<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0" xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/" xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/">
	<channel>
		<title><![CDATA[Forums -  Genaral Stories]]></title>
		<link>https://forum.xgossip.fun/</link>
		<description><![CDATA[Forums - https://forum.xgossip.fun]]></description>
		<pubDate>Fri, 11 Sep 2026 11:55:59 +0000</pubDate>
		<generator>MyBB</generator>
		<item>
			<title><![CDATA[গল্প:অঘোষিত হৃদয়সন্ধি (Writer: Raisa Mehran)]]></title>
			<link>https://forum.xgossip.fun/showthread.php?tid=8</link>
			<pubDate>Tue, 01 Sep 2026 10:36:59 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="https://forum.xgossip.fun/member.php?action=profile&uid=1">X Man</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">https://forum.xgossip.fun/showthread.php?tid=8</guid>
			<description><![CDATA[<div style="text-align: center;" class="mycode_align">"আমার বউ আমাকে কিডন্যাপ করে বিয়ে করেছে!! কী করে ভুলে যাই বলো তো?"<br />
<br />
হাসপাতালের করিডোরে মানুষের আনাগোনার মাঝে আচমকা এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা নেমে এল। কালো স্যুট-প্যান্টে মোড়ানো সুঠাম শরীরের যুবক ফারিশ নওয়ান। খয়েরি চোখের মণি আর চোখে ঝকঝকে চশমাটা তাকে এক আলাদা আভিজাত্য দিয়েছে। মুখে হালকা চাপ দাড়ি আর ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা সেই বাঁকা হাসিটা আরিশার বিরক্তির কারণ।ফারিশের কণ্ঠস্বরে একরাশ দুষ্টুমি। অথচ তার হাত বেয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে ফ্লোরে। সেই রক্তের দিকে তাকিয়ে আরিশার কলিজাটা যেন মোচড় দিয়ে উঠল, কিন্তু মুখে সে কঠোরতা বজায় রাখল। আরিশা জবাব দিল—<br />
<br />
"ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন, কিডন্যাপ আমি করলেও বিয়েটা আপনি করেছেন। তাও আবার রাগের মাথায়!"<br />
<br />
ফারিশ আবারও হাসল। যেন এই মুহূর্তটাই সে উপভোগ করছে। অবশ্য আরিশাকে জ্বালাতে তার ভালোই লাগে। <br />
<br />
"আরেহ, বিয়ে করতেই তো কিডন্যাপটা করেছিলে, নাকি?"<br />
<br />
আরিশার বিরক্তি এবার চরমে পৌঁছাল। এই মানুষের যুক্তির সামনে দাঁড়ানো দায়। তিক্ত কণ্ঠে সে বলল,<br />
<br />
 "দেখুন,এখানে এখন অনেক মানুষ!!সবার সামনে এখন এই বিষয় নিয়ে কথা না বলাই ভালো।আফটারঅল আমাদের বিয়ের ব্যাপারে কেউই জানে না!!"<br />
<br />
আরিশার কথায় ফারিশ পুনরায় বাঁকা হাসে। স্থির দৃষ্টি আরিশার চোখে নিবন্ধ করে সে শান্ত স্বরে বলল,<br />
<br />
 "হাত থেকে রক্ত পরছে ব্যান্ডেজ করো!"<br />
<br />
আরিশা অপ্রস্তুত হয়ে তুতলিয়ে উঠল,<br />
<br />
 "আমি পারবো না!!আঙ্কেল আই মিন স্যারকে ডেকে আনছি।স্যার করে দিবে!!"<br />
<br />
আরিশার কথা পছন্দ হয় না ফারিশের। খানিকটা চাপা স্বরে বলে, <br />
<br />
"আই সেইড ইউ দ্যাট মিনস অনলি ইউ!!"<br />
<br />
আরিশা নিজেকে সরিয়ে নিতে চাইল, কিন্তু পিছন থেকে ফারিশের কণ্ঠস্বর তাকে থামিয়ে দিল,<br />
<br />
 "হাত থেকে কিন্তু রক্ত পড়ছে! খুব বেশি!"<br />
<br />
আরিশার মনটা নরম হতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই তার এক ক্লাসমেট এগিয়ে এসে বলল,<br />
<br />
 "আমি ব্যান্ডেজ করে দিই স্যার?"<br />
<br />
ক্লাসমেটের অতি-উৎসাহ দেখে আরিশার মাথায় যেন আগুন জ্বলে উঠল। সে কড়া গলায় বলল,<br />
<br />
 "তোর পড়া কি শেষ? তুই কি ডাক্তার হয়ে গেছিস?"<br />
<br />
প্রতিপক্ষও দমে যাওয়ার পাত্রী নয়, সে পাল্টা উত্তর দিল, <br />
<br />
"সামান্য ব্যান্ডেজ করতে ডাক্তার হতে হয় না।তাছাড়া তুইও তো এখনও স্টুডেন্টই!"<br />
<br />
তর্কাতর্কির মাঝে আরিশা দেখল ফারিশ উঠে দাঁড়াচ্ছে চলে যাওয়ার জন্য। এক মুহূর্তের দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে  আরিশা ফারিশের হাত ধরে হিড়হিড় করে বসিয়ে দিল তাকে। ফারিশের ঠোঁটে তখন বাঁকা হাসি।<br />
<br />
"জামা খুলুন!" <br />
<br />
আরিশার হুকুম।ফারিশ অবাক হওয়ার ভান করে চশমাটা নাকের ওপর ঠিক করে বলল,<br />
<br />
 "মানে কী? এভাবে সবার সামনে...?"<br />
<br />
আরিশা দাঁতে দাঁত চেপে বলল, <br />
<br />
"আপনার বাহুতে আঘাত লেগেছে। ব্যান্ডেজ করতে হলে শার্ট তো সরাতেই হবে। আপনি যা ভাবছেন তা নয়!"<br />
<br />
সবার উৎসুক দৃষ্টি এড়িয়ে  আরিশা ফারিশকে ভেতরের কেবিনে নিয়ে গেল। খুব যত্ন করে, পরম মমতায় ক্ষতের চিকিৎসা করতে লাগল সে। ফারিশ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার এই কিডন্যাপার বউটার দিকে। কাজ শেষ করে  আরিশা উঠে দাঁড়িয়ে বলল, <br />
<br />
"বিশ্রাম নিন। আমি স্যারকে বলছি আপনাকে দেখে যেতে। আমার ক্লাস আছে।"<br />
<br />
"রাতে কল করব। ধরো কিন্তু!"<br />
<br />
ফারিশের দাবিতে অধিকার ছিল।আরিশা কোনো উত্তর না দিয়ে হনহনিয়ে বেরিয়ে গেল কেবিন থেকে। ফারিশ তার যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল। মেয়েটা বড্ড জেদি!! ফাইন ফাইন!! <br />
<br />
_______<br />
<br />
আরিশা ধরাম করে শব্দ করে দরজাটা খুলে। দরজা খোলার শব্দে ডাক্তার নাসির লাফিয়ে উঠেন। ঠিকই বুঝতে পারে সেই চেনা পরিচিত ঝড় এসে হাজির। <br />
<br />
" স্যার..আই মিন আঙ্কেল!! "<br />
<br />
আরিশার ডাকে ডাক্তার নাসির পুনরায় লাফ মেরে উঠে বসেন। <br />
<br />
" আঙ্কেল!! তোমার ছেলে কিন্তু এবার বাড়াবাড়ি করছে!! সারাক্ষণ আমাকে বিরক্ত করা!! আমি কিন্তু আর সহ্য করবো না!! পরে কিছু একটা হয়ে গেলে কিন্তু আমাকে দোষ দিতে পারবে না!! "<br />
<br />
আরিশার কথায় ডা নাসির চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আরাম করে চা খেতে খেতে বলে, <br />
<br />
" আরে রিলাক্স.... "<br />
<br />
কথাটা শেষ করার আগেই  আরিশা টেবিলে জোরে বারি দিয়ে উঠে। সেই বারির শব্দে ডা নাসির আবারও লাফিয়ে সোজা হয়ে বসে। <br />
<br />
" তোমার রিলাক্সের গুষ্টি কিলাই!! তোমার ছেলে যদি আমাকে আর একবারও বিরক্ত করে তবে কিন্তু তোমার খবর আছে। সব রাগ তোমার উপর ঝাড়বো!! "<br />
<br />
" বুঝেছি, বুঝেছি। আজকেই বাসায় গিয়ে ওকে শায়েস্তা করবো। তুই এবার শান্ত হ!! "<br />
<br />
আরিশা এবার জোরে জোরে নিঃশ্বাস নেয়। <br />
<br />
" ক্লাস আছে। আমি গেলাম!! "<br />
<br />
" আমার দেওয়া পড়াটা শিখেছিস!! "<br />
<br />
পিছন থেকে চোখ ছোট ছোট করে মি নাসির জিজ্ঞাসা করে। <br />
<br />
" মানে আঙ্কেল,জানো তো, তোমার ছেলে ফাজিল হলেও তুমি কিন্তু অনেক ভালো!! "<br />
<br />
মি নাসির এবার আরিশার কান টেনে ধরে। <br />
<br />
" চালাকী করা হচ্ছে তাই না!! "<br />
<br />
" আহহ,সরি আঙ্কেল।কাল ঠিকই শিখে আসব। এখন আমি গেলাম!! "<br />
<br />
মি নাসির থেকে ছাড়া পেয়ে কোনোরকম পালায় আরিশা। মি নাসির হেসে উঠে। <br />
<br />
" তুমি এভাবে আমার কিডন্যাপারের কান টানতে পারো না!! "<br />
<br />
বুকে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে কথাটা বলে ফারিশ। <br />
<br />
" লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লাবিল্লাহ!! তুই এখানে কিভাবে?? "<br />
<br />
মি নাসির চমকে পিছনে তাকিয়ে বলে। ফারিশ বাবার কথায় পাত্তা না দিয়ে তীক্ষ্ণ নজরে এখনও তার দিকে তাকিয়ে। <br />
<br />
" তোমাকে ইদানীং কেন জানি আমার সন্দেহ হয়!!খুববব বেশি!!"<br />
<br />
ছেলের কথায় মি নাসির শুকনো ঢোক গিলে। ছেলেকে কিডন্যাপের পিছনে যে তারও হাত ছিল এটা কোনোভাবে জেনে যায়নি তো!! <br />
<br />
"  এনিওয়ে, এক কাপ কফি দিতে বলো তো!! মাথাটা বেশ ধরেছে!! "<br />
<br />
কথাটা বলতে বলতেই চেয়ারে গিয়ে বসে চশমাটা খুলে টেবিলে রাখে ফারিশ। মি নাসির হতাশার দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে। এই দুইজনের জ্বালায় তার নাজেহাল দশা। <br />
<br />
( অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ?) <br />
<br />
<br />
 <br />
</div>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<div style="text-align: center;" class="mycode_align">"আমার বউ আমাকে কিডন্যাপ করে বিয়ে করেছে!! কী করে ভুলে যাই বলো তো?"<br />
<br />
হাসপাতালের করিডোরে মানুষের আনাগোনার মাঝে আচমকা এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা নেমে এল। কালো স্যুট-প্যান্টে মোড়ানো সুঠাম শরীরের যুবক ফারিশ নওয়ান। খয়েরি চোখের মণি আর চোখে ঝকঝকে চশমাটা তাকে এক আলাদা আভিজাত্য দিয়েছে। মুখে হালকা চাপ দাড়ি আর ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা সেই বাঁকা হাসিটা আরিশার বিরক্তির কারণ।ফারিশের কণ্ঠস্বরে একরাশ দুষ্টুমি। অথচ তার হাত বেয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে ফ্লোরে। সেই রক্তের দিকে তাকিয়ে আরিশার কলিজাটা যেন মোচড় দিয়ে উঠল, কিন্তু মুখে সে কঠোরতা বজায় রাখল। আরিশা জবাব দিল—<br />
<br />
"ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন, কিডন্যাপ আমি করলেও বিয়েটা আপনি করেছেন। তাও আবার রাগের মাথায়!"<br />
<br />
ফারিশ আবারও হাসল। যেন এই মুহূর্তটাই সে উপভোগ করছে। অবশ্য আরিশাকে জ্বালাতে তার ভালোই লাগে। <br />
<br />
"আরেহ, বিয়ে করতেই তো কিডন্যাপটা করেছিলে, নাকি?"<br />
<br />
আরিশার বিরক্তি এবার চরমে পৌঁছাল। এই মানুষের যুক্তির সামনে দাঁড়ানো দায়। তিক্ত কণ্ঠে সে বলল,<br />
<br />
 "দেখুন,এখানে এখন অনেক মানুষ!!সবার সামনে এখন এই বিষয় নিয়ে কথা না বলাই ভালো।আফটারঅল আমাদের বিয়ের ব্যাপারে কেউই জানে না!!"<br />
<br />
আরিশার কথায় ফারিশ পুনরায় বাঁকা হাসে। স্থির দৃষ্টি আরিশার চোখে নিবন্ধ করে সে শান্ত স্বরে বলল,<br />
<br />
 "হাত থেকে রক্ত পরছে ব্যান্ডেজ করো!"<br />
<br />
আরিশা অপ্রস্তুত হয়ে তুতলিয়ে উঠল,<br />
<br />
 "আমি পারবো না!!আঙ্কেল আই মিন স্যারকে ডেকে আনছি।স্যার করে দিবে!!"<br />
<br />
আরিশার কথা পছন্দ হয় না ফারিশের। খানিকটা চাপা স্বরে বলে, <br />
<br />
"আই সেইড ইউ দ্যাট মিনস অনলি ইউ!!"<br />
<br />
আরিশা নিজেকে সরিয়ে নিতে চাইল, কিন্তু পিছন থেকে ফারিশের কণ্ঠস্বর তাকে থামিয়ে দিল,<br />
<br />
 "হাত থেকে কিন্তু রক্ত পড়ছে! খুব বেশি!"<br />
<br />
আরিশার মনটা নরম হতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই তার এক ক্লাসমেট এগিয়ে এসে বলল,<br />
<br />
 "আমি ব্যান্ডেজ করে দিই স্যার?"<br />
<br />
ক্লাসমেটের অতি-উৎসাহ দেখে আরিশার মাথায় যেন আগুন জ্বলে উঠল। সে কড়া গলায় বলল,<br />
<br />
 "তোর পড়া কি শেষ? তুই কি ডাক্তার হয়ে গেছিস?"<br />
<br />
প্রতিপক্ষও দমে যাওয়ার পাত্রী নয়, সে পাল্টা উত্তর দিল, <br />
<br />
"সামান্য ব্যান্ডেজ করতে ডাক্তার হতে হয় না।তাছাড়া তুইও তো এখনও স্টুডেন্টই!"<br />
<br />
তর্কাতর্কির মাঝে আরিশা দেখল ফারিশ উঠে দাঁড়াচ্ছে চলে যাওয়ার জন্য। এক মুহূর্তের দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে  আরিশা ফারিশের হাত ধরে হিড়হিড় করে বসিয়ে দিল তাকে। ফারিশের ঠোঁটে তখন বাঁকা হাসি।<br />
<br />
"জামা খুলুন!" <br />
<br />
আরিশার হুকুম।ফারিশ অবাক হওয়ার ভান করে চশমাটা নাকের ওপর ঠিক করে বলল,<br />
<br />
 "মানে কী? এভাবে সবার সামনে...?"<br />
<br />
আরিশা দাঁতে দাঁত চেপে বলল, <br />
<br />
"আপনার বাহুতে আঘাত লেগেছে। ব্যান্ডেজ করতে হলে শার্ট তো সরাতেই হবে। আপনি যা ভাবছেন তা নয়!"<br />
<br />
সবার উৎসুক দৃষ্টি এড়িয়ে  আরিশা ফারিশকে ভেতরের কেবিনে নিয়ে গেল। খুব যত্ন করে, পরম মমতায় ক্ষতের চিকিৎসা করতে লাগল সে। ফারিশ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার এই কিডন্যাপার বউটার দিকে। কাজ শেষ করে  আরিশা উঠে দাঁড়িয়ে বলল, <br />
<br />
"বিশ্রাম নিন। আমি স্যারকে বলছি আপনাকে দেখে যেতে। আমার ক্লাস আছে।"<br />
<br />
"রাতে কল করব। ধরো কিন্তু!"<br />
<br />
ফারিশের দাবিতে অধিকার ছিল।আরিশা কোনো উত্তর না দিয়ে হনহনিয়ে বেরিয়ে গেল কেবিন থেকে। ফারিশ তার যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল। মেয়েটা বড্ড জেদি!! ফাইন ফাইন!! <br />
<br />
_______<br />
<br />
আরিশা ধরাম করে শব্দ করে দরজাটা খুলে। দরজা খোলার শব্দে ডাক্তার নাসির লাফিয়ে উঠেন। ঠিকই বুঝতে পারে সেই চেনা পরিচিত ঝড় এসে হাজির। <br />
<br />
" স্যার..আই মিন আঙ্কেল!! "<br />
<br />
আরিশার ডাকে ডাক্তার নাসির পুনরায় লাফ মেরে উঠে বসেন। <br />
<br />
" আঙ্কেল!! তোমার ছেলে কিন্তু এবার বাড়াবাড়ি করছে!! সারাক্ষণ আমাকে বিরক্ত করা!! আমি কিন্তু আর সহ্য করবো না!! পরে কিছু একটা হয়ে গেলে কিন্তু আমাকে দোষ দিতে পারবে না!! "<br />
<br />
আরিশার কথায় ডা নাসির চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আরাম করে চা খেতে খেতে বলে, <br />
<br />
" আরে রিলাক্স.... "<br />
<br />
কথাটা শেষ করার আগেই  আরিশা টেবিলে জোরে বারি দিয়ে উঠে। সেই বারির শব্দে ডা নাসির আবারও লাফিয়ে সোজা হয়ে বসে। <br />
<br />
" তোমার রিলাক্সের গুষ্টি কিলাই!! তোমার ছেলে যদি আমাকে আর একবারও বিরক্ত করে তবে কিন্তু তোমার খবর আছে। সব রাগ তোমার উপর ঝাড়বো!! "<br />
<br />
" বুঝেছি, বুঝেছি। আজকেই বাসায় গিয়ে ওকে শায়েস্তা করবো। তুই এবার শান্ত হ!! "<br />
<br />
আরিশা এবার জোরে জোরে নিঃশ্বাস নেয়। <br />
<br />
" ক্লাস আছে। আমি গেলাম!! "<br />
<br />
" আমার দেওয়া পড়াটা শিখেছিস!! "<br />
<br />
পিছন থেকে চোখ ছোট ছোট করে মি নাসির জিজ্ঞাসা করে। <br />
<br />
" মানে আঙ্কেল,জানো তো, তোমার ছেলে ফাজিল হলেও তুমি কিন্তু অনেক ভালো!! "<br />
<br />
মি নাসির এবার আরিশার কান টেনে ধরে। <br />
<br />
" চালাকী করা হচ্ছে তাই না!! "<br />
<br />
" আহহ,সরি আঙ্কেল।কাল ঠিকই শিখে আসব। এখন আমি গেলাম!! "<br />
<br />
মি নাসির থেকে ছাড়া পেয়ে কোনোরকম পালায় আরিশা। মি নাসির হেসে উঠে। <br />
<br />
" তুমি এভাবে আমার কিডন্যাপারের কান টানতে পারো না!! "<br />
<br />
বুকে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে কথাটা বলে ফারিশ। <br />
<br />
" লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লাবিল্লাহ!! তুই এখানে কিভাবে?? "<br />
<br />
মি নাসির চমকে পিছনে তাকিয়ে বলে। ফারিশ বাবার কথায় পাত্তা না দিয়ে তীক্ষ্ণ নজরে এখনও তার দিকে তাকিয়ে। <br />
<br />
" তোমাকে ইদানীং কেন জানি আমার সন্দেহ হয়!!খুববব বেশি!!"<br />
<br />
ছেলের কথায় মি নাসির শুকনো ঢোক গিলে। ছেলেকে কিডন্যাপের পিছনে যে তারও হাত ছিল এটা কোনোভাবে জেনে যায়নি তো!! <br />
<br />
"  এনিওয়ে, এক কাপ কফি দিতে বলো তো!! মাথাটা বেশ ধরেছে!! "<br />
<br />
কথাটা বলতে বলতেই চেয়ারে গিয়ে বসে চশমাটা খুলে টেবিলে রাখে ফারিশ। মি নাসির হতাশার দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে। এই দুইজনের জ্বালায় তার নাজেহাল দশা। <br />
<br />
( অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ?) <br />
<br />
<br />
 <br />
</div>]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[গল্প: অযাচিত প্রণয়  (Writer: Sana Sheikh)( সমাপ্ত)]]></title>
			<link>https://forum.xgossip.fun/showthread.php?tid=7</link>
			<pubDate>Tue, 01 Sep 2026 08:46:53 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="https://forum.xgossip.fun/member.php?action=profile&uid=1">X Man</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">https://forum.xgossip.fun/showthread.php?tid=7</guid>
			<description><![CDATA[<div style="text-align: center;" class="mycode_align">কানাডা থেকে খালাতো বোনের বিয়ে খেতে এসে নিজেরই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হবে শুনে থ হয়ে গেছে ইমরান । মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে না তবে মস্তিষ্ক টগবগ করে ফুটছে।<br />
<br />
এয়ারপোর্ট থেকে সোজা ছোট খালার বাড়িতে এসেছে। আর আসার দশ মিনিট পরেই শুনছে বর পালিয়ে গেছে গার্লফ্রেন্ডের সাথে। বর ছাড়া বর যাত্রী কি করতে আসবে ? তারা কল করে তুলির বাবার কাছে মাফ চেয়েছেন । তুলির বাবা এখন কি করবেন ? তার মেয়ের কি হবে ? টেনশনে পেশার লো হয়ে নিচে পড়ে গেছেন। মাথায় পানি ঢেলে ওনাকে কিছুটা স্বাভাবিক করা হয়েছে । কিন্তু একটা কথাও বলছেন না তিনি । রাগে থরথর করে কাঁপছেন শুধু । আদরের মেয়ের সামনে কোন মুখে দাঁড়াবেন তিনি ? কি জবাব দেবেন মেয়েকে ? ওই ছেলেকে সামনে পেলে জ*বাই করবেন তামিম ইকবাল। গার্লফ্রেন্ড নিয়ে পালিয়েই যখন যাবি বিয়ের আগের দিন গেলি না কেনো ? বিয়ের দিন কেনো গেলি ? গার্লফ্রেন্ড আছে তাহলে বিয়েতে রাজী কেনো হয়েছিলি ? বিয়ের আগে বললি না কেনো ? <br />
তুলির মা মিসেস ইয়ানা  স্তব্ধ হয়ে রয়েছেন । <br />
তুলি এখনো এই সবের কিছুই জানে না , বাড়ির ভেতর রয়েছে এখনো , ওকে সাঁজানো হচ্ছে । বিয়ে বাড়ি পুরো শোকসভায় পরিণত হয়েছে । হই হই , রৈ রৈ , ডিজে গান সব থেমে গেছে । <br />
এমন এক মুহূর্তে ইমরানের বাবা মুস্তাফিজুর রহমান বলেন ,<br />
<br />
_ বিয়ে আজকে হবেই ।<br />
<br />
তামিম ইকবাল চোখ তুলে তার দিকে তাকান । <br />
তারপর আর কি ? ইমরানকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে । <br />
<br />
বেচারা এই কথা শোনার পর থেকে সাপের মতো ফোস ফোস করছে । কোন দুঃখে বিয়ে খেতে এসেছিল ? <br />
চ্যারার (কেঁচো) মত চিকন মেয়েকে বিয়ে করবে তাও ইমরান মাহমুদুল ? "সারহীন চিকন সাদা মুলা" বলে ডাকতো সবাই ছোট বেলায়  তুলিকে । কেউ কেউ "ওয়েট লেস তুলা" বলে ডাকতো । আবার কেউ কেউ কেঁচো , কেইছা বা চ্যারা বলে ডাকতো ।  এতো চিকন ছিল ছোট বেলায়। তবে দেখতে পুতুলের মতো লাগতো। সারা দিন ফ্যার ফ্যার করে দৌড়ে বেড়াতো । দুই পাশের ঝুঁটি দুটো উচুঁ নীচু হতো কদম দেওয়ার সাথে সাথে । আর কেঁচো , কেইছা বা চ্যারা বলে ডাকার একটা কারণ আছে তা হলো তুলি ছোট বেলায় মাটি দিয়ে বেশি খেলতো। মাটিতে খেলতে না দিলে গলা ছেড়ে চিৎ*কার করে কান্না করতো। বলা যায় মাটির পোকা ছিল তুলি। এই কারণেই এমন অদ্ভুত অদ্ভুত নামে ডাকতো ওর কাজিনরা । সাথে বড়রাও ভালোবেসে ডাকতো। তুলিকে সবাই পছন্দ করলেও ইমরান করতো না ছোট থেকেই । মাটিতে ল্যাটা দিয়ে বসে খেলা ওর সবচেয়ে অপছন্দ । নিজে তো খেলবেই না অন্য কাউকে খেলতেও দেবে না । গ্রামে নানু বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পর তুলিকে দেখে একশো হাত দূরে থাকতো। কারণ তুলি ইমরানকে দেখেই দৌড়ে যেতো ওর কোলে চড়ার জন্য । আর গিয়েই নিজের গায়ের ধুলো বালি মাটি ইমরানের গায়ে লাগিয়ে দিতো। তখন ইমরান না পারতো তুলিকে মা*রতে আর না পারতো সহ্য করতে। বেচারা সাপের মতো ফোস ফোস করে নিজেকে শান্ত করতো। <br />
<br />
আর আজকে কিনা সেই তুলিকে বিয়ে করতে হবে ? যাকে ও দুই চোখে দেখতে পারে না । ওর কথা স্মরণ হলে রাগে মাথা ফেটে যায় । ছোট বেলায় নানু বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পর কি জ্বালান জ্বালাতো ওকে । তখন থেকেই দুচোখে দেখতে পারে না । <br />
<br />
বিয়ের হৈ হৈ রৈ রৈ ডিজে গান আবার শুরু হয় । <br />
সবাই খুশি হলেও ইমরান কোনো ভাবেই খুশি হতে পারছে না । কিভাবে খুশি হবে ? ওর ত্রিশ বছরের সিঙ্গেল জীবনের ইতি ঘটতে চলেছে । তাও ওর অপছন্দের মেয়ের সাথে । <br />
ডাক্তারি পড়া শেষ করে কানাডা তেই ডাক্তারি পেশায় নিয়োজিত হয়েছে। এক বছরের মধ্যে ওই দেশের নাগরিকত্ব পেয়েছে। তার পর পনেরো দিনের ছুটি নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিল গত তিন বছর আগে। তখন দুবার দেখেছিল তুলিকে । তার পর আর দেখা হয়নি । <br />
<br />
ইমরানকে একটা রুমে রেস্ট নেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে । রুমে এসে মাকে কাছে ডাকে ।  মিসেস ইরানী কাছে আসতেই ইমরান রেগে রেগে বলে ,<br />
<br />
_ এসব কি হচ্ছে আম্মু ? আসলাম বিয়ে খেতে , আর এখন নিজেরই বিয়ে!<br />
<br />
_ বয়স তো কম হয়নি , বিয়ে তো করতেই হবে একদিন না একদিন । তাহলে আজকে করলে সমস্যা কোথায় ? <br />
<br />
_ তুলিকে আমি বিয়ে করবো না ।<br />
<br />
_ কেনো ? কি সমস্যা ? তুলি স্মার্ট সুন্দরী শিক্ষিত মেয়ে। তোর পাশে ওকেই মানাবে । <br />
<br />
_ তুমি বুঝতে পারছো না কিছু ?<br />
<br />
_ নাহ্ আর বুঝতে চাই ও না । বিয়ে করতে বললেই তোর না না শুধু । বিয়ের কথা উঠলেই নানান বাহানা । <br />
<br />
_ বিয়ে করবো কিন্তু ওকে না । অন্য মেয়ে বিয়ে করবো। <br />
<br />
_ এ দেখি ভূতের মুখে রাম রাম । মুডি বয় ইমরান মাহমুদুল বিয়ে করবে ? তাও নিজের মুখে বলছে ? স্বপ্ন দেখছি না তো আমি ? <br />
<br />
_ মজা করছো আমার সাথে ? <br />
<br />
_ একদমই না ।<br />
<br />
_ আমি তুলিকে বিয়ে করবো না এটাই শেষ কথা । <br />
<br />
_ আমি তুলি কেই আমার বাড়ির বউ বানাবো । <br />
<br />
_ ওকেই কেনো বানাতে হবে ?<br />
<br />
_ ওকে আমার পছন্দ হয়েছে ওকেই বউ বানাবো। ওকে আমার বাড়ির বউ না বানালে আমি ওই বাড়িতে আর ফিরবো না ।<br />
<br />
 কপাল ভ্রু কুঁচকে কিছু সময় মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে ইমরান । তারপর বলে ,<br />
<br />
_ ওর বাড়ির বউ হওয়ার সাথে তোমার বাড়ি ফেরার কি সম্পর্ক ? <br />
<br />
_ তুলিকে আমার পছন্দ হয়েছে, ওকে বাড়ির বউ হিসেবে মেনে নিয়েছি আমি । ওকেই বউ বানাতে হবে এটাই আমার শেষ কথা । <br />
<br />
_ আরেক ছেলে আছে তো তার সাথে বিয়ে দিয়ে দাও। ওদের দুজনের স্বভাব চরিত্র এক । <br />
<br />
_ গিয়ে রাজি করা তোর ভাইকে । <br />
<br />
_ করাচ্ছি ।<br />
<br />
_ হুম যা ।<br />
<br />
ইমরান পকেট থেকে ফোন বের করে ওর মায়ের কাছ থেকে ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড নিয়ে ওয়াইফাই কানেক্ট করে । তার পর ছোট ভাই কামরান মাহমুদুল এর ফোনে ম্যাসেজ পাঠায় । <br />
মিসেস ইরানী কে ডাক দেওয়ায় সে রুম থেকে বেরিয়ে চলে যায় । ছেলের বিয়ে তার অনেক কাজ । <br />
<br />
একটু পরেই কামরান চলে আসে বড় ভাইয়ের কাছে । <br />
ইমরান গম্ভীর থমথমে হয়ে পায়চারি করছে । <br />
এতো রাস্তা জার্নি করে এই লোক ক্লান্ত হয়নি নাকি ? চিৎ পটাং হয়ে বিশ্রাম না নিয়ে এভাবে পায়চারি করছে কেনো ? একটু পরেই তো বিয়ে , এখন বিশ্রাম না নিলে বিশ্রাম নেওয়ার সময় পাবে না তো আর । <br />
<br />
_ হ্যাঁ ভাইয়া বলো কি বলবে !<br />
 <br />
_ আমি এই বিয়ে করবো না ।<br />
<br />
_ কেন?<br />
<br />
_ করবো না মানে করবো না । এতো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবো না । <br />
<br />
কামরান বির বির করে বলে ,<br />
<br />
_ খ্যাক খ্যাক করার স্বভাব যায়নি এখনো । <br />
<br />
তারপর বড় ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে ,<br />
<br />
_ বিয়ে করবে না তো আমি কি করবো ? <br />
<br />
_ তুই এই বিয়ে ক <br />
<br />
মাঝ খানে থামিয়ে দেয় কামরান । <br />
<br />
_ জীবনেও না ভাই , আমার গার্লফ্রেন্ড আছে ।<br />
<br />
_ তো কি হয়েছে ?<br />
<br />
_ ওকে আমি অনেক ভালোবাসি । ওকে রেখে অন্য কাউকে বিয়ে করলে বাসর করার আগেই আমার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে । তাছাড়া তুলার বস্তা কে আগে আমি বড় বোনের নজরে দেখতাম আর এখন  ভাবী হিসেবে মেনে নিয়েছি। বড় বোন আর ভাবী মায়ের সমান । আস্তাগফিরুল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ এই কথা আর জীবনেও উচ্চারণ করবে না ভাইয়া । আল্লাহ তায়ালা পাপ দেবে । <br />
<br />
_ সর আমার চোখের সামনে থেকে । <br />
<br />
_ আমি এসেছি নাকি ? তুমিই তো ডেকেছো। কি সুন্দর গার্লফ্রেন্ডের সাথে প্রেমালাপ করছিলাম । <br />
<br />
_ তোর মধ্যে লজ্জা সরম বলতে কিছু কি আছে ?<br />
<br />
_ নাহ্ , একদম নেই । <br />
<br />
ইমরান তেড়ে যায় কামরানের দিকে । কামরান দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায় । <br />
ভদ্র সভ্য ইমরান পারছে না ছোট ভাইকে একটা গালী দিতে । ওর আপন ভাই এমন হয়ে গেছে ভাবতেই অবাক লাগে । কেমন লাগাম ছাড়া কথা বলে বড় ভাইয়ের সামনে । লাজ লজ্জা কিচ্ছু নেই । বাড়িতে থাকলে একদম সোজা করে রাখতো । <br />
পুনরায় পায়চারি করতে শুরু করে । কিভাবে বিয়ে বন্ধ করা যায় । ছোট ভাইয়ের মত বাঁদর মেয়েকে কিছুতেই বিয়ে করবে না ইমরান । এই মেয়েকে কেনো শুধু ! কোনো মেয়ে কেই বিয়ে করতে চায় না ইমরান । বিয়ে মানেই ঝামেলা , আর ঝামেলা মানে প্যারা । আর প্যারা থাকলে মনে শান্তি থাকে না । আর মনে শান্তি না থাকলে কিছুই ভালো লাগে না । ঝামেলা প্যারা আর অশান্তি নিজের জীবনে চায় না ইমরান । একা একাই খুব সুখে শান্তিতে আছে ও । ওর একার জীবনে ব্যাঘাত ঘটতে দেবে না ইমরান । কিন্তু কি করবে ? ছোট ভাই তো বিয়ে করবে না বললো । <br />
<br />
______________________<br />
<br />
বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায় । তুলি রোবটের মতো বসে রয়েছে । পাশেই বসে রয়েছে আরেক রোবট । <br />
তুলি ঘাড় ঘুরিয়ে একবার ইমরানের মুখের দিকে তাকায় । ইমরান গম্ভীর হয়ে তাকিয়ে আছে ওর দিকে । কি ভাবছে মনে মনে কে জানে । <br />
ইমরানের ওই চাহনি দেখে মাথা ঘুরে ওঠে তুলির ।  এই রোবটের সাথে কিভাবে থাকবে ? এই রোবটের আদো কোনো অনুভূতি আছে কি না সন্দেহ আছে । <br />
দুলতে দুলতে স্টেজের উপরেই কাত হয়ে শুয়ে পড়ে । <br />
টেনশনে মাথা ঘুরছে ভন ভন । চোখে দেখছে সর্ষে ফুল। <br />
দুনিয়ায় ছেলের অভাব পড়েছিল ? বিয়ে টা নাহয় আরো দুই চার দশ বছর পর করতো কোনো সমস্যা নেই তো তুলির । <br />
<br />
চলবে..............<br />
 </div>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<div style="text-align: center;" class="mycode_align">কানাডা থেকে খালাতো বোনের বিয়ে খেতে এসে নিজেরই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হবে শুনে থ হয়ে গেছে ইমরান । মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে না তবে মস্তিষ্ক টগবগ করে ফুটছে।<br />
<br />
এয়ারপোর্ট থেকে সোজা ছোট খালার বাড়িতে এসেছে। আর আসার দশ মিনিট পরেই শুনছে বর পালিয়ে গেছে গার্লফ্রেন্ডের সাথে। বর ছাড়া বর যাত্রী কি করতে আসবে ? তারা কল করে তুলির বাবার কাছে মাফ চেয়েছেন । তুলির বাবা এখন কি করবেন ? তার মেয়ের কি হবে ? টেনশনে পেশার লো হয়ে নিচে পড়ে গেছেন। মাথায় পানি ঢেলে ওনাকে কিছুটা স্বাভাবিক করা হয়েছে । কিন্তু একটা কথাও বলছেন না তিনি । রাগে থরথর করে কাঁপছেন শুধু । আদরের মেয়ের সামনে কোন মুখে দাঁড়াবেন তিনি ? কি জবাব দেবেন মেয়েকে ? ওই ছেলেকে সামনে পেলে জ*বাই করবেন তামিম ইকবাল। গার্লফ্রেন্ড নিয়ে পালিয়েই যখন যাবি বিয়ের আগের দিন গেলি না কেনো ? বিয়ের দিন কেনো গেলি ? গার্লফ্রেন্ড আছে তাহলে বিয়েতে রাজী কেনো হয়েছিলি ? বিয়ের আগে বললি না কেনো ? <br />
তুলির মা মিসেস ইয়ানা  স্তব্ধ হয়ে রয়েছেন । <br />
তুলি এখনো এই সবের কিছুই জানে না , বাড়ির ভেতর রয়েছে এখনো , ওকে সাঁজানো হচ্ছে । বিয়ে বাড়ি পুরো শোকসভায় পরিণত হয়েছে । হই হই , রৈ রৈ , ডিজে গান সব থেমে গেছে । <br />
এমন এক মুহূর্তে ইমরানের বাবা মুস্তাফিজুর রহমান বলেন ,<br />
<br />
_ বিয়ে আজকে হবেই ।<br />
<br />
তামিম ইকবাল চোখ তুলে তার দিকে তাকান । <br />
তারপর আর কি ? ইমরানকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে । <br />
<br />
বেচারা এই কথা শোনার পর থেকে সাপের মতো ফোস ফোস করছে । কোন দুঃখে বিয়ে খেতে এসেছিল ? <br />
চ্যারার (কেঁচো) মত চিকন মেয়েকে বিয়ে করবে তাও ইমরান মাহমুদুল ? "সারহীন চিকন সাদা মুলা" বলে ডাকতো সবাই ছোট বেলায়  তুলিকে । কেউ কেউ "ওয়েট লেস তুলা" বলে ডাকতো । আবার কেউ কেউ কেঁচো , কেইছা বা চ্যারা বলে ডাকতো ।  এতো চিকন ছিল ছোট বেলায়। তবে দেখতে পুতুলের মতো লাগতো। সারা দিন ফ্যার ফ্যার করে দৌড়ে বেড়াতো । দুই পাশের ঝুঁটি দুটো উচুঁ নীচু হতো কদম দেওয়ার সাথে সাথে । আর কেঁচো , কেইছা বা চ্যারা বলে ডাকার একটা কারণ আছে তা হলো তুলি ছোট বেলায় মাটি দিয়ে বেশি খেলতো। মাটিতে খেলতে না দিলে গলা ছেড়ে চিৎ*কার করে কান্না করতো। বলা যায় মাটির পোকা ছিল তুলি। এই কারণেই এমন অদ্ভুত অদ্ভুত নামে ডাকতো ওর কাজিনরা । সাথে বড়রাও ভালোবেসে ডাকতো। তুলিকে সবাই পছন্দ করলেও ইমরান করতো না ছোট থেকেই । মাটিতে ল্যাটা দিয়ে বসে খেলা ওর সবচেয়ে অপছন্দ । নিজে তো খেলবেই না অন্য কাউকে খেলতেও দেবে না । গ্রামে নানু বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পর তুলিকে দেখে একশো হাত দূরে থাকতো। কারণ তুলি ইমরানকে দেখেই দৌড়ে যেতো ওর কোলে চড়ার জন্য । আর গিয়েই নিজের গায়ের ধুলো বালি মাটি ইমরানের গায়ে লাগিয়ে দিতো। তখন ইমরান না পারতো তুলিকে মা*রতে আর না পারতো সহ্য করতে। বেচারা সাপের মতো ফোস ফোস করে নিজেকে শান্ত করতো। <br />
<br />
আর আজকে কিনা সেই তুলিকে বিয়ে করতে হবে ? যাকে ও দুই চোখে দেখতে পারে না । ওর কথা স্মরণ হলে রাগে মাথা ফেটে যায় । ছোট বেলায় নানু বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পর কি জ্বালান জ্বালাতো ওকে । তখন থেকেই দুচোখে দেখতে পারে না । <br />
<br />
বিয়ের হৈ হৈ রৈ রৈ ডিজে গান আবার শুরু হয় । <br />
সবাই খুশি হলেও ইমরান কোনো ভাবেই খুশি হতে পারছে না । কিভাবে খুশি হবে ? ওর ত্রিশ বছরের সিঙ্গেল জীবনের ইতি ঘটতে চলেছে । তাও ওর অপছন্দের মেয়ের সাথে । <br />
ডাক্তারি পড়া শেষ করে কানাডা তেই ডাক্তারি পেশায় নিয়োজিত হয়েছে। এক বছরের মধ্যে ওই দেশের নাগরিকত্ব পেয়েছে। তার পর পনেরো দিনের ছুটি নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিল গত তিন বছর আগে। তখন দুবার দেখেছিল তুলিকে । তার পর আর দেখা হয়নি । <br />
<br />
ইমরানকে একটা রুমে রেস্ট নেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে । রুমে এসে মাকে কাছে ডাকে ।  মিসেস ইরানী কাছে আসতেই ইমরান রেগে রেগে বলে ,<br />
<br />
_ এসব কি হচ্ছে আম্মু ? আসলাম বিয়ে খেতে , আর এখন নিজেরই বিয়ে!<br />
<br />
_ বয়স তো কম হয়নি , বিয়ে তো করতেই হবে একদিন না একদিন । তাহলে আজকে করলে সমস্যা কোথায় ? <br />
<br />
_ তুলিকে আমি বিয়ে করবো না ।<br />
<br />
_ কেনো ? কি সমস্যা ? তুলি স্মার্ট সুন্দরী শিক্ষিত মেয়ে। তোর পাশে ওকেই মানাবে । <br />
<br />
_ তুমি বুঝতে পারছো না কিছু ?<br />
<br />
_ নাহ্ আর বুঝতে চাই ও না । বিয়ে করতে বললেই তোর না না শুধু । বিয়ের কথা উঠলেই নানান বাহানা । <br />
<br />
_ বিয়ে করবো কিন্তু ওকে না । অন্য মেয়ে বিয়ে করবো। <br />
<br />
_ এ দেখি ভূতের মুখে রাম রাম । মুডি বয় ইমরান মাহমুদুল বিয়ে করবে ? তাও নিজের মুখে বলছে ? স্বপ্ন দেখছি না তো আমি ? <br />
<br />
_ মজা করছো আমার সাথে ? <br />
<br />
_ একদমই না ।<br />
<br />
_ আমি তুলিকে বিয়ে করবো না এটাই শেষ কথা । <br />
<br />
_ আমি তুলি কেই আমার বাড়ির বউ বানাবো । <br />
<br />
_ ওকেই কেনো বানাতে হবে ?<br />
<br />
_ ওকে আমার পছন্দ হয়েছে ওকেই বউ বানাবো। ওকে আমার বাড়ির বউ না বানালে আমি ওই বাড়িতে আর ফিরবো না ।<br />
<br />
 কপাল ভ্রু কুঁচকে কিছু সময় মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে ইমরান । তারপর বলে ,<br />
<br />
_ ওর বাড়ির বউ হওয়ার সাথে তোমার বাড়ি ফেরার কি সম্পর্ক ? <br />
<br />
_ তুলিকে আমার পছন্দ হয়েছে, ওকে বাড়ির বউ হিসেবে মেনে নিয়েছি আমি । ওকেই বউ বানাতে হবে এটাই আমার শেষ কথা । <br />
<br />
_ আরেক ছেলে আছে তো তার সাথে বিয়ে দিয়ে দাও। ওদের দুজনের স্বভাব চরিত্র এক । <br />
<br />
_ গিয়ে রাজি করা তোর ভাইকে । <br />
<br />
_ করাচ্ছি ।<br />
<br />
_ হুম যা ।<br />
<br />
ইমরান পকেট থেকে ফোন বের করে ওর মায়ের কাছ থেকে ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড নিয়ে ওয়াইফাই কানেক্ট করে । তার পর ছোট ভাই কামরান মাহমুদুল এর ফোনে ম্যাসেজ পাঠায় । <br />
মিসেস ইরানী কে ডাক দেওয়ায় সে রুম থেকে বেরিয়ে চলে যায় । ছেলের বিয়ে তার অনেক কাজ । <br />
<br />
একটু পরেই কামরান চলে আসে বড় ভাইয়ের কাছে । <br />
ইমরান গম্ভীর থমথমে হয়ে পায়চারি করছে । <br />
এতো রাস্তা জার্নি করে এই লোক ক্লান্ত হয়নি নাকি ? চিৎ পটাং হয়ে বিশ্রাম না নিয়ে এভাবে পায়চারি করছে কেনো ? একটু পরেই তো বিয়ে , এখন বিশ্রাম না নিলে বিশ্রাম নেওয়ার সময় পাবে না তো আর । <br />
<br />
_ হ্যাঁ ভাইয়া বলো কি বলবে !<br />
 <br />
_ আমি এই বিয়ে করবো না ।<br />
<br />
_ কেন?<br />
<br />
_ করবো না মানে করবো না । এতো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবো না । <br />
<br />
কামরান বির বির করে বলে ,<br />
<br />
_ খ্যাক খ্যাক করার স্বভাব যায়নি এখনো । <br />
<br />
তারপর বড় ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে ,<br />
<br />
_ বিয়ে করবে না তো আমি কি করবো ? <br />
<br />
_ তুই এই বিয়ে ক <br />
<br />
মাঝ খানে থামিয়ে দেয় কামরান । <br />
<br />
_ জীবনেও না ভাই , আমার গার্লফ্রেন্ড আছে ।<br />
<br />
_ তো কি হয়েছে ?<br />
<br />
_ ওকে আমি অনেক ভালোবাসি । ওকে রেখে অন্য কাউকে বিয়ে করলে বাসর করার আগেই আমার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে । তাছাড়া তুলার বস্তা কে আগে আমি বড় বোনের নজরে দেখতাম আর এখন  ভাবী হিসেবে মেনে নিয়েছি। বড় বোন আর ভাবী মায়ের সমান । আস্তাগফিরুল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ এই কথা আর জীবনেও উচ্চারণ করবে না ভাইয়া । আল্লাহ তায়ালা পাপ দেবে । <br />
<br />
_ সর আমার চোখের সামনে থেকে । <br />
<br />
_ আমি এসেছি নাকি ? তুমিই তো ডেকেছো। কি সুন্দর গার্লফ্রেন্ডের সাথে প্রেমালাপ করছিলাম । <br />
<br />
_ তোর মধ্যে লজ্জা সরম বলতে কিছু কি আছে ?<br />
<br />
_ নাহ্ , একদম নেই । <br />
<br />
ইমরান তেড়ে যায় কামরানের দিকে । কামরান দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায় । <br />
ভদ্র সভ্য ইমরান পারছে না ছোট ভাইকে একটা গালী দিতে । ওর আপন ভাই এমন হয়ে গেছে ভাবতেই অবাক লাগে । কেমন লাগাম ছাড়া কথা বলে বড় ভাইয়ের সামনে । লাজ লজ্জা কিচ্ছু নেই । বাড়িতে থাকলে একদম সোজা করে রাখতো । <br />
পুনরায় পায়চারি করতে শুরু করে । কিভাবে বিয়ে বন্ধ করা যায় । ছোট ভাইয়ের মত বাঁদর মেয়েকে কিছুতেই বিয়ে করবে না ইমরান । এই মেয়েকে কেনো শুধু ! কোনো মেয়ে কেই বিয়ে করতে চায় না ইমরান । বিয়ে মানেই ঝামেলা , আর ঝামেলা মানে প্যারা । আর প্যারা থাকলে মনে শান্তি থাকে না । আর মনে শান্তি না থাকলে কিছুই ভালো লাগে না । ঝামেলা প্যারা আর অশান্তি নিজের জীবনে চায় না ইমরান । একা একাই খুব সুখে শান্তিতে আছে ও । ওর একার জীবনে ব্যাঘাত ঘটতে দেবে না ইমরান । কিন্তু কি করবে ? ছোট ভাই তো বিয়ে করবে না বললো । <br />
<br />
______________________<br />
<br />
বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায় । তুলি রোবটের মতো বসে রয়েছে । পাশেই বসে রয়েছে আরেক রোবট । <br />
তুলি ঘাড় ঘুরিয়ে একবার ইমরানের মুখের দিকে তাকায় । ইমরান গম্ভীর হয়ে তাকিয়ে আছে ওর দিকে । কি ভাবছে মনে মনে কে জানে । <br />
ইমরানের ওই চাহনি দেখে মাথা ঘুরে ওঠে তুলির ।  এই রোবটের সাথে কিভাবে থাকবে ? এই রোবটের আদো কোনো অনুভূতি আছে কি না সন্দেহ আছে । <br />
দুলতে দুলতে স্টেজের উপরেই কাত হয়ে শুয়ে পড়ে । <br />
টেনশনে মাথা ঘুরছে ভন ভন । চোখে দেখছে সর্ষে ফুল। <br />
দুনিয়ায় ছেলের অভাব পড়েছিল ? বিয়ে টা নাহয় আরো দুই চার দশ বছর পর করতো কোনো সমস্যা নেই তো তুলির । <br />
<br />
চলবে..............<br />
 </div>]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[বাঁধন রূপের অধিকারী]]></title>
			<link>https://forum.xgossip.fun/showthread.php?tid=3</link>
			<pubDate>Mon, 31 Aug 2026 08:13:02 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="https://forum.xgossip.fun/member.php?action=profile&uid=1">X Man</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">https://forum.xgossip.fun/showthread.php?tid=3</guid>
			<description><![CDATA[<div style="text-align: center;" class="mycode_align"><span style="color: #080809;" class="mycode_color"><span style="font-size: large;" class="mycode_size"><span style="font-family: 'Segoe UI Historic', 'Segoe UI', Helvetica, Arial, sans-serif;" class="mycode_font">"কিসের বিয়ে? মানি না আমি এই বিয়ে! আমি আমার মার জায়গায় কাউকে কোনোদিন আসতে দেব না।"<br />
বলেই বাঁধন উন্মত্তের মতো ড্রয়িংরুমে থাকা সব আসবাবপত্র ভাঙচুর করতে থাকল। কাঁচ ভাঙার তীব্র শব্দে চারপাশ প্রকম্পিত হচ্ছে কিন্তু বাঁধনের এই বিধ্বংসী রূপ দেখে আজ তাকে থামানোর সাহস কারো নেই। অদূরেই পাথরের মূর্তির মতো স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন বাঁধনের বাবা আহসান রহমান। তার ঠিক পাশেই বধু বেশে এক নারী নাম তার রজনী। পরনে টকটকে লাল শাড়ি আর সর্বাঙ্গে গয়নার জৌলুস যাকে কিছুক্ষণ আগেই আহসান রহমান বিয়ে করে ঘরে তুলেছেন। রজনীর শাড়ির এক কোনা শক্ত করে মুঠোর ভেতর খামচে ধরে দাঁড়িয়ে আছে চার বছরের এক ছোট্ট মেয়ে নাম তার রূপা। বার্বি ডলের মতো দেখতে সেই ছোট্ট মেয়েটির বাদামি চোখ জোড়া এখন প্রচণ্ড আতঙ্কে সিঁথিয়ে আছে। বাঁধনের দাদা হাজি রহমান এবার কম্পিত কণ্ঠে বাঁধনকে শান্ত করার চেষ্টা করলেন। </span></span></span></div>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<div style="text-align: center;" class="mycode_align"><span style="color: #080809;" class="mycode_color"><span style="font-size: large;" class="mycode_size"><span style="font-family: 'Segoe UI Historic', 'Segoe UI', Helvetica, Arial, sans-serif;" class="mycode_font">"কিসের বিয়ে? মানি না আমি এই বিয়ে! আমি আমার মার জায়গায় কাউকে কোনোদিন আসতে দেব না।"<br />
বলেই বাঁধন উন্মত্তের মতো ড্রয়িংরুমে থাকা সব আসবাবপত্র ভাঙচুর করতে থাকল। কাঁচ ভাঙার তীব্র শব্দে চারপাশ প্রকম্পিত হচ্ছে কিন্তু বাঁধনের এই বিধ্বংসী রূপ দেখে আজ তাকে থামানোর সাহস কারো নেই। অদূরেই পাথরের মূর্তির মতো স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন বাঁধনের বাবা আহসান রহমান। তার ঠিক পাশেই বধু বেশে এক নারী নাম তার রজনী। পরনে টকটকে লাল শাড়ি আর সর্বাঙ্গে গয়নার জৌলুস যাকে কিছুক্ষণ আগেই আহসান রহমান বিয়ে করে ঘরে তুলেছেন। রজনীর শাড়ির এক কোনা শক্ত করে মুঠোর ভেতর খামচে ধরে দাঁড়িয়ে আছে চার বছরের এক ছোট্ট মেয়ে নাম তার রূপা। বার্বি ডলের মতো দেখতে সেই ছোট্ট মেয়েটির বাদামি চোখ জোড়া এখন প্রচণ্ড আতঙ্কে সিঁথিয়ে আছে। বাঁধনের দাদা হাজি রহমান এবার কম্পিত কণ্ঠে বাঁধনকে শান্ত করার চেষ্টা করলেন। </span></span></span></div>]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[গল্প :অরুনরঙা প্রনয় Writer :Priynshi Chowdhury]]></title>
			<link>https://forum.xgossip.fun/showthread.php?tid=2</link>
			<pubDate>Sat, 29 Aug 2026 22:58:15 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="https://forum.xgossip.fun/member.php?action=profile&uid=1">X Man</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">https://forum.xgossip.fun/showthread.php?tid=2</guid>
			<description><![CDATA[<div style="text-align: center;" class="mycode_align">Part:01</div>
<div style="text-align: center;" class="mycode_align">জীবনে কখনো শুনেছেন বাসর রাতে নববধূকে দিয়ে একগাদা কাপড় ধোয়ানো হচ্ছে? নিশ্চয়ই না। আজ আমার ডাফার স্বামী ওরফে শায়ান তালুকদার, আমাকে দিয়ে বাসর রাতে কাপড় ধোয়াচ্ছে। অস্বাভাবিক রকমের বাড়াবাড়ি ব্যাপার এটা। এদিকে<br />
রাত অনেক হয়েছে। বাথরুমের ঠান্ডা মেঝেতে টুল নিয়ে বসে আমি একের পর এক কাপড় সাবান মেখে ধুয়ে যাচ্ছি। ঠান্ডা পানিতে হাত ডুবিয়ে রাখতে রাখতে আঙুলের চামড়াগুলো কুঁচকে যেতে শুরু করেছে। তার চেয়েও বেশি কষ্ট হচ্ছে একটা ব্যাপারে। আমার যত্ন করে লাগানো নেইলপলিশ ধীরে ধীরে উঠে যাচ্ছে। বাপের বাড়িতে থাকতে এসব কাজ তো কখনো করিনি। বাবার আদরের মেয়ে ছিলাম আমি। অথচ সেই বাবাই না জানি কী ভেবে আমাকে এই পাগল ছেলেটার সঙ্গে বিয়ে দিলেন! তার ওপর আবার শায়ান হুমকি দিচ্ছে, কাজ না করলে বাবাকে ফোন করবে। এদিকে বাবাকে আমি প্রচন্ড ভয় পাই। তার সামনে গিয়ে এসব বলতে পারব না বলেই হয়তো সব চুপচাপ সহ্য করে যাচ্ছি। নইলে এই বদমাশ শায়ান তালুকদারকে আমি ঠিকই দেখে নিতাম! শালা বেয়াদব একটা! অথচ এই ছেলেই কিনা আমার ছোটবেলা থেকে বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলো। কিন্তু বিয়ের পর আজ এই রুপ পরিবর্তনের জন্য বেস্ট শত্রু হয়ে গেছে।<br />
<br />
ভাবনার মাঝে ঠিক তখনই বাথরুমের বাইরে থেকে ভেসে এলো গম্ভীর, পুরুষালী কণ্ঠস্বর,<br />
“অরু! এই অরু! আরও দুটো প্যান্ট ছিলো। ওগুলোও বালতিতে অ্যাড কর।”<br />
<br />
অরুনীমা মুখ বাঁকিয়ে তাকালো দরজার দিকে। শায়ান দাঁড়িয়ে আছে সেখানে। যেন এটাই পৃথিবীর সবচেয়ে স্বাভাবিক দৃশ্য। অথচ অরুনীমার অন্য বান্ধবীরা তাকে এভাবে কাজ করতে দেখলে নিশ্চিত অক্কা পেতো। আর শায়ান হাতে করে আরও দুটো জিন্স এনে অরুনীমার সামনে রাখা বালতিতে ফেললো। অরুনীমা অসহায় চোখে তাকিয়ে রইলো তার দিকে। তার ঠোঁটটা অজান্তেই বেঁকে গেলো অভিমানে। আর সে? দিব্যি ভাবসাব নিয়ে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। শায়ান হেসে বলল,<br />
“না না সোনা, তোর এই ইনোসেন্ট পাপ্পি আইস দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। আমি গলছি না। চুপচাপ এগুলো ধুয়ে রেখে দে। কাল সকালে ছাদে গিয়ে মেলে দিবি। আজকের মতো এতটুকুই কাজ।”<br />
<br />
কথা শেষ করে শায়ান চলে যেতে উদ্যত হলো। কিন্তু হঠাৎই অরুনীমা কাতর হয়ে ডেকে উঠলো,<br />
“শায়ান!”<br />
<br />
শায়ানের পা থেমে গেলো। অরুনীমা জিজ্ঞেস করে,<br />
“তুই আমাকে এভাবে শাস্তি দিচ্ছিস কেন? আমরা না বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলাম! তার ওপর এখন তো আমি তোর বউ… তাও তুই আমাকে দিয়ে এসব করাচ্ছিস?”<br />
<br />
শায়ান কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। তারপর ধীরে ধীরে ঘুরে তাকাল অরুনীমার দিকে। তার চোখে অদ্ভুত এক শান্ত ভাব। সে বলল,<br />
“এটাই তো সমস্যা, অরু। তুই আমার বউ হয়েছিস।কাগজে কলমে, সমাজের চোখে। কিন্তু আমাদের মধ্যে তো সত্যিকারের স্বামী-স্ত্রীর সেই সম্পর্কটা নেই। সেটা আমরা দুজনেই জানি।”<br />
<br />
শায়ানের কথা শুনে অরুনীমার বুকটা কেমন করে উঠলো। আসলেই অরুনীমা আর শায়ান বিয়ের দশ মিনিট আগে নিজেদের মধ্যে কথা বলেছে এই বিয়ে তাদের বাবার জোরে হলেও তারা একচুয়ালি স্বামী-স্ত্রী হবে না। তারা আগের মতো বেস্ট ফ্রেন্ডই থাকবে। সুযোগ বুঝে সেপারেশন নেবে। যেহেতু তারা কেউই প্রস্তুত ছিলো না। শায়ান আবার বলল,<br />
“যেদিন তুই আমাকে সত্যি সত্যি স্বামী বলে মেনে নিতে পারবি, সেদিন আমি তোকে মাথায় করে রাখব। তার আগে নোপ!”<br />
<br />
অরুনীমা ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো। হাতে এখনো সাবানের ফেনা লেগে। চোখ সরাসরি শায়ানের দিকে রেখে প্রশ্ন করলো,<br />
“তুই আমাকে মেনেছিস?”<br />
<br />
শায়ান কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো। তারপর মুখটা অন্যদিকে ফিরিয়ে খুব আলতো করে হেসে বলল,<br />
“কবুল বলার সাথে সাথেই।”<br />
<br />
অরুনীমা স্তব্ধ হয়ে গেলো। কি বলল সে? কিন্তু এমন তো কথা ছিলো না! এই বিয়েটা হয়েছে অরুনীমার বাবার জোরে, হুট করে, কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই। বন্ধুত্বের সহজ সম্পর্কটা এক মুহূর্তে বদলে গিয়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে পরিণত হওয়া এতটাই কি সহজ? এত তারাতাড়ি শায়ান কিভাবে মেনে নিলো অরুনীমাকে! কিছুক্ষণ স্থির হয়ে ওভাবেই দাঁড়িয়ে রইলো। মনে হলো, মাথার ভেতর হাজারটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তারপর ধীরে ধীরে আবার টুলে বসে পড়লো অরুনীমা। ভাবনা ছেড়ে বালতির ভেতর ভেজা কাপড়গুলো আবার ধুতে শুরু করলো। <br />
<br />
-------------------------------------<br />
<br />
কাপড় ধোয়ার দীর্ঘ যুদ্ধ শেষ করে অরুনীমা যখন ফ্রেশ হয়ে ঘরে ঢুকলো তখন রাত অনেকটাই গাঢ় হয়ে এসেছে। অরুনীমা তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে দেখে বিছানার হেডবোর্ডে হেলান দিয়ে আধশোয়া হয়ে আছে শায়ান। তার হাতে ফোন, চোখ স্ক্রিনে নিবদ্ধ। অরুনীমাকে আসতে দেখে সে ধীর ভঙ্গিতে ফোনটা পাশে রেখে দিল। অরুনীমা বিছানায় বসলো। কিছুক্ষণ শায়ানের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,<br />
“একটা কথা বলতো, বাবা তোর সাথে আমার বিয়ে দিল কেন? ব্যাপারটা কিছুতেই মাথায় ঢুকছে না।”<br />
<br />
শায়ান কাঁধ ঝাঁকিয়ে স্বাভাবিকভাবে বলল,<br />
“আমি কি জানি? তোর বাবাকে জিজ্ঞেস কর।”<br />
<br />
অরুনীমা সঙ্গে সঙ্গে মুখ বাঁকালো। সেই চেনা অভিমানী ভঙ্গি। শায়ান সেটা দেখে মৃদু হেসে বলল,<br />
“ ঘুমাবি না? নাকি রাতটা বসেই কাটানোর প্ল্যান?”<br />
<br />
অরুনীমা একটু থেমে আবার প্রশ্ন করলো,<br />
“আমরা… ডিভোর্স নেব না?”<br />
<br />
শায়ান এবার চোখ তুলে অরুনীমার দিকে তাকালো। শান্ত স্বরে বলল,<br />
“তোর যদি অন্য কাউকে পছন্দ থাকে যাকে তুই বিয়ে করতে পারবি, তাহলে আমি তোকে ডিভোর্স দিয়ে দেব। কোনো সমস্যা নেই। ডিভোর্সের জন্য অস্থির হচ্ছিস কেন? এমন কেউ আছে?”<br />
<br />
অরুনীমা বিরক্ত হয়ে বলল,<br />
“ওহ ইয়ার! আমার কাউকে পছন্দ থাকলে তুই জানতি না? আমার তো ছেলে মানুষে ফোবিয়া আছে। তুই আর আমার বাপ ছাড়া আমার লাইফে কোনো ছেলের অস্তিত্বই রাখি নি। আমি তো জীবনে বিয়েই করতাম না, ভাই! কি থেকে কি হয়ে গেলো বুঝলামি না! ”<br />
<br />
শায়ান এবার চিত হয়ে শুয়ে পড়লো। ছাদের দিকে তাকিয়ে ধীর স্বরে বলল,<br />
“তাহলে চুপ থাক। ডিভোর্সের প্ল্যান চেঞ্জড।”<br />
<br />
অরুনীমা ভ্রু কুঁচকে তাকাতেই শায়ান গম্ভীর গলায়  বলল,<br />
“বি ম্যাচিউর, অরু। সারাজীবন একা থাকা যায় না। প্রতিটা মানুষের বেঁচে থাকার জন্য একটা সঙ্গী দরকার। তাছাড়া আমরা সমাজে বাস করি। তোর এই ফোবিয়া কেউ বুঝবে না। উল্টো দিনশেষে হাজারটা কথা উঠবে।”<br />
<br />
একটু থেমে শায়ান হালকা হেসে বলল,<br />
“আর আমরা তো হাসব্যান্ড–ওয়াইফ থোরাই না হলাম। বন্ধু হিসেবেই দিব্যি কাটিয়ে দিতে পারব। আমাদের ভেতরের গল্প তো আর কেউ জানবে না। তাছাড়া সামাজিক একটা সম্পর্কেও আছি। তাই তুইও চেপে যা।”<br />
<br />
অরুনীমা মাথা নেড়ে বলল,<br />
“সব বুঝলাম। কিন্তু আজকে আমি ঘুমাব কোথায়? ওই সোফাটা ছোট, আর মেঝেতে ঘুমানো ইম্পসিবল!”<br />
<br />
শায়ান ভ্রু কুঁচকে বলল,<br />
“খাটে কি সমস্যা?”<br />
<br />
অরুনীমা চোখ বড় বড় করে তাকালো। যেন বিস্ময়কর কিছু শুনেছে৷ বলল,<br />
“আমি একটা ছেলের সাথে ঘুমাব? তাও এক খাটে?”<br />
<br />
শায়ান ঠোঁটের কোণে চাপা হাসি টেনে বলল,<br />
“তো কি করবি? বিয়ে যেহেতু একটা ছেলেকেই করেছিস, ছেলের সাথেই তো ঘুমাতে হবে, তাই না?”<br />
<br />
অরুনীমা একটু গুটিসুটি হয়ে শায়ানকে ধাক্কা দিয়ে বলল,<br />
“তাহলে সর ওই সাইডে চেপে ঘুমা। মাঝে বড় একটা কোলবালিশ দে। যতই হোক ছেলেমানুষ তুই, রিস্কি ব্যাপার-স্যাপার!”<br />
<br />
শায়ান হালকা হেসে বিছানার মাঝখানে একটা বড় বালিশ রেখে দিয়ে সরে যায় পাশে। অরুনীমা সাবধানে এসে বিছানায় শুয়ে পড়লো। তবে পরনের শাড়িতে তার অস্বস্তি হচ্ছিল। কারণ জীবনে সে শাড়ি পরেনি। অস্বস্তিটা বোঝা যাচ্ছিল স্পষ্টই। শায়ান সেটা লক্ষ্য করে বলল,<br />
“জেদ করে লাগেজ তো আনলি না বাড়ি থেকে। শাড়িতে নিশ্চয়ই কম্ফোর্ট হবে না। আলমারিতে আমার অনেকগুলো টি-শার্ট আছে। সেখান থেকে আমার যেকোনো একটা টি-শার্ট পরে নিতে পারিস।”<br />
<br />
অরুনীমা এক মুহূর্তও দেরি করলো না। উঠে গিয়ে আলমারি খুলে একটা ঢিলেঢালা টি-শার্ট বের করলো। অবশ্য শায়ানের সব টি-শার্টে আরও দু-তিনটে অরুনীমা নিমেষে হয়ে যাবে। ভাবনা ছেড়ে তারপর ওয়াশরুমে গিয়ে কাপড় বদলে আবার এসে শুয়ে পড়লো অরুনীমা। বিছানায় কিছুক্ষণ চুপচাপ কাটলো  নিরবতায়। তারপর অরুনীমা শায়ানের পাশে কাত হয়ে নিজের হাতের ওপর মাথা রেখে শায়ানের দিকে তাকিয়ে কৌতুহলী হয়ে বলল,<br />
“শোন… তুই আমার না বলার আগেই সব বুঝিস কী করে? ছোটবেলা থেকেই এটা খেয়াল করি।”<br />
<br />
শায়ান ধীরে হেসে বলল,<br />
“অনেক বছরের রিসার্চ করার ফল এটা।”<br />
<br />
অরুনীমা ছোট ছোট চোখে তাকালো। তারপর শায়ান নিজে চোখ বন্ধ করে বলল,<br />
“এবার ঘুমা। কাল সকালে আমার অফিস আছে।”<br />
<br />
অরুনীমা মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো। ক্লান্ত থাকায়  কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই অরুনীমার শ্বাসপ্রশ্বাস ধীর হয়ে এলো, ঘুম তাকে টেনে নিয়ে গেলো অন্য জগতে। শায়ানও চোখ বন্ধ করেছিলো। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার চোখ খুললো। নীরবে তাকিয়ে রইলো পাশে ঘুমিয়ে থাকা অগোছালো, অবুঝ মেয়েটার অরুনীমার দিকে। তার কপালের ওপর এলোমেলো হয়ে পড়া ছোট ছোট বেবি হেয়ারগুলো শায়ান আলতো করে তর্জনী আঙুল দিয়ে সরিয়ে দিলো। ঘুমের মাঝে অরুনীমাকে দেখতে আলাদা এক শান্তি লাগে শায়ানের।<br />
<br />
কত বছর হয়ে গেলো। বন্ধুত্বের নামেই পাশে ছিলো সে। আজ অরুনীমা তার স্ত্রীও হয়ে গেছে। তবু এতদিনেও শায়ান তার মনের অনুভূতি জানাতে পারেনি। কারণ সে জানে, অরুনীমা বুঝবে না। কখনোই বুঝবে না মেয়েটা। উল্টো হেসে উড়িয়ে দেবে। সে বুঝবে না যে, শায়ানের অনুভূতি বন্ধুত্বের সীমানা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। এতটাই দূরে চলে গেছে, যেখানে ভালোবাসার অন্ত নেই। তবু দিনশেষে একটাই শান্তি আছে তার মনে। অরুনীমা এখন তার। চিরদিনের জন্য।<br />
<br />
</div>
<div style="text-align: center;" class="mycode_align">চলমান.......<br />
<br />
<br />
<br />
</div>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<div style="text-align: center;" class="mycode_align">Part:01</div>
<div style="text-align: center;" class="mycode_align">জীবনে কখনো শুনেছেন বাসর রাতে নববধূকে দিয়ে একগাদা কাপড় ধোয়ানো হচ্ছে? নিশ্চয়ই না। আজ আমার ডাফার স্বামী ওরফে শায়ান তালুকদার, আমাকে দিয়ে বাসর রাতে কাপড় ধোয়াচ্ছে। অস্বাভাবিক রকমের বাড়াবাড়ি ব্যাপার এটা। এদিকে<br />
রাত অনেক হয়েছে। বাথরুমের ঠান্ডা মেঝেতে টুল নিয়ে বসে আমি একের পর এক কাপড় সাবান মেখে ধুয়ে যাচ্ছি। ঠান্ডা পানিতে হাত ডুবিয়ে রাখতে রাখতে আঙুলের চামড়াগুলো কুঁচকে যেতে শুরু করেছে। তার চেয়েও বেশি কষ্ট হচ্ছে একটা ব্যাপারে। আমার যত্ন করে লাগানো নেইলপলিশ ধীরে ধীরে উঠে যাচ্ছে। বাপের বাড়িতে থাকতে এসব কাজ তো কখনো করিনি। বাবার আদরের মেয়ে ছিলাম আমি। অথচ সেই বাবাই না জানি কী ভেবে আমাকে এই পাগল ছেলেটার সঙ্গে বিয়ে দিলেন! তার ওপর আবার শায়ান হুমকি দিচ্ছে, কাজ না করলে বাবাকে ফোন করবে। এদিকে বাবাকে আমি প্রচন্ড ভয় পাই। তার সামনে গিয়ে এসব বলতে পারব না বলেই হয়তো সব চুপচাপ সহ্য করে যাচ্ছি। নইলে এই বদমাশ শায়ান তালুকদারকে আমি ঠিকই দেখে নিতাম! শালা বেয়াদব একটা! অথচ এই ছেলেই কিনা আমার ছোটবেলা থেকে বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলো। কিন্তু বিয়ের পর আজ এই রুপ পরিবর্তনের জন্য বেস্ট শত্রু হয়ে গেছে।<br />
<br />
ভাবনার মাঝে ঠিক তখনই বাথরুমের বাইরে থেকে ভেসে এলো গম্ভীর, পুরুষালী কণ্ঠস্বর,<br />
“অরু! এই অরু! আরও দুটো প্যান্ট ছিলো। ওগুলোও বালতিতে অ্যাড কর।”<br />
<br />
অরুনীমা মুখ বাঁকিয়ে তাকালো দরজার দিকে। শায়ান দাঁড়িয়ে আছে সেখানে। যেন এটাই পৃথিবীর সবচেয়ে স্বাভাবিক দৃশ্য। অথচ অরুনীমার অন্য বান্ধবীরা তাকে এভাবে কাজ করতে দেখলে নিশ্চিত অক্কা পেতো। আর শায়ান হাতে করে আরও দুটো জিন্স এনে অরুনীমার সামনে রাখা বালতিতে ফেললো। অরুনীমা অসহায় চোখে তাকিয়ে রইলো তার দিকে। তার ঠোঁটটা অজান্তেই বেঁকে গেলো অভিমানে। আর সে? দিব্যি ভাবসাব নিয়ে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। শায়ান হেসে বলল,<br />
“না না সোনা, তোর এই ইনোসেন্ট পাপ্পি আইস দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। আমি গলছি না। চুপচাপ এগুলো ধুয়ে রেখে দে। কাল সকালে ছাদে গিয়ে মেলে দিবি। আজকের মতো এতটুকুই কাজ।”<br />
<br />
কথা শেষ করে শায়ান চলে যেতে উদ্যত হলো। কিন্তু হঠাৎই অরুনীমা কাতর হয়ে ডেকে উঠলো,<br />
“শায়ান!”<br />
<br />
শায়ানের পা থেমে গেলো। অরুনীমা জিজ্ঞেস করে,<br />
“তুই আমাকে এভাবে শাস্তি দিচ্ছিস কেন? আমরা না বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলাম! তার ওপর এখন তো আমি তোর বউ… তাও তুই আমাকে দিয়ে এসব করাচ্ছিস?”<br />
<br />
শায়ান কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। তারপর ধীরে ধীরে ঘুরে তাকাল অরুনীমার দিকে। তার চোখে অদ্ভুত এক শান্ত ভাব। সে বলল,<br />
“এটাই তো সমস্যা, অরু। তুই আমার বউ হয়েছিস।কাগজে কলমে, সমাজের চোখে। কিন্তু আমাদের মধ্যে তো সত্যিকারের স্বামী-স্ত্রীর সেই সম্পর্কটা নেই। সেটা আমরা দুজনেই জানি।”<br />
<br />
শায়ানের কথা শুনে অরুনীমার বুকটা কেমন করে উঠলো। আসলেই অরুনীমা আর শায়ান বিয়ের দশ মিনিট আগে নিজেদের মধ্যে কথা বলেছে এই বিয়ে তাদের বাবার জোরে হলেও তারা একচুয়ালি স্বামী-স্ত্রী হবে না। তারা আগের মতো বেস্ট ফ্রেন্ডই থাকবে। সুযোগ বুঝে সেপারেশন নেবে। যেহেতু তারা কেউই প্রস্তুত ছিলো না। শায়ান আবার বলল,<br />
“যেদিন তুই আমাকে সত্যি সত্যি স্বামী বলে মেনে নিতে পারবি, সেদিন আমি তোকে মাথায় করে রাখব। তার আগে নোপ!”<br />
<br />
অরুনীমা ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো। হাতে এখনো সাবানের ফেনা লেগে। চোখ সরাসরি শায়ানের দিকে রেখে প্রশ্ন করলো,<br />
“তুই আমাকে মেনেছিস?”<br />
<br />
শায়ান কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো। তারপর মুখটা অন্যদিকে ফিরিয়ে খুব আলতো করে হেসে বলল,<br />
“কবুল বলার সাথে সাথেই।”<br />
<br />
অরুনীমা স্তব্ধ হয়ে গেলো। কি বলল সে? কিন্তু এমন তো কথা ছিলো না! এই বিয়েটা হয়েছে অরুনীমার বাবার জোরে, হুট করে, কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই। বন্ধুত্বের সহজ সম্পর্কটা এক মুহূর্তে বদলে গিয়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে পরিণত হওয়া এতটাই কি সহজ? এত তারাতাড়ি শায়ান কিভাবে মেনে নিলো অরুনীমাকে! কিছুক্ষণ স্থির হয়ে ওভাবেই দাঁড়িয়ে রইলো। মনে হলো, মাথার ভেতর হাজারটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তারপর ধীরে ধীরে আবার টুলে বসে পড়লো অরুনীমা। ভাবনা ছেড়ে বালতির ভেতর ভেজা কাপড়গুলো আবার ধুতে শুরু করলো। <br />
<br />
-------------------------------------<br />
<br />
কাপড় ধোয়ার দীর্ঘ যুদ্ধ শেষ করে অরুনীমা যখন ফ্রেশ হয়ে ঘরে ঢুকলো তখন রাত অনেকটাই গাঢ় হয়ে এসেছে। অরুনীমা তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে দেখে বিছানার হেডবোর্ডে হেলান দিয়ে আধশোয়া হয়ে আছে শায়ান। তার হাতে ফোন, চোখ স্ক্রিনে নিবদ্ধ। অরুনীমাকে আসতে দেখে সে ধীর ভঙ্গিতে ফোনটা পাশে রেখে দিল। অরুনীমা বিছানায় বসলো। কিছুক্ষণ শায়ানের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,<br />
“একটা কথা বলতো, বাবা তোর সাথে আমার বিয়ে দিল কেন? ব্যাপারটা কিছুতেই মাথায় ঢুকছে না।”<br />
<br />
শায়ান কাঁধ ঝাঁকিয়ে স্বাভাবিকভাবে বলল,<br />
“আমি কি জানি? তোর বাবাকে জিজ্ঞেস কর।”<br />
<br />
অরুনীমা সঙ্গে সঙ্গে মুখ বাঁকালো। সেই চেনা অভিমানী ভঙ্গি। শায়ান সেটা দেখে মৃদু হেসে বলল,<br />
“ ঘুমাবি না? নাকি রাতটা বসেই কাটানোর প্ল্যান?”<br />
<br />
অরুনীমা একটু থেমে আবার প্রশ্ন করলো,<br />
“আমরা… ডিভোর্স নেব না?”<br />
<br />
শায়ান এবার চোখ তুলে অরুনীমার দিকে তাকালো। শান্ত স্বরে বলল,<br />
“তোর যদি অন্য কাউকে পছন্দ থাকে যাকে তুই বিয়ে করতে পারবি, তাহলে আমি তোকে ডিভোর্স দিয়ে দেব। কোনো সমস্যা নেই। ডিভোর্সের জন্য অস্থির হচ্ছিস কেন? এমন কেউ আছে?”<br />
<br />
অরুনীমা বিরক্ত হয়ে বলল,<br />
“ওহ ইয়ার! আমার কাউকে পছন্দ থাকলে তুই জানতি না? আমার তো ছেলে মানুষে ফোবিয়া আছে। তুই আর আমার বাপ ছাড়া আমার লাইফে কোনো ছেলের অস্তিত্বই রাখি নি। আমি তো জীবনে বিয়েই করতাম না, ভাই! কি থেকে কি হয়ে গেলো বুঝলামি না! ”<br />
<br />
শায়ান এবার চিত হয়ে শুয়ে পড়লো। ছাদের দিকে তাকিয়ে ধীর স্বরে বলল,<br />
“তাহলে চুপ থাক। ডিভোর্সের প্ল্যান চেঞ্জড।”<br />
<br />
অরুনীমা ভ্রু কুঁচকে তাকাতেই শায়ান গম্ভীর গলায়  বলল,<br />
“বি ম্যাচিউর, অরু। সারাজীবন একা থাকা যায় না। প্রতিটা মানুষের বেঁচে থাকার জন্য একটা সঙ্গী দরকার। তাছাড়া আমরা সমাজে বাস করি। তোর এই ফোবিয়া কেউ বুঝবে না। উল্টো দিনশেষে হাজারটা কথা উঠবে।”<br />
<br />
একটু থেমে শায়ান হালকা হেসে বলল,<br />
“আর আমরা তো হাসব্যান্ড–ওয়াইফ থোরাই না হলাম। বন্ধু হিসেবেই দিব্যি কাটিয়ে দিতে পারব। আমাদের ভেতরের গল্প তো আর কেউ জানবে না। তাছাড়া সামাজিক একটা সম্পর্কেও আছি। তাই তুইও চেপে যা।”<br />
<br />
অরুনীমা মাথা নেড়ে বলল,<br />
“সব বুঝলাম। কিন্তু আজকে আমি ঘুমাব কোথায়? ওই সোফাটা ছোট, আর মেঝেতে ঘুমানো ইম্পসিবল!”<br />
<br />
শায়ান ভ্রু কুঁচকে বলল,<br />
“খাটে কি সমস্যা?”<br />
<br />
অরুনীমা চোখ বড় বড় করে তাকালো। যেন বিস্ময়কর কিছু শুনেছে৷ বলল,<br />
“আমি একটা ছেলের সাথে ঘুমাব? তাও এক খাটে?”<br />
<br />
শায়ান ঠোঁটের কোণে চাপা হাসি টেনে বলল,<br />
“তো কি করবি? বিয়ে যেহেতু একটা ছেলেকেই করেছিস, ছেলের সাথেই তো ঘুমাতে হবে, তাই না?”<br />
<br />
অরুনীমা একটু গুটিসুটি হয়ে শায়ানকে ধাক্কা দিয়ে বলল,<br />
“তাহলে সর ওই সাইডে চেপে ঘুমা। মাঝে বড় একটা কোলবালিশ দে। যতই হোক ছেলেমানুষ তুই, রিস্কি ব্যাপার-স্যাপার!”<br />
<br />
শায়ান হালকা হেসে বিছানার মাঝখানে একটা বড় বালিশ রেখে দিয়ে সরে যায় পাশে। অরুনীমা সাবধানে এসে বিছানায় শুয়ে পড়লো। তবে পরনের শাড়িতে তার অস্বস্তি হচ্ছিল। কারণ জীবনে সে শাড়ি পরেনি। অস্বস্তিটা বোঝা যাচ্ছিল স্পষ্টই। শায়ান সেটা লক্ষ্য করে বলল,<br />
“জেদ করে লাগেজ তো আনলি না বাড়ি থেকে। শাড়িতে নিশ্চয়ই কম্ফোর্ট হবে না। আলমারিতে আমার অনেকগুলো টি-শার্ট আছে। সেখান থেকে আমার যেকোনো একটা টি-শার্ট পরে নিতে পারিস।”<br />
<br />
অরুনীমা এক মুহূর্তও দেরি করলো না। উঠে গিয়ে আলমারি খুলে একটা ঢিলেঢালা টি-শার্ট বের করলো। অবশ্য শায়ানের সব টি-শার্টে আরও দু-তিনটে অরুনীমা নিমেষে হয়ে যাবে। ভাবনা ছেড়ে তারপর ওয়াশরুমে গিয়ে কাপড় বদলে আবার এসে শুয়ে পড়লো অরুনীমা। বিছানায় কিছুক্ষণ চুপচাপ কাটলো  নিরবতায়। তারপর অরুনীমা শায়ানের পাশে কাত হয়ে নিজের হাতের ওপর মাথা রেখে শায়ানের দিকে তাকিয়ে কৌতুহলী হয়ে বলল,<br />
“শোন… তুই আমার না বলার আগেই সব বুঝিস কী করে? ছোটবেলা থেকেই এটা খেয়াল করি।”<br />
<br />
শায়ান ধীরে হেসে বলল,<br />
“অনেক বছরের রিসার্চ করার ফল এটা।”<br />
<br />
অরুনীমা ছোট ছোট চোখে তাকালো। তারপর শায়ান নিজে চোখ বন্ধ করে বলল,<br />
“এবার ঘুমা। কাল সকালে আমার অফিস আছে।”<br />
<br />
অরুনীমা মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো। ক্লান্ত থাকায়  কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই অরুনীমার শ্বাসপ্রশ্বাস ধীর হয়ে এলো, ঘুম তাকে টেনে নিয়ে গেলো অন্য জগতে। শায়ানও চোখ বন্ধ করেছিলো। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার চোখ খুললো। নীরবে তাকিয়ে রইলো পাশে ঘুমিয়ে থাকা অগোছালো, অবুঝ মেয়েটার অরুনীমার দিকে। তার কপালের ওপর এলোমেলো হয়ে পড়া ছোট ছোট বেবি হেয়ারগুলো শায়ান আলতো করে তর্জনী আঙুল দিয়ে সরিয়ে দিলো। ঘুমের মাঝে অরুনীমাকে দেখতে আলাদা এক শান্তি লাগে শায়ানের।<br />
<br />
কত বছর হয়ে গেলো। বন্ধুত্বের নামেই পাশে ছিলো সে। আজ অরুনীমা তার স্ত্রীও হয়ে গেছে। তবু এতদিনেও শায়ান তার মনের অনুভূতি জানাতে পারেনি। কারণ সে জানে, অরুনীমা বুঝবে না। কখনোই বুঝবে না মেয়েটা। উল্টো হেসে উড়িয়ে দেবে। সে বুঝবে না যে, শায়ানের অনুভূতি বন্ধুত্বের সীমানা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। এতটাই দূরে চলে গেছে, যেখানে ভালোবাসার অন্ত নেই। তবু দিনশেষে একটাই শান্তি আছে তার মনে। অরুনীমা এখন তার। চিরদিনের জন্য।<br />
<br />
</div>
<div style="text-align: center;" class="mycode_align">চলমান.......<br />
<br />
<br />
<br />
</div>]]></content:encoded>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[আমার প্রথম প্রেম]]></title>
			<link>https://forum.xgossip.fun/showthread.php?tid=1</link>
			<pubDate>Sat, 29 Aug 2026 02:49:44 +0000</pubDate>
			<dc:creator><![CDATA[<a href="https://forum.xgossip.fun/member.php?action=profile&uid=1">X Man</a>]]></dc:creator>
			<guid isPermaLink="false">https://forum.xgossip.fun/showthread.php?tid=1</guid>
			<description><![CDATA[<div style="text-align: center;" class="mycode_align">(এতদিন শুধু গল্প পড়েছি আজ নিজেলেখার চেষ্টা করছি। আমার জীবনের কিছুটা বাস্তব আর কিছুটা কাল্পনিকতা মিশিয়ে লেখা হবে।  কাচা হাতে লেখা ভালো না লাগলে মাফ করবেন।)<br />
<br />
 আজ অফিসের কাজে সকাল থেকে মতিঝিল। কাজের প্রচন্ড চাপ কিন্তু কাজে আমার মন একদমই নেই।<br />
 বিকেল ৪ টায় কাজ শেষ করে অফিস থেকে বের হয়ে পরলাম। আকাশ টা আমার মনের মতই ভার হয়ে আছে। <br />
যেন যে কোন মুহূর্তে আছরে পরবে। গরম ও পড়েছে বেশ। এমনিতে গাড়ি ড্রাইভ করতে আমার ভালই লাগে বলা যায় এটা আমার হবি। কিন্তু আজ অসহ্য লাগছে। <br />
কি করা যায় ভাবতে ভাবতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ড্রাইভ করতে লাগলাম। <br />
<br />
মনে পড়ে যাচ্ছে আজ থেকে ১৬ বছর আগের কথা।তাকে প্রথম দেখে ছিলাম। <br />
তখন নতুন ক্লাস সিক্স এ ভর্তি হয়েছি। জানুযারি মাসের ১৮ তারিখ নতুন একটা কোচিং এ ভর্তি হয়েছি। সেদিন ছিলো কোচিং এ ১ম দিন।  <br />
কোচিং এ ডুকে ক্লাস সিক্স এর ক্লাস কোন রুমে হয়ে খুজছি।<br />
 একজন স্যার রুম দেখিয়ে দিলো।<br />
<br />
ক্লাসে গিয়ে দেখলাম শুধু একটা মেয়ে বসে আছে। আমি ডুকতেই সে আমার দিকে তাকালো আমার কাছে মনে হলো মেয়েটা পরীর মত সুন্দর। <br />
<br />
আমি ডুকে একটা বেঞ্চ এ বসতেই মেয়েটা বলো উঠলো ভালো হলে আরেকজন তাহলে ভর্তি হয়েছে। গত তিনদিন যাবত আমি একা ক্লাস করছি। <br />
<br />
আমি হা করে তাকে দেখছি মেয়েটা কি আসলেই এত সুন্দর নাকি আমার কাছে সুন্দর লাগছে। ও নিজে থেকেই ওর নামটা বললো মনিষা আমাকে আমার নাম জিজ্ঞেস করলো আমি বললাম রেহান। ক্লাস শুরু হবার কথা ৩ টায় এখন ঘড়িতে দেখলাম ৩টা ১৮ বাজে স্যারের দেখা নেই।<br />
<br />
 মনিষা বললো গত তিনদিন ধরে শুধু গণিত ক্লাস নিচ্ছে আমি একা তাই অন্য ক্লাস ও নিচ্ছে না। <br />
আরও বললো ওর বাসা কোচিং এর পাশেই দুই গলি পরের গলিতে। <br />
আমিও আমার বাসার ঠিকানা বললাম। আরও নানা রকম কথা হলো। <br />
ঘড়িতে তখন ৩ টা ৪৪ স্যার আসে না তাই দুজনেই ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে কোচিং এর অফিস রুমের দিকে গেলাম। <br />
<br />
 সেখানে পরিচালক স্যারের রুমে সব স্যার জটলা পাকিয়ে আছে।<br />
  কিছু ছাত্র ছাত্রী ও আছে একজনকে জিজ্ঞেস করতে বললো পরিচালক স্যারের নাকি সকাল থেকে মাথার চুল আস্তে করে টান দিলেই উঠে আসছে।  পরিচালক স্যার টান দিয়েও দেখালো যে কটা ধরে টান দিচ্ছে সব গুলোই উঠে আসছে।  মনিষা পাশ থেকে বললো তাহলে আজ আর ক্লাস হবে না বাড়ি যাই। বলে সে অফিস রুম থেকে বের হয়ে আসলো।  <br />
<br />
কোচিং এর বাইরে বের হয়ে সে বললো কালকে কিন্তু পুরো ৩ টা তেই চলো এসো। আমি বললাম ঠিক আছে।  সে চলে যাচ্ছে আমি দাড়িয়ে দেখছি। <br />
<br />
বাসার দিকে হাঁটা দিলাম মেয়েটার কথাই বার বার মনে আসছে  এত সুন্দর একটা মেয়ে।  এমন অনুভুতিতো আমার জিবনেও হয় নাই। ভাবতে ভাবতে কখন যে বাড়ি চলে আসলাম বুঝতেই পারলাম না।<br />
বাসাতে ব্যাগ রেখে বের হয়ে গেলাম আমি আবার আমার মামাতো ভাইয়ের সাথে সেই সময় খুব আড্ডা দিতাম ও তখন ও ক্লাস নাইনে পরে-  ২-৪ টা প্রেম ও করেছে।<br />
<br />
 ওকে বলেই বসলাম মনিষার কথা যে তাকে আমার কেন জানি খুব ভালো লেগেছে ও বললো আরে পাগল এটা ভালো বাসারে। <br />
 এখন বড় হচ্ছিস ক্লাস সিক্স উঠলি তাও বুঝলি না আমি বললাম দুর ভাই মেয়েটা! ও বললো তাতে কি ভালবাসা ধর্ম মানে না। <br />
আরও কয়েকদিন যাক তারপর একদিন সাহস করে বলে দিবি তুই ওকে পছন্দ করিস তাহলেই তো হলো।<br />
<br />
সন্ধ্যায় বাসায় ফিরলাম ভাবলাম কালকে কোচিং এ ৩ টার আগেই যাবো। ও নিশ্চয়ই ৩টার আগেই আসবে। রাত যেন আর কাটছেই না। <br />
 সকালে স্কুল গেলাম স্কুল থেকে ফিরে তাড়াতাড়ি কোচিং এ গেলাম।  না মনিষা এখন ও আসে নি আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম এর মধ্যে দেখলাম আর ২ টা ছেলে ২ টা মেয়ে ক্লাসে ডুকলো তারা নতুন ভর্তি হয়েছে বুঝলাম আজকে রাইট টাইমে ক্লাস শুরু হয়েছে  কিন্তু মনিষার দেখা নেই।  <br />
<br />
ক্লাস চলছে আমার তো ক্লাসে মনেই নাই। <br />
হঠাৎ পরিচালক স্যার ক্লাসে আসলো কথায় কথায় বললো যে মেয়েটা সবার আগে ভর্তি হলো সে মেয়েটা আজকে বলে গেল আর আসবে না। <br />
ওর বাবার বদলি হয়েছে তাই অন্য জেলায় চলে যাবে ২-৩ দিনের মধ্যে। <br />
শুনে মনটাই খারাপ হয়ে গেল এটা একটা কথা।<br />
কোচিং শেষ করে বের হলাম। কোচিং এর পাশে ৩ টা গলিই  ২ বার করে চক্কর দিলাম এই আশায় যদি দেখা পাই।<br />
 না কপাল খারাপ আর দেখা পেলাম না। রাগে আমিও কোচিং বাদ দিলাম।  বাড়ি থেকে বললো কোচিং কেন করবো না বললাম স্কুলের স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়বো।<br />
ক্লাস সিক্স শেষ সেভেনে উঠলাম।  বছরের মাঝামাঝি ছেলে পেলে বলাবলি করছে  শুনলাম  আমাদের ক্লাসে একটা নতুন  মেয়ে ভর্তি হয়েছে। <br />
<br />
পরেরদিন স্কুলে গিয়ে আমি অবাক আরে এতো মনিষা।  আমি তাকে মোটামুটি ভুলেই গেছিলাম।  <br />
<br />
তাকে দেখে এবার যেন মনে সত্যিই প্রেম জেগে উঠলো। তার সামন দিয়ে ২-৩ বার যাওয়া আশা করলাম চেয়েও দেখলো কিন্তু কোন কথা বললো না। <br />
<br />
তাহলে কি ভুলে গেছে আমাকে চিনতে পারে নাই। মনে হচ্চে মেয়েটা এই দেড় বলরে আরও সুন্দর হয়ে গেছে।  মাত্র কিছু দিনের মধ্যে দেখলাম সব স্যারেদের পছন্দে ছাত্রী হয়ে উঠেছে।  ভালো পড়া শুনা পারে আমি হলাম গর্দভ ছাত্র!  বুঝলাম কিছু দিনের মধ্যে সম্ভব না।  আমার পক্ষে তাকে বলা আমি তাকে পছন্দ করি।  <br />
<br />
শেষে কোন ভাবে ক্লাসের সবাই যেনে গেলে মান সম্মান নিয়ে টানাটানি তার মধ্যে আবার আমি মুসলিম ও * ।<br />
<br />
যত দিন যায় ওর প্রতি আমার ভালোবাসা বাড়তে থাকে।  একি ক্লাসে পড়ি তাই বন্ধু হিসেবে কখনও কখনও কথা হয়। না স্কুল জীবন শেষ করে  ইন্টারের কলেজেও এক সাথে পড়াশুনা করলাম কিন্তু বলার সাহস হলো না আমার আমি ওকে কতটা ভালোবাসি।<br />
<br />
ইন্টার শেষ আমি চলে আসলাম ঢাকা। ভর্তি হলাম ঢাকা কলেজে ও ভালো ছাত্রী ছিলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে গেল।  দুরত্ব হয়ে গেল। <br />
<br />
বছরে ২-১ বার নিজ শহরে দেখা হলেও হতো।  কিন্তু আমার মন থেকে ও কখনই দুরে যেতে পারে নি। এমন কোন দিন নেই আমি ওর কথা মনে করি নি। <br />
<br />
সৃষ্টিকর্তার কাছে ওকে চেয়ে কত দোআ করছি কিন্তু আমি জানি সম্ভব না। <br />
<br />
বর্তমানে আমি চাকুরী করছি।  ঢাকায় একটা ফ্লাট ভাড়া নিয়ে ব্যাচেলর হয়েই আছি। <br />
<br />
(গল্পের শুরুর সময়ে ফেরত)<br />
<br />
গাড়ি ড্রাইভ করছি আর ভাবছি যাকে এত ভালোবাসি অথচ বলতে পারলাম না।  গতকাল তার বিয়ে হয়ে গেছে।  এজন্য মনটা এতটাই খারাপ লাগছে বলার মত না।<br />
<br />
প্রচন্ড বাতাস শুরু হয়েছে।  ধুলোও সব অন্ধকার ঝড় নামবে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের চত্বরের পাশে রাস্তায় গাড়িটা ব্রেক করলাম।  প্রচন্ড বৃষ্টি শুরু হলো। <br />
<br />
 প্রায় ৩০ মিনিট যাবত বৃষ্টি হচ্ছে আমি গাড়িতে বসে।  একটু সামনের দিতে আগালাম দুর থেকে দেখলাম একটা মেয়ে রাস্তার পাশেই বৃষ্টিতে দাড়িয়ে আছে পাথরের মত। <br />
<br />
সবাই যতটা পরে বৃষ্টি থেকে বাচতে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে অথচ ওই মেয়ে পাথরের মত নিচের দিকে মুখ করে দাড়িয়ে আসে৷ <br />
আরেক টা সামনে এগুতেই কলিজাটা কেঁপে উঠলো মনে হলো মনিষা। <br />
পরক্ষণেই ভাবলাম দুর কালকে ওর বিয়ে হয়ে গেছে আর আমি কি ভাবছি। <br />
<br />
তবু সামনে এগিয়ে গেলাম!<br />
<br />
মাত্র দশ হাত দুরে মেয়েটা গাড়ির গ্লাস নামিযে ভালো করে দেখলাম এবং এবার মনে হচ্ছে আমি সেন্সলেস হয়ে যাবো।<br />
<br />
 হ্যা এটা মনিষাই শিউর আমি শিউর মনিষা।<br />
<br />
চলবে ---------<br />
<br />
( লেখক নতুন হিসেবে কিছু কিছু জায়গায় ভুল ছিলো তাই আমি যত দূর পারছি  সংশোধন করেছি।) <br />
<br />
 <img src="https://forum.xgossip.fun/images/smilies/heart.png" alt="Heart" title="Heart" class="smilie smilie_16" /> <br />
পর্ব ০১<br />
লেখক রেহান ইসলাম<br />
<br />
 </div>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<div style="text-align: center;" class="mycode_align">(এতদিন শুধু গল্প পড়েছি আজ নিজেলেখার চেষ্টা করছি। আমার জীবনের কিছুটা বাস্তব আর কিছুটা কাল্পনিকতা মিশিয়ে লেখা হবে।  কাচা হাতে লেখা ভালো না লাগলে মাফ করবেন।)<br />
<br />
 আজ অফিসের কাজে সকাল থেকে মতিঝিল। কাজের প্রচন্ড চাপ কিন্তু কাজে আমার মন একদমই নেই।<br />
 বিকেল ৪ টায় কাজ শেষ করে অফিস থেকে বের হয়ে পরলাম। আকাশ টা আমার মনের মতই ভার হয়ে আছে। <br />
যেন যে কোন মুহূর্তে আছরে পরবে। গরম ও পড়েছে বেশ। এমনিতে গাড়ি ড্রাইভ করতে আমার ভালই লাগে বলা যায় এটা আমার হবি। কিন্তু আজ অসহ্য লাগছে। <br />
কি করা যায় ভাবতে ভাবতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ড্রাইভ করতে লাগলাম। <br />
<br />
মনে পড়ে যাচ্ছে আজ থেকে ১৬ বছর আগের কথা।তাকে প্রথম দেখে ছিলাম। <br />
তখন নতুন ক্লাস সিক্স এ ভর্তি হয়েছি। জানুযারি মাসের ১৮ তারিখ নতুন একটা কোচিং এ ভর্তি হয়েছি। সেদিন ছিলো কোচিং এ ১ম দিন।  <br />
কোচিং এ ডুকে ক্লাস সিক্স এর ক্লাস কোন রুমে হয়ে খুজছি।<br />
 একজন স্যার রুম দেখিয়ে দিলো।<br />
<br />
ক্লাসে গিয়ে দেখলাম শুধু একটা মেয়ে বসে আছে। আমি ডুকতেই সে আমার দিকে তাকালো আমার কাছে মনে হলো মেয়েটা পরীর মত সুন্দর। <br />
<br />
আমি ডুকে একটা বেঞ্চ এ বসতেই মেয়েটা বলো উঠলো ভালো হলে আরেকজন তাহলে ভর্তি হয়েছে। গত তিনদিন যাবত আমি একা ক্লাস করছি। <br />
<br />
আমি হা করে তাকে দেখছি মেয়েটা কি আসলেই এত সুন্দর নাকি আমার কাছে সুন্দর লাগছে। ও নিজে থেকেই ওর নামটা বললো মনিষা আমাকে আমার নাম জিজ্ঞেস করলো আমি বললাম রেহান। ক্লাস শুরু হবার কথা ৩ টায় এখন ঘড়িতে দেখলাম ৩টা ১৮ বাজে স্যারের দেখা নেই।<br />
<br />
 মনিষা বললো গত তিনদিন ধরে শুধু গণিত ক্লাস নিচ্ছে আমি একা তাই অন্য ক্লাস ও নিচ্ছে না। <br />
আরও বললো ওর বাসা কোচিং এর পাশেই দুই গলি পরের গলিতে। <br />
আমিও আমার বাসার ঠিকানা বললাম। আরও নানা রকম কথা হলো। <br />
ঘড়িতে তখন ৩ টা ৪৪ স্যার আসে না তাই দুজনেই ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে কোচিং এর অফিস রুমের দিকে গেলাম। <br />
<br />
 সেখানে পরিচালক স্যারের রুমে সব স্যার জটলা পাকিয়ে আছে।<br />
  কিছু ছাত্র ছাত্রী ও আছে একজনকে জিজ্ঞেস করতে বললো পরিচালক স্যারের নাকি সকাল থেকে মাথার চুল আস্তে করে টান দিলেই উঠে আসছে।  পরিচালক স্যার টান দিয়েও দেখালো যে কটা ধরে টান দিচ্ছে সব গুলোই উঠে আসছে।  মনিষা পাশ থেকে বললো তাহলে আজ আর ক্লাস হবে না বাড়ি যাই। বলে সে অফিস রুম থেকে বের হয়ে আসলো।  <br />
<br />
কোচিং এর বাইরে বের হয়ে সে বললো কালকে কিন্তু পুরো ৩ টা তেই চলো এসো। আমি বললাম ঠিক আছে।  সে চলে যাচ্ছে আমি দাড়িয়ে দেখছি। <br />
<br />
বাসার দিকে হাঁটা দিলাম মেয়েটার কথাই বার বার মনে আসছে  এত সুন্দর একটা মেয়ে।  এমন অনুভুতিতো আমার জিবনেও হয় নাই। ভাবতে ভাবতে কখন যে বাড়ি চলে আসলাম বুঝতেই পারলাম না।<br />
বাসাতে ব্যাগ রেখে বের হয়ে গেলাম আমি আবার আমার মামাতো ভাইয়ের সাথে সেই সময় খুব আড্ডা দিতাম ও তখন ও ক্লাস নাইনে পরে-  ২-৪ টা প্রেম ও করেছে।<br />
<br />
 ওকে বলেই বসলাম মনিষার কথা যে তাকে আমার কেন জানি খুব ভালো লেগেছে ও বললো আরে পাগল এটা ভালো বাসারে। <br />
 এখন বড় হচ্ছিস ক্লাস সিক্স উঠলি তাও বুঝলি না আমি বললাম দুর ভাই মেয়েটা! ও বললো তাতে কি ভালবাসা ধর্ম মানে না। <br />
আরও কয়েকদিন যাক তারপর একদিন সাহস করে বলে দিবি তুই ওকে পছন্দ করিস তাহলেই তো হলো।<br />
<br />
সন্ধ্যায় বাসায় ফিরলাম ভাবলাম কালকে কোচিং এ ৩ টার আগেই যাবো। ও নিশ্চয়ই ৩টার আগেই আসবে। রাত যেন আর কাটছেই না। <br />
 সকালে স্কুল গেলাম স্কুল থেকে ফিরে তাড়াতাড়ি কোচিং এ গেলাম।  না মনিষা এখন ও আসে নি আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম এর মধ্যে দেখলাম আর ২ টা ছেলে ২ টা মেয়ে ক্লাসে ডুকলো তারা নতুন ভর্তি হয়েছে বুঝলাম আজকে রাইট টাইমে ক্লাস শুরু হয়েছে  কিন্তু মনিষার দেখা নেই।  <br />
<br />
ক্লাস চলছে আমার তো ক্লাসে মনেই নাই। <br />
হঠাৎ পরিচালক স্যার ক্লাসে আসলো কথায় কথায় বললো যে মেয়েটা সবার আগে ভর্তি হলো সে মেয়েটা আজকে বলে গেল আর আসবে না। <br />
ওর বাবার বদলি হয়েছে তাই অন্য জেলায় চলে যাবে ২-৩ দিনের মধ্যে। <br />
শুনে মনটাই খারাপ হয়ে গেল এটা একটা কথা।<br />
কোচিং শেষ করে বের হলাম। কোচিং এর পাশে ৩ টা গলিই  ২ বার করে চক্কর দিলাম এই আশায় যদি দেখা পাই।<br />
 না কপাল খারাপ আর দেখা পেলাম না। রাগে আমিও কোচিং বাদ দিলাম।  বাড়ি থেকে বললো কোচিং কেন করবো না বললাম স্কুলের স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়বো।<br />
ক্লাস সিক্স শেষ সেভেনে উঠলাম।  বছরের মাঝামাঝি ছেলে পেলে বলাবলি করছে  শুনলাম  আমাদের ক্লাসে একটা নতুন  মেয়ে ভর্তি হয়েছে। <br />
<br />
পরেরদিন স্কুলে গিয়ে আমি অবাক আরে এতো মনিষা।  আমি তাকে মোটামুটি ভুলেই গেছিলাম।  <br />
<br />
তাকে দেখে এবার যেন মনে সত্যিই প্রেম জেগে উঠলো। তার সামন দিয়ে ২-৩ বার যাওয়া আশা করলাম চেয়েও দেখলো কিন্তু কোন কথা বললো না। <br />
<br />
তাহলে কি ভুলে গেছে আমাকে চিনতে পারে নাই। মনে হচ্চে মেয়েটা এই দেড় বলরে আরও সুন্দর হয়ে গেছে।  মাত্র কিছু দিনের মধ্যে দেখলাম সব স্যারেদের পছন্দে ছাত্রী হয়ে উঠেছে।  ভালো পড়া শুনা পারে আমি হলাম গর্দভ ছাত্র!  বুঝলাম কিছু দিনের মধ্যে সম্ভব না।  আমার পক্ষে তাকে বলা আমি তাকে পছন্দ করি।  <br />
<br />
শেষে কোন ভাবে ক্লাসের সবাই যেনে গেলে মান সম্মান নিয়ে টানাটানি তার মধ্যে আবার আমি মুসলিম ও * ।<br />
<br />
যত দিন যায় ওর প্রতি আমার ভালোবাসা বাড়তে থাকে।  একি ক্লাসে পড়ি তাই বন্ধু হিসেবে কখনও কখনও কথা হয়। না স্কুল জীবন শেষ করে  ইন্টারের কলেজেও এক সাথে পড়াশুনা করলাম কিন্তু বলার সাহস হলো না আমার আমি ওকে কতটা ভালোবাসি।<br />
<br />
ইন্টার শেষ আমি চলে আসলাম ঢাকা। ভর্তি হলাম ঢাকা কলেজে ও ভালো ছাত্রী ছিলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে গেল।  দুরত্ব হয়ে গেল। <br />
<br />
বছরে ২-১ বার নিজ শহরে দেখা হলেও হতো।  কিন্তু আমার মন থেকে ও কখনই দুরে যেতে পারে নি। এমন কোন দিন নেই আমি ওর কথা মনে করি নি। <br />
<br />
সৃষ্টিকর্তার কাছে ওকে চেয়ে কত দোআ করছি কিন্তু আমি জানি সম্ভব না। <br />
<br />
বর্তমানে আমি চাকুরী করছি।  ঢাকায় একটা ফ্লাট ভাড়া নিয়ে ব্যাচেলর হয়েই আছি। <br />
<br />
(গল্পের শুরুর সময়ে ফেরত)<br />
<br />
গাড়ি ড্রাইভ করছি আর ভাবছি যাকে এত ভালোবাসি অথচ বলতে পারলাম না।  গতকাল তার বিয়ে হয়ে গেছে।  এজন্য মনটা এতটাই খারাপ লাগছে বলার মত না।<br />
<br />
প্রচন্ড বাতাস শুরু হয়েছে।  ধুলোও সব অন্ধকার ঝড় নামবে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের চত্বরের পাশে রাস্তায় গাড়িটা ব্রেক করলাম।  প্রচন্ড বৃষ্টি শুরু হলো। <br />
<br />
 প্রায় ৩০ মিনিট যাবত বৃষ্টি হচ্ছে আমি গাড়িতে বসে।  একটু সামনের দিতে আগালাম দুর থেকে দেখলাম একটা মেয়ে রাস্তার পাশেই বৃষ্টিতে দাড়িয়ে আছে পাথরের মত। <br />
<br />
সবাই যতটা পরে বৃষ্টি থেকে বাচতে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে অথচ ওই মেয়ে পাথরের মত নিচের দিকে মুখ করে দাড়িয়ে আসে৷ <br />
আরেক টা সামনে এগুতেই কলিজাটা কেঁপে উঠলো মনে হলো মনিষা। <br />
পরক্ষণেই ভাবলাম দুর কালকে ওর বিয়ে হয়ে গেছে আর আমি কি ভাবছি। <br />
<br />
তবু সামনে এগিয়ে গেলাম!<br />
<br />
মাত্র দশ হাত দুরে মেয়েটা গাড়ির গ্লাস নামিযে ভালো করে দেখলাম এবং এবার মনে হচ্ছে আমি সেন্সলেস হয়ে যাবো।<br />
<br />
 হ্যা এটা মনিষাই শিউর আমি শিউর মনিষা।<br />
<br />
চলবে ---------<br />
<br />
( লেখক নতুন হিসেবে কিছু কিছু জায়গায় ভুল ছিলো তাই আমি যত দূর পারছি  সংশোধন করেছি।) <br />
<br />
 <img src="https://forum.xgossip.fun/images/smilies/heart.png" alt="Heart" title="Heart" class="smilie smilie_16" /> <br />
পর্ব ০১<br />
লেখক রেহান ইসলাম<br />
<br />
 </div>]]></content:encoded>
		</item>
	</channel>
</rss>