09-03-2026, 05:49 AM
(৪)
রাত ১২টা বাজে প্রায়। অপেক্ষা করছি তিথি কখন ঘুমাবে তার। সে ঘুমালেই তাকে রেখে আমি বের হই। আজ মাল আউট করতে দেইই হয়েছে কেন জানি। গত বছর ধরে জেল ব্যবহার করি সেক্সের সময়। নয়তো বাড়া ঢুকেনা তিথির ভেতর। সব সময় প্রায় শুকনোই থাকে তিথির ভোদা।
সেক্সের সেশন শেষ করা বেশিক্ষণ হয়নি। দুজনেই মিনিট পাচেক হলো ধুয়ে মুচে এসে সুয়েছি। আমি ঘুমের ভান করছি, তিথির ঘুমের অপেক্ষা করছি। তিথি ঘুমালে বুঝতে পারি, নাক ডাকে। তার ঘুম খুব ঘন। সহজে ভাঙেনা। ভাঙেনা বলে আমার এভাবে গভির রাতে চুপি চুপি বের হওয়া সহজ হয়।
তিথির গায়ে একটা চাদর দিলাম। তার নাকের ঘ্যাঙর ঘ ঘ্যাঙর ঘ শুরু হয়েই গেছে।
পা টিপে বিড়াল পায়ে বের হলাম রুম থেকে।
উপর দিকে তাকালাম সোনিয়ারা জেগে আছে কিনা! আমাদের ডুপ্লেক্স বাড়ির উপরে মাত্র ২টা বেড রুম। একটাতে সোনিয়া আর মুজাহিদ থাকে। অন্যটা ফাকাই থাকে আত্মীয়স্বজনেএ জন্য।
সোনিয়াদের রুমের সামনের লাইট অফ, তারমানে তারা ঘুমাই গেছে। আর নিচে নামবেনা।
আমি চুপিচুপি পায়ে চললাম আমার গন্তব্যে।
দরজায় হালকা চাপ দিলাম। খুলে গেলো। আবার ভেতর থেকে দরজাটা বন্ধ করে দিলাম।
“এসেছিস খোকা?”
“হ্যা মা।” দরজা লাগিয়ে মায়ের কাছে গেলাম। মা এশি চালিয়ে ক্যাথা গায়ে দিয়ে শুয়ে আছে। রুমে ফুল লাইট জলছে।
“আই ভেতরে চলে আই।” মা তার গায়ের কাথাটার এক সাইড তুলে ধরলো। তারপর আমাক্র ভেতরে ডাকার জম্য আমন্ত্রণ করলো। আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা।
আমি টুপুস করে মায়ের পাশে কাথার ভেতর ঢুকে গেলাম। মা তার হাতটা লম্বা করে আমার বালিশের পাশে রেখে দিয়েছে। আমি সুইলেই মায়ের হাতের উপর গিয়ে পিঠ ঠেকলো। মা আমাকে সেই হাত দিয়ে টেনে নিলো তার বুকে। আমি মাকে জোরিয়ে ধরলাম। শান্তির জায়গা। মায়ের পাশে থেকে মায়ের বুকে মুখ লাগিয়ে চোখ বন্ধ করে দিলাম। মা আমাকে জড়িয়ে রাখলেন।
“খোকা, একটা সত্য কথা বলবি?”
“কি মা?” আমি চোখ বন্ধ রেখেই উত্তর দিলাম। চোখ খোললেও দেখার উপাই নাই। কারণ আমার মুখ এখন মায়ের বুকে।
“মুজাহিদের আজ কি হয়েছে? কলেজ থেকে ফিরেই কেমন মন মরা লাগছিলো।”
লে বারা! মা কি বুঝে গেলো নাকি? যদিও মাকে এই জীবনে সিমা ছোট মায়ের ব্যাপার বাদে আর কোনো কিছুই লুকাইনি। মা আমার কাছে এক আয়নার মত। স্বচ্ছ আয়না। কোনো কিছুই গোপন করিনা। বাবা চলে যাবার পর দুই বছর মা কারো সাথে তেমন কথা বলতেন না। লাস্ট ৩ বছর ধরে মা কথা বলছেন সবার সাথে। আর গত ছয় মাস থেকে মায়ের সাথে আমার গোপন এক বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে, তা হলো– গভির রাতে মায়ের কাছে এসে মায়ের সকল দু:খের কথা শোনা, মাকে সুন্দর সুন্দর গল্প শোনানো, তারপর মায়ের সম্মতিতেই মায়ের পাশে সুয়ে থাকার সুযোগ, সেই সুযোগটিই এখন আমার প্রতি রাতের স্বপ্ন। গল্প তেমন হোক বা না হোক, রাতে এসেই মায়ের পাশে সুয়ে মাকে কিছুক্ষণ জড়িয়ে থাকা। চোখ ঘুম ঘুম আসলেই নিজের রুমে চলে যাওয়া।
“মা……?”
“কি হয়েছে, বল?” মা আমার মাথার চুল নিয়ে খেলছে।
আমি নিরুপাই। কলেজের সব ঘটনা বলে দিলাম। মা শোনার পর কিছুক্ষণ থ মেরে গেছেন।।
“মা, চুপে গেলে কেন?”
“ছেলেটা মনের দিক দিয়ে অনেক ভালো। দুনিয়া ভালো মানুষের জন্য না। আমার বিশ্বাস মুজাহিদ যা বলছে তা ই ঠিক। ঐ মেয়ে ভালো না।”
“মা, আমাদের কাছে কোনো প্রমাণ নাই। নারী ঘটিত সমস্যা। যেটা বলেছে বিশ্বাস করতে হয়েছে।”
“শুনে খুব খারাপ লাগলো। ছেলেটার জন্য সত্যিই খারাপ লাগছে রে।”
“মা ওকে বুঝতে দিওনা যে তুমি জেনে গেছো। তাহলে খুউউব লজ্জা পাবে।”
“.............”
“আমার জায়গায় অন্য কেউ হলে মুজাহিদেএ কপালে আরো দু:খ থাকতো। কারণ ঐ মহিলা খুউউব রেখে ছিলো।”
“..........”
“আমি জানিই মুজাহিদ নির্দোশ, তবুও ঝামেলা যাতে আর সামনে না এগোই, তাই সেখানেই দ্রুত সমাধান করে ফেলি।”
“.............”
“জানি কটাদিন মুজাহিদ মন খারাপ করে থাকবে, এই সময় গুলোতে আমাদের উচিত তার সাথে আরো ভালো ব্যবহার করা।”
“...............”
ব্যাপার কি বুঝছিনা, আমি মায়ের বুকে মুখ লাগিয়ে কথা বলেই যাচ্ছি। কিন্তু মা চুপে আছে, কেন?
আমি বুক থেকে মুখ তুললাম, তুলে উনার দিকে তাকালাম। ওমাহ, মা দেখি কান্দে। চোখ ভর্তি জল ছলছল করছে।
“মা তুমি কাদছো? বললাম না, সব ঠিক হয়ে যাবে!”
“ছেলেটাকে এখন একটু ডাক। কথা বলি। নাজানি বুকে কত কস্ট নিয়ে সুয়ে আছে।”
মা কাদতে কাদতে বললো।
আমি মায়ের গাল থেকে চোখের বেয়ে আসা পানিটুক মুছে দিলাম। আবার চোখ বেয়ে পানি নামছে। আমি মায়ের ওরনার প্রান্তটুকু নিয়ে গালটা মুছে দিলাম। মা কেদেই যাচ্ছে।
“মা চুপ করো তো। তোমার বউমা জেগে যাবে। তুমি কি চাও তিথি জেগে আমাদের দেখে ফেলুক?”
“এতোগুলা মানুষের সামনে ছেলেটা কান ধরে উঠবস করেছে, ভাবতে পারছিস কতটা আঘাত সে পেয়েছে?”
ভাবতে গেলে ব্যাপারটা আসলেই তাই। কিন্তু আমি এই নিয়া অতটা ভাবতে চাচ্ছিনা। যত ভাববো ততই নিজের ই গিলটি ফিল হবে।
মা আমাকে টেনে নিলেন তার বুকে আবার। বসেই উনার বুকে হেলিয়ে পড়লাম।
“মা, তুমি চুপ না করলে আমি চলে যাবো।”
“যা লাইটটা অফ করে আই। আজ এখানেই আমার সাথে ঘুমা। আমার আর ঘুম আসবেনা। এখানেই সুয়ে থাক।”
“কি বলছো মা, তিথি জানলে কি বলবে? আর সোনিয়ারা দেখলেই বা কি ভাব্বে সকালে?”
“ফজরের সময় চলে যাবি। যা, যা বলছি কর।”
আমি অগত্যা উঠে লাইট অফ করে ড্রিম লাইট টা অন করলাম।
“আই পাশে সুত। আমাকে আজ বুকে নিয়ে রাখ। আমার কিছুই ভালো লাগছেনা।”
দিনের দিন মায়ের বাচ্চামি আবদার শুনে হাসি পাই। যত দিন যাচ্ছে ততই যেন বাচ্চা হচ্ছে মা। প্রথম যেদিন উভয়ের অজান্তেই আমি মাকে জড়িয়ে ঘুমাই, তারপর থেকেই মায়ের আবদার, প্রতিরাতে আমার একবার হলেও বুকে আসবি। আমি বলতাম তাও, মা আমি আর তোমার ছোটটি নাই, অনেক বড় হয়েছি তো।
মা বলতো, হয়েছে তোর বড়! মায়ের কাছে আবার বড় দেখাস! যেদিন তোর বাচ্চা হবে সেদিন নিজেকে বড় বলিস। তার আগ পর্যন্ত তুই আমার বাচ্চাই।
আমি মায়ের পাশে গিয়ে চিত হয়ে সুয়ে গেলাম। মা সাথে সাথে পুরো শরীর নিয়ে আমার বুকে উঠে পড়লো। বুকে সুয়েই আমার গলা পেচিয়ে ধরলো, আর সাথে সাথে আমার ঘারের কাছে মুখ নিয়ে চুপ করে সুয়ে গেলো।
আচমকাই তার পুরো ভরে আমার নিশ্বাষ নিতে কস্টই হচ্ছিলো। আমি হাসলাম মায়ের কান্ড দেখে। উঠেছে তো উঠেছে, পায়ের উপর দুই পাও দিয়ে সম্পুর্ন ভর আমার শরীরে দিয়ে ফেলেছে।
“হাসছিস কেন?”
“আমার পাগলি মায়ের কান্ড দেখে। এখন ভালো লাগছে?”
“হ্যা। এখন আমাকে বুকে নিয়েই ঘুমা। কোনো কথা না।”
“হা হা হা। এই অবস্থায় তোমার মেয়ে বা বউমা যদি দেখে কি ভাববে বলো তো!”
“দেখবে কেন? দরজা রো লাগানো আছে।”
“কথার কথা বললাম।”
“কথার কথা বলবি কেন? বললাম তো আর কথা না। ঘুমা।”
আমি আর কথা বাড়ালাম না। মুখ হালকা বেকিয়ে মায়ের ঘারে একটা চুমু দিলাম। বললাম, “শুভ রাত্রি।”
“হু। ঘুমা।”
