লেখিকা:নুর নাহার শ্রাবণী
পার্ট : ০৭
**** আরিয়ান এর কল পেয়ে মাহি হসপিটাল ছুটে এসেছে এসেই শ্রাবণীর খোজ করলো আরিয়ান কি বলবে কিছুই বুঝতে পারছেনা
– শ্রাবণী কোথায় কি হয়েছে ওর, আরিয়ান এর দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে বললো মাহি
– তেমন কিছুই হয়নি ভয়ে সেন্সলেস হয়ে গেছে,,
– এমন কি হয়ে যে সেন্স হারিয়ে পেলছে,,
হঠাৎ দখতে পেলো ডক্টর বেরিয়ে শ্রাবণীর গার্জিয়ানকে খজতেছে মাহি দৌড়ে গেল আরিয়ান ও সাথে গেলো,,,,
আর ইউ ওকে ডক্টর,
– সব ঠিক আছে উনি একটু বেশি ভয় পেয়ে গেছে,,,
– ডক্টর আমি কি দেখা করতে পারি?
– ম্যাম ওনার জ্ঞান পিরোক তার পর দেখা করতে পারবেন
– ওকে
অয়ন এর অনেক জায়গায় ক্ষত হয়েছে বেশি চোট পেয়েছে বাম হাতে অনেকটা বেশি কাটে গেছে,,,
– মাহিম তুই বাসায় গিয়ে অয়ন এর জামা কাপড় কিছু নিয়ে আয় আর তোর ভাবি জিজ্ঞেস করলে বলবি অয়ন এর ছোট একটা আ্যাকসিডেন্ট হয়েছে এখন ঠিক আছে চিন্তা না করতে,,
– জি ভাই আমি যাচ্ছি
– যা তাহলে,,,
শ্রাবণীর জ্ঞান পিরেছে মাহি শ্রাবণীর হাত ধরে বসে আছে – -বান্ধবী তুই ভয় কেন পেলি? অয়ন ভাই ছিলোনা ওখানে?
– ছিলো কিন্তু
– কিন্তু কী?
শ্রাবণী মাহিকে সব বললো ওখানে কি কি হয়ে ছিলো,
– তার পর আমি দেখি আমি হসপিটালে,,
– মাহি উনি ঠিক আছেতো? আমার জন্য ওনাকে এত আগাত পেতে হয়েছে উনি যদি আমাকে না ধরতো তাহলে এত আগাত পেতে হতোনা,,,
অয়ন এর গাড হাত মাথা সব ব্যান্ডেজ করা আরিয়ান মাহিন চৌধুরী অয়ন এর কেবিনে,,,
অয়ন এর জ্ঞান পিরতেই আরিয়ান এর দিকে তাকিয়ে বললো ঠিক আছে ও
– জি ভাইয়া ঠিক আছে এত টেনশন নিওনা এইটা আরিয়ান ঠাট্টার সুরেই বললো অয়ন আরিয়ানের দিকে কট মট দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে
***শ্রাবণীকে হসপিটাল থেকে ডিসটেন্স করে দিছে,, শ্রাবণী বাড়ির দিকে যেতে নিলে মাহি বলে উঠলো,,
– চল বান্ধবী অয়ন ভাইকে দেখে আসি,, শ্রাবণী প্রথমে না করলো তার পর আবার রাজি হলো
– চল দেখে আসি,,,
শ্রাবণী মাহি অয়ন এর কেবিনের সামনে দাড়িয়ে আছে,,
– আসবো মাহি আরিয়ান এর উদ্দেশ্য বললো
– অবশ্যয় আসেন,,,
শ্রাবণী মাহি কেবিনের ভিতরে গিয়ে দাড়িয়ে আছে,, অয়ন এর মুখে প্রশান্তির হাসি,,
– ঠিক আছেন এখন
– এতক্ষণ একটু ভালো চিলাম এখন আরো ভালো হয়ে গেলাম,,,
শ্রাবণী বরাবরের মতই চোখ নিচু করে আছে,,
– আমরা আসি তাহলে
– কিহ এখনি চলে যাবে আর একটু থাকো?
শ্রাবণী আর কিছু বললোনা মাহির হাত ধরে বেরিয়ে গেলো অয়ন আরিয়ান একজন একজনের দিকে তাকিয়ে আছে আরিয়ানতো হাসতেছে ভাইয়ের ব্যাভাচ্যাকা মুখদেখে,,
– থাক ভাইয়া আপসোস করোনা , আরিয়ান কথা শেষ করতে না করতে অয়ন এর খালাতো ভাই আকাশ এসে অয়ন কে জড়িয়ে দরলো,,,
-কেমন আছিস অয়ন আমি খবর পেলাম তোর উপর নাকি কারা হামলা করছে
– এখন ভালো আছি,, আন্টি আঙ্কেল এর কি অবস্থা?
– সবাই ভালো আছে টেনশন নিসনা,,
– আরিয়ান কেমন আছো?
– এইতো আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি,, তোমার তো এখন কনো খবর এ পাওয়া যাইনা এখন অনেক বিজি মানুষ তুমি,,
– এই ভাবে বলিস না সত্যি আমার কাজের ছাপ ছিলো তাই খবর নিতে পারিনাই,,
– আচ্ছা এখন বাসায় চলো ভাইয়া তুমি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও নইতো বড় আম্মু বেশি টেনশন করবে
– আচ্ছা যাচ্ছি
** মাহিম চৌধুরী মাহিন চৌধুরী দুই ভাই আগে বাসায় চলে এসেছে,, অয়ন বাসায় আসতে নাজমা চৌধুরী ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতেছে
– মা কান্না করতেছো কেন এই দেখো আমি ঠিক আছি একদম কান্না করবেনা
সবাই মিলে অয়নকে ঘরে দিয়ে আসছে তাসনুবা আর সাইমাও অয়নের রুমে,,,,
– কি খালা মনি আমাকে দেখি ভুলেগেছো আমি আসছি তোমার দেখি কনো খেয়াল নেই?
– আরে বাবা ভুলবো কেনো মা কি করে তার ছেলেকে ভুলে যাই,,
– হুম হইছে আর বলা লাগবেনা,,,
অয়ন তাসনুবা আর সাইমাকে বলেছে নিজেদের রুমে চলে যেতে,,, যে যার রুমে নাজমা চৌধুরী ছেলের পাশেই বসে আছে,,,,
**সবাইকে ডিনার করার জন্য ডাকতেছে সবাই যে যার জাগায় বসে পড়লো,,
আকাশ এসে বসতেই সে খেয়াল করলো সে সাইমার পাশে বসেছে,, এখন যে উঠে অন্য কথাও বসবে সে জায়গা ও নেই,,,, সাইমা ঠিক মতো খেতেও পারছে না আকাশ একটু পর পর সাইমার দিকে আড় চোখে দেখতেছে কেউ তাকিয়ে থাকলে এমনিতেই খাওয়া আসেনা সাইমা তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ করে তাসনুবার রুমে চলে গেলো,,
*** শ্রাবণী বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে দেখতেছে কে কি গিপ্ট দিছে মাহি একটা কাপল বেসলাইট দিছে একটা ওর হাতে থাকবে একটা শ্রাবণীর হাতে থাকবে,,
সাইমা কয়েকটা চকলেট বক্স দিছে মারিয়া একটা ঘড়ি দিছে,, অয়ন এরটা নেওয়া হইনি ওইটা মাহির কাছে আরিয়ান রাস্তা থেকে নিয়ে মাহিকে দিছে,, ওইটা কালকে দেখবে এখন রিফাত যেটা দিচে সেটা আনবক্স করতেছে গিপ্ট দেখে শ্রাবনী বিশ্বাস করতে পারচেনা চারটা উপন্যাস এর বই চারোটা তার প্রিয় কয়েকটা চিঠিও চিলো,,,
মাহি ভিডিও কল এ থাকায় সেও দেখতে পেলো রিফাত কি গিপ্ট দিছে বান্ধবী খুশি মানে সেও খুশি,,
“””মাহিও খুশি কারন সেও পড়তে পারবে,,,
হঠাৎ শ্রাবণীর ফোনে একটা মেসেজ এলো,, বান্ধবী তোকে পরে কল দিতেছি,,,
– ওকে বাই,,,,
“”” কি করো জান,,,
শ্রাবণী বিরক্তি নিয়ে রিপ্লাই দিলো
“” কোন খেতের মুলা এসেই ডিরেক্ট জান বলতেছেন আর সরি মেসেজ দিবেন না,,,,
– রাগ করতেছো কেনো জান একটু কথা বলো
– এই সালা তোর সমুস্যা কি মেয়ের ইনবক্সে মেসেজ দিতে ভালো লাগে,,, যাহ বল্ক মারতাছি তোরে আলগা পিরিত দেখাবার সময় নাই আমার,, আমার জামাই আসছে এখন ওরে ভাত দিমু,,,
“””” অয়ন হতভম্ব হয়ে ফোনের স্কিনে তাকিয়ে আছে
ওর আবার জামাই আসলো কোথায় থেকে সে খুশিও হয়েছে জে তার ডেইজি অন্য সব নারির মত নয় সে কারনে তো অয়ন এর মত একজন পুরুষ সাধারন শ্যামবর্নের মেয়েকে নিয়ে ভাবতেছে,,, অয়ন একটা পেক আইডি খুলে শ্রাবণী কে মেসেজ দিছে দেখলো সে কেমন,,,,
,,,,, ভুত ভুত বলে সাইমা চিৎকার করতেছে আকাশ এসে সাইমার মুখ দরে পেললো
– এই কি করছো আমি আমি আকাশ ভুত নয়
আকাশ সাইমার মুখ ছেড়ে দিলো,,
– আপনি ভুত নয়,, আর এত রাতে আপনি নিছে কি করতেছেন?
– আগে বলো তুমি কি করতে আসছো নিচে
– আমি আসছি পানি নিতে
– পানি নেওয়ার জন্য এসে এইভাবে ভুত ভুত বলে চিৎকার করলে কেন? আমাকে দেকে কোন অ্যাঙ্গেল ভুত মনে হয় তোমর?
– ভুতের মত দাড়িয়ে থাকলে ভুত বলবো না তো কি বলবো,,, সাইমা আর কথা বাড়ালো না নিজের রুমে চলে গেল,,,
– দূর মেয়ে মানুষ মানেই প্যারা তাইতো এখনো একটা প্রেম ও করতে পারিনাই,,,,
“”” 🌿 চলবে,,,,,, ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন 🙏