Thread Rating:
  • 1 Vote(s) - 5 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5

The Barter System (By:andygarfield)
#7

(...rest of Chapter 5)


রাহুল ভ্রু কুঁচকে একটু আপত্তি জানাল। "জামাকাপড় ছাড়া কেন বলছ মা? তুমি তো শুধু তোমার ব্লাউজ আর ওই... ভেতরের জিনিসটা খুলেছ। শাড়ি তো এখনও পরা আছে!"

ইন্দিরা ওর এই খুঁতখুঁতে স্বভাব দেখে খিলখিল করে হেসে উঠলেন। "ও আচ্ছা! মিস্টার পারফেকশনিস্ট! ঠিক আছে বাবা, মেনে নিলাম। কিন্তু..." ওঁর চোখে এবার এক দারুণ দুষ্টুমির ঝিলিক দেখা দিল। তিনি ওর চিবুকটা আলতো করে ধরে বললেন, "ওই 'ভেতরের জিনিসটা' আবার কী রে? তুই কি এত বড় একটা সায়েন্সের স্টুডেন্ট হয়ে ওইটুকু একটা কাপড়ের টুকরোর নাম জানিস না?"

রাহুলের গাল দুটো অন্ধকারেও লাল হয়ে উঠল। সে লজ্জায় একটু উসখুস করে বলল, "মা! তুমি ইচ্ছে করে আমাকে টিজ করছ!"

"টিজ করব কেন?" ইন্দিরা ওকে আরও একটু চেপে ধরে কপট গাম্ভীর্যের সাথে বললেন। "আমি তো জাস্ট তোর জেনারেল নলেজটা টেস্ট করছি। এতক্ষণ ধরে ভারতের রসায়নবিদদের ইতিহাস গড়গড় করে বলে গেলি, আর এখন এই সামান্য জিনিসের নাম বলতে পারছিস না? বল দিকি ওটার নাম কী?"

"ধ্যাত! আমি বলব না।" রাহুল মায়ের বুকের খাঁজে মুখ লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করল।

"বলতেই হবে। কন্ট্রাক্টে তো কোনো লুকোছাপা ছিল না।" ইন্দিরা নাছোড়বান্দা। "বল, নইলে কিন্তু আমি এক্ষুনি উঠে শাড়ি-ব্লাউজ পরে নেব।"

রাহুল বুঝল মায়ের হাত থেকে রেহাই নেই। সে মুখ না তুলেই, অত্যন্ত নিচু ও লাজুক গলায় বিড়বিড় করে বলল, "...ব্রা..."

ইন্দিরা আর পারলেন না, একগাল হাসিতে ভেঙে পড়লেন। "ওরে বাবা! এইটুকু একটা শব্দ উচ্চারণ করতে এত লজ্জা! এতক্ষণ ধরে বুকের ওপর শুয়ে আদর খাচ্ছে, অথচ নাম বলতে গিয়ে জিব আটকে যাচ্ছে ছেলেটার!"

রাহুলও এবার মায়ের হাসিতে যোগ দিল। দুজনেই হাসতে হাসতে একে অপরের সাথে আরও নিবিড়ভাবে জড়িয়ে গেল, আর ঘরের পরিবেশটা এক অভাবনীয় আনন্দে ভরে উঠল।

হাসির রেশটা একটু কমতে রাহুল ওঁর গলার নরম ত্বকে নিজের ঠোঁটটা আলতো করে ঘষতে ঘষতে বলল, "যাই হোক, যেটা বলছিলাম মা... আমার আসল পয়েন্টটা কিন্তু অন্য জায়গায়। এই যে আজ আমরা এখানে এভাবে শুয়ে আছি, এত গল্প করছি—সবকিছুই কিন্তু পসিবল হয়েছে কারণ আমি আজকে পরীক্ষায় ফুল মার্কসটা পেয়েছি। ভাবো একবার, আমি যদি ওই একশোয় একশো না পেতাম, তা হলে এই মাঝরাতে আমি হয়তো নিজের ঘরে একা বসে ল্যাপটপে বন্ধুদের সাথে ফালতু চ্যাট করতাম। আর তুমি তোমার রিডিং রুমে চশমা চোখে দিয়ে কোনো বোরিং হিস্ট্রি জার্নালের প্রুফ দেখতে।"

ইন্দিরা এই সরল কিন্তু অমোঘ সত্যটা শুনে দু-হাত দিয়ে ওকে আরও একটু শক্ত করে নিজের শরীরের সাথে লেপ্টে নিলেন। ঠোঁটের কোণে এক পরম অহংকার ও স্নেহের মিশ্রণ দেখা দিল।

"তোর কেরিয়ার সবসময় আমার ফার্স্ট প্রায়োরিটি। আমি চাই তুই জীবনে এমন একটা জায়গায় পৌঁছবি, যেখানে গেলে আমার এই বুকটা গর্বে ফুলে উঠবে। আমি তোকে শুধু একজন সাধারণ স্টুডেন্ট হিসেবে দেখতে চাই রে সোনা, আমি চাই তুই বড় হয়ে বিশাল কিছু একটা করবি।"

রাহুল ওঁর বুকের উষ্ণতায় নিজের মুখটা আরও একটু ডুবিয়ে দিয়ে বলল, "আমি কি কোনোদিন তোমার সেই ভরসা ভেঙেছি, মা? আমি কি কোনোদিন তোমাকে ছোট করেছি?"

"কোনোদিন না," ইন্দিরা অত্যন্ত সরল কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বললেন। "তুই আমাকে কোনোদিন হতাশ করিসনি, সোনা।"

"জানো মা," রাহুলের গলার স্বরে এক অদ্ভুত গর্বের ছোঁয়া লাগল, "আমি যখন বাইরে বেরোই... কলেজের করিডোর দিয়ে বা রাস্তার মোড় দিয়ে যাই... অনেকে যখন আড়ালে ফিসফিস করে বলে—‘ওই দেখ, প্রফেসর ইন্দিরা সেনের ছেলে যাচ্ছে’... তখন আমার ভেতরটা কেমন যেন একটা শান্তিতে ভরে যায়।"

ইন্দিরা হাত বোলানো থামিয়ে ক্ষণিকের জন্য ওর মুখের দিকে তাকালেন। চোখে এক অদ্ভুত কৌতূহল। "সত্যি বলছিস, সোনা? তোর ওরম শুনতে ভালো লাগে?"

"না, মা... ভালো লাগা নয়, এটা আমার অহংকার," রাহুল চোখের দিকে সোজা তাকিয়ে বলল, চোখে তখন কোনো চপলতা নেই, কেবল এক গভীর, খাঁটি সত্য। "এই পৃথিবীর কার অতবড় ভাগ্য আছে বলো, যে বুক ফুলিয়ে বলতে পারে সে ‘ইন্দিরা সেনের ছেলে’? আমি যে তোমার শরীর থেকে জন্মেছি, এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সার্টিফিকেট।"

ইন্দিরা চোখের কোণে একটা হালকা জলের আভাস টের পেলেন, কিন্তু তা জোর করে চেপে রাখলেন। তিনি ওকে নিজের বুকের সাথে এতটাই জোরে জড়িয়ে ধরলেন যেন ওঁর শরীরের অনাবৃত ত্বক রাহুলের পেশিবহুল বুকের সাথে একাকার হয়ে যেতে চায়। ওঁর ঠোঁট দুটো ওর চুলে বারবার পরম মমতায় আদর করতে লাগল।

"তুই আমার গর্ব, রাহুল। তুই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ," তিনি বুজে আসা গলায় ফিসফিস করে বললেন। "তোর মতো ছেলে পাওয়া যেকোনো মায়ের পরম ভাগ্য..." একটু থেমে তিনি চেনা খুনসুটির সুরে যোগ করলেন, "যদিও তুই মাঝে মাঝে বড্ড বেশি পাকা পাকা কথা বলিস, আস্ত একটা স্মার্ট-অ্যাস!"

রাহুল অন্ধকার ঘরটা কাঁপিয়ে এক হালকা শিশুর মতো খিলখিল করে হেসে উঠল। ওর সেই নিষ্পাপ, চপল হাসির ছোঁয়া ইন্দিরার বুকেও এক তীব্র তরঙ্গের সৃষ্টি করল।

"আমার বড্ড স্পেশাল ফিল হয়, মা," রাহুল ওঁর বুকের ওপর নিজের হাতটা আরেকটু ছড়িয়ে দিয়ে বলল। "এই যে এই বিশাল মহাবিশ্ব... কত কোটি কোটি মানুষ... তার মধ্যে আমি ঠিক তোমার থেকেই জন্মালাম। তুমিই আমাকে প্রথম নিজের দুধ খাওয়ালে... আর আজ এই মাঝরাতে, আমি তোমার সাথে এভাবে খালি গায়ে....এভাবে শুয়ে হাসছি... গল্প করছি... এটা ভাবলেই আমার কেমন যেন একটা ম্যাজিকের মতো মনে হয়।"

ইন্দিরা ওর এই চরম সরলতা শুনে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। ভেতরের সেই সমস্ত সামাজিক বর্ম, কঠিন আভিজাত্য মুহূর্তের মধ্যে বাষ্প হয়ে গেল। এক পরম, আদিম মাতৃত্বের জোয়ার ওঁর পুরো সত্তাকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল। তিনি ওর মাথাটা নিজের দুই হাতের তালুতে নিয়ে কপালে দীর্ঘ, গভীর এক আশীর্বাদের চুমু আঁকলেন।

"পাগল ছেলে, লক্ষ্মী ছেলে আমার," গলার স্বর আবেগে কাঁপছে ওঁর। "তুই স্পেশাল কারণ তুই আমার। তুই আমার ছেলে, আমার ছোট্ট সোনা... আমার সব।"


৫.৪. রূপোলি তিল ও দুটি ওষ্ঠাধর

কিছুক্ষণ এই নিবিড় নীরবতায় কাটার পর, রাহুলের চোখ হঠাৎ ওঁর বাঁ কাঁধের ঠিক নিচে, বুকের ওপরের দিকের নরম ত্বকের ওপর গিয়ে স্থির হলো। টেবিল ল্যাম্পের সেই আবছা আলোয় সে ওঁর ফর্সা ত্বকের ওপর একটা ছোট, কুচকুচে কালো তিল দেখতে পেল। সে এর আগে কোনোদিন ওঁর এই অংশটি দেখেনি, কারণ স্বাভাবিকভাবেই রাহুল বড় হয়ে যাবার পর ওঁর মা ওর সামনে কোনোদিন এভাবে পোশাক আলগা করেননি।

সে তর্জনী বাড়িয়ে সেই তিলটার ওপর আলতো করে ছুঁল।

"মা! তোমার এখানে একটা তিল আছে? আমি তো কোনোদিন দেখিনি!" রাহুল বেশ চমকে গিয়ে বলল।

ইন্দিরা ওর আঙুলের ছোঁয়ায় নিজের শরীরের ভেতর একটা সূক্ষ্ম শিহরণ টের পেলেন। একটু মাথা নিচু করে নিজের কাঁধের নিচের অংশটা দেখার চেষ্টা করলেন। "হ্যাঁ রে... এটা তো আমার জন্মদাগ। ব্লাউজ আর শাড়ির নিচে ঢাকা থাকে বলে তুই কোনোদিন দেখিসনি।"

"কিন্তু মা, একটা মারাত্মক জিনিস দেখবে?" রাহুল এক তীব্র উত্তেজনায় বিছানায় আরেকটু সোজা হয়ে বসল। নিজের বাঁ কাঁধের ঠিক নিচের অংশটা ওঁর চোখের সামনে এগিয়ে নিয়ে এল ও। "এই দেখো! একদম সেম টু সেম স্পটে! আমারও ঠিক এখানেই একটা কালো তিল আছে!"

ইন্দিরা এবার সত্যিই অবাক হলেন। শরীরটা সামান্য তুলে রাহুলের কাঁধের নিচের সেই নির্দিষ্ট দাগটার দিকে তাকালেন। সুন্দর হাতের আঙুলগুলো ওর সেই তিলটার ওপর এসে স্থির হলো। পরম মমতায় আঙুল দিয়ে ওর তিলটা ঘষতে লাগলেন তিনি। নখের মৃদু স্পর্শে রাহুলের সারা শরীরে এক অদ্ভুত কাঁপন বয়ে গেল।

"তাই তো রে!" ইন্দিরা এক পরম বিস্ময় ও আমোদের সাথে হেসে উঠলেন। "একদম হুবহু একই জায়গায়! লাইক মাদার, লাইক সন। এটাকে বলে জেনেটিক্সের খেলা। আমার শরীরের ছাঁচটাই যে তুই পেয়েছিস, এটা তারই প্রমাণ।"

রাহুল ওঁর এই আঙুল ঘষার শান্ত ছোঁয়ায় এতটাই আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল যে সে নিজের অবচেতন টানেই ওঁর দিকে আরেকটু ঝুঁকে এল। সে ওঁর বাঁ কাঁধের নিচের সেই সুন্দর, নরম ত্বকে থাকা তিলটার ওপর নিজের ঠোঁট ঠেকিয়ে একটা গভীর, নরম চুমু খেল।

ইন্দিরা নিজের শরীরের এই সংবেদনশীল জায়গায় রাহুলের ঠোঁটের উষ্ণ ছোঁয়া পেতেই এক ধাক্কায় সামান্য কেঁপে উঠলেন। মুখ দিয়ে একটা হালকা আদুরে আওয়াজ বের হলো ওঁর।

"আহ্ সোনা! ওটা কী করছিস? বড্ড সুড়সুড়ি লাগছে রে!" তিনি হাসতে হাসতে ওর মাথাটা সামান্য সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেন।

"সরিয়ে দিও না মা," রাহুল গলার কাছে মুখ রেখেই ফিসফিস করে আবদার করল। "এটা দেখতে বড্ড কিউট লাগছে। একদম ম্যাচিং-ম্যাচিং। লাইক মাদার, লাইক সন।"

ইন্দিরা ওর এই অদ্ভুত আবদারে হেসে ফেললেন। "কী যে করি তোকে নিয়ে, আস্ত একটা হোপলেস ছেলে! এত কিছু থাকতে শেষে নিজের মায়ের তিলে চুমু খাচ্ছিস! হে ভগবান... আমি একটা বদ্ধ পাগল জন্ম দিয়েছি..."

"আমি পাগল নই মা," রাহুল ওর ঠোঁটটা ওঁর ত্বকে আরেকটু ঘষে দিয়ে হাসল। "আমি জাস্ট আমাদের এই স্পেশাল জেনেটিক কানেকশনটাকে একটু সেলিব্রেট করছি। তাছাড়া, আমার মায়ের তিলটা যে সত্যিই খুব কিউট!"

"কিউট!" ইন্দিরা কপালে চোখ তুললেন, যদিও ওঁর ঠোঁটের কোণে প্রশ্রয়ের হাসি। "একটা ধেড়ে ছেলে তার মায়ের কাঁধের নিচে তিল দেখে কিউট বলছে! কেউ শুনলে কী ভাববে বল তো?"

"কেউ তো শুনছে না," রাহুল বিন্দুমাত্র না দমে বলল। "আর শুনলেও আমার বয়েই গেল। তুমি আমার মা, এটা আমার মায়ের তিল, এতে অন্য লোকের কী দরকার! আর তাছাড়া, তুমিই তো একটু আগে বললে আমাদের শরীরের ছাঁচ এক... তাহলে আমি তো একরকমভাবে নিজের তিলটাকেই চুমু খাচ্ছি, তাই না?"

ছেলের এই অকাট্য অথচ বোকা বোকা যুক্তির কাছে ইন্দিরা আবারও হেরে গেলেন। ভেতরের সেই শাসন করার ক্ষমতাটুকু যেন এই রাতের অন্ধকারে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। তিনি কাঁধটা আরেকটু আলগা করে দিলেন, অনুমতি দিলেন ওঁর সেই গোপন দাগটিকে স্পর্শ করার। রাহুল এবার আরও একটু সময় নিয়ে, পরম যত্নে ওঁর সেই তিলটার ওপর নিজের ঠোঁটদুটো গভীরভাবে চেপে ধরল।

রাহুলের ঠোঁটের সেই কোমল, উষ্ণ স্পর্শ যখন ইন্দিরার অনাবৃত ত্বকের ওই নির্দিষ্ট বিন্দুটিতে দীর্ঘক্ষণ বসে রইল, তখন ইন্দিরার চোখের পাতাজোড়া এক গভীর আবেশে আপনাআপনিই বন্ধ হয়ে এল। ওঁর মসৃণ বুক রাহুলের এই নিবিড় আদরে আরেকটু দ্রুত ওঠানামা করতে লাগল। ঘরজোড়া স্তব্ধতার মাঝে ওঁর গলা থেকে বেরিয়ে এল এক অস্ফুট, প্রশান্তির শব্দ—"উমম... আহ্, সোনা..." তিনি নিজের একটা হাত দিয়ে রাহুলের মাথাটা পরম মমতায় নিজের বুকের সাথে আরও একটু চেপে ধরলেন। "তুই সত্যিই বড্ড বেশি দুষ্টু হয়েছিস। তোর মাথায় সারাক্ষণ শুধু এই ফন্দি ঘোরে, তাই না? কীভাবে মাকে নিজের বশে রাখা যায়, কীভাবে একটু বেশি আদর আদায় করা যায়?"

"আমি তো কিছুই করছি না মা," রাহুল ঠোঁটটা ওঁর ত্বকেই ছুঁইয়ে রেখে অত্যন্ত আদুরে গলায় ফিসফিস করল, "আমি শুধু আমার প্রিয় জায়গাটার একটু যত্ন নিচ্ছি। এতেও তোমার আপত্তি? তুমিই তো বললে আমি তোমার সব..."

"উফ্! কথায় কেউ পারতে পারবে না তোর সাথে..." ইন্দিরা স্নেহের বশবর্তী হয়ে ওর চুলে আঙুল ডুবিয়ে দিলেন। "সবসময় একটা না একটা যুক্তি খাড়া করে ছাড়বি।"

চুমু খাওয়া শেষ করে রাহুল যখন মুখ তুলল, ওঁর ঠোঁটে তখন এক মায়াবী হাসি। তিনি আর নিজের স্নেহকে আটকে রাখতে পারলেন না। তিনি নিজেই এবার একটু ঝুঁকে এলেন রাহুলের দিকে, নিজের ওষ্ঠাধর নিয়ে গেলেন রাহুলের বাঁ কাঁধের সেই একই জায়গায় থাকা তিলটার ওপর। খুব ধীরে, সাবধানে ওর সেই তিলটার ওপর নিজের ঠোঁটের এক পরম উষ্ণ ও নরম ছোঁয়া দিলেন—এক জননীর তরফ থেকে তাঁর সন্তানের প্রতি সমস্ত ভালোবাসা আর সমর্পণের সিলমোহর।

চুমুর রেশ কাটতেই রাহুল একগাল দুষ্টুমি মেশানো হাসি হাসল। "কী? দেখলে তো? তুমিও তো শেষমেশ ওই তিলের লোভ সামলাতে পারলে না!"

ইন্দিরা চোখ পাকিয়ে ওর চুলে আলতো করে একটা টান দিলেন। "একদম পাকামো করবি না! আমি জাস্ট তোর ওই বোকা বোকা থিয়োরিটাকে একটু সম্মান জানালাম, এই যা। একে বলে অ্যাকাডেমিক কার্টেসী।"

"অ্যাকাডেমিক কার্টেসী! বাপরে!" রাহুল খিলখিল করে হেসে উঠল, ওর খালি বুকটা ইন্দিরার বুকের সাথে ঘষে গেল। "মানতে দোষ কী মা, যে আমার কাঁধটা তোমার ওই মোটা মোটা হিস্ট্রি বইগুলোর চেয়ে অনেক বেশি ইন্টারেস্টিং?"

"বড্ড অহংকার তোর, না রে?" ইন্দিরা ওর নাকে আলতো করে একটা টোকা দিলেন, কিন্তু গলার স্বরে ঝরে পড়ল এক পরম প্রশ্রয়। "আমার মুঘল আর্কিটেকচারের বইগুলো অন্তত তোর মতো বকবক করে না। আর এত বাঁদরামোও করে না।"

"কিন্তু হিস্ট্রি বইগুলো তো তোমাকে এমন শক্ত করে জড়িয়েও ধরে না, মা," রাহুল ওর দুটো হাত দিয়ে ওঁকে আরও নিবিড়ভাবে পেঁচিয়ে ধরল। "বলো, ধরে?"

ইন্দিরার মুখের কৃত্রিম বিরক্তিটা এক নিমিষে গলে গিয়ে সেখানে এক পরম মায়া আর গভীর মাতৃত্বের ছাপ পড়ল। তিনি ওর গালে দুখানা নরম চুমু এঁকে দিলেন। "না রে পাগল। তা ধরে না। তোর মতো এমন আদর করতে এই পৃথিবীতে আর কেউ পারে না।"

রাহুলের মনে হলো ও যেন এক অসীম শূন্যতায় ভেসে চলেছে, যেখানে সমাজ নেই, নিয়ম নেই—আছে কেবল এক পরম স্বর্গীয় ওম।

৫.৫. বাইরের পৃথিবীর ছায়া

তারা আবার একে অপরকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়ল। এখন আর তাদের নড়াচড়ার মধ্যে কোনো আড়ষ্টতা নেই, তারা যেন একে অপরের শরীরের সাথে পুরোপুরি খাপ খেয়ে গেছে। তাদের গলাগুলো এখন ক্রমশ আরও নরম, আরও ঝাপসা হয়ে আসছে, ঠিক যেমন ঘুমের দেশে যাওয়ার আগের মুহূর্তগুলো হয়।

"মা..." রাহুল ওঁর বুকে গাল ঘষতে ঘষতে বলল, "এই ফিলিংসটা এতটাই ন্যাচারাল, এতটাই নরমাল... আমার তো মনে হয় পৃথিবীর প্রতিটা মা আর ছেলেরই এইভাবে খালি গায়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে শোওয়া উচিত। এটা বড্ড শান্তি দেয়।"

ইন্দিরা ওর এই চরম সরলতা শুনে মনে মনে একটু হাসলেন, কিন্তু একই সাথে ভেতরের সেই বাস্তববাদী, সমাজসচেতন নারীটি আবার সতর্ক হয়ে উঠল। তিনি হাতটা ওর পিঠের ওপর আরেকটু শক্ত করে চেপে ধরলেন, গলার স্বরে এক মৃদু কিন্তু গম্ভীর সাবধানবাণী।

"তুই যেভাবে ভাবছিস সোনা, বাইরের পৃথিবীটা কিন্তু অতটা সিম্পল নয়," তিনি ওর কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করলেন। "তোর এই ফিলিংসটা... বা আমাদের এই স্পেশাল বন্ডিংটা কেবলই আমাদের দুজনের। বাইরের মানুষ এই নিবিড়তা কোনোদিন বুঝবে না। তুই তো দুনিয়াটা সেরম দেখিসনি। ইন ফ্যাক্ট, তারা এটাকে হয়তো অপরাধ বা বিকৃতি বলে দাগিয়ে দেবে। তাই তোকে কিন্তু নিজের প্রমিসটা মনে রাখতে হবে। তুই আমার সাথে একটা অফিশিয়াল কন্ট্রাক্ট সই করেছিস, রাহুল। এই ঘরের ভেতরের একটা কথাও যেন কোনোদিন ওই দরজার বাইরে না যায়।"

"আমি জানি মা, আমি তো অলরেডি প্রমিস করেছি," রাহুল বুকে মাথা রেখেই বলল। "আমি কাউকে কিচ্ছু বলব না।"

একটু থেমে রাহুল হঠাৎ মুচকি হাসল, মনে এক নতুন চিন্তার উদয় হলো। "আচ্ছা মা, তুমি আমাদের ওই পাশের বাড়ির বরুণ আর ওর মাকে দেখেছ তো?"

"হুম, দেখেছি। কেন রে?"

"ওর মা কিন্তু একদম তোমার অপোজিট," রাহুল একটু আক্ষেপ ও কৌতুকের সুরে বলতে লাগল। "তুমি বাবার সামনে বা বাইরে আমার সাথে যতটা গম্ভীর থাকো, বরুণের মা ঠিক উল্টো। উনি যখনই বরুণকে নিয়ে রাস্তায় বেরোন, সবসময় ওর হাত ধরে ধরে হাঁটেন। পাড়ার সবার সামনে ওঁর একটাই গল্প—‘আমার ছেলে এই করেছে... আমার ছেলে ওই করেছে...’ আর সবচেয়ে বেশি ক্রিঞ্জ ব্যাপারটা কী জানো মা? বরুণ যখন সকালে কলেজ বাসে উঠতে যায়, ওর মা বারান্দা থেকে ওকে লক্ষ্য করে বড় বড় ফ্লাইং কিস ছোঁড়েন! উফ্, দেখতে এতটাই অদ্ভুত লাগে আমার!"

ইন্দিরা বড় ছেলের মুখে বরুণের মায়ের এই বিবরণ শুনে নিজের হাসি চেপে রাখতে পারলেন না। ওঁর প্রাজ্ঞ আভিজাত্য এবার একটু কৌতুকের ছলে আত্মপ্রকাশ করল।

"তুই বড্ড বেশি লোকজনকে নোটিস করিস," তিনি মৃদু হেসে বললেন। "তবে হ্যাঁ, আমি দেবলীনাদি, মানে বরুনের মাকে চিনি। ওঁর এক্সপ্রেস করার স্টাইলটা একটু অন্যরকম... ওঁর হয়তো ওভাবেই নিজের স্নেহ দেখাতে ভালো লাগে।" একটু থেমে তিনি স্বভাবসুলভ গম্ভীর ভঙ্গিতে যোগ করলেন, "ওয়েল, ইটস নান অফ আওয়ার বিজনেস। ওটা ওদের পার্সোনাল ব্যাপার।"

রাহুল এবার বুকে মাথা রেখেই অনাবৃত শরীরের সাথে নিজেকে আরও জড়িয়ে নিল, চোখে এক তীব্র, অপ্রাসঙ্গিক কৌতুহল। "আচ্ছা মা... তোমার কি মনে হয়? বরুণ কি ওর মায়ের সাথে ঠিক এইরকম কোনো স্কোপ পায়? মানে... এই মাঝরাতে, এরকম একা... এরকম গায়ে গা লাগিয়ে জড়িয়ে ধরার চান্স ও পায়?"

ইন্দিরা এবার সত্যিই বড্ড চমকে গেলেন। চোখের পাতাজোড়া বড় বড় হয়ে গেল, হাত বোলানোর ছন্দটা ক্ষণিকের জন্য থমকে গেল। মুখে এক তীব্র কৃত্রিম রাগ আর বিস্ময়।

"রাহুল! এ আবার কী ধরনের প্রশ্ন করছিস তুই?" তিনি গলার স্বর আরেকটু চড়া করলেন, যদিও তার মধ্যে কোনো কঠোরতা ছিল না। "তুই বরুণ আর ওর মায়ের পার্সোনাল লাইফ নিয়ে এই মাঝরাতে কেন মাথা ঘামাচ্ছিস, শুনি? ওটা সম্পূর্ণ ওদের ব্যাপার, বললাম তো তোকে!"

"ধুর মা, রাগ করছ কেন?" রাহুল শরীরের সাথে নিজেকে আরও বেশি লেপ্টে দিয়ে ওঁর রাগ কমানোর চেষ্টা করল। "আমি তো জাস্ট নরমাল একটা র‌্যান্ডম থট থেকে বললাম... মানে, বাইরে ওদের অত টাচি-ফিলি আচরণ দেখে আমার মনে হলো, যারা বাইরে অত দেখায়, তারা হয়তো ঘরের ভেতরে এর চেয়ে দশ গুণ বেশি কিছু করে।"

"তুই নিজের লিমিট ক্রস করছিস কিন্তু এবার," ইন্দিরা ওর চুলে আরেকটা মৃদু টান দিয়ে শাসন করলেন, কণ্ঠে তখন এক প্রচ্ছন্ন ঈর্ষা ও তীব্র অধিকারবোধ। "ওরা ঘরের ভেতরে কী করে না করে, তা নিয়ে ইন্দিরা সেনের ছেলের এত মাথাব্যথার কী দরকার? তোর নিজের মা এখন নিজের ব্লাউজ, ব্রা, সব খুলে তোর পাশে শুয়ে আছে, তুই নিজের যোগ্যতায় জেতা এত বড় একটা প্রাইজ আজ নিজের বুকে জড়িয়ে ধরে আছিস... আর তুই কি না এই মাঝরাতে পাশের বাড়ির আন্টির কথা ভাবছিস? ঘাড় মটকে দেব একদম! অসভ্য বদমাইশ ছেলে কোথাকার!"

রাহুল ওঁর এই হালকা জেলাসি মেশানো বকুনিটা বড্ড উপভোগ করল। সে গলার খাঁজে মুখটা আরও গভীরভাবে চেপে ধরে নিজের হাত দুটো শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।

"আই অ্যাম সরি, মা... আই অ্যাম সো সরি," সে এক পরম আদুরে সুরে ওঁর রাগ ভাঙাতে ভাঙাতে বলল। "আমি আর কোনোদিন ওসব কথা বলব না। আমার তো শুধু তোমাকেই চাই। তুমিই আমার সব।"

ইন্দিরা মুখটা সামান্য ঘুরিয়ে নিলেন, ওঁর অভিমান তখনও পুরোপুরি কাটেনি। "তোর যদি এতই অন্য কাউকে নিয়ে ভাবার শখ থাকে, তাহলে আমিই বরং উঠে নিজের ঘরে চলে যাচ্ছি। তুই একা শুয়ে শুয়ে ওইসব ভাব।"

রাহুল তড়িঘড়ি একটু ওপরে উঠে এল, দু-হাত দিয়ে মায়ের মুখটা নিজের দিকে ফেরাল। "প্লিজ মা, যেয়ো না, রাগ কোরো না। আমি তো জাস্ট না ভেবেই একটা ফালতু কথা বলে ফেলেছি। প্লিজ ভেবো না যে আমি তোমার সাথে অন্য কারও তুলনা করছি।" ও মায়ের গালে একটা হালকা চুমু খেল। "তুমি জানো তুমি কতটা সুন্দর? বরুণের মা বা পৃথিবীর কোনো নারী তোমার এই রূপ, তোমার এই গুণের ধারেকাছেও আসতে পারবে না। পৃথিবীর কারও সাথেই তোমার তুলনা হয় না, মা। এই যে তোমাকে এভাবে এত কাছ থেকে জড়িয়ে ধরে আছি, তোমার এই গায়ের গন্ধ, তোমার এই আদর—এটাই তো আমার কাছে পৃথিবীর সেরা প্রাইজ। আমি কি এতই বোকা যে অন্য কারোর কথা ভেবে নিজের এই পারফেক্ট মোমেন্টটা নষ্ট করব?"

রাহুল ওঁর গলার কাছে মুখ ঘষে আরও আদুরে গলায় ফিসফিস করল, "সরি মা... আমার বড্ড ভুল হয়ে গেছে। তোমার এই পাগল ছেলেটাকে মাফ করে দাও না, প্লিজ? তুমি রাগ করে থাকলে আমার একদম ভালো লাগছে না। প্রমিস, আর কোনোদিন বাইরের কারোর কথা আমাদের মাঝে আনব না। শুধু তুমি আর আমি।"

ইন্দিরা ওর এই আত্মসমর্পণের পর আর নিজের গাম্ভীর্য ধরে রাখতে পারলেন না। দীর্ঘদিনের সেই কঠিন শিক্ষিকা রূপটি আবার সমর্পিত নারীত্বের কাছে হেরে গেল। তিনি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ওর মাথাটা বুকের ওপর আরেকটু চেপে ধরলেন।

"কিন্তু... তুই যদি সত্যিই আমার পার্সোনাল ওপিনিয়ন চাস," তিনি অত্যন্ত নিচু, আত্মবিশ্বাসী ও গম্ভীর স্বরে বললেন, চোখে তখন এক অনন্য আভিজাত্যের দ্যুতি, "আমার মনে হয় তারা কোনোদিনও তা করে না, যা আজ আমরা এখানে করছি।"

"কেন মা?" রাহুল খুব নরম গলায় জানতে চাইল।

"কারণ, ওদের ওই বন্ডিংটা বড্ড বেশি লোকদেখানো, বড্ড বেশি শো-অফ। দেবলীনাদি এই গোটা দুনিয়াকে চিৎকার করে দেখাতে ভালোবাসেন যে তিনি ওঁর ছেলেকে কতটা ভালোবাসেন। ওই প্রদর্শনের আড়ালে এক ধরনের কৃত্রিমতা লুকিয়ে থাকে। কিন্তু আমার তো তেমন কোনো শো-অফের দরকার নেই, সোনা। আমি বাইরে তোকে শাসন করি, আমি বাইরে একটা গম্ভীর দেওয়াল ধরে রাখি... কারণ আমি জানি, আমার সেই ভেতরের আসল রূপটা, আমার সেই ভালোবাসার সম্পূর্ণ গভীরতাটুকু কেবলই তোর জন্য তোলা আছে। আই ডোন্ট হ্যাভ টু শো দ্য ওয়ার্ল্ড। আমি মনে মনে খুব ভালো করেই জানি, আমি আমার এই অবাধ্য ছেলেটাকে কতটা ভালোবাসি।"

রাহুল এই গভীর, মনস্তাত্ত্বিক সত্যটা শুনে এক পরম মুগ্ধতায় ওঁর চোখের দিকে তাকাল। ঠোঁটের কোণে এক হালকা, খেলার ছলে বলা প্রশ্ন।

"কতটা ভালোবাসো, মা? একটু বলো না?"

ইন্দিরা সুন্দর চোখদুটো দিয়ে রাহুলের চোখের গভীরতা মেপে নিলেন। ঠোঁটের কোণে তখন এক মায়াবী, অনন্য হাসির রেখা। তিনি কোনো উত্তর দিলেন না।

মুখটা নামিয়ে নিয়ে এলেন রাহুলের বাঁ কাঁধের নিচের নির্দিষ্ট কালো তিলটার ওপর। ওঁর বুক রাহুলের বুকের সাথে আরও গভীরভাবে লেপ্টে গেল, আর তিনি ওর সেই তিলটার ওপর মুখটা ঘষতে ঘষতে এক দীর্ঘ, তীব্র ও পরম ভালোবাসাময় চুমু আঁকলেন। ঠোঁটের সেই দীর্ঘস্থায়ী স্পর্শ যেন রাহুলের সারা শরীরে এক বিদ্যুতের মতো শিহরণ বইয়ে দিল।

চুমু শেষ করে তিনি মুখ তুললেন, চোখে তখন এক পরম তৃপ্তির আলো।

"ঠিক এই এতটা," তিনি ফিসফিস করে বললেন।

রাহুল একগাল দুষ্টুমি মেশানো হাসি হাসল। "শুধু এতটা? আমার তো মনে হয় তুমি আমাকে এর চেয়েও অনেক বেশি ভালোবাসো। জাস্ট তোমার ওই প্রফেসরের ইগো বলে স্বীকার করতে চাইছ না।"

ইন্দিরার চোখদুটো কৃত্রিম বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে গেল। তিনি আলতো করে রাহুলের কানটা টেনে ধরলেন। "পাকা ছেলে! মায়ের ইগো নিয়ে কথা হচ্ছে? তোকে যে এই মাঝরাতে নিজের গায়ের ওম দিয়ে এত লাই দিচ্ছি, সেটাই তোর হজম হচ্ছে না! আর আদর দেব না তোকে, যা ওদিকে ঘুরে শো।"

রাহুল কোনো উত্তর না দিয়ে ওঁর শরীরের সাথে নিজেকে আরও শক্ত করে লেপ্টে নিল, মুখটা গুঁজে দিল ওঁর গলার কাছে। "না না, একদম না! কন্ট্রাক্ট মনে নেই? সারারাত আমাকে আগলে রাখতে হবে। আমি তো তোমার ওই তিলটার মতোই তোমার গায়ে সেঁটে থাকব।"

ইন্দিরা এক হালকা, খিলখিল হাসিতে ভেঙে পড়লেন। ছেলের এই অকাট্য যুক্তির কাছে তিনি সত্যিই বড় অসহায়।

"আর তুমি বড্ড ভালো করে ভালোবাসতে পারো, মা," রাহুল অত্যন্ত নরম স্বরে ফিসফিস করল।

ইন্দিরা পরম মমতায় ওর কপালে একটা চুমু এঁকে দিলেন। "হ্যাঁ, আর সেই ভালোবাসার সুযোগ নিয়েই তো তুই আমার মাথায় চড়ে বসেছিস, আস্ত একটা বাঁদর! এবার একটু চুপ করে আদর খা তো।"

রাহুল এক তীব্র আনন্দে ওঁর শরীরের সাথে নিজেকে একবার পুরোপুরি সঁপে দিল। তারা দুজনেই এক গভীর, নিভৃত হাসিতে মেতে উঠল এবং একে অপরকে এমনভাবে জড়িয়ে ধরল যেন পৃথিবীর কোনো শক্তিই তাদের আলাদা করতে পারবে না।

ঘরের সেই নিঝুম নিস্তব্ধতা ভেঙে তখন শুধু শোনা যেতে লাগল ওদের দুজনের একে অপরের গায়ে আদর করার মৃদু, মাদকীয় শব্দ। "উমম...", "আহ্, মা..."—এইরকম অস্ফুট স্বরের সাথে মিশে গেল ত্বকের ওপর ঠোঁট ছোঁয়ানোর সেই ভিজে, উষ্ণ শব্দগুলো। রাহুল পরম মমতায় মায়ের কপালে, গালে আর গলার নরম খাঁজে বারবার চুমু খেতে লাগল, আর তার উত্তরে ইন্দিরাও ছেলের কানের লতিতে, চিবুকে আর চুলে নিজের ওষ্ঠাধর বুলিয়ে দিলেন। চুমুর সেই মৃদু, ছন্দবদ্ধ শব্দগুলো—মুয়াহ্, উমম, আহ্—রাতের অন্ধকারের সাথে মিশে ঘরের পরিবেশকে এক অসীম মায়ায় আচ্ছন্ন করে দিল।

ঠিক যেন ওদেরই মতো, দেয়ালঘড়ির কাঁটা দুটিও তখন পরস্পরের বুকে একাকার হয়ে নিঃশব্দে জানিয়ে দিল—এখন নিঝুম মধ্যরাত।
Reply


Messages In This Thread
The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-01-2026, 01:31 PM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:46 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:47 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:48 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:54 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:55 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:57 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:58 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:59 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:43 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:49 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:51 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:54 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:55 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:56 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:57 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:58 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:59 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 09:00 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 09:01 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 09:04 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 09:05 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 09:06 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 06:02 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 06:02 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 06:04 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 06:04 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 08:55 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 08:55 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 08:57 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 08:59 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 08:59 AM

Forum Jump:


Users browsing this thread: 1 Guest(s)