Thread Rating:
  • 1 Vote(s) - 5 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5

The Barter System (By:andygarfield)
#22

(continuation of Chapter 12....)

১২.২. দূরত্বের দহন এবং এক অমৃত-সন্ধান


বৃহস্পতিবারের সকালটা শুরু হয়েছিল এক অদ্ভুত, দমবন্ধ করা শূন্যতা নিয়ে। বাইরের কলকাতায় এপ্রিলের চড়া রোদ পিচগলা রাস্তায় আগুন ঝরাচ্ছে, গাড়ির হর্ন আর লোকজনের কোলাহলে মহানগরী তার চেনা ছন্দে ছুটছে। কিন্তু এই বিস্তীর্ণ জনসমুদ্রের মাঝেও দুটো আলাদা জায়গায়, দুটো মানুষের ভেতরের পৃথিবীটা যেন থমকে বরফ হয়ে আছে।

কলেজের কেমিস্ট্রি ক্লাসরুমে জানলার ধারের বেঞ্চটায় বসে আছে রাহুল। প্রফেসরের একটানা, একঘেয়ে লেকচার আর হোয়াইটবোর্ডে খসখস করে মার্কার চলার শব্দ ওর কানের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। ওর মগজে কিছুই ঢুকছে না। গতকাল রাতের সেই ভয়াবহ, হিমশীতল অপরাধবোধ এখন একটা নির্দিষ্ট সম্পৃক্ত বিন্দুতে পৌঁছে থিতু হয়ে গেছে। আত্মগ্লানির সেই তীক্ষ্ণ দহনটা একটু প্রশমিত হলেও, তার জায়গা নিয়েছে এক সম্পূর্ণ নতুন, সর্বগ্রাসী অনুভূতি—এক তীব্র, বুক-কাঁপানো শূন্যতা।

ও মাকে কাছে পাচ্ছে না।

আজ সকালে ব্রেকফাস্ট টেবিলে ও মায়ের চোখের দিকে তাকাতেই পারেনি। মাথা নিচু করে দুটো রুটি গিলে কোনোমতে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে পালিয়ে এসেছে। কিন্তু এখন, এই কোলাহলমুখর ক্লাসরুমে বসে ওর মনে হচ্ছে, ওর বুকের ভেতর থেকে কেউ যেন ওর প্রাণভোমরাটা কেড়ে নিয়েছে। ওর শুধু মায়ের কথা মনে পড়ছে। ডক্টর ইন্দিরা সেন—ওর মা, ওর আশ্রয়, ওর পৃথিবী। এই ব্রহ্মাণ্ডে মায়ের মতো কেউ নেই, কেউ হতেও পারে না। ওর হৃদয়ের প্রতিটি কোণ, প্রতিটি স্পন্দন শুধু ওই একজন মানুষের জন্যই সংরক্ষিত। আর সেই মানুষটার প্রতি ওর যে অগাধ, সীমাহীন ভালোবাসা, তা প্রকাশের কোনো ভাষা ওর জানা নেই। অথচ, গত বিকেলের ওই ঘটনার পর থেকে মা আর ছেলের মাঝখানে যে একটা অদৃশ্য, কাঁচের দেওয়াল উঠে গেছে, সেটা রাহুলকে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছিল। চব্বিশ ঘণ্টাও পেরোয়নি, অথচ ওর মনে হচ্ছে যেন যুগ যুগ ধরে ও মাতৃস্নেহ থেকে বিচ্ছিন্ন। এই দূরত্ব ওকে পাগল করে দিচ্ছিল, ফ্রাস্ট্রেটেড করে দিচ্ছিল। কিন্তু একই সাথে, ওর ভেতরের সেই লজ্জার কাঁটাটা ওকে বারবার বিদ্ধ করছিল। মায়ের সামনে গিয়ে দাঁড়ানোর, স্বাভাবিকভাবে কথা বলার বিন্দুমাত্র সাহস ওর নেই।

দীর্ঘক্ষণ নিজের ভেতরের এই কুরুক্ষেত্রে লড়াই করার পর, রাহুল আর পারল না। প্যান্টের পকেট থেকে খুব সন্তর্পণে ফোনটা বের করল ও। হোয়াটসঅ্যাপে মায়ের নামের চ্যাটবক্সটা খুলল। আঙুলগুলো কাঁপছে ওর। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থেকে, মাত্র কয়েকটা শব্দ ও টাইপ করল:
"Maa, I am sorry."
মেসেজটা সেন্ড করেই ও ফোনটা উলটে বেঞ্চের ওপর রেখে দিল। বুকের ভেতরটা তখন হাতুড়ির মতো পিটছে।

অন্যদিকে, ইউনিভার্সিটির ইতিহাস বিভাগের হেড-অফ-দ্য-ডিপার্টমেন্টের নিজস্ব, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেম্বারে বসে আছেন ডক্টর ইন্দিরা সেন। আজ তাঁর কোনো লেকচার নেই। টেবিলের ওপর ডেস্কটপ খোলা, স্ক্রিনে বেশ কয়েকটা আনরিড ইমেইল আর আগামী সপ্তাহের সেমিনারের শিডিউল জ্বলজ্বল করছে। কিন্তু তাঁর ওই প্রখর, শৃঙ্খলাপরায়ণ মগজ আজ তাঁর বিন্দুমাত্র নির্দেশ মানছে না। ইউনিভার্সিটির এই নিভৃত, শান্ত চেম্বারে বসে তাঁর মন আজ বড্ড বেশি অস্থির, যা তাঁর স্বভাবের সম্পূর্ণ বিপরীত।

রাহুলের মতোই তাঁর ভেতরের সেই আত্মগ্লানি আর লজ্জার ঝড়টা এখন কিছুটা শান্ত হয়েছে। কিন্তু তার জায়গায় যে অনুভূতিটা তাঁকে গ্রাস করেছে, তা আরও অনেক বেশি গভীর, অনেক বেশি যন্ত্রণাদায়ক। তিনি তাঁর সোনা ছেলেটাকে বড্ড মিস করছেন।

অবশ্যই একজন মা তার সন্তানকে ভালোবাসবে, এতে তো কোনো প্রশ্নই নেই। কিন্তু গত বিকেল থেকে ছেলের সাথে এই যে মানসিক দূরত্ব, ওকে বুকে টেনে নিতে না পারার এই যে অব্যক্ত যন্ত্রণা—তা ইন্দিরার হৃদয়কে ফালাফালা করে দিচ্ছিল। তাঁর মতো একজন প্রাজ্ঞ, যুক্তিবাদী, বুদ্ধিজীবী নারীর কাছেও এই অদ্ভুত, আদিম অনুভূতির কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা নেই। তিনি বারবার স্ক্রিনের ইমেইলগুলোতে ফোকাস করার চেষ্টা করছেন, আর বারবার রাহুলের সেই নিষ্পাপ মুখটা, ওর ওই মিষ্টি, চপল হাসিটা তাঁর চোখের সামনে ভেসে উঠছে।

তিনি ভাবছেন। গভীরভাবে, তলিয়ে ভাবছেন।
ছেলেটা আজ সকালে কেমন মাথা নিচু করে খেয়ে বেরিয়ে গেল! ওর মনের ভেতর এখন কী চলছে, তা তো তিনি খুব ভালো করেই জানেন। ছেলেটা নিশ্চয়ই এখন চরম লজ্জায়, চরম অনুশোচনায় কুঁকড়ে আছে। ও ভাবছে ও বোধহয় ওর মায়ের সামনে এক চরম জঘন্য কাজ করে ফেলেছে। বেচারা হয়তো এখন একাকীত্বে ভুগছে, যার সাথে কথা বলার, যার মনের কথা শোনার কেউ নেই। ইন্দিরা তো খুব ভালো করেই জানেন, মা-ই রাহুলের সব। আর একজন মা হয়ে, তিনি কীভাবে নিজের ছেলেকে এই চরম বিষণ্ণতায় ডুবিয়ে রাখতে পারেন?

তাছাড়া, কাল যা হয়েছে, সেটা তো তাঁর নিজেরই প্রশ্রয়ে হয়েছে, তাই না? তিনি তো নিজেই... তিনি নিজেই তো নিজের ফর্সা হাতের মুঠোয় ছেলের ওই অমূল্য, স্পন্দনশীল সম্পদটাকে ধারণ করেছিলেন। তিনি নিজেই তো নিজের নরম আঙুল দিয়ে ওর শরীরে সেই ম্যাজিকটা তৈরি করেছিলেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত ওই তীব্র, তপ্ত বিস্ফোরণটা তাঁর নিজের শরীরের ওপর আছড়ে পড়ে।

ইন্দিরা চেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ বুজলেন। তাঁর মগজ এক জটিল, মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের গভীরে তলিয়ে গেল। ওই যে উষ্ণ, ঘন, আঠালো স্রোতটা... ওই যে ছেলের শরীর থেকে নিঃসৃত হওয়া অমৃতধারা... ওটা তো আসলে ওর ভেতরের পুঞ্জীভূত ভালোবাসারই এক পরম, নির্ভেজাল প্রকাশ। হ্যাঁ, ওটা ভালোবাসাই ছিল। সম্ভবত ভালোবাসার সবচেয়ে আদিম, সবচেয়ে খাঁটি রূপ। ওই অমৃত, ওই অমেয় প্রেম তো তাঁর ছেলেটার শরীরের গভীরে তাঁর জন্যই সঞ্চিত ছিল! আর গতকাল বাথরুমের সেই বদ্ধ, নিভৃত পরিসরে, হয়তো সেটাই ছিল সেই সঞ্চিত অমৃতের আত্মপ্রকাশের সঠিক সময়। আর তার পরে... রাহুল বাথরুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর... বাথরুমের ওই একাকীত্বে তাঁর নিজের সাথে যা ঘটেছিল, সেটাও তো একই মুদ্রার অন্য পিঠ, তাই না? তাঁর নিজের নারীশরীরের গভীর থেকে উঠে আসা সেই চরম তৃপ্তির অমৃত... সেটাও তো ওই ছেলেটার জন্যই সঞ্চিত ছিল। হয়তো ওটাই ছিল সেই চরম সমর্পণের নির্দিষ্ট মুহূর্ত।

তিনি অদৃষ্টে বিশ্বাস করেন, কপালের লিখনে বিশ্বাস করেন। এই যে দুটো মানুষের শরীর আর মন এইভাবে সমস্ত সামাজিক বেড়াজাল ভেঙে একাকার হয়ে যাচ্ছে, এটা তো নিয়তি ছাড়া আর কিছুই নয়!

এই ভাবনাগুলো যত তাঁর মগজে দানা বাঁধতে লাগল, তাঁর ভেতরের সেই অপরাধবোধের জালটা আস্তে আস্তে সরে গিয়ে সেখানে এক পরম, নিঃশর্ত মাতৃত্ব আর তীব্র ভালোবাসার জন্ম দিল। তাঁর শুধু মনে হতে লাগল, কখন তিনি বাড়ি ফিরবেন, কখন তাঁর ছেলেটাকে বুকে জড়িয়ে ধরবেন।

ঠিক সেই মুহূর্তে তাঁর ল্যাপটপের পাশে রাখা ফোনটা একটা মৃদু কম্পনে জানান দিল। হোয়াটসঅ্যাপ নোটিফিকেশন।
স্ক্রিনে রাহুলের নাম।
"Maa, I am sorry."

মেসেজটা পড়ামাত্র ইন্দিরার বুকের ভেতরটা ছ্যাঁত করে উঠল। তাঁর নাড়ি ছিঁড়ে যাওয়ার মতো একটা কষ্ট হলো। তিনি যা ভয় পাচ্ছিলেন, ঠিক তাই। তাঁর বাবুসোনাটা সত্যিই প্রচন্ড ভেঙে পড়েছে। তাঁর খুব ইচ্ছে করছিল অনেক কিছু টাইপ করে পাঠাতে, ওকে শান্ত করতে। কিন্তু তিনি পারলেন না। এই কথাগুলো চ্যাটে বলা যায় না। রাহুল তো এখন কলেজে, ছেলেটা বাড়ি ফিরলে ওকে বুকে নিয়ে সব বলতে হবে।

তিনি ফোনটা নামিয়ে রেখে ডেস্কটপের স্ক্রিনের দিকে তাকালেন। নাহ্, আজ আর কোনো কাজ তাঁর দ্বারা হবে না। একটুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে থাকার পর, তিনি এক ঝটকায় কম্পিউটারটা শাট ডাউন করে দিলেন। ব্যাগ গুছিয়ে চেয়ার ছেড়ে উঠলেন। আজ তিনি তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরবেন। বাড়ি ফিরে নিজের হাতে রাহুলের জন্য ওর সবচেয়ে প্রিয় রান্নাটা করবেন—চিকেন কোরমা। মায়ের হাতের চিকেন কোরমা খেলে ছেলেটার মন এমনিতেই অর্ধেক ভালো হয়ে যাবে।

দুপুর গড়িয়ে বিকেল।

রাহুল ক্লান্ত পায়ে নিজের ফ্ল্যাটের সদর দরজার সামনে এসে দাঁড়াল। পকেট থেকে চাবি বের করে লকে ঘোরাতে যাবে, তখনই ওর নাকে একটা খুব চেনা, অত্যন্ত সুস্বাদু গন্ধ এসে ধাক্কা দিল। পেঁয়াজ বেরেস্তা, ঘি, আর গরম মশলার এক তীব্র, মোহনীয় সুবাস।

দরজাটা খুলতেই ও দেখল ড্রয়িংরুম আর ডাইনিং স্পেসটা ফাঁকা, কিন্তু রান্নাঘরের ভেতর আলো জ্বলছে। আর সেই আলোর নিচে দাঁড়িয়ে আছেন ওর মা।

রাহুলের মগজটা যেন এক লহমায় একটা টাইম মেশিনে চড়ে বেশ কয়েকটা দিন পিছিয়ে গেল। ঠিক এইরকমই একটা বিকেল ছিল। ঠিক এভাবেই ও কলেজ থেকে ফিরে দেখেছিল মা আজ তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে এসেছে। সেদিন... সেদিন ও নিজের ব্যাগটা নামিয়ে রেখে, সোজা রান্নাঘরে গিয়ে পেছন থেকে মাকে দু-হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরেছিল। চমকে উঠে মা বলেছিল, "ওহ্ রাহুল! কী হচ্ছে কী? ভয় পাইয়ে দিয়েছিলি তো!"

সেদিনের সেই প্রতিটা মুহূর্ত, প্রতিটা কথা, সেই প্রথম বার্টার সিস্টেমের প্রস্তাব—সবকিছু যেন ওর চোখের সামনে একটা সিনেমার দৃশ্যের মতো ভাসতে শুরু করল।

কিন্তু আজ... আজ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। আজ ও চাইলেও ওইভাবে পেছন থেকে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরতে পারবে না। ওর বুকের ভেতরটা হাহাকার করছে মায়ের একটু ছোঁয়া পাওয়ার জন্য, কিন্তু ওর পা দুটো যেন মেঝের সাথে আটকে আছে। ওই চরম লজ্জার স্মৃতি, ওই অপরাধবোধ ওকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে।

রাহুল খুব ধীর, নিস্তব্ধ পায়ে ড্রয়িংরুমের সোফার ওপর নিজের ব্যাগটা নামিয়ে রাখল। তারপর অত্যন্ত সন্তর্পণে, প্রায় চোরের মতো রান্নাঘরের দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়াল।

"মা... তুমি আজ তাড়াতাড়ি চলে এসেছ," ওর গলার স্বরটা বড্ড নিচু, বড্ড মিনমিনে শোনাল।

ইন্দিরা খুন্তি নাড়া থামিয়ে ওর দিকে ফিরলেন। তাঁর ফর্সা মুখে এক পরম স্নিগ্ধ, মাতৃত্বের লাবণ্য মাখানো হাসি।
"হ্যাঁ সোনা, আজ আর ইউনিভার্সিটিতে কোনো ক্লাস ছিল না। তাই ভাবলাম তাড়াতাড়ি ফিরে আমার বাবুটার জন্য ওর ফেভারিট চিকেন কোরমাটা বানিয়ে ফেলি।"

রাহুল মায়ের চোখের দিকে তাকাতে পারল না। ও দৃষ্টিটা মেঝের দিকে নামিয়ে নিয়ে একটা ম্লান, অর্ধেক হাসি হাসল। ঘাড়টা সামান্য নেড়ে বলল, "গন্ধটা... গন্ধটা খুব সুন্দর বেরোচ্ছে, মা।"

এর বেশি আর একটা কথাও ওর মুখ থেকে বেরোলো না। ও ধীর পায়ে ঘুরে দাঁড়াল নিজের ঘরের দিকে চলে যাওয়ার জন্য।

"রাহুল, দাঁড়া।"

ইন্দিরার গলাটা খুব শান্ত, কিন্তু তার মধ্যে এক অমোঘ নির্দেশ ছিল।

রাহুল থমকে দাঁড়াল। তারপর খুব ধীরে ধীরে মায়ের দিকে আবার ঘুরল।

ইন্দিরা রান্নাঘরের কাউন্টারে খুন্তিটা নামিয়ে রাখলেন। তারপর অত্যন্ত ধীর, স্থির পায়ে এগিয়ে এলেন ওর দিকে। "আমি তোর মেসেজটা দেখেছি, সোনা।"

রাহুলের বুকের ভেতরটা ধড়ফড় করে উঠল। ও কী বলবে বুঝতে পারল না। শুধু বোকার মতো দাঁড়িয়ে রইল।

ইন্দিরা ওর একদম সামনে এসে দাঁড়ালেন। তাঁর কণ্ঠস্বর এখন এক নিবিড়, উষ্ণ প্রলেপের মতো নরম। "কী হয়েছে, সোনা? তুই ওই মেসেজটা কেন করলি?"

রাহুল একটু আমতা আমতা করে, অস্পষ্ট তোতলানো গলায় বিড়বিড় করল, "ওহ্... না মানে... কিছু না মা, ওসব বাদ দাও... নেভারমাইন্ড..."

ইন্দিরা নিজের ডান হাতটা তুলে রাহুলের বাঁ কাঁধের ওপর আলতো করে রাখলেন। তাঁর আঙুলের ওই সামান্য স্পর্শেই রাহুলের সারা শরীরে একটা শিহরণ খেলে গেল।

"না, তোকে বলতেই হবে," ইন্দিরার গলার স্বরে এক অসীম প্রশ্রয়। "তুই কেন মেসেজটা পাঠালি? তুই কিসের জন্য সরি বলছিস? আমাকে বল সোনা, তুই তো জানিস তোকে এমন মুখ গোমড়া করে থাকতে দেখলে মায়ের বুকের ভেতরটা কেমন ফেটে যায়।"

রাহুল মুখটা আরও নিচু করে নিল। ওর পক্ষে শব্দগুলো উচ্চারণ করা যেন পাহাড় ঠেলার মতো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

ইন্দিরা এবার ওর আরেকটা কাঁধের ওপরও নিজের অন্য হাতটা রাখলেন। গলার স্বরটা এক খাদে নামিয়ে, একদম ফিসফিস করে বললেন, "সোনা... কিসে তোর এত মন খারাপ? তোকে এত বিষণ্ণ দেখাচ্ছে কেন রে বাবু?"

রাহুল তবু চুপ।

"সোনা..." ইন্দিরা ওর কাঁধদুটোয় একটু আদুরে চাপ দিয়ে বললেন, "আমি তোকে কাল ওই সময়েও বলেছিলাম... আমি তোকে আজ আবার বলছি... ইটস ওকে... এটা পারফেক্টলি ওকে। তুই যা ভেবে কষ্ট পাচ্ছিস, সেটার জন্য মায়ের মনে বিন্দুমাত্র কোনো রাগ বা বিরক্তি নেই।"

রাহুল একটু অবাক হয়ে মায়ের মুখের দিকে তাকাল।

"এটা একটা খুব স্বাভাবিক ফিজিক্যাল রিয়্যাকশন, সোনা," ইন্দিরা অত্যন্ত প্রাজ্ঞ, অথচ স্নেহার্দ্র গলায় বোঝাতে শুরু করলেন। "তুই তো বায়োলজিতে এসব পড়েছিস, তাই না বাবু? তাহলে তুই কেন এত গিল্ট ফিল করছিস? প্লিজ সোনা... এমন করিস না... আমার বাবুটাকে এত স্যাড দেখলে মায়ের একটুও ভালো লাগে না।"

কথাগুলো বলতে বলতেই ইন্দিরা খেয়াল করলেন, রাহুলের চোখের কোণে জলের ধারা চিকচিক করে উঠেছে। এই দৃশ্যটা ইন্দিরার বুকের ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে দিল।

"ওহ্ সোনা আমার..."

তিনি নিজের দুটো হাত রাহুলের কাঁধ থেকে সরিয়ে নিয়ে ওর ফর্সা গালদুটো দুই হাত দিয়ে আলতো করে ধরলেন। ঠিক যেমন করে একজন মা তার ছোট্ট, অবোধ শিশুকে সান্ত্বনা দেয়, ঠিক সেই পরম মমতায় তিনি ফিসফিস করে বলতে লাগলেন:

"আমার কথাটা শোন, ওটা একদমই ন্যাচারাল রে বাবু, ট্রাস্ট মি। ওটা হয়েছিল কারণ... কারণ তুই ওই সময়টায়... বড্ড ভালো ফিল করছিলি, বড্ড আরাম পাচ্ছিলি... তাই তো, সোনা?"

রাহুল চোখের জল আর আটকে রাখতে পারল না। ওর গাল বেয়ে এক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। ও মাথা নেড়ে হ্যাঁ-সূচক সায় দিল।

ইন্দিরা নিজের শাড়ির আঁচলটা তুলে নিয়ে অত্যন্ত নরম হাতে ওর গালের সেই জলের ধারাটা পরম মমতায় মুছিয়ে দিলেন।

"মা সব জানে রে সোনা। দেখ, শরীর যখন ওরকম চরম একটা ভালো লাগার স্তরে পৌঁছায়... তখন শরীর এভাবেই রিয়্যাক্ট করে। এতে ভুল বা নোংরা কিচ্ছু নেই বাবু। আর জানিস তো? আমি তো বরং বলব যে ওই সময়... ওই রিলিজটা হয়ে গিয়ে... খুব ভালো হয়েছে। ওর পর তো তোর শরীরটা অনেক বেশি রিল্যাক্সড, অনেক বেশি হালকা লাগছিল, তাই না সোনা?"

রাহুল এবার একটু লাজুকভাবে মাথা নাড়ল। ওর ভেতরের সেই জমাট বাঁধা দুঃখ আর লজ্জার মেঘটা যেন মায়ের এই জাদুকরী কথাগুলোতে একটু একটু করে কাটতে শুরু করেছে।

ইন্দিরা ওর গালে একটা হালকা চিমটি কেটে বললেন, "দেখলি তো? তাহলে আর সরি ফিল করার কী আছে রে বোকা?"

রাহুল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে অবশেষে ওর গলার স্বর ফিরে পেল। ও তোতলাতে তোতলাতে, নিচু স্বরে বলল, "আমি... আমার খুব লজ্জা লাগছিল কারণ... কারণ ব্যাপারটা তো... তোমার সামনে ঘটেছিল..."

ইন্দিরা এবার একগাল মুক্তোঝরা, স্নিগ্ধ হাসি হাসলেন। তাঁর চোখদুটো মাতৃত্বের এক গভীর সমুদ্রে পরিণত হলো।

"ওহ্ সোনা... দ্যাটস... দ্যাটস টোটালি ফাইন..." তিনি ওর গালদুটো আরেকটু আদরে চেপে ধরে বললেন, "আমার ওতে বিন্দুমাত্র কোনো প্রবলেম হয়নি... ওটা আমার সামনে ঘটেছিল কারণ... ওই যে বললাম... কারণ ওই সময়ে তুই বড্ড ভালো ফিল করছিলিস... তাই না?"

ইন্দিরা একটু থামলেন, সঠিক শব্দগুলো হাতড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেন।

"কারণ... তুই তো তোর মাকে... খুব ভালোবাসিস... তাই তো রে সোনা?"

রাহুল মাথা নেড়ে, অত্যন্ত নিচু, ফিসফিস করা আর মিইয়ে আসা গলায় বলল, "হ্যাঁ মা..."

ইন্দিরা নিজের মুখটা রাহুলের মুখের আরও একটু কাছে নিয়ে এলেন। "তোর ওই সময়ে... ঠিক কেমন লাগছিল...মাকে একটু বলবি সোনা?"

রাহুল ওর আর্দ্র চোখদুটো দিয়ে মায়ের চোখের দিকে তাকাল। ওর গলার স্বর আবেগে বুজে আসছে। "আমি... আমি ফিল করছিলাম... আমি তোমার কাছে... কতটা আদরের... আমার দারুন আরাম লাগছিল মা... তুমি কি সুন্দর... করছিলে... আর আমার নিজের বুকের ভেতরটাও... তোমার জন্য ভালোবাসায়... কিরম যেন করছিল মা... আমি বলে বোঝাতে পারব না..."

রাহুলের এই কথাগুলো শোনার পর ইন্দিরার বুকের ভেতরটা এক বিশাল, উত্তাল জলোচ্ছ্বাসের মতো ফুলে উঠল। ছেলের এই খাঁটি, নির্ভেজাল অনুভূতিগুলো যেন হুবহু তাঁর নিজেরই সেই অফিস-রুমে বসে থাকা ভাবনাগুলোর প্রতিধ্বনি! তারা মা এবং ছেলে যেন আক্ষরিক অর্থেই এক আত্মা, এক মন।

ইন্দিরা সম্পূর্ণ ইমোশনাল হয়ে পড়লেন। তাঁর গলাটা কেঁপে উঠল। "তুই তোর মাকে কতটা ভালোবাসিস রে, সোনা?"

রাহুলের চোখদুটো তখন অসীম এক তৃপ্তিতে আর আশ্রয়ের শান্তিতে ভরে উঠেছে। ও ফিসফিস করে বলল, "এই পুরো ইউনিভার্সের চেয়েও বেশি, মা..."

আর এক সেকেন্ডও দেরি করলেন না ইন্দিরা। তিনি এক প্রবল, বন্য এবং তীব্র আকুলতায় রাহুলকে নিজের বুকের সাথে সজোরে টেনে নিলেন। তাঁর দুটো হাত রাহুলের পিঠকে এমনভাবে পেঁচিয়ে ধরল যেন তিনি ওর শরীরটাকে নিজের শরীরের সাথে মিশিয়ে দিতে চাইছেন। রাহুলও নিজের দুটো লম্বা, চওড়া হাত দিয়ে মায়ের কোমর আর পিঠ শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।

"ওহ্ সোনা... আমার রাহুল... আমার ছোট্ট বাবুটা..." ইন্দিরার গলা দিয়ে এক বুক-ফাটা, অবাধ্য আবেগ চিরে বেরোতে লাগল। "আমি এই ফিলিংটা বড্ড মিস করছিলাম রে! আমি তোকে বড্ড মিস করছিলাম সোনা... সো... সো... মাচ... কাল থেকে তোকে এমন গোমড়া মুখে দেখে আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছিল... তুই জানিস না রে রাহুল, তোর মা তোকে ঠিক কতটা ভালোবাসে।"

রাহুল মায়ের এই তীব্র আলিঙ্গনের মধ্যে নিজেকে সম্পূর্ণ সঁপে দিল। বেশ কিছুক্ষণ পর ও নিজের হাতের বাঁধনটা সামান্য আলগা করে, মায়ের ঘাড়ের কাছ থেকে মুখটা তুলে একটু পিছিয়ে এল।

"মা..." রাহুল ওর সেই চেনা, একটু বোকা বোকা আর নিষ্পাপ গলায় বলল, "তার মানে তুমি সত্যিই আমার ওপর একটুও রেগে নেই?"

ইন্দিরা ওর এই চরম সরলতায় খিলখিল করে হেসে উঠলেন, অথচ তাঁর নিজের চোখের কোণ দিয়ে তখন এক ফোঁটা আনন্দের অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।

"দূর বোকা ছেলে!" তিনি হাসতে হাসতেই ওর চুলে একটা আলতো টান দিলেন। "তোর ওপর কেউ রাগ করতে পারে? আমার সোনাটা..."

ঠিক সেই মুহূর্তে রাহুলের চোখ পড়ল মায়ের গাল বেয়ে নেমে আসা ওই জলের ফোঁটাটার দিকে। ও আর কিছু না ভেবেই নিজের পরনে থাকা টি-শার্টের নিচের দিকের প্রান্তটা এক টানে তুলে ধরল, এবং অত্যন্ত সাবধানে, পরম মমতায় সেই কাপড়টা দিয়ে ইন্দিরার গালের ওই অশ্রুবিন্দুটা মুছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করল।

ইন্দিরা ওর এই আকস্মিক আচরণে একটু কনফিউজড হয়ে গেলেন। "কী করছিস কী তুই, রাহুল?"

রাহুল অত্যন্ত স্বাভাবিক, অথচ এক গভীর রোম্যান্টিক এবং কাব্যিক আদরে বলল, "তুমি একটু আগে তোমার শাড়ির আঁচল দিয়ে আমার চোখের জল মুছিয়ে দিলে না? তাই আমি আমার টি-শার্টের কোণটা দিয়ে তোমার জলটা মুছিয়ে দিচ্ছি।"

ছেলের এই অসামান্য, আদুরে কথাটায় ইন্দিরা একগাল হাসিতে ফেটে পড়লেন। তাঁর হাসিটা রান্নাঘরের দেওয়ালগুলোতে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। তাঁর বুকের ভেতরটা এক অনাবিল আনন্দে ভরে গেল—তাঁর সেই চেনা, ফাজিল, একগুঁয়ে অথচ অসীম ভালোবাসায় ভরা ছেলেটা অবশেষে তার নিজের ফর্মে ফিরে এসেছে।

"ওহ গড! এই তো!" তিনি হাসতে হাসতে রাহুলের গালদুটো আবার টেনে ধরলেন। "এতক্ষণ আমার এই বাঁদর ছেলেটা কোথায় লুকিয়ে ছিল?"

রাহুলও মায়ের সাথে সাথে একগাল চওড়া হাসিতে যোগ দিল, আর তারপর দুজনে আবার একে অপরকে এক পরম, নিবিড় আলিঙ্গনে বেঁধে ফেলল।

সেই আলিঙ্গন যেন আর ভাঙতেই চায় না।

গত সন্ধ্যা থেকে শুরু করে আজকের বিকেল পর্যন্ত যে এক দমবন্ধ করা নীরবতা, যে অপরাধবোধ আর লজ্জার দেওয়ালটা তাদের দুজনকেই তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছিল, এই একটা আলিঙ্গন যেন সেই সমস্ত অন্ধকারকে ধুয়ে মুছে সাফ করে দিচ্ছিল। একে অপরের শরীরের ওম, একে অপরের প্রতি সেই অগাধ ভালোবাসা যেন তাদের সমস্ত কলঙ্ক, সমস্ত গিল্টকে দূরে ঠেলে সরিয়ে দিচ্ছিল। কেউই কাউকে ছাড়তে চাইছে না।

হঠাৎ ইন্দিরার নাকে একটা হালকা গন্ধ এসে ঠেকল। তাঁর মগজের সেই নিখুঁত গৃহিণীর সেন্সরটা অ্যালার্মটা বেজে উঠল।

"ওহ্ হো!" ইন্দিরা এক ঝটকায় একটু সজাগ হয়ে উঠলেন। "আমাকে এবার ইনডাকশনের পাওয়ারটা কমাতে হবে, চিকেনটা হয়ে এসেছে।"

তিনি রাহুলের আলিঙ্গন থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে রান্নাঘরের কাউন্টারের দিকে দু-পা এগোলেন। কিন্তু রাহুল তাঁকে ছাড়ার পাত্র নয়। ও সাথে সাথেই পেছন থেকে গিয়ে আঠার মতো মায়ের পিঠের সাথে লেপ্টে গেল। ওর দুটো হাত ইন্দিরার কোমরের সামনে দিয়ে এসে পেটের কাছে লক হয়ে গেল, আর চিবুকটা এসে বসল মায়ের ঘাড়ের ঠিক ডান দিকের খাঁজে।

ইন্দিরা এই অবস্থাতেই, পিঠে একটা উনিশ বছরের ছেলের পুরো ভার নিয়েই একটু ঝুঁকে ইনডাকশনের পাওয়ারটা কমালেন, তারপর প্যানের ঢাকনাটা তুলে খুন্তি দিয়ে কোরমাটা নাড়তে লাগলেন।

"উফ্, কী ফাটাফাটি গন্ধ বেরোচ্ছে মা..." রাহুল মায়ের ঘাড়ের ওপর নিজের নাকটা ঘষতে ঘষতে, গভীর একটা শ্বাস নিয়ে ফিসফিস করে বলল।

"তোর ফেভারিট বলে কথা," ইন্দিরা খুন্তি নাড়তে নাড়তেই একটু ঘাড় হেলিয়ে হাসলেন। "কাল থেকে তো ঠিকমতো খাসনি। আজ একদম পেট পুরে খাবি কিন্তু, বলে দিলাম।"

"তুমি নিজে হাতে খাইয়ে দিলে তবেই খাব," রাহুল একদম বাচ্চাদের মতো আবদার জুড়ে দিল।

"উফ্, দূর পাগল ছেলে, তোর বাবা থাকবে তো!" ইন্দিরা একটা প্রশ্রয়ের দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। "আজকের দিনটা নিজে খেয়ে নে, পরে একদিন না হয় তোকে খাইয়ে দেব।"

আরও দু-মিনিট নাড়াচাড়া করার পর, তিনি ইনডাকশনের সুইচটা অফ করে দিলেন এবং প্যানটা ঢেকে দিয়ে সেটাকে 'কিপ ওয়ার্ম' মোডে রেখে দিলেন।

রাহুল মায়ের কোমরে জড়ানো হাতদুটোকে আরও একটু শক্ত করে নিজের দিকে চেপে ধরে ফিসফিস করল, "মা, তোমার তো রান্না কমপ্লিট, তাই না?"

"হ্যাঁ, প্রায় হয়ে গেছে সোনা।"

"মা, প্লিজ..." রাহুলের গলার স্বরে এবার এক অবাধ্য, নেশাগ্রস্ত আর্তি। "বাবা ফিরতে তো মনে হয় এখনও অন্তত কুড়ি মিনিট দেরি আছে... চলো না... আমার ঘরে... একটু আদর করব... কাল সন্ধে থেকে আমার না... খুব আদর করতে ইচ্ছে করছিল... কিন্তু উপায় ছিল না... মনটা পুরো ঘেঁটে গেছিল... তুমি তো জানোই সবটা... যাই হোক... চলো না একটু মা?"

ইন্দিরা খুব ভালো করেই জানেন রাহুল কী অনুভব করছে, কারণ তাঁর নিজের শরীরের ভেতরেও ঠিক একই রকম এক দাবানল জ্বলছে। তবু, তাঁর সেই চিরচেনা অভ্যাসবশত তিনি সামান্য একটু বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেন, যদিও সেই বাধার মধ্যে আগের মতো সেরকম কোনো জোর ছিল না।

"সোনা, আমি এখন তোর ঘরে যেতে পারব না রে... আমাকে এই কোরমাটাতে ঠিক দশ মিনিট পর একটু ঘি অ্যাড করতে হবে..."

তিনি একটু ঘুরে রাহুলের দিকে ফিরে, ওকে আবার বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলেন।

"আমরা বরং এভাবেই একটু দাঁড়িয়ে থাকি, সোনা। এটাও তো আদর, তাই না? এভাবেই তোকে বুকে নিয়ে থাকি, তাহলে আমি রান্নাটার কাছাকাছিও থাকতে পারব।"

রাহুল একটু মুখ ফুলিয়ে বলল, "দিস ইজ গুড মা, রিয়েলি, ডোন্ট গেট মি রং। কিন্তু প্লিজ... একটু শুয়ে শুয়ে আদর করতে ইচ্ছে করছে যে..."

ছেলের এই অত্যন্ত সরল, অথচ সরাসরি মনের কথা বলে ফেলার ধরণটা ইন্দিরার বুকের ভেতরটা সবসময় আন্দোলিত করে দেয়। তাঁর গালদুটো সামান্য লাল হয়ে উঠল।

"আচ্ছা আচ্ছা বাবা, তাহলে কী লিভিং রুমের সোফাটায় গিয়ে শুবি? তোর ঘরে এখন সত্যিই যেতে পারব না রাহুল। তোর নাম করে এত যত্ন করে বানালাম, লাস্ট মোমেন্টে রান্নাটা পারফেক্ট না হলে আমার মুড একদম অফ হয়ে যাবে বলে দিলাম।"

রাহুল খুব ভালো করেই জানে ওর মা কতটা পারফেকশনিস্ট। ও সাথে সাথে ঘাড় নেড়ে বলল, "হ্যাঁ হ্যাঁ, দ্যাট ইজ টোটালি ফাইন। সোফাতেই চলো।"

"কিন্তু সোফার স্পেসটা তো বড্ড ছোট রে, রাহুল। ওখানে দুজন শোব কী করে?"

রাহুল ওর সেই চেনা, নির্লজ্জ আর ফাজিল টোনে বলে উঠল, "বা রে, বেশি জায়গা নিয়ে হবে টা কী... আমি তো তোমার গায়ের ওপর শুয়ে আদর করব।"

এই চরম দুষ্টুমিভরা কথাটা শুনে ইন্দিরার গালদুটো এবার রীতিমতো টকটকে লাল হয়ে গেল। তিনি এক কৃত্রিম বিরক্তির সাথে রাহুলের কাঁধের ওপর একটা হালকা চড় কষালেন।

"দূর, অসভ্য ছেলে কোথাকার! মার সাথে ওইভাবে কথা বলতে আছে?"

(rest of the Chapter in the next post...)
Reply


Messages In This Thread
The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-01-2026, 01:31 PM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:46 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:47 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:48 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:54 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:55 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:57 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:58 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 05:59 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:43 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:49 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:51 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:54 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:55 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:56 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:57 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:58 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 08:59 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 09:00 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 09:01 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 09:04 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 09:05 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-02-2026, 09:06 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 06:02 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 06:02 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 06:04 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 06:04 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 08:55 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 08:55 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 08:57 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 08:59 AM
RE: The Barter System (By:andygarfield) - by Bad Boy - 09-05-2026, 08:59 AM

Forum Jump:


Users browsing this thread: 1 Guest(s)