গল্প: মৃত কাঠগোলাপ (০৫)

লেখনীতে আইরা নূর
পর্ব:৫

 

🚫🚫 কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ। গল্পটি শেয়ার করতে পারেন কিন্তু অবশ্যই হ্যাশট্যাগ গুলো লাগাবেন আর যদি কেউ গল্পটি নিজের টিকটক id তে দিতে চাই অবশ্যই আমার টিকটক id কে mention দেবেন🚫🚫

 

 

সারাদিন বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র গুলো ঘুরে আজকে সবাই খুব ক্লান্ত। শুধু কি ঘুরে ঘুরে দেখেছে সাথে অনেক কিছু নোট ও করেছে।

এখন ঘড়ির কাটা ৮ এর ঘরে। বর্ষাকাল হওয়ায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে। আশপাশটা কুয়াশাই ঢাকা পড়েছে। আশেপাশে থেকে আলো আসছে কিন্তু কুয়াশার জন্য তা ঝাপসা দেখাচ্ছে।

কুয়াশা থাকায় বেশ ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা লাগছে। ভেজা বাতাসে মাটির গন্ধ ভেসে আসছে। আরুহি টেবিল ল্যাম্পের নিচে হালকা একটা চাদর মুড়ি দিয়ে বসে আছে। এখন রুমে কেউ নেই।

সবাই গিয়েছে ডিনার করতে কিন্তু সে যায়নি। আজকে পেটটা ভরা ভরা লাগছে। আর তাছাড়াও আরুহি খাবারে খুব অনিয়ম ও করে। গ্রামে থাকতে তো ফারাহ তাকে তিন বেলা জোর করে খাইয়ে দিতো।

ছোট থেকে মায়ের আদর না পেলেও ভাবির আদর ঠিকই পেয়েছে সে। ফারাহ তাকে নিজের সন্তানের মতো করেই দেখে। রিহান যেমন আরুহি কে নিজের সন্তানের মতো ছোট থেকে কো’লে পিঠে করে মানুষ করেছে। ফারাহ তেমন আরুহি নিজের সন্তানের চোখেই দেখে।

আর আরুহি ও ফারাহ কে খুব সম্মান করে। নিজের মায়ের মতো করে দেখে। সব কিছুই তার সাথে শেয়ার করে।

আরুহি চাদর গায়ে জ’ড়ি’য়ে এই সুন্দর মনোরম পরিবেশ টাকে উপভোগ করছে। হঠাৎ ফোন বেজে ওঠায় আরুহি কিছুটা চমকে উঠে। ফোনের ওপর জ্বলজ্বল করছে নীলাধ্র র নামটা।

আরুহির ঠোঁ’টে’র কোণে ফুটে উঠে এক নির্মল হাসি। সে ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরতেই ওপর পাশ থেকে ভেসে আসে নীলাধ্র র কন্ঠ।

নীলাধ্র:- আরু তুই কোথায়??

আরুহি:- আমি, এই তো রুমে কেনো কি হয়েছে।

নীলাধ্র:- খেতে আসিস নি কেনো??

আরুহি:- ক্ষিদে নেই তাই আর যায়নি নিচে।

নীলাধ্র:- বলছি যে একটু বাগানের দিকে আসতে পারবি। তোকে একটা জিনিস দিতাম।

আরুহি:- কিন্তু এখন!!

নীলাধ্র:- হ্যাঁ একটু আই না। দরকার আছে।

আরুহি:- আচ্ছা আসছি।

আরুহি ফোনটা কে’টে দিয়ে চাদর টাকে আরেকটু ভালোভাবে মুড়িয়ে নেয় নিজের গায়ে। এরপর ধীর গতিতে রুম থেকে বের হয়।

বাগানের দিকে আসতেই আরুহির নাকে ভেসে আসে মন মা’তা’নো মিষ্টি ফুলের গন্ধ। আরুহি আস্তে আস্তে বাগানের ভেতর প্রবেশ করে। এখানে যেনো ফুলের মেলা বসেছে।

আরুহি হাঁটছে আর নিজের হাত দিয়ে ফুল গুলোকে ছুঁয়ে দিচ্ছে। হঠাৎ করেই কেউ পিছন থেকে আরুহির চোখ নিজের দুই হাত দিয়ে ঢেকে দেই।

আরুহি হাত দিয়ে বোঝার চেষ্টা করছে। আর মিনিটের মধ্যেই সে বুঝে ফেলে যে এটা কার হাত। আরুহি মুচকি হেসে বলে,

আরুহি:- আমি জানি এটা আপনি তাই না।

নীলাধ্র, আরুহির চোখ জোড়া ছেড়ে দিয়ে তার কানের কাছে গিয়ে বলে,

নীলাধ্র:- বাহ্ এতো সহজে ধরে ফেললি।

আরুহি:- আমি আপনার স্পর্শ খুব ভালো করেই চিনি।

নীলাধ্র কিছু বলে না। কয়েক সেকেন্ড পরে আরুহি নিজের গলায় ঠান্ডা কিছু অনুভব করে। তাই সে গলায় হাত দেই আর বুঝতে পারে যে নীলাধ্র তাকে কিছু পরিয়ে দিচ্ছে।

আরুহি:- কি পড়াচ্ছেন এটা??

নীলাধ্র:- নিজেই দেখে নে।

আরুহি ভালো করে খেয়াল করলে বুঝতে পারে যে এটা একটা পেন্ডেন্ট। একটা কাঠগোলাপের পেন্ডেন্ট। পেন্ডেন্ট টা খুব সিম্পল কিন্তু খুবই সুন্দর। আরুহি খুশি হয়ে বলে,

আরুহি:- এটা আবার আপনি কোথায় পেলেন। এটা তো আমি ঐ দোকানে দেখেছিলাম।

নীলাধ্র:- হুম দেখেতো ছিলি কিন্তু কিনিস নি। তুই এই পেন্ডেন্ট টা হাত দিয়ে নেড়েচেড়ে দেখছিলি বার বার। তোর মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল যে এটা তোর খুব পছন্দ হয়েছে কিন্তু তুই এটা নিলি না। যেহেতু তোর পেন্ডেন্ট টা খুব পছন্দ হয়েছে আর আমিও তোকে কখনোই কোনো কিছু গিফট করি নি তাই ভাবলাম যে কেনো না এটাই তোকে গিফট করি। এটা আমার তোকে দেওয়া প্রথম গিফট। সাবধানে রাখবি। কক্ষনো এটা গলা থেকে খুলবি না। সবসময় পড়ে থাকবি।

আরুহির চোখ জোড়া ভিজে উঠে। নীলাধ্র র কাছে থেকে এই ছোট একটা গিফট পেয়ে যেনো আরুহি নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারছে না।

নীলাধ্র:- আরু তোর কাঠগোলাপ খুব পছন্দ তাই না??

আরুহি:- হুম খুব ভালো লাগে আমার কাঠগোলাপ। কাঠগোলাপ দেখলেই আমার শত মন খা’রা’প এক নিমেষেই দূর হয়ে যায়। আর আজকে আপনি আমাকে যেই পেন্ডেন্ট টা দিলেন সেটাও কাঠগোলাপের। এবার আমার শত মন খা’রা’পে’ও একটা ভালো অনুভূতি কাজ করবে।

নীলাধ্র:- কি ভালো অনুভূতি!!?

আরুহি:- ভালোবাসার মানুষের দেওয়া প্রথম গিফট তাও আবার আমার প্রিয় ফুলের তাহলে বলুন তো এই দুইটা অনুভূতি যদি মনের ভেতর যত্ন করে সংরক্ষণ করা থাকে তখন কি আমার কাছে আর কোনো মন খা’রা’প কাজ করবে।

নীলাধ্র:- তাহলে তুই স্বীকার করলি যে আমি তোর ভালোবাসার মানুষ।

আরুহি কিছু বলে না শুধু মুচকি হাসে। নীলাধ্র তার উত্তর পেয়ে যায়। নীলাধ্র বলে,

নীলাধ্র:- আমি আমার উত্তর পেয়ে গিয়েছি। আচ্ছা যা এবার নিজের রুমে। কালকে আবার নীলাচর যেতে হবে। পাহাড়েও উঠতে হবে। গিয়ে ঘুমিয়ে পড়। কালকের জন্য এনার্জি কালেক্ট কর।

নীলাধ্র র কথা শুনে আরুহি একটা হাসি দিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। আরুহির হাসি দেখে নীলাধ্র র মনটা কেনো জানি ছটফট করে উঠে। তার মনে হচ্ছে যে সে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা জিনিসকে খুব শীগ্রই হারিয়ে ফেলতে চলেছে।
,,,,,,,,,,,,,

নিধি:- এই আরু ওঠ তাড়াতাড়ি। রেডি হয়ে নে। আজকে তো আবার নীলাচর যাবো সবাই।

আরুহি আড়মোড়া দিয়ে উঠে বলে,

আরুহি:- কটা বাজে?

নিধি:- ৭.১০.

আরুহি:- কিহ ৭.১০ বাজছে। এতো দেরি হয়ে গেলো। আমি যাচ্ছি তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে এক্ষণই আসছি।

নিধি:- হুম তাড়াতাড়ি যা।

আরুহি আর কথা না বাড়িয়ে তাড়াতাড়ি ওয়াশরুমে যায় ফ্রেশ হতে।
,,,,,,,,,,,,

“নীলাচর মেইন ভিউ পয়েন্ট পাহাড়” এইখান থেকেই বান্দরবান শহরটাকে খুব ভালোভাবেই দেখা যায়। আশেপাশের আরো অনেক ছোট বড় পাহাড় আছে যা এখান থেকে ভালোই দেখা যাবে।

সবাই এখন এই নীলাচর পাহাড়ে উঠছে। এখন বেলা ৩ টা বা’জে। পাহাড়ে উঠতে উঠতে তাদের বিকাল ৫ টা বেজে যায়। এখান থেকে সূর্যাস্ত টাও খুব ভালোভাবে দেখা যায়।

__:- আচ্ছা স্টুডেন্টস সবাই একটু মনোযোগ দিয়ে শুনবেন। এখানে আমরা আর ১০ মিনিট থাকবো তারপর চলে যাবো হোটেলের উদ্দেশ্যে। এখানে পিছনে একটা বিশাল জঙ্গল আছে। আশপাশটা ও কিন্তু খুব বিপদজনক। এখানে একবার হারিয়ে গেলে খুঁজে পাওয়াটা কিন্তু খুব মুশকিল হয়ে যাবে তার ওপর এখানে নেটওয়ার্ক ও তেমন একটা কাজ করে না তাই সবাই একসাথে থাকবেন। তাহলে হারিয়ে যাবেন না।

স্যারের কথা শুনে সবাই নিজেদের জিনিস পত্র ঠিক করে গুছিয়ে নিয়েছে। কিছুক্ষণ পর সবাই বেরিয়ে পড়ে। কারণ আশপাশটা কুয়াশায় ঢেকে অন্ধকার হয়ে আসছে।

সবাই সামনে হাঁটছে। নীলাধ্র ও ওর বন্ধুদের সাথে হাঁটছে আর কথা বলছে। নিধি আর আরুহি আসছে তাদের পিছন পিছন।

নিধি আর আরুহি ও কথা বলছে। কথা বলতে বলতে নিধি অনেকটা সামনের দিকে এগিয়ে গিয়েছে।

নিধি, নীলাধ্র কে ক্রস করতেই নীলাধ্র র খেয়াল হয় যে তার সাথে আরুহি নেই। নীলাধ্র র পা ও থেমে যায়। সে পিছনে ফিরে দেখে যে আরুহি নেই। নীলাধ্র একবার সামনে তাকাই কিন্তু আরুহি সামনেও নেই।

নীলাধ্র ওর বন্ধুদের সামনে এগিয়ে যেতে বলে আর বলে যে তার একটা কাজ আছে, বলেই নিজে চলে যায় আরুহি কে খুঁজতে। ইতি মধ্যে কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে পুরো পাহাড়।

সবাই এতক্ষণে নেমেও গিয়েছে। তারা সবাই হোটেলের দিকে যেতে শুরু করেছে। কিন্তু আরুহি বা নীলাধ্র এখনো সেখানে আসেনি।
,,,,,,,,,,,

আরুহি হাঁটতে হাঁটতে এক গোলক ধাঁধার মধ্যে ফেঁসে গিয়েছে। সে যেইদিকেই যাচ্ছে সেইদিকেই শুধু গাছ পালা সাথে ঘন কুয়াশা। হঠাৎ করেই সে পা পিছলে পড়ে যেতে শুরু করে।

ভয়ের চোটে আরুহি চি’ৎ’কা’র দিয়ে উঠে। আরুহির চি’ৎ’কা’র শুনে নীলাধ্র, আরুহি কে ডাকতে শুরু করে। নীলাধ্র র কেনো জানি আরুহির জন্য খুব ভয় হচ্ছে।

সে এই পাহাড়ে আগেও একবার এসেছিল ফ্যামিলি ট্যুরে। তখন এক মেয়ে এই পাহাড়ের পিছনের জঙ্গলে হারিয়ে যায়। পরে অনেক খোঁজা খুঁজি করা হয় তবে তার আর কোনো হদিস পাওয়া যায় না।

নীলাধ্র র ও ভয় হচ্ছে যে আরুহির আবার কোনো বিপদ হয়নি তো। নীলাধ্র আরুহির ক্ষ’তি করতে চাইলেও সে চাইনা যে অন্য কেউ আরুহির কোনো ক্ষ’তি করুক।

নীলাধ্র:- একমিনিট ঐ মেয়ে ম’র’লে’ই বা আমার কি আর বাঁচলেই বা আমার কি? ওর জন্য আমি কেনো নিজের জান বিপদে ফেলব।

বলেই নীলাধ্র ফিরে যেতে নেয় কিন্তু সে থেমে যায়। কেনো জানি তার মন আরুহি কে এইভাবে ফেলে রেখে যেতে একটুও সায় দিচ্ছে না।

তাই নীলাধ্র আবার আরুহি কে খুঁজতে শুরু করে। এদিকে অন্ধকার নেমে আসছে। আরুহি একটা ছোট খাদের মধ্যে পরে গিয়েছে। পড়ে যাওয়ার ফলে পায়ে বেশ চোট ও পেয়েছে।

ঠিক করে দাঁড়াতেই পারছে না। ক্ষ’ত স্থান থেকে র’ক্ত ও বের হচ্ছে। পায়ে খুব ব্য’থা ও হচ্ছে। ব্য’থা’র চোটে আরুহি এবার কেঁদেই দেই।

আরুহি হাঁটু মুড়ে কান্না করেই যাচ্ছে। বেশ অনেকক্ষণ কান্না করার পর হঠাৎ করেই নিজের মাথায় কারো স্পর্শ পেয়ে মাথা তুলে তাকায়।

নীলাধ্র তার সামনে হাঁটু মুড়ে বসে আছে। আরুহি আর এক মুহুর্ত দেরি না করে নীলাধ্র কে আ’ষ্টেপৃষ্ঠে জ’ড়ি’য়ে ধরে কান্না করতে লাগে।

আরুহি কে সুস্থ দেখে নীলাধ্র একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। একটু আগে আরুহি কে না পেয়ে তার কলিজার পানি শুকিয়ে গিয়েছিল নিজের অজান্তেই। এখন আরুহি কে দেখে একটু শান্তি লাগছে।

নীলাধ্র গম্ভীর কণ্ঠে বলে,

নীলাধ্র:- এই তুই সবার সাথে না গিয়ে একা একা এখানে কেনো?

আরুহি কাঁদতে কাঁদতে বলে,

আরুহি:- আপনি কালকে রাতে যে পেন্ডেন্ট টা দিয়েছিলেন, হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ করেই খেয়াল হলো ঐ পেন্ডেন্ট টা আমার গলায় নেই। তাই আমি আবার ফিরে গিয়ে খুঁজতে থাকি। কিন্তু বুঝতে পারি নি যে আমি সবার থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছি। আমি তখন সবাইকে খুঁজতে থাকি কিন্তু কাউকে পাই না। তারপর হাঁটতে হাঁটতে এক গোলক ধাঁধার মতো জায়গাই আটকে যায়। ঐখানে থেকে বের হওয়ার জন্য দৌঁড়াতে থাকি আর হঠাৎই এই খাদের মধ্যে পড়ে যায়।

নীলাধ্র:- আচ্ছা ঠিক আছে আর কান্না করিস না, আশেপাশে অন্ধকার নেমে এসেছে আর নেটওয়ার্ক ও ঠিক মতো কাজ করছে না যে কাউকে ফোন করবো। চল দেখি বের হওয়ার রাস্তা পাই নাকি।

বলেই নীলাধ্র উঠে পড়ে। আরুহি উঠতে নেবে এমন সময় সে মৃদু চি’ৎ’কা’র দিয়ে ওঠে। আরুহির চি’ৎ’কা’র শুনে নীলাধ্র থেমে যায় আর আরুহির কাছে আসে। নীলাধ্র বি’র’ক্তি নিয়ে বলে,

নীলাধ্র:- কি হলো আবার?

আরুহি কেঁদে বলে,

আরুহি:- পায়ে লেগেছে, র’ক্ত ও বের হচ্ছে। আমি মনে হয় হাঁটতে পারব না।

নীলাধ্র এবার প্রচুর রে’গে যায়। এক তো আরুহির জন্য সে ও এই জঙ্গলে ফেঁসে গিয়েছে। আর এখন আরুহি হাঁটতে ও পারবে না। সেই বা আরুহি কে কতক্ষন কো’লে করে নিয়ে ঘুরবে। এ কি আর ৫,১০ মিনিটের ব্যাপার।

নীলাধ্র কিছু না ভেবেই আরুহি কে কো’লে তুলে নেয়। আরুহি তো নীলাধ্র হঠাৎ এমন করাই চমকে যাই।

আরুহি:- আরে কি করছেন নামান আমাকে।

নীলাধ্র:- তোকে নামালে সামনে এগোবো কিভাবে!!

আরুহি:- আমাকে নামান আমি হাঁটতে পারবো।

নীলাধ্র:- পারবি না।

আরুহি:- পারবো আপনি নামান। কি হলো নামান। বললাম তো আমি হাঁটতে পারবো।

আরুহির অনুরোধে নীলাধ্র তাকে কো’ল থেকে নামিয়ে দেই। কো’ল থেকে নামিয়ে সে আরুহির হাত ধরে হাঁটতে শুরু করে।

আরুহির হাঁটতে খুব ক’ষ্ট হচ্ছিল তাও সে কিছু না বলে নীলাধ্র র হাত ধরে হাঁটছে। অনেক ক্ষণ ধরেই তারা হেঁটে চলছে কিন্তু কোথাও একটু ও আলো নেই।

আর না আছে কোনো মানুষের চিহ্ন। এদিকে নীলাধ্র র ফোনের চার্জ ও প্রায় শেষের দিকে। আরুহি ও হাপিয়ে গিয়েছে। সেই কখন থেকেই তারা হেঁটেই চলেছে।

হঠাৎ করেই নীলাধ্র র ফোনটা বন্ধ হয়ে যায়। এমনিতেই চারপাশটা কুয়াশায় ঢাকা তার ওপর অন্ধকার, ফোনটা ওন ছিল তাই ফ্ল্যাশ লাইট দিয়ে সামনে এগোচ্ছিল। এখন তো ফোনটা ও বন্ধ হয়ে গেলো। কিছুই আর দেখা যাচ্ছে না। আরুহি আর হাঁটতে পারছে না তাই সে ঐ খানেই বসে পড়ে।

নীলাধ্র:- কি হলো বসে পড়ল যে??

আরুহি:- আর হাঁটতে পারছি না। পায়ে খুব ব্য’থা করছে। (করুন স্বরে)

নীলাধ্র ও বেশ ক্লান্ত হয়ে গিয়েছে হাঁটতে হাঁটতে তাই সেও আরুহির পাশে বসে পড়ে। হাঁটতে হাঁটতে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছে তার। আশেপাশে তাকাতেই নীলাধ্র দেখতে পাই দূরে এক জায়গাই লাইট জ্বলছে।

নীলাধ্র:- আরু, ঐ দেখ ঐখানে আলো জ্বলছে। হয়তো ঐখানে কেউ থাকে চল।

বলেই নীলাধ্র, আরুহির হাত ধরে তুলে ঐ আলোর দিকে এগিয়ে যেতে লাগে। আলোর কাছাকাছি আসতেই এক সময় তারা বুঝতে পারে যে এটা একটা বাড়ি।

তারা বেশি কিছু না ভেবেই বাড়ি ভেতরে তাড়াতাড়ি ঢুকে পড়ে। এই বাড়িতে শুধু একটা মাত্র ঘর ছিল। বাড়িতে না ঢুকলেও তাদের কাছে কোনো উপায় ছিল না কারণ চারিদিক থেকে ভয়ানক জন্তুর আওয়াজ আসছিল। বলা তো যায়না যদি তাদের কোনো ক্ষ’তি করে দেই।

আরুহি গিয়ে খাটের ওপর বসে। পা থেকে বেশ র”ক্ত বের হচ্ছে। নীলাধ্র আশেপাশে তাকিয়ে কাপড় খুঁজতে লাগে। যেটা দিয়ে আরুহি পা টা বেঁধে দেবে।

খুঁজতে খুঁজতে একটা কাপড় পেয়েও যায় সে। কাপড় টা নিয়ে আরুহির পা টা নিজের উরুর ওপর তুলে আগের কাপড় টা খুলে দিয়ে নতুন কাপড় টা বেঁধে দেই।

আরুহি বাধা দিতে গেলেও নীলাধ্র তার কোনো কথা শুনে না। এমন সময় ঘরে একজন প্রবেশ করে। পিছন থেকে দেখে মনে হবে যে নীলাধ্র, আরুহির অনেক কাছে আছে। এটা দেখেই লোকটা চি’ৎ’কা’র দিয়ে উঠে।

লোকটির চি’ৎ’কা’রে নীলাধ্র হকচকিয়ে যায় আর উঠে দাঁড়ায়। লোকটি বাইরে গিয়ে আরো কয়েকে ডাকতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যে বাড়ির ভেতর ১০, ১২ জনের মতো মানুষ প্রবেশ করে। এর মধ্যে ১ জন বয়স্ক লোক ও আছে।

যেই লোকটা চি’ৎ’কা’র করেছিল সেই লোকটা সবাই কে বলে,

__:- আর কী কইমু। মোর পবিত্র ঘরে এই মাইয়া আর এই বেডা ঢুইকা সব অপবিত্র কইরা ফালাইছে।

__:- এইডা কী কইতাছস?

নীলাধ্র ওদের কথার পিঠে বলে,

নীলাধ্র:- আরে আপনারা কি বলছে এই সব।

__:- হ, আমি ঠিকই কইতাছি। এই মাইয়া আর এই বেডা ফাঁকা ঘর পাইয়া আকাম–কুকাম করতাছিল। এই বেডাডারে দেখলে তোরা স্বামী–স্ত্রী মনে অয় না। নিশ্চয়ই এই মাইয়াডারে ভাগাইয়া আনছ। প্রতিবার মানুষজন এই হানে ঘুইরা আইয়া মাইয়া গো ভাগাইয়া নিয়া যাইবো নাকি! আর দোষ আইতাছে আমাদেরই।

নীলাধ্র এবার বুঝতে পারে যে লোক এখানে এসে কেনো হারিয়ে যায়। আসলে তারা হারাই না। তাদেরকে ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

__:- হ হ, ঠিক কইছস তুই। ইটার একটা বিহিত করা দরকার মোড়ল সাব।

ওদের কথা শুনে নীলাধ্র আর আরুহি অবাক হয়ে যায়। নীলাধ্র ওদেরকে কিছু বোঝাতেই যাবে এমন সময় বয়স্ক লোকটা বলে উঠে,

__:- “না না, এইডা তো আর মানা যায় ন। এইডা অয় ন। হেরা দুয়াডারে ধরো, আজকেই আমি হেরা দুয়ারে বিয়া দিমু। এই আলিফ, যা ইয়ামিনডারে ডাইকা আন। হে তো বিয়া পড়াইতে পারে। গ্রেরামের সব বিয়াই তো হেই পড়াই। যা, গিয়া হেডারে ডাইকা আন।”

বয়স্ক লোকটার কথা শুনে আলিফ নামের ছেলেটা চলে যায়। নীলাধ্র বলে,

নীলাধ্র:- আরে আপনারা এইসব কি বলছেন বিয়ে দেবেন মানে। আমরা কেনো বিয়ে করবো??

__:- বিয়া না কইরা ন’ষ্টা’মি করবো নাকি? মাইয়াডারে ভাগাইয়া আনিয়া মাইয়াডার জীবন ন’ষ্ট করবো—এইডা তো আমরা হইতে দিমু ন।

নীলাধ্র:- আপনারা একদম ভুল বুঝছেন এমন কিছুই না।

__:- তো কেমনে হ, ভাবতাছস আমরা কিছুই বুঝি ন?

নীলাধ্র:- উফ্ আপনারা কেনো বুঝতে পারছেন না। আমরা এখানে হারিয়ে গিয়েছি। রাস্তা না পেয়ে এইভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছি। প্লিজ আমাদের কে রাস্তা বলে দিন। আমরা এখান থেকে চলে যাব।

__:- না না, এইডা তো হইবো না।

__:- চাচা, ইয়ামিন ভাইডারে নিয়া আইছি।

__:- নিয়া আইছস? এই বেডা, তুই বইস। আর এই মাইয়া, তুইও বইস।

আরুহি:- আশ্চর্য্য লোক তো আপনারা বলছি না যে আমরা বিয়ে করব না। আপনারা আমাদেরকে জোর করতে পারেন না।

__:- বিয়া না কইরা এইসব ন’ষ্টা’মি করবো নাকি! এই ইয়ামিন, তুই বিয়া পড়ানো শুরু কর। আমি দেইখতাছি বিয়া না কইরা ওরা কই যাই।

আরুহি কিছু বলতে যাবে কিন্তু নীলাধ্র কিছু একটা ভেবে বাঁকা হেসে আরুহি কে আটকিয়ে বলে,

চলবে…….

কেউ কিন্তু কোনো খা’রা’প কমেন্ট করবে না। আমি বান্দরবানের আঞ্চলিক ভাষা খুব একটা জানি না। একটু আকটু শুনেছিলাম আর বান্দরবানে কখনো যায় ও নি। ইউটিউব, গুগল ঘেঁটে তথ্য গুলো বের করেছি।
ভাবছিলাম যে আজকেই এই গল্প টা শেষ করে দেবো কিন্তু করতে পারলাম না। কালকে হয়তো বা শেষ হতে পারে। সবাই একটু রেসপন্স করবেন প্লিজ।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x