09-05-2026, 01:37 PM
পেছন মারা একটি অশ্লীল শব্দ, এর সঙ্গে পায়ুকাম জড়িত আছে, কোনও ভদ্রমানুষ এর ব্যবহার করে না, কিন্তু প্রথম যে মুসলমান শাসক একটি নৌসেনা গঠন করেছিলেন এবং পূর্ববঙ্গ অভিযান করতে প্রয়াস পেয়েছিলেন এবং ব্যর্থও হয়েছিলেন, সেই গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ খিলজির পূর্ববঙ্গ অভিযানে ব্যর্থ হওয়ার ইতিহাস পাঠান্তে আরেকবার অনুধাবন করলাম, এই পেছন মারার কনসেপ্ট কিভাবে এসেছিল। আপনি সম্মুখ যুদ্ধ করতে যাচ্ছেন, এমন সময় আপনার মিত্র বা শত্রু, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মিত্র কেউ, এসে পেছন থেকে অতর্কিতে আক্রমণ করল।
অর্থাৎ পেছন মেরে দিল।
ইওয়াজ খিলজির জীবনে এটাই ঘটে। তিনি রণতরী সাজিয়ে ঘটা করে পূর্ববঙ্গ আক্রমণ করতে গেছিলেন। কিন্তু তখন তো সারা উত্তর ভারত জুড়ে এইসব ডাকাত কাম নতুন শাসকদের মধ্যে প্রচণ্ড খেয়োখেয়ি চলছে। ফলে লখনৌতি অরক্ষিত দেখে ইলতুৎমিশের পুত্র মালিক নাসিরউদ্দিন দ্রুত এসে লখনৌতি দখল করে বেচারা ইওয়াজের পেছন মেরে দিলেন। ইওয়াজ ফিরে এসে যুদ্ধ করলেন বটে, কিন্তু হারলেন, এবং বন্দী হলেন, সেই সঙ্গে ইওয়াজের সমস্ত আমিরও বন্দী হলেন। ইওয়াজ যথারীতি নিহত হন এরপর। ৬২৪ হিজরা, ১২২৭ খ্রিষ্টাব্দ। বেচারা গেছিলেন বঙ্গ জয় করে অতুল কীর্তি স্থাপন করতে, শেষে কিনা প্রাণটাই খোয়ালেন, তাও পেছন থেকে আক্রমণে।
দীর্ঘ বারো বছর রাজত্ব করা এই গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজই কেশব ও বিশ্বরূপসেনের লিপির গর্গযবন হতে পারেন, যাকে হারিয়ে কেশব ও বিশ্বরূপ গর্গযবনান্বয়প্রলয়কালরুদ্র উপাধি নেন, আমার মতে (গারঝা নামক একটা তুর্কি ক্ল্যান বোঝাতে গর্গযবন লেখা হয়েছে এমন তত্ত্বও আছে অবশ্য)।
চর্যার যুগ পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রাচীন যুগে এই পেছন মারা প্রবাদটি আমাদের দেশে প্রচলিত ছিল না বলেই মনে হচ্ছে। এটি সম্ভবত মধ্যযুগের অবদান। মধ্যযুগের শাসকদের এভাবে অনেকবার পেছন মারা গিয়েছিল। শুরু সম্ভবত নদীয়ায় লক্ষ্মণসেনের ওপরে সেই অতর্কিতে ambush দিয়ে। শেষ হয়েছে সিরাজকে দিয়ে, মীরজাফর যা করেছিলেন সেটাও তো ওই জিনিসই ছিল।
নবারুণ ভট্টাচার্য এবং বাঙালির ইতিহাস, দুইই অত্যন্ত প্রিয়, নইলে এমন একটা অভদ্র বিষয়ে লিখতে অগ্রসর হতাম না। পাঠক নিজগুণে মার্জনা করবেন।
তথ্য:তমাল দাশগুপ্ত
