরুষ মনে করে মায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। সে প্রতিটা ধাক্কা এত প্রবলভাবে দিচ্ছিল যে, ঘরের আসবাবপত্রসহ পুরো খাটটি কেঁপে কেঁপে উঠছিল, যেন সেটি ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে। প্রীতম দেখল, মা সেই প্রবল আঘাতে যন্ত্রের মতো দুলছেন, তার অলঙ্কারগুলো সেই তালে ঝনঝন করে বেজে উঠছে। রাহাতের সেই পৈশাচিক দাপট এবং মায়ের সেই অসহায় স্থিতি—সব মিলিয়ে প্রীতমের চোখের সামনে এক বীভৎস বাস্তবতার ছবি ফুটে উঠল, যা তার অস্তিত্বের শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নিল।
প্রীতমের স্মৃতিতে বারবার ভেসে উঠছিল সেই দিনগুলো—যে অয়ন আর রাহাত কিছুদিন আগেও তার মায়ের পায়ে হাত দিয়ে ভক্তিভরে প্রণাম করত, মায়ের আশীর্বাদ নেওয়ার জন্য ব্যাকুল থাকত, আজ তারাই সেই পবিত্রতাকে চরম অবজ্ঞায় পদদলিত করছে। যে পা দুটোকে সে চিরকাল শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে দেখে এসেছে, সেই পা দুটোই আজ রাহাতের কাঁধে এমন এক ভঙ্গিমায় নিক্ষিপ্ত, যা কোনো সুস্থ মানুষের কল্পনারও বাইরে।
রাহাতের সেই আদিম তাণ্ডব যেন প্রীতমের চোখের সামনেই তার মায়ের অস্তিত্বের সমস্ত পবিত্রতাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। যেখানে একসময় শ্রদ্ধা আর ভক্তির স্থান ছিল, আজ সেখানে কেবল কামনার দখলদারি। রাহাতের সেই পৈশাচিক লিঙ্গ, যা প্রীতমের মায়ের জননীতে অনবরত আঘাত করে চলেছে, তা যেন প্রীতমের মনে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে। প্রীতম দেখল, সেই ভক্তি আর শ্রদ্ধার জায়গাটি পুরোপুরি দখল করে নিয়েছে এক নগ্ন, পশুসুলভ উপভোগ।
এই চরম বৈপরীত্য—একদিকে অতীতের সেই শ্রদ্ধাভরা প্রণাম, আর অন্যদিকে বর্তমানের এই বীভৎস যৌন নিপীড়ন—প্রীতমকে এক অকল্পনীয় মানসিক যন্ত্রণার গভীরে ঠেলে দিল। তার কাছে মনে হলো, সে তার মায়ের শরীরের এই মন্থন দেখছে না, সে যেন দেখছে একটি আদর্শের মৃত্যু। রাহাতের সেই দাপট আর অয়নের সেই নির্বিকার চাহনি প্রীতমের পৃথিবীটাকে যেন এক অন্ধকার গহ্বরে পরিণত করল, যেখান থেকে ফিরে আসার আর কোনো উপায় নেই। তার মনে হলো, সে এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় দর্শক, যে নিজের চোখের সামনে মায়ের মর্যাদা আর আত্মসম্মানকে চূর্ণ-বিচূর্ণ হতে দেখছে, অথচ সে নড়াচড়া করার শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলেছে।
RE: মা কি আমারই মা? -
X Man - 09-10-2026
part:04
প্রীতম দেখল, রাহাত মায়ের স্তন চুষতে চুষতে যে বিকৃত আলোচনার অবতারণা করল, তা তার মায়ের জীবনের সবচেয়ে ভয়ের জায়গাটিকে স্পর্শ করেছে। মা যখন ভীত কণ্ঠে সমাজের ভয় আর তার ছেলের কথা উল্লেখ করে এই বিকৃত মাতৃত্বের সম্ভাবনাকে প্রত্যাখ্যান করার চেষ্টা করছিলেন, তখন রাহাত ও অয়নের সেই দাম্ভিক আশ্বাস প্রীতমের মনে এক নতুন আতঙ্কের জন্ম দিল।
মায়ের কণ্ঠে সেই স্বাভাবিক ভীতি, যা একজন মা তার সামাজিক সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে অনুভব করেন, তা রাহাতের কাছে কেবলই এক মশকরার বিষয় হয়ে দাঁড়াল। রাহাত যখন বলল, "কোনো চিন্তা নেই, সেই ব্যবস্থাও আমরা পরে করে নেব," তখন প্রীতম বুঝতে পারল, এই দুই বন্ধু মায়ের জীবনের ওপর কতটা গভীর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছে। তারা শুধু মায়ের শরীর নয়, তার ভবিষ্যৎ আর সামাজিক অস্তিত্বকেও নিয়ে খেলছে।
প্রীতম দেখল, মা আতঙ্কিত হয়ে যখন জিজ্ঞেস করলেন, "কী ব্যবস্থা? আমার পেটে বাচ্চা দেবে?" তখন তাদের সেই রহস্যময় উত্তর—"বাচ্চা ছাড়াও বিজ্ঞানে সব সম্ভব"—মায়ের ভয়ের চোটে শরীরটাকে আরও কুঁকড়ে দিল। মা চুপচাপ শুয়ে রইলেন, কিন্তু তার চোখের চাহনিতে যে অসহায়ত্ব ফুটে উঠল, তা প্রীতমকে ভেতর থেকে ভেঙে দিল।
জানলার ওপাশ থেকে প্রীতম এই পুরো কথোপকথন শুনছিল। তার কানে এল মায়ের সেই করুণ আরতি, আর রাহাতের সেই যান্ত্রিক অথচ নিষ্ঠুর স্বর। প্রীতমের মনে হলো, এই ঘরের ভেতরে এক নতুন স্তরের দাসত্ব তৈরি হচ্ছে। মা যে এই পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং তাদের হাতের পুতুল হয়ে থাকছেন, তা প্রীতমকে এই উপলব্ধিতে নিয়ে এল যে, সে তার চেনা মানুষটির সাথে এখন এক বিভীষিকাময় বাস্তবতায় বাস করছে, যেখানে মানবিকতা আর সম্পর্কের কোনো মূল্যই অবশিষ্ট নেই। অয়ন সোফায় বসে এই কথোপকথন শুনে যে তৃপ্তির হাসি হাসল, তা প্রীতমের হৃদয়ে এক জ্বলন্ত অঙ্গারের মতো বিঁধল।
প্রীতম দেখল, রাহাত এখন চূড়ান্ত উন্মত্ততায় পৌঁছেছে। ডগি পোজ-এ থাকা মায়ের শরীরের পেছন দিক থেকে রাহাত তার এক হাত বাড়িয়ে মায়ের ভারী স্তনদুটোকে মুঠো করে চেপে ধরল। একদিকে রাহাতের সেই পৈশাচিক ধাক্কা, অন্যদিকে স্তনের ওপর তার সেই নিষ্ঠুর হাতের চাপ—মায়ের শরীর তখন রাহাতের নিয়ন্ত্রণের এক চরম অসহায় ক্রীড়নক।
রাহাতের প্রতিটি ধাক্কার সাথে সাথে মায়ের শরীর সামনের দিকে দুলছিল, আর প্রীতম দেখছিল কীভাবে সেই স্তনদুটো রাহাতের হাতের চাপে বিকৃত হয়ে যাচ্ছে। ঘরের ভেতরটা তখন এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশে পূর্ণ। অয়ন সোফায় বসে এই দৃশ্যটি যেন কোনো নেশায় বুঁদ হয়ে গিলছিল। প্রীতমের কাছে এই মুহূর্তটি ছিল চূড়ান্ত অবমাননার। সে তার মায়ের এই নগ্ন, বিপর্যস্ত রূপ আর রাহাতের সেই অমানুষিক দাপট নিজের চোখের সামনে ঘটতে দেখছে, অথচ সে নড়াচড়া করার কোনো ক্ষমতাই যেন হারিয়ে ফেলেছে। প্রতিটি ধাক্কায় মায়ের অলঙ্কারগুলো খিলখিল করে বেজে উঠছিল, যা প্রীতমের কানে যেন বিদ্রূপের মতো শোনাল। তার মনে হলো, এই কক্ষের ভেতর মায়ের ব্যক্তিত্ব, লজ্জা এবং মর্যাদার প্রতিটি স্তর রাহাতের এই পৈশাচিকতায় চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে, আর সে কেবল এক নীরব দর্শক হিসেবে এই ধ্বংসলীলা প্রত্যক্ষ করছে।
রাহাত কিছুক্ষণ প্রচণ্ড গতিতে অমানুষিক শারীরিক শ্রম দেওয়ার পর ক্লান্ত হয়ে পড়ল। তার সারা শরীর ঘামে ভিজে গিয়েছিল, এবং সে হাঁপাতে হাঁপাতে বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ল। ঘরের মধ্যে তখন এক ভারী ও নিস্তব্ধ পরিবেশ বিরাজ করছিল, যেন কিছুক্ষণ আগের সেই উত্তাল ঝড়ের পর এখন সব কিছু স্থির হয়ে গেছে।
রাহাত বিছানায় এলিয়ে পড়লেও তার সেই আধিপত্য বজায় রাখার নেশা কাটেনি। সে মাকে নির্দেশ দিল তার বুকের ওপর উঠে বসতে। মায়ের অসহায় মুখভঙ্গিতে তখন এক অদ্ভুত আচ্ছন্ন ভাব, তিনি রাহাতের প্রতিটি আদেশ অন্ধের মতো পালন করে চলেছেন। রাহাত চায় মা যেন এখন নিজের নিয়ন্ত্রণে এই শারীরিক সম্পর্কটিকে এগিয়ে নিয়ে যান। সে মাকে বলল ওপরের দিকে উঠে বসতে এবং তার শরীরের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে।
প্রীতম জানলার আড়াল থেকে দেখল, তার মা ধীর পায়ে রাহাতের শরীরের ওপর গিয়ে বসলেন। অয়ন সোফায় বসে এই দৃশ্যটি যেন কোনো পৈশাচিক খেলার মতো পর্যবেক্ষণ করছিল, তার চোখে তখন এক ধরনের স্থির তৃপ্তি। রাহাতের সেই বিকৃত মানসিকতা মায়ের শরীরের ওপর এক স্থায়ী দখলদারি কায়েম করতে চাইছে, যা প্রীতমের মনে এক গভীর যন্ত্রণার জন্ম দিচ্ছে। সে দেখল, তার মা এখন রাহাতের সেই আদেশের বাধ্য হয়ে নিজের শরীরের নিয়ন্ত্রণ তাকে দিয়ে দিয়েছেন, আর এই অসহায় আত্মসমর্পণের দৃশ্যটি প্রীতমের কাছে এক চূড়ান্ত মানসিক অবসাদের মতো মনে হলো।
মায়ের সেই যান্ত্রিক এবং বাধ্যতাময় ছন্দ প্রীতমের কান ও চোখের সামনে এক বিভীষিকার মতো ভাসছিল। বিছানায় রাহাতের ওপর ঝুঁকে থাকা অবস্থায় মা যখন রাহাতের নির্দেশে ভারসাম্য বজায় রেখে ওপর-নিচ হতে শুরু করলেন, তখন প্রতিটি গতির সাথে সাথে মায়ের শরীরের ছন্দহীন নড়াচড়া প্রীতমের মনে এক গভীর মানসিক শূন্যতা তৈরি করছিল।
মায়ের এই ধরনের প্রতিটি নড়াচড়া যেন তার পুরোনো পরিচয়ের সমস্ত অবশিষ্টাংশ মুছে ফেলছিল। রাহাতের সেই ক্লান্ত অথচ কর্তৃত্বপূর্ণ ভঙ্গি, আর মায়ের সেই যান্ত্রিক বাধ্যতা প্রীতমের কাছে এক শ্বাসরুদ্ধকর দৃশ্যের অবতারণা করেছিল। অয়ন সোফায় বসেই অস্ফুট কোনো মন্তব্য করে উঠল, যা প্রীতমের কাছে এক পৈশাচিক উল্লাসের প্রতিধ্বনি মনে হলো।
এই অদ্ভুত ও বীভৎস ছন্দে পুরো ঘরটা যেন স্পন্দিত হচ্ছিল। প্রীতম দেখল, মা নিজের সমস্ত লজ্জা এবং আত্মসম্মানকে একপাশে সরিয়ে রেখে কেবল রাহাতের সেই নির্দেশের প্রতিফলন ঘটিয়ে চলেছেন। প্রতিটি লম্ফের সাথে বিছানার শব্দ আর সেই গুমোট পরিবেশ প্রীতমকে তার মায়ের এই অন্য রূপটির সাথে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিল, যা সে আগে কখনও কল্পনাও করতে পারেনি। তার মনে হচ্ছিল, এই কামনার খেলা যেন শেষ হওয়ার নয়, এবং সে নিজেও এই পরিস্থিতির জালে আটকা পড়ে এই নিষ্ঠুর অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়ে রইল।
প্রীতমের মনের ভেতর তখন এক অমানবিক শূন্যতা আর যন্ত্রণার দাবানল। সে আড়াল থেকে দেখছে, যে হাতগুলো একসময় তার মাথায় স্নেহের পরশ বুলিয়ে দিত, যে মা তাকে পরম যত্নে অন্ন মুখে তুলে দিতেন, সেই মায়ের শরীরই এখন রাহাতের দেহের ওপর এভাবে বিকৃত ছন্দে কাঁপছে। প্রীতমের কাছে এটা কেবল শারীরিক মিলনের দৃশ্য ছিল না, এটি ছিল তার ছোটবেলার সমস্ত পবিত্র স্মৃতির চরম অপমৃত্যু।
তার মনে পড়ল মায়ের সেই মমতাভরা ডাক, মায়ের হাতের রান্নার সেই ঘ্রাণ আর পুজোর পিঁড়িতে বসা সেই শান্ত স্নিগ্ধ চেহারা। অথচ আজকের এই দৃশ্যে মায়ের সেই চিরচেনা রূপটি যেন সম্পূর্ণ মুছে গেছে। প্রীতমের কাছে সবচেয়ে অসহ্য ছিল এই বিভেদ—তার সমবয়সী রাহাতের সাথে মায়ের এই অনৈতিক সম্পর্ক। প্রীতম ভাবছিল, কি এমন ঘটনা ঘটল যার ফলে মা তার সমস্ত সামাজিক পরিচয়, সংস্কার আর মাতৃত্বের মর্যাদা বিসর্জন দিয়ে এভাবে রাহাতের কামনার ক্রীড়নক হয়ে রইলেন?
মায়ের প্রতিটি লম্ফ এবং রাহাতের সেই জয়ের হাসির শব্দ প্রীতমের হৃদয়ে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছিল। সে বুঝতে পারছিল না, এই পরিস্থিতিটা কি কোনো সম্মোহন, নাকি মায়ের ভেতরে সুপ্ত থাকা কোনো অন্ধকার দিক, যা এত বছর প্রীতমের অগোচরে ছিল। প্রীতমের মনে হলো, এই মুহূর্তটি তার মায়ের সত্তাকে চিরতরে ভেঙে চুরমার করে দিল। সে এখন এক পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে কেবল সেই বীভৎসতাকে দেখছিল, আর প্রতি মুহূর্তে নিজের ভেতরের সেই আদরের মা-কে হারিয়ে ফেলার বেদনায় দগ্ধ হচ্ছিল। অয়নের সেই নির্লিপ্ত হাসি যেন এই পুরো ট্র্যাজেডির ওপর এক নিষ্ঠুর বিদ্রূপের মতো ভাসছিল।
ফোনের রিংটোন যেন ঘরের সমস্ত বাতাসের উষ্ণতাকে এক নিমেষে বরফশীতল করে দিল। মায়ের চোখে যে আতঙ্কের ছায়া ফুটে উঠল, তা প্রীতমের হৃদপিণ্ডকে যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ করে দিল। রাহাতের সেই শান্ত কিন্তু ভয়াবহ আচরণ—ফোনটা স্পিকারে দিয়ে মায়ের বুকের ওপর রাখা—প্রীতমের কাছে এক চরম নিষ্ঠুরতার প্রতিফলন হিসেবে ধরা দিল।
বাবার কণ্ঠস্বর যখন ফোন থেকে ভেসে এল, প্রীতমের মনে হলো সে যেন এক জীবন্ত নরকে দাঁড়িয়ে আছে। মা যখন ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে স্বাভাবিক গলায় বাবার সাথে কথা বলছিলেন এবং একই সাথে রাহাতের নির্দেশে শারীরিক ক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছিলেন, সেই দৃশ্যটি ছিল অসহ্য যন্ত্রণাদায়ক। প্রীতম দেখল, বাবা যখন জিজ্ঞেস করলেন "কি করছ?", তখন মায়ের সেই মিথ্যে উত্তরের সাথে সাথে রাহাতের হাতের প্রচণ্ড চাপ এবং মায়ের মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসা সেই আর্তনাদ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতিটা এক বীভৎস নাটকীয়তায় রূপ নিল।
মায়ের "উহ" শব্দটা শুনে বাবা যখন জিজ্ঞেস করলেন, "কি হলো?", আর মা তখন নিজের পরিস্থিতি সামলাতে যে ছদ্মবেশ ধারণ করলেন, তা প্রীতমকে মানসিকভাবে ভেঙে দিল। ফোন কেটে যাওয়ার পর মা যখন রাহাতকে প্রশ্ন করলেন, তখন রাহাতের কণ্ঠে যে নিষ্ঠুর দম্ভ ছিল—"তুমি যখন স্বামীর সঙ্গে ফোন করছিলে তখন লজ্জা করছিল না আমার যৌনাঙ্গ ভেতরে ঢুকিয়ে রেখে লাফাতে?"—তা প্রীতমের কাছে এক চূড়ান্ত অবমাননার দলিল।
প্রীতম দেখল, মা এখন আর কেবল ভয়ের বশবর্তী নন, তিনি যেন রাহাতের সেই কথার সামনে পুরোপুরি বিধ্বস্ত। বাবার সামনে এত বড় মিথ্যে বলা এবং এই পরিস্থিতিতে নিজেকে টিকিয়ে রাখা—মায়ের এই রূপ প্রীতমের সমস্ত চেনা জগৎকে ধুলোয় মিশিয়ে দিল। সে আড়াল থেকে দেখল, মায়ের চোখের জল আর সেই বিধ্বস্ত চেহারা রাহাতের দম্ভের কাছে কতটা তুচ্ছ হয়ে গেছে। প্রীতমের মনে হলো, এই মুহূর্তের পর তার আর কোনো অস্তিত্ব অবশিষ্ট নেই, কারণ তার মা এখন নিজের স্বামী ও সন্তানের অস্তিত্বের চেয়ে রাহাতের নির্দেশের কাছে অনেক বেশি দায়বদ্ধ।
মায়ের শরীরের সেই চরম কম্পন এবং তার শরীর থেকে কামরস নিঃসরণের মুহূর্তটি ছিল এই পৈশাচিক পরিস্থিতির চূড়ান্ত পরিণতি। মা যেন রাহাতের প্রতিটি আঘাতে এক অমোঘ পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, যা তার সমস্ত প্রতিরোধ ভেঙে চুরমার করে দিল। তার শরীরের সেই কম্পন রাহাতের দম্ভকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।
রাহাত এবং অয়ন এই দৃশ্য দেখে যেন এক দানবীয় উল্লাসে ফেটে পড়ল। তারা করতালির মাধ্যমে মায়ের এই চরম অসহায়ত্বের চরমতম বহিঃপ্রকাশকে উদযাপন করতে লাগল। রাহাতের কণ্ঠে তখন এক অপরাজেয় অহংকার, সে মায়ের দিকে তাকিয়ে ব্যঙ্গাত্মক স্বরে বলতে লাগল, "এবার দেখলি আসল পুরুষ কী পারে? তোর মতো ব্যক্তিত্বময়ী, শক্তিশালী নারীর অহংকারও যে একজন সত্যিকারের পুরুষের কাছে মাথা নত করতে বাধ্য, তা আজ প্রমাণ হলো। তোর শরীরের এই জল খসিয়ে দেওয়া আমার কাছে কেবল একটা জয় নয়, এটা তোর মতো নারীর কামনার চূড়ান্ত আত্মসমর্পণ।"
অয়ন সোফায় বসে এই বীভৎস দৃশ্যের সাক্ষী থেকে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল। প্রীতম দূর থেকে দেখল, তার মা এখন রাহাতের ওপর নুইয়ে পড়ে আছেন, তার চোখ দিয়ে অঝোরে জল পড়ছে, কিন্তু সেই কান্নার পেছনে কোনো ভক্তির লেশমাত্র নেই—আছে কেবল এক চূড়ান্ত হার মেনে নেওয়ার ক্লান্তি। প্রীতমের মনে হলো, এই কক্ষের চার দেয়ালের মাঝে যা ঘটল, তা কেবল মায়ের সতীত্ব বা মর্যাদার মৃত্যু নয়, বরং এটি একটি আদর্শের ধুলোয় মিশে যাওয়া। রাহাতের সেই পৈশাচিক করতালির শব্দ যেন প্রীতমের মস্তিস্কের কোষে কোষে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল, তাকে মনে করিয়ে দিল যে, এই নিষ্ঠুর খেলায় তার মা এখন পুরোপুরি রাহাতের হাতের একটি পুতুল মাত্র।
মায়ের সেই চরম ক্লান্তিতে রাহাতের কোনো সহানুভূতি ছিল না। রাহাত যেন এক অদম্য তৃষ্ণায় নিজের পৈশাচিক আকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করতে ব্যস্ত। সে মাকে এক ঝটকায় তার শরীরের ওপর থেকে সরিয়ে দিয়ে খাটের ওপর চিৎ করে শুইয়ে দিল। মায়ের ক্লান্ত শরীর তখন প্রতিরোধের কোনো ক্ষমতাই রাখছিল না, তিনি যেন রাহাতের সেই দাপটের সামনে এক অসহায় খেলনা হয়ে পড়ে রইলেন।
রাহাত কোনো মুহূর্ত নষ্ট না করে তার লিঙ্গ মায়ের যোনিপথে পুনরায় প্রবেশ করাল এবং অবিশ্বাস্য দ্রুততায় সঞ্চালন শুরু করল। সেই ঘরের নিস্তব্ধতা ভেঙে পড়ল মায়ের উচ্চস্বরের আর্তনাদ আর রাহাতের সেই অসংলগ্ন পৈশাচিক শব্দে। খাটের প্রতিটি আঘাতে ঘরটি কেঁপে উঠছিল, যেন কোনো এক নারকীয় ধ্বংসলীলা চলছে সেখানে।
প্রীতম আড়াল থেকে দেখল, সেই পচপচ শব্দ আর মায়ের কাতর কণ্ঠস্বর সারা ঘর জুড়ে এক বিভীষিকাময় পরিবেশ তৈরি করেছে। মায়ের মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসা প্রতিটা চিৎকার যেন প্রীতমের ভেতরের প্রতিটি আদর্শকে দংশন করছিল। অয়ন এই নারকীয় দৃশ্য দেখে এক বিকৃত নেশায় বুঁদ হয়ে বসে ছিল। প্রীতমের মনে হলো, এই কক্ষের ভেতর মানবিকতার সমস্ত সীমা লঙ্ঘিত হয়ে গেছে। মায়ের সেই ক্লান্তি আর রাহাতের সেই অবিরাম দাপট প্রীতমের কাছে এক দুঃসহ সত্যের মতো
দাঁড়িয়ে রইল, যেখানে মায়ের অস্তিত্ব এখন পুরোপুরি কামনার অন্ধকারে নিমজ্জিত।