9 hours ago
লেখিকা:যোনিগন্ধা
গর্ভাধান (১)
আমি সুহানি। সুহানি বন্দ্যোপাধ্যায়।
সবাই বলে আমি নাকি খুব সুন্দরী। কথাটা যে একেবারে মিথ্যে নয়—তা আমি নিজেও জানি। আমার গায়ের রঙ দুধে আলতায় না হলেও বেশ ফর্সা আর লম্বা কালো চুল কোমর ছুঁয়ে যায়। ভারতীয় সমাজে এইটুক থাকলেই একটি মেয়েকে সুন্দর বলা হয়। আমি কলেজের করিডোরে হাঁটলে ছেলেদের চোখ আটকে যায়। ছেলেরা আমার সঙ্গে কথা বলতে বলতে চোখে চোখ পড়ে গেলে খেই হারায়। আমি সেটা টের পাই, উপভোগও করি। সব মেয়েই করে—অস্বীকার করে কী লাভ?
কেউ ফিসফিস করে বলে, “দেখ, শ্রদ্ধা কাপুরের মতো!” না-শোনার ভান করে আমি সামনে এগিয়ে যাই। কেউ আবার সাহস করে প্রস্তাব দেয়, “আজ প্লেজার হাটে?”
'প্লেজার হাট' শহরের সব চেয়ে দামি কফি শপ। আমি শুধু হাসি। এসবের সময় নেই আমার। আমার লক্ষ্য অন্য—আমি শিক্ষিকা হতে চাই। আমার বাবাও ছিলেন কলেজশিক্ষক। আমি দশ বছরের ছিলাম, যখন এক রেল দুর্ঘটনায় তিনি চলে গেলেন। তারপর থেকে মা, আমি আর ছোট ভাই রাহুলকে নিয়ে তিনজনের সংসার। পেনশনের টাকায় সংসার চলে।
বাবা মারা যাওয়ার সময় আমি সিক্সে পড়তাম, ও তখন ফোরে। সকালে নিজে তৈরি হতে হতে ওকে চান করিয়ে, জামা পরিয়ে কলেজের জন্য রেডি করতাম। রাতে পড়া বুঝিয়ে দিতাম। রাহুল আমার থেকে মাত্র দুই বছরের ছোট হলেও দুষ্টুমি করলে শাসন করতাম। ও আমাকে যেমন ভালো বাসত তেমনি ভয়ও পেত।
এখন রাহুল ইলেভেনে। সতেরো বছর বয়স। এর মধ্যেই রীতিমতো পুরুষালি চেহারা। দারুণ হ্যান্ডসাম। ফুটবল খেলতে নামলে মাঠের সব চোখ ওর দিকেই। আমার বান্ধবীরা লজ্জা লজ্জা হাসি হেসে বলে, “তোর ভাইটা কিন্তু হিরো ম্যাটেরিয়াল।”
আমি হাসি। মনে মনে অবশ্য একটা গোপন গর্ব কাজ করে।
আজ আমার বান্ধবী লুবনার দিদির বিয়ে। কলেজের কাছেই ওদের বাড়ি। ছুটির পর বান্ধবীরা সবাই মিলে যাব। রোজ কলেজে যাওয়ার সময় শুধু একটি টিপ ছাড়া আর কোনো সাজগোজ করিনা। কিন্তু আজ একটু সেজেছি। আমি ভালো খোঁপা বাঁধতে পারিনা। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ ধরে খোঁপা বাঁধার চেষ্টা করছি, রাহুল আড় চোখে দেখে বলে,“দিদি, মনে হয় আজ বিউটি কনটেস্টে যাবে।”
আমি ধমক দিই, “তুই নিজের চরকায় তেল দে।”
ও হাসে, “এত সাজুগুজু করে গেলে কিন্তু ক্লাস থেকে বের করে দেবে।"
আমি তেড়ে যাই,"তুই ভাগ এই ঘর থেকে।"
ও হাসতে হাসতে পালিয়ে যায়।
খুনসুটিতে ভরা, তর্কে-ঝগড়ায় রঙিন দিনগুলো এই ভাবে কেটে যায়।
লুবনার দিদির বিয়ের সপ্তাহ খানেক পর কলেজের ক্যান্টিনে বান্ধবীদের সঙ্গে বসে চা খাচ্ছি, প্রিয়া হাসতে হাসতে বলল,“সুহানি, কাল আবার সুমিত ছুটির পর তোর জন্য অপেক্ষা করছিল।"
আমি বললাম,"আমি তো ওকে অপেক্ষা করতে বলিনি।"
শ্রুতি ছেলেটা তোর জন্য পাগল। তুই ওকে পাত্তা দিস না কেন রে?”
আমি জানি শ্রুতি মজা করছে। সে নিজেও কম সুন্দরী নয়। তার পেছনেও অনেক ছেলের লাইন। আসলে ছেলেদের স্বভাবই মেয়েদের পেছনে লাইন দেওয়া। হেসে বললাম, “কি করি বল! ওরা সবাই একই কথা বলে। শুনতে শুনতে একঘেয়ে হয়ে গেছে। কেউ নতুন স্টাইলে কিছু বলে না।"
শ্রুতি হাসে,"ছেলেদের কথায় বিশ্বাস করি না। ওরা বলবে "তোমার ঠোঁট যেন গোলাপের পাপড়ি নরম”, আর মনে মনে ভাববে, কখন ঢুকাবে গরম?”
শ্রুতির কথায় সবাই হেসে উঠি।
রূপালী এতক্ষণ চুপ করে আমাদের কথা শুনছিল। সে মুখ ঝামটা দিয়ে বলে,"রূপ থাকলে এরকম দেমাক দেখানো যায়। আমাদের ভাই রূপও নেই, দেমাকও নেই।"
রূপালীর গায়ের রং কালো, সামনের দাঁত উঁচু বলে নিজের রূপ নিয়ে ওর মধ্যে একটা হীনমন্যতা কাজ করে। ওর কথার উত্তরে কী বলা যায় বুঝে উঠতে পারি না। তবুও ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে বলি,"কী করে তোদের বোঝাই যে আমার বিন্দুমাত্র দেমাক নেই। আমার ভালো লাগে শুধু একজনকে।"
প্রিয়া চোখ বড় করে বলল, “কে সেই ভাগ্যবান? বল না!”
আমার ক্রাশ আরিফ। আরিফ ইকবাল। কলেজের ক্রিকেট টিমের ক্যাপ্টেন। এমনিতে লাজুক কিন্তু খেলার মাঠে দুর্ধর্ষ বোলার। বল হাতে ওর ছুটে আসা দেখে মেয়েদের অর্গাজম হয়ে যায়। কিন্তু আমার ইচ্ছা আমার মনেই থাক। আমি জানি এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে আরিফ '. আর আমি * । এখনই আমি সবাইকে এসব বলতে চাই না।
বললাম,"এখন না, পরে একদিন বলব।"
শ্রুতি বলে,"কলেজেরই কেউ নাকি?"
আমি কিছু বলি না, শুধু হাসি।
প্রিয়া বলল,"ওহ মাই গড! আমি তো তোকে গুডি গুডি গার্ল ভাবতাম রে! তাহলে তোকেও ফিদা করতে পারে এমন কেউ আছে কলেজে?"
প্রিয়ার কথার উত্তর দেবার আগেই ক্যান্টিনে এসে ঢুকল সালমা।
গোটা কলেজ জানে আমি আর সালমা অন্তরঙ্গ বন্ধু। কিন্তু আমাদের দুজনের মধ্যে যে একটা অদৃশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে তা কেউ জানে না। এই অদৃশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রে আছে আরিফ। সালমা আরিফকে চায় এবং আরিফও সালমার প্রতি কিছুটা দুর্বল তা আমি জানি। কিন্তু আমি যে আরিফের প্রতি দুর্বল এটা শুধু সালমা জানে। কীভাবে জানে আমি জানি না তবে ওর হাবেভাবে বুঝতে পারি ও জানে। তবে আমার মনের ইচ্ছা আমি মনেই রেখেছি। কাউকে কিছু বলিনি, আরিফকেও না।
সালমা লুবনাদের পাড়াতেই থাকে। দিদির বিয়ের পর থেকে লুবনা আসছে না। সালমাকে দেখে শ্রুতি ডাকে,"এই সালমা! আয় আয়, কোথায় ছিলি এতদিন? লুবনা কই? ওর দিদির বিয়ের পর তো কলেজেই আসছে না!"
সালমা ব্যাগ নামিয়ে বসতে বসতে বলে,"আর বলিস না। লুবনা তো এখন বাসায়ই আটকে আছে।"
প্রিয়া চোখ বড় করে বলে,"কী হয়েছে? অসুস্থ নাকি?"
সালমা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে,"না, ও নিজে না। ওর দিদি শবনম আপা... খুব খারাপ অবস্থা।"
শ্রুতি চায়ের কাপ নামিয়ে উদ্বিগ্ন চোখে তাকায়,"কী হয়েছে আপার? বিয়ের দিন তো ভালোই ছিল!"
সালমা গলা নামিয়ে বলে,"হ্যাঁ...বাসর রাতের কথা। দোলাভাই... মানে জামাইয়ের সাথে... যখন ফার্স্ট টাইম... তখন অনেক রক্তপাত হয়ে গেছে।,"
শ্রুতি চোখ কপালে তুলে বলে,"ও মাই গড? এতটা!সবাই তো একটু-আধটু ব্যথা পায়, কান্না করে... কিন্তু এত?
সালমা মাথা নাড়ে,"শবনম আপা তো কাঁদছিলই, বলছিল ব্যথা করছে, থামতে। কিন্তু দোলাভাই... ছাড়েনি। ভেবেছে মেয়েরা প্রথমবার এমনই করে। শেষে রক্ত বন্ধই হচ্ছিল না। হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছে। সেলাই দিতে হয়েছে... ভেতরে।
পুরুষ মানুষ বাসর রাতে ওটা ঢুকাবে এটা প্রকৃতির নিয়ম। প্রথমবার ঢুকলে ব্যথা করবে এটাও প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু লুবনার দোলা ভাইয়ের জিনিসটা নিশ্চয়ই অস্বাভাবিক রকমের বড়, না হলে এরকম হবার কথা নয়। আমার মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে,"হে ভগবান! এখন কেমন আছে?"
সালমা গম্ভীর মুখে বলে,"হ্যাঁ। রক্ত বন্ধ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তারপর থেকে আপার অবস্থা একদম ঠিক নেই। মাঝে মাঝে হঠাৎ ঘাম ছুটে যায়, বুক ধড়ফড় করে, মাথা ঘোরে। ডাক্তার বলেছে ট্রমা আর শকের পরে এমন হয়। মানসিক চাপও আছে।"
শ্রুতি ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করে,"আর লুবনা?"
সালমা কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলে,"দোলাভাই নিজেই লুবনাকে নিয়ে গেছে। বলেছে শবনম আপাকে দেখাশোনা করতে।"
সবাই বলে আমি নাকি খুব সুন্দরী। কথাটা যে একেবারে মিথ্যে নয়—তা আমি নিজেও জানি। আমার গায়ের রঙ দুধে আলতায় না হলেও বেশ ফর্সা আর লম্বা কালো চুল কোমর ছুঁয়ে যায়। ভারতীয় সমাজে এইটুক থাকলেই একটি মেয়েকে সুন্দর বলা হয়। আমি কলেজের করিডোরে হাঁটলে ছেলেদের চোখ আটকে যায়। ছেলেরা আমার সঙ্গে কথা বলতে বলতে চোখে চোখ পড়ে গেলে খেই হারায়। আমি সেটা টের পাই, উপভোগও করি। সব মেয়েই করে—অস্বীকার করে কী লাভ?
কেউ ফিসফিস করে বলে, “দেখ, শ্রদ্ধা কাপুরের মতো!” না-শোনার ভান করে আমি সামনে এগিয়ে যাই। কেউ আবার সাহস করে প্রস্তাব দেয়, “আজ প্লেজার হাটে?”
'প্লেজার হাট' শহরের সব চেয়ে দামি কফি শপ। আমি শুধু হাসি। এসবের সময় নেই আমার। আমার লক্ষ্য অন্য—আমি শিক্ষিকা হতে চাই। আমার বাবাও ছিলেন কলেজশিক্ষক। আমি দশ বছরের ছিলাম, যখন এক রেল দুর্ঘটনায় তিনি চলে গেলেন। তারপর থেকে মা, আমি আর ছোট ভাই রাহুলকে নিয়ে তিনজনের সংসার। পেনশনের টাকায় সংসার চলে।
বাবা মারা যাওয়ার সময় আমি সিক্সে পড়তাম, ও তখন ফোরে। সকালে নিজে তৈরি হতে হতে ওকে চান করিয়ে, জামা পরিয়ে কলেজের জন্য রেডি করতাম। রাতে পড়া বুঝিয়ে দিতাম। রাহুল আমার থেকে মাত্র দুই বছরের ছোট হলেও দুষ্টুমি করলে শাসন করতাম। ও আমাকে যেমন ভালো বাসত তেমনি ভয়ও পেত।
এখন রাহুল ইলেভেনে। সতেরো বছর বয়স। এর মধ্যেই রীতিমতো পুরুষালি চেহারা। দারুণ হ্যান্ডসাম। ফুটবল খেলতে নামলে মাঠের সব চোখ ওর দিকেই। আমার বান্ধবীরা লজ্জা লজ্জা হাসি হেসে বলে, “তোর ভাইটা কিন্তু হিরো ম্যাটেরিয়াল।”
আমি হাসি। মনে মনে অবশ্য একটা গোপন গর্ব কাজ করে।
আজ আমার বান্ধবী লুবনার দিদির বিয়ে। কলেজের কাছেই ওদের বাড়ি। ছুটির পর বান্ধবীরা সবাই মিলে যাব। রোজ কলেজে যাওয়ার সময় শুধু একটি টিপ ছাড়া আর কোনো সাজগোজ করিনা। কিন্তু আজ একটু সেজেছি। আমি ভালো খোঁপা বাঁধতে পারিনা। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ ধরে খোঁপা বাঁধার চেষ্টা করছি, রাহুল আড় চোখে দেখে বলে,“দিদি, মনে হয় আজ বিউটি কনটেস্টে যাবে।”
আমি ধমক দিই, “তুই নিজের চরকায় তেল দে।”
ও হাসে, “এত সাজুগুজু করে গেলে কিন্তু ক্লাস থেকে বের করে দেবে।"
আমি তেড়ে যাই,"তুই ভাগ এই ঘর থেকে।"
ও হাসতে হাসতে পালিয়ে যায়।
খুনসুটিতে ভরা, তর্কে-ঝগড়ায় রঙিন দিনগুলো এই ভাবে কেটে যায়।
লুবনার দিদির বিয়ের সপ্তাহ খানেক পর কলেজের ক্যান্টিনে বান্ধবীদের সঙ্গে বসে চা খাচ্ছি, প্রিয়া হাসতে হাসতে বলল,“সুহানি, কাল আবার সুমিত ছুটির পর তোর জন্য অপেক্ষা করছিল।"
আমি বললাম,"আমি তো ওকে অপেক্ষা করতে বলিনি।"
শ্রুতি ছেলেটা তোর জন্য পাগল। তুই ওকে পাত্তা দিস না কেন রে?”
আমি জানি শ্রুতি মজা করছে। সে নিজেও কম সুন্দরী নয়। তার পেছনেও অনেক ছেলের লাইন। আসলে ছেলেদের স্বভাবই মেয়েদের পেছনে লাইন দেওয়া। হেসে বললাম, “কি করি বল! ওরা সবাই একই কথা বলে। শুনতে শুনতে একঘেয়ে হয়ে গেছে। কেউ নতুন স্টাইলে কিছু বলে না।"
শ্রুতি হাসে,"ছেলেদের কথায় বিশ্বাস করি না। ওরা বলবে "তোমার ঠোঁট যেন গোলাপের পাপড়ি নরম”, আর মনে মনে ভাববে, কখন ঢুকাবে গরম?”
শ্রুতির কথায় সবাই হেসে উঠি।
রূপালী এতক্ষণ চুপ করে আমাদের কথা শুনছিল। সে মুখ ঝামটা দিয়ে বলে,"রূপ থাকলে এরকম দেমাক দেখানো যায়। আমাদের ভাই রূপও নেই, দেমাকও নেই।"
রূপালীর গায়ের রং কালো, সামনের দাঁত উঁচু বলে নিজের রূপ নিয়ে ওর মধ্যে একটা হীনমন্যতা কাজ করে। ওর কথার উত্তরে কী বলা যায় বুঝে উঠতে পারি না। তবুও ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে বলি,"কী করে তোদের বোঝাই যে আমার বিন্দুমাত্র দেমাক নেই। আমার ভালো লাগে শুধু একজনকে।"
প্রিয়া চোখ বড় করে বলল, “কে সেই ভাগ্যবান? বল না!”
আমার ক্রাশ আরিফ। আরিফ ইকবাল। কলেজের ক্রিকেট টিমের ক্যাপ্টেন। এমনিতে লাজুক কিন্তু খেলার মাঠে দুর্ধর্ষ বোলার। বল হাতে ওর ছুটে আসা দেখে মেয়েদের অর্গাজম হয়ে যায়। কিন্তু আমার ইচ্ছা আমার মনেই থাক। আমি জানি এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে আরিফ '. আর আমি * । এখনই আমি সবাইকে এসব বলতে চাই না।
বললাম,"এখন না, পরে একদিন বলব।"
শ্রুতি বলে,"কলেজেরই কেউ নাকি?"
আমি কিছু বলি না, শুধু হাসি।
প্রিয়া বলল,"ওহ মাই গড! আমি তো তোকে গুডি গুডি গার্ল ভাবতাম রে! তাহলে তোকেও ফিদা করতে পারে এমন কেউ আছে কলেজে?"
প্রিয়ার কথার উত্তর দেবার আগেই ক্যান্টিনে এসে ঢুকল সালমা।
গোটা কলেজ জানে আমি আর সালমা অন্তরঙ্গ বন্ধু। কিন্তু আমাদের দুজনের মধ্যে যে একটা অদৃশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে তা কেউ জানে না। এই অদৃশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রে আছে আরিফ। সালমা আরিফকে চায় এবং আরিফও সালমার প্রতি কিছুটা দুর্বল তা আমি জানি। কিন্তু আমি যে আরিফের প্রতি দুর্বল এটা শুধু সালমা জানে। কীভাবে জানে আমি জানি না তবে ওর হাবেভাবে বুঝতে পারি ও জানে। তবে আমার মনের ইচ্ছা আমি মনেই রেখেছি। কাউকে কিছু বলিনি, আরিফকেও না।
সালমা লুবনাদের পাড়াতেই থাকে। দিদির বিয়ের পর থেকে লুবনা আসছে না। সালমাকে দেখে শ্রুতি ডাকে,"এই সালমা! আয় আয়, কোথায় ছিলি এতদিন? লুবনা কই? ওর দিদির বিয়ের পর তো কলেজেই আসছে না!"
সালমা ব্যাগ নামিয়ে বসতে বসতে বলে,"আর বলিস না। লুবনা তো এখন বাসায়ই আটকে আছে।"
প্রিয়া চোখ বড় করে বলে,"কী হয়েছে? অসুস্থ নাকি?"
সালমা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে,"না, ও নিজে না। ওর দিদি শবনম আপা... খুব খারাপ অবস্থা।"
শ্রুতি চায়ের কাপ নামিয়ে উদ্বিগ্ন চোখে তাকায়,"কী হয়েছে আপার? বিয়ের দিন তো ভালোই ছিল!"
সালমা গলা নামিয়ে বলে,"হ্যাঁ...বাসর রাতের কথা। দোলাভাই... মানে জামাইয়ের সাথে... যখন ফার্স্ট টাইম... তখন অনেক রক্তপাত হয়ে গেছে।,"
শ্রুতি চোখ কপালে তুলে বলে,"ও মাই গড? এতটা!সবাই তো একটু-আধটু ব্যথা পায়, কান্না করে... কিন্তু এত?
সালমা মাথা নাড়ে,"শবনম আপা তো কাঁদছিলই, বলছিল ব্যথা করছে, থামতে। কিন্তু দোলাভাই... ছাড়েনি। ভেবেছে মেয়েরা প্রথমবার এমনই করে। শেষে রক্ত বন্ধই হচ্ছিল না। হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছে। সেলাই দিতে হয়েছে... ভেতরে।
পুরুষ মানুষ বাসর রাতে ওটা ঢুকাবে এটা প্রকৃতির নিয়ম। প্রথমবার ঢুকলে ব্যথা করবে এটাও প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু লুবনার দোলা ভাইয়ের জিনিসটা নিশ্চয়ই অস্বাভাবিক রকমের বড়, না হলে এরকম হবার কথা নয়। আমার মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে,"হে ভগবান! এখন কেমন আছে?"
সালমা গম্ভীর মুখে বলে,"হ্যাঁ। রক্ত বন্ধ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তারপর থেকে আপার অবস্থা একদম ঠিক নেই। মাঝে মাঝে হঠাৎ ঘাম ছুটে যায়, বুক ধড়ফড় করে, মাথা ঘোরে। ডাক্তার বলেছে ট্রমা আর শকের পরে এমন হয়। মানসিক চাপও আছে।"
শ্রুতি ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করে,"আর লুবনা?"
সালমা কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলে,"দোলাভাই নিজেই লুবনাকে নিয়ে গেছে। বলেছে শবনম আপাকে দেখাশোনা করতে।"

