Thread Rating:
  • 0 Vote(s) - 0 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5

গহীন গ্রামের অন্দরমহল
#4

 
এপিসোড : ৫

… …

দোকান থেকে ফিরে রবি যখন নিঝুম ঘরের দরজায় পা রাখল, তখন মধ্যরাতের চাঁদের আলো জানালার জীর্ণ ফাঁক দিয়ে বিছানায় এসে পড়েছে, যেন রুপালি কোনো মায়াবী জাল বিছানো। হারিকেনের ক্ষীণ, কাঁপতে থাকা আলোয় সে দেখল, রানি বিছানায় অঘোরে ঘুমাচ্ছে। তার পরনের সুতির শাড়িটা হাঁটুর ওপর পর্যন্ত অগোছালো হয়ে আছে, যা রানীর নগ্ন পায়ের মসৃণ সৌন্দর্যকে হারিকেনের আলোয় আরও রহস্যময় ও মোহময় করে তুলেছে। 

মাঠের রোদে পোড়া ক্লান্তিকে ছাপিয়ে রবির মনের গহীনে তখনো কুঠুরির সেই রেশ রয়ে গেছে। সখিনার সাথে কাটানো সেই নিষিদ্ধ মুহূর্তের তীব্র স্মৃতি, সেই মাতৃত্বের গন্ধ তার পৌরুষকে এমনভাবে উদ্দীপ্ত করেছিল যে, রানীর উপস্থিতি তাকে মুহূর্তেই এক প্রবল কামনার জোয়ারে ভাসিয়ে দিল।
রবি বিছানার পাশে এসে বসল। রানীর শরীরের প্রতিটি ভাঁজ, প্রতিটি বাঁক তাকে যেন নিভৃতে হাতছানি দিয়ে ডাকছিল। সে আর নিজেকে সামলাতে পারল না; তার ভেতরের আদিম সত্তা তখন লাগামহীন। 

রবির হাত যখন রানীর শরীরে স্পর্শ করল, রানি কিছুটা আড়ষ্ট হয়ে নড়েচড়ে উঠল। কিন্তু রবি তাকে আর কোনো সময় দিল না। সে কোনো কথা না বলে রানীর শরীরের ওপর ঝুঁকে পড়ল। রানি ঘুমচোখে কিছুটা অবাক হলেও, স্বামীর এই আকস্মিক আবেগে , চিরচেনা নিয়মে স্বামীর এই ছোয়া, এই অকাল যৌবনউচ্ছ্বাসে সে অবশ হয়ে সাড়া দিল সন্তুষ্ট করতে।

কিন্তু রবির কল্পনার জগত তখন এই কুঠুরি থেকে অনেক দূরে। রানিকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরার সময় রবি চোখ বন্ধ করল, যেন সে কোনো ঘোর থেকে বাস্তবতাকে মুছে দিতে চাইছে। সে বারবার কল্পনা করার চেষ্টা করল যে, তার নিচে রানি নয়, বরং সখিনা বেগম শুয়ে আছেন। সখিনার সেই গভীর মমতা, সেই দীর্ঘদিনের জমাট বাধা মাতৃত্বের গন্ধ আর সেই নিষিদ্ধ সাহচর্য রবির মনে এক তীব্র নেশা ধরিয়ে দিল।

 সে রানিকে আদর করার সময় বারবার সখিনার সেই কুঠুরির কথা মনে করছিল, তার প্রতিটি চুম্বনে ছিল এক উন্মত্ততা—যেন সে রানীর দেহের প্রতিটি বাঁকে তার মায়ের সেই হারানো যৌবনকে খুঁজে পেতে চাইছে। রানি বুঝতে পারল না কেন আজ রবির স্পর্শে এত তাড়াহুড়ো, এত দহন।

দরজার বাইরে, বারান্দার অন্ধকার ছায়ার আড়ালে পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে ছিল টুকটুকি। সে এতক্ষণ ধরে একদৃষ্টে সবকিছু দেখছিল। অন্ধকার করিডোরের শীতলতা তার শরীরে লাগলেও, তার ভেতরের আগুন ছিল অন্যরকম। তার চোখ জোড়া রবির প্রতিটি নড়াচড়া, প্রতিটি অঙ্গভঙ্গি খুঁটিয়ে দেখছিল। বাবার পৌরুষদীপ্ত দেহ আর মায়ের প্রতি সেই উগ্র আচরণ টুকটুকির ভেতর এক আগ্নেয়গিরির দাহন সৃষ্টি করল। সে দেখল কীভাবে তার বাবা রানীর ওপর ঝুঁকে পড়ছে, কীভাবে তাকে জড়িয়ে ধরে আছে। এই দৃশ্য দেখে টুকটুকির শরীরের ভেতর দিয়ে এক অদ্ভুত, কাঁপুনি দেওয়া অস্থিরতা বয়ে গেল।

সে নিজের হাত নিজের বুকের ওপর রাখল। নিজের আঙুল দিয়ে সজোরে নিজের স্তন টিপতে লাগল টুকটুকি। তার শরীরের প্রতিটি শিরায় তখন রবির প্রতি এক তীব্র, অপ্রতিরোধ্য আকর্ষণ। তার মনে হচ্ছিল, বাবার এই শরীরের দখল একমাত্র তারই হওয়া উচিত; রানীর শরীরটা যেন একটা অবৈধ অন্তরায়। রানীর জায়গায় নিজেকে কল্পনা করে সে এক দীর্ঘশ্বাস ফেলল। বাবার এই কামনার আগুন যেন তাকে ভেতর থেকে পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছে। সে এক অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে দাঁড়িয়ে, নিজের শরীরের তীব্রতা টের পেয়ে নিজের কামনার শিখাকে আরও বাড়িয়ে তুলল, যেন সেও অংশীদার হতে চায় সেই নিষিদ্ধ খেলার।


একসময় রবির সেই উত্তাল সঙ্গম শেষ হলো। ঘর নিস্তব্ধ হয়ে এল, কেবল ঘড়ির কাঁটার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। রবি ক্লান্ত হয়ে রানীর পাশেই শরীর এলিয়ে দিল, যেন দীর্ঘ এক যুদ্ধের পর সে পরাজিত সৈনিক। দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে টুকটুকি তখন এক চরম ক্লান্তি আর হতাশায় নুয়ে পড়েছে। তার কামনার উত্তেজনা আর একাকীত্বের জ্বালায় সে বিধ্বস্ত। সে ধীর পায়ে, নিঃশব্দে নিজের ঘরের দিকে ফিরে গেল। বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে সে ভাবল, যেদিন সে তার বাবাকে পুরোপুরি নিজের করে পাবে, যেদিন রানীর অস্তিত্ব মুছে গিয়ে শুধু তারাই অবশিষ্ট থাকবে, সেদিনই হয়তো তার এই অতৃপ্ত আত্মা শান্তি পাবে। এই অন্দরমহলের গুমোট, রহস্যময় আবহ যেন তাকে আর ঘুমাতে দিচ্ছে না; প্রতিটা নিঃশ্বাস যেন নতুন কোনো ষড়যন্ত্রের ইশারা নিয়ে আসছে।

ভোরের আলো ফোটার আগেই রবির ঘুম ভাঙল। তারপর সকালে খেয়ে দেয়ে তার জীবনের নিয়ম অনুযায়ী মাঠের কাজে পা বাড়ালো। ভোরের সেই ধূসর কুয়াশা তখনও মাঠের ওপর চাদরের মতো বিছানো। আজ রবি একা নয়, সাথে আছে টুকটুকিক। রানীর মৃদু আপত্তি ছিল—মেয়েমানুষের মাঠে যাওয়ার প্রয়োজন কী? কিন্তু টুকটুকির অদম্য ও কিছুটা জেদি ইচ্ছার কাছে তাকে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হলো। ভোরের কুয়াশাভেজা মেঠো পথ দিয়ে বাপ-বেটি যখন মাঠের দিকে পা বাড়াল, তখন চারপাশটা ছিল এক রহস্যময়, জমাট বাঁধা নীরবতায় ঢাকা। 

টুকটুকির পরনে ছিল শক্ত করে বাঁধা শাড়ি, তার প্রতিটা পদক্ষেপ আর চঞ্চলতায় যেন গ্রামের সেই নিথর বাতাসও আন্দোলিত হয়ে উঠছিল।
মাঠে পৌঁছে রবি লাঙল আর জোয়াল গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। সকালের রোদ তখনো দিগন্তরেখায় ফুটে ওঠেনি। টুকটুকি তাকে সাহায্য করার অছিলায় রবির খুব কাছে ঘেঁষে কাজ করছিল। রবির পেশিবহুল শরীরের প্রতিটি নড়াচড়া, তার ঘর্মাক্ত পিঠের টানটান উত্তেজনা সে এক নিবিড় ও ক্ষুধার্ত পর্যবেক্ষণে রাখছিল। 

কাজ করতে করতে টুকটুকি হঠাৎ কোনো ভূমিকা ছাড়াই বলল, "বাবা, কাল রাতে কুঠুরির দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে যা দেখেছি, তা কি তুমি ভেবে দেখেছ?"

রবি যেন বজ্রাহত হলো। সে চমকে উঠে মেয়ের চোখের দিকে তাকাল। টুকটুকির চোখে তখন এক অদম্য, আদিম ও চঞ্চল চাহনি, যা একজন কন্যার চোখে থাকার কথা নয়। সে রবির কানের খুব কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল, "মা তোমাকে অনেক আদর করে, আমি জানি। কিন্তু মা তো তোমার মনের সেই গভীরের ক্ষুধাটা কোনোদিনও মেটাতে পারবে না। তোমার শরীরের প্রতিটি শিরায় যে আগুন জ্বলছে, তা কি মা বোঝে?" 

রবি কোনো কথা খুঁজে পেল না। সে মাটির দিকে তাকিয়ে মাটির ডেলা ভাঙতে লাগল, কিন্তু তার বুকের ভেতরটা তখন ধড়ফড় করছিল এক অজানা বিপদের আশঙ্কায়।

দুপুরের কড়া রোদ যখন মাথায় উঠল, তখন রানি মাঠের আইল ধরে মাথার ওপর খাবারের পুঁটলি নিয়ে এল। তার পরনে ছিল সাধারণ সুতির শাড়ি, কিন্তু দীর্ঘদিনের সংসারের কঠোর শ্রমেও তার শরীরটা যেন সজীব ও ঋজু। রানি যখন গাছের ছায়ায় খাবার সাজিয়ে রাখছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে টুকটুকি আর রবির মধ্যে এক অদ্ভুত, অস্বস্তিকর নাটক শুরু হলো। 

রানি রান্নার পাতিল সামলাতে ব্যস্ত, আর টুকটুকি তখন রবির ঠিক কোলের কাছে এসে বসল। রবির শার্টের বোতাম নিয়ে খেলতে শুরু করল সে, যেন এটি খুবই স্বাভাবিক কোনো দৃশ্য।
টুকটুকি রবির পায়ে পা ঘষে ফিসফিস করে বলল, 

"মা কি জানে, তার স্বামী আজ কতটা উদভ্রান্ত হয়ে আছে? মা তো শুধুই সংসার বোঝে, ভাত-কাপড়ের হিসেব বোঝে। কিন্তু আমি... আমি তোমার শরীরের ভাষা বুঝি, বাবা।" 

টুকটুকি তার হাত অতি কৌশলে রবির উরুর কাছে নিয়ে গেল, যা রানীর চোখের আড়ালে ছিল। সে এমন এক কামনার দৃষ্টিতে রবির দিকে তাকাল যে, রবির দমবন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হলো। লজ্জায় নয়, বরং এক তীব্র নিষিদ্ধ আকর্ষণে।

রানি খাবার পরিবেশন করতে করতে বলল, "কিরে টুকটুকি, অমন করছিস কেন? ঠিকমতো খেতে বস, অমন বাপের গায়েলেপ্টে থাকিস কেন?"


রানি তার সহজাত সরলতায় কিছুই বুঝতে পারল না। সে কেবল দেখল, তার মেয়ে বাবার কাছে বসে দুষ্টুমি করছে। কিন্তু রানীর অগোচরে টুকটুকি রবির কানের কাছে মুখ নিয়ে আরও নিচু, আরও তীক্ষ্ণ স্বরে বলল,

 "মা চলে গেলেই তোমাকে কিছু দেখাব, বাবা। গত রাতে অন্ধকারে যা দেখেছি, তার চেয়েও অনেক বেশি সাহসী কিছু।

রবি অবাক হলো, এই মেয়ের এতো সাহস দেখাচ্ছে, অথচ বাবা হয়ে আমি তাকে শাসন করতেও পারছি না?

এসব ভাবতে ভাবতেই মাথা নিচু করে খাওয়া শুরু করলো, আর টুকটুকি কে বললো।

“সেই সকালে এসেছিস মা! এবার ভাত খা।”

রানি তৃপ্ত মনে তাদের খেতে দেখে কিছুটা দূরে পানির কলসটি ধুতে গেল। রানীর পিঠ ঘুরতেই টুকটুকি রবির হাতের মুঠোয় তার হাতটি রাখল। সেই স্পর্শে এক নিষিদ্ধ বিদ্যুতের শিহরণ রবির সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ল। রবি অনুভব করল, সে রানীর সাথে থাকলেও, তার নিজের রক্তেই বেড়ে ওঠা এই মেয়ের তীব্র আকর্ষণ তাকে এক নতুন, অন্ধকার গহ্বরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে—যেখানে কোনো নীতি নেই, আছে শুধু এক অবদমিত ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ।

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামল। আকাশের বুক জুড়ে তখন রক্তিম আভা, আর গ্রামবাংলার প্রকৃতি যেন এই নিষিদ্ধ সম্পর্কের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। কাজ শেষে রবি, রানি আর টুকটুকি যখন বাড়ির দিকে ফিরছিল, রানি তার স্বামীর কাঁধে হাত রেখে হেঁটে চলল, যেন সে এক সুখী ও আদর্শ সংসারের প্রতিনিধি। কিন্তু ঠিক তার পাশেই টুকটুকি রবির অন্য হাতটি শক্ত করে ধরে ছিল, যেন সে রানীর অধিকারের সাথে পাল্লা দিচ্ছে। 

অন্দরমহলের সেই অন্ধকার কুঠুরির স্মৃতি আর খোলা মাঠের এই টানাপোড়েন—রবি নিজেকে আবিষ্কার করল এক গভীর ও বিপজ্জনক রহস্যের মাঝখানে, যেখান থেকে ফিরে আসার পথ ক্রমশই দুর্গম হয়ে উঠছে।



সন্ধ্যার হালকা কুয়াশায় গ্রামটা আজ উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছে। দূরে ঢোলের অশুভ কিন্তু উন্মাদনা জাগানো আওয়াজ আর বাঁশির করুন সুর বাতাসের সাথে মিশে গ্রামটিকে এক মায়াবী ও রহস্যময় রূপ দিয়েছে। বাড়ির দাওয়ায় বসে রবি ক্লান্ত শরীরে পা ঝাড়া দিচ্ছিল, সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনিতে তার শরীর যেন এক টুকরো পাথর হয়ে গেছে। ঠিক সেই সময় টুকটুকি ঘরে প্রবেশ করল। 

তার চলনে এক অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস, চোখেমুখে এক অবাধ্য আবদার—যেন সে আজ কোনো এক অশুভ বিজয়ের সন্ধানে বেরিয়েছে।

"বাবা, আজ গ্রামের মাঠে মেলা বসেছে! কত মানুষ যাচ্ছে, আলো জ্বলছে—চলো না আমরাও একটু ঘুরে আসি," টুকটুকি রবির কোলের একদম কাছে বসে মিনতি করল। তার গলার স্বরে এক অদ্ভুত মাদকতা ছিল, যা রবির ক্লান্ত স্নায়ুগুলোতে মৃদু স্পন্দন তুলল।

রবি ক্লান্ত গলায় মাথা নাড়ল, "না টুকটুকি মা আমার, আজ আর পারবো না । সারাটা দিন রোদে পুড়ে যা শরীর হয়েছে, তাতে আর হাঁটার বিন্দুমাত্র শক্তি নাই। তুই বরং বাড়িতেই বিশ্রাম নে, না হলে শরীর খারাপ হবে।"

কিন্তু টুকটুকি দমে যাওয়ার পাত্রী নয়। সে জানে, এই মেলার ভিড়ে, মানুষের কোলাহলে রবিকে পাওয়া তার জন্য কতটা সুযোগ তৈরি হয়ে আছে। সে রবির শার্টের হাতায় হাত রেখে, অতি আদুরে ভঙ্গিতে বলল, 

"তুমি না গেলে আমার একদম ভালো লাগবে না, বাবা। সবাই যাচ্ছে, আর আমরা শুধু ঘরে বসে থাকব? আমার অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল তোমার সাথে মেলায় যাব।"

রবি যখন তার সিদ্ধান্তে অটল, তখন টুকটুকি তার ধূর্ততার জাল বুনল। সে রানীর কাছে গিয়ে বিড়বিড় করে কী যেন বলল—মিথ্যে নয়, যেন এক নিখুঁত অভিনয়। একটু পরেই রানি বেরিয়ে এল, তার মুখ উজ্জ্বল, কোনো সন্দেহ নেই তার মনে। 

"ওগো শুনছো? মেয়েটা কতদিন ধরে মেলার কথা বলছে, যাও না একটু ঘুরে আসো। ও একা একা তো আর যেতে পারে না, আর আমিও তো সারাদিন সংসারে ব্যস্ত। তুমি ওর সাথে থাকলে আমারও মনটা একটু শান্ত থাকবে, মেয়েটাও একটু আনন্দ পাবে।"

রানির এই সরল বিশ্বাস ও অনুরোধের কাছে রবি শেষ পর্যন্ত হার মানল। রানীর অন্ধ বিশ্বাস, স্বামী আর মেয়ে একসাথে মেলায় গেলে তারা দুজনেই আনন্দ পাবে। রবি অনিচ্ছাসত্ত্বেও রাজি হলো। প্রস্তুতি নিতে নিতে টুকটুকির চোখে তখন এক অদ্ভুত বিজয়ের হাসি চিকচিক করে উঠল। সে যেন শিকারের খুব কাছে পৌঁছে গেছে।

মেলায় পৌঁছাতেই আলোর ঝলকানি আর মানুষের ভিড় চোখ ধাঁধিয়ে দিল। জিলাপির মিষ্টি গন্ধ, কাঠের পুতুলের সারি, আর বাঁশির আওয়াজে মেলা যেন এক জীবন্ত প্রাণীর মতো ধুঁকছে। ভিড়ের চাপে টুকটুকি রবির একদম গা ঘেঁষে হাঁটতে লাগল। জনস্রোতের ধাক্কায় টুকটুকি যেন রবির ওপর বারবার আছড়ে পড়ছে, আর প্রতিটি স্পর্শে সে নিজের শরীরকে রবির শরীরের সাথে মিশিয়ে দেওয়ার এক সূক্ষ্ম কৌশল অবলম্বন করছে।

মেলার এক নির্জন কোণে, যেখানে ভিড় কিছুটা কম, টুকটুকি রবির হাতটি অত্যন্ত শক্ত করে ধরল। "বাবা, এত ভিড়! তোমার হাতটা না ধরলে আমি হারিয়ে যাব, আর তোমাকে ছাড়া আমি এই মেলায় দিশাহারা।"

রবি কোনো প্রতিবাদ করল না, সে তার হাতের আঙুলগুলো টুকটুকির আঙুলের সাথে একাত্ম করে দিলো। টুকটুকির শরীরের উষ্ণতা মেলা প্রাঙ্গণের এই ভিড়কে যেন রবির কাছে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তুলল। ভিড়ের সুযোগ নিয়ে টুকটুকি রবির কানের কাছে মুখ এনে, উষ্ণ নিঃশ্বাস ছেড়ে ফিসফিস করল, "এখন কি তুমি আমাকে একটু নিজের মতো সময় দেবে, বাবা? মেলা দেখার চেয়েও কি অন্য কোনো আনন্দ নেই?"

টুকটুকির এই সাহসী, উন্মুক্ত পদক্ষেপ রবিকে স্তম্ভিত করে দিল। মেলার কোলাহলের আড়ালে টুকটুকি যেন রবির মনের সেই নিষিদ্ধ কোণটিকে সরাসরি আঘাত করল, যা রবি এতদিন অবদমিত করে রেখেছিল। রবি লক্ষ্য করল, টুকটুকি আজ নিজের শাড়ির আঁচলটাও এমনভাবে গুছিয়ে রেখেছে, যা তার উঠতি যৌবনকে আরও প্রকট ও আকর্ষণীয় করে তুলছে।

সে যেন তার বাবার পৌরুষকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। রবির মনে হলো, সে এক অশুভ পরিকল্পনার ফাঁদে পা দিচ্ছে, কিন্তু তার রক্তে তখন এক তীব্র উত্তেজনা। মেলায় চারিদিকে হাজার হাজার মানুষ, অথচ এই মুহূর্তে রবি আর টুকটুকির মাঝে যে সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে, তা যেন গোটা জগতের নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। রানি তখনো জানত না, তার স্বামী আর তার নিজের সন্তানই আজ এমন এক নিষিদ্ধ খেলার মঞ্চ সাজিয়েছে, যার কোনো ফেরার পথ নেই। রবি দেখল, টুকটুকির চোখের চাহনিতে আজ কোনো লজ্জা নেই, আছে কেবল রবির প্রতি এক অদম্য, নিষিদ্ধ আদিম অধিকার।


মেলার উত্তাল জনস্রোত। চারপাশে নাগরদোলার যান্ত্রিক আওয়াজ, বাঁশির সুর আর মানুষের কোলাহলের এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ। রবির পাশে হাঁটতে হাঁটতে টুকটুকির চোখগুলো যেন মেলার প্রতিটি উজ্জ্বল রঙ শুষে নিচ্ছিল। তার পরনে হালকা নীল রঙের সুতির শাড়ি, যা বাতাসে মৃদু উড়ছে। ভিড় ঠেলে তারা যখন গয়নার দোকানের সামনে পৌঁছাল, টুকটুকি থমকে দাঁড়াল। কাঁচের ভেতরে রাখা এক সেট কাঁচের চুড়ির দিকে তার অপলক দৃষ্টি। সেই চুড়িগুলোর রঙ ঠিক যেন শরতের আকাশের মতো গাঢ় নীল।

রবি কোনো দ্বিধা করল না। দোকানদারকে ডেকে চুড়িগুলো বের করতে বলল। টুকটুকির ফর্সা কবজিটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে রবি যখন চুড়িগুলো পরাতে লাগল, তখন তাদের মাঝে এক অস্বস্তিকর নীরবতা। চুড়ি পরানোর সময় রবির প্রতিটি আঙুলের স্পর্শ টুকটুকির কবজিতে এক বৈদ্যুতিক শিহরণ জাগিয়ে তুলছিল। এরপর এল ঝুমকো কানের দুল আর রুপোর পায়েল। পায়েল পরাতে গিয়ে রবি যখন নিচু হলো, টুকটুকির পায়ের নূপুরের শব্দ আর রবির নিঃশ্বাসের শব্দ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল। 

টুকটুকি রবির চোখের দিকে তাকিয়ে এমন এক লাজুক অথচ অর্থবহ হাসি দিল, যাতে কেবল মমতা ছিল না, ছিল রবির অস্তিত্বের ওপর নিজের একচ্ছত্র অধিকারের ঘোষণা। রবি নিজেকে আর সামলাতে পারল না, সেই উপহারের মাঝে সে কেবল মেয়ের আবদার পূরণ করছিল না, বরং নিজের ভেতরের এক অদম্য কামনার ইন্ধন জোগাচ্ছিল।

মেলা ঘোরার এক পর্যায়ে টুকটুকি হঠাৎ বায়না ধরল নাগরদোলায় চড়ার। মেলার ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল নাগরদোলাটি তখন আকাশে মাথা ছুঁইছুঁই করছে। রবি প্রথমে একটু ইতস্তত বোধ করলেও টুকটুকির জেদি আর উজ্জ্বল মুখের দিকে তাকিয়ে না বলতে পারল না। তারা নাগরদোলার একটি ছোট বগিতে গিয়ে বসল। বগিটি সংকীর্ণ, দুইজনের শরীরের মাঝে জায়গা প্রায় নেই বললেই চলে। দোলাটি যখন নড়তে শুরু করল, টুকটুকি রবির সাথে গা ঘেঁষে সেঁটে বসল।

 বগিটি উপরে ওঠার সাথে সাথে নিচের পৃথিবীটা ক্রমশ ছোট হয়ে আসছিল।
যত উপরে উঠছে, বাতাসের ঝাপটা তত তীব্র হচ্ছে। টুকটুকির চুলগুলো রবির মুখে এসে বারবার আছড়ে পড়ছিল। দোলাটি একবার ঝুলে পড়তেই টুকটুকি রবির শরীরকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরল। রবির হৃদস্পন্দন তখন বুকের ভেতর ধকধক করছে। টুকটুকির নরম শরীরের প্রতিটি ভাঁজ রবির শরীরের সাথে ঘষটানোর ফলে রবির পুরুষাঙ্গ উত্তেজিত হয়ে লুঙ্গির নিচে ফুলে উঠতে শুরু করল। টুকটুকির হাতটা রবির কোমর থেকে ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসছিল। রবির মনে হলো, পৃথিবীর সকল নিয়ম, সকল নৈতিকতা নিচে মাটির সাথে মিশে গেছে; এখন এই শূন্য আকাশে কেবল তাদের শরীরের আদিম চাহিদাটুকুই সত্য।


দোলাটি এখন মেলার সর্বোচ্চ চূড়ায়। তারা যেন মেঘের কাছে পৌঁছে গেছে। ঠিক সেই মুহূর্তে, কোনো সংকোচ ছাড়াই টুকটুকি তার ডান হাতটা রবির লুঙ্গির ওপর দিয়ে সরিয়ে সরাসরি তার লিঙ্গের ওপর রাখল। রবির ঠোঁট থেকে একটা চাপা আর্তনাদ বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো। কিন্তু তবুও মেয়ের এই নিষিদ্ধ ছোঁয়াতেও নিষেধ করতে পারলো না।নাগরদোলাটি বৃত্তাকার গতিতে ঘুরছে, আর সেই ঘূর্ণির তালে তালে টুকটুকি রবির পৌরুষকে কোমর থেকে লঙ্গির গিট খুলে হাত ডুবিয়ে দিয়ে লুঙ্গি দিয়ে আবার আড়াল করে দিয়ে তার হাতের উষ্ণ মুঠোয় বন্দী করে ছন্দময় গতিতে নাড়াচাড়া করতে শুরু করল। রবির সামনে তখন মেলা, আকাশ আর অস্পষ্ট আলোর রেখা সব মিলেমিশে এক মায়াবী অস্পষ্টতা। বগিটির ভেতরে তাদের দুইজনের ভারী নিঃশ্বাস আর নাগরদোলার ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ মিলে এক অন্যরকম সুর তৈরি করল।

নিচে নামার ঠিক আগের মিনিটখানেক বাকি। টুকটুকির হাতের উত্তপ্ত চাপে, তার নখ আর আঙুলের কৌশলী ঘর্ষণে রবির সমস্ত স্নায়ু টানটান হয়ে উঠল। রবির মনে হলো, সে এই মুহূর্তে পৃথিবীর সব সুখ খুঁজে পেয়েছে। টুকটুকির হাতের সেই উষ্ণতা আর গতির প্রচণ্ডতায় রবির পৌরুষ আর স্থির থাকতে পারল না। রবি চোখ বুজে মাথাটা পেছনের দিকে এলিয়ে দিল, এবং এক দীর্ঘশ্বাসের সাথে তার সমস্ত উত্তাপ টুকটুকির হাতের মুঠোর ভেতরেই বিচ্ছুরিত হলো। সেই চরম তৃপ্তির মুহূর্তে রবির শরীর একবার কেঁপে উঠল, তার সমস্ত চেতনা অবশ হয়ে এল।

নাগরদোলা থামার যান্ত্রিক সংকেত বেজে উঠল। টুকটুকি তার হাতটি সরিয়ে নিল। তার আঙুলগুলো তখনো রবির বীর্যে আঠালো হয়ে আছে। সে কোনো অস্থিরতা দেখালো না। তার মুখে ফুটে উঠল এক বিজয়ীর তৃপ্ত হাসি—যেন সে কোনো এক কঠিন যুদ্ধে জয়ী হয়েছে। দোলা থেকে নেমে আসার সময় সে আলতো করে নিজের মাথাটা রবির কাঁধে রাখল। রবি চারপাশের জগতের দিকে তাকাল, সবকিছুই আগের মতো আছে, অথচ তাদের দুইজনের মাঝখানে এখন গড়ে উঠেছে এক গভীর, অন্ধকার ও অমোচনীয় নিষিদ্ধ বন্ধন, যা থেকে ফিরে আসার পথ তাদের নিজেদেরই জানা নেই।

নাগরদোলা থেকে নামার সময় রবি তখনও নিজেকে সামলে উঠতে পারছিল না। তার পায়ের তলার মাটি যেন অস্বাভাবিক রকমের নরম। টুকটুকি ধীরস্থির পায়ে নেমে এল, তার হাতের তালু তখনও রবির বীর্যের আঠালো স্পর্শে ভেজা। সে কোনো সংকোচ ছাড়াই তার আঁচল দিয়ে হাতটা মুছে নিল, যেন এইমাত্র সে কেবল সাধারণ কিছু করেছে। রবির দিকে তাকিয়ে সে এমন এক রহস্যময় হাসি দিল যে, রবির মনে হলো সে যেন কোনো এক অজেয় শক্তির জালে বন্দী হয়ে পড়েছে।

মেলা প্রাঙ্গণে ভিড় তখন বাড়ছে। চারদিকে ঢোলের শব্দ, বাঁশির সুর আর মানুষের হইচই। অথচ রবির কানে সবকিছুই যেন এক অস্পষ্ট গুঞ্জন বলে মনে হচ্ছে। টুকটুকি তার হাতটা রবির হাতের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। এই স্পর্শে এখন আর বাবার প্রতি মেয়ের মমতা নেই, আছে এক গভীর কামনা। রবি অনুভব করল, টুকটুকির নখগুলো তার চামড়ায় হালকা করে বসে যাচ্ছে, যেন সে বুঝিয়ে দিচ্ছে—এখন থেকে রবির প্রতিটি স্পন্দন কেবল তার হাতের মুঠোয়।

“বাবা, চলো না কিছু খেয়ে নিই? খুব খিদে পেয়েছে,” টুকটুকি মিষ্টি স্বরে বলল।
রবি তার শুকনো জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানোর চেষ্টা করল। “হ্যাঁ... হ্যাঁ, চল। কী খাবি বল?”

তারা মেলা প্রাঙ্গণের এক কোণে একটা খাবারের দোকানের সামনে গিয়ে বসল। ভিড়ের মাঝে লুকিয়ে পড়ার সুযোগ থাকলেও রবির মনে হচ্ছিল, চারপাশের মানুষ যেন তাদের দিকেই তাকিয়ে আছে। তার মনে হচ্ছিল, টুকটুকির হাত থেকে যে ঘ্রাণ বেরোচ্ছে, তা যেন পুরো মেলা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে। সে কোনোমতে এদিক-ওদিক তাকিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করল।

খাবার খাওয়ার সময় টুকটুকি বারবার রবির চোখের দিকে তাকাচ্ছিল। রবির অস্বস্তি ছিল চরমে। সে নিচু স্বরে বলল, “টুকটুকি, আজ যা হলো... সেটা কি ঠিক হয়েছে? লোকে দেখলে...”

টুকটুকি গ্লাসে জল খেতে খেতে শান্ত গলায় উত্তর দিল, “লোকে দেখবে কেন? তারা তো শুধু দেখছে একজন বাবা তার মেয়েকে মেলা ঘোরাচ্ছে। তাছাড়া, এই ভিড় আমাদের দেখছে না, আমাদের দেখছে আমাদের নিজেদের তৃষ্ণা। তুমি কি সত্যি আফসোস করছো, বাবা?”

রবির সারা শরীরে একটা কাঁপুনি খেলে গেল। ‘বাবা’ ডাকটা এখন তার কাছে এক তীব্র চাবুকের মতো মনে হচ্ছে। টুকটুকি যখন তাকে বাবা বলে ডাকছে, তখন তার প্রতিটি অক্ষরে যেন এক প্রচণ্ড উপহাস , অপমান আর উত্তেজনার খেলা লুকিয়ে আছে। রবি উত্তর দিতে পারল না। সে কেবল মাথা নামিয়ে খাবারের দিকে তাকিয়ে রইল।
খাবার শেষে তারা যখন মেলার গেটের দিকে হাঁটছিল, তখন রবি দেখল পরিচিত মুখ। গ্রামের এক প্রবীণ মোড়লকে ভিড়ের মাঝে দেখা যাচ্ছে। রবির বুকটা ধক করে উঠল। সে দ্রুত টুকটুকিকে আড়াল করে অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিল। এই ছোট ঘটনাটি রবিকে বুঝিয়ে দিল, তাদের এই নিষিদ্ধ খেলাটি যেকোনো মুহূর্তে এক ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তারপর তারা বাড়ির দিকে পা বাড়ালো।

গ্রামের ফেরার পথটি ছিল দীর্ঘ। ঘোড়ার গাড়িতে বসে তারা দুজনে কাছাকাছি ঘেঁষে বসল। টুকটুকি মাথা রাখল রবির কাঁধে। রবি জানত, ঘরের চার দেয়াল তাদের জন্য অপেক্ষা করছে, যেখানে এই মেলায় শুরু হওয়া নিষিদ্ধ বন্ধনটি হয়তো আরও গাঢ়, আরও অন্ধকার হয়ে উঠবে। কিন্তু সে এখন আর কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছে না। টুকটুকির হাতটা আবার রবির উরুর ওপর এসে থামল। রবির পৌরুষ আবার সাড়া দিতে শুরু করল। সে বুঝতে পারল, মেলার ওই নাগরদোলা কেবল শুরু ছিল মাত্র; আসল খেলা শুরু হতে এখনো অনেক বাকি।

গহীন গ্রামের ওই কুয়াশাচ্ছন্ন পথে ঘোড়ার গাড়ির চাকা যখন শব্দ করে চলছিল, রবি তখন অনুভব করল, সে নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে টুকটুকির ইচ্ছার এক দাসে পরিণত হয়েছে। আর টুকটুকি? সে তার বিজয়ীর হাসি নিয়ে জানালা দিয়ে বাইরের অন্ধকার জগতের দিকে তাকিয়ে ছিল, মনে মনে হয়তো বুনছিল আরও বড় কোনো নিষিদ্ধ ষড়যন্ত্রের জাল।

Reply



Forum Jump:


Users browsing this thread: 1 Guest(s)