10-12-2026, 04:38 AM
তিশা দরজাটা লক করে দিল। তার হৃৎপিণ্ড হাতুড়ির মতো পিটছে। এক অদম্য কৌতূহল আর নিষিদ্ধ আকর্ষণে সে তোয়ালেটার দিকে হাত বাড়াল। তোয়ালেটা হাতে নিতেই অনুভব করল সেটা এখনো উষ্ণ। আব্বুর শরীরের উষ্ণতা।
সে ধীরে ধীরে তোয়ালেটা নিজের মুখের কাছে তুলে আনল। চোখ বন্ধ করে এক গভীর শ্বাস নিল।
শেভিং ফোমের মেন্থল গন্ধ, কড়া সাবানের গন্ধ, আর তার নিচে... তার নিচে এক তীব্র, বুনো, পুরুষালি গন্ধ। এটা আব্বুর গায়ের গন্ধ। এই গন্ধে কোনো খাদ নেই, আছে এক আদিম নেশা। তিশার মস্তিষ্কের কোষে কোষে সেই গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল। তার মনে হলো, এই গন্ধটাই তো সে খুঁজছিল! তার স্বামীর গায়ে ছিল সস্তা পারফিউমের উগ্র গন্ধ, কিন্তু এখানে... এখানে আছে এক নিরাপদ, অথচ ধ্বংসাত্মক নেশা।
তিশা তোয়ালেটা নিজের গালে ঘষে নিল। তোয়ালের খসখসে স্পর্শে তার গাল ছড়ে যাওয়ার উপক্রম হলো, কিন্তু সেই সামান্য ব্যথাই যেন তার ভেতরে সুপ্ত কামনার বারুদে আগুন ধরিয়ে দিল। সে ফিসফিস করে বলল, “আব্বু..."
আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে তিশা চমকে উঠল। তার গাল রক্তিম, চোখ দুটো ঘোলাটে, আর ঠোঁট কাঁপছে। সে বুঝতে পারল, সে এক বিপজ্জনক খাদের কিনায় এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সে এটাও বুঝতে পারল, এই খাদে ঝাঁপ দেওয়ার প্রলোভন সামলানো তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
বিকেলের পড়ন্ত রোেদ গঙ্গার জলে হীরের কুচির মতো চিকচিক করছে। প্রিন্সেপ ঘাটের সাদা থামগুলোর আড়ালে প্রেমিক-প্রেমিকাদের ভিড়। এই ভিড়ের মাঝেও তিশা আর অভিজিৎ সাহেবকে আলাদা করে চোখে পড়ে।
আজ আব্বুর পরনে একটা নেভি-ব্লু ফিটেড পোলো টি-শার্ট আর হালকা ছাই রঙের ট্রাউজার্স। চোখে রে-ব্যান সানগ্লাস। ৪৫ বছর বয়সেও তার বাইসেপসের গঠন টি-শার্টের হাতা ফুঁড়ে বের হতে চায়। অন্যদিকে তিশা পরেছে একটা স্লিভলেস সালোয়ার কামিজ, ওডনাটা একপাশে লতামো।
ওরা যখন গঙ্গার পাড় ধরে হাঁটছিল, তিশা লক্ষ্য করল আশেপাশের মানুষের দৃষ্টি। বিশেষ করে কলেজপড়ুয়া মেয়েগুলো আর মাঝবয়সী মহিলারা আড়চোখে আব্বুর দিকে তাকাচ্ছে। তাদের চোখে বিস্ময় আর লোলুপতার মিশ্রণ। তারা হয়তো ভাবছে, এই সুপুরুষ মানুষটির পাশে এই তরুণীটি কে? মেয়ে? নাকি অল্পবয়েসী প্রেমিকা?
অন্য সময় হলে তিশা অস্বস্তি বোধ করত। কিন্তু আজ? আজ ওর বুকের ভেতর একটা অদ্ভুত গর্বের স্রোত বয়ে গেল। ওর মনে হলো, “এই মানুষটা আমার। শুধুই আমার। আমার প্রাক্তন স্বামী অর্ক তো ছিল একটা কুঁজো, আর আমার আব্বু যেন গ্রিক দেবতা।”
“কী রে মা, আইসক্রিম খাবি?” আব্বু সানগ্লাসটা কপালে তুলে জিজ্ঞেস করলেন। তার চোখের কোণে সেই ভুবনভোলানো হাসি।
“না আব্বু, শুধু হাঁটব। তোমার হাত ধরে হাঁটতে ইচ্ছে করছে,” তিশা আবদার করে বসল।
অভিজিৎ বাবু একটু অবাক হলেন, কিন্তু আপত্তি করলেন না। তিনি হাত বাড়িয়ে দিলেন। তিশা আব্বুর বলিষ্ঠ হাতটা নিজের দুই হাতের মধ্যে জড়িয়ে ধরল। আব্বুর হাতের তালুটা খসখসে, গরম আর শক্ত। সেই হাতের স্পর্শ পেতেই তিশার শরীরের ভেতর একটা বিদ্যুৎ খেলে গেল। সে ইচ্ছে করেই নিজের নরম বুকের পাশটা আব্বুর হাতের সাথে একটু চেপে ধরল। এটা কি খুব বেশি হয়ে গেল? তিশা নিজেকে প্রশ্ন করল। কিন্তু সে হাতটা সরাল না।
একটা বেঞ্চে বসার পর গঙ্গার ফুরফুরে বাতাস তিশার চুলগুলোকে এলোমেলো করে দিচ্ছিল। অভিজিৎ বাবু পরম যত্নে তিশার মুখের ওপর থেকে অবাধ্য চুলগুলো সরিয়ে কানে গুঁজে দিলেন। তার আঙুলের ডগাটা আলতো করে তিশার কপাল আর কানে লতি স্পর্শ করল।
সেই মুহূর্তটুকু ছিল অনন্তকালের মতো। তিশার মনে হলো, কোনো বাংলা চটি গল্পের পাতায় পড়া নিষিদ্ধ রোমান্সের নায়িকার মতো লাগছে নিজেকে। আব্বুর এই যত্ন, এই স্পর্শ-এগুলো কি শুধুই বাৎসল্য? নাকি এর গভীরে লুকিয়ে আছে এক পুরুষের অবদমিত প্রেম, যা সে নিজেও জানে না?
দিন কয়েক পরের কথা। অফিস থেকে ফেরার পথে আব্বু সাথে করে এক মহিলাকে নিয়ে এলেন। নাম পূজা ব্যানার্জী, আব্বুর অফিসের সহকর্মী। ডিভোর্সি, বয়স চল্লিশের কোঠায়, বেশ চটপটে এবং সাজগোজ করা ভদ্রমহিলা।
"তিশা, ইনি পূজা আন্টি। আজ ওদিকে কাজ ছিল, তাই ভাবলাম এক কাপ চা খেয়ে যাই,” আব্বু পরিচয় করিয়ে দিলেন।
পূজা আন্টি একটু বেশিই হাসিখুশি। ড্রয়িংরুমে বসতে না বসতেই তিনি আব্বুর সাথে খুনসুটি শুরু করলেন। “উফ অভিজিৎ , তোমার এই ফ্ল্যাটটা দারুণ! আর তুমি তো দিন দিন ইয়াং হচ্ছো। সিক্রেটটা কী বলো তো?"
কথাটা বলতে বলতেই পূজা আন্টি হাসতে হাসতে আব্বুর কাঁধে হাত রাখলেন।
এই দৃশ্যটা দেখা মাত্রই পূজার মাথার ভেতরটা দপ করে জ্বলে উঠল। একটা তীব্র, আদিম ঈর্ষা তার শিরা-উপশিরায় ছড়িয়ে পড়ল। তার মনে হলো, ওই মহিলা তার নোংরা হাত দিয়ে আব্বুকে অপবিত্র করে দিচ্ছে। আব্বুর কাঁধ, আব্বুর হাসি-সব তো তিশার একার সম্পত্তি! অন্য কেউ কেন ভাগ বসাবে?
চা নিয়ে আসার সময় তিশা ইচ্ছে করেই ট্রে-টা একটু জোরে টেবিলে রাখল। শব্দে পূজা আন্টি চমকে তাকালেন।
"সরি, হাতটা স্লিপ করে গেল,” তিশা নির্লিপ্ত মুখে বলল।
তারপর সে কোনো ভদ্রতার তোয়াক্কা না করে সোফায় গিয়ে বসল-ঠিক আব্বু আর পূজা আন্টির মাঝখানে। জায়গাটা খুব কম ছিল, কিন্তু তিশা জোর করে নিজেকে ওখানের গুঁজে দিল।
“আব্বু, আমার না মাথাটা খুব ধরেছে,” তিশা আব্বুর ডান হাতটা নিজের দুই হাতের মুঠোয় নিয়ে নিজের কপালের কাছে টেনে নিল। তার শরীরটা আব্বুর শরীরের সাথে একেবারে লেপ্টে রইল। সে আড়চোখে পূজা আন্টির দিকে তাকাল। তার দৃষ্টিতে ছিল এক নীরব হুমকি-"দূরে থাকো। এই এলাকা আমার।"
অভিজিৎ বাবু একটু অপ্রস্তুত বোধ করলেন, কিন্তু মেয়ের অসুস্থতার কথা শুনে চিন্তিত হয়ে পড়লেন। "কী হয়েছে মা? বেশি কষ্ট হচ্ছে? আমি কি ওষুধ এনে দেব?” তিনি পূজা আন্টির উপস্থিতি প্রায় ভুলেই গেলেন।
তিশার নরম নিতম্ব আর উরু যখন অভিজিতের উরুর সাথে ঘষা খাচ্ছিল, তখন তিনি অস্বস্তি আর এক অদ্ভুত ভালোলাগার দ্বন্দ্বে ভুগছিলেন। মেয়ের শরীরের এই উষ্ণতা, এই অধিকারবোধ তাকে বিভ্রান্ত করছিল। পূজা আন্টি পরিস্থিতিটা বুঝে কিছুক্ষণ পরেই বিদায় নিলেন।
তিনি চলে যেতেই তিশা আব্বুর হাত ছেড়ে দিল, কিন্তু তার বুকের ভেতর বিজয়ের আনন্দ। সে প্রমাণ করে দিয়েছে, আব্বুর জীবনে অন্য কোনো নারীর স্থান নেই।
সেদিন রাতে বাইরে অঝোরে বৃষ্টি পড়ছিল। আকাশ ভাঙা বৃষ্টি আর মেঘের গর্জনে পরিবেশটা হয়ে উঠেছিল থমথমে। ডিনারের পর তিশা দেখল আব্বু নিজের ঘরে পুরনো ট্রাঙ্ক খুলে বসে আছেন। মেঝেতে ছড়ানো পুরনো অ্যালবাম।
তিশা দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। আব্বু একটা কালো-সাদা ছবির দিকে তাকিয়ে আছেন। মায়ের ছবি।
"আব্বু?” সারা মৃদু ডাকল।
অভিজিৎ বাবু মুখ তুললেন। তার চোখ দুটো জবা ফুলের মতো লাল, গাল বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। এই ইস্পাত-কঠিন মানুষটাকে এভাবে ভেঙে পড়তে দেখে তিশার কলিজাটা মোচড় দিয়ে উঠল।
তিশা ছুটে গিয়ে আব্বুর পাশে হাঁটু গেড়ে বসল। “কী হয়েছে আব্বু? কাঁদছ কেন?”
অভিজিৎ রুদ্ধগলায় বললেন, “আমি তোর আম্মিকে কথা দিয়েছিলাম তোকে সুখে রাখব। কিন্তু আমি পারিনি রে মা। আমি তোকে চিনতে ভুল করেছি, ভুল পাত্রে তোকে তুলে দিয়েছি। তোর জীবনটা নষ্ট করে দিলাম আমি..."
তার কান্নাটা বাঁধ মানল না। একজন পিতার অক্ষমতার হাহাকার যেন বৃষ্টির শব্দের সাথে মিশে গেল। তিশা বুঝতে পারল, আব্বুর এই কান্না শুধু মেয়ের কষ্টের জন্য নয়, এটা দীর্ঘদিনের একাকীত্ব, সঙ্গীহীন জীবনের জমানো ব্যথার বিস্ফোরণ।
“চুপ করো আব্বু, প্লিজ চুপ করো। তুমি তো কোনো ভুল করোনি,” তিশা আব্বুকে দুহাতে জড়িয়ে ধরল। আব্বুর মুখটা সে টেনে নিল নিজের বুকের কাছে।
কান্নার আবেগে ক্লান্ত হয়ে অভিজিৎ বাবু তিশার কোলেই মাথাটা এলিয়ে দিলেন। মেঝেতে বসে তিশা পা ছড়িয়ে দিল, আর তার নরম, মাংসল উরুর ওপর আশ্রয় নিল আব্বুর ভারি মাথাটা।
বাইরে বিদ্যুতের চমকানি, ঘরের আলো-আঁধারিতে এক মায়াবী পরিবেশ। তিশা আব্বুর চুলে হাত ডুবিয়ে দিল। আব্বুর চুলগুলো এখন একটু পাকা, কিন্তু ভীষণ ঘন। তিশা আঙুল দিয়ে আব্বুর স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করে দিতে লাগল। তার নখগুলো যখন আব্বুর মাথার তালুতে হালকা আঁচড় কাটছিল, তখন আব্বু আরাম পেয়ে চোখ বুজলেন। “উহ্... মা রে... খুব আরাম লাগছে,” আব্বু বিড়বিড় করলেন। তার গলাটা এখন খাদে নামা, নেশাতুর।
তিশার হাতটা চুল থেকে নেমে এল আব্বুর কপালে, তারপর গালে। আব্বুর গালে আজ শেভ করা হয়নি, একদিনের না-কামানো দাড়ি তিশার নরম তালুতে সুড়সুড়ি দিচ্ছে। এই খসখসে স্পর্শটা তিশার শরীরে এক অদ্ভুত শিহরণ জাগাল। সে আঙুল দিয়ে আব্বুর চোখের পাতা, নাকের তীক্ষ্ণ রেখা আর ঠোঁটের কোেণ স্পর্শ করতে লাগল।
তার মনে হলো, এই কোলে শুয়ে থাকা মানুষটা কি শুধুই তার পিতা? নাকি এক অসহায় শিশু, যে মায়ের আশ্রয় খুঁজছে? নাকি... নাকি এক ক্লান্ত প্রেমিক, যে তার প্রেমিকার কাছে শান্তি ভিক্ষা করছে?
তিশার উরুর ওপর আব্বুর গরম নিঃশ্বাস পড়ছে। প্রতিবার শ্বাস ছাড়ার সময় সেই উষ্ণ বাতাস সারার পাতলা পাজামা ভেদ করে তার গোপনাঙ্গের খুব কাছাকাছি পৌঁছে। তিশার যোনিপথ নিজের অজান্তেই ভিজে উঠল। এক নিষিদ্ধ কামরস তার শরীরের ভেতর চুইয়ে পড়তে লাগল। সে ভয় পেল, আবার একই সাথে চাইল-আব্বুর মাথাটা যেন সেখান থেকে আর না সরে।
সে মনে মনে বলল, “তুমি শুধু আমার আব্বু। কিন্তু কেন মনে হচ্ছে, আমি তোমাকে অন্যভাবে চাইছি? কেন ইচ্ছে করছে তোমার এই কান্নাভেজা ঠোঁট দুটোকে আমি..."
সে আর ভাবতে পারল না। তার শরীরের রক্তপ্রবাহ দ্রুততর হলো।
ঘড়ির কাঁটা রাত দুটোর ঘর ছুঁয়েছে। অভিজিৎ বাবু ক্লান্তিতে তিশার কোলেই ঘুমিয়ে পড়েছেন। তার নিঃশ্বাসের শব্দ এখন ধীর ও ছন্দময়।
তিশা নড়ল না। তার পা অবশ হয়ে আসছে, কিন্তু সে এই মুহূর্তটাকে ভাঙতে চায় না। সে একদৃষ্টে আব্বুর ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। ঘুমের মধ্যে মানুষের মুখোশ থাকে না। আব্বুকে এখন খুব নিষ্পাপ, আবার ভীষণভাবে পুরুষালি লাগছে।
তিশার দৃষ্টি গিয়ে আটকে গেল আব্বুর ঠোঁটে। হালকা কালচে, পুরু ঠোঁট। এই ঠোঁট দিয়ে তিনি তাকে 'মা' বলে ডাকেন। কিন্তু আজ তিশার মনে হচ্ছে, এই ঠোঁটের অন্য কোনো কাজও থাকতে পারে।
এক অজানা সম্মোহনে তিশা ধীরে ধীরে মাথাটা নিচু করল। তার খোলা চুলগুলো পর্দার মতো আব্বুর মুখের দুপাশে ঝুলে পড়ল, তাদের দুজনকে পৃথিবীর বাকি অংশ থেকে আলাদা করে দিল।
তিশার হৃদস্পন্দন এখন কানের পর্দায় বাজছে। সে কি ঠিক করছে? না, এটা ভুল। মহাপাপ। কিন্তু পাপের আকর্ষণই যে সবচেয়ে তীব্র!
সে ধীরে ধীরে তোয়ালেটা নিজের মুখের কাছে তুলে আনল। চোখ বন্ধ করে এক গভীর শ্বাস নিল।
শেভিং ফোমের মেন্থল গন্ধ, কড়া সাবানের গন্ধ, আর তার নিচে... তার নিচে এক তীব্র, বুনো, পুরুষালি গন্ধ। এটা আব্বুর গায়ের গন্ধ। এই গন্ধে কোনো খাদ নেই, আছে এক আদিম নেশা। তিশার মস্তিষ্কের কোষে কোষে সেই গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল। তার মনে হলো, এই গন্ধটাই তো সে খুঁজছিল! তার স্বামীর গায়ে ছিল সস্তা পারফিউমের উগ্র গন্ধ, কিন্তু এখানে... এখানে আছে এক নিরাপদ, অথচ ধ্বংসাত্মক নেশা।
তিশা তোয়ালেটা নিজের গালে ঘষে নিল। তোয়ালের খসখসে স্পর্শে তার গাল ছড়ে যাওয়ার উপক্রম হলো, কিন্তু সেই সামান্য ব্যথাই যেন তার ভেতরে সুপ্ত কামনার বারুদে আগুন ধরিয়ে দিল। সে ফিসফিস করে বলল, “আব্বু..."
আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে তিশা চমকে উঠল। তার গাল রক্তিম, চোখ দুটো ঘোলাটে, আর ঠোঁট কাঁপছে। সে বুঝতে পারল, সে এক বিপজ্জনক খাদের কিনায় এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সে এটাও বুঝতে পারল, এই খাদে ঝাঁপ দেওয়ার প্রলোভন সামলানো তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
বিকেলের পড়ন্ত রোেদ গঙ্গার জলে হীরের কুচির মতো চিকচিক করছে। প্রিন্সেপ ঘাটের সাদা থামগুলোর আড়ালে প্রেমিক-প্রেমিকাদের ভিড়। এই ভিড়ের মাঝেও তিশা আর অভিজিৎ সাহেবকে আলাদা করে চোখে পড়ে।
আজ আব্বুর পরনে একটা নেভি-ব্লু ফিটেড পোলো টি-শার্ট আর হালকা ছাই রঙের ট্রাউজার্স। চোখে রে-ব্যান সানগ্লাস। ৪৫ বছর বয়সেও তার বাইসেপসের গঠন টি-শার্টের হাতা ফুঁড়ে বের হতে চায়। অন্যদিকে তিশা পরেছে একটা স্লিভলেস সালোয়ার কামিজ, ওডনাটা একপাশে লতামো।
ওরা যখন গঙ্গার পাড় ধরে হাঁটছিল, তিশা লক্ষ্য করল আশেপাশের মানুষের দৃষ্টি। বিশেষ করে কলেজপড়ুয়া মেয়েগুলো আর মাঝবয়সী মহিলারা আড়চোখে আব্বুর দিকে তাকাচ্ছে। তাদের চোখে বিস্ময় আর লোলুপতার মিশ্রণ। তারা হয়তো ভাবছে, এই সুপুরুষ মানুষটির পাশে এই তরুণীটি কে? মেয়ে? নাকি অল্পবয়েসী প্রেমিকা?
অন্য সময় হলে তিশা অস্বস্তি বোধ করত। কিন্তু আজ? আজ ওর বুকের ভেতর একটা অদ্ভুত গর্বের স্রোত বয়ে গেল। ওর মনে হলো, “এই মানুষটা আমার। শুধুই আমার। আমার প্রাক্তন স্বামী অর্ক তো ছিল একটা কুঁজো, আর আমার আব্বু যেন গ্রিক দেবতা।”
“কী রে মা, আইসক্রিম খাবি?” আব্বু সানগ্লাসটা কপালে তুলে জিজ্ঞেস করলেন। তার চোখের কোণে সেই ভুবনভোলানো হাসি।
“না আব্বু, শুধু হাঁটব। তোমার হাত ধরে হাঁটতে ইচ্ছে করছে,” তিশা আবদার করে বসল।
অভিজিৎ বাবু একটু অবাক হলেন, কিন্তু আপত্তি করলেন না। তিনি হাত বাড়িয়ে দিলেন। তিশা আব্বুর বলিষ্ঠ হাতটা নিজের দুই হাতের মধ্যে জড়িয়ে ধরল। আব্বুর হাতের তালুটা খসখসে, গরম আর শক্ত। সেই হাতের স্পর্শ পেতেই তিশার শরীরের ভেতর একটা বিদ্যুৎ খেলে গেল। সে ইচ্ছে করেই নিজের নরম বুকের পাশটা আব্বুর হাতের সাথে একটু চেপে ধরল। এটা কি খুব বেশি হয়ে গেল? তিশা নিজেকে প্রশ্ন করল। কিন্তু সে হাতটা সরাল না।
একটা বেঞ্চে বসার পর গঙ্গার ফুরফুরে বাতাস তিশার চুলগুলোকে এলোমেলো করে দিচ্ছিল। অভিজিৎ বাবু পরম যত্নে তিশার মুখের ওপর থেকে অবাধ্য চুলগুলো সরিয়ে কানে গুঁজে দিলেন। তার আঙুলের ডগাটা আলতো করে তিশার কপাল আর কানে লতি স্পর্শ করল।
সেই মুহূর্তটুকু ছিল অনন্তকালের মতো। তিশার মনে হলো, কোনো বাংলা চটি গল্পের পাতায় পড়া নিষিদ্ধ রোমান্সের নায়িকার মতো লাগছে নিজেকে। আব্বুর এই যত্ন, এই স্পর্শ-এগুলো কি শুধুই বাৎসল্য? নাকি এর গভীরে লুকিয়ে আছে এক পুরুষের অবদমিত প্রেম, যা সে নিজেও জানে না?
দিন কয়েক পরের কথা। অফিস থেকে ফেরার পথে আব্বু সাথে করে এক মহিলাকে নিয়ে এলেন। নাম পূজা ব্যানার্জী, আব্বুর অফিসের সহকর্মী। ডিভোর্সি, বয়স চল্লিশের কোঠায়, বেশ চটপটে এবং সাজগোজ করা ভদ্রমহিলা।
"তিশা, ইনি পূজা আন্টি। আজ ওদিকে কাজ ছিল, তাই ভাবলাম এক কাপ চা খেয়ে যাই,” আব্বু পরিচয় করিয়ে দিলেন।
পূজা আন্টি একটু বেশিই হাসিখুশি। ড্রয়িংরুমে বসতে না বসতেই তিনি আব্বুর সাথে খুনসুটি শুরু করলেন। “উফ অভিজিৎ , তোমার এই ফ্ল্যাটটা দারুণ! আর তুমি তো দিন দিন ইয়াং হচ্ছো। সিক্রেটটা কী বলো তো?"
কথাটা বলতে বলতেই পূজা আন্টি হাসতে হাসতে আব্বুর কাঁধে হাত রাখলেন।
এই দৃশ্যটা দেখা মাত্রই পূজার মাথার ভেতরটা দপ করে জ্বলে উঠল। একটা তীব্র, আদিম ঈর্ষা তার শিরা-উপশিরায় ছড়িয়ে পড়ল। তার মনে হলো, ওই মহিলা তার নোংরা হাত দিয়ে আব্বুকে অপবিত্র করে দিচ্ছে। আব্বুর কাঁধ, আব্বুর হাসি-সব তো তিশার একার সম্পত্তি! অন্য কেউ কেন ভাগ বসাবে?
চা নিয়ে আসার সময় তিশা ইচ্ছে করেই ট্রে-টা একটু জোরে টেবিলে রাখল। শব্দে পূজা আন্টি চমকে তাকালেন।
"সরি, হাতটা স্লিপ করে গেল,” তিশা নির্লিপ্ত মুখে বলল।
তারপর সে কোনো ভদ্রতার তোয়াক্কা না করে সোফায় গিয়ে বসল-ঠিক আব্বু আর পূজা আন্টির মাঝখানে। জায়গাটা খুব কম ছিল, কিন্তু তিশা জোর করে নিজেকে ওখানের গুঁজে দিল।
“আব্বু, আমার না মাথাটা খুব ধরেছে,” তিশা আব্বুর ডান হাতটা নিজের দুই হাতের মুঠোয় নিয়ে নিজের কপালের কাছে টেনে নিল। তার শরীরটা আব্বুর শরীরের সাথে একেবারে লেপ্টে রইল। সে আড়চোখে পূজা আন্টির দিকে তাকাল। তার দৃষ্টিতে ছিল এক নীরব হুমকি-"দূরে থাকো। এই এলাকা আমার।"
অভিজিৎ বাবু একটু অপ্রস্তুত বোধ করলেন, কিন্তু মেয়ের অসুস্থতার কথা শুনে চিন্তিত হয়ে পড়লেন। "কী হয়েছে মা? বেশি কষ্ট হচ্ছে? আমি কি ওষুধ এনে দেব?” তিনি পূজা আন্টির উপস্থিতি প্রায় ভুলেই গেলেন।
তিশার নরম নিতম্ব আর উরু যখন অভিজিতের উরুর সাথে ঘষা খাচ্ছিল, তখন তিনি অস্বস্তি আর এক অদ্ভুত ভালোলাগার দ্বন্দ্বে ভুগছিলেন। মেয়ের শরীরের এই উষ্ণতা, এই অধিকারবোধ তাকে বিভ্রান্ত করছিল। পূজা আন্টি পরিস্থিতিটা বুঝে কিছুক্ষণ পরেই বিদায় নিলেন।
তিনি চলে যেতেই তিশা আব্বুর হাত ছেড়ে দিল, কিন্তু তার বুকের ভেতর বিজয়ের আনন্দ। সে প্রমাণ করে দিয়েছে, আব্বুর জীবনে অন্য কোনো নারীর স্থান নেই।
সেদিন রাতে বাইরে অঝোরে বৃষ্টি পড়ছিল। আকাশ ভাঙা বৃষ্টি আর মেঘের গর্জনে পরিবেশটা হয়ে উঠেছিল থমথমে। ডিনারের পর তিশা দেখল আব্বু নিজের ঘরে পুরনো ট্রাঙ্ক খুলে বসে আছেন। মেঝেতে ছড়ানো পুরনো অ্যালবাম।
তিশা দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। আব্বু একটা কালো-সাদা ছবির দিকে তাকিয়ে আছেন। মায়ের ছবি।
"আব্বু?” সারা মৃদু ডাকল।
অভিজিৎ বাবু মুখ তুললেন। তার চোখ দুটো জবা ফুলের মতো লাল, গাল বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। এই ইস্পাত-কঠিন মানুষটাকে এভাবে ভেঙে পড়তে দেখে তিশার কলিজাটা মোচড় দিয়ে উঠল।
তিশা ছুটে গিয়ে আব্বুর পাশে হাঁটু গেড়ে বসল। “কী হয়েছে আব্বু? কাঁদছ কেন?”
অভিজিৎ রুদ্ধগলায় বললেন, “আমি তোর আম্মিকে কথা দিয়েছিলাম তোকে সুখে রাখব। কিন্তু আমি পারিনি রে মা। আমি তোকে চিনতে ভুল করেছি, ভুল পাত্রে তোকে তুলে দিয়েছি। তোর জীবনটা নষ্ট করে দিলাম আমি..."
তার কান্নাটা বাঁধ মানল না। একজন পিতার অক্ষমতার হাহাকার যেন বৃষ্টির শব্দের সাথে মিশে গেল। তিশা বুঝতে পারল, আব্বুর এই কান্না শুধু মেয়ের কষ্টের জন্য নয়, এটা দীর্ঘদিনের একাকীত্ব, সঙ্গীহীন জীবনের জমানো ব্যথার বিস্ফোরণ।
“চুপ করো আব্বু, প্লিজ চুপ করো। তুমি তো কোনো ভুল করোনি,” তিশা আব্বুকে দুহাতে জড়িয়ে ধরল। আব্বুর মুখটা সে টেনে নিল নিজের বুকের কাছে।
কান্নার আবেগে ক্লান্ত হয়ে অভিজিৎ বাবু তিশার কোলেই মাথাটা এলিয়ে দিলেন। মেঝেতে বসে তিশা পা ছড়িয়ে দিল, আর তার নরম, মাংসল উরুর ওপর আশ্রয় নিল আব্বুর ভারি মাথাটা।
বাইরে বিদ্যুতের চমকানি, ঘরের আলো-আঁধারিতে এক মায়াবী পরিবেশ। তিশা আব্বুর চুলে হাত ডুবিয়ে দিল। আব্বুর চুলগুলো এখন একটু পাকা, কিন্তু ভীষণ ঘন। তিশা আঙুল দিয়ে আব্বুর স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করে দিতে লাগল। তার নখগুলো যখন আব্বুর মাথার তালুতে হালকা আঁচড় কাটছিল, তখন আব্বু আরাম পেয়ে চোখ বুজলেন। “উহ্... মা রে... খুব আরাম লাগছে,” আব্বু বিড়বিড় করলেন। তার গলাটা এখন খাদে নামা, নেশাতুর।
তিশার হাতটা চুল থেকে নেমে এল আব্বুর কপালে, তারপর গালে। আব্বুর গালে আজ শেভ করা হয়নি, একদিনের না-কামানো দাড়ি তিশার নরম তালুতে সুড়সুড়ি দিচ্ছে। এই খসখসে স্পর্শটা তিশার শরীরে এক অদ্ভুত শিহরণ জাগাল। সে আঙুল দিয়ে আব্বুর চোখের পাতা, নাকের তীক্ষ্ণ রেখা আর ঠোঁটের কোেণ স্পর্শ করতে লাগল।
তার মনে হলো, এই কোলে শুয়ে থাকা মানুষটা কি শুধুই তার পিতা? নাকি এক অসহায় শিশু, যে মায়ের আশ্রয় খুঁজছে? নাকি... নাকি এক ক্লান্ত প্রেমিক, যে তার প্রেমিকার কাছে শান্তি ভিক্ষা করছে?
তিশার উরুর ওপর আব্বুর গরম নিঃশ্বাস পড়ছে। প্রতিবার শ্বাস ছাড়ার সময় সেই উষ্ণ বাতাস সারার পাতলা পাজামা ভেদ করে তার গোপনাঙ্গের খুব কাছাকাছি পৌঁছে। তিশার যোনিপথ নিজের অজান্তেই ভিজে উঠল। এক নিষিদ্ধ কামরস তার শরীরের ভেতর চুইয়ে পড়তে লাগল। সে ভয় পেল, আবার একই সাথে চাইল-আব্বুর মাথাটা যেন সেখান থেকে আর না সরে।
সে মনে মনে বলল, “তুমি শুধু আমার আব্বু। কিন্তু কেন মনে হচ্ছে, আমি তোমাকে অন্যভাবে চাইছি? কেন ইচ্ছে করছে তোমার এই কান্নাভেজা ঠোঁট দুটোকে আমি..."
সে আর ভাবতে পারল না। তার শরীরের রক্তপ্রবাহ দ্রুততর হলো।
ঘড়ির কাঁটা রাত দুটোর ঘর ছুঁয়েছে। অভিজিৎ বাবু ক্লান্তিতে তিশার কোলেই ঘুমিয়ে পড়েছেন। তার নিঃশ্বাসের শব্দ এখন ধীর ও ছন্দময়।
তিশা নড়ল না। তার পা অবশ হয়ে আসছে, কিন্তু সে এই মুহূর্তটাকে ভাঙতে চায় না। সে একদৃষ্টে আব্বুর ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। ঘুমের মধ্যে মানুষের মুখোশ থাকে না। আব্বুকে এখন খুব নিষ্পাপ, আবার ভীষণভাবে পুরুষালি লাগছে।
তিশার দৃষ্টি গিয়ে আটকে গেল আব্বুর ঠোঁটে। হালকা কালচে, পুরু ঠোঁট। এই ঠোঁট দিয়ে তিনি তাকে 'মা' বলে ডাকেন। কিন্তু আজ তিশার মনে হচ্ছে, এই ঠোঁটের অন্য কোনো কাজও থাকতে পারে।
এক অজানা সম্মোহনে তিশা ধীরে ধীরে মাথাটা নিচু করল। তার খোলা চুলগুলো পর্দার মতো আব্বুর মুখের দুপাশে ঝুলে পড়ল, তাদের দুজনকে পৃথিবীর বাকি অংশ থেকে আলাদা করে দিল।
তিশার হৃদস্পন্দন এখন কানের পর্দায় বাজছে। সে কি ঠিক করছে? না, এটা ভুল। মহাপাপ। কিন্তু পাপের আকর্ষণই যে সবচেয়ে তীব্র!

