চারুলতা -
Bad Boy - 09-10-2026
লেখক - কামসম্রাট
পর্ব - ১
সকালে ঘুম থেকে উঠে জানালা দিয়ে বাইরের বয়ে চলা নদীটার দিকে চোখ পড়লো। বর্ষার জলে ফুলে ফেঁপে উঠেছে তার বুক, কুল কুল করে তার উপর দিয়ে জলরাশি ছুটে চলেছে সাগরের সন্ধানে। কত কি মনে পড়ে এই জানালায় বসে! একদিন আমার স্ত্রী এইখানেই, এই বিছানায় আমার সঙ্গে বসে এই নদীর দিকে তাকিয়েই কত কথা শোনাতো আমায়, কত কত বার তার রূপে মোহিত হয়ে আমি বিছানায় তার পাশে শুয়ে তার ঠোঁটজোড়া নিজের ঠোঁটে ছুঁইয়ে তার তরল আমার শরীরে শুষে নিয়েছি তার বড় বড় ডাগর দুখানি চোখের দিকে চেয়ে! আজ সেসব দিন কত দূরে! যেন কত শতক আমি বৃদ্ধাবস্থায় এখানটায় বসে আছি... একলা!
আমার নাতিটা এইসময় হঠাৎ পড়া ছেড়ে আমার কাছে এসে কোলের ওপর উঠে বায়না ধরলো,
- দাদু দাদু, আমায় ঠাম্মার গল্প বলো না... কতদিন শুনিনি!
আমি বললাম, শুরু করলাম আমার স্ত্রীর কথা...নাতির ছোটো ছোটো কৌতুহল ভরা উৎসুক দুই চোখে তাকিয়ে তার ঠাম্মার কাহিনী তাকে বলে যেতে লাগলাম।
কিন্তু সেই কাহিনী যে অসম্পূর্ণ! আমার আর আমার স্ত্রীর সম্পূর্ণ কাহিনী যে বলা যায় না কারোকে! আমার ছেলে, বউমা, বন্ধু, সবাই আমাদের কাহিনীর এক ভাগ জানে, অন্য ভাগ বলার সাহস আমার আর নেই! এইকথা আমার হৃদয়েই গোপনে জমা ছিল এতকাল। তাই ভাবলাম, আজ তোমাদের বলে যাই আমাদের কাহিনীর অন্য ভাগ-টা। কাহিনী সম্পূর্ণতা পেলে নাকি মন হালকা হয়! তাই যে ভাগ আমার হৃদয়ে এতোকাল চাপা পড়ে ছিল, যে ভাগ এই জগৎ সংসারের কাছে অজানা, যে ভাগ এই সমাজে নিষিদ্ধ, যে ভাগ আমায় প্রেমের অর্থ শিখিয়েছিল একদিন, আজ সেই ভাগ তোমাদের বলে আমার হৃদয়কে আমি খালি করবো!
এই কাহিনী আমার আর আমার স্ত্রীর, আমার স্ত্রী....চারুলতার এবং চারুলতা....আমার....মা!
আমাদের ছোট্ট গ্রাম, নাম গোবাদা। এখানকার সবাই চাষবাসের সঙ্গে যুক্ত। চারপাশে যেদিকেই চোখ যায় শুধু সবুজ মাঠ আর ফসলের চাষ। একটা নদী বয়ে গেছে গ্রামের পাশ দিয়েই। সেখানে এই গ্রামের সকলেই যায় স্নান, বাসন ধোয়া, কাপড় কাঁচার জন্য। পানীয় জল পুকুর থেকে নেওয়া হয়। এখানকার মানুষজন বেশ সাদাসিধে, সরল প্রকৃতির। শহর থেকে অনেক দূরে এই ছোট্ট গ্রামে চাষবাস করে নিজেদের জীবন সুখে দুঃখে অতিবাহিত করে যায় সবাই।
আমাদেরও চাষবাস করেই সংসার চলে। বাড়িতে বাবা নয়ন, মা চারুলতা, আমি চয়ন আর আমার বোন লতা। আমাদের চারজনের ছোট্ট সংসার।
বাবার বয়স ৫৮। রোগা, লম্বা, জীর্ণ চেহারা। কম বয়স থেকেই অতিরিক্ত পরিশ্রমের জন্য শরীরে একটা বুড়োটে ভাব চলে এসেছে এই বয়সেই। তার মুখে একটা বদমেজাজি রাগী খিটখিটে ভাব সর্বদাই। যৌবন থেকেই বাবা চাষবাস করেই জীবন জীবিকা নির্বাহ করে এসেছে এবং একা আমাদের সকলকে মানুষ করেছে। কথা খুব কম বলে, যেটা বলে, তাও মায়ের সঙ্গে, আমাদের সঙ্গে খুব কম, প্রয়োজন পড়লে তবেই। আমরা এখনও রীতিমতো ভয় পায় বাবার সামনে পর্যন্ত যেতে। বাবা মা-কে সাধারণ কথাও ধমকে বলে, মা একটু ভীতু ও লাজুক স্বভাবের, তাই প্রায়ই বাবার কথায় নির্জনে বসে কাঁদতে থাকে। বাবা এমনই, কারোকে ঠিক সহ্য করতে পারে না!
মায়ের বয়স ৩৫, ঘোর শ্যামবর্ণ গায়ের রঙ, মুখের চেহারায় এমন এক মিষ্টি শ্রী রয়েছে, তা না দেখলে অক্ষরে প্রকাশ করা মুশকিল, এককথায় অনন্য সুন্দরী আমার মা চারুলতা। মা স্বাস্থ্যবতী ও আদর্শ গৃহিণী। সন্তানদের প্রকৃতভাবে বড়ো করা এবং সংসারের প্রতিটি দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া, এই সংকল্প নিয়েছিল আজ থেকে একুশ বছর আগে যখন এই বাড়িতে প্রথম বউ হয়ে এসেছিল। মায়ের মুখে সর্বদাই একটা মন ভোলানো হাসি, যেন সেই হাসির মাঝেই লুকিয়ে আছে এই জগতের সব সৌন্দর্য্য! যখন কোনো কারণে কষ্ট পায়, মায়ের কাছে গিয়ে বসি, মা আদর করে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়, গল্প করে, আমার মন দুঃখ ভুলে মায়ের সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠে। কখন কি খাবো, কি করলে এই সংসারে মঙ্গল হবে, কি করা উচিত নয়, কোন সময়ে কি চাষ করলে ফলন ভালো হতে পারে, কোন সময় বাবার কাছে আমাদের যাওয়া উচিৎ নয়, মা সব জানে। কিন্তু একটাই তার ভুল, সে অতি সরল প্রকৃতির, যে যা বলে সহ্য করে নেয়। তাই এই সংসারে মায়ের কোনো গুরুত্ব নেই, না বাবা তাকে ভালোবাসা দেয়, না বোন সম্মান। সত্যি বলতে একমাত্র আমিই মায়ের খোঁজ রাখি, মায়ের কাছে বসে তার দুটো মনের কথা শুনি, মায়ের চোখের জলের গুরুত্ব দিই! কিন্তু তবুও এই একুশ বছরের দীর্ঘ অভাবের সংসার মাকে যেন এক সবজান্তা মঙ্গলময়ী করুণাময়ী এক নারীতে পরিণত করেছে, আর সেই নারীর-ই সন্তান আমি!
আমি চয়ন, বয়স ২০, সবে কলেজ শেষ করে বসে আছি বাড়িতে। চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি আর বাবাকে চাষবাসে সাহায্য করছি। আমি বেশ লম্বা বাবার মতো, প্রায় ৬'১ ফুট, গায়ের রঙ মায়ের মতোই শ্যামবর্ণ। মুখে একটা পুরুষালি সৌন্দর্য্য ও ব্যাক্তিত্ব রয়েছে আমার, সবাই বলে, বিশেষ করে মা বলে। চাষবাসের কাজ, ব্যায়াম করে আমার শরীর তাগড়া হয়ে উঠেছে এই বয়সেই। এককথায় পেশীবহুল পেটানো শরীর আমার। প্রেম কোনোদিন করিনি, একটা মেয়ে আমায় বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল কলেজের ফাইনাল ইয়ারে, এই বছরেই, কিন্তু আমি না বলে দিয়েছিলাম। বাইরের কোনো মেয়ের প্রতি আকর্ষণ আমি অনুভব করি না, কেন করিনা তা আমি নিজেও বুঝে উঠতে পারিনি। মেয়েটার স্বাস্থ্য ভালো, দেখতেও বেশ মিষ্টি, নাম রুমা। কলেজে না গেলে সে আমায় সেদিনকার নোটস দিতো, আমাদের অভাবের কারণে অনেক বই প্রয়োজন থাকলেও কিনতে পারিনি, সেসব বই সে আমায় পড়তে দিতো ভালোবেসে। কিন্তু আমি স্রেফ বন্ধু ভেবেই তার সব সাহায্য নিয়ে এসেছিলাম। তাই বলে এই নয় যে যৌন মিলন কি তা জানি না। আমি সব জানি, এতোটাই যে যারা এসব করে বেড়াই, তাদের চেয়েও গভীর আমার মন। কিন্তু ওই একটাই সমস্যা, মেয়েদের প্রতি আকর্ষণ আসেনি আমার এখনও। হয়তো আসবে পরে। সবার তো সব জিনিস এক হয়না। তবে আমার ব্যাপারে একটা কথা বলতে হয় যে, আমি আজ পর্যন্ত কোনোদিন বীর্যপাত করিনি, মানে হাতে ধরে খেঁচিনি, স্বপ্নদোষ হয় মাঝে মাঝে, কিন্তু নিজে করিনি। জানি না, বোধহয় তারও উপযুক্ত সময় আসেনি আমার জীবনে!
আমার বোন লতা, আমার থেকে মাত্র এক বছরের ছোটো, এবছর ১৯ -এ পড়লো, দেখতে অসম্ভব সুন্দরী। বাবার গৌরবর্ণ আর উচ্চতা পেয়ে বেশ দেখতে হয়েছে সে। পড়াশোনায় ভালো। কলেজে এই সেকেন্ড ইয়ার তার, ইতিহাসে অনার্স নিয়ে পড়ছে। খোঁজ নিয়ে দেখেছি সে একজনকে পছন্দ করে, কিন্তু তার নাম জানতে পারিনি। আমাকে ও সব মনের কথা বলে না। একটু চাপা ও রাগী স্বভাবের। ওর এই ব্যাপারটা যদি জানতে পারে বাবা, মেরে পিঠের ছাল উঠিয়ে দেবে ওর। তাই ওকে আমি সুরক্ষা দিয়ে আসছি... গোপনে।
গ্রীষ্মের দুপুরবেলা। তখন আমাদের জমিতে আউশ ধান চাষ চলছে। বাবা মাঠে, আমি বাড়িতে চাকরির জন্য পড়াশোনা করছি, লতা কলেজে আর মা বারান্দায় বসে আমার একটা পুরনো জামা সেলাই করছে আর গুন গুন করে গাইছে একটা মধুর অথচ বেদনাভরা গান। তা শুনে মনটা কেমন উদাস হয়ে যায়! বই ফেলে জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকি দূরের মাঠের শেষে আকাশ প্রান্তে...মনটা কেমন হয়ে ওঠে!
আমাদের বাড়িটা মাটির, খড়ের ছাউনি, তিনটি ঘর, একটায় বাবা মা, একটায় আমি, আরেকটায় লতা থাকে। বাড়ির সামনে লম্বা বারান্দা, সেখানেই একপাশে রান্না করে মা। পাঁচিল দেওয়া উঠোন। উঠোনটা অনেকটা বড়ো। উঠোনের একদিকে ফুলগাছ অনেকগুলো, অন্যদিকে আম, পেয়ারা, পেঁপে, আর কাঁঠাল গাছের জঙ্গল। এদের ছায়া আমাদের বাড়ির খড়ের ছাউনিতে পড়ে এই গ্রীস্মকালে বেশ আরাম দেয়।
মা জামা সেলাই করতে করতেই আমায় ডাক দেয়,
- চয়ন, এদিকে আয় বাবা।
আমি বই ফেলে বাইরের বারান্দায় গিয়ে দেখি মা হাসিমুখে হাতের জামা তুলে আমায় দেখাচ্ছে। মায়ের হাতের গুণে আমার পুরনো ছেঁড়া জামা যেন নতুনভাবে সেজে উঠেছে। এই জামা পরেই আমি কাল যাবো একটা ইন্টারভিউ দিতে। আমরা গরীব, আমরা এতেই অনেক খুশি থাকি!
- ছেঁড়া টা কোথায় গেল মা? এটা তো নতুনের মতো লাগছে গো একেবারে!
বলে আমি জামাটা হাতে তুলে দেখতে লাগলাম এদিক ওদিক করে। সত্যিই মায়ের হাতে জাদু আছে! আমি মাকে বলিওনি সেলাই করতে, শুধু বলেছিলাম এই জামাটা পরে যাবো। মা জামা দেখে বুঝেছিল জামার সেলাই ছিঁড়ে গেছে অনেক জায়গায়, দুপুরের কাজ সেরে বসে আমার সমস্যা মা মিটিয়ে দিলো! মা মা-ই হয়! আমি জামাটা দেখে খুশি হয়ে মাকে বসা অবস্থায় জড়িয়ে ধরলাম। মা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,
- তোর এই চাকরিটা হয়ে যাবে দেখিস....!
যদি জানতাম অদৃষ্ট কি বস্তু, যদি জানতাম একটা সামান্য কথা কত কি বয়ে আনতে পারে আমাদের জীবনে, যদি জানতাম এই কথায় সবকিছু ওলট পালট হয়ে যাবে, তাহলে হয়তো মায়ের পায়ে সেদিন আমি কান্নায় লুটিয়ে পড়তাম আর প্রার্থনা করতাম এমনটা যেন না হয়! কিন্তু আজ যখন নিজের ঘরের জানালায় বসে বয়ে চলা নদীর জলরাশির দিকে নিঃশব্দে চেয়ে থাকি, ভাবি আমার জীবন কথা, বুঝতে পারি, যা হয়েছিল, ভালোর জন্যই হয়েছিল। মায়ের সেই একটা কথা আমার জীবনে কি ঘটিয়ে দিলো, তা সময়-ই বলে যাবে!
মায়ের কথায় আনন্দে আবেগে মায়ের কোলে শুয়ে পড়লাম। চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়লো মায়ের। মা হয়তো মনে মনে ভাবছে,
- চাষবাস করে চারজনের পেট চলে, কিন্তু সামান্য এক টুকরো শখ-ও মেটাতে পারিনা ছেলে মেয়েটার। আজ এই চাকরিটা যদি হয়ে যায়! আমি জানি হয়ে যাবে...তাহলেই আমার মুক্তি! ছেলেটা নিজের জীবনের শখ পূরণ করতে পারবে, লতার বিয়ে দেবে, আমাদের বুড়ো বুড়িকে দেখতে হবে না। ওরা ভালো থাকুক, যেখানেই থাকুকনা কেন, আমরা খুশিই থাকবো। চয়ন....আমার সোনা মানিক....বাবার সঙ্গে চাষবাস, তারপর চাকরির জন্য কত রাত জেগে পড়াশোনা করা.... তোর এবার চাকরিটা হয়ে যাবে বাবা!
আমার দুই চোখেও জল ভরে এলো। মায়ের কোলে শুয়ে মায়ের কোমর জড়িয়ে কিছুক্ষণ মায়ের আদর খেলাম। তারপর উঠে গিয়ে মাঠে চলে গেলাম। বিকেলে অনেক কাজ থাকে জমিতে। মা আমার জামা আমার ঘরের তারে ঝুলিয়ে রেখে বিকেলের চা বানাতে বসলো।
যখন মাঠ থেকে ফিরলাম, সন্ধ্যা হয়ে গেছে। লতা নিজের ঘরে পড়ছে। মা বারান্দায় চা মুড়ি সাজিয়ে আমাদের বাপ বেটার মাঠ থেকে ফেরার অপেক্ষায় বসে আছে। তখনকার সময়ে গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনি। লন্ঠন, হ্যারিকেন জ্বেলেই আমরা সব কাজ করতাম। ওটাই তো তখন আমাদের কাছে স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। সবই অভ্যাস!
আমি আর বাবা ঘরের পেছনের পুকুরে গেলাম হাত পা ধুতে, মা পুকুরপাড়ে লন্ঠন ও গামছা হাতে দাঁড়িয়ে ছিল হাসিমুখে।
কাল আমার ইন্টারভিউ শহরে, ভোরে বেরিয়ে ১৫ কিলোমিটার সাইকেলে করে গেলে স্টেশন, সেখান থেকে ট্রেন ধরে শহরে যেতে তিন ঘন্টা লাগবে। তারপর ইন্টারভিউ দিয়ে বাড়ি ফিরতে রাত হয়ে যাবে। তাই মা আজ রাত জেগে পড়াশোনা না করে ঘুমিয়ে পড়তে বললো, ভোর চারটেই ওঠা আছে।
হাত মুখ ধুয়ে পাড়ে উঠতে যাবো, পা পিছলে গিয়ে পুকুরের জলে পড়ে গেলাম। মা লন্ঠন নামিয়ে রেখে ছুটে এসে হাত বাড়িয়ে তুললো আমায়। বাবা রেগে গিয়ে আমার দিকে না তাকিয়েই গজগজ করতে করতে পাঁচিলের দরজা দিয়ে উঠোনে চলে গেল। আমার মনটা খারাপ হয়ে গেল। বাবা রাগী জানি, কিন্তু আমাকে কি বাবা ভালোও বাসেনা! যাইহোক, মায়ের হাত ধরে পাড়ে উঠে বসলাম। লন্ঠনের আলোয় দেখলাম ডান পায়ের হাঁটুর নীচের চামড়া অনেকটা ছিঁড়ে গিয়েছে। মা আমায় ধরে সঙ্গে নিয়ে ঘরের বারান্দায় বসালো। তারপর পা মুছে দিয়ে তার শাড়ির আঁচলটা কাঁধ থেকে ফেলে ডগার দিকটা দু টুকরো করে ছিঁড়ে সেই কাপড় দিয়ে আমার পায়ে ব্যান্ডেজ করে দিলো। মায়ের চোখে জল, বললো,
- ব্যাথা হচ্ছে সোনা?
- না মা, কমে এসেছে।
বলার সময় লক্ষ্য করলাম মায়ের চোখের জল আমার ডান পায়ের হাঁটুর ওপর কয়েক ফোঁটা ঝরে পড়লো। মাকে কাঁদতে দেখলে আমার ভালো লাগে না, মনটা কেমন হুঁ হুঁ করে ওঠে। আমাদের কথা শুনে ঘর থেকে লতা ছুটে এসে আমার পা টা দেখে বললো,
- কি করে আর কাল যাবি? এতো বড়ো ছেলে, পুকুরপাড়ে পড়ে গেলি?
মা এই কথায় প্রতিবাদ করে বলে,
- লতা, ছেলেটা পড়ে গেছে, আর তোর একটুও কষ্ট হচ্ছে না? ওই ছেলেটাই তোর বিয়ে দেবে বলে রাত দিন জেগে পড়াশোনা করছে একটা চাকরির জন্য, বাবার সাথে মাঠে যাচ্ছে দুটো টাকার জন্য।
- সে আমি কি করবো মা? আমি তো আর দাদাকে ঠেলে ফেলিনি!
এমনসময় পাশ থেকে বাবা ঝাঁঝিয়ে উঠলো,
- এই ছেলের কিচ্ছু হবে না, না চাকরি না চাষবাস... শুধু বসে বসে বাপের অন্ন গিলবে!
এই কথায় আমি যত না কষ্ট পেলাম, মা পেলো শতগুণ বেশি। মা শাড়ির ছেঁড়া আঁচলে মুখ চেপে কাঁদতে কাঁদতে ঘরে চলে গেল, বলতে বলতে গেল,
- ওগো তোমরা সবাই মিলে ওকে এতো কষ্ট দিও না গো, আমি যে এই কষ্ট আর সহ্য করতে পারছি না!
আমার চোখেও জল ভরে এলো। আর রাতের খাবার মুখে তোলার কথা মাথায় এলো না। নিজের ঘরে গিয়ে দরজা ভেজিয়ে দিয়ে বিছানায় বসে বইগুলো নাড়াচাড়া করতে লাগলাম। সত্যিই কি আমার কিছু হবে না! সত্যিই কি আমি দূর্ভাগা!
কখন যে আমি এসব ভাবতে ভাবতে খালি পেটে বইয়ের ওপরে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছি খেয়াল নেই, ঘুমটা ভাঙলো মায়ের হাতের ছোঁয়ায়। মা আমার পাশে ভাত ও সবজি ভর্তি থালা নিয়ে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে। আমি আবেগে মাকে জড়িয়ে ধরলাম। মা এক হাত দিয়ে আমার চুলে বিলি কাটতে কাটতে বললো,
- যখন খারাপ সময় আসে, তখন বুঝবি কেউ তোকে ভালোবাসবে না, সবাই দূরে ঠেলে দেবে....কিন্তু তোর ভালো সময় আসবে চয়ন, দেখবি সেদিন তোর যা স্বপ্ন আছে সব পূরণ হবে...সব!
মা...তুমি সত্যিই করুণাময়ী! মনে মনে মাকে বললাম,
- যখন খারাপ সময় এলো, তুমি তো আমায় দূরে ঠেলে দাওনি মা!
আমার দুচোখ বেয়ে অঝোর ধারায় জল গড়িয়ে পড়ে মায়ের কোমরের শাড়ি ভিজিয়ে দিচ্ছে। মা তার কোমর থেকে মুখ তুলে আমার কপালে স্নেহের চুম্বন এঁকে বললো,
- খেয়ে নে সোনা, সেই কখন দুপুরে দুটো ভাত খেয়েছিস!
বলে মা আমায় নিয়ে মেঝেতে বসলো। সবজি দিয়ে ভাত মেখে হাতে করে মা আমায় খাইয়ে দিতে শুরু করলো। মা এমন প্রায়ই করে। যখন খুব আনন্দে থাকে আর যখন খুব দুঃখে থাকে, এই দুই বিপরীত অবস্থায় মা আমায় খাইয়ে এসেছে। এটা চিরাচরিত এক রীতি হয়ে গেছে, আগেও দেখেছি....কিন্তু আজ ঘটলো অন্য কিছু....এলো এক নতুন অনুভূতি! জীবনে এই প্রথম...আমি এক নারীর.... স্বাদ পেলাম....সেই নারী....আর কেউ নয়....আমার নিজের মা.... চারুলতা!!!
আমার ডান পাশে আমার দিকে মুখ করে মা খাইয়ে দেওয়ার সময় মায়ের বাঁ দিকের নরম স্তন আমার ডান কনুইয়ে চাপ দিলো অল্প! এই ঘটনা আগেও ঘটেছে। খাওয়ানোর সময় বা সাধারণ আর পাঁচটা কাজ করার সময় মায়ের স্তন আমার অঙ্গে অঙ্গে স্পর্শ হয়েছে। ঘটনা একই, শুধু অনুভূতিটা ভিন্ন! আজ এই মুহূর্তে জীবনে এই প্রথমবার জেগে থাকা অবস্থায় যৌন অনুভূতি আমার গোটা শরীরে ছড়িয়ে পড়লো ধীরে ধীরে, কারণ এর আগে যে স্বপ্নদোষ কিছুবার হয়েছিল, তা জেগে থেকে হয়নি! এটা ঠিক তীব্র যৌন উত্তেজনা নয়, আবার তা স্নেহ-মমতাও নয়। যেন সেই অনুভূতিতে আরামের সঙ্গে মিশেছে খুব সূক্ষ্ম এক যৌনতার গন্ধ, যা আমার মাথা থেকে শুরু করে তলপেট বেয়ে আমার লিঙ্গের ডগায় সুড়সুড়ি দিলো অল্প!
মা খাইয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আমার মনে উঠেছে আজ প্রবল ঝড়!
আমি শুরুতে এই অনুভূতির আনন্দে কিছুটা ঘোরাচ্ছন্ন থাকলেও, ধীরে ধীরে পাপবোধ আমায় গ্রাস করা শুরু করলো। ছিঃ, এগুলো আমি চিন্তা করছি? মা, সে আমার মা! আমায় জন্ম দিয়েছে! নেহাৎ চরিত্র অন্ধকার না হলে কারোর এমন চিন্তা মাথায় আসতেও পারে না। তাহলে কি আমার চরিত্র অন্ধকারে গ্রাস করা শুরু করলো? কই না তো...! আজ অবধি একজন নারীর দেহ স্পর্শও করিনি আমি, না তাদের নিয়ে কুচিন্তা করেছি। তবে? এটা কি ছিল? যে চিন্তা আমার পবিত্র হৃদয়ে মায়ের মাতৃত্বে অন্য রূপ দিতে এসেছিল, সেই চিন্তা কেন এলো? কেন?
মা কখন খাইয়ে নিজের ঘরে চলে গিয়েছিল, কখন আমি শুয়ে পড়েছিলাম, কখন শুয়ে শুয়ে চাকরি, ইন্টারভিউ ও ভোরের ট্রেনের কথা ভুলে জানালা দিয়ে বাইরের নক্ষত্রখচিত আকাশের দিকে চেয়ে থেকে মায়ের নিয়ে সেই কুচিন্তাকে নিয়ে চিন্তা করতে করতে আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম জানি না, তবে এটুকু আমার অবচেতনে মন সে রাতে ঘুমোবার আগে ফিসফিসিয়ে আমায় বলে গেল....
- মা-ই সব!
(ক্রমশ....)
পর্ব - ২
ইন্টারভিউ দিয়ে বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত ১১ টা বেজে গেল। সাইকেলটা উঠোনের এক কোনে রেখে দেখি মা বারান্দায় লন্ঠন জ্বালিয়ে মুখ নামিয়ে কাঁদছে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে। আমি উঠোনে অন্ধকারের দিকটায় সাইকেল রাখছিলাম বলে মা দেখতে পায়নি আমায়। বোধহয় বাবা আর লতা শুয়ে পড়েছে নিজেদের ঘরে। আমি কাছে যেতেই মা বারান্দা থেকে উঠে চোখের জল মুছে মুখে হাসি ফুটিয়ে আমার কাছে এসে জিগ্যেস করলো,
- ফিরেছিস সোনা....তোর পায়ের ব্যাথাটা আর নেই তো?
এই হলো আমার মা! ইন্টারভিউ কেমন হলো, চাকরি হবে কিনা, এসব নয়, নিজের সন্তান কেমন আছে, এই তার একমাত্র কৌতূহল! আমি আমার ইন্টারভিউয়ের জন্য আগে থেকেই উত্তেজিত হয়ে ছিলাম। তাই দুই হাতে মায়ের কাঁধ দুটো ধরে হেসে বললাম,
- মা আমার ব্যাথা নেই, তবে ইন্টারভিউ খুব খুব খুব ভালো হয়েছে মা.... খুব ভালো হয়েছে!
মায়ের চোখ জলে ভরে আসে। আমি মায়ের চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে বললাম,
- আয় কেঁদো না মা, এই চাকরিটা হয়ে গেলে দেখবে আর আমাদের কোনো দুঃখ থাকবে না... তোমার মুখে আমি হাসি ফোটাবো।
বলে মাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললাম,
- সেই সকালের পর আর কিচ্ছু পেটে দিইনি মা, রান্না করেছো?
মা হাসতে হাসতে আমায় নিয়ে গেল বারান্দায়। তারপর বললো,
- আমি তোর জন্য পুকুর থেকে জল এনে রেখেছি বালতিতে ওখানে, হাত মুখ ধুয়ে আয়, আমি খেতে দিচ্ছি।
এই মায়ের কোলে যেন বারে বারে ফিরে আসি! কাল পুকুরে পড়ে গিয়েছিলাম বলে আজ আমি বাড়ি ফেরার আগেই মা আমার জন্য জল এনে রেখেছে যাতে আমায় পুকুরের পিচ্ছিল ঘাটে আর না যেতে হয়। কত কিছু নিয়ে মা তুমি ভাবনায় থাকো.... সংসারের দারিদ্র, স্বামীর অপমান, মেয়ের কুকথা আর ছেলের চিন্তা! এই এক শরীরে আর কত কি বয়ে বেড়াবে মা তুমি!
আমি ব্যাগ রেখে খালি গায়ে একটা গামছা পরে গেলাম উঠোনে। সেখানে মায়ের আনা বালতি ভর্তি জল নিয়ে হাত মুখ ধোয়া নয়, একেবারে স্নান-ই করে নেবো ভাবলাম। এই গরমে সারাদিনের ঘাম বসে আছে শরীরে, তার ওপর স্নান করে গা ঠান্ডা না করলে ঘুম আসবে না আমার। আমি গায়ে সাবান ঘষতে ঘষতে মাকে দেখতে লাগলাম। মা তখন বারান্দায় বসে দুটো থালায় ভাত তরকারি সাজাচ্ছে। বুঝলাম মাও খায়নি এখনও। আজ অবধি কোনোদিন দেখলাম না আমায় খাওয়াবার আগে মা খেয়ে নিয়েছে। মায়ের স্নেহ যে এমনই! আমি মায়ের দিকে তাকিয়েই ছিলাম, মা একবার আমার দিকে চেয়ে হাসলো , তারপর আবার খাবারে মন দিলো।
মা একটা হালকা হলুদ রঙের শাড়ি পরেছে আজ। ঘোর শ্যামাঙ্গিণী মা, তাই এই হলুদ রঙের শাড়িতে মাকে সামান্য লন্ঠনের আলোয় অসম্ভব সুন্দরী দেখাচ্ছে। যেন এক ডানা কাটা পরী আকাশ ছেড়ে গাঁয়ের এক ছোট্ট মাটির ঘরে নেমে এসে এক বাঙালী নারী রূপে এই সংসার সামলাচ্ছে, অবিরাম, কোনো প্রতিবাদ ছাড়াই। চুল খোলা রেখেছে মা, সেগুলো পিঠ ও বুকের ওপর এদিক ওদিক দুলছে মায়ের নড়াচড়ায়। মায়ের মুখে যে দুঃখী ভাবটা বাড়ি ফিরে দেখছিলাম, তা যেন অদৃশ্য হয়ে এক সারল্য ভরা প্রশান্তি ফুটে উঠেছে মায়ের সারা মুখমন্ডলে। এই মাকেই আমি দেখতে চাই, চোখের জলে নয়, দুঃখের বন্ধনে নয়, সুখ ও হাসির পরশে মায়ের জীবনকে আমি পরিপূর্ণ রূপ দিতে চাই....দেবো, আমি দেবো একদিন!
যখন খাওয়া শেষ হলো, দেখলাম মা নিজের ঘরে না গিয়ে বারান্দার এক কোনে বসে আছে। আমার দিকে চেয়ে বললো,
- সোনা তুই গিয়ে ঘুমিয়ে পড়, এই ক্লান্ত শরীরে আর দাঁড়িয়ে থাকিস না।
আমি বললাম,
- তুমি ঘুমোবে না? এইখানে যে বসে গেলে?
মা মাথা নীচু করে আনমনে কি ভাবতে ভাবতে বললো,
- নারে, আমার আজ ঘুম পাচ্ছে না। মাথাটা ধরে আছে, একটু বসি, কমে গেলেই চলে যাবো।
আমি বুঝলাম মায়ের এই কথা সত্যি নয়। মাকে এভাবে আমি এর আগেও বহুবার সবার আড়ালে সরে এসে একলা নির্জনে বসে থাকতে দেখেছি, বসে বসে অন্যকে দোষ না দিয়ে নিজের দোষকে খুঁজতে দেখেছি। তাই কাছে গিয়ে মায়ের পাশে বসে বললাম,
- কি হয়েছে সত্যি করে বলোতো মা....।
মা চুপচাপ। আমি আবার এক কথা জিগ্যেস করাতে মায়ের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়লো তার কোলের ওপর। আমি এবার মায়ের হাত ধরে বললাম,
- আমি তো তোমার ছেলে মা, আমিই তো সব, তুমি আমাকেই বলবে না?
তারপর মায়ের ঠোঁটে কথা ফুটলো। যা বললো তা সংক্ষেপে এরকম, আজ বিকেলে লতা কলেজ থেকে বাড়ি ফেরেনি দেখে বাবা গিয়েছিল খুঁজতে। কিছুদূর গিয়ে বাবা দেখতে পায় সেখানে একটা নির্জন বড়ো দীঘির পাড়ে গাছতলায় লতা একটা ছেলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় বসে। ব্যস্। পাশেই একটা ছোটো খেজুর গাছ ছিল। তার ডাল ভেঙে পাতা ছাড়িয়ে মারতে মারতে তাকে বাড়ি নিয়ে আসে বাবা। তারপর তাকে তার ঘরে ঢুকিয়ে দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়। এখানেই শেষ নয়, বাবার রাগ এবার সবে শুরু হয়। লতার ওপর থেকে সব দোষ তুলে বাবা মায়ের ওপর তা চাপিয়ে দিয়ে অত্যন্ত খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করে মাকে একটা চড় মারে এই বলে যে, মা নাকি নিজের মেয়েকে মানুষ করতে পারেনি, মা নাকি 'মা' হওয়ার যোগ্যই নয়! তারপর থেকে বাবা তার ঘরে মাকে আর ঢুকতে দেয়নি। মা...সে তো আর রাগ করে থাকতে পারে না স্বামীর ওপরে, না মেয়েকে না খাইয়ে শাস্তি দিতে পারে! সম্পূর্ণ বিনা দোষে বাবার কথার আঘাত ও চড় সহ্য করেও মা রান্না করেছিল, বাবার ঘরে গিয়ে খাবার দিয়ে এসেছিল, লতার ঘরে তাকে মাথায় হাত বুলিয়ে খাইয়ে দিয়ে এসেছিল। তারপর থেকেই ওভাবে বারান্দায় আমার অপেক্ষায় বসেছিল। সেই বিকেলের পর থেকে বাবা আর একটাও কথা বলেনি মায়ের সঙ্গে।
যা ভেবেছিলাম তাই হলো, লতার সব কান্ড বাবা জেনে গেলো। এই ঘটনা আমায় আঘাত দেয়নি, লতা বড়ো হয়েছে, প্রেম করছে, আর তা একদিন জানাজানি হবেই, এটা স্বাভাবিক, আঘাত পেলাম মায়ের অপমানে! এই সংসারের সব ভুল, সব খারাপ আর সব দূর্ভাগ্যের জন্য মাকেই দোষী হতে হয় বারবার। আমি আর সহ্য করতে পারলাম না! কতোবার, কতোবার আমি আমার প্রাণপ্রিয় মায়ের চোখের জল দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখবো! কতোবার তাকে মিথ্যা সান্তনা দেবো যে সব ঠিক হয়ে যাবে, বাবা শুধরে যাবে! কতোবার তার দুঃখে পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলবো চোখের জল তোমার এতো অল্প মূল্যের নয় মা! আমার রাগ প্রবল, শুধু প্রকাশটা কম হয় মাত্র, কিন্তু যখন হয়, তখন এর তাপ যে কেউ সহ্য করতে পারে না!
আমি মাকে ওখানে বসিয়ে রেখে বাবার ঘরের দরজা সজোরে ধাক্কা দিয়ে দড়াম করে খুলে ভেতরে ঢুকে 'বাবা' বলে চিৎকার করে উঠলাম। বাবা ঘুমিয়ে ছিল। ঘুমের মধ্যে এতো চিৎকারে ভয়ে ধড়মড়িয়ে উঠে বসলো। আমার চোখ দিয়ে তখন আগুনের হলকা বেরিয়ে আসছে। আমি ক্রুদ্ধ স্বরে বললাম তাকে,
- তুমি মায়ের গায়ে হাত তুলেছো?
বাবার ঘুমের ঘোর তখন আমার চিৎকারে ভঙ্গ হয়ে রেগে গিয়ে উত্তর দিলো,
- তুলেছি। ভুল করলে আরও মারবো।
এই কথায় আমার মাথায় আগুন জ্বলে উঠলো। মা কি কোনো ভৌত বস্তু নাকি যে রাগ হলেই তাকে ছুঁড়ে ফেলা যায়! এই তার ভালোবাসা নিজের স্ত্রীর জন্য! নাকি নিজের যৌবন শেষ হয়ে গেছে বলে মাকে একজন সংসার চালানো দাসী ভেবে ফেলেছে সে! আমি গর্জে উঠলাম,
- না, আর নয়, আর একটা আঘাতও নয়। এই শেষ!
বলে দরজা টা আবার দড়াম করে ভেজিয়ে দিয়ে বেরিয়ে এলাম বাবার ঘর থেকে। বাইরে এসে দেখি মা চোখে জল নিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে বাবার ভয়ে থরথর করে কাঁপছে। আমি মায়ের কাছে গিয়ে মায়ের হাতটা ধরে বললাম,
- চলো, আজ থেকে তুমি আমার কাছে শোবে। বাবার সঙ্গে তোমায় আমি আর থাকতে দেবো না।
মা আমায় আটকায়, কাঁদতে কাঁদতেই বলে,
- ওরকম বলিসনা বাবা, আমি দোষ করেছি বলেইতো মেরেছে। বারে, ভুল করলে তো তাকে শাস্তি দিতে হবে, নয়তো যদি আমি বারে বারে ভুল করি!
- না মা, ভুল তুমি নিজে করোনি, শুধু তোমার একটাই ভুল....সরল মন নিয়ে সবার কথা মেনে নেওয়া আর সব.... সবকিছু সহ্য করে নেওয়া! তবে আর, আর আমি তোমায় কষ্ট পেতে দেবোনা মা!
- এরকম করিস না বাবা, আমি আজ রাতে তোর বাবার কাছে না গেলে যে তোকে ও মেরে শেষ করে দেবে কাল!
আমি থামলাম। শুধু থামলাম না, আমি অবাক হলাম। মায়ের 'রাতে বাবার কাছে যাওয়া' - এই কথাটা ঠিক স্বাভাবিক ভাবে আমার মনে প্রবেশ করলো না। রাতে যাওয়া মানে? রাতে মা বাবার কাছে গেলে বাবা আর আমায় মারবে না? কেন? মা কোন পথে বাবার রাগ ঠান্ডা করবে? মা কি করতে চলেছে?
মা শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখের জল মুছে নিঃশব্দে বাবার ঘরে ঢুকে দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ করে দিলো। আমি নিজের ঘরে চলে এলাম।
আর কি চিন্তা করবো? কিইবা বাকি আছে চিন্তা করার? লন্ঠনের আলো নিভিয়ে দিয়ে জানালার কাছটায় এসে শুয়ে পড়লাম। জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছে আজ পূর্ণিমার পূর্ণ চাঁদ। তার রূপোলী আলো আমার ঘরে ঢুকে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে এক মায়াবী আবহ সৃষ্টি করেছে। আমি ওই চাঁদের দিকে চেয়ে কত কি ভাবতে লাগলাম!
RE: চারুলতা -
Bad Boy - 09-10-2026
পর্ব - ৩
বিছানায় শুয়ে শুয়ে মায়ের কথা ভাবছি, এমনসময় আমার পাশের ঘর থেকে বাবার গলার স্বর কানে এলো। আমাদের ৩ টা ঘর পাশাপাশি, প্রথমে আমার ঘর, মাঝে বাবার আর তার পাশেই শেষের ঘরটা লতার। এই নিস্তব্ধ নির্জন জ্যোৎস্নালোকিত রাতে একটা বাদুড়ের ডানা ঝাপটানোর আওয়াজও কানে তালা ধরায়, সেই তুলনায় বাবার গর্জন যেন এই রাতের অন্ধকারকে খান খান করে দিল!
- দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি তাকিয়ে আছিস গাভী? এতো বড়ো দুধ নিয়ে ব্লাউজ পরে স্বামীর সামনে কি সারা রাত দাঁড়িয়ে থাকতে দেবো নাকি তোকে? এদিকে আয়....!
আমি কান খাড়া করে বাবা মার ঘর থেকে আসা শব্দে কৌতুহলী হয়ে সজাগ হয়ে শুয়ে রইলাম চুপচাপ। হঠাৎ ফড় ফড় ফড় ফড় করে কিছু একটা ছেঁড়ার আওয়াজ এলো। সঙ্গে সঙ্গেই,
- আহ্....!
মায়ের আওয়াজ কানে এলো। বুঝলাম বাবা হয় মায়ের কাপড় ছিঁড়ছে বা ব্লাউজ!
মায়ের ব্লাউজের কথাটা মনে আসতেই স্তনের কল্পনায় গতকালের সেই অপরিসীম আনন্দের তীব্র অনুভূতিটা আমার সারা শরীরকে ধীরে ধীরে অবশ করে ফেললো! আমার পাপবোধ লুপ্ত হয়ে হাত উঠে এলো আমার পুরুষালি লিঙ্গের উপরে। ওপাশ থেকে ভেসে এলো বাবার কন্ঠস্বর,
- এতো বড়ো দুধ বানিয়েছিস যে হুক খুলতে গিয়ে ব্লাউজটাই ছিঁড়লো.... গাভী কোথাকার!
পাপবোধ, মায়ের প্রতি সন্তানের সামাজিক সম্পর্ক ও মাতৃপ্রেম মুছে গিয়ে আমার সারা শরীরকে এক অদম্য বন্য আদিম রিপু ধীরে ধীরে গ্রাস করা শুরু করলো....মায়ের শরীরী সৌন্দর্য্য আমায় হাতছানি দিলো.... গতকালের মায়ের সেই নরম স্তনের স্পর্শ আমার দেহমনে আগুন ধরিয়ে দিল! ওদিক থেকে ভেসে আসছে বাবার ভোগের শব্দ....!
- বেশ্যা মাগী....না মেয়েকে মানুষ করতে পারলি, না ছেলেকে বড়ো করতে পারলি....দুটোই আমার গলার কাঁটা.... নে....খা এবার....!
- আমার লাগছে ......ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্....!
- মাগী এই বড়ো বড়ো দুধ যে তোর হয়েছে....এগুলো টিপে টিপে তোকে না খেয়ে আমি তোকে ছাড়বো না....তুই আমার বাঁধা মাগী.... আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্.....!
আমি এবার এই জগৎ থেকে হারিয়ে গিয়ে প্রবেশ করলাম এক অন্ধকারে ঢাকা নিষিদ্ধ জগতের রসসিক্ত নির্জন ঘরে, যে ঘরের প্রতিটি দেয়ালে পাশাপাশি সাজানো রয়েছে অসংখ্য আয়না.... যে আয়নাগুলোতে মায়ের অপরূপ দেহের প্রতিবিম্ব ফুটে উঠছে। তার দুই ডাগর চোখ, নরম পুরু ঠোঁট, চর্বিতে ভরা ভারী দুটো স্তন, চওড়া কোমর, উন্নত ফোলা নিতম্ব আমার শিরা উপশিরাতে ভালোবাসার রং ছড়িয়ে দিলো! আমি প্যান্ট খুলে হাতের মুঠোয় নিজের লিঙ্গ ধরে ঝাঁকুনি শুরু করলাম। আজ প্রথমবার আমি হস্তমৈথুন করবো... জীবনে প্রথমবার আমি জাগ্রত অবস্থায় বীর্যপাত করবো.... নিজের মায়ের স্বাদ কল্পনা করে!
ওদিক থেকে ভেসে এলো মায়ের স্বর,
- ওগো..... আসতে.....আমার লাগছে..... ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্!
বাবার আওয়াজ,
- লাগবে সোনা....এত বড়ো দুধ বানায় যে মাগী....তাকে না ব্যাথা দিলে যে মনে সুখ আসেনা.... ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্!
সত্যিই, মায়ের স্তন....না মায়ের দুধ বেশ বড়ো বড়ো আর পাঁচজনের চেয়ে। দেহটা মোটাসোটা, একটু বেঁটের দিকেই, তার তুলনায় মায়ের দুধ দুটো খুব বড়ো, বুকের দুদিকে দুটো ঝুলছে। বেশ বড়ো আকারের এক একটা দুধ! ভাবতে ভাবতেই আমি আমার লিঙ্গ, না...আমার বাড়া ধরে তার চামড়া আগু পিছু করতে লাগলাম কল্পনায় মায়ের দুই বড়ো বড়ো দুধের দিকে চেয়ে! আহ্....মা আমার এতো বড়ো দুধের অধিকারী! আহ্....মা.....মা গো.....তোমার দুধে একটিবার স্পর্শ করতে দাও মা.....!
- ছেলেটাকে কি ভাতার বানিয়ে ফেলছিস নাকি? সব কথা ওর কাছে আজকাল বলছিস দেখছি....নে খা..... আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্... আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্....!
- ওরকম কথা মুখেও আনতে নেই গো..... বোলো না....আমার যে মাটিতে মিশে যেতে ইচ্ছে করছে.....আমায় কি তুমি কোনো দিন বাঁচতে দেবে না....ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্!
বাবার মুখে আমার সঙ্গে মায়ের ঘনিষ্ঠতার শব্দ কানে যেতেই আমার হাতের জোর বৃদ্ধি পেলো। আমার দেহে বাঘের শক্তি! মজবুত শক্ত হাতের মুঠোয় বাড়া ধরে জোরে জোরে মায়ের রসের কথা অবচেতনে কল্পনা করতে গিয়ে প্রি-কাম বেরোতে শুরু করলো বাড়ার মুন্ডির ছিদ্র দিয়ে। বাড়াটা আমার প্রায় ১০ ইঞ্চি লম্বা, ঘেরে চার ইঞ্চি মোটা.....! চোখ বন্ধ করলাম। চোখের কোনো প্রয়োজন নেই আর, কান ও মনেই সুখ নিংড়ে নেওয়া যায় এখন! যেন মায়ের হাত স্পর্শ করলো আমার বাড়ায়, মা আমার দিকে চেয়ে বললো,
- সোনা.... অনেক ধকল গেছে সারাদিন....আয় আমি তোকে খাইয়ে দিই...!
এমনসময় কাল রাতে মায়ের খাইয়ে দেওয়ার সময় মায়ের বাঁদিকের নরম লদলদে মোটা দুধ আমার হাতের কনুইয়ে স্পর্শের স্বাদে আমি চেপে চেপে আমার বাড়াটা উপর নিচ করতে থাকি। বাবা মার আওয়াজ আসতে থাকে,
- ওগো.... আস্তে গো.....আমার কেমন লাগছে..... ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্.....ভেতরটা কেমন করছে.......!
- আস্তে নয় মাগী, জোরে ভরবো তোকে....এতেই যে প্রকৃত সুখ....আমি বুড়ো হয়েছি....তোর এই যুবতী নধর শরীরের মধু আমি না পারি খেতে, না পারি তোকে সন্তুষ্ট করতে..... এতোক্ষণ ধরে ভরছি.....তবুও তুই রস ছাড়লি না....!
- না গো.....এমন কথা বোলো না....তোমার সবেতেই আমি সন্তুষ্ট..... ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্.....ওগো.....!
- মিথ্যা বলিসনা মাগী.....তোর শরীরে খিদে খুব....কি ভাবছিস.....বুড়ো হয়েছি? বাড়া বড়ো হলেও দম শেষ হয়ে গেছে.....তাই বলে আমি তোর খিদে টের পাইনা? আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্..... সেদিন যখন কেউ ছিলনা বাড়িতে, আমার চোখের সামনে ঘুরঘুর করছিলি....কি ভাবলি, আমি কিছু বুঝিনি.....? তোর গুদে যে রস কাটে সবসময়, ছেলেমেয়েদের সামনে বোঝাতে পারিসনা আমায়। যখনই ওরা ঘরের বাইরে গেল, অমনি আমার কাছে কাছে পোঁদ দুলিয়ে দুলিয়ে হাঁটা শুরু করলি? টানা ১ ঘন্টা ধরে অনেক কষ্টে তোকে ঠাপিয়েই গেলাম.....কই, কোথায় তোর রস? এখনও বল্ বলে দিচ্ছি.....তুই আমার ঠাপে সন্তুষ্ট নোস?
- ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্.....বিশ্বাস করো সেদিন আমি একটা কথা বলার জন্য তোমার কাছে বার বার যাচ্ছিলাম....ওসবের জন্য নয়!
- তোর দুধ টিপে ফাটিয়ে দেবো আমি, সত্যি করে বল মাগী, তুই তোর ভাতারের কাছে সন্তুষ্ট নোস?
- তোমার সঙ্গে সহবাস করে তোমায় দুই সন্তান দিয়েছি.....তোমার বকুনি সহ্য করেও তোমার রাগ ভাঙাতে তোমারই কাছে নিজের দেহকে সঁপে দিয়েছি বারে বারে .....এখনও কি এই প্রশ্নের উত্তর পাওনি তুমি? তুমিই আমার সব গো..... ওহ্ ওহ্ আহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্!
- আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্.....তুই ভালো মেয়েছেলে, তুই ভালো মা, তুই ভালো বউ, তুই সতী নারী..... স্বামীর সুখেই বাঁচতে চাস্...... কিন্তু তোর দেহের....আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্....অসীম খিদে রে....হয়তো এখনও তুই বুঝিস নি......... আমি বুঝতে পারি মাগী..... যতই ঘোমটা টেনে ঘোর... শাড়ির ভেতরে যে গতরটা তোর ফুলে উঠেছে, তার রস যে কতখানি....তা কেবল যে চেখে দেখেছে সে-ই বলতে পারবে, যেমন আমি..... আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্.....!
- অমন কথা বোলোনা গো.....আমি যে আর শুনতে পারছি না!
- আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্.....মাগী তুই আমার থেকে ২৩ বছরের ছোটো....আমায় বোকা বানাস না....তোর শরীরে এখন ভরা বান.... সেখানে আমার বয়স্ক বাড়া খড়কুটোর মতো ভেসে যাচ্ছে!
- তুমিই আমার সব...... ওহ্ ওহ্ আহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্..... উফ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্ উফ্......
- দেখছিস..... দেখছিস মাগী..... আমার ছাড়ার সময় হয়ে এলো.... কিন্তু তোর গুদ এখনও জল ছাড়া শুরু করেনি...... উত্তর দে.....
- আমি কি করবো বলো......এখানেও আমার দোষ.....আমার ভুল.....তুমি কি আমায় শান্তি দেবে না গো.....?
- তোকে বলে রাখছি....যদি কাল থেকে দেখি ছেলের প্রতি তখনও আদর রয়েছে....তাহলে ছেলেটাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেবো.....মনে থাকবে?
- এ কি কথা বলছো তুমি....?
- মনে থাকবে?
- সব মনে থাকবে গো....আমার....সব মনে থাকবে.....!
- তোর শরীরের খিদে মেটানো আর আমার হলো না রে মাগী.....তুই ভালো মেয়ে, তুই নিজেও জানিস না যে তোর ভেতরে কত খিদে জমা আছে.....হয়তো একদিন জানতে পারবি..... আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্.....ছাড়ছি আমি ছাড়ছি........ওহহহহহহহহহহহহহহহহহ্......আর যেদিন জানতে পারবি, সেদিন তুই অন্য কারোর হয়ে যাবি রে.........মাগী...... নে......নে......খিদে তো মিটবে না তোর......নে.......তোর আরও জোরে চায় না?......নে.......মাগী বেশ্যা কোথাকার.......গুদে বাড়া ঢুকিয়ে ঘা খাচ্ছে.....তারপরেও রস ছাড়ার নাম নেই...... স্বামীর দেহ দিয়ে খিদে মিটছে না মাগীর......নে....... আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্।
- ওগো.....এমন কথা বোলো না গো..... ওহ্ ওহ্ ওহ্ আহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্ ওহ্!
সঙ্গমে লিপ্ত থাকা নিজের মায়ের কান্না ও আনন্দ ভেজানো গলার আওয়াজ শুনতে শুনতে আমার মোটা বাড়াটা মুঠোয় নিয়ে জোরে জোরে চাপ দিয়ে ভলকে ভলকে আমার বীর্যপাত ঘটলো।
- মা........আমায় একটিবার জড়িয়ে ধরো মা.......তোমার ওই নরম নরম দুধ দুটোকে আমার হাত দিয়ে মুচড়ে মুচড়ে যে লাল করে দেবো মা....তোমার ওই ভরা দুধ দুটোকে যে মধুতে আরও ফুলিয়ে তুলবো মা.......তোমার ওই মোটা গতরের রসে যে আমি স্নান করবো মা......তোমার ওই ফোলা গুদের গর্তে যে আমি আমার বাড়া ঢুকিয়ে ঢুকিয়ে তোমায় সুখ দেবো মা......তোমার রসালো ভারী পোঁদ দুহাতে টিপতে টিপতে তোমার দুধের বোঁটা চুষতে চুষতে তোমার গুদে আমার বীর্য ঢালবো মা........ও.........মা.................….... আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্ আহ্!!!!!!!!
প্রায় দু মিনিট ধরে ভলকে ভলকে আমার বাড়া থেকে বীর্য বেরিয়ে দূরে ছিটকে গিয়ে মেঝেতে ঝরে পড়তে লাগলো। আমি এমন এক আবেশের মধ্যে প্রবেশ করলাম, মনে হল এই সুখ জীবনের সমস্ত সুখের চাইতে অনেক বড়ো, অনেক মূল্যবান! মায়ের সঙ্গে রতি ক্রিয়ার কথায় আমার বাড়া এতো শক্ত হয়ে গিয়েছিল যে মুন্ডিটার দিকটায় ব্যাথা করে টনটন করে উঠলো। এই তাহলে হস্তমৈথুন....এতে এতো সুখ! তাহলে সত্যিই যদি একটা দেহ পেয়ে যায়, তবে কত সুখ! আর তা যদি হয় নিজের মায়ের....চারুলতার? আর সেখানে যদি দেহের সঙ্গে হৃদয়ের সংমিশ্রণ ঘটে....যদি দেহের জন্যই দেহ নয়, প্রেমের পরিণতিতে দেহভোগ ঘটে....তবে? নিজের মনেই বলে উঠলাম,
- মা গো.....!
(ক্রমশ....)
পর্ব - ৪
পরের দিন থেকে আমার প্রতি মায়ের ব্যবহার সম্পূর্ণ বদলে গেল। সবই করে, রান্না করে, খেতে দেয়, ঘরও পরিস্কার করে দেয়, কিন্তু আমার মা যেন ঠিক আগের মতো আর নেই! এই দুঃখের সংসারে যতটুকু হাসি অবশিষ্ট ছিল, তাও যেন চলে গেল মায়ের মুখ থেকে। আমি কাছে গেলে, জড়িয়ে ধরলে বা সাধারণ কথা ছাড়া অন্য কোনো কথা বলতে গেলেই মা কথা ঘুরিয়ে সেখান থেকে নিঃশব্দে চলে যেতো। বুঝলাম কাল রাতের বাবার কথার প্রভাব। আমার সঙ্গে বেশি কথা বললে আমায় বাবা ঘাড় ধাক্কা দিয়ে নাকি বের করে দেবে, এই ভয়েই আমাকে হারিয়ে ফেলার চিন্তাতেই মা আমার থেকে দূরে দূরে থাকছে। এই ঘরের প্রতি আমার কোনো মোহ নেই, না লোভ আছে, শুধুমাত্র মায়ের কথা ভেবেই, মায়ের এই অসহায় সরল চোখদুটো দেখলেই মনটা কেমন হু হু করে ওঠে। আমি চলে গেলে মায়ের কষ্ট, মায়ের ওপর বাবা অত্যাচার, বোনের কথার আঘাত যে আরোও বেড়ে যাবে। এ আমি কিছুতেই হতে দেবো না!
এই হল মায়ের জন্য চিন্তা, তার সঙ্গে এসে জুড়েছে আরেক চিন্তা!
কাল রাতে আমি মায়ের গলার আওয়াজ শুনে, মায়ের উলঙ্গ দেহ কল্পনা করতে করতে আমি আমার জীবনের প্রথম বীর্যপাত করেছিলাম! কি করে ফেললাম আমি এটা! যে মাকে আমি নিজের প্রাণের চাইতেও বেশি ভালোবাসি, সম্মান করি, তার মাতৃত্বের প্রভাবে মাথা নত করি তার পায়ের কাছে, আজ সেই মায়ের কথা ভেবেই আমি বাড়ায় হাত দিলাম, সেই মায়ের শরীর কল্পনা করে আমি আমার থকথকে সাদা রস ছলকে ছলকে মেঝেতে ফেললাম? ছিঃ!
এমনসময় চোখ পড়লো মায়ের দিকে। তখন বাবা মাঠে, লতা নিজের ঘরে, আর মা উঠোনে দুটো গরুকে জল দেওয়ার জন্য একটা বড়ো পাত্রে জল ভরে গোরু দুটোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমি বারান্দা থেকে দেখলাম মায়ের রূপ.....এটাও জীবনে প্রথমবারই ঘটলো! এর আগে মাকে কোনোদিন আমি এই দৃষ্টিতে দেখিনি, কিন্তু আজ....দেখলাম! মাতৃরূপে নয়, একজন নারী রূপে আমার মা চারুলতার দেহের সৌন্দর্য্যের স্বাদ নিলাম।
কি অপরূপ তার সৌন্দর্য্য! শ্যামাঙ্গিণী সে, এর জন্যেই যেন তাকে আরো বেশি সুন্দরী দেখাচ্ছে। তার মুখের লাবণ্য তার ঘন কালো চুল, দুই ডাগর চোখ ও নরম গোলাপী ঠোঁটের আভায় প্রকাশ পাচ্ছে! নজর পড়লো মায়ের বুকের কাছটায় যখন মা নীচু হয়ে গোরুগুলোকে জল দিচ্ছিল। মায়ের এতো বড়ো বড়ো দুধ....! দুধ দুটো ব্লাউজ ভেদ করে শাড়ির ওপর দিকেই উঁকি মেরে আমার সঙ্গে কথা বলছে গোপনে। যেমন বড়ো, তেমনি টাইট হয়ে বুকে এঁটে বসেছে। ভেতরে ব্রা গ্রামের মেয়েরা ভাবতেই পারে না। ব্রা ছাড়াই মায়ের দুই দুধ একটুও না ঝুলে বুকের সঙ্গেই জমাট বেঁধে আছে। মা নীচু হওয়ার সময় দেখলাম শাড়ির আঁচল বুক থেকে সরে গিয়ে ব্লাউজের উপরের দিক ফাঁক করে যেন বাইরে উপচে পড়তে চাইছে। এতো বড়ো....ও মা.....এতো বড়ো তোমার দুধ! যখন মা গোরুগুলোকে জল দিয়ে উঠোনের অন্যদিকে নতুন খড় আনতে গেল গোরুগুলোর জন্য তখন দেখতে পেলাম তার পোঁদ। এ কি মা! এতো ভারী? একেক দিকে এক একটা বড়ো কুমড়ো বসিয়ে দিলে যতোটা ফুলে ওঠে, তার চাইতেও বড়ো হয়ে ফুলে আছে মায়ের পেছনের শাড়ির তলায় পোঁদের দুই মাংসপিন্ড! মা যখন নতুন খড় নেওয়ার জন্য মাটিতে ঝুঁকলো, মায়ের পোঁদের মাংস আরও ফুলে গিয়ে বিরাট আকার ধারণ করেছে! তারপর সোজা হয়ে দাঁড়াতেই আমার চোখ আটকে গেল আমার মায়ের পোঁদের দুই দাবনার মধ্যিখানের চেরায়। মায়ের শাড়ি সেখানকার গভীর চেরার অন্ধকারে ঢুকে গেছে। আহ্....এ কি অপরূপ দেহ মায়ের! এই ৩৫ বছরের বিবাহিত এক নারীর শরীরের আনাচে কানাচে কামনার নেশা ছুটে বেড়াচ্ছে যেন....তাকে ধরতে পারলেই কাজ হাসিল হবে!
হঠাৎ এমনসময় মা আমার দিকে তাকালো। আমি তৎক্ষণাৎ মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করলাম। মা বোধহয় অত গুরুত্ব দিয়ে আমায় দেখেনি। সে আপনমনেই নিজের কাজ সারতে লাগলো। আর আমার মনে সেই পাপবোধ আবার ঘুরে এলো।
আমি এসব কি করছি? শুরু হয়েছিল মায়ের স্পর্শে একটা অনুভূতি দিয়ে, সেই অনুভুতিই বদলে গিয়ে কামের নেশায় মায়ের সঙ্গমরত আওয়াজ শুনে আমায় দিয়ে জীবনের বড়ো অপরাধ ঘটালো, আমার বীর্যপাত হলো, সেখানেও সে থেমে থাকলো না, আজ মায়ের শরীরে তার নিজের পেটের সন্তানের কু দৃষ্টি পড়লো! আমি কুনজরে মায়ের দেহ এই দুই চোখ দিয়েই যেন ভোগ করলাম। না , আর না। আমার জনম দুঃখী মা, আমার সরল মা, আমার অসহায় মা....সে আমার মা.... তাকে নিয়ে আর কোনো কুচিন্তা নয়....এই মুহূর্ত থেকে!
এরপর মাকে অনেকবার জিগ্যেস করেছি যে সে কেন আমার সঙ্গে কথা বলছে না, জানি আমি সবটাই, তবুও মায়ের মুখ থেকেই শুনতে চাইছিলাম, যাতে নিজের মুখে মা মনের কথা খুলে বলে নিজের মন হালকা করতে পারে। দেখলাম তাতেও মায়ের নিস্তব্ধতা ভঙ্গ হলো না! তারপর আমি আর এগোয়নি, কারণ এরপর এগোলে অর্থাৎ বাবা সেই রাতে মাকে কি বলেছিল, এটা যে আমি জানি, এটা বলে দিলে মা লজ্জায় পড়ে যাবে, কারণ বাবা এসব বলেছিল মায়ের সঙ্গে যৌন মিলনের সময়। তাই আর এই বিষয়ে কথা তুললাম না।
দিন কাটতে লাগলো। মা যতটা না বললেই নয়, ততটাই কথা বলে এখন। যদিও মা এভাবেই কথা বলছে, মনে মনে বুঝতে পারি যে তার ভেতরটা ফেটে যাচ্ছে তার প্রাণের ছেলের সঙ্গে ভালোভাবে কথা না বলার যন্ত্রনায়। মায়ের চোখ দিয়ে কতবার আমি জল ঝরতে দেখেছি, কিন্তু কিছু বলতে গেলেই চোখ মুছে অন্যদিকে চলে যায়। এদিকে আমার ইন্টারভিউয়ের কোনো ফলাফলই পেলাম না আর। চাকরিটা আদৌ হবে কি না, তাও জানিনা, হয়তো আমায় বাদ দিয়ে তারা অন্য কারোকে নিয়ে নিয়েছে। চাকরিটা পোস্ট অফিসের কেরানির চাকরি। বেতন ভালো। কিন্তু বুঝলাম যে আমার ভাগ্যটা সত্যিই খারাপ! এদিকে চাকরির ব্যাপারেও নিশ্চিত নই, অন্যদিকে মাও কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে! এই দুই কারণে নিজের প্রতি রাগ হতে লাগলো। এই জীবনকে অর্থহীন মনে হতে লাগলো। এই অবস্থায় একজনের মনের জোর কমে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। আমি চাকরির জন্য পড়াশোনা করা ছেড়ে দিলাম আর চাষের কাজে পুরোমাত্রায় লেগে পড়লাম।
একদিন সকালে মাঠে বেরোবো, বাবা ভোরেই চলে গেছে, দেখি বোন এসে আমার ঘরে ঢুকলো। কি ব্যাপার! ও তো কারণ ছাড়া আমার কাছে আসে না! কি কারণ হতে পারে? লতা আমার ঘরে ঢুকে দরজা ভেজিয়ে দিয়ে বিছানায় আমার পাশে এসে বসলো। আমি বললাম,
- কি রে, কিছু বলবি?
লতা একটু চাপা স্বভাবের। বাবা তাকে কলেজের পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছে। ভয়ে সে বাবাকে কিছু বলতে পারেনি। সে আমাকে মোটেও সহ্য করতে পারে না, তবুও আজ আমার কাছে এসেছে দেখে বুঝলাম খুব জরুরী কোনো ব্যাপার রয়েছে। সে একটু ফিসফিসিয়ে বললো,
- আমায় একটা সাহায্য কর দাদা।
- কি করতে হবে বল?
- সেই ছেলেটা, মানে যাকে আমি ভালোবাসি, তার নাম নিশীথ। আমি ওকে ছাড়া বাঁচবো না। তুই বাবার সঙ্গে কথা বলেওর সঙ্গে আমার বিয়ের ব্যবস্থা কর। নিশীথ চাষবাস করে। ওর মা বাবা নেই। ওই চাষবাসের উপার্জনে আমাদের দুজনের ভালোভাবে চলে যাবে। আজ রাতেই তুই কথা বলবি বাবার সঙ্গে। নয়তো এর পরিণাম খুব খারাপ হবে...এই বলে রাখলাম!
বলে সে দরজা খুলে বেরিয়ে গেল। আমি উঠে বাইরে এসে দেখি মা রান্না চাপাচ্ছে। মায়ের কাছে গিয়ে বললাম,
- মা, একটা কথা আছে।
মা কিছুক্ষন চুপ থেকে একটু শান্ত গলায় বললো,
- বল।
- লতার ব্যাপারে।
মা দেখলাম একটু চিন্তিত হলো, কিছুক্ষণ কি যেন ভাবলো, তারপর বললো,
- লতার ওই ছেলেটার ব্যাপারে?
বুঝলাম এর আগে লতা মাকেও এই ইঙ্গিত দিয়েছিল। আমি ঘাড় নেড়ে বললাম,
- হ্যাঁ মা। ছেলেটার নাম নিশীথ। আমাদেরই মতো চাষী, মা বাবা নেই, একা থাকে। বিয়ে দিলেও কোনো সমস্যা নেই, ভালো থাকবে লতা।
- আমি কি বলবো চয়ন, তোর বাবাকে বলে দেখিস!
আমি বুঝলাম মা রাজি, কিন্তু বাবার কথাই শেষ কথা! তাই রাতে বাবার সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলবো ঠিক করে আর কিছু না ভেবে কাঁধে গামছা আর হাতে একটা কোদাল নিয়ে মাঠে বেরিয়ে গেলাম।
বাড়ি থেকে বেরোবার আগে দেখলাম....মায়ের সৌন্দর্য্য! কি অপরূপ সুন্দরী সে! কথা বন্ধ হওয়ার পর থেকে তার সৌন্দর্য্য যেন আমায় আরো বেশি করে আকর্ষণ করছে! যে যতদূরে ঠেলতে চায়, তার প্রতি মোহ তত বেশি বাড়ে! যত মা আমায় দূরে ঠেলার চেষ্টা করার অভিনয় করছে বাবার আদেশে, তত বেশি করে আমি যেন মায়ের লাবণ্যময়ী সৌন্দর্য্যের ঘোরে তার আরও কাছে চলে যাচ্ছি। সেই কুচিন্তাগুলো আসছে! আমি তাদের গুরুত্ব না দেওয়ার চেষ্টা করছি, কিন্তু ধীরে ধীরে তা গুরুত্ব পেয়েই যাচ্ছে....দিন দিন যেন তার প্রভাব বাড়ছে!
যত বেশি ভাবি মায়ের নিয়ে এসব চিন্তা করবো না, এসব পাপ, এই সমাজে নিষিদ্ধ, তত বেশি করে এই পাপ কাজকেই ভালো লাগছে আমার! বারে বারে এই পাপে আমি লিপ্ত হচ্ছি, হয়ে চলেছি! যেন আমার মনে সেই 'পাপবোধ' শব্দের যে ক্ষমতা এতদিন ছিল, তা ক্রমে কমে আসছে আর মায়ের প্রতি এই অনুভূতির যে সূচনা হয়েছিল, তার ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে পেতে অসীমে গিয়ে ঠেকছে। আগে তো মায়ের দিকে তাকালে এই নিষিদ্ধ ভালো লাগার উদয় হলে একটু হলেও খারাপ লাগতো, কিন্তু এখন? এখন যে আর তাও লাগেনা.... শুধু এই নিষিদ্ধ অনুভূতির পুজো করে চলেছি গোপনে.... আমার মনের অন্তরালে...!
ধীরে ধীরে আমি এমন হয়ে যাচ্ছি যে নিজেকেই নিজে চিনতে পারি না মাঝে মাঝে!
এইতো কদিন আগেই সকালে মা উঠোনে বসে গোরুর দুধ দুইছিল একটা বালতিতে। দুহাতে দুটো বাঁট ধরে উপর থেকে নিচ অবধি নিংড়ে নিংড়ে দুধ বের করে বালতি ভরে তুলছিল। আমি ঘুম থেকে উঠে দাঁতন দিয়ে দাঁত পরিস্কার করছিলাম তার সামনেই। মা একমনে গোরুর দুধ দুইছে। আমি আড়চোখে তাকিয়ে দেখলাম মায়ের বুকের কাছটায় কাপড় সরে গিয়ে বড়ো বড়ো দুধ দুটো ব্লাউজের ভেতর থেকেই দেখা যাচ্ছে। এমনসময় গোরুর দুধ দুইতে গিয়ে গোরুটা একটু নড়ে ওঠায় তার দুধের বাঁট থেকে পিচকিরির মতো দুধ গিয়ে মায়ের মুখ, হাত আর ব্লাউজের ওপরে ছিটকে পড়লো। আর এতেই আমি পাগল হয়ে গেলাম। ব্লাউজের ঠিক মাঝখানে যেখানে মায়ের দুধের বোঁটা রয়েছে, সেখানেই গোরুর দুধ ছিটকে লেগেছে আর তাতে ব্লাউজ ভিজে গিয়ে মায়ের দুটো দুধের বোঁটা ফুটে উঠল। কি দৃশ্য দেখালে আমায় মা! ফোলা ফোলা বড়ো বোঁটা মায়ের দুটো দুধের মধ্যিখানে স্পষ্ট হয়ে ব্লাউজ থেকে মুখ উঁচিয়ে ফুলে আছে বাইরের দিকে। মায়ের সেদিকে খেয়াল নেই। আমি দাঁতন ছেড়ে আরো কাছে এগিয়ে গিয়ে মাকে গোরুর দুধ দুইতে সাহায্য করার নাম করে গোরুটার পা দুটো শক্ত হাতে ধরলাম মায়ের বিপরীত দিকে মায়ের দুধের দিকে মুখ করে। মা তাকিয়ে আছে গোরুর দুধের বাঁটে, আমি তাকিয়ে আছি মায়ের দুধের বোঁটায়। মা যেভাবে দুধ দুইছে, আমি কল্পনা করতে লাগলাম আমিও একদিন ঠিক এইভাবেই তোমার ওই দুটো বড়ো ভারী নরম থলথলে দুধকে দুইবো মা! তোমায় হামাগুড়ি দিয়ে বসিয়ে তোমার দুধের পাশে বসে নিচে ছোটো হাঁড়ি রেখে প্রথমে তোমার বাঁদিকের বড়ো দুধটা দুইবো, তারপর সেখানকার দুধ শেষ হলে ডানদিকের দুধে হাত দেবো....ঠিক এইভাবেই। বালতি ধরে থাকতে থাকতে আমার বাড়া প্যান্টের ভেতরেই ফুলে উঠে দাঁড়িয়ে গেল।
মা গোরুর দুধের বাঁট থেকে চোখ সরিয়ে যদি আমার দিকে একবারের জন্যেও চেয়ে দেখতো, তবে মা বুঝতে পারতো, তার নিজের পেটের ছেলে তাকে গোরুর দুধ দুইতে দেখে তার মায়ের বড়ো বড়ো দুধের বোঁটা দেখতে দেখতে কল্পনায় তার দুধ দোয়াবার কথা ভেবে ভেবে নিজের লম্বা বাড়া শক্ত করে ফেলেছে। কিন্তু মা তাকায়নি আমার দিকে। মা ভাবতেও পারে না যে একথা! নিজের পেটের ছেলে হয়ে যে নিজের মায়ের নিয়ে এমন কুরুচিকর নোংরা চিন্তা করতে পারে, চারুলতা তা ভাবতেও পারেনা!
আমি মাঝে মাঝে ভাবি, আমি যেমন মায়ের কথা শোনার জন্য ছটফট করছি, মাকে আগের রূপে দেখার জন্য যন্ত্রনা পাচ্ছি, মাকে আবার আগের মতো করে পাওয়ার জন্য আমার প্রাণ ওষ্ঠাগত, মায়েরও কি সেই অবস্থা হয়নি ভেতরে ভেতরে? বুঝতে পারিনা। নারীর মুখ আর মন দুই ভিন্ন ধাতু দিয়ে গড়া, ভেতরে ধ্বংসাত্মক ঝড়ে তোলপাড় চললেও মুখে মধ্যসমুদ্রের জলরাশির মতো শান্ত ভাব এরা তৈরি করতে জানে! এইজন্যই এরা নারী! এদের মনের কথা পড়া অসম্ভব!
সেদিন সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে এলাম বাবার একটু পরে। বাবা একটু আগেই ফিরে গেছে। আমি বাকি চাষীদের সঙ্গে কথাবার্তা শেষ করে মাঠের সব কাজ সেরে বাড়ি ঢুকলাম। তারপর ঘরে গিয়ে সারাদিনের ঘামে ভেজা জামাকাপড় ছেড়ে রেখে ভাবলাম পুকুরের জল এনে স্নান করবো , তাই গামছা হাতে ঘর থেকে বেরোতে যাবো, দেখি মা লন্ঠন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আমার ঘরের বাইরে। মা এমন রোজ করে। আমি আর বাবা বাড়ি ফিরে এলে লন্ঠন হাতে করে পুকুরে আমাদের সঙ্গে যায় আলো দেখিয়ে। মায়ের মুখে তাকিয়ে দেখলাম। চোখের দিকে তাকিয়ে কিচ্ছু বোঝার উপায় নেই মা মনে মনে কি ভাবছে। আজ আমার ভয়ঙ্কর রাগ হলো মায়ের ওপর আর আমার ভেতরে একটা শুরু হলো প্রবল ঝড়....! তাই নিজের মনে মনেই মাকে বলে উঠলাম,
আমি কি দোষ করেছি যে তুমি আমার সঙ্গে কথা বন্ধ করে প্রতিনিয়ত আমার বুকে ছুরি মারছো? তুমি জানো যে ছোটো থেকেই তোমার সঙ্গে মন খুলে গল্প না করলে, তোমার হাতে না খেলে, তোমার সঙ্গে দুদন্ড বসে না থাকলে আমার কষ্ট হয়! তুমি জানো না বুঝি এগুলো? নাকি স্বামীর কথাই তোমার জীবনের সব? আমি কি তোমার কেউ নই? আমি কি সংসারের জন্য, তোমার জন্য কিছুই করিনি?
এসব ভাবতে ভাবতে আমার চোখ ফেটে জল বেরিয়ে এলো, কাঁদলাম না, কিন্তু মায়ের কাছে দাঁড়িয়েও থাকতে পারলাম না আর। মুখে কড়াভাবেই মাকে বলে ফেললাম,
- দাও, তোমায় আমার সঙ্গে পুকুরে যেতে হবে না, তোমার স্বামীকে চা দাও গিয়ে।
এই কথাটা কি বললাম আমি! তোমার স্বামী? সে তো আমার বাবা হয়! এই কথাটা সাধারনভাবে শুনলে সাধারণ মনে হতে পারে, কিন্তু অবস্থাবিশেষে কথার অর্থ বদলে যায়। আমি ঠিক ওই সাধারনভাবে এই কথা বলিনি। এই 'তোমার স্বামী' কথার মধ্যে লুকোনো ছিল বাবার প্রতি এক নারীর জন্য হিংসা, জ্বলন ও মায়ের জন্য অভিমান। জানিনা মা এর অর্থ কি বের করলো, কিন্তু আমি এই অর্থেই কথাটা বলেছিলাম মাকে। তারপর আর সেখানে দাঁড়ায়নি, মায়ের হাত থেকে একপ্রকার জোরেই লন্ঠন কেড়ে নিয়ে উঠোন থেকে একটা বালতি তুলে দ্রুতপদে পুকুরে চলে গেলাম।
লন্ঠনটা নেওয়ার সময় মায়ের চোখের দিকে একবার চোখ পড়েছিল আমার, সেই অল্প মুহূর্তের জন্যেই দেখেছিলাম মায়ের দুই চোখে কষ্ট, যন্ত্রনা ও তার মনের তীব্র ছটফটানি....এক অসহ্য ব্যাথা যেন তার শরীর ও মনকে এফোঁড় ওফোঁড় করে এই রাতের অন্ধকারে হাহাকার করে উঠলো!
(ক্রমশ....)
পর্ব - ৫
রাতের খাওয়া শেষ করে আমি ভাবলাম এবার লতার কথাটা বলবো, দেখি বাবা রাজি হয় কিনা। বাবা বারান্দায় বসে একটা বিড়ি টানছিল। আমি কাছে যেতে একবার আমাকে দেখে আবার সামনের উঠোনের অন্ধকারে তাকিয়ে একমনে বিড়ি টানতে লাগলো। আমি বাবাকে বললাম,
- লতাকে নিয়ে কথা বলার আছে তোমার সঙ্গে।
বাবা ভ্রু কুঁচকে আমার দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষন। কিছু বললো না। তারপর আবার সামনে তাকিয়ে বিড়ি টানতে লাগলো। আমি বললাম,
- লতা যে ছেলেটাকে ভালোবাসে, তার নাম.....।
- চুপ। একটা কথাও আমি তোর মুখ থেকে শুনতে চাই না। বেরিয়ে যা এখান থেকে।
সবকিছুর একটা সীমা থাকে! মায়ের আমার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ, মাকে রোজ রোজ উঠতে বসতে অপমান, রাগে তার গায়ে হাত তোলা, আমার ওপর অকারণে ঝাঁঝিয়ে ওঠা, লতাকে ঘরে বন্ধ করে রাখা, এই সবকিছু মিলে আমার ভেতরে সবকিছু তোলপাড় হয়ে যাচ্ছিল। কন্ঠস্বর গম্ভীর করে শুধু বললাম,
- নিজের কথাকে সংযত করো বাবা। এই বাড়িতে আমার থাকার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই, না তোমার সাথে থাকার ইচ্ছা আছে। নেহাৎ মাকে ছেড়ে যেতে পারবো না, নইলে আমি কবে চলে যেতাম।
বাবা এবার আমার দিকে ঘুরে বিকৃত মুখে নোংরা ভাষায় বললো,
- তা মা-টাকে সঙ্গে করেই বিদায় হ না এখান থেকে, গিয়ে একসাথে সংসার বাঁধ।
বলে মুখে এক অশ্লীল হাসি হেসে বিড়ি টানতে লাগলো।
তার এই কথায় আমি এক নতুন জীবনের পথ আজ যেন দেখতে পেলাম....এতদিন যা অন্ধকারে ঢাকা পড়েছিল বা হয়তো আমি এই পথকে খুঁজতেই চাইনি কোনোদিন! এখান থেকে, এই নরক থেকে, এই নরপিশাচটার কাছ থেকে মাকে নিয়ে চলে যাবার চিন্তা আমার মাথায় এর আগে আসেনি। ভাবতাম রোজগার করে পয়সা আনবো, কিন্তু থাকবো এই ঘরেই এই লোকটার সঙ্গেই। কিন্তু এত গভীরে গিয়ে ভাবিনি যে, এই লোকটার সংস্পর্শে মাকে সুখে রাখা সম্ভব নয়, না আমি সুখে থাকবো। এই লোক যতদিন বাঁচবে, মাকে ততদিন খুবলে খুবলে খেয়ে যাবে! ভালো জীবন পেতে হলে এর থেকে নিষ্কৃতি চায় সবার আগে। আর তার শেষ কথাটা...? 'গিয়ে একসাথে সংসার বাঁধ ' মানে বাবা কি মাকে বিয়ে করে সংসার করার ইঙ্গিত দিলো নাকি স্রেফ মাকে নিয়ে অন্য জায়গায় বাঁচার? বেশি ভাবতে হল না, তার মুখের ওই অশ্লীল হাসিই বুঝিয়ে দিল মাকে বিয়ে করে সুখে রাখার কথাই আমাকে বাবা বলেছে। আমার ভেতরে এক সুপ্ত গোপন পবিত্র অনুভূতি নিজেকে যেন আনন্দে প্রকট করে আমায় বলতে লাগলো,
- যে মাকে এতো ভালোবাসিস, যে মায়ের মন ও শরীর - এই দুটোতেই তোর অদম্য আকাঙ্ক্ষা, তাকে বিয়ে করে নিজের স্ত্রী বানিয়ে জীবন কাটানো তো পরম সৌভাগ্যের বিষয় চয়ন....কেড়ে নে, তোর মাকে এই পশুটার কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে চলে যা দূরে.... অনেক দূরে!
বাবার কথায় আগে হলে রাগ করতাম, কিন্তু এখন রাগের বদলে হেসে বললাম,
- ধন্যবাদ।
বাবা একটু অবাক হয়ে বললো,
- কিসের জন্য?
- কিছু না।
- তা যদি নিয়ে যাস ভালোই হবে, ওর খিদে আমি মেটাতে পারিনা....যা খিদে চারুর!
আমার বাড়ায় একটা সুড়সুড়ি লাগলো এই কথায়। চারুলতার খিদে! আমার মায়ের খিদে! কি সুন্দর -ই না লাগছে এই কথাটা আজ! হ্যাঁ মা...আমি তোমার খিদে মেটাবো....দেখবে একদিন তোমায় বিয়ে করে তোমায় আমার স্ত্রীর সম্মান দেবো আর তুমি...? তুমি আমার ঘর করবে!
এগুলো ভাবছিলাম, হঠাৎ পেছনে কান্নার আওয়াজ পেয়ে তাকিয়ে দেখি মা আমার সামনে বাবার এইরূপ কথা শুনে অপমানে ও লজ্জায় মুখে শাড়ির আঁচল ঢেকে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল ঘরের ভেতরে।
আজ এই মুহূর্তে আমার সামনে বসে থাকা মানুষটাকে ঠিক নিজের বাবা বলে মনে হচ্ছিল না, মনে হচ্ছিল একজন পুরুষ, আর তার নারীকে তার নিষ্ঠুর বেড়াজাল থেকে মুক্ত করে ছিনিয়ে নিয়ে যাবো আমি। তাকে দেখে আমার কেবলই মনে হতে লাগলো, যেন আমার নারীর শরীরে ওর স্পর্শও আমি আর সহ্য করতে পারবো না! এই রাতের এই ক্ষণে আমি আমার মা চারুলতার সন্তান আর নই, আমি তার পুরুষ, আর সে আমার নারী!
পাশ থেকে এমনসময় দরজা ধাক্কা দিয়ে বেরিয়ে এলো লতা। এতক্ষনে আমি তার কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। তার কথা দিয়ে বাবার সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করেছিলাম ঠিকই, কিন্তু মাঝে চারুলতার কথা, আমার নারীর কথা এসে পড়ায় লতার কথা মন থেকে কখন মুছে গেছে টেরই পাইনি। দেখলাম লতা বাবার কাছে এসে ক্রুদ্ধ গলায় গর্জে উঠলো,
- যদি তুমি আমার সঙ্গে নিশীথের বিয়ে না দাও, আমি এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো কালকেই।
বাবা বিড়ি ফেলে উঠে দাঁড়িয়ে তার মুখের ওপর কথা বলার সাহস দেখাবার জন্য মেয়ের গালে সজোরে একটা চড় বসিয়ে দিল। লতা ঘুরে গিয়ে বারান্দার মেঝেতে আছড়ে পড়লো। বাবা তার কাছে গিয়ে তার চুলের মুঠি ধরে টানতে টানতে তার ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে বাইরে থেকে শেকল তুলে দিল। তারপর রাগে কাঁপতে কাঁপতে বিড়বিড় করে বললো,
- মাগীর গুদে সুড়সুড়ি জেগেছে....রাত কাটছে না তার নাগরের বাড়া ছাড়া...যা না, ওর গুদটা মেরে দিয়ে ওর খিদে মিটিয়ে দে না!
শেষের কথাগুলো বাবা আমায় উদ্দেশ্য করে বললো। আমার হাত উঠতে যাচ্ছিল, কিন্তু থামিয়ে নিলাম। মনে মনে বললাম,
- এই গোটা জগতে আমি শুধু একজন নারীর পুরুষ, সে হলো চারুলতা! আর তোমায় আমি এর জবাব দেবো....আজ? নাহ্ আজ নয়....আজ এই রজনীতে হয়নি সময়!
(ক্রমশ....)