Thread Rating:
  • 1 Vote(s) - 5 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5

The Barter System (By:andygarfield)
#9

(....rest of Chapter 6)

৬.৪. শর্তাধীন স্নেহের চুক্তি


রাহুল মায়ের এই তীব্র শাসনের সুর শুনেও দমে গেল না। সে চোখের দিকে সোজা তাকিয়ে খুব শান্ত অথচ জেদি গলায় বলল, "আমি লিমিট ক্রস করছি, মা?"

কথাটা শোনার সাথে সাথে ইন্দিরার ভেতরের সেই কড়া, রাশভারী মায়ের সত্তাটা যেন বারুদের মতো জ্বলে উঠল। ওঁর চোখদুটো রাগে দপদপ করতে লাগল। নিজের উনিশ বছরের ছেলে ওঁর মুখের ওপর এমন একটা চরম ট্যাবু, এমন একটা নিষিদ্ধ আবদার করার পরও কীভাবে এত শান্তভাবে তর্ক করতে পারে?

"তোর এত বড় সাহস!"

ইন্দিরা এক ঝটকায় উঠে বসলেন। আর কোনো চিন্তাভাবনা করার আগেই ওঁর ডান হাতটা তীব্র বেগে বাতাসে উঠে এল।

ঠাস!

এক চরম নিস্তব্ধতার মধ্যে ইন্দিরার ফর্সা হাতের তালু রাহুলের বাঁ গালে সজোরে আছড়ে পড়ল। চড়ের শব্দটা ঘরের বদ্ধ বাতাসে একটা তীক্ষ্ণ প্রতিধ্বনির মতো বাজল।

রাহুলের মাথাটা সামান্য একদিকে ঘুরে গেল। ও কোনো চিৎকার করল না, ওর চোখ দিয়ে এক ফোঁটা জলও বেরোল না। ও শুধু কয়েক সেকেন্ডের জন্য স্তব্ধ হয়ে বসে রইল। তারপর নিজের হাত দিয়ে গালটা একবার আলতো করে ছুঁল। ওর মুখে কোনো রাগ ছিল না, শুধু এক গভীর, জমাট বাঁধা অভিমান। সে মায়ের চোখের দিকে আর তাকাল না। অত্যন্ত ধীর গতিতে, কোনো শব্দ না করে সে ইন্দিরার অনাবৃত শরীরের ওপর থেকে নিজেকে সরিয়ে নিল। তারপর বিছানার ঠিক অন্য পাশে, ইন্দিরার দিকে পিঠ করে পাশ ফিরে শুয়ে পড়ল।

হাতের তালুতে চড়ের সেই তীব্র জ্বলুনিটা টের পেয়ে ইন্দিরার নিজেরই বুকের ভেতরটা ছ্যাঁত করে উঠল। উনি কী করলেন এটা? এত বড় ছেলেকে এভাবে গায়ে হাত তুললেন? কিন্তু ভেতরের সেই প্রফেসরের ডিসিপ্লিন আর কড়া মায়ের সত্তা তাঁকে পিছু হঠতে দিল না। নিজের কাজটাকে জাস্টিফাই করার জন্য তিনি রাগী গলায় বকতে শুরু করলেন, যদিও গলার স্বরের সেই তীক্ষ্ণতা সামান্য কমে এসেছিল।

"অমন ভিকটিম সাজার চেষ্টা করবি না, রাহুল! একদম না!" ইন্দিরা পিঠ করে শুয়ে থাকা ছেলের দিকে তাকিয়ে কড়া গলায় বললেন। "তুই যা বলেছিস, তার জন্য ওই চড়টাই তোর পাওনা ছিল। একটা ধেড়ে ছেলে... তুই কি ভাবিস তুই যা খুশি আবদার করবি আর আমি সব মেনে নেব? সবকিছুর একটা লিমিট থাকে। তুই সেটা এতক্ষণ ধরে বারবার পার করার চেষ্টা করেছিস, আমি সেটা মেনেও নিয়েছি, কিন্তু এবার জাস্ট... সবকিছু ক্রস করে গেছিস।"

রাহুল ওভাবেই দেওয়ালের দিকে মুখ করে শুয়ে রইল। কোনো নড়াচড়া করল না। তারপর অত্যন্ত নিচু, অভিমানী স্বরে ফিসফিস করে বলল, "আমি তো শুধু তোমার কাছে একটু শান্তি খুঁজছিলাম, মা। ছোটবেলার সেই ফিলিংসটা... তুমি নিজেই তো বললে তখন আমার জন্য তোমার বুকের চেয়ে সেফ জায়গা আর কিছু ছিল না। নিজের মায়ের কাছে আদর খাওয়াটা কবে থেকে অপরাধ হয়ে গেল?"

"আদর খাওয়ার একটা বয়স থাকে, রাহুল," ইন্দিরা একটু নরম হলেন, কিন্তু গলার কাঠিন্য বজায় রাখলেন। "তুই যেটা চাইছিস সেটা পাগলামি। সেটা বিকৃতি। তুই বুঝতে পারছিস না তুই কী বলছিস। আমি একজন মা, আমি তোকে জন্ম দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তুই তোর এই বয়সে এসে..." তিনি আর কথাটা শেষ করতে পারলেন না।

"তুমি আমাকে জন্ম দিয়েছ বলেই তো আমি এই অধিকারটা চাইছি," রাহুল না ঘুরেই নরম গলায় উত্তর দিল। "তুমি যদি আমাকে মারতেও চাও, মারতে পারো। কিন্তু আমার ফিলিংসটা তো মিথ্যে হয়ে যাবে না।"

ছেলের এই শান্ত অথচ আহত গলাটা ইন্দিরার বুকের ভেতর তীরের মতো বিঁধল। তাঁর রাগটা ধীরে ধীরে গলে গিয়ে এক ধরনের চরম অসহায়তায় রূপ নিল। তিনি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

"রাহুল... এদিকে ঘুরে শো," তিনি বললেন।

রাহুল নড়ল না।

ইন্দিরার গলাটা এবার আরও একটু শান্ত, আরও একটু নরম হয়ে এল। "রাহুল... এদিকে তাকা আমার দিকে। কথা বলছি আমি।"

এবার রাহুল ধীরে ধীরে নিজের শরীরটা ঘোরাল। ওর গালে তখনো ইন্দিরার পাঁচ আঙুলের হালকা লালচে দাগ স্পষ্ট হয়ে আছে। সেটা দেখে ইন্দিরার বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠল।

"তুই বড্ড বিগড়ে যাচ্ছিস দিন দিন," ইন্দিরা ওর দিকে তাকিয়ে বললেন, তবে গলায় আর আগের মতো সেই রাগের আগুন নেই, আছে এক ধরনের কড়া যুক্তি। "তুই একবার ভাব তো, বাইরের মানুষ যদি কোনোদিন জানতে পারে যে আমার এই উনিশ বছরের অ্যাডাল্ট ছেলে... আমার এই সো কল্ড ব্রিলিয়ান্ট ছেলে... নিজের মায়ের বুকে মুখ দেওয়ার জন্য এভাবে...এভাবে ভিক্ষে করছে... লোকে কী ভাববে, বল তো? তারা এটাকে নোংরামি ছাড়া আর কিছু ভাববে না।"

"বাইরের লোক জানবে কী করে, মা?" রাহুল চোখের দিকে তাকিয়ে খুব শান্ত গলায় বলল। "আমি তো অলরেডি প্রমিস করেছি, আর আমাদের অফিশিয়াল কন্ট্রাক্ট-ও আছে। আমি কাউকেই কিচ্ছু বলব না। এটা তো শুধু আমার আর তোমার মাঝখানের একটা সিক্রেট। একটা পবিত্র সিক্রেট।"

"বাইরের লোক জানবে না বলেই কি একটা জিনিস যেটা সম্পূর্ণ আনন্যাচারাল... সম্পূর্ণ আনকনভেনশনাল... সেটা করা ঠিক?" ইন্দিরা ওর কানের লতিতে আঙুল দিয়ে হালকা করে একটা টান দিলেন, যাতে ওর সেরম ব্যথা না লাগে। "নিজের ওই টেকনিক্যাল লজিক দিয়ে আমাকে হারাতে আসিস না তো? স্টপ ট্রায়িং টু আউটউইট মি।"

"মা, আমি কোনো লজিক দিচ্ছি না," রাহুল এবার বিছানায় সামান্য উঠে এসে মায়ের আরেকটু কাছে ঘেঁষল। ওর গলার স্বরে এক তীব্র আকুতি। "আমি তো কোনো অন্যায় করিনি। আমি শুধু চাই সেই পুরোনো মেমোরিটা ফিরে পেতে। তুমি তো আমার কাছে এই পৃথিবীর সবচেয়ে প্রেশাস মানুষ। তোমার ওই ওমটা, ওইভাবে তোমার বুকে মুখ গুঁজে থাকার অধিকারটা তো শুধুই আমার ছিল একসময়, তাই না? সেটা আর একবার ফিল করলে কি মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে? আমি তো শুধু একটু শান্তি চাইছি। তুমি ছাড়া আমাকে এই শান্তি কে দেবে, মা?"

ছেলের এই কথাগুলো ইন্দিরার ভেতরের সমস্ত দেওয়াল যেন একে একে ধসিয়ে দিচ্ছিল। তিনি বুঝতে পারছিলেন ওর এই চাওয়ার মধ্যে কোনো কলুষতা নেই, আছে কেবল এক শিশুর মতো অধিকারবোধ। কিন্তু তবুও, ওঁর সেই যৌক্তিক মনটা শেষবারের মতো একটা বিশাল বাধা খাড়া করার চেষ্টা করল। তিনি অত্যন্ত দ্বিধাগ্রস্তভাবে, যেন একটা হাইপোথেটিক্যাল পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছেন, এমন সুরে বললেন:

"তুই কি সত্যিই পাগল হয়ে গেছিস, রাহুল? তুই তো সাইন্সের স্টুডেন্ট। তুই জানিস না... ইভেন ইফ... মানে কোনোভাবে যদি তোর এই অদ্ভুত জেদ আমি মেনেও নিই... এটা তো বায়োলজিক্যালি ইমপসিবল! আমার তো এখন আর বুকে দুধ নেই রে বোকা। একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর মেয়েদের শরীর তো আর মিল্ক প্রোডিউস করে না, সেটা তো শুকিয়ে যায়। তুই খাবিটা কী?"

রাহুল এই কথাটা শুনে একটুও দমল না। ওর চোখে তখন এক অসীম ভালোবাসার আলো। সে মায়ের হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলল, "আমার দুধ চাই না, মা। আমার শুধু ফিলিংসটা চাই। তোমার বুকে মুখ দিয়ে ওই শান্তিটা ফিল করতে চাই। শুধু ওটুকুই। তুমি আমাকে তোমার বুকে একটু জায়গা দাও না, প্লিজ?"

ইন্দিরা এই নিরেট, নিঃশর্ত আবেগের কাছে পুরোপুরি বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন। এই ছেলেটা সত্যিই ওঁর সমস্ত অহংকার, সমস্ত শাসনকে কীভাবে যেন এক মুহূর্তে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়। তিনি একটা গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। ঘরের ভেতরের বাতাস তখন ওঁর উত্তরের অপেক্ষায় থমকে আছে। রাহুল আবার সেই চেনা অমোঘ ঠোঁট ফোলানো ফেসটা তৈরি করল। সে এমন এক করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল যেন তাকে এই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

ইন্দিরা বুঝতে পারলেন এই অবাধ্য ছেলের জেদের কাছে তাঁর আর কোনো পালানোর পথ নেই। মনের ভেতরের সেই কঠিন শিক্ষিকা রূপটি এবার এক নতুন চাল চালল। কথা বলার ঠিক আগে ওঁর ঠোঁটের কোণে এক অদ্ভুত, রহস্যময় হাসির হালকা আভাস দেখা দিল।

"...ঠিক আছে..." ইন্দিরা অত্যন্ত ধীর, রহস্যময় স্বরে বললেন। "...হতে পারে... যদি... যদি তুই সেটা পাওয়ার যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারিস।"

রাহুলের চোখদুটো মুহূর্তের মধ্যে কোটি কোটি নক্ষত্রের মতো জ্বলে উঠল। সে বিছানায় লাফিয়ে ওঠার মতো সোজা হয়ে বসল। "মা! তার মানে তুমি আবার সেই....আবার সেই বার্টার সিস্টেমের কথা বলছ? আই গেট টু ইনভোক দ্য বার্টার সিস্টেম?"

ইন্দিরা অনাবৃত বুকটা বালিশের ওপর আরেকটু এলিয়ে দিয়ে মাথা নাড়লেন। "আই গেস সো... হ্যাঁ, তাই।"

রাহুল দুটো হাত নিজের হাতের মুঠোয় শক্ত করে ধরে বলল, "বলো মা, আমাকে কী করতে হবে? তুমি যা বলবে আমি তাই করব। আমি অলরেডি রিটেন পরীক্ষায় একশোয় একশো পেয়েছি, তারপর তুমি বিছানায় যে কঠিন ওরাল টেস্ট নিলে, তারও সব কটা উত্তর আমি একদম ঠিক দিয়েছি। সো, আমি তোমার কোনো নতুন চ্যালেঞ্জকে ভয় পাই না।"

ইন্দিরা ওর এই আত্মবিশ্বাস আর তীব্র জেদ দেখে নিজের ঠোঁটের কোণের সেই প্রশ্রয়মাখা হাসিটা আর আটকে রাখতে পারলেন না। গলার স্বরটা বড্ড নরম আর মায়াবী শোনাল।

"হুমম... ওকে, রাহুল। তুই যখন তোর বাবার বিজনেস ট্রিপে যাওয়ার পর আমার সাথে এই... জড়াজড়ির সেশন শুরু করার জন্য বড্ড বেশি ডেসপারেট হয়ে পড়েছিলি... তোর ওই উত্তেজনার চক্করে আমি রাতের ডিনারের পর রান্নাঘরের সিঙ্কে সমস্ত বাসনকোসন ধুতে ভুলে গেছি। সেগুলো ওভাবেই পড়ে আছে।"

রাহুল একটু ভুরু কুঁচকে বলল, "ওকে... সো?"

"সো," ইন্দিরা এক হালকা ও মধুর হাসির হিল্লোল তুলে বললেন, "আমি এই মুহূর্তে বড্ড টায়ার্ড... আর তুই তো দেখতেই পাচ্ছিস, আমি এখন যে অবস্থায় আছি, এই অবস্থায় আমার পক্ষে রান্নাঘরে গিয়ে বাসন মাজা সম্ভব নয়। কিন্তু ওগুলো তো পরিষ্কার করতে হবে। সো... কেমন হয় যদি কাজটা তুই করিস?"

রাহুল এই অদ্ভুত শর্ত শুনে নিজের চোখ কপালে তুলল। "তুমি চাও আমি এই মাঝরাতে, এখন প্রায় একটা বাজতে চলল, এখন রান্নাঘরে গিয়ে সব বাসন মাজি?"

"হ্যাঁ, মিস্টার সেন। আমি ঠিক সেটাই চাইছি," ইন্দিরা সুন্দর চোখদুটো দিয়ে ওকে শাসন করার ভঙ্গিতে বললেন। "তুই এক্ষুনি রান্নাঘরে যাবি এবং সিঙ্কের প্রতিটা বাসন একদম নিখুঁতভাবে পরিষ্কার করবি।"

"আর তুমি এখানে থাকবে?"

"আমি সারাদিনের ধকলের পর এখন আরাম করে শুয়ে আছি, আমার এখন ওঠার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই," ইন্দিরা অনাবৃত কাঁধটা আরেকটু দোলালেন। "তবে হ্যাঁ, এখানে আরেকটা ব্যাপার আছে। তুই যখন সব কটা বাসন মেজে শেষ করবি, তোর ফোনে ওগুলোর একটা ক্লিয়ার ছবি তুলবি, আর আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাবি। আমি সেই ছবি দেখে অ্যাপ্রুভ করব যে বাসনগুলো আদৌ ঠিকঠাক পরিষ্কার হয়েছে কি না। যদি আমার পছন্দ হয়... তবেই..." কণ্ঠস্বর এবার এক তীব্র উত্তেজক ফিসফিসানিতে নেমে এল, "তবেই তুই তোর সেই কাঙ্ক্ষিত প্রাইজটা পাবি।"

রাহুল এই অদ্ভুত অথচ নিশ্চিত চালটা দেখে মনে মনে হাসল। সে চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, "ওকে, ডান। কিন্তু... তার আগে তোমাকে এই পুরো বিষয়টাও একটা কাগজে অফিশিয়াল কন্ট্রাক্ট হিসেবে লিখে দিতে হবে... ঠিক যেমন আমরা আগের দুটো সিচুয়েশনে করেছিলাম।"

ইন্দিরা এই একগুঁয়েমি আর আইনের প্রতি অন্ধ ভক্তি দেখে সুন্দর চোখদুটো ঘোরালেন। মনে মনে এক ধরনের গোপন শ্রদ্ধা আর আমোদ জাগল ওর এই জেদ দেখে। ঠোঁটে এক মৃদু হাসি ফুটে উঠল।

"ঠিক আছে বাবা, ঠিক আছে," তিনি এক নাটকীয় দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন। "তোর যখন এতই কন্ট্রাক্টের শখ... আমি একটা কাগজে আমাদের এই নতুন শর্তগুলো লিখে দিচ্ছি। আর তুই সেখানে সাইন করবি।"

তিনি খাটের পাশের টেবিল থেকে একটা সাদা কাগজ আর পেন টেনে নিলেন। ওঁর অনাবৃত বুকটা টেবিল ল্যাম্পের আলোয় আরও একবার চকচক করে উঠল, যখন তিনি নিচু হয়ে সেই সুন্দর, সুশৃঙ্খল হাতের লেখায় নতুন চুক্তিপত্রটি ড্রাফট করতে লাগলেন:

শর্তাধীন স্নেহের চুক্তিপত্র

এই চুক্তিপত্রটি ডক্টর ইন্দিরা সেন (মা) এবং রাহুল সেন (সন্তান)—এর মধ্যে পারস্পরিক সম্মতিতে সম্পাদিত হলো।

শর্তাবলী:

১. রাহুলের দায়িত্ব: রাহুলকে এই মুহূর্তে রান্নাঘরের সিঙ্কে থাকা সমস্ত নোংরা বাসনকোসন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে মেজে পরিষ্কার করতে হবে, যাতে কোনো প্রকার ময়লা বা দাগ না থাকে।

২. প্রমাণের বাধ্যবাধকতা: বাসন মাজা শেষ হওয়ার পর রাহুল ওর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সেই পরিষ্কার বাসনের ছবি তুলে মায়ের পরিদর্শনের জন্য হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাবে এবং মায়ের অনুমোদন গ্রহণ করবে।

৩. অনুমোদনের পর পুরস্কার: ইন্দিরা যদি রাহুলের কাজে সন্তুষ্ট হয়ে অনুমোদন প্রদান করেন, তবে তিনি রাহুলকে পুনরায় ওঁর সাথে খালি গায়ে শোওয়ার অনুমতি দেবেন, যার মধ্যে মায়ের দ্বারা 'নার্সিং' (Nursing) পাওয়ার অধিকারও অন্তর্ভুক্ত থাকবে (যার সময়সীমা সম্পূর্ণভাবে ইন্দিরা নির্ধারণ করবেন)।

৪. গোপনীয়তার নীতি: এই চুক্তিপত্র এবং এর ভেতরের সমস্ত বিষয়াদি সম্পূর্ণভাবে ইন্দিরা ও রাহুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। কোনো তৃতীয় পক্ষকে এটা জানানো যাবে না।

৫. চুক্তিভঙ্গ: কোনো একটি শর্ত পালনে ব্যর্থ হলে রাহুল তার সমস্ত সুযোগ-সুবিধা তৎক্ষণাৎ হারাবে।

স্বাক্ষরসমূহ:

ইন্দিরা সেন

রাহুল সেন

ইন্দিরা লেখা শেষ করে কাগজটা রাহুলের দিকে এগিয়ে দিলেন। ঠোঁটের কোণে এক বিজয়ী ও প্রচ্ছন্ন স্মাগ হাসি। "কী রে? পছন্দ হয়েছে? এবার সাইন করবি?"

রাহুল কাগজটা হাতে নিয়ে খুব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ল। ওর ভুরু দুটো ক্রমশ কুঁচকে গেল। সে মাথা নেড়ে বলল, "না মা, এই চুক্তির লেখাটা ঠিক...কিরম যেন...ঠিক ক্লিয়ার নয়। এই যেমন তিন নম্বর পয়েন্টে লিখেছ—‘নার্সিং’ পাওয়ার অধিকার... কিন্তু এই ‘নার্সিং’ শব্দটা বড্ড ভেগ (vague)। এর তো অনেক রকম মানে হতে পারে। কেউ অসুস্থ হলে সেবা করাকেও তো নার্সিং বলে! আর আমরা তো অলরেডি খালি গায়ে জড়িয়ে ধরে শুয়েই আছি, সো ওটার মধ্যে নতুন কোনো রিওয়ার্ড নেই।  তুমি আরেকটু পরিষ্কার করে লেখো প্লিজ... বিশেষ করে ওই জায়গাটা... মানে... আমি তোমায় বোঝাতে পারছি তো?"

ইন্দিরা এবার সত্যিই এক চরম নাটকীয় দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাথাটা নাড়লেন। ছেলের এই অদ্ভুত উকিল-সুলভ বুদ্ধি দেখে তিনি একদিকে যেমন বিরক্ত হচ্ছিলেন, অন্য দিকে ওঁর ভেতরটা এক চরম আমোদে ভরে উঠছিল।

"তুই... তুই একটা আস্ত বজ্জাত ছেলে, রাহুল!" ইন্দিরা গলার স্বর আরেকটু নিচু করে আদুরে সুরে বললেন। ঠোঁটদুটো ক্ষণিকের জন্য চেপে রইল, মনের ভেতর সঠিক শব্দগুলো সাজিয়ে নেওয়ার জন্য। তিনি আবার কাগজটা টেনে নিয়ে কলমটা চালালেন। "ঠিক আছে, ওরে আমার আইনের লর্ড! আমি এটাকে এতটাই স্পেসিফিক করে লিখছি যাতে তোর ওই ধূর্ত মগজে কোনো খটকা না থাকে।"

লেখার মাঝে মাঝেই উনি থামছিলেন, এবং খানিকক্ষণ ভেবে নিয়ে আবার লিখছিলেন। রাহুল ভাবছিলো, মায়ের এত সময় কেন লাগছে, মোটামুটি একটা ড্রাফট তো করাই ছিল। অবশেষে ইন্দিরা লেখা শেষ করে কাগজটা হাতে দিলেন। রাহুল লেখাটা পড়ার পর ওর হাতটা হালকা কেঁপে উঠল।  

শর্তাধীন স্নেহের চুক্তিপত্র (সংশোধিত ও চূড়ান্ত)

এই চুক্তিপত্রটি ডক্টর ইন্দিরা সেন (মা) এবং রাহুল সেন (সন্তান)—এর মধ্যে পারস্পরিক সম্মতিতে সম্পাদিত হলো।

শর্তাবলী:

১. রাহুলের দায়িত্ব: রাহুলকে এই মুহূর্তে রান্নাঘরের সিঙ্কে থাকা সমস্ত নোংরা বাসনকোসন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে মেজে পরিষ্কার করতে হবে, যাতে কোনো প্রকার ময়লা বা দাগ না থাকে।

২. প্রমাণের বাধ্যবাধকতা: বাসন মাজা শেষ হওয়ার পর রাহুল ওর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সেই পরিষ্কার বাসনের ছবি তুলে মায়ের পরিদর্শনের জন্য হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাবে এবং মায়ের অনুমোদন গ্রহণ করবে।

৩. অনুমোদনের পর পুরস্কার: ইন্দিরা যদি রাহুলের কাজে সন্তুষ্ট হয়ে অনুমোদন প্রদান করেন, তবে তিনি রাহুলকে পুনরায় ওঁর সাথে খালি গায়ে শোওয়ার অনুমতি দেবেন, যার মধ্যে মায়ের স্তনবৃন্তে মুখ দিয়ে খাওয়ার অধিকারও অন্তর্ভুক্ত থাকবে (যার সময়সীমা সম্পূর্ণভাবে ইন্দিরা নির্ধারণ করবেন)।

৪. গোপনীয়তার নীতি: এই চুক্তিপত্র এবং এর ভেতরের সমস্ত বিষয়াদি সম্পূর্ণভাবে ইন্দিরা ও রাহুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। কোনো তৃতীয় পক্ষকে এটা জানানো যাবে না।

৫. চুক্তিভঙ্গ: কোনো একটি শর্ত পালনে ব্যর্থ হলে রাহুল তার সমস্ত সুযোগ-সুবিধা তৎক্ষণাৎ হারাবে।

স্বাক্ষরসমূহ:

ইন্দিরা সেন

রাহুল সেন

রাহুল নিজেকে সামলে অবশেষে মায়ের কাছ থেকে কলমটা নিল এবং সেই সুন্দর স্বাক্ষরের নিচে নিজের সইটা বসিয়ে দিল।

"বেশ" ইন্দিরা কাগজটা ওর হাত থেকে টেনে নিয়ে ড্রয়ারে রাখতে রাখতে গম্ভীর সুরে বললেন, "এখন এটা অফিশিয়াল। সো? এখনো এখানে এভাবে বসে আছিস কেন, মিস্টার সেন? গো অ্যান্ড ওয়াশ দোজ ডিশেস, রাহুল! আর একদম ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করবি না—আমি কিন্তু সবকটা বাসনের ছবি খুঁটিয়ে চেক করব।"

তিনি ওর কাঁধে একটা হালকা, চপল ও আদুরে ধাক্কা দিলেন।

"যা এবার... যত তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করবি, তত তাড়াতাড়ি তুই তোর..." তিনি ক্ষণিকের জন্য থামলেন, ওষ্ঠাধরে এক পরম মায়াবী হাসি খেলে গেল। নিজের বুকে আস্তে করে হাত বোলালেন তিনি; তাঁর আঙুলগুলো যেন এক অলস ছন্দে, একের পর এক তাঁর স্তনবৃন্ত ছুঁয়ে আলতো করে বয়ে গেল। "...তত তাড়াতাড়ি তুই মায়ের.... এইটা খেতে পারবি।"

রাহুল আর এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট করল না। সে বিছানা থেকে নেমে এক লাফে ঘরের দরজা খুলে সোজা রান্নাঘরের দিকে দৌড় দিল।

ইন্দিরা বিছানায় ওভাবেই অনাবৃত বক্ষে আধশোয়া হয়ে রইলেন। এলোমেলো চুল, ফর্সা ত্বকের ওপর টেবিল ল্যাম্পের আলো আর বুকের ভেতরের সেই আদিম মাতৃত্বের আলোড়ন—সবকিছু মিলিয়ে ঘরটা যেন এক পরম নিষিদ্ধ স্বর্গে পরিণত হয়েছিল। তিনি দেয়ালে থাকা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেই সুন্দর ছবিটার দিকে তাকালেন, চোখের পাতাদুটো সামান্য বুজে এল এবং তিনি এক দীর্ঘ, তৃপ্তির শ্বাস ফেলে ফিসফিস করে বললেন:

"ওহ্ ঈশ্বর... আমি এই পাগল, অবাধ্য, একগুঁয়ে ছেলেটাকে নিয়ে এখন ঠিক কী করি বল তো..."
Reply


Messages In This Thread
The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-01-2026, 01:31 PM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:46 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:47 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:48 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:54 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:55 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:57 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:58 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:59 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:43 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:49 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:51 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:54 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:55 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:56 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:57 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:58 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:59 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 09:00 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 09:01 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 09:04 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 09:05 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 09:06 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 06:02 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 06:02 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 06:04 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 06:04 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 08:55 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 08:55 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 08:57 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 08:59 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 08:59 AM

Forum Jump:


Users browsing this thread: 1 Guest(s)