Thread Rating:
  • 0 Vote(s) - 0 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5

গহীন গ্রামের অন্দরমহল
#1


গল্পের শিরোনাম: গহীন গ্রামের অন্দরমহল
লেখক: প্রফেসর 
প্লট: ফ্যামেলি ইরোটিক ইন্সেস্ট 
   

… …

শরৎকালের শেষ সময়। মাঠের সোনালী ধান ঘরে তোলার ধুম লেগেছে। পুরো গ্রাম যেন এক ঘোরের মধ্যে আছে, আর এই ব্যস্ততার কেন্দ্রবিন্দুতে রবি।

 রবি শুধু একজন সফল কৃষকই নয়, এই বিশাল গৃহস্থালির কর্তা। তার পেশিবহুল শরীর আর রোদে পোড়া তামাটে চামড়া গ্রামের অন্য দশটা কৃষকের চেয়ে তাকে আলাদা করে রাখে।
 সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সে মাঠে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটে। কিন্তু দিনের শেষে যখন সে বাড়িতে ফেরে, তখন তার গাম্ভীর্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অন্য এক সত্তা জেগে ওঠে।

রবির সংসার সাজানো গোছানো। স্ত্রী রানি যেন বাড়ির প্রাণ। রানীর হাসিখুশি মুখ আর যত্নশীল হাত ছাড়া রবির জীবন অচল। তাদের দাম্পত্য সম্পর্কটা বাইরে থেকে যেমন আদর্শ, ভেতরেও ঠিক তেমনই উষ্ণ। রানি তার স্বামীর প্রতি অনুরক্ত, রান্নার স্বাদ থেকে শুরু করে ঘরের প্রতিটি কোণ—সবই রবির জন্য সে সাজিয়ে রাখে। তাদের মাঝে কোনো অভিযোগ নেই, আছে কেবল এক গভীর আসক্তি। কিন্তু এই আসক্তির দেয়ালগুলোর আড়ালে ফাটল ধরছে।


রবির মা, সখিনা বেগম, এক অদ্ভুত নারী। বয়স বেড়েছে। কিন্তু এই ঘোলাটে চোখের আড়ালে তিনি যেন অনেক কিছুই দেখতে পান যা বাকিরা এড়িয়ে যায়। সারাদিন তিনি ঘরের দাওয়ায় বসে তসবিহ টিপতে টিপতে বাড়ির প্রতিটি মানুষের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন। বিশেষ করে তার ছেলে রবির প্রতিটি নড়াচড়া তার নখদর্পণে। সখিনার আচরণে এক ধরনের গূঢ় রহস্য আছে। 

যখন রবি রাতে মাঠে কাজ শেষে ঘরে ফেরে, সখিনা তাকে অদ্ভুত সব ইশারায় নিজের কাছে ডাকেন। কখনো মাথায় হাত বুলিয়ে দেন, কখনো বা শরীর ঘেঁষে বসেন—সেই স্পর্শে স্নেহের চেয়েও বেশি যেন এক অধিকারবোধ ফুটে ওঠে।


বাড়ির সবচেয়ে রহস্যময় চরিত্র টুকটুকি। আঠারো বছর বয়সী এই কিশোরীর চঞ্চলতায় বাড়ির বাতাস যেন সবসময় মুখরিত থাকে। তার ভরা যৌবন এখন প্রতিটি ভাঁজে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। 

টুকটুকির বাবার প্রতি এক বিশেষ কৌতূহল রয়েছে, যা বয়সের স্বাভাবিকতাকে ছাপিয়ে গেছে। রানীর ব্যস্ততার ফাঁকে যখনই রবি ঘরে থাকে, টুকটুকি কোনো না কোনো অজুহাতে তার সামনে এসে দাঁড়ায়। কখনো চুল ঠিক করার অছিলায়, কখনো পানি দেওয়ার নামে—সে তার বাবাকে ঘিরে এক অদৃশ্য বৃত্ত তৈরি করে ফেলেছে।


এক মেঘলা দুপুরে রানি পাড়ার মহিলাদের সাথে ধান ঝাড়াই করতে বাড়ির বাইরে গেল। সখিনা বেগম তখন তার ঘরের বারান্দায় ঝিমুচ্ছিলেন। রবি মাঠে যাওয়ার জন্য লাঙল-জোয়াল গোছাচ্ছিল। টুকটুকি ঘরের ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে রবির পেছনে দাঁড়াল। রবির শার্টের ওপর দিয়ে তার হাতের আঙুলগুলো আলতো করে নামল। 

রবি চমকে উঠল, কিন্তু ফিরে তাকাল না। সে জানে, এই স্পর্শ টুকটুকির। তার শরীরের ভেতর দিয়ে এক বিদ্যুত তরঙ্গ বয়ে গেল।

দূর থেকে সখিনার ঝাপসা চোখ দুটো এই দৃশ্য দেখছিল। তিনি কোনো চিৎকার করলেন না, বরং ঠোঁটের কোণে এক কুটিল হাসি ফুটিয়ে তুললেন। তিনি যেন অপেক্ষায় ছিলেন, কবে এই বাড়ির অন্দরমহল এমন এক নিষিদ্ধ খেলায় মেতে উঠবে।

সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে পুরো বাড়িতে এক গুমোট ভাব নেমে এল। রানি ঘরে ফিরল হাসিমুখে, কিন্তু বাড়ির বাতাস তাকে অন্য কিছু জানান দিল।

 রবি তখন ঘরের দাওয়ায় বসে তামাকের ধোঁয়া ছাড়ছিল, আর টুকটুকি তার দিকে চেয়ে একটা রহস্যময় হাসি হাসল

। সখিনা বেগম তসবিহ থামিয়ে বিড়বিড় করে বললেন, "সবই তো বিধাতার খেলা, আজ শুরু, কাল শেষ হবে।"


রানি কিছুই বুঝতে পারল না। সে কেবল দেখল, তার পরম আদরের সংসারের ওপর এক অদ্ভুত ছায়া পড়েছে।

গল্পের এই শুরুটা আপনার কেমন লাগল? পরবর্তী পর্বে এই কৃষক পরিবারের মধ্যে হতে চলেছে আন্দাজ করতে পারছেন?

গল্পের শিরোনাম: গহীন গ্রামের অন্দরমহল

লেখক: প্রফেসর 

প্লট: পারিবারিক ইরোটিক ইন্সেস্ট গল্প

TG/@exproffessor

… …

শরৎকালের বিদায়ী হাওয়া আর মাঠের পাকা ধানের মদির গন্ধ মিলেমিশে পুরো গ্রামটায় তখন এক অদ্ভুত ঘোর তৈরি করেছে। মাঠের পর মাঠ জুড়ে সোনালী ধানের ওপর যখন পড়ন্ত বিকেলের রোদ এসে পড়ে, তখন মনে হয় যেন পুরো প্রকৃতি কোনো এক জাদুকরী আলোয় স্নান করছে। কিন্তু এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমান্তরালে, এই জোয়ারদার বাড়িতে তখন অন্য এক নিষিদ্ধ ও জটিল মনস্তাত্ত্বিক খেলার পটভূমি তৈরি হচ্ছিল।

এপিসোড-১ 

## প্রথম পর্ব: নিষিদ্ধ ছায়ার অংকুরোদ্গম##


### মাঠের ক্লান্তি এবং ঘরের উষ্ণতা###

সারাটা দিন মাঠে কেটেছে রবির। কার্তিক মাসের শেষ দিকের তপ্ত রোদ আর ধানের ধারালো পাতার আঁচড় তার চওড়া, পেশিবহুল পিঠে আর রোদে পোড়া তামাটে চামড়ায় লেগে আছে। রবি যখন লাঙল আর বলদ দুটোকে নিয়ে গোয়ালঘরের দিকে এগোল, তখন তার শরীর থেকে চুয়ে পড়ছে খাঁটি পুরুষালী খাটুনির ঘাম। 

গ্রামের আর দশটা সাধারণ কৃষকের চেয়ে রবি আলাদা; তার হাঁটাচলার মধ্যে এক ধরনের আদিম ও অসংযত পৌরুষ আছে, যা এই অঞ্চলের নারীদের অবচেতনে এক ধরনের সমীহ আর আকর্ষণ তৈরি করে।

হাত-মুখ ধুয়ে রবি যখন ঘরের দাওয়ায় এসে বসল, রানি রবির বউ, ঠিক তখনই এক ঘটি ঠাণ্ডা পানি আর একটা পরিষ্কার গামছা নিয়ে হাজির হলো। রানি এই বাড়ির আলো। তার পরনের সুতি শাড়িটা শরীরের সাথে লেপ্টে আছে, কপালে লেপ্টে থাকা ঘামের বিন্দুগুলো তাকে আরও বেশি লাবণ্যময় করে তুলেছে।

"আজ মাঠে বড্ড খাটুনি গেল, না?" রানি পরম মমতায় রবির পিঠের ঘাম গামছা দিয়ে মুছে দিতে দিতে বলল।

রবি কোনো কথা না বলে রানির কোমরটা টেনে নিজের কাছে নিয়ে এল। রানির শরীরের চেনা সুবাস, যাতে রান্নাবান্নার মশলা আর ঘামের একটা মিশ্রণ রয়েছে, রবির ভেতরের ক্লান্তিকে এক মুহূর্তে এক তীব্র কামনায় রূপান্তর করল। 

ঘরের দেয়ালগুলোর আড়ালে তাদের এই দাম্পত্য রসায়ন সব সময়ই অত্যন্ত প্রগাঢ় এবং উষ্ণ। রানি তার স্বামীর এই আচমকা টানে মৃদু হেসে রবির বুকে মাথা রাখল। বাইরে থেকে দেখলে একে এক আদর্শ সুখী সংসার মনে হবে, কিন্তু এই তীব্র আসক্তির ভেতরের সমীকরণগুলো যে কতটা জটিল, তা কেবল এই বাড়ির দেয়ালগুলোই জানে।


### সখিনা বেগমের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ও রহস্যময় স্পর্শ ###


বাড়ির ঠিক অপর প্রান্তে, আধো-অন্ধকার বারান্দায় একটা পুরনো কাঠের ইজিচেয়ারে বসে আছেন রবির মা, সখিনা বেগম। তার একটু বয়স হয়েছে, কিন্তু তার যৌবন যেন এখনো ফুরায়নি। চোখের দৃষ্টি হালকা ঘোলাটে, কিন্তু সেই ঘোলাটে চোখের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অসামান্য ও ভয়ঙ্কর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা।

 হাতের তসবিহটা নিয়মিত বিরতিতে ঘুরছে, আর তার শুকনো ঠোঁট দুটো বিড়বিড় করছে। কিন্তু তার চোখ দুটো স্থির হয়ে আছে রবি আর রানির ঘনিষ্ঠতার ওপর।

রানি যখন রাতের রান্নার তদারকি করতে রান্নাঘরের দিকে গেল, সখিনা বেগম অন্ধকার থেকে একটা শুকনো খসখসে গলায় ডাকলেন, "রবি... এদিকে আয় বাপ।"

রবি মায়ের ডাক উপেক্ষা করতে পারে না। সে উঠে গিয়ে মায়ের পায়ের কাছে বসল। সখিনা বেগম তার কাঁপা কাঁপা, ঠাণ্ডা হাতটা রবির চওড়া মাথায় রাখলেন। মায়ের হাতের সেই স্পর্শে আর যাই থাক, মাতৃত্বের চিরাচরিত শীতলতা ছিল না। তিনি আঙুলগুলো রবির চুলের ভেতর দিয়ে চালিয়ে ঘাড়ের কাছে নিয়ে এলেন, যেখানে রবির তপ্ত চামড়া তখনো ঘামে ভিজা। সখিনা বেগমের শরীরটা সামান্য ঝুঁকে এল রবির দিকে, তার নিঃশ্বাসের গরম হাওয়া রবির কানে লাগল।

"তুই বড্ড ক্লান্ত, রবি। তোর এই শরীরে কত ভার..." সখিনা বেগমের গলার স্বর এবং তার হাতের অতিরিক্ত চেপে বসা অধিকারবোধ রবির মনে এক অদ্ভুত অস্বস্তি তৈরি করল। মা হিসেবে ছেলের ওপর এই অধিকারবোধ যেন কোনো এক অদৃশ্য, অন্ধকার সীমানা স্পর্শ করতে চাইছে, যা রবি মুখ ফুটে বলতে পারে না, কিন্তু তার মেরুদণ্ড বেয়ে একটা ঠাণ্ডা স্রোত নেমে যায়।

## টুকটুকির চঞ্চলতা ও নিষিদ্ধ মোচড় ##

ঠিক এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতির মাঝেই ঝড়ের বেগে ঘরে ঢুকল টুকটুকি। আঠারো বছর বয়সটা তার শরীরে যেন উপচে পড়ছে। ফ্রক ছেড়ে শাড়ি ধরার এই সন্ধিক্ষণে তার শরীরের প্রতিটি বাঁক ও ভাঁজ এক উদগ্র যৌবনের জানান দিচ্ছে। 
সে চঞ্চল, কিন্তু তার এই চঞ্চলতার পেছনে রয়েছে এক সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য—তার বাবা, রবি।

"বাবা! মাঠের ঐদিকের চালগুলো কি আজই ঝাড়া হবে?" টুকটুকি রবির ঠিক সামনে এসে দাঁড়াল।

সে এমনভাবে দাঁড়াল যাতে তার শাড়ির আঁচলটা সামান্য সরে গিয়ে বুক ও কোমরের অংশটা রবির চোখের সমান্তরালে আসে। সে অজুহাতে তার ভেজা চুলগুলো পিঠের ওপর ছড়িয়ে দিল, যার ফলে দু-এক ফোঁটা জল রবির পায়ের ওপর এসে পড়ল।

 বাবার প্রতি টুকটুকির এই আকর্ষণ কোনো সাধারণ মেয়ের পিতৃস্নেহ নয়; এর মধ্যে রয়েছে এক নিষিদ্ধ কৌতূহল, এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক টান। সে যখনই রবির আশেপাশে থাকে, ঘরের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। 

রানি রান্নাঘর থেকে টুকটুকিকে ডাকতেই সে রবির দিকে একটা তির্যক ও অর্থপূর্ণ পলক ফেলে ভেতরে চলে গেল। রবি শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে তামাকের কলকেটা হাতে নিল।

।।।।।।

পরদিন দুপুরটা ছিল অন্যরকম। আকাশ মেঘে ঢাকা, বাতাসে বৃষ্টির পূর্বাভাস। রানি পাড়ার অন্য মহিলাদের সাথে বাড়ির পেছনের খামারে গেছে ধান ঝাড়াইয়ের বড় কাজে। সখিনা বেগম তখন তার ঘরের বারান্দায় আচ্ছন্ন হয়ে ঝিমুচ্ছিলেন—কিংবা হয়তো ঝিমুানোর ভান করছিলেন।

উঠোনে রবি একাকী লাঙল আর জোয়াল গোছাচ্ছিল মাঠে যাওয়ার জন্য। চারদিক নিস্তব্ধ, শুধু দূর থেকে ধান ঝাড়ার 'কুলোর' শব্দ ভেসে আসছিল।

ঠিক তখনই টুকটুকি নিঃশব্দে ঘরের ভেতর থেকে বেরিয়ে এল। তার পায়ে স্যান্ডেল নেই, কোনো শব্দ নেই। সে রবির ঠিক পেছনে এসে দাঁড়াল। রবি যখন ঝুঁকে দড়ি বাঁধছিল, টুকটুকি আলতো করে তার নিজের শরীরটা রবির পিঠের সাথে সামান্য ছুঁইয়ে দিল। তারপর, তার কোমল ও তপ্ত আঙুলগুলো রবির শার্টের ওপর দিয়ে, মেরুদণ্ড বরাবর ওপর থেকে নিচে নামিয়ে আনল।

রবি পুরো স্তব্ধ হয়ে গেল। তার হাতের লাঙলের দড়িটা শক্ত হয়ে উঠল। সে পেছনে ফিরে তাকাল না, কারণ সে ভালো করেই জানে এই অবাধ্য, নিষিদ্ধ স্পর্শ কার। রবির শরীরের ভেতর দিয়ে যেন একটা উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ তরঙ্গ বয়ে গেল। একাধারে তীব্র অপরাধবোধ আর অন্যদিকে এক আদিম, নিষিদ্ধ উত্তেজনা তার পুরুষত্বকে নাড়া দিয়ে উঠল। সে নড়াচড়া করতে পারল না, শুধু তার দ্রুত হতে থাকা নিঃশ্বাসের শব্দ উঠোনের নিস্তব্ধতাকে ভেঙে দিচ্ছিল।

একটু দূরে, জানালার অন্ধকার কোণ থেকে সখিনা বেগমের ঝাপসা চোখ দুটো এই পুরো দৃশ্যটা গিলে খাচ্ছিল। তার ঠোঁটের কোণে কোনো রাগ বা শাসন ফুটে উঠল না, বরং সেখানে ফুটে উঠল এক পৈশাচিক, কুটিল হাসি। তিনি যেন বহু বছর ধরে এই মুহূর্তটারই অপেক্ষা করছিলেন—কবে এই আপাত-আদর্শ সংসারের অন্দরমহল এমন এক নিষিদ্ধ, অন্ধকার খেলায় মেতে উঠবে এবং তিনি সেই ধ্বংসযজ্ঞের সাক্ষী হবেন।

সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে পুরো বাড়িতে একটা ভারী, গুমোট ভাব নেমে এল, যেন যেকোনো মুহূর্তে একটা বড় ঝড় আছড়ে পড়বে।

রানি হাসিমুখে, ক্লান্ত শরীরে ঘরে ফিরল। সে এসে রবির জন্য চা বানাতে গেল। কিন্তু ঘরের ভেতরে পা রাখতেই তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় তাকে জানান দিল, কোথাও কিছু একটা বদলে গেছে। বাতাসটা বড্ড ভারী।

রবি তখন ঘরের দাওয়ার অন্ধকারে বসে হুকোয় টান দিচ্ছিল। আগুনের লাল আলোয় তার গম্ভীর মুখটা পর্যায়ক্রমে ভেসে উঠছিল আর ডুবছিল। টুকটুকি ঘরের খুঁটিতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে রবির দিকে চেয়ে একটা রহস্যময়, বিজয়ী হাসি হাসছিল। 

আর সখিনা বেগম তার ঘরের কোণে তসবিহটা হঠাৎ থামিয়ে দিয়ে ফিসফিস করে বিড়বিড় করলেন:
"সবই তো বিধাতার খেলা... আজ যা শুরু হলো, কাল তা শেষ হবে। এই তো নিয়তি!।"

রানি কিছুই বুঝতে পারল না শাশুড়ির কথা। সে শুধু তার পরম আদরের, সযত্নে সাজানো সংসার গুছিয়ে রাখতে চায়। তার জীবনে এটা একমাত্র চাওয়া পাওয়া।

।।।।।

## দ্বিতীয় পর্ব: মায়ার জাল এবং অবরুদ্ধ কামনার খেলা##

কার্তিক মাসের অন্ধকার তখন ঘন হয়ে চেপে বসেছে জোয়ারদার বাড়ির ওপর। উঠোনের কোণে থাকা বাঁশঝাড় থেকে নিশাচর পাখির ডাক আর ঝিঁঝিঁ পোকার একটানা আওয়াজ চারপাশের নিস্তব্ধতাকে আরও রহস্যময় করে তুলছিল। 

রবি যখন ঘরের দাওয়ায় কাঠের খুঁটিতে হেলান দিয়ে বসল, তখন তার শরীরে মাঠের মাটি আর শুকিয়ে যাওয়া ঘামের একটা তপ্ত, নোনতা গন্ধ। কিন্তু তার চেয়েও তীব্র এক অস্থিরতা তার বুকের ভেতর কামড়ের মতো বসেছিল। দুপুরের সেই মেঘলা আলোয় টুকটুকির আঙুলের স্পর্শ যেন এখনো তার পিঠের চামড়ায় আগুন ধরিয়ে রেখেছে।

রানি যখন এগিয়ে এসে তার কপালে হাত রাখল, সেই হাতের শীতল ও পবিত্র স্পর্শে রবি ক্ষণিকের জন্য চোখ বন্ধ করল। রানি তার বিবাহিত জীবনের পরম আশ্রয়, তার বৈধ ও সুস্থ পৃথিবীর একমাত্র চাবিকাঠি।

"আজ খুব কষ্ট হয়েছে তোমার, তাই না? চলো, হাত-মুখ ধুয়ে নাও, আমি রাতের খাবার নিয়ে আসছি।" রানির কণ্ঠস্বরে ছিল এক অকপট ঘরোয়া স্নিগ্ধতা।

রবি যান্ত্রিকভাবে মাথা নাড়ল, কিন্তু তার চোখের মণি দুটো রানির কাঁধের ওপর দিয়ে সোজা চলে গেল ঘরের চৌকাঠের দিকে। সেখানে লণ্ঠনের মৃদু, হলদেটে আলোয় দাঁড়িয়ে টুকটুকি তার লম্বা, কালো চুলগুলো বাঁধছিল। লণ্ঠনের আলো-আঁধারির খেলায় টুকটুকির আঠারো বছর বয়সী শরীরের প্রতিটি বাঁক, তার বুকের অবাধ্য উথাল-পাথাল স্তন জোড়া রবির চোখের সামনে এক তীব্র কামনার কুয়াশা তৈরি করল।

 চুল বাঁধার ছলে টুকটুকি তার হাত দুটো যখন ওপরে তুলল, তার শাড়ির আঁচলটা খসে পড়ল একপাশে। ঠিক সেই মুহূর্তে সে রবির চোখের দিকে তাকাল। তার ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠা সেই চিলতে হাসিতে কোনো মেয়ের পিতৃস্নেহ ছিল না, ছিল এক পূর্ণযৌবনা নারীর পুরুষ শিকার করার আদিম আনন্দ। রবির হৃদস্পন্দন এক লাফেই কয়েক গুণ বেড়ে গেল, তার গলার ভেতরটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল।

### 

ঠিক তখনই বাড়ির সবচেয়ে অন্ধকার কুঠুরি থেকে একটা শুকনো, খসখসে শব্দ ভেসে এল। কাঠের লাঠিতে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে দাওয়ার আলোয় এসে দাঁড়ালেন সখিনা বেগম। তার পরনে সাদা থান কাপড়, কিন্তু তার অবয়বে কোনো মাতৃত্বের পবিত্রতা নেই। ঘোলাটে চোখ দুটো যেন এই অন্ধকারে আরও বেশি তীক্ষ্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি সোজা এসে রবির পাশে বসলেন।

"রবি, অনেক তো কাজ করলি, এবার একটু বিশ্রাম নে," সখিনা বেগমের গলা থেকে এক অদ্ভুত সম্মোহনী সুর বের হলো, যা রবির কান বেয়ে সরাসরি মগজে গিয়ে আঘাত করল।

সখিনা বেগম তার কাঁপা, কিন্তু শক্ত হাতটা রবির চওড়া কাঁধের ওপর রাখলেন। সেই স্পর্শে কোনো মায়ের মমতা ছিল না, ছিল এক অঘোষিত, ভয়ঙ্কর অধিকারবোধ। রানি তখন স্বামীর জন্য ভাত বাড়ার উদ্দেশ্যে রান্নাঘরের দিকে পা বাড়িয়েছে। 

উঠোনের এই কোণটায় রবি এখন সম্পূর্ণ একাকী—তার জন্মদাত্রী মা এবং তার নিজের রক্তের কন্যা টুকটুকির মাঝে।

সখিনা বেগম রবির আরও কাছে ঘেঁষে বসলেন। তার শরীর থেকে এক ধরনের পুরনো কাপড়ের আর কর্পূরের গন্ধ আসছিল। তিনি ফিসফিস করে বললেন, "মাঠে তো অনেক ঘাম ঝরালি, ঘরে ফিরে কি শান্তি মিলছে?"

রবি চমকে উঠে মায়ের দিকে তাকাল। লণ্ঠনের আলোয় সখিনা বেগমের চোখের কোণে যে ক্ষুধার এবং এক গোপন উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ দেখল, তা রবির সারা শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠল। 

সখিনা রবির কানের লতির খুব কাছে নিজের ঠোঁট দুটো নিয়ে এলেন, তার গরম ও ভারী নিঃশ্বাস রবির ঘাড়ে লাগছিল।

"সংসারের কাজে রানি তো ব্যস্তই থাকে, নিজের শরীরের প্রতি তো একটু যত্ন নেওয়া উচিত, তাই না?" এই নিচু স্বরের কথাগুলোর আড়ালে যে কী ভয়ঙ্কর ইঙ্গিত লুকিয়ে ছিল, তা বুঝতে রবির বাকি রইল না। 

মায়ের হাতের আঙুলগুলো রবির কাঁধ থেকে ধীরে ধীরে তার চওড়া বুকের দিকে নামতে শুরু করল। রবি স্তব্ধ, পক্ষাঘাতগ্রস্তের মতো বসে রইল।

### 

মায়ের এই মানসিক ও শারীরিক নিপীড়নের মাঝেই টুকটুকি লণ্ঠনটা হাতে নিয়ে এগিয়ে এল। সে রবির ঠিক এতটাই কাছে এসে দাঁড়াল যে তার শাড়ির সুবাস আর শরীরের ওম রবি স্পষ্ট অনুভব করতে পারছিল। 

টুকটুকির পরনের শাড়িটি ছিল অত্যন্ত আলগা, ঢিলেঢালা। সে লণ্ঠনটা রবির মুখের সামনে ধরতেই আগুনের হলদে আলো রবির চোখে এসে পড়ল, আর রবির চোখের সামনে ভেসে উঠল টুকটুকির উন্মুক্ত ক্লিভেজ আর তার অনাবৃত কোমরের অংশ।

টুকটুকি খিলখিল করে হেসে উঠল। সেই হাসির শব্দে এক ধরনের তীব্র মদিরতা ছিল। সে রবির চোখের দিকে তাকিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল, "বাবা, তুমি কি দাদির কথায় ভয় পাচ্ছো?"

প্রশ্নটা সাধারণ মনে হলেও এই পরিস্থিতিতে তা ছিল এক চরম দ্ব্যর্থবোধক এবং উত্তেজক আঘাত। রবি দেখল, সে এক অদ্ভুত গোলকধাঁধায় বন্দি হয়ে গেছে। একদিকে তার বৃদ্ধা মা সখিনা বেগমের কুটিল ও গূঢ় চাহনি, যা তাকে কোনো এক আদিম পাপের দিকে ঠেলে দিচ্ছে; অন্যদিকে তার নিজের মেয়ের ভরা যৌবনের এই উদগ্র, অসংযত হাতছানি। এই দুই নারী যেন রবির পুরুষত্বকে, তার সামাজিক অস্তিত্বকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে এক নিষিদ্ধ মায়ার জাল বুনে চলেছে।

### 

ঠিক তখনই রান্নাঘর থেকে রানির খুন্তি নাড়ানোর এবং হাঁড়ি-পাতিল রাখার চেনা শব্দ ভেসে এল। "ওগো, ভাত বেড়ে নিয়েছি, চলে এসো!" রানির এই ডাক দূর থেকে ভেসে আসা কোনো দৈববাণীর মতো শোনাল। রবির মনে হলো, রানি যেন অন্য কোনো পবিত্র, সরল জগতের মানুষ, যার সাথে এই মুহূর্তের এই নিষিদ্ধ বারান্দার কোনো সম্পর্ক নেই।

রবির মনে হলো, সে আজ এমন এক চোরাবালিতে পা দিয়েছে, যেখান থেকে নিজেকে টেনে তোলার ক্ষমতা তার নিজের পুরুষালী শরীরেরও নেই। 

সখিনা বেগমের শুকনো, খসখসে আঙুলগুলো তখন রবির শার্টের বোতামের কাছাকাছি এসে আলতো করে খেলা করছে, আর টুকটুকি লণ্ঠন হাতে তার চোখের দিকে অপলক, তৃষ্ণার্ত চোখে তাকিয়ে আছে।

রবির ভেতরের সামাজিক অনুশাসন, নীতিবোধ আর অপরাধবোধ এক চরম সংঘাতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেল। কিন্তু সেই সংঘাতকে ছাপিয়ে তার পুরুষাঙ্গ ও ধমনিতে এক আদিম, নিষিদ্ধ রক্তের টান চাবুক মারতে শুরু করল। সে এক গভীর দীর্ঘশ্বাস
 ফেলে চোখ দুটো বন্ধ করল, যেন সে নিজেকে এই অন্ধকারের স্রোতে সম্পূর্ণ ভাসিয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করে নিচ্ছে।।।


………..(চলবে)

গল্প টি কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাবেন। 
ভালো লাগলে লাইক ও রেপুটেশন দিবেন। ধন্যবাদ সবাইকে।
Reply
#2

  
এপিসোড-২

পর্ব -৩


 ১. নিঝুম রাতের প্রগাঢ় স্তব্ধতা এবং অবরুদ্ধ চিত্ত

রাত যখন আরও গভীর হয়, তখন গ্রামের অন্ধকার যেন এক আদিম, ঘন তরলে রূপ নেয়। জোয়ারদার বাড়ির বিশাল আঙিনা, বাঁশঝাড় আর পেছনের জঙ্গলটা সেই অন্ধকারের চাদরে সম্পূর্ণ ঢাকা পড়ে গেছে। রবির শয়নকক্ষে হ্যারিকেনের আলোটা একদম কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই টিমটিমে হলদেটে আলোয় ঘরের মাটির দেয়াল আর বাঁশের খুঁটিগুলোতে দীর্ঘ, অস্পষ্ট কিছু ছায়া কাঁপছিল।

পাশে শুয়ে থাকা রানি তখন গভীর ঘুমের অতলে। সারা দিনের ধান সেদ্ধ করা, শুকানো আর সংসারের চাকা ঘোরানোর হাড়ভাঙা খাটুনি তার শরীরে অসাড়তা এনে দিয়েছে। তার একখানা হাত শাড়ির আঁচল সরিয়ে বিছানার চাদরের ওপর আলগা হয়ে পড়ে ছিল। রানির এই ঘুমন্ত, পবিত্র অবয়বের দিকে তাকিয়ে রবির বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। কিন্তু তার শরীরের ভেতর তখন অন্য এক আদিম আগুন জ্বলছিল—কার্তিক শেষের ঠাণ্ডা হাওয়াও যা নেভাতে পারছিল না। ।

দুপুরের সেই মেঘলা আলোয় টুকটুকির আঙুলের স্পর্শ রবির পিঠের চামড়ায় যে বিদ্যুততরঙ্গ ছড়িয়ে দিয়েছিল, তার রেশ এখনো রবির ধমনিতে চাবুক মারছিল। সে বিছানায় শুয়ে ছটফট করতে লাগল, তার গলার ভেতরটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আসছিল। অবশেষে, কোনো এক তীব্র মনস্তাত্ত্বিক তাড়নায় সে নিঃশব্দে বিছানা ছেড়ে উঠে বাইরে বেরিয়ে এল।

পেছনের পুকুরপাড়ের পরিবেশটা ছিল অদ্ভুত রকমের শান্ত, অথচ এক গুমোট টানটান উত্তেজনায় ভরা। পুকুরের স্থির, কালো পানি আকাশের ম্লান চাঁদের আলোকে প্রতিফলিত করে এক মায়াবী কুয়াশা তৈরি করেছে। রবি ঘাটের মাটির ঢিবিটার ওপর গিয়ে বসল। ঝিঁঝিঁ পোকার একটানা ডাক আর জোনাকি পোকাদের উড়াউড়ি চারপাশের নিস্তব্ধতাকে আরও রহস্যময় করে তুলছিল। 

ঠিক তখনই শুকনো পাতার ওপর খুব হালকা, চতুর এক জোড়া নগ্ন পায়ের শব্দ হলো—যেন কোনো শিকারী বিড়াল নিঃশব্দে এগোচ্ছে। রবি চমকে পেছনে ফিরে তাকাল!!!

অন্ধকারের বুক চিরে কুয়াশার চাদর ঠেলে এগিয়ে আসছিল টুকটুকি। তার পরনে অত্যন্ত পাতলা একখানা সুতির সাদা শাড়ি, যা রাতের ম্লান আলোয় সিল্কের মতো চিকচিক করছিল। শাড়িটি শরীরের সাথে এমনভাবে জড়ানো, যা তার আঠারো বছরের অবাধ্য যৌবনের প্রতিটি বাঁক, প্রতিটি উত্থান-পতনকে আরও বেশি স্পষ্ট করে তুলেছে।

### নিষিদ্ধ সংলাপ এবং সীমানা লঙ্ঘনের মদিরতা

টুকটুকি রবির ঠিক পেছনে এসে দাঁড়াল। তার উপস্থিতি বাতাসে এক ধরনের কাঁচা সাবান আর যুবতী ত্বকের মদির সুবাস ছড়িয়ে দিল, যা রবির ঘ্রাণেন্দ্রিয়কে অবশ করে দিচ্ছিল।

"বাবা?" টুকটুকির কণ্ঠস্বর ছিল নিচু, সামান্য কম্পিত, কিন্তু তাতে ছিল এক অদ্ভুত, আদিম সাহসিকতা।

রবি কোনো উত্তর দিল না। সে সামনের জোনাক জ্বলা ঝোপের দিকে তাকিয়ে রইল, কিন্তু তার সমস্ত সত্তা তখন পেছনের কিশোরীটির দিকে নিবদ্ধ। টুকটুকি এক মুহূর্ত দ্বিধা না করে রবির একদম গা ঘেঁষে বসল। তাদের কাঁধে কাঁধ ঠেকাঠেকি হতেই রবির চওড়া, পেশিবহুল শরীরে এক তীব্র কাঁপন ধরে গেল। রবির পুরুষালী খসখসে চামড়ার সাথে টুকটুকির মসৃণ ও তপ্ত ত্বকের এই সংঘাত রবির স্নায়ুগুলোকে উত্তেজিত করে তুলছিল।

"মা কি তোমার যত্ন ঠিকমতো করতে পারে না?" টুকটুকি সরাসরি রবির চোখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্নটা করল। তার চোখে কোনো দ্বিধা নেই, কোনো সামাজিক ভয় নেই।

রবি একটু কেঁপে উঠে নিজের গলার স্বরকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করল। সে শান্ত, কিন্তু খসখসে গলায় বলল, "তোর মা তো সংসার আগলে রাখে। তার কোনো ত্রুটি নেই।"

টুকটুকি মৃদু হাসল। সেই হাসিতে যেন এক নিষিদ্ধ অন্ধকারের আনন্দ লুকিয়ে ছিল। সে আর এক চুলও দূরত্ব না রেখে তার নরম, গরম হাতখানা রবির রুক্ষ হাতের ওপর রাখল। "মা সংসার দেখে, ঘর গোছায়, কিন্তু তুমি তো পুরুষ মানুষ। তোমার কি কোনো আলাদা চাওয়া-পাওয়া নেই?" 

সে আরও একটু ঝুঁকে, রবির কানের লতির ঠিক কাছে নিজের ভেজা ঠোঁট দুটো এনে ফিসফিস করে বলল, "আমি তো দেখি, তুমি যখন বাইরে থেকে মাঠে খেটে ফেরো, তোমার চোখে এক অদ্ভুত শূন্যতা থাকে। মা সেটা দেখে না, কারণ সে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু আমি দেখি, বাবা।"

রবি মুখ ফিরিয়ে টুকটুকির দিকে তাকাল। চাঁদের আলোয় টুকটুকির মুখটা তখন এক অপার্থিব, নিষিদ্ধ প্রতিমার মতো লাগছিল। তার চোখের তারায় এক উদগ্র লালসা আর অধিকারের তৃষ্ণা স্পষ্ট। রবির ভেতরের সামাজিক অনুশাসন, নীতিবোধ আর লোকলজ্জা শেষবারের মতো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করল। সে নিজেকে শক্ত করে গম্ভীর হওয়ার ভান করল, "তোর এসব কথা বলার বয়স হয়নি, টুকটুকি। ঘরে যা।"


### অবাধ্য যৌবনের হাতছানি ও বাঁধভাঙা কামনা ###

টুকটুকি রবির কথায় দমে না গিয়ে উল্টো পুরোপুরি উঠে দাঁড়াল। সে রবির চোখের ঠিক সমান্তরালে নিজের অবস্থান তৈরি করল। তারপর, অত্যন্ত ধীর এবং উত্তেজক ভঙ্গিতে সে তার শাড়ির আঁচলটা কাঁধ থেকে একটু সরিয়ে দিল। লণ্ঠনের ম্লান আলো আর চাঁদের রুপোলি রশ্মি এক হয়ে টুকটুকির অনাবৃত কোমর, উন্নত বক্ষপট আর ভরা যৌবনের অবাধ্য ভাঁজগুলোকে রবির চোখের সামনে এক তীব্র কামনার কুয়াশা হিসেবে মেলে ধরল।

"বয়স কি কেবল পঞ্জিকার পাতায় থাকে বাবা?" টুকটুকি আবার রবির সামনে বসল, এবার আরও কাছে। সে তার নরম হাতটা রবির চওড়া বুক বরাবর এনে থামাল। তার আঙুলগুলো রবির শার্টের বোতামের ওপর আলতো করে চাপ দিতে দিতে নিচে নামতে লাগল। 

"আমি বুঝতে শিখেছি। আমি জানি, তুমি কী চাও, আর কেন তুমি ঘরের চেয়ে বাইরে থাকতে বেশি পছন্দ করো।"

চারপাশের জগতটা যেন হঠাৎ করে থমকে গেল। বাতাসে ভেসে আসা বাঁশপাতার খসখস শব্দ, পুকুরের পানির মৃদু ঢেউ—সবকিছু যেন এক হয়ে তাদের এই নিষিদ্ধ মিলনকে উদযাপন করতে চাইল।

টুকটুকি রবির উরুর ওপর নিজের শরীরের কিছুটা ভর ছেড়ে দিয়ে আবার ফিসফিস করল, "কেউ জানবে না। সখিনা দাদী তো সারাক্ষণ আমাদের ওপর নজর রাখছেনই, কিন্তু এখন তো সবাই ঘুমে। তুমি কি ভয় পাচ্ছো বাবা, নাকি আমাকে তোমার আর পছন্দ নয়?"

এই শেষ আঘাতে রবির ভেতরের সমস্ত বাঁধ, দীর্ঘদিনের সামাজিক অনুশাসন আর পিতা-কন্যার পবিত্র সম্পর্কের দেয়াল এক নিমেষে পুড়ে খাক হয়ে গেল। তার ধমনিতে এক আদিম, বন্য রক্তের টান চাবুক মারতে শুরু করল। এক তীব্র কামনার বিস্ফোরণে রবির শক্ত, পেশিবহুল হাতটা অজান্তেই টুকটুকির পাতলা কোমরটা জড়িয়ে ধরে নিজের বুকের সাথে শক্ত করে চেপে ধরল। টুকটুকি একটা তৃপ্তির নিশ্বাস ফেলে রবির চওড়া বুকে লেপ্টে গেল, তার গরম নিঃশ্বাস রবির উন্মুক্ত গলায় আছড়ে পড়ল।

### অন্ধকারের তৃতীয় চোখ ও কুটিল সমাপ্তি ###


ঠিক সেই মুহূর্তে, যখন রবির হাত টুকটুকির শাড়ির আরও গভীরে, তার শরীরের নিষিদ্ধ ভাঁজগুলো অন্বেষণ করতে উদ্যত, বাড়ির পেছনের অন্ধকার বারান্দা থেকে একটা চেনা, শুকনো খসখসে শব্দ ভেসে এল। শুকনো পাতার ওপর লাঠি পড়ার সেই ঠক-ঠক আওয়াজ রাতের নিস্তব্ধতাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিল।

রবি বিদ্যুদ্বেগে হাত সরিয়ে নিয়ে ছিটকে সরে দাঁড়াল। তার কপাল ও পিঠ বেয়ে ঠাণ্ডা ঘাম ঝরতে লাগল, বুকটা কামারের হাপরের মতো ওঠানামা করছিল। পুকুরপাড়ে ঘনীভূত কুয়াশা আর আবছা আলো-ছায়ার মধ্যে দেখা গেল, সখিনা বেগম লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন। তার সেই প্রবীণ, কুঁচকে যাওয়া মুখের ওপর চাঁদের আলো পড়ে এক পৈশাচিক রূপ ধারণ করেছে। তার চোখ দুটো ঘোলাটে হলেও, এই অন্ধকারেও তারা যেন সবকিছু নিখুঁতভাবে গিলে খাচ্ছিল। তার ঠোঁটের কোণে ঝুলছিল সেই চেনা, শয়তানি মিশ্রিত কুটিল হাসি।

"কী হচ্ছে এখানে?" সখিনার কর্কশ, খসখসে কণ্ঠস্বর রাতের বাতাস চিরে রবির বুকে তীরের মতো বিঁধল।

কিন্তু টুকটুকি বিন্দুমাত্র ভয় পেল না বা লজ্জিত হলো না। সে অত্যন্ত শান্ত ও স্বাভাবিক ভঙ্গিতে তার শরীরের আলগা শাড়িটা টেনে বুকে জড়াতে জড়াতে বলল, "কিছু না দাদী, বাবা একটু অশান্তিতে আছে, ঘরে দমবন্ধ লাগছিল, তাই বাতাসের খোঁজে এসেছে। আমিও পানি খেতে এসে বাবাকে দেখলাম।"

সখিনা বেগম কোনো উত্তর দিলেন না। তিনি এক এক পা করে এগিয়ে এলেন তাদের দিকে। তার হাতের লাঠিটা মাটিতে পড়ার প্রতিটা শব্দ যেন রবির হৃৎপিণ্ডে হাতুড়ির মতো আঘাত করছিল এবং তার পুরুষালী অহংকারকে চূর্ণ করছিল। রবি সোজা হয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করল, কিন্তু তার মনে হলো, এই গহীন গ্রামের অন্ধকার অন্দরমহল, সখিনা বেগমের কুটিল চোখ আর টুকটুকির অবাধ্য যৌবনের এই ফাঁদ—সবকিছু এক হয়ে তাদের চারদিক থেকে গ্রাস করে ফেলেছে। এই পাপের চোরাবালিতে তারা সবাই এখন আষ্টেপৃষ্ঠে বন্দি, যেখান থেকে বের হওয়ার কোনো পথ আর অবশিষ্ট নেই।

## চতুর্থ পর্ব: অন্দরমহলের চোরাবালি এবং আগুনের লেলিহান শিখা ##


### সখিনা বেগমের ভয়ঙ্কর নীরবতা ও অশুভ চুক্তি###


সখিনা বেগমের লাঠির শেষ ঠক-ঠক শব্দটা যখন পুকুরপাড়ে এসে থামল, তখন চারপাশের বাতাস যেন বরফের মতো জমে গেছে। রবির মনে হচ্ছিল তার নিজের বুকের ভেতরের হৃৎপিণ্ডটা সজোরে আছাড় খাচ্ছে। টুকটুকি কিন্তু তখনও বিন্দুমাত্র লজ্জিত বা অপ্রস্তুত নয়; সে অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে তার শাড়ির আঁচলটা ঠিক করল, কিন্তু তার চোখের কোণে সখিনার প্রতি কোনো ভয় ছিল না, বরং ছিল এক ধরনের গোপন বোঝাপড়ার ইশারা।

সখিনা বেগম তাদের খুব কাছে এসে দাঁড়ালেন। তার মুখ থেকে কর্পূর আর পুরনো সিন্দুকের একটা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ বের হচ্ছিল। তিনি তার ঘোলাটে কিন্তু তীক্ষ্ণ চোখ দুটো রবির মুখের ওপর রাখলেন, তারপর এক কুৎসিত, দাঁতহীন হাসি হাসলেন।

"বাতাসের খোঁজে?" সখিনা বেগম ফিসফিসিয়ে উঠলেন, তার গলার স্বর যেন এক বিষাক্ত সাপের মতো ফোঁস করে উঠল। "তা এই মাঝরাতে নিজের জোয়ান মেয়ের আঁচল ঘেরা বাতাস বড্ড মিষ্টি, না রে রবি? আমি তো অন্ধ নই বাপ, সবই বুঝি।"

রবি কোনো কথা বলতে পারল না, তার পুরুষালী অহংকার আর সামাজিক নীতিবোধ সখিনার এই চাবুকের মতো কথার সামনে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল।
সখিনা বেগম এবার টুকটুকির দিকে তাকালেন এবং তার শুকনো, হাড়-জিরজিরে হাতটা টুকটুকির গালে রাখলেন। 

"তুই বড্ড সেয়ানা হয়েছিস লো টুকটুকি। যা, আমার ঘরে গিয়ে বিছানাটা পাত। আজ বুড়ো দাদীর গা-হাত-পা একটু টিপে দিবি। আর রবি... তুই তোর বউয়ের কাছে যা। ঘরে অত বড় লক্ষ্মী ঘুমায়, তার দিকে নজর দে।"

সখিনার এই হুকুমের আড়ালে যে কী গভীর ও ভয়ঙ্কর কোনো মনস্তাত্ত্বিক খেলা চলছিল, তা রবি বুঝতে পারল। সখিনা এই নিষিদ্ধ সম্পর্কটাকে শাসন করছেন না, বরং এটাকে নিজের মুঠোয় পুরে পুরো বাড়িটাকে পুতুলনাচের মতো নাচাতে চাইছেন। টুকটুকি সখিনার দিকে তাকিয়ে এক রহস্যময় হাসি হেসে ভেতরের অন্ধকারের দিকে হেঁটে চলে গেল। রবি শুধু একা দাঁড়িয়ে রইল এক অতল অপরাধবোধের সাগরে।


### রানির পবিত্র পৃথিবী ও রবির দহন ###

রবি যখন নিজের শয়নকক্ষে ফিরে এল, তখন ঘরের ভেতরের হ্যারিকেনের আলোটা প্রায় নিভে এসেছে। বিছানায় রানি তখনো একপাশে কাত হয়ে অঘোরে ঘুমাচ্ছে। তার ফর্সা, মসৃণ কপাল আর শান্ত মুখের অবয়ব দেখে রবির বুকের ভেতরটা যেন কেউ তপ্ত শলাকা দিয়ে পুড়িয়ে দিল। রানি এই বাড়ির আলো, তার প্রতিটি কাজের মাঝে রয়েছে রবির প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা ও আনুগত্য। কিন্তু সেই পবিত্র বিছানায় যখন রবি গিয়ে বসল, তার মনে হলো সে নিজের সাথে এক নরকের আগুন নিয়ে এসেছে।

রানি ঘুমের ঘোরেই রবির চেনা শরীরের গন্ধ পেয়ে আলতো করে নড়ে উঠল। সে তার একখানা নরম হাত রবির চওড়া বুকের ওপর রাখল এবং রবির গায়ের সাথে লেপ্টে গিয়ে ফিসফিস করল, "কখন উঠলে গো? শরীরটা খারাপ লাগছে?"

রবির সমস্ত শরীর তখন কাঁপছিল। একদিকে রানির এই নিষ্পাপ, বৈধ ও শীতল ভালোবাসার টান; অন্যদিকে পুকুরপাড়ে টুকটুকির সেই পাতলা শাড়ির সুবাস আর সখিনা বেগমের কুটিল চোখের মদির হাতছানি। রবির মস্তিষ্কে তখনো টুকটুকির অনাবৃত কোমর আর তপ্ত আঙুলের স্পর্শ চাবুক মারছিল। 

সে রানিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল ঠিকই, কিন্তু সেই আলিঙ্গনে দাম্পত্যের শান্তি ছিল না, ছিল এক চরম মরিয়া ভাব—যেন সে রানির পবিত্রতায় নিজের ভেতরের পাপকে ধুয়ে ফেলতে চাইছে। কিন্তু রবির চোখের পর্দায় তখনো কেবলই ভেসে উঠছিল টুকটুকির আঠারো বছরের অবাধ্য যৌবনের রূপরেখা।


### ভোরের কুয়াশা এবং রান্নাঘরের তীব্র উত্তাপ ###

পরদিন সকালে পুরো গ্রাম ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে গেল। মাঠের পাকা ধানের ওপর টুপটুপ করে শিশির ঝরছিল। রবি সারারাত চোখের পাতা এক করতে পারেনি। কাক ডাকার আগেই সে ঘর থেকে বেরিয়ে এল। উঠোনের এক কোণে রান্নাঘর থেকে হালকা ধোঁয়া উঁকি দিচ্ছিল; রানি উনুন ধরাচ্ছে।

রবি ধীর পায়ে রান্নাঘরের দরজায় গিয়ে দাঁড়াল। উনুনের লালচে আগুনের আভা রানির মুখের ওপর পড়ে এক অদ্ভুত লাবণ্য তৈরি করেছে। রবিকে দেখে রানি মিষ্টি করে হাসল, "আজ এত ভোরে উঠলে যে? শরীরটা ঠিক আছে তো?"

রবি কোনো উত্তর না দিয়ে উন্মাদের মতো রান্নাঘরের ভেতরে ঢুকল এবং পেছন থেকে রানিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। উনুনের উত্তাপ আর রানির শরীরের ওম মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল। রবি চাচ্ছিল এই বৈধ স্পর্শ দিয়ে তার ভেতরের নিষিদ্ধ কামনার আগুনটাকে পুড়িয়ে ছাই করে দিতে। 

সে রানির ঘাড়ে নিজের মুখটা ঘষতে লাগল, তার শক্ত হাত দুটো রানির শাড়ির ভেতর দিয়ে তার কোমরের চামড়াটা শক্ত করে চেপে ধরল। রানি মৃদু আপত্তি করে ফিসফিসাল, "আহা, ছাড়ো না... কেউ দেখে ফেলবে। এই ভোরে আবার কী শুরু করলে!"

কিন্তু রবির ভেতরের আদিম পুরুষ তখন এক মরিয়া লড়াইয়ে মত্ত। ঠিক সেই মুহূর্তে রান্নাঘরের বাঁশের বেড়ার ফাঁক দিয়ে একটা চোখ তাদের দিকে চেয়ে রইল। রবি চোখ মেলতেই দেখল, বেড়ার ওপাশ থেকে টুকটুকি কিছু একটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখে কোনো লজ্জা নেই, বরং সেখানে রয়েছে এক তীব্র হিংসা আর অবাধ্য এক চাহনি। 

সে দেখল কীভাবে রবি তার মাকে আদর করছে। টুকটুকি তার হাতের লণ্ঠনটা মাটিতে সামান্য জোরে আছাড় মারার মতো করে রাখল, যাতে একটা স্পষ্ট শব্দ হয়।

রানি চমকে উঠে রবিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল। "ঐ দেখ, টুকটুকি উঠে পড়েছে। ছাড়ো এখন!"

টুকটুকি রান্নাঘরের ভেতরে ঢুকে এক বালতি পানি নিয়ে রবির দিকে চাইল। তার শাড়ির আঁচলটা আবার ইচ্ছাকৃতভাবেই একটু ঢিলে হয়ে গেল, উনুনের আগুনের আলোয় তার বুকের ওঠানামা রবির চোখের সামনে স্পষ্ট হলো। 

সে রবির দিকে তাকিয়ে নিচু স্বরে বলল, "মা, বাবার গায়ের শার্টটা বড্ড ময়লা হয়েছে। ধুয়ে দেব?"

কথাটার ডাবল মিনিং রানি না বুঝলেও রবির পুরুষাঙ্গ ও ধমনিতে আবার এক নিষিদ্ধ কাঁপন ধরিয়ে দিল। সে শার্ট খুলে টুকটুকির হাতে দিয়ে সেখান থেকে দ্রুত বের হয়ছ গেলো।


### সখিনা বেগমের চূড়ান্ত চাল ও অবরুদ্ধ তিন কোণ ###


দুপুর গড়ানোর পর রানি পাড়ার মহিলাদের সাথে আবার খামারে গেল ধান ঝাড়ার কাজে। বাড়িতে রবি একাকী উঠোনে লাঙলের ফলা ধার দিচ্ছিল। চারদিক নিস্তব্ধ, শুধু রবির হাতের লোহার ঘষার শব্দ হচ্ছিল।

হুট করেই সখিনা বেগম তার অন্ধকার কুঠুরি থেকে ডাকলেন, "রবি, এদিকে আয় বাপ।"
রবি তার হাতের কাজ ফেলে মায়ের ঘরে ঢুকল। 

ঘরের ভেতরটা বড্ড অন্ধকার, স্যাঁতসেঁতে আর এক রহস্যময় গুমোট গন্ধে ভরা। সখিনা বেগম বিছানায় আধশোয়া হয়ে ছিলেন। রবি কাছে যেতেই তিনি রবির শক্ত হাতটা টেনে নিজের বুকের কাছে নিলেন। 

"তুই বড্ড একা হয়ে যাচ্ছিস রবি। রানি তোকে বোঝে না, ও শুধু সংসার বোঝে। কিন্তু আমি তো তোর মা, তোর রক্তের প্রতিটি ফোঁটার ক্ষুধা আমি জানি।"

রবি স্তব্ধ হয়ে রইল। সখিনার এই কথার ভেতরের আদিম ও কুৎসিত ইঙ্গিত তার মাথায় বজ্রপাতের মতো আঘাত করল। সখিনা বেগম রবির হাতটা ধরে ধীরে ধীরে নিজের দিকে টানছিলেন, তার চোখ দুটোতে এক পৈশাচিক লালসা ও অধিকারের মিশ্রণ স্পষ্ট।

ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘরের দরজায় এক মায়াবী ছায়া ফেলে এসে দাঁড়াল টুকটুকি। তার হাতে এক গ্লাস ঠাণ্ডা মাঠা। সে ঘরে ঢুকেই কোনো দ্বিধা না করে সখিনার পাশে বসল এবং রবির অন্য মুক্ত হাতখানা নিজের তপ্ত কোলের ওপর টেনে নিল।
এখন রবির এক হাত তার প্রবীণ মায়ের খসখসে, বৃদ্ধ হাতের মুঠোয়, আর অন্য হাত তার নিজের তরুণী কন্যার মসৃণ, গরম উরুর ওপর।

"বাবা, মাঠাটা খাও, শরীর বড্ড তেতে আছে, ঠাণ্ডা হবে," টুকটুকি রবির চোখের দিকে তাকিয়ে এক চরম উত্তেজক ও বিজয়ী ভঙ্গিতে হাসল।
সখিনা বেগম টুকটুকির দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়লেন, যেন তাদের মধ্যকার সেই গোপন, কুৎসিত চুক্তিটা এখন পূর্ণতা পাচ্ছে।

 রবি দেখল, সে এই দুই নারীর মাঝখানে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ। তার পুরুষালী শক্তি, তার সামাজিক মর্যাদা, তার নীতিবোধ—সবকিছু এই অন্ধকার কুঠুরির নিষিদ্ধ মায়ার জালে পিষে মরছে। বাইরে তখন কার্তিক শেষের মেঘলা আকাশ ভেঙে মুষলধারে বৃষ্টি নামার উপক্রম, আর এই জোয়ারদার বাড়ির অন্দরে এক ভয়ঙ্কর, নিষিদ্ধ ঝড়ের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছিল, যা পুরো সংসারটাকে ছারখার করে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।।

 
 

 পঞ্চম পর্ব: অন্দরমহলের বিষাক্ত ওম ও মাংসের ক্ষুধা

কার্তিক রাতের থমথমে আঁধার তখন জোয়ারদার বাড়ির প্রতিটি কোণকে গ্রাস করে নিয়েছে। সখিনা বেগমের ডাক শুনে রবি যখন তার অন্ধকার কুঠুরিতে পা রাখল, তখন ঘরের ভেতরের পরিবেশ তার সমস্ত স্নায়ুকে অবশ করে দিচ্ছিল। 

ঘরটায় কোনো জানলা নেই, এক কোণে একটা মাটির প্রদীপ টিমটিম করে জ্বলছে, যা থেকে নির্গত ধোঁয়া আর সস্তা ধূপের কটু গন্ধ বাতাসকে ভারী ও দমবন্ধ করে রেখেছে। রবি পাথরের মতো নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

 তার চোখ গেল সখিনার সেই শুকনো, হাড়-জিরজিরে হাতের দিকে। যে হাত একসময় তাকে শৈশবে পরম মমতায় কোলে তুলে নিত, আজ সেই হাতই রবির শার্টের ওপর দিয়ে, তার চওড়া বুকের শক্ত পেশির ওপর এক আদিম ও নিষিদ্ধ অধিকার নিয়ে বিচরণ করছে।

রবি কোনো বাধা দেওয়ার শক্তি পেল না। তার অবচেতনে কাজ করছিল এক অদ্ভুত পক্ষাঘাত। প্রদীপের ম্লান আলোয় সখিনার পুরনো কাঠের সিন্দুকের ওপর রাখা ভাঙা আয়নাটায় রবির নজর গেল। 

আয়নার ঝাপসা পারদে নিজের মুখটাকেই তার আজ বড় অচেনা, এক পশুর মতো লাগছিল। সখিনা প্রদীপের স্তিমিত আলো ছড়াতে চাইলেন না, বরং অন্ধকারের গভীরতাকে আরও বাড়িয়ে দিতে প্রদীপটা ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দিলেন।

 এখন শুধু রইল ঘুটঘুটে অন্ধকার আর তাদের দুজনের গরম নিঃশ্বাসের শব্দ।
সখিনা রবিকে টেনে তার সেই পুরনো, শ্যাওলা-গন্ধী বিছানার এক কোণে বসালেন। বৃদ্ধার শরীর থেকে আসা কটু তামাক আর ন্যাপথালিনের মিশ্রিত গন্ধ রবির নাকে এসে ধাক্কা মারল। 

সখিনা রবির চিবুকটা তার শক্ত আঙুল দিয়ে চেপে ধরে নিজের মুখের কাছে টেনে নিলেন। অন্ধকারেও তার ঘোলাটে চোখ দুটো তীব্র ক্ষুধার আলোয় জ্বলজ্বল করছিল।

"তুই কি ভাবছিস, রবি? যে আমি তোর মা?" সখিনার কণ্ঠস্বর ফিসফিসানি হলেও তা রবির কানের পর্দায় কামড়ের মতো বসল। "হ্যাঁ, আমি তোর মা। কিন্তু তুই যখন জন্মেছিলি, তখন এই শরীরেই তোর অস্তিত্ব ছিল। এই মাংসের ভেতরেই তুই বড় হয়েছিস, এই শরীর থেকেই তুই পৃথিবীতে এসেছিস। সেই আদিম অধিকার কি কোনো পঞ্জিকার নিয়মে মরে যায়, রবি?"



নীতিবোধের চূর্ণবিচূর্ণ রূপ এবং রক্তের আদিম টান



### 
রবি শুকনো ঢোক গিলল। তার তপ্ত কপাল বেয়ে ঘাম ঝরে পড়ছিল। তার মনে পড়ছিল দিনের বেলা মাঠের সেই কাদা মাটির উন্মুক্ত কাজ, যেখানে রোদের আলো আছে, ঘামের পবিত্রতা আছে, আছে পরিশ্রমের স্পষ্ট প্রতিদান। কিন্তু এই অন্দরমহলের বদ্ধ কুঠুরিতে এসে প্রকৃতির সব নিয়ম, সমাজের সব অনুশাসন যেন অর্থহীন, এক নিষিদ্ধ খেলায় পরিণত হচ্ছে।

রবি অত্যন্ত দুর্বল কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল, "মা... তুমি এসব কী বলছ? তুমি তো আমার জন্মদাত্রী।"

সখিনা কোনো অট্টহাসি দিলেন না, বরং এক গভীর, তৃষ্ণার্ত দীর্ঘশ্বাস ফেলে রবির চুলে তার শুকনো আঙুলগুলো চালিয়ে দিলেন। ঘাড়ের কাছে তার নখের আলতো আঁচড় রবির পুরুষালী শরীরে এক নিষিদ্ধ কামনার শিহরণ জাগিয়ে তুলল।

"মা তো শুধু সমাজের দেওয়া একটা ডাকের নাম, রবি। মানুষের শরীরের ক্ষুধা, মাংসের টান তো আর সম্পর্কের শুকনো সংজ্ঞা মানে না," সখিনা রবির কানের লতিটা নিজের ঠোঁট দিয়ে আলতো করে ছুঁয়ে বললেন।

 "তুই যখন মাঠে হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে রাতে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরিস, তখন রানীর ঘরোয়া সেবা আর তোর ভেতরের পুরুষাঙ্গের তীব্র অতৃপ্তি—দুটো এক সুতোয় গাঁথা নয়। রানি তোকে শুধু যত্ন দেয়, কিন্তু তোর ভেতরের বন্য পুরুষটাকে তৃপ্ত করার ক্ষমতা ওর ওই সরল মনে নেই। 

আমি সেটা দেখি, রবি। আমি প্রতিদিন দেখি কীভাবে তুই নিজের ভেতরের বাঘটাকে শাসন করিস।"

রবির বুকের ভেতরটা তখন উত্তাল সমুদ্রের মতো তোলপাড় করছিল। সে ভাবতেও পারেনি যে সখিনা তার ভেতরের অবরুদ্ধ কামনার এতটা গভীরে নজর রেখেছেন। সখিনার হাতের আঙুলগুলো যখন রবির চুলে বিলি কাটতে কাটতে তার ঘাড় থেকে পিঠের দিকে নামছিল, রবি তখন নিজের মনের ভেতরেই এক তীব্র বিভাজন অনুভব করল।

 একদিকে রানীর প্রতি তার সামাজিক ও বৈধ ভালোবাসা, অন্যদিকে এই অন্দরের প্রতিটি কোণে লুকিয়ে থাকা নিষিদ্ধ মাংসের আদিম মোহ।

দরজার ওপাশের ছায়া এবং নিষিদ্ধ সংকেত

***ঠিক সেই মুহূর্তে ঘরের বাইরের অন্ধকার করিডোরে আবার সেই অতি পরিচিত, চতুর পায়ের শব্দ হলো। টুকটুকি। সে হয়তো দরজার পাল্লার ওপাশে কান ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কিংবা হয়তো তাদের প্রতিটি গোপন সংলাপ তার আঠারো বছরের কৌতূহলী মন দিয়ে গিলে খাচ্ছে। 

সখিনা বেগম সেই উপস্থিতি বিন্দুমাত্র গোপন করলেন না, বরং রবির ঘাড়ের কাছে নিজের মুখটা আরও নামিয়ে এনে ফিসফিসিয়ে উঠলেন।
"তোর মেয়েও কম নয়, রবি। আঠারো বছরের ভরা যৌবন নিয়ে সে-ও চিনে গেছে এই বাড়ির বাতাসের স্বাদ কেমন। 

সে-ও তোর ওই চওড়া বুকের মাংসের ছোঁয়া চায়। কিন্তু মনে রাখিস রবি, যা একবার এই কুঠুরির অন্ধকারের ভেতরে আসে, তা বাইরের সূর্যের আলো দেখবে না। এই পাপের স্বাদ তোকে আমাদের দুজনের মাঝেই ভাগ করে নিতে হবে।"

সখিনা হঠাৎ রবিকে ঠেলে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াতে বললেন। তার কণ্ঠে আবার সেই বাড়ির কর্ত্রীর মতো কঠোরতা ফিরে এল। "যা, এবার নিজের ঘরে ঘুমাতে যা। কাল ভোরে মাঠে অনেক কাজ আছে তোর। রানি সকালে উঠে যেন
 দেখে তুই খুব শান্তিতে আছিস, সেটা নিশ্চিত করিস।"

পাপের শয্যা এবং অশুভ সমীকরণ


রবি যখন সখিনার কুঠুরি থেকে বের হয়ে এল, করিডোরে তখন নিকষ কালো, থমথমে অন্ধকার। সে দেখল বারান্দার এক কোণায়, লণ্ঠনের ম্লান আলো-ছায়ার মাঝে টুকটুকি দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার পরনের পাতলা সুতির শাড়িটি বুক থেকে প্রায় খসে পড়েছে, উথাল-পাথাল যৌবনের উন্মুক্ত প্রদর্শন স্পষ্ট। সে রবির দিকে তাকিয়ে তার ভেজা ঠোঁট দুটো কামড়ে ধরে এক বিজয়ী, রহস্যময় হাসি হাসল, যেন সে রবির প্রতিটি মুহূর্তের গতিবিধি, তার ভেতরের প্রতিটি স্খলন গুনে রেখেছে।

রবির হাঁটতে গিয়ে পা কাঁপছিল, তার শরীরের পুরুষত্ব তখন অপরাধবোধ আর নিষিদ্ধ উত্তেজনার এক চরম সংঘাতের মুখোমুখি। সে কোনোমতে রানীর শয়নকক্ষে ফিরে গেল। রানি তখনো গভীর ঘুমে মগ্ন, তার অবিন্যস্ত কালো চুলগুলো বালিশের ওপর ছড়িয়ে আছে, শাড়ির আঁচল সরে গিয়ে তার ফর্সা পেট আর কোমরের অংশটা জেগে আছে।


রবির মনে হলো, সে যেন এক নরকের নিষিদ্ধ আগুনের বোঝা নিয়ে এই পবিত্র শয্যায় পা রাখল। সে রানীর পাশে শুয়েও কোনো শান্তি পেল না। রানি ঘুমের ঘোরে রবির বুকে হাত রাখতেই রবির কানের কাছে বারবার প্রতিধ্বনিত হতে লাগল সখিনার সেই বিষাক্ত কথা—”মানুষের ক্ষুধা সম্পর্কের সংজ্ঞা মানে না।”


গহীন গ্রামের সেই নিঝুম অন্ধকারে রবি চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ার ভান করল ঠিকই, কিন্তু তার মস্তিষ্ক তখনো চলছে এক ভয়ঙ্কর ও অশুভ সমীকরণে। আগামীকাল সূর্য উঠবে, মাঠে সোনার ধান কাটা হবে, কিন্তু রবির এই নিষিদ্ধ অন্দরমহলের জীবনে সেই সকালের আলো কি আদৌ কোনো শুদ্ধতা নিয়ে আসবে, নাকি তাদের সবাইকে এই কামনার চোরাবালিতে আরও গভীরে ডুবি
য়ে দেবে?
..

ষষ্ঠ পর্ব: নিষিদ্ধের চূড়ান্ত দহন ও বাঁধভাঙা লালসা

পরের দিন সকালের সূর্যটা আর দশটা সাধারণ ভোরের মতো আলো ছড়াল না রবির চোখে। কুয়াশা কেটে যে কড়া রোদ মাঠের বুকে আছড়ে পড়ছিল, তা রবির কাছে মনে হচ্ছিল ঈশ্বরের এক জ্বলন্ত চাবুক। বলদের পিঠে জোয়াল চাপিয়ে যখন সে লাঙল টানছিল, ফলার নিচে ওলটপালট হতে থাকা ভেজা মাটি থেকে এক আদিম গন্ধ আসছিল। 

কিন্তু রবির চোখ দুটো মাঠের আইল দেখছিল না; তার চোখের সামনে কেবলই ভাসছিল কাল রাতের সেই বদ্ধ কুঠুরির নিরেট অন্ধকার, সখিনার ন্যাপথালিন মেশানো তপ্ত নিঃশ্বাস আর বারান্দার কোণে দাঁড়ানো টুকটুকির আঁচল-খসা ভরা যৌবনের সেই কুটিল, বিজয়ী হাসি।

সে নিজেকে এই কামনার নরক থেকে বাঁচাতে আজ শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে লাঙল আঁকড়ে ধরল। বলদ দুটোকে নির্মমভাবে তাড়া করল। দ্বিপ্রহরের খাঁ খাঁ রোদে তার চওড়া পিঠ বেয়ে ঘাম চুয়ে চুয়ে মাটির সাথে মিশে যাচ্ছিল। রবি ভাবছিল, শরীরের এই নোনতা ঘাম দিয়ে হয়তো তার মনের ভেতরের জমাট বাঁধা অপরাধবোধকে ধুয়ে মুছে সাফ করে দেওয়া যাবে। কিন্তু মাঠের সেই খাঁ খাঁ নির্জনতায় চিল উড়ার শব্দও যেন তাকে ব্যঙ্গ করে বলছিল—তুই আর পবিত্র নেই, রবি।*


হাত-মুখ ধুয়ে যখন সে জোয়ারদার বাড়িতে পা রাখল, চারপাশের বাতাস আরও মদির আর রহস্যময় ঠেকল। সখিনা বেগম বারান্দার ইজিচেয়ারে আধশোয়া হয়ে তসবিহ টিপছেন, কিন্তু তার বুড়ো আঙুলের প্রতিটি নড়াচড়া যেন রবির স্নায়ুগুলোকে গুনছিল। রান্নাঘরের দাওয়ায় বসে টুকটুকি বঁটি দিয়ে তরকারি কাটছিল। 

শাড়ির হাতাটা কনুই পর্যন্ত গোটানো, যার ফলে তার ফর্সা, নিটোল হাত দুটো রোদে চিকচিক করছিল। রানি তাকে কাজে সাহায্য করার জন্য ডাকছিল। রবি উঠোনে দাঁড়াতেই তার মনে হলো, এই তিন নারী তাকে কেন্দ্র করে এক অদৃশ্য, নিশ্ছিদ্র মাংসের জাল বুনে রেখেছে, যেখান থেকে ছিটকে বের হওয়ার কোনো পথ নেই।

রানি রবির ক্লান্ত, কালচে হয়ে যাওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে মায়ায় গলে গেল।

 "ওগো, শরীরটা খারাপ লাগছে না তো তোমার? মাঠের কড়া রোদে মুখটা বড্ড শুকিয়ে কালি হয়ে গেছে।"

রবি কোনো উত্তর দিতে পারল না। রানির এই সরল, পবিত্র ভালোবাসা এখন তার বুকে তপ্ত সিসার মতো বিঁধছে। সে শুধু একটা শুকনো ঘাড় নেড়ে গামছাটা কাঁধে ফেলে পুকুরঘাটের দিকে পা বাড়াল।


পুকুরঘাটের নিভৃত স্পর্শ ও অবাধ্য যৌবনের হুংকার


##
পুকুরপাড়ের সেই নিঝুম দুপুরে চারদিক স্তব্ধ ছিল। ঘাটের ঘোলা জলের দিকে তাকিয়ে রবি যখন গামছা দিয়ে মুখের ঘাম মুছছিল, ঠিক তখনই পেছনে শুকনো পাতার ওপর আবার সেই নূপুরহীন চতুর পায়ের শব্দ হলো। রানিকে রান্নাঘরে ব্যস্ত রেখে টুকটুকি ঠিকই রবির পিছু পিছু চলে এসেছে।


সে রবির একদম গা ঘেঁষে দাঁড়াল। তার আঠারো বছরের শরীরের ওম রবির পিঠে লাগতেই রবির মেরুদণ্ড বেয়ে একটা গরম স্রোত বয়ে গেল।

"দাদীর সাথে কাল রাতে কী কথা হলো বাবা? বড্ড গুমোট মনে হচ্ছিল দাদীর ঘরটা,"

 টুকটুকি রবির কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিসাল। তার গলার স্বরে আজ কোনো লুকোছাপা ছিল না, ছিল এক উদগ্র, প্রগলভ অধিকার।

রবি পুকুরের জলের দিকে তাকিয়ে নিজেকে শক্ত করার শেষ চেষ্টা করল, 

"তোর দাদী যা বলে তা নিয়ে তোর মাথা না ঘামালেও চলবে। ছোট মানুষ, নিজের কাজে মন দে।"

টুকটুকি খিলখিল করে হেসে উঠল। সেই মদির হাসির সাথে সাথেই সে রবির হাত থেকে ভেজা গামছাটা কেড়ে নিল। তারপর, নিজের তপ্ত, নরম হাতখানা রবির রোদে পোড়া, পেশিবহুল পিঠের ওপর রাখল। তার আঙুলের নখগুলো আলতো করে রবির চামড়ায় বসে যাচ্ছিল।

"তুমি কি দাদীর ওই শুকনো হাড়ের প্রভাবে পড়ছ, বাবা? সে তো বুড়ি হয়ে গেছে, তার কি আর সেই তেজ আছে?" 

টুকটুকি রবির বুকের ওপর নিজের শরীরটা পুরোপুরি চেপে দিল, তার অনাবৃত কোমরের মসৃণ চামড়া রবির কনুইয়ে ঘষা খাচ্ছিল।

 "আমার যা আছে, তা কি তুমি চোখ মেলে দেখতে পাচ্ছ না? আমার এই যৌবনের আগুন কি তোমার বুক শান্ত করতে পারবে না?"

রবি এবার আর টুকটুকির হাত সরিয়ে দিল না। টুকটুকির শরীরের সেই কাঁচা সাবানের তীব্র গন্ধ আর যুবতী ত্বকের উত্তাপ রবির রক্তের সমস্ত বাঁধ ভেঙে দিল। তার ধমনিতে রক্ত এখন সমাজের কোনো নিয়মে নয়, বরং আদিম বন্য কামনার নিয়মে প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। সে বুঝতে পারল, সে আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে না; বরং সজ্ঞানে, স্বেচ্ছায় এই নিষিদ্ধ অন্ধকারের অতল গভীরে তলিয়ে যেতে চাইছে। তাই সে কিছু না বলে টুকটুকি কে ছারিয়ে দ্রুত রুমে চলে আসলো‌ নিজেকে শান্ত করতে।
Reply
#3

নির্জন অন্দরমহল এবং সখিনা বেগমের চূড়ান্ত ফাঁদ


বিকেল গড়ানোর পর পুরো বাড়ি এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতায় ডুবে গেল। রানি অনেকদিন পর টুকটুকিকে নিয়ে পাশের পাড়ার হাটে শাড়ির দোকানে গেছে। রবি নিজের লাঙল-জোয়াল রাখার কাঠের চালাঘরে বসে তামাকের ধোঁয়া ছাড়ছিল। ঠিক তখনই সখিনা বেগমের ঘরের দরজাটা সামান্য ফাঁক হলো।

"রবি... ঘরে আয় বাপ। বাড়িতে কেউ নেই,"

সখিনার শুকনো, সম্মোহনী ডাক রাতের চেয়েও যেন এই নিঝুম বিকেলে বেশি ভয়ঙ্কর শোনাল।
রবির হৃদপিণ্ডটা কামারের হাপরের মতো দ্রুত ওঠানামা করতে লাগল। সে খুব ভালো করেই জানত, রানি আর টুকটুকিকে যাওয়ার  এই সুযোগটা সখিনা অত্যন্ত সচেতনভাবে, এক সুক্ষ্ম চালে তৈরি করেছেন।

রবি মন্ত্রমুগ্ধের মতো পা ফেলে সখিনার কুঠুরিতে ঢুকল। সে ভেতরে ঢুকতেই সখিনা পেছন থেকে ঘরের কাঠের খিলটা তুলে দিলেন।

ঘরের ভেতরের অন্ধকারটা আজ যেন আরও ঘন, আরও কামুক। প্রদীপের আলো ছাড়াই সখিনার ঘোলাটে চোখ দুটো আজ তীব্র লালসার আলোয় জ্বলজ্বল করছিল। তার কুঁচকে যাওয়া চামড়ার ভেতরের আদিম নারীটি আজ সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে রবির সামনে দাঁড়িয়েছে। তিনি রবির দিকে এগিয়ে এলেন, তার থান কাপড়ের আঁচলটা মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল।।

"তুই আমাকে এড়াতে পারবি না, রবি,"

সখিনা রবির শার্টের বোতামগুলো একে একে খুলতে খুলতে ফিসফিস করে উঠলেন। তার ঠাণ্ডা আঙুলগুলো রবির তপ্ত বুকের লোমশ চামড়ায় এক অদ্ভুত কামুক কাঁপন ধরিয়ে দিল।

"আমি তোর জন্মদাত্রী হতে পারি, কিন্তু তোর ভেতরের এই পুরুষ মাংসের প্রতিটি ফোঁটা রক্তের ক্ষুধা আমি চিনি। তুই আমারই সৃষ্টি, আর আজ তোকে আমারই হতে হবে।"

রবি এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে বুঝতে পারল, সে কোনো সাধারণ কৃষক নয়, যে শুধু মাঠে ফসল ফলায়। সে আজ সজ্ঞানে নিজের জীবনের, নিজের সাজানো সংসারের সবচেয়ে বড় সর্বনাশ নিজের হাতেই রোপণ করছে। কিন্তু তার ভেতরের আদিম পুরুষ তখন সমস্ত সামাজিক নীতিবোধ, লোকলজ্জা আর লোকচক্ষুর বাঁধ ছিঁড়ে ফেলেছে। সখিনার সেই শুকনো অথচ তীব্র উত্তেজক শরীরের টানে রবি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না।

সে এক বন্য, অন্ধ আক্রোশে সখিনাকে নিজের চওড়া বুকে টেনে নিল। অন্দরমহলের সেই রুদ্ধ, ভ্যাপসা কুঠুরির বিছানায়, বাইরের পড়ন্ত বিকেলের আলোকে সাক্ষী রেখে, রবির জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার, নিষিদ্ধ এবং রসালো অধ্যায়টির লেলিহান শিখা জ্বলে উঠল।

###

কুঠুরির কোণে রাখা মাটির প্রদীপটা তখনো মৃদু বাতাসে কাঁপছিল। সেই টিমটিমে হলদেটে আলোয় সখিনা বেগমের মুখমণ্ডলের প্রতিটি বলিরেখা যেন এক মায়াবী ও রহস্যময় রূপ ধারণ করেছিল। রবি স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। তার চোখের সামনে বাইরের চেনা পৃথিবীটা ধীরে ধীরে আবছা হয়ে আসছিল, আর মনটা ডুবে যাচ্ছিল সেই দূর অতীতে—যেখানে শুধু ছিল মায়ের আঁচলের ওম আর নিশ্চিন্ত শৈশব।

এক অদ্ভুত, অনাস্বাদিত ঘোরে সে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। সখিনা বেগমের হাতের শীতল অথচ নরম স্পর্শ তাকে যেন এক অদৃশ্য সম্মোহনের মায়াজালে শক্ত করে বেঁধে ফেলেছে, যেখান থেকে মুক্ত হওয়ার কোনো ইচ্ছাই তার ছিল না।


ঘর জুড়ে এক গভীর নীরবতা। সখিনা বেগম অত্যন্ত ধীর লয়ে, পরম যত্নসহকারে নিজের সুতির শাড়ির জীর্ণ আঁচলটি কাঁধ থেকে সরিয়ে দিলেন। প্রদীপের আলো-আঁধারিতে তার উন্মুক্ত বুক যেন এক অন্যরকম মহিমায় ভাস্বর হয়ে উঠল। বয়স বাড়লেও, কালের নিয়মে শরীরে কিছুটা শিথিলতা এলেও, সখিনার অবয়বে মাতৃত্বের সেই আদি ও চিরন্তন পূর্ণতা এখনো যেন অটুট। রবি অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখল—মায়ের বুকের যে অংশটি একদিন তাকে পৃথিবীর আলোয় বেঁচে থাকার প্রাণশক্তি জুগিয়েছিল, আজ তা-ই যেন সময়ের এক অদ্ভুত খেয়ালে এক নিষিদ্ধ মোহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে কোনো কৃত্রিমতা নেই, আছে এক আদিম সত্য।

কোনো দ্বিধা, কোনো সামাজিক সংস্কার বা লোকলজ্জার ভয় রবির মনে তখন দাগ কাটতে পারল না। সে যেন তার সমস্ত প্রাপ্তবয়স্ক সত্তা হারিয়ে ফেলেছে। অত্যন্ত স্বাভাবিক নিয়মে সে মাথা নিচু করল। সখিনা বেগম এক পরম প্রশান্তি ও আশ্বাসে রবির মাথাটি দুহাতে ধরে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরলেন।

রবি যখন সখিনার স্তন তার ওষ্ঠ দিয়ে স্পর্শ করল, ঠিক তখনই এক তীব্র বিদ্যুৎ তরঙ্গ তার মেরুদণ্ড বেয়ে নেমে গেল। তার সারা শরীর কেঁপে উঠল এক অজানা শিহরণে। এটি কেবল আহার বা ক্ষুধার নিবৃত্তি ছিল না; এটি ছিল এক আদিম, আত্মিক ও নিষিদ্ধ তৃপ্তি, যা যুগ যুগ ধরে মানুষের অবচেতনে লুকিয়ে থাকে।

সখিনা রবির চুলে, মাথায় বিলি কেটে পরম মমতায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলেন। তার মনে হলো, তিনি যেন বহুকাল আগে হারিয়ে যাওয়া কোনো এক সোনালী সময়কে আবার এই অন্ধকার কুঠুরিতে ফিরে পেয়েছেন। সখিনার শরীর থেকে প্রসূত সেই চেনা স্নিগ্ধ গন্ধে রবির ভেতরের অস্থিরতা আরও বহুগুণ বেড়ে গেল।
রবি পরম আকুলতায়, তীব্র তৃষ্ণায় স্তন পান করতে লাগল।

মরুভূমির তপ্ত বালুচরে তৃষ্ণার্ত কোনো শিশু যেমন জলের সন্ধান পেলে ব্যাকুল হয়ে ওঠে, রবির অবস্থাও ঠিক তেমন হয়েছিল। সখিনার স্তনযুগল থেকে যে উষ্ণতা ও ওম তার মুখে, তার অস্তিত্বে ছড়িয়ে পড়ছিল, তা তাকে মুহূর্তের মধ্যে সমস্ত জাগতিক ক্লান্তি থেকে মুক্ত করে সেই শৈশবের নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরিয়ে নিয়ে গেল।

সখিনা বেগম তার এক হাত দিয়ে রবির চিবুক আলতো করে ধরে নিজের বুকের সাথে আরও শক্ত করে জড়িয়ে রাখলেন, যাতে রবির এই সুধা পানে বিন্দুমাত্র ব্যাঘাত না ঘটে, যাতে সে এই স্বাদ পূর্ণমাত্রায় উপভোগ করতে পারে। রবির হাত দুটি তখন সখিনার পিঠের ওপর দিয়ে বারবার অবাধ্যের মতো নড়াচড়া করছিল। সে অবচেতনভাবেই সেই পুরনো আরাম, মায়ের পিঠের স্পর্শ আর চিরচেনা নিরাপত্তার অনুভূতিটা আবার নতুন করে নিজের করতলে মেপে নিতে চাইছিল।

কুঠুরির নিস্তব্ধতা ভেঙে সখিনা বেগম ফিসফিস করে বলে উঠলেন,

"ঠিক এভাবেই... ঠিক এভাবেই তুই ছোটবেলায় আমার বুকের ওম খুঁজতি, বাবা। একটু দূরে গেলেই কান্নায় ভেঙে পড়তি। দেখ, আজ এত বছর পরও সেই একই স্বাদ কি এখনো তোর মনে জাগে না?"

সখিনার কণ্ঠস্বরে কোনো অনুশোচনা ছিল না, কোনো পাপবোধের লেশমাত্র ছিল না; বরং সেখানে ঝরে পড়ছিল এক অদ্ভুত, আদিম তৃপ্তি ও অধিকারের সুর। রবি কোনো কথা বলতে পারছিল না, তার মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বেরোনোর উপায় ছিল না। তার সমস্ত মনোযোগ, তার সমস্ত ইন্দ্রিয় তখন সেই স্তন পান করার সুতীব্র ও অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতায় নিমজ্জিত হয়ে পড়েছিল।

তার প্রতিটি চুমুক যেন সখিনার দীর্ঘদিনের অবদমিত, একাকী মাতৃত্বের ক্ষুধা এবং রবির ভেতরের নিঃসঙ্গতার এক নিষিদ্ধ ও অলৌকিক মিলন ঘটিয়ে দিচ্ছিল।

ধীরে ধীরে কুঠুরির ভেতরকার বাতাস ভারী হয়ে উঠছিল। প্রদীপের তেল ফুরিয়ে আসায় আলোটা আরও ম্লান হয়ে আসছিল, যা ঘরের ভেতরের পরিবেশকে আরও বেশি রহস্যময় করে তুলল। বাইরের পৃথিবীর কোলাহল, নিয়ম-কানুন, ভালো-মন্দের বিচার—সবকিছু যেন এই ঘরের দরজার বাইরে এসে স্তব্ধ হয়ে গেছে।

রবির কাছে এটি ছিল এক অলৌকিক পুনর্বাসন। সে তার প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের সমস্ত জটিলতা, দায়বদ্ধতা আর মানসিক যন্ত্রণা ভুলে গিয়ে মায়ের আঁচলের নিচে আশ্রিত এক দুগ্ধপোষ্য শিশু হয়ে উঠেছে। সখিনা বেগম নিবিড় মমতায় রবির পুরো মুখটি নিজের বুকে আগলে রেখেছিলেন। মনে হচ্ছিল, তিনি তার ছেলেকে পৃথিবীর সমস্ত ঝড়-ঝাপটা, রূঢ় বাস্তবতা থেকে বাঁচিয়ে এই নিষিদ্ধ মাতৃত্বের ঘন ছায়ায় চিরতরে লুকিয়ে রাখতে চান।

রবির প্রতিটি চুমুক, তার ঠোঁটের প্রতিটি চাপ সখিনার শরীরে ও মনে এক গভীর শিহরণের সৃষ্টি করছিল, যা মুহূর্তের মধ্যে তাদের বয়সের ব্যবধান, সম্পর্কের সামাজিক সীমারেখাকে ধুয়ে মুছে একাকার করে দিচ্ছিল।

বাইরে তখন ঝিঁঝিঁ পোকারাও যেন তাদের ক্লান্ত ডাক থামিয়ে দিয়েছে। বাঁশঝাড়ের পাতার খসখস শব্দও আর শোনা যাচ্ছিল না। গহীন গ্রামের এই অন্দরমহল এখন সম্পূর্ণ নিথর, নিস্তব্ধ। কেবলমাত্র সেই গোপন কুঠুরির ভেতরে, প্রদীপের শেষ শিখাটুকুর আলোয় তাদের এই নিবিড়, আদিম ও পবিত্র অথচ নিষিদ্ধ চিত্রটি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠছিল।

রবি থামছিল না, তার তৃষ্ণা যেন কিছুতেই মেটার নয়। আর সখিনাও তাকে থামার কোনো ইশারা দিচ্ছিলেন না, বরং আরও নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ধরছিলেন। এই স্তন পানের প্রক্রিয়াটি যেন কেবল শরীরের খেলা ছিল না, এটি ছিল তাদের দুজনের অস্তিত্বের এক গভীরতম ও অন্ধকার সংযোগ স্থাপন, যা বাইরের পৃথিবীর কোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে কখনো কল্পনা করাও সম্ভব নয়।



  পর্ব_৫


কুঠুরির কোণে রাখা মাটির প্রদীপটা তখনো মৃদু বাতাসে কাঁপছিল। সেই টিমটিমে হলদেটে আলোয় সখিনা বেগমের মুখমণ্ডলের প্রতিটি বলিরেখা যেন এক মায়াবী ও রহস্যময় রূপ ধারণ করেছিল। রবি স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। তার চোখের সামনে বাইরের চেনা পৃথিবীটা ধীরে ধীরে আবছা হয়ে আসছিল, আর মনটা ডুবে যাচ্ছিল সেই দূর অতীতে—যেখানে শুধু ছিল মায়ের আঁচলের ওম আর নিশ্চিন্ত শৈশব। এক অদ্ভুত, অনাস্বাদিত ঘোরে সে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। সখিনা বেগমের হাতের শীতল অথচ নরম স্পর্শ তাকে যেন এক অদৃশ্য সম্মোহনের মায়াজালে শক্ত করে বেঁধে ফেলেছে, যেখান থেকে মুক্ত হওয়ার কোনো ইচ্ছাই তার ছিল না।

ঘর জুড়ে এক গভীর নীরবতা। সখিনা বেগম অত্যন্ত ধীর লয়ে, পরম যত্নসহকারে নিজের সন্তান কে তার স্তনে টেনে নিয়েছে। প্রদীপের আলো-আঁধারিতে তার উন্মুক্ত বুক যেন এক অন্যরকম মহিমায় ভাস্বর হয়ে উঠল। বয়স বাড়লেও, কালের নিয়মে শরীরে কিছুটা শিথিলতা এলেও, সখিনার অবয়বে মাতৃত্বের সেই আদি ও চিরন্তন পূর্ণতা এখনো যেন অটুট। 

রবি অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখল—মায়ের বুকের যে অংশটি একদিন তাকে পৃথিবীর আলোয় বেঁচে থাকার প্রাণশক্তি জুগিয়েছিল, আজ তা-ই যেন সময়ের এক অদ্ভুত খেয়ালে এক নিষিদ্ধ মোহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে কোনো কৃত্রিমতা নেই, আছে এক আদিম সত্য।

কোনো দ্বিধা, কোনো সামাজিক সংস্কার বা লোকলজ্জার ভয় রবির মনে তখন দাগ কাটতে পারল না। সে যেন তার সমস্ত প্রাপ্তবয়স্ক সত্তা হারিয়ে ফেলেছে। অত্যন্ত স্বাভাবিক নিয়মে সে মাথা নিচু করে আছে। সখিনা বেগম এক পরম প্রশান্তি ও আশ্বাসে রবির মাথাটি দুহাতে ধরে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরলেন। 

রবি যখন সখিনার স্তন তার ওষ্ঠ দিয়ে স্পর্শ করল, ঠিক তখনই এক তীব্র বিদ্যুৎ তরঙ্গ তার মেরুদণ্ড বেয়ে নেমে গেল। তার সারা শরীর কেঁপে উঠল এক অজানা শিহরণে। এটি কেবল আহার বা ক্ষুধার নিবৃত্তি ছিল না; এটি ছিল এক আদিম, আত্মিক ও নিষিদ্ধ তৃপ্তি, যা যুগ যুগ ধরে মানুষের অবচেতনে লুকিয়ে থাকে। 

সখিনা রবির চুলে, মাথায় বিলি কেটে পরম মমতায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলেন। তার মনে হলো, তিনি যেন বহুকাল আগে হারিয়ে যাওয়া কোনো এক সোনালী সময়কে আবার এই অন্ধকার কুঠুরিতে ফিরে পেয়েছেন। সখিনার শরীর থেকে প্রসূত সেই চেনা স্নিগ্ধ গন্ধে রবির ভেতরের অস্থিরতা আরও বহুগুণ বেড়ে গেল।


রবি পরম আকুলতায়, তীব্র তৃষ্ণায় স্তন পান করতে লাগল। মরুভূমির তপ্ত বালুচরে তৃষ্ণার্ত কোনো শিশু যেমন জলের সন্ধান পেলে ব্যাকুল হয়ে ওঠে, রবির অবস্থাও ঠিক তেমন হয়েছিল। সখিনার স্তনযুগল থেকে যে উষ্ণতা ও ওম তার মুখে, তার অস্তিত্বে ছড়িয়ে পড়ছিল, তা তাকে মুহূর্তের মধ্যে সমস্ত জাগতিক ক্লান্তি থেকে মুক্ত করে সেই শৈশবের নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরিয়ে নিয়ে গেল। সখিনা বেগম তার এক হাত দিয়ে রবির চিবুক আলতো করে ধরে নিজের বুকের সাথে আরও শক্ত করে জড়িয়ে রাখলেন, যাতে রবির এই সুধা পানে বিন্দুমাত্র ব্যাঘাত না ঘটে, যাতে সে এই স্বাদ পূর্ণমাত্রায় উপভোগ করতে পারে।

 রবির হাত দুটি তখন সখিনার পিঠের ওপর দিয়ে বারবার অবাধ্যের মতো নড়াচড়া করছিল। সে অবচেতনভাবেই সেই পুরনো আরাম, মায়ের পিঠের স্পর্শ আর চিরচেনা নিরাপত্তার অনুভূতিটা আবার নতুন করে নিজের করতলে মেপে নিতে চাইছিল।

কুঠুরির নিস্তব্ধতা ভেঙে সখিনা বেগম ফিসফিস করে বলে উঠলেন, 

"ঠিক এভাবেই... ঠিক এভাবেই তুই ছোটবেলায় আমার বুকের ওম খুঁজতি, বাবা। একটু দূরে গেলেই কান্নায় ভেঙে পড়তি। দেখ, আজ এত বছর পরও সেই একই স্বাদ?" 

সখিনার কণ্ঠস্বরে কোনো অনুশোচনা ছিল না, কোনো পাপবোধের লেশমাত্র ছিল না; বরং সেখানে ঝরে পড়ছিল এক অদ্ভুত, আদিম তৃপ্তি ও অধিকারের সুর। রবি কোনো কথা বলতে পারছিল না, তার মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বেরোনোর উপায় ছিল না। তার সমস্ত মনোযোগ, তার সমস্ত ইন্দ্রিয় তখন সেই স্তন পান করার সুতীব্র ও অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতায় নিমজ্জিত হয়ে পড়েছিল। 

তার প্রতিটি চুমুক যেন সখিনার দীর্ঘদিনের অবদমিত, একাকী মাতৃত্বের ক্ষুধা এবং রবির ভেতরের নিঃসঙ্গতার এক নিষিদ্ধ ও অলৌকিক মিলন ঘটিয়ে দিচ্ছিল।
ধীরে ধীরে কুঠুরির ভেতরকার বাতাস ভারী হয়ে উঠছিল। প্রদীপের তেল ফুরিয়ে আসায় আলোটা আরও ম্লান হয়ে আসছিল, যা ঘরের ভেতরের পরিবেশকে আরও বেশি রহস্যময় করে তুলল। বাইরের পৃথিবীর কোলাহল, নিয়ম-কানুন, ভালো-মন্দের বিচার—সবকিছু যেন এই ঘরের দরজার বাইরে এসে স্তব্ধ হয়ে গেছে। রবির কাছে এটি ছিল এক অলৌকিক পুনর্বাসন। সে তার প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের সমস্ত জটিলতা, দায়বদ্ধতা আর মানসিক যন্ত্রণা ভুলে গিয়ে মায়ের আঁচলের নিচে আশ্রিত এক দুগ্ধপোষ্য শিশু হয়ে উঠেছে। 


সখিনা বেগম নিবিড় মমতায় রবির পুরো মুখটি নিজের বুকে আগলে রেখেছিলেন। মনে হচ্ছিল, তিনি তার ছেলেকে পৃথিবীর সমস্ত ঝড়-ঝাপটা, রূঢ় বাস্তবতা থেকে বাঁচিয়ে এই নিষিদ্ধ মাতৃত্বের ঘন ছায়ায় চিরতরে লুকিয়ে রাখতে চান। রবির প্রতিটি চুমুক, তার ঠোঁটের প্রতিটি চাপ সখিনার শরীরে ও মনে এক গভীর শিহরণের সৃষ্টি করছিল, যা মুহূর্তের মধ্যে তাদের বয়সের ব্যবধান, সম্পর্কের সামাজিক সীমারেখাকে ধুয়ে মুছে একাকার করে দিচ্ছিল।

বাইরে তখন ঝিঁঝিঁ পোকারাও যেন তাদের ক্লান্ত ডাক থামিয়ে দিয়েছে। বাঁশঝাড়ের পাতার খসখস শব্দও আর শোনা যাচ্ছিল না। গহীন গ্রামের এই অন্দরমহল এখন সম্পূর্ণ নিথর, নিস্তব্ধ। কেবলমাত্র সেই গোপন কুঠুরির ভেতরে, প্রদীপের শেষ শিখাটুকুর আলোয় তাদের এই নিবিড়, আদিম ও পবিত্র অথচ নিষিদ্ধ চিত্রটি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠছিল। 

রবি থামছিল না, তার তৃষ্ণা যেন কিছুতেই মেটার নয়। আর সখিনাও তাকে থামার কোনো ইশারা দিচ্ছিলেন না, বরং আরও নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ধরছিলেন। এই দুগ্ধ পানের প্রক্রিয়াটি যেন কেবল শরীরের খেলা ছিল না, এটি ছিল তাদের দুজনের অস্তিত্বের এক গভীরতম ও অন্ধকার সংযোগ স্থাপন, যা বাইরের পৃথিবীর কোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে কখনো কল্পনা করাও সম্ভব নয়।



কুঠুরির ভেতরের সেই ঘোর লাগা, আবেশিত মুহূর্তটি তখন তীব্রতার চরম সীমায় পৌঁছেছে। রবি তার শৈশবের সেই হারানো ওম আর আদিম তৃপ্তির নেশায় পুরোপুরি বুঁদ হয়ে আছে; জগতের কোনো নিয়ম, কোনো নীতি তখন তার মগজে কাজ করছে না। সখিনা বেগমও যেন এক অলৌকিক অধিকারের বশে তাকে পরম মমতায় নিজের সমস্ত অস্তিত্বের সাথে মিশিয়ে রাখছেন। 


ঠিক সেই সময়, নিস্তব্ধ রাতের জমাট বাঁধা বাতাসকে চিরে দিয়ে বাড়ির সদর দরজায় একটা মৃদু কিন্তু স্পষ্ট শব্দ হলো।
বাইরের ঘুটঘুটে অন্ধকার বারান্দা থেকে ভেসে এলো টুকটুকির নূপুরহীন পায়ের হালকা আওয়াজ। সে খুব ধীর, সতর্ক পায়ে হেঁটে আসছে, যেন চোরের মতো ওত পেতে থাকা কোনো শিকারী। 

তার এই অসময়ের পদচারণা বলে দিচ্ছিল, সে এই অন্ধকারে কোনো এক সুপ্ত রহস্যের গন্ধ পেয়েছে, কোনো এক নিষিদ্ধ অস্তিত্ব সে আঁচ করতে পেরেছে।

টুকটুকির পায়ের সেই চেনা শব্দ শোনামাত্রই সখিনা বেগমের শরীরের ও হাতের শিহরণ এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। তাঁর মেরুদণ্ড সোজা হয়ে উঠল, কিন্তু তিনি রবিকে নিজের বুক থেকে সরিয়ে দিলেন না। বরং এক অদ্ভুত আদিম হিংস্রতায় রবিকে নিজের বুকের সাথে আরও শক্ত করে, আরও নিবিড়ভাবে জড়িয়ে নিলেন—ঠিক যেভাবে কোনো বাঘিনী তার শাবককে শিকারীর হাত থেকে বাঁচাতে নিজের শরীরের আড়ালে লুকিয়ে ফেলে। 

তিনি যেন তাকে বাইরের চেনা জগতের সমস্ত সামাজিক বিপদ আর লোকলজ্জা থেকে আড়াল করে রাখতে চাইছেন। টুকটুকি এবার বারান্দার ঠিক মাঝখানে এসে দাঁড়াল। সে নিশ্চিতভাবে জানত না এই বন্ধ কুঠুরির ভেতরে এই মুহূর্তে কী ভয়ানক আর অবিশ্বাস্য কাণ্ড ঘটছে, কিন্তু তার সহজাত নারীসুলভ প্রবৃত্তি তাকে তীব্রভাবে জানিয়ে দিচ্ছিল যে, আজ এই বাড়ির অন্দরমহলের আবহাওয়া মোটেও স্বাভাবিক নয়।

টুকটুকি দরজার একেবারে কাছাকাছি এসে খুব নিচু, ফিসফিসে গলায় ডাকল,

 "দাদী? ও দাদী... তুমি কি জেগে আছ?"

ভেতর থেকে সখিনা বেগম কোনো উত্তর দিলেন না, এমনকি তাঁর নিঃশ্বাসের শব্দটুকুও চেপে ধরলেন। তিনি রবির মাথায় শক্ত করে হাত চেপে ধরে ইশারায় তাকে একদম পাথর হয়ে থাকতে বললেন। রবির বুকের ভেতরটা তখন কামারের হাপরের মতো ধড়ফড় করছে; তার মনে হচ্ছিল সেই শব্দের আওয়াজ বুঝি দরজার ওপার পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। 

সখিনা বেগম খুব ভালো করেই জানেন, টুকটুকি যদি এই অবিন্যস্ত, নিষিদ্ধ অবস্থায় তাদের দুজনকে দেখে ফেলে, তবে পরিস্থিতির মোড় যেদিকে ঘুরবে, তা হয়তো এই চেনা পৃথিবীর কোনো নিয়ম দিয়ে আর সামলানো যাবে না। সব ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে। সখিনা অতি সন্তর্পণে, একটুও শব্দ না করে এক হাত বাড়িয়ে প্রদীপের সেই টিমটিমে সলতেটা নিভিয়ে দিলেন। মুহূর্তের মধ্যে পুরো কুঠুরিটি এক নিশ্ছিদ্র, ঘুটঘুটে অন্ধকারে ডুবে গেল। এখন শুধু রইল তাদের দুজনের গরম নিঃশ্বাস আর অন্ধকারের এক নতুন মায়াজাল।

টুকটুকি বারান্দার জীর্ণ কাঠের দরজায় আলতো করে হাত রাখল। কাঠের চেরা ফাঁক দিয়ে সে কি অন্ধকারের আড়ালে কিছু দেখার চেষ্টা করছে? নাকি ভেতরের কোনো গন্ধ তাকে টানছে? তার কণ্ঠস্বরে এবার সন্দেহের সাথে সাথে এক তীব্র অধিকারবোধ ফুটে উঠল, 

"বাবা কি তোমার ঘরে, দাদী? আমি সারা বাড়ি খুঁজেও তাকে ঘরে পাচ্ছি না।"

রবি সেই ঘুটঘুটে অন্ধকারে সখিনার অতি উষ্ণ সান্নিধ্যে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিল। সে স্পষ্ট অনুভব করতে পারছিল সখিনার বুড়ো শরীরের এক গোপন কাঁপুনি, যা ভয়ের চেয়েও বেশি ছিল উত্তেজনার। সখিনা বেগম মুখটা রবির কানের একেবারে কাছে নিয়ে ফিসফিস করে বললেন,

 "একদম চুপ করে থাক। ও যেন কোনোভাবেই টের না পায়। ও বড্ড চতুর।"

বাইরে টুকটুকি যেন দরজার আরও কাছাকাছি আসার চেষ্টা করছে, তার গায়ের সস্তা সুবাস দরজার ফাঁক গলে ভেতরে আসছিল। তার চঞ্চল ও জেদি স্বভাবের কারণে সে ছোটবেলা থেকেই কোনো নিয়ম মানে না। 

সখিনা বেগম অন্ধকারের বুকেই একটা দীর্ঘ ও ভারী শ্বাস ফেললেন। তিনি এবার পরিষ্কার বুঝতে পারলেন, টুকটুকি কেবল কৌতূহলী নয়; সে এখন এক অদৃশ্য, মনস্তাত্ত্বিক প্রতিযোগিতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। রবির ওপর অধিকার নিয়ে সখিনা এবং টুকটুকির মধ্যে এক অঘোষিত, আদিম লড়াইয়ের সূত্রপাত ঘটে গেছে।

 রানি হয়তো ওদিকের বড় ঘরে অঘোরে ঘুমাচ্ছে, কিন্তু এই গহীন বাড়ির অন্দরমহল এখন তিন প্রজন্মের তিন নারীর এক গোপন ও ভয়ঙ্কর যুদ্ধের ময়দান হয়ে উঠছে। রবি তার মায়ের বুকের সেই নিষিদ্ধ উষ্ণতা তীব্রভাবে অনুভব করছিল, কিন্তু বাইরের সেই দরজায় নখের আঁচড় কাটার মতো শব্দের সাথে সাথে তার মনে এক নতুন, হিমশীতল আশঙ্কার উদয় হলো।।

রবি অন্ধকারে সখিনার দিকে তাকানোর চেষ্টা করল। সখিনার সেই বয়েসের কারণে ঝাপসা হয়ে আসা চোখ দুটি যেন এই নিশ্ছিদ্র অন্ধকারেও মার্জারের মতো জ্বলজ্বল করছে। তিনি রবিকে কোনো মূল্যেই ছাড়তে রাজি নন, তাঁর বুকের বাঁধন আরও শক্ত হচ্ছে। রবি এখন এক ভয়ঙ্কর দোটানায়—একদিকে তার মায়ের এই আদিম, নিষিদ্ধ মাতৃত্বের অন্ধ মোহ ও নিরাপদ আশ্রয়, অন্যদিকে তার নিজের মেয়ের সেই উগ্র, চঞ্চল ও নিষিদ্ধ আকাঙ্ক্ষার হাতছানি। অন্দরমহলের এই রুদ্ধশ্বাস, রহস্যময় পরিবেশে এক চরম মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন শুরু হয়ে গেছে, যা যেকোনো মুহূর্তে এক প্রলয়ঙ্করী বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দিতে পারে।

###
পর্ব -৬

দরজার ওপাশে টুকটুকির নড়াচড়া, তার পায়ের খসখস শব্দ আর সেই তীক্ষ্ণ ফিসফিসানি কিছুক্ষণ যাবৎ এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির সৃষ্টি করল। কুঠুরির ভেতরে তখন সময় যেন থমকে দাঁড়িয়েছে। টুকটুকি কয়েকবার ডাকল, তার কণ্ঠস্বরে ছিল এক অদ্ভুত অস্থিরতা—যেন সে দরজার ওপাশে কী ঘটছে তা নিশ্চিত হতে মরিয়া। কিন্তু কুঠুরির ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে, অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর সে অবশেষে হাল ছেড়ে দিল। 

টুকটুকি হয়তো মনে মনে ধন্দে পড়েছিল—তার বাবা কি মাঠের কাজের ক্লান্তিতে কোথাও বসে আছে, নাকি সে নিছকই কোনো ভুল শ
ভাবছে? হতাশ হয়ে, অস্ফুট কোনো বিড়বিড় করতে করতে সে তার নিজের ঘরের দিকে ফিরে গেল। তার পায়ের আওয়াজ ধীরে ধীরে মিলিয়ে গিয়ে যখন সম্পূর্ণ স্তব্ধ হলো, তখন কুঠুরিতে এক গা ছমছমে, একাকী নীরবতা নেমে এল।


সখিনা বেগম যেন এক বিশাল পাহাড়ের ভার বুক থেকে নামালেন। তিনি লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কুঠুরির অন্ধকার বাতাসকে কাঁপিয়ে দিলেন। তিনি রবিকে ছাড়লেন না, বরং আরও কিছুক্ষণ তাকে নিজের বুকের সাথে শক্ত করে আগলে রাখলেন—যেন এক প্রলয়ঙ্করী ঝড় পেরিয়ে তারা সবেমাত্র তীরে ভিড়েছে। রবির শরীরের উত্তেজনা তখনও পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি, তার হৃদপিণ্ড তখনও বুকের পাঁজরে আঘাত করছে। টুকটুকির উপস্থিতি তাকে এক ধরনের তীব্র সতর্কবার্তা দিয়ে গেছে; সে বুঝতে পারছে, তাদের এই নিষিদ্ধ আস্তানা যেকোনো মুহূর্তে তাসের ঘরের মতো ধসে পড়তে পারে। 

সখিনা অবশেষে তাকে মুক্তি দিলেন, কিন্তু তাঁর হাতের স্পর্শে তখনও এক অদ্ভুত মমতা, অধিকার আর বিষাক্ত ভালোবাসার ছোঁয়া মিশে ছিল। তিনি রবির চিবুক ছুঁয়ে ফিসফিস করে বললেন, "কাল আবার আসবি। বাইরের দুনিয়া বা ওই টুকটুকি—কেউই আমাদের এই পবিত্র বাঁধন ছিঁড়তে পারবে না। এটা আমাদের গোপন স্বর্গ, রবি।"


রবি কোনো কথা না বলে, কোনো প্রতিধ্বনি না তুলে ধীর পায়ে কুঠুরি থেকে বেরিয়ে এল। বাড়িটা তখন নিঝুম, যেন কোনো প্রাচীন কবরের মতো নীরব। টুকটুকির ঘরের দিকে তাকিয়ে দেখল, সেখানে আলো জ্বলছে না। সে কি ঘুমিয়ে পড়েছে, নাকি অন্ধকারে ওত পেতে বসে আছে? 

রানি নিজের ঘরে নিশ্চিন্তে আছে, এক অজানা সংসারের মায়া তাকে এই অন্দরমহলের বিষাক্ত খেলা থেকে দূরে রেখেছে। পরিস্থিতি আপাতদৃষ্টিতে স্বাভাবিক মনে হলেও, রবির প্রতিটি পদক্ষেপে ছিল এক তীব্র অপরাধবোধের কাঁটা। 

বারান্দায় গিয়ে বসল সে। শরীরের ঘাম মুছে বাইরের শীতল খোলা বাতাসে নিজেকে কিছুটা সামলে নেওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু বাতাস তাকে শান্তি দিল না, বরং সেই নিঃসঙ্গতায় সখিনার শরীরের গন্ধ তাকে তাড়া করে ফিরল। কিছুক্ষণ পর, ধুঁকতে থাকা অস্তিত্ব নিয়ে সে চুপিচুপি বাড়ির মূল ফটক খুলে গ্রামের সরু মেঠো পথের দিকে হাঁটা দিল।


চারদিকে ঘন অন্ধকার নেমে এসেছে এই রাতে। ভোরের আলো ফুটতে অনেক অনেক দেরি। গ্রামের একমাত্র দোকানটি তখনও খোলা, হয়তো কোনো নেশাখোর বা দেরি করে ফেরা কোনো পরিশ্রান্ত চাষীর অপেক্ষায় দোকানি অপেক্ষা করছে। 

রবি দোকানের সেই পুরনো বেঞ্চে বসল। দোকানি এক কাপ কড়া লিকারের চা এগিয়ে দিল। চায়ের কাপে চুমুক দিতেই ধোঁয়া ওঠা সেই তেতো স্বাদ রবির মস্তিষ্ককে কিছুটা স্বচ্ছ করল, কিন্তু মনের দহন বাড়ল।

সে বসে বসে ভাবল, গত কয়েক ঘণ্টায় তার সাথে ঠিক কী ঘটে গেল? সখিনা বেগমের সেই মাতৃত্বের আড়ালে লুকিয়ে থাকা নিষিদ্ধ কামনার দাবদাহ আর তার নিজের আদিম তৃষ্ণা—সবকিছু কি সত্যি, নাকি কোনো দুঃস্বপ্ন? না, সেটা স্বপ্ন ছিল না। কিন্তু সামনে কী অপেক্ষা করছে? 

টুকটুকি কি সন্দেহ করতে শুরু করেছে, সেটা এক বিরাট বিপদের সংকেত নিয়ে কি তার জীবনে এগিয়ে আসছে। সখিনা আর টুকটুকির মধ্যে রবির ওপর অধিকার নিয়ে যে অদৃশ্য দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে, তা এই শান্ত গ্রাম্য পরিবারটিকে তাসের ঘরের মতো তছনছ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

রবি চায়ের কাপটা দুই হাতে ধরে কাঁপতে লাগল। সে কি নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে? সে তো ছিল মাটির মানুষ, যে মাটির সাথে সম্পর্ক রেখে বেঁচে থাকে, ঋতু মেনে চাষ করে। কিন্তু আজ সে নিজেই নিজের জীবনের জমিতে ধ্বংসের বীজ বুনেছে। 

সখিনার সাথে সেই নিবিড় মুহূর্তের স্মৃতি তাকে এক অদ্ভুত পুলকে শিহরিত করছিল, আবার পরক্ষণেই টুকটুকির সেই তীক্ষ্ণ চাহনি আর সন্দেহ তাকে দংশন করছিল।

গ্রামের দূরের জঙ্গল থেকে শেয়ালের এক দীর্ঘ ও করুণ ডাক শোনা যাচ্ছে। রবি বুঝল, এই নিষিদ্ধ মায়ার জালে সে যত গভীরে যাচ্ছে, ফিরে আসার পথ ততটাই সংকীর্ণ হয়ে আসছে। সে এক কাপ চা শেষ করে দ্বিতীয় কাপের জন্য দোকানিকে ইশারা করল। রাতের এই নিস্তব্ধতায় রবি যেন নিজের ধ্বংসের আয়নায় নিজেকেই নতুন করে দেখছিল। 

সখিনার সেই বুকের ওম তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে, আর অন্যদিকে টুকটুকি যেন শিকারী বিড়ালের মতো অপেক্ষায় আছে—কখন তারা ভুল করবে, আর কখন তাদের সেই গোপন খেলাটি চুরমার হয়ে যাবে। প্রতিটি সেকেন্ড এখন এক একটি বারুদের মতো, যা যেকোনো সময় ফেটে পড়তে পারে।


 
Reply
#4

 
এপিসোড : ৫

… …

দোকান থেকে ফিরে রবি যখন নিঝুম ঘরের দরজায় পা রাখল, তখন মধ্যরাতের চাঁদের আলো জানালার জীর্ণ ফাঁক দিয়ে বিছানায় এসে পড়েছে, যেন রুপালি কোনো মায়াবী জাল বিছানো। হারিকেনের ক্ষীণ, কাঁপতে থাকা আলোয় সে দেখল, রানি বিছানায় অঘোরে ঘুমাচ্ছে। তার পরনের সুতির শাড়িটা হাঁটুর ওপর পর্যন্ত অগোছালো হয়ে আছে, যা রানীর নগ্ন পায়ের মসৃণ সৌন্দর্যকে হারিকেনের আলোয় আরও রহস্যময় ও মোহময় করে তুলেছে। 

মাঠের রোদে পোড়া ক্লান্তিকে ছাপিয়ে রবির মনের গহীনে তখনো কুঠুরির সেই রেশ রয়ে গেছে। সখিনার সাথে কাটানো সেই নিষিদ্ধ মুহূর্তের তীব্র স্মৃতি, সেই মাতৃত্বের গন্ধ তার পৌরুষকে এমনভাবে উদ্দীপ্ত করেছিল যে, রানীর উপস্থিতি তাকে মুহূর্তেই এক প্রবল কামনার জোয়ারে ভাসিয়ে দিল।
রবি বিছানার পাশে এসে বসল। রানীর শরীরের প্রতিটি ভাঁজ, প্রতিটি বাঁক তাকে যেন নিভৃতে হাতছানি দিয়ে ডাকছিল। সে আর নিজেকে সামলাতে পারল না; তার ভেতরের আদিম সত্তা তখন লাগামহীন। 

রবির হাত যখন রানীর শরীরে স্পর্শ করল, রানি কিছুটা আড়ষ্ট হয়ে নড়েচড়ে উঠল। কিন্তু রবি তাকে আর কোনো সময় দিল না। সে কোনো কথা না বলে রানীর শরীরের ওপর ঝুঁকে পড়ল। রানি ঘুমচোখে কিছুটা অবাক হলেও, স্বামীর এই আকস্মিক আবেগে , চিরচেনা নিয়মে স্বামীর এই ছোয়া, এই অকাল যৌবনউচ্ছ্বাসে সে অবশ হয়ে সাড়া দিল সন্তুষ্ট করতে।

কিন্তু রবির কল্পনার জগত তখন এই কুঠুরি থেকে অনেক দূরে। রানিকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরার সময় রবি চোখ বন্ধ করল, যেন সে কোনো ঘোর থেকে বাস্তবতাকে মুছে দিতে চাইছে। সে বারবার কল্পনা করার চেষ্টা করল যে, তার নিচে রানি নয়, বরং সখিনা বেগম শুয়ে আছেন। সখিনার সেই গভীর মমতা, সেই দীর্ঘদিনের জমাট বাধা মাতৃত্বের গন্ধ আর সেই নিষিদ্ধ সাহচর্য রবির মনে এক তীব্র নেশা ধরিয়ে দিল।

 সে রানিকে আদর করার সময় বারবার সখিনার সেই কুঠুরির কথা মনে করছিল, তার প্রতিটি চুম্বনে ছিল এক উন্মত্ততা—যেন সে রানীর দেহের প্রতিটি বাঁকে তার মায়ের সেই হারানো যৌবনকে খুঁজে পেতে চাইছে। রানি বুঝতে পারল না কেন আজ রবির স্পর্শে এত তাড়াহুড়ো, এত দহন।

দরজার বাইরে, বারান্দার অন্ধকার ছায়ার আড়ালে পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে ছিল টুকটুকি। সে এতক্ষণ ধরে একদৃষ্টে সবকিছু দেখছিল। অন্ধকার করিডোরের শীতলতা তার শরীরে লাগলেও, তার ভেতরের আগুন ছিল অন্যরকম। তার চোখ জোড়া রবির প্রতিটি নড়াচড়া, প্রতিটি অঙ্গভঙ্গি খুঁটিয়ে দেখছিল। বাবার পৌরুষদীপ্ত দেহ আর মায়ের প্রতি সেই উগ্র আচরণ টুকটুকির ভেতর এক আগ্নেয়গিরির দাহন সৃষ্টি করল। সে দেখল কীভাবে তার বাবা রানীর ওপর ঝুঁকে পড়ছে, কীভাবে তাকে জড়িয়ে ধরে আছে। এই দৃশ্য দেখে টুকটুকির শরীরের ভেতর দিয়ে এক অদ্ভুত, কাঁপুনি দেওয়া অস্থিরতা বয়ে গেল।

সে নিজের হাত নিজের বুকের ওপর রাখল। নিজের আঙুল দিয়ে সজোরে নিজের স্তন টিপতে লাগল টুকটুকি। তার শরীরের প্রতিটি শিরায় তখন রবির প্রতি এক তীব্র, অপ্রতিরোধ্য আকর্ষণ। তার মনে হচ্ছিল, বাবার এই শরীরের দখল একমাত্র তারই হওয়া উচিত; রানীর শরীরটা যেন একটা অবৈধ অন্তরায়। রানীর জায়গায় নিজেকে কল্পনা করে সে এক দীর্ঘশ্বাস ফেলল। বাবার এই কামনার আগুন যেন তাকে ভেতর থেকে পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছে। সে এক অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে দাঁড়িয়ে, নিজের শরীরের তীব্রতা টের পেয়ে নিজের কামনার শিখাকে আরও বাড়িয়ে তুলল, যেন সেও অংশীদার হতে চায় সেই নিষিদ্ধ খেলার।


একসময় রবির সেই উত্তাল সঙ্গম শেষ হলো। ঘর নিস্তব্ধ হয়ে এল, কেবল ঘড়ির কাঁটার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। রবি ক্লান্ত হয়ে রানীর পাশেই শরীর এলিয়ে দিল, যেন দীর্ঘ এক যুদ্ধের পর সে পরাজিত সৈনিক। দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে টুকটুকি তখন এক চরম ক্লান্তি আর হতাশায় নুয়ে পড়েছে। তার কামনার উত্তেজনা আর একাকীত্বের জ্বালায় সে বিধ্বস্ত। সে ধীর পায়ে, নিঃশব্দে নিজের ঘরের দিকে ফিরে গেল। বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে সে ভাবল, যেদিন সে তার বাবাকে পুরোপুরি নিজের করে পাবে, যেদিন রানীর অস্তিত্ব মুছে গিয়ে শুধু তারাই অবশিষ্ট থাকবে, সেদিনই হয়তো তার এই অতৃপ্ত আত্মা শান্তি পাবে। এই অন্দরমহলের গুমোট, রহস্যময় আবহ যেন তাকে আর ঘুমাতে দিচ্ছে না; প্রতিটা নিঃশ্বাস যেন নতুন কোনো ষড়যন্ত্রের ইশারা নিয়ে আসছে।

ভোরের আলো ফোটার আগেই রবির ঘুম ভাঙল। তারপর সকালে খেয়ে দেয়ে তার জীবনের নিয়ম অনুযায়ী মাঠের কাজে পা বাড়ালো। ভোরের সেই ধূসর কুয়াশা তখনও মাঠের ওপর চাদরের মতো বিছানো। আজ রবি একা নয়, সাথে আছে টুকটুকিক। রানীর মৃদু আপত্তি ছিল—মেয়েমানুষের মাঠে যাওয়ার প্রয়োজন কী? কিন্তু টুকটুকির অদম্য ও কিছুটা জেদি ইচ্ছার কাছে তাকে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হলো। ভোরের কুয়াশাভেজা মেঠো পথ দিয়ে বাপ-বেটি যখন মাঠের দিকে পা বাড়াল, তখন চারপাশটা ছিল এক রহস্যময়, জমাট বাঁধা নীরবতায় ঢাকা। 

টুকটুকির পরনে ছিল শক্ত করে বাঁধা শাড়ি, তার প্রতিটা পদক্ষেপ আর চঞ্চলতায় যেন গ্রামের সেই নিথর বাতাসও আন্দোলিত হয়ে উঠছিল।
মাঠে পৌঁছে রবি লাঙল আর জোয়াল গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। সকালের রোদ তখনো দিগন্তরেখায় ফুটে ওঠেনি। টুকটুকি তাকে সাহায্য করার অছিলায় রবির খুব কাছে ঘেঁষে কাজ করছিল। রবির পেশিবহুল শরীরের প্রতিটি নড়াচড়া, তার ঘর্মাক্ত পিঠের টানটান উত্তেজনা সে এক নিবিড় ও ক্ষুধার্ত পর্যবেক্ষণে রাখছিল। 

কাজ করতে করতে টুকটুকি হঠাৎ কোনো ভূমিকা ছাড়াই বলল, "বাবা, কাল রাতে কুঠুরির দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে যা দেখেছি, তা কি তুমি ভেবে দেখেছ?"

রবি যেন বজ্রাহত হলো। সে চমকে উঠে মেয়ের চোখের দিকে তাকাল। টুকটুকির চোখে তখন এক অদম্য, আদিম ও চঞ্চল চাহনি, যা একজন কন্যার চোখে থাকার কথা নয়। সে রবির কানের খুব কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল, "মা তোমাকে অনেক আদর করে, আমি জানি। কিন্তু মা তো তোমার মনের সেই গভীরের ক্ষুধাটা কোনোদিনও মেটাতে পারবে না। তোমার শরীরের প্রতিটি শিরায় যে আগুন জ্বলছে, তা কি মা বোঝে?" 

রবি কোনো কথা খুঁজে পেল না। সে মাটির দিকে তাকিয়ে মাটির ডেলা ভাঙতে লাগল, কিন্তু তার বুকের ভেতরটা তখন ধড়ফড় করছিল এক অজানা বিপদের আশঙ্কায়।

দুপুরের কড়া রোদ যখন মাথায় উঠল, তখন রানি মাঠের আইল ধরে মাথার ওপর খাবারের পুঁটলি নিয়ে এল। তার পরনে ছিল সাধারণ সুতির শাড়ি, কিন্তু দীর্ঘদিনের সংসারের কঠোর শ্রমেও তার শরীরটা যেন সজীব ও ঋজু। রানি যখন গাছের ছায়ায় খাবার সাজিয়ে রাখছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে টুকটুকি আর রবির মধ্যে এক অদ্ভুত, অস্বস্তিকর নাটক শুরু হলো। 

রানি রান্নার পাতিল সামলাতে ব্যস্ত, আর টুকটুকি তখন রবির ঠিক কোলের কাছে এসে বসল। রবির শার্টের বোতাম নিয়ে খেলতে শুরু করল সে, যেন এটি খুবই স্বাভাবিক কোনো দৃশ্য।
টুকটুকি রবির পায়ে পা ঘষে ফিসফিস করে বলল, 

"মা কি জানে, তার স্বামী আজ কতটা উদভ্রান্ত হয়ে আছে? মা তো শুধুই সংসার বোঝে, ভাত-কাপড়ের হিসেব বোঝে। কিন্তু আমি... আমি তোমার শরীরের ভাষা বুঝি, বাবা।" 

টুকটুকি তার হাত অতি কৌশলে রবির উরুর কাছে নিয়ে গেল, যা রানীর চোখের আড়ালে ছিল। সে এমন এক কামনার দৃষ্টিতে রবির দিকে তাকাল যে, রবির দমবন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হলো। লজ্জায় নয়, বরং এক তীব্র নিষিদ্ধ আকর্ষণে।

রানি খাবার পরিবেশন করতে করতে বলল, "কিরে টুকটুকি, অমন করছিস কেন? ঠিকমতো খেতে বস, অমন বাপের গায়েলেপ্টে থাকিস কেন?"


রানি তার সহজাত সরলতায় কিছুই বুঝতে পারল না। সে কেবল দেখল, তার মেয়ে বাবার কাছে বসে দুষ্টুমি করছে। কিন্তু রানীর অগোচরে টুকটুকি রবির কানের কাছে মুখ নিয়ে আরও নিচু, আরও তীক্ষ্ণ স্বরে বলল,

 "মা চলে গেলেই তোমাকে কিছু দেখাব, বাবা। গত রাতে অন্ধকারে যা দেখেছি, তার চেয়েও অনেক বেশি সাহসী কিছু।

রবি অবাক হলো, এই মেয়ের এতো সাহস দেখাচ্ছে, অথচ বাবা হয়ে আমি তাকে শাসন করতেও পারছি না?

এসব ভাবতে ভাবতেই মাথা নিচু করে খাওয়া শুরু করলো, আর টুকটুকি কে বললো।

“সেই সকালে এসেছিস মা! এবার ভাত খা।”

রানি তৃপ্ত মনে তাদের খেতে দেখে কিছুটা দূরে পানির কলসটি ধুতে গেল। রানীর পিঠ ঘুরতেই টুকটুকি রবির হাতের মুঠোয় তার হাতটি রাখল। সেই স্পর্শে এক নিষিদ্ধ বিদ্যুতের শিহরণ রবির সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ল। রবি অনুভব করল, সে রানীর সাথে থাকলেও, তার নিজের রক্তেই বেড়ে ওঠা এই মেয়ের তীব্র আকর্ষণ তাকে এক নতুন, অন্ধকার গহ্বরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে—যেখানে কোনো নীতি নেই, আছে শুধু এক অবদমিত ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ।

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামল। আকাশের বুক জুড়ে তখন রক্তিম আভা, আর গ্রামবাংলার প্রকৃতি যেন এই নিষিদ্ধ সম্পর্কের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। কাজ শেষে রবি, রানি আর টুকটুকি যখন বাড়ির দিকে ফিরছিল, রানি তার স্বামীর কাঁধে হাত রেখে হেঁটে চলল, যেন সে এক সুখী ও আদর্শ সংসারের প্রতিনিধি। কিন্তু ঠিক তার পাশেই টুকটুকি রবির অন্য হাতটি শক্ত করে ধরে ছিল, যেন সে রানীর অধিকারের সাথে পাল্লা দিচ্ছে। 

অন্দরমহলের সেই অন্ধকার কুঠুরির স্মৃতি আর খোলা মাঠের এই টানাপোড়েন—রবি নিজেকে আবিষ্কার করল এক গভীর ও বিপজ্জনক রহস্যের মাঝখানে, যেখান থেকে ফিরে আসার পথ ক্রমশই দুর্গম হয়ে উঠছে।



সন্ধ্যার হালকা কুয়াশায় গ্রামটা আজ উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছে। দূরে ঢোলের অশুভ কিন্তু উন্মাদনা জাগানো আওয়াজ আর বাঁশির করুন সুর বাতাসের সাথে মিশে গ্রামটিকে এক মায়াবী ও রহস্যময় রূপ দিয়েছে। বাড়ির দাওয়ায় বসে রবি ক্লান্ত শরীরে পা ঝাড়া দিচ্ছিল, সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনিতে তার শরীর যেন এক টুকরো পাথর হয়ে গেছে। ঠিক সেই সময় টুকটুকি ঘরে প্রবেশ করল। 

তার চলনে এক অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস, চোখেমুখে এক অবাধ্য আবদার—যেন সে আজ কোনো এক অশুভ বিজয়ের সন্ধানে বেরিয়েছে।

"বাবা, আজ গ্রামের মাঠে মেলা বসেছে! কত মানুষ যাচ্ছে, আলো জ্বলছে—চলো না আমরাও একটু ঘুরে আসি," টুকটুকি রবির কোলের একদম কাছে বসে মিনতি করল। তার গলার স্বরে এক অদ্ভুত মাদকতা ছিল, যা রবির ক্লান্ত স্নায়ুগুলোতে মৃদু স্পন্দন তুলল।

রবি ক্লান্ত গলায় মাথা নাড়ল, "না টুকটুকি মা আমার, আজ আর পারবো না । সারাটা দিন রোদে পুড়ে যা শরীর হয়েছে, তাতে আর হাঁটার বিন্দুমাত্র শক্তি নাই। তুই বরং বাড়িতেই বিশ্রাম নে, না হলে শরীর খারাপ হবে।"

কিন্তু টুকটুকি দমে যাওয়ার পাত্রী নয়। সে জানে, এই মেলার ভিড়ে, মানুষের কোলাহলে রবিকে পাওয়া তার জন্য কতটা সুযোগ তৈরি হয়ে আছে। সে রবির শার্টের হাতায় হাত রেখে, অতি আদুরে ভঙ্গিতে বলল, 

"তুমি না গেলে আমার একদম ভালো লাগবে না, বাবা। সবাই যাচ্ছে, আর আমরা শুধু ঘরে বসে থাকব? আমার অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল তোমার সাথে মেলায় যাব।"

রবি যখন তার সিদ্ধান্তে অটল, তখন টুকটুকি তার ধূর্ততার জাল বুনল। সে রানীর কাছে গিয়ে বিড়বিড় করে কী যেন বলল—মিথ্যে নয়, যেন এক নিখুঁত অভিনয়। একটু পরেই রানি বেরিয়ে এল, তার মুখ উজ্জ্বল, কোনো সন্দেহ নেই তার মনে। 

"ওগো শুনছো? মেয়েটা কতদিন ধরে মেলার কথা বলছে, যাও না একটু ঘুরে আসো। ও একা একা তো আর যেতে পারে না, আর আমিও তো সারাদিন সংসারে ব্যস্ত। তুমি ওর সাথে থাকলে আমারও মনটা একটু শান্ত থাকবে, মেয়েটাও একটু আনন্দ পাবে।"

রানির এই সরল বিশ্বাস ও অনুরোধের কাছে রবি শেষ পর্যন্ত হার মানল। রানীর অন্ধ বিশ্বাস, স্বামী আর মেয়ে একসাথে মেলায় গেলে তারা দুজনেই আনন্দ পাবে। রবি অনিচ্ছাসত্ত্বেও রাজি হলো। প্রস্তুতি নিতে নিতে টুকটুকির চোখে তখন এক অদ্ভুত বিজয়ের হাসি চিকচিক করে উঠল। সে যেন শিকারের খুব কাছে পৌঁছে গেছে।

মেলায় পৌঁছাতেই আলোর ঝলকানি আর মানুষের ভিড় চোখ ধাঁধিয়ে দিল। জিলাপির মিষ্টি গন্ধ, কাঠের পুতুলের সারি, আর বাঁশির আওয়াজে মেলা যেন এক জীবন্ত প্রাণীর মতো ধুঁকছে। ভিড়ের চাপে টুকটুকি রবির একদম গা ঘেঁষে হাঁটতে লাগল। জনস্রোতের ধাক্কায় টুকটুকি যেন রবির ওপর বারবার আছড়ে পড়ছে, আর প্রতিটি স্পর্শে সে নিজের শরীরকে রবির শরীরের সাথে মিশিয়ে দেওয়ার এক সূক্ষ্ম কৌশল অবলম্বন করছে।

মেলার এক নির্জন কোণে, যেখানে ভিড় কিছুটা কম, টুকটুকি রবির হাতটি অত্যন্ত শক্ত করে ধরল। "বাবা, এত ভিড়! তোমার হাতটা না ধরলে আমি হারিয়ে যাব, আর তোমাকে ছাড়া আমি এই মেলায় দিশাহারা।"

রবি কোনো প্রতিবাদ করল না, সে তার হাতের আঙুলগুলো টুকটুকির আঙুলের সাথে একাত্ম করে দিলো। টুকটুকির শরীরের উষ্ণতা মেলা প্রাঙ্গণের এই ভিড়কে যেন রবির কাছে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তুলল। ভিড়ের সুযোগ নিয়ে টুকটুকি রবির কানের কাছে মুখ এনে, উষ্ণ নিঃশ্বাস ছেড়ে ফিসফিস করল, "এখন কি তুমি আমাকে একটু নিজের মতো সময় দেবে, বাবা? মেলা দেখার চেয়েও কি অন্য কোনো আনন্দ নেই?"

টুকটুকির এই সাহসী, উন্মুক্ত পদক্ষেপ রবিকে স্তম্ভিত করে দিল। মেলার কোলাহলের আড়ালে টুকটুকি যেন রবির মনের সেই নিষিদ্ধ কোণটিকে সরাসরি আঘাত করল, যা রবি এতদিন অবদমিত করে রেখেছিল। রবি লক্ষ্য করল, টুকটুকি আজ নিজের শাড়ির আঁচলটাও এমনভাবে গুছিয়ে রেখেছে, যা তার উঠতি যৌবনকে আরও প্রকট ও আকর্ষণীয় করে তুলছে।

সে যেন তার বাবার পৌরুষকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। রবির মনে হলো, সে এক অশুভ পরিকল্পনার ফাঁদে পা দিচ্ছে, কিন্তু তার রক্তে তখন এক তীব্র উত্তেজনা। মেলায় চারিদিকে হাজার হাজার মানুষ, অথচ এই মুহূর্তে রবি আর টুকটুকির মাঝে যে সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে, তা যেন গোটা জগতের নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। রানি তখনো জানত না, তার স্বামী আর তার নিজের সন্তানই আজ এমন এক নিষিদ্ধ খেলার মঞ্চ সাজিয়েছে, যার কোনো ফেরার পথ নেই। রবি দেখল, টুকটুকির চোখের চাহনিতে আজ কোনো লজ্জা নেই, আছে কেবল রবির প্রতি এক অদম্য, নিষিদ্ধ আদিম অধিকার।


মেলার উত্তাল জনস্রোত। চারপাশে নাগরদোলার যান্ত্রিক আওয়াজ, বাঁশির সুর আর মানুষের কোলাহলের এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ। রবির পাশে হাঁটতে হাঁটতে টুকটুকির চোখগুলো যেন মেলার প্রতিটি উজ্জ্বল রঙ শুষে নিচ্ছিল। তার পরনে হালকা নীল রঙের সুতির শাড়ি, যা বাতাসে মৃদু উড়ছে। ভিড় ঠেলে তারা যখন গয়নার দোকানের সামনে পৌঁছাল, টুকটুকি থমকে দাঁড়াল। কাঁচের ভেতরে রাখা এক সেট কাঁচের চুড়ির দিকে তার অপলক দৃষ্টি। সেই চুড়িগুলোর রঙ ঠিক যেন শরতের আকাশের মতো গাঢ় নীল।

রবি কোনো দ্বিধা করল না। দোকানদারকে ডেকে চুড়িগুলো বের করতে বলল। টুকটুকির ফর্সা কবজিটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে রবি যখন চুড়িগুলো পরাতে লাগল, তখন তাদের মাঝে এক অস্বস্তিকর নীরবতা। চুড়ি পরানোর সময় রবির প্রতিটি আঙুলের স্পর্শ টুকটুকির কবজিতে এক বৈদ্যুতিক শিহরণ জাগিয়ে তুলছিল। এরপর এল ঝুমকো কানের দুল আর রুপোর পায়েল। পায়েল পরাতে গিয়ে রবি যখন নিচু হলো, টুকটুকির পায়ের নূপুরের শব্দ আর রবির নিঃশ্বাসের শব্দ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল। 

টুকটুকি রবির চোখের দিকে তাকিয়ে এমন এক লাজুক অথচ অর্থবহ হাসি দিল, যাতে কেবল মমতা ছিল না, ছিল রবির অস্তিত্বের ওপর নিজের একচ্ছত্র অধিকারের ঘোষণা। রবি নিজেকে আর সামলাতে পারল না, সেই উপহারের মাঝে সে কেবল মেয়ের আবদার পূরণ করছিল না, বরং নিজের ভেতরের এক অদম্য কামনার ইন্ধন জোগাচ্ছিল।

মেলা ঘোরার এক পর্যায়ে টুকটুকি হঠাৎ বায়না ধরল নাগরদোলায় চড়ার। মেলার ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল নাগরদোলাটি তখন আকাশে মাথা ছুঁইছুঁই করছে। রবি প্রথমে একটু ইতস্তত বোধ করলেও টুকটুকির জেদি আর উজ্জ্বল মুখের দিকে তাকিয়ে না বলতে পারল না। তারা নাগরদোলার একটি ছোট বগিতে গিয়ে বসল। বগিটি সংকীর্ণ, দুইজনের শরীরের মাঝে জায়গা প্রায় নেই বললেই চলে। দোলাটি যখন নড়তে শুরু করল, টুকটুকি রবির সাথে গা ঘেঁষে সেঁটে বসল।

 বগিটি উপরে ওঠার সাথে সাথে নিচের পৃথিবীটা ক্রমশ ছোট হয়ে আসছিল।
যত উপরে উঠছে, বাতাসের ঝাপটা তত তীব্র হচ্ছে। টুকটুকির চুলগুলো রবির মুখে এসে বারবার আছড়ে পড়ছিল। দোলাটি একবার ঝুলে পড়তেই টুকটুকি রবির শরীরকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরল। রবির হৃদস্পন্দন তখন বুকের ভেতর ধকধক করছে। টুকটুকির নরম শরীরের প্রতিটি ভাঁজ রবির শরীরের সাথে ঘষটানোর ফলে রবির পুরুষাঙ্গ উত্তেজিত হয়ে লুঙ্গির নিচে ফুলে উঠতে শুরু করল। টুকটুকির হাতটা রবির কোমর থেকে ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসছিল। রবির মনে হলো, পৃথিবীর সকল নিয়ম, সকল নৈতিকতা নিচে মাটির সাথে মিশে গেছে; এখন এই শূন্য আকাশে কেবল তাদের শরীরের আদিম চাহিদাটুকুই সত্য।


দোলাটি এখন মেলার সর্বোচ্চ চূড়ায়। তারা যেন মেঘের কাছে পৌঁছে গেছে। ঠিক সেই মুহূর্তে, কোনো সংকোচ ছাড়াই টুকটুকি তার ডান হাতটা রবির লুঙ্গির ওপর দিয়ে সরিয়ে সরাসরি তার লিঙ্গের ওপর রাখল। রবির ঠোঁট থেকে একটা চাপা আর্তনাদ বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো। কিন্তু তবুও মেয়ের এই নিষিদ্ধ ছোঁয়াতেও নিষেধ করতে পারলো না।নাগরদোলাটি বৃত্তাকার গতিতে ঘুরছে, আর সেই ঘূর্ণির তালে তালে টুকটুকি রবির পৌরুষকে কোমর থেকে লঙ্গির গিট খুলে হাত ডুবিয়ে দিয়ে লুঙ্গি দিয়ে আবার আড়াল করে দিয়ে তার হাতের উষ্ণ মুঠোয় বন্দী করে ছন্দময় গতিতে নাড়াচাড়া করতে শুরু করল। রবির সামনে তখন মেলা, আকাশ আর অস্পষ্ট আলোর রেখা সব মিলেমিশে এক মায়াবী অস্পষ্টতা। বগিটির ভেতরে তাদের দুইজনের ভারী নিঃশ্বাস আর নাগরদোলার ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ মিলে এক অন্যরকম সুর তৈরি করল।

নিচে নামার ঠিক আগের মিনিটখানেক বাকি। টুকটুকির হাতের উত্তপ্ত চাপে, তার নখ আর আঙুলের কৌশলী ঘর্ষণে রবির সমস্ত স্নায়ু টানটান হয়ে উঠল। রবির মনে হলো, সে এই মুহূর্তে পৃথিবীর সব সুখ খুঁজে পেয়েছে। টুকটুকির হাতের সেই উষ্ণতা আর গতির প্রচণ্ডতায় রবির পৌরুষ আর স্থির থাকতে পারল না। রবি চোখ বুজে মাথাটা পেছনের দিকে এলিয়ে দিল, এবং এক দীর্ঘশ্বাসের সাথে তার সমস্ত উত্তাপ টুকটুকির হাতের মুঠোর ভেতরেই বিচ্ছুরিত হলো। সেই চরম তৃপ্তির মুহূর্তে রবির শরীর একবার কেঁপে উঠল, তার সমস্ত চেতনা অবশ হয়ে এল।

নাগরদোলা থামার যান্ত্রিক সংকেত বেজে উঠল। টুকটুকি তার হাতটি সরিয়ে নিল। তার আঙুলগুলো তখনো রবির বীর্যে আঠালো হয়ে আছে। সে কোনো অস্থিরতা দেখালো না। তার মুখে ফুটে উঠল এক বিজয়ীর তৃপ্ত হাসি—যেন সে কোনো এক কঠিন যুদ্ধে জয়ী হয়েছে। দোলা থেকে নেমে আসার সময় সে আলতো করে নিজের মাথাটা রবির কাঁধে রাখল। রবি চারপাশের জগতের দিকে তাকাল, সবকিছুই আগের মতো আছে, অথচ তাদের দুইজনের মাঝখানে এখন গড়ে উঠেছে এক গভীর, অন্ধকার ও অমোচনীয় নিষিদ্ধ বন্ধন, যা থেকে ফিরে আসার পথ তাদের নিজেদেরই জানা নেই।

নাগরদোলা থেকে নামার সময় রবি তখনও নিজেকে সামলে উঠতে পারছিল না। তার পায়ের তলার মাটি যেন অস্বাভাবিক রকমের নরম। টুকটুকি ধীরস্থির পায়ে নেমে এল, তার হাতের তালু তখনও রবির বীর্যের আঠালো স্পর্শে ভেজা। সে কোনো সংকোচ ছাড়াই তার আঁচল দিয়ে হাতটা মুছে নিল, যেন এইমাত্র সে কেবল সাধারণ কিছু করেছে। রবির দিকে তাকিয়ে সে এমন এক রহস্যময় হাসি দিল যে, রবির মনে হলো সে যেন কোনো এক অজেয় শক্তির জালে বন্দী হয়ে পড়েছে।

মেলা প্রাঙ্গণে ভিড় তখন বাড়ছে। চারদিকে ঢোলের শব্দ, বাঁশির সুর আর মানুষের হইচই। অথচ রবির কানে সবকিছুই যেন এক অস্পষ্ট গুঞ্জন বলে মনে হচ্ছে। টুকটুকি তার হাতটা রবির হাতের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। এই স্পর্শে এখন আর বাবার প্রতি মেয়ের মমতা নেই, আছে এক গভীর কামনা। রবি অনুভব করল, টুকটুকির নখগুলো তার চামড়ায় হালকা করে বসে যাচ্ছে, যেন সে বুঝিয়ে দিচ্ছে—এখন থেকে রবির প্রতিটি স্পন্দন কেবল তার হাতের মুঠোয়।

“বাবা, চলো না কিছু খেয়ে নিই? খুব খিদে পেয়েছে,” টুকটুকি মিষ্টি স্বরে বলল।
রবি তার শুকনো জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানোর চেষ্টা করল। “হ্যাঁ... হ্যাঁ, চল। কী খাবি বল?”

তারা মেলা প্রাঙ্গণের এক কোণে একটা খাবারের দোকানের সামনে গিয়ে বসল। ভিড়ের মাঝে লুকিয়ে পড়ার সুযোগ থাকলেও রবির মনে হচ্ছিল, চারপাশের মানুষ যেন তাদের দিকেই তাকিয়ে আছে। তার মনে হচ্ছিল, টুকটুকির হাত থেকে যে ঘ্রাণ বেরোচ্ছে, তা যেন পুরো মেলা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে। সে কোনোমতে এদিক-ওদিক তাকিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করল।

খাবার খাওয়ার সময় টুকটুকি বারবার রবির চোখের দিকে তাকাচ্ছিল। রবির অস্বস্তি ছিল চরমে। সে নিচু স্বরে বলল, “টুকটুকি, আজ যা হলো... সেটা কি ঠিক হয়েছে? লোকে দেখলে...”

টুকটুকি গ্লাসে জল খেতে খেতে শান্ত গলায় উত্তর দিল, “লোকে দেখবে কেন? তারা তো শুধু দেখছে একজন বাবা তার মেয়েকে মেলা ঘোরাচ্ছে। তাছাড়া, এই ভিড় আমাদের দেখছে না, আমাদের দেখছে আমাদের নিজেদের তৃষ্ণা। তুমি কি সত্যি আফসোস করছো, বাবা?”

রবির সারা শরীরে একটা কাঁপুনি খেলে গেল। ‘বাবা’ ডাকটা এখন তার কাছে এক তীব্র চাবুকের মতো মনে হচ্ছে। টুকটুকি যখন তাকে বাবা বলে ডাকছে, তখন তার প্রতিটি অক্ষরে যেন এক প্রচণ্ড উপহাস , অপমান আর উত্তেজনার খেলা লুকিয়ে আছে। রবি উত্তর দিতে পারল না। সে কেবল মাথা নামিয়ে খাবারের দিকে তাকিয়ে রইল।
খাবার শেষে তারা যখন মেলার গেটের দিকে হাঁটছিল, তখন রবি দেখল পরিচিত মুখ। গ্রামের এক প্রবীণ মোড়লকে ভিড়ের মাঝে দেখা যাচ্ছে। রবির বুকটা ধক করে উঠল। সে দ্রুত টুকটুকিকে আড়াল করে অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিল। এই ছোট ঘটনাটি রবিকে বুঝিয়ে দিল, তাদের এই নিষিদ্ধ খেলাটি যেকোনো মুহূর্তে এক ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তারপর তারা বাড়ির দিকে পা বাড়ালো।

গ্রামের ফেরার পথটি ছিল দীর্ঘ। ঘোড়ার গাড়িতে বসে তারা দুজনে কাছাকাছি ঘেঁষে বসল। টুকটুকি মাথা রাখল রবির কাঁধে। রবি জানত, ঘরের চার দেয়াল তাদের জন্য অপেক্ষা করছে, যেখানে এই মেলায় শুরু হওয়া নিষিদ্ধ বন্ধনটি হয়তো আরও গাঢ়, আরও অন্ধকার হয়ে উঠবে। কিন্তু সে এখন আর কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছে না। টুকটুকির হাতটা আবার রবির উরুর ওপর এসে থামল। রবির পৌরুষ আবার সাড়া দিতে শুরু করল। সে বুঝতে পারল, মেলার ওই নাগরদোলা কেবল শুরু ছিল মাত্র; আসল খেলা শুরু হতে এখনো অনেক বাকি।

গহীন গ্রামের ওই কুয়াশাচ্ছন্ন পথে ঘোড়ার গাড়ির চাকা যখন শব্দ করে চলছিল, রবি তখন অনুভব করল, সে নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে টুকটুকির ইচ্ছার এক দাসে পরিণত হয়েছে। আর টুকটুকি? সে তার বিজয়ীর হাসি নিয়ে জানালা দিয়ে বাইরের অন্ধকার জগতের দিকে তাকিয়ে ছিল, মনে মনে হয়তো বুনছিল আরও বড় কোনো নিষিদ্ধ ষড়যন্ত্রের জাল।

Reply
#5

মেলার ঝলমলে আলো আর জনস্রোত পেছনে ফেলে তারা ঘোড়ার গাড়ি করে বাড়ির পথে ফিরছিল। তাদের বাড়ির সাথে সরাসরি মেইন রাস্তা না থাকায় ঘোড়ার গাড়ি থেকে একটু আগেই নেমে পড়তে হলো। সেখান থেকে হেটে যেতেও ১০ মিনিট লাগবে। ঘোরার গাড়ি থেকে নেমে রবি এবং টুকটুকি যখন গ্রামের সরু মেঠো পথে নামল, তখন রাতের আকাশ গাঢ় অন্ধকারে ঢাকা। দূর থেকে ভেসে আসা ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক যেন সেই অন্ধকারকে আরও নিস্তব্ধ করে তুলেছে।

 রবির মনে তখনো নাগরদোলার সেই নিষিদ্ধ মুহূর্তের রেশ। তার শরীরের ভেতরে তখনো এক অদ্ভুত দাহ্য উত্তেজনা কাজ করছে, যা তাকে মত্ত করে রেখেছে। টুকটুকি যেন রবির মনের সেই উত্তাল অবস্থা বুঝতে পারছিল। সে ইচ্ছাকৃতভাবেই হাঁটার গতি কমিয়ে দিল।
গ্রামের সরু মেঠো পথ। দুই পাশে দিগন্তজোড়া ফসলের ক্ষেত। ঘুটঘুটে অন্ধকারে সবকিছুই অস্পষ্ট। টুকটুকি হঠাৎ করেই থমকে দাঁড়াল। 

রবির হাতটি নিজের হাতের মুঠোয় শক্ত করে ধরে সে তার দিকে ঘুরে তাকাল। ম্লান আলোয় তার চোখের চাহনি আজ বড়ই তীক্ষ্ণ। সে রবির খুব কাছাকাছি এসে ফিসফিস করে বলল, 

“বাবা, এত তাড়াহুড়ো কিসের? মেলা তো শেষ হলো, কিন্তু আমাদের আনন্দ তো কেবল শুরু।”

রবির মস্তিষ্ক তখন যুক্তিবোধ হারিয়েছে। টুকটুকির সেই ফিসফিসানি তার কানে এক মাদকের মতো কাজ করল। সে কোনো প্রতিবাদ করার শক্তি খুঁজে পেল না। টুকটুকি তাকে হাত ধরে টেনে নিয়ে গেল রাস্তার পাশের এক ঘন ধানের ক্ষেতের আড়ালে। লতাপাতা আর গাছের ছায়ায় ঘেরা সেই নির্জন জায়গাটা যেন তাদের প্রতীক্ষাতেই ছিল। রবি আর টুকটুকির মাঝে তখন সামাজিক নিয়ম বা রক্ত সম্পর্কের কোনো বালাই নেই—আছে কেবল এক তীব্র, আদিম ক্ষুধা।

টুকটুকি রবির শার্টের কলার ধরে নিজের দিকে টেনে নিল। তার নরম হাতের আঙুলগুলো রবির বুকে আলতো করে বিচরণ করছিল। অন্ধকারের গভীরে তাদের শরীর একে অপরের সংস্পর্শে আসতেই এক তীব্র বিদ্যুতিক শিহরণ রবির শিরদাঁড়া দিয়ে নেমে গেল।

 টুকটুকি রবির বুকে মুখ গুঁজে দিয়ে ফিসফিস করে বলল, “মা কি জানে তুমি এখন কতটা উত্তেজিত? এখন আর কোনো বাধা নেই, বাবা। কেবল আমি আর তুমি, এই অন্ধকার রাতে।”

রবি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। সে টুকটুকিকে নিজের আয়ত্তে নিয়ে নিল। ক্ষেতের নরম ও ভেজা মাটিতে তাদের দেহ একাকার হয়ে গেল। টুকটুকির শাড়ির আঁচল কখন যে আলগা হয়ে কাঁধ থেকে নেমে গেল, তা তারা কেউই খেয়াল করেনি। রাতের অন্ধকার তাদের সমস্ত লজ্জা আর ভয়কে আড়াল করে দিল। 

গ্রামের সেই নির্জন ধানের ক্ষেতের আড়ালে রাতের ঘুটঘুটে অন্ধকার আর ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ছাড়া আর কিছুই ছিল না। সোঁদা মাটির ভেজা গন্ধ আর চারপাশের চাদরের মতো জড়িয়ে থাকা নিস্তব্ধতা তাদের সেই একান্ত মুহূর্তকে আরও তীব্র করে তুলেছিল।

টুকটুকির শরীরের সাথে নিজের শরীর মিলিয়ে রবি তখন সম্পূর্ণ বিভোর। টুকটুকির ফর্সা মুখাবয়ব চাঁদের ম্লান আলোয় অস্পষ্ট দেখালেও, তার চোখের ভাষা আর দীর্ঘশ্বাস রবির সমস্ত চেতনাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল।

"বাবা..." টুকটুকি ফিসফিস করে ডাকল। সেই ডাকে কোনো সংকোচ ছিল না, ছিল এক গভীর আকুলতা আর পূর্ণ অর্পণের সুর।

রবি আর কোনো শব্দ না করে টুকটুকির ঠোঁটে নিজের ঠোঁট রাখল। তাদের সেই চুম্বনে মেলা শেষের ক্লান্তি বা বাইরের পৃথিবীর কোনো তাড়া ছিল না—ছিল কেবল দুজন মানুষের নিখাদ ভালোলাগা আর একাত্ম হয়ে যাওয়ার আকুতি। টুকটুকি তার দুই হাত দিয়ে রবির পিঠ শক্ত করে জড়িয়ে ধরে তার সাথে নিজের দূরত্বটুকু পুরোপুরি মুছে দিল।

ক্ষেতের পাশের নরম ঘাস আর মাটির ওপর তারা বেশ কিছুক্ষণ সেই আদিম নিবিড়তায় ডুবে রইল। বাতাসের মৃদু প্পর্শে চারপাশের ধানের শিষগুলো দুলে উঠছিল, আর তাদের শরীরের উত্তাপ সেই কনকনে ঠান্ডাকেও ম্লান করে দিয়েছিল। একে অপরের বাহুডোরে আবদ্ধ থেকে তারা যেন সময়কে থামিয়ে দিয়েছিল।

অনেকক্ষণ পর যখন সেই তীব্র উত্তেজনার ঢেউ কিছুটা থিতিয়ে এল, তখন রবি টুকটুকির কপাল থেকে চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে সেখানে একটা ভালোবাসার ছোঁয়া দিল। টুকটুকিও তৃপ্তির এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাবাথ বুকে মুখ গুঁজে পড়ে রইল। রাতের সেই গাঢ় অন্ধকার তাদের চারপাশ ঘিরে রাখল এক সুরক্ষিত আবরণে, আর মেঠো পথের সেই নির্জনতা তাদের ভালোবাসার নিঃশব্দ সাক্ষী হয়ে রইল।

এই নির্জনতায় তাদের ভেতরের সেই আদিম তাড়া আর উন্মাদনা চরমে পৌঁছেছিল। আর নিজেদের চেনা গণ্ডির ভেতরে এসে রবি নিজেকে আর একটুও বেঁধে রাখল না; তাদের মাঝের শেষ অবগুণ্ঠনটুকুও ধীরে ধীরে সরে যেতে শুরু করল।
টুকটুকি ওপর সামান্য এলিয়ে দিয়ে, তার চোখের পাতায় তখন গভীর নেশার আবেশ। রবি তার ঠিক মুখোমুখি হাঁটু গেড়ে বসল। তার হাত দুটো মৃদু কাঁপছিল, কিন্তু ছোঁয়ায় ছিল এক তীব্র অধিকারবোধ।

রবি প্রথমে নিজের ডান হাতের আঙুলগুলো ডুবিয়ে দিল টুকটুকির চুলগুলোর ভেতর। তারপর চুল সরিয়ে আবার কপালে একটা দীর্ঘ, উষ্ণ চুমু খেল। টুকটুকি চোখ বুজে সেই স্পর্শের গভীরতা অনুভব করল।
রবির হাত থেমে রইল না। আঙুলগুলো কপাল থেকে গড়িয়ে নেমে এল টুকটুকির সংবেদনশীল কানের লতিতে। সেখানে হালকা করে কামড় বসাতেই টুকটুকি শিউরে উঠল, তার মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল এক অস্ফুট গোঙানি। 

"বাবা..." তার কন্ঠস্বর তখন এতটাই ক্ষীণ যে তা কেবল নিস্তব্ধতাতেই মিশে গেল।

কানের লতি থেকে রবির উষ্ণ ঠোঁট আর হাতের স্পর্শ নেমে এল টুকটুকির মসৃণ গলায়। গলার উপরিভাগ থেকে শুরু করে ঘাড়ের পেছনের সংবেদনশীল অংশ পর্যন্ত প্রতিটি জায়গায় রবি তার ঠোঁটের সুনির্দিষ্ট ছোঁয়া বুলিয়ে দিতে লাগল। রবির গরম নিঃশ্বাস যখন টুকটুকির গায়ের চামড়ায় আছড়ে পড়ছিল, তখন টুকটুকি নিজের অজান্তেই তার দুই হাত দিয়ে রবির পিঠের কাপড় খামচে ধরে তাকে আরও কাছে, আরও গভীরে টেনে নিল। তাদের মাঝের সমস্ত দূরত্বটুকু তখন পুরোপুরি মুছে গেছে।।

এর পরের মুহূর্তটি ছিল আরও বেশি বেপরোয়া। রবি তার হাত দুটো ধীরে ধীরে নামিয়ে আনল টুকটুকির পরনের লাল ব্লাউজের ফিতা ও হুকগুলোর দিকে। কোনো তাড়াহুড়ো না করে, অত্যন্ত সুনিপুণ ও মন্থর গতিতে সে একটা একটা করে ব্লাউজের হুক খুলতে শুরু করল। প্রতিটি হুক খোলার সাথে সাথে টুকটুকির বুক যেন উত্তেজনায় আরও বেশি করে কাঁপতে লাগল।
অবশেষে ব্লাউজের কাপড় সম্পূর্ণ সরে গেল। 

চাঁদের তির্যক আলোতে ম্লান ছায়ায় টুকটুকির ফর্সা ও পূর্ণাঙ্গ বুক উন্মুক্ত হয়ে পড়ল রবির চোখের সামনে। তার বুক তখন দ্রুত ওঠানামা করছে, আর প্রতিটা শ্বাসে যেন তার ভেতরের সর্বগ্রাসী তৃষ্ণা প্রকাশ পাচ্ছে।
রবি এক পলক সেই উন্মুক্ত রূপের দিকে তাকিয়ে রইল, তার নিজের চোখের দৃষ্টিতেও তখন পশুর মতো এক কাঙ্ক্ষিত লোভ।

 সে আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা করল না। ঝুঁকে পড়ে তার মুখ নামিয়ে আনল টুকটুকির নরম স্তনের ওপর। প্রথমে সে ঠোঁটের হালকা আলতো ছোঁয়া দিল, আর পরমুহূর্তেই নিজের মুখ দিয়ে টুকটুকির স্তনবৃন্ত পুরোপুরি গ্রাস করে নিলো এবং গভীর তৃপ্তিতে তা পান করতে শুরু করল।
টুকটুকির গলা দিয়ে তখন এক দীর্ঘ ও তীব্র আবেশের শব্দ বেরিয়ে এল। সে তার দুই হাত দিয়ে রবির মাথাটা শক্ত করে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরল, যেন তাকে কোনোভাবেই ছেড়ে দিতে চায় না। 

গ্রামের রাতের কনকনে ঠান্ডাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রবি আর টুকটুকি নিজেদের সব সংকেত, সব লজ্জা বিসর্জন দিয়ে এক অন্তহীন ও আদিম নেশায় সম্পূর্ণ ডুবিয়ে দিল।


।।।
 রবি আর টুকটুকির শরীরের উত্তাপ এক সর্বগ্রাসী দাবানলের রূপ নিচ্ছে। তাদের মাঝের শেষ আড়ালটুকু ভেঙে যাওয়ার পর রবি যেন এক অতৃপ্ত তৃষ্ণায় মেতে উঠল, আর টুকটুকিও নিজেকে সম্পূর্ণ সঁপে দিল সেই আদিম উন্মাদনায়।

রবি যেন তাড়াহুড়ো করে সব শেষ করতে চায় না; বরং প্রতিটা মুহূর্ত, প্রতিটা ইঞ্চি ত্বক সে তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করতে চায়।
রবি তার জিভ দিয়ে তার সংবেদনশীল চামড়ায় হালকা অথচ দীর্ঘ টান দিতে লাগল। তার প্রতিটি ছোঁয়ায় টুকটুকির শরীর থরথর করে কেঁপে উঠছিল। টুকটুকি আবেশে চোখ বুজে দুই হাত দিয়ে রবির মাথা ও চুলে আঙুল চালিয়ে ফিসফিস করে বলে উঠল, "বাব... আর পারছিনা... এভাবে আমাকে পাগল কোরো না..."

কিন্তু রবি থামার পাত্র নয়। সে আরও গভীর আবেশে টুকটুকির উন্মুক্ত স্তনের ওপর ঝুঁকে পড়ল। চাঁদের ম্লান আলোয় টুকটুকির ফর্সা ও নরম স্তন দুটি তখন স্পষ্ট দৃশ্যমান। রবি তারপর তার ডান হাতের তালু দিয়ে একটি স্তনকে মুঠোয় পুরে হালকা টিপে ধরল, আর বাঁ হাত দিয়ে অন্য স্তনের ওপর আলতো করে আঙুল বুলিয়ে দিতে লাগল।

এরপর সে আর লোভ সংবরণ করতে পারল না। রবি তার মুখ পুরোপুরি ডুবিয়ে দিল টুকটুকির একটি স্তনের ওপর। সে প্রথমে ঠোঁট দিয়ে স্তনবৃন্তটি চারপাশ থেকে চুষতে শুরু করল, তারপর জিভের ডগা দিয়ে সেটিকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে এক অদ্ভুত শিহরণ জাগাল। টুকটুকি সেই তীব্র ও মধুর ব্যথায় পিঠ বাঁকিয়ে খিলখিল করে একটা অস্ফুট গোঙানি দিয়ে উঠল। সে নিজের দুই হাত দিয়ে রবির পিঠ ও কাঁধ খামচে ধরে তাকে আরও শক্ত করে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরল।

রবি কেবল এক জায়গায় থেমে রইল না। সে স্তনবৃন্তটি মুখে নিয়ে একটু শক্ত করে কামড় দিল, আর সাথে সাথেই চুষতে শুরু করল—যেন কোনো তৃষ্ণার্ত তৃপ্তির সাগরে সে ডুব দিয়েছে। স্তন চোষার সেই শব্দ আর টুকটুকির ছটফটানি রাতের এই‌ নির্জন বাতাসকে আরও ভারী করে তুলল। টুকটুকি রবির চুলে হাত বুলিয়ে ফিসফিস করে বলতে লাগল, 

"আহ্ বাবা... আরও... আরও জোরে... আমাকে তোমার ভেতরে এভাবে শেষ করে দাও!..."

এক স্তন থেকে রসিয়ে রসিয়ে চুষতে চুষতে রবি যখন অন্য স্তনের দিকে হাত বাড়াল, তখন তাদের দুজনের দীর্ঘশ্বাস আর শরীরের ঘামের গন্ধে চারপাশ পুরোপুরি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বাইরে তখন ঘুটঘুটে অন্ধকার আর জগতসংসারের সব ঘুমন্ত মানুষ, কিন্তু এই আড়ালে রবি ও টুকটুকির সেই নিবিড় স্তন পানের খেলা চলল অনন্তকাল ধরে।রবি আর টুকটুকির শরীরের আগুন যেন এক মুহূর্তের জন্যও কমল না। চারপাশের সেই কনকনে বাতাসেও তাদের শরীর থেকে ঘামের মিষ্টি গন্ধ চারপাশের বাতাসকে ভারী করে তুলেছিল। 

টুকটুকি তখন মাটির ওপর নিজেকে আর একটু এলিয়ে পড়েছিল, তার দুই হাত শক্ত করে খামচে ধরেছিল চারপাশের ছোট ঘাসগুলো। তার অবিন্যস্ত চুলগুলো ছড়িয়ে ছিল চারপাশে, আর চোখের দৃষ্টি ছিল নেশাগ্রস্ত ও আচ্ছন্ন।

রবি এক মুহূর্তের জন্যও থামল না; বরং তার ভেতরে জমে থাকা সমস্ত কামনা, লালসা ও তীব্র নিষিদ্ধ অধিকারবোধ যেন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠল। সে টুকটুকির শরীরের ওপর আরও একটু ঝুঁকে পড়ে তার উন্মুক্ত, ফর্সা স্তন দুটির ওপর নিজের দৃষ্টি নিবদ্ধ করল। চাঁদের আলো খেলায় সেই রূপ যেন আরও বেশি মায়াবী ও লোভনীয় ঠেকছিল।

এবার রবি তার হাত বাড়িয়ে টুকটুকির বাম স্তনটি হাতের তালুতে সম্পূর্ণ মুড়ে নিল। সে খুব ধীরে, মেপে মেপে আঙুলগুলো দিয়ে স্তনটিকে টিপে তার আকার ও উষ্ণতা অনুভব করতে লাগল। টুকটুকি সেই ছোঁয়ায় কেঁপে উঠে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল, "আহ্ !.."
রবি এবার আর কেবল হাত বুলিয়ে ক্ষান্ত রইল না। সে তার মুখটা নামিয়ে আনল সেই নরম মাংসের স্তূপে। প্রথমে সে ঠোঁটের উষ্ণ ছোঁয়া বুলিয়ে দিল টুকটুকির স্তনের চারপাশে, তারপর তার জিভের ডগা দিয়ে পুরো বৃত্তাকার অংশজুড়ে এক অদ্ভুত ভেজা ও শীতল শিহরণ তুলল। 

টুকটুকি সেই তীব্র ও মধুর আনন্দে নিজের পিঠটা একটু ওপরের দিকে বাঁকিয়ে ধরল, যেন রবির মুখ থেকে সে একটুও দূরে সরে যেতে চাইছে না।
এর পরই রবি তার মুখ দিয়ে টুকটুকির স্তনবৃন্তটি সম্পূর্ণ গ্রাস করে নিল। সে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এবং তাড়িয়ে তাড়িয়ে সেটা চুষতে শুরু করল। চোষার সেই একটানা শব্দে বাইরের নিস্তব্ধতা ভেঙে চৌচির হয়ে যাচ্ছিল। রবি কখনো খুব আলতো করে চুষছিল, আবার পরমুহূর্তেই একটু জোরে কামড় বা টানের মাধ্যমে টুকটুকিকে পাগল করে তুলছিল।

 টুকটুকির গলা দিয়ে তখন কোনো স্পষ্ট শব্দ বেরোচ্ছিল না—কেবল রবির চুলে হাত ডুবিয়ে সে ফিসফিস করে বলছিল, “বাবা... ইস রবি... আমাকে এভাবে শেষ করে দাও... তোমার ওই মুখে আমার শরীর শুষে নাও..."

রবি এক স্তন থেকে মুখ সরিয়ে যখন অন্য স্তনটিতে একইভাবে তার জিভ ও ঠোঁটের আক্রমণ চালাল, তখন টুকটুকির অবয়ব পুরোপুরি বদলে গেছে। তার স্তন দুটি তখন রবির লালায় ভিজে চকচক করছে, আর তার প্রতিটি দীর্ঘশ্বাসে রবির চুলগুলো আরও শক্ত করে আঁকড়ে ধরছিল সে। রবি এক হাত দিয়ে টুকটুকির কোমর খামচে ধরে তার পুরো শরীরটাকে নিজের আরও কাছাকাছি টেনে নিল, যাতে তাদের মাঝে বাতাসেরও কোনো ব্যবধান না থাকে। রবি যেন এক তৃষ্ণার্ত পূজারি, আর টুকটুকি তার সেই উপাসনার একমাত্র দেবী—যাকে সে তিলে তিলে নিজের কামড় ও ভালোবাসায় সম্পূর্ণ গ্রাস করে নিচ্ছিল।

।।।

টুকটুকি এখন পুরোপুরি রবির ইশারার ওপর সমর্পিত। তার ফর্সা বুকটা রবির লালায় ভেজা ও চকচকে, আর দুই স্তনবৃন্ত উত্তেজনায় লাল হয়ে ফুলে রয়েছে। রবি তার ওপর থেকে এক মুহূর্তের জন্যও চোখ সরাল না। সে এবার আরও একটু নিচে নেমে এল, তার হাতের উষ্ণ আঙুলগুলো টুকটুকির কোমর থেকে শুরু করে নাভি পেরিয়ে পেটের নিচের অংশের নরম চামড়ায় আলতো করে বুলিয়ে দিতে লাগল।

"বাবা.. আর সহ্য হচ্ছে না..." টুকটুকি নিজের দুই হাত দিয়ে রবির মাথাটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে প্রায় ফিসফিস করে কেঁদে ওঠার উপক্রম করল। তার শরীরের প্রতিটি রোমকূপ তখন রবির একেকটি স্পর্শে শিহরিত হচ্ছিল।

রবি কোনো তাড়াহুড়ো করল না। সে যেন প্রতিটা মুহূর্ত তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করতে চায়। সে ডান হাত দিয়ে টুকটুকির একটি স্তন আবার মুড়ে ধরে সেটিকে একটু ওপরে তুলে ধরল, আর বাঁ হাত দিয়ে অন্য স্তনটি একইভাবে টিপে তার আকৃতি বদলাতে লাগল। এরপর সে তার মুখটা আবার নামিয়ে আনল সেই উত্তপ্ত মাংসের স্তূপের ওপর। তবে এবার সে শুধু চোষাতেই সীমাবদ্ধ থাকল না; সে তার জিভের ডগা দিয়ে স্তনবৃন্তের ঠিক চারপাশে গোল গোল করে ঘষতে শুরু করল।

টুকটুকি সেই চরম ও তীব্র শিহরণে নিজের শরীরটা পুরোপুরি ধনুকের মতো বাঁকিয়ে ফেলল। তার মুখ থেকে বেরিয়ে এল এক দীর্ঘ, মায়াবী গোঙানি, "আহ্... গো... বাবা... কি করছ তুমি আমাকে নিয়ে!"

রবি আর নিজেকে আটকে রাখল না। সে তার মুখ দিয়ে টুকটুকির বাম স্তনটি পুরোটা কামড়ে ধরে এক নাগারে চুষতে শুরু করল। রবি কখনো খুব ধীরে, গভীর টানে স্তনটি মুখের ভেতরে টেনে নিচ্ছিল, আবার কখনো হালকা দাঁতের চাপে টুকটুকিকে আরও পাগল করে তুলছিল। টুকটুকি তখন আবেশে চোখ বুজে রবির চুলে আঙুল চালিয়ে খামচে ধরছিল, আর তার মুখ দিয়ে কেবল অসংলগ্ন ভালোবাসার আকুতি ঝরে পড়ছিল। এক স্তন থেকে রসিয়ে রসিয়ে চুষতে চুষতে রবি যখন অন্য স্তনটিতে মুখ সরিয়ে নিল, তখন টুকটুকির পুরো শরীর ঘেমে নেয়ে একাকার। 

 রবি এখন আর কেবল ওপরে বা স্তনের মাঝে সীমাবদ্ধ রইল না; তার বেপরোয়া হাত ও ঠোঁট এবার আরও নিচের দিকে, টুকটুকির কোমল উদর এবং নাভির চারপাশের সংবেদনশীল অংশে নেমে এল।

টুকটুকি তখন আবেশে প্রায় অচেতন। তার বুক থেকে দীর্ঘশ্বাসের সাথে কেবল রবির নাম বেরিয়ে আসছে। রবি তার জিভের ডগা দিয়ে টুকটুকির নাভির গভীরতায় হালকা ছোঁয়া দিল, আর সাথে সাথে টুকটুকির পুরো শরীর একটা তীব্র ঝটকায় কেঁপে উঠল। সে নিজের দুই হাত দিয়ে রবির মাথাটা শক্ত করে নিজের পেটের সাথে চেপে ধরে কাঁপাকাঁপা গলায় বলে উঠল, 

"বাবা.. আমাকে তোমার ভেতরে সম্পূর্ণ মিশিয়ে নাও... আর দূরে সরিয়ে রেখো না..."

রবি আর এক মুহূর্তও দেরি করল না। সে এবার টুকটুকির শরীরের ওপর পুরোপুরি ঝুঁকে পড়ে তার কোমর থেকে শাড়ি টা গুটিয়ে পেটের উপর রাখলো আর তার নিজের লুঙ্গির গিঁট টা খুলে দিয়ে তার খাড়া হয়ে থাকা লিঙ্গ টা বের করলো।

বাইরের সেই নিবিড় অন্ধকার আর চাদের আলোয় রবি ও টুকটুকির শরীরী উন্মাদনা তখন তার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। চারপাশের কনকনে আমেজ পুরোপুরি উবে গিয়ে তাদের দুজনের দীর্ঘশ্বাস আর ঘামে ঘরটার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

টুকটুকি মাটির ওপর সম্পূর্ণ এলিয়ে পড়ে আছে, তার পা দুটো সামান্য ফাঁক করা। তার ফর্সা মুখাবয়ব আবেশে লাল, আর চোখের পাতাগুলো ভারী হয়ে এসেছে। রবি তার ঠিক মাঝখানে হাঁটু গেড়ে বসল। তার চোখ দুটো যেন নেশায় লাল হয়ে উঠেছে; তাতে কোনো তাড়াহুড়ো নেই, আছে এক তীব্র আদিম অধিকারবোধ।

রবি তার দুই হাত দিয়ে টুকটুকির কোমরটা শক্ত করে চেপে ধরল। তারপর অত্যন্ত মন্থর ও সাবধানে সে নিজের শক্ত লিঙ্গটি টুকটুকির ভেজা ও উত্তপ্ত যৌনির মুখের কাছে এনে রাখল। স্পর্শ লাগতেই টুকটুকি একটা ছোট শিহরণ দিয়ে তার পিঠটা সোজা করে ফেলল, তার গলা থেকে বেরিয়ে এল এক অস্পষ্ট গোঙানি।

"বাবা..." টুকটুকি ফিসফিস করে রবির নাম ধরে ডাকল, তার চোখের কোণ বেয়ে নেমে এল তৃপ্তির এক ফোঁটা জল।

রবি এক সেকেন্ডের জন্যও চোখ সরাল না। সে তার শরীরের সমস্ত ওজন টুকটুকির ওপর ছেড়ে না দিয়ে নিজের হাতের ওপর ভর দিয়ে খুব ধীরে, আস্তে করে নিজের লিঙ্গটি টুকটুকির ভেতরে প্রবেশ করানো শুরু করল। টুকটুকির সংবেদনশীল ও আঁটসাঁট যৌনি পথ যখন প্রথমবার রবির পুরুষাঙ্গের সেই পুরুত্ব ও উষ্ণতা অনুভব করল, তখন তার শরীরের পেশিগুলো থরথর করে কেঁপে উঠল।

"আহ্... বাবা... আস্তে..." টুকটুকি দুই হাত দিয়ে রবির পিঠ ও কাঁধ খামচে ধরে তার আঙুলগুলো চামড়ার ভেতর গেঁথে দিল।

রবি থামল না, তবে তার গতি ছিল অবিশ্বাস্য রকমের ধীর ও সুক্ষ। সে প্রতি ইঞ্চিতে টুকটুকির ভেতরের সেই আঁটসাঁট দেয়ালের উষ্ণতা আর টান তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করতে লাগল। একটু একটু করে নিজের লিঙ্গটি সম্পূর্ণ গভীরে প্রবেশ করাতে করাতে রবি টুকটুকির ঠোঁটে নিজের ঠোঁট নামিয়ে এনে একটা দীর্ঘ চুমু খেল। তাদের সেই চুম্বনে কোনো তাড়া ছিল না—ছিল কেবল দুজনের একে অপরের ভেতর পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার একাত্মতা।

যখন রবির সম্পূর্ণ লিঙ্গটি টুকটুকির যোনির গভীরের শেষ প্রান্তে গিয়ে পৌঁছাল, তখন টুকটুকি তীব্র আবেশে চোখ বুজে একটা দীর্ঘ দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তাদের দুজনের শরীর তখন এক বিন্দুতেও আলাদা নয়—যেন রাতের সেই অন্ধকার ক্ষেতের পাশে রবি আর টুকটুকি দুটি আলাদা প্রাণ থেকে কেবল একটাই অস্তিত্বে পরিণত হয়েছে।

নিশুতি রাতে মাঠের মাঝখানে, তাদের এই মিলন যেন প্রকৃতির এক নীরব নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছিল। রবি অনুভব করল, সে রানীর স্বামী নয়, বা অন্য কারো পরিচিত কেউ—সে এই মুহূর্তে টুকটুকির গভীর বাসনার এক অসহায় দাস। টুকটুকি তার বাহুবন্ধনে রবিকে শক্ত করে আটকে রাখল, যেন এই রাত আর কখনো শেষ না হয়। তাদের এই নিষিদ্ধ ভালোবাসা তখন ফসলের ক্ষেতের সোঁদা ঘ্রাণ আর রাতের অন্ধকারের সাথে মিশে গিয়ে এক আবেশ তৈরি করল।

দূরে বাড়ির কুপি বাতির আলো ঝাপসা দেখা যাচ্ছিল, যেখানে রানি হয়তো এখনো তাদের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। কিন্তু মাঠের ওই নির্জনতায় রবি আর টুকটুকির কাছে পুরো জগতটাই তখন অর্থহীন। তারা একে অপরের শরীর আর মনের তীব্রতায় নিজেদের পুরোপুরি হারিয়ে ফেলল। কোনো বাধা ছাড়াই শুরু হলো তাদের এক অমোঘ, অস্পৃশ্য এবং নিষিদ্ধ মহোৎসব, যেখানে কেবল তৃষ্ণার্ত দুটি মানুষের শরীরের তৃপ্তিই ছিল একমাত্র সত্য। রাতের সেই অন্ধকার সাক্ষী হয়ে রইল এক ঘোরলাগা নিষিদ্ধ অভিসারের, যা গহীন গ্রামের অন্দরমহলের সমস্ত পবিত্রতাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছিল।

ধানক্ষেতের বুক চিরে বয়ে যাওয়া রাতের শীতল হাওয়া তখন স্তব্ধ। মাটির সোঁদা গন্ধ আর টুকটুকির শরীরের তীব্র আবেশ মিলেমিশে একাকার। রবির হাতের তালু তখন টুকটুকির উদম পিঠের ওপর দিয়ে পিচ্ছিল মাছের মতো খেলে বেড়াচ্ছে। সে অনুভব করছে টুকটুকির চামড়ার সেই মসৃণতা, যেখানে তার আঙুলের ডগাগুলো একটু চাপ দিলেই লালচে ছাপ পড়ে যাচ্ছে।

রবি আর স্থির থাকতে পারল না। সে অত্যন্ত ধীর গতিতে, অত্যন্ত পরিমাপ করা ছন্দে তার কোমরটা একটু ওপরে তুলে আবার গভীরে নামিয়ে আনতে শুরু করল। সেই প্রথম ধাক্কাটা ছিল ভীষণ মন্থর ও রসিয়ে রসিয়ে করা। প্রতিবার যখন রবি তার লিঙ্গটি টুকটুকির ভেতর থেকে প্রায় বের করে এনে আবার নিখুঁত সুনিপুণতায় ডুবিয়ে দিচ্ছিল, তখন টুকটুকির সারা শরীর দিয়ে এক অদ্ভুত বৈদ্যুতিক শিহরণ বয়ে যাচ্ছিল।

টুকটুকির শরীরের উত্তাপ তখন আগ্নেয়গিরির মতো ফুটছে। সে রবির শার্টের বোতামগুলো ছিঁড়ে ফেলার মতো করে খুলে ফেলল, তার হাতের ছোঁয়ায় রবির বুকের লোমগুলো যেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হচ্ছে। টুকটুকি তার দুই পা দিয়ে রবির কোমরকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল, তার নখগুলো রবির পিঠের ওপর দিয়ে গভীর আঁচড় কাটছে—এক যন্ত্রণামিশ্রিত কামনার ছাপ। রবির প্রতিটি নিঃশ্বাস তখন টুকটুকির ঘাড়ের কাছে আছড়ে পড়ছে, আর টুকটুকি তার মাথাটা পেছন দিকে এলিয়ে দিয়ে অস্ফুট শব্দে আর্তনাদ করে উঠছে।

রবির হাত এখন টুকটুকির শরীরের প্রতিটি বাঁকে। সে তার হাতের মুঠোয় টুকটুকির স্তনযুগলকে চেপে ধরেছে, তার বুড়ো আঙুলের ডগা দিয়ে স্তনবৃন্তের ওপর বারবার বৃত্তাকার ঘর্ষণ তুলছে। টুকটুকির শরীরের প্রতিটি পেশি তখন উত্তেজনায় কাঁপছে।  

রবি এখন ধীরে ধীরে তার পুরুষাঙ্গকে টুকটুকির গভীরে ঠেলে দিচ্ছে। এক অদ্ভুত আঠালো উষ্ণতায় সে যেন তলিয়ে যেতে লাগল। তাদের শরীর যখন ছন্দময় দোলায় দুলছে, তখন প্রতিবার ঘর্ষণে রবির কানে আসছে টুকটুকির সেই তীব্র, অসংযত গোঙানি। টুকটুকি তার কোমরকে রবির গতির সাথে তাল মিলিয়ে উপরে উঠিয়ে দিচ্ছে, যেন সে আরও গভীরতা চাইছে, আরও তীব্রতা চাইছে। তাদের শরীরে ঘাম জমে একে অপরকে পিচ্ছিল করে দিচ্ছে, যেন দুজন মানুষ একাকার হয়ে একটি অভিন্ন প্রাণীতে পরিণত হয়েছে।

রবি টুকটুকির মুখের ওপর ঝুঁকে পড়ে তার ঠোঁটে নিজের ঠোঁট নামিয়ে আনল। তাদের সেই চুম্বনে কোনো তাড়া ছিল না, ছিল এক আদিম নেশা। চুম্বনের ফাঁকে ফাঁকে রবি তার গতির ছন্দ একটু একটু করে বাড়াতে শুরু করল। কুঁড়েঘরের পুরোনো খাটের কাঠের মড়মড় শব্দ আর দুজনের দীর্ঘশ্বাসের শব্দ মিলেমিশে রাতের নিস্তব্ধতাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিচ্ছিল।

রবির প্রতিটি আঘাত তখন আরও জোরালো হচ্ছে। সে টুকটুকির নিতম্বে হাত রেখে তাকে আরও কাছে টেনে নিচ্ছে, তাদের শরীরের ঘর্ষণের শব্দ রাতের নিস্তব্ধতাকে ভেঙে খানখান করে দিচ্ছে। টুকটুকি তার দুই হাত দিয়ে রবির মুখটা নিজের দিকে টেনে নিয়ে গভীর চুম্বনে জড়িয়ে ধরল, যেন রবির জিভ আর নিজের জিভকে এক করে ফেলবে। তাদের শরীরের ঘাম, তাদের নিশ্বাসের শব্দ আর অন্ধকারের সেই নিষিদ্ধ উত্তেজনা মিলে এক চরম উন্মাদনার সৃষ্টি করল। 


রবি তখন তার ওপর সম্পূর্ণ ঝুঁকে পড়ে এক আদিম পশুর মতো মত্ত হয়ে উঠেছে। সে আর নিজের গতিকে একটুও আটকে রাখল না; বরং আরও অনেক বেশি গভীরে, অনেক বেশি ভারী ও বেপরোয়া ছন্দে সে তার কোমর দুলিয়ে আঘাত করতে শুরু করল। প্রতিবার যখন রবির শক্ত লিঙ্গটি টুকটুকির ভেতরের একদম শেষ প্রান্তে গিয়ে ধাক্কা খাচ্ছিল, তখন টুকটুকির গলা থেকে একটা দীর্ঘ ও সুদীর্ঘ গোঙানি বেরিয়ে আসছিল।

টুকটুকি মাটির উপর চিত হয়ে শুয়ে আছে, তার মুখখানি আবেশে লাল, আর চোখের পাতা দুটো ক্লান্তিতে ভারী হয়ে এলেও তার ভেতরে জমে থাকা তৃষ্ণা যেন এক ফোঁটাও কমেনি। তার ফর্সা বুকটা রবির প্রতিটা ধাক্কায় দ্রুত ওঠানামা করছে, আর সারা শরীর ঘেমে একাকার হয়ে গেছে।

"আহ্ আহ্... ওহ্ বাবা... আমাকে ছিঁড়ে ফেলো... আর সহ্য হচ্ছে না!" টুকটুকি তার দুই হাত দিয়ে বাবার পিঠ ও কাঁধ খামচে ধরে তার লম্বা নখগুলো বসিয়ে দিল। তার সর্বাঙ্গ তখন থরথর করে কাঁপছে।

রবি কোনো কথা না বলে কেবল ভারী দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে টুকটুকির দুই হাত মাটির উপর চেপে ধরে আরও দ্রুত গতিতে আঘাত হানতে লাগল। রবির কোমরের প্রতিটা ধাওয়ায় টুকটুকির শরীর ধনুকের মতো বেঁকে যাচ্ছিল, আর তাদের ঘামে ভেজা ত্বক একে অপরের সাথে লেগে এক অদ্ভুত চটচটে ও তীব্র শব্দের সৃষ্টি করছিল।

বাইরে তখন ঘুটঘুটে অন্ধকার, ঝিঁঝিঁ পোকার একটানা ডাক আর হিমেল হাওয়ার সাঁ সাঁ শব্দ—সব মিলিয়ে এক ভুতুড়ে পরিবেশ। কিন্তু রবি আর টুকটুকি জগতের সব বাঁধন, সব লজ্জা আর সমাজের সমস্ত নিয়মকে এক লহমায় পায়ে দলিয়ে দিচ্ছিল।

তাদের গতির বেগ যখন বাড়তে লাগল, ঠিক তখনই টুকটুকির ভেতরের পেশিগুলো থরথর করে কেঁপে উঠল। সে রবির মাথাটা নিজের বুকের সাথে একদম শক্ত করে চেপে ধরে একটা দীর্ঘ আর্তনাদের মতো শব্দ করে চরম পরম তৃপ্তির শিখরে পৌঁছে গেল। তার শরীর দিয়ে উষ্ণ তরলের বন্যা বয়ে গেল, আর ঠিক সেই মুহূর্তে রবিও তার সমস্ত শক্তি দিয়ে শেষ কয়েকটা ভারী ও গভীর ধাক্কা দিয়ে নিজের চূড়ান্ত আনন্দ টুকটুকির ভেতরে ছড়িয়ে দিল।

দুজনের শরীর তখন ক্লান্তিতে ভেঙে পড়ার উপক্রম। হাঁপাতে হাঁপাতে রবি টুকটুকির ঘাম ভেজা গলার কাছে মুখ গুঁজে পড়ে রইল, আর টুকটুকিও তার চুলে আলতো করে হাত বুলিয়ে দীর্ঘশ্বাসের সাথে চোখ বন্ধ করে ফেলল। আর টুকটুকি তার শরীরের সবটুকু দিয়ে রবির শরীরকে যেন ভেতর থেকে চুষে নিতে চাইল।

###


ধানক্ষেতের সেই উদ্দাম আর আদিম আবেশটুকু পেছনে ফেলে রবি এবং টুকটুকি যখন আবার মূল মেঠো পথে পা রাখল, তখন রাতের শীতল বাতাস তাদের ঘামভেজা শরীরকে জুড়িয়ে দিচ্ছিল। মাঠের সেই উত্তাল মুহূর্তের পর চারপাশটা অস্বাভাবিক রকমের নিঝুম। রবি আর টুকটুকির মাঝে তখন এক গভীর, গুমোট নীরবতা। তাদের শরীরের প্রতিটি কোষে এখনো সেই নিষিদ্ধ মিলনের স্পন্দন রয়ে গেছে, কিন্তু তাদের বাইরের আচরণে তার ছিটেফোঁটাও প্রকাশ নেই। যেন কিছুক্ষণ আগের সেই শরীরী উন্মাদনা তাদের জীবনের কোনো এক অলিখিত চুক্তির অংশ।

রবি তার ছিন্নভিন্ন শার্টের বোতামগুলো নিপুণ হাতে একে একে আটকে নিল। তার হাতের নড়াচড়ায় কোনো জড়তা নেই, কোনো কাঁপুনি নেই। টুকটুকিও একই রকম স্থির। সে মেঠো পথের অন্ধকারে দাঁড়িয়ে তার এলোমেলো চুলগুলো টেনে টেনে গোছাল, শাড়ির কুঁচিগুলো ঠিক করল এবং আঁচলটা এমনভাবে কাঁধে তুলে নিল, যেন মনে হচ্ছে সে এখন এক অতি সাধারণ, সতী-সাধ্বী গ্রামের তরুণী। তাদের দুজনের চোখেমুখে এখন অদ্ভুত এক প্রশান্তি। সেই প্রশান্তি অপরাধবোধের নয়, বরং তৃপ্তির—যেন তারা এক বিশাল যজ্ঞ শেষ করে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে এসেছে।।

বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছাতেই কুপি বাতির ম্লান আলোয় রানীর অবয়ব চোখে পড়ল। রানি বারান্দায় বসে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে একটি নকশী কাঁথা সেলাই করছে। দূরে সখিনা বেগমের ঘরের বদ্ধ জানালা দিয়ে আলোর সরু এক চিলতে রেখা বেরিয়ে আসছে, যা বুঝিয়ে দিচ্ছে তিনি এখনো জেগে আছেন। রবি আর টুকটুকি যখন বারান্দায় পা রাখল, রানি নিপুণ হাতে সূঁচ রেখে মুখ তুলে তাকাল। তার মুখে এক চিরচেনা স্নেহমাখা হাসি।

“ফিরে এলে?” রানি জানতে চাইল। 
“মেলা কেমন হলো? টুকটুকি, তুই কি খুব মজা করলি?”

টুকটুকি কোনো সংকোচ ছাড়াই রানীর পাশে গিয়ে বসল। তার কণ্ঠস্বরে এতটুকুও কাঁপুনি নেই, যেন কিছুক্ষণ আগে সে রবির শরীরের ওপর দাপিয়ে বেড়ায়নি।

 “খুব মজা হয়েছে মা! বাবা আমাকে এতো এতো আদর করেছে মেলায় যেয়ে আর কত কিছু কিনে দিয়েছে, দেখবে?”

 সে তার কবজি থেকে নতুন কেনা কাঁচের চুড়িগুলো রানীর সামনে তুলে ধরল। রানীর চোখেমুখে একমুঠো আনন্দ ছড়িয়ে পড়ল। সে হাত বাড়িয়ে চুড়িগুলো দেখল, পায়ের নূপুরের টুংটাং শব্দে কান পাতল। রবি একপাশে দাঁড়িয়ে শান্ত দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকিয়ে রইল। রবির মনের ভেতর এখন আর কোনো তোলপাড় নেই, কোনো অনুশোচনা বা দোদুল্যমানতা নেই। সে যেন এক ক্লান্ত কৃষক, যে দিনের কঠোর পরিশ্রম শেষে নিজের সংসারে ফিরে এসেছে। তার কাছে এই স্বাভাবিকতা বজায় রাখাটাই এখন সবচেয়ে বড় রণকৌশল।

হঠাৎ সখিনা বেগম নিজের কুঠুরি থেকে ধীরপায়ে বেরিয়ে এলেন। তার হাঁটার শব্দে দাওয়ার পরিবেশটা যেন একটু থমকে গেল। তার দৃষ্টি স্থির হয়ে রবির ওপর পড়ল—শান্ত, গভীর এবং সবকিছু বোঝার মতো এক তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। রবি একবার মায়ের দিকে তাকাল। দুজনের মধ্যে কোনো শব্দ বিনিময় হলো না, কোনো কুশল বিনিময় হলো না, শুধু চোখের এক পলকের আদান-প্রদানেই যেন সখিনা বেগম সব পড়ে নিলেন। সেই চাহনিতে সখিনা যেন নীরব সম্মতি দিলেন, যেন তিনি বুঝে গেলেন রবি আজ একজন পুরুষ হিসেবে পূর্ণতাপ্রাপ্ত।

বাড়ির পরিবেশটি এতই মায়াবী আর স্বাভাবিক যে, কেউ কল্পনাও করতে পারবে না—কিছুক্ষণ আগেই এই মানুষগুলোর মাঝে এক নিষিদ্ধ অধ্যায় রচিত হয়েছে। রবি পুকুরঘাটে গিয়ে ঠান্ডা জলে হাত-মুখ ধুয়ে নিল। তার শরীরের ঘাম ধুয়ে যাওয়ার সাথে সাথে যেন বাইরের পৃথিবীর সমস্ত পাপও ধুয়ে গেল। রানীর পরিবেশন করা রাতের খাবার খেতে বসে রবি খুব তৃপ্তি করে খেল, যেন মাঠের সেই পরিশ্রম তার খিদে বাড়িয়ে দিয়েছে। টুকটুকি রানীর কাঁথা সেলাইয়ে সাহায্য করতে বসল, যেন কিছুই ঘটেনি।

রাত বাড়লে সবাই যার যার শোয়ার ঘরে চলে গেল। রবির মনে হলো, এই অস্বাভাবিকতাকেই স্বাভাবিক করে তোলাই তাদের জীবনের আসল জয়। জীবনের এই নিষিদ্ধ জটিলতাকে তারা তাদের প্রতিদিনের অভ্যাসে, আহারে, বিহারে এবং সংসারের কাজে এমনভাবে গেঁথে ফেলেছে যে, তা এখন আর আলাদা কোনো অপরাধ বলে মনে হচ্ছে না। বিছানায় শুয়ে রবি ক্লান্ত রানীর পাশে হাত রাখল। রানি তার বুকের ওপর মাথা রেখে গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল। রবির মন তখন শান্ত সমুদ্রের মতো স্থির। তার এই স্থিরতার আড়ালে লুকিয়ে রইল এক দীর্ঘমেয়াদী নিষিদ্ধ সম্পর্কের জাল, যা গহীন গ্রামের অন্দরমহলের অন্ধকারে প্রতিদিন নতুনরূপ নিয়ে বাড়ছে।
 
Reply
#6

গহীন গ্রামের এই অন্দরমহলটি এখন এক বিমূর্ত নাট্যমঞ্চ, যেখানে পর্দা পড়ে না কখনোই। সময়ের স্রোতে রবির জীবন এক অদ্ভুত, শ্বাসরুদ্ধকর ভারসাম্যে এসে ঠেকেছে। বাইরে থেকে সে এখনো গ্রামের সেই সহজ-সরল পরিশ্রমী কৃষক, যাকে সবাই সমীহ করে। কিন্তু দরজার কপাট বন্ধ হলেই শুরু হয় রবির দ্বিমাত্রিক রাজত্ব। একপাশে সখিনা বেগমের কুঠুরি, যেখানে মাতৃত্বের গন্ধ আর পুরনো স্মৃতির ধূপের কুয়াশা; অন্যপাশে টুকটুকির ঘর, যেখানে কেবলই যৌবনের উত্তাপ আর উগ্র কামনার হাতছানি।

রবির দিনলিপি এখন দুই ভাগে বিভক্ত। সখিনার কুঠুরিতে সে ফিরে যায় তার হারানো শৈশবে। সেখানে সে সখিনার শ্লথ স্তনবৃন্তে মুখ ডুবিয়ে তৃপ্ত হয়, যা তাকে সমস্ত পৃথিবীর দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি দেয়। সখিনার অভিজ্ঞ হাতের স্পর্শ আর তার শরীরের প্রতিটি ভাঁজে লুকিয়ে থাকা মায়া রবিকে এক অদ্ভুত প্রশান্তি দেয়। অন্যদিকে টুকটুকির ঘরে গেলেই সে যেন আগ্নেয়গিরির ওপর পা রাখে। টুকটুকির শরীর যেন প্রতি মুহূর্তে নতুন কোনো পরীক্ষার জন্য তৈরি—সেখানে প্রতিটি রাত হয় রবির পৌরুষের এক অগ্নিপরীক্ষা।

সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো এই ত্রিমাত্রিক সম্পর্কের সমঝোতা। সখিনা বেগম এবং টুকটুকির মধ্যে কোনো রেষারেষি নেই। তারা একে অপরকে শত্রু নয়, বরং সহযোগী হিসেবে মেনে নিয়েছে। সখিনা যখন বার্ধক্যের ক্লান্তিতে নুইয়ে পড়েন, তিনি সস্নেহে রবিকে ঠেলে দেন মেয়ের ঘরের দিকে। আবার টুকটুকি যখন রবির তীব্রতায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে ক্লান্তি অনুভব করে, তখন সে নিজেও রবিকে মায়ের কাছে পাঠিয়ে দেয়। এই যেন এক অঘোষিত, নিভৃত চুক্তি—রবিকে ভাগ করে নেওয়ার এই সমঝোতা তাদের ঘরের বাতাসে এক অদ্ভুত, ঘন বিষাদ আর তৃপ্তির আবেশ ছড়িয়ে রাখে।।

রানি—যাকে তারা সবাই মিলে এক কৃত্রিম বিশ্বাসের দেয়ালে আটকে রেখেছে—সে এখনো সবকিছুর বাইরে। রানীর সরল হাসিমুখ রবির বুকে কখনো কখনো অপরাধবোধের কাঁটা বিধিয়ে দেয়, কিন্তু সেই কষ্ট স্থায়ী হয় না। রবির সমস্ত ইন্দ্রিয় তখন আচ্ছন্ন থাকে সখিনা বা টুকটুকির শরীরের মাদকতায়। রানীর পাশে শুয়েও সে টের পায় না রানীর হৃদস্পন্দন, কারণ তার মনের প্রতিটি কোণে তখন সখিনার স্তনের স্বাদ কিংবা টুকটুকির শরীরের উষ্ণ ঘর্ষণের স্মৃতি। রানি তার কাছে এখন কেবলই একজন সহযাত্রী, যার অস্তিত্বের কোনো গুরুত্বই রবির এই নিষিদ্ধ জগতে নেই।

রবি এখন নিজেই নিজের এই অশুভ জগতের কারিগর। সে জানে, এই অন্ধকার পথ তাকে ধ্বংসের কিনারাতেই নিয়ে যাবে। হয়তো একদিন গ্রামবাসী জানবে, হয়তো সেদিন আকাশ ভেঙে পড়বে, কিন্তু সেই ধ্বংসের মাঝে যে এক অদ্ভুত, মাদকতাময় তৃপ্তি আছে—তা তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। রবি এখন আর নিজেকে সাধারণ মানুষ মনে করে না। সে নিজেকে মনে করে এই অন্দরমহলের একচ্ছত্র অধিপতি, এক অন্ধকার ঈশ্বর, যার নির্দেশে মা আর মেয়ে তার কামনার বেদীমূলে নিজেদের সমর্পণ করে রেখেছে।
প্রতিটি রাত কাটে নতুন কোনো পরীক্ষা আর তৃপ্তির সন্ধানে। রবি এখন আর পেছনে ফিরে তাকাতে চায় না, কারণ ফিরে যাওয়ার মতো কোনো পবিত্রতা আর অবশিষ্ট নেই তার জীবনে। সে এখন এই অন্ধকার অভ্যাসের এক অমোঘ দাস। অন্দরমহলের দুই নারী—মা আর মেয়ে—যেন রবির জীবনের দুটি ভিন্ন রঙের আয়না। রবি সেই আয়নায় নিজেকে প্রতিদিন নতুন করে দেখে, আর প্রতিটি দৃশ্যে সে নিজেকে আরও একটু বেশি হারিয়ে ফেলে সেই নিষিদ্ধ মায়ার গোলকধাঁধায়।

গ্রামের শান্ত, স্নিগ্ধ বাতাসের ওপর যেন হঠাৎ এক বিষাক্ত অস্থিরতার কালো ছায়া নেমে এল। পাশের গ্রাম থেকে দুঃসংবাদ এল—রানীর বাবা, অর্থাৎ রবির শ্বশুর হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ। খবরটা শোনামাত্র রানীর সমস্ত স্বাভাবিকতা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। দুশ্চিন্তায় তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল এবং সে রবির কাছে বায়না ধরল বাবাকে একবার দেখে আসার জন্য। রবি এক মুহূর্তের জন্য দ্বিধাভরে রানীর চোখের দিকে তাকাল, কিন্তু ভেতরে ভেতরে এক অশুভ স্বস্তি তাকে গ্রাস করছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝিয়ে সে যখন রাজি হলো, তখন তার মনের গভীর কোণে এক অন্ধকার উল্লাস খেলে গেল। এই ৪৮ ঘণ্টার জন্য বাড়ির অন্দরমহলের সমস্ত নিয়ম, সমস্ত শাসন আর নজরদারির শেকল ছিঁড়ে যাচ্ছে। রবি মনে মনে হিসাব কষল—সামনে দুটো দিন, এই সময়টাতে সে এই অন্দরমহলের রাজা, আর মা ও মেয়ে তার অগোচরেই তৈরি হচ্ছে তার ভোগের রাজকীয় উপচার হিসেবে।

পরদিন ভোরে, ভোরের আলো ফোটার আগেই রানি রওনা হলো। যাওয়ার সময় সখিনা বেগম আর টুকটুকিকে বারবার সংসারের দেখাশোনা করার তাগিদ দিয়ে গেল, যেন এক আগন্তুককে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছে। রানি যখন ঘরের সীমানা পেরিয়ে বাইরে পা রাখল, তখন তার পেছনে পড়ে রইল সখিনা আর টুকটুকি। রানীর বিদায়ের সাথে সাথেই বাড়ির বাতাসে এক চাপা উত্তেজনা আর বাতাসের গতি যেন বদলে গেল। রানি যতক্ষণ বাড়িতে ছিল, ততক্ষণ এক অদৃশ্য প্রাচীর ছিল তাদের মাঝে; এখন সেই প্রাচীর ধূলিসাৎ।

রবি যখন সখিনা বেগম আর টুকটুকির দিকে তাকাল, তখন তাদের চোখের দৃষ্টিতে এক তীব্র তৃষ্ণা সে স্পষ্ট দেখতে পেল। সখিনার কুঠুরির সেই আঁধার আর টুকটুকির ঘরের পর্দাগুলো যেন তাকে নতুন করে হাতছানি দিয়ে ডাকছিল। এতদিন রানীর উপস্থিতিতে যেটুকু রাখঢাক, যেটুকু সামাজিক ভনিতা ছিল, তা এখন পুরোপুরি উধাও। রবি রানীর যাওয়ার পথের দিকে শেষবার তাকিয়ে নিশ্চিত হলো—আগামী ৪৮ ঘণ্টা এই অন্দরমহলে সে-ই একমাত্র পুরুষ, আর এই অন্দরমহল এখন তার ব্যক্তিগত কামনার শিকারশালা।

রানি যখন গ্রাম ছাড়ল, রবি তার ঠোঁটের কোণে এক কুটিল হাসির রেখা অনুভব করল। সখিনা বেগম বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন, তার চোখে সেই পুরনো, আদিম অধিকারবোধ—যেন রবি শুধু তারই। আর অন্যদিকে টুকটুকি তার পিঠের দিকে দাঁড়িয়ে এক দুষ্টু হাসিতে রবির শরীরের দিকে তাকিয়ে রইল, যেন সে রবির প্রতিটি পেশির উত্তেজনা অনুভব করছে। রানি চলে যেতেই বাড়ির পরিবেশটা এক অদ্ভুত ভারি রূপ নিল। চারদিকের দেয়ালগুলো এখন আর সুরক্ষার প্রতীক নয়, বরং তা এখন এক গোপন কারাগার, যেখানে শিকারী আর শিকার একে অপরের মুখোমুখি।

রবি ধীর পায়ে গিয়ে বাড়ির ভারী কাঠের ফটকটা লাগিয়ে দিল। সে যেন এক জাদুমন্ত্রে স্বামী থেকে অন্দরমহলের একচ্ছত্র অধিপতিতে রূপান্তরিত হলো। সখিনা বেগম কোনো কথা না বলে, কোনো ইশারা না করেই ধীর পায়ে তার কুঠুরির দিকে ফিরে গেলেন, যেন তিনি রবির আগমনের প্রতীক্ষায় প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখছেন। টুকটুকি তার পিছু না নিয়ে, বরং রবির সামনে এসে দাঁড়াল। সে রবির শার্টের কলারটা নিজের আঙুল দিয়ে আলতো করে ঠিক করে দিয়ে কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলল, "মা চলে গেছে, এখন আর কোনো দেয়াল নেই, কোনো ভয় নেই। বলো বাবা, দাদি কি তোমাকে একা নিজের কাছে আটকে রাখবে, নাকি আমি তোমাকে তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেব?"

রবি জানত, এই ৪৮ ঘণ্টা হবে অন্দরমহলের ইতিহাসের সবচেয়ে উত্তাল, সবচেয়ে অন্ধকার ও আদিম সময়। রানীর অনুপস্থিতি তাদের নিষিদ্ধ সম্পর্কের প্রতিটি বাঁধন আলগা করে দিয়েছে। এখন আর কারো নজর নেই, নেই কোনো সংকোচ, নেই কোনো বিচারক। রবি জানত, সখিনা আর টুকটুকি—দুই নারীই এখন তার সর্বস্ব পাওয়ার জন্য, তার ওপর আধিপত্য বিস্তারের জন্য মুখিয়ে আছে। অন্দরমহলের সেই গুমোট অন্ধকারে রবি যেন এক রাজার মতো প্রস্তুত হলো, যার রাজত্ব এখন কেবল কামনার তৃষ্ণায় পূর্ণ, আর যার সামনে দুই নারী এখন প্রবল প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।

## 

ফটক বন্ধ হওয়ার শব্দটা এই নিঝুম বাড়িতে একটা ভারী গম্ভীর প্রতিধ্বনি তুলল। রানি নেই, সংসারের সমস্ত নিয়ম যেন সেই শব্দের সাথে সাথে বাড়ির বাইরে নির্বাসিত হলো। রবি এখন একা—কিন্তু একাকীত্বের বদলে তার শিরায় বইছে এক প্রবল উন্মাদনা। অন্দরমহলের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে লতাপাতা, ধুলো আর সখিনা ও টুকটুকির শরীরের সেই আদিম গন্ধে।

রবি ঠিক করল, সে কোনো তাড়াহুড়ো করবে না। সে আজ এই অন্দরমহলের সম্রাট, আর তার এই সম্রাজ্যের দুই রানি আজ তার পায়ের কাছেই নত হবে।

সখিনা বেগমের কুঠুরির দিকে যাওয়ার জন্য রবি যখন পা বাড়াল, টুকটুকি তার হাত চেপে ধরল। তার স্পর্শে এবার আর কোনো লুকোচুরি নেই, আছে এক খোলা চ্যালেঞ্জ। 

"এতটা ব্যস্ত হয়ো না বাবা," টুকটুকি ফিসফিস করে বলল, "দাদির কাছে যাওয়ার আগে একটু আমার ঘরে এসে দেখ, আমি কত কিছু প্রস্তুত করে রেখেছি।"

রবি দেখল টুকটুকির পরনের শাড়িটা আজ তার স্বাভাবিক নিয়মের চেয়ে অনেক বেশি অগোছালো। সে রবির আঙুলগুলো ধরে নিজের শরীরের দিকে টেনে নিল। রবি টুকটুকির চোখে এক তীব্র প্রতিযোগিতার আগুন দেখতে পেল। ঠিক সেই মুহূর্তেই সখিনা বেগমের কুঠুরির দরজাটা অল্প ফাঁক হলো। সখিনার গম্ভীর অথচ কাঁপাকাঁপা কণ্ঠস্বর শোনা গেল, "রবি... অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে। প্রদীপ নিভে আসার আগেই তুই আয়।"

রবি এক অদ্ভুত পরিস্থিতিতে পড়ল। একপাশে মেয়ের উগ্র যৌবন আর অন্যদিকে মায়ের আদিম মমতা। সখিনা আর টুকটুকি—দুজনই রবির প্রতিটি মুহূর্ত দখল করে নিতে চায়। রবি টুকটুকির হাতটা ছাড়িয়ে দিয়ে সখিনার কুঠুরির দিকে এগিয়ে গেল। টুকটুকি ক্ষোভে ও ঈর্ষায় ফুঁসতে লাগল, কিন্তু সে জানে, দাদির কুঠুরিতে রবির সাথে তার নিজেরই জয় হবে।

সখিনার কুঠুরিতে পা রাখতেই রবি দেখল, সখিনা বেগম আজ তার সব পুরনো সাজসজ্জা ফিরিয়ে এনেছেন। কুঠুরির ভেতরে আগরবাতির ধোঁয়া আর তেলের গন্ধে এক আচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সখিনা তাকে কাছে টেনে নিয়ে জড়িয়ে ধরলেন।

 "তুই আমারই, রবি। এই দুই দিন শুধু তুই আর আমি। ওই মেয়েটাকে ভুলে যা।"

রবি সখিনার জড়িয়ে ধরা শরীরটার উত্তাপ অনুভব করছিল। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে দরজায় টোকা পড়ল। টুকটুকি বাইরে থেকে ফিসফিস করে বলল, 

"দাদি, আমি কি ভেতরে আসব? বাবা আজ আমারই থাকার কথা ছিল!"

সখিনা বেগম গর্জে উঠলেন, "তুই অসভ্য কোথাকার! তুই এখান থেকে যা।" কিন্তু রবি দেখল, সখিনার চোখ দুটো এবার আর শান্ত নেই, বরং সেখানে এক ভয়ংকর ক্রোধ আর কামনার সংমিশ্রণ। সে রবিকে আরও শক্ত করে চেপে ধরল, যেন রবি তার ব্যক্তিগত সম্পদ।

রবি অনুভব করল, এই দুই দিনের একাকীত্ব আসলে কোনো শান্তি নয়, বরং এটা এক ধ্বংসাত্মক লড়াই। সখিনা আর টুকটুকির এই রেষারেষি রবিকে এক চরম উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। রবি সখিনার দিকে তাকিয়ে একটা ধূর্ত হাসি হাসল। সে জানত, এই রাতটা তাকে কোনো একটিকে বেছে নিতে দেবে না, বরং তাকে দুজনেই নিজেদের দখলে নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠবে। অন্দরমহলের এই অন্ধকার প্রকোষ্ঠে আজ শুরু হলো এক নতুন খেলা, যার শেষ পরিণতির কথা হয়তো খোদ ঈশ্বরও ভাবেননি।


## 

সখিনার কুঠুরির সেই রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তে বাইরে টুকটুকির উপস্থিতি যেন বারুদে আগুনের স্ফুলিঙ্গ ফেলে দিল। সখিনা বেগম রবিকে নিজের বুকের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছিলেন, যেন তিনি তার হারানো যৌবন ও অধিকারকে এই মুহূর্তেই পুনর্দখল করতে চাইছেন। কিন্তু দরজার বাইরে টুকটুকির সেই অদম্য জেদ আর গলার স্বর কুঠুরির ভেতরের বাতাসকে বিষিয়ে তুলল।

"দাদি, তুমি কি ভাবছো তুমি বাবাকে আটকে রাখতে পারবে?" 

টুকটুকি এবার দরজায় জোরে লাথি মারল। "দরজা খোল! আমি জানি ভেতরে কী হচ্ছে। বাবা, তুমি কি দাদির পুরনো মায়ার জালে আবার আটকা পড়ে গেলে? আমার কাছে এসো, আমি তোমাকে যা দিতে পারব, তা ও কোনোদিন পারবে না!"

সখিনা বেগমের হাতের বাঁধন রবির পিঠের ওপর আরও শক্ত হলো। তিনি রবির কানের কাছে ফিসফিস করে বললেন, "ওর কথায় ভুলিস না, রবি। ও কিচ্ছু বোঝে না, ও শুধু ধ্বংস করতে জানে। তুই আজ সারারাত শুধু আমার হ।"

রবি কিন্তু চুপ করে রইল। সখিনার শরীরের উষ্ণতা আর টুকটুকির সেই উগ্র চ্যালেঞ্জ—দুটোই তাকে এক চরম উন্মাদনায় ভাসিয়ে দিচ্ছিল। রবি সখিনার হাত আলতো করে ছাড়িয়ে নিয়ে উঠে দাঁড়াল। কুঠুরির ভেতরকার প্রদীপের আলোয় সখিনার চোখে তখন এক অদ্ভুত আতঙ্ক, যেন তিনি বুঝতে পারছেন রবির নিয়ন্ত্রণ এখন আর তার হাতে নেই।

রবি ধীর পায়ে কুঠুরির দরজাটা খুলে দিল। দাঁড়িয়ে ছিল টুকটুকি, তার চোখের দৃষ্টিতে বিজয়ের এক ঝিলিক। সে রবির শার্টের ওপর হাত রেখে তাকে বাইরের বারান্দার দিকে টেনে নিয়ে গেল। সখিনা বেগম কুঠুরির অন্ধকার থেকে বের হয়ে এলেন, যেন তিনি কোনো এক প্রাচীন অতৃপ্ত আত্মা। তার পরনের শাড়িটা তখন অগোছালো, চুলের খোঁপা খুলে এলিয়ে পড়েছে কাঁধের ওপর।

"আজকের রাতটা কার হবে, তা আমি আজ দেখেই ছাড়ব," সখিনা বেগম গম্ভীর গলায় বললেন।

টুকটুকি অট্টহাসি দিয়ে উঠল। "রাত এখনো অনেক বাকি, দাদি। আমরা কেন ভাগাভাগি করব? বাবা কি আমাদের দুজনের নয়?"

এই কথাটি রবিকে এক অদ্ভুত শিহরণ দিল। টুকটুকির এই প্রস্তাব যেন অন্দরমহলের সমস্ত রাখঢাক চিরতরে ভেঙে চুরমার করে দিল। রবি তাদের দুজনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে দেখল, মা ও মেয়ে এখন কোনো লড়াইয়ে লিপ্ত নয়, বরং তারা দুজনেই রবির ওপর তাদের সম্মিলিত অধিকার প্রয়োগ করতে চাইছে। এটি কোনো সাধারণ কামনার খেলা নয়, এটি ছিল এক চরম বিকৃতির শুরু।

তারা দুজন রবির দুই হাত ধরে তাকে টেনে নিয়ে চলল বাড়ির মূল উঠোনের দিকে, যেখানে চাঁদের আলোয় সারা বাড়িটা এক ভৌতিক রূপ নিয়েছে। অন্দরমহলের সমস্ত দরজা-জানালা বন্ধ, কোনো প্রতিবেশী বা বাইরের মানুষ দেখার ভয় নেই। রানীর অনুপস্থিতি এই বাড়িটিকে যেন একটি অভিশপ্ত দ্বীপে পরিণত করেছে, যেখানে আইন নেই, নীতি নেই—শুধু আছে রবির পৌরুষের প্রতি এই দুই নারীর অন্ধ ও উন্মাদ তৃষ্ণা।

রবি মাঝখানে দাঁড়িয়ে বুঝতে পারল, এই ৪৮ ঘণ্টা সে কেবল ভোগের স্বাদ নেবে না, সে এই দুই নারীর সমস্ত অহংকার, সমস্ত লজ্জা আর সমস্ত মাতৃত্ব-কন্যার সম্পর্ককে ধুলোয় মিশিয়ে দেবে। সে এক হাত বাড়িয়ে সখিনাকে এবং অন্য হাত বাড়িয়ে টুকটুকিকে নিজের কাছে টেনে নিল। কুয়াশাঢাকা রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে তাদের দুজনের শরীর রবির চারপাশে এক মায়াবী জালে জড়িয়ে গেল। অন্দরমহলের ইতিহাস আজ লিখতে যাচ্ছে এক নতুন ও অন্ধকার অধ্যায়, যার সাক্ষী কেবল ওই ঝিঁঝিঁ পোকা আর স্তব্ধ আকাশ।


**

চাঁদের আলোয় স্নান করা উঠোনটি যেন এক অশুভ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সখিনা বেগম এবং টুকটুকি—মা ও মেয়ে—দুজনেই রবির দুই পাশে দাঁড়িয়ে তাকে ঘিরে ফেলেছে। তাদের চোখের চাহনি এখন আর প্রতিযোগী নয়, বরং এক আদিম শিকারির মতো। রবি মাঝখানে দাঁড়িয়ে অনুভব করল, তার পৌরুষ আজ এই অন্দরমহলের সমস্ত নিয়ম ভাঙার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

টুকটুকিই প্রথম এগিয়ে এল। সে রবির শার্টের বোতামগুলো ছিঁড়ে ফেলল এক ঝটকায়। সখিনা বেগমও পিছিয়ে থাকলেন না, তিনি রবির লুঙ্গিটি টেনে খোলার উপক্রম করলেন। তাদের দুজনের হাতের ছোঁয়ায় রবির শরীরের লোমকূপগুলো খাড়া হয়ে উঠল। সখিনা রবির বুকের পেশিতে তার পুরনো দাঁত দিয়ে আলতো কামড় বসালেন, আর টুকটুকি রবির পুরুষাঙ্গকে হাতের মুঠোয় নিয়ে দ্রুতগতিতে নাড়াচাড়া করতে শুরু করল।

"আজ আর কোনো দয়া নয়," ফিসফিস করে বলল টুকটুকি, "আজ আমরা তোমাকে আমাদের শরীরের ভেতর বিলীন করে নেব।"

রবি কোনো কথা না বলে দুই নারীকেই দুই হাতে জাপটে ধরল। সে তাদের টেনে নিয়ে গেল বাড়ির ঠিক মাঝখানে, যেখানে চাঁদের আলো এসে পড়েছে। সখিনা বেগম তার শাড়িটা পুরোপুরি খুলে ফেললেন, টুকটুকিও তার শরীরের শেষ বস্ত্রটি ত্যাগ করল। দুই নগ্ন নারীর শরীরে চাঁদের আলো যেন এক অভিশপ্ত মোহিনী ছায়া তৈরি করেছে। রবির সামনে এখন মাংসের এক সমুদ্র—একদিকে সখিনার প্রবীণ কিন্তু তৃষ্ণার্ত শরীর, অন্যদিকে টুকটুকির টাটকা ও উত্তেজিত যৌবন।

রবি প্রথমে সখিনাকে মাটিতে শুইয়ে দিল। সখিনা তার পা দুটো ছড়িয়ে দিলেন এক পরম আকুলতায়। রবি সখিনার যোনির ভেতরে তার শক্ত পুরুষাঙ্গটি প্রবেশ করাল। সখিনা এক তৃপ্তির আর্তনাদ করে রবির কাঁধে নখ গেঁথে দিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে টুকটুকি রবির পেছনে এসে দাঁড়াল এবং রবির পুরুষাঙ্গের গোড়ায় নিজের মুখ লাগিয়ে প্রবল বেগে চুষতে শুরু করল। সখিনার যোনির উত্তাপ আর টুকটুকির মুখের সেই লালা মেশানো উষ্ণতা রবির মস্তিষ্ককে আচ্ছন্ন করে ফেলল।

সখিনার গর্ভে রবির প্রতিটি ঘর্ষণ যেন এক একটি মহাপ্রলয়। টুকটুকি রবির পিঠে পিঠ ঠেকিয়ে নাচতে শুরু করল, তার হাত রবির পুরুষাঙ্গের সাথে সাথে উপরে নিচে দুলছে। সখিনার শরীরের ভাজে রবির পুরুষাঙ্গ যখন আড়ষ্ট হয়ে উঠছে, তখন টুকটুকি রবির কানে মুখ নিয়ে বলতে লাগল,

 "আরও জোরে বাবা, দাদিকে বোঝাও তুমি কার!"

সখিনা বেগম তখন উন্মাদিনীর মতো রবির কোমরে নিজের কোমর মেলাতে ব্যস্ত। তাদের শরীরের ঘর্ষণের শব্দে পুরো উঠোনটা যেন কেঁপে উঠছে। রবি অনুভব করল, সে কোনো সাধারণ সঙ্গম করছে না, সে এই দুই নারীর শরীরের গভীরে নিজের সমস্ত পুরুষত্বকে একাকার করে দিচ্ছে। সখিনা আর টুকটুকি এখন কোনো রক্তসম্পর্কিত মা-মেয়ে নয়, তারা এখন রবির কামনার শিকারী।

রবির উত্তেজনার মাত্রা যখন চরমে, তখন সে সখিনার যোনি থেকে পুরুষাঙ্গ বের করে নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে টুকটুকির পেছনে ঘুরে দাঁড়াল। টুকটুকি সামনে ঝুঁকে পড়ল, এবং রবি সরাসরি তার যোনির গভীরে আঘাত করতে শুরু করল। টুকটুকির যোনি থেকে বেরিয়ে আসা আর্তনাদ সখিনার কানে পৌঁছাতেই সখিনা নিজেও নিজের আঙুল দিয়ে রবির পুরুষাঙ্গের সংস্পর্শে আসা যোনিকে খুঁড়তে লাগলেন।

অন্দরমহলের এই উন্মাদনায় রবি এখন একাধারে দুই নারীর শরীরের অধিপতি। তার প্রতিটি ঝটকায় সখিনা আর টুকটুকি বারবার চরম তৃপ্তির শিখরে পৌঁছে যাচ্ছে। চাঁদের আলোর নিচে তাদের এই নগ্ন মিলন যেন এক আদিম ধর্মের মতো, যেখানে লজ্জা বা পাপের কোনো অস্তিত্ব নেই—আছে কেবল শরীরের তৃষ্ণা আর ভোগের চরম উল্লাস। রবির শরীরের সমস্ত বীর্য যেন এই দুই নারীর তৃষ্ণার্ত গর্ভ গ্রহণ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। অন্দরমহলের ইতিহাসে আজকের এই রাতটি হয়ে থাকল এক অমোঘ, রগরগে ও সীমাহীন অন্ধকার তৃপ্তির মহোৎসব।



চাঁদের আলোয় ভেজা উঠোনের সেই চরম উন্মাদনার পর, অন্দরমহলের আবহাওয়া যেন আরও ভারী হয়ে উঠল। কামনার নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা সখিনা আর টুকটুকি তখন ক্লান্তিতে বিছিয়ে পড়ছে, কিন্তু রবির পৌরুষ তখনো শান্ত হয়নি। তার শরীরের প্রতিটি শিরা তখন প্রতিশোধের মতো তৃষ্ণার্ত। সে জানে, এই রাতের প্রতিটি মুহূর্ত তাদের জীবনের সব নিয়ম ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে।

রবি এবার সখিনাকে এবং টুকটুকিকে দুই হাতে টেনে তুলল। সখিনার শরীরের ভাঁজে তখনো রবির শরীরের ঘাম  শুকিয়ে লেগে আছে, অন্যদিকে টুকটুকির শরীর তখনো যোনির জ্বালায় থরথর করে কাঁপছে। রবি তাদের বাড়ির অন্দরমহলের গোপন কুঠুরিতে নিয়ে এল, যেখানে প্রদীপের আলো এখন একদমই ক্ষীণ। সে সখিনাকে বিছানায় শোয়াল, আর টুকটুকিকে বলল তার ওপর চড়তে।

টুকটুকি তার দাদির শরীরের ওপর বসে রবির পুরুষাঙ্গকে নিজের যোনির গভীরে ঢোকাল। সখিনা নিচে থেকে টুকটুকির কোমর চেপে ধরল, যেন সে নিজেই রবির সাথে মিলিত হচ্ছে। রবি তখন সখিনার স্তনবৃন্তগুলো নিজের দাঁত দিয়ে খামচে ধরছে। সখিনা আর টুকটুকি—একজন নিচে থেকে আর একজন ওপর থেকে—রবির শরীরের সাথে তাল মিলিয়ে দোলাতে লাগল। রবি যেন তাদের দুজনের মাঝখানে এক পিষ্ট হতে থাকা মাংসখণ্ড, কিন্তু সেই পিষ্ট হওয়ার ভেতরেই সে খুঁজে পেল তার জীবনের চরমতম সুখ।

তাদের গোঙানি আর চিৎকার এখন আর কোনো গোপন রহস্য নয়, বরং তা অন্দরমহলের দেওয়ালে দেওয়ালে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। সখিনা একসময় টুকটুকির ঠোঁটে ঠোঁট রেখে গভীর চুম্বনে জড়িয়ে ধরল, যেন তারা দুজনই এই নিষিদ্ধ সম্পর্কে সমান অংশীদার। রবি দেখল, মা আর মেয়ে একে অপরের স্তন চুষছে, আর সে তাদের দুজনের শরীরের সংযোগস্থলে নিজের পৌরুষের খেলা চালিয়ে যাচ্ছে।

রবি একসময় তাদের দুজনের শরীরের সংযোগস্থল থেকে নিজেকে বের করে নিল। সে সখিনাকে উল্টে দিয়ে তার পশ্চাৎদেশ উঁচিয়ে ধরল, আর টুকটুকি তখন হাঁটু গেড়ে বসে সখিনার যোনির সামনে নিজেকে মেলে ধরল। রবি সখিনার মলদ্বারে তার পুরুষাঙ্গ ঢোকাতে শুরু করল। সখিনার যন্ত্রণার আর্তনাদ আর টুকটুকির নিজের যোনিকে রবির উত্তেজনার দিকে এগিয়ে দেওয়ার দৃশ্যটি ছিল অকল্পনীয়। 

রবি যেন সখিনাকে ছিঁড়ে ফেলার মতো প্রবল বেগে আঘাত করতে লাগল, আর সখিনার প্রতিটি চিৎকারে টুকটুকি নিজে নিজের যোনির ভেতরে হাত ঢুকিয়ে উত্তেজিত হতে লাগল।
কুঠুরির সেই আঁধার কোণে তাদের মিলন এখন আর কেবল শরীরের নয়, আত্মার চরম বিকৃতির এক উৎসবে পরিণত হয়েছে। সখিনার শরীর যখন রবির প্রতিটি প্রবল আঘাতে থরথর করে কাঁপছে, তখন টুকটুকি রবির পিঠ জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে উঠল—

"বাবা, আজ আমাদের নিঃশেষ করে দাও!"

রবি তার সমস্ত শক্তি দিয়ে সখিনার গভীর থেকে গভীরে প্রবেশ করল। তার বীর্যের উষ্ণ ধারা সখিনার মলদ্বারের অন্দরে গিয়ে আছড়ে পড়ল, আর একইসাথে টুকটুকির হাত রবির পুরুষাঙ্গের ওপর সজোরে চাপ দিল। তারা তিনজনই এক চরম শিখরে পৌঁছে স্তব্ধ হয়ে গেল। কুঠুরির বাতাসে তখন কামনার গন্ধ, ঘামের নোনতা স্বাদ আর নিষিদ্ধ মিলনের আর্তনাদ ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট রইল না। অন্দরমহলের এই অভিশপ্ত রাত্রে রবি প্রমাণ করল, সে কেবল এই বাড়ির পুরুষ নয়, সে এই বাড়ির অধীশ্বর—যেখানে মা ও মেয়ে তার কামনার বেদীমূলে আজ চিরতরে বিলীন হয়ে গেল।

**

সেই অভিশপ্ত রাত্রের চরম উত্তেজনার পর, কুঠুরির ভেতরে নেমে এল এক নিথর নীরবতা। প্রদীপের শিখাটা তখন শেষের দিকে, লকলক করে কেঁপে উঠে নিভে যাওয়ার অপেক্ষায়। সখিনা বেগম আর টুকটুকি—একই বিছানায় রবির দুই পাশে পড়ে আছে, যেন যুদ্ধের পরে দুটি ক্লান্ত সেনা। তাদের শরীরের ভাঁজে ভাঁজে তখনো সেই কামনার শেষ চিহ্নগুলো লেগে আছে, আর কুঠুরির বাতাসে ভারী হয়ে আছে ঘাম, তৃপ্তি আর এক অদ্ভুত অপরাধবোধের মিশ্রণ।

রবি বিছানায় আধশোয়া হয়ে বসে রইল। তার শরীরের প্রতিটি পেশি তখনো থরথর করে কাঁপছে। সে নিজের হাতের তালুর দিকে তাকাল, যেখানে এখনো টুকটুকির শরীরের উষ্ণতা লেগে আছে। তারপর দৃষ্টি গেল সখিনার বিবর্ণ মুখের দিকে। মাতৃত্ব আর নারীত্বের এই চূড়ান্ত সংমিশ্রণ রবিকে এক অদ্ভুত শূন্যতায় ভাসিয়ে দিয়েছে। সে এখন জানে, সে আর সাধারণ কোনো মানুষ নেই। সে এই অন্দরমহলের এক অন্ধকার সম্রাট, যার আদেশ ছাড়া এই ঘরে বাতাসও নড়াচড়া করে না।
হঠাৎ টুকটুকি চোখ মেলল। লন্ঠনের ক্ষীণ আলোয় তার চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছিল। সে রবির বুকের ওপর মাথা রেখে ফিসফিস করে বলল,

 "বাবা, রানি মা ফিরে এলে কি সব শেষ হয়ে যাবে? এই যে স্বর্গ আমরা তৈরি করলাম, তা কি চিরকাল এমন গোপন থাকবে?"

সখিনা বেগমও চোখ খুললেন। তার কণ্ঠে এক অদ্ভুত দৃঢ়তা। 

"রানি ফিরুক, তাতে কিচ্ছু যায় আসে না। রানি এই বাড়ির স্ত্রী হতে পারে, কিন্তু রবির হৃদয়ের আর শরীরের মালিক আমরা। এই অন্দরমহল আমাদের। বাইরের পৃথিবীর নিয়ম এখানে এসে থমকে যায়।"

রবি তাদের দুজনের দিকে তাকাল। তার মনে হলো, এরা দুজন এখন তার শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মতো—আলাদা করা অসম্ভব। সে সখিনার কপালে এবং টুকটুকির চুলে আলতো করে হাত বোলাল। বাইরের দুনিয়ায় রানি হয়তো এখনো তার বাবার শয্যাপাশে দুশ্চিন্তা করছে, আর এদিকে এই অন্দরমহলে এক নতুন ধর্মের জন্ম হয়েছে, যেখানে ভোগই একমাত্র উপাসনা।
রবি উঠে দাঁড়াল। তার শরীরে এখনো সেই অমোঘ তৃপ্তির রেশ। সে কুঠুরির দরজাটা একটু ফাঁক করে বাইরের উঠোনের দিকে তাকাল। চাঁদের আলোয় সারা বাড়িটা শান্ত, কিন্তু রবি জানে—এই শান্ত অন্দরমহল আর আগের মতো নেই। রানীর অনুপস্থিতির এই ৪৮ ঘণ্টা তাদের জীবনের সমস্ত সামাজিক পর্দা ছিঁড়ে ফেলেছে। তারা এখন এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে, যেখানে ফিরে যাওয়ার রাস্তা চিরতরে বন্ধ।

রবি আবার বিছানায় ফিরল। সখিনা আর টুকটুকি তাকে আবার নিজেদের মাঝখানে জড়িয়ে ধরল। রবি অনুভব করল, এই দুই নারীর শরীরের উষ্ণতা যেন তাকে এক অভিশপ্ত অমরত্ব দিচ্ছে। বাইরের জগত থেকে তারা বিচ্ছিন্ন, বাইরের শাসন থেকে মুক্ত। কুঠুরির অন্ধকার তাকে নতুন এক সংকল্প দিল—রানি যখন ফিরবে, তখন সে আর আগের সেই সরল রবি থাকবে না। সে হবে এক নতুন শাসক, যে এই মা ও মেয়ের শরীরকে তার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহার করবে।

রাত শেষ হতে চলল। অন্দরমহলের গহীন অন্ধকার ধীরে ধীরে ভোরের ধূসর আলোয় মিশে যাচ্ছে। কিন্তু রবির হৃদয়ের অন্ধকার যেন ক্রমশই গভীর হচ্ছে। সে জানে, এই নিষিদ্ধ মিলনের নেশা তাকে আর কখনো সুস্থ জীবনের পথে ফিরতে দেবে না। সে এখন এই অন্দরমহলের বন্দী রাজা, আর তার কারারক্ষী হলো এই মা ও মেয়ে, যারা তাকে ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারে না। অন্দরমহলের এই গোপন ইতিহাস আজ এক নতুন ও অন্ধকার অধ্যায়ে পদার্পণ করল, যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত এখন কেবল নিষিদ্ধ আনন্দের প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছে।





গহীন গ্রামের এই অন্দরমহলটি এখন এক বিমূর্ত নাট্যমঞ্চ, যেখানে পর্দা পড়ে না কখনোই। সময়ের স্রোতে রবির জীবন এক অদ্ভুত, শ্বাসরুদ্ধকর ভারসাম্যে এসে ঠেকেছে। বাইরে থেকে সে এখনো গ্রামের সেই সহজ-সরল পরিশ্রমী কৃষক, যাকে সবাই সমীহ করে। কিন্তু দরজার কপাট বন্ধ হলেই শুরু হয় রবির দ্বিমাত্রিক রাজত্ব। একপাশে সখিনা বেগমের কুঠুরি, যেখানে মাতৃত্বের গন্ধ আর পুরনো স্মৃতির ধূপের কুয়াশা; অন্যপাশে টুকটুকির ঘর, যেখানে কেবলই যৌবনের উত্তাপ আর উগ্র কামনার হাতছানি।

রবির দিনলিপি এখন দুই ভাগে বিভক্ত। সখিনার কুঠুরিতে সে ফিরে যায় তার হারানো শৈশবে। সেখানে সে সখিনার শ্লথ স্তনবৃন্তে মুখ ডুবিয়ে তৃপ্ত হয়, যা তাকে সমস্ত পৃথিবীর দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি দেয়। সখিনার অভিজ্ঞ হাতের স্পর্শ আর তার শরীরের প্রতিটি ভাঁজে লুকিয়ে থাকা মায়া রবিকে এক অদ্ভুত প্রশান্তি দেয়। অন্যদিকে টুকটুকির ঘরে গেলেই সে যেন আগ্নেয়গিরির ওপর পা রাখে। টুকটুকির শরীর যেন প্রতি মুহূর্তে নতুন কোনো পরীক্ষার জন্য তৈরি—সেখানে প্রতিটি রাত হয় রবির পৌরুষের এক অগ্নিপরীক্ষা।

সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো এই ত্রিমাত্রিক সম্পর্কের সমঝোতা। সখিনা বেগম এবং টুকটুকির মধ্যে কোনো রেষারেষি নেই। তারা একে অপরকে শত্রু নয়, বরং সহযোগী হিসেবে মেনে নিয়েছে। সখিনা যখন বার্ধক্যের ক্লান্তিতে নুইয়ে পড়েন, তিনি সস্নেহে রবিকে ঠেলে দেন মেয়ের ঘরের দিকে। আবার টুকটুকি যখন রবির তীব্রতায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে ক্লান্তি অনুভব করে, তখন সে নিজেও রবিকে মায়ের কাছে পাঠিয়ে দেয়। এই যেন এক অঘোষিত, নিভৃত চুক্তি—রবিকে ভাগ করে নেওয়ার এই সমঝোতা তাদের ঘরের বাতাসে এক অদ্ভুত, ঘন বিষাদ আর তৃপ্তির আবেশ ছড়িয়ে রাখে।।

রানি—যাকে তারা সবাই মিলে এক কৃত্রিম বিশ্বাসের দেয়ালে আটকে রেখেছে—সে এখনো সবকিছুর বাইরে। রানীর সরল হাসিমুখ রবির বুকে কখনো কখনো অপরাধবোধের কাঁটা বিধিয়ে দেয়, কিন্তু সেই কষ্ট স্থায়ী হয় না। রবির সমস্ত ইন্দ্রিয় তখন আচ্ছন্ন থাকে সখিনা বা টুকটুকির শরীরের মাদকতায়। রানীর পাশে শুয়েও সে টের পায় না রানীর হৃদস্পন্দন, কারণ তার মনের প্রতিটি কোণে তখন সখিনার স্তনের স্বাদ কিংবা টুকটুকির শরীরের উষ্ণ ঘর্ষণের স্মৃতি। রানি তার কাছে এখন কেবলই একজন সহযাত্রী, যার অস্তিত্বের কোনো গুরুত্বই রবির এই নিষিদ্ধ জগতে নেই।

রবি এখন নিজেই নিজের এই অশুভ জগতের কারিগর। সে জানে, এই অন্ধকার পথ তাকে ধ্বংসের কিনারাতেই নিয়ে যাবে। হয়তো একদিন গ্রামবাসী জানবে, হয়তো সেদিন আকাশ ভেঙে পড়বে, কিন্তু সেই ধ্বংসের মাঝে যে এক অদ্ভুত, মাদকতাময় তৃপ্তি আছে—তা তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। রবি এখন আর নিজেকে সাধারণ মানুষ মনে করে না। সে নিজেকে মনে করে এই অন্দরমহলের একচ্ছত্র অধিপতি, এক অন্ধকার ঈশ্বর, যার নির্দেশে মা আর মেয়ে তার কামনার বেদীমূলে নিজেদের সমর্পণ করে রেখেছে।
প্রতিটি রাত কাটে নতুন কোনো পরীক্ষা আর তৃপ্তির সন্ধানে। রবি এখন আর পেছনে ফিরে তাকাতে চায় না, কারণ ফিরে যাওয়ার মতো কোনো পবিত্রতা আর অবশিষ্ট নেই তার জীবনে। সে এখন এই অন্ধকার অভ্যাসের এক অমোঘ দাস। অন্দরমহলের দুই নারী—মা আর মেয়ে—যেন রবির জীবনের দুটি ভিন্ন রঙের আয়না। রবি সেই আয়নায় নিজেকে প্রতিদিন নতুন করে দেখে, আর প্রতিটি দৃশ্যে সে নিজেকে আরও একটু বেশি হারিয়ে ফেলে সেই নিষিদ্ধ মায়ার গোলকধাঁধায়।

গ্রামের শান্ত, স্নিগ্ধ বাতাসের ওপর যেন হঠাৎ এক বিষাক্ত অস্থিরতার কালো ছায়া নেমে এল। পাশের গ্রাম থেকে দুঃসংবাদ এল—রানীর বাবা, অর্থাৎ রবির শ্বশুর হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ। খবরটা শোনামাত্র রানীর সমস্ত স্বাভাবিকতা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। দুশ্চিন্তায় তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল এবং সে রবির কাছে বায়না ধরল বাবাকে একবার দেখে আসার জন্য। রবি এক মুহূর্তের জন্য দ্বিধাভরে রানীর চোখের দিকে তাকাল, কিন্তু ভেতরে ভেতরে এক অশুভ স্বস্তি তাকে গ্রাস করছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝিয়ে সে যখন রাজি হলো, তখন তার মনের গভীর কোণে এক অন্ধকার উল্লাস খেলে গেল। এই ৪৮ ঘণ্টার জন্য বাড়ির অন্দরমহলের সমস্ত নিয়ম, সমস্ত শাসন আর নজরদারির শেকল ছিঁড়ে যাচ্ছে। রবি মনে মনে হিসাব কষল—সামনে দুটো দিন, এই সময়টাতে সে এই অন্দরমহলের রাজা, আর মা ও মেয়ে তার অগোচরেই তৈরি হচ্ছে তার ভোগের রাজকীয় উপচার হিসেবে।

পরদিন ভোরে, ভোরের আলো ফোটার আগেই রানি রওনা হলো। যাওয়ার সময় সখিনা বেগম আর টুকটুকিকে বারবার সংসারের দেখাশোনা করার তাগিদ দিয়ে গেল, যেন এক আগন্তুককে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছে। রানি যখন ঘরের সীমানা পেরিয়ে বাইরে পা রাখল, তখন তার পেছনে পড়ে রইল সখিনা আর টুকটুকি। রানীর বিদায়ের সাথে সাথেই বাড়ির বাতাসে এক চাপা উত্তেজনা আর বাতাসের গতি যেন বদলে গেল। রানি যতক্ষণ বাড়িতে ছিল, ততক্ষণ এক অদৃশ্য প্রাচীর ছিল তাদের মাঝে; এখন সেই প্রাচীর ধূলিসাৎ।

রবি যখন সখিনা বেগম আর টুকটুকির দিকে তাকাল, তখন তাদের চোখের দৃষ্টিতে এক তীব্র তৃষ্ণা সে স্পষ্ট দেখতে পেল। সখিনার কুঠুরির সেই আঁধার আর টুকটুকির ঘরের পর্দাগুলো যেন তাকে নতুন করে হাতছানি দিয়ে ডাকছিল। এতদিন রানীর উপস্থিতিতে যেটুকু রাখঢাক, যেটুকু সামাজিক ভনিতা ছিল, তা এখন পুরোপুরি উধাও। রবি রানীর যাওয়ার পথের দিকে শেষবার তাকিয়ে নিশ্চিত হলো—আগামী ৪৮ ঘণ্টা এই অন্দরমহলে সে-ই একমাত্র পুরুষ, আর এই অন্দরমহল এখন তার ব্যক্তিগত কামনার শিকারশালা।

রানি যখন গ্রাম ছাড়ল, রবি তার ঠোঁটের কোণে এক কুটিল হাসির রেখা অনুভব করল। সখিনা বেগম বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন, তার চোখে সেই পুরনো, আদিম অধিকারবোধ—যেন রবি শুধু তারই। আর অন্যদিকে টুকটুকি তার পিঠের দিকে দাঁড়িয়ে এক দুষ্টু হাসিতে রবির শরীরের দিকে তাকিয়ে রইল, যেন সে রবির প্রতিটি পেশির উত্তেজনা অনুভব করছে। রানি চলে যেতেই বাড়ির পরিবেশটা এক অদ্ভুত ভারি রূপ নিল। চারদিকের দেয়ালগুলো এখন আর সুরক্ষার প্রতীক নয়, বরং তা এখন এক গোপন কারাগার, যেখানে শিকারী আর শিকার একে অপরের মুখোমুখি।
Reply
#7

রবি ধীর পায়ে গিয়ে বাড়ির ভারী কাঠের ফটকটা লাগিয়ে দিল। সে যেন এক জাদুমন্ত্রে স্বামী থেকে অন্দরমহলের একচ্ছত্র অধিপতিতে রূপান্তরিত হলো। সখিনা বেগম কোনো কথা না বলে, কোনো ইশারা না করেই ধীর পায়ে তার কুঠুরির দিকে ফিরে গেলেন, যেন তিনি রবির আগমনের প্রতীক্ষায় প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখছেন। টুকটুকি তার পিছু না নিয়ে, বরং রবির সামনে এসে দাঁড়াল। সে রবির শার্টের কলারটা নিজের আঙুল দিয়ে আলতো করে ঠিক করে দিয়ে কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলল, "মা চলে গেছে, এখন আর কোনো দেয়াল নেই, কোনো ভয় নেই। বলো বাবা, দাদি কি তোমাকে একা নিজের কাছে আটকে রাখবে, নাকি আমি তোমাকে তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেব?"

রবি জানত, এই ৪৮ ঘণ্টা হবে অন্দরমহলের ইতিহাসের সবচেয়ে উত্তাল, সবচেয়ে অন্ধকার ও আদিম সময়। রানীর অনুপস্থিতি তাদের নিষিদ্ধ সম্পর্কের প্রতিটি বাঁধন আলগা করে দিয়েছে। এখন আর কারো নজর নেই, নেই কোনো সংকোচ, নেই কোনো বিচারক। রবি জানত, সখিনা আর টুকটুকি—দুই নারীই এখন তার সর্বস্ব পাওয়ার জন্য, তার ওপর আধিপত্য বিস্তারের জন্য মুখিয়ে আছে। অন্দরমহলের সেই গুমোট অন্ধকারে রবি যেন এক রাজার মতো প্রস্তুত হলো, যার রাজত্ব এখন কেবল কামনার তৃষ্ণায় পূর্ণ, আর যার সামনে দুই নারী এখন প্রবল প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।

## 

ফটক বন্ধ হওয়ার শব্দটা এই নিঝুম বাড়িতে একটা ভারী গম্ভীর প্রতিধ্বনি তুলল। রানি নেই, সংসারের সমস্ত নিয়ম যেন সেই শব্দের সাথে সাথে বাড়ির বাইরে নির্বাসিত হলো। রবি এখন একা—কিন্তু একাকীত্বের বদলে তার শিরায় বইছে এক প্রবল উন্মাদনা। অন্দরমহলের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে লতাপাতা, ধুলো আর সখিনা ও টুকটুকির শরীরের সেই আদিম গন্ধে।

রবি ঠিক করল, সে কোনো তাড়াহুড়ো করবে না। সে আজ এই অন্দরমহলের সম্রাট, আর তার এই সম্রাজ্যের দুই রানি আজ তার পায়ের কাছেই নত হবে।

সখিনা বেগমের কুঠুরির দিকে যাওয়ার জন্য রবি যখন পা বাড়াল, টুকটুকি তার হাত চেপে ধরল। তার স্পর্শে এবার আর কোনো লুকোচুরি নেই, আছে এক খোলা চ্যালেঞ্জ। 

"এতটা ব্যস্ত হয়ো না বাবা," টুকটুকি ফিসফিস করে বলল, "দাদির কাছে যাওয়ার আগে একটু আমার ঘরে এসে দেখ, আমি কত কিছু প্রস্তুত করে রেখেছি।"

রবি দেখল টুকটুকির পরনের শাড়িটা আজ তার স্বাভাবিক নিয়মের চেয়ে অনেক বেশি অগোছালো। সে রবির আঙুলগুলো ধরে নিজের শরীরের দিকে টেনে নিল। রবি টুকটুকির চোখে এক তীব্র প্রতিযোগিতার আগুন দেখতে পেল। ঠিক সেই মুহূর্তেই সখিনা বেগমের কুঠুরির দরজাটা অল্প ফাঁক হলো। সখিনার গম্ভীর অথচ কাঁপাকাঁপা কণ্ঠস্বর শোনা গেল, "রবি... অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে। প্রদীপ নিভে আসার আগেই তুই আয়।"

রবি এক অদ্ভুত পরিস্থিতিতে পড়ল। একপাশে মেয়ের উগ্র যৌবন আর অন্যদিকে মায়ের আদিম মমতা। সখিনা আর টুকটুকি—দুজনই রবির প্রতিটি মুহূর্ত দখল করে নিতে চায়। রবি টুকটুকির হাতটা ছাড়িয়ে দিয়ে সখিনার কুঠুরির দিকে এগিয়ে গেল। টুকটুকি ক্ষোভে ও ঈর্ষায় ফুঁসতে লাগল, কিন্তু সে জানে, দাদির কুঠুরিতে রবির সাথে তার নিজেরই জয় হবে।

সখিনার কুঠুরিতে পা রাখতেই রবি দেখল, সখিনা বেগম আজ তার সব পুরনো সাজসজ্জা ফিরিয়ে এনেছেন। কুঠুরির ভেতরে আগরবাতির ধোঁয়া আর তেলের গন্ধে এক আচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সখিনা তাকে কাছে টেনে নিয়ে জড়িয়ে ধরলেন।

 "তুই আমারই, রবি। এই দুই দিন শুধু তুই আর আমি। ওই মেয়েটাকে ভুলে যা।"

রবি সখিনার জড়িয়ে ধরা শরীরটার উত্তাপ অনুভব করছিল। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে দরজায় টোকা পড়ল। টুকটুকি বাইরে থেকে ফিসফিস করে বলল, 

"দাদি, আমি কি ভেতরে আসব? বাবা আজ আমারই থাকার কথা ছিল!"

সখিনা বেগম গর্জে উঠলেন, "তুই অসভ্য কোথাকার! তুই এখান থেকে যা।" কিন্তু রবি দেখল, সখিনার চোখ দুটো এবার আর শান্ত নেই, বরং সেখানে এক ভয়ংকর ক্রোধ আর কামনার সংমিশ্রণ। সে রবিকে আরও শক্ত করে চেপে ধরল, যেন রবি তার ব্যক্তিগত সম্পদ।

রবি অনুভব করল, এই দুই দিনের একাকীত্ব আসলে কোনো শান্তি নয়, বরং এটা এক ধ্বংসাত্মক লড়াই। সখিনা আর টুকটুকির এই রেষারেষি রবিকে এক চরম উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। রবি সখিনার দিকে তাকিয়ে একটা ধূর্ত হাসি হাসল। সে জানত, এই রাতটা তাকে কোনো একটিকে বেছে নিতে দেবে না, বরং তাকে দুজনেই নিজেদের দখলে নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠবে। অন্দরমহলের এই অন্ধকার প্রকোষ্ঠে আজ শুরু হলো এক নতুন খেলা, যার শেষ পরিণতির কথা হয়তো খোদ ঈশ্বরও ভাবেননি।


## 

সখিনার কুঠুরির সেই রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তে বাইরে টুকটুকির উপস্থিতি যেন বারুদে আগুনের স্ফুলিঙ্গ ফেলে দিল। সখিনা বেগম রবিকে নিজের বুকের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছিলেন, যেন তিনি তার হারানো যৌবন ও অধিকারকে এই মুহূর্তেই পুনর্দখল করতে চাইছেন। কিন্তু দরজার বাইরে টুকটুকির সেই অদম্য জেদ আর গলার স্বর কুঠুরির ভেতরের বাতাসকে বিষিয়ে তুলল।

"দাদি, তুমি কি ভাবছো তুমি বাবাকে আটকে রাখতে পারবে?" 

টুকটুকি এবার দরজায় জোরে লাথি মারল। "দরজা খোল! আমি জানি ভেতরে কী হচ্ছে। বাবা, তুমি কি দাদির পুরনো মায়ার জালে আবার আটকা পড়ে গেলে? আমার কাছে এসো, আমি তোমাকে যা দিতে পারব, তা ও কোনোদিন পারবে না!"

সখিনা বেগমের হাতের বাঁধন রবির পিঠের ওপর আরও শক্ত হলো। তিনি রবির কানের কাছে ফিসফিস করে বললেন, "ওর কথায় ভুলিস না, রবি। ও কিচ্ছু বোঝে না, ও শুধু ধ্বংস করতে জানে। তুই আজ সারারাত শুধু আমার হ।"

রবি কিন্তু চুপ করে রইল। সখিনার শরীরের উষ্ণতা আর টুকটুকির সেই উগ্র চ্যালেঞ্জ—দুটোই তাকে এক চরম উন্মাদনায় ভাসিয়ে দিচ্ছিল। রবি সখিনার হাত আলতো করে ছাড়িয়ে নিয়ে উঠে দাঁড়াল। কুঠুরির ভেতরকার প্রদীপের আলোয় সখিনার চোখে তখন এক অদ্ভুত আতঙ্ক, যেন তিনি বুঝতে পারছেন রবির নিয়ন্ত্রণ এখন আর তার হাতে নেই।

রবি ধীর পায়ে কুঠুরির দরজাটা খুলে দিল। দাঁড়িয়ে ছিল টুকটুকি, তার চোখের দৃষ্টিতে বিজয়ের এক ঝিলিক। সে রবির শার্টের ওপর হাত রেখে তাকে বাইরের বারান্দার দিকে টেনে নিয়ে গেল। সখিনা বেগম কুঠুরির অন্ধকার থেকে বের হয়ে এলেন, যেন তিনি কোনো এক প্রাচীন অতৃপ্ত আত্মা। তার পরনের শাড়িটা তখন অগোছালো, চুলের খোঁপা খুলে এলিয়ে পড়েছে কাঁধের ওপর।

"আজকের রাতটা কার হবে, তা আমি আজ দেখেই ছাড়ব," সখিনা বেগম গম্ভীর গলায় বললেন।

টুকটুকি অট্টহাসি দিয়ে উঠল। "রাত এখনো অনেক বাকি, দাদি। আমরা কেন ভাগাভাগি করব? বাবা কি আমাদের দুজনের নয়?"

এই কথাটি রবিকে এক অদ্ভুত শিহরণ দিল। টুকটুকির এই প্রস্তাব যেন অন্দরমহলের সমস্ত রাখঢাক চিরতরে ভেঙে চুরমার করে দিল। রবি তাদের দুজনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে দেখল, মা ও মেয়ে এখন কোনো লড়াইয়ে লিপ্ত নয়, বরং তারা দুজনেই রবির ওপর তাদের সম্মিলিত অধিকার প্রয়োগ করতে চাইছে। এটি কোনো সাধারণ কামনার খেলা নয়, এটি ছিল এক চরম বিকৃতির শুরু।

তারা দুজন রবির দুই হাত ধরে তাকে টেনে নিয়ে চলল বাড়ির মূল উঠোনের দিকে, যেখানে চাঁদের আলোয় সারা বাড়িটা এক ভৌতিক রূপ নিয়েছে। অন্দরমহলের সমস্ত দরজা-জানালা বন্ধ, কোনো প্রতিবেশী বা বাইরের মানুষ দেখার ভয় নেই। রানীর অনুপস্থিতি এই বাড়িটিকে যেন একটি অভিশপ্ত দ্বীপে পরিণত করেছে, যেখানে আইন নেই, নীতি নেই—শুধু আছে রবির পৌরুষের প্রতি এই দুই নারীর অন্ধ ও উন্মাদ তৃষ্ণা।

রবি মাঝখানে দাঁড়িয়ে বুঝতে পারল, এই ৪৮ ঘণ্টা সে কেবল ভোগের স্বাদ নেবে না, সে এই দুই নারীর সমস্ত অহংকার, সমস্ত লজ্জা আর সমস্ত মাতৃত্ব-কন্যার সম্পর্ককে ধুলোয় মিশিয়ে দেবে। সে এক হাত বাড়িয়ে সখিনাকে এবং অন্য হাত বাড়িয়ে টুকটুকিকে নিজের কাছে টেনে নিল। কুয়াশাঢাকা রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে তাদের দুজনের শরীর রবির চারপাশে এক মায়াবী জালে জড়িয়ে গেল। অন্দরমহলের ইতিহাস আজ লিখতে যাচ্ছে এক নতুন ও অন্ধকার অধ্যায়, যার সাক্ষী কেবল ওই ঝিঁঝিঁ পোকা আর স্তব্ধ আকাশ।


**

চাঁদের আলোয় স্নান করা উঠোনটি যেন এক অশুভ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সখিনা বেগম এবং টুকটুকি—মা ও মেয়ে—দুজনেই রবির দুই পাশে দাঁড়িয়ে তাকে ঘিরে ফেলেছে। তাদের চোখের চাহনি এখন আর প্রতিযোগী নয়, বরং এক আদিম শিকারির মতো। রবি মাঝখানে দাঁড়িয়ে অনুভব করল, তার পৌরুষ আজ এই অন্দরমহলের সমস্ত নিয়ম ভাঙার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

টুকটুকিই প্রথম এগিয়ে এল। সে রবির শার্টের বোতামগুলো ছিঁড়ে ফেলল এক ঝটকায়। সখিনা বেগমও পিছিয়ে থাকলেন না, তিনি রবির লুঙ্গিটি টেনে খোলার উপক্রম করলেন। তাদের দুজনের হাতের ছোঁয়ায় রবির শরীরের লোমকূপগুলো খাড়া হয়ে উঠল। সখিনা রবির বুকের পেশিতে তার পুরনো দাঁত দিয়ে আলতো কামড় বসালেন, আর টুকটুকি রবির পুরুষাঙ্গকে হাতের মুঠোয় নিয়ে দ্রুতগতিতে নাড়াচাড়া করতে শুরু করল।

"আজ আর কোনো দয়া নয়," ফিসফিস করে বলল টুকটুকি, "আজ আমরা তোমাকে আমাদের শরীরের ভেতর বিলীন করে নেব।"

রবি কোনো কথা না বলে দুই নারীকেই দুই হাতে জাপটে ধরল। সে তাদের টেনে নিয়ে গেল বাড়ির ঠিক মাঝখানে, যেখানে চাঁদের আলো এসে পড়েছে। সখিনা বেগম তার শাড়িটা পুরোপুরি খুলে ফেললেন, টুকটুকিও তার শরীরের শেষ বস্ত্রটি ত্যাগ করল। দুই নগ্ন নারীর শরীরে চাঁদের আলো যেন এক অভিশপ্ত মোহিনী ছায়া তৈরি করেছে। রবির সামনে এখন মাংসের এক সমুদ্র—একদিকে সখিনার প্রবীণ কিন্তু তৃষ্ণার্ত শরীর, অন্যদিকে টুকটুকির টাটকা ও উত্তেজিত যৌবন।

রবি প্রথমে সখিনাকে মাটিতে শুইয়ে দিল। সখিনা তার পা দুটো ছড়িয়ে দিলেন এক পরম আকুলতায়। রবি সখিনার যোনির ভেতরে তার শক্ত পুরুষাঙ্গটি প্রবেশ করাল। সখিনা এক তৃপ্তির আর্তনাদ করে রবির কাঁধে নখ গেঁথে দিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে টুকটুকি রবির পেছনে এসে দাঁড়াল এবং রবির পুরুষাঙ্গের গোড়ায় নিজের মুখ লাগিয়ে প্রবল বেগে চুষতে শুরু করল। সখিনার যোনির উত্তাপ আর টুকটুকির মুখের সেই লালা মেশানো উষ্ণতা রবির মস্তিষ্ককে আচ্ছন্ন করে ফেলল।

সখিনার গর্ভে রবির প্রতিটি ঘর্ষণ যেন এক একটি মহাপ্রলয়। টুকটুকি রবির পিঠে পিঠ ঠেকিয়ে নাচতে শুরু করল, তার হাত রবির পুরুষাঙ্গের সাথে সাথে উপরে নিচে দুলছে। সখিনার শরীরের ভাজে রবির পুরুষাঙ্গ যখন আড়ষ্ট হয়ে উঠছে, তখন টুকটুকি রবির কানে মুখ নিয়ে বলতে লাগল,

 "আরও জোরে বাবা, দাদিকে বোঝাও তুমি কার!"

সখিনা বেগম তখন উন্মাদিনীর মতো রবির কোমরে নিজের কোমর মেলাতে ব্যস্ত। তাদের শরীরের ঘর্ষণের শব্দে পুরো উঠোনটা যেন কেঁপে উঠছে। রবি অনুভব করল, সে কোনো সাধারণ সঙ্গম করছে না, সে এই দুই নারীর শরীরের গভীরে নিজের সমস্ত পুরুষত্বকে একাকার করে দিচ্ছে। সখিনা আর টুকটুকি এখন কোনো রক্তসম্পর্কিত মা-মেয়ে নয়, তারা এখন রবির কামনার শিকারী।

রবির উত্তেজনার মাত্রা যখন চরমে, তখন সে সখিনার যোনি থেকে পুরুষাঙ্গ বের করে নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে টুকটুকির পেছনে ঘুরে দাঁড়াল। টুকটুকি সামনে ঝুঁকে পড়ল, এবং রবি সরাসরি তার যোনির গভীরে আঘাত করতে শুরু করল। টুকটুকির যোনি থেকে বেরিয়ে আসা আর্তনাদ সখিনার কানে পৌঁছাতেই সখিনা নিজেও নিজের আঙুল দিয়ে রবির পুরুষাঙ্গের সংস্পর্শে আসা যোনিকে খুঁড়তে লাগলেন।

অন্দরমহলের এই উন্মাদনায় রবি এখন একাধারে দুই নারীর শরীরের অধিপতি। তার প্রতিটি ঝটকায় সখিনা আর টুকটুকি বারবার চরম তৃপ্তির শিখরে পৌঁছে যাচ্ছে। চাঁদের আলোর নিচে তাদের এই নগ্ন মিলন যেন এক আদিম ধর্মের মতো, যেখানে লজ্জা বা পাপের কোনো অস্তিত্ব নেই—আছে কেবল শরীরের তৃষ্ণা আর ভোগের চরম উল্লাস। রবির শরীরের সমস্ত বীর্য যেন এই দুই নারীর তৃষ্ণার্ত গর্ভ গ্রহণ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। অন্দরমহলের ইতিহাসে আজকের এই রাতটি হয়ে থাকল এক অমোঘ, রগরগে ও সীমাহীন অন্ধকার তৃপ্তির মহোৎসব।



চাঁদের আলোয় ভেজা উঠোনের সেই চরম উন্মাদনার পর, অন্দরমহলের আবহাওয়া যেন আরও ভারী হয়ে উঠল। কামনার নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা সখিনা আর টুকটুকি তখন ক্লান্তিতে বিছিয়ে পড়ছে, কিন্তু রবির পৌরুষ তখনো শান্ত হয়নি। তার শরীরের প্রতিটি শিরা তখন প্রতিশোধের মতো তৃষ্ণার্ত। সে জানে, এই রাতের প্রতিটি মুহূর্ত তাদের জীবনের সব নিয়ম ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে।

রবি এবার সখিনাকে এবং টুকটুকিকে দুই হাতে টেনে তুলল। সখিনার শরীরের ভাঁজে তখনো রবির শরীরের ঘাম শুকিয়ে লেগে আছে, অন্যদিকে টুকটুকির শরীর তখনো যোনির জ্বালায় থরথর করে কাঁপছে। রবি তাদের বাড়ির অন্দরমহলের গোপন কুঠুরিতে নিয়ে এল, যেখানে প্রদীপের আলো এখন একদমই ক্ষীণ। সে সখিনাকে বিছানায় শোয়াল, আর টুকটুকিকে বলল তার ওপর চড়তে।

টুকটুকি তার দাদির শরীরের ওপর বসে রবির পুরুষাঙ্গকে নিজের যোনির গভীরে ঢোকাল। সখিনা নিচে থেকে টুকটুকির কোমর চেপে ধরল, যেন সে নিজেই রবির সাথে মিলিত হচ্ছে। রবি তখন সখিনার স্তনবৃন্তগুলো নিজের দাঁত দিয়ে খামচে ধরছে। সখিনা আর টুকটুকি—একজন নিচে থেকে আর একজন ওপর থেকে—রবির শরীরের সাথে তাল মিলিয়ে দোলাতে লাগল। রবি যেন তাদের দুজনের মাঝখানে এক পিষ্ট হতে থাকা মাংসখণ্ড, কিন্তু সেই পিষ্ট হওয়ার ভেতরেই সে খুঁজে পেল তার জীবনের চরমতম সুখ।

তাদের গোঙানি আর চিৎকার এখন আর কোনো গোপন রহস্য নয়, বরং তা অন্দরমহলের দেওয়ালে দেওয়ালে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। সখিনা একসময় টুকটুকির ঠোঁটে ঠোঁট রেখে গভীর চুম্বনে জড়িয়ে ধরল, যেন তারা দুজনই এই নিষিদ্ধ সম্পর্কে সমান অংশীদার। রবি দেখল, মা আর মেয়ে একে অপরের স্তন চুষছে, আর সে তাদের দুজনের শরীরের সংযোগস্থলে নিজের পৌরুষের খেলা চালিয়ে যাচ্ছে।

রবি একসময় তাদের দুজনের শরীরের সংযোগস্থল থেকে নিজেকে বের করে নিল। সে সখিনাকে উল্টে দিয়ে তার পশ্চাৎদেশ উঁচিয়ে ধরল, আর টুকটুকি তখন হাঁটু গেড়ে বসে সখিনার যোনির সামনে নিজেকে মেলে ধরল। রবি সখিনার মলদ্বারে তার পুরুষাঙ্গ ঢোকাতে শুরু করল। সখিনার যন্ত্রণার আর্তনাদ আর টুকটুকির নিজের যোনিকে রবির উত্তেজনার দিকে এগিয়ে দেওয়ার দৃশ্যটি ছিল অকল্পনীয়। 

রবি যেন সখিনাকে ছিঁড়ে ফেলার মতো প্রবল বেগে আঘাত করতে লাগল, আর সখিনার প্রতিটি চিৎকারে টুকটুকি নিজে নিজের যোনির ভেতরে হাত ঢুকিয়ে উত্তেজিত হতে লাগল।
কুঠুরির সেই আঁধার কোণে তাদের মিলন এখন আর কেবল শরীরের নয়, আত্মার চরম বিকৃতির এক উৎসবে পরিণত হয়েছে। সখিনার শরীর যখন রবির প্রতিটি প্রবল আঘাতে থরথর করে কাঁপছে, তখন টুকটুকি রবির পিঠ জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে উঠল—

"বাবা, আজ আমাদের নিঃশেষ করে দাও!"

রবি তার সমস্ত শক্তি দিয়ে সখিনার গভীর থেকে গভীরে প্রবেশ করল। তার বীর্যের উষ্ণ ধারা সখিনার মলদ্বারের অন্দরে গিয়ে আছড়ে পড়ল, আর একইসাথে টুকটুকির হাত রবির পুরুষাঙ্গের ওপর সজোরে চাপ দিল। তারা তিনজনই এক চরম শিখরে পৌঁছে স্তব্ধ হয়ে গেল। কুঠুরির বাতাসে তখন কামনার গন্ধ, ঘামের নোনতা স্বাদ আর নিষিদ্ধ মিলনের আর্তনাদ ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট রইল না। অন্দরমহলের এই অভিশপ্ত রাত্রে রবি প্রমাণ করল, সে কেবল এই বাড়ির পুরুষ নয়, সে এই বাড়ির অধীশ্বর—যেখানে মা ও মেয়ে তার কামনার বেদীমূলে আজ চিরতরে বিলীন হয়ে গেল।

**

সেই অভিশপ্ত রাত্রের চরম উত্তেজনার পর, কুঠুরির ভেতরে নেমে এল এক নিথর নীরবতা। প্রদীপের শিখাটা তখন শেষের দিকে, লকলক করে কেঁপে উঠে নিভে যাওয়ার অপেক্ষায়। সখিনা বেগম আর টুকটুকি—একই বিছানায় রবির দুই পাশে পড়ে আছে, যেন যুদ্ধের পরে দুটি ক্লান্ত সেনা। তাদের শরীরের ভাঁজে ভাঁজে তখনো সেই কামনার শেষ চিহ্নগুলো লেগে আছে, আর কুঠুরির বাতাসে ভারী হয়ে আছে ঘাম, তৃপ্তি আর এক অদ্ভুত অপরাধবোধের মিশ্রণ।

রবি বিছানায় আধশোয়া হয়ে বসে রইল। তার শরীরের প্রতিটি পেশি তখনো থরথর করে কাঁপছে। সে নিজের হাতের তালুর দিকে তাকাল, যেখানে এখনো টুকটুকির শরীরের উষ্ণতা লেগে আছে। তারপর দৃষ্টি গেল সখিনার বিবর্ণ মুখের দিকে। মাতৃত্ব আর নারীত্বের এই চূড়ান্ত সংমিশ্রণ রবিকে এক অদ্ভুত শূন্যতায় ভাসিয়ে দিয়েছে। সে এখন জানে, সে আর সাধারণ কোনো মানুষ নেই। সে এই অন্দরমহলের এক অন্ধকার সম্রাট, যার আদেশ ছাড়া এই ঘরে বাতাসও নড়াচড়া করে না।
হঠাৎ টুকটুকি চোখ মেলল। লন্ঠনের ক্ষীণ আলোয় তার চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছিল। সে রবির বুকের ওপর মাথা রেখে ফিসফিস করে বলল,

 "বাবা, রানি মা ফিরে এলে কি সব শেষ হয়ে যাবে? এই যে স্বর্গ আমরা তৈরি করলাম, তা কি চিরকাল এমন গোপন থাকবে?"

সখিনা বেগমও চোখ খুললেন। তার কণ্ঠে এক অদ্ভুত দৃঢ়তা। 

"রানি ফিরুক, তাতে কিচ্ছু যায় আসে না। রানি এই বাড়ির স্ত্রী হতে পারে, কিন্তু রবির হৃদয়ের আর শরীরের মালিক আমরা। এই অন্দরমহল আমাদের। বাইরের পৃথিবীর নিয়ম এখানে এসে থমকে যায়।"

রবি তাদের দুজনের দিকে তাকাল। তার মনে হলো, এরা দুজন এখন তার শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মতো—আলাদা করা অসম্ভব। সে সখিনার কপালে এবং টুকটুকির চুলে আলতো করে হাত বোলাল। বাইরের দুনিয়ায় রানি হয়তো এখনো তার বাবার শয্যাপাশে দুশ্চিন্তা করছে, আর এদিকে এই অন্দরমহলে এক নতুন ধর্মের জন্ম হয়েছে, যেখানে ভোগই একমাত্র উপাসনা।
রবি উঠে দাঁড়াল। তার শরীরে এখনো সেই অমোঘ তৃপ্তির রেশ। সে কুঠুরির দরজাটা একটু ফাঁক করে বাইরের উঠোনের দিকে তাকাল। চাঁদের আলোয় সারা বাড়িটা শান্ত, কিন্তু রবি জানে—এই শান্ত অন্দরমহল আর আগের মতো নেই। রানীর অনুপস্থিতির এই ৪৮ ঘণ্টা তাদের জীবনের সমস্ত সামাজিক পর্দা ছিঁড়ে ফেলেছে। তারা এখন এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে, যেখানে ফিরে যাওয়ার রাস্তা চিরতরে বন্ধ।

রবি আবার বিছানায় ফিরল। সখিনা আর টুকটুকি তাকে আবার নিজেদের মাঝখানে জড়িয়ে ধরল। রবি অনুভব করল, এই দুই নারীর শরীরের উষ্ণতা যেন তাকে এক অভিশপ্ত অমরত্ব দিচ্ছে। বাইরের জগত থেকে তারা বিচ্ছিন্ন, বাইরের শাসন থেকে মুক্ত। কুঠুরির অন্ধকার তাকে নতুন এক সংকল্প দিল—রানি যখন ফিরবে, তখন সে আর আগের সেই সরল রবি থাকবে না। সে হবে এক নতুন শাসক, যে এই মা ও মেয়ের শরীরকে তার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহার করবে।

রাত শেষ হতে চলল। অন্দরমহলের গহীন অন্ধকার ধীরে ধীরে ভোরের ধূসর আলোয় মিশে যাচ্ছে। কিন্তু রবির হৃদয়ের অন্ধকার যেন ক্রমশই গভীর হচ্ছে। সে জানে, এই নিষিদ্ধ মিলনের নেশা তাকে আর কখনো সুস্থ জীবনের পথে ফিরতে দেবে না। সে এখন এই অন্দরমহলের বন্দী রাজা, আর তার কারারক্ষী হলো এই মা ও মেয়ে, যারা তাকে ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারে না। অন্দরমহলের এই গোপন ইতিহাস আজ এক নতুন ও অন্ধকার অধ্যায়ে পদার্পণ করল, যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত এখন কেবল নিষিদ্ধ আনন্দের প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছে।




Reply
#8

ভোর হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্ত। আকাশ তখন গাঢ় নীল, কুয়াশার চাদরে ঢাকা গহীন গ্রামটি এখনো ঘুমিয়ে আছে। কুঠুরির ভেতরে লন্ঠনের আলো নিভে গেছে, ধূপের কটু গন্ধ আর ঘামের নোনতা আবেশ এখন বাতাসের সাথে মিশে এক অদ্ভুত ভারী পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। সখিনা বেগম আর টুকটুকি গভীর ঘুমে তলিয়ে গেছেন। তাদের মুখভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে, পৃথিবীর সমস্ত অপরাধবোধ যেন তাদের ছুঁতে পারেনি, তারা পেয়েছে এক মায়াভরা প্রশান্তি।


কিন্তু রবির চোখে ঘুম নেই। সে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াল। তার শরীরটা যেন পাথর হয়ে গেছে, কিন্তু মনের ভেতরটা এখনো ফুটন্ত কড়াইয়ের মতো অস্থির। রবি ঘরের জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। বাইরে গ্রাম্য মেঠো পথটা ধুলোবালি আর ঘাসফুলে ঢাকা। এই সেই পথ, যেখান দিয়ে রানি চলে গেছে, আর এই সেই পথ দিয়ে সে আবার ফিরে আসবে। রানীর ফিরে আসা মানেই এই সাময়িক স্বাধীনতার সমাপ্তি, আবার সেই মুখোশ পরা দিনগুলোর শুরু।


রবি জানালার গ্রিল ধরে জোরে চাপ দিল। তার পেশিগুলো টানটান হয়ে উঠল। সখিনা আর টুকটুকিকে যখন সে দেখে, তার মনে হয় সে যেন এক মায়াজাল তৈরি করেছে। একদিকে মাতৃত্বের সেই আদিম টান, অন্যদিকে যৌবনের সেই তৃষ্ণার্ত আগুন—সে এখন এই দুইয়ের মাঝখানে দোদুল্যমান এক ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষ। সে কি সত্যিই এদের ভালোবাসে, নাকি এরা কেবল তার পৌরুষের তৃপ্তির খোরাক? রবি নিজেকে প্রশ্ন করল, কিন্তু উত্তর দেওয়ার মতো মানসিক অবস্থায় সে নেই।।


হঠাৎ টুকটুকি ঘুম ভেঙে নড়েচড়ে উঠল। সে দেখল রবি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। সে ধীরপায়ে রবির পেছন থেকে এসে জড়িয়ে ধরল তাকে। তার নগ্ন শরীরের উষ্ণতা রবির পিঠে লেপ্টে গেল। টুকটুকি ফিসফিস করে বলল, 


"বাবা, এত সকালে কিসের এত চিন্তা? আমাদের এই গোপন রাজ্যে রানি মা কি কখনো আঘাত হানতে পারবে?"


রবি টুকটুকির দিকে ফিরে তাকাল। তার চোখে তখন এক কুটিল সংকল্প।


 "রানি আঘাত হানতে পারবে না, টুকটুকি। কারণ সে এখনো জানে না, এই ঘরটি আর শুধু আমাদের সংসার নেই। এটি এখন আমাদের কামনার কেল্লা। সে যখন ফিরে আসবে, তখন সে কেবল একজন স্ত্রী হিসেবে ফিরবে না, বরং সে হবে আমাদের এই অন্দরমহলের নতুন এক খেলার অংশীদার। সে না জানুক আমাদের কথা, কিন্তু সে আমাদের এই অভিশপ্ত বন্ধনের সাক্ষী হবে।"


টুকটুকি মুচকি হাসল। তার সেই হাসি যেন শয়তানের প্রলোভন। সে রবির বুকের ওপর মাথা রেখে বলল, 
"তাহলে তুমি কি চাইছ  মাকেও আমরা...?"


কথাটা শেষ করতে দিল না রবি। সে টুকটুকিকে জানালার সাথে চেপে ধরল। ভোরের আলো তখন পূর্ব দিগন্তে উঁকি দিচ্ছে। রবি অনুভব করল, এই গ্রাম বা এই অন্দরমহল আর সাধারণ কোনো জায়গা নেই। এটি এখন এক নিষিদ্ধ আখড়া। সখিনা বেগম ঘুমের ঘোরেই যেন বিড়বিড় করে উঠলেন, তার ঠোঁটে এক অদ্ভুত তৃপ্তির হাসি। মা ও মেয়ের এই অদ্ভুত সহাবস্থান রবির অস্তিত্বকে এক নতুন রূপ দিয়েছে।


রবি জানত, সময় বয়ে যাচ্ছে। রানীর ফেরার সময় ঘনিয়ে আসছে। কিন্তু তার হৃদয়ে এখন আর কোনো ভয় নেই। সে এখন অভ্যাসের দাস নয়, সে এখন এক নিষ্ঠুর নিয়ন্তা। সে আবার বিছানায় গিয়ে সখিনার পাশে শুল। মা আর মেয়ে তার দুই পাশে—যেন এক মহাজাগতিক বৃত্তের কেন্দ্রে সে আটকে আছে। কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরের আলোয় বাড়ির অন্দরমহলটি তখনো রহস্যময়। রবির কানে তখনো বাজছে গ্রাম্য পাখিদের কলকাকলি, আর তার মনে বাজছে সেই নিষিদ্ধ কামনার এক অমোঘ সুর। এই অন্দরমহলে এখন আর নিয়ম নেই, কেবল আছে লালসা আর এক অদ্ভুত অন্ধকার একাত্মতা।


**


দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে চলল। অন্দরমহলের ভেতরে রবির রাজত্ব তখন তার চরম সীমায়। রানীর অনুপস্থিতিকে পুঁজি করে সখিনা আর টুকটুকি আজ একে অপরের সাথে রবির উপস্থিতিতে কোনো প্রতিযোগিতা করল না, বরং তারা যেন এক অদ্ভুত মৌন সম্মতিতে রবির কামনার ক্ষুধা মেটানোর উৎসবে মেতে উঠল।
পুরো দুপুর জুড়ে কুঠুরির রুদ্ধদ্বার প্রকোষ্ঠে চলল তাদের উদ্দাম সঙ্গম। রবি যেন একাধারে মা ও মেয়ের তৃষ্ণা মেটাতে ব্যস্ত। সখিনার পরিপক্ক শরীরের অভিজ্ঞতা আর টুকটুকির টাটকা যৌবনের তীব্রতা—রবি তার পৌরুষ দিয়ে তাদের দুজনের শরীরকে এমনভাবে চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে লাগল যে কুঠুরির চারদেয়াল যেন তাদের আর্তনাদ আর সুখের দীর্ঘশ্বাসে কেঁপে উঠছিল। কখনো সখিনার স্তনের ওম, আবার কখনো টুকটুকির উত্তপ্ত যোনির ভেতর নিজেকে সমর্পণ—এই অঘোষিত ত্রিমাত্রিক মিলনে রবি এক অদ্ভুত ঈশ্বরতুল্য তৃপ্তি খুঁজে পেল। তারা হাসিখুশিতে একে অপরের গায়ে হাত বুলিয়ে দিচ্ছিল, যেন এটিই তাদের জীবনের একমাত্র স্বাভাবিক নিয়ম।


বিকেল ঘনিয়ে আসতেই রবির মনে পড়ল রানীর কথা। শ্বশুরবাড়ি গিয়ে তাকে নিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি। সখিনা বেগম পরম যত্নে রবির গায়ের ঘাম মুছে দিলেন, টুকটুকি নিজে হাতে রবিকে নতুন পাঞ্জাবি পরিয়ে দিল। রানীর কাছে যাওয়ার এই প্রস্থানটি তাদের কাছে কোনো বিচ্ছেদ নয়, বরং এক নতুন কৌশলের শুরু।
রবি যখন রওনা দিল, তখন সখিনা আর টুকটুকি তাকে বিদায় জানাল এক রহস্যময় হাসিতে। তারা জানে, রবি ফিরে আসছে রানীর সাথে, কিন্তু রবির শরীর ও মন এখন এই অন্দরমহলের অন্ধকারে চিরতরে বন্দি।


সন্ধ্যা নামার আগেই রবি শ্বশুরবাড়ি পৌঁছে গেল। রানীর বাবা কিছুটা সুস্থ হওয়ায় বাড়িতে তখন স্বস্তির হাওয়া। রানি রবিকে দেখে যতটা না খুশি হলো, তার চেয়ে বেশি হলো অবাক। রবি আজ বেশ ফুরফুরে মেজাজে, তার চোখেমুখে এক অদ্ভুত জৌলুস। রানিকে কাছে টেনে নিয়ে সে বলল, "অনেক তো হলো, এবার বাড়ি চল।"
রাত গভীর হলো। শ্বশুরবাড়ির এই নির্জন পরিবেশে রবি আর রানি একঘরে শুল। রানীর সরল মুখশ্রী আর তার অকৃত্রিম ভালোবাসা রবিকে এক মুহূর্তের জন্য নাড়া দিল। রানি যখন রবির বুকে মাথা রেখে আদুরে গলায় বলল, "তুমি না থাকলে খুব কষ্ট হয়, রবি," তখন রবির মনে হলো, সে যেন এক বিশাল মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে।


রবি রানীর শরীরকে স্পর্শ করল। সখিনা বা টুকটুকির শরীরের সাথে রানীর শরীরের পার্থক্যটা সে স্পষ্ট বুঝতে পারল। রানীর শরীর যেন কোনো এক শুদ্ধ জলপ্রপাত, আর সখিনা-টুকটুকির শরীর ছিল এক অতল অন্ধকার কূপ। রবি রানিকে কাছে টেনে নিল, কিন্তু তার মনের অন্দরমহলে তখনো সখিনার হাতের স্পর্শ আর টুকটুকির সেই কামাতুর চাহনি ঘুরপাক খাচ্ছে।



শ্বশুরবাড়ির সেই নিস্তব্ধ রাতে, ঘরের জানালা দিয়ে আসা চাঁদের স্নিগ্ধ আলো রানি আর রবির শরীরে এক মায়াবী আভা তৈরি করেছিল। রানি যেন এক অস্পর্শিত পুষ্পের মতো রবির বুকের ওপর নিশ্চিন্তে শুয়ে ছিল। কিন্তু রবির শরীরে তখন সখিনা আর টুকটুকির শরীরের সেই উগ্র মাদকতা মিশে আছে, যা তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে এক তীব্র কামনার আগুন জ্বালিয়ে রেখেছে।


রবি রানীর চিবুক ধরে আলতো করে তার মুখের দিকে তাকাল। রানীর চোখের সেই সরলতা রবির ভেতরের দানবীয় প্রবৃত্তিকে যেন আরও উসকে দিচ্ছিল। সে তার ঠোঁট দিয়ে রানীর কপালে, গালে এবং শেষমেশ ঠোঁটে এক দীর্ঘ ও আবেশিত চুম্বন এঁকে দিল। রবির চুম্বনের তীব্রতা আজ অন্যরকম, তাতে একপ্রকার অধিকারবোধ আর দাপট। রানি আবেশে রবির বাহু জড়িয়ে ধরল।
রবি ধীরে ধীরে রানীর শাড়ির গিঁট খুলে তার শরীরের সমস্ত আবরণ সরিয়ে দিল। রানীর মসৃণ, শুভ্র শরীর যখন রবির সামনে পুরোপুরি উন্মুক্ত হলো, তখন রবি নিজেকে আর ধরে রাখতে পারল না। সে তার নিজের কাপড় ছুঁড়ে ফেলে রানীর নগ্ন শরীরের ওপর ঝুঁকে পড়ল। রানীর শরীরের প্রতিটি ভাঁজ, তার স্তনের সেই সতেজ উপত্যকা—রবি তার জিব দিয়ে চুষতে শুরু করল। রানীর গলা দিয়ে বেরিয়ে এল এক অসংযত আর্তনাদ, "রবি... আমাকে একদম নিজের করে নাও!"


রবি তার হাত দুটো রানীর উরুর মাঝখানে ঢুকিয়ে দিয়ে যোনির সেই আর্দ্রতায় আঙুল চালাল। রানি উত্তেজনায় বিছানার চাদর মুঠো করে ধরে ফেলল। রবি তখন তার পুরুষাঙ্গকে রানীর যোনির প্রবেশপথে স্থাপন করল এবং এক প্রবল ধাক্কায় নিজের অস্তিত্বকে রানীর গভীরে প্রবেশ করাল। রানীর মুখ থেকে বেরিয়ে এল এক দীর্ঘ গোঙানি, যাতে মিশে ছিল ব্যথা আর প্রবল সুখের এক সংমিশ্রণ।


রবি তখন এক অন্য জগতে। সে রানীর ওপর প্রবল গতিতে আছড়ে পড়তে লাগল। প্রতিটা ধাক্কায় রবির পৌরুষ রানীর গর্ভের প্রতিটি স্তরে আঘাত করছিল। বিছানার দুলুনিতে সারা ঘর যেন কেঁপে উঠছে। রবি তার দুই হাত দিয়ে রানীর কোমর শক্ত করে চেপে ধরে তাকে নিজের সাথে তাল মেলাতে বাধ্য করছিল। রানি তার পা দুটো রবির কোমরের চারপাশে জড়িয়ে ধরে নিজেকে পুরোপুরি রবির কাছে সমর্পণ করে দিল।


তাদের শরীর ঘামে পিচ্ছিল হয়ে গেছে। রবির পিঠে রানীর নখের আঁচড় আর রানীর পিঠে রবির ঘাম—এক তীব্র আদিম দৃশ্যের অবতারণা হলো। রানি যখন চরমে পৌঁছাল, তখন সে রবির পিঠ জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। রবি তখন তার পুরুষাঙ্গ থেকে সমস্ত উষ্ণতা রানীর গর্ভের গভীরে বিচ্ছুরিত করে দিল। রবির মনে হলো, এই মিলনের মাধ্যমে সে হয়তো তার অন্দরমহলের পাপের ভার কিছুটা লাঘব করতে চাইছে, যদিও সে জানত, রানীর শরীরের এই পবিত্রতা তার অন্ধকার জগতের তুলনায় কিছুই নয়।


**


শ্বশুরবাড়ির সেই নিঝুম রাতে জানালার পর্দার আড়ালে শাশুড়ি বেগমের হৃদস্পন্দন তখন কামনার ঝড়ে দ্রুততর হয়ে উঠছে। ভেতর থেকে ভেসে আসা রানীর অসংযত আর্তনাদ আর রবির পৈশাচিক শক্তির বহিঃপ্রকাশ তাকে সম্মোহিত করে ফেলেছে। তিনি তার সারা জীবনের জমানো একাকীত্ব, বিধবা জীবনের শুষ্কতা—সবকিছু যেন এক নিমেষে ভেঙে চুরমার হতে দেখলেন রবির ওই শক্তিশালী দেহের প্রতিটি ঝটকায়।
জানালার সরু ফাঁক দিয়ে তিনি দেখলেন, রবি যেন কোনো বন্য পশু, যে তার শিকারকে নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে। রবির পিঠের পেশিগুলো যখন উত্তেজনায় ফুলে-ফেঁপে উঠছে, তখন শাশুড়ির হাত নিজের অজান্তেই তার নিজের পরনের শাড়ির ওপর চলে এল। তিনি অনুভব করলেন, তার দীর্ঘদিনের অবদমিত যৌন-ক্ষুধা যেন রবির ওই দৃশ্য দেখে অগ্নিশিখা হয়ে জ্বলে উঠছে।


ভেতরে রবি তখন রানীর শরীরের ওপর নিজেকে পুরোপুরি বিলীন করে দিচ্ছে। রানীর চোখ তখন উল্টে গেছে, সে অস্ফুট স্বরে রবির নাম ধরে ডাকছে, যা শাশুড়ির কানে যেন এক তীব্র নেশার মতো প্রবেশ করছে। শাশুড়ি বেগম লন্ঠনের আলোয় রবির পৌরুষের সেই প্রবল দাপট দেখে নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরলেন। তিনি কল্পনা করলেন, ওই পুরুষটি যদি এখন রানীর পরিবর্তে তার শরীরের ওপর থাকতো, যদি ওই হাতগুলো তার কোমর চেপে ধরত, তবে তিনি কি নিজেকে ধরে রাখতে পারতেন? এই ভাবনাটি তার মস্তিষ্কে এমন এক তোলপাড় সৃষ্টি করল যে, তার শরীরের নিম্নাঙ্গ তখন এক তীব্র উত্তেজনায় ভিজে উঠতে শুরু করেছে।


তিনি জানালার পাশ থেকে সরলেন না। বরং পর্দাটা আরও একটু সরিয়ে দিলেন, যাতে প্রতিটি দৃশ্য তার চোখের সামনে স্বচ্ছ হয়ে ওঠে। রানীর প্রতি তার মনে এক অদ্ভুত ঈর্ষা জন্ম নিল—এই মেয়েটি এত ভাগ্যবান যে রবিকে প্রতিদিন নিজের কাছে পায়! রবির প্রতি তার কামনার মাত্রা তখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তিনি নিজের হাতের আঙুলগুলো তার নিজের যোনির ওপর বুলিয়ে দিতে থাকলেন, যাতে রবির ওই দৃশ্য দেখার উত্তেজনায় তিনি কিছুটা শান্তি খুঁজে পান।


ঘরের ভেতর তখন সঙ্গমের শেষ মুহূর্ত। রবি চূড়ান্ত বেগে আঘাত করে রানীর গভীরে নিজের পৌরুষের সমস্ত উত্তাপ ঢেলে দিচ্ছে। রানীর শরীর তখন কামনার চরম শিখরে কেঁপে উঠছে। জানালার বাইরে শাশুড়ি বেগম নিজের স্তনযুগল খামচে ধরে রবির নাম ধরে অস্ফুট স্বরে গোঙাতে শুরু করলেন। তিনি অনুভব করলেন, তার শরীরের ভেতরে একটা প্রচণ্ড অস্থিরতা, একটা ক্ষুধা যা রবির স্পর্শ ছাড়া মিটবে না।
রবির সাথে রানীর সেই রাতটা শেষ হলো, কিন্তু শাশুড়ি বেগমের মনে জন্ম নিল এক নতুন ষড়যন্ত্র। তিনি বুঝতে পারলেন, রবি সাধারণ কোনো পুরুষ নয়। সে এমন এক পুরুষ, যার ছোঁয়ায় শুধু রানি নয়, যে কোনো নারীই তার অস্তিত্ব ভুলে যেতে বাধ্য। 


শাশুড়ি বেগম তখন থেকেই মনে মনে পরিকল্পনা করতে শুরু করলেন—কীভাবে রবিকে একা পাওয়া যায়, কীভাবেই বা রবির ওই বন্যতাকে নিজের শরীরের ওপর অনুভব করা যায়। অন্দরমহলের সেই গোপন কুঠুরির নিষিদ্ধ খেলা যেন এখন শ্বশুরবাড়ির এই ঘরেও বিস্তার লাভ করতে শুরু করল। রানি তখন ঘুমে আচ্ছন্ন, আর জানালার বাইরে শাশুড়ি বেগম এক কামনার আগুনে নিজেকে পুড়িয়ে চললেন, অপেক্ষায় রইলেন সেই মুহূর্তের, যখন রবি তার নিজের শিকারে পরিণত হবে।



**


সকাল থেকেই শ্বশুরবাড়ির পরিবেশটা কেমন জানি ভারী হয়ে আছে। রানীর বাবা অনেকটা সুস্থ হলেও তাকে ঘিরে রানীর ব্যস্ততার শেষ নেই। রানীর সমস্ত সময় জুড়ে এখন শুধু বাবার সেবা। রবি বাইরের দাওয়ায় বসে একটা বিড়ি ধরাল। রানীর এই ব্যস্ততা তার কাছে আশীর্বাদ হয়ে এল, কারণ শাশুড়ি বেগম আজ সকাল থেকেই অদ্ভুত সব সংকেত দিতে শুরু করেছেন।


শাশুড়ি বেগমের আজকের সাজটা যেন বয়সের সীমা লঙ্ঘন করেছে। চুলগুলো যত্ন করে বেঁধেছেন, চোখে হালকা কাজলের রেখা, আর পরনের শাড়িটা তার শরীরকে এমনভাবে জড়িয়ে রেখেছে যে প্রতিটি বাঁক স্পষ্ট। তিনি রান্নাঘরের কাজ শেষ করে বারবার বারান্দার সামনে দিয়ে যাতায়াত করছেন, আর প্রতিবারই রবির চোখের সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এমনভাবে শাড়ির আঁচল সরিয়ে দিচ্ছেন যেন তা নিতান্তই অনিচ্ছাকৃত।


একবার জল দিতে এসে তিনি রবির একেবারে কাছে দাঁড়িয়ে ফিসফিস করে বললেন, "বাবা রবি, সারাদিন তো বাড়ির কাজে ব্যস্ত থাকি, কেউ তো একটু ভালো করে চেয়ে দেখে না। আজ তোমার শাশুড়িকে কেমন দেখাচ্ছে বলো তো?"


রবি শাশুড়ির চোখের দিকে সরাসরি তাকাল। সেই দৃষ্টিতে এক গভীর, তৃষ্ণার্ত আবেদন। রবি বাঁকা হেসে বলল, "বলা বাহুল্য মা, এমন রূপবতী শাশুড়ি থাকলে তো জামাইয়ের নজর বাইরের দিকে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।"


শাশুড়ি বেগম এক চিলতে হাসলেন, যা কামনার চেয়েও অনেক বেশি প্ররোচনামূলক। তিনি রবির ঘাড়ের কাছে এসে নিচু গলায় বললেন, 


"রানি তো বাবার সেবা নিয়ে পড়ে আছে, মেয়েটা বড় সংসারী হয়েছে। কিন্তু পুরুষমানুষের খিদে কি শুধু রান্নায় মেটে? ঘরে তো এমন অনেক জিনিস আছে যা শুধু দেখার নয়, উপভোগ করার।"


শাশুড়ি বেগমের এই খোলাখুলি ইঙ্গিত রবিকে দারুণ এক রসালো খেলায় ডুবিয়ে দিল। সারাটা দিন কেটে গেল এমনই সব আড়ালে-আবডালে বলা কথায়। রবি যখন উঠোনে কাজ করছিল, শাশুড়ি বেগম পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে রবির শরীরের সাথে নিজের শরীর ঘষে দিয়ে বললেন, 


"আহা, কী বলিষ্ঠ শরীর তোমার রবি! রানীর কপাল খুব ভালো, কিন্তু অতটা শক্তি কি মেয়েটা সামলাতে পারে?"


রানি তখন অন্য ঘরে বাবার জন্য পথ্য তৈরি করছে। শাশুড়ি বেগম রবির হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে আলতো করে চাপ দিয়ে বললেন, "আজ রাতে রানি তো বাবার কাছেই ঘুমাবে, আমি বাবাকেই একা শুতে বলে দিয়েছি। আর তুমি... তুমি তো আমার ঘরের পাশের ঘরেই থাকছো। দরজায় খিল দিও না যেন, রাতে হঠাৎ যদি কোনো বিপদে পড়ি, তখন ডাকতে সুবিধা হবে।"


রবি শাশুড়ির আঙুলগুলো নিজের আঙুলে পেঁচিয়ে ধরে রসিকতার সুরে বলল, 


"বিপদ কি অত সহজে আসে মা? নাকি বিপদ নিজেই বিপদের অপেক্ষায় বসে থাকে?"


শাশুড়ি বেগম খিলখিল করে হেসে উঠলেন। সেই হাসির ভেতর কোনো লজ্জা ছিল না, ছিল এক প্রবল যৌন আকাঙ্ক্ষা। তিনি রবির দিকে একটা তৃষ্ণার্ত দৃষ্টি ছুঁড়ে দিয়ে রান্নাঘরের দিকে চলে গেলেন, যাওয়ার আগে বারবার পেছন ফিরে তাকাতে ভুললেন না। রবি বুঝতে পারল, এই বাড়িতে রানীর উপস্থিতি কেবল একটা খোলস মাত্র। আসল খেলা শুরু হবে রাতে। রানীর বাবার সেবা আর রানীর সরলতার আড়ালে শাশুড়ি বেগম যে জাল বিছিয়েছেন, তাতে আটকে পড়তে রবিও আজ পুরোপুরি প্রস্তুত। অন্দরমহলের সেই অন্ধকার অভ্যাসের মতোই, শ্বশুরবাড়ির এই নতুন শিকার আজ রাতে রবির পৌরুষের সামনে নতজানু হতে চাইছে।



**


রাত যত গভীর হলো, শ্বশুরবাড়ির সেই পুরনো দালানটা যেন কামনার এক অভিশপ্ত প্রাসাদে পরিণত হলো। রানীর বাবা তখন পাশের ঘরে গভীর ঘুমে অচেতন, আর রানি সারাদিনের পরিশ্রমের পর বাবার পাশেই ক্লান্তিতে এলিয়ে পড়েছে। অন্দরমহলের সেই পুরোনো নিয়মের মতোই, আজ এখানেও ভাগ্য রবির অনুকূলে।
রবি নিজের নির্ধারিত ঘরে শুয়ে ছিল, কিন্তু তার কান ছিল শাশুড়ির ঘরের দরজার দিকে। ঠিক মধ্যরাতে, পায়ের নূপুরের মৃদু ঝংকার শোনা গেল। দরজাটা খুব সাবধানে খুলে গেল, আর ভেতরে এলেন শাশুড়ি বেগম। তার পরনে আজ কেবল একটি পাতলা রেশমি নাইটি, যা লন্ঠনের ক্ষীণ আলোয় তার শরীরের প্রতিটি ভাঁজকে মূর্ত করে তুলেছে। তিনি নিঃশব্দে রবির বিছানার পাশে এসে দাঁড়ালেন।


"রবি..." শাশুড়ির ফিসফিসানি নিস্তব্ধ ঘরে এক অদ্ভুত স্পন্দন তুলল। "রানি আজ বাবার পাশেই ঘুমাবে। আমাদের জন্য কেউ নেই।"


রবি বালিশ থেকে উঠে বসল। শাশুড়ির শরীর থেকে বের হওয়া সুগন্ধি তার মস্তিষ্কে যেন মদের নেশা ধরিয়ে দিল। রবি তার হাত বাড়িয়ে শাশুড়ির কোমর জড়িয়ে ধরল এবং এক ঝটকায় তাকে নিজের ওপর টেনে নিল। শাশুড়ি বেগম কোনো বাধা দিলেন না, বরং নিজের স্তনযুগল রবির বুকের সাথে এমনভাবে পিষে দিলেন যে রবির পৌরুষ মুহূর্তেই সজাগ হয়ে উঠল।


"তুমি কি জানো, আমি কতদিন ধরে এই মুহূর্তের কল্পনা করেছি?" শাশুড়ি বেগম উত্তেজিত কণ্ঠে বললেন। তিনি রবির চুলের মুঠি ধরে তার মুখটা নিজের বুকের কাছে টেনে নিলেন। রবি আর দেরি করল না, সে শাশুড়ির নাইটির ভেতর মুখ ঢুকিয়ে তার স্তনবৃন্তগুলো চুষতে শুরু করল। শাশুড়ির গলা দিয়ে বেরিয়ে এল এক অসংযত আর্তনাদ, যা তিনি বালিশ চেপে থামানোর চেষ্টা করলেন।
রবি শাশুড়িকে বিছানায় উল্টে দিয়ে তার নাইটি ছিঁড়ে ফেলল। লন্ঠনের আলোয় শাশুড়ির শরীরটা এক পুরনো কিন্তু অত্যন্ত তৃষ্ণার্ত নারীর যৌবনকে উন্মোচিত করল। রবি তার জিভ দিয়ে শাশুড়ির নাভি থেকে শুরু করে যোনির প্রতিটি ভাঁজ চাটতে লাগল। শাশুড়ি তখন কামনার চূড়ান্ত অবস্থায়, তার পা দুটো বিছানায় ছড়িয়ে দিয়ে রবিকে নিজের দিকে টানছেন।


রবি শাশুড়ির দুই পা আলতো করে ছড়িয়ে দিল। লন্ঠনের মৃদু আলোয় তার যোনিটা সম্পূর্ণ খুলে গিয়েছিল—নরম, ফোলা, ইতিমধ্যেই ভিজে চকচক করছে।  


সে প্রথমে শুধু নাক দিয়ে গভীরভাবে শুঁকল। তারপর জিভের ডগা দিয়ে আলতো করে বাইরের ঠোঁট দুটোতে স্পর্শ করল। শাশুড়ির শরীরটা একটু কেঁপে উঠল। রবি ধীরে ধীরে জিভটা পুরোপুরি বের করে যোনির উপরের অংশ থেকে নিচ পর্যন্ত একটানা চেটে গেল। প্রতিবার চাটার সময় শাশুড়ির ঊরু দুটো শক্ত হয়ে যাচ্ছিল।  


রবি এবার দুই হাত দিয়ে যোনির ঠোঁট দুটো আলতো করে আলাদা করে ধরল। ভেতরের গোলাপি নরম অংশটা সম্পূর্ণ খুলে গেল। সে জিভটা গভীরে ঢুকিয়ে দিয়ে বৃত্তাকার গতিতে ঘোরাতে লাগল। শাশুড়ির মুখ দিয়ে মৃদু আর্তনাদ বেরিয়ে আসছিল, কিন্তু তিনি নিজেকে চেপে ধরেছিলেন।  





রবির জিভ  ক্লিটরিসের উপর এসে থামল। সে আলতো করে চুষতে শুরু করল—প্রথমে হালকা, তারপর একটু জোরে জোরে। জিভের ডগা দিয়ে দ্রুত দ্রুত চুষে দিচ্ছিল। শাশুড়ির পেটের পেশীগুলো কেঁপে উঠছিল।  





এরপর রবি এক আঙুল আলতো করে ভেতরে ঢোকাল। যোনিটা এত ভেজা ছিল যে আঙুলটা সহজেই গভীরে চলে গেল। সে ধীরে ধীরে আঙুলটা বাইরে টেনে আবার ঢোকাতে লাগল। একটু পর দ্বিতীয় আঙুলও ঢুকিয়ে দিল। দুই আঙুল একসঙ্গে ভেতরে গিয়ে উপরের দিকটায় চাপ দিতে লাগল, আর মুখ দিয়ে ক্লিটরিস চুষতে থাকল।  





শাশুড়ির পা দুটো এখন রবির মাথার দুপাশে শক্ত করে চেপে ধরেছিল। তার যোনি রবির আঙুল ও জিভের চাপে বারবার সংকুচিত হচ্ছিল। রবি আরও গভীরে আঙুল ঢুকিয়ে বাঁকিয়ে দিল, আর জিভ দিয়ে ক্লিটরিসকে দ্রুত দ্রুত চাটতে লাগল।  





শাশুড়ির শরীরটা হঠাৎ শক্ত হয়ে গেল। যোনির ভেতর থেকে গরম রস বেরিয়ে রবির আঙুল ও মুখ ভিজিয়ে দিল। তিনি কাঁপতে কাঁপতে অর্গাজম করলেন, কিন্তু রবি থামল না। সে আঙুল দুটো ভেতরে রেখেই আলতো করে নাড়াতে থাকল, আর জিভ দিয়ে যোনির ঠোঁট দুটোকে আদর করে চাটতে লাগল—যেন শাশুড়ির সেই তৃষ্ণা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।





আর না থাকতে পেরে,

"আমাকে নাও এবার, রবি! আমাকে তোমার ওই শক্ত পৌরুষে ভরিয়ে দাও! তোমার শক্ত ডান্ডাটা দিমে আমাকে চুদে দাও, শরীরের আগুন নিভিয়ে দাও" শাশুড়ি উন্মাদিনীর মতো ছটফট করতে লাগলেন।





রবি আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারল না। সে তার শক্ত পুরুষাঙ্গ শাশুড়ির যোনির প্রবেশপথে স্থাপন করল এবং এক প্রবল ধাক্কায় তার গভীরে প্রবেশ করল। শাশুড়ির দুই পা রবির কোমর জড়িয়ে ধরল। কুঠুরির সেই অন্ধকার কোণে, যেখানে রানীর বাবা আর রানি মাত্র কয়েক হাত দূরে ঘুমিয়ে আছে, সেখানে চলল রবির সাথে তার শাশুড়ির সেই নিষিদ্ধ ও রগরগে মিলন।
Reply
#9

প্রতিটি ধাক্কায় শাশুড়ি বেগম তৃপ্তির আর্তনাদ করছিলেন। রবি তার পিঠের চামড়া খামচে ধরছিল। শাশুড়ির শরীরের ভাঁজে ভাঁজে রবির প্রবল গতি যেন এক আদিম যুদ্ধের মতো। রবি দেখল, বয়সের ছাপ থাকলেও শাশুড়ির যোনি অত্যন্ত উষ্ণ ও আঁটসাঁট, যা রবির উত্তেজনাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছিল। তারা দুজন যেন এক নিষিদ্ধ খেলায় মেতে উঠেছে, যেখানে কোনো নিয়ম বা সম্পর্ক টিকে থাকার ক্ষমতা রাখে না।


 শাশুড়ির সারা শরীর একবার দুলে উঠল এবং তার মুখ দিয়ে একটা দীর্ঘ, তীব্র গোঙানির শব্দ বেরিয়ে এল যা পাশের ঘরে রানীর কানে যাওয়ার উপক্রম হলো। রবি থামল না; সে এক অদ্ভুত তালে, এক আদিম ছন্দে শাশুড়ির ওপর ধাক্কা দিতে দিতে চুদতে লাগল।


প্রতিটি ধাক্কায় শাশুড়ির স্তনযুগল রবির বুকের ওপর আছড়ে পড়ছে, আর শাশুড়ি তার নখ দিয়ে রবির পিঠে গভীর আঁচড় বসিয়ে দিচ্ছেন। রবির হাতের তালু শাশুড়ির নিতম্বের ওপর পড়ে প্রতিবার মাংসের ওপর এক শব্দ তৈরি করছে। তাদের শরীরের ঘর্মাক্ত ঘর্ষণে তৈরি হওয়া সেই রগরগে শব্দ পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ল। রবি অনুভব করল, শাশুড়ির যোনির পেশিগুলো তার পুরুষাঙ্গকে প্রতিবারই যেন নিংড়ে নিচ্ছে আর কামরে ধরছে—প্রতিটি ঘর্ষণে সে যেন নতুন নতুন উত্তেজনার সাগরে ভাসছে।


"আহ... রবি, তুমি তো আমাকে শেষ করে দিচ্ছ!" শাশুড়ি নিজের শরীরের প্রতিটি ভাঁজ রবির শরীরের সাথে মিলিয়ে দিতে চাইলেন। রবি তখন এক উন্মাদনা নিয়ে চুদে যাচ্ছে। সে শাশুড়ির কোমর শক্ত করে চেপে ধরে তাকে শূন্যে তুলে বারবার আছড়ে ফেলছে। শাশুড়ির চোখ দিয়ে তখন আনন্দের অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। তিনি রবির কানের কাছে মুখ নিয়ে কামাতুর গলায় বলতে লাগলেন, "রানি জানেও না সে কী হারিয়েছে... তুমি শুধু আমার, শুধু আমার!"


রবির কাছে শাশুড়ির এই অধিকারবোধ এক চরম উত্তেজনার রসদ জোগাল। সে শাশুড়ির স্তনবৃন্তগুলো খামচে ধরে প্রচণ্ড বেগে ধাক্কা দিতে শুরু করল। শাশুড়ি বেগমের শরীর তখন আর তার নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই; তিনি রবির দাপটের কাছে পুরোপুরি নতজানু। ঘরের বাতাস এখন ঘাম, কামনার গন্ধ আর তাদের শরীরের মিলনস্থলের সেই রগরগে শব্দে ভারী।


সবশেষে, রবি এক প্রচণ্ড ঝটকায় শাশুড়ির গভীরতম স্তরে পৌঁছে গেল। তার সারা শরীরের সমস্ত স্নায়ু তখন এক বিন্দুতে এসে স্থির হয়েছে। শাশুড়ি বেগমের যোনি তখন রবির পুরুষাঙ্গকে এতটাই শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে যে রবির শরীর থেকে সমস্ত বীর্য এক প্রবল স্রোতে তার জরায়ুর ভেতর বিচ্ছুরিত হতে লাগল। শাশুড়ি এক অস্ফুট চিৎকার করে রবির বুকে এলিয়ে পড়লেন, তার শরীর তখনও কামনার চরম শিখর থেকে নিচে নামার সময় ছোট ছোট ঝটকায় কাঁপছে।
তারা দুজন কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে শুয়ে রইল। 


শাশুড়ির শরীরে তখনো রবির শরীরের উষ্ণতা, আর রবির মনে শাশুড়ির সেই তৃপ্তির নীরবতা। অন্দরমহলের এই অভিশপ্ত রাত্রে, রানি পাশের ঘরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায়, তার মা নিজের মেয়ের জামাইয়ের বাহুতে এমন এক সুখ খুঁজে পেলেন যা কোনো সামাজিক নিয়ম বা পবিত্রতার মাপকাঠিতে পড়ে না। রবি বুঝতে পারল, তার অন্দরমহলের সাম্রাজ্য এখন সীমান্ত ছাড়িয়ে বহুদূর বিস্তৃত। এই শ্বশুরবাড়িও এখন তার কামনার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। লন্ঠনের আলোয় তাদের সেই ঘর্মাক্ত, নগ্ন শরীরগুলো যেন এক অমোঘ নিষিদ্ধ সত্যের প্রতীক হয়ে রইল।



ঘরের ভেতর তখনো কামনার ধোঁয়াটে পরিবেশ। শাশুড়ি বেগমের শরীর থেকে তখনো ঘাম ঝরছে, কিন্তু রবির পৌরুষ তখনো তার প্রচণ্ড শক্তিতে দাঁড়িয়ে আছে। প্রথম দফার সেই আদিম মিলনের পর শাশুড়ি বেগম নিজেকে সম্পূর্ণ রবির চরণে সমর্পণ করে দিয়েছেন। তিনি জানেন, রবি এখন আর কেবল একজন জামাই নয়, সে তার শরীরের ঈশ্বর।


তারপর শাশুড়ি বেগম খুব ধীরগতিতে বিছানায় উপুড় হলো। তার নিতম্ব দুটো চাঁদের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠল। তিনি রবির দিকে তাকিয়ে এক আবেদনময়ী দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন, যেন বলছেন—"এখন আমাকে পুরোপুরি তোমার করে নাও।" রবি শাশুড়ির নিতম্বের ওপর হাত রাখল, তার চামড়া মসৃণ এবং উত্তপ্ত। শাশুড়ি বেগম নিজের মাথাটা রবির কোলের কাছে নিয়ে এলেন এবং রবির শক্ত পুরুষাঙ্গটিকে নিজের হাতের মুঠোয় নিলেন।


শাশুড়ি তার জিভ দিয়ে রবির পুরুষাঙ্গের প্রতিটি শিরার ওপর দিয়ে আলতো করে চাটতে শুরু করলেন। তারপর খুব ধীরে, অত্যন্ত পারদর্শীতার সাথে তিনি রবির লিঙ্গটি নিজের গরম ও লালাযুক্ত মুখের ভেতর পুরে নিলেন। তার ঠোঁট আর জিভের সেই ঘূর্ণন রবিকে এক চরম উন্মাদনার দিকে ঠেলে দিল। শাশুড়ি বেগম অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে রবির পুরুষাঙ্গের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত চুষতে শুরু করলেন, মাঝে মাঝে তার দাঁতের আলতো স্পর্শ রবির ভেতরে বিদ্যুতের মতো শিহরণ তুলছিল। রবির দুই হাত তখন শাশুড়ির চুলের মুঠি শক্ত করে ধরেছিল। শাশুড়ি একসময় নিজের গভীর গলার ভেতর রবির পুরো পুরুষাঙ্গটিকে ঢুকিয়ে দিলেন, আর রবি তখনো তার চুলের ওপর হাত বুলিয়ে শাশুড়িকে আরও গভীরে যাওয়ার উৎসাহ দিচ্ছিল।


রবির শ্বাস তখন ভারী হয়ে উঠেছে। শাশুড়ি বেগমের গরম মুখ তার পুরুষাঙ্গকে পুরোপুরি গ্রাস করে রেখেছে। প্রতিবার তিনি যখন নিচের দিকে নামছেন, রবির লিঙ্গের অগ্রভাগ তার গলার গভীরে ঠেকছে। শাশুড়ির গলা সংকুচিত হয়ে রবির শিরাগুলোকে চেপে ধরছে, আর সেই চাপ রবির শরীরে এক তীব্র শিহরণ ছড়িয়ে দিচ্ছে।


শাশুড়ি বেগম একটুও তাড়াহুড়ো করছেন না। তিনি ধীরে ধীরে উপরে উঠে আসছেন, জিভ দিয়ে নিচের দিক থেকে উপর পর্যন্ত চেটে নিচ্ছেন, তারপর আবার গভীরে নামিয়ে দিচ্ছেন। মাঝে মাঝে তিনি শুধু অগ্রভাগটা মুখে রেখে জিভ দিয়ে বৃত্তাকার গতিতে ঘোরাচ্ছেন, আর হাত দিয়ে নিচের অংশটা মুঠো করে আলতো করে চেপে ধরছেন। রবির আঙুলগুলো শাশুড়ির চুলে আরও শক্ত হয়ে গেছে।


“এভাবেই… আরও গভীরে…” রবি গর্জে উঠল।


শাশুড়ি তার কথা শুনে দুই হাত দিয়ে রবির নিতম্ব চেপে ধরলেন এবং নিজেই আরও গভীরে নামিয়ে দিলেন। রবির পুরুষাঙ্গ এবার সম্পূর্ণ তার গলার ভেতর চলে গেল। শাশুড়ির নাক রবির তলপেটে ঠেকছে। তিনি কয়েক সেকেন্ড সেভাবেই রেখে দিলেন, গলা দিয়ে গলগল শব্দ বেরোচ্ছে। তারপর আস্তে আস্তে উপরে উঠে এসে লালায় ভেজা লিঙ্গটা জিভ দিয়ে পরিষ্কার করতে লাগলেন।


রবি আর সহ্য করতে পারছিল না। সে শাশুড়ির চুলের মুঠি শক্ত করে ধরে নিজেই কোমর নাড়াতে শুরু করল। শাশুড়ি কোনো বাধা দিলেন না। তিনি মুখ খুলে রেখে দিলেন, আর রবি তার মুখের ভেতর ধীরে ধীরে ঢোকাতে লাগল মুখ চোদা করতে লাগলো। প্রতিবার গভীরে যাওয়ার সময় শাশুড়ির চোখ আধবোজা হয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু তিনি থামছিলেন না।


রবির পুরুষাঙ্গ এখন শাশুড়ির লালায় পুরোপুরি ভিজে চকচক করছে। শাশুড়ি মাঝে মাঝে মুখ সরিয়ে শুধু জিভ দিয়ে নিচ থেকে উপর পর্যন্ত চেটে যাচ্ছেন, তারপর আবার গভীরে নিয়ে যাচ্ছেন। রবির শরীরটা কেঁপে উঠছে। সে জানে, আর বেশিক্ষণ নিজেকে ধরে রাখতে পারবে না।


শাশুড়ি বেগম যেন সেটা বুঝতে পেরে আরও জোরে চুষতে শুরু করলেন। তার ঠোঁট শক্ত করে রবির লিঙ্গকে আঁকড়ে ধরেছে, জিভ দ্রুত দ্রুত নাচছে। রবির হাত শাশুড়ির মাথায় চেপে ধরেছে, আর সে গভীর থেকে গভীরে ঢুকতে থাকল…


---


শাশুড়ির মুখ থেকে বেরিয়ে আসা সেই রগরগে শব্দ আর রবির পুরুষাঙ্গের ওপর তার জিভের ঘর্ষণে ঘরটা যেন এক কামনার আবর্তে রূপ নিল। রবি যখন দেখল শাশুড়ি বেগম আর স্থির থাকতে পারছেন না, তখন সে তার পুরুষাঙ্গ শাশুড়ির মুখ থেকে বের করে নিল। শাশুড়ি এবার হাঁটু গেড়ে বসে তার পশ্চাৎদেশ উঁচিয়ে ধরলেন—এক অমোঘ হাতছানি।


রবি এবার শাশুড়ির পেছনে গিয়ে দাঁড়াল। শাশুড়ির নিতম্বের ভাঁজ দুটোকে দুহাতে ফাঁক করে রবি নিজের শক্ত পুরুষাঙ্গটিকে সরাসরি তার মলদ্বারের প্রবেশপথে স্থাপন করল। শাশুড়ি বেগম একটি দীর্ঘ নিশ্বাস নিয়ে নিজের শরীরকে রবির জন্য শিথিল করে দিলেন। রবি খুব ধীরে, কিন্তু দৃঢ়ভাবে তার পুরুষাঙ্গটি শাশুড়ির মলদ্বারের গভীরে ঠেলে দিতে শুরু করল।


প্রথম ধাক্কাতেই শাশুড়ি বেগম পিঠ বাঁকিয়ে চিৎকার করে উঠলেন। তার মলদ্বারের আঁটসাঁট পেশিগুলো রবির পৌরুষকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল। রবি তখন কোনো করুণা করল না। সে একটার পর একটা প্রবল ধাক্কায় শাশুড়ির পশ্চাৎদেশের গভীরে নিজের অস্তিত্বের জানান দিতে লাগল আর চুদতে লাগলো। শাশুড়ির শরীর তখন রবির প্রতিটি ধাক্কায় সামনের দিকে দুলছে। রবির প্রতিটা ধাক্কায় শাশুড়ির মলদ্বার দিয়ে এক অদ্ভুত শব্দ বের হচ্ছিল, যা পুরো ঘরে এক রগরগে সুর তৈরি করছিল।


"আহ... রবি! সোনা! আমাকে পুরোপুরি ছিঁড়ে ফেলো!" শাশুড়ি বেগম উন্মাদিনীর মতো নিজের নিতম্ব রবির পুরুষাঙ্গের ওপর ঘষতে লাগলেন। রবি তখন এক পৈশাচিক শক্তিতে শাশুড়ির নিতম্ব ধরে প্রবল গতিতে আঘাত করে চুদে চলেছে। মলদ্বারের সেই গভীর আঁটসাঁট ভাব রবির পৌরুষকে এমন এক সুখের সাগরে ভাসাল, যা সখিনা বা টুকটুকির শরীরের সাথে মিলনেও সে পায়নি।


রবি এক হাত এগিয়ে শাশুড়ির যোনিতে আঙুল ঢুকিয়ে দিল। ভেতরটা এত ভেজা যে আঙুল সহজেই গভীরে চলে গেল। সে একসঙ্গে মলদ্বার ও যোনি দুটোকেই চুদতে লাগল। শাশুড়ির শরীরটা কাঁপতে শুরু করল।


শাশুড়ি বেগম এবার মাথা তুলে পেছন ফিরে তাকালেন। তার চোখ আধবোজা, মুখ খোলা, লালা ঝরছে।
“এভাবেই চুদো… রবি… আমাকে এভাবেই ভেঙে ফেলো… থামো না…”
রবি তার চুলের মুঠি শক্ত করে ধরে মাথাটা একটু পেছনে টানল আর আরও গভীরে, আরও জোরে ঠাপাতে থাকলো।


রবি শাশুড়ির চুলের মুঠি আরও শক্ত করে ধরে টানল। তার মাথাটা পেছনে বাঁকিয়ে গেল, গলা ফুলে উঠল, আর মুখ দিয়ে এক দীর্ঘ, ভাঙা আওয়াজ বেরিয়ে এল—


“আহ্... রবি... আরও... আরও জোরে...”


রবি কোনো কথা বলল না। শুধু তার কোমর আরও দ্রুত, আরও গভীর ছন্দে নাচতে লাগল। প্রতিটা ধাক্কায় শাশুড়ির নিতম্ব কেঁপে উঠছিল, আর মলদ্বারের সেই আঁটসাঁট পেশিগুলো তার পুরুষাঙ্গকে এমনভাবে চেপে ধরছিল যে রবির চোখও মুহূর্তের জন্য বন্ধ হয়ে আসছিল। সে আঙুলগুলো শাশুড়ির যোনির ভেতর আরও গভীরে ঠেলে দিয়ে দুই আঙুল দিয়ে ঘোরাতে লাগল। ভেতরটা এতটাই ভেজা আর গরম যে আঙুলগুলো সহজেই ঢুকে যাচ্ছিল, আর শাশুড়ির শরীর প্রতিবারেই কেঁপে উঠছিল।


শাশুড়ি বেগম দুই হাত দিয়ে বিছানার চাদর মুঠো করে ধরেছিলেন। তার কোমর নিজে থেকেই পেছনের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল, যেন রবির পুরুষাঙ্গ আরও গভীরে নেওয়ার জন্য ব্যাকুল। রবির প্রতিটা আঘাতে তার মলদ্বার দিয়ে সেই ভেজা, চটচটে শব্দ বেরোচ্ছিল—প্লপ... প্লপ... প্লপ...—যা ঘরের নিস্তব্ধতা ভেঙে রগরগে সুর তৈরি করছিল।


রবি হঠাৎ থেমে গেল। শাশুড়ির নিতম্ব দুটো দুই হাতে চেপে ধরে সে তার পুরুষাঙ্গ প্রায় পুরোটাই টেনে বের করল, শুধু অগ্রভাগটা রেখে। তারপর এক প্রবল, নিষ্ঠুর ধাক্কায় আবার পুরোটা ঢুকিয়ে দিল।


“উম্ফ্—!” শাশুড়ির মুখ থেকে চিৎকার বেরিয়ে এল। তার শরীরটা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ল, আর রবি তার চুল টেনে আবার সোজা করে দিল।



শাশুড়ির শরীরটা এখন কাঁপছিল। তার পা দুটো কেঁপে কেঁপে যাচ্ছিল, আর গলার স্বর ভাঙা ভাঙা হয়ে আসছিল।


“রবি... আমি... আমি আর পারছি না... এভাবে... আহ্...”


রবি তার কানে ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল, “পারবে। তুমি পারবে। আমি থামব না।”


এবং সে থামল না। আরও জোরে, আরও গভীরে, আরও নির্দয়ভাবে চুদতে লাগল।


রবি হঠাৎ থেমে গেল। তার পুরুষাঙ্গ এখনও শাশুড়ির মলদ্বারের গভীরে পুরোপুরি ঢোকা ছিল। সে এক মুহূর্ত স্থির থেকে তারপর ধীরে ধীরে, প্রায় নিষ্ঠুর ধৈর্যের সাথে টেনে বের করতে লাগল। শাশুড়ির আঁটসাঁট পেশিগুলো যেন তার লিঙ্গকে ছাড়তে চাইছিল না—প্রতি ইঞ্চি বেরোনোর সাথে সাথে সেই ভেজা, চটচটে শব্দ বেরোচ্ছিল, আর শাশুড়ির শরীর কেঁপে উঠছিল।


পুরোপুরি বেরিয়ে আসার পর রবির লিঙ্গটা চকচকে ভেজা, শক্ত, আর রক্তে ভরা অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিল। শাশুড়ি বেগম হাঁপাচ্ছিলেন। তার নিতম্ব এখনও সামান্য কেঁপে উঠছিল, মলদ্বারের মুখটা সামান্য খোলা আর লাল হয়ে ছিল।


রবি কোনো কথা না বলেই শাশুড়ির কাঁধে হাত দিয়ে তাকে ঘুরিয়ে দিল।। তার দুই পা স্বাভাবিকভাবেই দুদিকে সরে গেল। রবি তার দুই হাঁটুর মাঝে জায়গা করে নিয়ে উঁচু হয়ে বসল। তার চোখ এখন শাশুড়ির বুকের দিকে—দুটো ভারী, নরম স্তন, স্তনের অগ্রভাগ শক্ত হয়ে উঠেছে, লালচে গোলাপি রঙে।


রবি এক হাত দিয়ে নিজের লিঙ্গ ধরে শাশুড়ির যোনির মুখে ঠেকাল। ভেজা, গরম ছিদ্রটা তার অগ্রভাগকে সহজেই গ্রহণ করল। সে একটু চাপ দিল—আর লিঙ্গটা ধীরে ধীরে, ইঞ্চি ইঞ্চি ঢুকে যেতে লাগল। শাশুড়ির যোনি এতটাই ভেজা ছিল যে কোনো বাধাই পেল না। রবি এক প্রবল ঠেলায় পুরোটাই ভেতরে ঢুকিয়ে দিল।


“আহ্...!” শাশুড়ির মুখ থেকে দীর্ঘ স্বস্তির মতো চিৎকার বেরিয়ে এল। তার চোখ বন্ধ হয়ে গেল, মাথাটা পেছনে বাঁকিয়ে গেল।


রবি এবার দুই হাত শাশুড়ির দুপাশে রেখে মিশনারি পজিশনে শুরু করল। প্রথমে ধীর, গভীর ঠাপ দিতে লাগলো। প্রতিটা ঠাপে ঢোকানোয় তার কোমর শাশুড়ির নিতম্বে ঠেকে যাচ্ছিল, আর বেরোনোর সময় যোনির ভেজা দেওয়ালগুলো তার লিঙ্গকে চেপে ধরছিল। তারপর গতি বাড়ল। ধাক্কাগুলো আরও জোরে, আরও ছন্দময় হয়ে উঠল চোদার তালে তালে।


শাশুড়ির স্তন দুটো প্রতিটা ধাক্কায় উপরে-নিচে দুলতে লাগল। রবি মাথা নিচু করে এক স্তন মুখে তুলে নিল। তার গরম জিভ স্তনের অগ্রভাগ ঘিরে ধরল, চুষতে লাগল।  এমনভাবে চুষছিল যেন দুধ বের করে আনতে চায়। দাঁত দিয়ে হালকা কামড় দিয়ে টেনে ধরল, তারপর আবার জিভ দিয়ে ঘষতে লাগল। এক হাত দিয়ে অন্য স্তনটা চেপে ধরল—আঙুলগুলো নরম মাংসে ডুবে গেল, স্তনের অগ্রভাগ দুই আঙুলের ফাঁকে চেপে টিপতে লাগল।


“রবি... আহ্... আমার দুধ... এভাবেই খাও...” শাশুড়ি বেগমের গলা ভাঙা ভাঙা হয়ে উঠল। তার দুই হাত রবির চুল মুঠো করে ধরে তার মাথা আরও জোরে স্তনের ওপর চেপে ধরল।


রবি চুষতে চুষতেই কোমর নাচাচ্ছিল। প্রতিটা ধাক্কায় তার লিঙ্গ শাশুড়ির যোনির গভীরে ঢুকে যাচ্ছিল, আর বেরোনোর সময় সেই ভেজা শব্দ—প্লপ... প্লপ... প্লপ...—ঘরে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। সে এক স্তন ছেড়ে অন্য স্তনে মুখ লাগাল। জিভ দিয়ে স্তনের অগ্রভাগ ঘোরাতে ঘোরাতে চুষতে লাগল, আর অন্য হাত দিয়ে আগের স্তনটা শক্ত করে টিপতে লাগল। আঙুলগুলো স্তনের নরম মাংস চেপে ধরে এমনভাবে চুদে চলেছে যে শাশুড়ির শরীর কেঁপে উঠছিল।


শাশুড়ির পা দুটো এখন রবির কোমর জড়িয়ে ধরেছে। সে নিজে থেকেই নিতম্ব তুলে রবির ধাক্কার সাথে মিলিয়ে দিচ্ছিল তল ঠাপ দিচ্ছে। প্রতিবার রবি ঢোকাচ্ছিল, শাশুড়িও সামনে ঠেলছিল—যেন আরও গভীরে নিতে চায়।


রবির ঠাপ এখন আরও দ্রুত। তার কোমর এমন গতিতে নাচছিল যে শাশুড়ির পুরো শরীর বিছানায় দুলছিল। যোনির ভেতর থেকে ভেজা শব্দ আরও জোরে হয়ে উঠেছে। রবি মাঝে মাঝে লিঙ্গ প্রায় পুরোটা বের করে আবার এক ঝটকায় পুরোটা ঢুকিয়ে দিচ্ছিল—প্রতিবারেই শাশুড়ির মুখ থেকে চিৎকার বেরোচ্ছিল।


“আহ্... রবি... এভাবেই... আমার দুধ খাও... আরও জোরে চুদো...” শাশুড়ি বেগম উন্মাদিনীর মতো কথা বলছিলেন। তার চোখ আধবোজা, মুখ খোলা, লালা গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছিল।


রবি এক স্তন ছেড়ে আবার অন্য স্তনে মুখ লাগাল। এবার আরও জোরে চুষল। এমনভাবে যে শাশুড়ির স্তনের অগ্রভাগ তার মুখের ভেতর পুরোপুরি ঢুকে গিয়েছিল।আর কোমর দিয়ে নির্মম গতিতে চুদছিল। তার লিঙ্গ প্রতিটা ধাক্কায় শাশুড়ির যোনির গভীরে আঘাত করছিল, আর শাশুড়ির ভেজা দেওয়ালগুলো তাকে চেপে ধরে সুখের সাগরে ভাসাচ্ছিল।


রবি থামল না। সে চুষতে চুষতে, টিপতে টিপতে, আর গভীরে গভীরে চুদতেই থাকল—প্রতি মুহূর্ত আরও রগরগে, আরও নিষ্ঠুর, আরও কামনাভরা।


রবির কোমরের গতি এখন আরও ঘন হয়ে উঠেছে। প্রতিটা ধাক্কায় তার শাশুড়ির নিতম্বে শক্ত করে ঠেকে যাচ্ছে। লিঙ্গটা যোনির ভেতর দিয়ে পুরোপুরি ঢুকছে, বেরোচ্ছে—ভেজা দেওয়ালগুলো তাকে শক্ত করে চেপে ধরছে। শাশুড়ির স্তন দুটো প্রতিটা আঘাতে উপরে-নিচে দুলছে। রবির মুখ এখন আর স্তনে নেই; সে দুই হাত দিয়ে শাশুড়ির কোমর চেপে ধরে আরও গভীরে ঠেলে ঠেলে চুদছে।


শাশুড়ির পা দুটো রবির কোমরের দুপাশে শক্ত করে জড়ানো। তার নখ রবির পিঠে আঁচড় কেটেছে—লাল দাগ উঠেছে। যোনির ভেতর থেকে ভেজা শব্দ আরও জোরে হয়ে উঠেছে। রবির লিঙ্গ প্রতিবার ঢোকানোর সময় শাশুড়ির গর্ভাশয়ের মুখে আঘাত করছে। শাশুড়ির পেটের নিচের অংশটা কেঁপে উঠছে। তার যোনির পেশিগুলো অনিয়ন্ত্রিতভাবে সংকুচিত হতে শুরু করেছে—একবার, দুবার, তারপর দ্রুত।


রবির শ্বাস এখন ভারী। তার কপালে ঘাম জমেছে, বুকের লোম ভেজা। সে আরও জোরে ধাক্কা দিতে লাগল। শাশুড়ির শরীর বিছানায় দুলছে। তার স্তনের অগ্রভাগ শক্ত, লালচে। যোনির ভেতরটা এতটাই ভেজা যে রবির লিঙ্গ সহজেই পুরোটা ঢুকে যাচ্ছে, আর বেরোনোর সময় সাদা সাদা ফেনা জমে উঠছে।


শাশুড়ির পেশিগুলো এখন আরও শক্ত হয়ে সংকুচিত হচ্ছে। তার নিতম্ব নিজে থেকেই উপরে উঠছে। যোনির ভেতরটা রবির লিঙ্গকে এমনভাবে চেপে ধরছে যে রবির কোমর এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল। তারপর সে আরও কয়েকটা দ্রুত, গভীর ধাক্কা দিল। শাশুড়ির শরীরটা প্রচণ্ডভাবে কেঁপে উঠল। তার যোনি দ্রুত দ্রুত সংকুচিত হতে লাগল—একটার পর একটা ঢেউয়ের মতো। ভেতর থেকে গরম রস বেরিয়ে রবির লিঙ্গ ভিজিয়ে দিল।


রবিরও আর ধরে রাখার ক্ষমতা রইল না। তার কোমর শক্ত হয়ে গেল। সে পুরোপুরি ভেতরে ঢুকিয়ে ধরে রাখল। লিঙ্গটা স্পন্দিত হতে লাগল। গরম বীর্যের ঘন ঝাপটা একটার পর একটা শাশুড়ির যোনির গভীরে ছড়িয়ে পড়ল। রবির শরীর কেঁপে উঠছে। তার পেশির সংকোচন চলতেই থাকল—কয়েক সেকেন্ড ধরে।


দুজনের শরীর এখনও জোড়া লাগানো। রবির লিঙ্গ এখনও ভেতরে, স্পন্দন ধীরে ধীরে কমছে। শাশুড়ির যোনির পেশিগুলোও এখনও মাঝে মাঝে সংকুচিত হচ্ছে, রবির লিঙ্গ থেকে শেষের কয়েক ফোঁটা বীর্য বের করে নিচ্ছে। তাদের শ্বাস দ্রুত, বুক ওঠানামা করছে। ঘামে দুজনের শরীর চকচকে। রবির বুক শাশুড়ির স্তনের ওপর চেপে আছে। শাশুড়ির হাত এখনও রবির পিঠে রাখা, কিন্তু আর আঁচড় কাটছে না—শুধু হালকা করে ধরে আছে।


রবি ধীরে ধীরে কোমর সরিয়ে লিঙ্গটা টেনে বের করল। বেরোনোর সময় শাশুড়ির যোনি থেকে সাদা বীর্যের ধারা গড়িয়ে নিতম্বের ফাঁক দিয়ে বিছানায় পড়ল। লিঙ্গটা এখনও সামান্য স্পন্দিত, চকচকে ভেজা। রবি শাশুড়ির পাশ দিয়ে শুয়ে পড়ল। দুজনেরই শরীর এখনও কাঁপছে, নিঃশ্বাস এখনও মিলছে না।


 এই অভিশপ্ত রাতে, পাশের রুমে স্ত্রী রানিকে ফেলে রেখে রবি প্রমাণ করল যে এই বাড়ির প্রতিটি নারীর শরীরের অলিগলি এখন তার নিজের অধিকার। অন্দরমহলের এই নতুন ও অন্ধকার অধ্যায়টি আজ এক চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাল, যেখানে রবির কামনা আর শাশুড়ির অবদমিত তৃষ্ণা একাকার হয়ে গেল।




ভোরের প্রথম আলো যখন জানালার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিল, তখন সেই নিস্তব্ধ ঘরটিতে এক অদ্ভুত নিস্তেজতা বিরাজ করছিল। শাশুড়ি বেগম রবির বুকের ওপর মাথা রেখে পড়ে আছেন, তার শরীরের ভাঁজে ভাঁজে তখনো গত রাতের সেই নিষিদ্ধ মিলনের অবশিষ্টাংশ। তাদের এই অভিশপ্ত মিলনের সাক্ষী হয়ে আছে বিছানার এলোমেলো চাদর আর ঘরের ভারী বাতাস।
রবি বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াল। তার শরীরে এখনো সেই অমোঘ তৃপ্তির রেশ, কিন্তু মনে জন্ম নিয়েছে এক নতুন অস্থিরতা। সে জানালার দিকে এগিয়ে গিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখল, গ্রামটি ধীরে ধীরে জেগে উঠছে। পাশের ঘর থেকে রানীর সামান্য নড়াচড়ার শব্দ পাওয়া গেল। 
রানি হয়তো বাবার সেবা করার জন্য উঠতে যাচ্ছে। এই সামান্য শব্দটিও রবিকে এক মুহূর্তের জন্য সজাগ করে তুলল। সে এখনো এই বাড়ির জামাই, এই পরিচয়ের আড়ালে তার অশুভ কর্মকাণ্ডগুলো রানীর চোখের আড়ালে লুকিয়ে আছে।

শাশুড়ি বেগম চোখ মেললেন। রবির দিকে তাকিয়ে তার মুখে এক অদ্ভুত প্রশান্তি, যেন তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় কোনো জয় পেয়ে গেছেন। তিনি কোনো কথা বললেন না, শুধু আলতো করে রবির হাতটা ধরে নিজের ঠোঁটের কাছে নিয়ে এলেন। তার এই আচরণ বুঝিয়ে দিচ্ছে, এখন থেকে এই বাড়ি আর শুধু রানীর বাবার বাড়ি নয়—এটি এখন রবির গোপন আস্তানা।

"রবি, তুমি কি চলে যাবে?" শাশুড়ি ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করলেন। তার গলায় এখন আর কোনো সংকোচ নেই, আছে এক গভীর অধিকারবোধ।

রবি শাশুড়ির চুলগুলো আলতো করে সরিয়ে দিয়ে বলল, "যেতে তো হবেই। তবে মনে রেখো, আমার এই উপস্থিতি শুধু এই ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই বাড়ির প্রতিটি কোণ, প্রতিটি রহস্য এখন আমার জানা।"

রবি যখন করিডোর দিয়ে হাঁটছিল, তখন রানীর সাথে দেখা হলো। রানি তখনো ঘুমের ঘোরে চোখ ডলছে। সে রবিকে দেখে অবাক হয়ে হাসল। "এত সকালে উঠে পড়লে যে? বাবার শরীরটা আজ একটু ভালো মনে হচ্ছে।"

রবি রানীর হাতটা ধরে তার চোখের দিকে তাকিয়ে এক ধূর্ত হাসি হাসল। "হ্যাঁ, একটু কাজ ছিল।

রানির সরলতা রবির বুকে কোনো দয়া জন্ম দিল না, বরং সে আরও বেশি করে উপভোগ করল এই মিথ্যার আশ্রয় নেওয়াটা। সে বুঝতে পারল, সে এই বাড়ির প্রতিটি নারীর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্দরমহলের সেই গোপন কুঠুরির নিষিদ্ধ অভ্যাস এখন ছড়িয়ে পড়েছে শ্বশুরবাড়ির প্রতিটি কোণে। রবি জানে, সে এখন আর কোনো সাধারণ মানুষ নয়—সে এক অন্ধকার সম্রাট, যে তার ইচ্ছামতো এই নারীদের জীবন ও শরীর নিয়ে খেলছে।

বাইরের আকাশ তখন পরিষ্কার হয়ে এসেছে, গ্রাম্য পাখিদের কলকাকলিতে চারপাশ মুখরিত। কিন্তু রবির কাছে পৃথিবীটা এখন কেবলই এক বিশাল শিকারশালা। অন্দরমহলের সেই পুরোনো নেশা আর শ্বশুরবাড়ির নতুন এই জয়—রবি এক অদ্ভুত তৃপ্তির সাথে গ্রাম থেকে ফেরার প্রস্তুতি নিল। সে জানে, এই ফিরতি পথ তাকে নিয়ে যাবে তার সেই মূল অন্দরমহলে, যেখানে সখিনা আর টুকটুকি তার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুণছে। প্রতিটি পদক্ষেপ রবির মনে এক নতুন জয়ের আনন্দ নিয়ে আসছে। সে এখন অন্দরমহলের সেই রাজা, যার রাজত্বে কোনো নিয়ম নেই, আছে কেবল নিষিদ্ধ আকাঙ্ক্ষার সীমাহীন বিস্তার।

**
শ্বশুরবাড়ি থেকে ফেরার পথে ঘোড়ার গাড়ির চাকাগুলো ধুলো উড়িয়ে গ্রামের মেঠো পথ দিয়ে এগিয়ে চলল। রবির পাশে বসে আছে রানি। রানীর মুখে একরাশ তৃপ্তি, কারণ বাবার শরীর আগের চেয়ে অনেকটাই ভালো। সে রবির কাঁধে মাথা রেখে গুনগুন করে সুর ভাঁজছে, কিন্তু তার জানা নেই, তার শরীরের গভীরে রবি গত রাতে ঠিক কী ধরণের খেলা খেলে এসেছে।

রবি জানালার দিকে তাকিয়ে নির্বিকার। তার দৃষ্টি যদিও পথের দিকে, কিন্তু মনের ভেতর তখনো শাশুড়ি বেগমের সেই কামাতুর আর্তনাদ আর তার শরীরের উষ্ণতা। রবি রানিকে নিয়ে ফিরছে ঠিকই, কিন্তু সে এখন আর সেই আগের রবি নেই। তার পৌরুষের দাপট আর নিষিদ্ধ নেশা তাকে এক চরম অহংকারে পূর্ণ করে তুলেছে। সে জানে, এই রানি তার অন্দরমহলের এক নতুন অধ্যায়ের প্রথম সাক্ষী হতে যাচ্ছে।

গ্রামের সীমানায় পৌঁছাতেই অন্দরমহলের সেই চেনা চালচিত্র চোখে পড়ল। সখিনা বেগম আর টুকটুকি আগে থেকেই বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল। রানিকে দেখে সখিনার চোখেমুখে এক অদ্ভুত শীতলতা খেলে গেল, তবে পরক্ষণেই তিনি এক কৃত্রিম হাসি ফুটিয়ে তুললেন। "আরে রানি মা যে! কতদিন পর তোকে দেখলাম।"

টুকটুকি এগিয়ে এসে রানীর হাত ধরল, কিন্তু তার চোখের কোণে ছিল রবির দিকে তাকানো এক রহস্যময় চাহনি। রানিকে বরণ করে নেওয়ার এই আনুষ্ঠানিকতায় রবি যেন এক অদৃশ্য সিংহাসনে বসে আছে। সে দেখল, সখিনা আর টুকটুকি রানীর সাথে কেমন আচরণ করে, আর রানি নিজেও এই বাড়ির অন্দরমহলের গোপন ইঙ্গিতগুলো ধরতে পারে কি না।
ঘরে ঢোকার পর রানি তার ঘরের সব কিছু গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। 

রানি ঘর থেকে বেরিয়ে এল। সে রবিকে সখিনা আর টুকটুকির সাথে দেখে একটু হেসে বলল, "তোমরা কী নিয়ে এত গল্প করছো?"

রবি এগিয়ে গিয়ে রানীর হাত ধরল। তার হাতের বাঁধনে এক অদ্ভুত কঠোরতা। "আমরা তোকে নিয়ে ঘর গোছানোর গল্প করছি, রানি। এই অন্দরমহলে তো দুদিন ধরে শুধু অন্ধকার ছিল, এবার তোমার আগমনে হয়তো নতুন কিছু শুরু হবে।"

রানী সেই কথার অন্তর্নিহিত অর্থ না বুঝলেও তার মন এক অজানিত আশঙ্কায় কেঁপে উঠল। সখিনা বেগম রান্নাঘরের দিকে চলে গেলেন, কিন্তু যাওয়ার আগে রবির দিকে এমন এক দৃষ্টি দিলেন, যা বুঝিয়ে দিল—এই অন্দরমহল এখন আর আগের মতো নেই। রানীর ফিরে আসা মানে এই বাড়ির সব খেলার সমাপ্তি নয়, বরং রবি এখন এক নতুন ছক কাটছে—যেখানে রানি হবে তার অন্দরমহলের এক প্রধান অংশীদার, আর সখিনা ও টুকটুকি হবে তার সঙ্গী। অন্দরমহলের সেই অভিশপ্ত কুঠুরি যেন রানীর আগমনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। রবি জানল, এই রাতটা হবে তার জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ এবং রোমাঞ্চকর রাত—যেখানে রানিকে সে তার কামনার বেদীমূলে আজ এক নতুন উপায়ে বরণ করে নেবে।

**
শ্বশুরবাড়ি থেকে ফেরার পর থেকেই অন্দরমহলের পরিবেশটা কেমন যেন ভারী হয়ে আছে। রানীর উপস্থিতিতে এতদিনকার জমে থাকা নীরবতা যেন আরও গাঢ় হয়ে উঠেছে। রানি এখন বাড়ির কাজে মনোযোগী, কিন্তু তার অজান্তেই অন্দরমহলের প্রতিটি কোণ থেকে এক অদ্ভুত দৃষ্টি তাকে অনুসরণ করছে। সে বুঝতে পারছে না যে, তার স্বামী রবি এবং বাড়ির অন্য দুই নারী—সখিনা ও টুকটুকি—তার অগোচরে এক অদৃশ্য দেয়াল তৈরি করে ফেলেছে।

রবি আজ আর আগের মতো নেই। রানীর চোখের সামনে সে এক আদর্শ স্বামী, কিন্তু আড়ালে তার প্রতিটি চাহনিতে এক শীতল অধিকারবোধ। সখিনা ও টুকটুকিও আজ রানীর সাথে খুব ঘনিষ্ঠ হওয়ার অভিনয় করছে, যেন তারা রানিকে তাদের এই নিষিদ্ধ বৃত্তের ভেতরে টেনে নিতে চাইছে।

রাত গভীর। রানি তার হারিকেনের আলোয় যখন রান্নাবান্নার হিসাব মেলাচ্ছে, তখন রবি ঘরে ঢুকল। রানীর ঘরের দরজার খিল খোলার শব্দটা আজ কেমন যেন ভারী শোনাল। রবি সোজা রানীর কাছে এসে দাঁড়াল। তার চোখে আজ কোনো বন্যতা নেই, আছে এক অস্বাভাবিক শান্ত ভাব। সে রানীর চিবুক ধরে ওপরের দিকে তাকাল।

"রানি, তুমি তো খুব লক্ষ্মী বউ," রবি নিচু স্বরে বলল। "কিন্তু এই বাড়িতে থাকতে হলে কিছু নতুন নিয়ম শিখতে হবে। নিয়মগুলো কি আজ রাতে শেখাবো"

তারপর খাওয়া দাওয়া শেষ করে ঘরে ডুকলো।
রানি কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখল সখিনা বেগম আর টুকটুকি নিঃশব্দে ঘরের ভেতর ঢুকেছে। সখিনা বেগম ঘরের বাতিটা একটু কমিয়ে দিলেন, যেন চারপাশটা ঝাপসা হয়ে আসে। টুকটুকি রানীর পেছনে দাঁড়িয়ে তার চুলগুলো বিলিয়ে দিল। রানীর সারা শরীর শিউরে উঠল, কারণ সে অনুভব করল সখিনা বেগমের হাতের এক অদ্ভুত ঠান্ডা স্পর্শ তার কাঁধে।
"রবি, তোমরা কী করছ?" রানি ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করল।

রবি কোনো উত্তর না দিয়ে রানীর সামনে এসে বসল। তার হাত দুটো রানীর শাড়ির পাড় ধরে আলতো করে টানল। "রানি, এই বাড়িটা আমার। আর এখানকার প্রতিটি নারী আমার নিয়মের অধীনে। তুমি এতদিন বাইরে ছিলে। আজ সখিনা আর টুকটুকি তোমাকে দেখাবে, এই অন্দরমহলে আনন্দ আর শৃঙ্খলা কীভাবে মিলেমিশে থাকে।"

সখিনা বেগম মুচকি হাসলেন। "রানি মা, ভয় পাস না। রবি তো তোরই স্বামী। আমরা তোকে কেবল দেখাচ্ছি, কীভাবে তোর এই সংসারকে আরও আপন করে নেওয়া যায়।"

টুকটুকি ফিসফিস করে বলল, "মা, আমাদের সাথে মিশে গেলে দেখবে, এই জীবনটা কত সহজ। এখানে কোনো লজ্জা নেই, কোনো ভয় নেই—আছে শুধু বাবার ইচ্ছের জয়গান আর অনাবিল সুখ।"

রানি দেখল, সখিনা আর টুকটুকি তার শাড়ির বাঁধন আলগা করে দিচ্ছে। সে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু রবির শক্ত হাতের চাপে সে যেন পাথর হয়ে গেল। রবি তার নিজের পৌরুষের গাম্ভীর্য নিয়ে রানীর দিকে তাকিয়ে রইল, যেন সে কোনো রাজকীয় আদালতের বিচারক। সখিনা ও টুকটুকি আজ যেন রবির সহকারী। তারা রানিকে তার নিজের ঘর থেকে বের করে নিয়ে গেল সখিনার সেই গোপন কুঠুরিতে।

কুঠুরির ভেতর ধূপের ধোঁয়া আর তেলের গন্ধে বাতাস ভারী। সেখানে কোনো আলো নেই, কেবল বাইরের চাঁদের আলো জানালার ফাঁক দিয়ে এসে পড়েছে। রানি বুঝল, আজ তাকে কোনো সাধারণ মিলনের জন্য আনা হয়নি, আনা হয়েছে এক অদ্ভুত আনুগত্যের পরীক্ষায়। রবি যখন কুঠুরির মাঝখানে দাঁড়িয়ে তাকে দেখল, তখন রানি অনুভব করল যে সে আজ কেবল রবির স্ত্রী নয়, সে আজ তাদের এই নিষিদ্ধ অন্দরমহলের এক নতুন মায়াজালে আটকা পড়া বন্দী। সখিনা ও টুকটুকি রানীর চারদিকে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল, আর রবির সেই রহস্যময় চাহনি রানীর প্রতিটি নিঃশ্বাসকে থমকে দিল। অন্দরমহলের এই নতুন পর্বে, রানি ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করল
 যে তার স্বামী এখন আর কেবল একজন মানুষ নয়, সে এখন এক অন্ধকার নিয়তি।

Reply
#10

অন্দরমহলের সেই গোপন কুঠুরির নিস্তব্ধতা আজ রানীর কাছে বিভীষিকার মতো মনে হচ্ছে। কুঠুরির দেয়ালগুলো যেন সময়ের ভারে নুইয়ে পড়েছে, আর বাতাসে ভাসছে পুরনো ধূপের তীব্র গন্ধ। রানিকে কুঠুরির মাঝখানে বসিয়ে রাখা হয়েছে। তার দুই পাশে সখিনা আর টুকটুকি, যেন দুই প্রহরী। আর রবি? রবি দাঁড়িয়ে আছে কুঠুরির দরজার সামনে, তার পরনে কেবল একটা ধুতি, তার পেশিবহুল শরীরের প্রতিটি ভাঁজে যেন এক আদিম শক্তির খেলা। হারিকেনের ক্ষীণ আলোয় রবির শরীরের ছায়া দেয়ালের ওপর নড়াচড়া করছে, যেন কোনো বিশাল দানবের ছায়া।
রানি কাঁপছে। তার সমস্ত আত্মসম্মানবোধ যেন এই অন্ধকার কুঠুরিতে এসে থমকে দাঁড়িয়েছে। 

রবি ধীর পায়ে রানীর দিকে এগিয়ে এল। তার প্রতিটি পদক্ষেপ এই কুঠুরির মাটিতে এক গম্ভীর প্রতিধ্বনি তুলছে। সে রানীর একদম সামনে এসে দাঁড়াল। রানীর চোখের জল গড়িয়ে পড়ছে, কিন্তু রবির তাতে কোনো বিকার নেই। সে রানীর কানের কাছে ফিসফিস করে বলল, "রানি, আজ তুই আমার স্ত্রী হিসেবে নয়, আজ তুই আমার খেলার সাথী হিসেবে এখানে এসেছিস। তোর এই শরীরটা এখন থেকে আর তোর একার নয়। সখিনা আর টুকটুকি আজ তোকে শেখাবে কীভাবে এই শরীরের প্রতিটি ভাঁজ দিয়ে আমাকে তুষ্ট করতে হয়।"

রবি সখিনাকে ইশারা করল। সখিনা বেগম পরম যত্নে রানীর পরনের কাপড়গুলো একে একে সরিয়ে দিলেন। রানি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু টুকটুকি তার হাত দুটো শক্ত করে ধরে রাখল। কুঠুরির ভেতর রানীর সেই নগ্ন শরীরটা লন্ঠনের আলোয় কাঁপছে। রবি তার পুরুষাঙ্গের ওপর হাত রেখে দাঁড়িয়ে রইল। সে দেখল, রানীর শরীরের সেই পবিত্রতা, সেই লাবণ্য—সবই এখন তার করতলগত।

সখিনা বেগম রানীর শরীরের অলিগলি নিজের হাতের স্পর্শে অনুভব করতে লাগলেন। তিনি বললেন, "রানি, দেখ—তোর এই শরীরটা কত নরম। রবি এটাকে কীভাবে ভালোবাসে, তা কি তুই আজ অবধি জানতিস?" সখিনা বেগম রানীর স্তনযুগলের ওপর হাত রাখলেন। টুকটুকি এবার রানীর উরুর মাঝখানে তার হাতের জাদু দেখাতে শুরু করল। রানি একসময় নিজের অজান্তেই গোঙিয়ে উঠল। তার শরীরের ভেতর থেকে এক অস্ফুট আওয়াজ বেরিয়ে এল। রানি নিজে অবাক—সে কি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে?

রানির গোঙানি শুনে সখিনা বেগমের চোখে একটু হাসি ফুটে উঠল। তিনি রানির এক স্তন চেপে ধরে আলতো করে মোচড় দিলেন। রানির শরীর আবার কেঁপে উঠল। টুকটুকি এবার দুই হাত দিয়ে রানির দুই উরু আলাদা করে রাখল। তার আঙুলগুলো রানির গোপনাঙ্গের ভেজা নরম মাংসে আলতো করে ঘষতে লাগল।

রবি এখনো দাঁড়িয়েছিল। তার শ্বাস ক্রমে দ্রুত হচ্ছিল। সে নিজের পুরুষাঙ্গ চেপে ধরে আস্তে আস্তে নাড়াতে শুরু করল। সখিনা বেগম রানির দিকে তাকিয়ে বললেন, “দেখ রবি, তোর রানি কেমন ভিজে যাচ্ছে। ওর শরীর তোকেই ডাকছে।”

রানি মুখ ফিরিয়ে নিতে চাইল, কিন্তু টুকটুকি তার চিবুক চেপে ধরে আবার সোজা করে দিল। রানির চোখের কোণ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল। সে ফিসফিস করে বলল, “ছেড়ে দাও… আমাকে ছেড়ে দাও…” কিন্তু তার কণ্ঠস্বর দুর্বল হয়ে আসছিল। শরীরের ভেতর থেকে যে উত্তাপ উঠছিল, তা সে আর আটকাতে পারছিল না।

সখিনা বেগম এবার রানির দুই স্তনের বোঁটা আঙুল দিয়ে চেপে ধরে টানতে লাগলেন। রানির কোমর অজান্তেই উপরে উঠে এল। টুকটুকির আঙুল এবার আরও গভীরে ঢুকে গেল। রানির গলা দিয়ে একটা লম্বা, অসহায় গোঙানি বেরিয়ে এল। তার পা দুটো কাঁপছিল।

রবি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। সে ধীরে ধীরে এগিয়ে এল। তার পুরুষাঙ্গ তখন শক্ত হয়ে উঠেছে। সে রানির সামনে এসে দাঁড়াল এবং সখিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে ইশারা করল। সখিনা বেগম রানির মাথা নিচু করে রবির পুরুষাঙ্গের দিকে এগিয়ে দিলেন।

রানির ঠোঁট কেঁপে উঠল। সে চোখ বন্ধ করে নিল। টুকটুকি এখনো তার উরুর ভেতর আঙুল চালাচ্ছিল। সখিনা বেগম রানির চুল ধরে রবির দিকে আরও একটু এগিয়ে দিলেন।

কুঠুরির ভেতর লন্ঠনের আলো আরও ক্ষীণ হয়ে আসছিল। শুধু শোনা যাচ্ছিল রানির দমবন্ধ গোঙানি আর শরীরের নরম শব্দ।

রবি রানীর ওপর ঝুঁকে পড়ল। সে দেখল, রানীর চোখ এখন আর জলে ভেজা নেই, বরং তাতে কামনার এক অস্পষ্ট ছায়া খেলা করছে।

 রবি সখিনাকে সরিয়ে নিজে রানীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। কিন্তু আজকের মিলনটি অন্যরকম। রবি রানিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিল ঠিকই, কিন্তু সে সখিনা আর টুকটুকিকে আদেশ দিল রানিকে প্রতিটি মুহূর্তে আরও উত্তেজিত করতে। টুকটুকি রানীর মাথার কাছে বসে তার চুল বিলিয়ে দিতে লাগল, আর সখিনা বেগম নিচে থেকে রানীর যোনির ওপর নানা কৌশলে নিজের হস্তচালনা করতে থাকলেন।


রবি এবার দ্রুত গতিতে আঘাত করতে শুরু করল। প্রতিটি ধাক্কায় রানির শরীর উপরে উঠে যাচ্ছিল। বিছানার ওপর তার নগ্ন পিঠ ঘষা খেয়ে লাল হয়ে উঠছিল। রবির হাত রানির কোমর চেপে ধরে আরও জোরে টানছিল নিজের দিকে। তার পুরুষাঙ্গ প্রতিবার পুরোপুরি বেরিয়ে এসে আবার গভীরে ঢুকে যাচ্ছিল—।

সখিনা বেগম নিচে বসে রানির যোনির চারপাশ আঙুল দিয়ে ঘষছিল। কখনো রবির পুরুষাঙ্গের গোড়ায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিল, কখনো রানির ভোদার বোঁটা চেপে ধরে টানছিল। টুকটুকি রানির মাথার কাছে থেকে তার দুই স্তন চেপে ধরে আদর করছিল—কখনো বোঁটা মুখে নিয়ে চুষছিল, কখনো জিভ দিয়ে চেটে দিচ্ছিল।

রানির চোখ বন্ধ। মুখ হাঁ হয়ে আছে। প্রতিটি আঘাতে তার গলা দিয়ে অস্ফুট আওয়াজ বেরোচ্ছে—“আহ… আহ্…”। সে আর প্রতিরোধ করছিল না। তার পা দুটো রবির কোমর জড়িয়ে ধরেছিল। নখ দিয়ে রবির পিঠে দাগ কেটে যাচ্ছিল।

রবি এবার আরও দ্রুত চুদতে শুরু করলো। তার শ্বাস ফুলে উঠছে। সে রানির এক পা কাঁধের ওপর তুলে দিল যাতে আরও গভীরে ঢুকতে পারে। প্রতিটি ধাক্কায় রানির স্তন দুটো দুলছে। সখিনার হাত এখন রানির ভগাঙ্কুর চেপে আলতো করে ঘষছে। টুকটুকি রানির কানে ফিসফিস করে বলছে, “দেখ রানি… কেমন করে চুদছে তোকে…”

রানির শরীর হঠাৎ শক্ত হয়ে উঠল। তার যোনি রবির পুরুষাঙ্গকে জোরে চেপে ধরল। এক তীব্র কম্পন তার গোটা শরীরে ছড়িয়ে পড়ল। সে চিৎকার করে উঠল—দীর্ঘ, অপ্রতিরোধ্য এক চিৎকার। তার ভেতর দিয়ে তরল গড়িয়ে পড়ছিল রবির পুরুষাঙ্গ বেয়ে।

রাত যখন আরও গভীর হলো, কুঠুরির ভেতরে তখন কেবল তাদের চারজনের নিঃশ্বাসের শব্দ আর ঘামের গন্ধ। রবি বুঝতে পারল, রানি এখন পুরোপুরি তাদের আয়ত্তে। এই কুঠুরিতে যা ঘটে গেল, তা রানীর মনের সমস্ত সংস্কার ধুয়ে মুছে সাফ করে দিয়েছে। এখন সে কেবল রবির নয়, সে এখন তাদের অশুভ সাম্রাজ্যের এক নতুন রানি। 

রবি রানির ভেতর থেকে নিজের পুরুষাঙ্গটা ধীরে ধীরে বের করে নিল। সঙ্গে সঙ্গে টুকটুকি এগিয়ে এসে সেই ভেজা, উত্তপ্ত লিঙ্গটা নিজের মুখের ভেতর ঢুকিয়ে চুষতে শুরু করল। তার ঠোঁট শক্ত করে চেপে ধরে আস্তে আস্তে সামনে-পিছনে নাড়াচ্ছিল। রবির কোমর কেঁপে উঠল সেই গরম, ভেজা চাপে।

ঘরটা তখন রগরগে শব্দে ভরে উঠেছিল। সখিনা বেগম রানির স্তন দুটো জোরে চেপে পিষছিলেন—নরম মাংসের ওপর আঙুলের চাপের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। রানির গলা দিয়ে অস্ফুট গোঙানি বেরোচ্ছিল, কখনো দীর্ঘশ্বাসের মতো, কখনো আরও তীব্র। আর তার ওপর যোগ হচ্ছিল টুকটুকির মুখের ভেতর থেকে আসা ভেজা ঘর্ষণের শব্দ—চুষে নেওয়ার সেই অবিরাম, রসালো আওয়াজ।

রবি মাথা পেছনে ফেলে চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে রইল। তার এক হাত টুকটুকির চুলে গিয়ে পড়ল। অন্য হাত দিয়ে সে রানির উরু চেপে ধরে রাখল। সখিনা বেগম এবার রানির যোনির ওপর আবার হাত বুলোতে শুরু করলেন—ভেজা মাংস আঙুল দিয়ে আলতো করে ঘষতে ঘষতে। রানির শরীর আবার কেঁপে উঠল। তার পা দুটো কাঁপছিল।

কুঠুরির অন্ধকারে লন্ঠনের আলো কাঁপছিল। শুধু শব্দ আর শব্দ—স্তন পিষবার শব্দ, গোঙানি, আর টুকটুকির মুখের ভেতর রবির পুরুষাঙ্গ চুষে নেওয়ার সেই অবিরাম রসালো শব্দ।

রবি রানির ভেতর থেকে নিজের পুরুষাঙ্গ বের করে নিল। এবার তার চোখ গিয়ে পড়ল টুকটুকির ওপর। সে টুকটুকিকে ইশারা করে চিত করে শুতে বলল। টুকটুকি হাসিমুখে শুয়ে পড়ল, দুই পা ছড়িয়ে দিল। তার যোনি তখন ভিজে চকচক করছিল।

রবি টুকটুকির দুই উরু শক্ত করে ধরে হাঁটু গেড়ে বসল। তার শক্ত, রানির রসে ভেজা পুরুষাঙ্গটা টুকটুকির যোনির মুখে এনে ঘষতে লাগল। টুকটুকি কোমর উঁচু করে দিল। রবি এক ধাক্কায় গভীরে ঢুকিয়ে দিল। টুকটুকির গলা দিয়ে একটা লম্বা, রসালো গোঙানি বেরিয়ে এল—“আহ্… বাহ্…”।

সখিনা বেগম এবার রানির দিকে ফিরলেন। তিনি রানির বুকে দুই হাঁটু গেড়ে বসলেন। তার নিজের যোনি রানির মুখের ঠিক ওপর এনে চেপে ধরলেন। রানির নাকে সখিনার গন্ধ এসে লাগল—গরম, ভেজা, কামনার গন্ধ। সখিনা বেগম রানির চুল ধরে নিজের যোনির ওপর আরও জোরে চেপে দিলেন।

“চাট,” সখিনা বেগম আদেশ দিলেন। রানির জিভ বেরিয়ে এল। সে সখিনার ভেজা যোনির মাঝখানের নরম ফাঁকটা জিভ দিয়ে আলতো করে চাটতে শুরু করল। সখিনার শরীর কেঁপে উঠল। তিনি রানির মাথা আরও জোরে চেপে ধরলেন। রানির জিভ এবার গভীরে ঢুকে গেল—সখিনার ভেতরের গরম, ভেজা মাংস চাটতে চাটতে।

এদিকে রবি টুকটুকিকে জোরে জোরে চুদছিল। প্রতিটি ধাক্কায় টুকটুকির স্তন দুটো দুলছিল। রবি তার দুই পা কাঁধের ওপর তুলে দিল যাতে আরও গভীরে ঢুকতে পারে। তার পুরুষাঙ্গ টুকটুকির যোনির ভেতর ঢোকা-বেরোনোর শব্দ করছিল—ভেজা, রগরগে শব্দ। টুকটুকি চিৎকার করে উঠছিল, “আরও জোরে… আরও গভীরে চুদো…”।

সখিনা বেগম রানির মুখের ওপর নিজের যোনি ঘষতে লাগলেন। রানির জিভ সখিনার ভগাঙ্কুরে লাগছিল। সখিনা মাঝে মাঝে কোমর নাড়িয়ে রানির মুখের ওপর নিজের যোনি পিষছিলেন। রানির নাক দিয়ে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল, কিন্তু সে থামছিল না। তার জিভ সখিনার ভেতরের রস চেটে চেটে গিলছিল।

রবি এবার টুকটুকির কোমর দুই হাতে চেপে ধরে আরও দ্রুত আঘাত করতে লাগল। তার উরু টুকটুকির উরুর সাথে ধাক্কা খাচ্ছিল। টুকটুকির যোনি রবির পুরুষাঙ্গকে জোরে চেপে ধরছিল। তার গলা দিয়ে অস্ফুট আওয়াজ বেরোচ্ছিল—“আহ্… আহ্… চুদো… চুদো আমাকে…”।

সখিনা বেগম রানির চুল আরও শক্ত করে ধরলেন। তিনি রানির মুখের ওপর নিজের যোনি পুরোপুরি চেপে দিয়ে দুলতে শুরু করলেন। রানির জিভ সখিনার ভগাঙ্কুরে দ্রুত ঘষা খেয়ে যাচ্ছিল। সখিনার শরীর কাঁপতে শুরু করল। তার যোনি রানির মুখের ওপর কেঁপে উঠল। এক ঝলক রস রানির মুখে গড়িয়ে পড়ল।

রবি টুকটুকির ভেতর আরও জোরে ধাক্কা মারছিল। তার পুরুষাঙ্গ পুরোপুরি ঢুকে যাচ্ছিল প্রতিবার। টুকটুকির পা দুটো রবির কাঁধে জড়িয়ে ছিল। তার নখ দিয়ে রবির হাতে দাগ কেটে যাচ্ছিল। হঠাৎ টুকটুকির শরীর শক্ত হয়ে উঠল। তার যোনি রবির পুরুষাঙ্গকে জোরে চেপে ধরল। সে চিৎকার করে উঠল—দীর্ঘ, রগরগে এক চিৎকার। তার ভেতর দিয়ে তরল গড়িয়ে পড়ছিল রবির পুরুষাঙ্গ বেয়ে।

রবি থামল না। সে টুকটুকির যোনির ভেতর আরও কয়েকবার জোরে আঘাত করে নিজের বীর্য ঢেলে দিল। তার শরীর কেঁপে উঠল। গরম বীর্য টুকটুকির গভীরে গড়িয়ে পড়ছিল।

সখিনা বেগমও রানির মুখের ওপর শেষবারের মতো জোরে পিষলেন। তার যোনি কেঁপে উঠল। রানির মুখ সখিনার রসে ভিজে গেল। সখিনা গোঙিয়ে উঠলেন, তারপর রানির বুকে ঢলে পড়লেন।

চারজনের শরীর ঘামে ভিজে কাঁপছিল। কুঠুরির বাতাসে শুধু হাঁপানোর শব্দ আর ভেজা যোনির গন্ধ ভাসছিল। রবি টুকটুকির ভেতর থেকে নিজের পুরুষাঙ্গ বের করে নিল—সেটা তখন বীর্যে ও রসে চকচক করছিল।

রবি টুকটুকির ভেতর থেকে নিজের পুরুষাঙ্গ বের করে নিল। সেটা তখন বীর্যে ও রসে চকচক করছিল। তার চোখ গিয়ে পড়ল সখিনা বেগমের ওপর। যে নারী তাকে জন্ম দিয়েছে, যে নারীর বুকে সে দুধ খেয়ে বড় হয়েছে—আজ সেই নারীর শরীর তার সামনে নগ্ন হয়ে পড়ে আছে।

রবি এগিয়ে গিয়ে সখিনা বেগমের চুল ধরে তুলে দাঁড় করাল। সখিনা বেগম রবির চোখের দিকে তাকিয়ে হাসি দিলেন—একটু লজ্জা, একটু কামনা মেশানো হাসি। রবি তাকে চিত করে শুইয়ে দিল। সখিনার দুই পা আলাদা করে ধরে তার যোনির দিকে তাকাল। সেই যোনি যেখান থেকে সে বেরিয়ে এসেছিল, আজ সেখানেই সে ঢুকতে যাচ্ছে।

রবি নিজের শক্ত পুরুষাঙ্গটা সখিনার যোনির মুখে এনে ঘষতে লাগল। সখিনার শরীর কেঁপে উঠল। তিনি নিজের দুই হাত দিয়ে নিজের উরু আরও ছড়িয়ে দিলেন। রবি এক ধাক্কায় গভীরে ঢুকিয়ে দিল। সখিনার গলা দিয়ে একটা দীর্ঘ, রগরগে গোঙানি বেরিয়ে এল—“আহ্… বাবা…”।

রবি থামল না। সে সখিনার দুই পা কাঁধের ওপর তুলে দিল এবং জোরে জোরে আঘাত করতে শুরু করল। প্রতিটি ধাক্কায় সখিনার স্তন দুটো দুলছিল। যে স্তন থেকে রবি একসময় দুধ খেয়েছে, আজ সেই স্তন রবির চোখের সামনে দুলছে। রবি এক হাত দিয়ে সখিনার এক স্তন চেপে ধরে পিষতে লাগল। বোঁটা আঙুল দিয়ে মোচড় দিচ্ছিল।

সখিনা বেগম চিৎকার করে উঠছিলেন। তার যোনি রবির পুরুষাঙ্গকে জোরে চেপে ধরছিল। “জোরে চুদো… আমার পেটের ভেতর চুদো…” বলে তিনি রবির কোমর চেপে ধরলেন। রবি আরও দ্রুত হয়ে উঠল। তার উরু সখিনার উরুর সাথে ধাক্কা খাচ্ছিল। ভেজা শব্দ ঘর ভরিয়ে দিচ্ছিল।

এদিকে রানি ও টুকটুকি পাশে বসে দেখছিল। টুকটুকি রানির হাত ধরে নিজের যোনিতে বসিয়ে দিয়েছিল। দুজনেই আঙুল ঢুকিয়ে নিজেদের উত্তেজিত করছিল। রানির চোখ দিয়ে জল গড়াচ্ছিল—লজ্জায় নয়, কামনায়।

রবি সখিনাকে উল্টে উপুড় করে শুইয়ে দিল। পেছন থেকে আবার ঢুকিয়ে দিল। এক হাত দিয়ে সখিনার চুল ধরে টানছিল, অন্য হাত দিয়ে তার কোমর চেপে ধরে জোরে জোরে চুদছিল। সখিনার মুখ চাদরে চাপা পড়ে গোঙাচ্ছিল। তার যোনি থেকে রস গড়িয়ে উরু বেয়ে নামছিল।

রবি হঠাৎ সখিনাকে তুলে বসিয়ে দিল। সখিনা রবির কোলে বসে নিজেই উঠানামা করতে লাগলেন। তার স্তন দুটো রবির মুখের সামনে দুলছিল। রবি সেই স্তন মুখে নিয়ে চুষতে লাগল—জোরে, যেন দুধ খেয়ে নিচ্ছে। সখিনা মাথা পেছনে ফেলে চিৎকার করে উঠলেন। তার যোনি রবির পুরুষাঙ্গকে চেপে ধরে কাঁপতে শুরু করল।

রবি আর সহ্য করতে পারল না। সে সখিনার কোমর দুই হাতে চেপে ধরে নিচ থেকে জোরে জোরে ধাক্কা মারতে লাগল। প্রতিটি আঘাতে সখিনার শরীর কেঁপে উঠছিল। হঠাৎ সখিনার গলা দিয়ে একটা তীব্র চিৎকার বেরিয়ে এল। তার যোনি রবির পুরুষাঙ্গকে জোরে চেপে ধরল। গরম রস গড়িয়ে পড়ছিল।

রবি সখিনার ভেতর থেকে নিজের পুরুষাঙ্গ বের করে নিল—সেটা তখনও শক্ত, রসে ও বীর্যের আভায় চকচক করছিল। কিন্তু সে ভেতরে ঢালল না। সখিনা বেগম, রানি আর টুকটুকি তিনজনেই বুঝতে পারল রবি কী চায়।

তিনজন নারী হাঁটু গেড়ে রবির সামনে বসে পড়ল। সখিনা বেগম আগে রবির পুরুষাঙ্গটা নিজের মুখে নিয়ে চুষতে শুরু করলেন। তার ঠোঁট শক্ত করে চেপে ধরে আস্তে আস্তে সামনে-পিছনে নাড়াচ্ছিলেন। রবির কোমর কেঁপে উঠল। সখিনা জিভ দিয়ে পুরুষাঙ্গের মাথাটা ঘষছিলেন, কখনো গভীরে নিয়ে গলায় ঠেকাতেন।

রানি এবার পাশে এসে সখিনার সাথে যোগ দিল। সে রবির পুরুষাঙ্গের গোড়ায় জিভ বুলিয়ে চাটতে লাগল। টুকটুকি অন্যদিক থেকে এসে দুই বিট চেপে ধরে মুখে নিয়ে চুষতে শুরু করল। তিনজনের জিভ আর ঠোঁট একসাথে রবির পুরুষাঙ্গে লাগছিল—ভেজা, গরম, রগরগে শব্দ হচ্ছিল।

রবি মাথা পেছনে ফেলে দাঁড়িয়ে রইল। তার এক হাত সখিনার চুলে, অন্য হাত রানির মাথায়। তিনজন নারী পাল্য় পাল্য় পুরুষাঙ্গটা মুখে নিচ্ছিল। কখনো সখিনা গভীরে নিয়ে চুষছিল, কখনো রানি মাথাটা জিভ দিয়ে ঘষছিল, কখনো টুকটুকি দুই হাতে ধরে জোরে চুষছিল। তাদের লালায় রবির পুরুষাঙ্গ ভিজে চকচক করছিল।

রবির শ্বাস দ্রুত হয়ে উঠল। তার কোমর আপনা থেকেই সামনে এগিয়ে যাচ্ছিল। তিনজন নারী বুঝতে পারল সময় এসে গেছে। সখিনা বেগম পুরুষাঙ্গটা মুখে নিয়ে দ্রুত চুষতে লাগলেন। রানি আর টুকটুকি দুইপাশ থেকে জিভ দিয়ে ঘষছিল। হঠাৎ রবির শরীর শক্ত হয়ে উঠল। সে গোঙিয়ে উঠল।

গরম বীর্যের ধারা সখিনার মুখে গড়িয়ে পড়ল। সখিনা পুরোপুরি গিলল না। সে পুরুষাঙ্গটা মুখ থেকে বের করে রানির দিকে এগিয়ে দিল। রানি মুখ খুলে সখিনার ঠোঁট থেকে বীর্য চেটে নিল, তারপর রবির পুরুষাঙ্গের মাথায় মুখ দিয়ে বাকিটা চুষে নিল। টুকটুকি এগিয়ে এসে রানির মুখ থেকে কিছুটা চুমু খেয়ে নিল, তারপর নিজেও রবির পুরুষাঙ্গ চুষে শেষ বীর্যটা বের করে নিল।

তিনজন নারী এবার একে অপরের মুখের দিকে ফিরল। সখিনা বেগম রানির মুখের ভেতর জিভ ঢুকিয়ে বীর্যের স্বাদ নিতে লাগলেন। রানি টুকটুকির ঠোঁট চেপে ধরে চুমু খেল—দুজনের মুখের ভেতর বীর্য মিশে যাচ্ছিল। টুকটুকি সখিনার মুখ থেকে বাকিটা চেটে নিল। তিনজন একে অপরের মুখ চুমো খেয়ে, জিভ ঘষে, বীর্য ভাগ করে খাচ্ছিল। তাদের ঠোঁট চকচক করছিল, গলায় গরম তরল গড়িয়ে পড়ছিল।

রবি দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য দেখছিল। তার পুরুষাঙ্গ এখনো সামান্য শক্ত ছিল। তিন নারীর মুখের ভেতর তারই বীর্য একে অপরের সাথে মিশে যাচ্ছিল—চুমুতে, জিভে, গলায়।

***
সেই রজনীর উন্মাদনা যখন স্তিমিত হলো, কুঠুরির বাতাসে তখনো কামনার ভারী গন্ধ। মেঝেতে ছড়িয়ে থাকা চারটি ঘর্মাক্ত শরীর যেন এক অমোঘ পরিণতির প্রতীক। রানি, সখিনা বেগম আর টুকটুকি—তিনজনই রবির পৌরুষের সেই বন্য প্রলয়ের পর সম্পূর্ণ নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে। রবির সেই শয়তানি হাসি এখনো কুঠুরির দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, যা বুঝিয়ে দিচ্ছে যে এই অন্দরমহলে পবিত্রতার শেষ চিহ্নটুকুও মুছে গেছে।

 রানীর চোখে জল, কিন্তু সেই জল ভয়ের নয়, বরং এক নতুন ধরনের আত্মসমর্পণের। রানি ফিসফিস করে বলল, "আমি জানি না আমি কোথায় আছি, আমি জানি না আমার স্বামী কে। কিন্তু এই রাতের পর, আমার মনে হচ্ছে আমার সমস্ত সত্তা তোমার কামনার কারাগারে বন্দি হয়ে গেছে।"

রবি রানীর ঠোঁটে একটা আলতো চুম্বন এঁকে দিল। এই চুম্বন যেন একটা সীলমোহর, যা রানিকে চিরতরে তার অন্দরমহলের দাসী হিসেবে চিহ্নিত করল। এরপর রবি সখিনা আর টুকটুকিকে আদেশ দিল কুঠুরির বাতিগুলো নিভিয়ে ফেলতে। অন্ধকার ঘরটিতে কেবল বাইরের চাঁদের মৃদু আলো। রবি আবার তাদের চারজনকে একই গালিচার ওপর টেনে নিল।
এবার আর কোনো প্রতিযোগিতা নয়, এবার শুরু হলো এক যৌথ অভিশাপের উদযাপন। সখিনা বেগম রানীর শরীরের ওপর হাত বুলিয়ে দিতে লাগলেন, আর টুকটুকি রবির বুকে মাথা রেখে এক অদ্ভুত আবেশে ডুবে রইল। রবি জানে, এই অন্দরমহলের দেয়ালগুলো যত দিন টিকে থাকবে, ততদিন তাদের এই নিষিদ্ধ নেশার আসর থামবে না। সকালের সূর্য যখন উঠবে, গ্রাম তখনো জেগে উঠবে তার চেনা নিয়মে, কিন্তু এই চারজনের জীবনে শুরু হবে এক দীর্ঘ, অন্ধকার যাত্রা।

কুঠুরির ভেতর তারা চারজন আবার জড়িয়ে পড়ল এক অনির্দিষ্ট কামনায়। একেকটি স্পন্দন, একেকটি নিঃশ্বাস যেন এই অন্দরমহলকে আরও গভীর কোনো গহ্বরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। রবি বুঝতে পারল, এই তিন নারীকে তার আয়ত্তে রাখা এখন আর কঠিন কিছু নয়—বরং তারা নিজেরাই এখন তার নেশার অনুগামী। অন্দরমহলের সেই গোপন কুঠুরিটি এখন আর কেবল একটি ঘর নয়, এটি এখন তাদের সবার কাছে কামনার শেষ আশ্রয়স্থল। লন্ঠনের নিভে যাওয়া শিখা যেন সাক্ষী হয়ে রইল সেই অভিশপ্ত রাতের, যেখানে কোনো নিয়ম ছিল না, ছিল কেবল রবির শাসন আর বাকি তিন নারীর সর্বস্ব বিলিয়ে দেওয়া।

চলবে….!
Reply


Forum Jump:


Users browsing this thread: 1 Guest(s)