Thread Rating:
  • 0 Vote(s) - 0 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5

ডিভোর্সি মেয়ে ও বাবা
#1

দমদম এয়ারপোর্টের অটোমেটিক কাঁচের দরজাটা সরে যেতেই বাইরের ভ্যাপসা গরম আর পরিচিত আর্দ্রতা তিশাকে ঝাপটে ধরল। পুনের শুষ্ক, রুক্ষ আবহাওয়া থেকে এই আর্দ্রতা একদম আলাদা। এটা কলকাতার নিজস্ব গন্ধ—ধুলো, ঘাম আর পুরনো স্মৃতির এক অদ্ভুত মিশ্রণ। ট্রলিটা ঠেলতে ঠেলতে তিশা মনে হলো, এই শহরটা যেন তাকে ব্যঙ্গ করছে। মাত্র তিন বছর আগে এই এয়ারপোর্ট থেকেই সে নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে, হাতে লাল চুড়ি আর কপালে সিঁদুর নিয়ে বিদায় নিয়েছিল। আর আজ? আজ সে ফিরছে রিক্ত হাতে, ডিভোর্সের পেপারগুলো ব্যাগের এক কোণে মৃতপাপড়ির মতো পড়ে আছে।আশেপাশে মানুষের কোলাহল, ট্যাক্সি ড্রাইভারদের হাঁকডাক, ট্রলিব্যাগের চাকার ঘড়ঘড় শব্দ—সবকিছু মিলিয়ে এক যান্ত্রিক অর্কেস্ট্রা। কিন্তু সারার কানের সব শব্দই ঝাপসা। ওর মনের ভেতরটা এখন শ্মশানের মতো নিস্তব্ধ। আটাশ বছর বয়সেই জীবনটা যেন থমকে গেছে।
ভিড়ের মাঝে চোখ বোলাতেই মানুষটাকে দেখতে পেল সারা। অভিজিৎ রায়। ওর আব্বু।
প্রস্থানের গেটের কাছে রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। পরনে ধবধবে সাদা লখনউই পাঞ্জাবি আর পাজামা। মুখে সেই চিরচেনা প্রশান্ত হাসি, কিন্তু চোখের কোণে উদ্বেগের ছায়া স্পষ্ট। পঞ্চান্ন বছর বয়স, কিন্তু কে বলবে? চুলে সামান্য সল্ট-এন্ড-পেপার ছোঁয়া লেগেছে ঠিকই, কিন্তু মেরুদণ্ড এখনো টানটান। ভিড়ের মধ্যেও তাকে আলাদা করে চেনা যায়। তার ব্যক্তিত্বের একটা নিজস্ব আভা আছে, যা আশেপাশের ক্লান্ত, ঘর্মাক্ত মানুষগুলোর থেকে তাকে পৃথক করে রাখে।সারা থমকে দাঁড়াল। বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। গত তিন বছরে নিজের স্বামী নামের ওই অপদার্থ লোকটার সাথে থাকতে থাকতে সে ভুলেই গিয়েছিল পুরুষ মানুষ আসলে কেমন হয়। তার প্রাক্তন স্বামী ছিল ন্যালব্যলে, মেরুদণ্ডহীন, যে কি না সামান্য ঝগড়াতেই মায়ের আঁচলের তলায় লুকাত। আর সেখানে আব্বু?
তিশা দেখল, আব্বু হাত নেড়ে তাকে ডাকছেন। পাঞ্জাবীর হাতাটা কনুই পর্যন্ত গোটানো, ফর্সা লোমশ হাতে ঘড়িটা চকচক করছে। এই বয়সেও মানুষটা কী ভীষণ সতেজ! তার চওড়া কাঁধ আর সুঠাম চেহারার দিকে তাকিয়ে সারার অবচেতন মনে একটা তুলনা ভেসে উঠল—অনিচ্ছাসত্ত্বেও। "আমার স্বামী তো একটা পুরুষ নামের কলঙ্ক ছিল, আর আব্বু... আব্বু এখনো যেন একটা বটগাছ।"
“সারা, মা আমার!
আব্বুর ব্যারিটোন গলার আওয়াজে তিশার চিন্তার সুতো ছিঁড়ল। সে দ্রুত পায়ে এগিয়ে গিয়ে আব্বুর বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ল। আব্বুর গায়ে সেই পরিচিত গন্ধ-দামী আতর আর তামাকের একটা হালকা মিশ্রণ। এই গন্ধটা ছোটবেলায় সারাকে নিরাপত্তা দিত, আর আজ এই মুহূর্তে এই গন্ধটাই তার একমাত্র আশ্রয়। "আমি খুব ক্লান্ত আব্বু... আমি হেরে গেছি,” তিশার গলা বুজে এল। কান্নাটা দলা পাকিয়ে গলায় আটকে আছে। অভিজিৎ চুলে হাত বুলিয়ে দিলেন। তার হাতের স্পর্শে একটা অদ্ভুত দৃঢ়তা আর উষ্ণতা। “তুই হারিসনি মা। তুই ফিরে এসেছিস, এটাই আসল। চল, গাড়ি রাখা আছে।" গাড়ির এসি-র ঠান্ডা বাতাসে তিশার শরীরটা জুড়িয়ে গেল, কিন্তু মনের জ্বালা কমল না। জানালার কাঁচের ওপারে কলকাতা সরে সরে যাচ্ছে। ইএম বাইপাসের দুপাশে আকাশচুম্বী আলো ঝলমলে বাড়ি, ফ্লাইওভারের নিয়ন আলো-শহরটা অনেক বদলে গেছে। কিন্তু পার্ক সার্কাসের দিকে মোড় নিতেই সেই পুরনো কলকাতা উঁকি দিল।
পুরনো আমলের বাড়ি, রাস্তার ধারের দোকান, আর ট্রামের লাইন। অভিজিৎ গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তিশা আড়চোখে বাবার দিকে তাকাল। স্টিয়ারিং ধরা আব্বুর হাতদুটো শক্ত, শিরাগুলো সামান্য ভেসে আছে। গিয়ার চেঞ্জ করার সময় তার পেশিগুলো যেভাবে নড়াচড়া করছে, তাতে এক ধরনের পৌরুষদীপ্ত ছন্দ আছে। সারা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তার স্বামী অর্ক কখনো গাড়িই চালাতে জানত না, সব সময় ড্রাইভার বা উবারের ওপর ভরসা। পৌরুষ জিনিসটা যে শুধু শরীরে নয়, আচরণেও থাকে, সেটা অর্ক কোনোদিন বোঝেনি।

“তোর মা থাকলে আজ খুব খুশি হতো, আবার খুব কাঁদতও,” অভিজিৎ  নীরবতা ভাঙলেন। তার গলায় একটা চাপা হাহাকার।
তিশার মা মারা গেছেন পাঁচ বছর হলো। তারপর থেকে আব্বু একাই এই বিশাল ফ্ল্যাটে থাকেন। সারা ভেবেছিল আব্বু হয়তো ভেঙে পড়বেন, কিন্তু মানুষটা নিজেকে সামলে নিয়েছেন অদ্ভুত দক্ষতায়।

“তুমি একা খুব কষ্ট পাও, তাই না আব্বু?" সারা ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল।

অভিজিৎ  সাহেব ম্লান হাসলেন। রিয়ার ভিউ মিররে মেয়ের চোখের দিকে তাকালেন। “একাকীত্ব তো মানুষের ছায়ার মতো রে মা। ওটা সঙ্গে থাকেই। কিন্তু এখন তুই এসেছিস, আর কষ্ট নেই।"

গাড়িটা যখন পার্ক সার্কাসের পুরনো বনেদী অ্যাপার্টমেন্টের নিচে এসে থামল, তখন রাত দশটা। চারপাশটা শান্ত হয়ে এসেছে। লিফটে ওঠার সময় আব্বু তিশার ভারী সুটকেসটা এক হাতেই তুলে নিলেন। সারার মনে হলো, এই মানুষটার শক্তির কোনো ক্ষয় নেই। সে শুধু মুগ্ধ হয়ে দেখল বাবার পিঠের পেশিগুলোর সংকোচন-প্রসারণ।
ফ্ল্যাটের দরজা খুলতেই একটা গুমোট নিস্তব্ধতা ওদের স্বাগত জানাল। সাড়ে তিন হাজার স্কয়ার ফিটের বিশাল ফ্ল্যাট। দামী আসবাবপত্র, ঝাড়বাতি, পারশিয়ান কার্পেট —সবই আছে, নেই শুধু মায়ের গলার আওয়াজ। কিন্তু আব্বু বাড়িটাকে অযত্নে রাখেননি। প্রতিটি জিনিস পরিপাটি করে সাজানো।

“তোর ঘরটা আমি কালই গুছিয়ে রেখেছি। যা, ফ্রেশ হয়ে নে। আমি খাবার গরম করছি,” আব্বু বললেন।

তিশা নিজের ঘরে ঢুকল। সেই একই বিছানা, সেই একই ড্রেসিং টেবিল। কিন্তু আয়নায় যে মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে, সে আর আগের তিশা নেই। তার চোখে-মুখে ক্লান্তি আর অভিজ্ঞতার ছাপ। শাড়িটা পাল্টে একটা হালকা সুতির নাইটি পরল সে। শরীরে এখন আর কোনো বাঁধন সহ্য হচ্ছে না।
ডাইনিং টেবিলে যখন সে এল, দেখল আব্বু খাবার সাজিয়ে বসে আছেন। ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত, সর্ষে ইলিশ আর কচি পাঁঠার ঝোল। গন্ধে তিশার পেটের খিদেটা মোচড় দিয়ে উঠল। গত কয়েক মাস সে ঠিকমতো খায়নি। পুনের ওই বিস্বাদ খাবার আর রোজকার অশান্তিতে তার রুচি চলে গিয়েছিল।

তিশা চেয়ারে বসল। আব্বু তার উল্টোদিকে নয়, পাশের চেয়ারে বসলেন।

“তোর হাত কাঁপছে সারা," আব্বু আলতো করে সারার ডান হাতটা ধরলেন। সারার হাত সত্যিই কাঁপছিল, দুর্বলতায় আর আবেগে।

“আমি মেখে দিচ্ছি, ঠিক ছোটবেলার মতো,” আব্বু ভাতের থালাটা নিজের কাছে টেনে নিলেন। যত্ন করে ভাত মাখলেন, ইলিশ মাছের কাঁটা বেছে আলাদা করলেন। তার দীর্ঘ, ফর্সা আঙুলগুলো যখন ভাতের সাথে মশলা মাখাচ্ছিল, তখন সারার মনে হলো এই দৃশ্যটা পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য।

Reply
#2

আব্বু এক লোকমা ভাত তিশা মুখের সামনে ধরলেন। "নে, হা কর।”

তিশা মন্ত্রমুগ্ধের মতো মুখ খুলল। আব্বুর আঙুলের ডগা ওর ঠোঁট স্পর্শ করল। ভাতের স্বাদের সাথে মিশে ছিল আব্বুর হাতের নোনতা ঘ্রাণ আর উষ্ণতা। মুখে খাবারটা দিতেই তিশার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। অর্ক কোনোদিন তাকে এক গ্লাস জলও এগিয়ে দেয়নি, আর এই মানুষটা... এই মানুষটা তাকে রাজকন্যার মতো আগলে রাখছেন।

“কাঁদছিস কেন পাগলি?” আব্বু নিজের হাতে ওর চোখের জল মুছিয়ে দিলেন। তার হাতের তালুটা তিশার গাল স্পর্শ করতেই তিশার শরীরের লোমকূপগুলো যেন জেগে উঠল। এটা কি শুধুই বাৎসল্য? নাকি এর মধ্যে লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘদিনের তৃষ্ণা-একজন প্রকৃত পুরুষের আশ্রয়ে থাকার তৃষ্ণা?

তিশা কান্নাভেজা গলায় বলল, “তুমি এত ভালো কেন আব্বু? আমার কপালে এম একজন পুরুষ কেন জুটল না, যে তোমার  মতো হবে?"

অভিজিৎ সাহেব থমকে গেলেন। তার চোয়ালটা একবার শক্ত হলো। তারপর তিনি স্বাভাবিক গলায় বললেন, “ভাগ্য রে মা, সব ভাগ্য। খা, ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।”

খাওয়ার পুরোটা সময় আব্বু ওকে খাইয়ে দিলেন। তিশার মনে হলো, এই আঙুলগুলোর স্পর্শে এক অদ্ভুত যাদু আছে। ভাতের লোকমার সাথে সাথে সে যেন আব্বুর ভালোবাসা আর শক্তিকেও নিজের ভেতরে গ্রহণ করছে। তার অবচেতন মন বারবার চাইছিল, আব্বুর এই আঙুলগুলো যেন তার মুখের ভেতরে আরেকটু বেশিক্ষণ থাকে। এই চিন্তাটা আসতেই সে চমকে উঠল। ছিঃ! এসব কী ভাবছে সে? কিন্তু চিন্তাটা তো এল!

রাতের খাওয়া শেষে আব্বু শুতে চলে গেলেন। তিশাও শুয়ে পড়ল, কিন্তু চোখে নেই। বিছানায় এপাশ-ওপাশ করতে করতে করতে রাত দুটো বাজল। নতুন জায়গা, নাকি পুরনো স্মৃতির ভার-কোনটা তাকে ঘুমাতে দিচ্ছে না, সে বুঝতে পারল না। গলাটা শুকিয়ে আসায় জল খাওয়ার জন্য সে উঠল।

ডাইনিং হলের আলো নেভানো, শুধু বাইরের ল্যাম্পপোস্টের আলো এসে পড়েছে ড্রয়িংরুমে। জল খেয়ে ফেরার সময় তিশার চোখ গেল বড় ব্যালকনিটার দিকে। কাঁচের স্লাইডিং ডোরের ওপাশে আব্বু দাঁড়িয়ে আছেন।

অন্ধকারেও তার অবয়ব স্পষ্ট। পরনে শুধু একটা সাদা স্যান্ডো গেঞ্জি আর পাজামা। এক হাতে জ্বলন্ত সিগারেট। ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকিয়ে উপরে উঠছে। আব্বু রেলিং ধরে নিচের শূন্য রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছেন। তার দাঁড়ানোর ভঙ্গিতে এমন এক গভীর একাকীত্ব আছে যা তিশাকে বিদ্ধ করল।

তিশা পা টিপে টিপে দরজার কাছে গেল। কাঁচের আড়াল থেকে সে বাবাকে দেখছে। স্যান্ডো গেঞ্জির ফাঁক দিয়ে আব্বুর চওড়া পিঠ, বাইসেপসের ফোলা অংশ আর ঘাড়ের কাছে ঘামের আভা দেখা যাচ্ছে। মা মারা যাওয়ার পর থেকে এই মানুষটা কি এভাবেই একা রাত জাগেন? তার শরীরেও কি কোনো চাহিদা নেই? তার মনেও কি কোনো নারীর স্পর্শের আকাঙ্ক্ষা জাগে না?

তিশার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। সে বুঝতে পারল, আব্বু শুধু একজন বাবা নন, তিনি একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষ, যার জীবনে এখন গভীর শূন্যতা। আব্বু সিগারেটে একটা দীর্ঘ টান দিলেন, আগুনের স্ফুলিঙ্গটা অন্ধকারে জ্বলে উঠল। তারপর মাথাটা একটু পেছনে হেলিয়ে ধোঁয়া ছাড়লেন। এই ভঙ্গিমাটি এত বিষণ্ণ অথচ এত সেক্সি যে তিশা চোখ ফেরাতে পারল না।

ইচ্ছে করল ব্যালকনির দরজা খুলে আব্বুর পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। তার পিঠে হাত রাখে। কিন্তু এক অজানা সংকোচ তাকে থামিয়ে দিল। এই সংকোচ সম্মানের, নাকি ভয়ে নাকি নিজের মনের কোণে উঁকি দেওয়া  কোনো নিষিদ্ধ অনুভূতির?
তিশা নিঃশব্দে নিজের ঘরে ফিরে এল। কিন্তু চোখের সামনে ভাসতে লাগল অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা সেই নিঃসঙ্গ, বলিষ্ঠ পুরুষটির অবয়ব।
পরদিন সকালে পাখির ডাকে তিশার ঘুম ভাঙল। জানালার পর্দা ভেদ করে রোদ এসে পড়েছে বিছানায়। কাল রাতের গুমোট ভাবটা কেটে গিয়ে আজ আকাশ বেশ পরিষ্কার।তিশা বিছানা ছেড়ে আড়মোড়া ভাঙল। নাইটিটা শরীরের সাথে লেপ্টে আছে, ঘুমের ঘোরে একদিকের স্ট্র্যাপটা কাঁধ থেকে খসে পড়েছে। সে ওটা ঠিক করে বাথরুমের দিকে এগোল।

কমন প্যাসেজে আসতেই বাথরুমের দরজাটা খুলে গেল। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই তিশা থমকে দাঁড়াল।

জাহাঙ্গীর সাহেব স্নান করে বেরোচ্ছেন।
তার পরনে শুধু কোমরে জড়ানো একটা সাদা তোয়ালে। ওপরের শরীর সম্পূর্ণ অনাবৃত। পঞ্চান্ন বছরের শরীর, কিন্তু মেদহীন। চওড়া লোমশ বুক বেয়ে জলের ফোঁটা গড়িয়ে নামছে পেটের দিকে। নাভির নিচে তোয়ালের বর্ডার যেখানে শেষ হয়েছে, সেখান থেকে একগুচ্ছ কালো লোম নিচে নেমে গেছে-গোপন কোনো গন্তব্যের দিকে। তার সুঠাম উরু আর পায়ের পেশিগুলো প্রতিটি পদক্ষেপে সঙ্কুচিত ও প্রসারিত হচ্ছে।

তিশা শ্বাস নিতে ভুলে গেল। সে আব্বুকে এভাবে কোনোদিন দেখেনি, বা দেখলেও খেয়াল করেনি। কিন্তু আজ, নিজের সদ্য ডিভোর্সি জীবনের একাকীত্ব আর অতৃপ্তি নিয়ে সে যখন দেখল, তখন তার দৃষ্টি আর বাবার দৃষ্টি রইল না। সেটা হয়ে গেল এক নারীর দৃষ্টি-যে তার সামনে এক সক্ষম, সুপুরুষকে দেখছে।

আব্বুর ভেজা চুলে হাত বোলাতে বোলা তিশাকে দেখে একটু হাসলেন। “কিরে মা, উঠে পড়েছিস? আমি জিম থেকে এসে স্নানটা সেরে নিলাম। তুই ফ্রেশ হয়ে নে, আমি চা বানাচ্ছি।”

আব্বু পাশ কাটিয়ে চলে গেলেন। তার শরীর থেকে ভুরভুর করে আসছিল দামী শেভিং ফোম, ভেজা শরীর আর সাবানের এক মাদকতাময় গন্ধ। তিনি চলে যাওয়ার পরেও বাতাসে সেই গন্ধটা যেন ঝুলে রইল।

তিশা মন্ত্রমুগ্ধের মতো বাথরুমে ঢুকল। বাথরুমের আয়নাটা তখনো ঝাপসা, স্টিমের কারণে। বেসিনের ওপর পড়ে আছে আব্বুর ব্যবহার করা ভেজা তোয়ালেটা-যেটা দিয়ে তিনি একটু আগেই তার শরীর, তার বুক, তার পৌরুষ মুছেছেন।

তিশা দরজাটা লক করে দিল। তার হৃৎপিণ্ড হাতুড়ির মতো পিটছে। এক অদম্য কৌতূহল আর নিষিদ্ধ আকর্ষণে সে তোয়ালেটার দিকে হাত বাড়াল। তোয়ালেটা হাতে নিতেই অনুভব করল সেটা এখনো উষ্ণ। আব্বুর শরীরের উষ্ণতা।
এবার তিশা ও তার বাবা অভিজিৎ রায়ের বর্ণনা দেয়া যাক। গল্পের নায়িকা তিশা যার পুরো নাম নিবেদিতা রায় তিশা। বয়স সবে ২১ পেরিয়ে ২২ শে পড়েছে। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়ে ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছিল। অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে উঠার পরই পারিবারিক ভাবে বিয়েটা হয়। তখন তার বয়স সবে ১৮ পেরিয়েছে। বিয়ের ৩ বছরের মাথায় ডিভোর্স হয়ে আবার বাবার বাড়িতে ফিরে আসছে।বিয়ের পর তার রুপ যৌবন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন তার ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ৩৬-৩০-৩৬। তার বাবা অভিজিৎ রায়। এখন বয়স ৪৫। টগবগে তরুণ।  তার মা অঞ্জলি দেবনাথ। ২ বছর আগে ব্লাড ক্যান্সারে মারা যায়। তারপর থেকে তার বাবা একাই আছে।

Reply
#3

তিশা দরজাটা লক করে দিল। তার হৃৎপিণ্ড হাতুড়ির মতো পিটছে। এক অদম্য কৌতূহল আর নিষিদ্ধ আকর্ষণে সে তোয়ালেটার দিকে হাত বাড়াল। তোয়ালেটা হাতে নিতেই অনুভব করল সেটা এখনো উষ্ণ। আব্বুর শরীরের উষ্ণতা।
সে ধীরে ধীরে তোয়ালেটা নিজের মুখের কাছে তুলে আনল। চোখ বন্ধ করে এক গভীর শ্বাস নিল।

শেভিং ফোমের মেন্থল গন্ধ, কড়া সাবানের গন্ধ, আর তার নিচে... তার নিচে এক তীব্র, বুনো, পুরুষালি গন্ধ। এটা আব্বুর গায়ের গন্ধ। এই গন্ধে কোনো খাদ নেই, আছে এক আদিম নেশা। তিশার মস্তিষ্কের কোষে কোষে সেই গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল। তার মনে হলো, এই গন্ধটাই তো সে খুঁজছিল! তার স্বামীর গায়ে ছিল সস্তা পারফিউমের উগ্র গন্ধ, কিন্তু এখানে... এখানে আছে এক নিরাপদ, অথচ ধ্বংসাত্মক নেশা।

তিশা তোয়ালেটা নিজের গালে ঘষে নিল। তোয়ালের খসখসে স্পর্শে তার গাল ছড়ে যাওয়ার উপক্রম হলো, কিন্তু সেই সামান্য ব্যথাই যেন তার ভেতরে সুপ্ত কামনার বারুদে আগুন ধরিয়ে দিল। সে ফিসফিস করে বলল, “আব্বু..."
আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে তিশা চমকে উঠল। তার গাল রক্তিম, চোখ দুটো ঘোলাটে, আর ঠোঁট কাঁপছে। সে বুঝতে পারল, সে এক বিপজ্জনক খাদের কিনায় এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সে এটাও বুঝতে পারল, এই খাদে ঝাঁপ দেওয়ার প্রলোভন সামলানো তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

বিকেলের পড়ন্ত রোেদ গঙ্গার জলে হীরের কুচির মতো চিকচিক করছে। প্রিন্সেপ ঘাটের সাদা থামগুলোর আড়ালে প্রেমিক-প্রেমিকাদের ভিড়। এই ভিড়ের মাঝেও তিশা আর অভিজিৎ  সাহেবকে আলাদা করে চোখে পড়ে।

আজ আব্বুর পরনে একটা নেভি-ব্লু ফিটেড পোলো টি-শার্ট আর হালকা ছাই রঙের ট্রাউজার্স। চোখে রে-ব্যান সানগ্লাস। ৪৫ বছর বয়সেও তার বাইসেপসের গঠন টি-শার্টের হাতা ফুঁড়ে বের হতে চায়। অন্যদিকে তিশা পরেছে একটা স্লিভলেস সালোয়ার কামিজ, ওডনাটা একপাশে লতামো।

ওরা যখন গঙ্গার পাড় ধরে হাঁটছিল, তিশা লক্ষ্য করল আশেপাশের মানুষের দৃষ্টি। বিশেষ করে কলেজপড়ুয়া মেয়েগুলো আর মাঝবয়সী মহিলারা আড়চোখে আব্বুর দিকে তাকাচ্ছে। তাদের চোখে বিস্ময় আর লোলুপতার মিশ্রণ। তারা হয়তো ভাবছে, এই সুপুরুষ মানুষটির পাশে এই তরুণীটি কে? মেয়ে? নাকি অল্পবয়েসী প্রেমিকা?

অন্য সময় হলে তিশা অস্বস্তি বোধ করত। কিন্তু আজ? আজ ওর বুকের ভেতর একটা অদ্ভুত গর্বের স্রোত বয়ে গেল। ওর মনে হলো, “এই মানুষটা আমার। শুধুই আমার। আমার প্রাক্তন স্বামী অর্ক তো ছিল একটা কুঁজো, আর আমার আব্বু যেন গ্রিক দেবতা।”

“কী রে মা, আইসক্রিম খাবি?” আব্বু সানগ্লাসটা কপালে তুলে জিজ্ঞেস করলেন। তার চোখের কোণে সেই ভুবনভোলানো হাসি।
“না আব্বু, শুধু হাঁটব। তোমার হাত ধরে হাঁটতে ইচ্ছে করছে,” তিশা আবদার করে বসল।

অভিজিৎ বাবু একটু অবাক হলেন, কিন্তু আপত্তি করলেন না। তিনি হাত বাড়িয়ে দিলেন। তিশা আব্বুর বলিষ্ঠ হাতটা নিজের দুই হাতের মধ্যে জড়িয়ে ধরল। আব্বুর হাতের তালুটা খসখসে, গরম আর শক্ত। সেই হাতের স্পর্শ পেতেই তিশার শরীরের ভেতর একটা বিদ্যুৎ খেলে গেল। সে ইচ্ছে করেই নিজের নরম বুকের পাশটা আব্বুর হাতের সাথে একটু চেপে ধরল। এটা কি খুব বেশি হয়ে গেল? তিশা নিজেকে প্রশ্ন করল। কিন্তু সে হাতটা সরাল না।

একটা বেঞ্চে বসার পর গঙ্গার ফুরফুরে বাতাস তিশার চুলগুলোকে এলোমেলো করে দিচ্ছিল। অভিজিৎ বাবু পরম যত্নে তিশার মুখের ওপর থেকে অবাধ্য চুলগুলো সরিয়ে কানে গুঁজে দিলেন। তার আঙুলের ডগাটা আলতো করে তিশার কপাল আর কানে লতি স্পর্শ করল।
সেই মুহূর্তটুকু ছিল অনন্তকালের মতো। তিশার মনে হলো, কোনো বাংলা চটি গল্পের পাতায় পড়া নিষিদ্ধ রোমান্সের নায়িকার মতো লাগছে নিজেকে। আব্বুর এই যত্ন, এই স্পর্শ-এগুলো কি শুধুই বাৎসল্য? নাকি এর গভীরে লুকিয়ে আছে এক পুরুষের অবদমিত প্রেম, যা সে নিজেও জানে না?

দিন কয়েক পরের কথা। অফিস থেকে ফেরার পথে আব্বু সাথে করে এক মহিলাকে নিয়ে এলেন। নাম পূজা ব্যানার্জী, আব্বুর অফিসের সহকর্মী। ডিভোর্সি, বয়স চল্লিশের কোঠায়, বেশ চটপটে এবং সাজগোজ করা ভদ্রমহিলা।

"তিশা, ইনি পূজা আন্টি। আজ ওদিকে কাজ ছিল, তাই ভাবলাম এক কাপ চা খেয়ে যাই,” আব্বু পরিচয় করিয়ে দিলেন।

পূজা আন্টি একটু বেশিই হাসিখুশি। ড্রয়িংরুমে বসতে না বসতেই তিনি আব্বুর সাথে খুনসুটি শুরু করলেন। “উফ অভিজিৎ , তোমার এই ফ্ল্যাটটা দারুণ! আর তুমি তো দিন দিন ইয়াং হচ্ছো। সিক্রেটটা কী বলো তো?"

কথাটা বলতে বলতেই পূজা আন্টি হাসতে হাসতে আব্বুর কাঁধে হাত রাখলেন।
এই দৃশ্যটা দেখা মাত্রই পূজার মাথার ভেতরটা দপ করে জ্বলে উঠল। একটা তীব্র, আদিম ঈর্ষা তার শিরা-উপশিরায় ছড়িয়ে পড়ল। তার মনে হলো, ওই মহিলা তার নোংরা হাত দিয়ে আব্বুকে অপবিত্র করে দিচ্ছে। আব্বুর কাঁধ, আব্বুর হাসি-সব তো তিশার একার সম্পত্তি! অন্য কেউ কেন ভাগ বসাবে?

চা নিয়ে আসার সময় তিশা ইচ্ছে করেই ট্রে-টা একটু জোরে টেবিলে রাখল। শব্দে পূজা আন্টি চমকে তাকালেন।

"সরি, হাতটা স্লিপ করে গেল,” তিশা নির্লিপ্ত মুখে বলল।

তারপর সে কোনো ভদ্রতার তোয়াক্কা না করে সোফায় গিয়ে বসল-ঠিক আব্বু আর পূজা আন্টির মাঝখানে। জায়গাটা খুব কম ছিল, কিন্তু তিশা জোর করে নিজেকে ওখানের গুঁজে দিল।

“আব্বু, আমার না মাথাটা খুব ধরেছে,” তিশা আব্বুর ডান হাতটা নিজের দুই হাতের মুঠোয় নিয়ে নিজের কপালের কাছে টেনে নিল। তার শরীরটা আব্বুর শরীরের সাথে একেবারে লেপ্টে রইল। সে আড়চোখে পূজা আন্টির দিকে তাকাল। তার দৃষ্টিতে ছিল এক নীরব হুমকি-"দূরে থাকো। এই এলাকা আমার।"

অভিজিৎ বাবু একটু অপ্রস্তুত বোধ করলেন, কিন্তু মেয়ের অসুস্থতার কথা শুনে চিন্তিত হয়ে পড়লেন। "কী হয়েছে মা? বেশি কষ্ট হচ্ছে? আমি কি ওষুধ এনে দেব?” তিনি পূজা আন্টির উপস্থিতি প্রায় ভুলেই গেলেন।

তিশার নরম নিতম্ব আর উরু যখন অভিজিতের উরুর সাথে ঘষা খাচ্ছিল, তখন তিনি অস্বস্তি আর এক অদ্ভুত ভালোলাগার দ্বন্দ্বে ভুগছিলেন। মেয়ের শরীরের এই উষ্ণতা, এই অধিকারবোধ তাকে বিভ্রান্ত করছিল। পূজা আন্টি পরিস্থিতিটা বুঝে কিছুক্ষণ পরেই বিদায় নিলেন।

তিনি চলে যেতেই তিশা আব্বুর হাত ছেড়ে দিল, কিন্তু তার বুকের ভেতর বিজয়ের আনন্দ। সে প্রমাণ করে দিয়েছে, আব্বুর জীবনে অন্য কোনো নারীর স্থান নেই।

সেদিন রাতে বাইরে অঝোরে বৃষ্টি পড়ছিল। আকাশ ভাঙা বৃষ্টি আর মেঘের গর্জনে পরিবেশটা হয়ে উঠেছিল থমথমে। ডিনারের পর তিশা দেখল আব্বু নিজের ঘরে পুরনো ট্রাঙ্ক খুলে বসে আছেন। মেঝেতে ছড়ানো পুরনো অ্যালবাম।

তিশা দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। আব্বু একটা কালো-সাদা ছবির দিকে তাকিয়ে আছেন। মায়ের ছবি।
"আব্বু?” সারা মৃদু ডাকল।
অভিজিৎ বাবু মুখ তুললেন। তার চোখ দুটো জবা ফুলের মতো লাল, গাল বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। এই ইস্পাত-কঠিন মানুষটাকে এভাবে ভেঙে পড়তে দেখে তিশার কলিজাটা মোচড় দিয়ে উঠল।

তিশা ছুটে গিয়ে আব্বুর পাশে হাঁটু গেড়ে বসল। “কী হয়েছে আব্বু? কাঁদছ কেন?”

অভিজিৎ  রুদ্ধগলায় বললেন, “আমি তোর আম্মিকে কথা দিয়েছিলাম তোকে সুখে রাখব। কিন্তু আমি পারিনি রে মা। আমি তোকে চিনতে ভুল করেছি, ভুল পাত্রে তোকে তুলে দিয়েছি। তোর জীবনটা নষ্ট করে দিলাম আমি..."

তার কান্নাটা বাঁধ মানল না। একজন পিতার অক্ষমতার হাহাকার যেন বৃষ্টির শব্দের সাথে মিশে গেল। তিশা বুঝতে পারল, আব্বুর এই কান্না শুধু মেয়ের কষ্টের জন্য নয়, এটা দীর্ঘদিনের একাকীত্ব, সঙ্গীহীন জীবনের জমানো ব্যথার বিস্ফোরণ।

“চুপ করো আব্বু, প্লিজ চুপ করো। তুমি তো কোনো ভুল করোনি,” তিশা আব্বুকে দুহাতে জড়িয়ে ধরল। আব্বুর মুখটা সে টেনে নিল নিজের বুকের কাছে।

কান্নার আবেগে ক্লান্ত হয়ে অভিজিৎ বাবু তিশার কোলেই মাথাটা এলিয়ে দিলেন। মেঝেতে বসে তিশা পা ছড়িয়ে দিল, আর তার নরম, মাংসল উরুর ওপর আশ্রয় নিল আব্বুর ভারি মাথাটা।

বাইরে বিদ্যুতের চমকানি, ঘরের আলো-আঁধারিতে এক মায়াবী পরিবেশ। তিশা আব্বুর চুলে হাত ডুবিয়ে দিল। আব্বুর চুলগুলো এখন একটু পাকা, কিন্তু ভীষণ ঘন। তিশা আঙুল দিয়ে আব্বুর স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করে দিতে লাগল। তার নখগুলো যখন আব্বুর মাথার তালুতে হালকা আঁচড় কাটছিল, তখন আব্বু আরাম পেয়ে চোখ বুজলেন।  “উহ্... মা রে... খুব আরাম লাগছে,” আব্বু বিড়বিড় করলেন। তার গলাটা এখন খাদে নামা, নেশাতুর।

তিশার হাতটা চুল থেকে নেমে এল আব্বুর কপালে, তারপর গালে। আব্বুর গালে আজ শেভ করা হয়নি, একদিনের না-কামানো দাড়ি তিশার নরম তালুতে সুড়সুড়ি দিচ্ছে। এই খসখসে স্পর্শটা তিশার শরীরে এক অদ্ভুত শিহরণ জাগাল। সে আঙুল দিয়ে আব্বুর চোখের পাতা, নাকের তীক্ষ্ণ রেখা আর ঠোঁটের কোেণ স্পর্শ করতে লাগল।

তার মনে হলো, এই কোলে শুয়ে থাকা মানুষটা কি শুধুই তার পিতা? নাকি এক অসহায় শিশু, যে মায়ের আশ্রয় খুঁজছে? নাকি... নাকি এক ক্লান্ত প্রেমিক, যে তার প্রেমিকার কাছে শান্তি ভিক্ষা করছে?

তিশার উরুর ওপর আব্বুর গরম নিঃশ্বাস পড়ছে। প্রতিবার শ্বাস ছাড়ার সময় সেই উষ্ণ বাতাস সারার পাতলা পাজামা ভেদ করে তার গোপনাঙ্গের খুব কাছাকাছি পৌঁছে। তিশার যোনিপথ নিজের অজান্তেই ভিজে উঠল। এক নিষিদ্ধ কামরস তার শরীরের ভেতর চুইয়ে পড়তে লাগল। সে ভয় পেল, আবার একই সাথে চাইল-আব্বুর মাথাটা যেন সেখান থেকে আর না সরে।

সে মনে মনে বলল, “তুমি শুধু আমার আব্বু। কিন্তু কেন মনে হচ্ছে, আমি তোমাকে অন্যভাবে চাইছি? কেন ইচ্ছে করছে তোমার এই কান্নাভেজা ঠোঁট দুটোকে আমি..."

সে আর ভাবতে পারল না। তার শরীরের রক্তপ্রবাহ দ্রুততর হলো।

ঘড়ির কাঁটা রাত দুটোর ঘর ছুঁয়েছে। অভিজিৎ বাবু ক্লান্তিতে তিশার কোলেই ঘুমিয়ে পড়েছেন। তার নিঃশ্বাসের শব্দ এখন ধীর ও ছন্দময়।
তিশা নড়ল না। তার পা অবশ হয়ে আসছে, কিন্তু সে এই মুহূর্তটাকে ভাঙতে চায় না। সে একদৃষ্টে আব্বুর ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। ঘুমের মধ্যে মানুষের মুখোশ থাকে না। আব্বুকে এখন খুব নিষ্পাপ, আবার ভীষণভাবে পুরুষালি লাগছে।
তিশার দৃষ্টি গিয়ে আটকে গেল আব্বুর ঠোঁটে। হালকা কালচে, পুরু ঠোঁট। এই ঠোঁট দিয়ে তিনি তাকে 'মা' বলে ডাকেন। কিন্তু আজ তিশার মনে হচ্ছে, এই ঠোঁটের অন্য কোনো কাজও থাকতে পারে।
এক অজানা সম্মোহনে তিশা ধীরে ধীরে মাথাটা নিচু করল। তার খোলা চুলগুলো পর্দার মতো আব্বুর মুখের দুপাশে ঝুলে পড়ল, তাদের দুজনকে পৃথিবীর বাকি অংশ থেকে আলাদা করে দিল।

তিশার হৃদস্পন্দন এখন কানের পর্দায় বাজছে। সে কি ঠিক করছে? না, এটা ভুল। মহাপাপ। কিন্তু পাপের আকর্ষণই যে সবচেয়ে তীব্র!

Reply
#4

তিশার কম্পমান ঠোঁটজোড়া নেমে এল আব্বুর প্রশস্ত কপালে। প্রথমে খুব আলতো করে। তারপর... তারপর সে আর নিজেকে সামলাতে পারল না। সে ঠোঁটটা চেপে ধরল আব্বুর কপালের ওপর। এটা সাধারণ স্নেহের চুমু নয়। এর মধ্যে মিশে আছে অধিকার, কামনা, আর এক তীব্র হাহাকার। সে তার ঠোঁট দিয়ে আব্বুর চামড়ার উষ্ণতা শুষে নিল।

চুমুটা দীর্ঘ হলো। অনেক দীর্ঘ। তিশার গরম নিঃশ্বাস আব্বুর মুখে আছড়ে পড়ল। ঘুমের ঘোরে আব্বু সামান্য নড়ে উঠলেন, একটা অস্ফুট শব্দ করলেন, “উমম...”

তিশা চমকে উঠে মুখ সরাল। আব্বু কি জেগে উঠলেন? নাকি ঘুমের মধ্যেই তিনি এই স্পর্শ অনুভব করলেন? আব্বুর হাতটা নিজের অজান্তেই উঠে এসে তিশার উরুর ওপর পড়ল-ঠিক যেখানে তার কামনার উৎস।

তিশা স্তব্ধ হয়ে বসে রইল। বাইরে বাজ পড়ার শব্দে ঘরটা কেঁপে উঠল, ঠিক যেমন কাঁপছে সারার ভেতরটা। সে জানে, আজ রাতে সে একটা অদৃশ্য সীমারেখা পার করে ফেলেছে। আর ফেরার পথ নেই।

ভোরের আলো ফোটার ঠিক আগে ঘুমটা ভাঙল তিশার  চোখের পাতা খুলতেই সে অনুভব করল তার পায়ের ওপর এক ভারী ও উষ্ণ অস্তিত্ব। অভিজিৎ বাবু এখনো গভীর ঘুমে, তার মাথাটা তিশার উরুর ঠিক সংযোগস্থলে-যেখানে দুটি পা মিশেছে সেই উপত্যকায়-এলিয়ে আছে।

তিশা নড়ল না। গত রাতের স্মৃতিগুলো কুয়াশার মতো তার মাথায় ভিড় করল। আব্বুর কান্না, তিশার সান্ত্বনা, আর সেই নিষিদ্ধ চুমু। কিন্তু এখন, এই ভোরের নিস্তব্ধতায়, অনুভূতিটা সম্পূর্ণ শরীরী। আব্বুর নিঃশ্বাসের উষ্ণ বাতাস তার পাতলা পাজামা ভেদ করে গোপনাঙ্গের ওপর আছড়ে পড়ছে। প্রতিবার শ্বাস ছাড়ার সাথে সেখানে এক অদ্ভুত সুড়সুড়ি আর শিহরণ জাগছে। সারার মনে হলো, তার উরুর মাঝখানের পেশিগুলো নিজের অজান্তেই সংকুচিত হচ্ছে, যেন সে আব্বুর এই নৈকট্যকে নিজের ভেতরে শুষে নিতে চায়।

হঠাৎ অভিজিৎ বাবু নড়ে উঠলেন। ঘুম ভাঙার সাথে সাথে তিনি ধড়মড় করে উঠে বসলেন। তার চোখে-মুখে একধরনের বিহ্বলতা আর লজ্জা।

“সরি... সরি মা! আমি কখন ঘুমিয়ে পড়েছি খেয়ালই করিনি... ছিঃ, তোকে কষ্ট দিলাম সারারাত,” আব্বু তোতলামি করে কথাগুলো বললেন। তিনি দ্রুত উঠে দাঁড়ালেন, তিশার দিকে তাকাতে পারলেন না।

তিশাও উঠে দাঁড়াল। তার পা ঝিনঝিন করছে, কিন্তু উরুর ওপর আব্বুর মাথার ভার আর উষ্ণতার রেশ এখনো লেগে আছে। সে নিচু গলায় বলল, “না আব্বু, আছে। তোমার আরাম লাগছিল, তাই আমি জাগাইনি।”

"আরাম”-শব্দটা উচ্চারণের সাথে সাথেই দুজনেই থমকে গেল। বাতাস যেন হঠাৎ ভারী হয়ে উঠল। আব্বু কোনোমতে “আমি ফ্রেশ হচ্ছি” বলে দ্রুত বের হয়ে বাথরুমের  দিকে চলে গেলেন। তার হাঁটার ভঙ্গিতে একধরনের পলায়নপরতা ছিল, যা তিশার নজর এড়াল না।তিশা নিজের উরুতে হাত বুলিয়ে দেখল -সেখানে আব্বুর গালের ঘামের দাগ লেগে আছে, আর নিজের শরীর থেকে নিঃসৃত কামরসের চটচটে ভাব।

সেদিন অফিসে তিশার কোনো কাজেই মন বসল না। ল্যাপটপের স্ক্রিনে এক্সেল শিটের বদলে বারবার ভেসে উঠছিল গত রাতের দৃশ্যটা। আব্বুর কপালে তার ঠোঁটের স্পর্শ, আব্বুর ভেজা শরীর,

"আমি কি পাগল হয়ে যাচ্ছি?” তিশা বাথরুমের আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করল।"উনি আমার বাবা! এটা মহাপাপ, এটা ঘৃণ্য!”

কিন্তু মন আর শরীর কি কোনো যুক্তি মানে?

তিশা তার কিউবিকলে ফিরে এসে ব্রাউজারে টাইপ করল-'Electra Complex', 'Falling in love with father', 'Father attraction psychology'.

স্ক্রিনে ভেসে ওঠা লেখাগুলো সে গোগ্রাসে গিলতে লাগল। সিগমুন্ড ফ্রয়েড, কার্ল ইউং... কত তত্ত্ব, কত ব্যাখ্যা। কিন্তু কোনো তত্ত্বই তার বুকের ভেতরের এই দহনকে ব্যাখ্যা করতে পারছে না। তার মনে হলো, এটা শুধু কোনো মানসিক কমপ্লেক্স নয়। এটা তার স্বামীর দেওয়া অপমান আর অবহেলার বিপরীতে আব্বুর দেওয়া নিরাপত্তা আর পৌরুষের প্রতি তার নারীসত্তার জাগরণ।

তিশা ভাবল, “অর্ক আমাকে কখনো নার মনে করেনি, শুধু ব্যবহারের বস্তু ভেবেছে।

তিশা ভাবল, “অর্ক আমাকে কখনো নারী মনে করেনি, শুধু ব্যবহারের বস্তু ভেবেছে। আর আব্বু... আব্বু আমাকে আগলে রেখেছেন। কিন্তু আজ সেই আগলানোর মধ্যে আমি অন্য কিছু খুঁজছি। আমি কি আব্বুর মধ্যে আমার প্রেমিককে খুঁজে পাচ্ছি?"

লজ্জায়, অপরাধবোধে, আর একই সাথে এক তীব্র উত্তেজনায় তিশার কান গরম হয়ে উঠল। সে জানত এটা 'গুনাহ', কিন্তু সেই গুনাহের স্বাদ নেওয়ার জন্য তার জিভচাতক পাখির মতো শুকিয়ে আছে।

রাতে ডিনারের সময় পরিবেশটা ছিল থমথমে। অন্যদিন আব্বু কত গল্প করেন, আজ তিনি চুপচাপ। চামচ আর প্লেটের ঠুকঠাক শব্দ ছাড়া কোনো আওয়াজ নেই।

তিয়া আড়চোখে আব্বুকে দেখল। আব্বু মাথা নিচু করে খাচ্ছেন। তিনি কি তিশার দিকে তাকাতে ভয় পাচ্ছেন? নাকি লজ্জ পাচ্ছেন?

হঠাৎ জলের গ্লাসটা নিতে গিয়ে তিশার হাত আব্বুর হাতে লাগল। একটা সামান্য স্পর্শ। কিন্তু মনে হলো যেন হাইভোল্টেজ কারেন্টের তারে হাত লেগেছে। আব্বু চমকে হাতটা সরিয়ে নিলেন। জল কিছুটা চলকে পড়ল টেবিলে।

"সরি...” দুজনেই একসাথে বলে উঠল।

চোখে চোখ পড়ল। আব্বুর চোখে সেই চিরচেনা স্নেহ নেই, আছে এক ঘোলাটে, আর্ত দৃষ্টি। যেন তিনি নিজের ভেতরের কোনো পশুর সাথে লড়াই করছেন। তার চোয়াল শক্ত, গলার শিরা ফুলে উঠেছে। তিশা বুঝতে পারল, আগুনটা শুধু তার একার বুকে জ্বলছে না, ওপাশেও দাউদাউ করে জ্বলছে।

“আমার খাওয়া শেষ,” আব্বু অর্ধেক খাবার ফেলেই উঠে চলে গেলেন।

তিশা বসে রইল। আব্বুর এই অস্থিরতা, পলায়ন-সবই তাকে একটা সিগন্যাল দিচ্ছে। আব্বুও তাকে চাইছেন। এই চিন্তাটা মাথায় আসতেই তিশার শরীরের ভেতর দিয়ে গরম রক্তের স্রোেত বয়ে গেল।

রাত তখন একটা। তিশা নিজের বিছানায় শুয়ে আছে, কিন্তু ঘুমের কোনো চিহ্ন নেই। তার ল্যাপটপে চলছে একটা হার্ডকোর পর্ন ভিডিও। ভিডিওতে এক মাঝব বয়সী সুঠাম পুরুষ এক তরুণীকে প্রবলভাবে চুদতেছে । পুরুষটার শরীর, তার চওড়া পিঠ, তার পেশিবহুল হাত-সবকিছুর মধ্যে তিশা আব্বুকে খুঁজে ফিরছে।

ভিডিওর প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি গোঙানি তিশার উত্তেজনাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। সে নিজের হাতটা পাজামার ভেতরে ঢুকিয়ে দিল। আঙুল দিয়ে নিজের ক্লিটোরিস ঘষতে ঘষতে সে কল্পনা করতে লাগল, ওই ভিডিওর পুরুষটা আব্বু, আর ওই মেয়েটা সে নিজে।

Reply


Forum Jump:


Users browsing this thread: 1 Guest(s)