Thread Rating:
  • 1 Vote(s) - 5 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5

The Barter System (By:andygarfield)
#17

(rest of the Chapter...)

তাঁদের ঠোঁটজোড়া একে অপরের সাথে মিলে গেল। গত শনিবারের সেই লাজুক, ক্ষণস্থায়ী স্পর্শের মতো নয়—এবার চুম্বনটা ছিল অনেক দীর্ঘ, অনেক গভীর। দুজনে একে অপরকে এতটাই শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছিল যে মনে হচ্ছিল তাদের শরীরের মাঝখানে কোনো বাতাস ঢোকার জায়গাও নেই। ঘরের ওই স্তব্ধ, মখমলি অন্ধকারে কেবল শোনা যাচ্ছিল তাদের দ্রুত, উষ্ণ শ্বাসের শব্দ আর ঠোঁট মিলে যাওয়ার এক পরম পবিত্র, মাদকতাময় আর্তি। এই চুম্বনের মধ্যে কোনো কলুষতা ছিল না, ছিল কেবল এক আদিম, শর্তহীন ভালোবাসা আর একে অপরের মধ্যে হারিয়ে যাওয়ার এক গভীর আকাঙ্ক্ষা।

বেশ কিছুক্ষণ পর, যখন তাঁরা চুম্বন ভাঙলেন, ইন্দিরার চোখদুটো অশ্রুসজল। তিনি দেখলেন, রাহুলের চোখদুটোও জলে চিকচিক করছে।

ইন্দিরা এক চরম আবেগে আপ্লুত হয়ে ফিসফিস করলেন, "ওহ সোনা..."

রাহুলও আবেগতাড়িত, ঘোরের মধ্যে ডুবে থাকা গলায় বলল, "মা... তুমি কি... তুমি কি আমাকে... একটু খাওয়াবে..."

ইন্দিরা প্রথমে রাহুলের কথার অর্থ বুঝতে পারলেন না। "খাওয়াব মানে... কী খাবি..." বলতে বলতেই তিনি থেমে গেলেন। তাঁর মগজে এক ঝটকায় রিয়েলিটিটা আছড়ে পড়ল। তিনি বুঝতে পারলেন রাহুল ঠিক কী চাইছে।

মুহূর্তের মধ্যে তাঁর সেই ঘোরটা কেটে গেল। তিনি তড়িঘড়ি নিজের চোখের জলটা মুছে ফেলে এক চরম অসহায়, অথচ সতর্ক গলায় বললেন, "না না না, রাহুল, এখন নয়, প্লিজ... আমাকে ওভাবে রিকোয়েস্ট করিস না..." তাঁর এই বাধাদানের মধ্যে রাহুলের প্রতি কোনো রাগ ছিল না, ছিল কেবল পরিস্থিতির প্রতি এক ভয়াবহ অসহায়তা।

রাহুল এখনও সেই ইমোশনাল ঘোরের মধ্যেই আছে। ও প্রায় ডুকরে ওঠার মতো ফিসফিস করে বলল, "মা... প্লিজ... আমার সত্যিই... এটা বড্ড দরকার মা..."

ইন্দিরা নিজেও প্রায় অনুনয়ের সুরে বলে উঠলেন, "ওভাবে বলিস না সোনা... তুই ওভাবে বললে আমার বুকটা ফেটে যায়... কিন্তু তুই তো জানিস এটা এখন কতটা রিস্কি..."

রাহুল বড্ড করুণ গলায় বলল, "জাস্ট একটুখানি মা..."

ইন্দিরা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বোঝানোর চেষ্টা করলেন, "বোঝার চেষ্টা কর সোনা, আমি এখন....এই.... এগুলো খুলতে পারব না... গত শনিবার বাড়িতে শুধু গঙ্গা মাসি ছিল, তাতেই আমি এগুলো খুলিনি... আর এখন তো তোর বাবা বাড়িতে! এটা দশ গুণ বেশি রিস্কি, সোনা!"

রাহুল মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে বড্ড অসহায়ভাবে বলল, "মা... সত্যিই কি কোনো উপায় নেই? গত শনিবার তো তুমি একটুখানি খুলেই... ম্যানেজ করেছিলে..."

ইন্দিরা একদৃষ্টে ওর তৃষ্ণার্ত, আর্দ্র চোখদুটোর দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর এক চরম অসহায়, পরাস্ত দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফিসফিস করলেন, "সোনা... আমি না হয়... ব্লাউজটা একটুখানি নামিয়ে... তোকে বুকের একটা দিক বের করে দিতে পারব..."

রাহুল তড়িঘড়ি বলল, "মা আমি চাই না তুমি আনকমফোর্টেবল ফিল করো বা তোমার কোথাও ব্যথা লাগুক... তুমি শিওর তো, কষ্ট হবে না তো?"

ইন্দিরা মাথা নেড়ে নিজের ব্লাউজের ওপরের অংশের দিকে একবার তাকালেন। তারপর রাহুলের চোখের দিকে তাকিয়ে এক অদ্ভুত, মাতৃসুলভ প্রশ্রয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "তুই সত্যিই আমার...আমার ওইটা... এখন খেতে চাস, সোনা?"

রাহুল একদম একটা নিষ্পাপ বাচ্চার মতো ওপর-নিচ মাথা নাড়ল।

ইন্দিরা এক গভীর শ্বাস নিলেন। "ঠিক আছে... আমার মনে হয় আমি ম্যানেজ করে নিতে পারব।"

তিনি খুব সাবধানে নিজের শাড়ির আঁচলটা সরিয়ে ব্লাউজের ওপরের বোতামগুলো খুলতে শুরু করলেন। তারপর ব্লাউজ এবং তার নিচের ব্রায়ের ফিতেটা বাঁ কাঁধ থেকে নামিয়ে, কাপড়টাকে একটু নিচের দিকে টেনে নিজের বাঁ দিকের ফর্সা, নিটোল স্তনটিকে মুক্ত করে দিলেন।

ঘরের আবছা আলোয় সেই সুডৌল স্তন আর তার গাঢ় বাদামি বৃন্তটি রাহুলের চোখের সামনে ফুটে উঠল। রাহুল আর এক মুহূর্তও দেরি না করে নিজের মুখটা নামিয়ে নিয়ে গিয়ে সেই বৃন্তটিকে পরম তৃষ্ণায় নিজের ঠোঁটের উষ্ণ আবরণে টেনে নিল।

রাহুলের ঠোঁট আর জিভের সেই উষ্ণ, আর্দ্র স্পর্শ লাগতেই ইন্দিরার মুখ থেকে এক অস্ফুট, দীর্ঘ স্বস্তির শ্বাস বেরিয়ে এল। "উমমম... আহ্... হ্যাঁ সোনা..." তিনি নিজের একটা হাত রাহুলের মাথার পেছনে শক্ত করে চেপে ধরলেন, তাঁর আঙুলগুলো রাহুলের চুলের গভীরে ঢুকে গেল। "আমার লক্ষ্মী সোনাটা... খা... মায়ের বুক থেকে পেট ভরে খা..."

রাহুল অত্যন্ত ধীর, কিন্তু একটানা একটা ছন্দে স্তনটি চুষতে লাগল। ওর মুখের ভেতর থেকে একটা অস্ফুট শব্দ বেরোলো, "উমমম... মা..."

ইন্দিরা চোখ বন্ধ করে সেই আদিম, অলৌকিক অনুভূতিতে নিজেকে ভাসিয়ে দিলেন। "উফ্... আমার বাবুটা... ঠিক এভাবেই... বড্ড ভালো লাগছে রে সোনা... উমম..." তাঁর ফর্সা আঙুলগুলো রাহুলের চুলে আরও একটু নিবিড়ভাবে জড়িয়ে গেল। "তোর মায়ের বুকটা যে শুধু তোর জন্যই রে সোনা... আহ্... আমার মিষ্টি বাচ্চাটা..."

রাহুল আরো আবেগপ্রবণ হয়ে জোরে জোরে মায়ের স্তনবৃন্ত কে মুখের মধ্যে টেনে চুষতে লাগল।

"আহ্... সোনা..." এক চরম ঘোরে তাঁর চোখদুটো বুজে এল, শ্বাসটা কেঁপে উঠল। তাঁর আঙুলগুলো রাহুলের চুলে শক্ত করে চেপে বসল। "একটু আস্তে কর রে বাবু... উফ্... ওহ্... আহ্ সোনা... দাঁত বসাস না... ব্যথা লাগে...আহ্হ্হ.... প্লিজ বাবু... বললাম না আস্তে আস্তে চুষতে... উমম..."

প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে এই স্বর্গীয়, স্তব্ধ পরিবেশের মধ্যেই রাহুল মায়ের বুক থেকে সেই অদৃশ্য সুধা পান করতে থাকল। ঘরের নিস্তব্ধতা ভেঙে শুধু শোনা যাচ্ছিল তাদের দুজনের শ্বাসের শব্দ আর রাহুলের ঠোঁটের সেই ভিজে, ছন্দোবদ্ধ আওয়াজ।

কিন্তু হঠাৎ করেই, এই মায়াবী ঘোরের মাঝখানে একটা শব্দ আছড়ে পড়ল।

খটাস!

বাইরের করিডোর থেকে একটা দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ। সুব্রতর ঘরের দরজা।

ইন্দিরার চোখদুটো মুহূর্তের মধ্যে বড় বড় হয়ে গেল। শরীরটা এক চরম আতঙ্কে বরফ হয়ে গেল। "রাহুল! থাম!" তিনি রুদ্ধশ্বাসে ফিসফিস করে উঠলেন, হাত দিয়ে রাহুলের মাথাটা দ্রুত নিজের বুক থেকে সরিয়ে দিলেন। "তোর বাবার মিটিং শেষ হয়ে গেছে! ঘর থেকে বেরোনোর শব্দ পেলাম!"

রাহুল এক ঝটকায় মুখ সরিয়ে নিয়ে সোজা হয়ে বসল। ওর চোখেমুখে এক তীব্র হতাশা আর আতঙ্ক।

ইন্দিরা এক সেকেন্ডও নষ্ট না করে কাঁপা কাঁপা হাতে নিজের ব্রায়ের ফিতে আর ব্লাউজটা টেনে ওপরে তুললেন এবং অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বোতামগুলো আটকে নিলেন। তাঁর বুকের ভেতরটা তখন হাতুড়ির মতো পিটছে।

"মা..." রাহুল বড্ড করুণ, হতাশ গলায় ডাকল।

ইন্দিরা তড়িঘড়ি নিজের শাড়ির আঁচলটা গায়ে জড়িয়ে নিয়ে বিছানা থেকে নামার উপক্রম করলেন। "আমাকে যেতে হবে সোনা... এক্ষুনি..."

রাহুল দ্রুত বিছানা থেকে নেমে এসে মাকে পেছন থেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। ওর মুখে এক চরম বিষণ্ণতার ছাপ। "মা... থাকো না একটু ....বাবা আবার ঘরে নিজের কাজে ফিরে যাবে... কিচ্ছু হবে না...."

ইন্দিরা ঘুরে দাঁড়িয়ে ওর এই করুণ মুখের দিকে তাকালেন। তাঁর মাতৃসত্তাটা এক অদ্ভুত যন্ত্রণায় মোচড় দিয়ে উঠল। তিনি নিজের দুই হাত দিয়ে রাহুলের গালদুটো আলতো করে ধরলেন।

"মা-কে এখন যেতেই হবে সোনা..." তিনি খুব নরম, ফিসফিস করা গলায় সান্ত্বনা দিলেন। "কিন্তু তুই ওই স্যাড ফেসটা করিস না প্লিজ..... ঠিক আছে, শোন... আমি একটা প্রমিস করছি।"

রাহুল একটু চোখ তুলে তাকাল।

"আমি চেষ্টা করব রাতে তোকে টেক্সট করার, ঠিক আছে সোনা?" ইন্দিরা এক পরম প্রশ্রয়ে ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন। "তোর বাবা যখন ঘুমিয়ে পড়বে, আমরা কিছুক্ষণ হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট করব। ওকে বাবু? তাহলে তোর মনটা একটু ভালো হবে?"

রাহুলের বিষণ্ণ মুখটা এক লহমায় একটু উজ্জ্বল হয়ে উঠল। ও একটু হাসল এবং মাথা নেড়ে বলল, "ওকে মা, সাউন্ডস গুড।"

ইন্দিরা ওর কপালে একটা দ্রুত, স্নেহমাখা চুমু খেয়ে বললেন, "গুড বয়।"

তারপর তিনি আর এক মুহূর্তও না দাঁড়িয়ে খুব সাবধানে, নিঃশব্দে দরজাটা খুলে করিডোরে বেরিয়ে গেলেন।


১০.৩. গোপন ফোনালাপ ও আগামীর নকশা

রাত তখন সাড়ে বারোটা পেরিয়ে গেছে। সুব্রত ততক্ষণে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তাঁর নাক ডাকার মৃদু, একটানা শব্দ অন্ধকার ঘরটায় গমগম করছে।

ইন্দিরা খুব সাবধানে নিজের পাশ ফিরে শুলেন। বিছানার পাশের টেবিল থেকে নিজের ফোনটা তুলে নিলেন তিনি। স্ক্রিনের আলোটা একদম কমিয়ে দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ ওপেন করলেন। রাহুলের চ্যাট উইন্ডোতে গিয়ে দেখলেন ও 'অনলাইন' দেখাচ্ছে। ইন্দিরার ঠোঁটের কোণে একটা প্রশ্রয়ের হাসি ফুটে উঠল। তিনি অত্যন্ত দ্রুত আঙুল চালিয়ে টাইপ করলেন:

ইন্দিরা: "জেগে আছিস?"

মেসেজটা ডেলিভার হওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ব্লু-টিক হয়ে গেল। আর প্রায় সাথে সাথেই রিপ্লাই এল।

রাহুল: "হ্যাঁ মা।"

ইন্দিরা অন্ধকারে একটু হাসলেন। ছেলেটা যেন ঠিক এই মুহূর্তটার জন্যই চাতকের মতো বসেছিল। তিনি টাইপ করলেন:

ইন্দিরা: " Big Grin[  বাপরে! এত ফাস্ট রিপ্লাই! তুই কি সারাক্ষণ ফোনটা হাতে নিয়েই বসেছিলিস নাকি?"

রাহুল: "অবশ্যই! আমি তো তোমার মেসেজেরই ওয়েট করছিলাম।"

ইন্দিরা ইচ্ছে করেই শাসনমিশ্রিত ভঙ্গিতে লিখলেন,

ইন্দিরা: "পাকা ছেলে! সারাদিন কত খাটনি গেছে, কাল আবার সকাল সকাল উঠতে হবে। এখন তো তোর ঘুমানো উচিত, তাই না?"

নিজের ঘরে, অন্ধকার বিছানায় শুয়ে থাকা রাহুলের মুখে একটা চওড়া হাসি ফুটে উঠল। ও টাইপ করল:

রাহুল: "ঘুম কি আর এমনি এমনি আসে! বাবা ঘুমিয়েছে?"

ইন্দিরা পাশ ফিরে ঘুমন্ত সুব্রতর দিকে একবার তাকালেন। একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে তিনি স্ক্রিনে লিখলেন:

ইন্দিরা: "হ্যাঁ, অনেকক্ষণ। একদম অঘোরে ঘুমোচ্ছে। এতক্ষণ মিটিংয়ের ধকল গেছে তো।"

রাহুল: "যাক, বাঁচা গেল।"

ইন্দিরা এবার একটু কপট অভিমান আর মাতৃসুলভ অহংকারের মিশেলে টাইপ করলেন:

ইন্দিরা: "যাই হোক, অন্তত একটা থ্যাঙ্ক ইউ তো বলতে পারিস আমাকে! তুই যা যা ফালতু আর রিডিকিউলাস আবদার করলি, আমি তো সবেতেই রাজি হলাম আজ।"

কয়েক মুহূর্ত পর রাহুলের মেসেজ এল:

রাহুল: "থ্যাঙ্ক ইউ মা। ইউ আর দ্য বেস্ট। কিন্তু অনেস্টলি বলতে গেলে..."

ইন্দিরা ভুরু কুঁচকে স্ক্রিনের দিকে তাকালেন। আবার কীসের ফন্দি আঁটছে এই ছেলে? তিনি লিখলেন:

ইন্দিরা: "অনেস্টলি কী?"

রাহুলের ঘর থেকে মেসেজ আসতে একটু সময় লাগল। ও যেন শব্দগুলো খুব গুছিয়ে লিখছিল।

রাহুল: "আজকেরটা খুব সুন্দর ছিল, আমার খুব ভালো লেগেছে... কিন্তু গত শুক্রবার রাতে আমরা যখন স্কিন-টু-স্কিন ছিলাম, সেই ফিলিংসটার ধারেকাছেও এটা আসে না।"

মেসেজটা পড়ার সাথে সাথে ইন্দিরার বুকের ভেতরটা এক অজানা শিহরণে কেঁপে উঠল। তিনি ফোনটা বুকের ওপর নামিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। এই ছেলেটার কোনো লিমিট নেই। তিনি আবার কিপ্যাডে আঙুল রাখলেন।

ইন্দিরা: "উফ্, তোর ডিমান্ডের কোনো শেষ নেই, তাই না? তুই বুঝতে পারছিস না পরিস্থিতিটা কতটা জটিল? তোর বাবা বাড়িতে আছে, আর আমি এসব কী করছি তোর সাথে? এনিওয়ে, ওটা একটা ওয়ান-টাইম রিওয়ার্ড ছিল, রাহুল। দ্যাটস ইট।"

রাহুল: "ওয়ান-টাইম কেন হবে মা? আমরা তো একটু চেষ্টা করলেই একটা সেফ উপায় বের করে নিতে পারি।"

রাহুল: "আর সত্যি করে বলো, আমি জানি তুমিও আমাকে আগের মতো কাছে টানার সুযোগ খুঁজছ। তাই না?"

ইন্দিরা এই গোপন, নিষিদ্ধ খেলার রোমাঞ্চ আর ছেলের এই চরম স্পর্ধার কথা পড়ে মনে মনে হাসলেন। তিনি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে টাইপ করলেন:

ইন্দিরা: "বড্ড পেকেছিস তুই! সব ব্যাপারেই তোর একটা না একটা ফন্দি চাই। ঠিক আছে, দেখি তোর মাথায় কী মাস্টারপ্ল্যান ঘুরছে।"

রাহুল: "ডান! তাহলে শোনো আমার আইডিয়াটা... Blush "

ইন্দিরা: "বল, শুনি। তোর বাবা বাড়িতে থাকতে তুই স্কিন-টু-স্কিনের মতো একটা চরম রিস্কি জিনিস কীভাবে এক্সিকিউট করার প্ল্যান করছিস, সেটা ভেবেই আমার অদ্ভুত লাগছে।"

রাহুল নিজের অন্ধকার ঘরে বিছানায় শুয়ে এবার একটু নড়েচড়ে বসল। ও টাইপ করতে শুরু করল:

রাহুল: "গত শুক্রবার রাতে তুমি তোমার কিছু নস্টালজিক স্মৃতির কথা বলছিলে... মনে আছে? আমি বলেছিলাম আমি সেই ফিলিংসটা রিক্রিয়েট করতে চাই।"

ইন্দিরা মেসেজটা পড়লেন। তাঁর মনে পড়ে গেল শুক্রবার রাতের সেই চরম মুহূর্তের কথা, যে অনুভূতির স্বাদ তিনি মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও আরো একবার পেয়েছিলেন। তিনি লিখলেন:

ইন্দিরা: "হ্যাঁ, তুই আমার বুকে... ওই ব্যাপারটা।"

রাহুল: "তুমি আরও একটা স্মৃতির কথা বলছিলে। যখন আমি একদম ছোট ছিলাম, তখন তুমি আমাকে স্নান করিয়ে দিতে আর নিজে স্নান করতে... কারণ তুমি আমাকে বাথরুমের বাইরে একা ছাড়তে পারতে না। মনে আছে?"

ইন্দিরার আঙুলগুলো স্ক্রিনের ওপর থমকে গেল। তাঁর চোখের দৃষ্টিটা এক অদ্ভুত নস্টালজিয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে এল। তিনি খুব ধীর গতিতে টাইপ করলেন:

ইন্দিরা: "হ্যাঁ... তুই একদম একটা বাঁদরছানার মতো আমার গায়ের সাথে লেপ্টে থাকতিস।"

রাহুল: "এবার কি তুমি বুঝতে পারছ আমার প্ল্যানটা কী?"

ইন্দিরা ফোনের স্ক্রিনের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন। তাঁর বুকের ভেতরটা এবার সত্যি সত্যিই ধড়ফড় করতে শুরু করেছে। তিনি বুঝতে পারছিলেন রাহুল কী চাইছে, কিন্তু সেটা লিখে কনফার্ম করতে তাঁর হাত কাঁপছিল। তিনি একটা ঢোক গিলে টাইপ করলেন:

ইন্দিরা: "তুই চাইছিস... মায়ের সাথে স্নান করার ওই স্মৃতিটা রিক্রিয়েট করতে?"

রাহুল: "হ্যাঁ।"

এই একটা শব্দের মেসেজটা পড়ে ইন্দিরার শ্বাস আটকে এল। তিনি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। যুক্তিবাদী সত্তাটা প্রবলভাবে জেগে উঠল। তিনি দ্রুত টাইপ করলেন:

ইন্দিরা: "এটা জাস্ট রিডিকিউলাস, রাহুল! এত অ্যাবসার্ড কথা আমি জীবনেও শুনিনি! এটা ইমপসিবল। ছেলে বড় হয়ে যাওয়ার পর মা আর ছেলে একসাথে স্নান করতে পারে না!"

রাহুল: "কোথায় লেখা আছে এরকম কোনো রুল?"

ইন্দিরা: "কোনো রুল বুক নেই ঠিকই, কিন্তু এটা ঠিক নয়। এটা একেবারেই অ্যাক্সেপ্টেবল নয়।"

রাহুল এবার ওর তূণীর থেকে সবচেয়ে মোক্ষম ব্রহ্মাস্ত্রটা বের করল। ও খুব ঠান্ডা মাথায় টাইপ করল:

রাহুল: "মা... গত শুক্রবার রাতে আমি যখন তোমার বুকে... মুখ দিয়েছিলাম... তুমি তো নিজেই বলেছিলে ওটা তোমাকে এমন একটা শান্তি দিচ্ছিল যা তুমি জীবনেও পাওনি। যদি ওইটা করা ওকে হয়, তাহলে এটাও তো ওকে হওয়া উচিত।"

রাহুলের এই অকাট্য, ধ্বংসাত্মক যুক্তির মেসেজটা পড়ে ইন্দিরার সমস্ত প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে গেল। তিনি অন্ধকারের মধ্যেই নিজের কপালে হাত দিলেন। ছেলেটা তাঁকে তাঁর নিজের কথা দিয়েই আটকে দিয়েছে। তিনি মরিয়া হয়ে টাইপ করলেন:

ইন্দিরা: "এটা কোনো লজিক বা রুলের ব্যাপার নয়। এটা পুরোপুরি আমার ফিলিংসের ব্যাপার। আমার এসব একদম প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। তুই একটা পাগল।"

রাহুল: "মা, ভেবে দেখো, আমরা কিন্তু এটা খুব ইজিলি করতে পারি, বাবা বাড়িতে থাকলেও। কারণ বাবা কোনোদিনও ভুলে তোমার প্রাইভেট বাথরুমে নক করবে না, বা ওই বাথরুমটা ইউজ করবে না। আমি শিওর।"

ইন্দিরা: "তোর বাবা ঢুকবে না, কিন্তু আমি তো জানব... আমি তো জানব যে আমি আমার ছেলের সাথে বাথরুমের ভেতরে কী করছি... সত্যি করে বল তো, তোর কাছে কি এটা সত্যিই শুধু একটা মেমরি রিক্রিয়েট করার ব্যাপার? আর কিছু না?"

রাহুলের ঘর থেকে এবার রিপ্লাই আসতে একটু বেশি সময় লাগল। ও নিজের ইমোশনগুলোকে টেক্সটের মাধ্যমে বোঝানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছিল।

রাহুল: "শুধু তাই নয় মা... এটা ভালোবাসা। কারণ আমি তোমাকে এই পৃথিবীর সবকিছুর চেয়ে বেশি ভালোবাসি। আজ সন্ধেবেলাও আমি তোমাকে এটাই বলেছিলাম। আমার আর কিচ্ছু চাই না জীবনে। আমার শুধু আমার মাকে চাই।"

রাহুলের এই চরম সমর্পণ আর ভালোবাসার মেসেজটা পড়ে ইন্দিরার বুকের ভেতরটা যেন একটা দাবানলের মতো জ্বলে উঠল। তাঁর ভেতরের মাতৃত্ব, নারীত্ব আর সমস্ত অবদমিত আকাঙ্ক্ষা একাকার হয়ে গেল। তিনি একটা দীর্ঘ, কাঁপানো শ্বাস ছাড়লেন। কিন্তু তবুও তাঁর ভেতরের অভিভাবক সত্তাটা শেষবারের মতো একটা জোরালো প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করল। তিনি টাইপ করলেন:

ইন্দিরা: "রাহুল... তুই খুব ভালো করেই জানিস ঠিক কী কথা বললে আমি দুর্বল হয়ে পড়ি। কিন্তু তুই বুঝতে পারছিস তুই প্র্যাক্টিক্যালি কী চাইছিস? একসাথে স্নান করা মানে... আমাকে তোর সামনে পুরোপুরি জামাকাপড় ছাড়া থাকতে হবে! তুই জানিস এটা কতটা অস্বস্তিকর?"

রাহুল: "তাতে কী প্রবলেম মা? আমি তো অলরেডি তোমার ওপরের দিকটা দেখেছি। তুমি তো আজকেও আমাকে দেখালে। গত শুক্রবারও দেখেছি।"

ইন্দিরা অন্ধকারে নিজের কপালে হাত দিলেন। তিনি দ্রুত টাইপ করলেন:

ইন্দিরা: "ওটা জাস্ট একটুখানি ছিল, সোনা। একটা নির্দিষ্ট লিমিট অবধি। কিন্তু পুরো শরীর দেখানো... একজন মায়ের তার এত বড় ছেলের সামনে সম্পূর্ণ নগ্ন হওয়া... এটার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত! এটা চরম লজ্জার ব্যাপার। আমি পারব না।"

রাহুল এবার ওর সবচেয়ে মোক্ষম যুক্তিটা দিল:

রাহুল: "লজ্জা কিসের মা? তুমি তো নিজেই বললে, আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন তুমি আমাকে নিয়ে একসাথে বাথরুমে স্নান করতে। তখন কি তুমি জামাকাপড় পরে থাকতে? তখন তো তুমি... ন্যাংটোই ছিলে, তাই না? তাহলে এখন কেন এত লজ্জা করছ?"

ইন্দিরা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে স্তব্ধ হয়ে গেলেন। ছেলেটা তাঁকে তাঁর নিজের কথা দিয়েই কীভাবে আটকাচ্ছে! তিনি মরিয়া হয়ে টাইপ করলেন:

ইন্দিরা: "তখন তুই এক ফোঁটা বাচ্চা ছিলিস! আর এখন তুই ১৯ বছরের ধেড়ে জোয়ান ছেলে! দুটোর মধ্যে কোনো কম্পারিজন হয় না, রাহুল।"

রাহুল: "কিন্তু মা, শুধু তো তুমি নও। বাথরুমে তো আমিও ন্যাংটো হয়ে থাকব। আমার তো কোনো লজ্জা করছে না। আমি তো ওকে আছি। তাহলে তোমার কেন করবে?"

ইন্দিরার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। তিনি কাঁপাকাঁপা হাতে টাইপ করলেন:

ইন্দিরা: "রাহুল! দুটো কি এক জিনিস হলো? তুই ছেলে, আমি তোর মা—একজন নারী! আর তাছাড়া তুই নিজে কি বুঝতে পারছিস তুই কী বলছিস? একটা সাবালক ছেলে তার মায়ের সামনে..."

রাহুল: "আমি শুধু আমার মায়ের সামনে থাকব মা, অন্য কারোর সামনে তো নয়। আর তুমিই তো আমাকে জন্ম দিয়েছ, তুমি তো আমার সবটাই দেখেছ ছোটবেলা থেকে।"

ইন্দিরা: "ছোটবেলায় দেখেছি, এখন তো তুই বড় হয়েছিস! বড্ড অদ্ভুত আর অস্বস্তিকর এটা। আমার মাথা কাজ করছে না, রাহুল। তুই আমাকে এমন একটা সিচুয়েশনে ফেলছিস যেখানে আমার ইমোশন আর লজিক দুটোই গুলিয়ে যাচ্ছে। এটা বড্ড বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে।"

রাহুল বুঝতে পারল মায়ের যুক্তির দেওয়াল ভাঙতে শুরু করেছে এবং মা এখন একটা চরম মানসিক দ্বন্দ্বে ভুগছে।

রাহুল: "তাহলে লজিক দিয়ে ভেবো না মা। আর চট করে হ্যাঁ-ও বোলো না। আমাকে এটা অর্জন করতে দাও। ঠিক আগের মতো। লেটস গো ব্যাক টু আওয়ার বার্টার সিস্টেম। তুমি আমাকে এমন কোনো কঠিন চ্যালেঞ্জ দাও, যেটা পূরণ করলে তবেই তুমি আমাকে এই রিওয়ার্ডটা দেবে।"

মেসেজটা পাঠিয়ে রাহুল উত্তেজনার সাথে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।

ইন্দিরা মেসেজটা পড়লেন। প্রস্তাবটার চরম স্পর্ধা এবং তাঁর নিজের ভেতরের এক আদিম, নিষিদ্ধ কৌতূহল তাঁকে মুহূর্তের জন্য পুরোপুরি স্থবির করে দিল। তিনি ফোনটা বুকের ওপর নামিয়ে রাখলেন। চোখদুটো বন্ধ করে অন্ধকারে নিঃশ্বাস নিতে লাগলেন। তাঁর ভেতরের সমাজ, সংস্কার আর মাতৃত্বের এক অদ্ভুত সংঘাত চলছিল। এক মিনিট... দু'মিনিট... তাঁর ফোনের স্ক্রিনের আলোটা ধীরে ধীরে নিভে গেল।

এদিকে নিজের ঘরে শুয়ে রাহুল ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠছিল। হোয়াটসঅ্যাপে মায়ের নামের নিচে 'অনলাইন' দেখাচ্ছে, কিন্তু কোনো 'টাইপিং...' লেখা আসছে না। তিন মিনিট কেটে গেল। রাহুলের বুকের ভেতরটা এবার আশঙ্কায় কাঁপতে শুরু করল। মা কি সত্যি সত্যিই বড্ড বেশি রেগে গেল? মা কি আর কথা বলবে না?

ও আর থাকতে না পেরে দ্রুত টাইপ করল:

রাহুল: "মা? তুমি আছ?"
রাহুল: "মা, প্লিজ কিছু তো বলো... তুমি কি রেগে গেলে?"
রাহুল: "মা... তুমি কি অনলাইন আছ?"

ইন্দিরা ফোনের ভাইব্রেশন শুনে চোখ খুললেন। স্ক্রিনে পর পর তিনটে মেসেজ। ছেলের এই ভয় পাওয়া, আকুল মেসেজগুলো পড়ে তাঁর ভেতরের সমস্ত যুদ্ধের অবসান ঘটল। একটা দীর্ঘ, কাঁপানো শ্বাস ছেড়ে তিনি একটা নরম, অসহায় হাসি হাসলেন। ছেলেটা তাঁকে কোনো দিক থেকেই পালানোর রাস্তা দিচ্ছে না। তিনি পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে টাইপ করতে শুরু করলেন।

রাহুল দেখল স্ক্রিনে ফাইনালি 'টাইপিং...' ভেসে উঠেছে। ওর হৃৎপিণ্ডটা গলার কাছে চলে এল।

ইন্দিরা: "বার্টার সিস্টেম! সবসময় তোর ওই জঘন্য বার্টার সিস্টেম। ঠিক আছে। আমি খেলব তোর এই বার্টার গেম। আমি আমার কন্ডিশন নিয়ে রেডি।"

রাহুল: "উফ্, বাঁচালে মা! থ্যাঙ্ক ইউ! তো বলো, চ্যালেঞ্জটা কি খুব কঠিন হতে চলেছে? আমার তো সামনে কোনো এক্সামও নেই।"

ইন্দিরা বিছানায় সামান্য উঠে বসলেন। অন্ধকারেও তাঁর ভেতরের সেই কড়া, শৃঙ্খলাপরায়ণ মায়ের রূপটা আবার ফিরে এল। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় নিজের শর্তগুলো টাইপ করতে লাগলেন:

ইন্দিরা: "আমি একজন মা, রাহুল। তাই আমার চ্যালেঞ্জগুলো সবসময় তোর ডিসিপ্লিন আর পড়াশোনার কথা ভেবেই হবে। তোর তো সামনের সোম আর মঙ্গলবার ছুটি, তাই না?"

রাহুল: "হ্যাঁ মা।"

ইন্দিরা: "বেশ। আগামী চার দিন—অর্থাৎ শনিবার, রবিবার, সোমবার আর মঙ্গলবার—তুই কমপ্লিট আইসোলেশনে থাকবি। কোনো ফোন নয়, কোনো ভিডিও গেম নয়, কোনো বন্ধুদের সাথে চ্যাটিং নয়, কোনো সোশ্যাল মিডিয়া নয়। তোর ফোন কাল সকালেই তুই আমার কাছে জমা করে দিবি।"

ইন্দিরা: "তুই তোর ল্যাপটপ বা পিসি ইউজ করতে পারিস, কিন্তু সেটা শুধুমাত্র পড়াশোনার রিসার্চের জন্য, এবং সেটাও কমপ্লিটলি আমার সুপারভিশনের আন্ডারে।"

রাহুল মেসেজগুলো পড়ে একটু থমকাল বটে, কিন্তু প্রাপ্তির আনন্দ এতটাই বিশাল যে, এই চার দিনের আত্মত্যাগ তার কাছে নিতান্তই তুচ্ছ।

ইন্দিরা: "আর সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট কথা... এই চার দিন, রোজ রাত ঠিক ন'টার সময় তুই লিভিং রুমে আমার সামনে এসে দাঁড়াবি। সারাদিন তুই কী কী পড়াশোনা করেছিস, কী কী শিখেছিস—তার একটা কমপ্লিট ভার্বাল সামারি তুই আমাকে দিবি। আর আমি যতবার চাইব তোকে ওই টপিকগুলোর ওপর ক্রস-কোয়েশ্চেন করতে পারব, সেই রাইট আমার থাকবে। বুঝতে পেরেছিস?"

রাহুল: "ওকে মা, বুঝতে পেরেছি। ডান। কিন্তু রিওয়ার্ডটা কবে পাব? মঙ্গলবার তো বাবা বাড়িতেই থাকবে।"

ইন্দিরা এবার অন্ধকারে এক অদ্ভুত, তৃপ্ত এবং রহস্যময় হাসি হাসলেন। তাঁর কাছে এমন একটা গোপন খবর ছিল যা রাহুল জানত না। তিনি টাইপ করলেন:

ইন্দিরা: "তোর বাবার আগামী বুধবার বিকেল থেকে শুরু করে রাত অবধি রোটারি ক্লাবে একটা ইম্পর্ট্যান্ট মিটিং আছে। তাই, তোর ওই মহামূল্যবান রিওয়ার্ডটা এক্সিকিউট হবে বুধবার বিকেলে... ২২শে এপ্রিল।"



১০.৪. চুক্তির দলিল

রাহুল নিজের অন্ধকার ঘরে বিছানায় শুয়ে উত্তেজনার চোটে প্রায় ছটফট করে উঠল। গতবারের মতোই ওর স্বভাবসিদ্ধ আইনি মনটা জেগে উঠেছে। ও দ্রুত টাইপ করল:

রাহুল: "মা, আমি চাই এটা অফিশিয়াল হোক। যেমন আমরা আগেরবার কাগজে লিখেছিলাম। এবার হোয়াটসঅ্যাপেই একটা কন্ট্রাক্ট লিখে দাও।"

সুব্রতর পাশে শুয়ে থাকা ইন্দিরার ঠোঁটের কোণে একটা চওড়া, প্রশ্রয়ের হাসি ফুটে উঠল। এই ছেলেটার সব কিছুতেই একটা নিখুঁত ডকুমেন্টেশন চাই। তিনি টাইপ করলেন:

ইন্দিরা: "আজ কত তারিখ?"

রাহুল: "১৭ই এপ্রিল। মা, তুমিও সত্যি, ফোনেই তো ডেট দেখা যায়।"

ইন্দিরা: "একদম পাকামো করবি না তো! অনেক রাত হয়েছে, আর মায়েরও বয়স হয়েছে, সবসময় মাথা কাজ করে না।"

ইন্দিরা বিছানার হেডবোর্ডে মাথা ঠেকিয়ে অত্যন্ত নিখুঁত, আইনি ভাষায় মেসেজটা ড্রাফট করতে শুরু করলেন। কয়েক মিনিট সময় নিয়ে তিনি পুরো চুক্তিটা টাইপ করলেন এবং সেন্ড করলেন:

ইন্দিরা:
"বিনিময় চুক্তিপত্র (Barter Agreement)

তারিখ: ১৭ই এপ্রিল
পক্ষসমূহ: ডক্টর ইন্দিরা সেন (মা) এবং রাহুল সেন (ছেলে)

শর্তাবলী:
১. রাহুল সেন আগামী চার দিন (শনিবার, রবিবার, সোমবার এবং মঙ্গলবার) সম্পূর্ণ ডিজিটাল বিচ্ছিন্নতায় (আইসোলেশনে) থাকবে। তার মোবাইল ফোন মায়ের কাছে জমা থাকবে।
২. সে কেবলমাত্র মায়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পড়াশোনার স্বার্থে কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারবে।
৩. উক্ত চার দিন, প্রতিদিন রাত ৯.০০ ঘটিকায় রাহুলকে বসার ঘরে মায়ের সামনে উপস্থিত হয়ে সারাদিনের পঠিত বিষয়ের একটি সম্পূর্ণ মৌখিক সারাংশ প্রদান করতে হবে। মা যেকোনো প্রশ্ন করার অধিকার সংরক্ষণ করেন।

পুরস্কার:
রাহুল যদি উপরের সমস্ত শর্তাবলী নিখুঁতভাবে এবং মায়ের পূর্ণ সন্তুষ্টির সাথে পালন করতে সক্ষম হয়, তবে আগামী ২২শে এপ্রিল (বুধবার) বিকেলে মা তাকে নিম্নলিখিত পুরস্কারটি প্রদান করবেন:

মা এবং ছেলে মায়ের ব্যক্তিগত স্নানাগারে একসাথে স্নান করবে।

গোপনীয়তা:
এই চুক্তিপত্র এবং এর অন্তর্নিহিত বিষয়বস্তু সম্পূর্ণভাবে গোপন এবং শুধুমাত্র স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।"

মেসেজটা পাঠিয়ে ইন্দিরা আবার টাইপ করলেন:

ইন্দিরা: "স্বাক্ষর: ডক্টর ইন্দিরা সেন। নে, এবার তুই সাইন কর।"

রাহুলের ঘর থেকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রিপ্লাই এল:

রাহুল: "Signed by: Rahul Sen ✍️ Confusedmiling-face-with-sunglasses: "

ইন্দিরা মেসেজটা দেখে একটু মুচকি হাসলেন। তারপর একটা তাচ্ছিল্য মেশানো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে টাইপ করলেন:

ইন্দিরা: "কী রে? তুই কি সত্যিই চার দিন ধরে একটা গুড, ডিসিপ্লিনড বয় হয়ে থাকতে পারবি?"

রাহুল অত্যন্ত সিরিয়াস এবং তীব্র আন্তরিকতার সাথে রিপ্লাই দিল:

রাহুল: "আমি তোমার জন্য পৃথিবীর যেকোনো কিছু করতে পারি, মা।"

স্ক্রিনের ওপর ভেসে ওঠা এই ছোট্ট লাইনটা পড়ে ইন্দিরার বুকের ভেতরটা এক অদ্ভুত আবেগে মোচড় দিয়ে উঠল। তাঁর চোখের কোলটা হালকা ভিজে এল। তিনি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে, নিজের আবেগ লুকিয়ে টাইপ করলেন:

ইন্দিরা: "এমন কিছু বলিস না যেটা নিয়ে পরে তুই নিজেই পস্তাবি। আমি দেখব আগামী চার দিন তোর রেজোলিউশন কতটা স্ট্রং থাকে। কাল সকাল ঠিক সাতটার সময় ডাইনিং টেবিলে রিপোর্ট করবি, তোর ফোন নিয়ে। আমার হাতে জমা দিবি। এর যেন অন্যথা না হয়, রাহুল।"

রাহুল: "তুমি যা বলছ, তাই হবে মা। ওহ, আর একটা কথা... বুধবার আমি কলেজ থেকে তাহলে একটু আগে ফিরে আসার চেষ্টা করব। তুমিও একটু চেষ্টা কোরো, কেমন? আর আমি সকালে স্নান করে যাব না, ওকে? কারণ বিকেলে তো আমরা একসাথে স্নান করব... রাইট মা? ?"

ইন্দিরা ভেতরে ভেতরে খুশি হলেও, মেসেজে এক কড়া ভঙ্গি ফুটিয়ে তুললেন:

ইন্দিরা: "হ্যাঁ, আমরা স্নান করব ঠিকই। কিন্তু তুই যদি তোর কন্ডিশনগুলো ঠিকঠাক মানিস তবেই। আর তুই যে বলছিস সকালে স্নান করবি না... কলেজ থেকে যখন ঘেমো ভূত হয়ে ফিরবি, তখন কিন্তু এক্সপেক্ট করবি না যে তোর গায়ের গন্ধে আমি খুব ইমপ্রেসড হব! ?"

রাহুল: "তাতে কী এসে যায় মা? তুমি তো আমাকে ধুইয়ে একদম পরিষ্কার করেই দেবে। Tongue[ "

ইন্দিরা অন্ধকারে নিঃশব্দে হাসলেন। ছেলেটা জাস্ট ইমপসিবল।

ইন্দিরা: "হুমম, তা অবশ্য ঠিক। আমি তোকে ঘষেমেজে একদম চকচকে করে দেব। কিন্তু প্লিজ, কলেজে অন্তত একটু ডিওডোরেন্ট মেখে যাস, ওকে?"

রাহুল: "ওকে, মা। আর একটা কথা... আমরা কি একই সাবান মাখব, মা?"

ইন্দিরার আঙুলগুলো কিপ্যাডের ওপর দ্রুত চলতে লাগল:

ইন্দিরা: "উফফ তুই পারিসও বটে রাহুল! তোর কি মুখে কোনো ফিল্টার নেই রে? যা মনে আসে সব মাকে বলে দিস... হ্যাঁ, অবশ্যই একই সাবান মাখব, বোকা ছেলে কোথাকার। তুই কি ভেবেছিস আমি দুটো আলাদা সাবান রাখব? একটা আমার জন্য, আর একটা আমার রাজপুত্তুরের জন্য? ধুর, একটাই সাবান আমরা দুজনে মাখব।"

রাহুলের মেসেজ এল:

রাহুল: "আর মা... তুমি আমাকে শ্যাম্পু করে দেবে তো?"

ইন্দিরা: "হ্যাঁ রে বাবা, শ্যাম্পু করে দেব, ভালো করে স্নান করিয়ে দেব। সব করব।"

রাহুলের দিক থেকে এবার রিপ্লাই আসতে একটু সময় লাগল। ও যেন একটু দ্বিধা নিয়েই টাইপ করল:

রাহুল: "আর... আর আমি? আমিও কি তোমাকে শ্যাম্পু আর... সাবান মাখিয়ে দিতে পারব? :pleading-face: "

ইন্দিরা চোখ বড় বড় করে, অন্ধকারে এক চরম কৃত্রিম বিরক্তি আর প্রশ্রয়ের ভান করে টাইপ করলেন:

ইন্দিরা: "উফ্, তোর ডিমান্ডের তো কোনো শেষ নেই দেখছি! মায়ের সব কিছুতেই ভাগ বসাতে হবে? বাঁদর ছেলে! ঠিক আছে... তাই দিস। মা আর ছেলের তো ব্যাপার... দিবি তুইও মাখিয়ে।"

রাহুলের মেসেজে এবার এক পরম তৃপ্তি আর আনন্দের জোয়ার ফুটে উঠল:

রাহুল: "তার মানে... আমার গা থেকে একদম তোমার গায়ের গন্ধ বেরোবে। ❤️"

মেসেজটা পড়ে ইন্দিরার বুকের ভেতরের শ্বাসটা আটকে গেল। তাঁর চোখদুটো এক অসীম উষ্ণতা আর পরম মমত্বে গাঢ় হয়ে এল। অন্ধকার ঘরে, স্বামীর পাশে শুয়ে থেকেও তিনি যেন এই মুহূর্তে কেবলই তাঁর ছেলের ভালোবাসার ঘেরাটোপে বন্দি। তিনি এক চরম পবিত্র আবেগে টাইপ করলেন:

ইন্দিরা: "হ্যাঁ... তুই একদম আমার মতো গন্ধ পাবি। আর আমি... আমি তোর মতো গন্ধ পাব।"

রাহুল: "ওহ মা... বুধবার আমি আমার মাকে আবার পুরোপুরি নিজের করে পাব... আমি প্রচন্ড খুশি মা... প্রচন্ড খুশি। ইচ্ছে করছে এক্ষুনি তোমার ঘরে গিয়ে তোমাকে একটা টাইট হাগ দিই।"

ইন্দিরা ফোনটা নিজের বুকের ওপর চেপে ধরলেন। তাঁরও ইচ্ছে করছিল ছেলেকে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরতে। তিনি একটা গভীর শ্বাস নিয়ে টাইপ করলেন:

ইন্দিরা: "আমার গুড বয় হয়ে থাকিস সোনা... আগামী চারটে দিন... নিজের প্রমিসটা রাখিস... গুডনাইট বাবু।"

রাহুল: "প্রমিস মা। গুডনাইট। লাভ ইউ। Confusedmiling-face-with-hearts: "
Reply


Messages In This Thread
The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-01-2026, 01:31 PM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:46 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:47 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:48 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:54 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:55 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:57 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:58 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:59 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:43 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:49 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:51 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:54 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:55 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:56 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:57 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:58 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:59 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 09:00 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 09:01 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 09:04 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 09:05 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 09:06 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 06:02 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 06:02 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 06:04 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 06:04 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 08:55 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 08:55 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 08:57 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 08:59 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 08:59 AM

Forum Jump:


Users browsing this thread: 1 Guest(s)