<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0" xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/" xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/">
	<channel>
		<title><![CDATA[Forums -  Genaral Stories]]></title>
		<link>https://forum.xgossip.fun/</link>
		<description><![CDATA[Forums - https://forum.xgossip.fun]]></description>
		<pubDate>Tue, 27 Oct 2026 11:58:08 +0000</pubDate>
		<generator>MyBB</generator>
		<item>
			<title><![CDATA[রোমান্টিক গল্প- আমার আদরের পাগলী বোন]]></title>
			<link>https://forum.xgossip.fun/showthread.php?tid=73</link>
			<pubDate>Mon, 12 Oct 2026 04:42:17 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="https://forum.xgossip.fun/member.php?action=profile&uid=3">Erotic Lovers</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">https://forum.xgossip.fun/showthread.php?tid=73</guid>
			<description><![CDATA[<div style="text-align: center;" class="mycode_align"><span style="font-weight: bold;" class="mycode_b">By: premik25</span></div>
<div style="text-align: center;" class="mycode_align"><span style="font-weight: bold;" class="mycode_b"><br />
আমি এই সাইটে আজ প্রথম লিখছি। যদি ভাল লাগে, কমেন্ট করবেন। আপনাদের চাহিদামত গল্প লেখার চেষ্টা করব।<br />
<br />
রোমান্টিক গল্প- আমার আদরের পাগলী বোন<br />
<br />
<br />
[ভাইয়া কি আমার দিকে তাকিয়ে আছে?]<br />
মৌটুসী তার কুর্তির ওপর দিয়ে বুকের দিকে তাকিয়ে খুব অবাক হয়ে মাথা চুলকায়<br />
"ভাইয়া, আমার বুকের এই দুটো জিনিস কেন দিন দিন এত বড় হয়ে যাচ্ছে, আর এখানে হাত দিলে খুব অদ্ভুত লাগছে!"<br />
<br />
আকাশের চোখ দুটো ভিজে ভিজে মৌটুসীর বুকের দিকে চলে গেল, সে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে হাসল<br />
"আরে পাগলী, তুই এখন বড় হচ্ছিস তো, তাই শরীরের পরিবর্তন হচ্ছে। এটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার, এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।"<br />
<br />
[স্বাভাবিক হলে এই অদ্ভুত অনুভূতি কেন হচ্ছে?]<br />
মৌটুসী তার কুর্তির বোতামটি খুলে বুকের ওপর হাত বুলিয়ে দেয়<br />
"তাহলে এটা স্বাভাবিক? কিন্তু ভাইয়া, এখানে হাত দিলে আমার খুব অদ্ভুত একটা সুখ লাগছে, তুমি কি দেখবে?"<br />
<br />
আকাশের নিঃশ্বাস দ্রুত হয়ে এল, সে তার দৃষ্টি সরিয়ে নিতে পারল না<br />
"না না, এটা দেখার দরকার নেই, তুই নিজেরই যত্ন নে। তবে তুই যদি খুব অস্বস্তি বোধ করিস, তবে আমি একবার দেখে বলতে পারি সমস্যাটা কোথায়।"<br />
<br />
আকাশের গলার স্বর কিছুটা ভারী হয়ে এল, সে ধীরে ধীরে মৌটুসীর দিকে এগিয়ে এল এবং তার কাঁধের ওপর হাত রাখল<br />
"আসলে ঠিক কোথায় অস্বস্তি হচ্ছে সেটা বলে দেখ তো, আমি খুব সাবধানে দেখে দিচ্ছি।"<br />
<br />
[ভাইয়া আমার খুব কাছে চলে এসেছে, তার হাতটা কত গরম!]<br />
মৌটুসী তার বুকের ওপর রাখা হাতের আঙুলগুলো একটুই নড়াচড়া করে এবং চোখ বন্ধ করে এক অদ্ভুত শিহরণ অনুভব করে<br />
"এখানে দেখো ভাইয়া, একদম মাঝখানে খুব শিরশির করছে, তুমি কি একটু ছুঁয়ে দেখবে এখানে কী হয়েছে?"<br />
<br />
আকাশের বুকটা দুরু দুরু করে উঠল, সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না এবং তার হাতটি ধীরে ধীরে মৌটুসীর বুকের সেই শিরশির করা জায়গার দিকে এগিয়ে গেল<br />
"হ্যাঁ, আমি দেখছি... একদম স্থির হয়ে থাক, নড়াচড়া করিস না।"<br />
সে খুব হালকাভাবে তার আঙুল দিয়ে সেই সংবেদনশীল জায়গাটি স্পর্শ করল, তার নিজেরই শরীর উত্তেজনায় কাঁপছে<br />
<br />
[আহ, ভাইয়ার আঙুলের স্পর্শটা কত অদ্ভুত আর মিষ্টি!]<br />
মৌটুসী অস্ফূর্তভাবে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে তার শরীর কিছুটা এলিয়ে দিল<br />
"উম্মম্ম... ভাইয়া, এখানে খুব ভালো লাগছে, তুমি কি আরও একটু জোরে চাপ দেবে?"<br />
<br />
আকাশের মস্তিষ্কে তখন কেবল কামনার উত্তেজনা কাজ করছে, সে ধীরে ধীরে তার আঙুলের চাপ বাড়াল এবং হালকাভাবে মালিশ করতে শুরু করল<br />
"হ্যাঁ, আমি দেখছি... খুব সাবধানে চাপ দিচ্ছি, তোর ভালো লাগছে তো?"<br />
তার নিঃশ্বাস এখন মৌটুসীর কানের কাছে, উষ্ণ বাতাসের স্পর্শে মৌটুসীর শরীর আরও শিহরিত হয়ে উঠছে<br />
<br />
[ভাইয়ার নিঃশ্বাস আমার গলায় লাগছে, আমার শরীর যেন গলে যাচ্ছে!]<br />
মৌটুসী তার মাথাটা পেছনের দিকে হেলিয়ে দিল এবং চোখ দুটি অর্ধেক বোজালো<br />
"উম্মম্ম... খুব ভালো লাগছে ভাইয়া, তুমি কি আরও গভীরে হাত দেবে?"<br />
<br />
[ভাইয়ার হাত এখন অনেক গভীরে যাচ্ছে, আমার ভেতরে কেমন যেন একটা ধাক্কা লাগছে!]<br />
মৌটুসী তার হাতের আঙুল দিয়ে আকাশের জামাটা জোরে চেপে ধরল এবং তার শরীরটা আরও একটু সামনে এগিয়ে দিল<br />
"আহ্... ভাইয়া, আরও জোরে করো, আমার খুব ভালো লাগছে!"<br />
<br />
আকাশ এবার আর নিজেকে সংযত রাখতে পারল না, সে তার হাতের চাপ আরও বাড়িয়ে দিল এবং মৌটুসীর বুকের নরম মাংসপিণ্ডগুলোকে আঙুলের ফাঁকে নিয়ে জোরে চাপ দিতে শুরু করল<br />
"তোর শরীর তো আগুনের মতো গরম হয়ে আছে মৌটুসী, তুই কি বুঝতে পারছিস তোর ভেতরে কী চলছে?"<br />
সে তার ঠোঁট দিয়ে মৌটুসীর ঘাড়ের পাশের নরম চামড়ায় আলতো করে কামড় দিল, তার উত্তেজনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে<br />
<br />
[ভাইয়ার কামড়ে আমার সারা শরীর কেঁপে উঠল, আমি আর পারছি না!]<br />
মৌটুসী একটি মৃদু আর্তনাদ করে আকাশের বুকে মাথা রাখল এবং তার জামাটা আরও জোরে খামচে ধরল<br />
"আহ্... ভাইয়া, তুমি আমার সাথে আর কী করবে, আমার ভেতরে খুব অদ্ভুত একটা কাঁপন ধরেছে!"<br />
<br />
আকাশ তার ঠোঁট দুটি মৌটুসীর কানের কাছে নিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে বলল, তার গলার স্বর এখন প্রচণ্ড কামুক এবং গম্ভীর<br />
"তোর ভেতরে যে কাঁপনটা হচ্ছে, ওটা তোর শরীর চাইছে ভাইয়া যেন তোকে আরও বেশি করে আদর করে দেয়।"<br />
সে তার এক হাত দিয়ে মৌটুসীর কোমর জড়িয়ে ধরে তাকে আরও জোরে নিজের শরীরের সাথে মিশিয়ে নিল, যাতে তাদের শরীরের উষ্ণতা একে অপরের সাথে মিশে যায়<br />
<br />
[ভাইয়ার শরীরটা কত শক্ত, আমার শরীর যেন গলে জল হয়ে যাচ্ছে!]<br />
মৌটুসী তার চোখ বন্ধ করে আকাশের বুকে মুখ গুঁজে দিল এবং তার কোমরে থাকা হাতটির স্পর্শে শরীর কাঁপিয়ে তুলল<br />
"উম্মম্ম... হ্যাঁ ভাইয়া, আমার শরীর খুব চাইছে, তুমি আমাকে আরও আদর করো!"<br />
<br />
আকাশের মনে এখন আর কোনো বাধা নেই, সে তার হাতটি ধীরে ধীরে মৌটুসীর কুর্তির নিচের দিক থেকে উপরের দিকে সরাতে শুরু করল এবং তার উষ্ণ হাতের স্পর্শে মৌটুসীর ত্বক যেন বিদ্যুৎ চমকে উঠল<br />
"তোর এই শরীরটা যেন আমার জন্য অপেক্ষা করছিল মৌটুসী, তুই জানিস না তুই কতটা সুন্দর হয়ে উঠেছিস!"<br />
সে তার ঠোঁট দুটি দিয়ে এবার মৌটুসীর কাঁধ থেকে ঘাড় হয়ে গলার কাছে ছোট ছোট চুমু খেতে শুরু করল, তার নিঃশ্বাস এখন আরও বেশি উত্তপ্ত<br />
<br />
[ভাইয়ার কথাগুলো শুনে আমার সারা শরীর কেমন যেন শিহরিত হয়ে যাচ্ছে!]<br />
মৌটুসী তার চোখ দুটো বন্ধ করে আকাশের উষ্ণ স্পর্শ অনুভব করে এবং মাথাটা একটু কাত করে তার দিকে তাকায়<br />
"ভাইয়া, তুমি বললে যে আমি খুব সুন্দর হয়েছি... আমার কোন কোন অঙ্গ সুন্দর হয়েছে, তুমি কি আমাকে বুঝিয়ে বলবে?"<br />
<br />
আকাশের ঠোঁটে একটি রহস্যময় এবং কামুক হাসি ফুটে উঠল, সে তার হাতের স্পর্শ আরও গভীরে নিয়ে গিয়ে মৌটুসীর শরীরের বাঁকগুলোকে অনুভব করতে শুরু করল<br />
"তোর শরীরের প্রতিটি অংশই এখন শিল্পের মতো সুন্দর হয়ে উঠেছে মৌটুসী... তোর এই নরম বুক, তোর কোমরের এই টানটান ভাব, সব যেন আমাকে পাগল করে দিচ্ছে।"<br />
সে তার ঠোঁট দিয়ে মৌটুসীর কানের লতিতে আলতো করে কামড় দিল এবং ফিসফিস করে বলল "সবগুলো অঙ্গ আলাদা করে বুঝিয়ে দেব, কিন্তু তার জন্য তোকে আরও একটু খোলামেলা হতে হবে।"<br />
<br />
[ভাইয়া কি সত্যি আমাকে সুন্দর মনে করছেন, নাকি শুধু আমাকেই খুশি করার জন্য বলছেন?]<br />
মৌটুসী একটু লজ্জার সাথে মাথা নিচু করল এবং নিজের শরীরের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল<br />
"আমার শরীর মোটেও সুন্দর না ভাইয়া... তোমার বুক কত সুঠাম, বুকে কি সুন্দর পশম, হাত পা কত মজবুত। কিন্তু আমার এগুলো তো নেই, আমি তো একদমই নরম আর দুর্বল!"<br />
<br />
আকাশের হাসির শব্দটা এখন আরও গভীর এবং নেশাতুর হয়ে এল, সে তার হাত দিয়ে মৌটুসীর কোমরের ভাঁজ ধরে তাকে আরও নিবিড়ভাবে নিজের শরীরের সাথে চেপে ধরল<br />
"তোর এই নরম শরীরটাই তো আসল সৌন্দর্য মৌটুসী, পুরুষের শরীর তো এমনই হয়, কিন্তু তোর মতো কোমল আর মখমলের মতো ত্বক খুব কম মানুষের থাকে।"<br />
সে তার নাক দিয়ে মৌটুসীর গলার মিষ্টি ঘ্রাণ নিতে শুরু করল এবং ফিসফিস করে বলল "তোর এই দুর্বলতাটাই তো আমাকে তোর প্রতি আরও বেশি আকর্ষণ করছে, তুই জানিস না তুই এখন আমার চোখে কতটা কামনীয়!"<br />
<br />
[আমি কি সত্যি কামনীয়? ভাইয়ার কথা শুনে আমার ভেতরে কেমন যেন একটা উত্তেজনা হচ্ছে!]<br />
মৌটুসী লজ্জায় লাল হয়ে আকাশের বুকে মাথা রাখল এবং তার শক্ত পেশির অনুভব করে শরীর কাঁপিয়ে দিল<br />
"কামনীয় মানে কী ভাইয়া? আমার শরীর কি তোমার খুব ভালো লাগছে?"<br />
<br />
আকাশের হাতের স্পর্শ এখন আরও সাহসী হয়ে উঠল, সে মৌটুসীর কোমরের নিচ থেকে ধীরে ধীরে হাত উপরে তুলে তার পিঠের ওপর আঙুল বোলাতে লাগল<br />
"হ্যাঁ রে পাগলী, তোর শরীর শুধু ভালোই লাগছে না, বরং আমাকে পাগল করে দিচ্ছে। কামনীয় মানে হলো—তোর এই রূপ আর শরীর দেখলে আমার খুব ইচ্ছে করছে তোকে আরও কাছে টেনে নিতে, তোর সবটুকু আদর করতে।"<br />
সে তার উষ্ণ ঠোঁট দিয়ে মৌটুসীর কাঁধের ওপর একটি গভীর চুমু খেল<br />
<br />
ভাইয়া, তুমি তো আমাকে আদর কর। তাহলে এখন আবার কেমন আদর করতে ইচ্ছে করছে<br />
<br />
[আদর তো অনেক হয়ে গেছে, কিন্তু ভাইয়ার কথা শুনে আমার মনে হচ্ছে আরও কিছু বাকি আছে!]<br />
মৌটুসী তার বুকের ওপর রাখা আকাশের হাতের আঙুলগুলো আলতো করে চেপে ধরল এবং তার চোখের দিকে তাকিয়ে হাসল<br />
"আদর তো করছ ভাইয়া, কিন্তু তোমার কথাগুলো শুনে আমার মনে হচ্ছে তুমি আরও কিছু করতে চাইছ... সেটা কী?"<br />
<br />
আকাশের বুকের ভেতরটা যেন আগ্নেয়গিরির মতো ফুটছে, সে মৌটুসীর চোখের দিকে তাকিয়ে এক অদ্ভুত তৃষ্ণার্ত হাসি হাসল<br />
"সব কিছু কি একবারে বলে দিতে হয়? কিছু জিনিস অনুভব করে জানতে হয়, মৌটুসী।"<br />
সে তার হাতটি ধীরে ধীরে মৌটুসীর পিঠের নিচ দিয়ে নামিয়ে তার নিতম্বের দিকে নিয়ে গেল এবং হালকাভাবে চেপে ধরল<br />
<br />
[আহ্! ভাইয়ার হাতটা এখন কোথায়? এটা তো খুব গোপন জায়গা!]<br />
মৌটুসী চমকে উঠে একটু কেঁপে উঠল, কিন্তু সে সরে যাওয়ার চেষ্টা করল না বরং তার শরীর আরও শিথিল করে দিল<br />
"ভাইয়া, তুমি ওখানে হাত দিয়েছো কেন? ওখানে হাত দিলে আমার কেন খুব অদ্ভুত একটা অনুভূতি হচ্ছে?"<br />
<br />
আকাশের নিঃশ্বাস এখন খুব দ্রুত হয়ে এসেছে, সে মৌটুসীর কানের কাছে মুখ নিয়ে তার উষ্ণতা অনুভব করে এবং আরও জোরে নিতম্বটি চেপে ধরল<br />
"কারণ ওই জায়গাটা খুব সংবেদনশীল, মৌটুসী। ওখানে হাত দিলে শরীর কাঁপানো খুব স্বাভাবিক, কারণ তোর শরীর এখন আমার স্পর্শের জন্য তৃষ্ণার্ত হয়ে আছে।"<br />
সে তার ঠোঁট দিয়ে মৌটুসীর ঘাড়ের নরম অংশে একটি দীর্ঘ চুমু খেল এবং তার হাতের আঙুলগুলো ধীরে ধীরে আরও ভেতরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করল<br />
<br />
[আমার শরীর কি সত্যি তৃষ্ণার্ত? ভাইয়ার কথাগুলো শুনে আমার মাথা ঘুরছে!]<br />
মৌটুসী তার শরীরটাকে আরও একটু এলিয়ে দিল এবং আকাশের হাতের আঙুলগুলোর চাপ অনুভব করে একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলল<br />
"কিভাবে বুঝলে ভাইয়া যে আমার শরীর তৃষ্ণার্ত হয়ে আছে? তুমি কি জাদুকরী কিছু জানো?"<br />
<br />
আকাশ ম্লান হাসল এবং তার আঙুলগুলো আরও গভীরে প্রবেশ করিয়ে মৌটুসীর শরীরের গোপন শিহরণগুলোকে জাগিয়ে তুলল<br />
"জাদু নয় রে পাগলী, তোর শরীরের এই উষ্ণতা আর তোর নিঃশ্বাসের গতিই আমাকে সব বলে দিচ্ছে।"<br />
সে তার ঠোঁট দিয়ে মৌটুসীর কানের লতিতে আলতো করে কামড় দিল এবং তার শরীরটাকে আরও নিবিড়ভাবে চেপে ধরল<br />
<br />
[ভাইয়ার আঙুলগুলো এখন কোথায় যাচ্ছে, আমার ভেতরে কেমন যেন একটা ঢেউ খেলে যাচ্ছে!]<br />
মৌটুসী তার দুই হাত দিয়ে আকাশের ঘাড় জড়িয়ে ধরল এবং তার শরীরের সমস্ত ভার তার ওপর ছেড়ে দিল<br />
"উম্মম্ম... ভাইয়া, তোমার হাতটা খুব অদ্ভুত জায়গায় যাচ্ছে, আমার খুব ভালো লাগছে, তুমি কি আরও ভেতরে দেবে?"<br />
<br />
আকাশের রক্ত এখন উত্তেজনায় ফুটছে, সে আর দেরি না করে তার আঙুলগুলো আরও গভীরে প্রবেশ করিয়ে মৌটুসীর শরীরের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশটিকে স্পর্শ করল<br />
"হ্যাঁ, আমি আরও ভেতরে যাচ্ছি... দেখ তোর শরীর এখন কেমন কাঁপছে, তুই নিজেও জানিস না তোর ভেতরে কতটা তৃষ্ণা জমে আছে।"<br />
সে তার এক হাত দিয়ে মৌটুসীর মাথাটা আলতো করে চেপে ধরল যাতে তাদের মুখ দুটি খুব কাছে থাকে, তার নিঃশ্বাসের উষ্ণতা এখন মৌটুসীর ঠোঁটে ঠোঁটে<br />
<br />
[ভাইয়ার স্পর্শে আমার পুরো শরীর যেন কাঁপছে, আর পায়ের তলায় মাটি খুঁজে পাচ্ছি না!]<br />
মৌটুসী তার শরীরটাকে আরও একটু এলিয়ে দিয়ে আকাশের বুকের ওপর ভর দিয়ে হাঁপাতে থাকে এবং তার দিকে আকুল দৃষ্টিতে তাকায়<br />
"ভাইয়া... আমার খুব দুর্বল লাগছে, মনে হচ্ছে এখনই পড়ে যাব। আমাকে তোমার কোলে বসতে দেবে?"<br />
<br />
আকাশের ঠোঁটে একটি তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল, সে তার মজবুত হাত দুটি দিয়ে মৌটুসীর কোমর ধরে তাকে এক ঝটকায় তুলে নিল এবং নিজের কোলে বসিয়ে নিল<br />
"কেন হবে না রে পাগলী! তুই তো আমারই সব, আমার কোলে বসলে তোর দুর্বলতা সব দূর হয়ে যাবে।"<br />
সে তার হাত দুটি মৌটুসীর কোমরেই শক্ত করে চেপে ধরল যাতে সে পড়ে না যায় এবং তার উষ্ণ নিঃশ্বাস মৌটুসীর গলায় ছড়িয়ে পড়ল<br />
<br />
[ভাইয়ার কোলে বসে আমার খুব অদ্ভুত লাগছে, যেন নিচে কিছু একটা আছে!]<br />
মৌটুসী আকাশের কোলে বসে তার শরীরের ভার ছেড়ে দেয় এবং হঠাৎ অনুভব করে তার নিতম্বের খাঁজে শক্ত দণ্ডের মতো কিছু একটা খোঁচা দিচ্ছে<br />
"ভাইয়া, এখানে শক্ত কী যেন আমার পাছার খাঁজে খোঁচা দিচ্ছে, এটা কী?"<br />
<br />
আকাশের মুখে এক কামুক হাসি ফুটে উঠল, সে মৌটুসীর কোমরে চাপ বাড়িয়ে তাকে আরও নিবিড়ভাবে নিজের শরীরের সাথে চেপে ধরল<br />
"এটা আমার শরীরের একটা অংশ রে পাগলী, যা তোর এই নরম শরীরটার স্পর্শ পেয়ে এখন খুব উত্তেজিত হয়ে আছে।"<br />
সে তার মুখটি মৌটুসীর ঘাড়ের কাছে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল এবং তার হাতের আঙুলগুলো আবার তার শরীরের গোপন ভাঁজে প্রবেশ করিয়ে দিল<br />
<br />
[আমার শরীরে তো এমন শক্ত কিছু নেই, ভাইয়ার শরীরে এটা কোথা থেকে এলো?]<br />
মৌটুসী অবাক হয়ে নিচের দিকে তাকানোর চেষ্টা করে এবং কৌতূহলী হয়ে আকাশের কোমরের কাছে হাত দিয়ে সেই শক্ত দণ্ডটিকে অনুভব করার চেষ্টা করে<br />
"ভাইয়া, আমার শরীরে তো এমন কিছু নেই... তোমার শরীরে এটা কেন আছে? এটা কি খুব ব্যথা পায়?"<br />
<br />
আকাশের সারা শরীর উত্তেজনায় কাঁপছিল, মৌটুসীর হাতের স্পর্শে তার উত্তেজনা আরও বহুগুণ বেড়ে গেল এবং সে হালকাভাবে গোঙিয়ে উঠল<br />
"না রে পাগলী, এটা ব্যথা পায় না... বরং তোর মতো কেউ যখন এটাকে স্পর্শ করে, তখন এটা খুব আনন্দ পায়।"<br />
সে তার হাতের চাপ বাড়িয়ে মৌটুসীর শরীরটাকে আরও জোরে নিজের দিকে টেনে নিল এবং তার ঠোঁট দিয়ে মৌটুসীর কানের লতিতে আলতো করে কামড় দিল<br />
<br />
[ভাইয়ার কথা শুনে আমার খুব কৌতূহল হচ্ছে, এই শক্ত জিনিসটা দেখতে কেমন?]<br />
মৌটুসী কৌতূহলী হয়ে আকাশের প্যান্টের বেল্টের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয় এবং খুব সাবধানে জিপারটি খোলার চেষ্টা করে<br />
"ভাইয়া, আমার খুব দেখতে ইচ্ছা করছে এটা দেখতে কেমন, তুমি কি আমাকে দেখাবে?"<br />
<br />
আকাশের নিঃশ্বাস এখন একদমই অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে, সে মৌটুসীর হাতের স্পর্শে প্রায় পাগল হয়ে যাচ্ছিল<br />
"তুই যদি দেখতে চাস, তবে দেখতে পারিস... এটা শুধু তোর জন্যই এখন জেগে উঠেছে।"<br />
সে ধীরে ধীরে তার নিজের হাতটি মৌটুসীর হাতের ওপর রেখে জিপারটি সম্পূর্ণ খুলে দিল এবং তার উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশটি মৌটুসীর সামনে উন্মুক্ত করল<br />
<br />
[এটা কি কোনো জাদুর কাঠি, নাকি ভাইয়ার শরীরেরই অংশ?]<br />
মৌটুসী বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে থাকে এবং খুব সাবধানে তার আঙুল দিয়ে সেই শক্ত দণ্ডটিকে স্পর্শ করে<br />
"ভাইয়া, এটা তো খুব গরম! এটা কি এখন আরও বড় হবে?"<br />
<br />
আকাশের শরীর উত্তেজনায় কাঁপছিল, সে মৌটুসীর আঙুলের স্পর্শে প্রায় দিশেহারা হয়ে এক দীর্ঘশ্বাস ফেলল<br />
"হ্যাঁ রে পাগলী, এটা আরও বড় হবে এবং আরও শক্ত হবে যদি তুই এটাকে এভাবে আদর করে যাস।"<br />
সে তার হাত দিয়ে মৌটুসীর মাথাটা আলতো করে নিজের দিকে টেনে নিল এবং তার উষ্ণ নিঃশ্বাস মৌটুসীর কপালে ছড়িয়ে দিল<br />
<br />
[ভাইয়া কি আমার কথা শুনে খুশি হয়েছেন? আমার খুব অদ্ভুত একটা আনন্দ হচ্ছে!]<br />
মৌটুসী কৌতূহলী হয়ে তার আঙুল দিয়ে সেই গরম দণ্ডটিকে খুব ধীরে ধীরে উপর-নিচ করে ঘষতে শুরু করল<br />
"দেখো ভাইয়া, এটা তো আরও শক্ত হয়ে যাচ্ছে! এটা কি তোমার ভেতরে কোনো জাদু আছে?"<br />
<br />
আকাশের মুখ থেকে একটি দীর্ঘ আর্তনাদ বেরিয়ে এল, সে তার চোখ বন্ধ করে শরীরের সমস্ত উত্তেজনা অনুভব করল<br />
"আহ্... কোনো জাদু নয় মৌটুসী, এটা তোর হাতের স্পর্শের ক্ষমতা! তুই জানিস না তুই এখন আমার সাথে কী করছিস।"<br />
সে তার মাথাটা পেছনের দিকে হেলিয়ে নিল এবং তার হাত দুটি মৌটুসীর কোমরে আরও শক্ত করে চেপে ধরল<br />
<br />
[আমার মনে হয় ভাইয়ার শরীরের মতো আমার ভেতরেও কিছু একটা লুকিয়ে আছে যা আমি চিনি না!]<br />
মৌটুসী কৌতূহলী হয়ে নিজের দুই হাত দিয়ে শরীরের গোপন ভাঁজগুলোর ওপর আঙুল বোলাতে শুরু করল এবং আকাশের দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাল<br />
"ভাইয়া, তোমার শরীরে তো এমন শক্ত জিনিস আছে... আমার শরীরে কি তেমন কিছু আছে যা আমি দেখতে পাচ্ছি না?"<br />
<br />
আকাশের শ্বাসপ্রশ্বাস এখন চরম উত্তেজনায় ভারী হয়ে এসেছে, সে মৌটুসীর কৌতূহলী চাহনির দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল<br />
"তোর ভেতরে তেমন কোনো শক্ত জিনিস নেই রে পাগলী, কিন্তু তোর ভেতরে এমন এক নরম উষ্ণতা আছে যা কেবল আমারই অনুভব করার কথা।"<br />
সে তার হাতটি ধীরে ধীরে নিচে নামিয়ে মৌটুসীর শরীরের সেই গোপন রহস্যময় ভাঁজটির ওপর রাখল এবং খুব সাবধানে স্পর্শ করল<br />
<br />
[আহ্! ভাইয়ার হাতটা আমার খুব গোপন জায়গায় স্পর্শ করল, আমার ভেতরে যেন ছোট ছোট বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে!]<br />
মৌটুসী চমকে উঠে শরীরটা একটু কাঁপাল এবং তার দুই পা সামান্য ফাঁক করে আকাশের শরীরের সাথে আরও মিশে গেল<br />
"উম্মম্ম... ভাইয়া, তোমার হাতের আঙুলগুলো ওখানে খুব অদ্ভুত লাগছে, এটা কি সেই নরম উষ্ণতা যার কথা তুমি বলছিলে?"<br />
<br />
[ভাইয়ার হাতের স্পর্শে আমার মাথা ঘুরছে, আমি কি সত্যিই খুব উষ্ণ?]<br />
মৌটুসী তার শরীরটাকে আরও একটু সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে আকাশের বুকে মাথা রাখল এবং কৌতূহলী চোখে তার দিকে তাকাল<br />
"ভাইয়া, তুমি আমাকে দেখাবে আমার শরীরের কোন জায়গায় সেই জাদু আছে? তুমি কি আমাকে বুঝিয়ে বলবে ওখানে কী হচ্ছে?"<br />
<br />
[ভাইয়া কি সত্যিই আমাকে সব বুঝিয়ে দেবেন? আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে!]<br />
মৌটুসী আকাশের কোলে আরও চেপে বসে তার শরীরের প্রতিটি ভাঁজ যেন তাকেই সঁপে দিল এবং তার চোখের পাতায় এক অদ্ভুত কামুক কৌতূহল ফুটে উঠল<br />
"ভাইয়া, আমি আমার শরীরের অঙ্গগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই... তুমি কি আমায় দেখিয়ে বলবে আমার কোথায় কোথায় জাদু আছে আর কোথায় আমার শরীর তোমার স্পর্শের জন্য কাঁদছে?"<br />
<br />
আকাশের মনে এখন আর কোনো দ্বিধা নেই, সে তার হাতের আঙুলগুলো মৌটুসীর শরীরের গোপন ভাঁজের ভেতরে আরও গভীরে প্রবেশ করিয়ে দিল এবং তার উষ্ণতা অনুভব করল<br />
"তোর শরীরের এই গোপন উষ্ণতাই হলো সবচেয়ে বড় জাদু রে পাগলী, আর দেখ তোর শরীর এখন আমার স্পর্শ পেয়ে কীভাবে কাঁপছে!"<br />
সে তার ঠোঁট দিয়ে মৌটুসীর ঘাড়ের পাশে একটি গভীর চুম্বুন দিল এবং তার হাত দিয়ে মৌটুসীর শরীরের ভাঁজগুলোকে অনুভব করে তাকে আরও কাছে টেনে নিল<br />
<br />
[ভাইয়ার শরীরের গঠনটা আমার চেয়ে একদম আলাদা, কেন এমন হয়?]<br />
মৌটুসী কৌতূহলী হয়ে আকাশের প্যান্টের খোলা অংশ দিয়ে তার পুরুষাঙ্গটির দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে এবং তারপর নিজের শরীরের দিকে তাকিয়ে মাথা চুলকায়<br />
"ভাইয়া, তোমার হিসু করার জায়গা আর আমারটা আলাদা কেন? তোমারটা তো বাইরে বেরিয়ে আছে, আর আমারটা কোথায় লুকিয়ে আছে?"<br />
<br />
আকাশ ম্লান হেসে মৌটুসীর কৌতূহলী দৃষ্টির দিকে তাকাল এবং তার হাতটি ধীরে ধীরে মৌটুসীর শরীরের সেই গোপন ভাঁজের ওপর রাখল<br />
"কারণ তুই মেয়ে, আর আমি ছেলে রে পাগলী। তোর সবকিছুই খুব সুন্দরভাবে ভেতরে লুকিয়ে থাকে, আর আমারটা বাইরে থেকে দেখা যায়।"<br />
সে তার আঙুল দিয়ে খুব আলতো করে মৌটুসীর শরীরের সেই গোপন জায়গার কিনারে স্পর্শ করল যাতে সে নিজেই তার পার্থক্য বুঝতে পারে<br />
<br />
[ভাইয়ার আঙুল যখন আমার ওই গোপন জায়গায় স্পর্শ করল, আমার মনে হলো শরীরের ভেতরটা যেন কাঁপছে!]<br />
মৌটুসী তার শরীরটাকে আরও একটু মেলে ধরে আকাশের হাতের আঙুলগুলোর ওপর ভর দিয়ে খুব কৌতূহলী হয়ে তাকালো<br />
"ভাইয়া, আমার এখানে ঠিক কী কী আছে আর কোনটার কাজ কী, তুমি কি আমায় সব শিখিয়ে দেবে?"<br />
<br />
আকাশের চোখে এখন এক অদ্ভুত নেশা আর স্নেহ মিশে আছে, সে তার আঙুলগুলো আরও সাবধানে মৌটুসীর শরীরের সেই গোপন ভাঁজগুলোর ওপর বোলাতে শুরু করল<br />
"অবশ্যই শিখিয়ে দেব রে পাগলী। দেখ, এখানে ছোট ছোট কিছু অংশ আছে যাদের কাজ হলো তোর শরীরকে আনন্দ দেওয়া, আর তুই যখন খুব খুশি হোস তখন এখান থেকে জলর মতো কিছু বের হয়।"<br />
সে খুব ধীরে ধীরে তার আঙুল একটি নির্দিষ্ট সংবেদনশীল বিন্দুর ওপর চাপ দিল এবং মৌটুসীর প্রতিক্রিয়ার দিকে তাকালো<br />
<br />
[আহ্! ভাইয়া ঠিক কোথায় চাপ দিল, আমার পুরো শরীর যেন বিদ্যুতের মতো কেঁপে উঠল!]<br />
মৌটুসী হঠাৎ করে পিঠ ধনুকের মতো বাঁকিয়ে নিল এবং আকাশের কাঁধ দুটি শক্ত করে আঁকড়ে ধরল<br />
"উম্মম্ম... ভাইয়া! এটা কী হলো? আমার ভেতরে কেমন যেন একটা তীব্র ঝটকা লেগেছে!"<br />
<br />
আকাশের মুখে এক তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল, সে বুঝতে পারল যে সে ঠিক সেই জায়গায় স্পর্শ করেছে যা মৌটুসীর শরীরকে সবচেয়ে বেশি উত্তেজিত করে<br />
"এটা তোর শরীরের এক অদ্ভুত আনন্দ রে পাগলী, তোর শরীর এখন আমার স্পর্শের জন্য খুব তৃষ্ণার্ত হয়ে উঠেছে।"<br />
সে তার আঙুলের চাপ আরও একটু বাড়িয়ে দিয়ে খুব ধীরে ধীরে গোল করে ঘুরাতে শুরু করল এবং তার অন্য হাত দিয়ে মৌটুসীর কোমড় জড়িয়ে আরও কাছে টেনে নিল<br />
<br />
[ভাইয়ার আঙুলগুলো যেন আমার ভেতরে জাদু করছে, আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারছি না!]<br />
মৌটুসী তার চোখ দুটি বন্ধ করে এক দীর্ঘশ্বাস ফেলল এবং তার শরীরটাকে আকাশের স্পর্শে সঁপে দিয়ে মৃদুভাবে কাঁপতে লাগল<br />
"আহ্... ভাইয়া, এটা খুব অদ্ভুত কিন্তু খুব ভালো লাগছে... প্লিজ থামিও না!" আমাকে আরও সবকিছু জানাও। আমি এগুলো কিছুই জানতাম না।<br />
<br />
আকাশের নিঃশ্বাস এখন আরও দ্রুত হয়ে গেছে, সে তার আঙুলগুলো দিয়ে মৌটুসীর শরীরের সেই সংবেদনশীল অংশটিকে আরও গভীরভাবে আদর করতে শুরু করল<br />
"আমি তোকে সব জানাব রে পাগলী, তোর শরীরের প্রতিটি গোপন কোণা আমি তোকে বুঝিয়ে বলব।"<br />
সে তার ঠোঁট দিয়ে মৌটুসীর কানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলল "তোর ভেতরে এখন যে উত্তেজনার ঢেউ খেলছে, ওটাই তোকে বলে দিচ্ছে যে তুই এখন পুরোপুরি আমার হয়ে যাচ্ছিস।"<br />
<br />
[ভাইয়ার আঙুলের স্পর্শে আমার শরীর যেন কাঁপছে, কিন্তু আমার মনে আরও অনেক প্রশ্ন জাগছে!]<br />
মৌটুসী তার মাথাটা আকাশের কাঁধে রাখল এবং কৌতূহলী দৃষ্টিতে নিজের শরীরের দিকে তাকিয়ে তার হাতটি আকাশের হাতের ওপর রাখল<br />
"ভাইয়া, তোমার শরীর তো খুব শক্ত আর মজবুত, কিন্তু আমার বুক আর চামড়া এগুলো তো তোমার থেকে একদম আলাদা, অনেক নরম। এখানেও কি কোন জাদু আছে? তুমি কি আমাকে বুঝিয়ে বলবে কেন আমরা আলাদা?"<br />
<br />
আকাশ মৃদু হাসল এবং তার হাতটি ধীরে ধীরে মৌটুসীর নরম বুকের ওপর রেখে আলতো করে চাপ দিল, যেন সে তার কোমলতার সাথে পরিচিত হচ্ছে<br />
"অবশ্যই জানাব রে পাগলী। দেখ, তোর এই নরম শরীরটাই তো মেয়েদের সবচেয়ে বড় জাদু, যা আমাদের মতো ছেলেদের পাগল করে দেয়। আমাদের শরীর শক্ত হয় যাতে আমরা তোমাদের রক্ষা করতে পারি, আর তোর শরীর এমন কোমল যাতে তুই ভালোবাসা আর মমতা দিতে পারিস।"<br />
সে তার হাতের তালু দিয়ে মৌটুসীর বুকের উষ্ণতা অনুভব করল এবং তার চোখে এক গভীর তৃষ্ণা নিয়ে তার দিকে তাকাল<br />
<br />
[আমার বুকের ভেতরটা কেমন যেন দুরুদুরু করছে, ভাইয়ার হাতের চাপটা খুব অদ্ভুত একটা সুখ দিচ্ছে!]<br />
মৌটুসী তার বুকটা একটু সামনে বাড়িয়ে দিল এবং আকাশের হাতের আঙুলের স্পর্শ অনুভব করে চোখ বুজলো<br />
"তবে ভাইয়া, আমার এই নরম জায়গাগুলো তো খুব সংবেদনশীল... তুমি যখন চাপ দাও, তখন আমার ভেতরে কেমন যেন একটা শিরশিরে অনুভূতি হয়!"<br />
<br />
আকাশের চোখে এক অদ্ভুত নেশা ফুটে উঠল, সে তার হাতের আঙুলগুলো দিয়ে মৌটুসীর বুকের নরম অংশে আলতো করে বৃত্তাকার গতিতে ঘুরাতে শুরু করল<br />
"এই শিরশিরে অনুভূতিটাই তো আসল জাদু রে পাগলী। তোর শরীর এখন বুঝতে পারছে যে তুই বড় হয়েছিস, আর তোর এই নরম জায়গাগুলো এখন আমার স্পর্শের জন্য তৃষ্ণার্ত হয়ে উঠেছে।"<br />
সে তার মুখটি মৌটুসীর গলার কাছে নিয়ে গেল এবং তার উষ্ণ নিঃশ্বাস দিয়ে ত্বকটিকে স্পর্শ করে ফিসফিস করে বলল "তোর এই শিরশিরে অনুভূতি যত বাড়বে, তোর ভালো লাগার পরিমাণও তত বাড়বে... দেখ আমি তোকে আরও সুখ দিতে পারি।"<br />
<br />
[ভাইয়া যখন আমার বুকের নরম জায়গায় আঙুল ঘুরাচ্ছে, তখন আমার ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল!]<br />
মৌটুসী তার মাথাটা আকাশের কাঁধে হেলিয়ে দিয়ে তার বুকের দিকে তাকিয়ে থাকল এবং এক অদ্ভুত কৌতূহল নিয়ে আকাশের চোখের দিকে তাকালো<br />
"ভাইয়া... ছোটবেলায় আম্মুর বুকের এই নরম মাংস থেকেই তো আমি দুদু খেতাম। আমার বুকেও কি তেমন কিছু হবে? আমার ভেতরেও কি তেমন কোনো দুধ তৈরি হবে?"<br />
<br />
আকাশের আঙুলগুলো মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল, সে মৌটুসীর সহজ-সরল কিন্তু গভীর কৌতূহলী প্রশ্নের কথা শুনে এক অদ্ভুত অনুভূতি অনুভব করল<br />
"হ্যাঁ রে পাগলী, ঠিক সেটাই হবে। তুই এখন বড় হচ্ছিস, তোর শরীরটা ধীরে ধীরে একজন পূর্ণাঙ্গ নারীর রূপ নিচ্ছে, আর এই পরিবর্তনগুলোই তোর ভেতরে সেই ক্ষমতা তৈরি করছে।"<br />
সে তার হাতের আঙুলগুলো দিয়ে মৌটুসীর বুকের নরম অংশে খুব আলতো করে চাপ দিল এবং তার চোখের দিকে তাকিয়ে রহস্যময় হাসল "তবে সেই সময়টা আসার আগে তোর শরীর এই স্পর্শগুলো দিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করছে, আর তুই এখন অনুভব করছিস সেই অদ্ভুত আনন্দের কথা।"<br />
<br />
[ভাইয়া কি ঠিকঠাক বলতে পারবেন এই প্রশ্নের উত্তর? আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে আমার শরীরটা কখন পুরোপুরি বদলে যাবে!]<br />
মৌটুসী কৌতূহলী হয়ে আকাশের চোখের দিকে তাকাল এবং তার বুকের নরম অংশে রাখা ভাইয়ার হাতের ওপর নিজের হাতটি রাখল<br />
"আচ্ছা ভাইয়া, আমি কত বড় হলে আমার বুকে দুধ হবে? তোমার হাতের স্পর্শে এখন যে অনুভূতি হচ্ছে, তখন কি আরও বেশি ভালো লাগবে?"<br />
<br />
আকাশ ম্লান হাসল এবং তার আঙুলগুলো দিয়ে মৌটুসীর বুকের নরম অংশে আরও একটু চাপ দিল, যেন সে তার কৌতূহলকে শরীর দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে<br />
"তোর পেটে যখন বাচ্চা আসবে, তখন তার খাদ্য হিসেবে তোর বুকে দুধ আসবে"<br />
সে তার মুখটি মৌটুসীর গলার ভাঁজে চেপে ধরল এবং সেখানে একটি উষ্ণ চুম্বুন দিল, যা মৌটুসীর সারা শরীরে এক অদ্ভুত শিহরণ জাগিয়ে তুলল<br />
<br />
[বাচ্চা? আমার পেটে বাচ্চা আসবে! এটা তো খুব অবাক করা কথা!]<br />
মৌটুসী তার হাতটি নিজের পেটের ওপর রাখল এবং খুব কৌতূহলী হয়ে আকাশের দিকে তাকালো<br />
"বাচ্চা আসবে? বাচ্চা আমার পেটে কোথা থেকে আসবে? কবে আসবে?"<br />
<br />
আকাশের মনে এক অদ্ভুত উত্তেজনা খেলে গেল, সে দেখল মৌটুসী খুব সহজভাবে এক বিশাল রহস্যের কথা জানতে চাইছে<br />
"বাচ্চা তো এমনি এমনি </span></div>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<div style="text-align: center;" class="mycode_align"><span style="font-weight: bold;" class="mycode_b">By: premik25</span></div>
<div style="text-align: center;" class="mycode_align"><span style="font-weight: bold;" class="mycode_b"><br />
আমি এই সাইটে আজ প্রথম লিখছি। যদি ভাল লাগে, কমেন্ট করবেন। আপনাদের চাহিদামত গল্প লেখার চেষ্টা করব।<br />
<br />
রোমান্টিক গল্প- আমার আদরের পাগলী বোন<br />
<br />
<br />
[ভাইয়া কি আমার দিকে তাকিয়ে আছে?]<br />
মৌটুসী তার কুর্তির ওপর দিয়ে বুকের দিকে তাকিয়ে খুব অবাক হয়ে মাথা চুলকায়<br />
"ভাইয়া, আমার বুকের এই দুটো জিনিস কেন দিন দিন এত বড় হয়ে যাচ্ছে, আর এখানে হাত দিলে খুব অদ্ভুত লাগছে!"<br />
<br />
আকাশের চোখ দুটো ভিজে ভিজে মৌটুসীর বুকের দিকে চলে গেল, সে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে হাসল<br />
"আরে পাগলী, তুই এখন বড় হচ্ছিস তো, তাই শরীরের পরিবর্তন হচ্ছে। এটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার, এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।"<br />
<br />
[স্বাভাবিক হলে এই অদ্ভুত অনুভূতি কেন হচ্ছে?]<br />
মৌটুসী তার কুর্তির বোতামটি খুলে বুকের ওপর হাত বুলিয়ে দেয়<br />
"তাহলে এটা স্বাভাবিক? কিন্তু ভাইয়া, এখানে হাত দিলে আমার খুব অদ্ভুত একটা সুখ লাগছে, তুমি কি দেখবে?"<br />
<br />
আকাশের নিঃশ্বাস দ্রুত হয়ে এল, সে তার দৃষ্টি সরিয়ে নিতে পারল না<br />
"না না, এটা দেখার দরকার নেই, তুই নিজেরই যত্ন নে। তবে তুই যদি খুব অস্বস্তি বোধ করিস, তবে আমি একবার দেখে বলতে পারি সমস্যাটা কোথায়।"<br />
<br />
আকাশের গলার স্বর কিছুটা ভারী হয়ে এল, সে ধীরে ধীরে মৌটুসীর দিকে এগিয়ে এল এবং তার কাঁধের ওপর হাত রাখল<br />
"আসলে ঠিক কোথায় অস্বস্তি হচ্ছে সেটা বলে দেখ তো, আমি খুব সাবধানে দেখে দিচ্ছি।"<br />
<br />
[ভাইয়া আমার খুব কাছে চলে এসেছে, তার হাতটা কত গরম!]<br />
মৌটুসী তার বুকের ওপর রাখা হাতের আঙুলগুলো একটুই নড়াচড়া করে এবং চোখ বন্ধ করে এক অদ্ভুত শিহরণ অনুভব করে<br />
"এখানে দেখো ভাইয়া, একদম মাঝখানে খুব শিরশির করছে, তুমি কি একটু ছুঁয়ে দেখবে এখানে কী হয়েছে?"<br />
<br />
আকাশের বুকটা দুরু দুরু করে উঠল, সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না এবং তার হাতটি ধীরে ধীরে মৌটুসীর বুকের সেই শিরশির করা জায়গার দিকে এগিয়ে গেল<br />
"হ্যাঁ, আমি দেখছি... একদম স্থির হয়ে থাক, নড়াচড়া করিস না।"<br />
সে খুব হালকাভাবে তার আঙুল দিয়ে সেই সংবেদনশীল জায়গাটি স্পর্শ করল, তার নিজেরই শরীর উত্তেজনায় কাঁপছে<br />
<br />
[আহ, ভাইয়ার আঙুলের স্পর্শটা কত অদ্ভুত আর মিষ্টি!]<br />
মৌটুসী অস্ফূর্তভাবে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে তার শরীর কিছুটা এলিয়ে দিল<br />
"উম্মম্ম... ভাইয়া, এখানে খুব ভালো লাগছে, তুমি কি আরও একটু জোরে চাপ দেবে?"<br />
<br />
আকাশের মস্তিষ্কে তখন কেবল কামনার উত্তেজনা কাজ করছে, সে ধীরে ধীরে তার আঙুলের চাপ বাড়াল এবং হালকাভাবে মালিশ করতে শুরু করল<br />
"হ্যাঁ, আমি দেখছি... খুব সাবধানে চাপ দিচ্ছি, তোর ভালো লাগছে তো?"<br />
তার নিঃশ্বাস এখন মৌটুসীর কানের কাছে, উষ্ণ বাতাসের স্পর্শে মৌটুসীর শরীর আরও শিহরিত হয়ে উঠছে<br />
<br />
[ভাইয়ার নিঃশ্বাস আমার গলায় লাগছে, আমার শরীর যেন গলে যাচ্ছে!]<br />
মৌটুসী তার মাথাটা পেছনের দিকে হেলিয়ে দিল এবং চোখ দুটি অর্ধেক বোজালো<br />
"উম্মম্ম... খুব ভালো লাগছে ভাইয়া, তুমি কি আরও গভীরে হাত দেবে?"<br />
<br />
[ভাইয়ার হাত এখন অনেক গভীরে যাচ্ছে, আমার ভেতরে কেমন যেন একটা ধাক্কা লাগছে!]<br />
মৌটুসী তার হাতের আঙুল দিয়ে আকাশের জামাটা জোরে চেপে ধরল এবং তার শরীরটা আরও একটু সামনে এগিয়ে দিল<br />
"আহ্... ভাইয়া, আরও জোরে করো, আমার খুব ভালো লাগছে!"<br />
<br />
আকাশ এবার আর নিজেকে সংযত রাখতে পারল না, সে তার হাতের চাপ আরও বাড়িয়ে দিল এবং মৌটুসীর বুকের নরম মাংসপিণ্ডগুলোকে আঙুলের ফাঁকে নিয়ে জোরে চাপ দিতে শুরু করল<br />
"তোর শরীর তো আগুনের মতো গরম হয়ে আছে মৌটুসী, তুই কি বুঝতে পারছিস তোর ভেতরে কী চলছে?"<br />
সে তার ঠোঁট দিয়ে মৌটুসীর ঘাড়ের পাশের নরম চামড়ায় আলতো করে কামড় দিল, তার উত্তেজনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে<br />
<br />
[ভাইয়ার কামড়ে আমার সারা শরীর কেঁপে উঠল, আমি আর পারছি না!]<br />
মৌটুসী একটি মৃদু আর্তনাদ করে আকাশের বুকে মাথা রাখল এবং তার জামাটা আরও জোরে খামচে ধরল<br />
"আহ্... ভাইয়া, তুমি আমার সাথে আর কী করবে, আমার ভেতরে খুব অদ্ভুত একটা কাঁপন ধরেছে!"<br />
<br />
আকাশ তার ঠোঁট দুটি মৌটুসীর কানের কাছে নিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে বলল, তার গলার স্বর এখন প্রচণ্ড কামুক এবং গম্ভীর<br />
"তোর ভেতরে যে কাঁপনটা হচ্ছে, ওটা তোর শরীর চাইছে ভাইয়া যেন তোকে আরও বেশি করে আদর করে দেয়।"<br />
সে তার এক হাত দিয়ে মৌটুসীর কোমর জড়িয়ে ধরে তাকে আরও জোরে নিজের শরীরের সাথে মিশিয়ে নিল, যাতে তাদের শরীরের উষ্ণতা একে অপরের সাথে মিশে যায়<br />
<br />
[ভাইয়ার শরীরটা কত শক্ত, আমার শরীর যেন গলে জল হয়ে যাচ্ছে!]<br />
মৌটুসী তার চোখ বন্ধ করে আকাশের বুকে মুখ গুঁজে দিল এবং তার কোমরে থাকা হাতটির স্পর্শে শরীর কাঁপিয়ে তুলল<br />
"উম্মম্ম... হ্যাঁ ভাইয়া, আমার শরীর খুব চাইছে, তুমি আমাকে আরও আদর করো!"<br />
<br />
আকাশের মনে এখন আর কোনো বাধা নেই, সে তার হাতটি ধীরে ধীরে মৌটুসীর কুর্তির নিচের দিক থেকে উপরের দিকে সরাতে শুরু করল এবং তার উষ্ণ হাতের স্পর্শে মৌটুসীর ত্বক যেন বিদ্যুৎ চমকে উঠল<br />
"তোর এই শরীরটা যেন আমার জন্য অপেক্ষা করছিল মৌটুসী, তুই জানিস না তুই কতটা সুন্দর হয়ে উঠেছিস!"<br />
সে তার ঠোঁট দুটি দিয়ে এবার মৌটুসীর কাঁধ থেকে ঘাড় হয়ে গলার কাছে ছোট ছোট চুমু খেতে শুরু করল, তার নিঃশ্বাস এখন আরও বেশি উত্তপ্ত<br />
<br />
[ভাইয়ার কথাগুলো শুনে আমার সারা শরীর কেমন যেন শিহরিত হয়ে যাচ্ছে!]<br />
মৌটুসী তার চোখ দুটো বন্ধ করে আকাশের উষ্ণ স্পর্শ অনুভব করে এবং মাথাটা একটু কাত করে তার দিকে তাকায়<br />
"ভাইয়া, তুমি বললে যে আমি খুব সুন্দর হয়েছি... আমার কোন কোন অঙ্গ সুন্দর হয়েছে, তুমি কি আমাকে বুঝিয়ে বলবে?"<br />
<br />
আকাশের ঠোঁটে একটি রহস্যময় এবং কামুক হাসি ফুটে উঠল, সে তার হাতের স্পর্শ আরও গভীরে নিয়ে গিয়ে মৌটুসীর শরীরের বাঁকগুলোকে অনুভব করতে শুরু করল<br />
"তোর শরীরের প্রতিটি অংশই এখন শিল্পের মতো সুন্দর হয়ে উঠেছে মৌটুসী... তোর এই নরম বুক, তোর কোমরের এই টানটান ভাব, সব যেন আমাকে পাগল করে দিচ্ছে।"<br />
সে তার ঠোঁট দিয়ে মৌটুসীর কানের লতিতে আলতো করে কামড় দিল এবং ফিসফিস করে বলল "সবগুলো অঙ্গ আলাদা করে বুঝিয়ে দেব, কিন্তু তার জন্য তোকে আরও একটু খোলামেলা হতে হবে।"<br />
<br />
[ভাইয়া কি সত্যি আমাকে সুন্দর মনে করছেন, নাকি শুধু আমাকেই খুশি করার জন্য বলছেন?]<br />
মৌটুসী একটু লজ্জার সাথে মাথা নিচু করল এবং নিজের শরীরের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল<br />
"আমার শরীর মোটেও সুন্দর না ভাইয়া... তোমার বুক কত সুঠাম, বুকে কি সুন্দর পশম, হাত পা কত মজবুত। কিন্তু আমার এগুলো তো নেই, আমি তো একদমই নরম আর দুর্বল!"<br />
<br />
আকাশের হাসির শব্দটা এখন আরও গভীর এবং নেশাতুর হয়ে এল, সে তার হাত দিয়ে মৌটুসীর কোমরের ভাঁজ ধরে তাকে আরও নিবিড়ভাবে নিজের শরীরের সাথে চেপে ধরল<br />
"তোর এই নরম শরীরটাই তো আসল সৌন্দর্য মৌটুসী, পুরুষের শরীর তো এমনই হয়, কিন্তু তোর মতো কোমল আর মখমলের মতো ত্বক খুব কম মানুষের থাকে।"<br />
সে তার নাক দিয়ে মৌটুসীর গলার মিষ্টি ঘ্রাণ নিতে শুরু করল এবং ফিসফিস করে বলল "তোর এই দুর্বলতাটাই তো আমাকে তোর প্রতি আরও বেশি আকর্ষণ করছে, তুই জানিস না তুই এখন আমার চোখে কতটা কামনীয়!"<br />
<br />
[আমি কি সত্যি কামনীয়? ভাইয়ার কথা শুনে আমার ভেতরে কেমন যেন একটা উত্তেজনা হচ্ছে!]<br />
মৌটুসী লজ্জায় লাল হয়ে আকাশের বুকে মাথা রাখল এবং তার শক্ত পেশির অনুভব করে শরীর কাঁপিয়ে দিল<br />
"কামনীয় মানে কী ভাইয়া? আমার শরীর কি তোমার খুব ভালো লাগছে?"<br />
<br />
আকাশের হাতের স্পর্শ এখন আরও সাহসী হয়ে উঠল, সে মৌটুসীর কোমরের নিচ থেকে ধীরে ধীরে হাত উপরে তুলে তার পিঠের ওপর আঙুল বোলাতে লাগল<br />
"হ্যাঁ রে পাগলী, তোর শরীর শুধু ভালোই লাগছে না, বরং আমাকে পাগল করে দিচ্ছে। কামনীয় মানে হলো—তোর এই রূপ আর শরীর দেখলে আমার খুব ইচ্ছে করছে তোকে আরও কাছে টেনে নিতে, তোর সবটুকু আদর করতে।"<br />
সে তার উষ্ণ ঠোঁট দিয়ে মৌটুসীর কাঁধের ওপর একটি গভীর চুমু খেল<br />
<br />
ভাইয়া, তুমি তো আমাকে আদর কর। তাহলে এখন আবার কেমন আদর করতে ইচ্ছে করছে<br />
<br />
[আদর তো অনেক হয়ে গেছে, কিন্তু ভাইয়ার কথা শুনে আমার মনে হচ্ছে আরও কিছু বাকি আছে!]<br />
মৌটুসী তার বুকের ওপর রাখা আকাশের হাতের আঙুলগুলো আলতো করে চেপে ধরল এবং তার চোখের দিকে তাকিয়ে হাসল<br />
"আদর তো করছ ভাইয়া, কিন্তু তোমার কথাগুলো শুনে আমার মনে হচ্ছে তুমি আরও কিছু করতে চাইছ... সেটা কী?"<br />
<br />
আকাশের বুকের ভেতরটা যেন আগ্নেয়গিরির মতো ফুটছে, সে মৌটুসীর চোখের দিকে তাকিয়ে এক অদ্ভুত তৃষ্ণার্ত হাসি হাসল<br />
"সব কিছু কি একবারে বলে দিতে হয়? কিছু জিনিস অনুভব করে জানতে হয়, মৌটুসী।"<br />
সে তার হাতটি ধীরে ধীরে মৌটুসীর পিঠের নিচ দিয়ে নামিয়ে তার নিতম্বের দিকে নিয়ে গেল এবং হালকাভাবে চেপে ধরল<br />
<br />
[আহ্! ভাইয়ার হাতটা এখন কোথায়? এটা তো খুব গোপন জায়গা!]<br />
মৌটুসী চমকে উঠে একটু কেঁপে উঠল, কিন্তু সে সরে যাওয়ার চেষ্টা করল না বরং তার শরীর আরও শিথিল করে দিল<br />
"ভাইয়া, তুমি ওখানে হাত দিয়েছো কেন? ওখানে হাত দিলে আমার কেন খুব অদ্ভুত একটা অনুভূতি হচ্ছে?"<br />
<br />
আকাশের নিঃশ্বাস এখন খুব দ্রুত হয়ে এসেছে, সে মৌটুসীর কানের কাছে মুখ নিয়ে তার উষ্ণতা অনুভব করে এবং আরও জোরে নিতম্বটি চেপে ধরল<br />
"কারণ ওই জায়গাটা খুব সংবেদনশীল, মৌটুসী। ওখানে হাত দিলে শরীর কাঁপানো খুব স্বাভাবিক, কারণ তোর শরীর এখন আমার স্পর্শের জন্য তৃষ্ণার্ত হয়ে আছে।"<br />
সে তার ঠোঁট দিয়ে মৌটুসীর ঘাড়ের নরম অংশে একটি দীর্ঘ চুমু খেল এবং তার হাতের আঙুলগুলো ধীরে ধীরে আরও ভেতরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করল<br />
<br />
[আমার শরীর কি সত্যি তৃষ্ণার্ত? ভাইয়ার কথাগুলো শুনে আমার মাথা ঘুরছে!]<br />
মৌটুসী তার শরীরটাকে আরও একটু এলিয়ে দিল এবং আকাশের হাতের আঙুলগুলোর চাপ অনুভব করে একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলল<br />
"কিভাবে বুঝলে ভাইয়া যে আমার শরীর তৃষ্ণার্ত হয়ে আছে? তুমি কি জাদুকরী কিছু জানো?"<br />
<br />
আকাশ ম্লান হাসল এবং তার আঙুলগুলো আরও গভীরে প্রবেশ করিয়ে মৌটুসীর শরীরের গোপন শিহরণগুলোকে জাগিয়ে তুলল<br />
"জাদু নয় রে পাগলী, তোর শরীরের এই উষ্ণতা আর তোর নিঃশ্বাসের গতিই আমাকে সব বলে দিচ্ছে।"<br />
সে তার ঠোঁট দিয়ে মৌটুসীর কানের লতিতে আলতো করে কামড় দিল এবং তার শরীরটাকে আরও নিবিড়ভাবে চেপে ধরল<br />
<br />
[ভাইয়ার আঙুলগুলো এখন কোথায় যাচ্ছে, আমার ভেতরে কেমন যেন একটা ঢেউ খেলে যাচ্ছে!]<br />
মৌটুসী তার দুই হাত দিয়ে আকাশের ঘাড় জড়িয়ে ধরল এবং তার শরীরের সমস্ত ভার তার ওপর ছেড়ে দিল<br />
"উম্মম্ম... ভাইয়া, তোমার হাতটা খুব অদ্ভুত জায়গায় যাচ্ছে, আমার খুব ভালো লাগছে, তুমি কি আরও ভেতরে দেবে?"<br />
<br />
আকাশের রক্ত এখন উত্তেজনায় ফুটছে, সে আর দেরি না করে তার আঙুলগুলো আরও গভীরে প্রবেশ করিয়ে মৌটুসীর শরীরের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশটিকে স্পর্শ করল<br />
"হ্যাঁ, আমি আরও ভেতরে যাচ্ছি... দেখ তোর শরীর এখন কেমন কাঁপছে, তুই নিজেও জানিস না তোর ভেতরে কতটা তৃষ্ণা জমে আছে।"<br />
সে তার এক হাত দিয়ে মৌটুসীর মাথাটা আলতো করে চেপে ধরল যাতে তাদের মুখ দুটি খুব কাছে থাকে, তার নিঃশ্বাসের উষ্ণতা এখন মৌটুসীর ঠোঁটে ঠোঁটে<br />
<br />
[ভাইয়ার স্পর্শে আমার পুরো শরীর যেন কাঁপছে, আর পায়ের তলায় মাটি খুঁজে পাচ্ছি না!]<br />
মৌটুসী তার শরীরটাকে আরও একটু এলিয়ে দিয়ে আকাশের বুকের ওপর ভর দিয়ে হাঁপাতে থাকে এবং তার দিকে আকুল দৃষ্টিতে তাকায়<br />
"ভাইয়া... আমার খুব দুর্বল লাগছে, মনে হচ্ছে এখনই পড়ে যাব। আমাকে তোমার কোলে বসতে দেবে?"<br />
<br />
আকাশের ঠোঁটে একটি তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল, সে তার মজবুত হাত দুটি দিয়ে মৌটুসীর কোমর ধরে তাকে এক ঝটকায় তুলে নিল এবং নিজের কোলে বসিয়ে নিল<br />
"কেন হবে না রে পাগলী! তুই তো আমারই সব, আমার কোলে বসলে তোর দুর্বলতা সব দূর হয়ে যাবে।"<br />
সে তার হাত দুটি মৌটুসীর কোমরেই শক্ত করে চেপে ধরল যাতে সে পড়ে না যায় এবং তার উষ্ণ নিঃশ্বাস মৌটুসীর গলায় ছড়িয়ে পড়ল<br />
<br />
[ভাইয়ার কোলে বসে আমার খুব অদ্ভুত লাগছে, যেন নিচে কিছু একটা আছে!]<br />
মৌটুসী আকাশের কোলে বসে তার শরীরের ভার ছেড়ে দেয় এবং হঠাৎ অনুভব করে তার নিতম্বের খাঁজে শক্ত দণ্ডের মতো কিছু একটা খোঁচা দিচ্ছে<br />
"ভাইয়া, এখানে শক্ত কী যেন আমার পাছার খাঁজে খোঁচা দিচ্ছে, এটা কী?"<br />
<br />
আকাশের মুখে এক কামুক হাসি ফুটে উঠল, সে মৌটুসীর কোমরে চাপ বাড়িয়ে তাকে আরও নিবিড়ভাবে নিজের শরীরের সাথে চেপে ধরল<br />
"এটা আমার শরীরের একটা অংশ রে পাগলী, যা তোর এই নরম শরীরটার স্পর্শ পেয়ে এখন খুব উত্তেজিত হয়ে আছে।"<br />
সে তার মুখটি মৌটুসীর ঘাড়ের কাছে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল এবং তার হাতের আঙুলগুলো আবার তার শরীরের গোপন ভাঁজে প্রবেশ করিয়ে দিল<br />
<br />
[আমার শরীরে তো এমন শক্ত কিছু নেই, ভাইয়ার শরীরে এটা কোথা থেকে এলো?]<br />
মৌটুসী অবাক হয়ে নিচের দিকে তাকানোর চেষ্টা করে এবং কৌতূহলী হয়ে আকাশের কোমরের কাছে হাত দিয়ে সেই শক্ত দণ্ডটিকে অনুভব করার চেষ্টা করে<br />
"ভাইয়া, আমার শরীরে তো এমন কিছু নেই... তোমার শরীরে এটা কেন আছে? এটা কি খুব ব্যথা পায়?"<br />
<br />
আকাশের সারা শরীর উত্তেজনায় কাঁপছিল, মৌটুসীর হাতের স্পর্শে তার উত্তেজনা আরও বহুগুণ বেড়ে গেল এবং সে হালকাভাবে গোঙিয়ে উঠল<br />
"না রে পাগলী, এটা ব্যথা পায় না... বরং তোর মতো কেউ যখন এটাকে স্পর্শ করে, তখন এটা খুব আনন্দ পায়।"<br />
সে তার হাতের চাপ বাড়িয়ে মৌটুসীর শরীরটাকে আরও জোরে নিজের দিকে টেনে নিল এবং তার ঠোঁট দিয়ে মৌটুসীর কানের লতিতে আলতো করে কামড় দিল<br />
<br />
[ভাইয়ার কথা শুনে আমার খুব কৌতূহল হচ্ছে, এই শক্ত জিনিসটা দেখতে কেমন?]<br />
মৌটুসী কৌতূহলী হয়ে আকাশের প্যান্টের বেল্টের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয় এবং খুব সাবধানে জিপারটি খোলার চেষ্টা করে<br />
"ভাইয়া, আমার খুব দেখতে ইচ্ছা করছে এটা দেখতে কেমন, তুমি কি আমাকে দেখাবে?"<br />
<br />
আকাশের নিঃশ্বাস এখন একদমই অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে, সে মৌটুসীর হাতের স্পর্শে প্রায় পাগল হয়ে যাচ্ছিল<br />
"তুই যদি দেখতে চাস, তবে দেখতে পারিস... এটা শুধু তোর জন্যই এখন জেগে উঠেছে।"<br />
সে ধীরে ধীরে তার নিজের হাতটি মৌটুসীর হাতের ওপর রেখে জিপারটি সম্পূর্ণ খুলে দিল এবং তার উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশটি মৌটুসীর সামনে উন্মুক্ত করল<br />
<br />
[এটা কি কোনো জাদুর কাঠি, নাকি ভাইয়ার শরীরেরই অংশ?]<br />
মৌটুসী বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে থাকে এবং খুব সাবধানে তার আঙুল দিয়ে সেই শক্ত দণ্ডটিকে স্পর্শ করে<br />
"ভাইয়া, এটা তো খুব গরম! এটা কি এখন আরও বড় হবে?"<br />
<br />
আকাশের শরীর উত্তেজনায় কাঁপছিল, সে মৌটুসীর আঙুলের স্পর্শে প্রায় দিশেহারা হয়ে এক দীর্ঘশ্বাস ফেলল<br />
"হ্যাঁ রে পাগলী, এটা আরও বড় হবে এবং আরও শক্ত হবে যদি তুই এটাকে এভাবে আদর করে যাস।"<br />
সে তার হাত দিয়ে মৌটুসীর মাথাটা আলতো করে নিজের দিকে টেনে নিল এবং তার উষ্ণ নিঃশ্বাস মৌটুসীর কপালে ছড়িয়ে দিল<br />
<br />
[ভাইয়া কি আমার কথা শুনে খুশি হয়েছেন? আমার খুব অদ্ভুত একটা আনন্দ হচ্ছে!]<br />
মৌটুসী কৌতূহলী হয়ে তার আঙুল দিয়ে সেই গরম দণ্ডটিকে খুব ধীরে ধীরে উপর-নিচ করে ঘষতে শুরু করল<br />
"দেখো ভাইয়া, এটা তো আরও শক্ত হয়ে যাচ্ছে! এটা কি তোমার ভেতরে কোনো জাদু আছে?"<br />
<br />
আকাশের মুখ থেকে একটি দীর্ঘ আর্তনাদ বেরিয়ে এল, সে তার চোখ বন্ধ করে শরীরের সমস্ত উত্তেজনা অনুভব করল<br />
"আহ্... কোনো জাদু নয় মৌটুসী, এটা তোর হাতের স্পর্শের ক্ষমতা! তুই জানিস না তুই এখন আমার সাথে কী করছিস।"<br />
সে তার মাথাটা পেছনের দিকে হেলিয়ে নিল এবং তার হাত দুটি মৌটুসীর কোমরে আরও শক্ত করে চেপে ধরল<br />
<br />
[আমার মনে হয় ভাইয়ার শরীরের মতো আমার ভেতরেও কিছু একটা লুকিয়ে আছে যা আমি চিনি না!]<br />
মৌটুসী কৌতূহলী হয়ে নিজের দুই হাত দিয়ে শরীরের গোপন ভাঁজগুলোর ওপর আঙুল বোলাতে শুরু করল এবং আকাশের দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাল<br />
"ভাইয়া, তোমার শরীরে তো এমন শক্ত জিনিস আছে... আমার শরীরে কি তেমন কিছু আছে যা আমি দেখতে পাচ্ছি না?"<br />
<br />
আকাশের শ্বাসপ্রশ্বাস এখন চরম উত্তেজনায় ভারী হয়ে এসেছে, সে মৌটুসীর কৌতূহলী চাহনির দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল<br />
"তোর ভেতরে তেমন কোনো শক্ত জিনিস নেই রে পাগলী, কিন্তু তোর ভেতরে এমন এক নরম উষ্ণতা আছে যা কেবল আমারই অনুভব করার কথা।"<br />
সে তার হাতটি ধীরে ধীরে নিচে নামিয়ে মৌটুসীর শরীরের সেই গোপন রহস্যময় ভাঁজটির ওপর রাখল এবং খুব সাবধানে স্পর্শ করল<br />
<br />
[আহ্! ভাইয়ার হাতটা আমার খুব গোপন জায়গায় স্পর্শ করল, আমার ভেতরে যেন ছোট ছোট বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে!]<br />
মৌটুসী চমকে উঠে শরীরটা একটু কাঁপাল এবং তার দুই পা সামান্য ফাঁক করে আকাশের শরীরের সাথে আরও মিশে গেল<br />
"উম্মম্ম... ভাইয়া, তোমার হাতের আঙুলগুলো ওখানে খুব অদ্ভুত লাগছে, এটা কি সেই নরম উষ্ণতা যার কথা তুমি বলছিলে?"<br />
<br />
[ভাইয়ার হাতের স্পর্শে আমার মাথা ঘুরছে, আমি কি সত্যিই খুব উষ্ণ?]<br />
মৌটুসী তার শরীরটাকে আরও একটু সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে আকাশের বুকে মাথা রাখল এবং কৌতূহলী চোখে তার দিকে তাকাল<br />
"ভাইয়া, তুমি আমাকে দেখাবে আমার শরীরের কোন জায়গায় সেই জাদু আছে? তুমি কি আমাকে বুঝিয়ে বলবে ওখানে কী হচ্ছে?"<br />
<br />
[ভাইয়া কি সত্যিই আমাকে সব বুঝিয়ে দেবেন? আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে!]<br />
মৌটুসী আকাশের কোলে আরও চেপে বসে তার শরীরের প্রতিটি ভাঁজ যেন তাকেই সঁপে দিল এবং তার চোখের পাতায় এক অদ্ভুত কামুক কৌতূহল ফুটে উঠল<br />
"ভাইয়া, আমি আমার শরীরের অঙ্গগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই... তুমি কি আমায় দেখিয়ে বলবে আমার কোথায় কোথায় জাদু আছে আর কোথায় আমার শরীর তোমার স্পর্শের জন্য কাঁদছে?"<br />
<br />
আকাশের মনে এখন আর কোনো দ্বিধা নেই, সে তার হাতের আঙুলগুলো মৌটুসীর শরীরের গোপন ভাঁজের ভেতরে আরও গভীরে প্রবেশ করিয়ে দিল এবং তার উষ্ণতা অনুভব করল<br />
"তোর শরীরের এই গোপন উষ্ণতাই হলো সবচেয়ে বড় জাদু রে পাগলী, আর দেখ তোর শরীর এখন আমার স্পর্শ পেয়ে কীভাবে কাঁপছে!"<br />
সে তার ঠোঁট দিয়ে মৌটুসীর ঘাড়ের পাশে একটি গভীর চুম্বুন দিল এবং তার হাত দিয়ে মৌটুসীর শরীরের ভাঁজগুলোকে অনুভব করে তাকে আরও কাছে টেনে নিল<br />
<br />
[ভাইয়ার শরীরের গঠনটা আমার চেয়ে একদম আলাদা, কেন এমন হয়?]<br />
মৌটুসী কৌতূহলী হয়ে আকাশের প্যান্টের খোলা অংশ দিয়ে তার পুরুষাঙ্গটির দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে এবং তারপর নিজের শরীরের দিকে তাকিয়ে মাথা চুলকায়<br />
"ভাইয়া, তোমার হিসু করার জায়গা আর আমারটা আলাদা কেন? তোমারটা তো বাইরে বেরিয়ে আছে, আর আমারটা কোথায় লুকিয়ে আছে?"<br />
<br />
আকাশ ম্লান হেসে মৌটুসীর কৌতূহলী দৃষ্টির দিকে তাকাল এবং তার হাতটি ধীরে ধীরে মৌটুসীর শরীরের সেই গোপন ভাঁজের ওপর রাখল<br />
"কারণ তুই মেয়ে, আর আমি ছেলে রে পাগলী। তোর সবকিছুই খুব সুন্দরভাবে ভেতরে লুকিয়ে থাকে, আর আমারটা বাইরে থেকে দেখা যায়।"<br />
সে তার আঙুল দিয়ে খুব আলতো করে মৌটুসীর শরীরের সেই গোপন জায়গার কিনারে স্পর্শ করল যাতে সে নিজেই তার পার্থক্য বুঝতে পারে<br />
<br />
[ভাইয়ার আঙুল যখন আমার ওই গোপন জায়গায় স্পর্শ করল, আমার মনে হলো শরীরের ভেতরটা যেন কাঁপছে!]<br />
মৌটুসী তার শরীরটাকে আরও একটু মেলে ধরে আকাশের হাতের আঙুলগুলোর ওপর ভর দিয়ে খুব কৌতূহলী হয়ে তাকালো<br />
"ভাইয়া, আমার এখানে ঠিক কী কী আছে আর কোনটার কাজ কী, তুমি কি আমায় সব শিখিয়ে দেবে?"<br />
<br />
আকাশের চোখে এখন এক অদ্ভুত নেশা আর স্নেহ মিশে আছে, সে তার আঙুলগুলো আরও সাবধানে মৌটুসীর শরীরের সেই গোপন ভাঁজগুলোর ওপর বোলাতে শুরু করল<br />
"অবশ্যই শিখিয়ে দেব রে পাগলী। দেখ, এখানে ছোট ছোট কিছু অংশ আছে যাদের কাজ হলো তোর শরীরকে আনন্দ দেওয়া, আর তুই যখন খুব খুশি হোস তখন এখান থেকে জলর মতো কিছু বের হয়।"<br />
সে খুব ধীরে ধীরে তার আঙুল একটি নির্দিষ্ট সংবেদনশীল বিন্দুর ওপর চাপ দিল এবং মৌটুসীর প্রতিক্রিয়ার দিকে তাকালো<br />
<br />
[আহ্! ভাইয়া ঠিক কোথায় চাপ দিল, আমার পুরো শরীর যেন বিদ্যুতের মতো কেঁপে উঠল!]<br />
মৌটুসী হঠাৎ করে পিঠ ধনুকের মতো বাঁকিয়ে নিল এবং আকাশের কাঁধ দুটি শক্ত করে আঁকড়ে ধরল<br />
"উম্মম্ম... ভাইয়া! এটা কী হলো? আমার ভেতরে কেমন যেন একটা তীব্র ঝটকা লেগেছে!"<br />
<br />
আকাশের মুখে এক তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল, সে বুঝতে পারল যে সে ঠিক সেই জায়গায় স্পর্শ করেছে যা মৌটুসীর শরীরকে সবচেয়ে বেশি উত্তেজিত করে<br />
"এটা তোর শরীরের এক অদ্ভুত আনন্দ রে পাগলী, তোর শরীর এখন আমার স্পর্শের জন্য খুব তৃষ্ণার্ত হয়ে উঠেছে।"<br />
সে তার আঙুলের চাপ আরও একটু বাড়িয়ে দিয়ে খুব ধীরে ধীরে গোল করে ঘুরাতে শুরু করল এবং তার অন্য হাত দিয়ে মৌটুসীর কোমড় জড়িয়ে আরও কাছে টেনে নিল<br />
<br />
[ভাইয়ার আঙুলগুলো যেন আমার ভেতরে জাদু করছে, আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারছি না!]<br />
মৌটুসী তার চোখ দুটি বন্ধ করে এক দীর্ঘশ্বাস ফেলল এবং তার শরীরটাকে আকাশের স্পর্শে সঁপে দিয়ে মৃদুভাবে কাঁপতে লাগল<br />
"আহ্... ভাইয়া, এটা খুব অদ্ভুত কিন্তু খুব ভালো লাগছে... প্লিজ থামিও না!" আমাকে আরও সবকিছু জানাও। আমি এগুলো কিছুই জানতাম না।<br />
<br />
আকাশের নিঃশ্বাস এখন আরও দ্রুত হয়ে গেছে, সে তার আঙুলগুলো দিয়ে মৌটুসীর শরীরের সেই সংবেদনশীল অংশটিকে আরও গভীরভাবে আদর করতে শুরু করল<br />
"আমি তোকে সব জানাব রে পাগলী, তোর শরীরের প্রতিটি গোপন কোণা আমি তোকে বুঝিয়ে বলব।"<br />
সে তার ঠোঁট দিয়ে মৌটুসীর কানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলল "তোর ভেতরে এখন যে উত্তেজনার ঢেউ খেলছে, ওটাই তোকে বলে দিচ্ছে যে তুই এখন পুরোপুরি আমার হয়ে যাচ্ছিস।"<br />
<br />
[ভাইয়ার আঙুলের স্পর্শে আমার শরীর যেন কাঁপছে, কিন্তু আমার মনে আরও অনেক প্রশ্ন জাগছে!]<br />
মৌটুসী তার মাথাটা আকাশের কাঁধে রাখল এবং কৌতূহলী দৃষ্টিতে নিজের শরীরের দিকে তাকিয়ে তার হাতটি আকাশের হাতের ওপর রাখল<br />
"ভাইয়া, তোমার শরীর তো খুব শক্ত আর মজবুত, কিন্তু আমার বুক আর চামড়া এগুলো তো তোমার থেকে একদম আলাদা, অনেক নরম। এখানেও কি কোন জাদু আছে? তুমি কি আমাকে বুঝিয়ে বলবে কেন আমরা আলাদা?"<br />
<br />
আকাশ মৃদু হাসল এবং তার হাতটি ধীরে ধীরে মৌটুসীর নরম বুকের ওপর রেখে আলতো করে চাপ দিল, যেন সে তার কোমলতার সাথে পরিচিত হচ্ছে<br />
"অবশ্যই জানাব রে পাগলী। দেখ, তোর এই নরম শরীরটাই তো মেয়েদের সবচেয়ে বড় জাদু, যা আমাদের মতো ছেলেদের পাগল করে দেয়। আমাদের শরীর শক্ত হয় যাতে আমরা তোমাদের রক্ষা করতে পারি, আর তোর শরীর এমন কোমল যাতে তুই ভালোবাসা আর মমতা দিতে পারিস।"<br />
সে তার হাতের তালু দিয়ে মৌটুসীর বুকের উষ্ণতা অনুভব করল এবং তার চোখে এক গভীর তৃষ্ণা নিয়ে তার দিকে তাকাল<br />
<br />
[আমার বুকের ভেতরটা কেমন যেন দুরুদুরু করছে, ভাইয়ার হাতের চাপটা খুব অদ্ভুত একটা সুখ দিচ্ছে!]<br />
মৌটুসী তার বুকটা একটু সামনে বাড়িয়ে দিল এবং আকাশের হাতের আঙুলের স্পর্শ অনুভব করে চোখ বুজলো<br />
"তবে ভাইয়া, আমার এই নরম জায়গাগুলো তো খুব সংবেদনশীল... তুমি যখন চাপ দাও, তখন আমার ভেতরে কেমন যেন একটা শিরশিরে অনুভূতি হয়!"<br />
<br />
আকাশের চোখে এক অদ্ভুত নেশা ফুটে উঠল, সে তার হাতের আঙুলগুলো দিয়ে মৌটুসীর বুকের নরম অংশে আলতো করে বৃত্তাকার গতিতে ঘুরাতে শুরু করল<br />
"এই শিরশিরে অনুভূতিটাই তো আসল জাদু রে পাগলী। তোর শরীর এখন বুঝতে পারছে যে তুই বড় হয়েছিস, আর তোর এই নরম জায়গাগুলো এখন আমার স্পর্শের জন্য তৃষ্ণার্ত হয়ে উঠেছে।"<br />
সে তার মুখটি মৌটুসীর গলার কাছে নিয়ে গেল এবং তার উষ্ণ নিঃশ্বাস দিয়ে ত্বকটিকে স্পর্শ করে ফিসফিস করে বলল "তোর এই শিরশিরে অনুভূতি যত বাড়বে, তোর ভালো লাগার পরিমাণও তত বাড়বে... দেখ আমি তোকে আরও সুখ দিতে পারি।"<br />
<br />
[ভাইয়া যখন আমার বুকের নরম জায়গায় আঙুল ঘুরাচ্ছে, তখন আমার ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল!]<br />
মৌটুসী তার মাথাটা আকাশের কাঁধে হেলিয়ে দিয়ে তার বুকের দিকে তাকিয়ে থাকল এবং এক অদ্ভুত কৌতূহল নিয়ে আকাশের চোখের দিকে তাকালো<br />
"ভাইয়া... ছোটবেলায় আম্মুর বুকের এই নরম মাংস থেকেই তো আমি দুদু খেতাম। আমার বুকেও কি তেমন কিছু হবে? আমার ভেতরেও কি তেমন কোনো দুধ তৈরি হবে?"<br />
<br />
আকাশের আঙুলগুলো মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল, সে মৌটুসীর সহজ-সরল কিন্তু গভীর কৌতূহলী প্রশ্নের কথা শুনে এক অদ্ভুত অনুভূতি অনুভব করল<br />
"হ্যাঁ রে পাগলী, ঠিক সেটাই হবে। তুই এখন বড় হচ্ছিস, তোর শরীরটা ধীরে ধীরে একজন পূর্ণাঙ্গ নারীর রূপ নিচ্ছে, আর এই পরিবর্তনগুলোই তোর ভেতরে সেই ক্ষমতা তৈরি করছে।"<br />
সে তার হাতের আঙুলগুলো দিয়ে মৌটুসীর বুকের নরম অংশে খুব আলতো করে চাপ দিল এবং তার চোখের দিকে তাকিয়ে রহস্যময় হাসল "তবে সেই সময়টা আসার আগে তোর শরীর এই স্পর্শগুলো দিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করছে, আর তুই এখন অনুভব করছিস সেই অদ্ভুত আনন্দের কথা।"<br />
<br />
[ভাইয়া কি ঠিকঠাক বলতে পারবেন এই প্রশ্নের উত্তর? আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে আমার শরীরটা কখন পুরোপুরি বদলে যাবে!]<br />
মৌটুসী কৌতূহলী হয়ে আকাশের চোখের দিকে তাকাল এবং তার বুকের নরম অংশে রাখা ভাইয়ার হাতের ওপর নিজের হাতটি রাখল<br />
"আচ্ছা ভাইয়া, আমি কত বড় হলে আমার বুকে দুধ হবে? তোমার হাতের স্পর্শে এখন যে অনুভূতি হচ্ছে, তখন কি আরও বেশি ভালো লাগবে?"<br />
<br />
আকাশ ম্লান হাসল এবং তার আঙুলগুলো দিয়ে মৌটুসীর বুকের নরম অংশে আরও একটু চাপ দিল, যেন সে তার কৌতূহলকে শরীর দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে<br />
"তোর পেটে যখন বাচ্চা আসবে, তখন তার খাদ্য হিসেবে তোর বুকে দুধ আসবে"<br />
সে তার মুখটি মৌটুসীর গলার ভাঁজে চেপে ধরল এবং সেখানে একটি উষ্ণ চুম্বুন দিল, যা মৌটুসীর সারা শরীরে এক অদ্ভুত শিহরণ জাগিয়ে তুলল<br />
<br />
[বাচ্চা? আমার পেটে বাচ্চা আসবে! এটা তো খুব অবাক করা কথা!]<br />
মৌটুসী তার হাতটি নিজের পেটের ওপর রাখল এবং খুব কৌতূহলী হয়ে আকাশের দিকে তাকালো<br />
"বাচ্চা আসবে? বাচ্চা আমার পেটে কোথা থেকে আসবে? কবে আসবে?"<br />
<br />
আকাশের মনে এক অদ্ভুত উত্তেজনা খেলে গেল, সে দেখল মৌটুসী খুব সহজভাবে এক বিশাল রহস্যের কথা জানতে চাইছে<br />
"বাচ্চা তো এমনি এমনি </span></div>]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[শিকদার মেহেদি (By:DRM Shohag)]]></title>
			<link>https://forum.xgossip.fun/showthread.php?tid=54</link>
			<pubDate>Thu, 17 Sep 2026 05:27:48 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="https://forum.xgossip.fun/member.php?action=profile&uid=3">Erotic Lovers</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">https://forum.xgossip.fun/showthread.php?tid=54</guid>
			<description><![CDATA[<div style="text-align: center;" class="mycode_align"><span style="font-weight: bold;" class="mycode_b">“তোমার জন্য মেয়ে দেখেছি মাহদি।<br />
<br />
দুপুরের দিকে মাহদি বাইরে থেকে মাত্র ফিরেছে। ক্লান্ত দেহ নিয়ে তার ঘরে যাচ্ছিল। দাদিজানের কথা কানে আসতেই তার পা এক মুহূর্তের জন্য থেমে যায়। তবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না। সামনের দিকে আরও দু'কদম এগোলে বয়স্ক ভদ্রমহিলা আফসানা বেগম পুনরায় বলেন,<br />
<br />
মাহদি আমার ধারে এসে একটু বসো। দুইটা কথা শোনো। তোমার বয়স হইছে। বিয়ে করতে হবে তোমাকে।”<br />
<br />
এ পর্যায়ে মাহদি স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই এসে দাঁড়ায় তার দাদিজানের সামনে। পুরো নাম ‘শিকদার মাহদি’। আফসানা বেগমের বড় ছেলের ছেলে মাহদি। বয়স ২৯ এর কোঠায় এসে ঠেকেছে মাত্র। হাইট ৬ ফুট। গায়ের রঙ অধিক ফর্সা। চোখের মণি দু'টি অ্যাম্বার অর্থাৎ হালকা সোনালি, যা অত্যধিক আকর্ষণীয়। পরনে কালো টি-শার্ট আর কালো কার্গো প্যান্ট। ঘাড় ছুঁইছুঁই সিলকি চুল। যার কিছু অংশ মাথার উপর ঝুঁটি করে রাখা।<br />
ডান হাতে সোনালি রঙের একটি ঘড়ি আর বাম হাতে একটি কালো ব্যাচ। ডান কানের পাতায় একটি কালো টপ। গালে চাপ দাঁড়ি। মুখাবয়বে গাম্ভীর্য। দৃঢ় চোয়ালের অধিকারী মাহদি তার দাদিজানের উদ্দেশ্যে দু'টো শব্দ আওড়ায়,<br />
<br />
“বলো দাদিজান।”<br />
<br />
“আমি তো বললামই। তোমার জন্য মেয়ে দেখেছি। তুমি সময় করে একবার মেয়েকে দেখে আসলে বিয়ের কথা পাকা করব।”<br />
<br />
মাহদির চোখেমুখে বিরক্তি। এসব বিয়ে টিয়ে তার সাথে ঠিক যায় না। সেখানে মেয়ে দেখে কি করবে সে? সে বিয়ে করার পর এই বাড়িতে একটা বউ আসলে, ‘বয়স হয়েছে, বিয়ে কবে করবে’ এই প্রশ্ন দু'টো থেকে সে বাঁচতে পারবে অন্তত। অতঃপর মাহদি তার দাদিজানের প্রশ্ন এড়িয়ে না গিয়ে বলল,<br />
<br />
“মেয়ে দেখতে হবে না। সময় করে একবার তোমরা গিয়ে বউ নিয়ে চলে এসো।”<br />
<br />
মাহদির দাদিমা আফসানা বেগম তব্দা খেয়ে বললেন,<br />
“আমরা গিয়ে নিয়ে আসব মানে? তুমি গিয়ে বিয়ে করলে তারপর না ওই মেয়েকে আমাদের বাড়িতে আনতে পারবো!”<br />
<br />
বিরক্তিতে মাহদি দু'আঙুলের সাহায্যে কপাল ঘঁষল দু'বার। অতঃপর বলে,<br />
“আচ্ছা চলো বিয়ে করছি। দশ মিনিটের বেশি টাইম দিতে পারবো না।”<br />
<br />
কথাটা বলে মাহদি বাইরের দিকে যাওয়ার জন্য এক পা বাড়াতেই আফসানা বেগম খানিক বিস্মিত হয়ে বলেন,<br />
“আশ্চর্য তো! তুমি কি এখনই বিয়ে করতে যাচ্ছ?”<br />
<br />
মাহদি অসহ্য কণ্ঠে বলে,<br />
“হ্যাঁ যাচ্ছি। প্রবলেম কি তোমার? এক্ষুনি তো বললে আমি গিয়ে বিয়ে করলে তারপর তোমরা মেয়েকে এই বাড়ি আনতে পারবে।<br />
<br />
একটু থেমে আবারো বলে,<br />
মেয়ের বাসার ঠিকানাটা দাও। বিয়ে করে আসছি।”<br />
<br />
আফসানা বেগম কি বলবেন বুঝে উঠতে পারলেন না। পাশে মাহদির ছোট চাচি মুখ চেপে হাসছে। ছেলেটার কর্মকান্ডে না হেসে পারছেন না। যেন মাহদি পুতুলের বিয়ে দিতে যাচ্ছে। ইচ্ছে হলো আর দশ মিনিটে বিয়ে পরিয়ে দিয়ে এলো!<br />
আফসানা বেগম নিজেকে সামলে বললেন,<br />
<br />
“এভাবে বিয়ে হয় না মাহাদ। তুমি সন্ধ্যার পর একটু সময় বের কর। তখন আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে যাবো। এখন ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নাও।”<br />
<br />
মাহদি তার ঘরের দিকে যেতে যেতে বলে,<br />
“দশ মিনিটের বেশি টাইম লাগলে বিয়ে ক্যান্সেল, মাথায় রাখবে দাদিজান।”<br />
<br />
আফসানা বেগম হতাশ চোখে চেয়ে রইলেন নাতির পানে। মাহদির চাচি বলল,<br />
“মা আপনি মাহাদকে আজকেই বিয়ে দিবেন? মেয়ের পরিবার যদি রাজি না হয়?”<br />
<br />
আফসানা বেগম মৃদুস্বরে বললেন,<br />
“হবে। এত বড় বাড়ি থেকে সম্মোন্ধ গিয়েছে বলে অনেক খুশি ছিল তারা। আজকে বিয়ের কথা বললেও রাজি হবে। তাছাড়া মাহদির মতিগতির ঠিক নেই। রাত পার হলেই আবার মত বদলাতে পারে। মেয়ের বাড়ি কাছেই আছে। সমস্যা হবে না। তুমি বাড়ির সবাইকে কেনাকাটা শেষ করতে বলো সন্ধ্যার আগেই।”<br />
<br />
ভদ্রমহিলা মাথা নেড়ে সম্মতি দিলেন। কিছু একটা ভেবে বললেন,<br />
“আমার মনে হচ্ছে, আপনার বাউন্ডুলে নাতি বিয়েটাকে ছেলেখেলা ভাবছে। ভাবাটা অস্বাভাবিক না। ও তো এমনই।”<br />
<br />
আফসানা বেগম সোফায় হেলান দিয়ে আস্তে করে চোখ বুজে বললেন,<br />
“বিয়ের বন্ধনের ভিত খুব মজবুত হয় বউমা। মরার আগে মাহদির একটা গতি করে দিয়ে যেতে চাই। ওকে একটু সংসারি দেখে যেতে চাই। খুব চিন্তা হয় আমার ছন্নছাড়া নাতিটার জন্য।”<br />
<br />
রান্নাঘর থেকে মাহদির বড় চাচি এসে দাঁড়ায় সেখানে। শ্বাশুড়ির কথায় মুখ ঝামটায়। তাচ্ছিল্যের সুরে বিড়বিড় করে,<br />
‘ওই মাহদি করবে সংসার! যেখানে সেখানে গু’ন্ডামি করে বেড়ায়। সারাদিন বাইরের মানুষদের পি’টিয়ে এসে রাতে পি’টা’বে বউ। দু'দিন যেতে না যেতেই দেখব বউ পালাইছে।’<br />
<br />
.<br />
রাত ৮ টায় বাড়ির মুরুব্বিরা রেডি হয়ে মাহদির জন্য অপেক্ষা করছে। মুরুব্বি বলতে মাহদির বড় চাচা আর তার কিছু বড় ভাইয়েরা আছে। মাহদির বাবা-মা আর দাদা বেঁচে নেই। ছোট চাচা আপাতত ব্যবসার কাজে দেশের বাইরে আছেন।<br />
এদিকে মাহদি বাড়িতে নেই। এটা নতুন নয়। দিনের ১ ঘণ্টাও বাড়িতে থাকেনা সে। শুধু রাতটুকু পার করতে বাড়ি আসে। মাঝে মাঝে তো রাতেও আসেনা। মাহদির বড় চাচা শিকদার জুনায়েদ মাহদির ফোনে পুরো ২০ বার কল দিয়েছে। কিন্তু কল রিসিভ হয়নি। বরং শেষ দু’বার কল কেটে দিয়েছে মাহদি। ভীষণ চটে গিয়েছেন ভদ্রলোক। মাহদিকে কয়েকটা গালিও দিয়ে দিয়েছে এরকম স্বাভাবের জন্য। <br />
অতঃপর সকলের বিরক্তি কমাতে মাহদি ৪৫ মিনিট পর বাড়ির সামনে এসে পৌঁছায়। বাড়ির গাড়ির পাশে মাহদি তার বাইক থামিয়ে মাথার হেলমেট খোলে। শিকদার জুনায়েদ রাগান্বিত স্বরে বলেন,<br />
<br />
“তোমার কমনসেন্স নেই? কতবার কল দিয়েছি তোমাকে? আমার কল রিসিভ না করে কেটে দিয়েছ কোন সাহসে?”<br />
<br />
মাহদি বিরক্তি কণ্ঠে বলে,<br />
“কোনো কমনসেন্স ওয়ালা মানুষ কল রিসিভ না হওয়ার পরও বারবার কাউকে কল দেয় না চাচা।”<br />
<br />
শিকদার জুনায়েদ রাগে কাঁপতে লাগলেন। এই বেয়ারা ছেলের কোনো কাজে ইনভলভ হতে তার বিন্দুমাত্র ভালো লাগে না। শুধুমাত্র মায়ের মুখের উপর কথা বলতে পারে না বলে মুখ বুজে অনেককিছু সহ্য করতে হয়। রাগান্বিত স্বরে বলেন,<br />
<br />
“আমরা তোমার জন্য কখন থেকে অপেক্ষা করছি, কোনো আইডিয়া আছে তোমার?”<br />
<br />
মাহদি ভাবলেশহীনভাবে বলে,<br />
“মাহাদের বউ চাই আপনাদের। অপেক্ষা আপনারা করবেন না তো কে করবে? আমি? আজব!”<br />
<br />
শিকদার জুনায়েদ পাল্টা আরও কিছু বলতে চাইল, কিন্তু মাহদির ছোট চাচার ছেলে সাদ তার বড় আব্বাকে কোনোরকমে সামলে বাকি ভাইরা সহ ঠেলেঠুলে গাড়িতে বসিয়ে দিল। নয়তো এই রাস্তায় চাচা ভাতিজির মাঝে এক ঘূর্ণিঝড় বয়ে যাবে। শিকদার জুনায়েদ গাড়ির মাঝে বসেই নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা চালালেন। সহ্যের একটা সীমা থাকে। যেটা মাহদি বরাবরের মতোই ক্রস করল। বড় ভাই একটা জঙ্গল রেখে গেছে তাদের সংসারে। <br />
<br />
সাদ মাহদির পাশে এসে দাঁড়ায়। বাড়তি কথা বলে না। নয়তো মাহদির বিয়ে থেকে মত ঘুরে গেলে তাদের দাদিজান আরেক কান্ড বাঁধাবেন। এসব ঝামেলা এড়িয়ে বলল,<br />
“এই টি-শার্ট, প্যান্ট পরেই যাবি?”<br />
<br />
মাহদি কপাল কুঁচকে বলে,<br />
“তো কি পরব?”<br />
<br />
সাদ খেয়াল করল, মাহদির কালো হাফ হাতা টি-শার্ট হালকা কুঁচকে আছে। কালো কার্গো প্যান্টে ধুলো লেগে আছে। আবার কোথায় কি ঘটিয়ে এসেছে কে জানে! তবে মাহদির ড্রেসআপ এটাই। কিন্তু বিয়ে বাড়িতে এভাবে গেলে ব্যাপারটা ভালো দেখাবে না। অতঃপর বলে,<br />
<br />
“তোর জন্য শেরওয়ানি…..”<br />
<br />
সাদকে শেষ করতে না দিয়ে আবারো মাথায় হেলমেট পরতে পরতে মাহদি শক্ত গলায় তাড়া দেয়,<br />
<br />
“ভাই, যদি চাও এই বাড়ি নতুন বউ আসুক, তাহলে টাইম লস কর না। যেকোনোমুহূর্তে চলে যাবো। এরপর বিয়ের জন্য ইহজীবনে আর আমাকে পাবেনা।”<br />
<br />
সাদ তড়িঘড়ি করে ড্রাইভিং সিটে উঠে বসে। মাহদি টার বিশ্বাস নেই। কি আর করার! এভাবেই বিয়ে হোক। যা তা করে বিয়ে তো হচ্ছে, এরপর কি হবে কে জানে! সাদ মাহদির চেয়ে এক বছরের বড়। মাহদির সাথে তার ভালোই ভাব বলা যায়। একমাত্র তার সাথেই দু'দন্ড বসে কথা বলে মাহদি। <br />
কিছু একটা ভেবে সাদ জানালা দিয়ে মাথা বের করে বলে,<br />
<br />
“মাহদি তুই তো বিয়ে করতে যাচ্ছিস। আজ অন্তত বাইক রেখে আমাদের গাড়িতে আয়।”<br />
<br />
মাহদি বাইক স্টার্ট দিয়ে সাদের বরাবর গাড়ির কাছে এসে বাইক থামায়৷ ঘাড় ঘুরিয়ে সাদের দিকে চেয়ে হেলমেটের আড়াল থেকে গম্ভীর গলায় বলে,<br />
<br />
“তুমি তোমার ছোট ভাইয়ের বিয়েতে ফুল ড্রেসের সঙ্গ ছাড়তে পারলে আমি আমার বাইকের সঙ্গ ছাড়ছি।”<br />
<br />
সাদ চোখমুখ কুঁচকে তাকালো। কি শ'য়তান ছেলে। সে ভালোর জন্য বলল, আর এ কোন কথা কোথায় নিয়ে গেল। <br />
গাড়ির ভেতরে বসা শিকদার জুনায়েদ মাহদির কথাটা শুনতে পেয়েছে। দু'হাত মুষ্টিবদ্ধ করে বিড়বিড় করে উচ্চারণ করল,<br />
‘বে’হায়া ছেলে!’<br />
<br />
.<br />
ঘড়ির কাটা তখন রাত ১২ টার ঘরে। পরিপাটি একটি ঘরের বিছানার মাঝে বসে আছে মেধা। গায়ে লাল রঙের বেনারসি। ছেলের বাড়ি থেকে গত দু'দিন আগে তাকে দেখতে গিয়েছিল। মেধার বিয়েতে দ্বিমত ছিল না। বাবা নেই তার। মা, বড় আপা আর সে এই তিনজনকে নিয়েই তাদের সংসার। ছেলের বাড়ি থেকে তাকেই পছন্দ করেছিল। কিন্তু আজ হঠাৎ দুপুরে জানায়, বিয়ে আজকেই হবে। এত ভালো ঘর থেকে সম্মোন্ধ গিয়েছে, এজন্য মা কোনো হম্বিতম্বি ছাড়াই রাজি হয়ে গিয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর অনেক দামি দামি জিনিস তাদের বাড়ি পাঠানো হয়, যা দিয়ে মেধা তার আপার সাহায্য নিয়ে যেটুকু পেরেছে সেজেছে। মেধা ভেবেছিল বড় বাড়ির বউ হবে, তার মানে নিশ্চয়ই খুব ধুমধাম করে বিয়ে হবে তার। সে তার বিয়েতে খুব সাজবে, খুব মজা করবে। কিন্তু সেসব কিছুই হলো না। কেমন মরা বাড়ির মতো করে বিয়ে পড়িয়ে আনলো তাকে। স্বামীকে পিছন থেকে এক নজর দেখেছিল মেধা, আর নামটা জানে। এখন তার জন্য ঘরে বসে বসে অপেক্ষা করছে। কিন্তু এই বাড়িতে পা রাখার পর মেধার কানে কিছু অদ্ভুত কথা আসে। একজন আধ বয়সী ভদ্রমহিলা অন্যজনকে বলছিল,<br />
<br />
‘মাহদি সারাদিন গু'ন্ডামি করেই দিন পার করে। বউকে মে'রে কালকেই না বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়!’<br />
<br />
যে এই কথা বলেছে, সেই ভদ্রমহিলা এই বাড়িরই সদস্য। কিন্তু মেধা প্রথমদিনই চিনতে পারেনি, উনি সম্পর্কে তার কি হয়! তবে ওই কথা শোনার পর থেকে মেয়েটার একটু ভয় লাগছে। সত্যি সত্যি তার স্বামী এসেই যদি তাকে ধুপধাপ মেরে দেয়! মেধা ঘামতে শুরু করল। না না সে মার খাবে না। অতঃপর ধীরে ধীরে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ায়। ঘরে অল্প পাওয়ারের একটি লাইট জ্বলছে। অরার সর্বপ্রথম চোখে পড়ল, দরজার কাছটায় টেবিলের উপর ঝুড়িভর্তি ফলের মাঝখানে একটি চা’কু রাখা। মেয়েটা ব্যস্ত পায়ে সেদিকে এগিয়ে গিয়ে চা’কু হাতে তুলে নেয়। এরপর আবারো বিছানার দিকে যেতে নেয়, তখনই দরজা খোলার শব্দ কানে আসে। কেউ একজন ঘরে এসেছে, বেশ বুঝল সে। মেধা এক মুহূর্তও অপেক্ষা না করে উল্টো ঘুরে একদম তার সামনে দাঁড়ানো লোকটার গলার দিকে হাতের চা'কু ধরে তেজ নিয়ে বলে,<br />
<br />
“একদম আমাকে মা’রতে আসবে না। আমাকে ছোট মানুষ ভেবে ভুল করবে না। আমি কখনোই বসে বসে তোমার মা'র খাবো না। তাই সাবধান করছি। সাবধান হলে তোমাকে ছেড়ে দিব নয়তো না।”<br />
<br />
মেধার কণ্ঠে মেকি তেজ থাকলেও, কণ্ঠস্বর কাঁপছিল, চোখেমুখেও ভীতি মেয়েটার। এদিকে ঘটনাটি মাহদির জন্য অপ্রত্যাশিত হলেও, সে একদম নির্বিকার। না চমকালো, না ভড়কালো, না অবাক হলো! বরং চোখেমুখে চরম বিরক্তি আর রাগের ছায়া। <br />
বিয়ে পড়ানো শেষে মাহদি সাদকে বলেছিল, <br />
‘ভাই এবার তোমাদের বাড়ির বউকে তোমরা নিয়ে যেও। আমার কাজ শেষ।’<br />
এরপর মাহদি মেধাদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। তার এহেন কান্ডে অবশ্য শিকদার জুনায়েদ আরও কয়েক দফা মাহদিকে কথা শুনিয়েছিল, কিন্তু মাহদির সেসব পাত্তা দেওয়ার সময় থাকলে তো! <br />
মাহদি মেধাকে একবার বিয়ে বাড়িতেই দেখেছিল। তাই চিনতে অসুবিধা হয়নি এখন।  <br />
<br />
মেধা দু'পা উঁচু করে মাহাদের গলার কাছটায় চা'কু ধরতে চাইলেও সে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। গলা থেকে সামান্য নিচের দিকে চা'কু ধরে রাখা। মেয়েটা সেদিকে খেয়াল করল না। সে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল মাহদির পানে। লোকটার গায়ের রঙ বেশ ফর্সা। কিন্তু চোখে লাগছে, মাহদির চোখের সোনালি মণি দু'টো। <br />
<br />
মেধার কান্ডে মাহদির ইচ্ছে করল মেয়েটাকে ঠাটিয়ে দু'টো থাপ্পড় লাগাতে। কিন্তু ঝামেলা এড়াতে নিজেকে সংযত করল। এর উপর আবার মেধাকে নিজের দিকে এমন হ্যাবলার মতো তাকিয়ে থাকতে দেখে মাহদির রাগের সাথে সাথে বিরক্তির মাত্রা বাড়লো বই কমলো না। সারাদিন ছোটাছুটি করে ফালতু ঝামেলা সামনে এলে মাথা গরম হয়ে যায়। কিন্তু সে আপাতত এই মেয়েটাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে পাশ কাটিয়ে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। <br />
মেধা সাথে সাথে উল্টো ঘুরে মাহদির দিকে তাকায়। চোখে পড়ল, মাহদির ঘাড় সমান সিলকি সোজা চুলের দিকে। সামনে থেকে অল্প কিছু চুল নিয়ে ছোটোখাটো একটি ঝুঁটি বাঁধা। যেটা পিছনদিকে হেলে আছে। মেধা অবশ্য এতে অবাক হলো না। কারণ সে যখন তার বাড়িতে পিছন থেকে তার স্বামীকে দেখেছিল, তখনও চুলের এই ছিরিই ছিল। তবে চেহারা তো দেখেনি। অতঃপর চটপট প্রশ্ন করে,<br />
<br />
“তোমার নাম কি মাহদি?”<br />
<br />
মাহদি তার ডান হাত থেকে সোনালি রঙের হাতঘড়িটা খুলে মাত্র টেবিলের উপর রেখেছে তখনই মেধার প্রশ্নে কপালে ভাঁজ পড়ে তার। মেয়েটা তাকে তুমি বলে সম্মোধন করল না? এত ভাবলো না সে। গম্ভীর গলায় ছোট একটি উত্তর করে,<br />
<br />
“হুম।”<br />
<br />
“তার মানে তুমিই আমার স্বামী?<br />
<br />
মাহদির কপালের ভাঁজ গাঢ় হতে শুরু করছে। অত্যধিক বিরক্তির কারণ এটা। <br />
মাহদি চুপ থাকলো। মেধা আবারো বলল, <br />
<br />
বুঝেছি, তুমি হয়ত বলতে লজ্জা পাচ্ছ। কিন্তু আমি বুঝতে পেরেছি তুমিই আমার স্বামী। এসব থাক। আমার তোমাকে পছন্দ হয়নি।”<br />
<br />
মেধার প্রথম কথায় মাহদির রাগ হলেও শেষ লাইনটা শুনে যেন সে বেশ মজা পেল। ছোট করে বলল,<br />
<br />
“আচ্ছা।”<br />
<br />
মেধা ফটাফট বলে,<br />
“আচ্ছা মানে? তোমাকে আমার সত্যিই পছন্দ হয়নি। অপছন্দের মানুষের সাথে সংসার করা যায় না-কি?”<br />
<br />
মাহদির ভাবলেশহীন স্বর,<br />
“কর না।”<br />
<br />
মেধা ভ্রু কুঁচকে বলে,<br />
“তুমি সংসার করবে না?”<br />
<br />
মাহদির একই কণ্ঠ, <br />
“না।”<br />
<br />
মেধা অবাক হয়ে বলে,<br />
“না? তাহলে বিয়ে করলে কেন?”<br />
<br />
মাহদির ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে। এই মেয়ে এত কথা বলছে কেন! অসহ্য কণ্ঠে বলে,<br />
<br />
“কখন থেকে আমাকে তুমি তুমি করে সম্মোধন করছ। তুমি জানো আমার বয়স কত?”<br />
<br />
কথাটা বলতে বলতে মাহদি মেধার একদম সামনে এসে দাঁড়ায়। মেধা সরল মনে বলে,<br />
<br />
“কত তোমার বয়স? যদিও দেখে বোঝা যাচ্ছে, তুমি আমার চেয়ে অনেক বড় হবে। কিন্তু সঠিক বয়স জানলে বোঝা যাবে তুমি আমার চেয়ে ঠিক কত বছরের বড়!<br />
<br />
মাহদি বিরক্ত চোখে চেয়ে আছে। এটা মেয়ে না ভাঙা রেডিও? মেধা আবারো বলে,<br />
<br />
আসলে আমি সবাইকে অনেকবার জিজ্ঞেস করেছিলাম তোমার বয়স কত। কিন্তু কেউ বলেনি৷ আর আমার বয়স ১৯ বছর। এবার তুমি বলো, তোমার বয়স কত! <br />
<br />
মাহদি চিবিয়ে চিবিয়ে উচ্চারণ করল,<br />
“২৯।”<br />
<br />
মাহদির বয়স শুনতেই মেধা চট করে আঙুলে গুণতে শুরু করল। ছোট থেকেই এটা তার অভ্যাস। কিছুক্ষণ পর মাথা তুলে উৎফুল্ল কণ্ঠে বলে,<br />
“তুমি আমার চেয়ে দশ বছরের বড়।”<br />
<br />
মেধাকে দেখে মনে হচ্ছে, সে কোনো যুদ্ধ জয় করে ফেলেছে। মাহদির কণ্ঠে তীব্র রাগ ঝরছে,<br />
“নিজের চেয়ে এত বছর বয়সী বড় একজনকে কিভাবে তুমি সম্মোধন করছ, সেন্স নেই তোমার?”<br />
<br />
মেধা কপালে ভাঁজ ফেলে বলে,<br />
“কেন, তুমি বললে কি হবে? আমি তো সবাইকে তুমি করেই বলি।”<br />
<br />
মাহদি দাঁতে দাঁত চেপে বলে,<br />
“যা ইচ্ছা বলো। কিন্তু তুমি আমার সামনে আর একটা কথাও বলবে না। আমি এখন ঘুমাবো।”<br />
<br />
কথাটা বলে মাহদি হনহন করে এগিয়ে গিয়ে ঘরের সব আলো অফ করে দেয়। এরপর গায়ের টি-শার্ট খুলে বিছানার এক কোণায় ছুড়ে ফেলে বিছানার উপর ধপ করে উল্টো হয়ে শুয়ে পড়ে। <br />
ফ্রেশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। আসার পথে সাদ নিজের ঘরে টেনে নিয়ে গিয়েছিল মাহদিকে। বিয়ের ব্যাপারে কিসব আলতু ফালতু জ্ঞান দিচ্ছিল। মাহদি এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে আরেক কান দিয়ে বের করে দিয়েছে। ওসব কথা মানা তো দূর, শুনলেই মেজাজ গরম হয়। তবুও বড় ভাই সাদের কবল থেকে ছুটতে না পেরে গাট্টি মেরে কতক্ষণ বসে ছিল! সাদ তার বয়সে বড় হলেও, দু'ভাই দু'ভাইকে বন্ধুর মতোই ট্রিট করে। শুধু সম্মোধনের সময় মাহদি সাদকে ভাই আর তুমি বলে এটুকুই। <br />
এরপর সাদের বেকার কথাবার্তা শেষ হলে মাহদি সাদের ঘর থেকেই শাওয়ার নিয়ে ওখান থেকেই একটি টি-শার্ট আর প্যান্ট পরে একেবারে আসে নিজ ঘরে।<br />
<br />
মেধা ঘরের চারিদিকে চোখ বুলায়। কৃত্রিম আলোর অভাবে ঘরটা ঘুটঘুটে অন্ধকার হওয়ার কথা থাকলেও জোৎস্নার আলোর ছিটেফোঁটা ঘরের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে। মেধা চেঁচামেচি না করে দ্রুত এগিয়ে এসে বিছানার কাছটায় মাহদির পাশে দাঁড়িয়ে বলে,<br />
<br />
“এ কি তুমি ঘুমাচ্ছো কেন? নতুন বউকে ফেলে কেউ ঘুমায় না-কি?<br />
<br />
মাহদির সাড়া নেই। মেধা হাতের চা’কুটি বেড সাইডের টেবিলের কোণায় রেখে দু'হাত কোমরে রেখে বলল,<br />
ঠিক আছে ঘুমাও। এমনিতেও আমি তোমার সাথে সংসার করব না।”<br />
<br />
কথাটা বলে কিছু একটা ভেবে তাকালো মাহদির দিকে। ভাবছে এই বাড়ির লোক যে বলল, মাহদি তাকে মারবে। কই মাহদি তো মারলো না! অতঃপর অরা বিড়বিড় করল,<br />
<br />
‘আরেকটু দেখি তোমার সাথে সংসার করা যায় কি-না!’<br />
<br />
কথাটা বলে মেধা মাহদির দিকে ঝুঁকে জিজ্ঞেস করল,<br />
<br />
“তুমি কি ঘুমিয়েছো?<br />
<br />
মাহদির সাড়া নেই। মেধা অপেক্ষা করল। ফিরতি উত্তর না পেয়ে হঠাৎ ভাবুক ভঙ্গিতে বলল,<br />
আচ্ছা তুমি না-কি যেখানে সেখানে গু’ন্ডামি করে বেড়াও!”<br />
<br />
মেধা কথাটা বলতে না বলতেই মাহদি বেড সাইড টেবিলের উপর থেকে একটি কাঁচের জগ নিয়ে জোরেসোরে টেবিলের কোণায় আ’ঘাত করে জগটি ভেঙে মেধার দিকে গেড়ে দেওয়ার ভঙ্গি করে রক্তচক্ষু দৃষ্টি নিক্ষেপ করে হুঁশিয়ারি দেয়,<br />
<br />
গু’ন্ডাই তো আমি। এখন সেটার প্রমাণও দিয়ে দিব তোমাকে। ৩৬৫ দিনে পুরো বাড়ির লোক আমার মাথার যা খেতে পারেনি, তুমি মাত্র কয়েক মিনিটে আমার সেই মাথা খেয়ে ফেলেছ। এবার দেখো আমার গু’ন্ডামি।<br />
<br />
মেধা ভয়ের চোটে মেঝেতে ঠাস করে পড়ে গিয়েছে। চোখেমুখে বিস্ময় মেয়েটার। মনে হচ্ছে তার দিকে বড়সড় কোনো দৈত্য তেড়ে আসছে। মনে হবে না-ই বা কেন! এমন বিশালদেহী লোকের এত রাগান্বিত লুক দেখলে ছোট বাচ্চারা বোধহয় এতক্ষণে কেঁদে দিত। মেধা তার ভয়ের কান্না বহুক'ষ্টে চেপে রাখলেও, গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে এসেছে মেয়েটার। ভীত কণ্ঠে আওড়ায়,<br />
<br />
“না না এমন কর না। আমি আর তোমার মাথা খাবো না।”<br />
<br />
 <br />
<br />
 <br />
?গল্পটা একদমই অল্প কয়েকটি পর্বের মধ্যে শেষ হবে। আর হারাচ্ছি না। যাই করি না কেন, পেইজে গল্প সবসময়ই চলবে ইনশাআল্লাহ। এটা শেষ হলে হৃদয় রজনী আসবে অথবা এটার মাঝেই চলে আসবে ইনশাআল্লাহ। রানিং-এ পুরোপুরি ফিরলাম। সাথে থাইকেন। গল্পটা কেমল লাগল, অবশ্যই জানাবেন।</span></div><br /><!-- start: postbit_attachments_attachment -->
<div style="padding:4px 0px;"><span class="inline-block vmiddle"><!-- start: attachment_icon -->
<img src="https://forum.xgossip.fun/images/attachtypes/image.png" title="JPG Image" alt=".jpg" />
<!-- end: attachment_icon --></span>
<a  class="vmiddle inline-block" href="attachment.php?aid=24" target="_blank">FB_IMG_1789621681109.jpg</a> <span class="smalltext float_right">Size: <span class="inline-block vmiddle">88.21 KB</span>&nbsp;&nbsp;Downloads: <span class="inline-block vmiddle">1</span></span>
</div>
<!-- end: postbit_attachments_attachment -->]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<div style="text-align: center;" class="mycode_align"><span style="font-weight: bold;" class="mycode_b">“তোমার জন্য মেয়ে দেখেছি মাহদি।<br />
<br />
দুপুরের দিকে মাহদি বাইরে থেকে মাত্র ফিরেছে। ক্লান্ত দেহ নিয়ে তার ঘরে যাচ্ছিল। দাদিজানের কথা কানে আসতেই তার পা এক মুহূর্তের জন্য থেমে যায়। তবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না। সামনের দিকে আরও দু'কদম এগোলে বয়স্ক ভদ্রমহিলা আফসানা বেগম পুনরায় বলেন,<br />
<br />
মাহদি আমার ধারে এসে একটু বসো। দুইটা কথা শোনো। তোমার বয়স হইছে। বিয়ে করতে হবে তোমাকে।”<br />
<br />
এ পর্যায়ে মাহদি স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই এসে দাঁড়ায় তার দাদিজানের সামনে। পুরো নাম ‘শিকদার মাহদি’। আফসানা বেগমের বড় ছেলের ছেলে মাহদি। বয়স ২৯ এর কোঠায় এসে ঠেকেছে মাত্র। হাইট ৬ ফুট। গায়ের রঙ অধিক ফর্সা। চোখের মণি দু'টি অ্যাম্বার অর্থাৎ হালকা সোনালি, যা অত্যধিক আকর্ষণীয়। পরনে কালো টি-শার্ট আর কালো কার্গো প্যান্ট। ঘাড় ছুঁইছুঁই সিলকি চুল। যার কিছু অংশ মাথার উপর ঝুঁটি করে রাখা।<br />
ডান হাতে সোনালি রঙের একটি ঘড়ি আর বাম হাতে একটি কালো ব্যাচ। ডান কানের পাতায় একটি কালো টপ। গালে চাপ দাঁড়ি। মুখাবয়বে গাম্ভীর্য। দৃঢ় চোয়ালের অধিকারী মাহদি তার দাদিজানের উদ্দেশ্যে দু'টো শব্দ আওড়ায়,<br />
<br />
“বলো দাদিজান।”<br />
<br />
“আমি তো বললামই। তোমার জন্য মেয়ে দেখেছি। তুমি সময় করে একবার মেয়েকে দেখে আসলে বিয়ের কথা পাকা করব।”<br />
<br />
মাহদির চোখেমুখে বিরক্তি। এসব বিয়ে টিয়ে তার সাথে ঠিক যায় না। সেখানে মেয়ে দেখে কি করবে সে? সে বিয়ে করার পর এই বাড়িতে একটা বউ আসলে, ‘বয়স হয়েছে, বিয়ে কবে করবে’ এই প্রশ্ন দু'টো থেকে সে বাঁচতে পারবে অন্তত। অতঃপর মাহদি তার দাদিজানের প্রশ্ন এড়িয়ে না গিয়ে বলল,<br />
<br />
“মেয়ে দেখতে হবে না। সময় করে একবার তোমরা গিয়ে বউ নিয়ে চলে এসো।”<br />
<br />
মাহদির দাদিমা আফসানা বেগম তব্দা খেয়ে বললেন,<br />
“আমরা গিয়ে নিয়ে আসব মানে? তুমি গিয়ে বিয়ে করলে তারপর না ওই মেয়েকে আমাদের বাড়িতে আনতে পারবো!”<br />
<br />
বিরক্তিতে মাহদি দু'আঙুলের সাহায্যে কপাল ঘঁষল দু'বার। অতঃপর বলে,<br />
“আচ্ছা চলো বিয়ে করছি। দশ মিনিটের বেশি টাইম দিতে পারবো না।”<br />
<br />
কথাটা বলে মাহদি বাইরের দিকে যাওয়ার জন্য এক পা বাড়াতেই আফসানা বেগম খানিক বিস্মিত হয়ে বলেন,<br />
“আশ্চর্য তো! তুমি কি এখনই বিয়ে করতে যাচ্ছ?”<br />
<br />
মাহদি অসহ্য কণ্ঠে বলে,<br />
“হ্যাঁ যাচ্ছি। প্রবলেম কি তোমার? এক্ষুনি তো বললে আমি গিয়ে বিয়ে করলে তারপর তোমরা মেয়েকে এই বাড়ি আনতে পারবে।<br />
<br />
একটু থেমে আবারো বলে,<br />
মেয়ের বাসার ঠিকানাটা দাও। বিয়ে করে আসছি।”<br />
<br />
আফসানা বেগম কি বলবেন বুঝে উঠতে পারলেন না। পাশে মাহদির ছোট চাচি মুখ চেপে হাসছে। ছেলেটার কর্মকান্ডে না হেসে পারছেন না। যেন মাহদি পুতুলের বিয়ে দিতে যাচ্ছে। ইচ্ছে হলো আর দশ মিনিটে বিয়ে পরিয়ে দিয়ে এলো!<br />
আফসানা বেগম নিজেকে সামলে বললেন,<br />
<br />
“এভাবে বিয়ে হয় না মাহাদ। তুমি সন্ধ্যার পর একটু সময় বের কর। তখন আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে যাবো। এখন ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নাও।”<br />
<br />
মাহদি তার ঘরের দিকে যেতে যেতে বলে,<br />
“দশ মিনিটের বেশি টাইম লাগলে বিয়ে ক্যান্সেল, মাথায় রাখবে দাদিজান।”<br />
<br />
আফসানা বেগম হতাশ চোখে চেয়ে রইলেন নাতির পানে। মাহদির চাচি বলল,<br />
“মা আপনি মাহাদকে আজকেই বিয়ে দিবেন? মেয়ের পরিবার যদি রাজি না হয়?”<br />
<br />
আফসানা বেগম মৃদুস্বরে বললেন,<br />
“হবে। এত বড় বাড়ি থেকে সম্মোন্ধ গিয়েছে বলে অনেক খুশি ছিল তারা। আজকে বিয়ের কথা বললেও রাজি হবে। তাছাড়া মাহদির মতিগতির ঠিক নেই। রাত পার হলেই আবার মত বদলাতে পারে। মেয়ের বাড়ি কাছেই আছে। সমস্যা হবে না। তুমি বাড়ির সবাইকে কেনাকাটা শেষ করতে বলো সন্ধ্যার আগেই।”<br />
<br />
ভদ্রমহিলা মাথা নেড়ে সম্মতি দিলেন। কিছু একটা ভেবে বললেন,<br />
“আমার মনে হচ্ছে, আপনার বাউন্ডুলে নাতি বিয়েটাকে ছেলেখেলা ভাবছে। ভাবাটা অস্বাভাবিক না। ও তো এমনই।”<br />
<br />
আফসানা বেগম সোফায় হেলান দিয়ে আস্তে করে চোখ বুজে বললেন,<br />
“বিয়ের বন্ধনের ভিত খুব মজবুত হয় বউমা। মরার আগে মাহদির একটা গতি করে দিয়ে যেতে চাই। ওকে একটু সংসারি দেখে যেতে চাই। খুব চিন্তা হয় আমার ছন্নছাড়া নাতিটার জন্য।”<br />
<br />
রান্নাঘর থেকে মাহদির বড় চাচি এসে দাঁড়ায় সেখানে। শ্বাশুড়ির কথায় মুখ ঝামটায়। তাচ্ছিল্যের সুরে বিড়বিড় করে,<br />
‘ওই মাহদি করবে সংসার! যেখানে সেখানে গু’ন্ডামি করে বেড়ায়। সারাদিন বাইরের মানুষদের পি’টিয়ে এসে রাতে পি’টা’বে বউ। দু'দিন যেতে না যেতেই দেখব বউ পালাইছে।’<br />
<br />
.<br />
রাত ৮ টায় বাড়ির মুরুব্বিরা রেডি হয়ে মাহদির জন্য অপেক্ষা করছে। মুরুব্বি বলতে মাহদির বড় চাচা আর তার কিছু বড় ভাইয়েরা আছে। মাহদির বাবা-মা আর দাদা বেঁচে নেই। ছোট চাচা আপাতত ব্যবসার কাজে দেশের বাইরে আছেন।<br />
এদিকে মাহদি বাড়িতে নেই। এটা নতুন নয়। দিনের ১ ঘণ্টাও বাড়িতে থাকেনা সে। শুধু রাতটুকু পার করতে বাড়ি আসে। মাঝে মাঝে তো রাতেও আসেনা। মাহদির বড় চাচা শিকদার জুনায়েদ মাহদির ফোনে পুরো ২০ বার কল দিয়েছে। কিন্তু কল রিসিভ হয়নি। বরং শেষ দু’বার কল কেটে দিয়েছে মাহদি। ভীষণ চটে গিয়েছেন ভদ্রলোক। মাহদিকে কয়েকটা গালিও দিয়ে দিয়েছে এরকম স্বাভাবের জন্য। <br />
অতঃপর সকলের বিরক্তি কমাতে মাহদি ৪৫ মিনিট পর বাড়ির সামনে এসে পৌঁছায়। বাড়ির গাড়ির পাশে মাহদি তার বাইক থামিয়ে মাথার হেলমেট খোলে। শিকদার জুনায়েদ রাগান্বিত স্বরে বলেন,<br />
<br />
“তোমার কমনসেন্স নেই? কতবার কল দিয়েছি তোমাকে? আমার কল রিসিভ না করে কেটে দিয়েছ কোন সাহসে?”<br />
<br />
মাহদি বিরক্তি কণ্ঠে বলে,<br />
“কোনো কমনসেন্স ওয়ালা মানুষ কল রিসিভ না হওয়ার পরও বারবার কাউকে কল দেয় না চাচা।”<br />
<br />
শিকদার জুনায়েদ রাগে কাঁপতে লাগলেন। এই বেয়ারা ছেলের কোনো কাজে ইনভলভ হতে তার বিন্দুমাত্র ভালো লাগে না। শুধুমাত্র মায়ের মুখের উপর কথা বলতে পারে না বলে মুখ বুজে অনেককিছু সহ্য করতে হয়। রাগান্বিত স্বরে বলেন,<br />
<br />
“আমরা তোমার জন্য কখন থেকে অপেক্ষা করছি, কোনো আইডিয়া আছে তোমার?”<br />
<br />
মাহদি ভাবলেশহীনভাবে বলে,<br />
“মাহাদের বউ চাই আপনাদের। অপেক্ষা আপনারা করবেন না তো কে করবে? আমি? আজব!”<br />
<br />
শিকদার জুনায়েদ পাল্টা আরও কিছু বলতে চাইল, কিন্তু মাহদির ছোট চাচার ছেলে সাদ তার বড় আব্বাকে কোনোরকমে সামলে বাকি ভাইরা সহ ঠেলেঠুলে গাড়িতে বসিয়ে দিল। নয়তো এই রাস্তায় চাচা ভাতিজির মাঝে এক ঘূর্ণিঝড় বয়ে যাবে। শিকদার জুনায়েদ গাড়ির মাঝে বসেই নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা চালালেন। সহ্যের একটা সীমা থাকে। যেটা মাহদি বরাবরের মতোই ক্রস করল। বড় ভাই একটা জঙ্গল রেখে গেছে তাদের সংসারে। <br />
<br />
সাদ মাহদির পাশে এসে দাঁড়ায়। বাড়তি কথা বলে না। নয়তো মাহদির বিয়ে থেকে মত ঘুরে গেলে তাদের দাদিজান আরেক কান্ড বাঁধাবেন। এসব ঝামেলা এড়িয়ে বলল,<br />
“এই টি-শার্ট, প্যান্ট পরেই যাবি?”<br />
<br />
মাহদি কপাল কুঁচকে বলে,<br />
“তো কি পরব?”<br />
<br />
সাদ খেয়াল করল, মাহদির কালো হাফ হাতা টি-শার্ট হালকা কুঁচকে আছে। কালো কার্গো প্যান্টে ধুলো লেগে আছে। আবার কোথায় কি ঘটিয়ে এসেছে কে জানে! তবে মাহদির ড্রেসআপ এটাই। কিন্তু বিয়ে বাড়িতে এভাবে গেলে ব্যাপারটা ভালো দেখাবে না। অতঃপর বলে,<br />
<br />
“তোর জন্য শেরওয়ানি…..”<br />
<br />
সাদকে শেষ করতে না দিয়ে আবারো মাথায় হেলমেট পরতে পরতে মাহদি শক্ত গলায় তাড়া দেয়,<br />
<br />
“ভাই, যদি চাও এই বাড়ি নতুন বউ আসুক, তাহলে টাইম লস কর না। যেকোনোমুহূর্তে চলে যাবো। এরপর বিয়ের জন্য ইহজীবনে আর আমাকে পাবেনা।”<br />
<br />
সাদ তড়িঘড়ি করে ড্রাইভিং সিটে উঠে বসে। মাহদি টার বিশ্বাস নেই। কি আর করার! এভাবেই বিয়ে হোক। যা তা করে বিয়ে তো হচ্ছে, এরপর কি হবে কে জানে! সাদ মাহদির চেয়ে এক বছরের বড়। মাহদির সাথে তার ভালোই ভাব বলা যায়। একমাত্র তার সাথেই দু'দন্ড বসে কথা বলে মাহদি। <br />
কিছু একটা ভেবে সাদ জানালা দিয়ে মাথা বের করে বলে,<br />
<br />
“মাহদি তুই তো বিয়ে করতে যাচ্ছিস। আজ অন্তত বাইক রেখে আমাদের গাড়িতে আয়।”<br />
<br />
মাহদি বাইক স্টার্ট দিয়ে সাদের বরাবর গাড়ির কাছে এসে বাইক থামায়৷ ঘাড় ঘুরিয়ে সাদের দিকে চেয়ে হেলমেটের আড়াল থেকে গম্ভীর গলায় বলে,<br />
<br />
“তুমি তোমার ছোট ভাইয়ের বিয়েতে ফুল ড্রেসের সঙ্গ ছাড়তে পারলে আমি আমার বাইকের সঙ্গ ছাড়ছি।”<br />
<br />
সাদ চোখমুখ কুঁচকে তাকালো। কি শ'য়তান ছেলে। সে ভালোর জন্য বলল, আর এ কোন কথা কোথায় নিয়ে গেল। <br />
গাড়ির ভেতরে বসা শিকদার জুনায়েদ মাহদির কথাটা শুনতে পেয়েছে। দু'হাত মুষ্টিবদ্ধ করে বিড়বিড় করে উচ্চারণ করল,<br />
‘বে’হায়া ছেলে!’<br />
<br />
.<br />
ঘড়ির কাটা তখন রাত ১২ টার ঘরে। পরিপাটি একটি ঘরের বিছানার মাঝে বসে আছে মেধা। গায়ে লাল রঙের বেনারসি। ছেলের বাড়ি থেকে গত দু'দিন আগে তাকে দেখতে গিয়েছিল। মেধার বিয়েতে দ্বিমত ছিল না। বাবা নেই তার। মা, বড় আপা আর সে এই তিনজনকে নিয়েই তাদের সংসার। ছেলের বাড়ি থেকে তাকেই পছন্দ করেছিল। কিন্তু আজ হঠাৎ দুপুরে জানায়, বিয়ে আজকেই হবে। এত ভালো ঘর থেকে সম্মোন্ধ গিয়েছে, এজন্য মা কোনো হম্বিতম্বি ছাড়াই রাজি হয়ে গিয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর অনেক দামি দামি জিনিস তাদের বাড়ি পাঠানো হয়, যা দিয়ে মেধা তার আপার সাহায্য নিয়ে যেটুকু পেরেছে সেজেছে। মেধা ভেবেছিল বড় বাড়ির বউ হবে, তার মানে নিশ্চয়ই খুব ধুমধাম করে বিয়ে হবে তার। সে তার বিয়েতে খুব সাজবে, খুব মজা করবে। কিন্তু সেসব কিছুই হলো না। কেমন মরা বাড়ির মতো করে বিয়ে পড়িয়ে আনলো তাকে। স্বামীকে পিছন থেকে এক নজর দেখেছিল মেধা, আর নামটা জানে। এখন তার জন্য ঘরে বসে বসে অপেক্ষা করছে। কিন্তু এই বাড়িতে পা রাখার পর মেধার কানে কিছু অদ্ভুত কথা আসে। একজন আধ বয়সী ভদ্রমহিলা অন্যজনকে বলছিল,<br />
<br />
‘মাহদি সারাদিন গু'ন্ডামি করেই দিন পার করে। বউকে মে'রে কালকেই না বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়!’<br />
<br />
যে এই কথা বলেছে, সেই ভদ্রমহিলা এই বাড়িরই সদস্য। কিন্তু মেধা প্রথমদিনই চিনতে পারেনি, উনি সম্পর্কে তার কি হয়! তবে ওই কথা শোনার পর থেকে মেয়েটার একটু ভয় লাগছে। সত্যি সত্যি তার স্বামী এসেই যদি তাকে ধুপধাপ মেরে দেয়! মেধা ঘামতে শুরু করল। না না সে মার খাবে না। অতঃপর ধীরে ধীরে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ায়। ঘরে অল্প পাওয়ারের একটি লাইট জ্বলছে। অরার সর্বপ্রথম চোখে পড়ল, দরজার কাছটায় টেবিলের উপর ঝুড়িভর্তি ফলের মাঝখানে একটি চা’কু রাখা। মেয়েটা ব্যস্ত পায়ে সেদিকে এগিয়ে গিয়ে চা’কু হাতে তুলে নেয়। এরপর আবারো বিছানার দিকে যেতে নেয়, তখনই দরজা খোলার শব্দ কানে আসে। কেউ একজন ঘরে এসেছে, বেশ বুঝল সে। মেধা এক মুহূর্তও অপেক্ষা না করে উল্টো ঘুরে একদম তার সামনে দাঁড়ানো লোকটার গলার দিকে হাতের চা'কু ধরে তেজ নিয়ে বলে,<br />
<br />
“একদম আমাকে মা’রতে আসবে না। আমাকে ছোট মানুষ ভেবে ভুল করবে না। আমি কখনোই বসে বসে তোমার মা'র খাবো না। তাই সাবধান করছি। সাবধান হলে তোমাকে ছেড়ে দিব নয়তো না।”<br />
<br />
মেধার কণ্ঠে মেকি তেজ থাকলেও, কণ্ঠস্বর কাঁপছিল, চোখেমুখেও ভীতি মেয়েটার। এদিকে ঘটনাটি মাহদির জন্য অপ্রত্যাশিত হলেও, সে একদম নির্বিকার। না চমকালো, না ভড়কালো, না অবাক হলো! বরং চোখেমুখে চরম বিরক্তি আর রাগের ছায়া। <br />
বিয়ে পড়ানো শেষে মাহদি সাদকে বলেছিল, <br />
‘ভাই এবার তোমাদের বাড়ির বউকে তোমরা নিয়ে যেও। আমার কাজ শেষ।’<br />
এরপর মাহদি মেধাদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। তার এহেন কান্ডে অবশ্য শিকদার জুনায়েদ আরও কয়েক দফা মাহদিকে কথা শুনিয়েছিল, কিন্তু মাহদির সেসব পাত্তা দেওয়ার সময় থাকলে তো! <br />
মাহদি মেধাকে একবার বিয়ে বাড়িতেই দেখেছিল। তাই চিনতে অসুবিধা হয়নি এখন।  <br />
<br />
মেধা দু'পা উঁচু করে মাহাদের গলার কাছটায় চা'কু ধরতে চাইলেও সে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। গলা থেকে সামান্য নিচের দিকে চা'কু ধরে রাখা। মেয়েটা সেদিকে খেয়াল করল না। সে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল মাহদির পানে। লোকটার গায়ের রঙ বেশ ফর্সা। কিন্তু চোখে লাগছে, মাহদির চোখের সোনালি মণি দু'টো। <br />
<br />
মেধার কান্ডে মাহদির ইচ্ছে করল মেয়েটাকে ঠাটিয়ে দু'টো থাপ্পড় লাগাতে। কিন্তু ঝামেলা এড়াতে নিজেকে সংযত করল। এর উপর আবার মেধাকে নিজের দিকে এমন হ্যাবলার মতো তাকিয়ে থাকতে দেখে মাহদির রাগের সাথে সাথে বিরক্তির মাত্রা বাড়লো বই কমলো না। সারাদিন ছোটাছুটি করে ফালতু ঝামেলা সামনে এলে মাথা গরম হয়ে যায়। কিন্তু সে আপাতত এই মেয়েটাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে পাশ কাটিয়ে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। <br />
মেধা সাথে সাথে উল্টো ঘুরে মাহদির দিকে তাকায়। চোখে পড়ল, মাহদির ঘাড় সমান সিলকি সোজা চুলের দিকে। সামনে থেকে অল্প কিছু চুল নিয়ে ছোটোখাটো একটি ঝুঁটি বাঁধা। যেটা পিছনদিকে হেলে আছে। মেধা অবশ্য এতে অবাক হলো না। কারণ সে যখন তার বাড়িতে পিছন থেকে তার স্বামীকে দেখেছিল, তখনও চুলের এই ছিরিই ছিল। তবে চেহারা তো দেখেনি। অতঃপর চটপট প্রশ্ন করে,<br />
<br />
“তোমার নাম কি মাহদি?”<br />
<br />
মাহদি তার ডান হাত থেকে সোনালি রঙের হাতঘড়িটা খুলে মাত্র টেবিলের উপর রেখেছে তখনই মেধার প্রশ্নে কপালে ভাঁজ পড়ে তার। মেয়েটা তাকে তুমি বলে সম্মোধন করল না? এত ভাবলো না সে। গম্ভীর গলায় ছোট একটি উত্তর করে,<br />
<br />
“হুম।”<br />
<br />
“তার মানে তুমিই আমার স্বামী?<br />
<br />
মাহদির কপালের ভাঁজ গাঢ় হতে শুরু করছে। অত্যধিক বিরক্তির কারণ এটা। <br />
মাহদি চুপ থাকলো। মেধা আবারো বলল, <br />
<br />
বুঝেছি, তুমি হয়ত বলতে লজ্জা পাচ্ছ। কিন্তু আমি বুঝতে পেরেছি তুমিই আমার স্বামী। এসব থাক। আমার তোমাকে পছন্দ হয়নি।”<br />
<br />
মেধার প্রথম কথায় মাহদির রাগ হলেও শেষ লাইনটা শুনে যেন সে বেশ মজা পেল। ছোট করে বলল,<br />
<br />
“আচ্ছা।”<br />
<br />
মেধা ফটাফট বলে,<br />
“আচ্ছা মানে? তোমাকে আমার সত্যিই পছন্দ হয়নি। অপছন্দের মানুষের সাথে সংসার করা যায় না-কি?”<br />
<br />
মাহদির ভাবলেশহীন স্বর,<br />
“কর না।”<br />
<br />
মেধা ভ্রু কুঁচকে বলে,<br />
“তুমি সংসার করবে না?”<br />
<br />
মাহদির একই কণ্ঠ, <br />
“না।”<br />
<br />
মেধা অবাক হয়ে বলে,<br />
“না? তাহলে বিয়ে করলে কেন?”<br />
<br />
মাহদির ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে। এই মেয়ে এত কথা বলছে কেন! অসহ্য কণ্ঠে বলে,<br />
<br />
“কখন থেকে আমাকে তুমি তুমি করে সম্মোধন করছ। তুমি জানো আমার বয়স কত?”<br />
<br />
কথাটা বলতে বলতে মাহদি মেধার একদম সামনে এসে দাঁড়ায়। মেধা সরল মনে বলে,<br />
<br />
“কত তোমার বয়স? যদিও দেখে বোঝা যাচ্ছে, তুমি আমার চেয়ে অনেক বড় হবে। কিন্তু সঠিক বয়স জানলে বোঝা যাবে তুমি আমার চেয়ে ঠিক কত বছরের বড়!<br />
<br />
মাহদি বিরক্ত চোখে চেয়ে আছে। এটা মেয়ে না ভাঙা রেডিও? মেধা আবারো বলে,<br />
<br />
আসলে আমি সবাইকে অনেকবার জিজ্ঞেস করেছিলাম তোমার বয়স কত। কিন্তু কেউ বলেনি৷ আর আমার বয়স ১৯ বছর। এবার তুমি বলো, তোমার বয়স কত! <br />
<br />
মাহদি চিবিয়ে চিবিয়ে উচ্চারণ করল,<br />
“২৯।”<br />
<br />
মাহদির বয়স শুনতেই মেধা চট করে আঙুলে গুণতে শুরু করল। ছোট থেকেই এটা তার অভ্যাস। কিছুক্ষণ পর মাথা তুলে উৎফুল্ল কণ্ঠে বলে,<br />
“তুমি আমার চেয়ে দশ বছরের বড়।”<br />
<br />
মেধাকে দেখে মনে হচ্ছে, সে কোনো যুদ্ধ জয় করে ফেলেছে। মাহদির কণ্ঠে তীব্র রাগ ঝরছে,<br />
“নিজের চেয়ে এত বছর বয়সী বড় একজনকে কিভাবে তুমি সম্মোধন করছ, সেন্স নেই তোমার?”<br />
<br />
মেধা কপালে ভাঁজ ফেলে বলে,<br />
“কেন, তুমি বললে কি হবে? আমি তো সবাইকে তুমি করেই বলি।”<br />
<br />
মাহদি দাঁতে দাঁত চেপে বলে,<br />
“যা ইচ্ছা বলো। কিন্তু তুমি আমার সামনে আর একটা কথাও বলবে না। আমি এখন ঘুমাবো।”<br />
<br />
কথাটা বলে মাহদি হনহন করে এগিয়ে গিয়ে ঘরের সব আলো অফ করে দেয়। এরপর গায়ের টি-শার্ট খুলে বিছানার এক কোণায় ছুড়ে ফেলে বিছানার উপর ধপ করে উল্টো হয়ে শুয়ে পড়ে। <br />
ফ্রেশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। আসার পথে সাদ নিজের ঘরে টেনে নিয়ে গিয়েছিল মাহদিকে। বিয়ের ব্যাপারে কিসব আলতু ফালতু জ্ঞান দিচ্ছিল। মাহদি এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে আরেক কান দিয়ে বের করে দিয়েছে। ওসব কথা মানা তো দূর, শুনলেই মেজাজ গরম হয়। তবুও বড় ভাই সাদের কবল থেকে ছুটতে না পেরে গাট্টি মেরে কতক্ষণ বসে ছিল! সাদ তার বয়সে বড় হলেও, দু'ভাই দু'ভাইকে বন্ধুর মতোই ট্রিট করে। শুধু সম্মোধনের সময় মাহদি সাদকে ভাই আর তুমি বলে এটুকুই। <br />
এরপর সাদের বেকার কথাবার্তা শেষ হলে মাহদি সাদের ঘর থেকেই শাওয়ার নিয়ে ওখান থেকেই একটি টি-শার্ট আর প্যান্ট পরে একেবারে আসে নিজ ঘরে।<br />
<br />
মেধা ঘরের চারিদিকে চোখ বুলায়। কৃত্রিম আলোর অভাবে ঘরটা ঘুটঘুটে অন্ধকার হওয়ার কথা থাকলেও জোৎস্নার আলোর ছিটেফোঁটা ঘরের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে। মেধা চেঁচামেচি না করে দ্রুত এগিয়ে এসে বিছানার কাছটায় মাহদির পাশে দাঁড়িয়ে বলে,<br />
<br />
“এ কি তুমি ঘুমাচ্ছো কেন? নতুন বউকে ফেলে কেউ ঘুমায় না-কি?<br />
<br />
মাহদির সাড়া নেই। মেধা হাতের চা’কুটি বেড সাইডের টেবিলের কোণায় রেখে দু'হাত কোমরে রেখে বলল,<br />
ঠিক আছে ঘুমাও। এমনিতেও আমি তোমার সাথে সংসার করব না।”<br />
<br />
কথাটা বলে কিছু একটা ভেবে তাকালো মাহদির দিকে। ভাবছে এই বাড়ির লোক যে বলল, মাহদি তাকে মারবে। কই মাহদি তো মারলো না! অতঃপর অরা বিড়বিড় করল,<br />
<br />
‘আরেকটু দেখি তোমার সাথে সংসার করা যায় কি-না!’<br />
<br />
কথাটা বলে মেধা মাহদির দিকে ঝুঁকে জিজ্ঞেস করল,<br />
<br />
“তুমি কি ঘুমিয়েছো?<br />
<br />
মাহদির সাড়া নেই। মেধা অপেক্ষা করল। ফিরতি উত্তর না পেয়ে হঠাৎ ভাবুক ভঙ্গিতে বলল,<br />
আচ্ছা তুমি না-কি যেখানে সেখানে গু’ন্ডামি করে বেড়াও!”<br />
<br />
মেধা কথাটা বলতে না বলতেই মাহদি বেড সাইড টেবিলের উপর থেকে একটি কাঁচের জগ নিয়ে জোরেসোরে টেবিলের কোণায় আ’ঘাত করে জগটি ভেঙে মেধার দিকে গেড়ে দেওয়ার ভঙ্গি করে রক্তচক্ষু দৃষ্টি নিক্ষেপ করে হুঁশিয়ারি দেয়,<br />
<br />
গু’ন্ডাই তো আমি। এখন সেটার প্রমাণও দিয়ে দিব তোমাকে। ৩৬৫ দিনে পুরো বাড়ির লোক আমার মাথার যা খেতে পারেনি, তুমি মাত্র কয়েক মিনিটে আমার সেই মাথা খেয়ে ফেলেছ। এবার দেখো আমার গু’ন্ডামি।<br />
<br />
মেধা ভয়ের চোটে মেঝেতে ঠাস করে পড়ে গিয়েছে। চোখেমুখে বিস্ময় মেয়েটার। মনে হচ্ছে তার দিকে বড়সড় কোনো দৈত্য তেড়ে আসছে। মনে হবে না-ই বা কেন! এমন বিশালদেহী লোকের এত রাগান্বিত লুক দেখলে ছোট বাচ্চারা বোধহয় এতক্ষণে কেঁদে দিত। মেধা তার ভয়ের কান্না বহুক'ষ্টে চেপে রাখলেও, গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে এসেছে মেয়েটার। ভীত কণ্ঠে আওড়ায়,<br />
<br />
“না না এমন কর না। আমি আর তোমার মাথা খাবো না।”<br />
<br />
 <br />
<br />
 <br />
?গল্পটা একদমই অল্প কয়েকটি পর্বের মধ্যে শেষ হবে। আর হারাচ্ছি না। যাই করি না কেন, পেইজে গল্প সবসময়ই চলবে ইনশাআল্লাহ। এটা শেষ হলে হৃদয় রজনী আসবে অথবা এটার মাঝেই চলে আসবে ইনশাআল্লাহ। রানিং-এ পুরোপুরি ফিরলাম। সাথে থাইকেন। গল্পটা কেমল লাগল, অবশ্যই জানাবেন।</span></div><br /><!-- start: postbit_attachments_attachment -->
<div style="padding:4px 0px;"><span class="inline-block vmiddle"><!-- start: attachment_icon -->
<img src="https://forum.xgossip.fun/images/attachtypes/image.png" title="JPG Image" alt=".jpg" />
<!-- end: attachment_icon --></span>
<a  class="vmiddle inline-block" href="attachment.php?aid=24" target="_blank">FB_IMG_1789621681109.jpg</a> <span class="smalltext float_right">Size: <span class="inline-block vmiddle">88.21 KB</span>&nbsp;&nbsp;Downloads: <span class="inline-block vmiddle">1</span></span>
</div>
<!-- end: postbit_attachments_attachment -->]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[গল্প:অঘোষিত হৃদয়সন্ধি (Writer: Raisa Mehran)]]></title>
			<link>https://forum.xgossip.fun/showthread.php?tid=8</link>
			<pubDate>Tue, 01 Sep 2026 10:36:59 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="https://forum.xgossip.fun/member.php?action=profile&uid=1">X Man</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">https://forum.xgossip.fun/showthread.php?tid=8</guid>
			<description><![CDATA[<div style="text-align: center;" class="mycode_align">"আমার বউ আমাকে কিডন্যাপ করে বিয়ে করেছে!! কী করে ভুলে যাই বলো তো?"<br />
<br />
হাসপাতালের করিডোরে মানুষের আনাগোনার মাঝে আচমকা এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা নেমে এল। কালো স্যুট-প্যান্টে মোড়ানো সুঠাম শরীরের যুবক ফারিশ নওয়ান। খয়েরি চোখের মণি আর চোখে ঝকঝকে চশমাটা তাকে এক আলাদা আভিজাত্য দিয়েছে। মুখে হালকা চাপ দাড়ি আর ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা সেই বাঁকা হাসিটা আরিশার বিরক্তির কারণ।ফারিশের কণ্ঠস্বরে একরাশ দুষ্টুমি। অথচ তার হাত বেয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে ফ্লোরে। সেই রক্তের দিকে তাকিয়ে আরিশার কলিজাটা যেন মোচড় দিয়ে উঠল, কিন্তু মুখে সে কঠোরতা বজায় রাখল। আরিশা জবাব দিল—<br />
<br />
"ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন, কিডন্যাপ আমি করলেও বিয়েটা আপনি করেছেন। তাও আবার রাগের মাথায়!"<br />
<br />
ফারিশ আবারও হাসল। যেন এই মুহূর্তটাই সে উপভোগ করছে। অবশ্য আরিশাকে জ্বালাতে তার ভালোই লাগে। <br />
<br />
"আরেহ, বিয়ে করতেই তো কিডন্যাপটা করেছিলে, নাকি?"<br />
<br />
আরিশার বিরক্তি এবার চরমে পৌঁছাল। এই মানুষের যুক্তির সামনে দাঁড়ানো দায়। তিক্ত কণ্ঠে সে বলল,<br />
<br />
 "দেখুন,এখানে এখন অনেক মানুষ!!সবার সামনে এখন এই বিষয় নিয়ে কথা না বলাই ভালো।আফটারঅল আমাদের বিয়ের ব্যাপারে কেউই জানে না!!"<br />
<br />
আরিশার কথায় ফারিশ পুনরায় বাঁকা হাসে। স্থির দৃষ্টি আরিশার চোখে নিবন্ধ করে সে শান্ত স্বরে বলল,<br />
<br />
 "হাত থেকে রক্ত পরছে ব্যান্ডেজ করো!"<br />
<br />
আরিশা অপ্রস্তুত হয়ে তুতলিয়ে উঠল,<br />
<br />
 "আমি পারবো না!!আঙ্কেল আই মিন স্যারকে ডেকে আনছি।স্যার করে দিবে!!"<br />
<br />
আরিশার কথা পছন্দ হয় না ফারিশের। খানিকটা চাপা স্বরে বলে, <br />
<br />
"আই সেইড ইউ দ্যাট মিনস অনলি ইউ!!"<br />
<br />
আরিশা নিজেকে সরিয়ে নিতে চাইল, কিন্তু পিছন থেকে ফারিশের কণ্ঠস্বর তাকে থামিয়ে দিল,<br />
<br />
 "হাত থেকে কিন্তু রক্ত পড়ছে! খুব বেশি!"<br />
<br />
আরিশার মনটা নরম হতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই তার এক ক্লাসমেট এগিয়ে এসে বলল,<br />
<br />
 "আমি ব্যান্ডেজ করে দিই স্যার?"<br />
<br />
ক্লাসমেটের অতি-উৎসাহ দেখে আরিশার মাথায় যেন আগুন জ্বলে উঠল। সে কড়া গলায় বলল,<br />
<br />
 "তোর পড়া কি শেষ? তুই কি ডাক্তার হয়ে গেছিস?"<br />
<br />
প্রতিপক্ষও দমে যাওয়ার পাত্রী নয়, সে পাল্টা উত্তর দিল, <br />
<br />
"সামান্য ব্যান্ডেজ করতে ডাক্তার হতে হয় না।তাছাড়া তুইও তো এখনও স্টুডেন্টই!"<br />
<br />
তর্কাতর্কির মাঝে আরিশা দেখল ফারিশ উঠে দাঁড়াচ্ছে চলে যাওয়ার জন্য। এক মুহূর্তের দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে  আরিশা ফারিশের হাত ধরে হিড়হিড় করে বসিয়ে দিল তাকে। ফারিশের ঠোঁটে তখন বাঁকা হাসি।<br />
<br />
"জামা খুলুন!" <br />
<br />
আরিশার হুকুম।ফারিশ অবাক হওয়ার ভান করে চশমাটা নাকের ওপর ঠিক করে বলল,<br />
<br />
 "মানে কী? এভাবে সবার সামনে...?"<br />
<br />
আরিশা দাঁতে দাঁত চেপে বলল, <br />
<br />
"আপনার বাহুতে আঘাত লেগেছে। ব্যান্ডেজ করতে হলে শার্ট তো সরাতেই হবে। আপনি যা ভাবছেন তা নয়!"<br />
<br />
সবার উৎসুক দৃষ্টি এড়িয়ে  আরিশা ফারিশকে ভেতরের কেবিনে নিয়ে গেল। খুব যত্ন করে, পরম মমতায় ক্ষতের চিকিৎসা করতে লাগল সে। ফারিশ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার এই কিডন্যাপার বউটার দিকে। কাজ শেষ করে  আরিশা উঠে দাঁড়িয়ে বলল, <br />
<br />
"বিশ্রাম নিন। আমি স্যারকে বলছি আপনাকে দেখে যেতে। আমার ক্লাস আছে।"<br />
<br />
"রাতে কল করব। ধরো কিন্তু!"<br />
<br />
ফারিশের দাবিতে অধিকার ছিল।আরিশা কোনো উত্তর না দিয়ে হনহনিয়ে বেরিয়ে গেল কেবিন থেকে। ফারিশ তার যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল। মেয়েটা বড্ড জেদি!! ফাইন ফাইন!! <br />
<br />
_______<br />
<br />
আরিশা ধরাম করে শব্দ করে দরজাটা খুলে। দরজা খোলার শব্দে ডাক্তার নাসির লাফিয়ে উঠেন। ঠিকই বুঝতে পারে সেই চেনা পরিচিত ঝড় এসে হাজির। <br />
<br />
" স্যার..আই মিন আঙ্কেল!! "<br />
<br />
আরিশার ডাকে ডাক্তার নাসির পুনরায় লাফ মেরে উঠে বসেন। <br />
<br />
" আঙ্কেল!! তোমার ছেলে কিন্তু এবার বাড়াবাড়ি করছে!! সারাক্ষণ আমাকে বিরক্ত করা!! আমি কিন্তু আর সহ্য করবো না!! পরে কিছু একটা হয়ে গেলে কিন্তু আমাকে দোষ দিতে পারবে না!! "<br />
<br />
আরিশার কথায় ডা নাসির চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আরাম করে চা খেতে খেতে বলে, <br />
<br />
" আরে রিলাক্স.... "<br />
<br />
কথাটা শেষ করার আগেই  আরিশা টেবিলে জোরে বারি দিয়ে উঠে। সেই বারির শব্দে ডা নাসির আবারও লাফিয়ে সোজা হয়ে বসে। <br />
<br />
" তোমার রিলাক্সের গুষ্টি কিলাই!! তোমার ছেলে যদি আমাকে আর একবারও বিরক্ত করে তবে কিন্তু তোমার খবর আছে। সব রাগ তোমার উপর ঝাড়বো!! "<br />
<br />
" বুঝেছি, বুঝেছি। আজকেই বাসায় গিয়ে ওকে শায়েস্তা করবো। তুই এবার শান্ত হ!! "<br />
<br />
আরিশা এবার জোরে জোরে নিঃশ্বাস নেয়। <br />
<br />
" ক্লাস আছে। আমি গেলাম!! "<br />
<br />
" আমার দেওয়া পড়াটা শিখেছিস!! "<br />
<br />
পিছন থেকে চোখ ছোট ছোট করে মি নাসির জিজ্ঞাসা করে। <br />
<br />
" মানে আঙ্কেল,জানো তো, তোমার ছেলে ফাজিল হলেও তুমি কিন্তু অনেক ভালো!! "<br />
<br />
মি নাসির এবার আরিশার কান টেনে ধরে। <br />
<br />
" চালাকী করা হচ্ছে তাই না!! "<br />
<br />
" আহহ,সরি আঙ্কেল।কাল ঠিকই শিখে আসব। এখন আমি গেলাম!! "<br />
<br />
মি নাসির থেকে ছাড়া পেয়ে কোনোরকম পালায় আরিশা। মি নাসির হেসে উঠে। <br />
<br />
" তুমি এভাবে আমার কিডন্যাপারের কান টানতে পারো না!! "<br />
<br />
বুকে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে কথাটা বলে ফারিশ। <br />
<br />
" লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লাবিল্লাহ!! তুই এখানে কিভাবে?? "<br />
<br />
মি নাসির চমকে পিছনে তাকিয়ে বলে। ফারিশ বাবার কথায় পাত্তা না দিয়ে তীক্ষ্ণ নজরে এখনও তার দিকে তাকিয়ে। <br />
<br />
" তোমাকে ইদানীং কেন জানি আমার সন্দেহ হয়!!খুববব বেশি!!"<br />
<br />
ছেলের কথায় মি নাসির শুকনো ঢোক গিলে। ছেলেকে কিডন্যাপের পিছনে যে তারও হাত ছিল এটা কোনোভাবে জেনে যায়নি তো!! <br />
<br />
"  এনিওয়ে, এক কাপ কফি দিতে বলো তো!! মাথাটা বেশ ধরেছে!! "<br />
<br />
কথাটা বলতে বলতেই চেয়ারে গিয়ে বসে চশমাটা খুলে টেবিলে রাখে ফারিশ। মি নাসির হতাশার দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে। এই দুইজনের জ্বালায় তার নাজেহাল দশা। <br />
<br />
( অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ?) <br />
<br />
<br />
 <br />
</div>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<div style="text-align: center;" class="mycode_align">"আমার বউ আমাকে কিডন্যাপ করে বিয়ে করেছে!! কী করে ভুলে যাই বলো তো?"<br />
<br />
হাসপাতালের করিডোরে মানুষের আনাগোনার মাঝে আচমকা এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা নেমে এল। কালো স্যুট-প্যান্টে মোড়ানো সুঠাম শরীরের যুবক ফারিশ নওয়ান। খয়েরি চোখের মণি আর চোখে ঝকঝকে চশমাটা তাকে এক আলাদা আভিজাত্য দিয়েছে। মুখে হালকা চাপ দাড়ি আর ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা সেই বাঁকা হাসিটা আরিশার বিরক্তির কারণ।ফারিশের কণ্ঠস্বরে একরাশ দুষ্টুমি। অথচ তার হাত বেয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে ফ্লোরে। সেই রক্তের দিকে তাকিয়ে আরিশার কলিজাটা যেন মোচড় দিয়ে উঠল, কিন্তু মুখে সে কঠোরতা বজায় রাখল। আরিশা জবাব দিল—<br />
<br />
"ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন, কিডন্যাপ আমি করলেও বিয়েটা আপনি করেছেন। তাও আবার রাগের মাথায়!"<br />
<br />
ফারিশ আবারও হাসল। যেন এই মুহূর্তটাই সে উপভোগ করছে। অবশ্য আরিশাকে জ্বালাতে তার ভালোই লাগে। <br />
<br />
"আরেহ, বিয়ে করতেই তো কিডন্যাপটা করেছিলে, নাকি?"<br />
<br />
আরিশার বিরক্তি এবার চরমে পৌঁছাল। এই মানুষের যুক্তির সামনে দাঁড়ানো দায়। তিক্ত কণ্ঠে সে বলল,<br />
<br />
 "দেখুন,এখানে এখন অনেক মানুষ!!সবার সামনে এখন এই বিষয় নিয়ে কথা না বলাই ভালো।আফটারঅল আমাদের বিয়ের ব্যাপারে কেউই জানে না!!"<br />
<br />
আরিশার কথায় ফারিশ পুনরায় বাঁকা হাসে। স্থির দৃষ্টি আরিশার চোখে নিবন্ধ করে সে শান্ত স্বরে বলল,<br />
<br />
 "হাত থেকে রক্ত পরছে ব্যান্ডেজ করো!"<br />
<br />
আরিশা অপ্রস্তুত হয়ে তুতলিয়ে উঠল,<br />
<br />
 "আমি পারবো না!!আঙ্কেল আই মিন স্যারকে ডেকে আনছি।স্যার করে দিবে!!"<br />
<br />
আরিশার কথা পছন্দ হয় না ফারিশের। খানিকটা চাপা স্বরে বলে, <br />
<br />
"আই সেইড ইউ দ্যাট মিনস অনলি ইউ!!"<br />
<br />
আরিশা নিজেকে সরিয়ে নিতে চাইল, কিন্তু পিছন থেকে ফারিশের কণ্ঠস্বর তাকে থামিয়ে দিল,<br />
<br />
 "হাত থেকে কিন্তু রক্ত পড়ছে! খুব বেশি!"<br />
<br />
আরিশার মনটা নরম হতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই তার এক ক্লাসমেট এগিয়ে এসে বলল,<br />
<br />
 "আমি ব্যান্ডেজ করে দিই স্যার?"<br />
<br />
ক্লাসমেটের অতি-উৎসাহ দেখে আরিশার মাথায় যেন আগুন জ্বলে উঠল। সে কড়া গলায় বলল,<br />
<br />
 "তোর পড়া কি শেষ? তুই কি ডাক্তার হয়ে গেছিস?"<br />
<br />
প্রতিপক্ষও দমে যাওয়ার পাত্রী নয়, সে পাল্টা উত্তর দিল, <br />
<br />
"সামান্য ব্যান্ডেজ করতে ডাক্তার হতে হয় না।তাছাড়া তুইও তো এখনও স্টুডেন্টই!"<br />
<br />
তর্কাতর্কির মাঝে আরিশা দেখল ফারিশ উঠে দাঁড়াচ্ছে চলে যাওয়ার জন্য। এক মুহূর্তের দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে  আরিশা ফারিশের হাত ধরে হিড়হিড় করে বসিয়ে দিল তাকে। ফারিশের ঠোঁটে তখন বাঁকা হাসি।<br />
<br />
"জামা খুলুন!" <br />
<br />
আরিশার হুকুম।ফারিশ অবাক হওয়ার ভান করে চশমাটা নাকের ওপর ঠিক করে বলল,<br />
<br />
 "মানে কী? এভাবে সবার সামনে...?"<br />
<br />
আরিশা দাঁতে দাঁত চেপে বলল, <br />
<br />
"আপনার বাহুতে আঘাত লেগেছে। ব্যান্ডেজ করতে হলে শার্ট তো সরাতেই হবে। আপনি যা ভাবছেন তা নয়!"<br />
<br />
সবার উৎসুক দৃষ্টি এড়িয়ে  আরিশা ফারিশকে ভেতরের কেবিনে নিয়ে গেল। খুব যত্ন করে, পরম মমতায় ক্ষতের চিকিৎসা করতে লাগল সে। ফারিশ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার এই কিডন্যাপার বউটার দিকে। কাজ শেষ করে  আরিশা উঠে দাঁড়িয়ে বলল, <br />
<br />
"বিশ্রাম নিন। আমি স্যারকে বলছি আপনাকে দেখে যেতে। আমার ক্লাস আছে।"<br />
<br />
"রাতে কল করব। ধরো কিন্তু!"<br />
<br />
ফারিশের দাবিতে অধিকার ছিল।আরিশা কোনো উত্তর না দিয়ে হনহনিয়ে বেরিয়ে গেল কেবিন থেকে। ফারিশ তার যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল। মেয়েটা বড্ড জেদি!! ফাইন ফাইন!! <br />
<br />
_______<br />
<br />
আরিশা ধরাম করে শব্দ করে দরজাটা খুলে। দরজা খোলার শব্দে ডাক্তার নাসির লাফিয়ে উঠেন। ঠিকই বুঝতে পারে সেই চেনা পরিচিত ঝড় এসে হাজির। <br />
<br />
" স্যার..আই মিন আঙ্কেল!! "<br />
<br />
আরিশার ডাকে ডাক্তার নাসির পুনরায় লাফ মেরে উঠে বসেন। <br />
<br />
" আঙ্কেল!! তোমার ছেলে কিন্তু এবার বাড়াবাড়ি করছে!! সারাক্ষণ আমাকে বিরক্ত করা!! আমি কিন্তু আর সহ্য করবো না!! পরে কিছু একটা হয়ে গেলে কিন্তু আমাকে দোষ দিতে পারবে না!! "<br />
<br />
আরিশার কথায় ডা নাসির চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আরাম করে চা খেতে খেতে বলে, <br />
<br />
" আরে রিলাক্স.... "<br />
<br />
কথাটা শেষ করার আগেই  আরিশা টেবিলে জোরে বারি দিয়ে উঠে। সেই বারির শব্দে ডা নাসির আবারও লাফিয়ে সোজা হয়ে বসে। <br />
<br />
" তোমার রিলাক্সের গুষ্টি কিলাই!! তোমার ছেলে যদি আমাকে আর একবারও বিরক্ত করে তবে কিন্তু তোমার খবর আছে। সব রাগ তোমার উপর ঝাড়বো!! "<br />
<br />
" বুঝেছি, বুঝেছি। আজকেই বাসায় গিয়ে ওকে শায়েস্তা করবো। তুই এবার শান্ত হ!! "<br />
<br />
আরিশা এবার জোরে জোরে নিঃশ্বাস নেয়। <br />
<br />
" ক্লাস আছে। আমি গেলাম!! "<br />
<br />
" আমার দেওয়া পড়াটা শিখেছিস!! "<br />
<br />
পিছন থেকে চোখ ছোট ছোট করে মি নাসির জিজ্ঞাসা করে। <br />
<br />
" মানে আঙ্কেল,জানো তো, তোমার ছেলে ফাজিল হলেও তুমি কিন্তু অনেক ভালো!! "<br />
<br />
মি নাসির এবার আরিশার কান টেনে ধরে। <br />
<br />
" চালাকী করা হচ্ছে তাই না!! "<br />
<br />
" আহহ,সরি আঙ্কেল।কাল ঠিকই শিখে আসব। এখন আমি গেলাম!! "<br />
<br />
মি নাসির থেকে ছাড়া পেয়ে কোনোরকম পালায় আরিশা। মি নাসির হেসে উঠে। <br />
<br />
" তুমি এভাবে আমার কিডন্যাপারের কান টানতে পারো না!! "<br />
<br />
বুকে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে কথাটা বলে ফারিশ। <br />
<br />
" লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লাবিল্লাহ!! তুই এখানে কিভাবে?? "<br />
<br />
মি নাসির চমকে পিছনে তাকিয়ে বলে। ফারিশ বাবার কথায় পাত্তা না দিয়ে তীক্ষ্ণ নজরে এখনও তার দিকে তাকিয়ে। <br />
<br />
" তোমাকে ইদানীং কেন জানি আমার সন্দেহ হয়!!খুববব বেশি!!"<br />
<br />
ছেলের কথায় মি নাসির শুকনো ঢোক গিলে। ছেলেকে কিডন্যাপের পিছনে যে তারও হাত ছিল এটা কোনোভাবে জেনে যায়নি তো!! <br />
<br />
"  এনিওয়ে, এক কাপ কফি দিতে বলো তো!! মাথাটা বেশ ধরেছে!! "<br />
<br />
কথাটা বলতে বলতেই চেয়ারে গিয়ে বসে চশমাটা খুলে টেবিলে রাখে ফারিশ। মি নাসির হতাশার দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে। এই দুইজনের জ্বালায় তার নাজেহাল দশা। <br />
<br />
( অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ?) <br />
<br />
<br />
 <br />
</div>]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[গল্প: অযাচিত প্রণয়  (Writer: Sana Sheikh)( সমাপ্ত)]]></title>
			<link>https://forum.xgossip.fun/showthread.php?tid=7</link>
			<pubDate>Tue, 01 Sep 2026 08:46:53 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="https://forum.xgossip.fun/member.php?action=profile&uid=1">X Man</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">https://forum.xgossip.fun/showthread.php?tid=7</guid>
			<description><![CDATA[<div style="text-align: center;" class="mycode_align">কানাডা থেকে খালাতো বোনের বিয়ে খেতে এসে নিজেরই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হবে শুনে থ হয়ে গেছে ইমরান । মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে না তবে মস্তিষ্ক টগবগ করে ফুটছে।<br />
<br />
এয়ারপোর্ট থেকে সোজা ছোট খালার বাড়িতে এসেছে। আর আসার দশ মিনিট পরেই শুনছে বর পালিয়ে গেছে গার্লফ্রেন্ডের সাথে। বর ছাড়া বর যাত্রী কি করতে আসবে ? তারা কল করে তুলির বাবার কাছে মাফ চেয়েছেন । তুলির বাবা এখন কি করবেন ? তার মেয়ের কি হবে ? টেনশনে পেশার লো হয়ে নিচে পড়ে গেছেন। মাথায় পানি ঢেলে ওনাকে কিছুটা স্বাভাবিক করা হয়েছে । কিন্তু একটা কথাও বলছেন না তিনি । রাগে থরথর করে কাঁপছেন শুধু । আদরের মেয়ের সামনে কোন মুখে দাঁড়াবেন তিনি ? কি জবাব দেবেন মেয়েকে ? ওই ছেলেকে সামনে পেলে জ*বাই করবেন তামিম ইকবাল। গার্লফ্রেন্ড নিয়ে পালিয়েই যখন যাবি বিয়ের আগের দিন গেলি না কেনো ? বিয়ের দিন কেনো গেলি ? গার্লফ্রেন্ড আছে তাহলে বিয়েতে রাজী কেনো হয়েছিলি ? বিয়ের আগে বললি না কেনো ? <br />
তুলির মা মিসেস ইয়ানা  স্তব্ধ হয়ে রয়েছেন । <br />
তুলি এখনো এই সবের কিছুই জানে না , বাড়ির ভেতর রয়েছে এখনো , ওকে সাঁজানো হচ্ছে । বিয়ে বাড়ি পুরো শোকসভায় পরিণত হয়েছে । হই হই , রৈ রৈ , ডিজে গান সব থেমে গেছে । <br />
এমন এক মুহূর্তে ইমরানের বাবা মুস্তাফিজুর রহমান বলেন ,<br />
<br />
_ বিয়ে আজকে হবেই ।<br />
<br />
তামিম ইকবাল চোখ তুলে তার দিকে তাকান । <br />
তারপর আর কি ? ইমরানকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে । <br />
<br />
বেচারা এই কথা শোনার পর থেকে সাপের মতো ফোস ফোস করছে । কোন দুঃখে বিয়ে খেতে এসেছিল ? <br />
চ্যারার (কেঁচো) মত চিকন মেয়েকে বিয়ে করবে তাও ইমরান মাহমুদুল ? "সারহীন চিকন সাদা মুলা" বলে ডাকতো সবাই ছোট বেলায়  তুলিকে । কেউ কেউ "ওয়েট লেস তুলা" বলে ডাকতো । আবার কেউ কেউ কেঁচো , কেইছা বা চ্যারা বলে ডাকতো ।  এতো চিকন ছিল ছোট বেলায়। তবে দেখতে পুতুলের মতো লাগতো। সারা দিন ফ্যার ফ্যার করে দৌড়ে বেড়াতো । দুই পাশের ঝুঁটি দুটো উচুঁ নীচু হতো কদম দেওয়ার সাথে সাথে । আর কেঁচো , কেইছা বা চ্যারা বলে ডাকার একটা কারণ আছে তা হলো তুলি ছোট বেলায় মাটি দিয়ে বেশি খেলতো। মাটিতে খেলতে না দিলে গলা ছেড়ে চিৎ*কার করে কান্না করতো। বলা যায় মাটির পোকা ছিল তুলি। এই কারণেই এমন অদ্ভুত অদ্ভুত নামে ডাকতো ওর কাজিনরা । সাথে বড়রাও ভালোবেসে ডাকতো। তুলিকে সবাই পছন্দ করলেও ইমরান করতো না ছোট থেকেই । মাটিতে ল্যাটা দিয়ে বসে খেলা ওর সবচেয়ে অপছন্দ । নিজে তো খেলবেই না অন্য কাউকে খেলতেও দেবে না । গ্রামে নানু বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পর তুলিকে দেখে একশো হাত দূরে থাকতো। কারণ তুলি ইমরানকে দেখেই দৌড়ে যেতো ওর কোলে চড়ার জন্য । আর গিয়েই নিজের গায়ের ধুলো বালি মাটি ইমরানের গায়ে লাগিয়ে দিতো। তখন ইমরান না পারতো তুলিকে মা*রতে আর না পারতো সহ্য করতে। বেচারা সাপের মতো ফোস ফোস করে নিজেকে শান্ত করতো। <br />
<br />
আর আজকে কিনা সেই তুলিকে বিয়ে করতে হবে ? যাকে ও দুই চোখে দেখতে পারে না । ওর কথা স্মরণ হলে রাগে মাথা ফেটে যায় । ছোট বেলায় নানু বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পর কি জ্বালান জ্বালাতো ওকে । তখন থেকেই দুচোখে দেখতে পারে না । <br />
<br />
বিয়ের হৈ হৈ রৈ রৈ ডিজে গান আবার শুরু হয় । <br />
সবাই খুশি হলেও ইমরান কোনো ভাবেই খুশি হতে পারছে না । কিভাবে খুশি হবে ? ওর ত্রিশ বছরের সিঙ্গেল জীবনের ইতি ঘটতে চলেছে । তাও ওর অপছন্দের মেয়ের সাথে । <br />
ডাক্তারি পড়া শেষ করে কানাডা তেই ডাক্তারি পেশায় নিয়োজিত হয়েছে। এক বছরের মধ্যে ওই দেশের নাগরিকত্ব পেয়েছে। তার পর পনেরো দিনের ছুটি নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিল গত তিন বছর আগে। তখন দুবার দেখেছিল তুলিকে । তার পর আর দেখা হয়নি । <br />
<br />
ইমরানকে একটা রুমে রেস্ট নেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে । রুমে এসে মাকে কাছে ডাকে ।  মিসেস ইরানী কাছে আসতেই ইমরান রেগে রেগে বলে ,<br />
<br />
_ এসব কি হচ্ছে আম্মু ? আসলাম বিয়ে খেতে , আর এখন নিজেরই বিয়ে!<br />
<br />
_ বয়স তো কম হয়নি , বিয়ে তো করতেই হবে একদিন না একদিন । তাহলে আজকে করলে সমস্যা কোথায় ? <br />
<br />
_ তুলিকে আমি বিয়ে করবো না ।<br />
<br />
_ কেনো ? কি সমস্যা ? তুলি স্মার্ট সুন্দরী শিক্ষিত মেয়ে। তোর পাশে ওকেই মানাবে । <br />
<br />
_ তুমি বুঝতে পারছো না কিছু ?<br />
<br />
_ নাহ্ আর বুঝতে চাই ও না । বিয়ে করতে বললেই তোর না না শুধু । বিয়ের কথা উঠলেই নানান বাহানা । <br />
<br />
_ বিয়ে করবো কিন্তু ওকে না । অন্য মেয়ে বিয়ে করবো। <br />
<br />
_ এ দেখি ভূতের মুখে রাম রাম । মুডি বয় ইমরান মাহমুদুল বিয়ে করবে ? তাও নিজের মুখে বলছে ? স্বপ্ন দেখছি না তো আমি ? <br />
<br />
_ মজা করছো আমার সাথে ? <br />
<br />
_ একদমই না ।<br />
<br />
_ আমি তুলিকে বিয়ে করবো না এটাই শেষ কথা । <br />
<br />
_ আমি তুলি কেই আমার বাড়ির বউ বানাবো । <br />
<br />
_ ওকেই কেনো বানাতে হবে ?<br />
<br />
_ ওকে আমার পছন্দ হয়েছে ওকেই বউ বানাবো। ওকে আমার বাড়ির বউ না বানালে আমি ওই বাড়িতে আর ফিরবো না ।<br />
<br />
 কপাল ভ্রু কুঁচকে কিছু সময় মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে ইমরান । তারপর বলে ,<br />
<br />
_ ওর বাড়ির বউ হওয়ার সাথে তোমার বাড়ি ফেরার কি সম্পর্ক ? <br />
<br />
_ তুলিকে আমার পছন্দ হয়েছে, ওকে বাড়ির বউ হিসেবে মেনে নিয়েছি আমি । ওকেই বউ বানাতে হবে এটাই আমার শেষ কথা । <br />
<br />
_ আরেক ছেলে আছে তো তার সাথে বিয়ে দিয়ে দাও। ওদের দুজনের স্বভাব চরিত্র এক । <br />
<br />
_ গিয়ে রাজি করা তোর ভাইকে । <br />
<br />
_ করাচ্ছি ।<br />
<br />
_ হুম যা ।<br />
<br />
ইমরান পকেট থেকে ফোন বের করে ওর মায়ের কাছ থেকে ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড নিয়ে ওয়াইফাই কানেক্ট করে । তার পর ছোট ভাই কামরান মাহমুদুল এর ফোনে ম্যাসেজ পাঠায় । <br />
মিসেস ইরানী কে ডাক দেওয়ায় সে রুম থেকে বেরিয়ে চলে যায় । ছেলের বিয়ে তার অনেক কাজ । <br />
<br />
একটু পরেই কামরান চলে আসে বড় ভাইয়ের কাছে । <br />
ইমরান গম্ভীর থমথমে হয়ে পায়চারি করছে । <br />
এতো রাস্তা জার্নি করে এই লোক ক্লান্ত হয়নি নাকি ? চিৎ পটাং হয়ে বিশ্রাম না নিয়ে এভাবে পায়চারি করছে কেনো ? একটু পরেই তো বিয়ে , এখন বিশ্রাম না নিলে বিশ্রাম নেওয়ার সময় পাবে না তো আর । <br />
<br />
_ হ্যাঁ ভাইয়া বলো কি বলবে !<br />
 <br />
_ আমি এই বিয়ে করবো না ।<br />
<br />
_ কেন?<br />
<br />
_ করবো না মানে করবো না । এতো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবো না । <br />
<br />
কামরান বির বির করে বলে ,<br />
<br />
_ খ্যাক খ্যাক করার স্বভাব যায়নি এখনো । <br />
<br />
তারপর বড় ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে ,<br />
<br />
_ বিয়ে করবে না তো আমি কি করবো ? <br />
<br />
_ তুই এই বিয়ে ক <br />
<br />
মাঝ খানে থামিয়ে দেয় কামরান । <br />
<br />
_ জীবনেও না ভাই , আমার গার্লফ্রেন্ড আছে ।<br />
<br />
_ তো কি হয়েছে ?<br />
<br />
_ ওকে আমি অনেক ভালোবাসি । ওকে রেখে অন্য কাউকে বিয়ে করলে বাসর করার আগেই আমার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে । তাছাড়া তুলার বস্তা কে আগে আমি বড় বোনের নজরে দেখতাম আর এখন  ভাবী হিসেবে মেনে নিয়েছি। বড় বোন আর ভাবী মায়ের সমান । আস্তাগফিরুল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ এই কথা আর জীবনেও উচ্চারণ করবে না ভাইয়া । আল্লাহ তায়ালা পাপ দেবে । <br />
<br />
_ সর আমার চোখের সামনে থেকে । <br />
<br />
_ আমি এসেছি নাকি ? তুমিই তো ডেকেছো। কি সুন্দর গার্লফ্রেন্ডের সাথে প্রেমালাপ করছিলাম । <br />
<br />
_ তোর মধ্যে লজ্জা সরম বলতে কিছু কি আছে ?<br />
<br />
_ নাহ্ , একদম নেই । <br />
<br />
ইমরান তেড়ে যায় কামরানের দিকে । কামরান দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায় । <br />
ভদ্র সভ্য ইমরান পারছে না ছোট ভাইকে একটা গালী দিতে । ওর আপন ভাই এমন হয়ে গেছে ভাবতেই অবাক লাগে । কেমন লাগাম ছাড়া কথা বলে বড় ভাইয়ের সামনে । লাজ লজ্জা কিচ্ছু নেই । বাড়িতে থাকলে একদম সোজা করে রাখতো । <br />
পুনরায় পায়চারি করতে শুরু করে । কিভাবে বিয়ে বন্ধ করা যায় । ছোট ভাইয়ের মত বাঁদর মেয়েকে কিছুতেই বিয়ে করবে না ইমরান । এই মেয়েকে কেনো শুধু ! কোনো মেয়ে কেই বিয়ে করতে চায় না ইমরান । বিয়ে মানেই ঝামেলা , আর ঝামেলা মানে প্যারা । আর প্যারা থাকলে মনে শান্তি থাকে না । আর মনে শান্তি না থাকলে কিছুই ভালো লাগে না । ঝামেলা প্যারা আর অশান্তি নিজের জীবনে চায় না ইমরান । একা একাই খুব সুখে শান্তিতে আছে ও । ওর একার জীবনে ব্যাঘাত ঘটতে দেবে না ইমরান । কিন্তু কি করবে ? ছোট ভাই তো বিয়ে করবে না বললো । <br />
<br />
______________________<br />
<br />
বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায় । তুলি রোবটের মতো বসে রয়েছে । পাশেই বসে রয়েছে আরেক রোবট । <br />
তুলি ঘাড় ঘুরিয়ে একবার ইমরানের মুখের দিকে তাকায় । ইমরান গম্ভীর হয়ে তাকিয়ে আছে ওর দিকে । কি ভাবছে মনে মনে কে জানে । <br />
ইমরানের ওই চাহনি দেখে মাথা ঘুরে ওঠে তুলির ।  এই রোবটের সাথে কিভাবে থাকবে ? এই রোবটের আদো কোনো অনুভূতি আছে কি না সন্দেহ আছে । <br />
দুলতে দুলতে স্টেজের উপরেই কাত হয়ে শুয়ে পড়ে । <br />
টেনশনে মাথা ঘুরছে ভন ভন । চোখে দেখছে সর্ষে ফুল। <br />
দুনিয়ায় ছেলের অভাব পড়েছিল ? বিয়ে টা নাহয় আরো দুই চার দশ বছর পর করতো কোনো সমস্যা নেই তো তুলির । <br />
<br />
চলবে..............<br />
 </div>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<div style="text-align: center;" class="mycode_align">কানাডা থেকে খালাতো বোনের বিয়ে খেতে এসে নিজেরই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হবে শুনে থ হয়ে গেছে ইমরান । মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে না তবে মস্তিষ্ক টগবগ করে ফুটছে।<br />
<br />
এয়ারপোর্ট থেকে সোজা ছোট খালার বাড়িতে এসেছে। আর আসার দশ মিনিট পরেই শুনছে বর পালিয়ে গেছে গার্লফ্রেন্ডের সাথে। বর ছাড়া বর যাত্রী কি করতে আসবে ? তারা কল করে তুলির বাবার কাছে মাফ চেয়েছেন । তুলির বাবা এখন কি করবেন ? তার মেয়ের কি হবে ? টেনশনে পেশার লো হয়ে নিচে পড়ে গেছেন। মাথায় পানি ঢেলে ওনাকে কিছুটা স্বাভাবিক করা হয়েছে । কিন্তু একটা কথাও বলছেন না তিনি । রাগে থরথর করে কাঁপছেন শুধু । আদরের মেয়ের সামনে কোন মুখে দাঁড়াবেন তিনি ? কি জবাব দেবেন মেয়েকে ? ওই ছেলেকে সামনে পেলে জ*বাই করবেন তামিম ইকবাল। গার্লফ্রেন্ড নিয়ে পালিয়েই যখন যাবি বিয়ের আগের দিন গেলি না কেনো ? বিয়ের দিন কেনো গেলি ? গার্লফ্রেন্ড আছে তাহলে বিয়েতে রাজী কেনো হয়েছিলি ? বিয়ের আগে বললি না কেনো ? <br />
তুলির মা মিসেস ইয়ানা  স্তব্ধ হয়ে রয়েছেন । <br />
তুলি এখনো এই সবের কিছুই জানে না , বাড়ির ভেতর রয়েছে এখনো , ওকে সাঁজানো হচ্ছে । বিয়ে বাড়ি পুরো শোকসভায় পরিণত হয়েছে । হই হই , রৈ রৈ , ডিজে গান সব থেমে গেছে । <br />
এমন এক মুহূর্তে ইমরানের বাবা মুস্তাফিজুর রহমান বলেন ,<br />
<br />
_ বিয়ে আজকে হবেই ।<br />
<br />
তামিম ইকবাল চোখ তুলে তার দিকে তাকান । <br />
তারপর আর কি ? ইমরানকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে । <br />
<br />
বেচারা এই কথা শোনার পর থেকে সাপের মতো ফোস ফোস করছে । কোন দুঃখে বিয়ে খেতে এসেছিল ? <br />
চ্যারার (কেঁচো) মত চিকন মেয়েকে বিয়ে করবে তাও ইমরান মাহমুদুল ? "সারহীন চিকন সাদা মুলা" বলে ডাকতো সবাই ছোট বেলায়  তুলিকে । কেউ কেউ "ওয়েট লেস তুলা" বলে ডাকতো । আবার কেউ কেউ কেঁচো , কেইছা বা চ্যারা বলে ডাকতো ।  এতো চিকন ছিল ছোট বেলায়। তবে দেখতে পুতুলের মতো লাগতো। সারা দিন ফ্যার ফ্যার করে দৌড়ে বেড়াতো । দুই পাশের ঝুঁটি দুটো উচুঁ নীচু হতো কদম দেওয়ার সাথে সাথে । আর কেঁচো , কেইছা বা চ্যারা বলে ডাকার একটা কারণ আছে তা হলো তুলি ছোট বেলায় মাটি দিয়ে বেশি খেলতো। মাটিতে খেলতে না দিলে গলা ছেড়ে চিৎ*কার করে কান্না করতো। বলা যায় মাটির পোকা ছিল তুলি। এই কারণেই এমন অদ্ভুত অদ্ভুত নামে ডাকতো ওর কাজিনরা । সাথে বড়রাও ভালোবেসে ডাকতো। তুলিকে সবাই পছন্দ করলেও ইমরান করতো না ছোট থেকেই । মাটিতে ল্যাটা দিয়ে বসে খেলা ওর সবচেয়ে অপছন্দ । নিজে তো খেলবেই না অন্য কাউকে খেলতেও দেবে না । গ্রামে নানু বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পর তুলিকে দেখে একশো হাত দূরে থাকতো। কারণ তুলি ইমরানকে দেখেই দৌড়ে যেতো ওর কোলে চড়ার জন্য । আর গিয়েই নিজের গায়ের ধুলো বালি মাটি ইমরানের গায়ে লাগিয়ে দিতো। তখন ইমরান না পারতো তুলিকে মা*রতে আর না পারতো সহ্য করতে। বেচারা সাপের মতো ফোস ফোস করে নিজেকে শান্ত করতো। <br />
<br />
আর আজকে কিনা সেই তুলিকে বিয়ে করতে হবে ? যাকে ও দুই চোখে দেখতে পারে না । ওর কথা স্মরণ হলে রাগে মাথা ফেটে যায় । ছোট বেলায় নানু বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পর কি জ্বালান জ্বালাতো ওকে । তখন থেকেই দুচোখে দেখতে পারে না । <br />
<br />
বিয়ের হৈ হৈ রৈ রৈ ডিজে গান আবার শুরু হয় । <br />
সবাই খুশি হলেও ইমরান কোনো ভাবেই খুশি হতে পারছে না । কিভাবে খুশি হবে ? ওর ত্রিশ বছরের সিঙ্গেল জীবনের ইতি ঘটতে চলেছে । তাও ওর অপছন্দের মেয়ের সাথে । <br />
ডাক্তারি পড়া শেষ করে কানাডা তেই ডাক্তারি পেশায় নিয়োজিত হয়েছে। এক বছরের মধ্যে ওই দেশের নাগরিকত্ব পেয়েছে। তার পর পনেরো দিনের ছুটি নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিল গত তিন বছর আগে। তখন দুবার দেখেছিল তুলিকে । তার পর আর দেখা হয়নি । <br />
<br />
ইমরানকে একটা রুমে রেস্ট নেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে । রুমে এসে মাকে কাছে ডাকে ।  মিসেস ইরানী কাছে আসতেই ইমরান রেগে রেগে বলে ,<br />
<br />
_ এসব কি হচ্ছে আম্মু ? আসলাম বিয়ে খেতে , আর এখন নিজেরই বিয়ে!<br />
<br />
_ বয়স তো কম হয়নি , বিয়ে তো করতেই হবে একদিন না একদিন । তাহলে আজকে করলে সমস্যা কোথায় ? <br />
<br />
_ তুলিকে আমি বিয়ে করবো না ।<br />
<br />
_ কেনো ? কি সমস্যা ? তুলি স্মার্ট সুন্দরী শিক্ষিত মেয়ে। তোর পাশে ওকেই মানাবে । <br />
<br />
_ তুমি বুঝতে পারছো না কিছু ?<br />
<br />
_ নাহ্ আর বুঝতে চাই ও না । বিয়ে করতে বললেই তোর না না শুধু । বিয়ের কথা উঠলেই নানান বাহানা । <br />
<br />
_ বিয়ে করবো কিন্তু ওকে না । অন্য মেয়ে বিয়ে করবো। <br />
<br />
_ এ দেখি ভূতের মুখে রাম রাম । মুডি বয় ইমরান মাহমুদুল বিয়ে করবে ? তাও নিজের মুখে বলছে ? স্বপ্ন দেখছি না তো আমি ? <br />
<br />
_ মজা করছো আমার সাথে ? <br />
<br />
_ একদমই না ।<br />
<br />
_ আমি তুলিকে বিয়ে করবো না এটাই শেষ কথা । <br />
<br />
_ আমি তুলি কেই আমার বাড়ির বউ বানাবো । <br />
<br />
_ ওকেই কেনো বানাতে হবে ?<br />
<br />
_ ওকে আমার পছন্দ হয়েছে ওকেই বউ বানাবো। ওকে আমার বাড়ির বউ না বানালে আমি ওই বাড়িতে আর ফিরবো না ।<br />
<br />
 কপাল ভ্রু কুঁচকে কিছু সময় মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে ইমরান । তারপর বলে ,<br />
<br />
_ ওর বাড়ির বউ হওয়ার সাথে তোমার বাড়ি ফেরার কি সম্পর্ক ? <br />
<br />
_ তুলিকে আমার পছন্দ হয়েছে, ওকে বাড়ির বউ হিসেবে মেনে নিয়েছি আমি । ওকেই বউ বানাতে হবে এটাই আমার শেষ কথা । <br />
<br />
_ আরেক ছেলে আছে তো তার সাথে বিয়ে দিয়ে দাও। ওদের দুজনের স্বভাব চরিত্র এক । <br />
<br />
_ গিয়ে রাজি করা তোর ভাইকে । <br />
<br />
_ করাচ্ছি ।<br />
<br />
_ হুম যা ।<br />
<br />
ইমরান পকেট থেকে ফোন বের করে ওর মায়ের কাছ থেকে ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড নিয়ে ওয়াইফাই কানেক্ট করে । তার পর ছোট ভাই কামরান মাহমুদুল এর ফোনে ম্যাসেজ পাঠায় । <br />
মিসেস ইরানী কে ডাক দেওয়ায় সে রুম থেকে বেরিয়ে চলে যায় । ছেলের বিয়ে তার অনেক কাজ । <br />
<br />
একটু পরেই কামরান চলে আসে বড় ভাইয়ের কাছে । <br />
ইমরান গম্ভীর থমথমে হয়ে পায়চারি করছে । <br />
এতো রাস্তা জার্নি করে এই লোক ক্লান্ত হয়নি নাকি ? চিৎ পটাং হয়ে বিশ্রাম না নিয়ে এভাবে পায়চারি করছে কেনো ? একটু পরেই তো বিয়ে , এখন বিশ্রাম না নিলে বিশ্রাম নেওয়ার সময় পাবে না তো আর । <br />
<br />
_ হ্যাঁ ভাইয়া বলো কি বলবে !<br />
 <br />
_ আমি এই বিয়ে করবো না ।<br />
<br />
_ কেন?<br />
<br />
_ করবো না মানে করবো না । এতো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবো না । <br />
<br />
কামরান বির বির করে বলে ,<br />
<br />
_ খ্যাক খ্যাক করার স্বভাব যায়নি এখনো । <br />
<br />
তারপর বড় ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে ,<br />
<br />
_ বিয়ে করবে না তো আমি কি করবো ? <br />
<br />
_ তুই এই বিয়ে ক <br />
<br />
মাঝ খানে থামিয়ে দেয় কামরান । <br />
<br />
_ জীবনেও না ভাই , আমার গার্লফ্রেন্ড আছে ।<br />
<br />
_ তো কি হয়েছে ?<br />
<br />
_ ওকে আমি অনেক ভালোবাসি । ওকে রেখে অন্য কাউকে বিয়ে করলে বাসর করার আগেই আমার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে । তাছাড়া তুলার বস্তা কে আগে আমি বড় বোনের নজরে দেখতাম আর এখন  ভাবী হিসেবে মেনে নিয়েছি। বড় বোন আর ভাবী মায়ের সমান । আস্তাগফিরুল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ এই কথা আর জীবনেও উচ্চারণ করবে না ভাইয়া । আল্লাহ তায়ালা পাপ দেবে । <br />
<br />
_ সর আমার চোখের সামনে থেকে । <br />
<br />
_ আমি এসেছি নাকি ? তুমিই তো ডেকেছো। কি সুন্দর গার্লফ্রেন্ডের সাথে প্রেমালাপ করছিলাম । <br />
<br />
_ তোর মধ্যে লজ্জা সরম বলতে কিছু কি আছে ?<br />
<br />
_ নাহ্ , একদম নেই । <br />
<br />
ইমরান তেড়ে যায় কামরানের দিকে । কামরান দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায় । <br />
ভদ্র সভ্য ইমরান পারছে না ছোট ভাইকে একটা গালী দিতে । ওর আপন ভাই এমন হয়ে গেছে ভাবতেই অবাক লাগে । কেমন লাগাম ছাড়া কথা বলে বড় ভাইয়ের সামনে । লাজ লজ্জা কিচ্ছু নেই । বাড়িতে থাকলে একদম সোজা করে রাখতো । <br />
পুনরায় পায়চারি করতে শুরু করে । কিভাবে বিয়ে বন্ধ করা যায় । ছোট ভাইয়ের মত বাঁদর মেয়েকে কিছুতেই বিয়ে করবে না ইমরান । এই মেয়েকে কেনো শুধু ! কোনো মেয়ে কেই বিয়ে করতে চায় না ইমরান । বিয়ে মানেই ঝামেলা , আর ঝামেলা মানে প্যারা । আর প্যারা থাকলে মনে শান্তি থাকে না । আর মনে শান্তি না থাকলে কিছুই ভালো লাগে না । ঝামেলা প্যারা আর অশান্তি নিজের জীবনে চায় না ইমরান । একা একাই খুব সুখে শান্তিতে আছে ও । ওর একার জীবনে ব্যাঘাত ঘটতে দেবে না ইমরান । কিন্তু কি করবে ? ছোট ভাই তো বিয়ে করবে না বললো । <br />
<br />
______________________<br />
<br />
বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায় । তুলি রোবটের মতো বসে রয়েছে । পাশেই বসে রয়েছে আরেক রোবট । <br />
তুলি ঘাড় ঘুরিয়ে একবার ইমরানের মুখের দিকে তাকায় । ইমরান গম্ভীর হয়ে তাকিয়ে আছে ওর দিকে । কি ভাবছে মনে মনে কে জানে । <br />
ইমরানের ওই চাহনি দেখে মাথা ঘুরে ওঠে তুলির ।  এই রোবটের সাথে কিভাবে থাকবে ? এই রোবটের আদো কোনো অনুভূতি আছে কি না সন্দেহ আছে । <br />
দুলতে দুলতে স্টেজের উপরেই কাত হয়ে শুয়ে পড়ে । <br />
টেনশনে মাথা ঘুরছে ভন ভন । চোখে দেখছে সর্ষে ফুল। <br />
দুনিয়ায় ছেলের অভাব পড়েছিল ? বিয়ে টা নাহয় আরো দুই চার দশ বছর পর করতো কোনো সমস্যা নেই তো তুলির । <br />
<br />
চলবে..............<br />
 </div>]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[বাঁধন রূপের অধিকারী]]></title>
			<link>https://forum.xgossip.fun/showthread.php?tid=3</link>
			<pubDate>Mon, 31 Aug 2026 08:13:02 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="https://forum.xgossip.fun/member.php?action=profile&uid=1">X Man</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">https://forum.xgossip.fun/showthread.php?tid=3</guid>
			<description><![CDATA[<div style="text-align: center;" class="mycode_align"><span style="color: #080809;" class="mycode_color"><span style="font-size: large;" class="mycode_size"><span style="font-family: 'Segoe UI Historic', 'Segoe UI', Helvetica, Arial, sans-serif;" class="mycode_font">"কিসের বিয়ে? মানি না আমি এই বিয়ে! আমি আমার মার জায়গায় কাউকে কোনোদিন আসতে দেব না।"<br />
বলেই বাঁধন উন্মত্তের মতো ড্রয়িংরুমে থাকা সব আসবাবপত্র ভাঙচুর করতে থাকল। কাঁচ ভাঙার তীব্র শব্দে চারপাশ প্রকম্পিত হচ্ছে কিন্তু বাঁধনের এই বিধ্বংসী রূপ দেখে আজ তাকে থামানোর সাহস কারো নেই। অদূরেই পাথরের মূর্তির মতো স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন বাঁধনের বাবা আহসান রহমান। তার ঠিক পাশেই বধু বেশে এক নারী নাম তার রজনী। পরনে টকটকে লাল শাড়ি আর সর্বাঙ্গে গয়নার জৌলুস যাকে কিছুক্ষণ আগেই আহসান রহমান বিয়ে করে ঘরে তুলেছেন। রজনীর শাড়ির এক কোনা শক্ত করে মুঠোর ভেতর খামচে ধরে দাঁড়িয়ে আছে চার বছরের এক ছোট্ট মেয়ে নাম তার রূপা। বার্বি ডলের মতো দেখতে সেই ছোট্ট মেয়েটির বাদামি চোখ জোড়া এখন প্রচণ্ড আতঙ্কে সিঁথিয়ে আছে। বাঁধনের দাদা হাজি রহমান এবার কম্পিত কণ্ঠে বাঁধনকে শান্ত করার চেষ্টা করলেন। </span></span></span></div>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<div style="text-align: center;" class="mycode_align"><span style="color: #080809;" class="mycode_color"><span style="font-size: large;" class="mycode_size"><span style="font-family: 'Segoe UI Historic', 'Segoe UI', Helvetica, Arial, sans-serif;" class="mycode_font">"কিসের বিয়ে? মানি না আমি এই বিয়ে! আমি আমার মার জায়গায় কাউকে কোনোদিন আসতে দেব না।"<br />
বলেই বাঁধন উন্মত্তের মতো ড্রয়িংরুমে থাকা সব আসবাবপত্র ভাঙচুর করতে থাকল। কাঁচ ভাঙার তীব্র শব্দে চারপাশ প্রকম্পিত হচ্ছে কিন্তু বাঁধনের এই বিধ্বংসী রূপ দেখে আজ তাকে থামানোর সাহস কারো নেই। অদূরেই পাথরের মূর্তির মতো স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন বাঁধনের বাবা আহসান রহমান। তার ঠিক পাশেই বধু বেশে এক নারী নাম তার রজনী। পরনে টকটকে লাল শাড়ি আর সর্বাঙ্গে গয়নার জৌলুস যাকে কিছুক্ষণ আগেই আহসান রহমান বিয়ে করে ঘরে তুলেছেন। রজনীর শাড়ির এক কোনা শক্ত করে মুঠোর ভেতর খামচে ধরে দাঁড়িয়ে আছে চার বছরের এক ছোট্ট মেয়ে নাম তার রূপা। বার্বি ডলের মতো দেখতে সেই ছোট্ট মেয়েটির বাদামি চোখ জোড়া এখন প্রচণ্ড আতঙ্কে সিঁথিয়ে আছে। বাঁধনের দাদা হাজি রহমান এবার কম্পিত কণ্ঠে বাঁধনকে শান্ত করার চেষ্টা করলেন। </span></span></span></div>]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[গল্প :অরুনরঙা প্রনয় Writer :Priynshi Chowdhury]]></title>
			<link>https://forum.xgossip.fun/showthread.php?tid=2</link>
			<pubDate>Sat, 29 Aug 2026 22:58:15 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="https://forum.xgossip.fun/member.php?action=profile&uid=1">X Man</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">https://forum.xgossip.fun/showthread.php?tid=2</guid>
			<description><![CDATA[<div style="text-align: center;" class="mycode_align">Part:01</div>
<div style="text-align: center;" class="mycode_align">জীবনে কখনো শুনেছেন বাসর রাতে নববধূকে দিয়ে একগাদা কাপড় ধোয়ানো হচ্ছে? নিশ্চয়ই না। আজ আমার ডাফার স্বামী ওরফে শায়ান তালুকদার, আমাকে দিয়ে বাসর রাতে কাপড় ধোয়াচ্ছে। অস্বাভাবিক রকমের বাড়াবাড়ি ব্যাপার এটা। এদিকে<br />
রাত অনেক হয়েছে। বাথরুমের ঠান্ডা মেঝেতে টুল নিয়ে বসে আমি একের পর এক কাপড় সাবান মেখে ধুয়ে যাচ্ছি। ঠান্ডা পানিতে হাত ডুবিয়ে রাখতে রাখতে আঙুলের চামড়াগুলো কুঁচকে যেতে শুরু করেছে। তার চেয়েও বেশি কষ্ট হচ্ছে একটা ব্যাপারে। আমার যত্ন করে লাগানো নেইলপলিশ ধীরে ধীরে উঠে যাচ্ছে। বাপের বাড়িতে থাকতে এসব কাজ তো কখনো করিনি। বাবার আদরের মেয়ে ছিলাম আমি। অথচ সেই বাবাই না জানি কী ভেবে আমাকে এই পাগল ছেলেটার সঙ্গে বিয়ে দিলেন! তার ওপর আবার শায়ান হুমকি দিচ্ছে, কাজ না করলে বাবাকে ফোন করবে। এদিকে বাবাকে আমি প্রচন্ড ভয় পাই। তার সামনে গিয়ে এসব বলতে পারব না বলেই হয়তো সব চুপচাপ সহ্য করে যাচ্ছি। নইলে এই বদমাশ শায়ান তালুকদারকে আমি ঠিকই দেখে নিতাম! শালা বেয়াদব একটা! অথচ এই ছেলেই কিনা আমার ছোটবেলা থেকে বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলো। কিন্তু বিয়ের পর আজ এই রুপ পরিবর্তনের জন্য বেস্ট শত্রু হয়ে গেছে।<br />
<br />
ভাবনার মাঝে ঠিক তখনই বাথরুমের বাইরে থেকে ভেসে এলো গম্ভীর, পুরুষালী কণ্ঠস্বর,<br />
“অরু! এই অরু! আরও দুটো প্যান্ট ছিলো। ওগুলোও বালতিতে অ্যাড কর।”<br />
<br />
অরুনীমা মুখ বাঁকিয়ে তাকালো দরজার দিকে। শায়ান দাঁড়িয়ে আছে সেখানে। যেন এটাই পৃথিবীর সবচেয়ে স্বাভাবিক দৃশ্য। অথচ অরুনীমার অন্য বান্ধবীরা তাকে এভাবে কাজ করতে দেখলে নিশ্চিত অক্কা পেতো। আর শায়ান হাতে করে আরও দুটো জিন্স এনে অরুনীমার সামনে রাখা বালতিতে ফেললো। অরুনীমা অসহায় চোখে তাকিয়ে রইলো তার দিকে। তার ঠোঁটটা অজান্তেই বেঁকে গেলো অভিমানে। আর সে? দিব্যি ভাবসাব নিয়ে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। শায়ান হেসে বলল,<br />
“না না সোনা, তোর এই ইনোসেন্ট পাপ্পি আইস দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। আমি গলছি না। চুপচাপ এগুলো ধুয়ে রেখে দে। কাল সকালে ছাদে গিয়ে মেলে দিবি। আজকের মতো এতটুকুই কাজ।”<br />
<br />
কথা শেষ করে শায়ান চলে যেতে উদ্যত হলো। কিন্তু হঠাৎই অরুনীমা কাতর হয়ে ডেকে উঠলো,<br />
“শায়ান!”<br />
<br />
শায়ানের পা থেমে গেলো। অরুনীমা জিজ্ঞেস করে,<br />
“তুই আমাকে এভাবে শাস্তি দিচ্ছিস কেন? আমরা না বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলাম! তার ওপর এখন তো আমি তোর বউ… তাও তুই আমাকে দিয়ে এসব করাচ্ছিস?”<br />
<br />
শায়ান কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। তারপর ধীরে ধীরে ঘুরে তাকাল অরুনীমার দিকে। তার চোখে অদ্ভুত এক শান্ত ভাব। সে বলল,<br />
“এটাই তো সমস্যা, অরু। তুই আমার বউ হয়েছিস।কাগজে কলমে, সমাজের চোখে। কিন্তু আমাদের মধ্যে তো সত্যিকারের স্বামী-স্ত্রীর সেই সম্পর্কটা নেই। সেটা আমরা দুজনেই জানি।”<br />
<br />
শায়ানের কথা শুনে অরুনীমার বুকটা কেমন করে উঠলো। আসলেই অরুনীমা আর শায়ান বিয়ের দশ মিনিট আগে নিজেদের মধ্যে কথা বলেছে এই বিয়ে তাদের বাবার জোরে হলেও তারা একচুয়ালি স্বামী-স্ত্রী হবে না। তারা আগের মতো বেস্ট ফ্রেন্ডই থাকবে। সুযোগ বুঝে সেপারেশন নেবে। যেহেতু তারা কেউই প্রস্তুত ছিলো না। শায়ান আবার বলল,<br />
“যেদিন তুই আমাকে সত্যি সত্যি স্বামী বলে মেনে নিতে পারবি, সেদিন আমি তোকে মাথায় করে রাখব। তার আগে নোপ!”<br />
<br />
অরুনীমা ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো। হাতে এখনো সাবানের ফেনা লেগে। চোখ সরাসরি শায়ানের দিকে রেখে প্রশ্ন করলো,<br />
“তুই আমাকে মেনেছিস?”<br />
<br />
শায়ান কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো। তারপর মুখটা অন্যদিকে ফিরিয়ে খুব আলতো করে হেসে বলল,<br />
“কবুল বলার সাথে সাথেই।”<br />
<br />
অরুনীমা স্তব্ধ হয়ে গেলো। কি বলল সে? কিন্তু এমন তো কথা ছিলো না! এই বিয়েটা হয়েছে অরুনীমার বাবার জোরে, হুট করে, কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই। বন্ধুত্বের সহজ সম্পর্কটা এক মুহূর্তে বদলে গিয়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে পরিণত হওয়া এতটাই কি সহজ? এত তারাতাড়ি শায়ান কিভাবে মেনে নিলো অরুনীমাকে! কিছুক্ষণ স্থির হয়ে ওভাবেই দাঁড়িয়ে রইলো। মনে হলো, মাথার ভেতর হাজারটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তারপর ধীরে ধীরে আবার টুলে বসে পড়লো অরুনীমা। ভাবনা ছেড়ে বালতির ভেতর ভেজা কাপড়গুলো আবার ধুতে শুরু করলো। <br />
<br />
-------------------------------------<br />
<br />
কাপড় ধোয়ার দীর্ঘ যুদ্ধ শেষ করে অরুনীমা যখন ফ্রেশ হয়ে ঘরে ঢুকলো তখন রাত অনেকটাই গাঢ় হয়ে এসেছে। অরুনীমা তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে দেখে বিছানার হেডবোর্ডে হেলান দিয়ে আধশোয়া হয়ে আছে শায়ান। তার হাতে ফোন, চোখ স্ক্রিনে নিবদ্ধ। অরুনীমাকে আসতে দেখে সে ধীর ভঙ্গিতে ফোনটা পাশে রেখে দিল। অরুনীমা বিছানায় বসলো। কিছুক্ষণ শায়ানের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,<br />
“একটা কথা বলতো, বাবা তোর সাথে আমার বিয়ে দিল কেন? ব্যাপারটা কিছুতেই মাথায় ঢুকছে না।”<br />
<br />
শায়ান কাঁধ ঝাঁকিয়ে স্বাভাবিকভাবে বলল,<br />
“আমি কি জানি? তোর বাবাকে জিজ্ঞেস কর।”<br />
<br />
অরুনীমা সঙ্গে সঙ্গে মুখ বাঁকালো। সেই চেনা অভিমানী ভঙ্গি। শায়ান সেটা দেখে মৃদু হেসে বলল,<br />
“ ঘুমাবি না? নাকি রাতটা বসেই কাটানোর প্ল্যান?”<br />
<br />
অরুনীমা একটু থেমে আবার প্রশ্ন করলো,<br />
“আমরা… ডিভোর্স নেব না?”<br />
<br />
শায়ান এবার চোখ তুলে অরুনীমার দিকে তাকালো। শান্ত স্বরে বলল,<br />
“তোর যদি অন্য কাউকে পছন্দ থাকে যাকে তুই বিয়ে করতে পারবি, তাহলে আমি তোকে ডিভোর্স দিয়ে দেব। কোনো সমস্যা নেই। ডিভোর্সের জন্য অস্থির হচ্ছিস কেন? এমন কেউ আছে?”<br />
<br />
অরুনীমা বিরক্ত হয়ে বলল,<br />
“ওহ ইয়ার! আমার কাউকে পছন্দ থাকলে তুই জানতি না? আমার তো ছেলে মানুষে ফোবিয়া আছে। তুই আর আমার বাপ ছাড়া আমার লাইফে কোনো ছেলের অস্তিত্বই রাখি নি। আমি তো জীবনে বিয়েই করতাম না, ভাই! কি থেকে কি হয়ে গেলো বুঝলামি না! ”<br />
<br />
শায়ান এবার চিত হয়ে শুয়ে পড়লো। ছাদের দিকে তাকিয়ে ধীর স্বরে বলল,<br />
“তাহলে চুপ থাক। ডিভোর্সের প্ল্যান চেঞ্জড।”<br />
<br />
অরুনীমা ভ্রু কুঁচকে তাকাতেই শায়ান গম্ভীর গলায়  বলল,<br />
“বি ম্যাচিউর, অরু। সারাজীবন একা থাকা যায় না। প্রতিটা মানুষের বেঁচে থাকার জন্য একটা সঙ্গী দরকার। তাছাড়া আমরা সমাজে বাস করি। তোর এই ফোবিয়া কেউ বুঝবে না। উল্টো দিনশেষে হাজারটা কথা উঠবে।”<br />
<br />
একটু থেমে শায়ান হালকা হেসে বলল,<br />
“আর আমরা তো হাসব্যান্ড–ওয়াইফ থোরাই না হলাম। বন্ধু হিসেবেই দিব্যি কাটিয়ে দিতে পারব। আমাদের ভেতরের গল্প তো আর কেউ জানবে না। তাছাড়া সামাজিক একটা সম্পর্কেও আছি। তাই তুইও চেপে যা।”<br />
<br />
অরুনীমা মাথা নেড়ে বলল,<br />
“সব বুঝলাম। কিন্তু আজকে আমি ঘুমাব কোথায়? ওই সোফাটা ছোট, আর মেঝেতে ঘুমানো ইম্পসিবল!”<br />
<br />
শায়ান ভ্রু কুঁচকে বলল,<br />
“খাটে কি সমস্যা?”<br />
<br />
অরুনীমা চোখ বড় বড় করে তাকালো। যেন বিস্ময়কর কিছু শুনেছে৷ বলল,<br />
“আমি একটা ছেলের সাথে ঘুমাব? তাও এক খাটে?”<br />
<br />
শায়ান ঠোঁটের কোণে চাপা হাসি টেনে বলল,<br />
“তো কি করবি? বিয়ে যেহেতু একটা ছেলেকেই করেছিস, ছেলের সাথেই তো ঘুমাতে হবে, তাই না?”<br />
<br />
অরুনীমা একটু গুটিসুটি হয়ে শায়ানকে ধাক্কা দিয়ে বলল,<br />
“তাহলে সর ওই সাইডে চেপে ঘুমা। মাঝে বড় একটা কোলবালিশ দে। যতই হোক ছেলেমানুষ তুই, রিস্কি ব্যাপার-স্যাপার!”<br />
<br />
শায়ান হালকা হেসে বিছানার মাঝখানে একটা বড় বালিশ রেখে দিয়ে সরে যায় পাশে। অরুনীমা সাবধানে এসে বিছানায় শুয়ে পড়লো। তবে পরনের শাড়িতে তার অস্বস্তি হচ্ছিল। কারণ জীবনে সে শাড়ি পরেনি। অস্বস্তিটা বোঝা যাচ্ছিল স্পষ্টই। শায়ান সেটা লক্ষ্য করে বলল,<br />
“জেদ করে লাগেজ তো আনলি না বাড়ি থেকে। শাড়িতে নিশ্চয়ই কম্ফোর্ট হবে না। আলমারিতে আমার অনেকগুলো টি-শার্ট আছে। সেখান থেকে আমার যেকোনো একটা টি-শার্ট পরে নিতে পারিস।”<br />
<br />
অরুনীমা এক মুহূর্তও দেরি করলো না। উঠে গিয়ে আলমারি খুলে একটা ঢিলেঢালা টি-শার্ট বের করলো। অবশ্য শায়ানের সব টি-শার্টে আরও দু-তিনটে অরুনীমা নিমেষে হয়ে যাবে। ভাবনা ছেড়ে তারপর ওয়াশরুমে গিয়ে কাপড় বদলে আবার এসে শুয়ে পড়লো অরুনীমা। বিছানায় কিছুক্ষণ চুপচাপ কাটলো  নিরবতায়। তারপর অরুনীমা শায়ানের পাশে কাত হয়ে নিজের হাতের ওপর মাথা রেখে শায়ানের দিকে তাকিয়ে কৌতুহলী হয়ে বলল,<br />
“শোন… তুই আমার না বলার আগেই সব বুঝিস কী করে? ছোটবেলা থেকেই এটা খেয়াল করি।”<br />
<br />
শায়ান ধীরে হেসে বলল,<br />
“অনেক বছরের রিসার্চ করার ফল এটা।”<br />
<br />
অরুনীমা ছোট ছোট চোখে তাকালো। তারপর শায়ান নিজে চোখ বন্ধ করে বলল,<br />
“এবার ঘুমা। কাল সকালে আমার অফিস আছে।”<br />
<br />
অরুনীমা মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো। ক্লান্ত থাকায়  কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই অরুনীমার শ্বাসপ্রশ্বাস ধীর হয়ে এলো, ঘুম তাকে টেনে নিয়ে গেলো অন্য জগতে। শায়ানও চোখ বন্ধ করেছিলো। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার চোখ খুললো। নীরবে তাকিয়ে রইলো পাশে ঘুমিয়ে থাকা অগোছালো, অবুঝ মেয়েটার অরুনীমার দিকে। তার কপালের ওপর এলোমেলো হয়ে পড়া ছোট ছোট বেবি হেয়ারগুলো শায়ান আলতো করে তর্জনী আঙুল দিয়ে সরিয়ে দিলো। ঘুমের মাঝে অরুনীমাকে দেখতে আলাদা এক শান্তি লাগে শায়ানের।<br />
<br />
কত বছর হয়ে গেলো। বন্ধুত্বের নামেই পাশে ছিলো সে। আজ অরুনীমা তার স্ত্রীও হয়ে গেছে। তবু এতদিনেও শায়ান তার মনের অনুভূতি জানাতে পারেনি। কারণ সে জানে, অরুনীমা বুঝবে না। কখনোই বুঝবে না মেয়েটা। উল্টো হেসে উড়িয়ে দেবে। সে বুঝবে না যে, শায়ানের অনুভূতি বন্ধুত্বের সীমানা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। এতটাই দূরে চলে গেছে, যেখানে ভালোবাসার অন্ত নেই। তবু দিনশেষে একটাই শান্তি আছে তার মনে। অরুনীমা এখন তার। চিরদিনের জন্য।<br />
<br />
</div>
<div style="text-align: center;" class="mycode_align">চলমান.......<br />
<br />
<br />
<br />
</div>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<div style="text-align: center;" class="mycode_align">Part:01</div>
<div style="text-align: center;" class="mycode_align">জীবনে কখনো শুনেছেন বাসর রাতে নববধূকে দিয়ে একগাদা কাপড় ধোয়ানো হচ্ছে? নিশ্চয়ই না। আজ আমার ডাফার স্বামী ওরফে শায়ান তালুকদার, আমাকে দিয়ে বাসর রাতে কাপড় ধোয়াচ্ছে। অস্বাভাবিক রকমের বাড়াবাড়ি ব্যাপার এটা। এদিকে<br />
রাত অনেক হয়েছে। বাথরুমের ঠান্ডা মেঝেতে টুল নিয়ে বসে আমি একের পর এক কাপড় সাবান মেখে ধুয়ে যাচ্ছি। ঠান্ডা পানিতে হাত ডুবিয়ে রাখতে রাখতে আঙুলের চামড়াগুলো কুঁচকে যেতে শুরু করেছে। তার চেয়েও বেশি কষ্ট হচ্ছে একটা ব্যাপারে। আমার যত্ন করে লাগানো নেইলপলিশ ধীরে ধীরে উঠে যাচ্ছে। বাপের বাড়িতে থাকতে এসব কাজ তো কখনো করিনি। বাবার আদরের মেয়ে ছিলাম আমি। অথচ সেই বাবাই না জানি কী ভেবে আমাকে এই পাগল ছেলেটার সঙ্গে বিয়ে দিলেন! তার ওপর আবার শায়ান হুমকি দিচ্ছে, কাজ না করলে বাবাকে ফোন করবে। এদিকে বাবাকে আমি প্রচন্ড ভয় পাই। তার সামনে গিয়ে এসব বলতে পারব না বলেই হয়তো সব চুপচাপ সহ্য করে যাচ্ছি। নইলে এই বদমাশ শায়ান তালুকদারকে আমি ঠিকই দেখে নিতাম! শালা বেয়াদব একটা! অথচ এই ছেলেই কিনা আমার ছোটবেলা থেকে বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলো। কিন্তু বিয়ের পর আজ এই রুপ পরিবর্তনের জন্য বেস্ট শত্রু হয়ে গেছে।<br />
<br />
ভাবনার মাঝে ঠিক তখনই বাথরুমের বাইরে থেকে ভেসে এলো গম্ভীর, পুরুষালী কণ্ঠস্বর,<br />
“অরু! এই অরু! আরও দুটো প্যান্ট ছিলো। ওগুলোও বালতিতে অ্যাড কর।”<br />
<br />
অরুনীমা মুখ বাঁকিয়ে তাকালো দরজার দিকে। শায়ান দাঁড়িয়ে আছে সেখানে। যেন এটাই পৃথিবীর সবচেয়ে স্বাভাবিক দৃশ্য। অথচ অরুনীমার অন্য বান্ধবীরা তাকে এভাবে কাজ করতে দেখলে নিশ্চিত অক্কা পেতো। আর শায়ান হাতে করে আরও দুটো জিন্স এনে অরুনীমার সামনে রাখা বালতিতে ফেললো। অরুনীমা অসহায় চোখে তাকিয়ে রইলো তার দিকে। তার ঠোঁটটা অজান্তেই বেঁকে গেলো অভিমানে। আর সে? দিব্যি ভাবসাব নিয়ে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। শায়ান হেসে বলল,<br />
“না না সোনা, তোর এই ইনোসেন্ট পাপ্পি আইস দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। আমি গলছি না। চুপচাপ এগুলো ধুয়ে রেখে দে। কাল সকালে ছাদে গিয়ে মেলে দিবি। আজকের মতো এতটুকুই কাজ।”<br />
<br />
কথা শেষ করে শায়ান চলে যেতে উদ্যত হলো। কিন্তু হঠাৎই অরুনীমা কাতর হয়ে ডেকে উঠলো,<br />
“শায়ান!”<br />
<br />
শায়ানের পা থেমে গেলো। অরুনীমা জিজ্ঞেস করে,<br />
“তুই আমাকে এভাবে শাস্তি দিচ্ছিস কেন? আমরা না বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলাম! তার ওপর এখন তো আমি তোর বউ… তাও তুই আমাকে দিয়ে এসব করাচ্ছিস?”<br />
<br />
শায়ান কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। তারপর ধীরে ধীরে ঘুরে তাকাল অরুনীমার দিকে। তার চোখে অদ্ভুত এক শান্ত ভাব। সে বলল,<br />
“এটাই তো সমস্যা, অরু। তুই আমার বউ হয়েছিস।কাগজে কলমে, সমাজের চোখে। কিন্তু আমাদের মধ্যে তো সত্যিকারের স্বামী-স্ত্রীর সেই সম্পর্কটা নেই। সেটা আমরা দুজনেই জানি।”<br />
<br />
শায়ানের কথা শুনে অরুনীমার বুকটা কেমন করে উঠলো। আসলেই অরুনীমা আর শায়ান বিয়ের দশ মিনিট আগে নিজেদের মধ্যে কথা বলেছে এই বিয়ে তাদের বাবার জোরে হলেও তারা একচুয়ালি স্বামী-স্ত্রী হবে না। তারা আগের মতো বেস্ট ফ্রেন্ডই থাকবে। সুযোগ বুঝে সেপারেশন নেবে। যেহেতু তারা কেউই প্রস্তুত ছিলো না। শায়ান আবার বলল,<br />
“যেদিন তুই আমাকে সত্যি সত্যি স্বামী বলে মেনে নিতে পারবি, সেদিন আমি তোকে মাথায় করে রাখব। তার আগে নোপ!”<br />
<br />
অরুনীমা ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো। হাতে এখনো সাবানের ফেনা লেগে। চোখ সরাসরি শায়ানের দিকে রেখে প্রশ্ন করলো,<br />
“তুই আমাকে মেনেছিস?”<br />
<br />
শায়ান কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো। তারপর মুখটা অন্যদিকে ফিরিয়ে খুব আলতো করে হেসে বলল,<br />
“কবুল বলার সাথে সাথেই।”<br />
<br />
অরুনীমা স্তব্ধ হয়ে গেলো। কি বলল সে? কিন্তু এমন তো কথা ছিলো না! এই বিয়েটা হয়েছে অরুনীমার বাবার জোরে, হুট করে, কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই। বন্ধুত্বের সহজ সম্পর্কটা এক মুহূর্তে বদলে গিয়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে পরিণত হওয়া এতটাই কি সহজ? এত তারাতাড়ি শায়ান কিভাবে মেনে নিলো অরুনীমাকে! কিছুক্ষণ স্থির হয়ে ওভাবেই দাঁড়িয়ে রইলো। মনে হলো, মাথার ভেতর হাজারটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তারপর ধীরে ধীরে আবার টুলে বসে পড়লো অরুনীমা। ভাবনা ছেড়ে বালতির ভেতর ভেজা কাপড়গুলো আবার ধুতে শুরু করলো। <br />
<br />
-------------------------------------<br />
<br />
কাপড় ধোয়ার দীর্ঘ যুদ্ধ শেষ করে অরুনীমা যখন ফ্রেশ হয়ে ঘরে ঢুকলো তখন রাত অনেকটাই গাঢ় হয়ে এসেছে। অরুনীমা তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে দেখে বিছানার হেডবোর্ডে হেলান দিয়ে আধশোয়া হয়ে আছে শায়ান। তার হাতে ফোন, চোখ স্ক্রিনে নিবদ্ধ। অরুনীমাকে আসতে দেখে সে ধীর ভঙ্গিতে ফোনটা পাশে রেখে দিল। অরুনীমা বিছানায় বসলো। কিছুক্ষণ শায়ানের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,<br />
“একটা কথা বলতো, বাবা তোর সাথে আমার বিয়ে দিল কেন? ব্যাপারটা কিছুতেই মাথায় ঢুকছে না।”<br />
<br />
শায়ান কাঁধ ঝাঁকিয়ে স্বাভাবিকভাবে বলল,<br />
“আমি কি জানি? তোর বাবাকে জিজ্ঞেস কর।”<br />
<br />
অরুনীমা সঙ্গে সঙ্গে মুখ বাঁকালো। সেই চেনা অভিমানী ভঙ্গি। শায়ান সেটা দেখে মৃদু হেসে বলল,<br />
“ ঘুমাবি না? নাকি রাতটা বসেই কাটানোর প্ল্যান?”<br />
<br />
অরুনীমা একটু থেমে আবার প্রশ্ন করলো,<br />
“আমরা… ডিভোর্স নেব না?”<br />
<br />
শায়ান এবার চোখ তুলে অরুনীমার দিকে তাকালো। শান্ত স্বরে বলল,<br />
“তোর যদি অন্য কাউকে পছন্দ থাকে যাকে তুই বিয়ে করতে পারবি, তাহলে আমি তোকে ডিভোর্স দিয়ে দেব। কোনো সমস্যা নেই। ডিভোর্সের জন্য অস্থির হচ্ছিস কেন? এমন কেউ আছে?”<br />
<br />
অরুনীমা বিরক্ত হয়ে বলল,<br />
“ওহ ইয়ার! আমার কাউকে পছন্দ থাকলে তুই জানতি না? আমার তো ছেলে মানুষে ফোবিয়া আছে। তুই আর আমার বাপ ছাড়া আমার লাইফে কোনো ছেলের অস্তিত্বই রাখি নি। আমি তো জীবনে বিয়েই করতাম না, ভাই! কি থেকে কি হয়ে গেলো বুঝলামি না! ”<br />
<br />
শায়ান এবার চিত হয়ে শুয়ে পড়লো। ছাদের দিকে তাকিয়ে ধীর স্বরে বলল,<br />
“তাহলে চুপ থাক। ডিভোর্সের প্ল্যান চেঞ্জড।”<br />
<br />
অরুনীমা ভ্রু কুঁচকে তাকাতেই শায়ান গম্ভীর গলায়  বলল,<br />
“বি ম্যাচিউর, অরু। সারাজীবন একা থাকা যায় না। প্রতিটা মানুষের বেঁচে থাকার জন্য একটা সঙ্গী দরকার। তাছাড়া আমরা সমাজে বাস করি। তোর এই ফোবিয়া কেউ বুঝবে না। উল্টো দিনশেষে হাজারটা কথা উঠবে।”<br />
<br />
একটু থেমে শায়ান হালকা হেসে বলল,<br />
“আর আমরা তো হাসব্যান্ড–ওয়াইফ থোরাই না হলাম। বন্ধু হিসেবেই দিব্যি কাটিয়ে দিতে পারব। আমাদের ভেতরের গল্প তো আর কেউ জানবে না। তাছাড়া সামাজিক একটা সম্পর্কেও আছি। তাই তুইও চেপে যা।”<br />
<br />
অরুনীমা মাথা নেড়ে বলল,<br />
“সব বুঝলাম। কিন্তু আজকে আমি ঘুমাব কোথায়? ওই সোফাটা ছোট, আর মেঝেতে ঘুমানো ইম্পসিবল!”<br />
<br />
শায়ান ভ্রু কুঁচকে বলল,<br />
“খাটে কি সমস্যা?”<br />
<br />
অরুনীমা চোখ বড় বড় করে তাকালো। যেন বিস্ময়কর কিছু শুনেছে৷ বলল,<br />
“আমি একটা ছেলের সাথে ঘুমাব? তাও এক খাটে?”<br />
<br />
শায়ান ঠোঁটের কোণে চাপা হাসি টেনে বলল,<br />
“তো কি করবি? বিয়ে যেহেতু একটা ছেলেকেই করেছিস, ছেলের সাথেই তো ঘুমাতে হবে, তাই না?”<br />
<br />
অরুনীমা একটু গুটিসুটি হয়ে শায়ানকে ধাক্কা দিয়ে বলল,<br />
“তাহলে সর ওই সাইডে চেপে ঘুমা। মাঝে বড় একটা কোলবালিশ দে। যতই হোক ছেলেমানুষ তুই, রিস্কি ব্যাপার-স্যাপার!”<br />
<br />
শায়ান হালকা হেসে বিছানার মাঝখানে একটা বড় বালিশ রেখে দিয়ে সরে যায় পাশে। অরুনীমা সাবধানে এসে বিছানায় শুয়ে পড়লো। তবে পরনের শাড়িতে তার অস্বস্তি হচ্ছিল। কারণ জীবনে সে শাড়ি পরেনি। অস্বস্তিটা বোঝা যাচ্ছিল স্পষ্টই। শায়ান সেটা লক্ষ্য করে বলল,<br />
“জেদ করে লাগেজ তো আনলি না বাড়ি থেকে। শাড়িতে নিশ্চয়ই কম্ফোর্ট হবে না। আলমারিতে আমার অনেকগুলো টি-শার্ট আছে। সেখান থেকে আমার যেকোনো একটা টি-শার্ট পরে নিতে পারিস।”<br />
<br />
অরুনীমা এক মুহূর্তও দেরি করলো না। উঠে গিয়ে আলমারি খুলে একটা ঢিলেঢালা টি-শার্ট বের করলো। অবশ্য শায়ানের সব টি-শার্টে আরও দু-তিনটে অরুনীমা নিমেষে হয়ে যাবে। ভাবনা ছেড়ে তারপর ওয়াশরুমে গিয়ে কাপড় বদলে আবার এসে শুয়ে পড়লো অরুনীমা। বিছানায় কিছুক্ষণ চুপচাপ কাটলো  নিরবতায়। তারপর অরুনীমা শায়ানের পাশে কাত হয়ে নিজের হাতের ওপর মাথা রেখে শায়ানের দিকে তাকিয়ে কৌতুহলী হয়ে বলল,<br />
“শোন… তুই আমার না বলার আগেই সব বুঝিস কী করে? ছোটবেলা থেকেই এটা খেয়াল করি।”<br />
<br />
শায়ান ধীরে হেসে বলল,<br />
“অনেক বছরের রিসার্চ করার ফল এটা।”<br />
<br />
অরুনীমা ছোট ছোট চোখে তাকালো। তারপর শায়ান নিজে চোখ বন্ধ করে বলল,<br />
“এবার ঘুমা। কাল সকালে আমার অফিস আছে।”<br />
<br />
অরুনীমা মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো। ক্লান্ত থাকায়  কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই অরুনীমার শ্বাসপ্রশ্বাস ধীর হয়ে এলো, ঘুম তাকে টেনে নিয়ে গেলো অন্য জগতে। শায়ানও চোখ বন্ধ করেছিলো। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার চোখ খুললো। নীরবে তাকিয়ে রইলো পাশে ঘুমিয়ে থাকা অগোছালো, অবুঝ মেয়েটার অরুনীমার দিকে। তার কপালের ওপর এলোমেলো হয়ে পড়া ছোট ছোট বেবি হেয়ারগুলো শায়ান আলতো করে তর্জনী আঙুল দিয়ে সরিয়ে দিলো। ঘুমের মাঝে অরুনীমাকে দেখতে আলাদা এক শান্তি লাগে শায়ানের।<br />
<br />
কত বছর হয়ে গেলো। বন্ধুত্বের নামেই পাশে ছিলো সে। আজ অরুনীমা তার স্ত্রীও হয়ে গেছে। তবু এতদিনেও শায়ান তার মনের অনুভূতি জানাতে পারেনি। কারণ সে জানে, অরুনীমা বুঝবে না। কখনোই বুঝবে না মেয়েটা। উল্টো হেসে উড়িয়ে দেবে। সে বুঝবে না যে, শায়ানের অনুভূতি বন্ধুত্বের সীমানা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। এতটাই দূরে চলে গেছে, যেখানে ভালোবাসার অন্ত নেই। তবু দিনশেষে একটাই শান্তি আছে তার মনে। অরুনীমা এখন তার। চিরদিনের জন্য।<br />
<br />
</div>
<div style="text-align: center;" class="mycode_align">চলমান.......<br />
<br />
<br />
<br />
</div>]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[আমার প্রথম প্রেম]]></title>
			<link>https://forum.xgossip.fun/showthread.php?tid=1</link>
			<pubDate>Sat, 29 Aug 2026 02:49:44 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="https://forum.xgossip.fun/member.php?action=profile&uid=1">X Man</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">https://forum.xgossip.fun/showthread.php?tid=1</guid>
			<description><![CDATA[<div style="text-align: center;" class="mycode_align">(এতদিন শুধু গল্প পড়েছি আজ নিজেলেখার চেষ্টা করছি। আমার জীবনের কিছুটা বাস্তব আর কিছুটা কাল্পনিকতা মিশিয়ে লেখা হবে।  কাচা হাতে লেখা ভালো না লাগলে মাফ করবেন।)<br />
<br />
 আজ অফিসের কাজে সকাল থেকে মতিঝিল। কাজের প্রচন্ড চাপ কিন্তু কাজে আমার মন একদমই নেই।<br />
 বিকেল ৪ টায় কাজ শেষ করে অফিস থেকে বের হয়ে পরলাম। আকাশ টা আমার মনের মতই ভার হয়ে আছে। <br />
যেন যে কোন মুহূর্তে আছরে পরবে। গরম ও পড়েছে বেশ। এমনিতে গাড়ি ড্রাইভ করতে আমার ভালই লাগে বলা যায় এটা আমার হবি। কিন্তু আজ অসহ্য লাগছে। <br />
কি করা যায় ভাবতে ভাবতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ড্রাইভ করতে লাগলাম। <br />
<br />
মনে পড়ে যাচ্ছে আজ থেকে ১৬ বছর আগের কথা।তাকে প্রথম দেখে ছিলাম। <br />
তখন নতুন ক্লাস সিক্স এ ভর্তি হয়েছি। জানুযারি মাসের ১৮ তারিখ নতুন একটা কোচিং এ ভর্তি হয়েছি। সেদিন ছিলো কোচিং এ ১ম দিন।  <br />
কোচিং এ ডুকে ক্লাস সিক্স এর ক্লাস কোন রুমে হয়ে খুজছি।<br />
 একজন স্যার রুম দেখিয়ে দিলো।<br />
<br />
ক্লাসে গিয়ে দেখলাম শুধু একটা মেয়ে বসে আছে। আমি ডুকতেই সে আমার দিকে তাকালো আমার কাছে মনে হলো মেয়েটা পরীর মত সুন্দর। <br />
<br />
আমি ডুকে একটা বেঞ্চ এ বসতেই মেয়েটা বলো উঠলো ভালো হলে আরেকজন তাহলে ভর্তি হয়েছে। গত তিনদিন যাবত আমি একা ক্লাস করছি। <br />
<br />
আমি হা করে তাকে দেখছি মেয়েটা কি আসলেই এত সুন্দর নাকি আমার কাছে সুন্দর লাগছে। ও নিজে থেকেই ওর নামটা বললো মনিষা আমাকে আমার নাম জিজ্ঞেস করলো আমি বললাম রেহান। ক্লাস শুরু হবার কথা ৩ টায় এখন ঘড়িতে দেখলাম ৩টা ১৮ বাজে স্যারের দেখা নেই।<br />
<br />
 মনিষা বললো গত তিনদিন ধরে শুধু গণিত ক্লাস নিচ্ছে আমি একা তাই অন্য ক্লাস ও নিচ্ছে না। <br />
আরও বললো ওর বাসা কোচিং এর পাশেই দুই গলি পরের গলিতে। <br />
আমিও আমার বাসার ঠিকানা বললাম। আরও নানা রকম কথা হলো। <br />
ঘড়িতে তখন ৩ টা ৪৪ স্যার আসে না তাই দুজনেই ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে কোচিং এর অফিস রুমের দিকে গেলাম। <br />
<br />
 সেখানে পরিচালক স্যারের রুমে সব স্যার জটলা পাকিয়ে আছে।<br />
  কিছু ছাত্র ছাত্রী ও আছে একজনকে জিজ্ঞেস করতে বললো পরিচালক স্যারের নাকি সকাল থেকে মাথার চুল আস্তে করে টান দিলেই উঠে আসছে।  পরিচালক স্যার টান দিয়েও দেখালো যে কটা ধরে টান দিচ্ছে সব গুলোই উঠে আসছে।  মনিষা পাশ থেকে বললো তাহলে আজ আর ক্লাস হবে না বাড়ি যাই। বলে সে অফিস রুম থেকে বের হয়ে আসলো।  <br />
<br />
কোচিং এর বাইরে বের হয়ে সে বললো কালকে কিন্তু পুরো ৩ টা তেই চলো এসো। আমি বললাম ঠিক আছে।  সে চলে যাচ্ছে আমি দাড়িয়ে দেখছি। <br />
<br />
বাসার দিকে হাঁটা দিলাম মেয়েটার কথাই বার বার মনে আসছে  এত সুন্দর একটা মেয়ে।  এমন অনুভুতিতো আমার জিবনেও হয় নাই। ভাবতে ভাবতে কখন যে বাড়ি চলে আসলাম বুঝতেই পারলাম না।<br />
বাসাতে ব্যাগ রেখে বের হয়ে গেলাম আমি আবার আমার মামাতো ভাইয়ের সাথে সেই সময় খুব আড্ডা দিতাম ও তখন ও ক্লাস নাইনে পরে-  ২-৪ টা প্রেম ও করেছে।<br />
<br />
 ওকে বলেই বসলাম মনিষার কথা যে তাকে আমার কেন জানি খুব ভালো লেগেছে ও বললো আরে পাগল এটা ভালো বাসারে। <br />
 এখন বড় হচ্ছিস ক্লাস সিক্স উঠলি তাও বুঝলি না আমি বললাম দুর ভাই মেয়েটা! ও বললো তাতে কি ভালবাসা ধর্ম মানে না। <br />
আরও কয়েকদিন যাক তারপর একদিন সাহস করে বলে দিবি তুই ওকে পছন্দ করিস তাহলেই তো হলো।<br />
<br />
সন্ধ্যায় বাসায় ফিরলাম ভাবলাম কালকে কোচিং এ ৩ টার আগেই যাবো। ও নিশ্চয়ই ৩টার আগেই আসবে। রাত যেন আর কাটছেই না। <br />
 সকালে স্কুল গেলাম স্কুল থেকে ফিরে তাড়াতাড়ি কোচিং এ গেলাম।  না মনিষা এখন ও আসে নি আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম এর মধ্যে দেখলাম আর ২ টা ছেলে ২ টা মেয়ে ক্লাসে ডুকলো তারা নতুন ভর্তি হয়েছে বুঝলাম আজকে রাইট টাইমে ক্লাস শুরু হয়েছে  কিন্তু মনিষার দেখা নেই।  <br />
<br />
ক্লাস চলছে আমার তো ক্লাসে মনেই নাই। <br />
হঠাৎ পরিচালক স্যার ক্লাসে আসলো কথায় কথায় বললো যে মেয়েটা সবার আগে ভর্তি হলো সে মেয়েটা আজকে বলে গেল আর আসবে না। <br />
ওর বাবার বদলি হয়েছে তাই অন্য জেলায় চলে যাবে ২-৩ দিনের মধ্যে। <br />
শুনে মনটাই খারাপ হয়ে গেল এটা একটা কথা।<br />
কোচিং শেষ করে বের হলাম। কোচিং এর পাশে ৩ টা গলিই  ২ বার করে চক্কর দিলাম এই আশায় যদি দেখা পাই।<br />
 না কপাল খারাপ আর দেখা পেলাম না। রাগে আমিও কোচিং বাদ দিলাম।  বাড়ি থেকে বললো কোচিং কেন করবো না বললাম স্কুলের স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়বো।<br />
ক্লাস সিক্স শেষ সেভেনে উঠলাম।  বছরের মাঝামাঝি ছেলে পেলে বলাবলি করছে  শুনলাম  আমাদের ক্লাসে একটা নতুন  মেয়ে ভর্তি হয়েছে। <br />
<br />
পরেরদিন স্কুলে গিয়ে আমি অবাক আরে এতো মনিষা।  আমি তাকে মোটামুটি ভুলেই গেছিলাম।  <br />
<br />
তাকে দেখে এবার যেন মনে সত্যিই প্রেম জেগে উঠলো। তার সামন দিয়ে ২-৩ বার যাওয়া আশা করলাম চেয়েও দেখলো কিন্তু কোন কথা বললো না। <br />
<br />
তাহলে কি ভুলে গেছে আমাকে চিনতে পারে নাই। মনে হচ্চে মেয়েটা এই দেড় বলরে আরও সুন্দর হয়ে গেছে।  মাত্র কিছু দিনের মধ্যে দেখলাম সব স্যারেদের পছন্দে ছাত্রী হয়ে উঠেছে।  ভালো পড়া শুনা পারে আমি হলাম গর্দভ ছাত্র!  বুঝলাম কিছু দিনের মধ্যে সম্ভব না।  আমার পক্ষে তাকে বলা আমি তাকে পছন্দ করি।  <br />
<br />
শেষে কোন ভাবে ক্লাসের সবাই যেনে গেলে মান সম্মান নিয়ে টানাটানি তার মধ্যে আবার আমি মুসলিম ও * ।<br />
<br />
যত দিন যায় ওর প্রতি আমার ভালোবাসা বাড়তে থাকে।  একি ক্লাসে পড়ি তাই বন্ধু হিসেবে কখনও কখনও কথা হয়। না স্কুল জীবন শেষ করে  ইন্টারের কলেজেও এক সাথে পড়াশুনা করলাম কিন্তু বলার সাহস হলো না আমার আমি ওকে কতটা ভালোবাসি।<br />
<br />
ইন্টার শেষ আমি চলে আসলাম ঢাকা। ভর্তি হলাম ঢাকা কলেজে ও ভালো ছাত্রী ছিলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে গেল।  দুরত্ব হয়ে গেল। <br />
<br />
বছরে ২-১ বার নিজ শহরে দেখা হলেও হতো।  কিন্তু আমার মন থেকে ও কখনই দুরে যেতে পারে নি। এমন কোন দিন নেই আমি ওর কথা মনে করি নি। <br />
<br />
সৃষ্টিকর্তার কাছে ওকে চেয়ে কত দোআ করছি কিন্তু আমি জানি সম্ভব না। <br />
<br />
বর্তমানে আমি চাকুরী করছি।  ঢাকায় একটা ফ্লাট ভাড়া নিয়ে ব্যাচেলর হয়েই আছি। <br />
<br />
(গল্পের শুরুর সময়ে ফেরত)<br />
<br />
গাড়ি ড্রাইভ করছি আর ভাবছি যাকে এত ভালোবাসি অথচ বলতে পারলাম না।  গতকাল তার বিয়ে হয়ে গেছে।  এজন্য মনটা এতটাই খারাপ লাগছে বলার মত না।<br />
<br />
প্রচন্ড বাতাস শুরু হয়েছে।  ধুলোও সব অন্ধকার ঝড় নামবে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের চত্বরের পাশে রাস্তায় গাড়িটা ব্রেক করলাম।  প্রচন্ড বৃষ্টি শুরু হলো। <br />
<br />
 প্রায় ৩০ মিনিট যাবত বৃষ্টি হচ্ছে আমি গাড়িতে বসে।  একটু সামনের দিতে আগালাম দুর থেকে দেখলাম একটা মেয়ে রাস্তার পাশেই বৃষ্টিতে দাড়িয়ে আছে পাথরের মত। <br />
<br />
সবাই যতটা পরে বৃষ্টি থেকে বাচতে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে অথচ ওই মেয়ে পাথরের মত নিচের দিকে মুখ করে দাড়িয়ে আসে৷ <br />
আরেক টা সামনে এগুতেই কলিজাটা কেঁপে উঠলো মনে হলো মনিষা। <br />
পরক্ষণেই ভাবলাম দুর কালকে ওর বিয়ে হয়ে গেছে আর আমি কি ভাবছি। <br />
<br />
তবু সামনে এগিয়ে গেলাম!<br />
<br />
মাত্র দশ হাত দুরে মেয়েটা গাড়ির গ্লাস নামিযে ভালো করে দেখলাম এবং এবার মনে হচ্ছে আমি সেন্সলেস হয়ে যাবো।<br />
<br />
 হ্যা এটা মনিষাই শিউর আমি শিউর মনিষা।<br />
<br />
চলবে ---------<br />
<br />
( লেখক নতুন হিসেবে কিছু কিছু জায়গায় ভুল ছিলো তাই আমি যত দূর পারছি  সংশোধন করেছি।) <br />
<br />
 <img src="https://forum.xgossip.fun/images/smilies/heart.png" alt="Heart" title="Heart" class="smilie smilie_16" /> <br />
পর্ব ০১<br />
লেখক রেহান ইসলাম<br />
<br />
 </div>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<div style="text-align: center;" class="mycode_align">(এতদিন শুধু গল্প পড়েছি আজ নিজেলেখার চেষ্টা করছি। আমার জীবনের কিছুটা বাস্তব আর কিছুটা কাল্পনিকতা মিশিয়ে লেখা হবে।  কাচা হাতে লেখা ভালো না লাগলে মাফ করবেন।)<br />
<br />
 আজ অফিসের কাজে সকাল থেকে মতিঝিল। কাজের প্রচন্ড চাপ কিন্তু কাজে আমার মন একদমই নেই।<br />
 বিকেল ৪ টায় কাজ শেষ করে অফিস থেকে বের হয়ে পরলাম। আকাশ টা আমার মনের মতই ভার হয়ে আছে। <br />
যেন যে কোন মুহূর্তে আছরে পরবে। গরম ও পড়েছে বেশ। এমনিতে গাড়ি ড্রাইভ করতে আমার ভালই লাগে বলা যায় এটা আমার হবি। কিন্তু আজ অসহ্য লাগছে। <br />
কি করা যায় ভাবতে ভাবতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ড্রাইভ করতে লাগলাম। <br />
<br />
মনে পড়ে যাচ্ছে আজ থেকে ১৬ বছর আগের কথা।তাকে প্রথম দেখে ছিলাম। <br />
তখন নতুন ক্লাস সিক্স এ ভর্তি হয়েছি। জানুযারি মাসের ১৮ তারিখ নতুন একটা কোচিং এ ভর্তি হয়েছি। সেদিন ছিলো কোচিং এ ১ম দিন।  <br />
কোচিং এ ডুকে ক্লাস সিক্স এর ক্লাস কোন রুমে হয়ে খুজছি।<br />
 একজন স্যার রুম দেখিয়ে দিলো।<br />
<br />
ক্লাসে গিয়ে দেখলাম শুধু একটা মেয়ে বসে আছে। আমি ডুকতেই সে আমার দিকে তাকালো আমার কাছে মনে হলো মেয়েটা পরীর মত সুন্দর। <br />
<br />
আমি ডুকে একটা বেঞ্চ এ বসতেই মেয়েটা বলো উঠলো ভালো হলে আরেকজন তাহলে ভর্তি হয়েছে। গত তিনদিন যাবত আমি একা ক্লাস করছি। <br />
<br />
আমি হা করে তাকে দেখছি মেয়েটা কি আসলেই এত সুন্দর নাকি আমার কাছে সুন্দর লাগছে। ও নিজে থেকেই ওর নামটা বললো মনিষা আমাকে আমার নাম জিজ্ঞেস করলো আমি বললাম রেহান। ক্লাস শুরু হবার কথা ৩ টায় এখন ঘড়িতে দেখলাম ৩টা ১৮ বাজে স্যারের দেখা নেই।<br />
<br />
 মনিষা বললো গত তিনদিন ধরে শুধু গণিত ক্লাস নিচ্ছে আমি একা তাই অন্য ক্লাস ও নিচ্ছে না। <br />
আরও বললো ওর বাসা কোচিং এর পাশেই দুই গলি পরের গলিতে। <br />
আমিও আমার বাসার ঠিকানা বললাম। আরও নানা রকম কথা হলো। <br />
ঘড়িতে তখন ৩ টা ৪৪ স্যার আসে না তাই দুজনেই ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে কোচিং এর অফিস রুমের দিকে গেলাম। <br />
<br />
 সেখানে পরিচালক স্যারের রুমে সব স্যার জটলা পাকিয়ে আছে।<br />
  কিছু ছাত্র ছাত্রী ও আছে একজনকে জিজ্ঞেস করতে বললো পরিচালক স্যারের নাকি সকাল থেকে মাথার চুল আস্তে করে টান দিলেই উঠে আসছে।  পরিচালক স্যার টান দিয়েও দেখালো যে কটা ধরে টান দিচ্ছে সব গুলোই উঠে আসছে।  মনিষা পাশ থেকে বললো তাহলে আজ আর ক্লাস হবে না বাড়ি যাই। বলে সে অফিস রুম থেকে বের হয়ে আসলো।  <br />
<br />
কোচিং এর বাইরে বের হয়ে সে বললো কালকে কিন্তু পুরো ৩ টা তেই চলো এসো। আমি বললাম ঠিক আছে।  সে চলে যাচ্ছে আমি দাড়িয়ে দেখছি। <br />
<br />
বাসার দিকে হাঁটা দিলাম মেয়েটার কথাই বার বার মনে আসছে  এত সুন্দর একটা মেয়ে।  এমন অনুভুতিতো আমার জিবনেও হয় নাই। ভাবতে ভাবতে কখন যে বাড়ি চলে আসলাম বুঝতেই পারলাম না।<br />
বাসাতে ব্যাগ রেখে বের হয়ে গেলাম আমি আবার আমার মামাতো ভাইয়ের সাথে সেই সময় খুব আড্ডা দিতাম ও তখন ও ক্লাস নাইনে পরে-  ২-৪ টা প্রেম ও করেছে।<br />
<br />
 ওকে বলেই বসলাম মনিষার কথা যে তাকে আমার কেন জানি খুব ভালো লেগেছে ও বললো আরে পাগল এটা ভালো বাসারে। <br />
 এখন বড় হচ্ছিস ক্লাস সিক্স উঠলি তাও বুঝলি না আমি বললাম দুর ভাই মেয়েটা! ও বললো তাতে কি ভালবাসা ধর্ম মানে না। <br />
আরও কয়েকদিন যাক তারপর একদিন সাহস করে বলে দিবি তুই ওকে পছন্দ করিস তাহলেই তো হলো।<br />
<br />
সন্ধ্যায় বাসায় ফিরলাম ভাবলাম কালকে কোচিং এ ৩ টার আগেই যাবো। ও নিশ্চয়ই ৩টার আগেই আসবে। রাত যেন আর কাটছেই না। <br />
 সকালে স্কুল গেলাম স্কুল থেকে ফিরে তাড়াতাড়ি কোচিং এ গেলাম।  না মনিষা এখন ও আসে নি আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম এর মধ্যে দেখলাম আর ২ টা ছেলে ২ টা মেয়ে ক্লাসে ডুকলো তারা নতুন ভর্তি হয়েছে বুঝলাম আজকে রাইট টাইমে ক্লাস শুরু হয়েছে  কিন্তু মনিষার দেখা নেই।  <br />
<br />
ক্লাস চলছে আমার তো ক্লাসে মনেই নাই। <br />
হঠাৎ পরিচালক স্যার ক্লাসে আসলো কথায় কথায় বললো যে মেয়েটা সবার আগে ভর্তি হলো সে মেয়েটা আজকে বলে গেল আর আসবে না। <br />
ওর বাবার বদলি হয়েছে তাই অন্য জেলায় চলে যাবে ২-৩ দিনের মধ্যে। <br />
শুনে মনটাই খারাপ হয়ে গেল এটা একটা কথা।<br />
কোচিং শেষ করে বের হলাম। কোচিং এর পাশে ৩ টা গলিই  ২ বার করে চক্কর দিলাম এই আশায় যদি দেখা পাই।<br />
 না কপাল খারাপ আর দেখা পেলাম না। রাগে আমিও কোচিং বাদ দিলাম।  বাড়ি থেকে বললো কোচিং কেন করবো না বললাম স্কুলের স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়বো।<br />
ক্লাস সিক্স শেষ সেভেনে উঠলাম।  বছরের মাঝামাঝি ছেলে পেলে বলাবলি করছে  শুনলাম  আমাদের ক্লাসে একটা নতুন  মেয়ে ভর্তি হয়েছে। <br />
<br />
পরেরদিন স্কুলে গিয়ে আমি অবাক আরে এতো মনিষা।  আমি তাকে মোটামুটি ভুলেই গেছিলাম।  <br />
<br />
তাকে দেখে এবার যেন মনে সত্যিই প্রেম জেগে উঠলো। তার সামন দিয়ে ২-৩ বার যাওয়া আশা করলাম চেয়েও দেখলো কিন্তু কোন কথা বললো না। <br />
<br />
তাহলে কি ভুলে গেছে আমাকে চিনতে পারে নাই। মনে হচ্চে মেয়েটা এই দেড় বলরে আরও সুন্দর হয়ে গেছে।  মাত্র কিছু দিনের মধ্যে দেখলাম সব স্যারেদের পছন্দে ছাত্রী হয়ে উঠেছে।  ভালো পড়া শুনা পারে আমি হলাম গর্দভ ছাত্র!  বুঝলাম কিছু দিনের মধ্যে সম্ভব না।  আমার পক্ষে তাকে বলা আমি তাকে পছন্দ করি।  <br />
<br />
শেষে কোন ভাবে ক্লাসের সবাই যেনে গেলে মান সম্মান নিয়ে টানাটানি তার মধ্যে আবার আমি মুসলিম ও * ।<br />
<br />
যত দিন যায় ওর প্রতি আমার ভালোবাসা বাড়তে থাকে।  একি ক্লাসে পড়ি তাই বন্ধু হিসেবে কখনও কখনও কথা হয়। না স্কুল জীবন শেষ করে  ইন্টারের কলেজেও এক সাথে পড়াশুনা করলাম কিন্তু বলার সাহস হলো না আমার আমি ওকে কতটা ভালোবাসি।<br />
<br />
ইন্টার শেষ আমি চলে আসলাম ঢাকা। ভর্তি হলাম ঢাকা কলেজে ও ভালো ছাত্রী ছিলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে গেল।  দুরত্ব হয়ে গেল। <br />
<br />
বছরে ২-১ বার নিজ শহরে দেখা হলেও হতো।  কিন্তু আমার মন থেকে ও কখনই দুরে যেতে পারে নি। এমন কোন দিন নেই আমি ওর কথা মনে করি নি। <br />
<br />
সৃষ্টিকর্তার কাছে ওকে চেয়ে কত দোআ করছি কিন্তু আমি জানি সম্ভব না। <br />
<br />
বর্তমানে আমি চাকুরী করছি।  ঢাকায় একটা ফ্লাট ভাড়া নিয়ে ব্যাচেলর হয়েই আছি। <br />
<br />
(গল্পের শুরুর সময়ে ফেরত)<br />
<br />
গাড়ি ড্রাইভ করছি আর ভাবছি যাকে এত ভালোবাসি অথচ বলতে পারলাম না।  গতকাল তার বিয়ে হয়ে গেছে।  এজন্য মনটা এতটাই খারাপ লাগছে বলার মত না।<br />
<br />
প্রচন্ড বাতাস শুরু হয়েছে।  ধুলোও সব অন্ধকার ঝড় নামবে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের চত্বরের পাশে রাস্তায় গাড়িটা ব্রেক করলাম।  প্রচন্ড বৃষ্টি শুরু হলো। <br />
<br />
 প্রায় ৩০ মিনিট যাবত বৃষ্টি হচ্ছে আমি গাড়িতে বসে।  একটু সামনের দিতে আগালাম দুর থেকে দেখলাম একটা মেয়ে রাস্তার পাশেই বৃষ্টিতে দাড়িয়ে আছে পাথরের মত। <br />
<br />
সবাই যতটা পরে বৃষ্টি থেকে বাচতে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে অথচ ওই মেয়ে পাথরের মত নিচের দিকে মুখ করে দাড়িয়ে আসে৷ <br />
আরেক টা সামনে এগুতেই কলিজাটা কেঁপে উঠলো মনে হলো মনিষা। <br />
পরক্ষণেই ভাবলাম দুর কালকে ওর বিয়ে হয়ে গেছে আর আমি কি ভাবছি। <br />
<br />
তবু সামনে এগিয়ে গেলাম!<br />
<br />
মাত্র দশ হাত দুরে মেয়েটা গাড়ির গ্লাস নামিযে ভালো করে দেখলাম এবং এবার মনে হচ্ছে আমি সেন্সলেস হয়ে যাবো।<br />
<br />
 হ্যা এটা মনিষাই শিউর আমি শিউর মনিষা।<br />
<br />
চলবে ---------<br />
<br />
( লেখক নতুন হিসেবে কিছু কিছু জায়গায় ভুল ছিলো তাই আমি যত দূর পারছি  সংশোধন করেছি।) <br />
<br />
 <img src="https://forum.xgossip.fun/images/smilies/heart.png" alt="Heart" title="Heart" class="smilie smilie_16" /> <br />
পর্ব ০১<br />
লেখক রেহান ইসলাম<br />
<br />
 </div>]]></content:encoded>
		</item>
	</channel>
</rss>