Thread Rating:
  • 0 Vote(s) - 0 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5

শিকদার মেহেদি (By:DRM Shohag)
#2

 
পর্ব:০২ 

গল্পের নায়ক- মাহদি, নায়িকা-মেধা
সামান্য পরিবর্তন করা হয়েছে। 


১০ মিনিট আগে মাহদি ভাঙা জগ ছুড়ে ফেলে হনহন করে ওয়াশরুমে চলে গেছে। মেধা ঘরের এক কোণায় গুটিশুটি মেরে বসে আছে। বুক ধুকধুক করছে। এখনো ভয় কাটেনি তার। একটু আগে মনে হচ্ছিল, আজ তার শেষ দিন। কিন্তু আল্লাহ সহায় থাকায় লোকটার মাথায় একটু সুবুদ্ধি হয়েছে, আর তাই সে বাঘের থাবা থেকে বাঁচতে পেরেছে। মেয়েটা ধীরে ধীরে উঠে তার ছোটোখাটো একটি ব্যাগের ভেতর থেকে ফোন বের করে। ফোনটা বাটন। একদম নতুন ফোন। গতকাল আপা তাকে কিনে দিয়েছে। ফোনে আপা আর মায়ের নাম্বার সেভ আছে শুধু। মেধা ব্যস্ত হাতে তার আপা দৃপ্তার ফোনে কল দেয়। প্রথমবার কল রিসিভ হয়না। কিন্তু দ্বিতীয়বার কল রিসিভ হয়। মেধা ব্যস্ত কণ্ঠে ডাকে,

"আপা?"

দৃপ্তা ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বলে,
"কি হয়েছে সোনা? এত রাতে কল করলি কেন? কোনো সমস্যা হয়েছে?"

মেধা মন খারাপ করে বলে 
"আপা আমার স্বামী তো গু'ন্ডা। তোমরা আমাকে গু'ন্ডার সাথে বিয়ে দিয়েছ কেন?"

দৃপ্তা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে,
"চিন্তা করিস না সোনা। আপা কাল তোর কাছে আসছি, হু?"

মেধা কিছু বলার আগেই পিছন থেকে মাহদি মেধার কান থেকে ফোন কেড়ে নিশে ফোন বন্ধ করে দেয়। মেধা দ্রুত পিছু ফিরে তাকায়। মাহদিকে নিজের দিকে রেগে তাকিয়ে থাকতে দেখে ঢোক গিলল মেয়েটা। মাহদি রাগান্বিত স্বরে বলে,

"আমার ঘরে থেকে বারবার আমাকেই গু'ন্ডা বলছ কোন সাহসে?"

মেধা দু'বার চোখের পলক ফেললো আর মেললো। এরপর বলে,
"তুমিই তো একটু আগে বললে তুমি গু'ন্ডা। আমার কি দোষ?

মাহদি হাতের মুঠোয় শক্ত করে ধরে রেখেছে। মেয়েটার একেকটা কথা আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করে। মাহদিকে চুপ দেখে মেধা কিছু একটা ভেবে বলে,
জানো নাগিন সিরিয়াল আমার খুব প্রিয়। সবগুলো সিজন দেখেছি আমি। আর তোমার চোখদু'টো দেখতে একদম নাগদের মতো। তোমার ভাগ্য কত ভালো, তুমি মানুষ হয়েও নাগদের মতো হতে পেরেছ।"

মাহদি বিস্ময় দৃষ্টিতে তাকায়। কিহ্! তাকে ওইসব ফা'লতু সিরিয়ালের ন'ষ্ট ক্যারেক্টারদের সাথে মেলাচ্ছে এই মেয়ে! মাহদি বাম হাত উঠিয়ে আঙুল নাচিয়ে শাসায়,
"আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিও না মেধা। সাবধান করছি তোমাকে।"

মেধা হঠাৎ উৎফুল্ল কণ্ঠে বলে,
“তুমি আমাকে মেধা বললে? তুমি তো দেখছি খুব ভালো, একদম নামের বিকৃত কর না। কিন্তু আমার কলেজের কেউ আমাকে আমার নাম ধরে বলে না, জানো! আমি একটু চিকন বলে সবাই আমাকে মগা বলে ডাকে।”

মেধার বলা শেষ লাইনটায় ভীষণ দুঃখ প্রকাশ পেল। মেধার কথা শুনে না চাইতেও মাহদির নজর মেধার দিকে একবার গেল, সত্যিই মেয়েটা স্বাভাবিক এর চেয়েও অনেক বেশি চিকন। কিন্তু তাতে মাহদির কি? কিছুই না। বিরক্ত হলো মাহদি। ছেলেটার নিজের উপরই রাগ লাগলো। এই মেয়েকে কিছু বলতে আসাই ভুল। একটা শব্দ বললে, বিনিময়ে প্যারাগ্রাফ শুনতে হয়। 
চরম বিরক্ত হয়ে হনহন করে গিয়ে আবারো ঠাস করে শুয়ে পড়ে বিছানায়। 
মেধা উৎফুল্ল মনেই এসে মাহদির পাশে শুয়ে পড়ল৷ মেয়েটার মাঝে কোনো সংকোচ নেই। যেন মাহদির পাশে থাকার অভ্যাস তার বহুদিনের। 
মেধার একটা বিশেষ গুণ আছে। তার আপা তাকে কোনো কথা বুঝিয়ে করতে বললে, মেধা সেই কাজ খুব সাচ্ছন্দ্যে করে ফেলে। তার মনে হয়, তার আপা যেটা বলে, সেটা একদম ১০০% ঠিক আর সুন্দর। মেধার এই ভাবনার কারণে তাকে অস্বস্তি সহজে ঘিরে ধরতে পারে না। 

মেধা মাহদির দিকে মুখ ফিরিয়ে শুয়েছে। আর মাহদি উল্টো হয়ে মেধার বিপরীত দিকে মুখ করে রেখেছে। 
মেধার মন এখনো উৎফুল্ল। এর কারণ দু'টো। একটা হলো, তার স্বামীর চোখ তার পছন্দের নাগদের মতো, আর তার স্বামী তাকে মগা না ডেকে মেধা ডেকেছে। এই দু'টো কারণে মাহদিকে তার এখন একটু একটু ভালো লাগছে। কিন্তু সংসার করবে কি-না সেটা এখনো ভাবেনি। সহজ সরল মেয়েটা সবকিছু অতি সহজেই নেয়। সে ভাবছে, বিয়ে হলেও কি! সে চাইলেই এই সংসার করবে, আবার না চাইলেই সংসার করবে না। 

.
শিকদার বাড়িতে সকাল সকাল খাবার টেবিলে সবাই গোল হয়ে বসেছে। বড়সড় ডায়নিং এ খুব বড় একটি টেবিল। দেখতে অনেকটা আদিকালের মতো। 
মাহদি খুব মনোযোগ দিয়ে ডিম পোচ দিয়ে রুটি খাচ্ছে। পাশের চেয়ারে মেধা বসেছে। মেয়েটা নিজেও একটু একটু করে রুটি মুখে দিচ্ছে আর সবাইকে দেখছে। অনেক মানুষ এখানে। তবে দু'জন ছেলে আর একজন মেয়ে যারা তার চেয়ে একটু বড় হবে, ওরা মেধার সাথে একদমই কথা বলেনি। এরা সবাই মাহদির কাজিন। কিন্তু তাকে দেখে খুশি নয়। তার সাথে শুধু এই বাড়ির একজন মহিলা খুব সুন্দর করে কথা বলেছে, তিনিই তাকে মাহদির পাশে বসিয়ে দিয়েছে। সবাইকে চিনিয়ে দিয়েছে। এখানে একটা বুড়ি আছে, সে মাহদির দাদি। সেও তার সাথে কথা বলেনি। কেমন যেন বাঁকা চোখে তাকালো তার দিকে। মেধার একটু অস্বস্তি হলো। কারণ এত ধরনের মানুষের ব্যাপারে তার আপা তাকে কিছুই বলেনি। 

আফসানা বেগম হঠাৎ নিরবতা ভেঙে সাদের উদ্দেশ্যে বললেন,
“মাহদি দাদুভাই তোমার ছোট হয়ে বিয়ে করল। তুমি কবে বিয়ে করবা সাদ দাদুভাই?”

মাহদির অপর পাশে সাদ বসেছে। সে সাথে সাথেই উত্তর দিতে পারলো না। সময় নিয়ে কিছু বলতে চাইল, তার আগেই মাহদি গম্ভীর গলায় বলে,

“ভাই বিয়ে করবে না। মেয়েদের ভালো লাগে না ভাইয়ের। সে সন্যাসী হবে।”

সাদ বামদিকে ঘাড় ফিরিয়ে বিস্ময় চোখে তাকায় মাহদির দিকে। গলা নামিয়ে দাঁত কিড়মিড় করে বলে,
“নিজের স্বভাব আমার উপর চাপাচ্ছিস কেন বে’য়া’দব?”

মাহদি এঁটো প্লট সামনে থেকে সরিয়ে সাদের দিকে চেয়ে বলে,
“গতরাতে অনেক জ্ঞান দিয়েছ, তাই আজ পারিশ্রমিক দিচ্ছি। এবার চুপচাপ শিকদার মাহদির পারিশ্রমিক গেলো।”

সাদ চোখ পাকালো। মাহদি পাত্তা দিল না। সে উঠে দাঁড়াতে নিলে, সাদ মাহদির হাত ধরে আটকে দিয়ে নিচু স্বরে বলে,

“ভুল হয়েছে আমার। তোদের সংসার ভেসে গেলেও আর ফিরে তাকাবো না আমি। কিন্তু আমার বিয়ে নিয়ে তুই কোনো কথা বলবি না খবরদার। তুই হইলি এক ভেজাইল্যা মানুষ।”

কথাটা বলে সাদ মাহদির হাত ছেড়ে দেয়। মাহদি গায়ে মাখলো না সাদের কথা। সে উঠে দাঁড়িয়ে ডান পা দিয়ে চেয়ার পিছনদিকে ঠেলে সরালো। 
নিরবতার মাঝে হঠাৎ ঘষ ঘষ শব্দে মেধা ঝাঁকি দিয়ে ওঠে। হাতের রুটির টুকরো ছিল, যেটা হাত ফসকে পড়ে যায় মাহদির বাম পায়ের উপর। মাহদি বিরক্ত হয়। ধমকে বলে,

“চোখ নেই তোমার?”

মেধা শুকনো ঢেক গিলল৷ দানবের মতো মানুষটা না রাগলেও মনে হয় রেগে আছে। আর রাগলে তো কথাই নেই। গতকাল অল্প আলোয় মাহদিকে ততটা ভালোভাবে দেখা না গেলেও আজ একদম স্পষ্ট লাগছে। মাহদির গেটআপ দেখে মেধার মনে হচ্ছে, ‘তার সামনে একটা নামকরা বখাটে দাঁড়িয়ে আছে।’ 
এই মাহদিকে দেখে যেকেউ বলে দিবে, ‘এই ছেলে একটা গু'ন্ডা’। 

ভাবনার মাঝেই মাহদি তার বাম পা মেধার বসা চেয়ারের একপাশে তোলে। আদেশের সুরে বলে,
“আমাকে টাচ না করে এটা সরাও এখান থেকে।”

মেধা জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজালো। আড়চোখে আশেপাশে তাকালো। সবাই সবার মতো খাচ্ছে দু'একজন ছাড়া। মেধা চটপট উত্তর দিত। কিন্তু স্পষ্ট গু'ন্ডা মাহদি আর এতগুলো অপরিচিত মানুষের সামনে সে নিজেকে মেলে ধরতে পারছে না। 
মাহদির ছোট চাচি মাহদিকে কিছু বলতে নিলে আফসানা বেগম হাত উঠিয়ে তাকে থামিয়ে দেন। শ্বাশুড়ির উপর কথা বলার জোর হয়না তার। 
এদিকে মেধাকে কাজটি করতে না দেখে মাহদি শক্ত গলায় বলে,

“আমার কথা কানে যায়নি তোমার?”

মাহদির কান্ডে সাদ বিরক্ত হয়ে বলতে নেয়,
“আহ্ মাহদি….”

মাঝখান থেকে আফসানা বেগম শক্ত কণ্ঠে বলেন,
“সাদ দাদুভাই নিজের খাবারে মন দাও।”

সাদ ফোঁস করে শ্বাস ফেলল। বুঝল না, দাদিজান নিজেই এই মেয়েকে মাহদির বউ করে এনে মাহদিকে কেন প্রশ্রয় দিচ্ছে! তবে সে আর কিছু বলল না। 

এদিকে মেধা অসহায় মুখ করে তাকায় মাহদির দিকে। কেমন নি’ষ্ঠুরদের মতো করে চেয়ে আছে! একদম সিংহের মতো নি’ষ্ঠুর মুখ। মনে হচ্ছে মেধা নামের মেয়ের মাহদি নামের সিংহের থাবায় আজ মৃ’ত্যু নিশ্চিত। 
মেধা শুকনো ঢোক গিলে ধীরে ধীরে হাত এগিয়ে নেয় মাহদির পায়ের দিকে। খুব সাবধানে মাহদির পায়ের উপর থেকে রুটির অংশটি সরিয়ে আনে। 

মেধার কাজ শেষ হতেই মাহদি হাত ধুয়ে বাড়ি থেকে হনহন করে বেরিয়ে যায়। মেধা আটকে রাখা শ্বাস ছাড়ে। টেবিলে বসা সকলের দিকে একবার তাকায়। কেউ তার দিকে তাকিয়ে নেই। আফসানা বেগমের তীক্ষ্ণ দৃষ্টির সাথে চোখাচোখি হয় মেয়েটার। সাথে সাথে মেধা মাথা নিচু করে নেয়। তার পক্ষে দু'জন মানুষ কথা বলতে চেয়েছিল কিন্তু উনি থামিয়ে দিয়েছে। নিশ্চয়ই গু'ন্ডা নাতির পক্ষে থাকে সবসময়। মনে মনে মুখে ভেঙিয়ে বিড়বিড় করে, 
‘বুড়ি একটা।’

খাবার শেষে সকলেই একে একে খাবার টেবিল থেকে উঠে গেল। তাদের বাড়ির আশেপাশে কত বিয়ে দেখেছে সে। সেঝানে নতুন বউদের কত যত্ন করে! সবাই খুব হেসে হেসে কথা বলে। আর এই বাড়ি তো পুরো উল্টো। এরা যেন কেউ তাকে চেনেই না। গু'ন্ডাদের পরিবার কি এমনই হয় না-কি! মেধার মন খারাপ হয়। ধ্যাত! বড় বাড়ির বউ হতে চাওয়াই তার ভুল হয়েছে।

.
বেলা তখন সকাল ১০ টা। সাদ বাড়ির দরজায় দাঁড়াতেই চোখে পড়ে তাদের বাড়ির একদম মেইন গেইট থেকে এক অসম্ভব সৌন্দর্যের এক নারী তাদের বাড়ির দিকে এগিয়ে আসছে। পরনে গাঢ় নীল রঙের একটি শাড়ি। শাড়িটি ভীষণ গোছালোভাবে পরা। মাথায় একটি জর্জেট নীল রঙের ওড়না দেওয়া। ডান কাঁধে সাইড ব্যাগ। বাম হাতে একটি চিকন চেইনের ঘড়ি। 
সাদের চোখেমুখে সামান্য বিস্ময়। ছেলেটি ব্যস্ত পায়ে পিছিয়ে এসে দ্রুত দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপর বড় বড় পায়ে দোতলা পেরিয়ে তিনতলায় উঠে আসে। ডুপ্লেক্স বাড়ির তিনতলাতেই মাহদি আর সাদের ঘর। কিন্তু সে নিজের ঘরে না গিয়ে সরাসরি মাহদির ঘরের সামনে এসে দাঁড়ায়। দরজায় দু’হবার টোকা দিতেই মেধা সামনে এসে দাঁড়ায়। সাদকে দেখে বলে,

“এখানে কি চাই?”

সাদ গলা ঝেড়ে বলে,
“তুমি কি তোমার বোনকে কিছু বলেছ?”

মেধা ভ্রু কুঁচকে বলে,
“সেটা আমি তোমাকে কেন বলব?”

সাদ সময় নিয়ে ভেবে বলল,
“আমি তোমার বন্ধু হতে চাই। এবার বলা যাবে আমাকে?”

মেধার মনে পড়ল, খাবার টেবিলে সাদ তার হয়ে কথা বলতে চেয়েছিল। এজন্য সাদের বন্ধু হতে চাওয়ার কথাটা খুব পছন্দ হলো। উৎফুল্ল কণ্ঠে বলল,

“তুমি খুব ভালো সাদ। আর তাই আমিও তোমার বন্ধু হতে চাই। আমার কোনো সমস্যা নেই।”

মেধার মুখে সরাসরি নিজের নাম শুনে সাদ একবার কেশে উঠল। মেধা ভ্রু কুঁচকে বলে,
“কি হয়েছে? পানি খাবে?”

সাদ নিজেকে সামলে বলে,
“না, হঠাৎ নাম ধরে ডাকলে তাই আর কি!”

মেধা মৃদু হেসে বলে,
“আমি জানি তুমি আমার চেয়ে অনেক বড়। কিন্তু তুমি বড় হলেও যেহেতু আমার বন্ধু তাই আমি তোমাকে নাম ধরেই ডাকব। তুমি বললে, আমরা একে-অপরকে তুই করেও বলতে পারি।”

সাদ বিচলিত কণ্ঠে বলে,
“না না, তুমিই ঠিক আছে। আমি এটাতেই কমফোর্ট।

মেধা মাথা নেড়ে আচ্ছা বলে। সাদ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। পুনরায় বলে,
তুমি তোমার বোনকে কি বলেছ বললে না তো!”

মেধা সরল মনে বলে,
“আসলে তোমার ভাই যে গু'ন্ডা, সেটাই আমি আমার আপাকে বলেছি। আপা আজ আসবে বলেছে।”

“তোমার আপা আসলে কি করবে তুমি?”

“আমি আমাদের বাড়ি চলে যাবো আপার সাথে। তোমার ভাইকে আমার পছন্দ হয়নি, তাই সংসার করব না, বুঝলে?”

সাদ বিস্ময় চোখে তাকায়। সবজায়গায় শুনেছে স্বামী বউয়ের সাথে সংসার করতে চায় না, এখন দেখছে মেধা তার ভাইয়ের সংসার করতে চাইছে না। স্বামীকে রেখে চলে যাবার সিদ্ধান্তও নিয়ে নিয়েছে! সাংঘাতিক! ছেলেটা নিজেকে সামলে বলে,

“কিন্তু চাইলেই তো সংসার ভাঙা যায় না। আমাদের বিয়ে একবারই হয়।”

কথাটা শুনে মেধার মুখে চিন্তার ছাপ ফুটে ওঠে। কিছু একটা মনে পড়েছে। অতঃপর বলে,
“তুমি ঠিক বলেছ। আমার মা-ও এই কথা বলে জানো!”

সাদ প্রশ্ন করে,
“তাহলে সংসার করবে না বলছ কেন?”

মেধা সরল মনে বলে,
“তোমার ভাই যে গু'ন্ডা!”

সাদ ছোট ভাইয়ের হয়ে সাফাই গায়,
“তুমি ভুল ভাবছ। ও আসলে খুবই ভালো একটা ছেলে।” 

কথাটা বলে সাদ একা একা বিড়বিড় করে,
‘ভালো, না ছাই!’

মেধা বেশ কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে,
“তুমি ঠিকই বলেছ। তোমার ভাই একটু একটু ভালো আছে। জানো, ও আমাকে সঠিক নামে ডেকেছে। ওর চোখগুলোও আমার খুব পছন্দ হয়েছে। আর আমি সিনেমায় দেখেছি, গু’ন্ডাদের মনে অনেক দুঃখ থাকে। ওদেরও সংসার করতে ইচ্ছে করে, কিন্তু মুখে বলে না। 

এবার সাদ দু'বার কেশে উঠল। বিড়বিড় করে,
‘যাক, এ যাত্রায় সিনেমা বাঁচিয়ে দিল।’

অতঃপর বলে,
“তাহলে মাহদির সাথে সংসার কর।”

মেধা চটপট উত্তর করে,
“আচ্ছা ঠিকাছে।”

সাদ অদ্ভুতভাবে তাকালো মেধার দিকে। এত সহজে রাজি হয়ে গেল? তার মনে হচ্ছে, সে কোনো পাঁচ বছরের বাচ্চাকে বোঝাতে এসেছে। সে যেভাবে যা বোঝালো, তাই বুঝে গেল। অদ্ভূত! কিছু একটা ভেবে বলে,

“স্বামী-স্ত্রীর মাঝের কথা কাউকে বলতে নেই বুঝেছ? তোমার বোন, মা কাউকেই না। বললে সেই সংসার ভেঙে যায়। তুমি কি সেটা চাও?”

মেধা একদম স্বচ্ছ মনে উত্তর করে,
“না চাই না তো। মা যে বলে, মেয়েদের বিয়ে একবারই হয়। আমার তো বিয়ে হয়েই গেছে। এখন শুধু আমাদের কোনো কথা আর কাউকে বলা যাবে না, তাইনা সাদ?

সাদ মাথা নাড়লো। মেধা হেসে বলে,
“বুঝেছি বুঝেছি। তুমি আসলেই খুব ভালো তো সাদ। একদম আমার আপার মতো৷ আপাও আমাকে এভাবে বোঝায়।”

সাদ জোরপূর্বক একটু হেসে বলে,
“এখন তোমার আপা আসলেও তার সাথে চলে যাবে না তো, তাইনা?”

মেধা মাথা নেড়ে বলে,
“যাবো না৷ আমি তো সংসার করব।”

.
দৃপ্তা নিচে মাহদির ছোট চাচির সাথে কথা বলেছে। বাড়ির আর কাউকে দেখেনি। সাথে মাহদির দাদিজান ছিল। তিনি তাকে শুধু একবার জিজ্ঞেস করেছিলেন,
‘কেমন আছো?’
এরপর মাহদির ছোট চাচি অর্থাৎ সাদের মা-ই তাকে নাস্তা দেয়, হেসে হেসে কথা বলে। যদিও ভারি খাবার দিতে চেয়েছিল। কিন্তু দৃপ্তা জানায়, সে খেয়েই এসেছে। 
তবে আফসানা বেগমের এহেন আচরণ বিচক্ষণ দৃপ্তার মস্তিষ্ক ধরতে পেরেছে। ২৩ বছর চলছে তার। কিন্তু সে এখনো বিয়ে করেনি। বাবা মারা গেছে বছর ছয় আগে। এরপর থেকে দৃপ্তাই তাদের সংসারের হাল ধরে। একটি কিন্ডার-গার্ডেন স্কুলে চাকরি নেয়, টুকটাক টিউশনি করায়। এভাবেই সে, তার মা আর বোনের সংসার চলত। মেধার চেয়ে তার জন্য বিয়ের ঘর সবচেয়ে বেশি এসেছে। কিন্তু সে যখন বলত, বিয়ের পরও সে চাকরি করে তার পরিবারকে দেখবে, তখনই ছেলের পরিবার নাকচ করে দিত। ২১ এর কোঠায় আসার পর তার জন্য আর বিয়ের ঘর আসেনি। মাহদিদের পরিবারই তো তাকে দেখে ভেবে নিয়েছে, তার মধ্যে কোনো সমস্যা আছে। এইজন্য ২৩ বছর বয়সেও সে অবিবাহিত। একদিকে আশেপাশের মানুষ বলতে থাকে, 
‘বুড়ি হয়ে যাচ্ছে, বিয়ে করছে না।’
আবার তারাই ছেলে পক্ষদের বলে, 
‘মেয়ের মাঝে সমস্যা আছে, নয়তো এতদিন অবিবাহিত থাকতো না।’

দৃপ্তার অবশ্য এসবে কোনো যায় আসে না। সে তার মতো অটল। কারো কথা শোনার সময় তার নেই। সমাজের কথা শুনলে তার মা আর বোন না খেয়ে মরত। তখন কেউ দেখতে আসত না৷ কিন্তু আড়ালে কটু কথা বলার সময় সবাইকে পাওয়া যায়। এটাই নিয়ম। তবে এসব কটু কথা দৃঢ় দৃপ্তাকে কখনো ভাঙতে পারবে না। 

নাস্তা শেষে দৃপ্তাকে সাদের মা রেহানা তিনতলায় রেখে যায় মেধার ঘরে।
মেধা তার আপাকে দেখে একদৌড়ে এসে দৃপ্তাকে জড়িয়ে ধরে। ছোট বোনের কান্ডে দৃপ্তা মৃদু হাসলো। পিঠে হাত রেখে বলে,

“কেমন আছিস সোনা?”

মেধা হেসে বলে,
“ভালোই ছিলাম। তোমাকে দেখে আরও অনেক বেশি ভালো আছি আপা। তুমি কেমন আছো? মা কেমন আছে?” 

“আমরা দু'জনেই ভালো আছি।”

মেধা স্বস্তি পেল। মা আর আপার জন্য মন পুড়ছিল। এখন আগের চেয়ে ভালো লাগছে। 
দৃপ্তা ছোট বোনের সাথে আরও টুকটাক কথা বলে হঠাৎ জিজ্ঞেস করে,
“গতরাতে তোর স্বামীর ব্যাপারে কি বলছিলি মেধা? সব শুনব বলে এসেছি। নিশ্চিন্তে বল আমাকে। আপা সব ঠিক করে দিব।”

মেধা তার অভিযোগ রাখতে চাইল আপার কাছে। কিন্তু সাদের কথা মনে পড়তেই থেমে গেল মেধা। স্বামীর কথা অন্যকে বললে সেই সংসার ভেঙে যায়। আর তার মা বলে, ‘মেয়েদের বিয়ে একবারই হয়।’
তার সংসার ভেঙে গেলে তার তো আর বিয়ে হবে না। তাছাড়া মাহদি তো একটু-আধটু ভালোও আছে। অতঃপর সে হেসে বলে,

“কিছু না আপা। আমার স্বামী ভালোই বুঝলে? জানো আপা, ও আমাকে মেধা নামেই ডেকেছে। আমি চিকন হওয়ার পরও সবার মতো আমাকে মগা বলেনি।

দৃপ্তা চুপচাপ বোনের কথা শুনল। মা আর সে ছাড়া মেধাকে এই নামে ডাকে না। অর্থাৎ মেধার ফ্রেন্ডরা সবাই মেধাকে মগা বলে ডাকে। এটাই মেধার দুঃখ! মেয়েটি নিয়ম করে একবার হলেও এই দুঃখ প্রকাশ করে। 
এখন মা আর আপা ছাড়াও আরেকজন মেধা নামে ডেকেছে মানেই মেধার কাছে অনেককিছু।  
মেধা আবারও বলে,

আর চোখদু'টো একদম নাগদের মতো। এজন্য ওকে আমার খুব পছন্দ হয়েছে। ইশ! আমার চোখদু'টো যদি ওর মতো হত!”

দৃপ্তা চুপচাপ ছোট বোনের আদুরে ইচ্ছেগুলো শুনল। মেয়েটা এত সহজ-সরল! ভ'য় হয় তার। আল্লাহ্ তার বোনকে এই সমাজের কালো ছায়া থেকে সবসময় দূরে রাখুক, এটাই তার চাওয়া৷ বলে,

“লোকটা যদি তোকে কখনো কিছু বলে সাথে সাথে আমাকে কল করবি, মনে থাকবে? আপা সবসময় তোর সাথে আছি।”

মেধা হেসে মাথা নাড়ায়। দৃপ্তার গালে হাত দিয়ে বলে, “তুমি খুব সুন্দর আপা।”

দৃপ্তা মেধার গাল টেনে বলে,
“তোর আপার বোন তার থেকেও বেশি সুন্দর সোনা।”

মেধা সেই কথা নাকচ করে দিয়ে তার কথাই সঠিক বলে দাবি করে। নিয়ম করে সে তার আপার প্রশংসা করে। তার কাছে তার আপা এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর নারী। সবদিক থেকে একদম পার্ফেক্ট। 

.
দৃপ্তা দুপুরের আগে আগে মাহদিদের বাড়ি প্রস্থান করতে তিনতলা থেকে দোতলায় নামে। তখনই সামনে এসে দাঁড়ায় সাদ। দু'জনের চোখাচোখি হয়। দৃপ্তা সাদকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে সামনে এগোয়। সাদ আবারো দৃপ্তার সামনে এসে দাঁড়ায়। অনুনয় করে,

“তৃপ্তি প্লিজ, আমার দিকটা বোঝার চেষ্টা কর।”

দৃপ্তা শক্ত গলায় বলে,
“বুঝব না তোমাকে, আর কিছু বলবে সাদ?”

সাদ দৃপ্তার আগুনচোখা দৃষ্টিতে দৃষ্টি মেলালো। দৃপ্তার সাথে তার পরিচয় দুই বছর হলো। পরিচয়ের কাহিনীটা আবার আরেক ঘটনা। 
দৃপ্তার মুখে নিজের নাম শুনে সাদের মেধার কথা মনে পড়ল। দৃপ্তাও মেধার মতো তাকে বন্ধু মেনেই নাম ধরে ডাকে। দু'বোনের অনেক স্বভাবই মিলে যায়। ঝামেলা হয়েছে মূলত বিয়ে নিয়ে। তাদের বাড়ি থেকে মাহদির জন্য সম্মোন্ধ গেলে দৃপ্তা সাথে সাথে তাকে কল করে। বলে,
‘মাহদির মতো বখাটে, গু'ন্ডা ছেলের সাথে সে তার বোনকে বিয়ে দিতে চায় না। মাহদির বদলে বিয়েটা যেন সে করে।’

কিন্তু সাদ না করে দেয়। দৃপ্তা জানে সাদের পছন্দের কেউ নেই। কথায় কথায় অনেককবার জিজ্ঞেসও করা হয়েছে। প্রতিবার না উত্তর পেয়েই দৃপ্তা সাদকে জোর করেছিল তার বোনকে বিয়ে করার জন্য। কারণ মাহদি আর সাদ একই বাড়ির ছেলে। তার মা বড় বাড়ির সম্মোন্ধ নাকচ করতনা জানে, এজন্যই সাদকে পাত্র হতে বলেছিল। কিন্তু সাদ কারণ ছাড়াই বন্ধুত্বের মর্যাদা রাখেনি। মায়ের সাথে পেরেও ওঠেনি দৃপ্তা। শেষমেশ তার বোনটার একটা গু'ন্ডার সাথে বিয়ে হয়ে গেছে। 

সাদ গলা ঝেড়ে বলে,
“তোমার বোনকে মাহদির জন্য আমার দাদিজান পছন্দ করেছে। এখানে আমার কিছু করার ছিল না।”

দৃপ্তা কঠোর স্বরে বলে,
“মিথ্যে বলছ তুমি। আমার বোনটা কিচ্ছু বোঝে না। সেই অবুঝ মেয়েটাকে তোমার গু'ন্ডা ভাইয়ের সাথে তুমি জুড়ে দিয়েছ। আমি তোমাকে এতবার রিকুয়েস্ট করলাম, অথচ তুমি আমার বন্ধুত্বের কোনো মর্যাদাই রাখলে না।”

সাদ ফোঁস করে শ্বাস ফেলে। দৃপ্তাকে বোঝানোর স্বরে বলে,
“তুমি যেমনটা ভাবছ তেমনটা নয় তৃপ্তি।”

দৃপ্তা চোখ পাকিয়ে বলে,
“আমার নাম দৃপ্তা।”

সাদ আশেপাশে একবার দৃষ্টি ঘুরিয়ে দৃপ্তার দিকে চেয়ে বলে,
“স্যরি তৃপ্তি!”

“মজা করছ আমার সাথে?”

“আমি কি এসব পারি?”

সাদের কণ্ঠ সিরিয়াস। দৃপ্তা কিছু বলে না। সাদ আবারও বলে,

“মাহদি ভালো ছেলে। আই মিন, ও খুবই হাসবেন্ড মেটেরিয়াল একটা ছেলে।”

দৃপ্তার কণ্ঠে কৌতুক,
“ওহ রিয়েলি?”

সাদ থতমত খেয়ে তাকায়। সত্যিই সে একটা কৌতুক বলে ফেলেছে। কিন্তু ধরা দিল না। বরং খুব সূক্ষ্মভাবে নিজেকে সামলে বলে,
“আমি মিথ্যা বলি না তৃপ্তি।”

দৃপ্তা একই স্বরে বলে,
“বুঝেছি। সারাদিন, যেখানে সেখানে মা'র'পি'ট করা ছেলে, বে'য়া'দ'বি দিয়ে ভর্তি তোমার ভাই পার্ফেক্ট হাসবেন্ড মেটেরিয়াল ছেলে। এর চেয়ে বড় সত্যি আর কিছু হতেই পারে না সাদ। আমি তোমার সত্য কথা বিশ্বাস করেছি।”

দৃপ্তার কথাটা সাদের খুব গায়ে লাগলো। কিছুটা রেগেই বলল,
“মাহদি অবশ্যই ভালো হাসবেন্ড তৃপ্তি। সময়ের সাথে সাথে তুমি এটার প্রমাণও পাবে।”

দৃপ্তা দৃঢ় কণ্ঠে বলে,
“অবশ্যই। প্রমাণ তো আমি নিবই। বোন আমার। তাই খোঁজও আমাকেই রাখতে হবে। তাছাড়া তুমি তো আছোই আমাকে প্রমাণ যোগার করে দেওয়ার জন্য।”

সাদের গলা দিয়ে অটোমেটিক একটি শুকনো ঢোক চলে গেল। সে কি করে প্রমাণ করবে মাহদি ‘হাসবেন্ড মেটেরিয়াল’ ছেলে? সাদ নিশ্চিত, মাহদি যে গতকাল বিয়ে করেছে, এখন ওই বে'য়া'দ'বটা এটাই ভুলে গেছে। সেই ছেলে আবার হাসবেন্ড মেটেরিয়াল হবে কি করে? 

.
দুপুর দু'টোয় মাহদি বাড়ি ফিরেছে। গোসল করে হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকিয়ে পুনরায় চুলের কিছু অংশ ঝুটি করে নেয়। সে যখন ঘরে এসেছিল, তখন মেধা ঘরে ছিল না। এরপর সে বেলকনিতে গেলে মেধা এর ফাঁকে এসে ওয়াশরুমে যায় গোসল করতে। 

ওদিকে সাদ মাহদির ভালো হাসবেন্ড হওয়ার ব্যাপারটা কিভাবে দৃপ্তার সামনে প্রমাণ করবে সেই চক্করে কোনো কাজই করেনি। অফিস পর্যন্ত যায়নি। এরই মাঝে মাহদিকে বাড়ি ফিরতে দেখে তার ভাবনা আরও বেড়ে যায়। অনেকক্ষণ ভাবাভাবির পর মাহদির ঘরের দরজা বাইরে আটকে দেয়। মাহদিকে দিনের বেলা বাড়ি আটকে রাখার ক্ষমতা কারো নেই। কারো ও দিনে কখনো ঘুমায় না। আর জেগে থাকা অবস্থায় মেধার কাছে থাকলে ওর যদি একটু উন্নতি হয়, তবে সে বেঁচে যাবে। সেই ভাবনা থেকেই এই কাজ করল। বিরক্ত লাগছে তার। দাদিজানের কেন যে ওই মেধাকেই পছন্দ করতে হলো মাহদির জন্য কে জানে! 

মাহদি সবসময়ের মতো নিজের গেটআপ নিয়ে ব্যস্ত পায়ে দরজার কাছে এসে দাঁড়ায়। দরজার হাতল ধরে টানলে দেখল খুলছে না। কপালে ভাঁজ পড়ল তার। তখনই পিছন থেকে মেধার কণ্ঠ ভেসে আসে,

“এ কি তুমি ভরদুপুরে দরজা আটকালে কেন? দেখ তুমি যা চাইছ সেটা শুধু রাতেই সম্ভব। কারণ দিনের বেলা আমি ল’জ্জা পাই।”

মেধার কণ্ঠে মাহদির কপালের ভাঁজ গাঢ় হয়। এক মুহূর্তের জন্য সে ভুলেই গিয়েছিল, গতকাল বিয়ে করে সে একটা বউ এই বাড়িতে এনেছে। কিন্তু মেয়েটা কি বলল? অতঃপর সে পিছু ফিরে জিজ্ঞেস করে,

“কি চাইছি আমি?”

গোসল করে বেরিয়েছে মেধা। এলোমেলোভাবে শাড়ি পরিহিতা মেয়েটা সরল মনে বলে,
“সব স্বামীরা যা চায়, তুমিও তো সেটাই চাইছ। যদিও তোমার আমাকে এখনো পুরোপুরি পছন্দ নয়। কিন্তু আমি ঠিক করেছি, তোমার সাথেই সংসার করব।”

মাহদি দাঁতে দাঁত চাপলো। এই হাদারামটা এসব কি বলছে? মেজাজ দেখিয়ে বলে,

“আমার তোমাকে টোটালি পছন্দ নয়। তাই উল্টাপাল্টা চিন্তা করার কোনো প্রয়োজন নেই।”

মেধা ভ্রু কুঁচকে বলে,
“পছন্দ না হলেও স্বামীরা তার বউয়ের কাছে রাতে আসে, আমি সব জানি বুঝলে? কিন্তু তুমি ভরদুপুরে আসতে চাইছ বলেই নিষেধ করছি।

রাগে মাহদির কপালের রগ ফুলে উঠল। যার ভূমিকাই সে কল্পনা করেনি, তার উপসংহারে পৌঁছে গেছে এই মেয়েটা। 
ওদিকে মেধা গোসল করতে যেতে দেখল তার পা জ্বলছে। গতকাল কাঁচ লেগে কে'টে গিয়েছিল হয়ত! তাই সে মাহদির উদ্দেশ্যে বলে,

“মাহদি শোনো, গতকাল রাতে আমার পা কেটে গিয়েছিল বুঝলে? আজ একটা মলম কিনে আনবে আমার জন্য, কেমন?”

মাহদির চোখেমুখে অসম্ভব বিস্ময়। মেয়েটা তাকে তুমি করে তো বলছেই, সাথে নাম ধরেও ডাকছে। হজম হচ্ছে না মাহদির। রাগে মাথা ফাটার উপক্রম হয়েছে। দাঁতে দাঁত চেপে বলে,

“তুমি আমাকে নাম ধরে ডাকছ কোন সাহসে?”

মেধা ভয় পেলেও সহজ থাকলো। সাদ বুঝিয়েছিল, মাহদি ভালো। সেই বুঝ থেকেই মেধার ভয় কমেছে। মেয়েটা শুকনো ঢোক গিলে বলে,
“কেন কি হয়েছে? স্বামীকে তো সবাই নাম ধরেই ডাকে।”

স্বামী স্বামী করে মাথাটা খেয়ে ফেললো এই মেয়ে। মাহদি অসহ্য কণ্ঠে বলে,
“একদম আমাকে স্বামী স্বামী করবে না তুমি।”

মেধা মুখ ফুলিয়ে বলে,
“আমি জানি, তোমাদের মতো গু’ন্ডারা একটু খিটখিটে স্বভাবেরই হয়। তাই তুমি নিশ্চিন্ত থাকতে পারো, আমি তোমার কোনো কথায় একদমই মাইন্ড করব না।”

আবার তাকে গু'ন্ডা বলছে! চো'রকে চো'র বললে যেমন ক্ষিপ্ত হয় চো’র। মাহদির ক্ষেত্রেও তেমনি হয়েছে। সে যা খুশি করুক, কিন্তু কেউ সেই নামে কেন তাকে সম্মোধন করবে? রাগে বাম হাত মুষ্টিবদ্ধ করে, আর ডান হাতে পাশের টেবিল থেকে একটি কাঁচের গ্লাস হাতে নিয়ে সর্বশক্তি দিয়ে চাপ দেয়। কয়েক সেকেন্ডের মাথায় গ্লাস ভেঙে যায়। র'ক্তকণা ছুটে বেরিয়ে আসে। মাহদির ডান হাতে র'ক্তে মেখে যায়। কিন্তু তার মুখে ব্য’থার ছাপ নেই, উল্টে রা'গের ছায়া। 
রাগ ঝাড়ার জন্য এর চেয়ে ভালো উপায় মাহদির কাছে আপাতত নেই। 

দৃশ্যটি দেখে মেধা আঁতকে উঠে বলে,
“এ কি, গ্লাস ভেঙে নিজের হাতের এটা কি অবস্থা করছ?”

কথাটা বলতে বলতে মেধা এগিয়ে এসে মাহদির হাত ধরলে মাহদি বাম হাতে মেধার হাত ঝাড়া মেরে সরিয়ে দেয়। বিরক্ত হয়ে বলে,

“কি প্রবলেম তোমার? আমাকে টাচ করছ কেন?”

মেধা ভ্রু কুঁচকে বলে,
“কেন কি হবে তোমাকে টাচ করলে? তুমি আমার স্বামী না? তাই আমি তোমাকে টাচ করতেই পারি। তুমি আমার সাথে একটু সহজ হও বুঝলে?

কথাটা বলে আবার মাহদির হাত ধরতে নিলে মাহদি দাঁত কিড়মিড় করে বলে,
“আরেকবার আমাকে টাচ করলে একটা আছাড় খাবে তুমি।”

মেধা আছাড়কে আচার শুনলে পেল। বুঝল না, এত রেগে মাহদি তাকে আচাড় খাওয়াতে চাইছে কেন। তবে সে উৎফুল্ল কণ্ঠে বলে,

“তুমি আমাকে আচার খাওয়াবে মাহদি? আচার আমার খুব প্রিয়, জানো? ১০ টা আচারের কম একদম দিবে না আমাকে।

মাহদি রাগের আভায় ভর্তি চোখ দু'টো বন্ধ করল। গতরাত থেকে সে ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছে। কখন যেন রাগ দমানোর সব উপায় অতিক্রম করে এই হাদারামকে তুলে একটা আছাড় মারবে কে জানে! এরপর এর নাড়িভুড়িও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

মাহদিকে চুপ দেখে মেধা আবারো বলে,
আচ্ছা আমি তোমার হাত ধরছি না। ছেলেদের সহ্যক্ষমতা বেশি হয় আমি জানি। এটুকু কা’টলে তোমার কিছুই হবে না। সিনেমায় দেখেছি, এসব একদম নরমাল।
এর চেয়ে তুমি আমার ব্লাউজের হুকটা একটু লাগিয়ে দাও তো মাহদি।”

 

?[শব্দসংখ্যা : ৩৭০০
কেমন হয়েছে, জানাবেন অবশ্যই।]
Reply


Messages In This Thread
শিকদার মেহেদি (By:DRM Shohag) - by Erotic Lovers - 09-17-2026, 05:27 AM
RE: শিকদার মেহেদি (By:DRM Shohag) - by Erotic Lovers - 09-17-2026, 05:30 AM

Forum Jump:


Users browsing this thread: 1 Guest(s)