10-12-2026, 04:36 AM
দমদম এয়ারপোর্টের অটোমেটিক কাঁচের দরজাটা সরে যেতেই বাইরের ভ্যাপসা গরম আর পরিচিত আর্দ্রতা তিশাকে ঝাপটে ধরল। পুনের শুষ্ক, রুক্ষ আবহাওয়া থেকে এই আর্দ্রতা একদম আলাদা। এটা কলকাতার নিজস্ব গন্ধ—ধুলো, ঘাম আর পুরনো স্মৃতির এক অদ্ভুত মিশ্রণ। ট্রলিটা ঠেলতে ঠেলতে তিশা মনে হলো, এই শহরটা যেন তাকে ব্যঙ্গ করছে। মাত্র তিন বছর আগে এই এয়ারপোর্ট থেকেই সে নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে, হাতে লাল চুড়ি আর কপালে সিঁদুর নিয়ে বিদায় নিয়েছিল। আর আজ? আজ সে ফিরছে রিক্ত হাতে, ডিভোর্সের পেপারগুলো ব্যাগের এক কোণে মৃতপাপড়ির মতো পড়ে আছে।আশেপাশে মানুষের কোলাহল, ট্যাক্সি ড্রাইভারদের হাঁকডাক, ট্রলিব্যাগের চাকার ঘড়ঘড় শব্দ—সবকিছু মিলিয়ে এক যান্ত্রিক অর্কেস্ট্রা। কিন্তু সারার কানের সব শব্দই ঝাপসা। ওর মনের ভেতরটা এখন শ্মশানের মতো নিস্তব্ধ। আটাশ বছর বয়সেই জীবনটা যেন থমকে গেছে।
ভিড়ের মাঝে চোখ বোলাতেই মানুষটাকে দেখতে পেল সারা। অভিজিৎ রায়। ওর আব্বু।
প্রস্থানের গেটের কাছে রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। পরনে ধবধবে সাদা লখনউই পাঞ্জাবি আর পাজামা। মুখে সেই চিরচেনা প্রশান্ত হাসি, কিন্তু চোখের কোণে উদ্বেগের ছায়া স্পষ্ট। পঞ্চান্ন বছর বয়স, কিন্তু কে বলবে? চুলে সামান্য সল্ট-এন্ড-পেপার ছোঁয়া লেগেছে ঠিকই, কিন্তু মেরুদণ্ড এখনো টানটান। ভিড়ের মধ্যেও তাকে আলাদা করে চেনা যায়। তার ব্যক্তিত্বের একটা নিজস্ব আভা আছে, যা আশেপাশের ক্লান্ত, ঘর্মাক্ত মানুষগুলোর থেকে তাকে পৃথক করে রাখে।সারা থমকে দাঁড়াল। বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। গত তিন বছরে নিজের স্বামী নামের ওই অপদার্থ লোকটার সাথে থাকতে থাকতে সে ভুলেই গিয়েছিল পুরুষ মানুষ আসলে কেমন হয়। তার প্রাক্তন স্বামী ছিল ন্যালব্যলে, মেরুদণ্ডহীন, যে কি না সামান্য ঝগড়াতেই মায়ের আঁচলের তলায় লুকাত। আর সেখানে আব্বু?
তিশা দেখল, আব্বু হাত নেড়ে তাকে ডাকছেন। পাঞ্জাবীর হাতাটা কনুই পর্যন্ত গোটানো, ফর্সা লোমশ হাতে ঘড়িটা চকচক করছে। এই বয়সেও মানুষটা কী ভীষণ সতেজ! তার চওড়া কাঁধ আর সুঠাম চেহারার দিকে তাকিয়ে সারার অবচেতন মনে একটা তুলনা ভেসে উঠল—অনিচ্ছাসত্ত্বেও। "আমার স্বামী তো একটা পুরুষ নামের কলঙ্ক ছিল, আর আব্বু... আব্বু এখনো যেন একটা বটগাছ।"
“সারা, মা আমার!
আব্বুর ব্যারিটোন গলার আওয়াজে তিশার চিন্তার সুতো ছিঁড়ল। সে দ্রুত পায়ে এগিয়ে গিয়ে আব্বুর বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ল। আব্বুর গায়ে সেই পরিচিত গন্ধ-দামী আতর আর তামাকের একটা হালকা মিশ্রণ। এই গন্ধটা ছোটবেলায় সারাকে নিরাপত্তা দিত, আর আজ এই মুহূর্তে এই গন্ধটাই তার একমাত্র আশ্রয়। "আমি খুব ক্লান্ত আব্বু... আমি হেরে গেছি,” তিশার গলা বুজে এল। কান্নাটা দলা পাকিয়ে গলায় আটকে আছে। অভিজিৎ চুলে হাত বুলিয়ে দিলেন। তার হাতের স্পর্শে একটা অদ্ভুত দৃঢ়তা আর উষ্ণতা। “তুই হারিসনি মা। তুই ফিরে এসেছিস, এটাই আসল। চল, গাড়ি রাখা আছে।" গাড়ির এসি-র ঠান্ডা বাতাসে তিশার শরীরটা জুড়িয়ে গেল, কিন্তু মনের জ্বালা কমল না। জানালার কাঁচের ওপারে কলকাতা সরে সরে যাচ্ছে। ইএম বাইপাসের দুপাশে আকাশচুম্বী আলো ঝলমলে বাড়ি, ফ্লাইওভারের নিয়ন আলো-শহরটা অনেক বদলে গেছে। কিন্তু পার্ক সার্কাসের দিকে মোড় নিতেই সেই পুরনো কলকাতা উঁকি দিল।
পুরনো আমলের বাড়ি, রাস্তার ধারের দোকান, আর ট্রামের লাইন। অভিজিৎ গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তিশা আড়চোখে বাবার দিকে তাকাল। স্টিয়ারিং ধরা আব্বুর হাতদুটো শক্ত, শিরাগুলো সামান্য ভেসে আছে। গিয়ার চেঞ্জ করার সময় তার পেশিগুলো যেভাবে নড়াচড়া করছে, তাতে এক ধরনের পৌরুষদীপ্ত ছন্দ আছে। সারা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তার স্বামী অর্ক কখনো গাড়িই চালাতে জানত না, সব সময় ড্রাইভার বা উবারের ওপর ভরসা। পৌরুষ জিনিসটা যে শুধু শরীরে নয়, আচরণেও থাকে, সেটা অর্ক কোনোদিন বোঝেনি।
“তোর মা থাকলে আজ খুব খুশি হতো, আবার খুব কাঁদতও,” অভিজিৎ নীরবতা ভাঙলেন। তার গলায় একটা চাপা হাহাকার।
তিশার মা মারা গেছেন পাঁচ বছর হলো। তারপর থেকে আব্বু একাই এই বিশাল ফ্ল্যাটে থাকেন। সারা ভেবেছিল আব্বু হয়তো ভেঙে পড়বেন, কিন্তু মানুষটা নিজেকে সামলে নিয়েছেন অদ্ভুত দক্ষতায়।
“তুমি একা খুব কষ্ট পাও, তাই না আব্বু?" সারা ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল।
অভিজিৎ সাহেব ম্লান হাসলেন। রিয়ার ভিউ মিররে মেয়ের চোখের দিকে তাকালেন। “একাকীত্ব তো মানুষের ছায়ার মতো রে মা। ওটা সঙ্গে থাকেই। কিন্তু এখন তুই এসেছিস, আর কষ্ট নেই।"
গাড়িটা যখন পার্ক সার্কাসের পুরনো বনেদী অ্যাপার্টমেন্টের নিচে এসে থামল, তখন রাত দশটা। চারপাশটা শান্ত হয়ে এসেছে। লিফটে ওঠার সময় আব্বু তিশার ভারী সুটকেসটা এক হাতেই তুলে নিলেন। সারার মনে হলো, এই মানুষটার শক্তির কোনো ক্ষয় নেই। সে শুধু মুগ্ধ হয়ে দেখল বাবার পিঠের পেশিগুলোর সংকোচন-প্রসারণ।
ফ্ল্যাটের দরজা খুলতেই একটা গুমোট নিস্তব্ধতা ওদের স্বাগত জানাল। সাড়ে তিন হাজার স্কয়ার ফিটের বিশাল ফ্ল্যাট। দামী আসবাবপত্র, ঝাড়বাতি, পারশিয়ান কার্পেট —সবই আছে, নেই শুধু মায়ের গলার আওয়াজ। কিন্তু আব্বু বাড়িটাকে অযত্নে রাখেননি। প্রতিটি জিনিস পরিপাটি করে সাজানো।
“তোর ঘরটা আমি কালই গুছিয়ে রেখেছি। যা, ফ্রেশ হয়ে নে। আমি খাবার গরম করছি,” আব্বু বললেন।
তিশা নিজের ঘরে ঢুকল। সেই একই বিছানা, সেই একই ড্রেসিং টেবিল। কিন্তু আয়নায় যে মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে, সে আর আগের তিশা নেই। তার চোখে-মুখে ক্লান্তি আর অভিজ্ঞতার ছাপ। শাড়িটা পাল্টে একটা হালকা সুতির নাইটি পরল সে। শরীরে এখন আর কোনো বাঁধন সহ্য হচ্ছে না।
ডাইনিং টেবিলে যখন সে এল, দেখল আব্বু খাবার সাজিয়ে বসে আছেন। ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত, সর্ষে ইলিশ আর কচি পাঁঠার ঝোল। গন্ধে তিশার পেটের খিদেটা মোচড় দিয়ে উঠল। গত কয়েক মাস সে ঠিকমতো খায়নি। পুনের ওই বিস্বাদ খাবার আর রোজকার অশান্তিতে তার রুচি চলে গিয়েছিল।
তিশা চেয়ারে বসল। আব্বু তার উল্টোদিকে নয়, পাশের চেয়ারে বসলেন।
“তোর হাত কাঁপছে সারা," আব্বু আলতো করে সারার ডান হাতটা ধরলেন। সারার হাত সত্যিই কাঁপছিল, দুর্বলতায় আর আবেগে।
“আমি মেখে দিচ্ছি, ঠিক ছোটবেলার মতো,” আব্বু ভাতের থালাটা নিজের কাছে টেনে নিলেন। যত্ন করে ভাত মাখলেন, ইলিশ মাছের কাঁটা বেছে আলাদা করলেন। তার দীর্ঘ, ফর্সা আঙুলগুলো যখন ভাতের সাথে মশলা মাখাচ্ছিল, তখন সারার মনে হলো এই দৃশ্যটা পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য।
ভিড়ের মাঝে চোখ বোলাতেই মানুষটাকে দেখতে পেল সারা। অভিজিৎ রায়। ওর আব্বু।
প্রস্থানের গেটের কাছে রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। পরনে ধবধবে সাদা লখনউই পাঞ্জাবি আর পাজামা। মুখে সেই চিরচেনা প্রশান্ত হাসি, কিন্তু চোখের কোণে উদ্বেগের ছায়া স্পষ্ট। পঞ্চান্ন বছর বয়স, কিন্তু কে বলবে? চুলে সামান্য সল্ট-এন্ড-পেপার ছোঁয়া লেগেছে ঠিকই, কিন্তু মেরুদণ্ড এখনো টানটান। ভিড়ের মধ্যেও তাকে আলাদা করে চেনা যায়। তার ব্যক্তিত্বের একটা নিজস্ব আভা আছে, যা আশেপাশের ক্লান্ত, ঘর্মাক্ত মানুষগুলোর থেকে তাকে পৃথক করে রাখে।সারা থমকে দাঁড়াল। বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। গত তিন বছরে নিজের স্বামী নামের ওই অপদার্থ লোকটার সাথে থাকতে থাকতে সে ভুলেই গিয়েছিল পুরুষ মানুষ আসলে কেমন হয়। তার প্রাক্তন স্বামী ছিল ন্যালব্যলে, মেরুদণ্ডহীন, যে কি না সামান্য ঝগড়াতেই মায়ের আঁচলের তলায় লুকাত। আর সেখানে আব্বু?
তিশা দেখল, আব্বু হাত নেড়ে তাকে ডাকছেন। পাঞ্জাবীর হাতাটা কনুই পর্যন্ত গোটানো, ফর্সা লোমশ হাতে ঘড়িটা চকচক করছে। এই বয়সেও মানুষটা কী ভীষণ সতেজ! তার চওড়া কাঁধ আর সুঠাম চেহারার দিকে তাকিয়ে সারার অবচেতন মনে একটা তুলনা ভেসে উঠল—অনিচ্ছাসত্ত্বেও। "আমার স্বামী তো একটা পুরুষ নামের কলঙ্ক ছিল, আর আব্বু... আব্বু এখনো যেন একটা বটগাছ।"
“সারা, মা আমার!
আব্বুর ব্যারিটোন গলার আওয়াজে তিশার চিন্তার সুতো ছিঁড়ল। সে দ্রুত পায়ে এগিয়ে গিয়ে আব্বুর বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ল। আব্বুর গায়ে সেই পরিচিত গন্ধ-দামী আতর আর তামাকের একটা হালকা মিশ্রণ। এই গন্ধটা ছোটবেলায় সারাকে নিরাপত্তা দিত, আর আজ এই মুহূর্তে এই গন্ধটাই তার একমাত্র আশ্রয়। "আমি খুব ক্লান্ত আব্বু... আমি হেরে গেছি,” তিশার গলা বুজে এল। কান্নাটা দলা পাকিয়ে গলায় আটকে আছে। অভিজিৎ চুলে হাত বুলিয়ে দিলেন। তার হাতের স্পর্শে একটা অদ্ভুত দৃঢ়তা আর উষ্ণতা। “তুই হারিসনি মা। তুই ফিরে এসেছিস, এটাই আসল। চল, গাড়ি রাখা আছে।" গাড়ির এসি-র ঠান্ডা বাতাসে তিশার শরীরটা জুড়িয়ে গেল, কিন্তু মনের জ্বালা কমল না। জানালার কাঁচের ওপারে কলকাতা সরে সরে যাচ্ছে। ইএম বাইপাসের দুপাশে আকাশচুম্বী আলো ঝলমলে বাড়ি, ফ্লাইওভারের নিয়ন আলো-শহরটা অনেক বদলে গেছে। কিন্তু পার্ক সার্কাসের দিকে মোড় নিতেই সেই পুরনো কলকাতা উঁকি দিল।
পুরনো আমলের বাড়ি, রাস্তার ধারের দোকান, আর ট্রামের লাইন। অভিজিৎ গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তিশা আড়চোখে বাবার দিকে তাকাল। স্টিয়ারিং ধরা আব্বুর হাতদুটো শক্ত, শিরাগুলো সামান্য ভেসে আছে। গিয়ার চেঞ্জ করার সময় তার পেশিগুলো যেভাবে নড়াচড়া করছে, তাতে এক ধরনের পৌরুষদীপ্ত ছন্দ আছে। সারা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তার স্বামী অর্ক কখনো গাড়িই চালাতে জানত না, সব সময় ড্রাইভার বা উবারের ওপর ভরসা। পৌরুষ জিনিসটা যে শুধু শরীরে নয়, আচরণেও থাকে, সেটা অর্ক কোনোদিন বোঝেনি।
“তোর মা থাকলে আজ খুব খুশি হতো, আবার খুব কাঁদতও,” অভিজিৎ নীরবতা ভাঙলেন। তার গলায় একটা চাপা হাহাকার।
তিশার মা মারা গেছেন পাঁচ বছর হলো। তারপর থেকে আব্বু একাই এই বিশাল ফ্ল্যাটে থাকেন। সারা ভেবেছিল আব্বু হয়তো ভেঙে পড়বেন, কিন্তু মানুষটা নিজেকে সামলে নিয়েছেন অদ্ভুত দক্ষতায়।
“তুমি একা খুব কষ্ট পাও, তাই না আব্বু?" সারা ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল।
অভিজিৎ সাহেব ম্লান হাসলেন। রিয়ার ভিউ মিররে মেয়ের চোখের দিকে তাকালেন। “একাকীত্ব তো মানুষের ছায়ার মতো রে মা। ওটা সঙ্গে থাকেই। কিন্তু এখন তুই এসেছিস, আর কষ্ট নেই।"
গাড়িটা যখন পার্ক সার্কাসের পুরনো বনেদী অ্যাপার্টমেন্টের নিচে এসে থামল, তখন রাত দশটা। চারপাশটা শান্ত হয়ে এসেছে। লিফটে ওঠার সময় আব্বু তিশার ভারী সুটকেসটা এক হাতেই তুলে নিলেন। সারার মনে হলো, এই মানুষটার শক্তির কোনো ক্ষয় নেই। সে শুধু মুগ্ধ হয়ে দেখল বাবার পিঠের পেশিগুলোর সংকোচন-প্রসারণ।
ফ্ল্যাটের দরজা খুলতেই একটা গুমোট নিস্তব্ধতা ওদের স্বাগত জানাল। সাড়ে তিন হাজার স্কয়ার ফিটের বিশাল ফ্ল্যাট। দামী আসবাবপত্র, ঝাড়বাতি, পারশিয়ান কার্পেট —সবই আছে, নেই শুধু মায়ের গলার আওয়াজ। কিন্তু আব্বু বাড়িটাকে অযত্নে রাখেননি। প্রতিটি জিনিস পরিপাটি করে সাজানো।
“তোর ঘরটা আমি কালই গুছিয়ে রেখেছি। যা, ফ্রেশ হয়ে নে। আমি খাবার গরম করছি,” আব্বু বললেন।
তিশা নিজের ঘরে ঢুকল। সেই একই বিছানা, সেই একই ড্রেসিং টেবিল। কিন্তু আয়নায় যে মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে, সে আর আগের তিশা নেই। তার চোখে-মুখে ক্লান্তি আর অভিজ্ঞতার ছাপ। শাড়িটা পাল্টে একটা হালকা সুতির নাইটি পরল সে। শরীরে এখন আর কোনো বাঁধন সহ্য হচ্ছে না।
ডাইনিং টেবিলে যখন সে এল, দেখল আব্বু খাবার সাজিয়ে বসে আছেন। ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত, সর্ষে ইলিশ আর কচি পাঁঠার ঝোল। গন্ধে তিশার পেটের খিদেটা মোচড় দিয়ে উঠল। গত কয়েক মাস সে ঠিকমতো খায়নি। পুনের ওই বিস্বাদ খাবার আর রোজকার অশান্তিতে তার রুচি চলে গিয়েছিল।
তিশা চেয়ারে বসল। আব্বু তার উল্টোদিকে নয়, পাশের চেয়ারে বসলেন।
“তোর হাত কাঁপছে সারা," আব্বু আলতো করে সারার ডান হাতটা ধরলেন। সারার হাত সত্যিই কাঁপছিল, দুর্বলতায় আর আবেগে।
“আমি মেখে দিচ্ছি, ঠিক ছোটবেলার মতো,” আব্বু ভাতের থালাটা নিজের কাছে টেনে নিলেন। যত্ন করে ভাত মাখলেন, ইলিশ মাছের কাঁটা বেছে আলাদা করলেন। তার দীর্ঘ, ফর্সা আঙুলগুলো যখন ভাতের সাথে মশলা মাখাচ্ছিল, তখন সারার মনে হলো এই দৃশ্যটা পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য।

