Thread Rating:
  • 1 Vote(s) - 5 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5

গল্প: অযাচিত প্রণয়  (Writer: Sana Sheikh)( সমাপ্ত)
#5

Part:05

নিজের রুম অন্ধকার করে বেডে শুয়ে আছে তুলি। চোখের কোণা বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে উষ্ণ তরল। ঘুমোতে চাইলেও ঘুম আসছে না কিছুতেই। মনের মধ্যে জমানো দুঃখ কষ্ট গুলো উপচে বেরিয়ে আসছে। বুকের ভেতর অসহনীয় যন্ত্রণা হচ্ছে। দম বন্ধ হয়ে আসছে। এই কষ্ট কাকে দেখাবে ? কাকে বোঝাবে মনের কষ্ট গুলো ? বাবা মায়ের কাছে বলতে পারবে না, তাহলে তারাও কষ্ট পাবে। 
ওর সাথে এমন টা কেনো হলো ? 
বিয়ে নিয়ে সব মেয়ের সুন্দর একটা স্বপ্ন থাকে। বিয়ের পরের দিন গুলো নিয়ে থাকে নানান জল্পনা, কল্পনা। ওরো ছিল কিন্তু সব শেষ হয়ে গেছে। ওর সুন্দর স্বপ্ন, জল্পনা, কল্পনা সব ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। 
নিজের জীবনের সাথে সাথে আরেক জনের জীবন ও জটিল করে তুলেছে। কি করবে কিছুই মাথায় আসছে না। উপুড় হয়ে শুয়ে বালিশে মুখ গুজে গুমরে কাঁদে। 
,
,
নিজের রুমের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে ইমরান। ঘুম আসছে না আজ। কেমন হাসফাঁস লাগছে। বেলকনির এপাশ থেকে ওপাশে পায়চারি করে। আবার স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে  দূর আকাশ পানে তাকায়। আজ আকাশ ঘুটঘুটে অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে আছে। টিপ টিপ করে জ্ব/ল/ছে কয়েক টা তারা। মেঘ মেঘ হয়ে আছে আকাশে। রাতে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা আছে। 
বেলকনিতে রাখা টুলের উপর বসে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো বাইরের দিকে। 

_______________________

সকালে ঘুম থেকে ওঠে ইমরান। ঘুমিয়েছিল শেষ রাতে। মাথা ভার ভার হয়ে আছে, মাথা সোজা করতে ইচ্ছে করছে না। তবুও বেড থেকে উঠে দাঁড়ায়। টাওয়েল নিয়ে দুলতে দুলতে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে। 
পঁচিশ মিনিট পর ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে কোমরে টাওয়েল জড়িয়ে। 

অল্প সময়ের মধ্যে ড্রেস পরে তৈরি হয়ে নেয়। প্রয়োজনীয় সব নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে  আসে। এগিয়ে যায় বাবার রুমের দিকে। মুস্তাফিজুর রহমান ওয়াশরুমে রয়েছেন। ভেতর থেকে পানির শব্দ আসছে। 

_ আব্বু।

কয়েক বার ডাকার পর শুনতে পান ছেলের ডাক।

_ হ্যাঁ বলো।

_ কারের চাবি টা কোথায় ? 

_ ড্রেসিং টেবিলের উপর।

_ আমি কার নিয়ে বের হচ্ছি।

_ আচ্ছা। 

চাবি নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে নিচে নেমে আসে। ড্রইং রুম পুরো ফাঁকা। এগিয়ে যায় কিচেনের কাছে। ভেতরে উঁকি দিয়ে দেখে ওর মা মিসেস ইরানী আর কাজের বুয়া রান্না করতে ব্যস্ত। আজকে এখনো রান্না হয়নি ? অন্য দিন তো আরো সকালে রান্না শেষ হয়ে যায়। 

_ আম্মু আমি বের হচ্ছি।

হঠাৎ বড় ছেলের গলার স্বর শুনে চমকে ওঠেন মিসেস ইরানী। পেছন ফিরে ছেলের দিকে তাকিয়ে বলেন,

_ কোথায় যাবি ? রান্না প্রায় শেষ, খেয়ে যা। 

_ এসে খাবো, আসছি এখন।

বলেই বেরিয়ে যায়, মাকে আর কোনো কথা বলার সুযোগ দেয় না। 

গ্যারেজ থেকে কার বের করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। 
,
,
কলিং বেলের শব্দ শুনে সোফা থেকে উঠে ডোরের কাছে এগিয়ে যায় তুহিন। সকাল সকাল কে এলো ? 
ডোর খুলে ডোরের সামনে ইমরানকে দেখে ভূ/ত দেখার মত চমকে ওঠে।  

_ ভাইয়া তুমি , তুমি সত্যিই এসেছো ?

_ কি মনে হয় ?

হাত বাড়িয়ে ইমরানের হাত ছুঁয়ে দেয়। তারপর দুই হাতে জাপটে ধরে খুশি হয়ে বলে,

_ কেমন আছো ভাইয়া ?

_ আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি, তুই কেমন আছিস ?

_ আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভালো আছি। কালকে আপুর সাথে আসলে না কেনো ভাইয়া ? আপু বললো তুমি নাকি আমাদের বাড়িতে আর আসবে না ! 

তুহিনের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,

_ আসবো না কেনো ? আজকে এসেছি , ভবিষ্যতেও আসবো। 

_ তুহিন কে এসেছে ?

ভেতর থেকে তুলির মা মিসেস ইয়ানার গলার স্বর ভেসে আসে। 

_ ভাইয়া এসেছে।

_ কোন ভাইয়া ?

_ বড় ভাইয়া , ইমরান ভাইয়া।

ইমরানের নাম শুনে কিচেন থেকে বেরিয়ে আসেন মিসেস ইয়ানা। ডোরের দিকে তাকিয়ে দেখেন তুহিন তখনো ইমরানকে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছে। 

_ ওকে ওখানে দার করিয়ে রেখেছিস কেনো ? ওকে ভেতরে আসতে দে। 

_ হে হে ভুলে গেছিলাম। 

ছেলের বলার ধরণ দেখে মুচকি হাসেন মিসেস ইয়ানা। ইমরানের ঠোঁটের কোণেও হাসির রেখা দেখা যায়। 

ভেতরে প্রবেশ করে ইমরান। 

_ কেমন আছো ইমরান ?

_ আলহামদুলিল্লাহ ভালো, তুমি কেমন আছো ?

_ আলহামদুলিল্লাহ ভালো, কাল আসলে না কেনো তুলির সাথে ? 

_ ওই একটু বিজি ছিলাম।

_ কয়েক দিনের জন্য দেশে এসেও কি এত বিজি থাকো ?

আমতা আমতা করে বলে,

_ তুলি কোথায় ?

_ ওর রুমেই আছে , ঘুম থেকে ওঠেনি এখনো। 

ইমরান আর কিছু না বলে তুলির রুমের দিকে এগিয়ে যায়। মিসেস ইয়ানা দ্রুত কিচেনের দিকে এগিয়ে যান ডাইনিং টেবিল সাজানোর জন্য। ইমরান আসবে জানলে আরো কিছু আইটেম রান্না করতেন। তুলিও তো বলেনি আজ ইমরান আসবে। 

ইমরান তুলির রুমের সামনে এসে দাঁড়ায়। হাত বাড়িয়ে ডোর ঠ্যালা দিতেই খুলে যায়। 

_ এই মেয়ে ডোর লক করে ঘুমায় না ?

বির বির করতে করতে রুমের ভেতর প্রবেশ করে। পুরো রুম তখনও অন্ধকার হয়ে আছে। ডোর খোলায় একটু একটু আলো আসছে। ভোঁ ভোঁ করে ঘুরছে ফ্যান। বেডের দিকে তাকায়, আবছা আলোয় তুলিকে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। এগিয়ে গিয়ে জানালার পর্দা সরিয়ে থাই গ্লাস খুলে দেয়। সাথে সাথেই পুরো রুম আলোকিত হয়ে যায়। আবার তাকায় বেডের দিকে। 
কাথা দিয়ে গলা পর্যন্ত ঢেকে ঘুমিয়ে আছে তুলি। 
ঘুরে এসে তুলির কাছে দাঁড়ায়। 

_ তুলি , এই তুলি ওঠো তুলি। 

তুলির সাড়া শব্দ নেই। ঘুমে বিভোর হয়ে আছে। 
ইতস্তত করে তুলির গায়ের উপর থেকে কাথা টেনে সরিয়ে নেয় ইমরান। নড়ে চড়ে ওঠে তুলি। নাক মুখ কুঁচকে চোখ বন্ধ রেখেই কাথা খোঁজে। না পেয়ে স্থির হয়ে যায়। 

_ এই তুলি ওঠো।

ঘুমের ঘোরেই কপাল ভ্রু কুঁচকে যায় তুলির। ডাক কানে পৌঁছালেও মস্তিষ্ক সজাগ হচ্ছে না। এত বেশি ঘুম পাচ্ছে যা বলার বাইরে। 

তুলির অবস্থা দেখে ওর দিকে তাকিয়ে দুই আঙ্গুলের সাহায্যে কপালে স্লাইড করতে শুরু করে ইমরান। কিছু সময় তুলির দিকে তাকিয়ে থেকে ওর হাত ধরে টেনে ওঠানোর চেষ্টা করে বলে,

_ আর কত ঘুমাবে ? ওঠো এখন। 

_ যা তো ভাই ডিস্টার্ব করিস না কতক্ষণ আগেই ঘুমিয়েছি। তুই নিজের কাজে যা। 

হাত ছেড়ে দিয়ে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে রইলো ইমরান। একটু পরেই বুঝতে পারে তুলি ঘুমের ঘোরে তুহিন মনে করছে ওকে। 

_ তুলি তুহিন না আমি ইমরান। চোখ মেলে তাকিয়ে দেখো আগে। 

তুলির বাহু ঝাকিয়ে কথা গুলো বলে ইমরান।  ইমরানের নাম কর্ণকুহরে পৌঁছাতেই ফট করে চোখ খুলে তাকায় তুলি। চোখের সামনে ইমরানকে দেখে কতক্ষন ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে রইলো। তারপর তড়িৎ গতিতে শোয়া থেকে উঠে বসে। দুই হাতে চোখ কচলে আবার তাকায় ইমরানের দিকে। বিশ্বাস হচ্ছে না ইমরান এসেছে। হাত বাড়িয়ে ইমরানের গাল স্পর্শ করে। যখন বুঝতে পারে সত্যি সত্যিই ইমরান এসেছে তখন চোখ দুটো আপনাআপনি বড় হয়ে যায়। অবিশ্বাস্য কন্ঠে বলে,

_ তুমি এখানে!

ইমরান চুপ করে তুলির চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। চোখ দুটো লাল হয়ে গেছে, ফোলা ফোলা ও লাগছে অনেক। চোখ মুখ কেমন যেন ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। সারা রাত ঘুমায়নি ? পুরো রাত কেঁদেছে নাকি ? 

_ তুমি এখানে কেনো এসেছো ? 

_ তোমাকে নিতে।

_ কেনো ?

_ কেনো আবার ? তোমার শশুর বাড়িতে নিয়ে যেতে এসেছি। উঠে ফ্রেশ হয়ে তৈরি হয়ে নাও। 

_ যাবো না আমি তোমার সাথে। আর ওই বাড়িতেও ফিরে যাবো না। 

_ কেনো যাবে না ?

_ ভালো লাগে না তাই যাবো না। তোমার সাথে থাকবো না আমি। 

_ অত কথা শুনতে চাই না আমি, উঠে ফ্রেশ হয়ে তৈরি হও। 

_ বললাম তো যাবো না আর ওই বাড়িতে। 

_ তুলি মেজাজ গরম হচ্ছে কিন্তু এখন। 

_ আই ডোন্ট কেয়ার। 

_ তুলি।

_ কাকে রাগ দেখাচ্ছো তুমি ? তোমরা সবাই কি পেয়েছো আমাকে ? যখন যার যা ইচ্ছে তা চাপিয়ে দেবে আমার উপর ? তোমাদের সকলের সব সিদ্ধান্ত চুপ চাপ মেনে নেবো সব সময় ? আমার নিজের কোনো ইচ্ছে নেই ? আমার নিজের জীবন নিয়ে নিজের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই ? তোমরা যে যখন যা বলবে তাই পালন করতে হবে আমাকে ? 

_ তোমার উপর আর কেউ কোনো সিদ্ধান্ত চাপাবে না। তোমার যা ইচ্ছে তাই করবে তুমি। 

_ ডি/ভো/র্স দিয়ে দাও আমাকে।  

ধমক দিয়ে ওঠে ইমরান।

_ ভালো ভাবে বলছি ভালো লাগছে না ? দেবো নাকি কানের নিচে একটা লাগিয়ে ? পাঁচ মিনিটে ফ্রেশ হয়ে তৈরি হবি নয়তো কিভাবে তৈরি করিয়ে নিয়ে যেতে হবে আমার খুব ভালো করেই জানা আছে। 

_ যাবো না আমি।

_ ঘাড় ত্যাড়ামি করবি না তুলি। 

_ একশো বার করবো, হাজার বার করবো। তাতে তোমার কি ?

_ আমার কি ?

_ হ্যাঁ।

আর কথা না বাড়িয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ায় ইমরান। তুলিকে পাঁজা কোলে তুলে নিয়ে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে। ওয়াশরুমে দার করিয়ে বলে,

_ পাঁচ মিনিটের মধ্যে ফ্রেশ হয়ে বের হবি নয়তো যেমন আছিস সেভাবেই নিয়ে চলে যাবো। 

বলেই ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে। ওর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো তুলি। অবাকের চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে আজ ইমরানকে দেখে। 
এই ইমরান তো সেই ইমরান নয়। ইমরানের কি হলো হঠাৎ ? এত দিন রুম থেকে বের করে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে আর আজ ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। তুলির স্মরণ হয় ইমরান ওকে আজ তুমি তুমি বলে সম্বোধন করছিল। শেষে রেগে গিয়ে তুই তুই বলেছে। এক রাতে এত পরিবর্তন ? আশ্চর্য্য ।

ইমরান রুমে এসে তুলির সুটকেস খুজতে শুরু করে। আশে পাশে তাকিয়ে দেখে আলমারির পাশেই দার করিয়ে রেখেছে। উচু করতেই বুঝতে পারে ভর্তি রয়েছে এখনো। তবুও একবার খুলে দেখে নেয়। কাপড় চোপড় আর প্রয়োজনীয় সব কিছু না নিয়ে গেলে এসব নেওয়ার জন্য আবার আসতে হবে। 

তুলি ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে দেখে ইমরান বেডের উপর বসে আছে। তুলি অবাক হয় এটা দেখে যে ইমরান ওর বেড গুছিয়ে পরিপাটি করে রেখেছে। 

কিছু না বলে হাত মুখ মুছে মুখে ক্রিম লাগায়  সময় নিয়ে। চুল গুলো ব্রাশ করে আস্তে আস্তে বেশ সময় নিয়ে। 

ইমরান বেডে বসে তুলির কর্ম কান্ড দেখে রাগে ফুলছে। এই বাড়িতে যতটা ঠান্ডা মেজাজ নিয়ে এসেছিল এখন ঠিক ততটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে তুলির ব্যবহারে। এই মেয়ে ইচ্ছে করেই যে ওকে রাগাচ্ছে বুঝতে বাকি নেই ইমরানের। দোষ শুধু ওর একার ! তুলির কোনো দোষ নেই ! এক নাম্বারের হাড় ব/জ্জা/ত মেয়ে একটা। শিরায় শিরায় শ/য়/তা/নি বুদ্ধি দিয়ে ঠাসা। 
সারা রাত জেগে যা যা ভেবেছিল এখন ঠিক তার উল্টো করতে ইচ্ছে করছে। রাতে মায়ের বলা কথা গুলো ওর উপর ইফেক্ট ফেলেছিল। তুলির দিক টাও ভেবে দেখেছিল , এই সম্পর্ক হওয়ার জন্য তুলির তো দোষ নেই। দুজন কেই জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাই হোক পরিবার তো সন্তানের ভালোই চায় সব সময়। দুই পরিবার আর তুলির কথা ভেবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কষ্ট করে না হয় মানিয়ে চলার চেষ্টা করবে। আস্তে আস্তে এক সময় ঠিক হয়ে যাবে সব কিছু। 
কিন্তু এখন ইচ্ছে করছে তুলিকে এখানেই ফেলে চলে যেতে। এই মেয়ে ওর লাইফে থাকা মানে ঝামেলা আর ঝামেলা। ঘাড় ত্যাড়ামিতে তো সেরা সেটা এতো দিনে বুঝে গেছে। 
,
,
খাওয়া দাওয়া সেরে এগারোটার পর পর তুলিদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে ইমরান তুলিকে সাথে নিয়ে। 
তুলি কিছুতেই আসবে না, তুলির মা ও চাইছিলেন তুলি আর দুই এক দিন থেকে যাক। বিয়ের পর মাত্র তিন দিন থাকা হয়েছে বাবার বাড়িতে। কিন্তু ইমরান কয়েক দিন পর চলে যাবে তাই আর বেশি কিছু বলেননি। 

ইমরানের পাশে ফ্রন্ট সিটে মুখ গোমড়া করে বসে আছে তুলি। এক মনে ড্রাইভ করছে ইমরান। 
তুলির কত শখ ছিল বরের সাথে লং ড্রাইভে যাবে। হাতে হাত রেখে অনেক পথ হাটবে। বরের কাধে মাথা রেখে সূর্যাস্ত দেখবে। কিন্তু এই ইমরানকে দিয়ে ওর এই স্বপ্ন গুলো কোনো দিন পূরণ হবে না। ব্যাটা নিরামিষ একটা । তুলি এটাও বুঝে গেছে ইমরান একবার কানাডা ফিরে গেলে ভুলেও আর বাংলাদেশে ফিরে আসবে না। এখন হয়তো বাবা মায়ের জন্য ফিরিয়ে নিচ্ছে ওকে। 

____________________

আজ কানাডা ফিরে যাবে ইমরান। ওর সাথে তুলিও যাবে। তুলির ইমারজেন্সি পেপার্স রেডি করিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। তুলি ইমরানের সাথে কানাডা যাবে শুনে ইমরানের মুখ টা দেখার মতো হয়েছিল। বেচারা না পারছে কিছু বলতে আর না পারছে কিছু করতে। গত এই কয়েক দিন একদম ভালো ছেলে , ভালো হাসবেন্ড সেজে থেকেছে ইমরান। অতি প্রয়োজন ছাড়া ভুলেও বাড়ির বাইরে পা রাখেনি। 
ইমরানের এই কয়েক দিনের আচরণে ওর বাবা মা বেশ খুশি। তুলিকে আর আগের মতো লাগেনি। হাসি খুশিই লেগেছে এই কয়েক দিন। 

বিকেল পাঁচ টায় বাড়ি থেকে বের হয় তুলি ইমরান। ওদের দুজন কে বিদায় জানাতে দুই পরিবারের সবাই এয়ারপোর্টে যাবে। 

এয়ারপোর্টে পৌঁছে তুলি ওর মাকে জড়িয়ে ধরে অনেক কাঁদে। ওর একটুও কানাডা যাওয়ার ইচ্ছে নেই। শশুর শাশুরির জন্য যেতে হচ্ছে। ওখানে যাওয়ার পর ইমরান ওর সাথে কেমন ব্যবহার করবে কে জানে ! ওখানে তো ওর আপন বলতে আর কেউ থাকবে না। মনের মধ্যে অনেক কষ্ট জমা হলে মায়ের কাছে যাওয়া হবে না। বলতে না পারলো, মায়ের মুখ টা তো দেখতে পারতো এখানে থাকলে। 
আবার শাশুরি মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে। 

ইমিগ্রেশনের সময় হয়ে যাওয়ায় সকলের থেকে বিদায় নিয়ে ভেতরে এগিয়ে যায় দুজন। কয়েক বার পেছন ফিরে তাকায় তুলি। ইমরান একবারও তাকায় না। তবে ওর চোখেও পানি ছলছল করছে। সানগ্লাসের আড়ালে ঢাকা পড়েছে সেই পানি। মনে পাথর চাপা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দূর দেশে। 

Reply


Messages In This Thread
গল্প: অযাচিত প্রণয়  (Writer: Sana Sheikh)( সমাপ্ত) - by X Man - 09-01-2026, 08:46 AM
RE: গল্প: অযাচিত প্রণয়  (Writer: Sana Sheikh) - by X Man - 09-01-2026, 08:48 AM
RE: গল্প: অযাচিত প্রণয়  (Writer: Sana Sheikh) - by X Man - 09-01-2026, 08:48 AM
RE: গল্প: অযাচিত প্রণয়  (Writer: Sana Sheikh) - by X Man - 09-01-2026, 08:49 AM
RE: গল্প: অযাচিত প্রণয়  (Writer: Sana Sheikh) - by X Man - 09-01-2026, 08:50 AM
RE: গল্প: অযাচিত প্রণয়  (Writer: Sana Sheikh) - by X Man - 09-01-2026, 08:51 AM
RE: গল্প: অযাচিত প্রণয়  (Writer: Sana Sheikh) - by X Man - 09-01-2026, 08:52 AM
RE: গল্প: অযাচিত প্রণয়  (Writer: Sana Sheikh) - by X Man - 09-01-2026, 08:53 AM
RE: গল্প: অযাচিত প্রণয়  (Writer: Sana Sheikh) - by X Man - 09-01-2026, 08:54 AM
RE: গল্প: অযাচিত প্রণয়  (Writer: Sana Sheikh) - by X Man - 09-01-2026, 08:55 AM
RE: গল্প: অযাচিত প্রণয়  (Writer: Sana Sheikh) - by X Man - 09-01-2026, 08:56 AM
RE: গল্প: অযাচিত প্রণয়  (Writer: Sana Sheikh) - by X Man - 09-01-2026, 08:56 AM
RE: গল্প: অযাচিত প্রণয়  (Writer: Sana Sheikh) - by X Man - 09-01-2026, 08:57 AM
RE: গল্প: অযাচিত প্রণয়  (Writer: Sana Sheikh) - by X Man - 09-01-2026, 08:58 AM
RE: গল্প: অযাচিত প্রণয়  (Writer: Sana Sheikh) - by X Man - 09-01-2026, 08:59 AM

Forum Jump:


Users browsing this thread: 1 Guest(s)