08-29-2026, 11:00 PM
পর্ব:০৩
পরের সপ্তাহে শুক্রবারে ঠিক করা ফ্ল্যাটটা'য় উঠলো শায়ান আর অরুনীমা। শায়ানের সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় এইদিনই তারা পরিকল্পনা করেছিলো ফ্ল্যাটে উঠবে। অন্যথায়, শায়ানের সময় হবে না। তাই পরিকল্পনামাফিক সেদিনই নতুন ফ্ল্যাটে আসে তারা।
জানালার কাঁচে বিকেলের আলো এসে পড়ে ঝিকমিক করছে। একে একে সকাল থেকে সবগুলো ফার্নিচার এসেছে ভ্যানে করে। কার্টুনের ভেতর থেকে বের হচ্ছে তাদের নতুন জীবনের ছোট ছোট সাজানো মুহূর্তগুলো। সপ্তাহ ধরে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের সাথে বিভিন্ন শো-পিছ, ছবি, ফেয়ারি লাইট কিনেছিলো অরুনীমা পছন্দ করে। শায়ানও আপত্তি করেনি কোনো কিছুতে। অরুনীমা ঘর সাজাতে চাইছে, সাজাক। একটু সংসারী হোক মেয়েটা, এই তো চায় শায়ান। তাই খুশি খুশি মেয়েটার সব আবদার মেনেছে সে।
ঘর সাজাতে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছে অরুনীমাই। ভারী কাজগুলো অবশ্য শায়ান করেছে। ঘর সাজানোর সেই মুহূর্তগুলোর মাঝেই হারিয়ে গিয়েছিলো অরুনীমা। সে কখনো রান্নাঘরে, কখনো ড্রয়িংরুমে, আবার কখনো দৌড়ে চলে যাচ্ছে বারান্দায়। মোটকথা, বাড়িটা অরুনীমার মনমতো হয়েছে একেবারে। একটা ছোট্ট সুখপাখি যেন নতুন উৎস পেয়েছে। আর এই উৎস নব্য অনুভুতির সুচনার।
অরুনীমার সবচেয়ে বেশি টান বাড়ির বারান্দাটার প্রতি। শহরের ওপরে ঝুলে থাকা ছোট্ট এক টুকরো আকাশ দেখা যায়। যেখানে দাঁড়িয়ে নিজের মতো করে নিঃশ্বাস নেওয়া যায়। প্রশান্তি অনুভুত হয়। অরুনীমা চোখ দুটো বন্ধ করে বারান্দায় গ্রিল ধরেই দাঁড়িয়ে ছিলো। দমকা বাতাসে শরীরটা জুড়িয়ে যাচ্ছিলো তার। শায়ান ফার্নিচারগুলো মোটামুটি গুছিয়ে রেখে চুপচাপ এসে দাঁড়ালো তার পেছনে। অরুনীমার চুলে হালকা বাতাস লেগে উড়ছে পেছন দিকে। শায়ান একবার তাকালো অরুনীমার দিকে। তারপর একটু নরম গলায় বলল,
“বলেছিলাম না, বারান্দাটা তোর ভালো লাগবে? কিন্তু আরও অনেক কিছু কেনা হয়নি। এই যেমন সাকুলেন্ট, ল্যান্টার্ন, কুশন, ওয়াল হ্যাংগিং, আরও কত কি বাকি! এখনো কিছুই সাজাতে পারিনি রে।”
অরুনীমা মুখ ঘুরিয়ে তাকালো। তার ঠোঁটের কোণে সেই চেনা দুষ্টু হাসি। শায়ানের বাহুতে আলতো ঘুষি মেরে বলল,
“নো প্রবলেম, ব্রো! আমরা দুজন মিলে আস্তে আস্তে সাজাবো। প্যারা নিস না। তাছাড়া যেগুলো দরকার, সেগুলো আগে কিনেছি। এতটুকু বোঝদার তো আমি হয়েছি, ইয়ার!"
'ব্রো' শব্দটা শায়ানের কানে গিয়ে বাজলো কাঁটার মতো। মুহুর্তেই চোখ-মুখ কুঁচকে ফেললো সে চরম বিরক্তিতে। তাই শায়ান বাজখাই গলায় ধমকে বলল,
“এই শোন! একদম ব্রো ব্রো করবি না! আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে। এসব শুনতে ওইয়া'র্ড লাগে! তার চেয়ে বড় কথা আমার রাগ লাগে।”
অরুনীমা কোমরে হাত রেখে একটু ঝুঁকে তাকালো তার দিকে। চোখে মারাত্মক সন্দেহের মিশেল নিয়ে বলল,
"নতুন তো আর ডাকছি না। সারাজীবন এই ডাক শুনেই বড় হলি আমার সাথে! এখন জ্বলছে কেন?"
শায়ান ঠোঁট গোল করে শ্বাস ফেলে। অরুনীমা সরু চোখে তাকিয়ে আবার বলল,
“এই ওয়েট ওয়েট! স্বৈরাচারী স্বামী হওয়ার প্ল্যান করছিস নাকি? কেমন যেন স্মেল পাচ্ছি…”
“বা’ল!”
একটা বিরক্তির শব্দ ছুঁড়ে দিয়ে শায়ান হনহন পায়ে বারান্দা ছেড়ে চলে গেলো ঘরের ভেতরে। তার পায়ের শব্দটা ভারী, কিন্তু তাতে লুকানো অভিমানটা আরও ভারী। অরুনীমা কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো অপলকভাবে। তারপর হেসে ফেললো। একটা স্বচ্ছ, নির্ভার সে হাসি। শায়ানকে রাগাতে পারলে তার অন্যরকম পৌশাচিক আনন্দ আসে। ছোটবেলা থেকেই। তাই এই কাজ অরুনীমার প্রিয়।
ঘরে ঢুকেই শায়ান মেঝেতে শুয়ে পড়েছে দুম করে। কারণ বেড এখনো ঠিকঠিক হয়নি, তোষক বিছানো হয় নি। যদিও সকাল থেকে দুটোতে মিলে একসাথে খাটছে। তবে কাজও শেষ হয়নি সব। একটু স্থিরতা পেতেই শায়ান মেঝেতে আশ্রয় নিয়েছে। বাম হাতটা মাথার নিচে রেখে শায়ান সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। তার চোখে অদ্ভুত এক শূন্যতা।
অরুনীমা ঘরে এসে চুপচাপ তার পাশে শুয়ে পড়লো জায়গা করে। দুজনের মাঝে খানিকক্ষণ কোনো কথা নেই, কোনো শব্দ নেই। শুধু দুজনের নিঃশ্বাসের নরম ওঠানামার ভার রয়েছে। অরুনীমা ধীরে ধীরে শায়ানের ডান হাতটা টেনে এনে নিজের মাথার নিচে রাখলো, বালিশের প্রক্সি হিসেবে। শায়ান তাতেও কিছু বলল না। সে নির্লিপ্ত রয়েছে বরাবরের মতো। অরুনীমা সিলিংয়ের দিকে তাকিয়েই নরম গলায় বলল,
“এত রাগিস কেন? আমি তো মজা করি তোর সাথে। বুঝিস না?”
শায়ান চুপ। অরুনীমার কণ্ঠে এবার একটু আদুরে জেদ আসে। ঠোঁট উল্টে সে বলল,
“কিরে, কথা বলিস না কেন?”
শায়ান ধীরে ধীরে মুখ ঘুরিয়ে পাশ ফিরে তাকালো তার দিকে। শায়ানের চোখ দুটো স্থির, গভীর। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে জিজ্ঞেস করলো,
“এত জ্বালাস কেন আমাকে, অরু?”
অরুনীমা আরেককটু কাছে আসে শায়ানের। এক হাতে শায়ানের কোমর জড়িয়ে ধরে সে। চোখভরা দুষ্টুমি নিয়ে ঠোঁট টিপে হেসে বলে,
“ভালো লাগে… ”
কিছুসময় বাদে শায়ান ধীরে ধীরে উঠে বসলো। তার নড়াচড়ায় অরুনীমাও সজাগ হয়ে উঠে বসে। শায়ান উঠে দাঁড়িয়ে টি-শার্টটা একটু টেনেটুনে ঠিক করলো। তারপর স্বাভাবিক গলায় বলল,
“আমি বেডটা গুছিয়ে নিই আগে। তুই গিয়ে রান্না বসা।”
অরুনীমা থমকে গেলো। তার চোখে স্পষ্ট বিস্ময়,
“আমি?”
শায়ান হালকা হেসে বলল,
“হ্যাঁ, তুই। সিম্পল কিছু একটা রান্না কর। ভাত-ডাল তো পারবি এটলিস্ট!”
অরুনীমা একটু সংকোচে নিচের ঠোঁট কামড়ে ভাবতে লাগলো। সে আর রান্না! দুটো তো বিপরীত শব্দ! তাছাড়া ওভাবে কখনো ট্রাইও করা হয়নি। তবুও নিজের অদক্ষতাকে লুকাতে চাওয়ার প্রয়াস করতে নরম গলায় বলল,
“ইউটিউব দেখে করে দিচ্ছি… সমস্যা নেই। আমি যাই তাহলে।”
এই বলে অরুনীমা চলে যায়। তার চলে যাওয়ার পানে তাকিয়ে আছে শায়ান। বিস্মিত হয়ে রইলো সে। প্রায় হতবিহ্বল হয়েছে বলা চলে। অবশ্য হওয়ারই কথা। ভাত-ডালও নাকি ইউটিউব দেখে করবে! কি আজব কান্ড! এসব ভাবতে ভাবতেই একটু অদ্ভুতভাবে মাথা নেড়ে নিজেকে সামলে নিলো শায়ান। এই অদ্ভুত মিষ্টি বাস্তবতাকে মেনে নিতে শিখছে সে ধীরে ধীরে।
বেডের তোষক ঠিক করে, চাদর টেনে বিছানাটা পরিপাটি করতে করতে শায়ানের ঠোঁটের কোণে একটা হাসি লেগেই রইলো অরুনীমার কথা ভেবে। এই অগোছালো মেয়েটাই বোধহয় তার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর বিশৃঙ্খলা। যা সে খুশি খুশি মানতে প্রস্তুত। এসব মানতে একটুও দ্বিধা নেই শায়ানের। এটা ঠিক মেয়েটা হুটহাট শায়ানকে অবাক করে দেয় তার কর্মকান্ডে। কিন্তু শায়ান জানে, একটা গোছালো, শৃঙ্খল শায়ানের জীবনে একটা অগোছালো, বিশৃঙ্খল অরুনীমার খুব দরকার ছিলো। ভাবনার মাঝে রান্নাঘর থেকে অরুনীমার ডাক ভেসে এলো,
“শায়ান! ভাজি না অমলেট খাবি?”
শায়ান হাতের কাজ বহাল রেখে বালিশে কভার লাগাতে লাগাতে হালকা গলায় উত্তর দিলো,
“ভাজি কর। ডালের সাথে খেতে ভালো লাগবে।”
রান্নাঘরে তখন এক নতুন যুদ্ধ চলছে। ইউটিউবের ভিডিও আর অরুনীমার মনোযোগী আন্তরিক চেষ্টার এক অদ্ভুত মিশেল। গ্যাসের আগুনের সামনে দাঁড়িয়ে মেয়েটা নিজের অজান্তেই একটা নতুন জীবনের প্রথম পাঠ নিচ্ছে। যথাসম্ভব রান্না শেষ করে কিছুক্ষণ পর, ছোট্ট টেবিলের ওপর একে একে খাবার সাজিয়ে রাখতে লাগলো অরুনীমা। তার স্বভাবসুলভ অগোছালো ভঙ্গিতেই। এরই মধ্যে একবার পানির গ্লাস ফেলে দিয়েছে, আরেকবার ছোট বাটি ফেলে দিয়েছে। এসব দেখতে দেখতে অভ্যস্থ শায়ানের কোনো অসুবিধা হয় নি। তাই সে মুখ বুজে চুপ করে ছিলো আর হতাশ হয়ে দেখছিলো অরুনীমার আজব রকম কাজকারবার।
অবশ্য আজ অরুনীমা গর্বের সাথে ফিরেছে রান্নাঘর থেকে। যেন কিছু একটা উদ্ধার করে এসেছে সে। রান্না করা তার কাছে অসম্ভব একটি কাজ ছিলো। বিধায় প্রথমবার আশানুরূপ রান্না না হলেও খুব একটা খারাপ হয় নি অরুনীমা নিশ্চিত। নিজের মাথার ঘাম ফেলার ভঙ্গিতে উচ্ছসিত স্বরে অরুনীমা বলল,
“এই শায়ান! দেখ পেরেছি আমি। কুকিং অতটাও কঠিন না! ট্রাই করতে থাকলে আরও ভালো করে পারবো। তাই না বল?”
শায়ান মৃদু হেসে এগিয়ে এলো। তার চোখে একরাশ মুগ্ধতা স্ত্রীর প্রতি। খাবারের জন্য নয়, মেয়েটার সহজ সরল চেষ্টার জন্য। শায়ান স্নিগ্ধ হেসেই অরুনীমার কপালে শব্দ করে ঠোঁট ছোঁয়ালো বড্ড আবেগ নিয়ে।
এ-ই কদিনে এসব ছোটখাটো স্পর্শ নির্দিধায় দিয়ে ফেলে শায়ান। কারণ, ওর মধ্যে জড়তা কখনোই ছিলো না। আর এখন তো স্পর্শের মালিকানাও আছে তার। অরুনীমা যে ওর হয়ে গেছে।
তবে অরুনীমা এমন স্পর্শে একটু গুটিয়ে গেলো বটে। চোখ পিটপিট করে এদিক ওদিক তাকালো অস্বস্তিতে। দু-কাঁধ সংকুচিত করে একটু সরে দাঁড়ালো। নিজের ভেতরের অদ্ভুত উত্তাল অনুভুতি বুঝতেই নিজেকে দ্রুত সামলে নিলো সে। কারণ, এইসব স্পর্শ এখনো তার অভ্যাসে পরিণত হয়নি। শায়ানকে তো মেনেছে কিন্তু এই অনুভুতির মর্ম ঠাওর করতে পারেনি। তাই নিজেকে সামলে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলো অরুনীমা। শায়ান সেসব তার অগোচরেই লক্ষ্য করে অমলিন হাসে। অরুনীমা শায়ানের এসব কান্ডে খানিকটা তুতলে বলল,
"খে..খেতে বস! খাবার ঠান্ডা হয়ে যাবে নাহলে।"
শায়ান অরুনীমার অস্বস্তি টের পেলো। এই সামান্য ছোঁয়াতেই কেন যে এমন গুটিয়ে যায় মেয়েটা বুঝ আসে না তার। কিন্তু শায়ানের'ই বা কি করার? তারও তো ইচ্ছে হয় ভালোবাসার মানুষটাকে ছুঁতে, ভালোবাসতে। এত বিধিনিষেধ কেন মানবে সে। তবুও অরুনীমার সিদ্ধান্তকে চুড়ান্ত রেখে শায়ান এগোচ্ছে না। এগোবেও না। শায়ানও মনে মনে জেদ চাপিয়ে রেখেছে। যে, যেদিন অরুনীমা তাকে নিজের মুখে ভালোবাসার কথা স্বীকার করবে, সেদিন তাদের মধ্যে কোনো দুরত্ব থাকবে না। এরজন্য যত অপেক্ষা করতে হোক, শায়ান ধৈর্য্যের সহিত করবে। এবার অরুনীমার অস্বস্তি দূর করে প্রসঙ্গ বদলাতে শায়ান বলল,
"কি করেছি বল তো! ডাইনিং টেবিল কিনেছি কিন্তু কয়েকটা চেয়ার কেনা হয়নি। মনেও তো করালি না আমাকে! তোর তো নিচে বসে খেতে প্রবলেম হবে।"
অরুনীমা নিচে বসে প্লেটে ভাত বাড়তে বাড়তে ধিমি কন্ঠে বলল,
"আমার নিজেরই মনে ছিলো না চেয়ার কেনার কথা। আর আমার চিন্তা করিস না। আমার কোনো প্রবলেম হচ্ছে না।"
শায়ানও নিচে বসলো ছোট টেবিলটার কাছে। দুজন মুখোমুখি বসেছে টেবিলের বিপরীত প্রান্তে। অরুনীমা চুপচাপ ভাত বাড়ছে দেখে শায়ান গম্ভীর গলায় বলল,
"বিয়ে হওয়ার পর থেকে শুধু এডজাস্ট'ই করে যাচ্ছিস। বিরক্ত লাগছে না এসব?"
অরুনীমা এবার চোখ তুলে তাকালো শায়ানের দিকে। হাত থেমে গেছে চলমান খাবার পরিবেশনের কাজে। সব অস্বস্তি ঝেড়ে ফেলে দৃঢ় গলায় সে উত্তর দিলো,
"জানিস, তোকে নিয়ে না এ-ই কদিন আমি অনেক ভেবেছি! বুঝে শুনেই মেনেছি তোকে সারাজীবন একসাথে কাটাতে, হাসব্যান্ড ওয়াইফ হয়ে। সুতরাং, এডজাস্ট শব্দটা আমার সাথে যায় না। কারণ, আমরা কেউ অপরিচিত নই। তুই আমার অগোছা'লো, ইম্যাচিউ'র, ঝামে'লা আমিটাকে'ই গ্রহন করেছিস। আর আমি আমার গু'ড বয়, পারফেক্ট ম্যা'ন শায়ানকে। তাই এডজাস্টের শব্দটা ওঠাস না। আর ওঠালেও এডজাস্ট তুই করছিস আমার সাথে, আমি না। বিকজ, তুই ভালো কোনো মেয়ে ডিসার্ভ করিস। আমার মতো...."
শায়ানের রাগ হলো অরুনীমার কথায়। ও যা ইচ্ছে তা বলে যাচ্ছে কখন থেকে। শায়ানের অনুভূতি বুঝতে এখনো অপারগ অরুনীমা! তাই অরুনীমাকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে উচ্চস্বরে গমগমে গলায় শায়ান বলল,
"চুপ!! এত কথা বলে দিলি না বুঝেই! শোন তাহলে, আমি তোকেই ডিজার্ব করি, অরু! আমার তোকেই লাগবে! কজ, আই ওয়ান্ট ইয়্যু, আই লাভ ইয়্যু!! "
পরের সপ্তাহে শুক্রবারে ঠিক করা ফ্ল্যাটটা'য় উঠলো শায়ান আর অরুনীমা। শায়ানের সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় এইদিনই তারা পরিকল্পনা করেছিলো ফ্ল্যাটে উঠবে। অন্যথায়, শায়ানের সময় হবে না। তাই পরিকল্পনামাফিক সেদিনই নতুন ফ্ল্যাটে আসে তারা।
জানালার কাঁচে বিকেলের আলো এসে পড়ে ঝিকমিক করছে। একে একে সকাল থেকে সবগুলো ফার্নিচার এসেছে ভ্যানে করে। কার্টুনের ভেতর থেকে বের হচ্ছে তাদের নতুন জীবনের ছোট ছোট সাজানো মুহূর্তগুলো। সপ্তাহ ধরে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের সাথে বিভিন্ন শো-পিছ, ছবি, ফেয়ারি লাইট কিনেছিলো অরুনীমা পছন্দ করে। শায়ানও আপত্তি করেনি কোনো কিছুতে। অরুনীমা ঘর সাজাতে চাইছে, সাজাক। একটু সংসারী হোক মেয়েটা, এই তো চায় শায়ান। তাই খুশি খুশি মেয়েটার সব আবদার মেনেছে সে।
ঘর সাজাতে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছে অরুনীমাই। ভারী কাজগুলো অবশ্য শায়ান করেছে। ঘর সাজানোর সেই মুহূর্তগুলোর মাঝেই হারিয়ে গিয়েছিলো অরুনীমা। সে কখনো রান্নাঘরে, কখনো ড্রয়িংরুমে, আবার কখনো দৌড়ে চলে যাচ্ছে বারান্দায়। মোটকথা, বাড়িটা অরুনীমার মনমতো হয়েছে একেবারে। একটা ছোট্ট সুখপাখি যেন নতুন উৎস পেয়েছে। আর এই উৎস নব্য অনুভুতির সুচনার।
অরুনীমার সবচেয়ে বেশি টান বাড়ির বারান্দাটার প্রতি। শহরের ওপরে ঝুলে থাকা ছোট্ট এক টুকরো আকাশ দেখা যায়। যেখানে দাঁড়িয়ে নিজের মতো করে নিঃশ্বাস নেওয়া যায়। প্রশান্তি অনুভুত হয়। অরুনীমা চোখ দুটো বন্ধ করে বারান্দায় গ্রিল ধরেই দাঁড়িয়ে ছিলো। দমকা বাতাসে শরীরটা জুড়িয়ে যাচ্ছিলো তার। শায়ান ফার্নিচারগুলো মোটামুটি গুছিয়ে রেখে চুপচাপ এসে দাঁড়ালো তার পেছনে। অরুনীমার চুলে হালকা বাতাস লেগে উড়ছে পেছন দিকে। শায়ান একবার তাকালো অরুনীমার দিকে। তারপর একটু নরম গলায় বলল,
“বলেছিলাম না, বারান্দাটা তোর ভালো লাগবে? কিন্তু আরও অনেক কিছু কেনা হয়নি। এই যেমন সাকুলেন্ট, ল্যান্টার্ন, কুশন, ওয়াল হ্যাংগিং, আরও কত কি বাকি! এখনো কিছুই সাজাতে পারিনি রে।”
অরুনীমা মুখ ঘুরিয়ে তাকালো। তার ঠোঁটের কোণে সেই চেনা দুষ্টু হাসি। শায়ানের বাহুতে আলতো ঘুষি মেরে বলল,
“নো প্রবলেম, ব্রো! আমরা দুজন মিলে আস্তে আস্তে সাজাবো। প্যারা নিস না। তাছাড়া যেগুলো দরকার, সেগুলো আগে কিনেছি। এতটুকু বোঝদার তো আমি হয়েছি, ইয়ার!"
'ব্রো' শব্দটা শায়ানের কানে গিয়ে বাজলো কাঁটার মতো। মুহুর্তেই চোখ-মুখ কুঁচকে ফেললো সে চরম বিরক্তিতে। তাই শায়ান বাজখাই গলায় ধমকে বলল,
“এই শোন! একদম ব্রো ব্রো করবি না! আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে। এসব শুনতে ওইয়া'র্ড লাগে! তার চেয়ে বড় কথা আমার রাগ লাগে।”
অরুনীমা কোমরে হাত রেখে একটু ঝুঁকে তাকালো তার দিকে। চোখে মারাত্মক সন্দেহের মিশেল নিয়ে বলল,
"নতুন তো আর ডাকছি না। সারাজীবন এই ডাক শুনেই বড় হলি আমার সাথে! এখন জ্বলছে কেন?"
শায়ান ঠোঁট গোল করে শ্বাস ফেলে। অরুনীমা সরু চোখে তাকিয়ে আবার বলল,
“এই ওয়েট ওয়েট! স্বৈরাচারী স্বামী হওয়ার প্ল্যান করছিস নাকি? কেমন যেন স্মেল পাচ্ছি…”
“বা’ল!”
একটা বিরক্তির শব্দ ছুঁড়ে দিয়ে শায়ান হনহন পায়ে বারান্দা ছেড়ে চলে গেলো ঘরের ভেতরে। তার পায়ের শব্দটা ভারী, কিন্তু তাতে লুকানো অভিমানটা আরও ভারী। অরুনীমা কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো অপলকভাবে। তারপর হেসে ফেললো। একটা স্বচ্ছ, নির্ভার সে হাসি। শায়ানকে রাগাতে পারলে তার অন্যরকম পৌশাচিক আনন্দ আসে। ছোটবেলা থেকেই। তাই এই কাজ অরুনীমার প্রিয়।
ঘরে ঢুকেই শায়ান মেঝেতে শুয়ে পড়েছে দুম করে। কারণ বেড এখনো ঠিকঠিক হয়নি, তোষক বিছানো হয় নি। যদিও সকাল থেকে দুটোতে মিলে একসাথে খাটছে। তবে কাজও শেষ হয়নি সব। একটু স্থিরতা পেতেই শায়ান মেঝেতে আশ্রয় নিয়েছে। বাম হাতটা মাথার নিচে রেখে শায়ান সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। তার চোখে অদ্ভুত এক শূন্যতা।
অরুনীমা ঘরে এসে চুপচাপ তার পাশে শুয়ে পড়লো জায়গা করে। দুজনের মাঝে খানিকক্ষণ কোনো কথা নেই, কোনো শব্দ নেই। শুধু দুজনের নিঃশ্বাসের নরম ওঠানামার ভার রয়েছে। অরুনীমা ধীরে ধীরে শায়ানের ডান হাতটা টেনে এনে নিজের মাথার নিচে রাখলো, বালিশের প্রক্সি হিসেবে। শায়ান তাতেও কিছু বলল না। সে নির্লিপ্ত রয়েছে বরাবরের মতো। অরুনীমা সিলিংয়ের দিকে তাকিয়েই নরম গলায় বলল,
“এত রাগিস কেন? আমি তো মজা করি তোর সাথে। বুঝিস না?”
শায়ান চুপ। অরুনীমার কণ্ঠে এবার একটু আদুরে জেদ আসে। ঠোঁট উল্টে সে বলল,
“কিরে, কথা বলিস না কেন?”
শায়ান ধীরে ধীরে মুখ ঘুরিয়ে পাশ ফিরে তাকালো তার দিকে। শায়ানের চোখ দুটো স্থির, গভীর। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে জিজ্ঞেস করলো,
“এত জ্বালাস কেন আমাকে, অরু?”
অরুনীমা আরেককটু কাছে আসে শায়ানের। এক হাতে শায়ানের কোমর জড়িয়ে ধরে সে। চোখভরা দুষ্টুমি নিয়ে ঠোঁট টিপে হেসে বলে,
“ভালো লাগে… ”
কিছুসময় বাদে শায়ান ধীরে ধীরে উঠে বসলো। তার নড়াচড়ায় অরুনীমাও সজাগ হয়ে উঠে বসে। শায়ান উঠে দাঁড়িয়ে টি-শার্টটা একটু টেনেটুনে ঠিক করলো। তারপর স্বাভাবিক গলায় বলল,
“আমি বেডটা গুছিয়ে নিই আগে। তুই গিয়ে রান্না বসা।”
অরুনীমা থমকে গেলো। তার চোখে স্পষ্ট বিস্ময়,
“আমি?”
শায়ান হালকা হেসে বলল,
“হ্যাঁ, তুই। সিম্পল কিছু একটা রান্না কর। ভাত-ডাল তো পারবি এটলিস্ট!”
অরুনীমা একটু সংকোচে নিচের ঠোঁট কামড়ে ভাবতে লাগলো। সে আর রান্না! দুটো তো বিপরীত শব্দ! তাছাড়া ওভাবে কখনো ট্রাইও করা হয়নি। তবুও নিজের অদক্ষতাকে লুকাতে চাওয়ার প্রয়াস করতে নরম গলায় বলল,
“ইউটিউব দেখে করে দিচ্ছি… সমস্যা নেই। আমি যাই তাহলে।”
এই বলে অরুনীমা চলে যায়। তার চলে যাওয়ার পানে তাকিয়ে আছে শায়ান। বিস্মিত হয়ে রইলো সে। প্রায় হতবিহ্বল হয়েছে বলা চলে। অবশ্য হওয়ারই কথা। ভাত-ডালও নাকি ইউটিউব দেখে করবে! কি আজব কান্ড! এসব ভাবতে ভাবতেই একটু অদ্ভুতভাবে মাথা নেড়ে নিজেকে সামলে নিলো শায়ান। এই অদ্ভুত মিষ্টি বাস্তবতাকে মেনে নিতে শিখছে সে ধীরে ধীরে।
বেডের তোষক ঠিক করে, চাদর টেনে বিছানাটা পরিপাটি করতে করতে শায়ানের ঠোঁটের কোণে একটা হাসি লেগেই রইলো অরুনীমার কথা ভেবে। এই অগোছালো মেয়েটাই বোধহয় তার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর বিশৃঙ্খলা। যা সে খুশি খুশি মানতে প্রস্তুত। এসব মানতে একটুও দ্বিধা নেই শায়ানের। এটা ঠিক মেয়েটা হুটহাট শায়ানকে অবাক করে দেয় তার কর্মকান্ডে। কিন্তু শায়ান জানে, একটা গোছালো, শৃঙ্খল শায়ানের জীবনে একটা অগোছালো, বিশৃঙ্খল অরুনীমার খুব দরকার ছিলো। ভাবনার মাঝে রান্নাঘর থেকে অরুনীমার ডাক ভেসে এলো,
“শায়ান! ভাজি না অমলেট খাবি?”
শায়ান হাতের কাজ বহাল রেখে বালিশে কভার লাগাতে লাগাতে হালকা গলায় উত্তর দিলো,
“ভাজি কর। ডালের সাথে খেতে ভালো লাগবে।”
রান্নাঘরে তখন এক নতুন যুদ্ধ চলছে। ইউটিউবের ভিডিও আর অরুনীমার মনোযোগী আন্তরিক চেষ্টার এক অদ্ভুত মিশেল। গ্যাসের আগুনের সামনে দাঁড়িয়ে মেয়েটা নিজের অজান্তেই একটা নতুন জীবনের প্রথম পাঠ নিচ্ছে। যথাসম্ভব রান্না শেষ করে কিছুক্ষণ পর, ছোট্ট টেবিলের ওপর একে একে খাবার সাজিয়ে রাখতে লাগলো অরুনীমা। তার স্বভাবসুলভ অগোছালো ভঙ্গিতেই। এরই মধ্যে একবার পানির গ্লাস ফেলে দিয়েছে, আরেকবার ছোট বাটি ফেলে দিয়েছে। এসব দেখতে দেখতে অভ্যস্থ শায়ানের কোনো অসুবিধা হয় নি। তাই সে মুখ বুজে চুপ করে ছিলো আর হতাশ হয়ে দেখছিলো অরুনীমার আজব রকম কাজকারবার।
অবশ্য আজ অরুনীমা গর্বের সাথে ফিরেছে রান্নাঘর থেকে। যেন কিছু একটা উদ্ধার করে এসেছে সে। রান্না করা তার কাছে অসম্ভব একটি কাজ ছিলো। বিধায় প্রথমবার আশানুরূপ রান্না না হলেও খুব একটা খারাপ হয় নি অরুনীমা নিশ্চিত। নিজের মাথার ঘাম ফেলার ভঙ্গিতে উচ্ছসিত স্বরে অরুনীমা বলল,
“এই শায়ান! দেখ পেরেছি আমি। কুকিং অতটাও কঠিন না! ট্রাই করতে থাকলে আরও ভালো করে পারবো। তাই না বল?”
শায়ান মৃদু হেসে এগিয়ে এলো। তার চোখে একরাশ মুগ্ধতা স্ত্রীর প্রতি। খাবারের জন্য নয়, মেয়েটার সহজ সরল চেষ্টার জন্য। শায়ান স্নিগ্ধ হেসেই অরুনীমার কপালে শব্দ করে ঠোঁট ছোঁয়ালো বড্ড আবেগ নিয়ে।
এ-ই কদিনে এসব ছোটখাটো স্পর্শ নির্দিধায় দিয়ে ফেলে শায়ান। কারণ, ওর মধ্যে জড়তা কখনোই ছিলো না। আর এখন তো স্পর্শের মালিকানাও আছে তার। অরুনীমা যে ওর হয়ে গেছে।
তবে অরুনীমা এমন স্পর্শে একটু গুটিয়ে গেলো বটে। চোখ পিটপিট করে এদিক ওদিক তাকালো অস্বস্তিতে। দু-কাঁধ সংকুচিত করে একটু সরে দাঁড়ালো। নিজের ভেতরের অদ্ভুত উত্তাল অনুভুতি বুঝতেই নিজেকে দ্রুত সামলে নিলো সে। কারণ, এইসব স্পর্শ এখনো তার অভ্যাসে পরিণত হয়নি। শায়ানকে তো মেনেছে কিন্তু এই অনুভুতির মর্ম ঠাওর করতে পারেনি। তাই নিজেকে সামলে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলো অরুনীমা। শায়ান সেসব তার অগোচরেই লক্ষ্য করে অমলিন হাসে। অরুনীমা শায়ানের এসব কান্ডে খানিকটা তুতলে বলল,
"খে..খেতে বস! খাবার ঠান্ডা হয়ে যাবে নাহলে।"
শায়ান অরুনীমার অস্বস্তি টের পেলো। এই সামান্য ছোঁয়াতেই কেন যে এমন গুটিয়ে যায় মেয়েটা বুঝ আসে না তার। কিন্তু শায়ানের'ই বা কি করার? তারও তো ইচ্ছে হয় ভালোবাসার মানুষটাকে ছুঁতে, ভালোবাসতে। এত বিধিনিষেধ কেন মানবে সে। তবুও অরুনীমার সিদ্ধান্তকে চুড়ান্ত রেখে শায়ান এগোচ্ছে না। এগোবেও না। শায়ানও মনে মনে জেদ চাপিয়ে রেখেছে। যে, যেদিন অরুনীমা তাকে নিজের মুখে ভালোবাসার কথা স্বীকার করবে, সেদিন তাদের মধ্যে কোনো দুরত্ব থাকবে না। এরজন্য যত অপেক্ষা করতে হোক, শায়ান ধৈর্য্যের সহিত করবে। এবার অরুনীমার অস্বস্তি দূর করে প্রসঙ্গ বদলাতে শায়ান বলল,
"কি করেছি বল তো! ডাইনিং টেবিল কিনেছি কিন্তু কয়েকটা চেয়ার কেনা হয়নি। মনেও তো করালি না আমাকে! তোর তো নিচে বসে খেতে প্রবলেম হবে।"
অরুনীমা নিচে বসে প্লেটে ভাত বাড়তে বাড়তে ধিমি কন্ঠে বলল,
"আমার নিজেরই মনে ছিলো না চেয়ার কেনার কথা। আর আমার চিন্তা করিস না। আমার কোনো প্রবলেম হচ্ছে না।"
শায়ানও নিচে বসলো ছোট টেবিলটার কাছে। দুজন মুখোমুখি বসেছে টেবিলের বিপরীত প্রান্তে। অরুনীমা চুপচাপ ভাত বাড়ছে দেখে শায়ান গম্ভীর গলায় বলল,
"বিয়ে হওয়ার পর থেকে শুধু এডজাস্ট'ই করে যাচ্ছিস। বিরক্ত লাগছে না এসব?"
অরুনীমা এবার চোখ তুলে তাকালো শায়ানের দিকে। হাত থেমে গেছে চলমান খাবার পরিবেশনের কাজে। সব অস্বস্তি ঝেড়ে ফেলে দৃঢ় গলায় সে উত্তর দিলো,
"জানিস, তোকে নিয়ে না এ-ই কদিন আমি অনেক ভেবেছি! বুঝে শুনেই মেনেছি তোকে সারাজীবন একসাথে কাটাতে, হাসব্যান্ড ওয়াইফ হয়ে। সুতরাং, এডজাস্ট শব্দটা আমার সাথে যায় না। কারণ, আমরা কেউ অপরিচিত নই। তুই আমার অগোছা'লো, ইম্যাচিউ'র, ঝামে'লা আমিটাকে'ই গ্রহন করেছিস। আর আমি আমার গু'ড বয়, পারফেক্ট ম্যা'ন শায়ানকে। তাই এডজাস্টের শব্দটা ওঠাস না। আর ওঠালেও এডজাস্ট তুই করছিস আমার সাথে, আমি না। বিকজ, তুই ভালো কোনো মেয়ে ডিসার্ভ করিস। আমার মতো...."
শায়ানের রাগ হলো অরুনীমার কথায়। ও যা ইচ্ছে তা বলে যাচ্ছে কখন থেকে। শায়ানের অনুভূতি বুঝতে এখনো অপারগ অরুনীমা! তাই অরুনীমাকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে উচ্চস্বরে গমগমে গলায় শায়ান বলল,
"চুপ!! এত কথা বলে দিলি না বুঝেই! শোন তাহলে, আমি তোকেই ডিজার্ব করি, অরু! আমার তোকেই লাগবে! কজ, আই ওয়ান্ট ইয়্যু, আই লাভ ইয়্যু!! "
চলমান.......
[ কেমন লাগছে পর্বটি জানাবেন। গঠনমুলক মন্তব্য চাই সবার। সবাই রেসপন্স করবেন আশা করি। আর ভুল-ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং। ? ?]
[ কেমন লাগছে পর্বটি জানাবেন। গঠনমুলক মন্তব্য চাই সবার। সবাই রেসপন্স করবেন আশা করি। আর ভুল-ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং। ? ?]
