তাওহীদ কী এবং কাকে বলে?
তাওহীদ (التوحيد) শব্দটি আরবি "ওয়াহহাদা (وحّد)" ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ একক করা, এক বলে বিশ্বাস করা। ইসলামী পরিভাষায় তাওহীদ হলো—আল্লাহকে তাঁর সত্তা, রবুবিয়্যাত, ইবাদত এবং নাম ও গুণাবলীতে এক ও অদ্বিতীয় বলে বিশ্বাস করা এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক না করা।
কুরআনের দলিল
১. আল-কুরআন, সূরা আল-ইখলাস (১১২:১–৪)
"বলুন, তিনি আল্লাহ, এক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।"
এটি তাওহীদের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ ঘোষণা।
২. সূরা আল-বাকারা (২:১৬৩)
"তোমাদের উপাস্য একমাত্র উপাস্য। তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি পরম দয়ালু, অতি দয়াময়।"
৩. সূরা আন-নিসা (৪:৪৮)
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না; এর নিচের যা কিছু, যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।"
হাদিসের দলিল
সহিহ আল-বুখারী ও সহিহ মুসলিম-এ বর্ণিত:
"যে ব্যক্তি এ সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ ﷺ আল্লাহর রাসূল—সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
আরেক হাদিসে রাসূল ﷺ বলেছেন:
"আল্লাহর বান্দার ওপর আল্লাহর হক হলো—তারা শুধু তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না।" (সহিহ আল-বুখারী, সহিহ মুসলিম)
তাওহীদের তিনটি বিভাগ
১. তাওহীদুর রবুবিয়্যাহ
বিশ্বাস করা যে, একমাত্র আল্লাহই সৃষ্টি করেন, রিযিক দেন, জীবন-মৃত্যুর মালিক এবং সমগ্র বিশ্বজগত পরিচালনা করেন।
দলিল: সূরা আল-আরাফ (৭:৫৪)
২. তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ (ইবাদত)
সকল ইবাদত—যেমন সালাত, দোয়া, সিজদা, কুরবানি, মান্নত, ভয়, আশা ও ভরসা—শুধু আল্লাহর জন্য হবে।
দলিল: সূরা আয-যারিয়াত (৫১:৫৬)
"আমি জিন ও মানুষকে শুধুমাত্র আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।"
৩. তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাত
কুরআন ও সহিহ হাদিসে আল্লাহর যেসব নাম ও গুণাবলি এসেছে, সেগুলোকে বিকৃতি, অস্বীকার বা সৃষ্টির সঙ্গে তুলনা না করে বিশ্বাস করা।
দলিল: সূরা আশ-শুরা (৪২:১১)
"তাঁর অনুরূপ কোনো কিছুই নেই। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।"
তাওহীদের গুরুত্ব
এটি সকল নবী-রাসূলের দাওয়াতের মূল বিষয়।
তাওহীদ ছাড়া কোনো ইবাদত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
শিরক সবচেয়ে বড় গুনাহ, যা তাওবা ছাড়া ক্ষমা করা হবে না।
তাওহীদই জান্নাতে প্রবেশের প্রধান ভিত্তি।
সারসংক্ষেপ:
তাওহীদ হলো একমাত্র আল্লাহকে সকল প্রকার ইবাদতের একমাত্র হকদার, বিশ্বজগতের একমাত্র প্রতিপালক এবং তাঁর নাম ও গুণাবলীতে অদ্বিতীয় বলে বিশ্বাস করা। এ বিশ্বাসের দাবি হলো আল্লাহর সঙ্গে কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা শক্তিকে শরিক না করা এবং সব ধরনের ইবাদত কেবল তাঁরই জন্য নিবেদিত রাখা।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে উনার আদেশ নির্দেশ গুলো মেনে চলার তৌফিক দান করুন (আমীন)