লেখিকা:নুর নাহার শ্রাবণী
পার্ট : ০৮
***** নতুন একটা দিনের শুরু,,,,,, শ্রাবণী নামাজ শেষ করে নাস্তা বানাতে হেল্প করতেছে তার মা কে,,, আজকে কলেজে যাস না পা এখনো ঠিক হইনি রাস্তায় দেখে হাটতে পারিস না দেখে হাটলেতো এইভাবে পায়ে ব্যাথা পেতিনা,,,
– আম্মু এত চিন্তা করতেছো কেনো এইটা ঠিক হয়ে যাবে তুমি চিন্তা করোনা,, আমি কলেজ এ জাবো
– আমি কেনো চিন্তা করবো আমারতো কনো টেনশন এ নাই,,
– এমন করে বলোনা আচ্ছা আমি কলেজ এ যাবো না খুশি তুমি
শ্রাবণী নাস্তা খেয়ে মাহিকে কল দিছে সে আজকে কলেজ এ যাবেনা সে যদি না যাই মাহিও যাবেনা,,,
***** কি করতেছিস তুই তোকে বলছিনা সব কাজ পরে আগে তুই সুস্থ হ তার পরে কাজ,,
– মা আমার ছোট একটা কাজ পরে আছে ওইটা শেষ করে আবার বাসায় চলে আসবো এক ঘন্টার মধ্যে
– এমন কি কাজ যেটা এক ঘন্টার মধ্যে শেষ হয়ে যাবে?
– আচে কাজ একটা সেটা না করলেই নয় সেই কাজটা সম্পূর্ণ করতে হবে,,,
– দে এবার হা কর,, নাজমা চৌধুরী ছেলের পিচন পিচন নাস্তা নিয়ে গুরে গুরে ছেলেকে নাস্তা খাওয়াচ্ছে,,,
ভাইয়া ডাকছিলে আমাকে,,,
– হুম,,
– কিছু বলবে?
– চল আমার সাথে কাজ আছে,,,
– ওকে টু মিনিট আমি আসছি,,
– ওকে,,,
আরিয়ান অয়ন দুইভাই রেডি হয়ে বেরিয়ে গেলো,,
একটা পুরাতন বাড়ির সামনে গাড়ি থামালো অয়ন, দুজনে ভিতরে গেলো দুইটা ছেলেকে হাত পা মুখ এমন বাদা চাইলেও তারা ছুড়তে পারবে না,,
অয়ন কে দেখে ছেলে গুলো আতকে উঠলো অয়ন একটা টুল নিয়ে ছেলে গুলোর সামনে বসলো,,
– কিরে তোদের জিবনের তোয়াক্কা না করে অয়ন চৌধুরীর দিকে হাত বাড়ালি সেটা বাদ কিন্তু অন্য দিকে তোদের হাতনগেছে এত বড় কলিজা নিয়ে চলাপেরা করিস আচ্ছা দেখবোনি কত টুকু কলিজা এই বলে অয়ন ছেলে গুলোর মুখের বাদন খুলে দিলো,,,
দুইটা এ চিৎকার করে উঠলো আমাদেে কে ছেড়ে দাও,,,
– দিবোতো ছেড়ে দিবো,, ছেলে গুলোর মুখে বাচার আলো পুটে উঠলো,,
– ছেড়ে দিবো তবে এত সহজ না অয়ন চৌধুরীর হাত থেকে মুক্তি পাওয়া তবে বেশি না একটা শর্ত আছে,,,
,,,,দুইটা এক সাথে বলে উঠলো কি শর্ত?
– তোদের সব সম্পত্তি আমার নামে লিখে দিবি,,
আর একজন কথা বলার সক্তি হারাবি আর একজন সারা জিবনের জন্য হাত দুইটা হারাবি,,,
– এই রকম করবেন না আমরা ভুল করছি আমাদের ছেড়ে দেন আমিন খান আমাদের টাকার লোভ দেখিয়ে এই কাজ করতে বলছে ভাইজান আমাদের মাপ করেন
অয়ন এমন ভাবে হাসলো মনে হয়েছে সে এসব কথা সুনে খুব আনন্দ পেয়েছে ,,,,,
– দূর সালারা বেইমান যার টাকা খাইছে তার সাথেই বেইমানি করছে
,,,অয়ন হাতের মধ্যে গ্লাপ্স পরে হাতুড়ির মত একটা জিনিস নিলো এমন ভাবে হাত থেতলে দিছে যেন এই হাত কনো কাজে না আসে,,
– এই নোংরা হাত গুলো দিয়ে ওকে দরলি না তুই,,,
পুরো ঘরে ঘোংরানির আওয়াজ তাদের মুখ আবার বেদে দিছে অয়ন
আরিয়ান সব চুপচাপ দেখতেছে,,
আরেকটার মুখের মধ্যে এমন একটা মেডিসিন দেওয়া হয়েছে তার গলা দিয়ে গর গর করে রক্ত বের হচ্ছে,,,
,,কাজ শেষ,,
আরিয়ান এদেরকে হসপিটাল নেওয়ার ব্যাবস্থা করতেছে ,,,
,,,অয়ন এর মুখে তৃপ্তির হাসি,,,
***** শ্রাবণী খাটের উপর সুয়ে সুয়ে উপন্যাস পড়তেছে রিফাত যেই বই গুলো দিছে,,,
– আপু দেখ এইটা কি,,,
– তুই ওকে কই পেলি?
– রাস্তায়,, কি কিউট তাইনা?
– এইটা রিফাত ভাইয়ের মিনি,, এই বলে শ্রাবণী লামিয়ার থেকে মিনিকে নিয়ে আদর করতেছে
– কি বলিস তাহলে এইটা এখানে কিভাবে আসলো আমি দেখে আসি আসে পাশে রিফাত ভাই আছে কিনা,,,
– দারা আমিও যাবো
– তোর যাওয়ার দরকার নাই আমি দেখে আসি,,
– আচ্ছা,,এবলে লামিয়া শ্রাবণীর থেকে মিনিকে নিয়ে রিফাত কে খুঝতেছে দেখতে পেলো একটু দূরে রিফাত বন্ধুদের সাথে দাড়িয়ে আছে লামিয়া মিনিকে নিয়ে রিফাতের সামনে গিয়ে বললো এইনেন মিনিকে,,রিফাত গুরে দেখলো লামিয়া মিনিকে নিয়ে দাড়িয়ে আছে,, রিফাত মিনিকে লামিয়ার কোল থেকে নিলো,, -আমি তাহলে আসি
– সুনো
– জি
– তোমার আপু কই?
– আপু বাসায়
– ওহ আচ্ছা একটু বের হতে বলবে?
– না মানে ভাইয়া আপু অসুস্থ,,, পরে বলবোনি
– কি হয়েছে ওনার?
– তেমন কিছুনা পড়ে গিয়ে পায়ে ব্যাথ্যা পেয়েছে
– ওহ আচ্ছা একটু খেয়াল রাখিও
– ওকে,, এই বলে লামিয়া বাসায় চলে আসলো,,,
– উনি চলে গেছে লামু?
– হুম চলে যাইতাছে,,
শ্রাবণীর মন খারাপ হয়ে গেছে এত কাছে থেকেও প্রিয় মানুষটাকে দেখতে পেলোনা,,,,
****আরিয়ান অফিস গেলো,,
অয়ন বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে ল্যাটপ নিয়ে বসেছে কাজ করতেছে আর কপি খাচ্ছে হঠাৎ কিছু একটা মনে হলো চট করে ফোনটা হাতে নিলো নিয়ে শ্রাবণী জান্নাত আইডিটাতে ডুকলো দেখলো তাকে বল্ক মেরে দিছে হতাসানিয়ে ফোনটা চুড়ে মাললো বেডের উপর,, ডক্টর বলেছে ব্যান্ডেজ গুলো না খুলতে কিন্তু তারতো এতো ধরঝো নাই সে সব ব্যান্ডেজ খুলে পেলছে,,, অয়ন এর কথা সুনে ফাইজা সকালে এসে ছিলো কিন্তু অয়ন কে পাইনি,,, এখন এসেই সোজা অয়ন এর রুমে চলে গেল,, অয়ন এর থেকে পারমিশন না নিয়ে সে হুরমুরিয়ে অয়ন এর সামনে এসে দাড়ালো,,
– কি হয়েছে তোমার ঠিক আছো তুমি এইবলে অয়ন এর হাত দরতেই যাবে তার আগেই অয়ন যাড়া মেরে হাত সরিয়ে নিলো,,,
– কি বলবে বলে বিদায় হও
– এমন করে কেনো বলতেছো আমিতো তোমার পিয়ন্সি আমার কি এতটুকু অধিকার নেয় যে তোমাকে দেখবো?
– জাস্ট সেটআপ কি বললে তুমি আমার পিয়ন্সি? নেক্সটাইম যেন এই কথা না শুনি তোমার মুখে,,,অয়ন নিছের দিকে তাকিয়ে আছে সে চোখ তুলতেও লজ্জা পাচ্ছে কি পরে এসেছে মেয়ে হয়ে ওলনা তো নেইনি তার উপর কি সব ড্রেস পরেছে একদম ড্রাসবিনের ময়লার মত অয়ন মনের কথা মনেই রেখে দিলো,,,
ফাইজা কান্না করতে করতে বেরিয়ে গেলো অয়ন এর রুম থেকে,,,
অয়ন এর কিছু একটা মনে পরে নিজের অজান্তেই মুখে এক চিলকি হাসি পুটে উঠলো আর মনে মনে আওড়ালো নারিতো হতে হবে ডেইজির মত যা সব নারির পক্ষে সম্ভব নয় আর আমার সস্তা জিনিস একদম পছন্দ নয়,, আমার সব কিছুই দামি তবে ও একটু বেশিই দামি যার দাম সবাই দিতে পারবেনা,,
,,,,অয়ন অয়ন,,,,
– কি হলো এইভাবে ষাড়ের মত ডাকতেচিস কানো?
– একটা কথা বলতাম
– কি বলবি বল
– ওইযে মেয়েটা তোদের বাসায় ছিলোনা কি যেনো নাম
– আরিয়ানের মামাতো বোন সাইমা?
– রাইট, মেয়েটা কোথায় যানিস?
– কেনো তুই হঠাৎ সাইমার খোজ করলি কেনো,,, সমুস্যা কি বলে পেল
– যাহ তোদের কনো কথায় বলবো না আমি নিজেয় খুজে নিবো
– নিজ খুজে নিলে আমার কাছে আসলি কেনো
আকাশ আর কনো কথা বাড়ালোনা অয়ন এর রুম থেকে বেরিয়ে গেল
– এই শুন কলেজে দেখিস পাবি ওখানে,,
“”” চলবে,,,,, ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন 🙏
কেমন হয়েছে বলবেন🌸🌸🌸🌸