Thread Rating:
  • 0 Vote(s) - 0 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5

গহীন গ্রামের অন্দরমহল
#2

  
এপিসোড-২

পর্ব -৩


 ১. নিঝুম রাতের প্রগাঢ় স্তব্ধতা এবং অবরুদ্ধ চিত্ত

রাত যখন আরও গভীর হয়, তখন গ্রামের অন্ধকার যেন এক আদিম, ঘন তরলে রূপ নেয়। জোয়ারদার বাড়ির বিশাল আঙিনা, বাঁশঝাড় আর পেছনের জঙ্গলটা সেই অন্ধকারের চাদরে সম্পূর্ণ ঢাকা পড়ে গেছে। রবির শয়নকক্ষে হ্যারিকেনের আলোটা একদম কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই টিমটিমে হলদেটে আলোয় ঘরের মাটির দেয়াল আর বাঁশের খুঁটিগুলোতে দীর্ঘ, অস্পষ্ট কিছু ছায়া কাঁপছিল।

পাশে শুয়ে থাকা রানি তখন গভীর ঘুমের অতলে। সারা দিনের ধান সেদ্ধ করা, শুকানো আর সংসারের চাকা ঘোরানোর হাড়ভাঙা খাটুনি তার শরীরে অসাড়তা এনে দিয়েছে। তার একখানা হাত শাড়ির আঁচল সরিয়ে বিছানার চাদরের ওপর আলগা হয়ে পড়ে ছিল। রানির এই ঘুমন্ত, পবিত্র অবয়বের দিকে তাকিয়ে রবির বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। কিন্তু তার শরীরের ভেতর তখন অন্য এক আদিম আগুন জ্বলছিল—কার্তিক শেষের ঠাণ্ডা হাওয়াও যা নেভাতে পারছিল না। ।

দুপুরের সেই মেঘলা আলোয় টুকটুকির আঙুলের স্পর্শ রবির পিঠের চামড়ায় যে বিদ্যুততরঙ্গ ছড়িয়ে দিয়েছিল, তার রেশ এখনো রবির ধমনিতে চাবুক মারছিল। সে বিছানায় শুয়ে ছটফট করতে লাগল, তার গলার ভেতরটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আসছিল। অবশেষে, কোনো এক তীব্র মনস্তাত্ত্বিক তাড়নায় সে নিঃশব্দে বিছানা ছেড়ে উঠে বাইরে বেরিয়ে এল।

পেছনের পুকুরপাড়ের পরিবেশটা ছিল অদ্ভুত রকমের শান্ত, অথচ এক গুমোট টানটান উত্তেজনায় ভরা। পুকুরের স্থির, কালো পানি আকাশের ম্লান চাঁদের আলোকে প্রতিফলিত করে এক মায়াবী কুয়াশা তৈরি করেছে। রবি ঘাটের মাটির ঢিবিটার ওপর গিয়ে বসল। ঝিঁঝিঁ পোকার একটানা ডাক আর জোনাকি পোকাদের উড়াউড়ি চারপাশের নিস্তব্ধতাকে আরও রহস্যময় করে তুলছিল। 

ঠিক তখনই শুকনো পাতার ওপর খুব হালকা, চতুর এক জোড়া নগ্ন পায়ের শব্দ হলো—যেন কোনো শিকারী বিড়াল নিঃশব্দে এগোচ্ছে। রবি চমকে পেছনে ফিরে তাকাল!!!

অন্ধকারের বুক চিরে কুয়াশার চাদর ঠেলে এগিয়ে আসছিল টুকটুকি। তার পরনে অত্যন্ত পাতলা একখানা সুতির সাদা শাড়ি, যা রাতের ম্লান আলোয় সিল্কের মতো চিকচিক করছিল। শাড়িটি শরীরের সাথে এমনভাবে জড়ানো, যা তার আঠারো বছরের অবাধ্য যৌবনের প্রতিটি বাঁক, প্রতিটি উত্থান-পতনকে আরও বেশি স্পষ্ট করে তুলেছে।

### নিষিদ্ধ সংলাপ এবং সীমানা লঙ্ঘনের মদিরতা

টুকটুকি রবির ঠিক পেছনে এসে দাঁড়াল। তার উপস্থিতি বাতাসে এক ধরনের কাঁচা সাবান আর যুবতী ত্বকের মদির সুবাস ছড়িয়ে দিল, যা রবির ঘ্রাণেন্দ্রিয়কে অবশ করে দিচ্ছিল।

"বাবা?" টুকটুকির কণ্ঠস্বর ছিল নিচু, সামান্য কম্পিত, কিন্তু তাতে ছিল এক অদ্ভুত, আদিম সাহসিকতা।

রবি কোনো উত্তর দিল না। সে সামনের জোনাক জ্বলা ঝোপের দিকে তাকিয়ে রইল, কিন্তু তার সমস্ত সত্তা তখন পেছনের কিশোরীটির দিকে নিবদ্ধ। টুকটুকি এক মুহূর্ত দ্বিধা না করে রবির একদম গা ঘেঁষে বসল। তাদের কাঁধে কাঁধ ঠেকাঠেকি হতেই রবির চওড়া, পেশিবহুল শরীরে এক তীব্র কাঁপন ধরে গেল। রবির পুরুষালী খসখসে চামড়ার সাথে টুকটুকির মসৃণ ও তপ্ত ত্বকের এই সংঘাত রবির স্নায়ুগুলোকে উত্তেজিত করে তুলছিল।

"মা কি তোমার যত্ন ঠিকমতো করতে পারে না?" টুকটুকি সরাসরি রবির চোখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্নটা করল। তার চোখে কোনো দ্বিধা নেই, কোনো সামাজিক ভয় নেই।

রবি একটু কেঁপে উঠে নিজের গলার স্বরকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করল। সে শান্ত, কিন্তু খসখসে গলায় বলল, "তোর মা তো সংসার আগলে রাখে। তার কোনো ত্রুটি নেই।"

টুকটুকি মৃদু হাসল। সেই হাসিতে যেন এক নিষিদ্ধ অন্ধকারের আনন্দ লুকিয়ে ছিল। সে আর এক চুলও দূরত্ব না রেখে তার নরম, গরম হাতখানা রবির রুক্ষ হাতের ওপর রাখল। "মা সংসার দেখে, ঘর গোছায়, কিন্তু তুমি তো পুরুষ মানুষ। তোমার কি কোনো আলাদা চাওয়া-পাওয়া নেই?" 

সে আরও একটু ঝুঁকে, রবির কানের লতির ঠিক কাছে নিজের ভেজা ঠোঁট দুটো এনে ফিসফিস করে বলল, "আমি তো দেখি, তুমি যখন বাইরে থেকে মাঠে খেটে ফেরো, তোমার চোখে এক অদ্ভুত শূন্যতা থাকে। মা সেটা দেখে না, কারণ সে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু আমি দেখি, বাবা।"

রবি মুখ ফিরিয়ে টুকটুকির দিকে তাকাল। চাঁদের আলোয় টুকটুকির মুখটা তখন এক অপার্থিব, নিষিদ্ধ প্রতিমার মতো লাগছিল। তার চোখের তারায় এক উদগ্র লালসা আর অধিকারের তৃষ্ণা স্পষ্ট। রবির ভেতরের সামাজিক অনুশাসন, নীতিবোধ আর লোকলজ্জা শেষবারের মতো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করল। সে নিজেকে শক্ত করে গম্ভীর হওয়ার ভান করল, "তোর এসব কথা বলার বয়স হয়নি, টুকটুকি। ঘরে যা।"


### অবাধ্য যৌবনের হাতছানি ও বাঁধভাঙা কামনা ###

টুকটুকি রবির কথায় দমে না গিয়ে উল্টো পুরোপুরি উঠে দাঁড়াল। সে রবির চোখের ঠিক সমান্তরালে নিজের অবস্থান তৈরি করল। তারপর, অত্যন্ত ধীর এবং উত্তেজক ভঙ্গিতে সে তার শাড়ির আঁচলটা কাঁধ থেকে একটু সরিয়ে দিল। লণ্ঠনের ম্লান আলো আর চাঁদের রুপোলি রশ্মি এক হয়ে টুকটুকির অনাবৃত কোমর, উন্নত বক্ষপট আর ভরা যৌবনের অবাধ্য ভাঁজগুলোকে রবির চোখের সামনে এক তীব্র কামনার কুয়াশা হিসেবে মেলে ধরল।

"বয়স কি কেবল পঞ্জিকার পাতায় থাকে বাবা?" টুকটুকি আবার রবির সামনে বসল, এবার আরও কাছে। সে তার নরম হাতটা রবির চওড়া বুক বরাবর এনে থামাল। তার আঙুলগুলো রবির শার্টের বোতামের ওপর আলতো করে চাপ দিতে দিতে নিচে নামতে লাগল। 

"আমি বুঝতে শিখেছি। আমি জানি, তুমি কী চাও, আর কেন তুমি ঘরের চেয়ে বাইরে থাকতে বেশি পছন্দ করো।"

চারপাশের জগতটা যেন হঠাৎ করে থমকে গেল। বাতাসে ভেসে আসা বাঁশপাতার খসখস শব্দ, পুকুরের পানির মৃদু ঢেউ—সবকিছু যেন এক হয়ে তাদের এই নিষিদ্ধ মিলনকে উদযাপন করতে চাইল।

টুকটুকি রবির উরুর ওপর নিজের শরীরের কিছুটা ভর ছেড়ে দিয়ে আবার ফিসফিস করল, "কেউ জানবে না। সখিনা দাদী তো সারাক্ষণ আমাদের ওপর নজর রাখছেনই, কিন্তু এখন তো সবাই ঘুমে। তুমি কি ভয় পাচ্ছো বাবা, নাকি আমাকে তোমার আর পছন্দ নয়?"

এই শেষ আঘাতে রবির ভেতরের সমস্ত বাঁধ, দীর্ঘদিনের সামাজিক অনুশাসন আর পিতা-কন্যার পবিত্র সম্পর্কের দেয়াল এক নিমেষে পুড়ে খাক হয়ে গেল। তার ধমনিতে এক আদিম, বন্য রক্তের টান চাবুক মারতে শুরু করল। এক তীব্র কামনার বিস্ফোরণে রবির শক্ত, পেশিবহুল হাতটা অজান্তেই টুকটুকির পাতলা কোমরটা জড়িয়ে ধরে নিজের বুকের সাথে শক্ত করে চেপে ধরল। টুকটুকি একটা তৃপ্তির নিশ্বাস ফেলে রবির চওড়া বুকে লেপ্টে গেল, তার গরম নিঃশ্বাস রবির উন্মুক্ত গলায় আছড়ে পড়ল।

### অন্ধকারের তৃতীয় চোখ ও কুটিল সমাপ্তি ###


ঠিক সেই মুহূর্তে, যখন রবির হাত টুকটুকির শাড়ির আরও গভীরে, তার শরীরের নিষিদ্ধ ভাঁজগুলো অন্বেষণ করতে উদ্যত, বাড়ির পেছনের অন্ধকার বারান্দা থেকে একটা চেনা, শুকনো খসখসে শব্দ ভেসে এল। শুকনো পাতার ওপর লাঠি পড়ার সেই ঠক-ঠক আওয়াজ রাতের নিস্তব্ধতাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিল।

রবি বিদ্যুদ্বেগে হাত সরিয়ে নিয়ে ছিটকে সরে দাঁড়াল। তার কপাল ও পিঠ বেয়ে ঠাণ্ডা ঘাম ঝরতে লাগল, বুকটা কামারের হাপরের মতো ওঠানামা করছিল। পুকুরপাড়ে ঘনীভূত কুয়াশা আর আবছা আলো-ছায়ার মধ্যে দেখা গেল, সখিনা বেগম লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন। তার সেই প্রবীণ, কুঁচকে যাওয়া মুখের ওপর চাঁদের আলো পড়ে এক পৈশাচিক রূপ ধারণ করেছে। তার চোখ দুটো ঘোলাটে হলেও, এই অন্ধকারেও তারা যেন সবকিছু নিখুঁতভাবে গিলে খাচ্ছিল। তার ঠোঁটের কোণে ঝুলছিল সেই চেনা, শয়তানি মিশ্রিত কুটিল হাসি।

"কী হচ্ছে এখানে?" সখিনার কর্কশ, খসখসে কণ্ঠস্বর রাতের বাতাস চিরে রবির বুকে তীরের মতো বিঁধল।

কিন্তু টুকটুকি বিন্দুমাত্র ভয় পেল না বা লজ্জিত হলো না। সে অত্যন্ত শান্ত ও স্বাভাবিক ভঙ্গিতে তার শরীরের আলগা শাড়িটা টেনে বুকে জড়াতে জড়াতে বলল, "কিছু না দাদী, বাবা একটু অশান্তিতে আছে, ঘরে দমবন্ধ লাগছিল, তাই বাতাসের খোঁজে এসেছে। আমিও পানি খেতে এসে বাবাকে দেখলাম।"

সখিনা বেগম কোনো উত্তর দিলেন না। তিনি এক এক পা করে এগিয়ে এলেন তাদের দিকে। তার হাতের লাঠিটা মাটিতে পড়ার প্রতিটা শব্দ যেন রবির হৃৎপিণ্ডে হাতুড়ির মতো আঘাত করছিল এবং তার পুরুষালী অহংকারকে চূর্ণ করছিল। রবি সোজা হয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করল, কিন্তু তার মনে হলো, এই গহীন গ্রামের অন্ধকার অন্দরমহল, সখিনা বেগমের কুটিল চোখ আর টুকটুকির অবাধ্য যৌবনের এই ফাঁদ—সবকিছু এক হয়ে তাদের চারদিক থেকে গ্রাস করে ফেলেছে। এই পাপের চোরাবালিতে তারা সবাই এখন আষ্টেপৃষ্ঠে বন্দি, যেখান থেকে বের হওয়ার কোনো পথ আর অবশিষ্ট নেই।

## চতুর্থ পর্ব: অন্দরমহলের চোরাবালি এবং আগুনের লেলিহান শিখা ##


### সখিনা বেগমের ভয়ঙ্কর নীরবতা ও অশুভ চুক্তি###


সখিনা বেগমের লাঠির শেষ ঠক-ঠক শব্দটা যখন পুকুরপাড়ে এসে থামল, তখন চারপাশের বাতাস যেন বরফের মতো জমে গেছে। রবির মনে হচ্ছিল তার নিজের বুকের ভেতরের হৃৎপিণ্ডটা সজোরে আছাড় খাচ্ছে। টুকটুকি কিন্তু তখনও বিন্দুমাত্র লজ্জিত বা অপ্রস্তুত নয়; সে অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে তার শাড়ির আঁচলটা ঠিক করল, কিন্তু তার চোখের কোণে সখিনার প্রতি কোনো ভয় ছিল না, বরং ছিল এক ধরনের গোপন বোঝাপড়ার ইশারা।

সখিনা বেগম তাদের খুব কাছে এসে দাঁড়ালেন। তার মুখ থেকে কর্পূর আর পুরনো সিন্দুকের একটা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ বের হচ্ছিল। তিনি তার ঘোলাটে কিন্তু তীক্ষ্ণ চোখ দুটো রবির মুখের ওপর রাখলেন, তারপর এক কুৎসিত, দাঁতহীন হাসি হাসলেন।

"বাতাসের খোঁজে?" সখিনা বেগম ফিসফিসিয়ে উঠলেন, তার গলার স্বর যেন এক বিষাক্ত সাপের মতো ফোঁস করে উঠল। "তা এই মাঝরাতে নিজের জোয়ান মেয়ের আঁচল ঘেরা বাতাস বড্ড মিষ্টি, না রে রবি? আমি তো অন্ধ নই বাপ, সবই বুঝি।"

রবি কোনো কথা বলতে পারল না, তার পুরুষালী অহংকার আর সামাজিক নীতিবোধ সখিনার এই চাবুকের মতো কথার সামনে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল।
সখিনা বেগম এবার টুকটুকির দিকে তাকালেন এবং তার শুকনো, হাড়-জিরজিরে হাতটা টুকটুকির গালে রাখলেন। 

"তুই বড্ড সেয়ানা হয়েছিস লো টুকটুকি। যা, আমার ঘরে গিয়ে বিছানাটা পাত। আজ বুড়ো দাদীর গা-হাত-পা একটু টিপে দিবি। আর রবি... তুই তোর বউয়ের কাছে যা। ঘরে অত বড় লক্ষ্মী ঘুমায়, তার দিকে নজর দে।"

সখিনার এই হুকুমের আড়ালে যে কী গভীর ও ভয়ঙ্কর কোনো মনস্তাত্ত্বিক খেলা চলছিল, তা রবি বুঝতে পারল। সখিনা এই নিষিদ্ধ সম্পর্কটাকে শাসন করছেন না, বরং এটাকে নিজের মুঠোয় পুরে পুরো বাড়িটাকে পুতুলনাচের মতো নাচাতে চাইছেন। টুকটুকি সখিনার দিকে তাকিয়ে এক রহস্যময় হাসি হেসে ভেতরের অন্ধকারের দিকে হেঁটে চলে গেল। রবি শুধু একা দাঁড়িয়ে রইল এক অতল অপরাধবোধের সাগরে।


### রানির পবিত্র পৃথিবী ও রবির দহন ###

রবি যখন নিজের শয়নকক্ষে ফিরে এল, তখন ঘরের ভেতরের হ্যারিকেনের আলোটা প্রায় নিভে এসেছে। বিছানায় রানি তখনো একপাশে কাত হয়ে অঘোরে ঘুমাচ্ছে। তার ফর্সা, মসৃণ কপাল আর শান্ত মুখের অবয়ব দেখে রবির বুকের ভেতরটা যেন কেউ তপ্ত শলাকা দিয়ে পুড়িয়ে দিল। রানি এই বাড়ির আলো, তার প্রতিটি কাজের মাঝে রয়েছে রবির প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা ও আনুগত্য। কিন্তু সেই পবিত্র বিছানায় যখন রবি গিয়ে বসল, তার মনে হলো সে নিজের সাথে এক নরকের আগুন নিয়ে এসেছে।

রানি ঘুমের ঘোরেই রবির চেনা শরীরের গন্ধ পেয়ে আলতো করে নড়ে উঠল। সে তার একখানা নরম হাত রবির চওড়া বুকের ওপর রাখল এবং রবির গায়ের সাথে লেপ্টে গিয়ে ফিসফিস করল, "কখন উঠলে গো? শরীরটা খারাপ লাগছে?"

রবির সমস্ত শরীর তখন কাঁপছিল। একদিকে রানির এই নিষ্পাপ, বৈধ ও শীতল ভালোবাসার টান; অন্যদিকে পুকুরপাড়ে টুকটুকির সেই পাতলা শাড়ির সুবাস আর সখিনা বেগমের কুটিল চোখের মদির হাতছানি। রবির মস্তিষ্কে তখনো টুকটুকির অনাবৃত কোমর আর তপ্ত আঙুলের স্পর্শ চাবুক মারছিল। 

সে রানিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল ঠিকই, কিন্তু সেই আলিঙ্গনে দাম্পত্যের শান্তি ছিল না, ছিল এক চরম মরিয়া ভাব—যেন সে রানির পবিত্রতায় নিজের ভেতরের পাপকে ধুয়ে ফেলতে চাইছে। কিন্তু রবির চোখের পর্দায় তখনো কেবলই ভেসে উঠছিল টুকটুকির আঠারো বছরের অবাধ্য যৌবনের রূপরেখা।


### ভোরের কুয়াশা এবং রান্নাঘরের তীব্র উত্তাপ ###

পরদিন সকালে পুরো গ্রাম ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে গেল। মাঠের পাকা ধানের ওপর টুপটুপ করে শিশির ঝরছিল। রবি সারারাত চোখের পাতা এক করতে পারেনি। কাক ডাকার আগেই সে ঘর থেকে বেরিয়ে এল। উঠোনের এক কোণে রান্নাঘর থেকে হালকা ধোঁয়া উঁকি দিচ্ছিল; রানি উনুন ধরাচ্ছে।

রবি ধীর পায়ে রান্নাঘরের দরজায় গিয়ে দাঁড়াল। উনুনের লালচে আগুনের আভা রানির মুখের ওপর পড়ে এক অদ্ভুত লাবণ্য তৈরি করেছে। রবিকে দেখে রানি মিষ্টি করে হাসল, "আজ এত ভোরে উঠলে যে? শরীরটা ঠিক আছে তো?"

রবি কোনো উত্তর না দিয়ে উন্মাদের মতো রান্নাঘরের ভেতরে ঢুকল এবং পেছন থেকে রানিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। উনুনের উত্তাপ আর রানির শরীরের ওম মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল। রবি চাচ্ছিল এই বৈধ স্পর্শ দিয়ে তার ভেতরের নিষিদ্ধ কামনার আগুনটাকে পুড়িয়ে ছাই করে দিতে। 

সে রানির ঘাড়ে নিজের মুখটা ঘষতে লাগল, তার শক্ত হাত দুটো রানির শাড়ির ভেতর দিয়ে তার কোমরের চামড়াটা শক্ত করে চেপে ধরল। রানি মৃদু আপত্তি করে ফিসফিসাল, "আহা, ছাড়ো না... কেউ দেখে ফেলবে। এই ভোরে আবার কী শুরু করলে!"

কিন্তু রবির ভেতরের আদিম পুরুষ তখন এক মরিয়া লড়াইয়ে মত্ত। ঠিক সেই মুহূর্তে রান্নাঘরের বাঁশের বেড়ার ফাঁক দিয়ে একটা চোখ তাদের দিকে চেয়ে রইল। রবি চোখ মেলতেই দেখল, বেড়ার ওপাশ থেকে টুকটুকি কিছু একটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখে কোনো লজ্জা নেই, বরং সেখানে রয়েছে এক তীব্র হিংসা আর অবাধ্য এক চাহনি। 

সে দেখল কীভাবে রবি তার মাকে আদর করছে। টুকটুকি তার হাতের লণ্ঠনটা মাটিতে সামান্য জোরে আছাড় মারার মতো করে রাখল, যাতে একটা স্পষ্ট শব্দ হয়।

রানি চমকে উঠে রবিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল। "ঐ দেখ, টুকটুকি উঠে পড়েছে। ছাড়ো এখন!"

টুকটুকি রান্নাঘরের ভেতরে ঢুকে এক বালতি পানি নিয়ে রবির দিকে চাইল। তার শাড়ির আঁচলটা আবার ইচ্ছাকৃতভাবেই একটু ঢিলে হয়ে গেল, উনুনের আগুনের আলোয় তার বুকের ওঠানামা রবির চোখের সামনে স্পষ্ট হলো। 

সে রবির দিকে তাকিয়ে নিচু স্বরে বলল, "মা, বাবার গায়ের শার্টটা বড্ড ময়লা হয়েছে। ধুয়ে দেব?"

কথাটার ডাবল মিনিং রানি না বুঝলেও রবির পুরুষাঙ্গ ও ধমনিতে আবার এক নিষিদ্ধ কাঁপন ধরিয়ে দিল। সে শার্ট খুলে টুকটুকির হাতে দিয়ে সেখান থেকে দ্রুত বের হয়ছ গেলো।


### সখিনা বেগমের চূড়ান্ত চাল ও অবরুদ্ধ তিন কোণ ###


দুপুর গড়ানোর পর রানি পাড়ার মহিলাদের সাথে আবার খামারে গেল ধান ঝাড়ার কাজে। বাড়িতে রবি একাকী উঠোনে লাঙলের ফলা ধার দিচ্ছিল। চারদিক নিস্তব্ধ, শুধু রবির হাতের লোহার ঘষার শব্দ হচ্ছিল।

হুট করেই সখিনা বেগম তার অন্ধকার কুঠুরি থেকে ডাকলেন, "রবি, এদিকে আয় বাপ।"
রবি তার হাতের কাজ ফেলে মায়ের ঘরে ঢুকল। 

ঘরের ভেতরটা বড্ড অন্ধকার, স্যাঁতসেঁতে আর এক রহস্যময় গুমোট গন্ধে ভরা। সখিনা বেগম বিছানায় আধশোয়া হয়ে ছিলেন। রবি কাছে যেতেই তিনি রবির শক্ত হাতটা টেনে নিজের বুকের কাছে নিলেন। 

"তুই বড্ড একা হয়ে যাচ্ছিস রবি। রানি তোকে বোঝে না, ও শুধু সংসার বোঝে। কিন্তু আমি তো তোর মা, তোর রক্তের প্রতিটি ফোঁটার ক্ষুধা আমি জানি।"

রবি স্তব্ধ হয়ে রইল। সখিনার এই কথার ভেতরের আদিম ও কুৎসিত ইঙ্গিত তার মাথায় বজ্রপাতের মতো আঘাত করল। সখিনা বেগম রবির হাতটা ধরে ধীরে ধীরে নিজের দিকে টানছিলেন, তার চোখ দুটোতে এক পৈশাচিক লালসা ও অধিকারের মিশ্রণ স্পষ্ট।

ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘরের দরজায় এক মায়াবী ছায়া ফেলে এসে দাঁড়াল টুকটুকি। তার হাতে এক গ্লাস ঠাণ্ডা মাঠা। সে ঘরে ঢুকেই কোনো দ্বিধা না করে সখিনার পাশে বসল এবং রবির অন্য মুক্ত হাতখানা নিজের তপ্ত কোলের ওপর টেনে নিল।
এখন রবির এক হাত তার প্রবীণ মায়ের খসখসে, বৃদ্ধ হাতের মুঠোয়, আর অন্য হাত তার নিজের তরুণী কন্যার মসৃণ, গরম উরুর ওপর।

"বাবা, মাঠাটা খাও, শরীর বড্ড তেতে আছে, ঠাণ্ডা হবে," টুকটুকি রবির চোখের দিকে তাকিয়ে এক চরম উত্তেজক ও বিজয়ী ভঙ্গিতে হাসল।
সখিনা বেগম টুকটুকির দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়লেন, যেন তাদের মধ্যকার সেই গোপন, কুৎসিত চুক্তিটা এখন পূর্ণতা পাচ্ছে।

 রবি দেখল, সে এই দুই নারীর মাঝখানে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ। তার পুরুষালী শক্তি, তার সামাজিক মর্যাদা, তার নীতিবোধ—সবকিছু এই অন্ধকার কুঠুরির নিষিদ্ধ মায়ার জালে পিষে মরছে। বাইরে তখন কার্তিক শেষের মেঘলা আকাশ ভেঙে মুষলধারে বৃষ্টি নামার উপক্রম, আর এই জোয়ারদার বাড়ির অন্দরে এক ভয়ঙ্কর, নিষিদ্ধ ঝড়ের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছিল, যা পুরো সংসারটাকে ছারখার করে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।।

 
 

 পঞ্চম পর্ব: অন্দরমহলের বিষাক্ত ওম ও মাংসের ক্ষুধা

কার্তিক রাতের থমথমে আঁধার তখন জোয়ারদার বাড়ির প্রতিটি কোণকে গ্রাস করে নিয়েছে। সখিনা বেগমের ডাক শুনে রবি যখন তার অন্ধকার কুঠুরিতে পা রাখল, তখন ঘরের ভেতরের পরিবেশ তার সমস্ত স্নায়ুকে অবশ করে দিচ্ছিল। 

ঘরটায় কোনো জানলা নেই, এক কোণে একটা মাটির প্রদীপ টিমটিম করে জ্বলছে, যা থেকে নির্গত ধোঁয়া আর সস্তা ধূপের কটু গন্ধ বাতাসকে ভারী ও দমবন্ধ করে রেখেছে। রবি পাথরের মতো নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

 তার চোখ গেল সখিনার সেই শুকনো, হাড়-জিরজিরে হাতের দিকে। যে হাত একসময় তাকে শৈশবে পরম মমতায় কোলে তুলে নিত, আজ সেই হাতই রবির শার্টের ওপর দিয়ে, তার চওড়া বুকের শক্ত পেশির ওপর এক আদিম ও নিষিদ্ধ অধিকার নিয়ে বিচরণ করছে।

রবি কোনো বাধা দেওয়ার শক্তি পেল না। তার অবচেতনে কাজ করছিল এক অদ্ভুত পক্ষাঘাত। প্রদীপের ম্লান আলোয় সখিনার পুরনো কাঠের সিন্দুকের ওপর রাখা ভাঙা আয়নাটায় রবির নজর গেল। 

আয়নার ঝাপসা পারদে নিজের মুখটাকেই তার আজ বড় অচেনা, এক পশুর মতো লাগছিল। সখিনা প্রদীপের স্তিমিত আলো ছড়াতে চাইলেন না, বরং অন্ধকারের গভীরতাকে আরও বাড়িয়ে দিতে প্রদীপটা ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দিলেন।

 এখন শুধু রইল ঘুটঘুটে অন্ধকার আর তাদের দুজনের গরম নিঃশ্বাসের শব্দ।
সখিনা রবিকে টেনে তার সেই পুরনো, শ্যাওলা-গন্ধী বিছানার এক কোণে বসালেন। বৃদ্ধার শরীর থেকে আসা কটু তামাক আর ন্যাপথালিনের মিশ্রিত গন্ধ রবির নাকে এসে ধাক্কা মারল। 

সখিনা রবির চিবুকটা তার শক্ত আঙুল দিয়ে চেপে ধরে নিজের মুখের কাছে টেনে নিলেন। অন্ধকারেও তার ঘোলাটে চোখ দুটো তীব্র ক্ষুধার আলোয় জ্বলজ্বল করছিল।

"তুই কি ভাবছিস, রবি? যে আমি তোর মা?" সখিনার কণ্ঠস্বর ফিসফিসানি হলেও তা রবির কানের পর্দায় কামড়ের মতো বসল। "হ্যাঁ, আমি তোর মা। কিন্তু তুই যখন জন্মেছিলি, তখন এই শরীরেই তোর অস্তিত্ব ছিল। এই মাংসের ভেতরেই তুই বড় হয়েছিস, এই শরীর থেকেই তুই পৃথিবীতে এসেছিস। সেই আদিম অধিকার কি কোনো পঞ্জিকার নিয়মে মরে যায়, রবি?"



নীতিবোধের চূর্ণবিচূর্ণ রূপ এবং রক্তের আদিম টান



### 
রবি শুকনো ঢোক গিলল। তার তপ্ত কপাল বেয়ে ঘাম ঝরে পড়ছিল। তার মনে পড়ছিল দিনের বেলা মাঠের সেই কাদা মাটির উন্মুক্ত কাজ, যেখানে রোদের আলো আছে, ঘামের পবিত্রতা আছে, আছে পরিশ্রমের স্পষ্ট প্রতিদান। কিন্তু এই অন্দরমহলের বদ্ধ কুঠুরিতে এসে প্রকৃতির সব নিয়ম, সমাজের সব অনুশাসন যেন অর্থহীন, এক নিষিদ্ধ খেলায় পরিণত হচ্ছে।

রবি অত্যন্ত দুর্বল কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল, "মা... তুমি এসব কী বলছ? তুমি তো আমার জন্মদাত্রী।"

সখিনা কোনো অট্টহাসি দিলেন না, বরং এক গভীর, তৃষ্ণার্ত দীর্ঘশ্বাস ফেলে রবির চুলে তার শুকনো আঙুলগুলো চালিয়ে দিলেন। ঘাড়ের কাছে তার নখের আলতো আঁচড় রবির পুরুষালী শরীরে এক নিষিদ্ধ কামনার শিহরণ জাগিয়ে তুলল।

"মা তো শুধু সমাজের দেওয়া একটা ডাকের নাম, রবি। মানুষের শরীরের ক্ষুধা, মাংসের টান তো আর সম্পর্কের শুকনো সংজ্ঞা মানে না," সখিনা রবির কানের লতিটা নিজের ঠোঁট দিয়ে আলতো করে ছুঁয়ে বললেন।

 "তুই যখন মাঠে হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে রাতে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরিস, তখন রানীর ঘরোয়া সেবা আর তোর ভেতরের পুরুষাঙ্গের তীব্র অতৃপ্তি—দুটো এক সুতোয় গাঁথা নয়। রানি তোকে শুধু যত্ন দেয়, কিন্তু তোর ভেতরের বন্য পুরুষটাকে তৃপ্ত করার ক্ষমতা ওর ওই সরল মনে নেই। 

আমি সেটা দেখি, রবি। আমি প্রতিদিন দেখি কীভাবে তুই নিজের ভেতরের বাঘটাকে শাসন করিস।"

রবির বুকের ভেতরটা তখন উত্তাল সমুদ্রের মতো তোলপাড় করছিল। সে ভাবতেও পারেনি যে সখিনা তার ভেতরের অবরুদ্ধ কামনার এতটা গভীরে নজর রেখেছেন। সখিনার হাতের আঙুলগুলো যখন রবির চুলে বিলি কাটতে কাটতে তার ঘাড় থেকে পিঠের দিকে নামছিল, রবি তখন নিজের মনের ভেতরেই এক তীব্র বিভাজন অনুভব করল।

 একদিকে রানীর প্রতি তার সামাজিক ও বৈধ ভালোবাসা, অন্যদিকে এই অন্দরের প্রতিটি কোণে লুকিয়ে থাকা নিষিদ্ধ মাংসের আদিম মোহ।

দরজার ওপাশের ছায়া এবং নিষিদ্ধ সংকেত

***ঠিক সেই মুহূর্তে ঘরের বাইরের অন্ধকার করিডোরে আবার সেই অতি পরিচিত, চতুর পায়ের শব্দ হলো। টুকটুকি। সে হয়তো দরজার পাল্লার ওপাশে কান ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কিংবা হয়তো তাদের প্রতিটি গোপন সংলাপ তার আঠারো বছরের কৌতূহলী মন দিয়ে গিলে খাচ্ছে। 

সখিনা বেগম সেই উপস্থিতি বিন্দুমাত্র গোপন করলেন না, বরং রবির ঘাড়ের কাছে নিজের মুখটা আরও নামিয়ে এনে ফিসফিসিয়ে উঠলেন।
"তোর মেয়েও কম নয়, রবি। আঠারো বছরের ভরা যৌবন নিয়ে সে-ও চিনে গেছে এই বাড়ির বাতাসের স্বাদ কেমন। 

সে-ও তোর ওই চওড়া বুকের মাংসের ছোঁয়া চায়। কিন্তু মনে রাখিস রবি, যা একবার এই কুঠুরির অন্ধকারের ভেতরে আসে, তা বাইরের সূর্যের আলো দেখবে না। এই পাপের স্বাদ তোকে আমাদের দুজনের মাঝেই ভাগ করে নিতে হবে।"

সখিনা হঠাৎ রবিকে ঠেলে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াতে বললেন। তার কণ্ঠে আবার সেই বাড়ির কর্ত্রীর মতো কঠোরতা ফিরে এল। "যা, এবার নিজের ঘরে ঘুমাতে যা। কাল ভোরে মাঠে অনেক কাজ আছে তোর। রানি সকালে উঠে যেন
 দেখে তুই খুব শান্তিতে আছিস, সেটা নিশ্চিত করিস।"

পাপের শয্যা এবং অশুভ সমীকরণ


রবি যখন সখিনার কুঠুরি থেকে বের হয়ে এল, করিডোরে তখন নিকষ কালো, থমথমে অন্ধকার। সে দেখল বারান্দার এক কোণায়, লণ্ঠনের ম্লান আলো-ছায়ার মাঝে টুকটুকি দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার পরনের পাতলা সুতির শাড়িটি বুক থেকে প্রায় খসে পড়েছে, উথাল-পাথাল যৌবনের উন্মুক্ত প্রদর্শন স্পষ্ট। সে রবির দিকে তাকিয়ে তার ভেজা ঠোঁট দুটো কামড়ে ধরে এক বিজয়ী, রহস্যময় হাসি হাসল, যেন সে রবির প্রতিটি মুহূর্তের গতিবিধি, তার ভেতরের প্রতিটি স্খলন গুনে রেখেছে।

রবির হাঁটতে গিয়ে পা কাঁপছিল, তার শরীরের পুরুষত্ব তখন অপরাধবোধ আর নিষিদ্ধ উত্তেজনার এক চরম সংঘাতের মুখোমুখি। সে কোনোমতে রানীর শয়নকক্ষে ফিরে গেল। রানি তখনো গভীর ঘুমে মগ্ন, তার অবিন্যস্ত কালো চুলগুলো বালিশের ওপর ছড়িয়ে আছে, শাড়ির আঁচল সরে গিয়ে তার ফর্সা পেট আর কোমরের অংশটা জেগে আছে।


রবির মনে হলো, সে যেন এক নরকের নিষিদ্ধ আগুনের বোঝা নিয়ে এই পবিত্র শয্যায় পা রাখল। সে রানীর পাশে শুয়েও কোনো শান্তি পেল না। রানি ঘুমের ঘোরে রবির বুকে হাত রাখতেই রবির কানের কাছে বারবার প্রতিধ্বনিত হতে লাগল সখিনার সেই বিষাক্ত কথা—”মানুষের ক্ষুধা সম্পর্কের সংজ্ঞা মানে না।”


গহীন গ্রামের সেই নিঝুম অন্ধকারে রবি চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ার ভান করল ঠিকই, কিন্তু তার মস্তিষ্ক তখনো চলছে এক ভয়ঙ্কর ও অশুভ সমীকরণে। আগামীকাল সূর্য উঠবে, মাঠে সোনার ধান কাটা হবে, কিন্তু রবির এই নিষিদ্ধ অন্দরমহলের জীবনে সেই সকালের আলো কি আদৌ কোনো শুদ্ধতা নিয়ে আসবে, নাকি তাদের সবাইকে এই কামনার চোরাবালিতে আরও গভীরে ডুবি
য়ে দেবে?
..

ষষ্ঠ পর্ব: নিষিদ্ধের চূড়ান্ত দহন ও বাঁধভাঙা লালসা

পরের দিন সকালের সূর্যটা আর দশটা সাধারণ ভোরের মতো আলো ছড়াল না রবির চোখে। কুয়াশা কেটে যে কড়া রোদ মাঠের বুকে আছড়ে পড়ছিল, তা রবির কাছে মনে হচ্ছিল ঈশ্বরের এক জ্বলন্ত চাবুক। বলদের পিঠে জোয়াল চাপিয়ে যখন সে লাঙল টানছিল, ফলার নিচে ওলটপালট হতে থাকা ভেজা মাটি থেকে এক আদিম গন্ধ আসছিল। 

কিন্তু রবির চোখ দুটো মাঠের আইল দেখছিল না; তার চোখের সামনে কেবলই ভাসছিল কাল রাতের সেই বদ্ধ কুঠুরির নিরেট অন্ধকার, সখিনার ন্যাপথালিন মেশানো তপ্ত নিঃশ্বাস আর বারান্দার কোণে দাঁড়ানো টুকটুকির আঁচল-খসা ভরা যৌবনের সেই কুটিল, বিজয়ী হাসি।

সে নিজেকে এই কামনার নরক থেকে বাঁচাতে আজ শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে লাঙল আঁকড়ে ধরল। বলদ দুটোকে নির্মমভাবে তাড়া করল। দ্বিপ্রহরের খাঁ খাঁ রোদে তার চওড়া পিঠ বেয়ে ঘাম চুয়ে চুয়ে মাটির সাথে মিশে যাচ্ছিল। রবি ভাবছিল, শরীরের এই নোনতা ঘাম দিয়ে হয়তো তার মনের ভেতরের জমাট বাঁধা অপরাধবোধকে ধুয়ে মুছে সাফ করে দেওয়া যাবে। কিন্তু মাঠের সেই খাঁ খাঁ নির্জনতায় চিল উড়ার শব্দও যেন তাকে ব্যঙ্গ করে বলছিল—তুই আর পবিত্র নেই, রবি।*


হাত-মুখ ধুয়ে যখন সে জোয়ারদার বাড়িতে পা রাখল, চারপাশের বাতাস আরও মদির আর রহস্যময় ঠেকল। সখিনা বেগম বারান্দার ইজিচেয়ারে আধশোয়া হয়ে তসবিহ টিপছেন, কিন্তু তার বুড়ো আঙুলের প্রতিটি নড়াচড়া যেন রবির স্নায়ুগুলোকে গুনছিল। রান্নাঘরের দাওয়ায় বসে টুকটুকি বঁটি দিয়ে তরকারি কাটছিল। 

শাড়ির হাতাটা কনুই পর্যন্ত গোটানো, যার ফলে তার ফর্সা, নিটোল হাত দুটো রোদে চিকচিক করছিল। রানি তাকে কাজে সাহায্য করার জন্য ডাকছিল। রবি উঠোনে দাঁড়াতেই তার মনে হলো, এই তিন নারী তাকে কেন্দ্র করে এক অদৃশ্য, নিশ্ছিদ্র মাংসের জাল বুনে রেখেছে, যেখান থেকে ছিটকে বের হওয়ার কোনো পথ নেই।

রানি রবির ক্লান্ত, কালচে হয়ে যাওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে মায়ায় গলে গেল।

 "ওগো, শরীরটা খারাপ লাগছে না তো তোমার? মাঠের কড়া রোদে মুখটা বড্ড শুকিয়ে কালি হয়ে গেছে।"

রবি কোনো উত্তর দিতে পারল না। রানির এই সরল, পবিত্র ভালোবাসা এখন তার বুকে তপ্ত সিসার মতো বিঁধছে। সে শুধু একটা শুকনো ঘাড় নেড়ে গামছাটা কাঁধে ফেলে পুকুরঘাটের দিকে পা বাড়াল।


পুকুরঘাটের নিভৃত স্পর্শ ও অবাধ্য যৌবনের হুংকার


##
পুকুরপাড়ের সেই নিঝুম দুপুরে চারদিক স্তব্ধ ছিল। ঘাটের ঘোলা জলের দিকে তাকিয়ে রবি যখন গামছা দিয়ে মুখের ঘাম মুছছিল, ঠিক তখনই পেছনে শুকনো পাতার ওপর আবার সেই নূপুরহীন চতুর পায়ের শব্দ হলো। রানিকে রান্নাঘরে ব্যস্ত রেখে টুকটুকি ঠিকই রবির পিছু পিছু চলে এসেছে।


সে রবির একদম গা ঘেঁষে দাঁড়াল। তার আঠারো বছরের শরীরের ওম রবির পিঠে লাগতেই রবির মেরুদণ্ড বেয়ে একটা গরম স্রোত বয়ে গেল।

"দাদীর সাথে কাল রাতে কী কথা হলো বাবা? বড্ড গুমোট মনে হচ্ছিল দাদীর ঘরটা,"

 টুকটুকি রবির কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিসাল। তার গলার স্বরে আজ কোনো লুকোছাপা ছিল না, ছিল এক উদগ্র, প্রগলভ অধিকার।

রবি পুকুরের জলের দিকে তাকিয়ে নিজেকে শক্ত করার শেষ চেষ্টা করল, 

"তোর দাদী যা বলে তা নিয়ে তোর মাথা না ঘামালেও চলবে। ছোট মানুষ, নিজের কাজে মন দে।"

টুকটুকি খিলখিল করে হেসে উঠল। সেই মদির হাসির সাথে সাথেই সে রবির হাত থেকে ভেজা গামছাটা কেড়ে নিল। তারপর, নিজের তপ্ত, নরম হাতখানা রবির রোদে পোড়া, পেশিবহুল পিঠের ওপর রাখল। তার আঙুলের নখগুলো আলতো করে রবির চামড়ায় বসে যাচ্ছিল।

"তুমি কি দাদীর ওই শুকনো হাড়ের প্রভাবে পড়ছ, বাবা? সে তো বুড়ি হয়ে গেছে, তার কি আর সেই তেজ আছে?" 

টুকটুকি রবির বুকের ওপর নিজের শরীরটা পুরোপুরি চেপে দিল, তার অনাবৃত কোমরের মসৃণ চামড়া রবির কনুইয়ে ঘষা খাচ্ছিল।

 "আমার যা আছে, তা কি তুমি চোখ মেলে দেখতে পাচ্ছ না? আমার এই যৌবনের আগুন কি তোমার বুক শান্ত করতে পারবে না?"

রবি এবার আর টুকটুকির হাত সরিয়ে দিল না। টুকটুকির শরীরের সেই কাঁচা সাবানের তীব্র গন্ধ আর যুবতী ত্বকের উত্তাপ রবির রক্তের সমস্ত বাঁধ ভেঙে দিল। তার ধমনিতে রক্ত এখন সমাজের কোনো নিয়মে নয়, বরং আদিম বন্য কামনার নিয়মে প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। সে বুঝতে পারল, সে আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে না; বরং সজ্ঞানে, স্বেচ্ছায় এই নিষিদ্ধ অন্ধকারের অতল গভীরে তলিয়ে যেতে চাইছে। তাই সে কিছু না বলে টুকটুকি কে ছারিয়ে দ্রুত রুমে চলে আসলো‌ নিজেকে শান্ত করতে।
Reply



Forum Jump:


Users browsing this thread: 1 Guest(s)