Thread Rating:
  • 0 Vote(s) - 0 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5

মায়ের নিষিদ্ধ টান (By: Tonmoy1212)
#1

 

আমার নাম আয়ান। এখন উনিশ বছর বয়স। আর আমার মায়ের নাম নাজিয়া। মায়ের বয়স উনচল্লিশ। বাবা করিম সাহেব সরকারি অফিসের মানুষ। সকাল আটটার আগেই বেরিয়ে যান, রাত নয়টা-দশটার আগে বাসায় ফেরেন না প্রায়। বাসায় এলেও কথা কম, মেজাজ কঠোর। আমরা তিনজনই শুধু। কোনো ভাইবোন নেই।
ছোটবেলা থেকে মাকে কাছ থেকে দেখেছি। খুব কাছ থেকে। যখন আমি সাত-আট বছরের, তখন মা আমাকে গোসল করাতেন। নিজের হাতে সাবান মাখাতেন। তখন তো কিছু বুঝতাম না। শুধু মায়ের গায়ের গন্ধটা মনে আছে সাবানের সাথে মিশে একটা উষ্ণ, মিষ্টি গন্ধ। মায়ের আঁচল দিয়ে আমার গা মুছতেন। কখনো কখনো মায়ের বুকের সাথে লেগে যেতাম। তখন শুধু আরাম লাগত।
কিন্তু এভাবে দেখা, এভাবে অনুভব করা শুরু হয়েছে মাত্র কয়েক মাস আগে।
গতটা জুলাইয়ের শেষের দিক। কলেজের ক্লাস বন্ধ ছিল দুদিনের জন্য। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেছি প্রায় সাড়ে আটটায়। বাবা তখন অনেকক্ষণ আগেই অফিস চলে গেছেন। বাসাটা নিস্তব্ধ। শুধু রান্নাঘর থেকে চায়ের কেটলির শব্দ আসছিল।
আমি বিছানা ছেড়ে উঠলাম। লুঙ্গি পরে হাঁটতে হাঁটতে রান্নাঘরের দিকে গেলাম। দরজার সামনে এসে হঠাৎ থেমে গেলাম।
মা রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার পরনে একটা পুরনো হলুদ রঙের নাইটি। কাপড়টা অনেকদিনের। ধোয়া-ধোয়ার কারণে একটু পাতলা হয়ে গেছে। সকালের আলো জানালা দিয়ে এসে সোজা মায়ের শরীরে পড়ছিল। নাইটির ভিতর দিয়ে মায়ের শরীরের আকারটা আবছা আবছা বোঝা যাচ্ছিল। বিশেষ করে যখন তিনি হাত তুলে উপরের তাক থেকে চায়ের প্যাকেট নামিয়েছিলেন—নাইটির হাতা উপরে উঠে গিয়েছিল।
আমি সেদিন প্রথমবার এত মনোযোগ দিয়ে মায়ের বগলের দিকে তাকালাম।
চুল ছাড়া। পরিষ্কার। একটু গাঢ় রঙের। আর হাত তোলার কারণে নাইটির গলাটা সরে গিয়ে মায়ের গলার নিচ থেকে বুকের উপরের সাদা অংশটা দেখা যাচ্ছিল। মা খুব ফরসা। বয়স উনচল্লিশ হলেও তার গলার চামড়া এখনো টানটান। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম। মা জানতেন না যে আমি পেছনে দাঁড়িয়ে আছি।
তিনি কেটলিতে চা পাতা ফেললেন। তারপর দুধ গরম করতে গিয়ে একটু ঝুঁকলেন। নাইটির উপরের অংশ আরও একটু খুলে গেল। আমি গিলতে গিয়ে দেখলাম আমার গলা শুকিয়ে গেছে।
মা হঠাৎ পেছন ফিরে তাকালেন।
“উঠেছিস? এত সকালে রান্নাঘরে কী করছিস দাঁড়িয়ে?”
আমি ভান করে হাই তুললাম। “চায়ের গন্ধ পেয়েছি মা… তাই।”
মা হেসে বললেন, “যা, মুখ ধুয়ে আয়। চা তো দিচ্ছি।”
আমি বাথরুমে গেলাম। কিন্তু আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম আমার কানে রক্ত চাপছে। মাকে আমি এতদিন শুধু মা হিসেবেই দেখেছি। আজ সকালে প্রথমবার তার শরীরটা অন্য চোখে দেখলাম।
সেই দিন থেকেই সব কিছু বদলাতে শুরু করল।
দুপুরবেলা আমি ঘরে শুয়ে মোবাইল নিয়ে পড়ছিলাম। মা আমার রুমের দরজায় এসে দাঁড়ালেন। হাতে এক গ্লাস পানি।
“আয়ান, দুপুরের খাওয়া হয়ে গেছে। উঠে খাইয়া নাও।”
তিনি তখন নাইটির উপর একটা পাতলা সাদা ওড়না জড়িয়েছিলেন। কিন্তু ওড়নাটা এতই হালকা যে তার নিচের নাইটির আকার আগের মতোই বোঝা যাচ্ছিল। মা গ্লাসটা আমার হাতে দিয়ে বিছানার পাশে বসলেন। তার হাঁটু আমার হাঁটুর সাথে প্রায় লেগে গেল। আমি গ্লাস হাতে নিয়েও পানি খাইনি। মায়ের গায়ের গন্ধটা এত কাছে থেকে পাচ্ছিলাম যে মনটা অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছিল।
মা আমার চুল এলিয়ে দিলেন আঙুল দিয়ে।
“এত চুপচাপ কেন রে? শরীর খারাপ?”
তার আঙুল আমার কপাল দিয়ে চুলের গোড়া পর্যন্ত বুলিয়ে গেল। আমি চোখ বন্ধ করে ফেললাম এক মুহূর্তের জন্য। মায়ের হাতের উষ্ণতা আমার ত্বকে লেগে রইল।
“না মা… এমনিই।”
মা উঠে দাঁড়ালেন। ওড়নাটা একটু সরে গিয়ে তার কোমরের ভাঁজটা দেখা গেল। আমি চোখ ফেরাতে পারলাম না। মা দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেলেন। আমি গ্লাসের পানি এক চুমুকে শেষ করে বিছানায় শুয়ে পড়লাম। বুকের ভিতরটা অশান্ত হয়ে উঠেছিল।
বিকেলবেলা মা বারান্দায় কাপড় শুকাচ্ছিলেন। আমি জানালার পর্দার ফাঁক দিয়ে দেখছিলাম। মা হাত উঁচু করে ক্লিপ দিয়ে কাপড় আটকাচ্ছিলেন। প্রতিবার হাত তোলার সাথে সাথে নাইটির হাতা উপরে উঠছিল। তার পুরো হাত, বগল, আর কোমরের উপরের অংশটা সূর্যের আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠছিল। মায়ের বুকটাও হালকা নড়ছিল কাপড় টানার সময়। আমি জানালার কাছে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ ধরে দেখলাম। মা একবারও পেছন ফিরে তাকাননি।
সন্ধ্যা নেমে এলে বাবা বাসায় ফিরলেন। তার পায়ের শব্দ শুনেই আমি রুমে ঢুকে গেলাম। বাবা এলে বাসার পরিবেশটা বদলে যায়। তিনি কম কথা বলেন, কিন্তু তার উপস্থিতিই যথেষ্ট। মা তখন নাইটি পাল্টে শাড়ি পরে নিয়েছিলেন। বাবার সামনে মা সবসময় ঢাকা থাকে।
রাতের খাবারের সময় আমরা তিনজন টেবিলে বসলাম। বাবা খবরের কাগজ দেখছিলেন আর খাচ্ছিলেন। মা আমাদের দুজনের থালায় ভাত দিচ্ছিলেন। আমি মায়ের হাতের দিকে তাকিয়েছিলাম। তার কবজির হাড়টা সরু। আঙুলগুলো লম্বা। যখন তিনি আমার থালায় তরকারি দিচ্ছিলেন, তার ব্লাউজের হাতা একটু উপরে উঠে গিয়েছিল। আমি চোখ নামিয়ে নিলাম। বাবা যেন টের না পান।
খাবার শেষে বাবা টিভির সামনে বসলেন। মা রান্নাঘর পরিষ্কার করতে গেলেন। আমি বাবার পাশে বসেও মন দিতে পারছিলাম না। রান্নাঘর থেকে মায়ের চলার শব্দ আসছিল। আমি উঠে গিয়ে পানির গ্লাস নিতে গেলাম। মা তখন সিঙ্কের সামনে ঝুঁকে থালা ধুচ্ছিলেন। শাড়ির আঁচল কোমরে গুঁজে রাখায় তার পেটের উপরের অংশটা হালকা দেখা যাচ্ছিল। আমি পেছনে দাঁড়িয়ে এক মুহূর্ত তাকিয়ে থাকলাম।
মা পেছন ফিরে তাকালেন।
“কী চাই?”
“পানি…”
মা গ্লাসে পানি ভরে আমার হাতে দিলেন। তার ভেজা আঙুল আমার আঙুলের সাথে লাগল এক সেকেন্ডের জন্য। আমি গ্লাস নিয়ে রুমে চলে এলাম। হাতের সেই স্পর্শটা অনেকক্ষণ মনে রাখলাম।
ঘুমাতে যাওয়ার আগে মা আমার রুমে এলেন। দরজায় দাঁড়িয়ে বললেন, “লাইটটা নিভিয়ে ঘুমাবি। কাল সকালে আগে উঠবি।”
আমি বিছানায় বসে মায়ের দিকে তাকিয়েছিলাম। শাড়ির উপর তার বুকের আকারটা শান্তভাবে উঠানামা করছিল। মা আমার দিকে একটু তাকিয়ে থেকে বললেন, “এত করে তাকাচ্ছ কেন?”
আমি দ্রুত চোখ নামিয়ে নিলাম। “না মা… ঘুম পাচ্ছে না।”
মা একটু হেসে বললেন, “মোবাইল কম কর। ঘুমাও।” বলে দরজা বন্ধ করে চলে গেলেন।
অন্ধকারে শুয়ে আমি ছাদের দিকে তাকিয়ে রইলাম। সকালের হলুদ নাইটি, দুপুরের হাতের ছোঁয়া, বিকেলের বগল, রাতের ভেজা আঙুল সব একসাথে ঘুরতে লাগল মাথায়। আমার শরীর গরম হয়ে উঠছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম, মাকে আমি আর আগের মতো করে দেখতে পারছি না। কিছু একটা জেগে উঠেছে আমার ভিতরে। খুব আস্তে আস্তে। কিন্তু নিশ্চিতভাবে।
আমি জানি এটা ঠিক নয়। বাবা যদি টের পান… কিন্তু আমি থামাতে পারছি না নিজেকে। প্রতিদিন মাকে একটু একটু করে অন্য চোখে দেখছি। আর সেই দৃষ্টি থেকে ফিরে আসতে পারছি না।
এভাবেই শুরু হয়েছিল সব। শুধু দেখা দিয়ে। ছোঁয়া ছাড়াই। কথা ছাড়াই। শুধু চোখ দিয়ে, মন দিয়ে মায়ের দিকে এগিয়ে যাওয়া।
Reply
#2

পরের দিন সকালে ঘুম ভাঙল প্রায় আটটার দিকে। বাবা তখন অফিস চলে গেছেন। বাসাটা আবার সেই নিস্তব্ধ। আমি বিছানায় শুয়ে শুয়ে শুনছিলাম রান্নাঘর থেকে আসা আওয়াজ। চায়ের কেটলির ফুটন্ত শব্দ, মায়ের পায়ের চাপা শব্দ, আর মাঝে মাঝে থালাবাসনের খোঁচাখুচি।
আমি উঠে লুঙ্গি পরে রান্নাঘরের দিকে হাঁটলাম। দরজার কাছে এসে থেমে গেলাম। মা আজ অন্য একটা নাইটি পরেছিলেন। হালকা গোলাপি রঙের। কাপড়টা হলুদটার মতো পাতলা না, কিন্তু গলাটা একটু বেশি খোলা। মা পেছন ফিরে আমাকে দেখতে পেলেন।
“উঠেছিস? মুখ ধুয়ে আয়, চা ঠান্ডা হয়ে যাবে।”
আমি মাথা নাড়লাম। বাথরুমে গিয়ে মুখ ধুলাম। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চোখের দিকে তাকালাম। চোখদুটো একটু লালচে। রাতভর ঘুম ভালো হয়নি। মায়ের কথা, মায়ের শরীর, মায়ের হাতের ছোঁয়া সব মিলেমিশে একটা অস্থিরতা তৈরি করে রেখেছিল।
ফিরে এসে টেবিলে বসলাম। মা আমার সামনে চায়ের কাপ রেখে দিলেন। তারপর নিজেও আমার মুখোমুখি বসলেন। গোলাপি নাইটির গলা দিয়ে তার কণ্ঠা হাড়টা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল। মা চায়ে চুমুক দিলেন। আমিও কাপ হাতে নিলাম কিন্তু চোখ মায়ের দিকেই ছিল।
মা হঠাৎ বললেন, “তোর চোখের নিচে কালি পড়েছে। রাত্রে ঘুমাইনি নাকি?”
“ঘুমিয়েছি মা। একটু দেরিতে।”
মা আমার দিকে তাকিয়ে থাকলেন কিছুক্ষণ। তারপর চোখ নামিয়ে চা খেতে লাগলেন। আমি লক্ষ করলাম মায়ের চোখদুটো একটু সরু হয়ে গেল। তিনি হয়তো কিছু বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু কিছু বললেন না। উপেক্ষা করলেন।
সকালের নাস্তা শেষ করে মা রান্নাঘরে গেলেন। আমি ঘরে ফিরে পড়ার টেবিলে বসলাম। কিন্তু বইয়ের পাতায় মন বসছিল না। মায়ের গোলাপি নাইটির ছবিটা বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল। বিশেষ করে যখন তিনি চায়ের কাপ হাতে নিয়ে আমার দিকে তাকিয়েছিলেন, তখন তার বুকের উপরের অংশটা নাইটির ভিতর কিভাবে শান্তভাবে উঠানামা করছিল সেটা মনে পড়ছিল।
দুপুরের দিকে মা আমার রুমে এলেন। হাতে একটা তোয়ালে।
“আয়ান, কাপড়গুলো তোয়ালে দিয়ে মুছে রাখ। বাইরে রোদ আছে।”
তিনি তোয়ালেটা আমার বিছানার উপর রেখে দিলেন। তারপর আমার টেবিলের দিকে একটু ঝুঁকলেন দেখার জন্য আমি কী পড়ছি। ঝোঁকার কারণে নাইটির গলাটা আরও একটু সামনে এসে গেল। আমি চোখ তুলে তাকালাম। মায়ের গলার নিচের সাদা চামড়া এত কাছে থেকে দেখছিলাম যে আমার শ্বাস এক মুহূর্তের জন্য আটকে গেল।
মা উঠে দাঁড়ালেন। “পড়তে থাক। আমি রান্না করতে যাই।”
তিনি বেরিয়ে গেলেন। আমি তোয়ালেটা হাতে নিয়ে বারান্দায় গেলাম। কাপড় মুছতে মুছতে মায়ের কথা ভাবছিলাম। তিনি কি সত্যিই কিছু টের পাননি? নাকি টের পেয়েও উপেক্ষা করছেন? মায়ের চোখের সেই সরু হয়ে যাওয়াটা মনে পড়ছিল। সাধারণ মা হিসেবে তিনি হয়তো ভাবছেন ছেলেটা একটু অন্যরকম আচরণ করছে। কিন্তু গভীরে কিছু নেই।
বিকেলবেলা বৃষ্টি এল হঠাৎ করে। আকাশ কালো হয়ে গেল। মা দৌড়ে বারান্দা থেকে কাপড় তুলছিলেন। আমিও গিয়ে সাহায্য করলাম। দুজনে কাপড় তুলছিলাম। মায়ের ভেজা চুল কপালের উপর আটকে গিয়েছিল। নাইটির একপাশ বৃষ্টিতে ভিজে তার উরুর সাথে লেপটে গিয়েছিল। আমি চোখ ফেরাতে পারছিলাম না।
মা হঠাৎ আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “কী দেখছিস? কাপড় তোল।”
তার গলায় একটু রেখার সুর ছিল। আমি মাথা নিচু করে কাপড় তুলতে লাগলাম। কিন্তু মনে মনে বুঝলাম, মা আমার দৃষ্টি টের পেয়েছেন। তিনি উপেক্ষা করতে চাইছেন। সাধারণ মায়ের মতো আচরণ করতে চাইছেন। কিন্তু আমি আর সাধারণভাবে দেখতে পারছি না তাকে।
বৃষ্টি থামার পর মা গোসল করতে গেলেন। আমি ঘরে বসে শুনছিলাম বাথরুমের দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ। তারপর ঝরনার আওয়াজ। আমি চোখ বন্ধ করে কল্পনা করলাম মা নাইটি খুলে ঝরনার নিচে দাঁড়িয়ে আছেন। তার ভেজা চুল, তার ফরসা শরীর, তার বগল। আমার শরীর আবার গরম হয়ে উঠল। আমি জোর করে উঠে বই খুললাম। কিন্তু পড়া হচ্ছিল না।
সন্ধ্যায় বাবা ফিরলেন। তার জুতার শব্দ শুনেই আমি সোজা হয়ে বসলাম। বাবা এলেই যেন একটা দেয়াল তৈরি হয়ে যায় আমাদের মাঝে। মা তখন শাড়ি পরে রান্নাঘরে ছিলেন। বাবা এসে হাতমুখ ধুয়ে টিভির সামনে বসলেন। আমি তার পাশে গিয়ে বসলাম। কিন্তু মনটা রান্নাঘরেই ছিল।
রাতের খাবারের সময় মা আমাদের থালায় ভাত দিচ্ছিলেন। তার শাড়ির আঁচল কোমরে গুঁজে রাখা। আমি লক্ষ করলাম মা আজ আমার দিকে কম তাকাচ্ছেন। আগের দিনের মতো চোখাচোখি হচ্ছে না। তিনি হয়তো ইচ্ছে করে দূরত্ব রাখছেন। সাধারণ মায়ের মতো আচরণ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু আমি তার সেই চেষ্টাটাও নোট করে নিচ্ছিলাম।
খাবার শেষে মা রান্নাঘর পরিষ্কার করতে গেলেন। আমি একটু পরে পানির গ্লাস নিতে গেলাম। মা সিঙ্কের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমি পেছনে গিয়ে গ্লাস নিলাম। মা আমার দিকে না তাকিয়েই বললেন, “গ্লাসটা রেখে যা। আমি ধুয়ে দেব।”
তার গলায় একটা ক্লান্ত সুর ছিল। আমি গ্লাস রেখে রুমে ফিরে এলাম। বুঝতে পারলাম মা আমার উপস্থিতি টের পেয়ে একটু অস্বস্তি বোধ করছেন। কিন্তু তিনি কিছু বলছেন না। উপেক্ষা করছেন। আর আমি সেই উপেক্ষার ভিতর দিয়েও তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম ধীরে ধীরে।
ঘুমাতে যাওয়ার আগে মা আর আমার রুমে এলেন না। দরজার বাইরে থেকেই বললেন, “লাইট নিভিয়ে ঘুমাবি আয়ান।”
আমি উত্তর দিলাম, “হ্যাঁ মা।”
দরজার ওপাশ থেকে মায়ের পায়ের শব্দ দূরে চলে গেল। আমি অন্ধকারে শুয়ে ভাবলাম। মা টের পেয়েছেন। তিনি দূরত্ব রাখতে চাইছেন। কিন্তু আমি থামব না। আমি জানি না কতদূর যাব। শুধু এটুকু জানি যে মায়ের প্রতি এই টানটা দিন দিন জোরালো হচ্ছে। আর আমি সেই টানের পেছনে পেছনে হাঁটছি চোখ বন্ধ করে।
সেই রাতে ঘুম এল অনেক দেরিতে। মায়ের গোলাপি নাইটি, বৃষ্টিতে ভেজা উরু, আর তার ক্লান্ত গলার সুর নিয়ে আমি অন্ধকারের ভিতর ডুবে গেলাম।
Reply
#3

পরের কয়েকদিন একই রকম কেটেছিল। সকালে উঠে মাকে দেখা, তার নাইটির দিকে চোখ যাওয়া, দুপুরে তার হাতের ছোঁয়া পাওয়ার অপেক্ষা, আর রাতে বাবা ফিরলে নিজেকে সংযত রাখা। কিন্তু ভিতরের টানটা কমছিল না। উল্টো প্রতিদিন একটু করে বাড়ছিল।
একদিন সকালবেলা আমি ঘুম থেকে উঠে দেখলাম মা আমার রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন। হাতে চায়ের কাপ। আজ তিনি সাদা রঙের একটা নাইটি পরেছিলেন। কাপড়টা নতুন। একটু মোটা হলেও গলাটা আগের মতোই খোলা। মা কাপটা আমার বিছানার পাশের টেবিলে রেখে বললেন, “উঠে চা খা। ঠান্ডা হয়ে যাবে।”
আমি বিছানায় উঠে বসলাম। মা তখনো দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার চোখ আমার মুখের দিকে। আমি লক্ষ করলাম মায়ের চোখদুটো একটু অবাক। তিনি হয়তো ভাবছিলেন ছেলেটার ঘুম কেন এত খারাপ হচ্ছে।
“রাত্রে আবার দেরিতে ঘুমিয়েছিস?” মা জিজ্ঞেস করলেন।
“একটু পড়ছিলাম মা।”
মা আমার চুলের দিকে হাত বাড়ালেন। আঙুল দিয়ে কপালের উপরের চুল সরিয়ে দিলেন। তার আঙুলের ছোঁয়া আমার ত্বকে লাগল। উষ্ণ। নরম। আমি চোখ বন্ধ করে ফেললাম এক মুহূর্ত। মা হাত সরিয়ে নিলেন দ্রুত।
“চা খা। তারপর গোসল করে নে।” বলে তিনি বেরিয়ে গেলেন।
আমি চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বসে রইলাম। মায়ের আঙুলের ছোঁয়াটা এখনো কপালে অনুভব করছিলাম। তিনি ইচ্ছে করে হাত দিয়েছিলেন। নাকি অভ্যাসের বশে? সাধারণ মা হিসেবে তিনি হয়তো ছেলের চুল সরিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আমার কাছে সেই ছোঁয়াটা আর সাধারণ লাগছিল না।
দুপুরবেলা মা রান্না করছিলেন। আমি পানির গ্লাস নিতে রান্নাঘরে গেলাম। মা তখন চুলায় দাঁড়িয়ে তরকারি নাড়ছিলেন। সাদা নাইটির পেছন দিকটা তার শরীরের সাথে লেগে ছিল। আমি পেছন থেকে দেখছিলাম মায়ের কোমরের ভাঁজ। নাইটির কাপড়টা কোমরের জায়গায় একটু কুঁচকে গিয়েছিল। আমি গ্লাস নিতে গিয়ে মায়ের পাশ দিয়ে হাত বাড়ালাম। আমার হাত মায়ের কোমরের সাথে হালকা লেগে গেল।
মা হঠাৎ থেমে গেলেন। চামচ হাতে নিয়ে পেছন ফিরে তাকালেন।
“সাবধানে আয়ান।”
তার গলায় কোনো রাগ ছিল না। শুধু একটা সতর্কবার্তা। আমি গ্লাসে পানি ভরে রুমে ফিরে এলাম। কিন্তু হাতের সেই হালকা স্পর্শটা মনে রেখে দিলাম। মায়ের কোমরের উষ্ণতা আমার হাতের তালুতে এখনো ছিল। তিনি টের পেয়েছেন। কিন্তু কিছু বলেননি। উপেক্ষা করেছেন আবারও।
বিকেলবেলা আমি বারান্দায় বসে পড়ছিলাম। মা এসে আমার পাশে চেয়ারে বসলেন। হাতে পানের বাটা। তিনি পান সাজাতে সাজাতে বললেন, “কাল তোর কলেজ খুলবে। প্রস্তুতি নিয়েছিস?”
“হ্যাঁ মা।”
মা পান মুখে দিয়ে আমার দিকে তাকালেন। তার ঠোঁটের কোণে পানের রস। আমি চোখ ফেরাতে পারলাম না। মায়ের ঠোঁটটা একটু মোটা। গোলাপি। তিনি কথা বললে ঠোঁট দুটো কিভাবে নড়ে সেটা আমি লক্ষ করছিলাম।
মা হঠাৎ বললেন, “তুই এতক্ষণ ধরে আমার মুখের দিকে তাকাচ্ছিস কেন?”
আমি চমকে গিয়ে চোখ নামিয়ে নিলাম। “না মা… এমনিই।”
মা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন। তারপর পান চিবোতে চিবোতে বললেন, “ছেলেমানুষি বাদ দে। পড়াশোনার দিকে মন দে।”
তার গলায় একটা ক্লান্ত সুর ছিল। তিনি বুঝতে পেরেছেন আমি অন্যভাবে তাকাচ্ছি। কিন্তু তিনি সেটা মেনে নিতে চাইছেন না। সাধারণ মা হিসেবে তিনি আমাকে শুধু পড়াশোনার কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছেন। আমি মাথা নাড়লাম। কিন্তু মনে মনে জানতাম, মায়ের চোখের সামনে থেকে আর লুকানো যাচ্ছে না আমার দৃষ্টি।
সন্ধ্যায় বাবা ফিরলেন। আজ তিনি একটু আগে এসেছিলেন। মুখ কালো। অফিসের কোনো সমস্যা হয়তো। তিনি এসেই মাকে ডাকলেন।
“নাজিয়া, চা দাও।”
মা দৌড়ে গিয়ে চা বানাতে লাগলেন। আমি বাবার পাশে বসলাম। বাবা আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “কলেজ কেমন চলছে?”
“ভালো।”
বাবা আর কিছু বললেন না। তিনি খবরের কাপড় খুলে বসলেন। মা চা নিয়ে এলেন। তিনজনের জন্য তিনটা কাপ। মা বাবাকে কাপ দিয়ে তারপর আমাকে দিলেন। আমার হাতে কাপ দিতে গিয়ে মায়ের আঙুল আমার আঙুলের সাথে আবার লাগল। এবার তিনি দ্রুত হাত সরিয়ে নিলেন। আমি লক্ষ করলাম মায়ের গালে একটু রক্তের ছোঁয়া লেগেছে। তিনি অস্বস্তি বোধ করছেন। কিন্তু বাবার সামনে কিছু বলার উপায় নেই।
রাতের খাবারের পর বাবা ঘুমাতে চলে গেলেন তাড়াতাড়ি। মা রান্নাঘর পরিষ্কার করছিলেন। আমি একটু পরে গিয়ে দাঁড়ালাম। মা আমার দিকে না তাকিয়েই বললেন, “কী চাই?”
“পানি।”
মা গ্লাসে পানি ভরে আমার দিকে এগিয়ে দিলেন। এবার তিনি খুব সাবধানে হাত দিলেন যাতে আঙুল না লাগে। আমি গ্লাস নিয়েও সরলাম না। মা আমার দিকে তাকালেন অবশেষে।
“কী হয়েছে?”
আমি বললাম, “মা, তুমি কি রাগ করেছ আমার উপর?”
মা চুপ করে থাকলেন কিছুক্ষণ। তারপর গলা নিচু করে বললেন, “রাগ করিনি। কিন্তু তুই যেমন করে তাকাস… সেটা ভালো লাগে না। ছেলেমানুষি বাদ দে আয়ান। আমি তোর মা।”
তার গলায় একটা ক্লান্তি আর বিরক্তি মিশে ছিল। তিনি স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিলেন যে তিনি আমার দৃষ্টি টের পেয়েছেন। কিন্তু তিনি সেটা উপেক্ষা করতে চাইছেন। সাধারণ মা হিসেবে তিনি আমাকে শুধু সতর্ক করে দিলেন। আমি মাথা নিচু করে গ্লাস নিয়ে রুমে ফিরে এলাম।
সেই রাতে ঘুম এল না অনেকক্ষণ। মায়ের কথাগুলো বারবার মনে পড়ছিল। “আমি তোর মা।” হ্যাঁ, তিনি আমার মা। কিন্তু আমি আর শুধু মা হিসেবে দেখতে পারছি না তাকে। তার সাদা নাইটি, তার কোমরের উষ্ণতা, তার ঠোঁটের পানের রস, তার অস্বস্তির গালের লালচে ভাব সব মিলেমিশে একটা নিষিদ্ধ টান তৈরি করেছে আমার ভিতরে। আর আমি জানি, এই টান থেকে বেরোতে পারব না সহজে।
মা উপেক্ষা করছেন। আমি এগোচ্ছি ধীরে ধীরে। দুজনের মাঝে একটা অদৃশ্য রেখা তৈরি হয়েছে। আর সেই রেখাটা প্রতিদিন একটু করে পাতলা হয়ে আসছে।
Reply
#4

মায়ের সেই কথাগুলো পরের দিনও মাথায় ঘুরছিল। “আমি তোর মা।” কথাটা সহজ। কিন্তু আমার কাছে সেটা আর সহজ লাগছিল না। সকালে উঠেই আমি রান্নাঘরে গেলাম না ইচ্ছে করে। বিছানায় শুয়ে শুয়ে শুনছিলাম মায়ের পায়ের শব্দ। তিনি চা বানাচ্ছিলেন। কেটলির শব্দ আসছিল। আমি অপেক্ষা করছিলাম তিনি ডাকবেন কিনা।
কিছুক্ষণ পর মা আমার রুমের দরজায় এসে দাঁড়ালেন। আজ তিনি একটা নীল রঙের নাইটি পরেছিলেন। কাপড়টা একটু ঢিলে। গলাটা আগের মতো খোলা নয়। তিনি হয়তো ইচ্ছে করে অন্য ধরনের কাপড় বেছেছেন। আমাকে দূরত্বে রাখার চেষ্টা।
“চা ঠান্ডা হয়ে যাবে আয়ান। উঠে আয়।”
আমি উঠে বসলাম। মা কাপটা টেবিলে রেখে দ্রুত বেরিয়ে গেলেন। আগের মতো চুল সরানো, হাত বুলানো কিছুই হলো না। তিনি সতর্ক। আমি চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বসে রইলাম। মায়ের নীল নাইটির ছবিটা চোখের সামনে ভেসে উঠছিল। তিনি দূরত্ব রাখতে চাইছেন। কিন্তু সেই দূরত্বটাই আমাকে আরও টানছিল।
দুপুরবেলা আমি ঘরে পড়ছিলাম। মা রান্না করে আমার রুমে এলেন। হাতে ভাতের থালা। তিনি থালাটা আমার টেবিলে রেখে বললেন, “খাইয়া নে। আমি নীচে যাচ্ছি কাপড় কাচতে।”
আমি থালা দেখেও উঠলাম না। মা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আমার দিকে তাকিয়ে ছিলেন কিছুক্ষণ। তারপর বললেন, “কী হয়েছে? খেতে হবে না?”
“মা, তুমি রাগ করে আছো আমার উপর।”
মা চুপ করে গেলেন। তার হাত দুটো নাইটির কাপড় চেপে ধরেছিল। তিনি গলা নিচু করে বললেন, “রাগ করিনি। শুধু… তুই একটু বদলে গেছিস। আমি চাই না কোনো ভুল বোঝাবুঝি হোক।”
তার কণ্ঠস্বর কম্পিত হচ্ছিল একটু। তিনি অস্বস্তি বোধ করছেন। সাধারণ মা হিসেবে তিনি পরিস্থিতি সামলাতে চাইছেন। আমি উঠে দাঁড়ালাম। মায়ের দিকে এক পা এগোলাম। তিনি পেছন দিকে একটু সরে গেলেন।
“আমি কিছু ভুল করিনি মা।”
মা দ্রুত মাথা নাড়লেন। “করোনি। কিন্তু তোর চোখ… আমি বুঝতে পারি। তাই দূরত্ব রাখাই ভালো। এখন খাইয়া নে।” বলে তিনি দ্রুত বেরিয়ে গেলেন।
আমি থালা নিয়ে বসলাম। কিন্তু খাবার গলা দিয়ে নামছিল না। মা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি আমার দৃষ্টি টের পেয়েছেন। তিনি ভয় পাচ্ছেন। অথচ আমি থামতে পারছি না। তার নীল নাইটি, তার কম্পিত গলা, তার পেছনে সরে যাওয়া সবকিছুই আমাকে আরও কাছে টানছিল।
বিকেলবেলা মা কাপড় কাচছিলেন নীচের বাথরুমে। আমি জানালা দিয়ে দেখছিলাম। মা ঝুঁকে কাপড় ঘষছিলেন। নীল নাইটির পেছন দিকটা ভিজে তার শরীরের সাথে লেপটে গিয়েছিল। আমি দেখছিলাম মায়ের কোমরের নড়াচড়া। প্রতিবার তিনি কাপড় মোচড়ালে তার শরীরটা সামনে পেছনে হচ্ছিল। আমার গলা শুকিয়ে আসছিল। আমি জানালা ছেড়ে সরে গেলাম। নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু চোখ বারবার ফিরে যাচ্ছিল সেই দিকে।
সন্ধ্যায় বাবা ফিরলেন। আজ তার মেজাজ খারাপ ছিল। অফিসের ফাইল নিয়ে এসে টেবিলে ফেলে দিলেন। মা দৌড়ে চা নিয়ে এলেন। বাবা চা খেতে খেতে মাকে বললেন, “আয়ানের পড়াশোনা কেমন চলছে?”
মা আমার দিকে একবার তাকিয়ে বললেন, “ভালোই চলছে।”
বাবা আমার দিকে তাকালেন। “কলেজে মন দিয়ে পড়াশোনা করবি। অন্য কিছু মাথায় আনবি না।”
আমি মাথা নাড়লাম। বাবার কথা শুনে মায়ের মুখটা একটু শক্ত হয়ে গেল। তিনি হয়তো ভয় পাচ্ছেন বাবা কিছু টের পেয়ে যান কিনা। রাতের খাবারের সময় মা খুব কম কথা বললেন। তিনি আমার দিকে তাকাতেন না প্রায়। থালায় ভাত দিতে গিয়েও খুব সাবধানে হাত সরাতেন যাতে কোনো স্পর্শ না হয়।
খাবার শেষে বাবা ঘুমাতে চলে গেলেন। মা রান্নাঘর পরিষ্কার করছিলেন। আমি একটু দূরে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম। মা আমার উপস্থিতি টের পেয়েও পেছন ফিরলেন না। তিনি ইচ্ছে করেই আমাকে এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। আমি গ্লাস নিয়ে পানি খেয়ে রুমে ফিরে এলাম।
রাত গভীর হলে আমি ঘুমাতে পারছিলাম না। উঠে বারান্দায় গেলাম। হালকা হাওয়া দিচ্ছিল। মায়ের রুমের দরজা বন্ধ ছিল। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছিলাম মা এখন কী করছেন। তিনি কি আমার কথা ভাবছেন? নাকি চেষ্টা করছেন সব ভুলে যেতে? আমি জানি না। শুধু এটুকু জানি যে তার দূরত্ব রাখার চেষ্টা আমাকে আরও অস্থির করে তুলছে।
একসময় মায়ের রুমের দরজা হালকা খুলল। মা বেরিয়ে এলেন পানি নিতে। তিনি আমাকে দেখে থেমে গেলেন। অন্ধকারে তার মুখটা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল না। কিন্তু তার শরীরের অবয়বটা নীল নাইটির ভিতর আবছা দেখা যাচ্ছিল।
“এখনো ঘুমাসনি?” মা ফিসফিস করে বললেন।
“ঘুম আসছে না মা।”
মা কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন। তারপর বললেন, “চলে যা ঘরে। রাত অনেক হয়েছে।”
তিনি পানি নিয়ে নিজের রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলেন। আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে রইলাম আরও কিছুক্ষণ। মায়ের সেই ফিসফিস করা গলাটা কানে বাজছিল। তিনি ভয় পাচ্ছেন। অস্বস্তি বোধ করছেন। কিন্তু তিনি এখনো আমাকে সরাসরি কিছু বলছেন না। উপেক্ষা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আর আমি সেই উপেক্ষার ভিতর দিয়ে তার দিকে একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছিলাম।
সেই রাতেও ঘুম এল অনেক দেরিতে। মায়ের নীল নাইটি, তার দূরত্ব রাখার চেষ্টা, আর অন্ধকারে তার আবছা শরীরের ছবি নিয়ে আমি শুয়ে রইলাম। টানটা দিন দিন জোরালো হচ্ছিল। আর আমি জানতাম, এই টান সহজে থামবে না।
Reply
#5

পরের দিন সকালে আমি ইচ্ছে করে একটু দেরিতে উঠলাম। বাবা তখন অফিস চলে গেছেন। বাসাটা শান্ত। আমি বিছানায় শুয়ে শুনছিলাম মায়ের পায়ের শব্দ। তিনি রান্নাঘরে কাজ করছিলেন। আজ আর চা নিয়ে আমার রুমে এলেন না। দূরত্ব রাখার চেষ্টাটা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।
আমি উঠে মুখ ধুয়ে রান্নাঘরে গেলাম। মা চুলার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আজ তিনি একটা পুরনো সাদা গাউন পরেছিলেন। গলাটা বেশ ঢাকা। তিনি আমাকে দেখে শুধু মাথা নাড়লেন। কোনো কথা বললেন না। চায়ের কেটলি থেকে আমার জন্য কাপ ঢেলে টেবিলে রেখে দিলেন। তারপর আবার চুলার দিকে ফিরে গেলেন।
আমি টেবিলে বসে চা খেতে লাগলাম। মায়ের পেছন দিকটা দেখছিলাম। গাউনটা ঢিলে হলেও তার কোমরের আকারটা বোঝা যাচ্ছিল। তিনি রান্না করতে করতে মাঝে মাঝে চুল সরাচ্ছিলেন। হাত তুললে গাউনের হাতা একটু উপরে উঠছিল। আমি চোখ ফেরাতে পারছিলাম না। মা হঠাৎ পেছন ফিরে তাকালেন।
“চা খেয়ে গোসল করে নে। কলেজের জন্য বের হতে হবে।”
তার গলায় কোনো নরম ভাব ছিল না। শুধু নির্দেশ। আমি মাথা নাড়লাম। চা শেষ করে রুমে ফিরে এলাম। মায়ের সেই শুকনো গলার সুরটা কানে বাজছিল। তিনি ইচ্ছে করেই নিজেকে শক্ত করে রাখছেন। সাধারণ মায়ের ভূমিকায় ফিরে যেতে চাইছেন। কিন্তু আমি তার সেই চেষ্টার ভিতর দিয়েও তার শরীরের প্রতিটা নড়াচড়া নোট করে নিচ্ছিলাম।
কলেজে গিয়েও মন বসছিল না। ক্লাসে বসে মায়ের কথা ভাবছিলাম। তার সাদা গাউন, তার শুকনো গলা, তার দূরত্ব রাখার চেষ্টা। বন্ধুরা কথা বলছিল, আমি শুনছিলাম না। মাথায় শুধু বাসার ছবি ঘুরছিল। দুপুরে কলেজ থেকে ফিরে এসে দেখলাম মা বারান্দায় বসে কাপড় ভাঁজ করছেন। আমি এগিয়ে গিয়ে তার পাশে দাঁড়ালাম।
মা আমার দিকে না তাকিয়েই বললেন, “খাবার রেডি আছে। গিয়ে খাইয়া নে।”
আমি তার পাশে চেয়ারে বসলাম। মা কাপড় ভাঁজ করতে করতে একটু দূরে সরে গেলেন। তার হাঁটু আমার হাঁটু থেকে সরে গেল। আমি লক্ষ করলাম তিনি সাবধানে জায়গা রাখছেন। কোনো স্পর্শ যাতে না হয়। আমি চুপ করে তার হাতের দিকে তাকিয়ে রইলাম। মায়ের আঙুলগুলো কাপড়ের ভাঁজ তৈরি করছিল দ্রুত। তার কবজির হাড়টা সরু। চামড়া ফরসা। আমি কল্পনা করলাম সেই হাতটা যদি আমার হাত ধরে…
মা হঠাৎ কাপড়ের গাদা তুলে উঠে দাঁড়ালেন। “তুই গিয়ে খা। আমি কাপড় রেখে আসছি।” বলে তিনি ভিতরে ঢুকে গেলেন। আমি বারান্দায় বসে রইলাম কিছুক্ষণ। মায়ের দূরত্ব রাখার প্রতিটা চেষ্টা আমাকে আরও অস্থির করে তুলছিল। তিনি যত সরছেন, আমি তত কাছে যেতে চাইছিলাম।
বিকেলবেলা আমি ঘরে শুয়ে মোবাইল নিয়ে সময় কাটাচ্ছিলাম। মা আমার রুমের দরজায় এসে দাঁড়ালেন। হাতে এক গ্লাস পানি। তিনি গ্লাসটা টেবিলে রেখে বললেন, “পানি খাইয়া রাখ। গরম পড়েছে।”
আমি উঠে বসলাম। মা দরজার কাছেই দাঁড়িয়ে রইলেন। তার সাদা গাউনটা হালকা হাওয়ায় নড়ছিল। আমি গ্লাস হাতে নিয়ে তার দিকে তাকালাম। মায়ের চোখদুটো একটু ক্লান্ত লাগছিল। তিনি কিছু বলতে চাইছেন হয়তো। কিন্তু বললেন না। শুধু বললেন, “রাতের খাবার একটু দেরিতে হবে। বাবা দেরিতে ফিরবেন।”
“ঠিক আছে মা।”
মা একটু দাঁড়িয়ে থেকে বেরিয়ে গেলেন। আমি গ্লাসের পানি খেয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লাম। মায়ের ক্লান্ত চোখের ছবিটা মনে পড়ছিল। তিনি লড়াই করছেন নিজের সাথে। আমাকে উপেক্ষা করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তার চোখে একটা অস্বস্তি স্পষ্ট। আর সেই অস্বস্তিটাই আমাকে আশা দিচ্ছিল যে তিনি পুরোপুরি উদাসীন নন।
সন্ধ্যায় বাবা ফিরলেন দেরিতে। মুখ ক্লান্ত। তিনি এসেই মাকে বললেন, “খাবার দাও। খুব ক্লান্ত লাগছে।” মা দ্রুত খাবার গরম করে টেবিলে নিয়ে এলেন। তিনজন মিলে খেলাম। বাবা খেতে খেতে অফিসের কথা বলছিলেন। মা চুপচাপ শুনছিলেন। আমি মায়ের দিকে বারবার তাকাচ্ছিলাম। তিনি আমার দৃষ্টি এড়িয়ে চোখ নামিয়ে রাখছিলেন। একবার শুধু চোখাচোখি হলো। মা দ্রুত চোখ ফিরিয়ে নিলেন। তার গালে আবার সেই হালকা লালচে ভাব।
খাবার শেষে বাবা ঘুমাতে চলে গেলেন। মা রান্নাঘর পরিষ্কার করতে লাগলেন। আমি একটু পরে গিয়ে দাঁড়ালাম দরজার কাছে। মা আমার উপস্থিতি টের পেয়েও পেছন ফিরলেন না। তিনি থালা ধুচ্ছিলেন। আমি গলা খাকারি দিলাম।
মা থেমে গিয়ে বললেন, “কী চাই আয়ান?”
“মা, তুমি কি আমার সাথে কথা বলবে না আর?”
মা হাতের কাজ থামিয়ে তোয়ালে দিয়ে হাত মুছলেন। তারপর পেছন ফিরে আমার দিকে তাকালেন। তার চোখে একটা ক্লান্তি আর বিরক্তি মিশে ছিল।
“কী কথা বলব? তুই যেমন আচরণ করছিস, তেমন আচরণ ভালো লাগছে না। আমি তোর মা। তুই সেটা ভুলে যাসনি তো?”
তার গলায় জোর ছিল। কিন্তু সেই জোরের নিচে একটা কম্পনও লুকিয়ে ছিল। আমি এক পা এগোলাম। মা পেছনে সরে গেলেন। তার পিঠ সিঙ্কের সাথে লেগে গেল।
“আমি ভুলিনি মা। কিন্তু আমি নিজেকে থামাতে পারছি না।”
মা চোখ বড় করে তাকালেন। তার ঠোঁট কেঁপে উঠল একটু। তিনি গলা নিচু করে বললেন, “থামা। এখনই থামা। নইলে আমি বাবাকে বলব।”
কথাটা শুনে আমার বুকের ভিতরটা চেপে গেল। মা ভয় দেখাচ্ছেন। তিনি সত্যিই বাবাকে বলতে পারেন। আমি থেমে গেলাম। মা আমার দিকে আর তাকালেন না। তিনি আবার থালা ধোয়ার দিকে ফিরে গেলেন। আমি চুপ করে রুমে ফিরে এলাম।
সেই রাতে ঘুম এল না অনেকক্ষণ। মায়ের কথাগুলো বারবার মনে পড়ছিল। “নইলে আমি বাবাকে বলব।” তিনি ভয় পাচ্ছেন। অস্বস্তি বোধ করছেন। কিন্তু তার চোখের সেই কম্পন, তার গালের লালচে ভাব, তার পেছনে সরে যাওয়া সবকিছুই বলছিল তিনি পুরোপুরি উদাসীন নন। তিনি লড়াই করছেন। আর আমি সেই লড়াইয়ের ভিতর দিয়ে তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম ধীরে ধীরে। টানটা এখন আর শুধু আমার একার নয়। মায়ের ভিতরেও কিছু একটা আলোড়ন তৈরি হয়েছে। তিনি সেটা দমিয়ে রাখতে চাইছেন। কিন্তু আমি জানতাম, এভাবে দমিয়ে রাখা সহজ নয়।
Reply
#6

মায়ের সেই হুমকির কথা পরের দিনও মাথায় ঘুরছিল। “নইলে আমি বাবাকে বলব।” কথাটা শুনে ভয় পেয়েছিলাম সত্যি। বাবা যদি টের পান তাহলে সব শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু ভয়ের চেয়ে টানটাই বেশি জোরালো ছিল। সকালে উঠে আমি রান্নাঘরে গেলাম না। বিছানায় শুয়ে শুয়ে অপেক্ষা করছিলাম মা ডাকবেন কিনা।
একসময় মা আমার রুমের দরজায় এসে দাঁড়ালেন। আজ তিনি একটা হালকা বেগুনি রঙের নাইটি পরেছিলেন। কাপড়টা পাতলা। গলাটা আগের দিনের মতো ঢাকা নয়। তিনি হয়তো ভুলে গেছেন দূরত্ব রাখার কথা। অথবা ইচ্ছে করেই অন্য কিছু পরতে পারেননি।
“উঠেছিস? চা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।”
আমি উঠে বসলাম। মা কাপটা টেবিলে রেখে একটু দাঁড়িয়ে রইলেন। তার চোখ আমার মুখের দিকে। আমি লক্ষ করলাম মায়ের চোখদুটো একটু ফোলা ফোলা। রাতভর তিনিও হয়তো ভালো ঘুমাননি।
“মা, কাল রাতের কথা…”
মা দ্রুত হাত তুলে আমাকে থামিয়ে দিলেন। “আর কিছু বলবি না। আমি যা বলেছি তাই। এখন চা খাইয়া গোসল করে নে।” বলে তিনি বেরিয়ে গেলেন। কিন্তু তার পায়ের শব্দটা একটু তাড়াহুড়োর মতো লাগল। তিনি পালাতে চাইছেন আমার কাছ থেকে। আমি চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বসে রইলাম। মায়ের বেগুনি নাইটির ছবিটা চোখের সামনে ঘুরছিল। পাতলা কাপড়ের ভিতর তার শরীরের আকারটা আবছা বোঝা যাচ্ছিল। আমি জোর করে চোখ বন্ধ করলাম।
কলেজে গিয়েও মন ছিল না। ক্লাস শেষে এক বন্ধু জিজ্ঞেস করল, “কী হয়েছে রে? এত চুপচাপ কেন?” আমি শুধু মাথা নাড়লাম। বাসায় ফিরে এসে দেখলাম মা বারান্দায় বসে সবজি কাটছেন। আমি তার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। মা আমার দিকে না তাকিয়েই সবজি কাটতে থাকলেন। ছুরির শব্দটা শান্ত পরিবেশে জোরে ভেসে আসছিল।
আমি চেয়ারে বসলাম তার পাশে। এবার মা একটু দূরে সরে গেলেন না। তিনি হয়তো ক্লান্ত। অথবা আর সরার জায়গা নেই। আমি তার হাতের দিকে তাকিয়ে রইলাম। মায়ের আঙুলগুলো সবজির টুকরো করছিল দ্রুত। তার কবজির রগগুলো ফুলে উঠেছিল একটু। আমি কল্পনা করলাম সেই হাতটা যদি আমার গালে ছুঁয়ে যায়…
মা হঠাৎ ছুরি রেখে দিয়ে বললেন, “তুই এতক্ষণ ধরে আমার হাতের দিকে তাকাচ্ছিস কেন?”
আমি চমকে গিয়ে চোখ তুললাম। মা আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। তার চোখে বিরক্তি আর একটা অজানা অনুভূতি মিশে আছে।
“বললাম তো আর এসব করবি না। তবুও…”
তার গলাটা ভেঙে গেল একটু। তিনি চোখ নামিয়ে নিলেন। আমি দেখলাম তার ঠোঁট কেঁপে উঠছে। তিনি লড়াই করছেন নিজের সাথে। আমি আস্তে করে বললাম, “মা, আমি চেষ্টা করছি। কিন্তু পারছি না।”
মা উঠে দাঁড়ালেন। সবজির বাটি হাতে নিয়ে ভিতরে ঢুকে গেলেন। আমি বারান্দায় বসে রইলাম। তার চোখের সেই ভাঙা গলার সুরটা কানে বাজছিল। তিনি রাগ করছেন। অস্বস্তি বোধ করছেন। কিন্তু তার চোখে শুধু রাগ ছিল না। আরও কিছু ছিল। যা তিনি লুকোতে চাইছেন।
বিকেলবেলা আমি ঘরে শুয়েছিলাম। মা আমার রুমে এলেন পানি নিয়ে। গ্লাসটা টেবিলে রেখে তিনি দরজার কাছে দাঁড়িয়ে রইলেন কিছুক্ষণ। আমি উঠে বসলাম। মায়ের বেগুনি নাইটির গলা দিয়ে তার কণ্ঠা হাড়টা দেখা যাচ্ছিল। তিনি কথা বলতে চাইছেন হয়তো। কিন্তু বললেন না। শুধু বললেন, “বাবা আজ একটু আগে ফিরবেন। তুই পড়াশোনা কর।”
“মা…”
মা হাত তুলে থামিয়ে দিলেন। “আর কিছু শুনতে চাই না আয়ান। আমি তোর মা। সেটা মনে রাখ।” বলে তিনি বেরিয়ে গেলেন। দরজা বন্ধ করার সময় তার হাত কাঁপছিল একটু। আমি দেখতে পেয়েছিলাম। তিনি শক্ত থাকার চেষ্টা করছেন। কিন্তু শরীরটা তার মনের কথা বলে দিচ্ছে।
সন্ধ্যায় বাবা ফিরলেন। আজ মেজাজ ভালো ছিল। তিনি এসে মাকে বললেন, “আজ অফিসে একটা ভালো খবর পেয়েছি। চা দাও।” মা দৌড়ে চা বানাতে গেলেন। আমি বাবার পাশে বসলাম। বাবা আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “পড়াশোনা কেমন চলছে?”
“ভালো।”
বাবা মাথা নাড়লেন। মা চা নিয়ে এলেন। তিনজনের জন্য কাপ। আমাকে কাপ দিতে গিয়ে মায়ের আঙুল আমার আঙুলের সাথে লাগল। এবার তিনি হাত সরাতে দেরি করলেন এক মুহূর্ত। আমি লক্ষ করলাম। মায়ের চোখ আমার চোখের সাথে মিলিত হলো এক সেকেন্ডের জন্য। তারপর তিনি দ্রুত চোখ ফিরিয়ে নিলেন। গালে আবার সেই লালচে ভাব। বাবা কিছু টের পাননি। তিনি চা খেতে খেতে খবরের কাগজ দেখছিলেন।
রাতের খাবারের পর বাবা ঘুমাতে চলে গেলেন। মা রান্নাঘর পরিষ্কার করছিলেন। আমি দরজার কাছে দাঁড়িয়ে রইলাম। মা আমার উপস্থিতি টের পেয়ে পেছন ফিরলেন। তার হাতে তোয়ালে। তিনি তোয়ালে দিয়ে হাত মুছতে মুছতে বললেন, “কী চাই?”
“মা, তুমি কি সত্যিই বাবাকে বলে দেবে?”
মা চুপ করে গেলেন। তার চোখ আমার চোখের সাথে আটকে গেল। অনেকক্ষণ ধরে তিনি তাকিয়ে রইলেন। তারপর গলা নিচু করে বললেন, “বলতে চাই না। কিন্তু তুই যদি না থামস… তাহলে আমাকে বলতে হবে। আমি ভয় পাচ্ছি আয়ান। তোর এই আচরণ… এটা ঠিক না।”
তার গলায় কান্না আটকে ছিল। আমি দেখতে পেয়েছিলাম তার চোখের কোণে জলের দাগ। তিনি সত্যিই ভয় পাচ্ছেন। অথচ তার চোখে শুধু ভয় ছিল না। আরও কিছু ছিল যা তিনি নিজেও বুঝতে পারছেন না হয়তো। আমি এক পা এগোলাম। মা পেছনে সরলেন না এবার। তিনি দাঁড়িয়ে রইলেন। তার শ্বাস একটু দ্রুত হচ্ছিল।
“আমি থামার চেষ্টা করছি মা। কিন্তু তোমার কাছে এলে… নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।”
মা চোখ বন্ধ করে ফেললেন। তার ঠোঁট চেপে ধরলেন। তারপর আস্তে করে বললেন, “চলে যা ঘরে আয়ান। এখনই। নইলে আমি… আমি আর নিজেকে সামলাতে পারব না।”
কথাটা শুনে আমার বুকের ভিতরটা কেঁপে উঠল। মা নিজেই বলে ফেললেন তিনি সামলাতে পারছেন না। তিনি লড়াই করছেন। আর সেই লড়াইয়ে তিনি দুর্বল হয়ে পড়ছেন। আমি আর এগোলাম না। পেছন ফিরে রুমে চলে এলাম। দরজা বন্ধ করে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে রইলাম। মায়ের সেই ভাঙা গলার সুরটা কানে বাজছিল। “আমি আর নিজেকে সামলাতে পারব না।”
সেই রাতে ঘুম এল না অনেকক্ষণ। মায়ের কথা, তার চোখের জল, তার কাঁপা হাত, আর সেই বেগুনি নাইটির ছবি নিয়ে আমি শুয়ে রইলাম। টানটা এখন দুজনের। মা উপেক্ষা করতে চাইছেন। ভয় দেখাতে চাইছেন। কিন্তু তার নিজের মুখ দিয়েই বেরিয়ে গেছে তিনি সামলাতে পারছেন না। আর আমি জানতাম, এই লড়াই আর বেশিদিন চলবে না। ধীরে ধীরে রেখাটা মুছে যাচ্ছে।
Reply
#7

মায়ের সেই কথাটা সারা রাত আমার কানে বাজছিল। “আমি আর নিজেকে সামলাতে পারব না।” কথাটা শুনে আমার ভিতরটা উত্তাল হয়ে উঠেছিল। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন লড়াইটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সকালে উঠে আমি রান্নাঘরে গেলাম। মা চুলার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আজ তিনি আবার সেই পুরনো হলুদ নাইটি পরেছিলেন। যেটা দিয়ে এইসব শুরু হয়েছিল। কাপড়টা পাতলা। সকালের আলোয় তার শরীরের আকারটা আগের মতোই বোঝা যাচ্ছিল।
মা আমাকে দেখে থেমে গেলেন। তার হাত কেটলির উপর ছিল। তিনি কিছু বললেন না। শুধু আমার জন্য চা ঢেলে টেবিলে রেখে দিলেন। আমি টেবিলে বসলাম। মা আমার মুখোমুখি না বসে চুলার দিকেই রইলেন। আমি চায়ে চুমুক দিয়ে তার পেছন দিকটা দেখছিলাম। হলুদ নাইটির ভিতর তার কোমরের ভাঁজটা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল। তিনি রান্না করতে করতে মাঝে মাঝে চুল সরাচ্ছিলেন। হাত তুললে বগলের দিকটা উন্মুক্ত হয়ে যাচ্ছিল। আমি গিলতে গিয়ে দেখলাম গলা শুকিয়ে আসছে।
মা হঠাৎ পেছন ফিরে তাকালেন। আমাদের চোখাচোখি হলো। তিনি দ্রুত চোখ নামিয়ে নিলেন। কিন্তু আমি দেখেছি তার গালে লালচে ভাব। তিনি জানেন আমি দেখছি। তবু তিনি অন্য নাইটি পরেননি আজ। হয়তো ইচ্ছে করেই। অথবা আর পরোয়া করছেন না। আমি চা শেষ করে উঠে দাঁড়ালাম। মায়ের পাশ দিয়ে যেতে গিয়ে আমার হাত তার হাতের সাথে হালকা লেগে গেল। মা কেঁপে উঠলেন। কিন্তু হাত সরালেন না তখনই। এক মুহূর্ত পরে সরিয়ে নিলেন।
“গোসল করে নে আয়ান। দেরি হয়ে যাবে।” তার গলাটা কম্পিত হচ্ছিল।
আমি মাথা নাড়লাম। বাথরুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করলাম। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মুখ দেখলাম। চোখদুটো অন্যরকম লাগছিল। মায়ের হাতের সেই হালকা স্পর্শটা এখনো অনুভব করছিলাম। তিনি সরাননি তখনই। সেই এক মুহূর্তের দেরিটা আমার কাছে অনেক বড় মনে হচ্ছিল।
কলেজে গিয়েও মায়ের কথাই ঘুরছিল মাথায়। তার হলুদ নাইটি, তার কেঁপে ওঠা শরীর, তার কম্পিত গলা। ক্লাস শেষে বাসায় ফিরে এসে দেখলাম মা আমার রুমে বসে আছেন। বিছানার পাশে। হাতে আমার একটা শার্ট। তিনি হয়তো কাপড় গুছোচ্ছিলেন। আমাকে দেখে উঠে দাঁড়াতে গেলেন। আমি দরজায় দাঁড়িয়ে বললাম, “বসো মা। উঠো না।”
মা থেমে গেলেন। শার্টটা হাতে নিয়ে বসে রইলেন। আমি এগিয়ে গিয়ে তার পাশে বসলাম। এবার তিনি দূরে সরলেন না। আমাদের হাঁটু প্রায় লাগলাগ অবস্থা। মা শার্টটা ভাঁজ করতে লাগলেন। তার আঙুলগুলো কাঁপছিল একটু। আমি তার হাতের দিকে তাকিয়ে বললাম, “মা, কাল রাতের কথা মনে আছে?”
মা শার্ট ভাঁজ করা থামিয়ে দিলেন। তার চোখ আমার দিকে উঠল না। তিনি গলা নিচু করে বললেন, “মনে না রেখে উপায় নেই। তুই আমাকে অস্থির করে তুলছিস আয়ান। আমি রাতে ঘুমাতে পারছি না।”
তার কণ্ঠস্বর ভেঙে যাচ্ছিল। আমি আস্তে করে বললাম, “আমিও পারছি না মা। তোমার কথা ভেবে।”
মা হঠাৎ মুখ তুলে আমার দিকে তাকালেন। তার চোখে জল। তিনি ফিসফিস করে বললেন, “এটা পাপ আয়ান। আমি তোর মা। তুই আমার ছেলে। এভাবে চলতে পারে না।”
আমি তার চোখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। “জানি মা। কিন্তু আমি থামাতে পারছি না নিজেকে। তুমিও পারছ না। কাল নিজেই বলেছ।”
মা চোখ বন্ধ করে ফেললেন। তার থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল। তিনি শার্টটা বিছানায় ফেলে উঠে দাঁড়ালেন। “আমি রান্না করতে যাচ্ছি। তুই পড়াশোনা কর।” বলে তিনি দ্রুত বেরিয়ে গেলেন। আমি বিছানায় বসে রইলাম। তার চোখের জল, তার ভাঙা গলা, তার দীর্ঘশ্বাস সব মিলেমিশে একটা নতুন অনুভূতি তৈরি করছিল আমার ভিতরে। মা লড়াই হারাতে বসেছেন। তিনি জানেন। আমিও জানি।
বিকেলবেলা মা আর আমার রুমে আসেননি। তিনি ইচ্ছে করে দূরত্ব রাখছিলেন। কিন্তু সন্ধ্যার দিকে বাবা ফিরলে মা চা নিয়ে এলেন। আমাকে কাপ দিতে গিয়ে আবার আমাদের আঙুল লাগল। এবার তিনি হাত সরাতে আরও দেরি করলেন। আমি তার আঙুলের উষ্ণতা অনুভব করলাম। মায়ের চোখ আমার দিকে উঠল একবার। তারপর নামিয়ে নিলেন। বাবা কিছু বুঝতে পারেননি। তিনি ক্লান্ত গলায় অফিসের কথা বলছিলেন।
রাতের খাবারের পর বাবা ঘুমিয়ে পড়লেন তাড়াতাড়ি। মা রান্নাঘর পরিষ্কার করছিলেন। আমি গিয়ে দরজার কাছে দাঁড়ালাম। মা পেছন ফিরে আমার দিকে তাকালেন। এবার তিনি কিছু বললেন না। শুধু তাকিয়ে রইলেন। তার চোখে একটা ক্লান্তি আর হার মেনে নেওয়ার ছাপ। আমি এগোলাম আরও এক পা। মা পেছনে সরলেন না। তার শ্বাস দ্রুত হচ্ছিল। আমি দেখতে পাচ্ছিলাম তার বুকের উঠানামা। হলুদ নাইটির ভিতর।
“মা…” আমি ফিসফিস করে ডাকলাম।
মা চোখ বন্ধ করে মাথা নাড়লেন। “না আয়ান। আর কাছে এসো না। আমি… আমি ভয় পাচ্ছি।”
তার গলায় কান্না ভেসে উঠল। আমি থেমে গেলাম। কিন্তু সরলাম না। মায়ের চোখ খুলল। তার চোখের জল গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ল। তিনি তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছলেন দ্রুত। তারপর আস্তে করে বললেন, “চলে যা ঘরে। আজ রাতটা এভাবেই থাকুক। কাল… কাল দেখা যাবে।”
আমি মাথা নাড়লাম। পেছন ফিরে রুমে চলে এলাম। দরজা বন্ধ করে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে রইলাম। মায়ের চোখের জল, তার ভয় পাওয়া গলা, আর “কাল দেখা যাবে” কথাটা নিয়ে আমার বুকের ভিতরটা কেঁপে উঠছিল। তিনি আর পুরোপুরি দূরে ঠেলছেন না। তিনি সময় চাইছেন। আর আমি জানতাম, সেই সময়টা এসেই যাবে ধীরে ধীরে। রেখাটা আরও পাতলা হয়ে আসছে। দুজনের মাঝের দূরত্ব মুছে যাচ্ছে একটু একটু করে।
সেই রাতে আমি জানালার পাশে বসে অনেকক্ষণ ধরে বাইরের অন্ধকার দেখলাম। মায়ের কথাগুলো বারবার মনে পড়ছিল। তিনি ভয় পাচ্ছেন। কিন্তু তিনি আর আমাকে থামতেও বলছেন না জোরে। শুধু সময় চাইছেন। আর আমি সেই সময়ের অপেক্ষায় শুয়ে রইলাম। টানটা এখন দুজনকেই ঘিরে ধরেছে। কেউ আর পুরোপুরি এড়াতে পারছে না।
Reply
#8

মায়ের সেই “কাল দেখা যাবে” কথাটা নিয়েই সকালটা শুরু হলো। ঘুম ভাঙল অনেক তাড়াতাড়ি। জানালার বাইরে হালকা আলো। বাবা তখনো ঘুমাচ্ছেন হয়তো। আমি বিছানায় শুয়ে শুয়ে শুনছিলাম বাসার শব্দ। কোনো আওয়াজ নেই। মা হয়তো এখনো উঠেননি। অথবা উঠে চুপচাপ কাজ করছেন। আমার মনটা অস্থির হয়ে উঠছিল। কাল রাতের কথাগুলো বারবার ঘুরছিল। তার চোখের জল, তার কাঁপা গলা, আর সেই কথা “কাল দেখা যাবে”। তিনি আর পুরোপুরি দূরে ঠেলছেন না। সময় চাইছেন। আর সেই সময়টার অপেক্ষায় আমি রাতভর প্রায় ঘুমাতে পারিনি।
একসময় পায়ের শব্দ শোনা গেল। মা উঠেছেন। রান্নাঘরের দিক থেকে কেটলির শব্দ আসতে লাগল। আমি উঠে বসলাম। লুঙ্গি পরে দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। খুললাম না। শুধু শুনছিলাম। মা চা বানাচ্ছেন। থালাবাসন সরানোর শব্দ। তার পায়ের চাপা শব্দ। আমি কল্পনা করছিলাম তিনি আজ কী পরেছেন। হলুদ নাইটিটাই কি আবার? নাকি অন্য কিছু? মনটা বলছিল আজ তিনি হয়তো সাবধানে অন্য কাপড় পরবেন। দূরত্ব রাখার শেষ চেষ্টা হিসেবে।
কিছুক্ষণ পর মা আমার রুমের দরজায় এসে টোকা দিলেন। আমি দরজা খুলে দিলাম। মা দাঁড়িয়ে আছেন। হাতে চায়ের কাপ। আজ তিনি একটা সাদা রঙের আলগা গাউন পরেছিলেন। গলাটা বেশ ঢাকা। হাতা লম্বা। তিনি সত্যিই সাবধান হয়েছেন। কিন্তু তার চোখদুটো দেখে বোঝা যাচ্ছিল রাতভর তিনিও ভালো ঘুমাননি। চোখের নিচে হালকা কালি। মুখটা একটু ফ্যাকাশে।
“চা নিয়ে এসেছি,” মা আস্তে করে বললেন। গলাটা ভাঙা ভাঙা।
আমি কাপটা নিলাম। আমাদের আঙুল লাগল না এবার। মা সাবধানে হাত সরিয়ে নিয়েছিলেন আগে থেকেই। তিনি দরজার কাছেই দাঁড়িয়ে রইলেন। যেন কিছু বলতে চাইছেন। কিন্তু বললেন না। শুধু আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন কিছুক্ষণ। আমিও তাকিয়ে রইলাম। দুজনের মাঝে একটা অদ্ভুত নীরবতা তৈরি হলো। বাসার অন্য কোনো শব্দ নেই। শুধু আমাদের শ্বাসপ্রশ্বাসের আওয়াজ।
মা অবশেষে গলা খাকারি দিয়ে বললেন, “কাল রাতের কথা… আমি যা বলেছি, সেটাই। আর কোনো আলোচনা নয়। তুই নিজের কাজ কর। আমি আমার।”
তার কণ্ঠস্বর শক্ত করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু নিচের দিকে কম্পন লুকিয়ে ছিল। আমি মাথা নাড়লাম। মা আর কিছু না বলে বেরিয়ে গেলেন। দরজাটা পুরোপুরি বন্ধ করলেন না। হালকা ফাঁকা রেখে দিলেন। আমি চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বিছানার পাশে বসলাম। মায়ের সেই ফ্যাকাশে মুখ, চোখের নিচের কালি, আর শক্ত করার চেষ্টা করা গলাটা মনে পড়ছিল। তিনি লড়াই করছেন এখনো। কিন্তু শরীর আর চোখ তার মনের কথা বলে দিচ্ছে। রাতভর তিনিও অস্থির ছিলেন। সেটা বোঝা যাচ্ছিল।
চা শেষ করে আমি গোসল করতে গেলাম। বাথরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করলাম। ঝরনার নিচে দাঁড়িয়ে মায়ের কথা ভাবছিলাম। তার সাদা গাউন, তার ফ্যাকাশে মুখ, তার কম্পিত গলা। জল গায়ে পড়ছিল আর আমার মনটা অন্য জায়গায় ঘুরছিল। মায়ের হাতের ছোঁয়া, তার চোখের জল, তার “আমি আর সামলাতে পারব না” কথাটা। সব মিলেমিশে একটা উত্তাপ তৈরি করছিল শরীরে। আমি জোর করে গোসল শেষ করলাম। নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু সহজ হচ্ছিল না।
কলেজে গিয়েও মন বসল না পুরোপুরি। ক্লাসে বসে খাতায় লিখছিলাম কিন্তু মাথায় অন্য ছবি ঘুরছিল। মায়ের সাদা গাউনের ভিতর তার শরীরের আবছা আকার, তার চোখের কালি, তার হাতের কাঁপুনি। এক বন্ধু একবার জিজ্ঞেস করল কী হয়েছে, এত অন্যমনস্ক কেন। আমি শুধু মাথা নাড়লাম। বলার মতো কিছু নেই। যা অনুভব করছি সেটা কাউকে বলা যায় না। নিষিদ্ধ। অথচ দিন দিন জোরালো হচ্ছে।
দুপুরে কলেজ থেকে ফিরে এসে বাসায় ঢুকলাম। দরজা খুলেই মায়ের গলার আওয়াজ শোনা গেল। তিনি ফোনে কথা বলছিলেন। আমি জুতো খুলে ভিতরে গেলাম। মা রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে ফোন কানে দিয়ে কথা বলছিলেন। আমাকে দেখে তিনি কথা সংক্ষেপ করে ফোন রেখে দিলেন। তার মুখটা একটু অস্থির লাগল।
“কে ছিল?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।
“তোমার খালার ফোন ছিল,” মা আস্তে করে বললেন। “সাধারণ কথা।”
আমি তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। মা আমার দৃষ্টি এড়িয়ে চুলার দিকে ফিরে গেলেন। তিনি মিথ্যা বলছেন হয়তো। অথবা সত্যিই খালার ফোন। কিন্তু তার অস্থির মুখ দেখে মনে হচ্ছিল অন্য কিছু। আমি এগিয়ে গিয়ে তার পাশে দাঁড়ালাম। মা রান্না করতে করতে আমার দিকে না তাকিয়েই বললেন, “খাবার রেডি প্রায়। একটু পরে খেয়ে নিস।”
আমি চুপ করে তার হাতের দিকে তাকিয়ে রইলাম। মায়ের আঙুলগুলো চামচ নাড়ছিল। তার কবজির রগগুলো ফুলে আছে। আমি আস্তে করে বললাম, “মা, তুমি সত্যিই খালার সাথে কথা বলছিলে?”
মা হাত থামিয়ে দিলেন। চামচটা রেখে দিয়ে আমার দিকে তাকালেন। তার চোখে একটা রেখার ভাব। “হ্যাঁ। কেন? তুই কি সবকিছুতে সন্দেহ করবি এখন?”
তার গলায় বিরক্তি ছিল। কিন্তু সেই বিরক্তির নিচে আবার সেই কম্পন। আমি একটু এগোলাম। মা পেছনে সরলেন না। তার পিঠ দেয়ালের কাছে চলে গেল। আমি তার চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম, “সন্দেহ করছি না। শুধু… তোমার মুখ দেখে মনে হলো তুমি অস্থির।”
মা চোখ নামিয়ে নিলেন। তার ঠোঁট চেপে ধরলেন কিছুক্ষণ। তারপর গলা নিচু করে বললেন, “অস্থির না হয়ে উপায় নেই আয়ান। তোর কারণে। রাতদিন শুধু তোর কথাই মাথায় ঘোরে। আমি নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করি। কিন্তু পারি না। তুই আমাকে নষ্ট করে দিচ্ছিস।”
কথাগুলো শুনে আমার বুকের ভিতরটা কেঁপে উঠল। মা নিজেই বলে ফেললেন রাতদিন আমার কথা ভাবেন। তিনি ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করেন। কিন্তু পারেন না। আমি আরও এক পা এগোলাম। এবার আমাদের শরীরের দূরত্ব খুব কম। মায়ের গায়ের গন্ধটা আমার নাকে এসে লাগল। সাবানের সাথে মিশে তার নিজস্ব গন্ধ। আমি ফিসফিস করে বললাম, “তুমিও আমার মাথায় ঘোরো মা। সবসময়।”
মা চোখ তুলে আমার দিকে তাকালেন। তার চোখে জল আর অস্থিরতা মিশে আছে। তিনি আস্তে করে বললেন, “এভাবে চলতে পারে না। আমি তোর মা। তুই যদি আর এক পা এগোস… আমি জানি না কী হবে।”
তার গলাটা প্রায় কাঁপছিল। আমি থেমে গেলাম। কিন্তু সরলাম না। দুজনের শ্বাসপ্রশ্বাস মিশে যাচ্ছিল প্রায়। মায়ের বুকের উঠানামা দেখা যাচ্ছিল সাদা গাউনের ভিতর। তিনি লড়াই করছেন এখনো। কিন্তু তার চোখ বলছিল তিনি হেরে যাচ্ছেন ধীরে ধীরে। আমি হাত বাড়িয়ে তার হাতের কাছে নিয়ে গেলাম। ছুঁলাম না। শুধু কাছে রাখলাম। মায়ের আঙুলগুলো কেঁপে উঠল। তিনি হাত সরাননি। অনেকক্ষণ ধরে দুজনের হাত পাশাপাশি ছিল। কোনো স্পর্শ নেই। শুধু উষ্ণতা।
মা অবশেষে হাত সরিয়ে নিলেন। তার চোখ বন্ধ করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। “ downstream যা আয়ান। এখনই। আমি রান্না শেষ করি। বাবা ফিরবেন একটু পরে।”
আমি মাথা নাড়লাম। পেছন ফিরে রুমে চলে এলাম। দরজা বন্ধ করে বিছানায় বসলাম। হাতের তালুতে এখনো মায়ের হাতের উষ্ণতা অনুভব করছিলাম। যদিও ছুঁইনি। শুধু কাছে রেখেছিলাম। সেই উষ্ণতাটাই যথেষ্ট ছিল আমাকে উত্তাল করে তোলার জন্য। মায়ের কথাগুলো বারবার মনে পড়ছিল। “রাতদিন শুধু তোর কথাই মাথায় ঘোরে।” তিনি স্বীকার করেছেন। লড়াইটা তিনি হারাতে বসেছেন। আর আমি সেই হারের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিলাম ধীরে ধীরে।
সন্ধ্যায় বাবা ফিরলেন। আজ তিনি একটু ক্লান্ত ছিলেন। মা চা নিয়ে এলেন। আমাকে কাপ দিতে গিয়ে এবার তিনি সাবধানে হাত দিলেন। আঙুল লাগল না। কিন্তু তার চোখ আমার চোখের সাথে একবার মিলিত হলো। সেই চোখে আর আগের মতো শক্ত ভাব নেই। শুধু ক্লান্তি আর একটা অজানা অনুভূতি। বাবা চা খেতে খেতে বললেন, “আজ অফিসে অনেক কাজ ছিল। তাড়াতাড়ি ঘুমাতে হবে।”
মা মাথা নাড়লেন। রাতের খাবার তাড়াতাড়ি হলো। বাবা খেয়েই ঘুমাতে চলে গেলেন। মা রান্নাঘর পরিষ্কার করতে লাগলেন। আমি দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। মা পেছন ফিরে তাকালেন। এবার তিনি কিছু বললেন না। শুধু তাকিয়ে রইলেন। তার চোখে একটা প্রশ্ন। আমি এগোলাম। মা পেছনে সরলেন না। আমি তার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। দূরত্ব খুব কম। মায়ের গায়ের গন্ধ আবার নাকে এল। আমি ফিসফিস করে বললাম, “মা, তুমি সত্যিই রাতদিন আমার কথা ভাবো?”
মা চোখ বন্ধ করে মাথা নাড়লেন। তার থেকে একটা কাঁপা গলার সুর বেরিয়ে এল। “হ্যাঁ। ভাবতে বাধ্য হই। তুই আমাকে ছাড়স না। স্বপ্নেও আসিস। আমি ভয় পাই আয়ান। এটা যদি কেউ জানে…”
আমি তার হাতের কাছে নিজের হাত নিয়ে গেলাম আবার। এবার আঙুলের ডগা দিয়ে তার আঙুলের ডগা ছুঁয়ে দিলাম হালকা করে। মা কেঁপে উঠলেন। কিন্তু হাত সরালেন না। তার শ্বাস দ্রুত হয়ে গেল। আমি আরও একটু ছুঁয়ে থাকলাম। মায়ের আঙুলের উষ্ণতা আমার আঙুলে খেলে গেল। তিনি চোখ খুলে আমার দিকে তাকালেন। তার চোখে জল আর কামনা আর ভয় সব মিশে আছে। তিনি ফিসফিস করে বললেন, “এটা বন্ধ কর আয়ান। নইলে আমি… আমি টিকতে পারব না।”
আমি হাত সরিয়ে নিলাম ধীরে ধীরে। মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম, “আমিও টিকতে পারছি না মা। কিন্তু থামতেও পারছি না।”
মা চোখ বন্ধ করে দেয়ালে হেলান দিলেন। তার বুক দ্রুত ওঠানামা করছিল। সাদা গাউনের ভিতর। তিনি অনেকক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর আস্তে করে বললেন, “চলে যা ঘরে। আজ আর না। কাল… কাল যদি নিজেকে সামলাতে না পারি… তখন দেখা যাবে।”
আমি মাথা নাড়লাম। পেছন ফিরে রুমে চলে এলাম। দরজা বন্ধ করে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে রইলাম অনেকক্ষণ। মায়ের আঙুলের ছোঁয়া এখনো আমার আঙুলে বাজছিল। তার কাঁপা গলা, তার চোখের জল, আর “কাল যদি নিজেকে সামলাতে না পারি” কথাটা নিয়ে আমার পুরো শরীর উত্তাল হয়ে উঠেছিল। তিনি সময় চাইছেন আরও একদিন। কিন্তু তিনি জানেন সেই সময়টাও শেষ হয়ে আসছে। আর আমি জানতাম, পরের দিন হয়তো আরও কাছে চলে যাব দুজনে। রেখাটা প্রায় মুছে গেছে। শুধু একটা পাতলা আবরণ বাকি। আর সেই আবরণটাও উঠে যাবে ধীরে ধীরে।
সেই রাতে আমি জানালার পাশে বসে ভোরের অপেক্ষায় রইলাম। ঘুম এল না। মায়ের কথা, তার ছোঁয়া, তার স্বীকারোক্তি সব মিলেমিশে একটা নিষিদ্ধ উত্তাপ তৈরি করে রেখেছিল শরীরে। আর আমি সেই উত্তাপ নিয়ে অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে রইলাম। কাল কী হবে জানি না। শুধু এটুকু জানি যে দুজনের কেউ আর পুরোপুরি পিছু হটতে পারবে না।
Reply
#9

পরের দিন সকালটা এল ধীরগতিতে। ঘুম ভাঙল না আসলে। রাতভর চোখ বুজে শুয়ে ছিলাম শুধু। মায়ের আঙুলের সেই হালকা ছোঁয়া, তার কাঁপা গলার সুর, আর শেষ কথাটা “কাল যদি নিজেকে সামলাতে না পারি তখন দেখা যাবে” বারবার মাথায় ঘুরছিল। ঘরের ভিতরটা অন্ধকার। জানালার পর্দার ফাঁক দিয়ে হালকা আলো ঢুকছিল। আমি বিছানায় শুয়ে শুয়ে শুনছিলাম বাসার প্রতিটা শব্দ। বাবার নাক ডাকার আওয়াজ আসছিল অন্য রুম থেকে। তিনি এখনো ঘুমাচ্ছেন। আর মা? মায়ের কোনো শব্দ নেই এখনো। তিনি হয়তো জেগে আছেন নিজের রুমে। অথবা চুপচাপ বসে আছেন। আমার মন বলছিল তিনিও রাতভর অস্থির ছিলেন। তার চোখের কালি, তার ফ্যাকাশে মুখ সবই সেই কথা বলেছিল গতকাল।
একসময় পায়ের শব্দ শোনা গেল। খুব হালকা। মা উঠেছেন। রান্নাঘরের দিক থেকে আওয়াজ আসতে লাগল। কেটলি রাখার শব্দ। গ্যাস জ্বালানোর শব্দ। আমি উঠে বসলাম। বুকের ভিতরটা দ্রুত ধড়ফড় করছিল। আজ কী হবে জানি না। মা নিজেই বলেছেন যদি সামলাতে না পারেন তাহলে দেখা যাবে। সেই কথাটার ওজন আমার উপর চেপে বসেছিল। আমি লুঙ্গি পরে দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। খুললাম না। শুধু শুনছিলাম। মা চা বানাচ্ছেন। তার পায়ের শব্দটা একটু ভারী লাগছিল আজ। যেন তিনিও দ্বিধায় আছেন।
কিছুক্ষণ পর মা আমার রুমের দরজায় এসে টোকা দিলেন। আমি দরজা খুলে দিলাম। মা দাঁড়িয়ে আছেন। হাতে চায়ের কাপ। আজ তিনি আবার সেই হলুদ নাইটি পরেছেন। যেটা দিয়ে সব শুরু হয়েছিল। কাপড়টা পাতলা। সকালের আলোয় তার শরীরের আকার পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল। তিনি সাবধান হননি আজ। অথবা আর সাবধান থাকতে পারেননি। তার চোখদুটো আরও বেশি ক্লান্ত। চোখের নিচে কালি আরও গাঢ়। মুখটা ফ্যাকাশে। তিনি কাপটা আমার হাতে দিলেন। এবার আঙুল লাগল। ইচ্ছে করেই হয়তো। অথবা আর এড়ানোর শক্তি নেই। তার আঙুলের উষ্ণতা আমার আঙুলে খেলে গেল। মা হাত সরাতে দেরি করলেন। অনেকক্ষণ না হলেও যথেষ্ট।
“চা খাইয়া নে,” মা আস্তে করে বললেন। গলাটা ভাঙা।
আমি কাপটা নিয়েও চোখ সরালাম না তার মুখ থেকে। মাও আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। দুজনের মাঝে আবার সেই নীরবতা। বাসার অন্য কোনো শব্দ নেই। শুধু আমাদের শ্বাস। মায়ের বুকের উঠানামা দেখা যাচ্ছিল হলুদ নাইটির ভিতর। তিনি কথা বলতে চাইছেন। কিন্তু বলছেন না। আমি আস্তে করে বললাম, “মা, তুমি সারা রাত জেগেছিলে?”
মা চোখ নামিয়ে নিলেন। তার ঠোঁট কেঁপে উঠল। “হ্যাঁ। ঘুম আসেনি। তোর কথা ভেবে। নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি বারবার। কিন্তু… পারিনি।”
তার কণ্ঠস্বর একেবারে ভেঙে যাচ্ছিল। আমি কাপটা টেবিলে রেখে এক পা এগোলাম। মা পেছনে সরলেন না। তার পিঠ দরজার ফ্রেমের সাথে লেগে গেল। আমি আরও একটু কাছে গেলাম। এবার দূরত্ব খুবই কম। মায়ের গায়ের গন্ধটা স্পষ্ট। সাবান আর তার গায়ের নিজস্ব গন্ধ মিলে একটা উষ্ণ অনুভূতি তৈরি করছিল। আমি ফিসফিস করে বললাম, “আমিও পারিনি মা। তোমার আঙুলের ছোঁয়া সারা রাত অনুভব করেছি।”
মা চোখ বন্ধ করে ফেললেন। তার থেকে একটা কাঁপা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল। তিনি আস্তে করে বললেন, “এটা বন্ধ হওয়া দরকার আয়ান। আমি তোর মা। তুই যদি এভাবে কাছে আসিস… আমি জানি না আমি কী করব। নিজেকে থামাতে পারব না হয়তো।”
কথাটা শুনে আমার বুকের ভিতরটা কেঁপে উঠল। তিনি আবারও স্বীকার করলেন। থামাতে পারবেন না। আমি হাত বাড়িয়ে তার হাতের কাছে নিয়ে গেলাম। এবার আঙুল দিয়ে তার আঙুল ছুঁলাম পরিষ্কার করে। মা কেঁপে উঠলেন। কিন্তু হাত সরালেন না। তার আঙুলগুলো আমার আঙুলের সাথে জড়িয়ে থাকল হালকাভাবে। কোনো শক্ত মুঠি নয়। শুধু স্পর্শ। উষ্ণতা। আমি তার আঙুলের রেখা অনুভব করছিলাম। মায়ের হাত কাঁপছিল। আমারও। দুজনের শ্বাস দ্রুত হয়ে গিয়েছিল।
মা চোখ খুলে আমার দিকে তাকালেন। তার চোখে জল। তিনি ফিসফিস করে বললেন, “এভাবে দাঁড়িয়ে থাকা যাবে না। বাবা উঠে যাবেন এখন। চলে যা ভিতরে। চা খাইয়া গোসল করে নে।”
আমি হাত সরালাম ধীরে ধীরে। মায়ের আঙুলের উষ্ণতা এখনো আমার তালুতে বাজছিল। তিনি দ্রুত পেছন ফিরে রান্নাঘরের দিকে চলে গেলেন। তার পায়ের শব্দটা একটু তাড়াহুড়োর মতো লাগল। তিনি পালাচ্ছেন আজও। কিন্তু আর পুরোপুরি পারছেন না। আমি চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বিছানার পাশে বসলাম। হাতের তালুতে সেই স্পর্শটা আগলে রাখলাম। মায়ের কথাগুলো বারবার মনে পড়ছিল। তিনি জানেন তিনি থামাতে পারবেন না। আর আমিও জানি।
গোসল করতে গিয়ে ঝরনার নিচে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ চোখ বন্ধ করে ছিলাম। জল গায়ে পড়ছিল আর মায়ের হাতের ছোঁয়া, তার চোখের জল, তার কাঁপা গলা সব মিলেমিশে একটা উত্তাপ তৈরি করছিল শরীরে। আমি নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু মনটা বারবার ফিরে যাচ্ছিল সেই মুহূর্তে। যখন আমাদের আঙুল জড়িয়ে ছিল। যখন মায়ের শ্বাস আমার শ্বাসের সাথে মিশে যাচ্ছিল। গোসল শেষ করে রুমে ফিরে পোশাক পরলাম। কলেজের জন্য বেরোতে হবে। কিন্তু মন চাচ্ছিল না বাসা ছেড়ে যেতে। মায়ের কাছে থাকতে ইচ্ছে করছিল। তার কাছে। তার গন্ধের কাছে।
কলেজে গিয়ে পুরো সময়টা যেন কেটেই যাচ্ছিল না। ক্লাসে বসে খাতা খুলে রাখছিলাম শুধু। মন ছিল বাসায়। মা কী করছেন এখন। তিনি কি আমার কথা ভাবছেন। তিনি কি আবার সেই হলুদ নাইটিটা পরে আছেন। তার চোখের কালি কি আরও গাঢ় হয়েছে। এক বন্ধু একবার কাঁধে হাত রেখে বলল, “তোর মুখ দেখে মনে হচ্ছে তুই অসুস্থ। বাসায় গিয়ে বিশ্রাম নে।” আমি শুধু মাথা নাড়লাম। অসুস্থ নই। শুধু অস্থির। নিষিদ্ধ একটা টানের ভিতর ডুবে আছি। যেখান থেকে বেরোনোর উপায় নেই আর।
দুপুরে কলেজ থেকে ফিরে বাসায় ঢুকলাম। দরজা খুলেই মায়ের শব্দ শোনা গেল। তিনি রান্নাঘরে কাজ করছেন। আমি জুতো খুলে এগোলাম। মা আমাকে দেখে থেমে গেলেন। হলুদ নাইটি এখনো গায়ে। তিনি হয়তো পাল্টাননি। অথবা পাল্টানোর কথা ভাবেননি। তার চোখ আমার দিকে। আমি এগিয়ে গিয়ে তার পাশে দাঁড়ালাম। মা রান্না থামিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। কোনো কথা নেই। শুধু তাকিয়ে থাকা। আমি আস্তে করে বললাম, “মা, আমি ফিরে এসেছি।”
মা মাথা নাড়লেন। তার গলা দিয়ে আস্তে করে বেরিয়ে এল, “খাবার রেডি। খাইয়া নে।”
আমি তার হাতের দিকে তাকালাম। মায়ের আঙুলগুলো চামচ ধরে আছে। আমি হাত বাড়িয়ে তার হাতের উপর রাখলাম হালকা করে। মা কেঁপে উঠলেন। কিন্তু হাত সরালেন না। তার চোখ বড় হয়ে গেল। আমি তার আঙুলের উপর নিজের আঙুল বুলিয়ে দিলাম আস্তে আস্তে। মায়ের হাত কাঁপছিল। তার শ্বাস দ্রুত হয়ে গিয়েছিল। তিনি ফিসফিস করে বললেন, “আয়ান… এটা না…”
আমি থামলাম না। তার হাতটা আলতো করে ধরলাম। মায়ের হাত আমার হাতের ভিতর এসে গেল। উষ্ণ। নরম। একটু স্যাঁতস্যাঁতে রান্নাঘরের কাজের কারণে। আমি তার আঙুলগুলো আলতো করে চেপে ধরলাম। মা চোখ বন্ধ করে ফেললেন। তার থেকে একটা কাঁপা শব্দ বেরিয়ে এল। তিনি হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করলেন না। দাঁড়িয়ে রইলেন। আমি তার হাত ধরে একটু কাছে টানলাম। মা আমার দিকে ঝুঁকে এলেন একটু। তার বুক আমার বুকের কাছে চলে এল। হলুদ নাইটির ভিতর তার শরীরের উষ্ণতা অনুভব করলাম। আমি ফিসফিস করে বললাম, “মা, তোমার হাত এত নরম…”
মা চোখ খুলে আমার দিকে তাকালেন। তার চোখে জল আর একটা অজানা আবেগ। তিনি আস্তে করে বললেন, “ছাড় আয়ান। বাবা যেকোনো সময় ফিরতে পারেন। আমি… আমি পারছি না এভাবে।”
আমি তার হাত ছাড়লাম ধীরে ধীরে। মায়ের হাত আমার হাত থেকে সরে গেল। কিন্তু তার উষ্ণতা রয়ে গেল। মা দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। তার বুক দ্রুত ওঠানামা করছিল। তিনি মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিলেন। আমি দেখলাম তার গাল বেয়ে এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ছে। তিনি কাঁদছেন চুপচাপ। আমি আর কাছে গেলাম না। শুধু বললাম, “আমি ঘরে যাচ্ছি মা। তুমি ডাকলেই আসব।”
মা মাথা নাড়লেন। কোনো কথা বললেন না। আমি রুমে চলে এলাম। দরজা বন্ধ করে বিছানায় বসলাম। হাতের তালুতে মায়ের হাতের অনুভূতি এখনো জ্বলজ্বল করছিল। তার কাঁপা শব্দ, তার চোখের জল, তার শরীরের উষ্ণতা সব মিলেমিশে একটা তীব্র অনুভূতি তৈরি করেছিল। তিনি আর প্রতিরোধ করতে পারছেন না পুরোপুরি। তিনি কাঁদছেন। অস্থির হচ্ছেন। আর আমি সেই অস্থিরতার ভিতর দিয়ে তার আরও কাছে চলে যাচ্ছিলাম।
বিকেলটা কেটে গেল ধীরলয়ে। আমি ঘরে শুয়েছিলাম। মা আর আসেননি। তিনি ইচ্ছে করে দূরত্ব রাখছিলেন হয়তো। কিন্তু সন্ধ্যার দিকে বাবা ফিরলেন। তার পায়ের শব্দ শুনে আমি উঠে বসলাম। বাবা এসে হাতমুখ ধুয়ে টিভির সামনে বসলেন। মা চা নিয়ে এলেন। আমাকে কাপ দিতে গিয়ে এবার তিনি হাত দিলেন সাবধানে। আঙুল লাগল না। কিন্তু তার চোখ আমার চোখের সাথে মিলিত হলো এক লম্বা মুহূর্তের জন্য। সেই চোখে আর কোনো শক্ত ভাব নেই। শুধু ক্লান্তি, ভয় আর একটা নিষিদ্ধ আবেগ। বাবা কিছু টের পাননি। তিনি ক্লান্ত গলায় বললেন, “আজ অনেক কাজ হয়েছে। তাড়াতাড়ি খাইয়া ঘুমাতে হবে।”
রাতের খাবার হলো চুপচাপ। বাবা খেয়েই ঘুমাতে চলে গেলেন। মা রান্নাঘর পরিষ্কার করতে লাগলেন। আমি দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। মা পেছন ফিরে তাকালেন। এবার তিনি আমাকে দেখেই থেমে গেলেন। তার হাতে তোয়ালে। তিনি তোয়ালে দিয়ে হাত মুছলেন ধীরে ধীরে। আমি এগোলাম। মা পেছনে সরলেন না। আমি তার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। দূরত্ব প্রায় নেই। মায়ের গায়ের গন্ধ আবার ঘিরে ধরল। আমি তার হাতের দিকে তাকিয়ে বললাম, “মা, তোমার হাত এখনো কাঁপছে।”
মা হাত লুকোতে গেলেন। আমি ধরে ফেললাম আলতো করে। তার হাত আমার হাতের ভিতর এসে গেল আবার। এবার তিনি আর প্রতিরোধ করলেন না। তার আঙুলগুলো আমার আঙুলের সাথে জড়িয়ে গেল নিজে থেকেই। মা চোখ বন্ধ করে আমার কাঁধে মাথা রাখলেন হালকা করে। তার চুল আমার গালে লাগল। উষ্ণ শ্বাস আমার গলায় এসে পড়ল। তিনি ফিসফিস করে বললেন, “আয়ান… আমি হেরে যাচ্ছি। তোর কাছে। নিজের কাছে। এটা যদি বাবা জানেন… সব শেষ হয়ে যাবে।”
আমি তার চুল আলতো করে স্পর্শ করলাম। প্রথমবার। মায়ের চুল নরম। একটু ভেজা রান্নাঘরের ভাপের কারণে। আমি তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলাম আস্তে আস্তে। মা আরও কাছে ঝুঁকে এলেন। তার বুক আমার বুকের সাথে লেগে গেল হালকাভাবে। হলুদ নাইটির ভিতর তার শরীরের উষ্ণতা স্পষ্ট। আমি ফিসফিস করে বললাম, “কেউ জানবে না মা। শুধু আমরা দুজন।”
মা কেঁপে উঠলেন। তার হাত আমার কোমরে গিয়ে লাগল হালকা করে। তিনি নিজে থেকেই ছুঁলেন। আমি তার কোমরের উষ্ণতা অনুভব করলাম। নাইটির কাপড়ের উপর দিয়ে। মায়ের শরীর কাঁপছিল। তিনি আমার গলায় মুখ রেখে আস্তে করে বললেন, “আজ আর নয় আয়ান। আজ আর কাছে যেয়ো না। কাল… কাল যদি বাবা দেরিতে ফেরেন… তখন… তখন দেখা যাবে আমরা কতদূর যেতে পারি।”
তার কথা শুনে আমার পুরো শরীর কেঁপে উঠল। তিনি নিজেই বললেন কাল দেখা যাবে কতদূর যেতে পারি। তিনি মেনে নিচ্ছেন। লড়াইটা তিনি ছেড়ে দিচ্ছেন ধীরে ধীরে। আমি তার কোমর থেকে হাত সরিয়ে নিলাম। মাও সরে গেলেন আস্তে করে। তার চোখ লাল। গালে জলের দাগ। তিনি তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছলেন। তারপর আমাকে দেখে বললেন, “চলে যা ঘরে। এখনই। নইলে আমি আর থামাতে পারব না নিজেকে।”
আমি মাথা নাড়লাম। পেছন ফিরে রুমে চলে এলাম। দরজা বন্ধ করে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে রইলাম অনেকক্ষণ। মায়ের চুলের স্পর্শ, তার কোমরের উষ্ণতা, তার বুকের হালকা ছোঁয়া, আর তার কথাগুলো নিয়ে আমার পুরো অস্তিত্ব উত্তাল হয়ে উঠেছিল। তিনি কালকের অপেক্ষায় আছেন। আমিও। রেখাটা মুছে গেছে প্রায়। শুধু একটা পাতলা আবরণ বাকি। আর সেই আবরণটা কাল হয়তো উঠে যাবে। দুজনের কেউ আর পিছু হটবে না। আমি জানালার পাশে বসে ভোরের অপেক্ষায় রইলাম। ঘুম এল না। মায়ের গন্ধ এখনো নাকে বাজছিল। তার শরীরের উষ্ণতা এখনো ত্বকে। আর তার কথা “কাল দেখা যাবে আমরা কতদূর যেতে পারি” বারবার কানে বাজছিল। নিষিদ্ধ টানটা এখন দুজনকেই গ্রাস করেছে। আর আমি জানতাম, পরের দিনটা আর কোনো সাধারণ দিন হবে না।
Reply
#10

পরের দিন সকালটা এল যেন ইচ্ছে করেই ধীর করে। ঘুম ভাঙল না আসলে। রাতভর চোখ বুজে শুয়ে ছিলাম শুধু। মায়ের চুলের স্পর্শ, তার কোমরের উষ্ণতা, তার বুকের হালকা ছোঁয়া, আর শেষ কথাটা “কাল যদি বাবা দেরিতে ফেরেন তখন দেখা যাবে আমরা কতদূর যেতে পারি” বারবার মাথায় ঘুরছিল। ঘরের ভিতরটা অন্ধকার। জানালার পর্দার ফাঁক দিয়ে হালকা সাদা আলো ঢুকছিল। বাইরে পাখি ডাকছিল। আমি বিছানায় শুয়ে শুয়ে শুনছিলাম বাসার প্রতিটা শব্দ। বাবার নাক ডাকার আওয়াজ আসছিল অন্য রুম থেকে। তিনি এখনো ঘুমাচ্ছেন। আর মা? মায়ের কোনো শব্দ নেই এখনো। তিনি হয়তো জেগে আছেন নিজের রুমে। অথবা চুপচাপ বসে আছেন জানালার পাশে। আমার মন বলছিল তিনিও রাতভর অস্থির ছিলেন। তার চোখের লালচে ভাব, তার গালের জলের দাগ সবই সেই কথা বলেছিল গতকাল।
একসময় পায়ের শব্দ শোনা গেল। খুব হালকা। প্রায় শোনা যায় না এমন। মা উঠেছেন। রান্নাঘরের দিক থেকে আওয়াজ আসতে লাগল। কেটলি রাখার শব্দ। গ্যাস জ্বালানোর শব্দ। পানির গ্লাস সরানোর শব্দ। আমি উঠে বসলাম। বুকের ভিতরটা দ্রুত ধড়ফড় করছিল। আজ কী হবে জানি না। মা নিজেই বলেছেন যদি বাবা দেরিতে ফেরেন তাহলে দেখা যাবে কতদূর যেতে পারি। সেই কথাটার ওজন আমার উপর চেপে বসেছিল সারা রাত। আমি লুঙ্গি পরে দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। খুললাম না। শুধু শুনছিলাম। মা চা বানাচ্ছেন। তার পায়ের শব্দটা একটু ভারী লাগছিল আজ। যেন তিনিও দ্বিধায় আছেন। প্রতিটা পদক্ষেপে যেন কিছু একটা ভারী বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছেন।
কিছুক্ষণ পর মা আমার রুমের দরজায় এসে টোকা দিলেন। আস্তে করে। আমি দরজা খুলে দিলাম। মা দাঁড়িয়ে আছেন। হাতে চায়ের কাপ। আজ তিনি আবার সেই হলুদ নাইটি পরেছেন। যেটা দিয়ে সব শুরু হয়েছিল। কাপড়টা পাতলা। সকালের আলোয় তার শরীরের আকার পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল। তিনি সাবধান হননি আজ। অথবা আর সাবধান থাকতে পারেননি। তার চোখদুটো আরও বেশি ক্লান্ত। চোখের নিচে কালি আরও গাঢ়। মুখটা ফ্যাকাশে। গালে হালকা ফোলা ভাব। তিনি কাপটা আমার হাতে দিলেন। এবার আঙুল লাগল পুরোপুরি। ইচ্ছে করেই। তার আঙুলের উষ্ণতা আমার আঙুলে খেলে গেল। মা হাত সরাতে দেরি করলেন। অনেকক্ষণ। তার আঙুল আমার আঙুলের সাথে জড়িয়ে রইল হালকাভাবে।
“চা খাইয়া নে,” মা আস্তে করে বললেন। গলাটা একেবারে ভাঙা। যেন রাতভর কেঁদেছেন।
আমি কাপটা নিয়েও চোখ সরালাম না তার মুখ থেকে। মাও আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। দুজনের মাঝে আবার সেই গভীর নীরবতা। বাসার অন্য কোনো শব্দ নেই। শুধু আমাদের শ্বাসপ্রশ্বাস। মায়ের বুকের উঠানামা দেখা যাচ্ছিল হলুদ নাইটির ভিতর। প্রতিটা শ্বাসে তার বুকটা সামনে পেছনে হচ্ছিল। আমি আস্তে করে বললাম, “মা, তুমি সারা রাত জেগেছিলে আবার?”
মা চোখ নামিয়ে নিলেন। তার ঠোঁট কেঁপে উঠল। “হ্যাঁ। ঘুম আসেনি। তোর কথা ভেবে। নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি বারবার। বলেছি আমি তোর মা। এটা পাপ। কিন্তু… পারিনি। স্বপ্নেও তুই এসেছিস। আমাকে ছুঁয়েছিস। আমি জেগে উঠে কাঁদছি।”
তার কণ্ঠস্বর একেবারে ভেঙে যাচ্ছিল। আমি কাপটা টেবিলে রেখে এক পা এগোলাম। মা পেছনে সরলেন না। তার পিঠ দরজার ফ্রেমের সাথে লেগে গেল। আমি আরও একটু কাছে গেলাম। এবার দূরত্ব প্রায় নেই। মায়ের গায়ের গন্ধটা স্পষ্ট। সাবান আর তার গায়ের নিজস্ব গন্ধ মিলে একটা উষ্ণ ঘন অনুভূতি তৈরি করছিল। আমি ফিসফিস করে বললাম, “আমিও পারিনি মা। তোমার চুলের স্পর্শ, তোমার কোমরের উষ্ণতা সারা রাত অনুভব করেছি। ঘুমালেও তোমার গন্ধ পেয়েছি।”
মা চোখ বন্ধ করে ফেললেন। তার থেকে একটা কাঁপা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল। তিনি আস্তে করে বললেন, “এটা বন্ধ হওয়া দরকার আয়ান। আমি তোর মা। তুই যদি এভাবে কাছে আসিস… আমি জানি না আমি কী করব। নিজেকে থামাতে পারব না হয়তো। গতকাল রাতেই পারিনি। তোর হাত যখন আমার কোমরে লাগল… আমি জমে গিয়েছিলাম। ভিতর থেকে কিছু একটা ভেঙে গিয়েছিল।”
কথাটা শুনে আমার বুকের ভিতরটা কেঁপে উঠল। তিনি আবারও স্বীকার করলেন। থামাতে পারবেন না। আমি হাত বাড়িয়ে তার হাতের কাছে নিয়ে গেলাম। এবার আঙুল দিয়ে তার আঙুল ছুঁলাম পরিষ্কার করে। মা কেঁপে উঠলেন। কিন্তু হাত সরালেন না। তার আঙুলগুলো আমার আঙুলের সাথে জড়িয়ে থাকল হালকাভাবে। কোনো শক্ত মুঠি নয়। শুধু স্পর্শ। উষ্ণতা। আমি তার আঙুলের রেখা অনুভব করছিলাম। মায়ের হাত কাঁপছিল। আমারও। দুজনের শ্বাস দ্রুত হয়ে গিয়েছিল। আমি তার হাতটা আলতো করে নিজের হাতের ভিতর নিয়ে এলাম। মায়ের আঙুলগুলো আমার আঙুলের ফাঁকে ঢুকে গেল নিজে থেকেই।
মা চোখ খুলে আমার দিকে তাকালেন। তার চোখে জল। তিনি ফিসফিস করে বললেন, “এভাবে দাঁড়িয়ে থাকা যাবে না। বাবা উঠে যাবেন এখন। চলে যা ভিতরে। চা খাইয়া গোসল করে নে। আজ… আজ বাবা দেরিতে ফিরবেন বলেছেন। অফিসে মিটিং আছে।”
কথাটা শুনে আমার বুকের ভিতরটা আরও জোরে ধড়ফড় করল। বাবা দেরিতে ফিরবেন। মা নিজেই বলে দিলেন। তিনি জানিয়ে দিলেন আজ সময় পাওয়া যাবে। আমি হাত সরালাম ধীরে ধীরে। মায়ের আঙুলের উষ্ণতা এখনো আমার তালুতে বাজছিল। তিনি দ্রুত পেছন ফিরে রান্নাঘরের দিকে চলে গেলেন। তার পায়ের শব্দটা একটু তাড়াহুড়োর মতো লাগল। তিনি পালাচ্ছেন আজও। কিন্তু আর পুরোপুরি পারছেন না। আমি চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বিছানার পাশে বসলাম। হাতের তালুতে সেই স্পর্শটা আগলে রাখলাম। মায়ের কথাগুলো বারবার মনে পড়ছিল। তিনি জানেন তিনি থামাতে পারবেন না। আর আজ বাবা দেরিতে ফিরবেন। সেই খবরটা আমার শরীরে একটা উত্তাপ ছড়িয়ে দিল।
গোসল করতে গিয়ে ঝরনার নিচে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ চোখ বন্ধ করে ছিলাম। জল গায়ে পড়ছিল আর মায়ের হাতের ছোঁয়া, তার চোখের জল, তার কাঁপা গলা, তার কোমরের উষ্ণতা সব মিলেমিশে একটা তীব্র উত্তাপ তৈরি করছিল শরীরে। আমি নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু মনটা বারবার ফিরে যাচ্ছিল সেই মুহূর্তে। যখন আমাদের আঙুল জড়িয়ে ছিল। যখন মায়ের শ্বাস আমার শ্বাসের সাথে মিশে যাচ্ছিল। যখন তার বুক আমার বুকের সাথে হালকা লেগেছিল। গোসল শেষ করে রুমে ফিরে পোশাক পরলাম। কলেজের জন্য বেরোতে হবে। কিন্তু মন চাচ্ছিল না বাসা ছেড়ে যেতে। মায়ের কাছে থাকতে ইচ্ছে করছিল। তার কাছে। তার গন্ধের কাছে। তার হাতের কাছে।
কলেজে গিয়ে পুরো সময়টা যেন কেটেই যাচ্ছিল না। ক্লাসে বসে খাতা খুলে রাখছিলাম শুধু। মন ছিল বাসায়। মা কী করছেন এখন। তিনি কি আমার কথা ভাবছেন। তিনি কি আবার সেই হলুদ নাইটিটা পরে আছেন। তার চোখের কালি কি আরও গাঢ় হয়েছে। তিনি কি আজকের অপেক্ষায় আছেন। এক বন্ধু একবার কাঁধে হাত রেখে বলল, “তোর মুখ দেখে মনে হচ্ছে তুই অসুস্থ। বাসায় গিয়ে বিশ্রাম নে।” আমি শুধু মাথা নাড়লাম। অসুস্থ নই। শুধু অস্থির। নিষিদ্ধ একটা টানের ভিতর ডুবে আছি। যেখান থেকে বেরোনোর উপায় নেই আর। ক্লাস শেষ হওয়ার অপেক্ষায় ঘড়ির দিকে তাকিয়ে ছিলাম বারবার। প্রতিটা মিনিট যেন ঘণ্টার মতো ভারী লাগছিল।
দুপুরে কলেজ থেকে ফিরে বাসায় ঢুকলাম। দরজা খুলেই মায়ের শব্দ শোনা গেল। তিনি রান্নাঘরে কাজ করছেন। আমি জুতো খুলে এগোলাম। মা আমাকে দেখে থেমে গেলেন। হলুদ নাইটি এখনো গায়ে। তিনি হয়তো পাল্টাননি। অথবা পাল্টানোর কথা ভাবেননি। তার চোখ আমার দিকে। আমি এগিয়ে গিয়ে তার পাশে দাঁড়ালাম। মা রান্না থামিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। কোনো কথা নেই। শুধু তাকিয়ে থাকা। আমি আস্তে করে বললাম, “মা, আমি ফিরে এসেছি।”
মা মাথা নাড়লেন। তার গলা দিয়ে আস্তে করে বেরিয়ে এল, “খাবার রেডি। খাইয়া নে। বাবা সন্ধ্যা সাতটার আগে ফিরবেন না। মিটিং আছে।”
কথাটা শুনে আমার বুকের ভিতরটা আরও জোরে কেঁপে উঠল। মা নিজেই জানিয়ে দিলেন সময় আছে। আমি তার হাতের দিকে তাকালাম। মায়ের আঙুলগুলো চামচ ধরে আছে। আমি হাত বাড়িয়ে তার হাতের উপর রাখলাম হালকা করে। মা কেঁপে উঠলেন। কিন্তু হাত সরালেন না। তার চোখ বড় হয়ে গেল। আমি তার আঙুলের উপর নিজের আঙুল বুলিয়ে দিলাম আস্তে আস্তে। মায়ের হাত কাঁপছিল। তার শ্বাস দ্রুত হয়ে গিয়েছিল। তিনি ফিসফিস করে বললেন, “আয়ান… এটা না… আজ না…”
আমি থামলাম না। তার হাতটা আলতো করে ধরলাম। মায়ের হাত আমার হাতের ভিতর এসে গেল। উষ্ণ। নরম। একটু স্যাঁতস্যাঁতে রান্নাঘরের কাজের কারণে। আমি তার আঙুলগুলো আলতো করে চেপে ধরলাম। মা চোখ বন্ধ করে ফেললেন। তার থেকে একটা কাঁপা শব্দ বেরিয়ে এল। তিনি হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করলেন না। দাঁড়িয়ে রইলেন। আমি তার হাত ধরে একটু কাছে টানলাম। মা আমার দিকে ঝুঁকে এলেন একটু। তার বুক আমার বুকের কাছে চলে এল। হলুদ নাইটির ভিতর তার শরীরের উষ্ণতা অনুভব করলাম। আমি ফিসফিস করে বললাম, “মা, তোমার হাত এত নরম… তোমার গন্ধ এত পাগলামি ধরায়…”
মা চোখ খুলে আমার দিকে তাকালেন। তার চোখে জল আর একটা অজানা আবেগ। তিনি আস্তে করে বললেন, “ছাড় আয়ান। এখন না। আমি… আমি প্রস্তুত না। কিন্তু তোর হাত ছাড়তেও পারছি না।”
আমি তার হাত ছাড়লাম না। উল্টো আরও আলতো করে চেপে ধরলাম। মায়ের আঙুলগুলো আমার আঙুলের সাথে আরও জড়িয়ে গেল। তিনি আমার বুকের দিকে ঝুঁকে এলেন আরও একটু। তার কপাল আমার কাঁধে ঠেকে গেল। উষ্ণ শ্বাস আমার গলায় এসে পড়ল। আমি তার চুল আলতো করে স্পর্শ করলাম। প্রথমবারের মতো পুরো হাত দিয়ে। মায়ের চুল নরম। একটু ভেজা রান্নাঘরের ভাপের কারণে। আমি তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলাম আস্তে আস্তে। মা আরও কাছে ঝুঁকে এলেন। তার বুক আমার বুকের সাথে লেগে গেল হালকাভাবে। হলুদ নাইটির ভিতর তার শরীরের উষ্ণতা স্পষ্ট। দুজনের হৃদপিণ্ডের শব্দ যেন মিশে যাচ্ছিল।
মা কেঁপে উঠলেন। তার হাত আমার কোমরে গিয়ে লাগল হালকা করে। তিনি নিজে থেকেই ছুঁলেন। আমি তার কোমরের উষ্ণতা অনুভব করলাম। নাইটির কাপড়ের উপর দিয়ে। মায়ের শরীর কাঁপছিল। তিনি আমার গলায় মুখ রেখে আস্তে করে বললেন, “আয়ান… আমি হেরে যাচ্ছি। তোর কাছে। নিজের কাছে। এটা যদি বাবা জানেন… সব শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু এখন… এখন তোর হাত ছাড়তে পারছি না।”
আমি তার চুল আলতো করে স্পর্শ করতে থাকলাম। তার কোমরে হাত বুলিয়ে দিলাম খুব আস্তে। মা আরও চেপে ধরলেন আমাকে। তার শরীর আমার শরীরের সাথে মিশে যাচ্ছিল প্রায়। আমি ফিসফিস করে বললাম, “কেউ জানবে না মা। শুধু আমরা দুজন। আজ বাবা দেরিতে ফিরবেন। তুমি নিজেই বলেছ।”
মা কেঁপে উঠলেন আবার। তার হাত আমার পিঠে গিয়ে লাগল। তিনি নিজে থেকেই আমাকে জড়িয়ে ধরলেন হালকাভাবে। প্রথমবার। মায়ের দুই হাত আমার পিঠে। তার বুক আমার বুকের সাথে পুরোপুরি লেগে গেল। হলুদ নাইটির পাতলা কাপড়ের ভিতর তার শরীরের প্রতিটা উষ্ণতা অনুভব করলাম। আমিও তাকে জড়িয়ে ধরলাম। তার কোমরের চারপাশে হাত দিলাম। মায়ের শরীর নরম। উষ্ণ। একটু কাঁপছে। তিনি আমার গলায় মুখ রেখে আস্তে করে কেঁদে উঠলেন। চুপচাপ। শুধু কাঁপুনি আর গরম শ্বাস।
অনেকক্ষণ ধরে আমরা এভাবেই দাঁড়িয়ে রইলাম। রান্নাঘরের ভিতর। কেউ কথা বলল না। শুধু দুজনের শরীর জড়িয়ে। মায়ের চুল আমার গালে। তার বুকের উঠানামা আমার বুকের সাথে মিশে যাচ্ছে। আমি তার পিঠে হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলাম আস্তে আস্তে। মায়ের শরীর থেকে একটা গভীর দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল। তিনি আমার কানে ফিসফিস করে বললেন, “আজ… আজ আর থামাতে পারছি না নিজেকে। কিন্তু ধীরে। খুব ধীরে। আমি ভয় পাচ্ছি আয়ান।”
আমি তার কানে উত্তর দিলাম, “আমিও ভয় পাচ্ছি মা। কিন্তু থামাতেও পারছি না।”
মা সরে গেলেন আস্তে করে। তার চোখ লাল। গালে জলের দাগ। তিনি তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছলেন। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “ঘরে যা। আমি রান্না শেষ করি। তারপর… তারপর আমার রুমে আয়। বাবা সাতটার আগে ফিরবেন না। সময় আছে। কিন্তু ধীরে। খুব ধীরে চলবে আজ।”
আমি মাথা নাড়লাম। পেছন ফিরে রুমে চলে এলাম। দরজা বন্ধ করে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে রইলাম অনেকক্ষণ। মায়ের জড়িয়ে ধরার অনুভূতি এখনো শরীরে বাজছিল। তার বুকের উষ্ণতা, তার চুলের স্পর্শ, তার কাঁপা গলা, আর তার কথা “আজ আর থামাতে পারছি না নিজেকে” নিয়ে আমার পুরো অস্তিত্ব উত্তাল হয়ে উঠেছিল। তিনি মেনে নিয়েছেন। আজ আর পিছু হটবেন না। আর আমি জানতাম, আজকের দিনটা আর কোনো সাধারণ দিন হবে না। রেখাটা মুছে গেছে। শুধু একটা পাতলা আবরণ বাকি ছিল। আর সেই আবরণটাও উঠে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।
আমি বিছানায় বসে অপেক্ষা করতে লাগলাম। রান্নাঘর থেকে মায়ের পায়ের শব্দ আসছিল। তিনি কাজ করছেন। কিন্তু তার পায়ের শব্দটা অস্থির। আমি জানতাম তিনিও অপেক্ষা করছেন। দুজনের মাঝে এখন আর কোনো দেয়াল নেই। শুধু সময়ের অপেক্ষা। আর সেই সময়টা এগিয়ে আসছিল ধীরলয়ে। নিষিদ্ধ টানটা এখন দুজনকেই গ্রাস করেছে পুরোপুরি। আর আমি জানতাম, আজ রাতের আগেই কিছু একটা পাল্টে যাবে চিরতরে।
Reply


Forum Jump:


Users browsing this thread: 1 Guest(s)