সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া বিপন্ন প্রজাতির - Printable Version
+- Forums (
https://forum.xgossip.fun)
+-- Forum: Storeys Category (
https://forum.xgossip.fun/forumdisplay.php?fid=1)
+--- Forum: Community Hub (
https://forum.xgossip.fun/forumdisplay.php?fid=5)
+---- Forum: Off Topic (
https://forum.xgossip.fun/forumdisplay.php?fid=9)
+---- Thread: সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া বিপন্ন প্রজাতির (
/showthread.php?tid=59)
সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া বিপন্ন প্রজাতির -
Erotic Lovers - 09-18-2026
গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া বিপন্ন প্রজাতির তিনটি রিংটেইল লেমুরের মধ্যে দুটির সন্ধান পাওয়া গেছে ভারতের গুজরাটে। প্রাণী দুটি বর্তমানে ধনকুবের অনন্ত আম্বানির বন্য প্রাণী উদ্ধার ও সংরক্ষণ প্রকল্প ‘বনতারা’য় রয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পাচারের পর কয়েক দফা হাতবদল হয়ে লেমুর দুটি প্রায় ৪৮ লাখ রুপিতে বিক্রি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র।
প্রাণী দুটি বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহায়তা চেয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে বড় সমস্যা হলো, গাজীপুর সাফারি পার্কে থাকার সময় লেমুরগুলোর শরীরে কোনো মাইক্রোচিপ বসানো হয়নি, ছিল না আলাদা শনাক্তকরণ নম্বর বা সংরক্ষিত ডিএনএ প্রোফাইল। ফলে গুজরাটে থাকা প্রাণী দুটিই যে বাংলাদেশ থেকে চুরি হওয়া লেমুর, তা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সিআইডির তদন্ত এবং গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি থেকে চুরি ও পাচারের পুরো চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ গভীর রাতে গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে তিনটি লেমুর চুরি হয়। পরদিন পার্ক কর্তৃপক্ষ মামলা করে। পরে মামলার তদন্তভার নেয় সিআইডি।
তদন্তে উঠে এসেছে, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া নিরাপত্তাকর্মী নিপেন মাহমুদের সহায়তায় জুয়েল নামের এক বন্য প্রাণী চোরাকারবারি লেমুরগুলো পার্ক থেকে বের করে নেন। সেগুলো বস্তায় ভরে একটি বাড়িতে নিয়ে রাখা হয়। পরে প্রাণীগুলোর ছবি ও ভিডিও তুলে ভারতে সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে পাঠানো হয়।
একপর্যায়ে কলকাতার বাবলু ও মুম্বাইয়ের শিপলু নামের দুই ব্যক্তি ২০২৫ সালের মে মাসে বাংলাদেশে আসেন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন দেলোয়ার ও তপন নামের দুই ব্যক্তি।
তদন্তকারীদের তথ্যমতে, একটি প্রাপ্তবয়স্ক লেমুর ও একটি শাবক ১৭ লাখ টাকায় বিক্রির চুক্তি হয়। আরেকটি শাবকের দাম ধরা হয়েছিল ৩ লাখ টাকা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জবানবন্দিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় এক সীমান্ত লাইনম্যানের সহায়তায় দুটি লেমুরকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করা হয়। এরপর কয়েকবার হাতবদলের পর প্রাণী দুটি পৌঁছায় গুজরাটের জামনগরে।
পরে ভারতীয় ক্রেতারা ওই দুটি লেমুরকে ‘বনতারা’র সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৪৮ লাখ রুপিতে বিক্রি করেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
বনতারায় থাকা লেমুর দুটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা বাংলাদেশের তদন্তকারীদের নজরে আসে। ছবির প্রাণীগুলোর সঙ্গে গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া লেমুরের মিল পাওয়ার পর সেগুলো দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে মালিকানা প্রমাণে সবচেয়ে বড় বাধা শনাক্তকরণ তথ্যের ঘাটতি। আন্তর্জাতিকভাবে পাচার হওয়া বন্য প্রাণীর পরিচয় নিশ্চিত করতে সাধারণত মাইক্রোচিপ, নিবন্ধন নম্বর ও ডিএনএ প্রোফাইল গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু গাজীপুর সাফারি পার্কে পাঁচ বছরের বেশি সময় থাকার পরও লেমুরগুলোর ক্ষেত্রে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ কারণে গুজরাটে থাকা লেমুর দুটির সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত করতে এখন দেশে থাকা একটি শাবক লেমুরের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই নমুনার সঙ্গে গুজরাটে থাকা দুই লেমুরের জেনেটিক সম্পর্ক মিলিয়ে দেখার চেষ্টা চলছে।
সিআইডির হিসাবে, লেমুর চুরি ও পাচারের ঘটনায় মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
.
.