08-29-2026, 11:02 PM
পর্ব:০৫
শায়ান আজ ব্যাংক থেকে দুপুর বারোটার মধ্যেই হাফ টাইম কাজ করে বাড়িতে হাজির। সাথে পুরো সাত দিনের ছুটি পেয়েছে বিয়ে উপলক্ষে ম্যানেজারের পক্ষ থেকে উপহারস্বরুপ! শায়ান তো খুশিমনে বাড়িতে এসেছে সামান্য কিছু কেনাকাটা করে। ঘরে এসে বিছানায় শপিং ব্যাগগুলো রেখে দেয়। এরপর ধীরে ধীরে হাত চলে যায় শার্টের বোতামে। পরনের শার্ট খুলতে থাকে সে। বোতামগুলো খুলতে খুলতেই তার দৃষ্টি ঘুরে বেড়ায় চারপাশে। অরুনীমাকে খুঁজতে। না পেয়ে অরুনীমাকে ডেকে উঠে একবার,
“অরু?”
সাড়া না পেলে শায়ান এগিয়ে গিয়ে কিচেনে উঁকি দেয়, বারান্দায় তাকায়। কিন্তু নাহ, কোথাও নেই। ভ্রু কুঁচকে যায় তার। মেয়েটা গেলো কোথায় হঠাৎ?
ঠিক তখনই বাথরুমের দরজা খুলে মেয়েলী মৃদু গুনগুন সুর গাইতে গাইতে অরুনীমা বের হয়ে আসে।
অরুনীমা বেরিয়েছে মাত্রই, শরীরে কেবল ভেজা সাদা তোয়ালে জড়ানো। মাথার ভেজা চুলগুলো এলোমেলো হয়ে গলায় আর ঘাড়ে লেপ্টে ছড়িয়ে আছে। তার গায়ের হালকা জলের ফোঁটাগুলো শ্বেতবর্ণের দেহে চিকচিক করছে।
গলা পেয়ে অরুনীমার দিকে চোখ চলে যায় শায়ানের। মুহূর্তটা থেমে যায়। শায়ান সেদিকে তাকাতেই স্থির হয়ে যায়। শায়ান থমকে গিয়ে দেখতে থাকে মেয়েটাকে। ফর্সা হাঁটু উন্মুক্ত তার। এদিকে অরুনীমাও হতবিহ্বল হয়ে শায়ানকে দেখে। শায়ানের পরনে শুধু জিন্স প্যান্ট, উপরের অংশ উন্মুক্ত। কারণ শায়ান সবেই চেঞ্জ করছিলো।
পরিস্থিতি বুঝতে না বুঝতেই অরুনীমা দৌড়ে গিয়ে বাথরুমের দরজার পাশে ঝোলানো পর্দার আড়ালে লুকিয়ে পড়ে। শায়ান এখনো ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে। অরুনীমার অস্বস্তিতে গলা কাঁপে সামান্য,
“তুই এখন বাসায় কেন? তোর তো ব্যাংকে থাকার কথা!”
শায়ান একপেশে হালকা হাসি হেসে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসতে আসতে বলে,
“আজ হাফ টাইম ছিলো… আর পুরো এক সপ্তাহের ছুটি পেয়েছি।”
শায়ানের কাছে আসা টের পেতেই অরুনীমা তাড়াতাড়ি বলে ওঠে,
“এই এই! এদিকে এগিয়ে আসছিস কেন? দূরে থাক!”
কিন্তু শায়ান থামে না। বরং এক চিলতে দুষ্টু হেসে আরও কাছে এসে দাঁড়ায় অরুনীমার। তারপর পর্দাসহ মেয়েটাকে জাপটে জড়িয়ে ধরে। অরুনীমা ওই শক্ত বাহুবন্ধনীতে কেঁপে ওঠে। সে গুটিয়ে গিয়ে বলে,
“এসবের মানে কি শায়ান! ছাড় তো, ফাজলামি করবি না!”
শায়ান অরুনীমার গলায় লেপ্টে থাকা চুলগুলো সরাতে সরাতে হাস্কি কন্ঠে বলল,
"এসে গেছে!"
অবুঝ স্বরে অরুনীমা সুধায়,
"কে?"
শায়ান হালকা স্বরে বলে,
“মুড এসে গেছে!”
অরুনীমা কাঁপা কণ্ঠে বলে,
“না না… প্লিজ…”
শায়ান মুচকি হাসে।
“একটা চু'মু খেতে এটলিস্ট! এটুকু তো চাইতেই পারি?”
অরুনীমার অসহায় হয়ে কাতর গলায় বলে,
"উফ'ফ! এখন আবার কিসের চু'মু? কাল থেকে সারাদিন খালি চু'মুই খাচ্ছিস!"
শায়ান হালকা হেসে বলে,
"এগুলো তো কিছুই নয়। এর থেকেও বড় বড় চু'মু দেবো, ট্রাস্ট মি। ইয়্যু নো হোয়াট? আমি খুব ভালো চু'মু দিতে পারি!"
আর কোনো উত্তরের অপেক্ষা না করেই শায়ান ধীরে, খুব সংক্ষিপ্তভাবে প্রথমবারের মতো অরুনীমার ঠোঁটে আলতো করে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয়। এবং তা সেকেন্ডেরও কম সময়। আর তাতেই অরুনীমা বাকরুদ্ধ। সে খামচে ধরে শায়ানের কাঁধ। সেই ক্ষণটুকু যেন অরুনীমার ভেতরটা কাঁপিয়ে দেয়। সে নিস্তব্ধ হয়ে রয়। এই অনুভূতিও তার কাছে একেবারেই নতুন। সম্পুর্ন নতুন।
শায়ান আর কিছু না বলে। একরকম স্বাভাবিকতায় অরুকে সরিয়ে বাথরুমে ঢুকে যায়। এবার গোসল দেবে সে। আর অরুনীমা কিছুক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে অবুঝ ভঙ্গিতে। তারপর হঠাৎ নিজের হুঁশ ফিরে পেয়ে দ্রুত ঘরের ভেতর গিয়ে কাঁপা হাতে আলমারি খুলে জামাকাপড় নেয়। তার গাল লাল হয়ে উঠেছে ক্রমশ। অথচ তার রাগ হওয়া উচিত ছিলো! এখন রাগ কেন আসছে না তার? কি অস্বস্তিকর অসহ্য অনুভূতি!
------------------
মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশজুড়ে মেঘের গম্ভীর গর্জন। বাইরেটা অন্ধকার। দুপুর হলেও চারদিক এমন অন্ধকারে ঢাকা যে সময়টাকে বোঝাই যাচ্ছে না। মনে হয় সন্ধ্যা নেমে এসেছে অকালেই।
শায়ান সবে গোসল সেরে, ভেজা চুলে হাত বুলাতে বুলাতে ঘরে ঢুকলো। শরীরে শুধু একটা ট্রাউজার প্যান্ট। দরজার কাছে দাঁড়িয়েই তার চোখ থেমে গেলো বিছানার উপর বসে অরুনীমার দিকে। যে গভীর মনোযোগে নেইলপলিশ লাগাচ্ছে। আর মাঝে মাঝে অরুনীমা ফু দিচ্ছে নখে।
শায়ান এগিয়ে এসে তার পাশে বসে। হালকা করে তার বাহুতে ধাক্কা দিয়ে বলল,
"ওই, ঘুরতে যাবি?"
অরুনীমা নখে হালকা ফু দিয়ে শুকাতে শুকাতে বলল, "এই বৃষ্টিতে...কোথায়? আর কি উপলক্ষে?"
"মেঘ সরে যাচ্ছে। একটু পর কমে যাবে বৃষ্টি। ভাবছি ব্রিজের কাছে যাবো। আমাদের থ্রি মান্থ অ্যানিভার্সারি আজ, ভুলে গেলি?"
অরুনীমা একবার শায়ানের দিকে তাকিয়ে হালকা মাথা নেড়ে বলল,
" সরি, ভুলি গেছিলাম। আচ্ছা, যাবো।"
একটু থেমে শায়ান গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,
" আজকে একটু শাড়ি পরবি?"
অরুনীমা মুখ কুচকে তাকালো,
"পারলে তো! ওসব আমি পারি না।"
শায়ান যেন এই অপেক্ষাতেই ছিলো। তাই দ্রুত বলল,
"আমি পরিয়ে দেই।"
সরু চোখে তাকালো অরুনীমা।
"সুযোগ নিচ্ছিস!"
"তোর কাছ থেকে আবার কিসের সুযোগ? তুই পুরোটাই তো আমার।"
একটু নরম হেসে অরুনীমা উঠে দাঁড়ালো। কিছুক্ষণ পর ফিরে এলো বাকি কাপড় পরে। আর তারপর শায়ান ইউটিউব দেখে ধীরে, যত্ন করে তাকে শাড়ি পরিয়ে দিলো। পরানো শেষে অরুনীমা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখে বলল,
"এই... আমাকে তো সুন্দর লাগছে, তাই না?"
পেছন থেকে শায়ানের গলায় এক অদ্ভুত মুগ্ধতা,
"খুউউব!"
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে অরুনীমা বলল,
"ফার্স্ট টাইম শাড়ি পরলাম। তোর জন্য যে আর কী কী করতে হবে!"
শায়ান মৃদু হেসে বলল,
"সংসার করতে হবে আমার সাথে। ভালো বউ হতে হবে। আর আমাকে ভালোবাসতে হবে।"
কথাটা শুনে অরুনীমা চুপ হয়ে যায়। পিটপিট চোখে দেখতে থাকে শায়ানকে। এর মধ্যেই শায়ান শার্ট গায়ে দিতে শুরু করে বাইরে যাওয়ার জন্য। বোতামে হাত দিতেই অরুনীমা এগিয়ে এসে নিজের হাতে একে একে বোতাম লাগাতে লাগলো। অপ্রত্যাশিত কান্ড! শায়ান নিজেও অবাক হলো। কোমল গলায় অরুনীমা বলল,
"এই শায়ান! আমি সংসার করবো তোর সাথে। একটা ভালো বউ হবো তোর, দেখিস! আর..."
শায়ান কাতর হলো পরের কথাটা শুনতে,
"আর?"
অরুনীমা একটু লজ্জালু কন্ঠে বলল,
"আর তোকে খুব খুব খুব ভালোবাসবো।
শায়ান স্নিগ্ধ হেসে উঠলো,
"ভালোবাসা বুঝিস তুই?"
অরুনীমা একটু থেমে নিজের অনুভূতিগুলো গুছিয়ে বলল,
"কী জানি! তবে একটা জিনিস বুঝেছি... আমাদের বন্ধুত্ব আর স্বামী-স্ত্রীর অনুভূতি এক না। এই যেমন, তুই কাছে আসলে আমার হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, তুই চু'মু দিলে আমি লজ্জা পাই। তোর জন্য রান্না করতে ভালো লাগে। তুই আমার কেয়ার করলে তখন তোকেও ভালো লাগে। আর জানিস, তুই ঘুমালে আমি তোকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখি।"
শায়ান আরও অবাক হয়। অরুনীমা একটু থেমে শায়ানের চোখে চোখ রেখে মৃদু স্বরে বলল,
"এখন কেমন যেনো তোকে অন্যরকম ভালো লাগে আমার। এইসব বিয়ের পর থেকে হচ্ছে। আগে তো এমন লাগতো না। তাহলে এগুলোকে কি বলে?"
শায়ান কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো। তারপর সব বুঝতেই ধীরে ধীরে তার ঠোঁটে এক উজ্জ্বল হাসি ফুটলো। প্রাপ্তির হাসি। অস্থির হয়ে শায়ান বলল,
"কি করে ফেলেছিস, অরু! আমাকে লুকিয়ে দেখিস তুই! আর আমাকে তোর ভালো লাগে?"
অরুনীমা মাথা নেড়ে হেসে বলল,
"হু। এটা কি ভালোবাসা?"
হঠাৎ করেই শায়ান তাকে দুহাতে তুলে নিলো। অরুনীমাও চমকে গলা জড়িয়ে ধরলো শায়ানের। শায়ান অরুনীমাকে কোলে তুলে ঘোরালো ঘরের মাঝখানে। এমন কান্ডে ফিচ করে হেসে ফেলে অরুনীমা। কিছুক্ষণ পর থেমে শায়ান উচ্ছ্বসিত হয়ে অরুনীমাকে বলল,
"ডেফিনেট'লি… এটাই ভালোবাসা।"
অরুনীমা নিজেও অবাক হয়ে শায়ানের গালে হাত রেখে জানতে চায়,
"এই শায়ান! তার মানে কি ভালোবাসা হয়ে গেছে? "
শায়ান স্নিগ্ধ হাসলো। চোখ দুটো ছলছল করছে তার। এরপর শায়ান অরুনীমার কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিয়ে বলল,
"হয়ে গেছে!"
______________|| সমাপ্ত ||________________
[ কেমন লাগছে পর্বটি জানাবেন। গঠনমুলক মন্তব্য চাই সবার। সবাই রেসপন্স করবেন আশা করি। আর ভুল-ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং। ? ?]
শায়ান আজ ব্যাংক থেকে দুপুর বারোটার মধ্যেই হাফ টাইম কাজ করে বাড়িতে হাজির। সাথে পুরো সাত দিনের ছুটি পেয়েছে বিয়ে উপলক্ষে ম্যানেজারের পক্ষ থেকে উপহারস্বরুপ! শায়ান তো খুশিমনে বাড়িতে এসেছে সামান্য কিছু কেনাকাটা করে। ঘরে এসে বিছানায় শপিং ব্যাগগুলো রেখে দেয়। এরপর ধীরে ধীরে হাত চলে যায় শার্টের বোতামে। পরনের শার্ট খুলতে থাকে সে। বোতামগুলো খুলতে খুলতেই তার দৃষ্টি ঘুরে বেড়ায় চারপাশে। অরুনীমাকে খুঁজতে। না পেয়ে অরুনীমাকে ডেকে উঠে একবার,
“অরু?”
সাড়া না পেলে শায়ান এগিয়ে গিয়ে কিচেনে উঁকি দেয়, বারান্দায় তাকায়। কিন্তু নাহ, কোথাও নেই। ভ্রু কুঁচকে যায় তার। মেয়েটা গেলো কোথায় হঠাৎ?
ঠিক তখনই বাথরুমের দরজা খুলে মেয়েলী মৃদু গুনগুন সুর গাইতে গাইতে অরুনীমা বের হয়ে আসে।
অরুনীমা বেরিয়েছে মাত্রই, শরীরে কেবল ভেজা সাদা তোয়ালে জড়ানো। মাথার ভেজা চুলগুলো এলোমেলো হয়ে গলায় আর ঘাড়ে লেপ্টে ছড়িয়ে আছে। তার গায়ের হালকা জলের ফোঁটাগুলো শ্বেতবর্ণের দেহে চিকচিক করছে।
গলা পেয়ে অরুনীমার দিকে চোখ চলে যায় শায়ানের। মুহূর্তটা থেমে যায়। শায়ান সেদিকে তাকাতেই স্থির হয়ে যায়। শায়ান থমকে গিয়ে দেখতে থাকে মেয়েটাকে। ফর্সা হাঁটু উন্মুক্ত তার। এদিকে অরুনীমাও হতবিহ্বল হয়ে শায়ানকে দেখে। শায়ানের পরনে শুধু জিন্স প্যান্ট, উপরের অংশ উন্মুক্ত। কারণ শায়ান সবেই চেঞ্জ করছিলো।
পরিস্থিতি বুঝতে না বুঝতেই অরুনীমা দৌড়ে গিয়ে বাথরুমের দরজার পাশে ঝোলানো পর্দার আড়ালে লুকিয়ে পড়ে। শায়ান এখনো ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে। অরুনীমার অস্বস্তিতে গলা কাঁপে সামান্য,
“তুই এখন বাসায় কেন? তোর তো ব্যাংকে থাকার কথা!”
শায়ান একপেশে হালকা হাসি হেসে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসতে আসতে বলে,
“আজ হাফ টাইম ছিলো… আর পুরো এক সপ্তাহের ছুটি পেয়েছি।”
শায়ানের কাছে আসা টের পেতেই অরুনীমা তাড়াতাড়ি বলে ওঠে,
“এই এই! এদিকে এগিয়ে আসছিস কেন? দূরে থাক!”
কিন্তু শায়ান থামে না। বরং এক চিলতে দুষ্টু হেসে আরও কাছে এসে দাঁড়ায় অরুনীমার। তারপর পর্দাসহ মেয়েটাকে জাপটে জড়িয়ে ধরে। অরুনীমা ওই শক্ত বাহুবন্ধনীতে কেঁপে ওঠে। সে গুটিয়ে গিয়ে বলে,
“এসবের মানে কি শায়ান! ছাড় তো, ফাজলামি করবি না!”
শায়ান অরুনীমার গলায় লেপ্টে থাকা চুলগুলো সরাতে সরাতে হাস্কি কন্ঠে বলল,
"এসে গেছে!"
অবুঝ স্বরে অরুনীমা সুধায়,
"কে?"
শায়ান হালকা স্বরে বলে,
“মুড এসে গেছে!”
অরুনীমা কাঁপা কণ্ঠে বলে,
“না না… প্লিজ…”
শায়ান মুচকি হাসে।
“একটা চু'মু খেতে এটলিস্ট! এটুকু তো চাইতেই পারি?”
অরুনীমার অসহায় হয়ে কাতর গলায় বলে,
"উফ'ফ! এখন আবার কিসের চু'মু? কাল থেকে সারাদিন খালি চু'মুই খাচ্ছিস!"
শায়ান হালকা হেসে বলে,
"এগুলো তো কিছুই নয়। এর থেকেও বড় বড় চু'মু দেবো, ট্রাস্ট মি। ইয়্যু নো হোয়াট? আমি খুব ভালো চু'মু দিতে পারি!"
আর কোনো উত্তরের অপেক্ষা না করেই শায়ান ধীরে, খুব সংক্ষিপ্তভাবে প্রথমবারের মতো অরুনীমার ঠোঁটে আলতো করে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয়। এবং তা সেকেন্ডেরও কম সময়। আর তাতেই অরুনীমা বাকরুদ্ধ। সে খামচে ধরে শায়ানের কাঁধ। সেই ক্ষণটুকু যেন অরুনীমার ভেতরটা কাঁপিয়ে দেয়। সে নিস্তব্ধ হয়ে রয়। এই অনুভূতিও তার কাছে একেবারেই নতুন। সম্পুর্ন নতুন।
শায়ান আর কিছু না বলে। একরকম স্বাভাবিকতায় অরুকে সরিয়ে বাথরুমে ঢুকে যায়। এবার গোসল দেবে সে। আর অরুনীমা কিছুক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে অবুঝ ভঙ্গিতে। তারপর হঠাৎ নিজের হুঁশ ফিরে পেয়ে দ্রুত ঘরের ভেতর গিয়ে কাঁপা হাতে আলমারি খুলে জামাকাপড় নেয়। তার গাল লাল হয়ে উঠেছে ক্রমশ। অথচ তার রাগ হওয়া উচিত ছিলো! এখন রাগ কেন আসছে না তার? কি অস্বস্তিকর অসহ্য অনুভূতি!
------------------
মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশজুড়ে মেঘের গম্ভীর গর্জন। বাইরেটা অন্ধকার। দুপুর হলেও চারদিক এমন অন্ধকারে ঢাকা যে সময়টাকে বোঝাই যাচ্ছে না। মনে হয় সন্ধ্যা নেমে এসেছে অকালেই।
শায়ান সবে গোসল সেরে, ভেজা চুলে হাত বুলাতে বুলাতে ঘরে ঢুকলো। শরীরে শুধু একটা ট্রাউজার প্যান্ট। দরজার কাছে দাঁড়িয়েই তার চোখ থেমে গেলো বিছানার উপর বসে অরুনীমার দিকে। যে গভীর মনোযোগে নেইলপলিশ লাগাচ্ছে। আর মাঝে মাঝে অরুনীমা ফু দিচ্ছে নখে।
শায়ান এগিয়ে এসে তার পাশে বসে। হালকা করে তার বাহুতে ধাক্কা দিয়ে বলল,
"ওই, ঘুরতে যাবি?"
অরুনীমা নখে হালকা ফু দিয়ে শুকাতে শুকাতে বলল, "এই বৃষ্টিতে...কোথায়? আর কি উপলক্ষে?"
"মেঘ সরে যাচ্ছে। একটু পর কমে যাবে বৃষ্টি। ভাবছি ব্রিজের কাছে যাবো। আমাদের থ্রি মান্থ অ্যানিভার্সারি আজ, ভুলে গেলি?"
অরুনীমা একবার শায়ানের দিকে তাকিয়ে হালকা মাথা নেড়ে বলল,
" সরি, ভুলি গেছিলাম। আচ্ছা, যাবো।"
একটু থেমে শায়ান গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,
" আজকে একটু শাড়ি পরবি?"
অরুনীমা মুখ কুচকে তাকালো,
"পারলে তো! ওসব আমি পারি না।"
শায়ান যেন এই অপেক্ষাতেই ছিলো। তাই দ্রুত বলল,
"আমি পরিয়ে দেই।"
সরু চোখে তাকালো অরুনীমা।
"সুযোগ নিচ্ছিস!"
"তোর কাছ থেকে আবার কিসের সুযোগ? তুই পুরোটাই তো আমার।"
একটু নরম হেসে অরুনীমা উঠে দাঁড়ালো। কিছুক্ষণ পর ফিরে এলো বাকি কাপড় পরে। আর তারপর শায়ান ইউটিউব দেখে ধীরে, যত্ন করে তাকে শাড়ি পরিয়ে দিলো। পরানো শেষে অরুনীমা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখে বলল,
"এই... আমাকে তো সুন্দর লাগছে, তাই না?"
পেছন থেকে শায়ানের গলায় এক অদ্ভুত মুগ্ধতা,
"খুউউব!"
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে অরুনীমা বলল,
"ফার্স্ট টাইম শাড়ি পরলাম। তোর জন্য যে আর কী কী করতে হবে!"
শায়ান মৃদু হেসে বলল,
"সংসার করতে হবে আমার সাথে। ভালো বউ হতে হবে। আর আমাকে ভালোবাসতে হবে।"
কথাটা শুনে অরুনীমা চুপ হয়ে যায়। পিটপিট চোখে দেখতে থাকে শায়ানকে। এর মধ্যেই শায়ান শার্ট গায়ে দিতে শুরু করে বাইরে যাওয়ার জন্য। বোতামে হাত দিতেই অরুনীমা এগিয়ে এসে নিজের হাতে একে একে বোতাম লাগাতে লাগলো। অপ্রত্যাশিত কান্ড! শায়ান নিজেও অবাক হলো। কোমল গলায় অরুনীমা বলল,
"এই শায়ান! আমি সংসার করবো তোর সাথে। একটা ভালো বউ হবো তোর, দেখিস! আর..."
শায়ান কাতর হলো পরের কথাটা শুনতে,
"আর?"
অরুনীমা একটু লজ্জালু কন্ঠে বলল,
"আর তোকে খুব খুব খুব ভালোবাসবো।
শায়ান স্নিগ্ধ হেসে উঠলো,
"ভালোবাসা বুঝিস তুই?"
অরুনীমা একটু থেমে নিজের অনুভূতিগুলো গুছিয়ে বলল,
"কী জানি! তবে একটা জিনিস বুঝেছি... আমাদের বন্ধুত্ব আর স্বামী-স্ত্রীর অনুভূতি এক না। এই যেমন, তুই কাছে আসলে আমার হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, তুই চু'মু দিলে আমি লজ্জা পাই। তোর জন্য রান্না করতে ভালো লাগে। তুই আমার কেয়ার করলে তখন তোকেও ভালো লাগে। আর জানিস, তুই ঘুমালে আমি তোকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখি।"
শায়ান আরও অবাক হয়। অরুনীমা একটু থেমে শায়ানের চোখে চোখ রেখে মৃদু স্বরে বলল,
"এখন কেমন যেনো তোকে অন্যরকম ভালো লাগে আমার। এইসব বিয়ের পর থেকে হচ্ছে। আগে তো এমন লাগতো না। তাহলে এগুলোকে কি বলে?"
শায়ান কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো। তারপর সব বুঝতেই ধীরে ধীরে তার ঠোঁটে এক উজ্জ্বল হাসি ফুটলো। প্রাপ্তির হাসি। অস্থির হয়ে শায়ান বলল,
"কি করে ফেলেছিস, অরু! আমাকে লুকিয়ে দেখিস তুই! আর আমাকে তোর ভালো লাগে?"
অরুনীমা মাথা নেড়ে হেসে বলল,
"হু। এটা কি ভালোবাসা?"
হঠাৎ করেই শায়ান তাকে দুহাতে তুলে নিলো। অরুনীমাও চমকে গলা জড়িয়ে ধরলো শায়ানের। শায়ান অরুনীমাকে কোলে তুলে ঘোরালো ঘরের মাঝখানে। এমন কান্ডে ফিচ করে হেসে ফেলে অরুনীমা। কিছুক্ষণ পর থেমে শায়ান উচ্ছ্বসিত হয়ে অরুনীমাকে বলল,
"ডেফিনেট'লি… এটাই ভালোবাসা।"
অরুনীমা নিজেও অবাক হয়ে শায়ানের গালে হাত রেখে জানতে চায়,
"এই শায়ান! তার মানে কি ভালোবাসা হয়ে গেছে? "
শায়ান স্নিগ্ধ হাসলো। চোখ দুটো ছলছল করছে তার। এরপর শায়ান অরুনীমার কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিয়ে বলল,
"হয়ে গেছে!"
______________|| সমাপ্ত ||________________
[ কেমন লাগছে পর্বটি জানাবেন। গঠনমুলক মন্তব্য চাই সবার। সবাই রেসপন্স করবেন আশা করি। আর ভুল-ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং। ? ?]
