[quote pid="6323654" dateline="1790308527"]
১০ ঘণ্টা পর
ভয়ে ভয়ে অনলাইনে ঢুকলাম। মা কোনো মেসেজ দিয়েছে কি না, দেখার জন্য হোয়াটসঅ্যাপ চেক করলাম।
যেটা ভেবেছিলাম, ঠিক সেটাই হলো।
মা: "কী বললি তুই?? কুত্তার বাচ্চা!"
এরপর অনেকগুলো কল আসে। আমি অনলাইনে না থাকায় কথা বলা হয়নি।
এর পর—
মা: "জানোয়ার! তোর মতো কুলাঙ্গার সন্তান জন্ম দেব, কখনো ভাবিনি। শেষ পর্যন্ত নিজের মায়ের দিকেই খারাপ নজর তোর? এসবের জন্যই কি তোকে ছোট থেকে মানুষ করে বড় করেছি? আমি আজকের পর থেকে তোর সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ রাখব না। তুই আমার ছেলে না।"
অনেক গালি, অভিমান আর অভিশাপ দিয়ে মেসেজ পাঠিয়ে আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে ব্লক করে দিল। এরপর সব সোশ্যাল মিডিয়া থেকেও ব্লক করে দিল।
আমার মন ভেঙে গেল। কয়দিন পর পর মাকে কল দিলাম, কিন্তু মা ধরল না। আমি অনেকভাবে চেষ্টা করলাম, কিন্তু মায়ের সাথে কোনো যোগাযোগ হলো না। সোশ্যাল মিডিয়ায় তো একটিভ নেই, অন্য আইডি দিয়ে দেখছি। নানা প্রশ্ন মাথায় আসছে—তাহলে কি মা আর আমার সাথে কথা বলবে না? কী করব, কীভাবে সব স্বাভাবিক করব, মাথায় আসছে না।
হঠাৎ একদিন মামা কল দিয়ে বলল—
(এখানে বলে রাখি, আমার মামা, মামি, খালা আর চাচা গল্পে মাঝে মাঝে আসবে, কিন্তু তাদের মূল কোনো ভূমিকা নেই।)
মামা: কীরে, কেমন আছিস?
আমি: মামা ভালো, তুমি কেমন আছো?
মামা: ভালো, তবে তোর মাকে নিয়ে চিন্তা হয়। কয়দিন পর পর অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে, শুধু টেনশন করে।
আমি: আবার কী হলো?
মামা: কেন, জানিসই না?
(আমি ভয় ভয় জিজ্ঞেস করলাম)
আমি: না।
মামা: হঠাৎ কলেজে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে কলেজের ম্যাডামরা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। আমি আর তোর মামি আসলাম দেখতে।
আমি: কী হয়েছে এখন? কোথায়, কেমন আছে?
মামা: এখন ঠিক আছে, তবে তোর মায়ের শরীরে হরমোনের সমস্যা ধরা পড়েছে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ আর টেনশন বেশি করছে।
(এখানে বলে রাখি, মায়ের হরমোনের বিষয়টি সাধারণ নয়। মায়ের শরীরের শারীরিক চাহিদা বাড়ছে, সাধারণত ৪২ বছর বয়সে এমন অনুভূতির পেছনে মূল হরমোন হলো টেস্টোস্টেরন, ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরনের ওঠানামা। মেডিকেল ভাষায় ব্যখ্যা করে দেখলাম এটিই মূল কারণ। তবে এই হরমোন বাড়ার কারণ ডাক্তার আর মায়ের মাঝেই রইল। পরবর্তীতে আমি মায়ের মুখে শুনলাম, কিন্তু মামা-মামি শুধু জানে মানসিক চাপ, টেনশন আর হরমোনের সামান্য সমস্যার কারণে এমন হচ্ছে।)
আমি: তুমি কি আমাদের বাসায় এখন?
মামা: হ্যাঁ, তোমাদের বাসায়। তোর মায়ের সাথে কথা বলবি?
আমি: দাও দাও, আমি তো কিছু জানি না!
মামা: নাজমা, ধর, রাফি নে কথা বল।
ঐ দিক থেকে পরিষ্কার শোনা যাচ্ছে—
মা বলছে: "এখন না ভাইজান, পরে কথা বলব। আপনি কথা বলেন।"
মামা: আচ্ছা, তোর মা ব্যস্ত আমরা এসেছি বলে।
আমি: না মামা, মাকে একটু দাও প্লিজ, আমি কথা বলব।
(মনে মনে বললাম, মা তো পরে কথা বলবে না, আমাকে এখনই মায়ের সাথে কথা বলতে হবে।)
মামা: নাজমা, আরে নাও, কথা বলো রাফির সাথে। তোর ছেলে তো শুনে পাগল হয়ে যাচ্ছে মায়ের সাথে কথা বলতে!
এই বলে মাকে মোবাইল দিয়ে মামা অন্য রুমে চলে গেল।
মা: হ্যালো?
আমি: আসসালামু আলাইকুম মা, কেমন আছো তুমি?
মা: হ্যাঁ, ভালো।
(মনে মনে রাগ জানি, কিন্তু কিছু বলতে পারছে না।)
আমি: মা, কোনো চিন্তা কোরো না, সব ঠিক হয়ে যাবে। তুমি সুস্থ হয়ে যাবে।
মা: কী ঠিক হবে? ঠিক থাকার মতো কিছু আছে?
আমি: মা, দুঃখিত। তোমার কাছে ক্ষমা চাই, আমাকে ক্ষমা করে দাও, আমার ভুল হয়ে গেছে।
মা: না, কোনো ক্ষমা নেই। তুই আমার ছেলে না! আমার ছেলে এমন হতে পারে না।
আমি: মা প্লিজ, ক্ষমা করে দাও। আমি বুঝতে পেরেছি তুমি আমার ওপর কতটা অভিমান করেছ।
মা: হুম, আচ্ছা। আমার কাজ আছে, পরে কথা হবে।
(আসলে মামি আসায় মায়ের সামনে মা বেশি কথা বলতে চায়নি।)
আমি: আচ্ছা মা, শোনো—
মা: বল তাড়াতাড়ি, আমার রান্না করতে হবে।
আমি: সরি মা, মাফ করে দাও। আর কোনো দিন এমন করব না।
মা: হুম!
(বলে কল কেটে দিল।)
২ দিন পর
মায়ের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে ১টি মেসেজ এলো—
মা: "রাফি, আমি কখনো ভাবিনি তুই আমার ছেলে হয়ে এত নিচে নামতে পারবি... তোকে ছোট থেকে চোখে চোখে রেখে মানুষ করেছি... আজকে তুই আমাকে এই মূল্য দিলি? তোর মুখে কীভাবে আসল, কীভাবে চিন্তা করলি এই রকম কথা? তোর থেকে এই ব্যবহার আমি আশা করিনি। ওই দিন আমি অনেক কান্না করেছি, অনেক টেনশনে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমার মেনে নিতে কষ্ট হয় আমার রাফি এমন কথা আমাকে বলতে পারে! ছি ছি ছি... আমার খুব কষ্ট হচ্ছে, তোকে বোঝাতে পারব না..."
২ ঘণ্টা পর অনলাইনে এসে:
আমি: মা, আমাকে মাফ করে দাও। আর কখনো তোমাকে কষ্ট দিয়ে কথা বলব না, ক্ষমা করে দাও।
মা: তুই জানিস, আমি কতটা অভিমান করে তোর সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছি?
আমি: হুম, জানি...
মা: তাহলে কথা দে, তুই কখনো এসব মুখে আনবি না। ভালো ছেলের মতো হয়ে যাবি।
(আমাদের এই কথাগুলো ফোনে সরাসরি কথা হয়।)
আমি: হুম।
মা: তুই একটা বিয়ে করে নে, এসব বাজে চিন্তা মাথায় আর আসবে না।
আমি: মা, সবকিছু ঠিক আছে, কিন্তু আমার বিয়ের বিষয়টাই কি আমার ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না?
মা: বিয়ে কর, আর কোনো কথা শুনব না। বিয়ে করলে এসব অদ্ভুত বাজে চিন্তা আর আসবে না।
আমি: আচ্ছা, তুমি যেটা ভালো মনে করো।
আমি আসলে বিষয়টিকে নিয়ে কথা বাড়াতে চাইনি। মায়ের আমার ওপর রাগ এখনো কিছুটা আছে, কারণ কথার মাঝে বুঝতে পেরেছি। তবে আমার মনে যে চিন্তা ৩–৪ বছর ধরে আছে, সেটা আমি মন থেকে ফেলতে পারছি না। আমি সত্যি মাকে মনে-প্রাণে ভালোবাসি। আমার চোখে একমাত্র নারী শুধু মা। কিন্তু মাকে রাজি করানো সহজ হবে না, তা আমি বুঝতে পেরেছি। তাই আরও কিছুদিন সময় দিতে চাই। মাথায় কোনো বুদ্ধি আসছে না, যেখানে মাকে ফাঁদে ফেলা যায়... ফাঁদে ফেলে রাজি করানো ছাড়া কোনো উপায় দেখছি না।
এর চার মাস পার
আমার আর মায়ের মধ্যে আগের মতো সবকিছু চলতে থাকে। মা আমাকে বিভিন্ন মেয়ের ছবি আর বায়ো ডাটা দিতে থাকে, কিন্তু আমি রিজেক্ট করতে থাকি। আমার মনে তো মেয়ে একটাই—সেটা নাজমা আক্তার। কিন্তু কোনোভাবে মায়ের সাথে প্রেম বিনিময় করতে পারছি না।
হঠাৎ একটা বুদ্ধি মাথায় এলো—যেখানে মাকে ফাঁদে ফেলে প্রেম করতে বাধ্য করি।
বিয়ের কথা উঠলে আমি আবার বলি—
মা: তোকে এতগুলো মেয়ে দেখালাম, একটা মেয়েও তোর পছন্দ হচ্ছে না?
আমি: না, পছন্দ হচ্ছে না। আমার বিয়ের বিষয়টাই বাদ দাও তো!
মা: কেন বাদ দেব?
আমি: আমি বিয়ে করব আমার পছন্দের ভালোবাসার মানুষকে।
মা: রাফি, এসব বন্ধ কর! আমি তোর মা, তোর মাথায় এখন এসব বাজে চিন্তা আসে?
আমি: হ্যাঁ, কী বাজে? আমার ভালোবাসা বাজে হবে কেন? ভালোবাসা তো কোনো দোষ নয়!
মা: ভালোবাসা দোষ না, কিন্তু নিজের মাকে নিয়ে ভাবা দোষ। যেটা সমাজ ও ধর্মের দিক থেকে নিষিদ্ধ, কল্পনা করা তো দূরের কথা!
আমি: আমি কিছু জানি না! আমি তোমাকে ভালোবাসি, আমি তোমাকেই চাই।
মা: তোকে বিশ্বাস করাটাই ভুল হয়েছে, তুই একটা জানোয়ার! জানোয়ার জন্ম দিয়েছি আমার পেটে...
(ইত্যাদি গালি দিয়ে আবার আগের মতো ব্লক করে দেয়, যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।)
আমি এইবার বুদ্ধি খাটিয়ে একটা নাটক সাজাই।
সিডনিতে আমার বাসায় এক বন্ধু থাকত, নাম সজীব সাহা—* ছেলে। ছেলেটার কথা মা জানে। আমি সজীবকে বলি—
আমি: আমার কিছু ভালো লাগছে না বন্ধু...
সজীব: কী হয়েছে?
আমি: একটা মেয়েকে পছন্দ করি, ভালোবাসি। কিন্তু মেয়েটা কোনোভাবে আমার ভালোবাসার প্রস্তাব মানছে না। আমি মেয়েটাকে না পেলে মরে যাব বন্ধু!
সজীব: কী বলিস তুই? তোর মতো ছেলেকে কোনো মেয়ে রিজেক্ট করে? আর তোর কিসের অভাব! তুই মেয়েটার প্রেমের প্রস্তাব নিয়ে আন্টিকে বল, বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে পরিবারকে রাজি করা। নাকি মেয়েটা অন্য কোনো ছেলেকে পছন্দ করে?
আমি: না বন্ধু, মেয়েটার কারো সাথে সম্পর্ক নেই।
সজীব: তাহলে কী সমস্যা?
আমি: মেয়েটা আমার সাথে কোনো সম্পর্কে যেতে চায় না।
সজীব: ধুর! বিয়ের প্রস্তাব দিতি তাহলে...
আমি: আমি সব দিয়েছি, কিন্তু কোনো কিছুতেই রাজি হচ্ছে না। যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। আমি সুইসাইড করব যদি মেয়েটাকে না পাই!
সজীব: ধুর পাগল! এসব কী বলিস!
আমি: না বন্ধু, সত্যি বলছি...
(এই বলে চার মাস ধরে জমানো ক্ষোভ নিয়ে হাতে ছুরি দিয়ে পোজ দিতে লাগলাম।)
সজীব: ধুর বলে পাগল হয়ে যাবি!
(এই বলে হাত থেকে ছুরিটা নিয়ে ফেলে আর বলে)
সজীব: তুই পাগল হয়েছিস নাকি! আমাকে বল, আমি কিছু করতে পারি কি না দেখি...
আমি: আমার একটা কাজ করবি?
সজীব: বল, কী করতে হবে?
আমি: আমার মাকে কল দিয়ে বলবি আমাকে মাফ করে দিতে। আমি সুইসাইড করার পর যেন না কাঁদে।
সজীব: তোর মাথা খারাপ? তুই কিছু করবি না, আমি আছি! আমি আন্টিকে বলতেছি মেয়েটার বিষয়ে খোঁজখবর নিতে... তুই মেয়েটার ছবি আর ঠিকানা দে, আমি আন্টির সাথে কথা বলতেছি।
আমি: না, মেয়েটার বিষয়ে মা জানে।
সজীব: তাহলে তো ভালোই হলো! আন্টিকে বল মেয়েটার আর মেয়ের পরিবারের সাথে কথা বলতে।
আমি: মা রাজি হবে না।
সজীব: কেন? আন্টির কি মেয়ে পছন্দ না?
আমি: না, তেমন নয়। মা আমার জন্য অন্য মেয়ে ঠিক করতে চায়, কিন্তু আমি ওই মেয়েকে ছাড়া কাউকে চিন্তা করতে পারি না, বিশ্বাস কর... আমি সুইসাইড করব বন্ধু, আমি যদি ওকে না পাই!
সজীব: তুই বাজে বকিস না, আমি আন্টিকে রাজি করাব আর মেয়েটার সাথে তোর বিয়ের ব্যবস্থা করব।
আমি: না, তুই শুধু মাকে বলিস আমাকে মাফ করে দিতে।
(এতটুকু বলে রুম থেকে বাইরে চলে এলাম।)
১ ঘণ্টা পর
মায়ের কল এলো।
(তার মানে সজীব আর মায়ের কথা হয়েছে।)
(সজীব আর মায়ে কথবো কথন টা আমি লিখাম না এখন তাঁদের মাঝে কথা গুলা মায়ে মুখ থেকে শুনবো পারে)
(মা কাঁদতে কাঁদতে)
মা: রাফি রে বাবা! তুই এমন কেন করছিস? তোর কী হয়েছে আমাকে বল... আমি তোকে এভাবে হারাতে চাই না! আমার তুই ছাড়া কে আছে বল? তোর কিছু হলে আমি মরে যাব সোনা! আমাকে মাফ করে দে, আমি কোনো দিন তোর সাথে রাগ করব না, তবুও পাগলামি করিস না...
আমি: (কাঁদতে কাঁদতে) মা, আমি সত্যি আর পারছি না। আমি সুইসাইড করলে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।
মা: (কাঁদতে কাঁদতে) পাগল হয়ে গেলি নাকি! আমার কথা শোন বাবা, আমি তোর মা। তুই যেটা চাইছিস, সেটা সম্ভব না। আমাদের সমাজ, ধর্মে এটা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। তুই যে দেশে থাকিস, তাদের সংস্কৃতিতে হয়তো থাকতে পারে, এটা আমাদের দেশে নেই বাবা... এত বড় পাপ করতে পারব না, একটু বোঝার চেষ্টা কর!
আমি: না, তোমাকে কিছু করতে হবে না...
(এই বলে হাত কাটার জন্য ছুরি আনি।)
(এখানে বলে রাখি, আমি কিন্তু তখন ভিডিও কলে কথা বলছি।)
চোখ বড় বড় করে মা তাকিয়ে বলল—
মা: এই রাফি! আল্লাহর দোহাই লাগে বাবা, এমন কিছু করিস না... মাফ চাই!
আমি: নিজেকে শেষ করে দেব, আমি এই জীবন রাখতে চাই না...
(বলে হাতের ওপর ছুরি দিয়ে দুটো পোঁচ দিয়ে দিলাম।
আমি জানি খুব কষ্ট হবে, একটু রক্ত যাবে, কিন্তু আমার প্ল্যান ছিল মাকে চাপ সৃষ্টি করে রাজি করানো... আর একটা পোঁচ দেওয়ার আগেই কাজ হয়ে গেল।)
মা: "রাফি!" বলে চিৎকার করে উঠল। তারপর বল্লো—
মা: তুই এসব বন্ধ কর, আমি আর নিতে পারছি না, আল্লাহর ওয়াস্তে...
(কান্নাভেজা চোখে দুজনের মাঝে অনেকক্ষণ কথা হয়, বেশিরভাগ আমিই কথা বলি মাকে পটাতে বিভিন্ন উদাহরণ দিয়ে।)
আমার হাতের মধ্যে ছুরি দিয়ে 'N+R' দিয়ে একটা সিগনেচার দিলাম, ওইটা মাকে দেখালাম।
মা: এটা কী, রাফি?
আমি: এটা আমাদের ভালোবাসার সিগনেচার। N-এ Najma আর R-এ Rafi.
মা: তোর মাথা পুরো গেছে!
আমি: আমি সত্যি বলছি, তোমাকে ছাড়া কিছু চিন্তা করতে পারি না। তুমি যদি আমাকে বারবার ফিরিয়ে দাও, দূরে ঠেলে দাও, আমি নিজেকে শেষ করে দেব তিলে তিলে...
(মা আমার কথাগুলো শুনছে আর চোখ বন্ধ করে কাঁদছে।)
আমি: আমি মরে যাব, তোমাকে আর এসব শুনতে হবে না আমার মুখে!
মা: চুপ কর, আমি আর নিতে পারছি না...
আমি: আমি মরে গেলে শান্তিতে থাকতে পারবে, আমি মরে যাই। আমি এখন বাসার ছাদ থেকে লাফ দেব...
(বলে মা-র কাছ থেকে বিদায় নিয়ে মোবাইল কেটে দিলাম।)
আবার মা কল দিল। আমি তখন ছাদে। কল ধরলাম—
আমি: মা, আমাকে মাফ করে দাও। আজকের পর থেকে তুমি মুক্ত, তোমাকে আমার মতো জানোয়ারকে সহ্য করতে হবে না...
(বলে ছাদের কিনারে গেলাম।)
মা তখন আরও জোরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল—
মা: না না রাফি, বাবা সোনা! এমন পাগলামি করিস না, তুই যা বলবি তাই হবে! প্লিজ প্লিজ বাবা, দূরে গিয়ে দাঁড়া!
আমি: না, আগে বলো তুমি আমাকে ভালোবাসবে? তুমি আমাকে প্রেমিকার মতো ভালোবাসা দেবে? তুমি আমাকে বিয়ে করবে? স্বামীর মতো ভালোবাসা দেবে?
মা: (কাঁদতে কাঁদতে) তুই শান্ত হ! কী বলছিস এগুলো, বোঝার চেষ্টা কর বাবা...
আমি: না, আমি কিছু বুঝতে চাই না! আমি তোমাকে চাই। তোমাকে না পেলে জীবন রেখে লাভ কী?
(এই বলে আরও কাছে গেলাম ছাদের।)
মা তখন চোখ বন্ধ করে বলল—
মা: হ্যাঁ হ্যাঁ, আমি সব দেব! তার আগে তোকে এসব বন্ধ করতে হবে!
আমি: কী দেবে, মুখে বলো!
মা: তুই যা চাস তাই দেব...
আমি: না, মুখে বলো!
মা: তোকে আগের চেয়েও বেশি ভালোবাসা দেব।
আমি: না, শুধু ভালোবাসা না। আমি তোমাকে প্রেমিকার মতো চাই, ওইটা দেবে না? আর বিয়ে করবে না আমাকে?
মা: কেন বুঝতে পারছিস না, এটা নিষিদ্ধ আমাদের মধ্যে!
আমি: আমি কিছুই জানি না!
(বলে ছাদের আরও কাছে গেলাম। সবকিছু ভিডিও কলে।)
মা: ঠিক আছে দেব! তোর জন্য হলেও আমি এই নিষিদ্ধ সম্পর্কে রাজি হচ্ছি, কিন্তু কেউ জানলে আমার মরা মুখ দেখবি!
আমি: কেউ জানবে না, কাকপক্ষীও না! আমার আর তোমার মাঝেই থাকবে। আমি তোমাকে আমার কাছে নিয়ে আসব, না হয় অন্য কোথাও চলে যাব যেখানে আমাদের কেউ খুঁজে পাবে না।
মা: আগে তুই ছাদ থেকে নাম!
[/quote]