Thread Rating:
  • 1 Vote(s) - 5 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5

রূপগড় কলেজের ইংরেজি শিক্ষিকা রূপসা চক্রবর্তী
#1

By:Coolraj1000
আবছায়া কুয়াশাভেজা শীতের সকাল হোক কিংবা ভ্যাপসা গরমের দুপুর—রূপসা চক্রবর্তীর উপস্থিতি যে কোনো জায়গাতেই এক অন্যরকম আবহ তৈরি করত। বয়স সবেমাত্র ৩৯ ছুঁয়েছে, কিন্তু তাঁর শরীরের প্রতিটি রেখা, চামড়ার টান এবং রূপের জৌলুস দেখলে যে কেউ বয়সকে ভুল বলতে বাধ্য। বাংলার ঐতিহ্যবাহী এক কুলীন *  ', পরিবারের ঐতিহ্য আর আধুনিকতার এক অসম্ভব সুন্দর মিশ্রণ তাঁর চালচলন। রূপগড় হাই কলেজের ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষিকা তিনি। ক্লাসরুমে যখন ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে শেক্সপিয়র কিংবা ওয়ার্ডসওয়ার্থ পড়াতেন, তখন ছাত্রছাত্রীদের মন পঠনপাঠনের চেয়ে বেশি আটকে থাকত তাঁর ব্যক্তিত্ব এবং রূপের মোহে। শিক্ষকতার গাম্ভীর্য এবং এক শরীরী আবেদন মিলে তাঁকে এক অনন্য উচ্চতা দিয়েছিল।


রূপসার রূপের বর্ণনা করতে গেলে প্রথমেই আসে তাঁর ত্বকের কথা। গায়ের রং কেবল ফর্সা নয়, একেবারে ধবধবে দুধসাদা। রোদ লাগলে মনে হয় যেন খাঁটি কাঁচের ওপর আলো প্রতিফলিত হচ্ছে। এহেন নিখুঁত ফর্সা ত্বকের অধিকারিণী রূপসা জন্ম থেকেই রূপসী, কিন্তু সেই রূপকে তিনি তিলে তিলে এমন এক মানে নিয়ে গেছেন যা বাংলা বা ভিনদেশি যেকোনো প্রথম সারির রূপবতী অভিনেত্রীকেও অনায়াসে হার মানাতে পারে। তাঁর গায়ের রঙে এতটুকু বিন্দুমাত্র কালচে ছোপ, বা কোনো ধরনের ক্ষত বা দাগের লেশমাত্র নেই। তাঁর সারা শরীরটি যেন এক টুকরো নিখুঁত মার্বেল পাথরের মূর্তি, যাকে বহু যত্নে কোনো দক্ষ ভাস্কর নিজ হাতে খোদাই করেছেন। রোদের আলোয় তাঁর গায়ের চামড়া আলাদা একটা দ্যুতি ছড়ায়।


তাঁর মুখের অবয়ব দেখলে যে কারও চোখের পলক পড়তে চাইবে না। তীক্ষ্ণ নাক, টানা টানা দু'টি চোখ যা ঘন কাজল ও মাসকারায় আরও বেশি রহস্যময়ী করে তোলেন, আর পাতলা নরম ঠোঁট—সব মিলিয়ে এক ধ্রুপদী সৌন্দর্য। মুখের সেই অতুলনীয় লাবণ্য যেন তাঁর ব্যক্তিত্বের মুকুট। তবে তাঁর রূপের সবথেকে বড় অস্ত্র ছিল তাঁর শরীরের নিখুঁত মাপ এবং গঠন। ছত্রিশ-ত্রিশ-আট (৩৬-৩০-৩৮) মাপের এই ফিগারটি তিনি এমন নিখুঁতভাবে মেইনটেইন করে চলেছিলেন যা দেখে মনে হতো বয়স তাঁর কাছে কেবলই একটা সংখ্যা। নিয়মিত জিম, ইয়োগা এবং খাদ্য তালিকার কড়াকড়ি তাঁকে এই পারফেক্ট ফিগার উপহার দিয়েছিল। তাঁর এই সুগঠিত চেহারার মধ্যে একটা অদ্ভুত মাদকতা বা কামুকতা লুকিয়ে ছিল, যা তাঁর চালচলনে, দাঁড়ানোর ভঙ্গিতে কিংবা সামান্য হাসিতেও স্পষ্ট হয়ে উঠত।


এই কামুক রূপের মুকুটে সবচেয়ে বড় মানিক ছিল তাঁর বক্ষযুগল। তাঁর ব্লাউজ বা কুর্তির ওপর দিয়েই স্পষ্ট বোঝা যেত তাঁর স্তনযুগলের পূর্ণতা। ৩৬ সাইজের এই ভারী ও সুগঠিত বুক তাঁর শরীরের আবেদনকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। তিনি জানতেন তাঁর এই রূপের জাদুকরি আকর্ষণ কোথায়। তাই তিনি সাধারণ আটপৌরে বাঙালি মহিলাদের মতো গা ঢাকা পোশাক পরতেন না। বরং তিনি একটু খোলামেলা বা একটু ডিপ নেক পোশাক পরতে ভালোবাসতেন। বিশেষ করে হালকা  Cleavage উন্মুক্ত রাখা ছিল তাঁর অন্যতম পছন্দ। শাড়ির আঁচল হোক কিংবা সালোয়ারের গলার ছাঁট—সামান্য ক্লিভেজ যখনই তাঁর শরীরের নড়াচড়ায় উঁকি দিত, তখন তাঁর নিজেরও আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে যেত। তিনি জানতেন রুমের সমস্ত পুরুষ কিংবা আশেপাশে থাকা যে কারও চোখ তাঁর এই সুনিপুণ শরীরের সেই বিশেষ অংশের ওপর আটকে যেতে বাধ্য। আর সেই চোখের ভাষা তিনি উপভোগও করতেন এক অদ্ভুত অহংকার নিয়ে।


রূপসার এই ধবধবে ফর্সা ও আকর্ষণীয় শরীরের পেছনে ছিল এক বিশাল যত্নের ইতিহাস। তিনি নিজেকে নিয়ে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। তাঁর রূপের নিখুঁত সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য তিনি নিয়ম করে মাসে অন্তত দু'বার স্থানীয় বা শহরের কোনো নামী পার্লারে যেতেন। পার্লারে গিয়ে ফেশিয়াল, ওয়াক্সিং, ম্যানিকিউর এবং পেডিকিওর—এই রুটিনগুলো তাঁর জীবনের অঙ্গ ছিল। রূপসার কাছে শরীর মানে এক পবিত্র মন্দির, যেখানে এক ফোঁটা মলিনতাও সহ্য করা যায় না।


বিশেষ করে শরীরের লোম নিয়ে রূপসা ছিলেন ভীষণ রকম খুঁতখুঁতে। তাঁর ফর্সা ও মসৃণ গায়ে একটি সামান্য লোমও তাঁর পছন্দ ছিল না। নিজের ধবধবে ফর্সা ত্বককে সর্বদা লোমহীন, সিল্কের মতো মসৃণ রাখতে তিনি পার্লারে গিয়ে নিয়মিত ফুল বডি ওয়াক্সিং করাতেন। মুখের সামান্য ফেসিয়াল হেয়ার থেকে শুরু করে হাত, পা কিংবা শরীরের অন্য অংশের প্রতিটি ইঞ্চি লোমহীন এবং নিখুঁতভাবে পরিষ্কার রাখাই ছিল তাঁর প্রধান শর্ত। ওয়াক্সিং করানোর পর যখন পার্লার থেকে সুগন্ধি লোশন বা ময়েশ্চারাইজার মেখে তিনি বের হতেন, তখন তাঁর শরীর থেকে এক ধরনের মোহিত করা সুবাস ছড়াত। সেই লোমহীন, দুধসাদা ত্বক হাত দিয়ে ছুঁলে মনে হতো যেন কোনো নরম তুলতুলে রেশমি কাপড় ছুঁয়ে আছেন।


হাত ও পায়ের নখের যত্ন নেওয়ার জন্য ম্যানিকিউর ও পেডিকিওর ছিল তাঁর মাসিক তালিকার আবশ্যিক অংশ। তাঁর হাতের লম্বা ও সুডৌল আঙুলগুলোতে যখন নান্দনিক রঙের নেলপলিশ থাকত, তখন ইংরেজি খাতা দেখার সময় সেই হাতগুলো আরও বেশি সুন্দর লাগত। পা দু'টিও ছিল সমানভাবে আকর্ষণীয় ও দাগহীন। পার্লারে গিয়ে ফেসিয়ালের মাধ্যমে তিনি তাঁর মুখের ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে দেননি। তিরিশ পেরিয়ে উনচল্লিশে এসেও তাঁর মুখের স্কিন টোন ছিল পঁচিশ বছরের তরুণীর মতো টানটান এবং উজ্জ্বল। ফেসিয়ালের স্টিম ও মাসাজের পর তাঁর গালের গোলাপি আভা যেন তাঁর সৌন্দর্যকে এক অন্য স্তরে নিয়ে যেত।


রূপগড় হাই কলেজের বারান্দা দিয়ে যখন তিনি হাঁটতেন, তাঁর হাই হিলের খটখট শব্দ আর তাঁর সুগন্ধীর মোহময়ী ঘ্রাণ চারপাশের বাতাসকে ভারী করে তুলত। পরনে কটন সিল্কের শাড়ি বা মার্জিত সালোয়ার কামিজ—যেকোনো পোশাকেই তাঁর এই ৩৬-৩০-৩৮ এর শরীরের কার্ভগুলো খুব স্পষ্ট হয়ে ধরা দিত। ব্লাউজের পেছনটা একটু নিচু এবং সামনে হালকা ক্লিভেজ—এই স্টাইলটি ছিল তাঁর সিগনেচার। নিজের শরীরের এই ভৌত সৌন্দর্য নিয়ে তাঁর মনে এক গভীর অহংকার ও আত্মতুষ্টি কাজ করত। তিনি জানতেন সমাজের চোখে তিনি একজন সম্মানিতা শিক্ষিকা হলেও, পুরুষের কামুক দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দুতেও তিনিই একমাত্র রানি।


তাঁর এই ধবধবে ফর্সা শরীরের প্রতি ইঞ্চি যেন কথা বলত। পার্লারের নিয়মিত পরিচর্যা, জন্মগত নিখুঁত ত্বক, এবং শরীরের সেই গঠন মিলে রূপসা চক্রবর্তী হয়ে উঠেছিলেন এক জীবন্ত শিল্পকর্ম। তাঁর দিকে তাকালে নিছক একজন শিক্ষককে দেখা যেত না, দেখা যেত এক পরিপূর্ণ কামুক নারীর রূপের আগুন, যা আশেপাশের সব কিছুকে পুড়িয়ে ছাই করে দিতে পারে। তাঁর এই রূপের আগুনে কেই বা না পুড়ে মরতে চাইত? রূপসার এই বাহ্যিক আবেদন ও শারীরিক সৌন্দর্য তাঁর ব্যক্তিত্বের মূল চাবিকাঠি ছিল।


পরের পার্টে রূপসার পারিবারিক জীবন, অর্থাৎ তাঁর স্বামী এবং একমাত্র ছেলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের টানাপোড়েন ও ভেতরের গল্প নিয়ে আলোচনা করা হবে। প্রথম পার্ট টা কেমন লাগলো জানান ও সবাই like করবেন।
[quote pid="6301854" dateline="1788246213"]

[Image: file-000000002c988207a3bd13b62a54bf06.png]

[Image: file-00000000a2588211ba91764215c408c8.png]
[/quote]

[quote pid="6302659" dateline="1788328293"]
রূপসা চক্রবর্তীর এই যে ঝলমলে, আবেদনময়ী এবং নিখুঁত রূপ—তার আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক অন্য জীবন, এক নিঃসঙ্গতার গল্প। রূপগড় হাই কলেজের অনিন্দ্যসুন্দরী ইংরেজি শিক্ষিকা হিসেবে সবাই তাঁকে সমীহ করত, তাঁর রূপের জাদুতে মুগ্ধ থাকত ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে সহকর্মীরাও। কিন্তু ঘরের অন্দরে রূপসা ছিলেন এক অন্য মানুষ। তাঁর বিশাল একতলা-দোতলা মিলিয়ে সাজানো গোছানো বাড়িতে বাইরের জাঁকজমকের চেয়ে বেশি ছিল এক অদ্ভুত শূন্যতা। এই শূন্যতার প্রধান কারণ তাঁর স্বামী রথীন চক্রবর্তী।


রথীন চক্রবর্তী পেশায় একজন সফল ব্যবসায়ী। তাঁর ব্যবসা শুধু স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা রাজ্য তথা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে। এই বিশাল ব্যবসার তদারকি এবং নিত্যনতুন ডিল ফাইনাল করার জন্য রথীনকে মাসের বেশিরভাগ সময়ই বাড়ির বাইরে কাটাতে হয়। কখনো কলকাতা, কখনো মুম্বাই, আবার কখনো উত্তর ভারতের বিভিন্ন বড় শহরে তাঁর যাতায়াত লেগেই থাকে। মাসে হয়তো বড় জোর আট থেকে দশ দিন তিনি রূপসার সঙ্গে এক ছাদের নিচে কাটার সুযোগ পান। রথীনের এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি রূপসার বিশাল ও অভিজাত বাড়িটিতে এক অদ্ভুত শূন্যতা তৈরি করে। কিন্তু সেই শূন্যতা কখনো রূপসাকে দুর্বল করে না, বরং তাঁর স্বাধীনচেতা ও আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তিত্বকে আরও বেশি শানিত করে তোলে। রথীন যখন বাড়িতে থাকেন, তখন তাদের দাম্পত্য জীবনে এক ধরণের পরিপক্ব ও উষ্ণ টান থাকে, কিন্তু যখন রথীন দূরে থাকেন, তখন রূপসা নিজের মতো করে নিজের সাম্রাজ্য চালান। সুশ্রী, ধবধবে ফর্সা এবং ৩৬-৩০-৩৮ ফিগারের এই নারী জানেন কীভাবে নিজের শরীর ও মনকে তরতাজা রাখতে হয়।


স্বামীর এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি রূপসার জীবনে এক অদ্ভুত দ্বৈততা তৈরি করেছিল। একদিকে যেমন তিনি পেয়েছিলেন স্বাধীন জীবন, যেখানে কেউ তাঁকে কোনো কিছু নিয়ে বারণ করার ছিল না, অন্যদিকে তেমনি একজন স্বামীর সান্নিধ্য এবং শারীরিক উষ্ণতা থেকে তিনি ছিলেন বঞ্চিত। এই দীর্ঘ বঞ্চিত জীবন রূপসার ভেতরের কামুকতাকে যেন আরও বেশি উসকে দিত। রথীন যখন বাড়ি আসতেন, তখন একটা সাময়িক ঝড় বইত সেই ঘরে। কিন্তু সেই ক’টা দিনের রুটিন ফুরোলেই আবার সেই চিরচেনা নিঃসঙ্গতা। রথীন ভালোবাসতেন নিজের ব্যবসা আর টাকা কামানোর নেশাকে। রূপসার রূপের অহংকার, তাঁর ওই ৩৬-৩০-৩৮ এর শরীরের জৌলুস, তাঁর ৩৯ বছরের যৌবনের জোয়ার—সবকিছু যেন রথীনের কাছে অনেক সময় গৌণ হয়ে দাঁড়াত ব্যবসার ব্যস্ততার ভিড়ে। তবে রথীন যখনই আসতেন, রূপসা তাঁর শরীরের সমস্ত পারফেকশন দিয়ে তাঁকে কাছে টানার চেষ্টা করতেন। কিন্তু রথীনের ক্লান্তি ভরা শরীর আর ব্যবসায়িক চিন্তা সেই উত্তাপের পুরোটা উপভোগ করতে পারত কি না, তা নিয়ে রূপসার মনে এক ধরনের অভিমানও কাজ করত।


তবে রথীনের অনুপস্থিতি রূপসাকে গৃহকোণে একা করে রাখেনি, কারণ তাঁর জীবনে ছিল তাঁর একমাত্র সম্বল ও অহংকার—তাঁর ছেলে রাজ। রাজ তখন ক্লাস নাইনে পড়ে। বয়স সবে পনেরোর কোঠায় পা দিয়েছে। বয়ঃসন্ধির সেই ঝোড়ো হাওয়ায় ভাসমান এক কিশোর রাজ।  কৈশোরের দুরন্ত কৌতূহল আর বয়ঃসন্ধিজনিত হরমোনের পরিবর্তনের জেরে রাজের চোখে তার মায়ের রূপ একটা অন্য মাত্রা নিয়েছিল। ক্লাসের বাকি দশটা ছেলের মায়ের মতো রূপসা ছিলেন না। রূপসার ধবধবে ফর্সা ত্বক, তাঁর গা থেকে ভেসে আসা পার্লারের সুগন্ধী লোশনের মোহময়ী ঘ্রাণ, তাঁর পরিপাটি মেকআপ রাজের কিশোর মনে এক অদ্ভুত শিহরণ জাগাত। রাজ নিজের মাকেই যখন এতটা আধুনিক, গ্ল্যামারাস এবং আকর্ষণীয় রূপে দেখত, তখন তার মনের মধ্যে এক জটিল মানসিক দ্বন্দ্ব ও মায়ের প্রতি এক অস্বাভাবিক মুগ্ধতা তৈরি হতো।


মা এবং ছেলের এই বন্ধন ছিল অত্যন্ত গভীর, কারণ রথীন না থাকায় রূপসা তাঁর সমস্ত মনোযোগ ও সময় ঢেলে দিয়েছিলেন রাজের ওপর। রাজের পড়াশোনা, তার খাওয়া-দাওয়া, তার পছন্দ-অপছন্দ—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন রূপসা নিজে। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে কলেজ যাওয়ার প্রস্তুতি—সবকিছুর পেছনে থাকে রূপসার নিখুঁত হাতছোঁয়া। শীত-গ্রীষ্ম নির্বিশেষে রূপসা প্রতিদিন সকালে নিজে হাতে রাজের জন্য টিফিন তৈরি করেন, তার ইউনিফর্ম প্রেস করে দেন। আর তারপর শুরু হয় তাদের প্রতিদিনের সেই রোমাঞ্চকর ও দৃষ্টিনন্দন রুটিন—স্কুটি রাইড।


সকাল সাড়ে নটা বাজলেই রূপসা চক্রবর্তী রূপগড় হাই কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হন। কলেজে যাওয়ার আগে তিনি নিজেকে আরও একবার আয়নার সামনে গুছিয়ে নেন। গায়ে হালকা কটন সিল্কের শাড়ি বা মার্জিত কুর্তি, চুলে পরিপাটি করে বাঁধা খোঁপা, চোখে রোদচশমা  ,তাঁর সেই ধবধবে ফর্সা মুখাবয়ব, কপালে ছোট একটি লাল টিপ, আর পার্লারে নিয়মিত ওয়াক্সিং করা মসৃণ হাত-পা তাঁকে করে তোলে অনন্য। এই রূপ নিয়ে যখন তিনি স্কুটি চালাতেন, তখন তাঁর ৩৬-৩০-৩৮ এর শরীরের কার্ভগুলো স্কুটির সিটের সঙ্গে এমন এক ভঙ্গিতে আটকে থাকত যা রাস্তার যে কারও নজর কাড়তে বাধ্য । তিনি বাড়ির গ্যারেজ থেকে তাঁর উজ্জ্বল রঙের স্কুটিটি বের করেন। রাজ তখন কলেজ ব্যাগ কাঁধে নিয়ে স্কুটির পেছনে বসার জন্য অপেক্ষা করে।


রাজ যখন স্কুটির পেছনে বসে, তখন তাকে মায়ের ঠিক পিঠের সঙ্গে লেপটে থাকতে হয়। স্কুটির চাবি ঘুরিয়ে রূপসা যখন এক্সিলারেটর মোচড় দেন, তখন সামান্য ঝাঁকুনিতে রাজের বুক গিয়ে ধাক্কা খায় রূপসার নরম ও ভারী পিঠের সঙ্গে। রূপসার সেই ধবধবে ফর্সা শরীর থেকে ভেসে আসা মৃদু সুবাস এবং তাঁর পারফিউমের ফ্রেগ্রেন্স রাজের সমস্ত ইন্দ্রিয়কে আচ্ছন্ন করে ফেলে। স্কুটি যখন রূপগড়ের মেঠো পথ পেরিয়ে পিচঢালা হাইওয়ে ধরে ছুটতে থাকে, তখন বাতাসের বেগে রূপসার লম্বা চুলগুলো উড়তে থাকে এবং মাঝে মাঝে তা এসে রাজের মুখে ও চোখে লাগে। সেই চুলে থাকে চন্দনের মতো সুবাস। রাস্তার কোনো স্পিডব্রেকার বা মোড় ঘোরার সময় যখন স্কুটি একটু বাঁক নেয়, তখন রাজকে সাময়িকভাবে মায়ের কোমর জড়িয়ে ধরতে হয়। মায়ের সেই নরম ও সুগঠিত কোমরের স্পর্শে রাজের শরীরে এক অজানা শিহরণ বয়ে যায়। মাত্র পনেরো মিনিটের এই স্কুটি যাত্রা রাজের কাছে প্রতিদিন এক চরম উত্তেজনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। সে আচ্ছন্ন হয়ে থাকে তার মার শরীরী গন্ধে ও সান্নিধ্যে।


রাজ লম্বায় প্রায় মায়ের সমান হয়ে এসেছে। বয়ঃসন্ধির কোঠায় থাকা রাজের কাছে প্রতিদিন সকালে মায়ের এই স্কুটির পেছনে বসাটা শুধু কলেজে যাওয়া ছিল না, ছিল এক অদ্ভুত শারীরিক নৈকট্যের শিহরণ। রূপসাও বিষয়টি বুঝতে পারতেন। ছেলের এই স্পর্শে তাঁর মাঝেও এক অদ্ভুত মাতৃত্ব আর নারীর মিশ্র অনুভূতি কাজ করত।


কলেজে পৌঁছানোর পর রূপসা যখন স্কুটি থেকে নামেন, তখন কলেজের গেটে দাঁড়িয়ে থাকা অন্যান্য ছাত্র বা শিক্ষকরাও এক পলক দেখার জন্য থমকে দাঁড়ান। ক্লাসের ফাঁকে বা টিফিনের সময়ে রাজ যখন কলেজ করিডোরে হাঁটে, তখন সে দেখতে পায় তার বন্ধুরা বা জুনিয়ররা আড়ালে ফিসফিস করে বলে—“দেখ, রূপসা ম্যাডাম কত সুন্দর!” রাজের বুকের ভেতর তখন এক অদ্ভুত গর্ব এবং একই সঙ্গে এক অজানা অধিকারবোধ জন্ম নেয়। সে মনে মনে জানে, এই রূপসী নারী কেবল রূপগড় কলেজের সেরা শিক্ষিকাই নন, তিনি এই দুনিয়ার সবচেয়ে আকর্ষণীয় মা । রাজের বন্ধুরা প্রায়ই ঈর্ষার সুরে বলত, “কিরে রাজ, তোর মা তো কোনো হিরোইনের চেয়ে কম নয়! মনে হয় কোনো সিনেমার নায়িকা কলেজ ড্রপ করতে এসেছে।“ অন্য কেউ হলে হয়তো বন্ধুদের এই ধরণের কথা শুনে লজ্জা পেত বা বিরক্ত হতো। কিন্তু রাজের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। বন্ধুদের মুখে মায়ের রূপের এই অকুণ্ঠ প্রশংসা শুনে রাজের বুক গর্বে ফুলে উঠত। সে মনে মনে এক আকাশ পরিমাণ অহংকার অনুভব করত। বন্ধুরা যখন বলত, “যাকে দেখলেই সবার মাথা ঘুরে যায়, সে তো তোর নিজের মা, রাজ!”, তখন রাজের চোয়াল সামান্য শক্ত হয়ে উঠত এক মধুর অহংকারে। সে বন্ধুদের সামনে বুক ফুলিয়ে হাসত এবং মনে মনে ভাবত, পৃথিবীর সবথেকে সুন্দরী নারী আজ তাঁর নিজের ঘরের মানুষ, তাঁর নিজের মা।


কলেজের কমনরুমে বা স্টাফ রুমে অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকারাও মাঝে মাঝে রূপসার সৌন্দর্যের প্রশংসা করতেন। কিন্তু রূপসা এসবে বিশেষ কান দিতেন না। তিনি ছিলেন নিজের কাজে কঠোর এবং ব্যক্তিত্বময়ী। ক্লাসে যখন তিনি ইংরেজি গ্রামার বা পোয়েট্রি পড়াতেন, তখন ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে তাঁর সেই ছিপছিপে ৩০ ইঞ্চি কোমর আর ৩৮ ইঞ্চি হিপের অনুপাত এবং সামান্য উন্মুক্ত পেট শিক্ষার্থীদের ঘোর লাগিয়ে রাখত। রাজ ক্লাসের ঠিক পেছনের বেঞ্চে বা সামনের দিকে কোথাও বসে থাকত। শিক্ষক হিসেবে রূপসা ছিলেন বেশ কড়া, ক্লাসে সামান্য গোলমাল হলেই তাঁর চোখ রাঙানি দেখতে হতো। কিন্তু রাজ জানত, এই কঠোরতার আড়ালেও মা হিসেবে রূপসার মনটা কতটা কোমল।


কলেজ ছুটির পরেও ঠিক একই দৃশ্য দেখা যেত। দুপুরের দিকে যখন ছুটি হতো, রূপসা ক্লাসের খাতা গুছিয়ে বেরিয়ে এসে আবার স্কুটি স্টার্ট করতেন। রাজ ব্যাগ কাঁধে দৌড়ে এসে স্কুটির পেছনে বসে পড়ত। দুপুরের গরমের রোদে রূপসার ফর্সা মুখ সামান্য লালচে হয়ে উঠত, ঘামের ফোঁটায় তাঁর পারফেক্ট ফেসিয়ালের জেল্লা আরও বেড়ে যেত। রাজ দেখত, স্কুটির সাইড ভিউ মিরারে তার মায়ের সেই অপরূপ মুখখানা কেমন শান্ত অথচ কী এক অদ্ভুত আকর্ষণ ছড়িয়ে রয়েছে। ট্রাফিক সিগনালে স্কুটি থামলে পাশের রিকশা বা গাড়ির পুরুষ যাত্রীরা যখন রূপসার দিকে পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকত। স্কুটি চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে রাজ প্রায়ই বায়না করত কোনো আইসক্রিম বা কোল্ড ড্রিংকস খাওয়ার। রূপসাও হাসিমুখে রাজের সেই আবদার রাখতেন। রাস্তার ধারের কোনো দোকানে স্কুটি থামিয়ে যখন রূপসা নামতেন, তখন তাঁর হাই হিলের খটখট শব্দ আর তাঁর সুগঠিত ফিগারের দিকে এলাকার পথচারীদের লুব্ধ দৃষ্টি আটকে থাকত। রাজ সেটা খেয়াল করত এবং এক ধরনের অদ্ভুত পুরুষসুলভ অধিকারবোধ ও ঈর্ষা তার মনে কাজ করতো।


বাড়ি ফিরে আসার পর শুরু হতো তাদের অন্যরকম রুটিন। দুপুরের খাবার খাওয়ার পর রথীনের অনুপস্থিতিতে সেই বিশাল বাড়িটাতে নেমে আসত গভীর নীরবতা। রাজ তার পড়ার টেবিলে বসত, আর রূপসা নিজের রুমে গিয়ে একটু আরাম করতেন। মাঝে মাঝে রাজ অঙ্ক বা ইংরেজি হোমওয়ার্ক না পেরে সোজা মায়ের বেডরুমে চলে আসত। রূপসা তখন হয়তো একটু হালকা বা আরামদায়ক কোনো নাইটি বা ঢিলেঢালা পোশাকে শুয়ে থাকতেন। রাজ যখন মায়ের বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে বলত, “মা, এই গ্রামার টা একটু বুঝিয়ে দাও না,” তখন রূপসা উঠে বসতেন। তাঁর শরীরের সেই ভারী সাইজের বক্ষযুগলের মৃদু দোলা এবং সামান্য খোলামেলা পোশাকের ফাঁক দিয়ে উঁকি দেওয়া ফর্সা ক্লিভেজ রাজের সমস্ত মনোযোগ বইয়ের পাতা থেকে কেড়ে নিয়ে নিজের দিকে টেনে নিত। রাজের গলা শুকিয়ে আসত, সে পড়া ভুলে শুধু তার মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকত। রূপসা কি তা বুঝতে পারতেন না? অবশ্যই পারতেন। কিন্তু একজন মা হিসেবে তিনি রাজকে বকাও দিতে পারতেন না,  সেই দৃষ্টির ভেতর লুকিয়ে থাকা এক অপ্রকাশিত পুরুষালি আকর্ষণকে তিনি ভেতরে ভেতরে বয়ঃসন্ধিজনিত সমস্যা বলে ছেড়ে দিতেন ।


রথীনের অনুপস্থিতি, সমাজে একজন নামকরা শিক্ষিকার মুখোশ, আর অন্যদিকে নিজের রূপের অহংকার ও একমাত্র ছেলের এই বয়ঃসন্ধিজনিত দৃষ্টি—সব মিলিয়ে রূপসা চক্রবর্তীর জীবনটা ছিল এক জটিল উপন্যাসের মতো। যেখানে একদিকে ছিল পার্লারের যত্নে গড়া নিখুঁত, লোমহীন, দুধসাদা শরীরের হাতছানি, আর অন্যদিকে ছিল এক অবহেলিত স্ত্রী ও এক মুগ্ধ কিশোর ছেলের মায়ের অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন। রূপসার এই জীবন শুধু একটা পরিবার বা কলেজের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি ছিল এক সুপ্ত আগ্নেয়গিরি, যা যেকোনো মুহূর্তে এক বিরাট বিস্ফোরণ ঘটাতে প্রস্তুত ছিল। রাজের বয়স বাড়ার সাথে সাথে এবং রথীনের ব্যবসার সুবাদে দূরে থাকার দীর্ঘ রাতে এই আগ্নেয়গিরির লাভা আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল, যার পরিণতি কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা কেবল সময়ের হাতেই ছেড়ে দেওয়া ছিল।

আর like খুব কম জন করেন দেখি। Like,  রেটিং না পেলে বুঝবো কেমন করে যে আপনাদের ভালো লাগছে না খারাপ। কোনো পরামর্শ থাকলে comment করবেন।


[Image: file-00000000206482089edecaeae574a225.png]

[Image: file-000000000da8821199a42badd0cfc5ba.png]



[/quote]
Reply
#2


দুপুর তখন গড়িয়ে আড়াইটা। রূপগড় হাই কলেজের নবম শ্রেণীর ক্লাসরুমে চলছে পঞ্চম পিরিয়ডের ইংরেজি গ্রামার ক্লাস। ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত সাবলীল ভঙ্গিতে পড়াচ্ছেন রূপসা চক্রবর্তী। তাঁর গায়ে সেই পরিচিত শাড়ি, যা তাঁর ধবধবে ফর্সা ও সুগঠিত শরীরকে পরম মায়ায় জড়িয়ে রেখেছে। ব্ল্যাকবোর্ডে চক দিয়ে কিছু একটা লেখার সময় রূপসা ম্যাডাম যখন সামান্য বাঁকা হলেন, তখন তাঁর ৩০ ইঞ্চি ছিপছিপে কোমর আর ভারী হিপের নিখুঁত শেপ পুরো ক্লাসের ছাত্রদের নজরে এল। তাঁর ৩৬ সাইজের সুউচ্চ বক্ষযুগল সামান্য সামনে ঝুঁকে পড়ার কারণে ব্লাউজের ডিপ নেক দিয়ে বক্ষবিভাজিকার এক মোহময় ও কামুক ক্লিভেজ পরিষ্কার ফুটে উঠল। ক্লাসের প্রতিটি ছাত্রের চোখ যেন শিক্ষিকার লেখার চেয়ে তাঁর এই অপরূপ রূপ আর উদ্দাম যৌবনের দিকেই বেশি নিবদ্ধ ছিল।


প্রথম সারির বেঞ্চে বসে রাজ গভীর মনোযোগ দিয়ে ব্ল্যাকবোর্ডের দিকে তাকিয়ে থাকলেও, ম্যাডাম খুব ভালোভাবেই টের পাচ্ছিল তার পেছনের বেঞ্চগুলোর ফিসফাস । রূপসা ম্যাডাম ব্ল্যাকবোর্ডে চক দিয়ে ‘Voice Change’ এর নিয়ম লিখছেন। যখনই তিনি ব্ল্যাকবোর্ডে কিছু লিখছেন, তাঁর ৩০ ইঞ্চি ছিপছিপে কোমর ও ৩৮ ইঞ্চি হিপের নিপুণ কারুকার্য এবং শরীরের প্রতিটি ভাঁজ তাঁর পোশাক ভেদ করে কিশোর ছাত্রদের রক্তে উষ্ণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। হঠাৎ ক্লাসের এক কোণ থেকে গোলমাল শোনা গেল। ইকবাল নামের এক ছাত্র মন দিয়ে পড়া না বুঝে অন্য দিকে তাকিয়ে ছিল। রূপসার চোখ মুহুর্তের মধ্যে তার ওপর গিয়ে পড়ল। রাগে তাঁর টানাটানা চোখ দুটো আরও ধারালো হয়ে উঠল।


রূপসা কঠিন অথচ অত্যন্ত মিষ্টি ও মায়াবী গলায় বলে উঠলেন, “কী রে ইকবাল! কী হচ্ছেটা কী ক্লাসে? আমি এখানে ব্ল্যাকবোর্ডে এত গুরুত্বপূর্ণ রুল বোঝাচ্ছি, আর তোর মন কোথায়? গত পরীক্ষাতেও ইংরেজিতে সবে পাস মার্ক তুলেছিস, আর তোর এই অবহেলা চললে এ বছর তোকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। দাঁড়া, এই টেন্সের রুলটা এখনই আমাকে বোর্ডে এসে করে দেখা তো! দেখি তোর কত বিদ্যা হয়েছে! ইকবাল ভয়ে ভয়ে মাথা নিচু করে সিট থেকে উঠে দাঁড়াল। সে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে সামনে এসে কোনোমতে একটা ভুলভাল রুল লিখে ফেলল। রূপসা ভ্রু কুঁচকে একটা মৃদু ধমক দিয়ে বললেন, “ইকবাল, তোর বুদ্ধি কি একদম গোবর দিয়ে তৈরি নাকি? কতবার বলেছি বেসিক ক্লিয়ার করতে! ক্লাসে এসে শুধু এদিক-ওদিক তাকানো আর দুষ্টুমি করা ছাড়া তোর আর কোনো কাজ আছে? বস বলছি নিজের জায়গায়! বাড়ি গিয়ে ভালো করে পড়বি, না হলে তোর বাবাকে ডেকে বলে দেব।“


ম্যাডামের এই ধমক খেয়ে ইকবাল লাল হয়ে নিজের সিটে গিয়ে বসল। ক্লাসের অন্য সব ছাত্ররা তখন নিঃশব্দে ফিকফিক করে হাসছে, ক্লাস শেষ হওয়ার ঠিক দশ মিনিট আগে রূপসা ম্যাডাম খাতা দেখার জন্য যখন ডেস্কের এদিক থেকে ওদিক হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁর শাড়ির আঁচল সামান্য সরে গিয়ে তাঁর ফর্সা কোমর ও পিঠের কিছু অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়েছিল। মোমের মতো মসৃণ সেই ফর্সা ত্বক দেখে ক্লাসের বাতাস যেন হঠাৎ করেই ভারী হয়ে উঠেছিল।বেল পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই রূপসা ম্যাডাম খাতাগুলো গুছিয়ে নিয়ে একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে ক্লাস থেকে বেরিয়ে গেলেন। তিনি করিডোর দিয়ে যাওয়ার পর পরই ক্লাসের পরিবেশটা হঠাৎ করেই বদলে গেল। সাধারণত টিফিন বা ক্লাস শেষের পরে বন্ধুরা মিলে একটু হইচই করে, কিন্তু আজকের আলোচনাটা অন্য দিকে মোড় নিল।


রাজ তার বেঞ্চে গুছিয়ে বসার চেষ্টা করতেই পেছনের বেঞ্চ থেকে ডেকে উঠল সুমিত আর অনির্বাণ। —“কিরে রাজ, তোর মা প্রতিদিন এত সুন্দর সেজেগুজে ক্লাসে আসেন কেন বল তো? আজ যেভাবে ব্ল্যাকবোর্ডে ড্রয়িংয়ের নিয়ম বোঝাচ্ছিলেন, আমাদের তো গ্রামার মাথা দিয়ে বেরিয়ে শুধু উনার ফিগারটাই মাথায় ঘুরছিল!”—অনির্বাণ একটু টিটকিরির সুরে বলল। রাজ অবশ্য এসব কথায় কান দিতে পছন্দ করত না। সে গম্ভীর মুখে খাতাগুলো ব্যাগে ভরতে ভরতে বলল, “ফাজলামো করিস না তোরা, মন দিয়ে পড় না হলে স্যারের কাছে বকা খাবি।“


কিন্তু আসল সমস্যা শুরু হলো যখন ক্লাসের সবচেয়ে বকাটে ও বখাটে স্বভাবের ছেলেটি, ইকবাল, তার সঙ্গীদের নিয়ে এই কথায় যোগ দিল। ইকবাল ক্লাসে পড়াশোনায় একদম মন দিত না, সবসময় ছাত্রীদের বা অন্য বিষয় নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করাই ছিল তার কাজ। সে বেঞ্চ ছেড়ে উঠে এসে রাজের টেবিলের ঠিক পেছনে দাঁড়াল। তার মুখে একটা চটুল ও নোংরা হাসি। ইকবাল একটু উগ্র গলায় সবার উদ্দেশ্যে বলে উঠল, “দূর রাজ! তোর মা এত সেক্সি আর ফর্সা যে পড়াশোনা করার কথা মাথায় থাকে কার? কালকেই তো ক্লাসে যখন ম্যাডাম  পিঠ ফিরিয়ে নোটস লিখছিলেন, উফফ... ওই ধবধবে ফর্সা পিঠ আর পিঠের ওপর ঝুলে থাকা ব্লাউজের ফিতে দেখে আমার মাথায় আগুন ধরে গেছিল। ক্লাসের বাকি দু-একজন দুষ্টু ছেলেও ইকবালের এই কথায় খিকখিক করে হেসে উঠল। রাজের রক্ত তখন মাথায় চড়ে গেছে। সে চট করে ঘুরে ইকবালের দিকে তাকিয়ে ধমকের সুরে বলল, “মুখ সামলে কথা বল ইকবাল! বেশি বাড়াবাড়ি করিস না বলছি।“


কিন্তু ইকবাল তাতে একটুও দটল না; বরং সে আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে সবার সামনে অত্যন্ত কুরুচিকর ও অশ্লীল ভাষায় রূপসাকে নিয়ে মন্তব্য করতে শুরু করল। আজকের আড্ডাটা অন্যদিনের মতো সহজ বা সরল রইল না। ক্লাসের শেষ বেঞ্চে বসা সেই বকাটে আর লাগামছাড়া ছেলেগুলো, যারা পড়াশোনায় বরাবরই পিছিয়ে থাকে এবং সবসময় আজেবাজে আড্ডায় মেতে থাকে, তারা হঠাৎ করেই মাত্রা ছাড়াতে শুরু করল। তাদের কথাবার্তার সুর পাল্টে গিয়ে এক কুৎসিত, কামুক এবং অশ্লীল রূপ নিতে শুরু করল। রাজের চোয়াল শক্ত হয়ে এল, সে বিরক্ত হয়ে অন্য দিকে তাকাতে গেল। ঠিক তখনই  ইকবাল, যার চেহারা ও চালচলন বরাবরই খুব সস্তা এবং নোংরা প্রকৃতির ছিল—সে সামনের দিকে ঝুঁকে এল।


ইকবালের মুখে এক চটচটে, বিকৃত হাসি। সে তার নোংরা ভাষায় রূপসা ম্যাডামকে নিয়ে এমন সব কুরুচিকর মন্তব্য করতে শুরু করল যা কোনো শালীন পরিবেশে উচ্চারণ করা দূরের কথা, ভাবতেও ঘৃণা হয়। ইকবাল গলা নামিয়ে তার আশেপাশের বন্ধুদের উদ্দেশ্য করে বলতে শুরু করল, আর তার সেই প্রতিটা শব্দ ক্লাসের ভারী বাতাসে বিষের মতো ছড়িয়ে পড়তে লাগল।ইকবাল চোখ বড় বড় করে, জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বলে উঠল, "উফফ... তোরা কেউ খেয়াল করেছিস রূপসা ম্যাডাম যখন আজ ক্লাস থেকে বের হচ্ছিলেন? ওই ধবধবে ফর্সা পিঠটা... শাড়ির আঁচলটা একটু সরে যাওয়ার কারণে উনার ওই মোমের মতো পিঠের চামড়াটা যেভাবে দেখা যাচ্ছিল, বিশ্বাস কর, আমার দেখলেই সেক্স উঠে যায়! মানে বুকের ভেতর কেমন যেন একটা আগুন জ্বলে ওঠে!"
ইকবালের মুখে এই ধরনের নোংরা কথা শুনে রাজের টেবিলের ওপর রাখা হাতটি রাগে মুঠো পাকিয়ে গেল। সে ইকবালের দিকে রক্তিম চোখে তাকাল। কিন্তু ইকবাল তাতে আরও বেশি উৎসাহিত হয়ে পড়ল। তার কুৎসিত মুখাবয়ব আরও বিকৃত হয়ে উঠল। সে আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে এমন একটা কথা বলে বসল, যা শোনার পর রাজের কান দিয়ে যেন ভাপ বের হতে শুরু করল।


ইকবাল হাত নেড়ে, অত্যন্ত অশ্লীল ভঙ্গিতে বলতে লাগল, "আরে ধুর শুধু কী পিঠ ! সেদিন কী হয়েছিল শোন। ম্যাডাম যখন ব্ল্যাকবোর্ডে লিখছিলেন আর ক্লাস রুমের এদিক থেকে ওদিক হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন উনার শাড়ির পেট আর আঁচল বা কুঁচির মাঝখানের ওই ফাঁকা জায়গাটা দিয়ে... উফফ! ওই ফর্সা পেট আর তার ওপর দিয়ে উনার ওই  ৩৬ সাইজের ফোলা দুধ দুটো যেভাবে দুলে দুলে উঠছিল না... আমার তো ওই দৃশ্য মাথা থেকে সরছেই না! বিশ্বাস করবি না তোরা, ওইদিন কলেজ থেকে বাড়ি ফিরে সোজা নিজের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়েছি। বিছানায় শুয়ে রূপসা ম্যাডামের ওই ফর্সা শরীরটার কথা ভেবে, ওই ফোলা দুধ আর কোমরটার কথা কল্পনা করে আমি সেদিন হাত মেরেছি (হ্যান্ডেল মেরেছি)! শালা, মনের সুখে ম্যাডামের কথা ভেবে মাল ফেলেছি বাড়ি গিয়ে!"


ইকবালের মুখে এই চূড়ান্ত অশালীন ও নোংরা কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে পুরো ক্লাসরুমে একটা পৈশাচিক হাসির রোল উঠল। কিছু বকাটে ছেলে ইকবালের এই কথায় সায় দিয়ে শিষ দিয়ে উঠল, কেউ কেউ আবার হাততালি দিয়ে ইকবালের সেই কল্পনার খোরাক জোগাতে লাগল। তাদের কাছে এটা একটা সস্তা বিনোদন বা টাইমপাস হতে পারে, কিন্তু যে ছেলেটির মায়ের উদ্দেশ্যে এই চরম কুরুচিকর ও যৌন আক্রমণাত্মক কথাগুলো বলা হচ্ছে, সেই রাজের মাথায় তখন রক্ত চড়ে বসেছে। এই পুরো কথার তির সোজা এসে বিঁধল রাজের বুকে।


রাজ আর এক মুহূর্তও সহ্য করতে পারল না। তার চোখের সামনে ভেসে উঠল প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ডেকে তোলা, পরম যত্নে টিফিন গুছিয়ে দেওয়া আর স্কুটির সামনে বসিয়ে কলেজে নিয়ে আসা সেই চিরচেনা রূপসার মুখখানা। নিজের মায়ের শরীর নিয়ে ক্লাসের একটা বকাটে ছেলের এমন নোংরা মানসিকতা এবং হস্তমৈথুনের মতো সস্তা শিকার বানানোর কথা শুনে রাজের সারা শরীর রাগে থরথর করে কেঁপে উঠল।যে মা তার জন্য এত যত্ন করে, যার শরীরের পবিত্রতা ও সৌন্দর্য নিয়ে রাজের নিজের মনের ভেতরেই এক অদ্ভুত, জটিল ও আবেগপ্রবণ মুগ্ধতা কাজ করে—সেই মাকে নিয়ে এমন একটা রাস্তার ছোকরার মতো ভাষা ব্যবহার করল ইকবাল?


রাজের চোখের সামনে তখন দুনিয়াটা যেন একমুহূর্তের জন্য উল্টে গেছে। সে নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। ইকবাল কী বলল? সে তার  মাকে নিয়ে এমন নোংরা, অসভ্য একটা কথা সবার সামনে উচ্চারণ করল? রাজের শরীর তখন চরম উত্তেজনায় কাঁপতে শুরু করেছে। তার গাল দুটো দাউদাউ করে জ্বলে উঠল। মাথার রক্ত যেন গরম হয়ে সোজা ব্রেনে গিয়ে চড়ে বসল। লজ্জায়, অপমানে আর তীব্র আক্রোশে রাজের গলা দিয়ে কোনো শব্দ বের হচ্ছিল না। সে একদৃষ্টিতে ইকবালের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। ইকবালের মুখে তখন একটা বিকৃত জয়ের হাসি, যেন সে একটা মস্ত বড় তীর মেরেছে।


রাজ আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। ক্লাস নাইনের ওই কিশোর বয়সের সমস্ত শক্তি আর রাগ একজোট করে সে এক ঝটকায় সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। ইকবালের সামনে গিয়ে সে এমন একটা ধাক্কা মারল যে ইকবাল টাল সামলাতে না পেরে পিছনের বেঞ্চের ওপর গিয়ে পড়ল।রাজের এই হঠাৎ হিংস্র রূপ দেখে বাকি বন্ধুরা চমকে উঠে চিৎকার করে উঠল, “আরে রাজ! কী করছিস কী? শান্ত হ! ছাড় ওকে!”


কিন্তু রাজ তখন অন্ধ হয়ে গেছে। সে ইকবালের শার্টের কলার খপ করে চেপে ধরে তাকে মাটি থেকে প্রায় তুলে ফেলল। ইকবালের মুখের সেই বিকৃত হাসিটা একনিমেষে উবে গিয়ে একটা ভয়ের ছাপ ফুটিয়ে তুলল। ইকবাল ঘাবড়ে গিয়ে বলল, “কী হয়েছে রে রাজ? গায়ে হাত তুলছিস কেন? আমি তো জাস্ট এমনিই...”।“এমনিই মানে কী রে শুয়োরের বাচ্চা?” রাজের গলা কাঁপছিল, চোখের কোণ দিয়ে রাগে জল বেরিয়ে আসার উপক্রম হয়েছিল। সে দাঁতে দাঁত চেপে ফেটে পড়ল, “তোর এত বড় স্পর্ধা! তুই আমার মাকে নিয়ে এই ধরনের নোংরা কথা বলিস? তোর জিব টেনে ছিঁড়ে নেব আজ! মুখ সামলে কথা বলবি বলছি, নইলে আজ তোকে আমি এই খানেই শেষ করে দেব!”


ইকবাল কোনোমতে নিজের গলা ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে কাঁপতে কাঁপতে বলল, “ছাড়... ছাড় বলছি! আমি তো জাস্ট মজা করছিলাম...” “মজা? এটাকে মজা বলে?” রাজের হাতের খপ্পর আরও শক্ত হলো। সে ইকবালের কলার ধরে সজোরে একটা ঘুসি বসল ইকবালের চিবুকে। দুজন তখন মারামারিতে জড়িয়ে পড়েছে। বাকি বন্ধুরা ভয়ে চিৎকার করে চারদিক থেকে ছুটে এল ওদের আলাদা করার জন্য। দু’তিনজন বন্ধু মিলে কোনোমতে রাজকে টেনে দূরে সরিয়ে নিয়ে গেল। ইকবাল হাঁপাতে হাঁপাতে নিজের মুখ চেপে ধরে দূরে সরে দাঁড়িয়ে কাঁপতে লাগল।


ক্লাসরুম  এ তখন চরম হুলুস্থুল কাণ্ড। রাজ হাঁপাচ্ছে, তার বুক দ্রুত ওঠানামা করছে। তার জামাকাপড় ধুলোবালি মাখা, চুলগুলো উসকোখুসকো। সে হাঁপাতে হাঁপাতে ইকবালের দিকে রক্তিম চোখে তাকিয়ে রইল। বন্ধুরা তাকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করছে, “ছাড় না রাজ, ইকবালের মাথা খারাপ, ও সবসময় ফালতু বকে, তুই অত গায়ে মাখিস না।“


কিন্তু রাজের মনের ভেতর তখন একটা বিশাল ঝড় বয়ে চলেছে। বাইরে সে ইকবালকে মেরে তার মুখের ওপর জবাব দিয়ে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু ইকবালের ওই কথাগুলো তার মনের অন্দরে একটা গভীর ক্ষত তৈরি করে দিয়েছে। মায়ের সেই ধবধবে ফর্সা শরীর, পার্লারের যত্নে গড়া নিখুঁত ত্বক, ব্লাউজের ডিপ নেক আর ফর্সা পিঠ—যেগুলো এতদিন কেবল রাজের নিজের একান্ত চোখের দেখার জিনিস ছিল, আজকে সেটাই অন্য একটা বখাটে ছেলের জঘন্য কল্পনার বস্তু হয়ে প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এই ভাবনাটা রাজকে ভেতর থেকে কুড়ে কুড়ে খেতে লাগল।
Reply
#3

রাজের রক্ত তখনও ফুটছিল। ইকবালের বলা সেই কুরুচিকর কথাগুলো তার কানের মধ্যে ড্রামের মতো বাজছিল—“ফর্সা পিঠ দেখে আমার সেক্স উঠে গেছিল... হ্যান্ডেল মেরেছি...”। এই বিষাক্ত শব্দগুলো রাজের কিশোর মনটাকে বিষিয়ে দিয়েছিল। সে কোনোভাবেই নিজেকে শান্ত করতে পারছিল না।
কলেজের মেইন গেটের বাইরে রূপসা চক্রবর্তী তখন তাঁর স্কুটির হ্যান্ডেলে হাত রেখে দাঁড়িয়েছিলেন। গায়ে হালকা কটন সিল্কের শাড়ি, চুলে পরিপাটি করে বাঁধা খোঁপা আর চোখে রোদচশমা—সবমিলিয়ে তিনি বরাবরের মতোই অনিন্দ্যসুন্দরী ও গ্ল্যামারাস। মায়ের মুখের সেই নির্ভেজাল স্নেহমাখা হাসিটা সেদিন রাজের বুকের ভেতর এক অদ্ভুত যন্ত্রণার সৃষ্টি করল। রূপসা স্কুটি স্টার্ট করে একটু পেছন ফিরে রাজকে বললেন, “কী রে রাজ? দাঁড়িয়ে রইলি কেন? ওঠ তাড়াতাড়ি, বাড়ি যেতে হবে তো। খিদে পেয়েছে নিশ্চয়ই?”
রাজ একটু ঢোক গিলল। তার গলাটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল। সে কোনোমতে নিজেকে সামলে নিয়ে মাকে বলল, “মা, তুমি এক কাজ করো... তুমি স্কুটি নিয়ে বাড়ি চলে যাও। আমার কলেজের লাইব্রেরি থেকে একটা বই নেওয়ার আছে, আর একটু জরুরি কাজ আছে বন্ধুদের সাথে। আমার একটু দেরি হবে। তুমি চিন্তা কোরো না, আমি হেঁটে বা বাসে চলে আসব।“রূপসা একটু অবাক হলেন। ছেলের এই অদ্ভুত আচরণ তাঁর চোখ এড়াল না। তিনি ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলেন, “বই নেওয়ার তো কথা ছিল না! তাছাড়া তুই একা আসবি কেন? ওঠ স্কুটিতে, একসাথে যাব।“



কিন্তু রাজ সেদিন অনড়। সে জোর গলায় একটু কঠিন স্বরেই বলল, “না মা, প্লিজ তুমি যাও। আমার একটু সময় লাগবে।“
ছেলের জেদের সামনে হার মানলেন রূপসা। তিনি আর বেশি কথা বাড়ালেন না। বললেন, “ঠিক আছে, বেশি দেরি করিস না কিন্তু। আর সাবধানে আসিস।“ এই বলে রূপসা স্কুটি স্টার্ট দিলেন। হাই হিল সমেত তাঁর পারফেক্ট ফিগারের সেই চেনা ছন্দ তুলে স্কুটিটা যখন ধুলো উড়িয়ে চোখের আড়াল হলো, তখন রাজের মুখটা আরও কঠিন হয়ে গেল। সে জানত, ইকবাল এখন কোথায় থাকতে পারে। কলেজ ছুটির পর ইকবাল আর তার কয়েকজন বন্ধু সাধারণত মাঠের ধারের ওই পুরনো বটগাছটার নিচে সাইকেল নিয়ে আড্ডা দেয়।
রাজ দ্রুত পায়ে হেঁটে সোজা সেই বটগাছের তলায় গিয়ে পৌঁছাল। দূর থেকেই দেখা গেল ইকবাল তার দুই-তিনজন চামচাকে নিয়ে দাঁড়িয়ে   হাসাহাসি করছে। রাজকে একা ওইভাবে হেঁটে আসতে দেখে ইকবালের মুখের হাসিটা একমুহূর্তের জন্য উবে গেল। সে হয়তো ভেবেছিল ক্লাসের ওই মারামারির পর ব্যাপার ওখানেই মিটে গেছে। ইকবাল একটু আড়ষ্ট হয়ে ইশারা করে বন্ধুদের বলল, “আরে ওই দেখ, রাজ আসছে।“



রাজ কোনো কথা না বলে সোজা গিয়ে ইকবালের সামনে দাঁড়াল। তার চোখে তখন কোনো ভয় বা দ্বিধা ছিল না, ছিল শুধু পৈশাচিক আক্রোশ। ইকবাল একটু আমতা আমতা করে বলে উঠল, “কী রে রাজ? আবার কী হয়েছে মেরে এখনো শান্ত হসনি ? তুই তোর মায়ের সাথে বাড়ি গেলি না...”
ইকবালের সেই বাক্যটা সম্পূর্ণ হওয়ার কোনো অবকাশই দিল না রাজ। তার বুকের ভেতরে জমে থাকা সমস্ত ঘৃণা, ক্ষোভ এবং মাতৃভক্তির অবমাননার জ্বালা একবিন্দুতে এসে মিলিত হয়েছিল। রাজ এক ঝটকায় এগিয়ে গিয়ে সজোরে ইকবালের কলার চেপে ধরল। সেই আকস্মিক আক্রমণে ইকবাল কোনো প্রতিরোধের সুযোগই পেল না। রাজের ডান হাতটা তখন যেন কোনো বজ্রপাতের মতো নেমে এল ইকবালের মুখের ওপর। একটা শক্ত, ভারী মুষ্টিবদ্ধ ঘুসি সরাসরি গিয়ে লাগল ইকবালের নাকে আর ঠোঁটে।ইকবালের বন্ধুরা ভয়ে পেছনের দিকে সরে গেল, কেউ রাজকে আটকানোর সাহস পেল না।




একটা আর্তনাদ করারও সুযোগ পেল না ইকবাল। সেই প্রথম ঘুসির আঘাতেই তার নাক দিয়ে ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটে বের হলো।  রাজ একটা বন্য পশুর মতো ইকবালের বুকের ওপর চেপে বসল এবং একের পর এক ঘুষি চালাতে লাগল ইকবালের মুখ, বুক আর চোয়ালের ওপর। ইকবালের দুই বা তিন জন চামচা বন্ধু দূরে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখছিল। রাজের সেই উন্মত্ত রূপ এবং চোখে রক্তের নেশা দেখে তাদের এতটুকু সাহস হলো না এগিয়ে এসে ইকবালকে রক্ষা করার। তারা কেবল ভয়ে থরথর করে কাঁপতে লাগল।

ইকবাল যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে আর্তনাদ করে উঠল, “বাপরে! মারিস না! মরে যাব তো! ছাড় আমাকে রাজ! ভুল হয়ে গেছে! আর কোনোদিন বলব না!”

কিন্তু রাজের কান তখন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সে ইকবালের শার্টের কলার দুই হাতে শক্ত করে মুঠো করে ধরে তার মাথাটা সজোরে মাটিতে থাকা একটা পাথরের টুকরো বা পাকা রাস্তার ধারের সঙ্গে ঠুকে দিল। একটা ভারী শব্দ হলো—‘ঠাস!’ ইকবালের কপাল ফেটে রক্ত গড়িয়ে পড়তে লাগল। তার মুখ দিয়ে গোঙানির শব্দ ছাড়া আর কোনো ভাষা বের হচ্ছিল না। ইকবালের মুখের চামড়ায় রক্তের লাল ছোপ আর ধুলোর আস্তরণ মিলে তাকে এক করুণ ও শোচনীয় রূপ দিয়েছিল।




রাজ যখন দেখল ইকবালের মাথা ফেটে রক্ত বের হচ্ছে এবং সে আর প্রতিরোধ করার বিন্দুমাত্র শক্তিও হারিয়ে ফেলেছে, তখন তার ভেতরের সেই দাউ দাউ করে জ্বলা আগুনটা একটু কমল। সে হাঁপাতে হাঁপাতে ইকবালের কলার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। তার নিজের হাত দুটো সামান্য কাঁপছিল, জামার কাপড়ে ইকবালের নাক ও কপাল থেকে ছিটকে আসা রক্তের কয়েকটি ফোঁটা লেগে গেছে। রাজ তার সেগুলো   তার  হাতের শার্ট এর উল্টো পিঠ দিয়ে মুছে ফেলল। তারপর মাটিতে পড়ে থাকা যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকা ইকবালের দিকে রক্তিম ও শীতল চোখে তাকিয়ে ঠান্ডা, চাবুকের মতো জখম করা গলায় বলে উঠল, “আজ তো শুধু তোর কপাল ফাটিয়ে দিলাম। এরপরে যদি আমার মা বা আমার ফ্যামিলি নিয়ে একটাও নোংরা কথা তোর এই জঘন্য মুখ দিয়ে বের হয়, তাহলে জিব টেনে ছিঁড়ে নেব। মনে রাখিস, আজকের এই রক্ত তোকে শুধু একটা ছোট্ট ওয়ার্নিং দিয়ে গেল!”



বাকি বন্ধুরা ভয়ে কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। রাজ আর সেখানে এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। সে দ্রুত পায়ে সেই স্থান ত্যাগ করল এবং মূল রাস্তা দিয়ে বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করল।
ইকবাল যখন কষ্টে উঠে বসল, তখন তার চোখের কোণ দিয়ে গড়িয়ে পড়া জলের সঙ্গে মিশে ছিল এক তীব্র, হিংস্র ও পিশাচসুলভ জিঘাংসা। তার সমস্ত শরীর তখন রাগে ও অপমানে কাঁপছে। সে জীবনে এই প্রথম কোনো ছেলের কাছে এমন জনসমক্ষে মার খেলো, তাও আবার একটা মহিলার জন্য —যার সম্পর্কে সে কুরুচিকর মন্তব্য করেছিল, সেই মহিলার নিজের ছেলের হাতে! ইকবালের ভেতরে প্রতিশোধের আগুন এমনভাবে দাউদাউ করে জ্বলে উঠল যে তার সাধারণ কিশোর মনটা যেন একটা অপরাধী ও বিকৃত মস্তিষ্কের রূপ নিল।
সে তার রক্তমাখা হাত দিয়ে কপাল ও নাকের রক্ত মুছতে মুছতে দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করে উঠল, “শালার রাজ! তুই ভাবলি তোর মাকে নিয়ে একটা কথা বলেছি বলে আমাকে মেরে তুই জিতে গেলি? তুই আমার মাথা ফাটিয়ে দিলি, আমাকে সবার সামনে অপমান করলি? আজ তুই যে রক্তের ঝরালি , সেই রক্তের বদলা আমি নেব। তোকে এমন জায়গায় আঘাত করব যে সারা জীবন তুই কুঁকড়ে মরবি!”




তার এক ঘাবড়ে যাওয়া বন্ধুকে ইশারায় কাছে ডাকল। বন্ধুটি ভয়ে ভয়ে কাছে আসতেই ইকবাল তার শার্টের কলার খামচে ধরে ফিসফিস করে, উন্মত্তের মতো গলে বলল, “শোন... ভালো করে শুনে রাখ! আজ এই রাজ যে আমার মাথা ফাটিয়েছে, এই রক্তের প্রতিটি ফোঁটার শোধ আমি তুলব। চিৎকার করে রাজের উদ্দেশে বললো, “যাকে বাঁচানোর জন্য তুই আমার এই অবস্থা করলি, সেই তোর মাকে—ওই রূপসা ম্যাডামকে,যদি আমি তোর চোখের সামনে ওই দাম্ভিক অহংকার ভেঙে চূর্ণ করে দিতে না পারি, তবে আমার নামও ইকবাল নয়!”
ইকবালের চোখ দুটো তখন লাল রক্তের মতো জ্বলছে। তার মাথার ভেতরে তখন কেবল একটা রূপসী নারীর শরীর ঘুরপাক খাচ্ছে। সে প্রতিজ্ঞা করল, সে যা করতে হয় তাই করবে—দরকার পড়লে সমস্ত সীমালঙ্ঘন করবে, কিন্তু ওই অহংকারী রাজের মাকে সে ছাড়বে না। সে মনে মনে বলতে লাগলো এতদিন তো শুধু দূর থেকে চোখের দেখা দেখেছি, আর মনে মনে কল্পনা করে হ্যান্ডেল মেরেছি। কিন্তু আজ থেকে খেলা অন্য লেভেলে হবে।



সে মনে মনে বলতে লাগল, “তোর মায়ের ওই ধবধবে ফর্সা শরীর, ওই ৩৬সাইজের মায়াবী ভাঁজ, আর ওই ৩০ কোমর—যা নিয়ে তোর এত বড়াই, সেই শরীরটাকে আমি আমার হাতের মুঠোয় এনে ছাড়ব। ওর ওই দুধের মতো ফর্সা শরীরটাকে আমি এমনভাবে কলুষিত করব, যাতে তুই আর কোনোদিন কারোর গায়ে হাত তোলার সাহস না পাস।”ওই রূপসী শরীরটাকে আমি নিজের ইচ্ছেমতো কলুষিত করব, ভোগ করব! রাজ, তুইও বাঁচাতে পারবি না, তোর মাকে। একটু অপেক্ষা কর... তোকে আমি তিলে তিলে শেষ করব!”
প্রতিশোধের এই বিষাক্ত নেশা তার গোটা সত্তাকে গ্রাস করে ফেলল।ইকবালের এই পৈশাচিক ও গা হিম করা প্রতিজ্ঞা চারপাশের ভারী বাতাসকে যেন আরও বেশি বিষাক্ত করে তুলল। তার বন্ধুরা ভয়ে আচ্ছন্ন হয়ে ফিসফিস করে বলল, “ইকবাল, বাদ দে ভাই! রাজ এখন যা উগ্র হয়ে উঠেছে, এসব করলে  ও তোকে মেরেই ফেলবে!”
ইকবাল রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে চিৎকার করে উঠল, “মরলে মরবো ! প্রতিশোধ না নেওয়া পর্যন্ত আমার রক্ত ঠান্ডা হবে না! তুই শুধু দেখ, আমি কেমন করে ওই রাজের চোখের সামনে তার মায়ের ইজ্জত ধুলোয় মিশিয়ে দিই!”



অন্যদিকে  এসবের বিন্দুমাত্র আঁচ না পেয়ে রাজ যখন বাড়ি পৌঁছাল, পথে আসতে আসতে রাজের বুকটা তখনও ধড়ফড় করছিল। সে বারবার তার শার্টের হাতার রক্তের দাগটা লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করছিল। সে মনে মনে ভাবছিল, সে কি খুব অন্যায় কিছু করে ফেলল? কিন্তু পরক্ষণেই তার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল ক্লাসরুমে ইকবালের সেই কুৎসিত হাসির মুখটা। না, রাজ একটুও অনুতপ্ত ছিল না। সে বুঝতে পেরেছিল, এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে মায়াবী মুখের আড়ালে থাকা মানুষগুলোকে বাঁচাতে হলে মাঝে মাঝে নিজের হাতও রক্তে রাঙাতে হয়।



কিছুক্ষণ পর রাজ যখন হেঁটে বাড়ি ফিরল, তখন তার নিজের হাত সামান্য কাঁপছিল। জামার হাতায় রক্তের ছিটে লেগেছে কি না সে বারবার চেক করে নিচ্ছিল। সে বাড়ির সদর দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল।
দোতলার ড্রয়িংরুমে রূপসা তখন সবেমাত্র হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে এসেছেন। তিনি সোফায় বসে একটা ম্যাগাজিন ওল্টাচ্ছিলেন। রাজকে একা ফিরতে দেখে তিনি দ্রুত এগিয়ে এসে চিন্তিত সুরে বললেন, “কী রে রাজ? এতক্ষণ লাগল ফিরতে? আমি তো কখন থেকে তোর জন্য টেনশন করছি! আর তোর মুখটা এমন ফ্যাকাশে লাগছে কেন?”
রাজের বুকটা ধপ ধপ করে উঠল। মায়ের ওই ধবধবে ফর্সা মুখ, চোখে কিছুটা উৎকণ্ঠা আর স্নেহের সেই চাউনি দেখে সে ভেতরে ভেতরে কেঁপে উঠল। মায়ের এতটুকুও ধারণা নেই যে এই ছেলেটি ঠিক একটু আগেই কার মাথা ফাটিয়ে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েছে, আর সেটা কেন করেছে।
রাজ নিজেকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করল। সে জোর করে মুখে একটা হাসির আভা এনে বলল, “না মা, লাইব্রেরির সেই বইটা খুঁজতে একটু ঝামেলা হয়েছিল, তাই লাইব্রেরিয়ান স্যারের সাথে কথা বলতে দেরি হয়ে গেল। আর গরমে একটু ক্লান্ত লাগছে, এই যা।“
রূপসা ছেলের কপাল থেকে ঘাম মুছে দিয়ে নরম গলায় বললেন, “যঃ! পাগল একটা! সারাক্ষণ শুধু পড়াশোনা আর বই নিয়ে থাকিস। যা, হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে আয়, আমি গরম গরম খাবার দিচ্ছি।“



রাজ মাথা নিচু করে নিজের ঘরে চলে এল। সে নিজের রুমের দরজা বন্ধ করে খাটের ওপর বসে পড়ল। তার চোখের সামনে তখন বারবার ভেসে উঠছে ইকবালের ফেটে যাওয়া মাথা আর রক্ত। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা, মায়ের এই সরল স্নেহময় রূপটাকে বাঁচানোর জন্য সে যা করল, তাতে তার নিজের মনে অপরাধবোধের চেয়ে একটা অদ্ভুত পুরুষালি তৃপ্তি কাজ করছিল। সে বুঝল, তার এই পৃথিবীটা এখন আর আগের মতো সরল নেই—এখানে তার মাকে রক্ষা করার দায়িত্ব এখন তার নিজের কাঁধেই এসে পড়েছে।
রাজ নিজের দুই হাতে মাথা চেপে ধরে খাটের ওপর বসে মনে মনে ভাবল, সে আজ তো ইকবালকে মেরে মুখ বন্ধ করে দিয়েছে, কিন্তু কাল যখন ইকবাল দলবল নিয়ে আরও বড় কোনো চক্রান্ত করবে, তখন সে কী করবে? সে কি একা পেরে উঠবে এই হিংস্র দুনিয়ার নোংরামো থেকে তার মাকে রক্ষা করতে? রাজের কিশোর মন বুঝতে পারল, তার এই শান্ত, নিরাপদ পৃথিবীটা আর আগের মতো নেই; তার অজান্তেই এক ভীষণ ঝড় ধেয়ে আসছে তাদের এই পরিবারের দিকে, যার হাত থেকে নিজের মাকে বাঁচানোর জন্য তাকে আরও অনেক বেশি শক্ত হতে হবে, আরও অনেক বেশি রক্তাক্ত পথ বেছে নিতে হবে।





 
Reply


Forum Jump:


Users browsing this thread: 1 Guest(s)