10-05-2026, 05:53 AM
আপডেট -০২
বিকেলে নোমান বাস্কেটবল খেলে এসেছে। ঘাম ঝরছে। শরীরটা ভালো লাগছে। ঝরনায় গোসল করে বেরিয়ে এল। চুল ভেজা। টি-শার্ট বদলেছে। রাফি আর তানভিরের সাথে প্লাজার একপাশে বেঞ্চিতে বসল। সামনে দিয়ে মেয়েরা যাচ্ছে আসছে। নানা রকম ড্রেসের বাহার। কেউ * পরে, কেউ টাইট জিন্স, কেউ সালোয়ার কামিজ, কেউ শাড়ি, কেউ স্কার্ট। ড্রেসের শেষ নেই। কপালের ঘাম মুছতে মুছতে চোখ বুলায় নোমান। পাশে রাফি পা তুলে দিয়ে বলল,
“দ্যাখ, ওই যে হলুদ টপওয়ালি মেয়েটা। বুবসগুলো কীভাবে ফুলে আছে দেখেছিস? একেবারে টানটান।”
তানভির হেসে বলল,
“দেখেছি ভাই। জিন্সের ভেতর থেকে পাছাটাও ফাটাফাটি দেখা যাচ্ছে। চলার স্টাইলটাই যেন বলছে—আমাকে দেখো। এমন পাছা পেলে রাতটা কাটানো যায়।”
নোমান চোখ না সরিয়ে বলল,
“মাল তো মালই। কিন্তু ওর মুখটা একটু নামিয়ে রাখে। হাঁটার সময় এত জোর করে পাছা দুলিয়ে কী লাভ? জানে যে তাকিয়ে আছি।”
রাফি বলল,
“লাভ আছে ভাই। আমাদের মতো লোকদের তাকিয়ে থাকার জন্যই তো এসব করে। দেখ, আবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছে। হাসিও দিছে।”
একটা মেয়ে কালো লেগিংস পরে হেঁটে যাচ্ছিল। তানভির শিস দিয়ে বলল,
“উফফ… পাছাটা তো একেবারে গোল। দুই ভাগ পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। এমন পাছা পেলে এক রাতও কম মনে হবে। ধরে রাখলে ছাড়তে ইচ্ছা করবে না।”
রাফি হাত দিয়ে বুকের সামনে গোল করে দেখিয়ে বলল,
“আর ওই যে নীল *ওয়ালিটা। আবায়ার নিচেও বুবসগুলো চাপা পড়ে না। কোমর সরু, তারপর নিচে একটু ভরা। এমন ফিগার লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও লুকানো যায় না। চলার সময় একটু দুলছে দেখেছ?”
নোমান হাসল।
“তুই তো *ওয়ালিদেরও বাদ দিস না।”
রাফি বলল,
“বাদ দিই কেন? * পরলেই কি শরীর চলে যায়? অনেকেই আবায়ার নিচে সেক্সি জিনিস পরে আসে। তুই খেয়াল করিসনি? গত সপ্তাহে একটা মেয়ে দেখেছিলাম। আবায়া পরেও বুবস দুটো এতটাই ভারী যে হাঁটার সময় আলাদা করে দুলছিল।”
তানভির বলল,
“সত্যি কথা। গতকাল একটা মেয়ে দেখেছিলাম। আবায়া পরেও চলার সময় বুবস দুটো আলাদা করে দুলছিল। মনে হচ্ছিল ভেতরে ব্রা ঠিকমতো পরে নাই। কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে একটু ঢিলে পরেছে।”
রাফি জোরে হাসল।
“ভাই, তোর চোখ তো একেবারে এক্স-রে হয়ে গেছে। তুই তো আবায়ার ভেতরটাও দেখে ফেলছিস।”
নোমান পাশের একটা মেয়ের দিকে ইশারা করে বলল,
“ওই যে লম্বাটা। কালো জিন্স আর সাদা শার্ট। বুবস দুটো বেশ বড়। চলার সময় কাঁধ দুটো একটু পেছন দিকে রাখে যাতে আরও বেশি দেখা যায়। জানে যে দেখা যাচ্ছে।”
তানভির বলল,
“এসব মেয়েরা জানে ওরা কী করছে। আমরা তাকিয়ে আছি জেনেও তাকায়। তারপর মুখ ঘুরিয়ে নেয় যেন কিছু হয়নি। অথচ হাঁটার স্টাইলটাই বলে দিচ্ছে সব।”
রাফি একটা সিগারেট ধরাল। ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বলল,
“গত পরশু একটা মেয়ের সাথে কথা হইছিল। ফিগারটা তো একেবারে পর্নস্টার লেভেল। বুবস, কোমর, পাছা—সবকিছু পারফেক্ট। কিন্তু কথা বলতে শুরু করলে মনে হয় একেবারে বোকা। শুধু শরীর নিয়েই ভালো। রাতেও শুধু শরীরের কথাই ভাবা যায়।”
নোমান বলল,
“শরীর ভালো থাকলেই হয়। কথাবার্তা পরে দেখা যাবে। প্রথমে চোখে পড়ে বুবস আর পাছা। তারপর বাকি সব।”
তানভির হেসে বলল,
“তুই তো সবসময় এই লজিক দিস। মেয়ে দেখলে আগে ফিগার, তারপর মুখ, তারপর কথা।”
রাফি বলল,
“এটাই তো ন্যাচারাল। কেউ কি আগে মেয়ের সিজিপিএ দেখে প্রেম করে? আগে চোখে পড়ে বুবস আর পাছা। তারপর বাকি সব। সিজিপিএ তো অফলাইন থাকে তখন।”
একটা মেয়ে খুব কাছ দিয়ে হেঁটে গেল। তিনজনেই চুপ করে তাকিয়ে রইল। মেয়েটার জিন্স খুব টাইট ছিল। পাছা দুটো হাঁটার সাথে সাথে আলাদা হয়ে যাচ্ছিল। মেয়েটা চলে যাওয়ার পর রাফি বলল,
“দ্যাখ, পাছাটা কীভাবে দুই ভাগ হয়ে হাঁটছিল। এমন পাছা পেলে রাতভর ধরে রাখা যায়। ছাড়তে ইচ্ছা করবে না।”
তানভির বলল,
“আর বুবস দুটোও কম না। একটু ভারী। এমন মেয়েকে যদি একবার পেয়ে যাই… সারা রাত নামব না।”
নোমান তার কথা কেটে বলল,
“পেয়ে গেলেও এক সপ্তাহের বেশি টিকবে না। তোর সবসময় নতুন নতুন লাগে। একটার সাথে ঘর করলে অন্যগুলোর কথা মনে পড়ে।”
রাফি হাসল।
“সত্যি কথা। একটার সাথে ঘর করলে অন্যগুলোকে কীভাবে মিস করব? এত সেক্সি মাল ক্যাম্পাসে, আর আমি একটার সাথে বসে থাকব?”
তিনজনেই হেসে উঠল। সামনে দিয়ে আবার কয়েকটা মেয়ে গেল। তারা আবার তাকাতে লাগল। কেউ কারো বুবসের সাইজ নিয়ে মন্তব্য করছে, কেউ পাছার আকৃতি নিয়ে, কেউ হাঁটার স্টাইল নিয়ে। রাফি মাঝে মাঝে হাত দিয়ে মাপ দেখাচ্ছে। তানভির শিস দিচ্ছে। নোমান চুপচাপ দেখছে, মাঝে মাঝে হাসছে।
রাফি শেষে বলল,
“ভাই, এই ক্যাম্পাসটাই আমাদের জন্য যথেষ্ট। এত সেক্সি মাল এক জায়গায় আর কোথায় পাবি? প্রতিদিন নতুন নতুন ফিগার। তবে ভাই তোর কথা আলাদা। আমরা অনেক চাই কিন্তু পাই না। তুই না চাইতেও কত পাস”
নোমান মাথা নাড়ল। কিছু বলল না। শুধু চোখ দিয়ে মেয়েদের ফিগার আগলে রাখল। তার মনে হচ্ছিল আজকের দিনটাও অন্য দিনগুলোর মতোই কেটে যাচ্ছে। শুধু একটা জিনিস আলাদা। দুপুরের সেই ছোটখাটো *ওয়ালি মেয়েটার কথা মাঝে মাঝে মনে পড়ছে।
পরের দিন বিকেলের দিকে ডিবেট ক্লাবের মিটিং ছিল। সিনডিকেট হলে। বুশরা সময়মতো পৌঁছাল। নোমানও এল। একটু দেরি করে। হাতে ফোন। হাসতে হাসতে বন্ধুদের সাথে ঢুকল।
মিটিং চলছিল। টপিক নিয়ে আলোচনা। বুশরা তার পয়েন্ট রাখল পরিষ্কার করে। নোমানও বলল। তার বক্তব্যে একটা হালকা ঠাট্টা ছিল। কয়েকজন হাসল। বুশরা চোখ তুলে তাকাল। নোমানের দিকে। নোমানও তাকাল। চোখ মিলল। নোমান হাসল। বুশরা হাসেনি। তার চোখে একটা কঠোরতা ছিল।
মিটিং শেষে সবাই বেরিয়ে আসছিল। নোমান করিডোরে দাঁড়িয়ে বন্ধুদের সাথে কথা বলছিল। জোরে। হাসছিল। বুশরা পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। শব্দটা তার কানে বাজছিল। তার মনে হচ্ছিল এরা ইচ্ছাকৃতভাবে জোরে কথা বলছে।
সে থেমে গেল। ঘুরে দাঁড়াল।
“এখানে এত জোরে কথা বলার দরকার নেই। অনেকে এখনো ভেতরে আছে।”
নোমান ঘুরে তাকাল। মেয়েটাকে চিনল। বুশরা। ডিবেট ক্লাবের। কয়েকটা ক্লাসে একসাথে পড়া। *, ছোটখাটো, চোখে কঠোরতা।
সে হাসল। “আমরা তো খুব জোরে বলছি না।”
বুশরা বলল, “বলছেন। আর আপনি ডিবেট ক্লাবে আছেন। নিয়মটা একটু মানলে ভালো হয়।”
নোমান একটু এগিয়ে এল। “আপনি তো সবসময় নিয়ম নিয়ে ব্যস্ত। ক্লাসেও, ডিবেটেও। রেজাল্ট ভালো, নিয়ম মেনে চলেন—এসব নিয়ে একটু অহংকার আছে মনে হয়।”
বুশরা চোখ তুলে তাকাল। “অহংকার না। সত্যি। যারা সময় নষ্ট করে না, তারা এগিয়ে থাকে। ফালতু কাজের সময় আমার নেই। আর লোক দেখানোর জন্য বা ফোন স্ক্রল করার জন্য আমি ডিবেটে আসি না। তারপরও ডিবেটে এসে কথা বলেন।”
নোমানের বন্ধুরা হাসল। নোমানও হাসল। “ফোন দেখা আর কী। জীবনটা শুধু পড়াশোনা আর নিয়ম নিয়ে নয়। এত কড়া হলে মজা থাকে না। আর ডিবেট তো কথার খেলা। এখানে এসে কথা না বললে কোথায় বলব?” নোমানের উত্তরে হেসে উঠে ওর বন্ধুরা।
বুশরা বলল, “মজা দরকার নেই সবার। কারো কারো দরকার নিয়ন্ত্রণ।”
নোমান কাঁধ ঝাঁকাল। “ঠিক আছে। আপনার নিয়ন্ত্রণ থাকুক। আমরা যাচ্ছি।”
সে ঘুরে দাঁড়াল। তারপর আবার পেছন ফিরে বলল, “তবে একটা কথা। ডিবেটে আপনি ভালো বলেন। সেটা মানতেই হয়।”
বুশরা কিছু বলল না। শুধু তাকিয়ে রইল। নোমান হেসে চলে গেল বন্ধুদের সাথে। তার হাসিটা বুশরার কানে বাজতে থাকল।
সাদিয়া একটু দূরে দাঁড়িয়ে দেখছিল। বুশরার কাছে এসে বলল, “কে এটা? চিনলি?”
বুশরা বলল, “চিনি। কয়েকটা ক্লাসে একসাথে ছিল। ডিবেট ক্লাবেও আছে। পড়াশুনা করে না। মেয়েদের সাথে লাইন মারা, খেলাধূলা করা এইসব কাজ। তারপরে নিজেকে অনেক বড় কিছু ভাবে।”
সাদিয়া বলল, “চেহারা মন্দ না। লম্বা। আর তোর সাথে কথা বলার সময় হাসছিল। তোর দিকে তাকিয়েই হাসছিল।”
বুশরা বিরক্ত হয়ে বলল, “হাসুক। যে নিয়ম মানে না, পড়াশোনায় মন দেয় না আমার কাছে তার দাম নেই। রেজাল্ট দিয়ে প্রমাণ হয় কে কতটা সিরিয়াস।”
সাদিয়া হাসল। “তুই তো সবসময় এমনই। নিজের রেজাল্ট আর নিয়ম নিয়ে এত গর্ব। ওই ছেলেটা তোকে একটু খোঁচা দিল বলেই এত রাগ?”
বুশরা বলল, “রাগ না। বিরক্তি। এসব ছেলেরা মনে করে জীবন মানে শুধু মজা। পরে বুঝবে।”
সন্ধ্যায় বুশরা বাসায় ফিরল। সাদিয়া সাথে ছিল একটুক্ষণ। সাদিয়া আবার টিজ করতে শুরু করল।
“ঐ ছেলেটার দিকে তোর রাগ দেখে মনে হচ্ছিল তুই ওকে চিনিস ভালো করে।”
বুশরা বলল, “চিনি। কয়েকটা ক্লাসে একসাথে। ডিবেট ক্লাবেও। আর চিনতেও চাই না বেশি।”
সাদিয়া বলল, “তবুও তোর রাগটা একটু বেশি ছিল। তুই যখন রেগে যাস, তখন তোর চোখগুলো... অন্যরকম লাগে। আর আবায়াটা আজকেরটা একটু বেশি ফিট ছিল মনে হয়। ওই ছেলেটা যদি খেয়াল করত তোর কোমর আর...”
বুশরা থামিয়ে দিল। “সাদিয়া, যথেষ্ট। থাম”
সাদিয়া হেসে উঠল। “ঠিক আছে। আর বলব না। তুই তো কনজারভেটিভ। কেউ বুঝবেও না তোর শরীর কেমন। শুধু আমি জানি। কারণ আমি তোর ঘরে গিয়েছি। ছোটখাটো হলেও গড়ন আছে তোর। কোমর সরু, হিপস ভরা, বুকও খারাপ না।”
বুশরা চুপ করে রইল। ভেতরে একটা অস্বস্তি। সাদিয়ার কথাগুলো মনে আটকে থাকল।
আবিদ রাতে কল করল। আবিদের সাথে দিনের শেষে সব কথা শেয়ার করে বুশরা। ডিবেট ক্লাবের সামনের কথা কাটাকাটির ঘটনাটা বলল। কিভাবে নিয়ম না মেনে অসভ্যের মত জোরে জোরে চিতকার করে কথা বলছিল সব। আর থামতে বলতে কথার ফুলঝড়ি। এইসব বললেও সাদিয়ার খোচা গুলো বলল না বুশরা।
আবিদ বলল, “তুই ঠিক করেছিস। এমন লোকদের কিছু বলা উচিত।”
বুশরা মাথা নাড়ল। “হ্যাঁ।”
কল শেষে সে বিছানায় শুয়ে রইল। ওই ছেলেটার হাসি মনে পড়ল। “এত কড়া হলে মজা থাকে না।” বুশরা চোখ বন্ধ করল। মজা দরকার নেই তার। দরকার শান্তি। দরকার নিয়ন্ত্রণ।
কিন্তু মনে একটা খচখচানি রয়ে গেল। প্রথমবারের মতো কেউ তার নিয়ম মেনে চলার অহংকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে। হেসে। হালকাভাবে। যেন তার গর্বটাই একটা মজার ব্যাপার। এই জিনিসটা মেনে নিতে পারছে না বুশরা। গলায় কাটা বিধে থাকার মত খচখচ করতে থাকতে মনটা।
নোমান সেদিন রাতে এক মেয়ের সাথে দেখা করতে গেল। গুলশানে। মেয়েটা হাসিখুশি। কথা বলে অনেক। ইস্ট ওয়েস্টে পড়ে। হিঞ্জে পরিচয় হয়েছে। নোমান তার সাথে সময় কাটাল। কিন্তু মাঝে মাঝে মনে পড়ল বিকেলের সেই ছোটখাটো মেয়েটার কথা। চোখে রাগ নিয়ে দাঁড়িয়েছিল। নিয়ম শেখাচ্ছিল। মেয়েটার কথায় বিরক্ত হলেও তর্কে ভাল বলে সেটাও মানতে হয়েছিল। নোমান হাসল নিজে নিজে। এসব মেয়ে তার দুনিয়ার মানুষ না। তার দুনিয়ায় থাকে অন্য মেয়েরা। যারা হাসে, যারা সায় দেয়, যারা নিয়ম ভাঙে। তবুও সেই মেয়েটার কণ্ঠস্বর একবার মনে পড়ল। শান্ত। কিন্তু ভেতরে জোরালো। আর চোখের দৃষ্টি। যেন সে প্রমাণ করতে চাইছে সে ঠিক জায়গায় আছে।
দুইজন মানুষ। একই ক্যাম্পাস। একই শহর। দুজনেই ঢাকায় বড় হয়েছে। কয়েকটা ক্লাসে একসাথে পড়েছে। একই ডিবেট ক্লাবের মেম্বার। একজন নিয়ম আঁকড়ে ধরে আছে অহংকার নিয়ে। আরেকজন নিয়মকে হালকা করে দেখে হাসি দিয়ে। তাদের পথ আজ প্রথমবার সত্যিকার অর্থে ছেদ করেছে। এখনো কিছু হয়নি। শুধু একটা বিরক্তি। একটা অস্বস্তি। একটা মনে রাখার মতো মুহূর্ত।
“দ্যাখ, ওই যে হলুদ টপওয়ালি মেয়েটা। বুবসগুলো কীভাবে ফুলে আছে দেখেছিস? একেবারে টানটান।”
তানভির হেসে বলল,
“দেখেছি ভাই। জিন্সের ভেতর থেকে পাছাটাও ফাটাফাটি দেখা যাচ্ছে। চলার স্টাইলটাই যেন বলছে—আমাকে দেখো। এমন পাছা পেলে রাতটা কাটানো যায়।”
নোমান চোখ না সরিয়ে বলল,
“মাল তো মালই। কিন্তু ওর মুখটা একটু নামিয়ে রাখে। হাঁটার সময় এত জোর করে পাছা দুলিয়ে কী লাভ? জানে যে তাকিয়ে আছি।”
রাফি বলল,
“লাভ আছে ভাই। আমাদের মতো লোকদের তাকিয়ে থাকার জন্যই তো এসব করে। দেখ, আবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছে। হাসিও দিছে।”
একটা মেয়ে কালো লেগিংস পরে হেঁটে যাচ্ছিল। তানভির শিস দিয়ে বলল,
“উফফ… পাছাটা তো একেবারে গোল। দুই ভাগ পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। এমন পাছা পেলে এক রাতও কম মনে হবে। ধরে রাখলে ছাড়তে ইচ্ছা করবে না।”
রাফি হাত দিয়ে বুকের সামনে গোল করে দেখিয়ে বলল,
“আর ওই যে নীল *ওয়ালিটা। আবায়ার নিচেও বুবসগুলো চাপা পড়ে না। কোমর সরু, তারপর নিচে একটু ভরা। এমন ফিগার লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও লুকানো যায় না। চলার সময় একটু দুলছে দেখেছ?”
নোমান হাসল।
“তুই তো *ওয়ালিদেরও বাদ দিস না।”
রাফি বলল,
“বাদ দিই কেন? * পরলেই কি শরীর চলে যায়? অনেকেই আবায়ার নিচে সেক্সি জিনিস পরে আসে। তুই খেয়াল করিসনি? গত সপ্তাহে একটা মেয়ে দেখেছিলাম। আবায়া পরেও বুবস দুটো এতটাই ভারী যে হাঁটার সময় আলাদা করে দুলছিল।”
তানভির বলল,
“সত্যি কথা। গতকাল একটা মেয়ে দেখেছিলাম। আবায়া পরেও চলার সময় বুবস দুটো আলাদা করে দুলছিল। মনে হচ্ছিল ভেতরে ব্রা ঠিকমতো পরে নাই। কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে একটু ঢিলে পরেছে।”
রাফি জোরে হাসল।
“ভাই, তোর চোখ তো একেবারে এক্স-রে হয়ে গেছে। তুই তো আবায়ার ভেতরটাও দেখে ফেলছিস।”
নোমান পাশের একটা মেয়ের দিকে ইশারা করে বলল,
“ওই যে লম্বাটা। কালো জিন্স আর সাদা শার্ট। বুবস দুটো বেশ বড়। চলার সময় কাঁধ দুটো একটু পেছন দিকে রাখে যাতে আরও বেশি দেখা যায়। জানে যে দেখা যাচ্ছে।”
তানভির বলল,
“এসব মেয়েরা জানে ওরা কী করছে। আমরা তাকিয়ে আছি জেনেও তাকায়। তারপর মুখ ঘুরিয়ে নেয় যেন কিছু হয়নি। অথচ হাঁটার স্টাইলটাই বলে দিচ্ছে সব।”
রাফি একটা সিগারেট ধরাল। ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বলল,
“গত পরশু একটা মেয়ের সাথে কথা হইছিল। ফিগারটা তো একেবারে পর্নস্টার লেভেল। বুবস, কোমর, পাছা—সবকিছু পারফেক্ট। কিন্তু কথা বলতে শুরু করলে মনে হয় একেবারে বোকা। শুধু শরীর নিয়েই ভালো। রাতেও শুধু শরীরের কথাই ভাবা যায়।”
নোমান বলল,
“শরীর ভালো থাকলেই হয়। কথাবার্তা পরে দেখা যাবে। প্রথমে চোখে পড়ে বুবস আর পাছা। তারপর বাকি সব।”
তানভির হেসে বলল,
“তুই তো সবসময় এই লজিক দিস। মেয়ে দেখলে আগে ফিগার, তারপর মুখ, তারপর কথা।”
রাফি বলল,
“এটাই তো ন্যাচারাল। কেউ কি আগে মেয়ের সিজিপিএ দেখে প্রেম করে? আগে চোখে পড়ে বুবস আর পাছা। তারপর বাকি সব। সিজিপিএ তো অফলাইন থাকে তখন।”
একটা মেয়ে খুব কাছ দিয়ে হেঁটে গেল। তিনজনেই চুপ করে তাকিয়ে রইল। মেয়েটার জিন্স খুব টাইট ছিল। পাছা দুটো হাঁটার সাথে সাথে আলাদা হয়ে যাচ্ছিল। মেয়েটা চলে যাওয়ার পর রাফি বলল,
“দ্যাখ, পাছাটা কীভাবে দুই ভাগ হয়ে হাঁটছিল। এমন পাছা পেলে রাতভর ধরে রাখা যায়। ছাড়তে ইচ্ছা করবে না।”
তানভির বলল,
“আর বুবস দুটোও কম না। একটু ভারী। এমন মেয়েকে যদি একবার পেয়ে যাই… সারা রাত নামব না।”
নোমান তার কথা কেটে বলল,
“পেয়ে গেলেও এক সপ্তাহের বেশি টিকবে না। তোর সবসময় নতুন নতুন লাগে। একটার সাথে ঘর করলে অন্যগুলোর কথা মনে পড়ে।”
রাফি হাসল।
“সত্যি কথা। একটার সাথে ঘর করলে অন্যগুলোকে কীভাবে মিস করব? এত সেক্সি মাল ক্যাম্পাসে, আর আমি একটার সাথে বসে থাকব?”
তিনজনেই হেসে উঠল। সামনে দিয়ে আবার কয়েকটা মেয়ে গেল। তারা আবার তাকাতে লাগল। কেউ কারো বুবসের সাইজ নিয়ে মন্তব্য করছে, কেউ পাছার আকৃতি নিয়ে, কেউ হাঁটার স্টাইল নিয়ে। রাফি মাঝে মাঝে হাত দিয়ে মাপ দেখাচ্ছে। তানভির শিস দিচ্ছে। নোমান চুপচাপ দেখছে, মাঝে মাঝে হাসছে।
রাফি শেষে বলল,
“ভাই, এই ক্যাম্পাসটাই আমাদের জন্য যথেষ্ট। এত সেক্সি মাল এক জায়গায় আর কোথায় পাবি? প্রতিদিন নতুন নতুন ফিগার। তবে ভাই তোর কথা আলাদা। আমরা অনেক চাই কিন্তু পাই না। তুই না চাইতেও কত পাস”
নোমান মাথা নাড়ল। কিছু বলল না। শুধু চোখ দিয়ে মেয়েদের ফিগার আগলে রাখল। তার মনে হচ্ছিল আজকের দিনটাও অন্য দিনগুলোর মতোই কেটে যাচ্ছে। শুধু একটা জিনিস আলাদা। দুপুরের সেই ছোটখাটো *ওয়ালি মেয়েটার কথা মাঝে মাঝে মনে পড়ছে।
পরের দিন বিকেলের দিকে ডিবেট ক্লাবের মিটিং ছিল। সিনডিকেট হলে। বুশরা সময়মতো পৌঁছাল। নোমানও এল। একটু দেরি করে। হাতে ফোন। হাসতে হাসতে বন্ধুদের সাথে ঢুকল।
মিটিং চলছিল। টপিক নিয়ে আলোচনা। বুশরা তার পয়েন্ট রাখল পরিষ্কার করে। নোমানও বলল। তার বক্তব্যে একটা হালকা ঠাট্টা ছিল। কয়েকজন হাসল। বুশরা চোখ তুলে তাকাল। নোমানের দিকে। নোমানও তাকাল। চোখ মিলল। নোমান হাসল। বুশরা হাসেনি। তার চোখে একটা কঠোরতা ছিল।
মিটিং শেষে সবাই বেরিয়ে আসছিল। নোমান করিডোরে দাঁড়িয়ে বন্ধুদের সাথে কথা বলছিল। জোরে। হাসছিল। বুশরা পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। শব্দটা তার কানে বাজছিল। তার মনে হচ্ছিল এরা ইচ্ছাকৃতভাবে জোরে কথা বলছে।
সে থেমে গেল। ঘুরে দাঁড়াল।
“এখানে এত জোরে কথা বলার দরকার নেই। অনেকে এখনো ভেতরে আছে।”
নোমান ঘুরে তাকাল। মেয়েটাকে চিনল। বুশরা। ডিবেট ক্লাবের। কয়েকটা ক্লাসে একসাথে পড়া। *, ছোটখাটো, চোখে কঠোরতা।
সে হাসল। “আমরা তো খুব জোরে বলছি না।”
বুশরা বলল, “বলছেন। আর আপনি ডিবেট ক্লাবে আছেন। নিয়মটা একটু মানলে ভালো হয়।”
নোমান একটু এগিয়ে এল। “আপনি তো সবসময় নিয়ম নিয়ে ব্যস্ত। ক্লাসেও, ডিবেটেও। রেজাল্ট ভালো, নিয়ম মেনে চলেন—এসব নিয়ে একটু অহংকার আছে মনে হয়।”
বুশরা চোখ তুলে তাকাল। “অহংকার না। সত্যি। যারা সময় নষ্ট করে না, তারা এগিয়ে থাকে। ফালতু কাজের সময় আমার নেই। আর লোক দেখানোর জন্য বা ফোন স্ক্রল করার জন্য আমি ডিবেটে আসি না। তারপরও ডিবেটে এসে কথা বলেন।”
নোমানের বন্ধুরা হাসল। নোমানও হাসল। “ফোন দেখা আর কী। জীবনটা শুধু পড়াশোনা আর নিয়ম নিয়ে নয়। এত কড়া হলে মজা থাকে না। আর ডিবেট তো কথার খেলা। এখানে এসে কথা না বললে কোথায় বলব?” নোমানের উত্তরে হেসে উঠে ওর বন্ধুরা।
বুশরা বলল, “মজা দরকার নেই সবার। কারো কারো দরকার নিয়ন্ত্রণ।”
নোমান কাঁধ ঝাঁকাল। “ঠিক আছে। আপনার নিয়ন্ত্রণ থাকুক। আমরা যাচ্ছি।”
সে ঘুরে দাঁড়াল। তারপর আবার পেছন ফিরে বলল, “তবে একটা কথা। ডিবেটে আপনি ভালো বলেন। সেটা মানতেই হয়।”
বুশরা কিছু বলল না। শুধু তাকিয়ে রইল। নোমান হেসে চলে গেল বন্ধুদের সাথে। তার হাসিটা বুশরার কানে বাজতে থাকল।
সাদিয়া একটু দূরে দাঁড়িয়ে দেখছিল। বুশরার কাছে এসে বলল, “কে এটা? চিনলি?”
বুশরা বলল, “চিনি। কয়েকটা ক্লাসে একসাথে ছিল। ডিবেট ক্লাবেও আছে। পড়াশুনা করে না। মেয়েদের সাথে লাইন মারা, খেলাধূলা করা এইসব কাজ। তারপরে নিজেকে অনেক বড় কিছু ভাবে।”
সাদিয়া বলল, “চেহারা মন্দ না। লম্বা। আর তোর সাথে কথা বলার সময় হাসছিল। তোর দিকে তাকিয়েই হাসছিল।”
বুশরা বিরক্ত হয়ে বলল, “হাসুক। যে নিয়ম মানে না, পড়াশোনায় মন দেয় না আমার কাছে তার দাম নেই। রেজাল্ট দিয়ে প্রমাণ হয় কে কতটা সিরিয়াস।”
সাদিয়া হাসল। “তুই তো সবসময় এমনই। নিজের রেজাল্ট আর নিয়ম নিয়ে এত গর্ব। ওই ছেলেটা তোকে একটু খোঁচা দিল বলেই এত রাগ?”
বুশরা বলল, “রাগ না। বিরক্তি। এসব ছেলেরা মনে করে জীবন মানে শুধু মজা। পরে বুঝবে।”
সন্ধ্যায় বুশরা বাসায় ফিরল। সাদিয়া সাথে ছিল একটুক্ষণ। সাদিয়া আবার টিজ করতে শুরু করল।
“ঐ ছেলেটার দিকে তোর রাগ দেখে মনে হচ্ছিল তুই ওকে চিনিস ভালো করে।”
বুশরা বলল, “চিনি। কয়েকটা ক্লাসে একসাথে। ডিবেট ক্লাবেও। আর চিনতেও চাই না বেশি।”
সাদিয়া বলল, “তবুও তোর রাগটা একটু বেশি ছিল। তুই যখন রেগে যাস, তখন তোর চোখগুলো... অন্যরকম লাগে। আর আবায়াটা আজকেরটা একটু বেশি ফিট ছিল মনে হয়। ওই ছেলেটা যদি খেয়াল করত তোর কোমর আর...”
বুশরা থামিয়ে দিল। “সাদিয়া, যথেষ্ট। থাম”
সাদিয়া হেসে উঠল। “ঠিক আছে। আর বলব না। তুই তো কনজারভেটিভ। কেউ বুঝবেও না তোর শরীর কেমন। শুধু আমি জানি। কারণ আমি তোর ঘরে গিয়েছি। ছোটখাটো হলেও গড়ন আছে তোর। কোমর সরু, হিপস ভরা, বুকও খারাপ না।”
বুশরা চুপ করে রইল। ভেতরে একটা অস্বস্তি। সাদিয়ার কথাগুলো মনে আটকে থাকল।
আবিদ রাতে কল করল। আবিদের সাথে দিনের শেষে সব কথা শেয়ার করে বুশরা। ডিবেট ক্লাবের সামনের কথা কাটাকাটির ঘটনাটা বলল। কিভাবে নিয়ম না মেনে অসভ্যের মত জোরে জোরে চিতকার করে কথা বলছিল সব। আর থামতে বলতে কথার ফুলঝড়ি। এইসব বললেও সাদিয়ার খোচা গুলো বলল না বুশরা।
আবিদ বলল, “তুই ঠিক করেছিস। এমন লোকদের কিছু বলা উচিত।”
বুশরা মাথা নাড়ল। “হ্যাঁ।”
কল শেষে সে বিছানায় শুয়ে রইল। ওই ছেলেটার হাসি মনে পড়ল। “এত কড়া হলে মজা থাকে না।” বুশরা চোখ বন্ধ করল। মজা দরকার নেই তার। দরকার শান্তি। দরকার নিয়ন্ত্রণ।
কিন্তু মনে একটা খচখচানি রয়ে গেল। প্রথমবারের মতো কেউ তার নিয়ম মেনে চলার অহংকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে। হেসে। হালকাভাবে। যেন তার গর্বটাই একটা মজার ব্যাপার। এই জিনিসটা মেনে নিতে পারছে না বুশরা। গলায় কাটা বিধে থাকার মত খচখচ করতে থাকতে মনটা।
নোমান সেদিন রাতে এক মেয়ের সাথে দেখা করতে গেল। গুলশানে। মেয়েটা হাসিখুশি। কথা বলে অনেক। ইস্ট ওয়েস্টে পড়ে। হিঞ্জে পরিচয় হয়েছে। নোমান তার সাথে সময় কাটাল। কিন্তু মাঝে মাঝে মনে পড়ল বিকেলের সেই ছোটখাটো মেয়েটার কথা। চোখে রাগ নিয়ে দাঁড়িয়েছিল। নিয়ম শেখাচ্ছিল। মেয়েটার কথায় বিরক্ত হলেও তর্কে ভাল বলে সেটাও মানতে হয়েছিল। নোমান হাসল নিজে নিজে। এসব মেয়ে তার দুনিয়ার মানুষ না। তার দুনিয়ায় থাকে অন্য মেয়েরা। যারা হাসে, যারা সায় দেয়, যারা নিয়ম ভাঙে। তবুও সেই মেয়েটার কণ্ঠস্বর একবার মনে পড়ল। শান্ত। কিন্তু ভেতরে জোরালো। আর চোখের দৃষ্টি। যেন সে প্রমাণ করতে চাইছে সে ঠিক জায়গায় আছে।
দুইজন মানুষ। একই ক্যাম্পাস। একই শহর। দুজনেই ঢাকায় বড় হয়েছে। কয়েকটা ক্লাসে একসাথে পড়েছে। একই ডিবেট ক্লাবের মেম্বার। একজন নিয়ম আঁকড়ে ধরে আছে অহংকার নিয়ে। আরেকজন নিয়মকে হালকা করে দেখে হাসি দিয়ে। তাদের পথ আজ প্রথমবার সত্যিকার অর্থে ছেদ করেছে। এখনো কিছু হয়নি। শুধু একটা বিরক্তি। একটা অস্বস্তি। একটা মনে রাখার মতো মুহূর্ত।

