Thread Rating:
  • 1 Vote(s) - 5 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5

The Barter System (By:andygarfield)
#6

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: স্মৃতির নদী ও চেনা ওম


৫.১. পরীক্ষা এবং শর্তপূরণ

ভারতের রসায়নবিদদের ইতিহাস এবং প্রাচীন রসায়নচর্চার ওপর করা ওই তিনটে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় রাহুলের গলার স্বর একবারের জন্যও কাঁপেনি। বিছানায় আধশোয়া অবস্থায় ইন্দিরার কঠিন, তীক্ষ্ণ চাউনি যখন ওর মুখের ওপর স্থির, সে তখন নিজের সমস্ত মনোযোগ একত্র করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে প্রতিটি ঐতিহাসিক তথ্য আর বিজ্ঞানীদের অবদানের কথা বিশ্লেষণ করছিল। প্রথম প্রশ্নটা ছিল আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের ‘মারকিউরাস নাইট্রাইট’ আবিষ্কারের প্রেক্ষাপট নিয়ে; দ্বিতীয়টা ছিল প্রাচীন ভারতের ধাতুবিদ্যা বা মেটালার্জি—বিশেষ করে দিল্লির লৌহস্তম্ভের রাসায়নিক গঠন নিয়ে; আর শেষ প্রশ্নটা ছিল নাগার্জুনের 'রসরত্নাকর' গ্রন্থের মূল নির্যাস সম্পর্কে।

ওঁর সেই প্রাজ্ঞ, অধ্যাপকোচিত মুখোশের আড়ালে যে একটা তীব্র কৌতূহল ও মুগ্ধতা লুকিয়ে ছিল, রাহুল তা স্পষ্ট টের পাচ্ছিল। তৃতীয় প্রশ্নের উত্তরের শেষ বাক্যটা যখন সে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে শেষ করল, ঘরে তখন কয়েক মুহূর্তের এক পিনপতন নীরবতা নেমে এল।

ইন্দিরা নিজের মনে মনে তৈরি করা প্রশ্নপত্রের এই নিখুঁত উত্তর শুনে ক্ষণিকের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলেন। তারপর, একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে শূন্যে একটা অদৃশ্য নোটবুক বন্ধ করার ভান করে হাতটা বেডসাইড টেবিলে রাখলেন। ওঁর মুখের সেই কড়া শিক্ষিকার ভাবটা এক লহমায় গলে গিয়ে সেখানে এক প্রচ্ছন্ন পরাজয়ের, কিন্তু পরম গর্বের হাসি ফুটে উঠল।

"একদম ঠিক," তিনি মাথাটা সামান্য দোলালেন, কণ্ঠে এক কৃত্রিম বিরক্তির ছোঁয়া। "তুই সত্যিই বড্ড জেদি, রাহুল। একটা তথ্যেও ভুল করলি না! আমি তো আশা করেছিলাম অন্তত নাগার্জুনের বইটার ব্যাপারে বলতে গিয়ে তুই একটু হোঁচট খাবি, আর আমি তোকে সোজা তোর পড়ার টেবিলে পাঠিয়ে দিতে পারব।"

"আমি তোমাকে কথা দিয়েছিলাম মা," রাহুল বিছানায় আরেকটু সোজা হয়ে বসে বলল, চোখে তখন এক অদম্য জয়ের আনন্দ। "বলেছিলাম আমি সব পারব। আর এখন... আমাদের নতুন চুক্তি অনুযায়ী..."

"জানি, জানি," ইন্দিরা হাত তুলে ওকে থামিয়ে দিলেন, মুখে তখন সেই চেনা কৃত্রিম রাগ যা তিনি এই অবাধ্য ছাত্রটির সামনে প্রায়শই প্রকাশ করে থাকেন। "আই অ্যাম আ ওম্যান অফ মাই ওয়ার্ড। ডক্টর ইন্দিরা সেন নিজের সই করা কন্ট্রাক্ট কোনোদিন ব্রেক করেন না। কিন্তু খবরদার! এটা নিয়ে পরে যদি একটাও ইয়ার্কির কথা শুনেছি..."

কথাটা শেষ না করেই তিনি বিছানায় সামান্য সোজা হয়ে বসলেন। শাড়ির ভারী আঁচলটা তো আগেই সরিয়ে রাখা ছিল। ওঁর নড়াচড়ার মধ্যে এক ধরনের ধীরতা ছিল, যা এই নিষিদ্ধ মুহূর্তের তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছিল। তিনি হাত বাড়িয়ে সিল্কের ব্লাউজের বোতামগুলো একে একে আলগা করতে লাগলেন। প্রতিটি বোতাম খোলার মৃদু শব্দ যেন এই শান্ত ঘরের বাতাসে এক গভীর প্রতিধ্বনির মতো শোনাল।

ব্লাউজটি শরীর থেকে সরিয়ে বিছানার পাশে রাখতেই ওঁর ফর্সা, মসৃণ কাঁধ এবং পিঠের উপরিভাগ টেবিল ল্যাম্পের উষ্ণ হলুদ আলোয় এক মায়াবী রূপ ধারণ করল। সিল্কের আবরণের নিচে থাকা গাঢ় রঙের, সূক্ষ্ম লেইস ও সুতোর ভারী কাজ করা অন্তর্বাসটি এখন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। সেই স্বল্প আবরণে তাঁকে এক অদ্ভুত, স্নিগ্ধ অথচ রাজকীয় দেখাচ্ছিল। রাহুলের চোখদুটো স্থির হয়ে গেল। সে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল মায়ের এই অপরূপ সৌন্দর্যের দিকে। এই প্রাজ্ঞ, গম্ভীর নারী—যাঁকে ইউনিভার্সিটির করিডোরে দেখলে সবাই সম্ভ্রমে পথ ছেড়ে দেয়—তিনি আজ কেবলই তার আবদার মেটানোর জন্য নিজের সামাজিক বর্মটুকু খুলে ফেলেছেন। টেবিল ল্যাম্পের আলো ইন্দিরার গলার খাঁজে, কলারবোনে, উন্মুক্ত কাঁধে এবং অন্তর্বাসের লেইসের ওপর একটা নরম, সোনালি আভা তৈরি করেছিল। রাহুলের দৃষ্টিতে কোনো কুণ্ঠা ছিল না, ছিল কেবল এক গভীর, পবিত্র শ্রদ্ধা এবং তীব্র ভালোবাসা।

"কী রে? ওভাবে কী দেখছিস? আয়," ইন্দিরা নরম গলায় বললেন।

রাহুল আর সময় নষ্ট না করে আবার ওঁর দিকে এগিয়ে এল এবং নিজের অনাবৃত বুকটা নিয়ে ওঁর বুকে লেপ্টে শুয়ে পড়ল। ওঁর কাঁধের চেনা খাঁজে মুখ গুঁজে দিয়ে গভীর একটা শ্বাস নিল সে।

কিন্তু কয়েক মুহূর্ত পেরোতেই রাহুলের কপালে আবার একটা সূক্ষ্ম ভাঁজ পড়ল। অস্বস্তিটা যায়নি, বরং যেন আরও বেড়ে গেছে। সিল্কের ব্লাউজটা সরে যাওয়ার পর এখন ওর খালি বুকের ত্বক সরাসরি ঘষা খাচ্ছে ইন্দিরার অন্তর্বাসের সাথে। সুতোর ভারী কাজ করা, লেইস দেওয়া এই অন্তর্বাসটি ব্লাউজের চেয়েও অনেক বেশি খসখসে। রাহুলের নরম ত্বকে সেটা রীতিমতো কুটকুট করে বিঁধছে।

রাহুলের বুকের ভেতরটা ছ্যাঁত করে উঠল। 'এখন কী করব?' সে মনে মনে ভাবল। 'ব্লাউজটা খোলার জন্য তো তাও একটা পরীক্ষা দিলাম, কিন্তু এখন যদি আমি এই ব্রা-টাও খোলার কথা বলি, মা নির্ঘাত আমাকে ঘর থেকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেবে। এটা বড্ড বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে। তার চেয়ে বরং আমি সহ্য করে নিই। মা যে এতক্ষণ আমাকে বুকে জড়িয়ে শুয়ে আছে, এটাই তো আমার অনেক বড় ভাগ্য।'

সে একটু নড়েচড়ে শুয়ে কষ্টটা মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু ঘর্ষণটা অস্বস্তিকর।

"মা?" রাহুল খুব নিচু, দ্বিধাগ্রস্ত গলায় ডাকল।

"হুম? কী হলো?" ইন্দিরা ওর চুলে হাত বোলাতে বোলাতেই সাড়া দিলেন।

রাহুল এক ঢোক গিলল। "না... মানে..." সে একটু চুপ করে থেকে বলল, "না, কিছু না।"

ইন্দিরার হাত বোলানো একটু ধীর হলো। তিনি রাহুলের মাথার ওপর নিজের থুতনিটা সামান্য ঠেকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "কী হলো রে সোনা? বল?"

"নেভারমাইন্ড, কিছু না..." রাহুল জোর করে একটা হাসির ভান করে বলল, "জাস্ট বলছিলাম... আমার যে কী ভালো লাগছে এখন... আমি খুব হ্যাপি মা। তোমাকে বোঝাতে পারব না।"

ইন্দিরা হাসলেন, কিন্তু ওঁর মনের ভেতর একটা সূক্ষ্ম খটকা কাজ করতে শুরু করল। ছেলেটা বারবার নড়াচড়া করছে কেন? শরীরটা কি খারাপ লাগছে ওর? সারাদিন পরীক্ষার একটা ধকল গেছে, হয়তো কোনো মাসল ক্র্যাম্প বা কিছু? তিনি খুব সন্তর্পণে রাহুলের শ্বাসপ্রশ্বাস এবং নড়াচড়া খেয়াল করতে লাগলেন।

অস্বস্তিটা ঢাকার জন্য রাহুল এবার বকবক করতে শুরু করল। "জানো মা, আজ পরীক্ষার আগে আমি খুব নার্ভাস ছিলাম। তারপর হঠাৎ করে দাসগুপ্ত স্যারের কথা মনে পড়ল। মানে আমাদের কেমিস্ট্রির দাসগুপ্ত স্যার, তুমি তো চেনো..."

ইন্দিরার মন তখন অন্য জায়গায়। তিনি নিজের বুকের কাছে রাহুলের বারবার সামান্য সরে যাওয়া আর চেপে বসার ধরনটা নোটিস করছিলেন। হঠাৎ তাঁর মাথায় বিদ্যুৎঝলকের মতো সত্যিটা আছড়ে পড়ল। 'ব্লাউজটা খোলার পর তো এখন শুধু অন্তর্বাসটাই আছে। আর সেটার লেইসগুলো তো সিল্কের চেয়েও অনেক বেশি খসখসে। ও কি... ও কি ওটার জন্যই কষ্ট পাচ্ছে?'

ইন্দিরার বুকের ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠল। ছেলেটা কষ্ট পাচ্ছে, কিন্তু মায়ের কাছে আর কোনো আবদার করতে সাহস পাচ্ছে না ভেবে মুখ বুজে সহ্য করে যাচ্ছে! তিনি কী করবেন এখন? একজন উনিশ বছরের ছেলের সামনে নিজের অন্তর্বাস খুলে ফেলা? এটা কি ঠিক হবে? সমাজ, সংস্কার, একজন প্রফেসরের গাম্ভীর্য—সবকিছু যেন ওঁর মনের ভেতর তুমুল আলোড়ন তুলতে শুরু করল।

ওঁর দৃষ্টি ঘরের দেওয়ালের দিকে ঘুরে গেল। সেখানে ঠিক টেবিল ল্যাম্পের আলোর সীমানার বাইরে ঝুলছে শ্রীকৃষ্ণের একটি বাঁধানো ছবি। ছবির ফ্রেমের ওপর হালকা আলোর ছটা এসে পড়েছে। ইন্দিরা সেই ছবির দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন। তিনি যেন জাগতিক জগৎ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বে হারিয়ে গেলেন।

আর এদিকে রাহুল নিজের অস্বস্তিটা ভুলতে একটানা কথা বলে চলেছে। "...দাসগুপ্ত স্যার তো সেদিন ল্যাবে ঢুকেই ভীষণ রেগে গেলেন। কেউ একজন নাকি বিকার ঠিক করে ধোয়নি। উনি এমনভাবে চেল্লাতে শুরু করলেন যে পুরো ল্যাবরেটরিতে একদম সাইলেন্স নেমে এল..."

"হুম..." ইন্দিরা ছবির দিকে তাকিয়েই যন্ত্রের মতো উত্তর দিলেন।

"...তারপর আমি দেখলাম যে ওটা আসলে আমার পেছনের বেঞ্চের ছেলেটার কাজ ছিল। কিন্তু স্যার তো শুনবেনই না। আমি ভাবলাম বুঝি প্র্যাক্টিকালে জিরো বসিয়ে দেবেন..."

"হ্যাঁ..."

"...মা, তুমি কি শুনছ?" রাহুল হঠাৎ একটু মুখ তুলে জিজ্ঞেস করল।

ইন্দিরা এক লহমায় বাস্তবে ফিরে এলেন। ছবির দিক থেকে চোখ সরিয়ে একটু চমকে উঠে বললেন, "অ্যাঁ? হ্যাঁ হ্যাঁ, শুনছি তো। তারপর কী হলো দাসগুপ্ত স্যারের?"

"তারপর আর কী, অনেক কষ্টে স্যারকে বোঝানো গেল..." রাহুল আবার বলতে শুরু করল, আর ইন্দিরা আবার সেই কৃষ্ণের ছবির দিকে তাকিয়ে নিজের ভাবনায় তলিয়ে গেলেন।

'ও তো আমার নিজের নাড়িছেঁড়া ধন,' ইন্দিরার ভেতরের মাতৃত্ব যেন সমাজের সমস্ত নিয়মকে চ্যালেঞ্জ করে বসল। 'ও কষ্ট পাচ্ছে, আর আমি এখানে সংস্কার নিয়ে বসে আছি? কিসের সংস্কার? কার জন্য? এই তো আমার সেই ছোট্ট রাহুল, যে একটু আগেও আমার বুকে মাথা ঘষে আদর খাচ্ছিল। ওর কাছে আমার আবার কিসের লুকোছাপা?'

হঠাৎ করেই ইন্দিরার সমস্ত দ্বন্দ্ব কেটে গেল। এক গভীর, শর্তহীন এবং অনন্ত মাতৃস্নেহ তাঁর সমস্ত আড়ষ্টতাকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল। তিনি মাঝপথেই রাহুলের কথা থামিয়ে দিয়ে ডাকলেন, "রাহুল?"

"কী মা?" রাহুল কথা থামিয়ে ওঁর গলার দিকে মুখ রেখে জিজ্ঞেস করল।

"একটু উঠে বোস তো সোনা।"

রাহুল এবার সত্যিই বেশ ঘাবড়ে গেল। ওঁর কথায় কোনো রাগ ছিল না ঠিকই, কিন্তু এক অদ্ভুত গাম্ভীর্য ছিল। সে বাধ্য ছাত্রের মতো ধড়ফড় করে সোজা হয়ে বসল। "কী হলো মা? এনিথিং রং? তোমার কি শরীর খারাপ লাগছে?"

ইন্দিরাও পিঠ থেকে বালিশটা সরিয়ে বিছানায় সোজা হয়ে বসলেন। তিনি রাহুলের চোখের দিকে তাকালেন। ওঁর সেই সুন্দর, প্রাজ্ঞ চোখদুটো আজ কোনো শিক্ষিকার চোখ নয়—সেগুলো এখন আবেগে, মমতায় এবং এক অসীম ভালোবাসায় টলটল করছে। সেই চোখের গভীরে এমন এক সর্বগ্রাসী মাতৃত্বের রূপ ছিল যা দেখে রাহুলের বুকের ভেতরটা এক অদ্ভুত শ্রদ্ধায় ও ভালোবাসায় কেঁপে উঠল। পরিস্থিতিটা এতটাই ভারী আর সূক্ষ্ম হয়ে উঠেছে যে ঘরের নীরবতা যেন কানে তালা লাগিয়ে দিচ্ছিল।

"মা? কী হয়েছে?" রাহুল আবারও জিজ্ঞেস করল, ওর গলার স্বর এবার সত্যিই চিন্তিত।

ইন্দিরা একদৃষ্টে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর অত্যন্ত নিবিড়, প্রায় ফিসফিস করা একটা অস্ফুট স্বরে বিড়বিড় করে বললেন, "তোর কোনো কষ্ট মা দেখতে পারে না রে সোনা..."

কথাটা এতটাই আস্তে বলা হয়েছিল যে রাহুল পুরোপুরি শুনতেও পেল না। "কী বললে মা? আমি ঠিক শুনতে পেলাম না।" সে প্রশ্ন করতে যাবে, ঠিক তখনই সে দেখল ইন্দিরা তাঁর দুই হাত নিজের পিঠের দিকে নিয়ে গেলেন।

রাহুলের চোখের সামনেই, অত্যন্ত ধীর এবং সাবলীল ভঙ্গিতে ইন্দিরার আঙুলগুলো তাঁর অন্তর্বাসের হুকগুলো খুঁজে নিল। একটা মৃদু 'ক্লিক' শব্দ হলো, আর পিঠের ওপর আটকে থাকা ইলাস্টিকের টানটা এক মুহূর্তে আলগা হয়ে গেল। তিনি কাঁধ থেকে সরু ফিতে দুটো নামিয়ে দিলেন, এবং রেশমি সুতোর সেই আবরণটি ওঁর শরীর থেকে খসে বিছানার ওপর লুটিয়ে পড়ল।

রাহুল স্তব্ধ হয়ে বসে রইল। ওর চোখদুটো বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে গেছে, বুকের ভেতর হৃৎস্পন্দনের গতি এত তীব্র যে ও নিজের কানের কাছে সেই আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিল। ও ওঁর দিকে তাকাল—লজ্জা, বিস্ময় আর পরম শ্রদ্ধার এক অদ্ভুত মিশ্রণ ওর চোখে। এই প্রথম সে ওঁর এই রূপটা দেখছে। সে ওঁর ছেলে, ওঁর শরীরেরই এক অংশ, কিন্তু আজ এই যুবকের চোখে ইন্দিরা কেবলই একজন জননী নন—তিনি এক পরম রূপবতী নারী, এক সর্বংসহা মা, যিনি নিজের সমস্ত সামাজিক বর্ম ও লজ্জা খুলে আজ কেবলই ছেলের সামান্যতম কষ্ট দূর করার জন্য নিজেকে সম্পূর্ণ সমর্পণ করেছেন। ওঁর অনাবৃত বক্ষ আর সুডৌল শরীরের এই নিভৃত সৌন্দর্য রাহুলকে এক গভীর ঘোরের মধ্যে ঠেলে দিল।

ওর এই আড়ষ্টতা দেখে ইন্দিরার মুখের সেই সামান্য গাম্ভীর্যটুকু মুহূর্তের মধ্যে মিলিয়ে গেল। ওঁর চোখজোড়া আরও নরম হয়ে এল, সেখানে এক পরম আশ্বাস আর স্নেহের নদী বয়ে গেল। তিনি নিজেই একটু এগিয়ে এলেন ওর দিকে, অনাবৃত হাত বাড়িয়ে ওর থতমত খেয়ে যাওয়া গাল দুটো আলতো করে ছুঁলেন।

"কী হলো, সোনা?" তিনি অত্যন্ত মৃদু, নিচু স্বরে বললেন, গলার স্বর যেন এক শীতল প্রলেপের মতো ওর সমস্ত স্নায়বিক উত্তেজনাকে জুড়িয়ে দিল। "এতক্ষণ তো কত কথা বলছিলিস... এখন এভাবে কাঠের পুতুলের মতো জমে গেলি কেন? ভয় পাচ্ছিস?"

রাহুল এক ঢোক গিলল। "আমি... আমি ঠিক বুঝতে পারছি না, মা। তুমি... তোমাকে বড্ড অন্যরকম লাগছে।"

"ধুর পাগল," ইন্দিরা আলতো করে ওর গালে একটা টোকা দিলেন, ওঁর সত্তার গভীর থেকে এক চেনা মাতৃত্বের ওম তখন পুরো অবয়বে ছড়িয়ে পড়েছে। "অন্যরকম কেন লাগবে? এটা তো আমি... তোর মা। এই শরীরের ভেতরেই তো তুই নটা মাস ছিলি, মনে নেই? আমার থেকে লজ্জা পাওয়ার বা আমাকে দেখে ভয় পাওয়ার তো কিছু নেই, সোনা। আয়।"


৫.২. একাত্ম হওয়া ও হারানো স্মৃতির খোঁজ

কথাটা বলে ইন্দিরা বিছানার মাঝখানে আরেকটু পিছিয়ে গেলেন এবং বালিশ দুটো টেনে নিয়ে ধীর ভঙ্গিতে শুয়ে পড়লেন। ওঁর অনাবৃত পিঠ আর কাঁধ বিছানার চাদরের নরম স্পর্শ পেল। তিনি এক হাত বাড়িয়ে রাহুলকে ওঁর পাশে শুয়ে পড়ার ইশারা করলেন।

রাহুল আর এক মুহূর্তও দেরি করল না। সে ওঁর ঠিক পাশে, একদম সমান্তরালে শুয়ে পড়ল। ইন্দিরা আলতো করে একপাশে কাত হলেন, ওঁর পুরো শরীরটাকে রাহুলের দিকে ফিরিয়ে দিলেন, আর রাহুলও ওঁর দিকে ঘুরে ওঁর আরও কাছাকাছি এগিয়ে এল। তাঁদের মাঝখানের সামান্য দূরত্বটুকুও মুছে গেল যখন রাহুল নিজের অনাবৃত বুকটা ওঁর নরম, উষ্ণ স্তন ও উদরের ওপর পুরোপুরি সঁপে দিল। সে কোমরের ওপর এক হাত জড়িয়ে ধরে ওঁর অনাবৃত পিঠটা নিজের হাতের মুঠোয় নিল, আর নিজের মুখটা গুঁজে দিল ওঁর কাঁধের চেনা ভাঁজে। ইন্দিরাও ওঁর অন্য হাতটি দিয়ে রাহুলের মাথাটা নিজের বুকের সাথে আরও নিবিড়ভাবে চেপে ধরলেন।

পরম মুহূর্ত।

এক সম্পূর্ণ অন্যরকম অনুভূতিতে রাহুলের চোখদুটো বন্ধ হয়ে এল। ওঁর মসৃণ, উষ্ণ ত্বকের সাথে ওর নিজের ত্বকের এই নিবিড় সংযোগ—এই শারীরিক ছোঁয়াটা ওর মনের ভেতরের সমস্ত সংশয় আর সামাজিক নিষেধের দেওয়ালকে এক তুড়িতে গুঁড়িয়ে দিল। অন্তর্বাসের সেই খসখসে লেইসের কোনো অস্তিত্ব আর নেই; এখন কেবলই এক তুলনাহীন, রেশমি মসৃণ উষ্ণতা। ওঁর গায়ের সেই পরিচিত সুবাস—যা এখন আরও অনেক বেশি তীব্র, অনেক বেশি মাদকীয়—ওকে এক পরম শান্তির জগতে নিয়ে গেল।

"মা..." রাহুল প্রায় ফিসফিসিয়ে উঠল, গলার স্বর আবেগে বুজে আসছিল। "এই ফিলিংসটা... এই ছোঁয়াটা যে কতটা অদ্ভুত সুন্দর, আমি তোমাকে বোঝাতে পারব না। আমার জীবনে এর আগে কোনোদিন এমন ফিল হয়নি। মনে হচ্ছে... মনে হচ্ছে আজ সত্যি সত্যি আমি আমার মায়ের পুরো ভালোবাসাটা পাচ্ছি। একদম নিজের করে।"

ইন্দিরা হাত দুটো ওর পিঠের ওপর বোলাতে লাগলেন, আঙুলগুলো ওর শিরদাঁড়ার ওপর এক শান্ত ছন্দ তৈরি করছিল। ওঁর নিজের বুকের ভেতরটাও এক মাতৃত্বের আদিম আকুলতায় ভারী হয়ে উঠেছিল।

"পাগল ছেলে একটা," তিনি ওর চুলে নিজের মুখ ঘষতে ঘষতে বললেন, বিছানার উষ্ণতায় তাঁদের এই জড়িয়ে থাকা এখন আরও বেশি আরামদায়ক ঠেকছে। "'অদ্ভুত সুন্দর' নাকি! নিজের মা কেই তো জড়াচ্ছিস, এতে অদ্ভুত তো কিছু নেই সোনা। আর লজ্জা পাওয়ারই বা কী আছে? তুই যখন একদম ছোট্ট একটা পুঁচকে ছিলি, তখন তো তুই সারাদিন এভাবেই আমার বুকের ওপর শুয়ে থাকতিস। তুই যখন খুব কাঁদতিস, ডাক্তারবাবু বলতেন তোকে জামাকাপড় ছাড়া আমার এই খোলা বুকে শুইয়ে রাখতে—যাতে তুই আমার হার্টবিট শুনতে পাস। তুই আমার এই বুক থেকেই তোর জীবনের প্রথম খাবার পেয়েছিস, সোনা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তুই এভাবেই আমার গায়ের সাথে গা লাগিয়ে ঘুমিয়ে থাকতিস।"

রাহুল ওঁর বুকের সেই নরম ওমে নিজের মুখটা আরও একটু চেপে ধরল, ওঁর গলার কণ্ঠনালীর পাশে ওর উষ্ণ শ্বাস আছড়ে পড়ছিল। "কিন্তু আমার তো সেইসব দিনের কোনো মেমোরি নেই, মা। আমার মনে পড়ে না যে আমি তোমার বুক থেকে দুধ খেয়েছি, বা তোমার এই গায়ের ওম পেয়েছি। সেই জন্যই বোধহয়... আজ যখন এভাবে তোমাকে ছুঁলাম, এটা বড্ড নতুন লাগছে। একটু অদ্ভুত, কিন্তু বড্ড চেনা একটা শান্তি।"

ইন্দিরা একটা হালকা খিলখিল করে হেসে উঠলেন—এক পরম তৃপ্তির হাসি। "কিসব ভারী ভারী কথা বলতে শিখে গেছে আমার ছোট্ট রাহুলটা!" একটু থেমে বললেন, "আরে বাবা তা তো বটেই! মেমোরি থাকবে কী করে? তখন তো তোর মাথায় শুধু একটাই চিন্তা ছিল—কখন খিদে পাবে আর কখন মায়ের বুকে মুখ দিবি! এতো পরীক্ষা, এতো অ্যাসাইনমেন্ট, এতো চাপ তো তখন তোর মাথায় ঘুরত না!"

ওর পিঠের ওপর হাত বোলানো আরও যেন আদুরে হয়ে এল, ওঁর চোখদুটো যেন অনেক বছর পেছনের এক হারিয়ে যাওয়া সোনালি সময়ে ফিরে গেল। ওঁর কোল জুড়ে থাকা সেই ছোট্ট রাহুলটার মুখ চোখের সামনে ভেসে উঠল।

"জানিস রাহুল," ইন্দিরা সেই নিবিড় আলিঙ্গনে আবদ্ধ থেকেই স্মৃতি রোমন্থন করতে করতে বলতে লাগলেন, গলার স্বর এক রূপকথার গল্পের মতো শোনাল, "তুই যখন বড্ড ছোট ছিলি, তখন তোকে সামলানো যে কী কঠিন ছিল! বিশেষ করে ওই খাওয়ানোর সময়টা। তুই কিছুতেই শান্ত হয়ে বসতিস না। আমার শাড়ির আঁচলটা ধরে টানতিস, তোর ওই ছোট্ট ছোট্ট হাত দুটো দিয়ে আমার বুকে কিল-চড় মারতিস। আর যখন তোর পেট ভরে যেত, তুই আমার এই বুকের ওপরেই মুখ রেখে এত সুন্দর করে একটা তৃপ্তির হাসি দিতিস... আমার সারাদিনের সব ক্লান্তি এক লহমায় মুছে যেত।"

রাহুল চুপচাপ শুনছিল কথাগুলো, ওঁর প্রতিটি শব্দ মনের ভেতর এক অদ্ভুত মায়ার জাল বুনছিল।

"শুধু খাওয়ানোর সময়ই নয়," ইন্দিরা একটু মুচকি হেসে যোগ করলেন, আঙুলগুলো ওর কানের লতি ছুঁয়ে গেল। "আরও একটা সময় ছিল যখন আমরা এভাবেই একদম গায়ে গা লাগিয়ে থাকতাম... যখন আমি তোকে স্নান করাতাম।"

রাহুল বুক থেকে মাথাটা সামান্য তুলল, ওর চোখে এক তীব্র কৌতূহল আর বিভ্রান্তি। "স্নান করানোর সময়? কিন্তু তখন তুমি কেন এভাবে থাকতে, মা? তুমি কি নিজের ড্রেস খুলে আমাকে স্নান করাতে?"

ইন্দিরা ওর এই বোকা বোকা প্রশ্নটা শুনে ওর নাকে আলতো করে একটা চিমটি কেটে দিলেন। "ওরে আমার বোকা বিজ্ঞানী! তোর কি মনে হয় আমি শখ করে ওরম করতাম? তুই তখন এতটাই ছোট ছিলি যে একা একা বসতেও পারতিস না। আর তাছাড়া..." তিনি একটু থামলেন, চোখদুটো যেন অতীতের কোনো সুতীব্র অনুভূতির কথা মনে করে আনমনা হয়ে গেল। "তোর জন্মের পর আমার এক অদ্ভুত প্যানিক ডিসঅর্ডার বা ওই ধরনের কিছু একটা শুরু হয়েছিল, জানিস? আমি তোকে এক মুহূর্তের জন্যও চোখের আড়াল করতে পারতাম না। আমার সারাক্ষণ মনে হতো, এই বুঝি তোর কিছু একটা হয়ে যাবে।"

রাহুল অবাক হয়ে বলল, "সত্যি? তুমি এত ভয় পেতে?"

"ভয় মানে? সাংঘাতিক ভয়! তোর বাবার তো ব্যবসার হাজারটা কাজ, আর আমাকেও সকাল সকাল রেডি হয়ে ইউনিভার্সিটিতে লেকচার দিতে ছুটতে হতো। তোর দেখাশোনার জন্য আমরা একটা খুব ভালো আয়া রেখেছিলাম ঠিকই, কিন্তু আমি যতক্ষণ বাড়িতে থাকতাম, ওকে তোর ধারেকাছেও ঘেঁষতে দিতাম না। ইউনিভার্সিটিতে থাকার সময়টুকু বাধ্য হয়েই ওকে তোর দায়িত্ব দিতাম, কিন্তু বাড়িতে থাকলে তোর সব কাজ—তোর খাওয়ানো, ঘুম পাড়ানো, স্নান করানো—সব আমি নিজের হাতে করতাম। আমার কিছুতেই ওই আয়ার ওপর ভরসা হতো না। মনে হতো, যদি ও তোকে স্নান করাতে গিয়ে পিছলে ফেলে দেয়? যদি ওর অবহেলায় তোর নাকে-মুখে জল ঢুকে যায়?"

"বাব্বা! ডক্টর সেনের এত পজেসিভনেস!" রাহুল খিলখিল করে হেসে উঠে মায়ের অনাবৃত বুকে নিজের নাকটা ঘষে দিল।

ইন্দিরা ওর চুলে একটা কৃত্রিম ধমকের সুরে হালকা টান দিলেন। "পজেসিভনেস নয় রে বাঁদর, ওটা হলো মায়ের চিন্তা। তা তোকে স্নান করানোর ওই সময়টা ছিল আমার সারাদিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে আমার ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার তাড়া, নিজে স্নান করে রেডি হতে হবে; অন্যদিকে তোকেও স্নান করাতে হবে। তোকে গামলায় বসিয়ে আমি যদি অন্য ঘরে স্নান করতে যেতাম, আমার হার্টবিট বেড়ে যেত এই ভেবে যে তুই উল্টে পড়ে গেলি কি না। আবার তোকে স্নান করিয়ে তারপর নিজে স্নান করতে গেলে বড্ড দেরি হয়ে যেত।"

"তা হলে এই সমস্যার কী লজিক্যাল সমাধান বের করেছিলেন আমাদের হিস্ট্রি প্রফেসর?" রাহুল মায়ের কাঁধের ভাঁজে মুখ রেখে আদুরে গলায় জানতে চাইল।

"সমাধান একটাই ছিল—দুজনের একসাথে স্নান," ইন্দিরা প্রশ্রয়ের হাসিতে উদ্ভাসিত হয়ে বললেন। "আমি বাথরুমে ঢুকেই আগে নিজের জামাকাপড় সব খুলে ফেলতাম। তারপর তোকে আমার এই খালি কোলের ওপর বসিয়ে জল ঢালতাম। তুই সাবান মাখা গায়ে আমার গা বেয়ে ব্যাঙের মতো পিছলে যেতে চাইতিস, আর আমি তোকে শক্ত করে ধরে নিজের গায়ের সাথে চেপে রাখতাম। আমরা দুজনেই একসাথে স্নান করতাম। তুই জল নিয়ে দু-হাত দিয়ে ছপছপ করে মারতিস, আর সেই জল ছিটকে এসে আমার চোখে-মুখে লাগত... আর তুই সেটা দেখে খিলখিল করে হাসতিস।"

রাহুলের মুখের বিভ্রান্তি কেটে গিয়ে সেখানে এক পরম মুগ্ধতা ফুটে উঠল। সে কল্পনা করার চেষ্টা করল—এক তরুণী ইন্দিরা, সম্পূর্ণ বিবস্ত্র অবস্থায় বাথরুমের মেঝের ওপর বসে আছেন, আর ওঁর কোলে সেই ছোট্ট পুঁচকে রাহুলটা জলের মধ্যে খেলা করছে। মায়ের শরীর আর সন্তানের শরীর এক হয়ে গেছে জলের ধারায়। মায়ের এই যুক্তি আর সীমাহীন ভালোবাসার কাছে সে যেন চিরতরে হেরে গেল।

"তুমি সত্যিই বড্ড ভালো মা," রাহুল এক গভীর আবেগে বলে উঠল। ওর বুকের ভেতরের সেই অবরুদ্ধ ভালোবাসা যেন বাঁধ ভেঙে বেরিয়ে আসতে চাইল। সে আবার ওঁর গলার কাছে নিজের মুখটা ফিরিয়ে নিয়ে গেল এবং ওঁর ডান গালে একটা গভীর চুমু খেল।

"থ্যাঙ্ক ইউ মা," সে বলল এবং ওঁর অন্য গালে আর একটা চুমু খেল। "আজকে এই রাতটা আমাকে দেওয়ার জন্য... থ্যাঙ্ক ইউ।" সে ওঁর কপালে, চিবুকে, গলার সেই নরম ত্বকে পরপর বেশ কয়েকবার আলতো করে নিজের ঠোঁট ছোঁয়াল। প্রতিটি চুমু ছিল এক পরম কৃতজ্ঞতা আর এক অবাধ্য ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

"আহ্, রাহুল! কী করছিস? ছাড়!" ইন্দিরা নিজের মুখটা সামান্য সরিয়ে নেওয়ার ভান করলেন, কণ্ঠে সেই চিরচেনা কৃত্রিম বিরক্তি। "তুই তো দেখছি একদম ল্যাম্পপোস্টের মতো আমার ওপর চেপে বসলি! বড্ড বেশি লাই পেয়ে গেছিস তো, মাথা চড়ে গেছে একদম!"

কিন্তু এই মুখের কথার সাথে ওঁর শরীরের কোনো মিল ছিল না। ওঁর হাত দুটো রাহুলের পিঠকে আরও জোরে, আরও শক্ত করে নিজের অনাবৃত বুকের সাথে চেপে ধরল। ওঁর স্তনজোড়া রাহুলের বুকের পেশিতে আরও গভীরভাবে লেপ্টে গেল। দুই শরীরের দুইজোড়া বৃন্ত একে ওপরের সংস্পর্শে এসে তা দুই আত্মার গভীরে এক অনির্বচনীয় ও পরম পবিত্র শিহরণের স্ফুরণ ঘটাল। ইন্দিরা চোখদুটো বন্ধ করে রাহুলের এই অবাধ্য আদরগুলোকে পরম তৃপ্তিতে নিজের শরীরে গ্রহণ করতে লাগলেন। ভেতরের সেই কঠোর অধ্যাপক আজ ছেলের এই নিবিড় আলিঙ্গনের গভীরে সম্পূর্ণ হারিয়ে গেছেন।

"আমি তো তোমার সেই ছোট্ট সোনাটাই আছি, মা," রাহুল গলার খাঁজে মুখ গুঁজে একদম শিশুর মতো করে আবদারের সুরে ফিসফিসিয়ে বলল। "আজকের পুরো রাতটা আমি এভাবেই তোমার গায়ের ওম নিয়ে তোমার বুকে লেপ্টে থাকব। তুমি কিন্তু একদম দূরে সরে যেতে পারবে না, এটা আমাদের অফিশিয়াল কন্ট্রাক্ট!"

ইন্দিরা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন—যার মধ্যে মিশে ছিল এক অদ্ভুত আত্মসমর্পণ আর অগাধ স্নেহ। তিনি ওর চুলে পরম মমতায় হাত বোলাতে বোলাতে ওকে বুকের সাথে আরও একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন।

"কপালে আমার আস্ত একটা একগুঁয়ে বাঁদর জুটেছে," তিনি কৃত্রিম আক্ষেপের সুরে বললেন, অথচ গলার স্বর তখন মায়ায় বুজে এসেছে। সামান্য ঝুঁকে তিনি ওর কপালে ওঁর ঠোঁট দীর্ঘক্ষণ ছুঁইয়ে রাখলেন, তারপর অত্যন্ত নিবিড় ও ভালোবাসাময় স্বরে ফিসফিস করে বললেন, "চুক্তি যখন করেছি, তখন তো আর পালানোর উপায় নেই রে। তুই যেমনটি চাস ঠিক তেমনটিই হবে, সোনা—আমি আজ সারারাত এভাবেই তোকে আগলে রাখব।"

৫.৩. কালান্তরের আলাপন

গল্পে, কথায় আর আদরে কখন যে সময় হারিয়ে গেল, ওরা দু’জন টেরটিও পেল না। এর মাঝে সুব্রত কলকাতা এয়ারপোর্টে সিকিউরিটি চেক হবার পর ঠিক ইন্দিরাকে মেসেজ পাঠিয়েছিলেন, ফ্লাইট ছাড়ার সময়তেও মেসেজ করেছিলেন। দুটো মেসেজই হোয়াটসঅ্যাপে আনসিন অবস্থায় পড়ে আছে। রাত তখন এগারোটার সীমানা ছুঁয়েছে। দেয়ালঘড়ির টিকটিক শব্দটা এই নিস্তব্ধ ঘরে আর কোনো যান্ত্রিক ঘোষণা নয়, বরং এক অদৃশ্য নদীর বয়ে যাওয়ার মতো শোনাচ্ছে। ঘরের কোণের টেবিল ল্যাম্পের হলুদ আলোটা বিছানার একপাশে এসে থমকে গেছে, আর বাকি ঘরটা ডুবে আছে এক মখমলি অন্ধকারে। রাহুল আর ইন্দিরা—দুজনে তখন একে অপরের সাথে এমনভাবে জড়িয়ে আছেন, যেন কোনো এক প্রাচীন ভাস্কর্য। রাহুলের পেশিবহুল খালি বুকটা ইন্দিরার মসৃণ, উষ্ণ স্তন ও উদরের ওপর পুরোপুরি সঁপে দেওয়া। ওঁর একটি হাত রাহুলের পিঠের শিরদাঁড়া বেয়ে নামছে, আর অন্য হাতটি ওর চুলে এক শান্ত, নিরবচ্ছিন্ন ছন্দ তৈরি করছিল।

"মা...দেখেছ? এগারোটা বাজতে চলল" রাহুল খুব নিচু স্বরে, প্রায় ফিসফিস করে বলল। ওর কণ্ঠস্বরে এক গভীর, অবাধ্য আরাম। "গত কয়েকটা ঘণ্টা কীভাবে কেটে গেল, আমি টেরই পেলাম না। মনে হচ্ছে যেন একটা ঘোরের মধ্যে আছি। সব ক্লান্তি, সব টেনশন যেন কোথায় উড়ে পালিয়ে গেছে। এখানে তোমার বুকের কাছে এসে মনে হচ্ছে, আমি পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গায় আছি। আমার আর কিচ্ছু চাই না।"

ইন্দিরা অন্ধকার ঘরের ছাদের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। ওঁর অনাবৃত কাঁধে রাহুলের উষ্ণ শ্বাসের ছোঁয়া লাগছিল। তিনি একটু হাসলেন, বুকের ভেতরটা এক মাতৃত্বের আদিম ওমে ভরে উঠল। হাতটা ওর চুলে আরেকটু বিলি কেটে দিল।

"হুমম..." তিনি একটা হালকা দীর্ঘশ্বাস ফেলে, অত্যন্ত নরম অথচ প্রাজ্ঞ গলায় স্বীকার করলেন। "আমারও অনেকদিন পর খুব রিল্যাক্সড লাগছে রে সোনা। সারাদিন ওই কোলাহল, রুটিন আর দায়িত্বের ঘেরাটোপের বাইরেও যে এরকম একটা শান্ত জগৎ থাকতে পারে, তা তোকে এভাবে কাছে না পেলে আমি হয়তো ভুলেই গিয়েছিলাম।"

রাহুল ওঁর বুকের সেই নরম আশ্রয় থেকে মুখটা সামান্য তুলল। চিবুকের নিচে নিজের মুখটা এনে একটা ছোট বাচ্চার মতো ঠোঁট ফুলিয়ে ওঁর দিকে তাকাল। চোখে তখন এক মৃদু অভিমান আর গভীর কৌতূহল।

"তা হলে একটা কথা বলো তো মা?" ও গলার খাঁজে আঙুল দিয়ে আলতো করে একটা অদৃশ্য বৃত্ত আঁকতে আঁকতে বলল। "যদি এটা এতটাই সুন্দর হয়, তবে তুমি এতদিন কেন এটা করলে না? কেন সবকিছু এমন একটা অদ্ভুত, ঘুরপথে হতে হলো? মানে... ভাবো একবার, প্রথমে আমি এই একসাথে শোয়ার আইডিয়াটা দিলাম... তুমি একদম সটান না করে দিলে... তারপর সেই বার্টার সিস্টেমের খেলা... বাবা ট্যুরে গেল... তুমি আবার এই বিছানাতেই একটা ভাইভা নিয়ে নিলে... তারপর আবার একটা নতুন কন্ট্রাক্ট... আর এখন এই খালি গায়ে আমার কাছে এসে এত সুন্দর করে আদর করছ! এতদিন কেন এই দূরত্বটা ধরে রেখেছিলে, মা?"

ইন্দিরা চোখ ফিরিয়ে ছাদের দিকে তাকালেন। ওঁর মনের ভেতর শিক্ষকতার সেই সুশৃঙ্খল যুক্তি আর মাতৃত্বের এক অদ্ভুত সংজ্ঞাহীন নদী একসাথে ধাক্কা খেল। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন তিনি, যা রাহুলের কপালে এসে আছড়ে পড়ল।

"তুই যেভাবে বলছিস, শুনলে মনে হবে আমি বুঝি কোনো গোলটেবিল বৈঠক করে, বসে বসে প্ল্যান করে এসব করেছি," ইন্দিরা একটু ম্লান হাসলেন, গলায় এক অদ্ভুত গাম্ভীর্য ও আর্তি। "কিন্তু তুই তো বুঝবি না রে পাগল... বিষয়গুলো বড্ড জটিল। আমি এতদিন এটা করিনি কারণ..."

"কারণ কী, মা?" রাহুল আরেকটু চেপে বসল ওঁর শরীরের সাথে।

"কারণ... আমি তোর ‘মা’, রাহুল," তিনি অত্যন্ত নিবিড় ও কোমল স্বরে বললেন, আঙুলগুলো ওর কানের লতি ছুঁয়ে গেল। "সমাজ, সংসার আর চারপাশ—সবকিছুই মায়েদের একটা নির্দিষ্ট ছাঁচে দেখতে অভ্যস্ত। মায়েদের শক্ত হতে হয়, নিখুঁত হতে হয়। মাঝেমধ্যে একটা দূরত্ব বজায় রাখতে হয়, যাতে সন্তানেরা শাসনের দেওয়ালটা দেখতে পায়। সেই দেওয়ালটাই তো ডিসিপ্লিন আর স্নেহের ব্যালেন্সটা ধরে রাখে।"

রাহুল ওঁর অনাবৃত পিঠের ওপর নিজের হাতটা আরেকটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। "হুম... আর তার ওপর... বাবা..." ওর গলার স্বর সামান্য নিভে গেল।

ইন্দিরা বুঝতে পারলেন ওর মনের ভেতরের সেই সূক্ষ্ম ছায়াটা। সুব্রতর উল্লেখ আসতেই ঘরের ভেতরের বাতাস যেন ক্ষণিকের জন্য একটু ভারী হয়ে উঠল। তিনি অন্য হাতটা দিয়ে রাহুলের কাঁধটা আরেকটু ওপরে টেনে নিলেন, নিজের বুকের সাথে ওকে আরও নিবিড়ভাবে মিশিয়ে দিলেন।

"তোর বাবার সামনে আমি নিজের ভেতরের এই নরম দিকটা দেখাতে পারি না রে। ওঁর একটা নির্দিষ্ট জীবনদর্শন আছে—ওঁর মনে হয় বড্ড বেশি আদর বা প্রশ্রয় মানুষকে নরম করে দেয়। ওঁর ধারণা, জীবনযুদ্ধে লড়তে গেলে একটা কঠোর বর্ম লাগে। আমি বছরের পর বছর ধরে ওঁর সেই বিশ্বাসের সাথে একটা আপস করে চলেছি। ওঁর সামনে আমিও একজন শক্ত, মেপে চলা মা হওয়ার অ্যাক্টিং করেছি। আমি শুধু চেয়েছিলাম তোর বাবার মতো করে একটা ব্যালেন্স রাখতে।"

রাহুল এবার অন্ধকারেই একটু চওড়া হাসল, ওর স্বভাবসুলভ সেই চপল কৌতুকটা আবার ফিরে এল। "তুমি বাবার মতো হতে চেয়েছিলে? নাকি উনি তোমার মতো হতে চান? মা, তুমি হলে ‘দ্য ইন্দিরা সেন’। ইউনিভার্সিটির বড় বড় স্কলার থেকে শুরু করে আমাদের পাড়ার লোকজন—সবাই তোমাকে ওই গম্ভীর, রাশভারী পার্সোনালিটির জন্য কেমন একটা ভয় মেশানো শ্রদ্ধা করে।"

ইন্দিরা নিজের অবাধ্য হাসিটা চেপে রাখতে পারলেন না। হাতটা বাড়িয়ে ওঁর এই বড় হয়ে যাওয়া ছেলেটার নাকে আলতো করে একটা চিমটি কাটলেন।

"ওরে আমার বড় বড় কথার ওস্তাদ! সবাই আমাকে ভয় পায়? এটা একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেল না? আমি মোটেও তেমন কোনো ভয়ংকর হিটলার নই। আমি জাস্ট... সিরিয়াস। আমি নিজের কাজ, রেসপনসিবিলিটি, আর রুচিবোধ নিয়ে কোনো আপোষ করি না। সেইটার ছাপ হয়তো আমার কথাবার্তায় মাঝেমধ্যে পড়ে...সবাই ভাবে এই ভদ্রমহিলা খুব গম্ভীর।"

রাহুল ওঁর বুকের ওপর চিবুকটা ঠেকিয়ে ওঁর চোখের দিকে তাকাল, চোখে তখন এক দুষ্টুমির আলো। "আচ্ছা? তা সেই গম্ভীর, সিরিয়াস প্রফেসর মানুষটি এখন এই মাঝরাতে ঠিক কী করছেন?"

ইন্দিরা এবার অন্য হাত দিয়ে ওর পিঠে একটা মৃদু চাপড় মারলেন, ঠোঁটের কোণে তখন এক পরম আত্মপ্রকাশের প্রশ্রয়। "এখন? এই মুহূর্তে সেই পরম গম্ভীর শিক্ষিকা তাঁর এই বড্ড বেশি বড় হয়ে যাওয়া, একগুঁয়ে, ধেড়ে ছাত্রটির সাথে জামাকাপড় ছাড়া বিছানায় শুয়ে আছেন... এবং তার সমস্ত ফালতু আবদার সহ্য করছেন। এবার খুশি তো, মিস্টার সেন?"

(rest of Chapter 5 is in the next post...)
Reply


Messages In This Thread
The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-01-2026, 01:31 PM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:46 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:47 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:48 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:54 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:55 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:57 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:58 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:59 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:43 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:49 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:51 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:54 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:55 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:56 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:57 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:58 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:59 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 09:00 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 09:01 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 09:04 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 09:05 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 09:06 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 06:02 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 06:02 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 06:04 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 06:04 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 08:55 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 08:55 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 08:57 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 08:59 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 08:59 AM

Forum Jump:


Users browsing this thread: 1 Guest(s)