পর্ব:-৪
লেখিকা:নুসরাত জাহান তীব্রতা
[ অনুমতি ব্যতীত কপি করা সম্পূর্ণভাবে নিষেধ ]
শিতুলের কথায় হিমাদ্র থম মে’রে দাঁড়িয়ে থাকে । মাথাটা কাত করে একবার বামদিকে ঝাঁকুনি দেয় আরেকবার ডানদিকে ঝাকুনি দেয়। সিলকি চুলগুলো কপালের উপর এসে পরেছে এলোমেলোভাবে। ঘাড় বাঁকিয়ে একবার পিছনে তাকিয়ে আর এক মুহূর্তও না দাঁড়িয়ে দ্রুত কদম ফেলে রুমের বাইরে চলে যায়।শিতুল অনবরত ঘরে পায়চারি করছে। কি করবে না করবে কিছুই বুঝতে পারছে না।এর আগে কোনদিন শাড়ি পরে নি তাই শাড়ি নিয়ে তার বিশেষ কোনো ধারণা নেই। কালকে তার শাশুড়ি বলেছিল সকালে গোসল করে শাড়ি পরার জন্য তাইতো এই বিরক্তিকর বস্তুটা নিয়ে ফেঁসে গেছে। দুইহাতে শাড়ি মুঠ করে ধরে যেই না এক কদম এগুবে তখনই কেউ দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করে। শিতুল পলক ফেলে ঘাড়টা সোজা করে তাকিয়ে দেখে হিমাদ্রর বয়সী একটা মেয়ে। গোলগাল মুখে অসম্ভব মায়া। গায়ের রং ফর্সা। শিতুলকে এরকম বেহাল অবস্থায় দেখে মেয়েটা ফিক করে হেসে দেয়। মেয়েটাকে তাকে দেখে হাসতে দেখে শিতুলের মুখে খানিক অসন্তুষ্টির আভাস দেখা মিলে। কপালে তীর্যক একটা ভাঁজ ফেলে শিতুল জিজ্ঞেস করে,
— এই আপনি আমাকে দেখে হাসছেন কেন?’
মেয়েটা বোধহয় শিতুলের করা প্রশ্নে আরো মজা পেল। শিতুলের মুখের ভাবভঙ্গি পর্যবেক্ষণ করে আবার হেসে উঠলো। এবার হাসতে হাসতে বিছানায় শুয়ে পরলো। হাসতে হাসতে কোনমতে বলল,
— সরি সরি।
সরি বলেই মেয়েটা আবার হাসা শুরু করলো। শিতুলের এবার যেমন রাগ হলো তেমনি বিরক্তি এবং অস্বস্তি বোধ করলো। অচেনা একটা মানুষ তাকে দেখে হাসতে হাসতে শুয়ে পরেছে শিতুলের কাছে বিষয়টা অস্বস্তিকর লাগলো। শাড়ির আঁচলটা সামনে থেকে কাঁধের উপর দিয়ে পিছনে ফেলে কোনরকমে একটা ভাঁজ দেয়। আর তাতেই ঠোঁট প্রশস্ত করে হাসি দেয়। তবে সেই হাসির বেশিক্ষণ স্থায়িত্ব হলো না। শাড়ির আঁচলটা আবার গড়িয়ে নিচে পরে গেলো। শিতুলের এবার রাগ হলো অনেক। রাগে দুঃখে শাড়িটা ঢিল মেরে পিছনে ফেলে দেয়। হনহন করে যেই না চলে যাবে ওমনি শাড়ির অপর প্রান্তের সাথে পা বেঁধে ঠাস করে মেঝেতে পরে যায়।
মেয়েটার হাসি আরো গাড় হয়। শিতুলের করুণ মুখখানা দেখে অন্যদিকে ফিরে মুখ চেপে হাসে। কিছুক্ষণ সময় নিয়ে নিজের হাসি কন্ট্রোল করে শিতুলের সামনে গিয়ে শিতুলকে টেনে তুলে। শিতুলকে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে একগ্লাস পানি এগিয়ে দেয়। শিতুল বিনা বাক্যে পানি পানি নিয়ে খায়। এই মুহূর্তে সত্যিই তার পানির দরকার ছিল।
মেয়েটা এবার মুখটাকে যথাসম্ভব সিরিয়াস বানিয়ে বলে,
— আমাকে চিনো তুমি?
পরক্ষণেই আবার নিজে নিজে বলে,
— আমিও না। তুমি আমাকে চিনবে কীভাবে?? আমাদের তো কখনো দেখাই হয় নি। বাই দা ওয়ে আমি মুক্তা ,হিমাদ্রর মামাতো বোন ওরফে বান্ধবী। তুমি তো শিতুল। তোমার নামের মতোই তুমি। এক্কেবারে কিউটের ডিব্বা। ইশ এই হিমাদ্র নাকি এরকম একটা বউ ছেড়ে কয়লার পিছনে দৌড়াচ্ছে। আমার তো ভেবেই আফসোস হচ্ছে হিমাদ্রর জন্য। বেচারা।”
আরাম করে পা ঝুলিয়ে বসে মুক্তা।ভাবার ন্যায় বলে,
— বুঝলা তোমার জামাই কিন্তু এমনিতে ভালোই। তোমার কিন্তু সারাক্ষণ তোমার জামাইরে আঁচলে বেঁধে রাখতে হবে। আর তুমি তো জানো নিশ্চিই তোমার জামাই অন্য কাউকে ভালোবেসে। এজন্যই বলছি জামাইকে হাত করে রাখো। পুরুষ মানুষ বউ পেলে এমনিতেই সব ভুলে যাবে। তুমি কি আমার কথা বুঝতে পেরেছ আমি কি বলতে চেয়েছি!”
শিতুল বিজ্ঞদের ন্যায় মাথা নাড়ায়। কিন্তু তার মুখ দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে মুক্তার কথার আগা মাথা সে কিছুই বুঝে নাই। মুক্তা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। শিতুলকে শাড়ি পরিয়ে দিতে দিতে বলে,
— এইযে তোমার জামাই তোমাকে ছেড়ে অন্য কাউকে ভালোবাসে এটা কি তোমার ভালো লাগবে?
শিতুল দু’পাশে মাথা নাড়িয়ে না বলে।
মুক্তা কুচি ঠিক করতে করতে বলে,
— সবসময় তোমার স্বামীর আশেপাশে থাকবে। যতক্ষণ বাড়িতে থাকবে ততক্ষণ চারপাশে মাছির মতো ঘুরঘুর করবে। নতুন নতুন জামা কাপড়,শাড়ি পরে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখাবে। হিমাদ্র কি পছন্দ করে সেগুলো বেশি বেশি করবে। এইযে যেমন ধরো যখন ডিউটিতে যাবে তখন এটা সেটা এগিয়ে দিবে। টাই বেঁধে দিবে,কফি এগিয়ে দিবে,ঘড়ি খুঁজে দিবে। আবার যখন ডিউটি থেকে ফিরবে তখন গিয়ে দরজা খুলে দিবে। একসাথে খাওয়ার জন্য অপেক্ষা করবে। জামাকাপড় এগিয়ে দিবে। মাঝেমধ্যে জড়িয়ে ধরবে। চুমু খাবে। আর…
কথাটা বলে একপলক শিতুলের মুখের দিকে তাকায়। শিতুল চোখেমুখ কুঁচকে তাকিয়ে আছে। সেভাবেই বলে,
— ইশ আপু খারাপ কথা বলো কেন? ছিঃ!”
মুক্তা হা হয়ে শিতুলের দিকে তাকিয়ে আছে। অবাকতার রেশ কাটাতে না পেরে জিজ্ঞেস করে,
— এগুলো খারাপ কথা?”
— হ্যাঁ। আম্মু বলেছে কোন ছেলেকে জড়িয়ে ধরা, চুমু খাওয়া এগুলো খারাপ কাজ। আমি একবার মুভিতে দেখেছিলাম তখন আম্মু তো অনেক বকা দিয়েছিল। আর বলেছে এগুলো খারাপ কাজ, কেউ এসব করলে বা এগুলোর কথা বললে তাদের থেকে দূরে থাকতে। “
— ও আল্লাহ। নিজের জামাইকে জড়িয়ে ধরলে বা চুমু খাইলে এগুলো খারাপ কাজ না। বরং বিয়ের পর যদি এগুলো না করো তাহলে আল্লাহ নারাজ হন।পাপ দেন।”
— সত্যি!’
— হুম।
— তাহলে এখন!”
— এখন থেকে তুমি রোজ তিন চারটা করে চুমু দিবে হিমাদ্রকে।হিমাদ্র যদি ধমকও দেয় তাহলেও থামবে না। বুঝেছ। নইলে আল্লাহ পাপ দিবে। “
— কিন্তু আপু ওই হিমেল হাওয়া বাদে অন্য কাউকে খেলে হবে না। ওই লোকটা কেমন খিটখিটে। আমার একটুও ভালো লাগে না।”
মুক্তা কাজ ফেলে হা হয়ে তাকিয়ে আছে। এই মেয়ে বলে কি! এরকম বলদও কি কেউ হয় তাও এই যুগে। বিরবির করে বলে,
— ও আল্লাহ এরে হেদায়েত দান করো আর হিমাদ্রকে ধৈর্য্য। নয়তো এই অবস্থায় না জানি হিমাদ্র এরে মে*রেই ফেলে গলা চেপে।
__
হিমাদ্র আর শিতুলের বিয়ে যেহেতু হঠাৎ করেই হয়েছে তারউপর আবার শিতুল ছোট অন্যদিকে হিমাদ্র সদ্য আর্মিতে যোগদান করেছে সবমিলিয়ে তাদের বিয়ের ব্যাপারে বেশি মানুষ জানে না বললেই চলে। তবে কিছু পাড়া প্রতিবেশী আর চেনাজানা কয়েকজন আত্মীয় এসেছে শিতুলকে দেখতে। সোফায় সবার মধ্যে শাড়ি পরে বসে আছে শিতুল।
শিতুলকে দেখে বেশিরভাগ মহিলারাই খারাপ কমেন্ট করছে। এতে অবশ্য শিতুলের কোন হেলদোল নেই। হিমাদ্রর মা হাতে গোণা কয়েকজনকে এর বিরুদ্ধে রিপ্লাই করেছে। তবে যারা ব্যাপারটা বুঝতেই চাচ্ছে না চতুর হিমাদ্রর মা তাদের সাথে কথাই বলে নাই। বুদ্ধিমত্তার সাথে তাদের এড়িয়ে যাচ্ছেন। মুখে প্রকাশ না করলেও শিতুলের কাছে ব্যাপারটা বেশ ভালো লাগে। সে আপাতত সেসবে মন দিচ্ছে না। প্রচন্ড খিদে পেয়েছে তার। বাড়িতে থাকলে এরমধ্যে
কতকিছু খেয়ে ফেলতো। দারুন দারুন রান্না হয়েছে। শিতুলের জিভে পানি চলে এসেছে।
শিতুলের পরনে একটা মিষ্টি কালার জামদানি শাড়ি। গলায় এবং হাতে কিছু সোনার গহনা। যা হিমাদ্রর মা দিয়েছে। এই শাড়িটাও মুক্তা পরিয়ে দিয়েছে। সাথে হালকা মেকাপ। চুলগুলো খোপা করে গোলাপ ফুল গেথে দেওয়া।
হিমাদ্র সেই সকালে ইউনিফর্ম পরে গিয়েছে ক্যাম্পে।
আশেপাশে জহুরি চোখে তাকিয়ে চেনা পরিচিত কাউকে খুঁজছে শিতুল। শাশুড়িকে জীবনেও বলতে পারবে না তার খিদে পেয়েছে। মুক্তাকেও চোখে পরছে না। কান্না পেয়ে যায় তার। সে দেখেছে গরুর মাংস রান্না হয়েছে। এজন্যই তো খিদে যেন আরো দ্বিগুন পেয়েছে তার।
ওয়াশরুমের কথা বলে সবাইকে ছেড়ে উঠে রান্নাঘরে যায় শিতুল। কাউকেই চোখে পরছে না দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে শিতুল। মেডরা এখানে নেই। সবাই এখন বসার ঘরে ব্যাস্ত। শিতুল উঁকিঝুঁকি দিয়ে গরুর মাংসের বড় পাতিলের ঢাকনা সরায়। একটা চামচ নিয়ে কয়েক টুকরো মুখে নিয়ে চিবোতে থাকে। এই গরুর মাংস তার এতো প্রিয় ক
যে বলার মতো না। গপাগপ আরো কয়েক টুকরো মুখে পুরে নেয়। চিবোনোর সময় শুনতে পায় একটা গম্ভীর কন্ঠস্বর,
— খিদে পেয়েছে বললেই পারতে! চোরের মতো এসে খাওয়ার কি দরকার ছিল? আমি কি তোমাকে খাওয়ার জন্য বারণ করতাম নাকি?”
হঠাৎ এহেন প্রশ্নে শিতুল চমকে যায়।কাশি উঠে যা তা অবস্থা। পিছনে তাকিয়ে দেখলো তার শাশুড়ি বুকে হাত গুজে জহুরি চোখে তাকিয়ে আছে।তবুও কাশতে কাশতে শিতুল বলে,
— না না আমার তো খিদে পায় নি । আমি তো খাচ্ছিলাম না।”
— ওহ আচ্ছা তাহলে মুখে কি?”
— মুখে! মুখে তো ওইযে,…… ওইযে আরকি…. ইয়ে মানে…. আরকি?”
— কি বলো?”
— আসলে আমি টেস্ট করছিলাম কেমন হয়েছে তাই জানতে। আসলে এতো গুলো মানুষ খাবে তো যদি খারাপ হয় তবে??”
— তাই তবে এতোক্ষণ যে তুমি মনে মনে ওদের না খাইয়ে রাখার পয়তারি করছিলে। আর খাবার রান্না খারাপ হবে তুমি জানো শেফ রান্না করেছে এগুলো।”
— এজন্যই তো এতো মজা। কিন্তু আপনি আমার মনের কথা জানলেন কীভাবে?” বিরবির করে বলে শিতুল।
— কি বলো জোরে বলো?”
— কিছু না,কিছু না।
— রুমে যাও, আমি খাবার পাঠাচ্ছি। ওখানেই খেয়ে নিও। নিচে আসার আর দরকার নেই আপাতত।”
— জ্বী।
___
— স্যার আপনাকে ডেকেছে বড় স্যার।
— আসছি যাও।” গম্ভীর কন্ঠে বলে হিমাদ্র। সারাদিনের এতো খাটাখাটনি করার পরে ক্লান্ত হলেও মুখে একবিন্দু তার ছাপ নেই। যেন তার কাজের প্রতি ভিষণ সিরিয়াস সে। একটুও হেলাফেলা করতে চায় না।
— আসবো স্যার!”
— হিমাদ্র যে! আসো আসো তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম আমি।” কথাটা মৃদু হেসে বলেন ডিপার্টমেন্টের হেড আমিরুল ইসলাম।
হিমাদ্র রুমে ঢুকে সালাম দিয়ে একটা চেয়ারে বসে।
— কি জন্য ডেকেছিলেন স্যার?”
— দেখো হিমাদ্র গত কয়েকমাস যাবৎ পাহাড়ি এলাকায় নাকি একদল জ*ঙ্গি হামলা করছে। আমরা বহুবার চেষ্টা করেছি কিন্তু তাদের ধরতে পারি নি। তাই এবার একটা প্ল্যান করে তবেই ওদের ধরবো। তোমাকে ছাড়া আমি আর কাউকে তেমন একটা ভরসা করতে পারছি না। তাই তোমাকে টিমের ক্যাপ্টেন করা হবে। আমি জানি তুমি জুনিয়র কিন্তু আমার মনে হয় তুমি এর জন্য যোগ্য। কি হিমাদ্র পারবে না।”
— অবশ্যই স্যার। আমি আমার সবটা দিয়ে চেষ্টা করবো।”
— এই না হলে একজন সত্যিকারের আর্মি। কনগ্রেচুলেশনস মাই বয়।
— এটা আমার কর্তব্য স্যার।”
— আজকে তুমি আসতে পারো। তুমি তো ডিপার্টমেন্টে থাকো না তাই না।”
— জ্বী স্যার।
— তাহলে বাসায় চলে যাও। রাত হয়েছে অনেক। কালকে টাইম মতো চলে এসো। কালকেই প্ল্যান করা হবে।”
— জ্বী স্যার। ধন্যবাদ।”
____
ক্লান্ত শ*রীরে কলিংবেল বাজায় হিমাদ্র। বেশ কয়েকবার বাজানোর পরেও যখন দরজা খুলছে না তখন বিরক্তিতে মেজাজ চওড়া হয়। আজকে এক্সট্রা চাবিও আনে নাই সে।রাগে যখন দরজায় বাড়ি দিবে তখনই দরজা খুলে যায়। ঘুমঘুম চোখে তাকিয়ে আছে শিতুল। ঘুমের তারনায় চেয়ে থাকতে পারছে না। দরজা থেকে সরে হিমাদ্রকে ঢুকতে দেয়। হিমাদ্র এখনও অবাক। এই মেয়ে দরজা খুলেছে বুঝতে পেরে রেগে জিজ্ঞেস করে,
— মা কোথায়? তুই কেন দরজা খুলেছিস?”
— ঘুমাতে চলে গেছে।
— তাহলে তুই এখানে কেন বেয়াদব মেয়ে! বউ হতে চেষ্টা করছিস তুই। বউ মাই ফুট।” কথাটা বলে হনহন করে রেগে উপরে চলে গেছে।
শিতুল এখনও ঘোরের মধ্যে আছে। যার জন্য রাত জেগে অপেক্ষা করলো কোথায় একটু প্রশংসা করবে তা না করে ধমকে চলে গেল।
— যাহ বাবা।”
শিতুল শাশুড়ি এবং মুক্তার কথামতো ভাত তরকারি প্লেটে নিয়ে রুমের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। রুমে ঢুকে দেখে হিমাদ্র কোমরে একটা তোয়ালে পেঁচিয়ে আরেকটা তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছছে।চুল থেকে টপটপ করে পানি পরছে। ভেজা ফর্সা সুঠাম পিঠে পানির বিন্দু গুলো মুক্তোর মত চকচক করছে।
শিতুল শব্দ করে বলে উঠে,
— ছিহ।”
চলবে…..???
মন্তব্য কইরো প্রিয়রা 🫠