Yesterday, 08:55 AM
রাত প্রায় সাড়ে বারোটা। এনির রুমে হালকা আলো জ্বলছিল। শিমু বিছানার কিনারায় বসেছিল। কালো ছাপা শার্টটা গায়ে, নিচে শুধু বেগুনি প্যান্টি। বেগুনি ব্রাটা এখনো পরার ছিল। শার্টের বোতামগুলো সব বন্ধ। তবুও বুকের ভারী দুধ দুটোর চাপে শার্টের কাপড় টানটান হয়ে উঠেছিল। নিপলের দাগ কাপড়ের উপর দিয়ে হালকা উঁচু হয়ে দেখা যাচ্ছিল।
শিমু হঠাৎ করে এনির দিকে তাকাল।
“এনি, আমি আজ রাতেই বাবার বাড়ি চলে যাচ্ছি।”
এনি বিছানায় শুয়ে মোবাইল দেখছিল। কথাটা শুনে উঠে বসল।
“কী বললি? রাত সাড়ে বারোটা বেজে গেছে। এখন কোথায় যাবি?”
শিমু শার্টের হাতা একটু টেনে বলল, “এখানে আর ভালো লাগছে না। মেয়েদের কলরব, ছোট রুম… মন বসছে না। আমি এখনই রওনা দেব।”
এনি উঠে এসে তার পাশে বসল।
“তুই পাগল নাকি? রাতের বেলা একা বাইরে বেরোবি? কাল সকালে গেলেই হয়। আমি তোকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত পৌঁছে দেব।”
শিমু মাথা নাড়ল। গলায় সেই পুরনো তেজ চলে এল।
“না। আমি এখনই যাব। তোর কথা শুনব না। মনিরুলকেও শুনিনি, তোকেও শুনব না।”
এনি তার হাত ধরে বলল, “শিমু, শোন। রাতের বেলা গলি-রাস্তা ফাঁকা থাকে। তোর শরীর… তুই জানিস লোকজন কেমন তাকায়। দিনের বেলা যা। আমি রিক্সা ডেকে দেব সকালে।”
শিমু হাত ছাড়িয়ে নিল। উঠে দাঁড়াল। শার্টের ভেতর দুধ দুটো তার নড়াচড়ায় ভারী ভারী দুলল। বোতাম বন্ধ থাকা সত্ত্বেও বুকের উঁচু অংশ স্পষ্ট ফুটে উঠেছিল।
“আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি। তুই আমাকে আটকাতে পারবি না।”
এনি আরও কিছু বলতে গিয়ে থেমে গেল। শিমুর চোখের দৃষ্টি দেখে বুঝল ও আর মানবে না। শিমু ব্যাগটা হাতে নিল। জিন্স পরে নিল। শার্টের বোতামগুলো আবার একবার চেক করল— সব বন্ধ। ওড়নাটা কাঁধে দিল। তারপর এনির দিকে তাকিয়ে বলল,
“চাবিটা খুলে দে।”
এনি অনিচ্ছা সত্ত্বেও দরজা খুলে দিল। শিমু বেরিয়ে গেল। সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে তার জিন্সের ভেতর পাছার গোল অংশ দুলছিল। শার্টের ভেতর বেগুনি ব্রার উপর দুধ দুটো ভারী হয়ে নড়ছিল।
এনির ফ্ল্যাটের সামনের গলিটা রাতের বেলা প্রায় অন্ধকার। একপাশে উঁচু দেয়াল, অন্যপাশে বন্ধ দোকান। আলোর অভাব। শিমু দ্রুত হেঁটে মেইন রোডের দিকে যাচ্ছিল। শার্টের বোতাম সব বন্ধ থাকলেও বুকের ভারে কাপড় টানটান। দুধ দুটো হাঁটার সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট দুলছিল। নিপলের দাগ শার্টের উপর দিয়ে উঁচু হয়ে আছে।
গলিটার মাঝামাঝি এসে সে হঠাৎ থেমে গেল। সামনে থেকে তিনজন পুরুষ এগিয়ে আসছিল। বয়স কুড়ি থেকে ত্রিশের মধ্যে। একজনের গায়ে নোংরা গেঞ্জি, অন্য দুজনের শার্ট খোলা। হাতে সিগারেট। তারা শিমুকে দেখেই গতি কমিয়ে দিল। চোখ সোজা তার বুকের দিকে গিয়ে আটকে গেল।
একজন নিচু গলায় বলল, “ও মাগো… এত রাতে একা মাগি বেরিয়েছে নাকি?”
শিমু দ্রুত পা বাড়াল। কিন্তু লোকগুলো সামনে এসে রাস্তা আটকে দাঁড়াল। একজন সামনে, দুজন দুই পাশে।
“কই যাচ্ছিস এত রাতে মাগি? স্বামী ঘরে রেখে একা বেরিয়েছিস মানে কিচ্ছু একটা নেশা আছে।”
শিমু রাগে বলল, “সর। রাস্তা ছেড়ে দে। নাহলে চিৎকার করব।”
লোকটা হাসল। দাঁত বের করে বলল, “চিৎকার কর। এত রাতে কেউ আসবে না। আগে দেখি তোর এত বড় দুধগুলা আসল কিনা।”
কথা শেষ হতে না হতেই পেছন থেকে একজন এসে শিমুর দুই হাত শক্ত করে পেছন দিকে মোচড় দিয়ে ধরল। শিমু ছটফট করতে লাগল।
“ছাড় হারামজাদা! ছাড়!”
সামনের লোকটা দুই হাত বাড়িয়ে শিমুর বুকে চাপড় দিয়ে ধরল। শার্টের উপর দিয়েই দুটো বিশাল দুধ মুঠো করে চেপে ধরল। আঙুলের ফাঁকে দুধের মাংস বেরিয়ে আসছিল। সে জোরে চেপে বলল,
“উফ্ফো মাগি… কী দুধ পাল্লাইছোস। হাত ডুবে যাচ্ছে। এত ভারী দুধ নিয়ে একা হাঁটতিস কেন?”
শিমু চিৎকার করল। পেছনের লোকটা এক হাতে তার মুখ চেপে ধরল। অন্য হাতে কোমর জাপটে ধরল।
সামনের লোকটা এবার শার্টের বোতাম না খুলেই দুধ দুটোকে শার্টের উপর দিয়ে বেধড়ক টিপতে লাগল। আঙুল দিয়ে নিপলের দলাটাকে মোচড়াতে লাগল। উপরে-নিচে নাড়তে লাগল। অন্য একজন এসে অন্যদিকের দুধটা মুঠো করে চেপে ধরল। দুজনে মিলে শিমুর দুধ দুটোকে শার্টের কাপড়ের উপর দিয়েই চেপে, মোচড়িয়ে, টানতে লাগল।
“দেখ সালারা… কী নরম দুধ। শার্টের উপর দিয়েই বোঝা যাচ্ছে কতখানি ভারী।”
“এত বড় দুধ নিয়ে একা বেরিয়েছিস মানে স্বামী কি তোকে ঠিকমতো চোদে না নাকি? তাই নেশায় বেরিয়েছিস?”
শিমু ব্যথায় কেঁদে উঠছিল। পা দিয়ে লাথি মারার চেষ্টা করছিল। কিন্তু পেছনের লোকটা তার জিন্সের ভেতর হাত ঢুকিয়ে পাছা শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছিল। আঙুল দিয়ে পাছার ফাঁক ঘষছিল।
তিনজনে মিলে শিমুর শরীর নিয়ে খেলছিল। একজন দুধ চেপে চেপে বলছিল,
“এই মাগির দুধ তো দুধ না, যেন দুইটা লম্বা কদু। চেপে ধরলে হাত ডুবে যায়। এত রাতে একা বেরোলে এমনই হয়।”
আরেকজন নিপল শার্টের উপর দিয়ে মুখে নেওয়ার চেষ্টা করল। শিমু মাথা ঘুরিয়ে দিল। লোকটা রেগে গিয়ে তার গালে জোরে চড় মারল।
“সোজা হয়ে দাঁড়া মাগি। দুধ চোষতে দিবি।”
এমনি সময় গলির মুখ থেকে রিকশার ঘণ্টি বেজে উঠল। একটা রিকশা আসছিল। হেডলাইটের আলো গলির ভেতর ঢুকে পড়ল। তাতে দুজন যাত্রী বসা।
তিনজন লোক হঠাৎ থেমে গেল। আলোর চোখে তাদের মুখ দেখা গেল। তারা দ্রুত শিমুর শার্ট ঠিক করে দিল। একজন বলল,
“চল সালারা… পরে দেখা হবে এই মাগির সঙ্গে। এত বড় দুধ এমনি ছাড়ব না।”
তারা দৌড়ে গলির অন্যদিক দিয়ে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।
রিকশাওয়ালা কাছে এসে থামল। “কী হয়েছে আপু? ওরা কিছু করেছে নাকি?”
শিমু কাঁপতে কাঁপতে ওড়না দিয়ে বুক চেপে ধরল। গলা দিয়ে কথা বেরোচ্ছিল না। তার দুধ এখনো ব্যথা করছিল। শার্টের কাপড় ভিজে গেছে ঘামে আর লোকগুলোর হাতের ছাপে। নিপল দুটো এখনো শক্ত হয়ে উঁচু হয়ে আছে।
রিকশাওয়ালা বলল, “উঠেন। কোথায় যাবেন?”
শিমু কাঁপা গলায় বলল, “বাসস্ট্যান্ড… দ্রুত নিয়ে চলুন।”
রিকশায় উঠে সে পেছন ফিরে তাকাল। গলি ফাঁকা। যারা তাকে ধরে দুধ চেপেছিল, তারা অন্ধকারে মিলিয়ে গেছে। রিকশা চলতে শুরু করল। শিমু ওড়না দিয়ে বুক চেপে ধরে বসে রইল। তার মনে হচ্ছিল ওই তিনজনের হাত এখনো তার দুধের উপর আছে— শার্টের উপর দিয়ে চেপে ধরে আছে, মোচড়াচ্ছে, টানছে।
রিকশা বাসস্ট্যান্ডের দিকে চলছিল। রাতের রাস্তা প্রায় ফাঁকা।
শিমু হঠাৎ করে এনির দিকে তাকাল।
“এনি, আমি আজ রাতেই বাবার বাড়ি চলে যাচ্ছি।”
এনি বিছানায় শুয়ে মোবাইল দেখছিল। কথাটা শুনে উঠে বসল।
“কী বললি? রাত সাড়ে বারোটা বেজে গেছে। এখন কোথায় যাবি?”
শিমু শার্টের হাতা একটু টেনে বলল, “এখানে আর ভালো লাগছে না। মেয়েদের কলরব, ছোট রুম… মন বসছে না। আমি এখনই রওনা দেব।”
এনি উঠে এসে তার পাশে বসল।
“তুই পাগল নাকি? রাতের বেলা একা বাইরে বেরোবি? কাল সকালে গেলেই হয়। আমি তোকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত পৌঁছে দেব।”
শিমু মাথা নাড়ল। গলায় সেই পুরনো তেজ চলে এল।
“না। আমি এখনই যাব। তোর কথা শুনব না। মনিরুলকেও শুনিনি, তোকেও শুনব না।”
এনি তার হাত ধরে বলল, “শিমু, শোন। রাতের বেলা গলি-রাস্তা ফাঁকা থাকে। তোর শরীর… তুই জানিস লোকজন কেমন তাকায়। দিনের বেলা যা। আমি রিক্সা ডেকে দেব সকালে।”
শিমু হাত ছাড়িয়ে নিল। উঠে দাঁড়াল। শার্টের ভেতর দুধ দুটো তার নড়াচড়ায় ভারী ভারী দুলল। বোতাম বন্ধ থাকা সত্ত্বেও বুকের উঁচু অংশ স্পষ্ট ফুটে উঠেছিল।
“আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি। তুই আমাকে আটকাতে পারবি না।”
এনি আরও কিছু বলতে গিয়ে থেমে গেল। শিমুর চোখের দৃষ্টি দেখে বুঝল ও আর মানবে না। শিমু ব্যাগটা হাতে নিল। জিন্স পরে নিল। শার্টের বোতামগুলো আবার একবার চেক করল— সব বন্ধ। ওড়নাটা কাঁধে দিল। তারপর এনির দিকে তাকিয়ে বলল,
“চাবিটা খুলে দে।”
এনি অনিচ্ছা সত্ত্বেও দরজা খুলে দিল। শিমু বেরিয়ে গেল। সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে তার জিন্সের ভেতর পাছার গোল অংশ দুলছিল। শার্টের ভেতর বেগুনি ব্রার উপর দুধ দুটো ভারী হয়ে নড়ছিল।
এনির ফ্ল্যাটের সামনের গলিটা রাতের বেলা প্রায় অন্ধকার। একপাশে উঁচু দেয়াল, অন্যপাশে বন্ধ দোকান। আলোর অভাব। শিমু দ্রুত হেঁটে মেইন রোডের দিকে যাচ্ছিল। শার্টের বোতাম সব বন্ধ থাকলেও বুকের ভারে কাপড় টানটান। দুধ দুটো হাঁটার সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট দুলছিল। নিপলের দাগ শার্টের উপর দিয়ে উঁচু হয়ে আছে।
গলিটার মাঝামাঝি এসে সে হঠাৎ থেমে গেল। সামনে থেকে তিনজন পুরুষ এগিয়ে আসছিল। বয়স কুড়ি থেকে ত্রিশের মধ্যে। একজনের গায়ে নোংরা গেঞ্জি, অন্য দুজনের শার্ট খোলা। হাতে সিগারেট। তারা শিমুকে দেখেই গতি কমিয়ে দিল। চোখ সোজা তার বুকের দিকে গিয়ে আটকে গেল।
একজন নিচু গলায় বলল, “ও মাগো… এত রাতে একা মাগি বেরিয়েছে নাকি?”
শিমু দ্রুত পা বাড়াল। কিন্তু লোকগুলো সামনে এসে রাস্তা আটকে দাঁড়াল। একজন সামনে, দুজন দুই পাশে।
“কই যাচ্ছিস এত রাতে মাগি? স্বামী ঘরে রেখে একা বেরিয়েছিস মানে কিচ্ছু একটা নেশা আছে।”
শিমু রাগে বলল, “সর। রাস্তা ছেড়ে দে। নাহলে চিৎকার করব।”
লোকটা হাসল। দাঁত বের করে বলল, “চিৎকার কর। এত রাতে কেউ আসবে না। আগে দেখি তোর এত বড় দুধগুলা আসল কিনা।”
কথা শেষ হতে না হতেই পেছন থেকে একজন এসে শিমুর দুই হাত শক্ত করে পেছন দিকে মোচড় দিয়ে ধরল। শিমু ছটফট করতে লাগল।
“ছাড় হারামজাদা! ছাড়!”
সামনের লোকটা দুই হাত বাড়িয়ে শিমুর বুকে চাপড় দিয়ে ধরল। শার্টের উপর দিয়েই দুটো বিশাল দুধ মুঠো করে চেপে ধরল। আঙুলের ফাঁকে দুধের মাংস বেরিয়ে আসছিল। সে জোরে চেপে বলল,
“উফ্ফো মাগি… কী দুধ পাল্লাইছোস। হাত ডুবে যাচ্ছে। এত ভারী দুধ নিয়ে একা হাঁটতিস কেন?”
শিমু চিৎকার করল। পেছনের লোকটা এক হাতে তার মুখ চেপে ধরল। অন্য হাতে কোমর জাপটে ধরল।
সামনের লোকটা এবার শার্টের বোতাম না খুলেই দুধ দুটোকে শার্টের উপর দিয়ে বেধড়ক টিপতে লাগল। আঙুল দিয়ে নিপলের দলাটাকে মোচড়াতে লাগল। উপরে-নিচে নাড়তে লাগল। অন্য একজন এসে অন্যদিকের দুধটা মুঠো করে চেপে ধরল। দুজনে মিলে শিমুর দুধ দুটোকে শার্টের কাপড়ের উপর দিয়েই চেপে, মোচড়িয়ে, টানতে লাগল।
“দেখ সালারা… কী নরম দুধ। শার্টের উপর দিয়েই বোঝা যাচ্ছে কতখানি ভারী।”
“এত বড় দুধ নিয়ে একা বেরিয়েছিস মানে স্বামী কি তোকে ঠিকমতো চোদে না নাকি? তাই নেশায় বেরিয়েছিস?”
শিমু ব্যথায় কেঁদে উঠছিল। পা দিয়ে লাথি মারার চেষ্টা করছিল। কিন্তু পেছনের লোকটা তার জিন্সের ভেতর হাত ঢুকিয়ে পাছা শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছিল। আঙুল দিয়ে পাছার ফাঁক ঘষছিল।
তিনজনে মিলে শিমুর শরীর নিয়ে খেলছিল। একজন দুধ চেপে চেপে বলছিল,
“এই মাগির দুধ তো দুধ না, যেন দুইটা লম্বা কদু। চেপে ধরলে হাত ডুবে যায়। এত রাতে একা বেরোলে এমনই হয়।”
আরেকজন নিপল শার্টের উপর দিয়ে মুখে নেওয়ার চেষ্টা করল। শিমু মাথা ঘুরিয়ে দিল। লোকটা রেগে গিয়ে তার গালে জোরে চড় মারল।
“সোজা হয়ে দাঁড়া মাগি। দুধ চোষতে দিবি।”
এমনি সময় গলির মুখ থেকে রিকশার ঘণ্টি বেজে উঠল। একটা রিকশা আসছিল। হেডলাইটের আলো গলির ভেতর ঢুকে পড়ল। তাতে দুজন যাত্রী বসা।
তিনজন লোক হঠাৎ থেমে গেল। আলোর চোখে তাদের মুখ দেখা গেল। তারা দ্রুত শিমুর শার্ট ঠিক করে দিল। একজন বলল,
“চল সালারা… পরে দেখা হবে এই মাগির সঙ্গে। এত বড় দুধ এমনি ছাড়ব না।”
তারা দৌড়ে গলির অন্যদিক দিয়ে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।
রিকশাওয়ালা কাছে এসে থামল। “কী হয়েছে আপু? ওরা কিছু করেছে নাকি?”
শিমু কাঁপতে কাঁপতে ওড়না দিয়ে বুক চেপে ধরল। গলা দিয়ে কথা বেরোচ্ছিল না। তার দুধ এখনো ব্যথা করছিল। শার্টের কাপড় ভিজে গেছে ঘামে আর লোকগুলোর হাতের ছাপে। নিপল দুটো এখনো শক্ত হয়ে উঁচু হয়ে আছে।
রিকশাওয়ালা বলল, “উঠেন। কোথায় যাবেন?”
শিমু কাঁপা গলায় বলল, “বাসস্ট্যান্ড… দ্রুত নিয়ে চলুন।”
রিকশায় উঠে সে পেছন ফিরে তাকাল। গলি ফাঁকা। যারা তাকে ধরে দুধ চেপেছিল, তারা অন্ধকারে মিলিয়ে গেছে। রিকশা চলতে শুরু করল। শিমু ওড়না দিয়ে বুক চেপে ধরে বসে রইল। তার মনে হচ্ছিল ওই তিনজনের হাত এখনো তার দুধের উপর আছে— শার্টের উপর দিয়ে চেপে ধরে আছে, মোচড়াচ্ছে, টানছে।
রিকশা বাসস্ট্যান্ডের দিকে চলছিল। রাতের রাস্তা প্রায় ফাঁকা।
রিকশা বাসস্ট্যান্ডের সামনে এসে থামল। রাতের বেলা স্ট্যান্ডটা পুরোপুরি ফাঁকা নয়। কয়েকটা লং-ডিস্ট্যান্স বাস দাঁড়িয়ে আছে। হেলপার, ড্রাইভার, অপেক্ষমাণ যাত্রী—সব মিলিয়ে পনেরো-কুড়ি জন পুরুষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে সিগারেট খাচ্ছে, গল্প করছে।
শিমু নামল। হাতে ব্যাগ। দুই হাত দিয়ে শার্টের উপর থেকে বুক চেপে ধরে আছে। কালো ছাপা শার্টের বোতাম সব বন্ধ থাকলেও ৩৬ কে দুধ দুটোর ভারে কাপড় এতটাই টানটান যে নিপল দুটোর শক্ত উঁচু দাগ পরিষ্কার ফুটে আছে। জিন্স আঁটসাঁট। পাছার গোল অংশ হাঁটার সঙ্গে সামান্য দুলছিল।
সে সোজা কাউন্টারের দিকে হাঁটা শুরু করল।
প্রথম যে জিনিসটা ঘটল, তা হলো চোখ।
একজন হেলপার সিগারেট হাতে দাঁড়িয়ে ছিল। শিমুকে দেখেই হাত থেমে গেল। চোখ সোজা তার বুকের উপর গিয়ে আটকে গেল। নিপলের দাগ, দুধের ভাঁজ, শার্টের টানটান অবস্থা—কিছুই ছাড়ল না। পাশের আরেকজন টিকিট চেকার চোখ না সরিয়ে নিচু গলায় বলল,
“দেখ শালা… এত রাতে একা। শার্টের উপর এত বড় দুধ…”
আরেকজন যুবক রিকশাওয়ালা হ্যাঁচকা টান দিয়ে বলল,
“পাছাটাও দেখ। জিন্সের ভেতর দুটো গোল মাংস যেন আলাদা করে দুলছে।
শিমু সব শুনতে পাচ্ছিল। সব টের পাচ্ছিল। তাদের চোখ যেন তার বুকের উপর, পাছার উপর আগুনের মতো লাগছিল। কিন্তু সে কোনো উত্তর দিল না। ভুরু একটু কুঁচকে শুধু নিজের গতিতে হাঁটতে থাকল। বুক চেপে ধরে, মাথা সামনের দিকে রেখে।
কাউন্টারের জানালায় পৌঁছে হাত দিয়ে টোকা দিল। ভেতরের লোকটা চোখ খুলেই শিমুর দিকে তাকাল। প্রথমে মুখ, তারপর সোজা বুক। চোখ আর সরল না। শার্টের উপর দিয়ে দুধ দুটোর ফোলা ফোলা অবস্থা, নিপলের উঁচু দাগ—সব দেখে নিয়ে ধীরে ধীরে বলল,
“কোথায় যাবেন?”
শিমু সংক্ষেপে বলল, “উত্তরবঙ্গ।”
লোকটা খাতায় চোখ বুলিয়ে মাথা নাড়ল।
“সব সিট বিক্রি হয়ে গেছে। রাতের বাসগুলোর একটাও খালি নেই। সকালের আগে কোনো বাস নেই।”
শিমু এক মুহূর্ত চুপ করে রইল। ভেতরে রাগ জ্বলছিল। কিন্তু মুখ খুলল না। শুধু ব্যাগ শক্ত করে ধরে কাউন্টার থেকে সরে এল।
স্ট্যান্ডের খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে রইল। চারদিক থেকে দৃষ্টি এসে জড়ো হচ্ছিল। কেউ কেউ থেমে তাকিয়ে আছে। একদল যুবক বাসের পাশে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছিল। শিমুকে দেখে তাদের কথা থেমে গেল।
একজন সোজা বলে উঠল,
“এত রাতে একা? কোথায় যাবে?”
শিমু কোনো উত্তর দিল না। শুধু অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে নিল। কিন্তু তাদের চোখ সরছিল না।
একজন নিচু গলায় বলল,
“দেখ শার্টের উপর দিয়ে যেন ছিঁড়ে বেরিয়ে আসবে।
আরেকজন যোগ দিল,
“পাছাটা হাঁটলে দোলে। জিন্স এত আঁটসাঁট যে ভাঁজ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে।
তৃতীয়জন চাপা গলায় বলল,
“মুখটা রাগি রাগি। কিন্তু শরীরটা তো অন্য কথা বলছে। একবার যদি হাত দিতে পারতাম…”
শিমু সব শুনছিল। প্রতিটা কথা তার কানে বাজছিল। তাদের দৃষ্টি যেন তার দুধের উপর, পাছার উপর, কোমরের উপর ঘষা খাচ্ছিল। কিন্তু সে কোনো গালি দিল না। কোনো জবাব দিল না। শুধু বুক আরও শক্ত করে চেপে ধরল দুই হাত দিয়ে। নিজের গতিতে স্ট্যান্ডের এক কোণে গিয়ে দাঁড়াল।
একজন হেলপার ধীরে ধীরে তার দিকে এগোল। সিগারেট হাতে। চোখ সোজা বুকের দিকে রেখে বলল,
“বাস পাবেন না আজ রাতে। কোথায় থাকবেন? আমার পরিচিত একটা জায়গা আছে কাছেই…”
শিমু তার দিকে তাকাল। চোখে রাগ। কিন্তু মুখ খুলল না। শুধু মাথা নাড়ল নেতিবাচকভাবে। হেলপার আর একটু কাছে এসে চোখ নামিয়ে শার্টের উপর দিয়ে নিপলের দাগ দেখতে লাগল। মনে মনে গজরাল,
“এত বড় দুধ… শার্টের বোতাম বন্ধ রেখেও এত ফুলে আছে। হাত দিয়ে চেপে দেখার ইচ্ছে হচ্ছে…”
পাশ থেকে আরেকজন এসে যোগ দিল। দুজনে মিলে শিমুর শরীরটাকে চোখ দিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল। একজন বলল,
“জিন্সের ভেতর পাছা এত গোল… হাত বাড়ালেই মুঠোয় চলে আসবে।”
শিমু তাদের কথা শুনেও নড়ল না। শুধু দাঁড়িয়ে রইল। বুকের ব্যথা এখনও যায়নি। প্রতিবার নিশ্বাস নিতেই দুধ দুটো শার্টের ভেতর সামনে সামনে নড়ছিল। নিপল দুটো কাপড় ঠেলে উঁচু। সে জানত—এরা দেখছে। সব দেখছে। কিন্তু সে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাবে না। নিজের গতিতেই থাকবে।
একটু পর আরেকটা বাসের হেলপার এসে কাউন্টারের লোকের সঙ্গে কথা বলল। তারপর শিমুর দিকে তাকিয়ে চোখ বড় করে ফেলল। নিচু গলায় তার সঙ্গীকে বলল,
“ঐ যে মাগিটা… সব সিট ফুরিয়ে গেছে শুনে দাঁড়িয়ে আছে। শার্টের উপর দিয়েই সব বোঝা যাচ্ছে। এত রাতে একা…”
শিমু চোখ বন্ধ করল এক মুহূর্তের জন্য। তারপর আবার খুলল। স্ট্যান্ডের অন্য প্রান্তে একটা চায়ের দোকান জেগে আছে। সে সেদিকে পা বাড়াল। হাঁটার সময় পাছার দুলুনি, বুকের নড়াচড়া—সবকিছুই চারদিকের চোখের সামনে পরিষ্কার।
কেউ কেউ পেছন পেছন হাঁটতে শুরু করল। নিচু গলায় কথা বলতে বলতে।
“এত রাগি মুখ নিয়েও উত্তর দিচ্ছে না… শরীরটা তো চুপ করে নেই।”
“দুধ দুটো যেন ডাকছে। একবার হাত দিলে চিৎকার করবে নাকি চুপ করে সহ্য করবে?”
শিমু সব শুনছিল। সব টের পাচ্ছিল। কিন্তু পা থামাল না। চায়ের দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। দোকানদার তাকিয়ে দেখল। চোখ সোজা তার বুকের দিকে গেল। চুপচাপ এক গ্লাস চা গরম করতে লাগল।
শিমু দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। দুই হাত দিয়ে বুক চেপে ধরে। চারদিকের চোখগুলো যেন তার শরীরটাকে খুবলে খুবলে খাচ্ছিল। আর সে—রাগ নিয়েও—কোনো উত্তর না দিয়ে শুধু দাঁড়িয়ে ছিল।
রাত গভীর হচ্ছিল। বাস নেই। সিট নেই। আর চারদিকে শুধু ক্ষুধার্ত চোখ।
শিমু আবার কাউন্টারের দিকে পা বাড়াল। হাঁটার সময় দুধ দুটো শার্টের ভেতর সামনে সামনে নড়ছিল। নিপল দুটো কাপড় ঠেলে উঁচু। পাছার গোল অংশ প্রতি পদক্ষেপে সামান্য দুলছিল। সে টের পাচ্ছিল—পেছন থেকে কয়েকজনের দৃষ্টি এখনও লেগে আছে। কিন্তু কোনো দিকে না তাকিয়ে সোজা কাউন্টারের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
কাউন্টারের লোকটা তাকিয়ে দেখল। চোখ আবার তার বুকের দিকে গেল। শিমু সংক্ষেপে বলল,
“সুপারভাইজার আছে?”
লোকটা একটু অবাক হয়ে মাথা নাড়ল। ভেতর থেকে একজনকে ডাকল। একটু পর একজন মধ্যবয়সী পুরুষ বেরিয়ে এল। গায়ে অফিসিয়াল শার্ট। চোখে চশমা। বয়স পঁয়তাল্লিশের কাছাকাছি। সে শিমুর দিকে তাকাল। প্রথমে মুখ, তারপর স্বাভাবিকভাবেই চোখ একটু নিচে নামল। শার্টের টানটান অবস্থা, দুধের ভাঁজ, নিপলের দাগ—সব দেখে নিয়ে আবার মুখের দিকে তুলল।
“কী চাই?” গলাটা ব্যবসায়িক।
শিমু বলল, “উত্তরবঙ্গ যেতে হবে। সব সিট বিক্রি হয়ে গেছে শুনলাম। কোনো উপায় আছে?”
সুপারভাইজার খাতায় চোখ বুলিয়ে মাথা নাড়ল।
“রাতের বাসগুলোর সব সিট ফুরিয়ে গেছে। সকাল ছয়টার আগে কোনো বাস নেই।”
শিমু চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। সুপারভাইজার তার দিকে আবার তাকাল। চোখটা একটু বেশি সময় ধরে তার বুকের উপর থাকল। তারপর ধীরে ধীরে বলল,
“একটা উপায় আছে… যদি আপত্তি না থাকে।”
শিমু তার দিকে তাকাল। কিছু বলল না। শুধু শুনতে থাকল।
সুপারভাইজার কাছের একটা বাসের দিকে ইশারা করে বলল,
“ঐ যে শেষের বাসটা… ঢাকা থেকে সরাসরি যাচ্ছে। পেছনের সিটের সামনে একটা জায়গা আছে। ইমার্জেন্সি টুল রাখা যায়। সিট না, টুল। পেছনের সিটের ঠিক সামনে। বসে যেতে পারবেন। অন্য কোনো উপায় নেই আজ রাতে।”
সে একটু থামল। চোখ আবার শিমুর শরীরের উপর দিয়ে বুলিয়ে নিল। শার্টের উপর দিয়ে দুধ দুটোর ফোলা অবস্থা, জিন্সের আঁটসাঁট পাছা। তারপর বলল,
“যদি আপনার আপত্তি না থাকে, তাহলে আমি ব্যবস্থা করে দিতে পারি। টুলটা পেছনের সিটের সামনে রাখা হবে। জায়গাটা একটু সঙ্কুচিত। পাশের সিটে যাত্রী থাকবে। কিন্তু অন্য কোনো খালি সিট নেই।”
শিমু কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। ভেতরে রাগ আর ক্লান্তি দুটোই কাজ করছিল। বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থেকে এই সব চোখের সামনে রাত কাটানোর চেয়ে টুল-এ বসে যাওয়াই ভালো। সে মাথা নাড়ল।
“ঠিক আছে।”
সুপারভাইজার একটু হাসল। চোখটা আবার তার বুকের দিকে নামল এক মুহূর্তের জন্য। তারপর হেলপারকে ডেকে বলল,
“পেছনের সিটের সামনে টুলটা লাগিয়ে দে। এই মেমসাহেব যাবে।”
হেলপার এসে শিমুর দিকে তাকাল। চোখ সোজা বুকের উপর গিয়ে আটকে গেল। নিপলের দাগ দেখে চোখ বড় করে ফেলল। তারপর তাড়াহুড়ো করে বাসের ভেতরে ঢুকে গেল।
সুপারভাইজার শিমুর দিকে তাকিয়ে বলল,
উঠে বসে থাকবেন। বাস এক ঘণ্টার মধ্যে ছাড়বে। পেছনের দিকে গিয়ে অপেক্ষা করুন।”
শিমু মাথা নাড়ল। কোনো ধন্যবাদ বলল না। শুধু ব্যাগ শক্ত করে ধরে বাসের দিকে হাঁটা শুরু করল।
হাঁটার সময় স্ট্যান্ডের কয়েকজন যুবক আবার তাকিয়ে দেখল। একজন নিচু গলায় বলল,
“টুল-এ বসবে পেছনে… এত দুধ নিয়ে। পেছনের সিটের লোকগুলো তো মজা পাবে।”
আরেকজন যোগ দিল,
“জিন্সের পাছা টুল-এ বসলে আরও ফুলে উঠবে। শার্টের নিপল তো দেখাই যাচ্ছে…”
শিমু সব শুনছিল। সব টের পাচ্ছিল। কিন্তু কোনো দিকে না তাকিয়ে সোজা বাসের দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। হেলপার ভেতর থেকে টুল লাগিয়ে বেরিয়ে এল। চোখ আবার তার শরীরের উপর দিয়ে বুলিয়ে নিল। তারপর ইশারা করে বলল,
“উঠে যান। পেছনের দিকে টুল রাখা আছে।”
শিমু বাসে উঠল। সরু গলি দিয়ে পেছনের দিকে এগোল। বাসের ভেতর অন্ধকার। বেশিরভাগ যাত্রী ঘুমাচ্ছে। পেছনের সিটের সামনে একটা সাধারণ কাঠের টুল রাখা আছে। জায়গাটা সত্যিই সঙ্কুচিত। দুই পাশের সিটের যাত্রীদের হাঁটুর কাছাকাছি।
সে টুল-এ বসল। ব্যাগ কোলে রাখল। দুই হাত দিয়ে আবার বুক চেপে ধরল। শার্টের উপর দিয়ে নিপল দুটো এখনও উঁচু। জিন্সের আঁটসাঁট কাপড়ে পাছা টুল-এর উপর চেপে আছে।
পেছনের সিটের একজন যাত্রী চোখ খুলে তাকাল। শিমুর দিকে। চোখ সোজা তার বুকের উপর গিয়ে আটকে গেল। আরেকজন পাশ থেকে তাকাল। কেউ কিছু বলল না। শুধু দেখতে থাকল।
শিমু মাথা নিচু করে বসে রইল। বাইরে সুপারভাইজারের গলা ভেসে আসছিল হেলপারের সঙ্গে কথা বলার—
“পেছনে টুল দিয়ে দিয়েছি। দেখো ঠিকমতো যায়। এত রাতে একা… শরীরটাও তো…”
কথাটা শেষ হলো না। বাসের দরজা বন্ধ হয়ে গেল। ইঞ্জিন গর্জে উঠল।
শিমু টুল-এ বসে রইল। চারদিকের অন্ধকারে কয়েকজোড়া চোখ যেন তার শরীরের উপর এখনও আটকে আছে।
বাস ছাড়ল।
ইঞ্জিনের গর্জনের সঙ্গে স্ট্যান্ডের আলো পেছনে ফেলে রাতের অন্ধকার রাস্তায় এগিয়ে গেল। বাসের ভেতর আলো খুবই ক্ষীণ। ছাদের দু-একটা ম্লান বাল্ব জ্বলছিল। বেশিরভাগ যাত্রী ঘুমিয়ে পড়েছে। কেউ মাথা হেলান দিয়ে, কেউ জানালায় মুখ গুঁজে। অন্ধকারটা এতটাই যে মুখও পরিষ্কার বোঝা যায় না, শুধু শরীরের বড়সড় আকৃতি আর নড়াচড়া টের পাওয়া যায়।
শিমু পেছনের টুল-এ বসেছিল। কাঠের টুল শক্ত। বসবামাত্র পাছায় চাপ পড়ল। জিন্সের আঁটসাঁট কাপড়ে দুটো গোল অংশ টুলের উপর চেপে গিয়ে আরও ভারী মনে হচ্ছিল। শার্টের কাপড় বুকের উপর টানটান। প্রতিবার বাস একটু ঝাঁকুনি খেলেই ভারী বুকটা সামনে সামনে দুলত। শার্টের কাপড় সেই দুলুনির সঙ্গে টান খেত।
টুলের জায়গাটা সঙ্কুচিত। পেছনের সিটের ঠিক সামনে। পেছনের সিটে তিনজন। মাঝেরজন ঘুমাচ্ছে। দুই পাশের দুজনের চোখ খোলা। অন্ধকারে তাদের মুখ পরিষ্কার না দেখা গেলেও শিমু টের পাচ্ছিল—তারা তার দিকে তাকিয়ে আছে।
বাস গতি বাড়াতেই ঝাঁকুনি বাড়ল। শিমুর শরীর টুলের উপর সামনে-পেছনে নড়তে শুরু করল। ভারী বুকটা শার্টের ভেতর দুলছিল। কাপড় টানটান হয়ে প্রতিবার দুলুনিতে বুকের আকৃতি আরও স্পষ্ট করে তুলছিল। জিন্সের ভেতর পাছা টুলের শক্ত কাঠে ঘষা খাচ্ছিল। প্রতিটা ঝাঁকুনিতে একটু একটু করে চাপ পড়ছিল।
পেছনের একজন যাত্রী একটু সোজা হয়ে বসল। অন্ধকারে শুধু শিমুর শরীরের নড়াচড়া দেখা যাচ্ছিল—বুকের ভারী দুলুনি, টুলের উপর পাছার চাপ। সে নিচু গলায় পাশেরজনকে বলল,
“দেখ… টুলের উপর বসে কীভাবে দুলছে। এত ভারী…”
পাশেরজন মাথা নাড়ল। চোখ সরছিল না। অন্ধকারে সূক্ষ্ম কিছু বোঝার উপায় নেই, কিন্তু বুকের আকৃতি আর নড়াচড়া পরিষ্কার টের পাওয়া যাচ্ছিল। শার্টের কাপড় প্রতিবার দুলুনিতে টান খেয়ে বুকের গোল অংশকে আরও ফুটিয়ে তুলছিল।
বাস একটা বাঁক নিল। শিমুর শরীর একপাশে কাত হল। টুলের উপর পাছা সরে গিয়ে একপাশে চাপ পড়ল। শার্টের কাপড় আরও টানটান হয়ে গেল। পেছনের দুজনের শ্বাস একটু ভারী হয়ে উঠল।
একজন আবার চাপা গলায় বলল,
“এত রাতে একা… শরীরের নড়াচড়া দেখেই বোঝা যাচ্ছে কতখানি…”
আরেকজন যোগ দিল,
“টুলের উপর পাছা এভাবে চেপে আছে। হাত দিয়ে যদি…”
কথাটা শেষ হল না।
শিমু সব শুনছিল। কানের পাশ দিয়ে তাদের কথাগুলো ভেসে আসছিল। সে টের পাচ্ছিল পেছন থেকে দুজোড়া চোখ তার শরীরের উপর আটকে আছে। বুকের দুলুনি, পাছার চাপ—অন্ধকারেও তারা সেই নড়াচড়া ধরে রেখেছে। কিন্তু সে কোনোদিকে তাকাল না। মাথা সামনের দিকে রেখে ব্যাগ কোলে শক্ত করে চেপে ধরল। দুই হাত দিয়ে বুকের নিচের অংশ চেপে রাখল যাতে দুলুনি একটু কম হয়। হাতের চাপে দুধ দুটোর ব্যথা একটু বেড়ে গেল, কিন্তু নড়াচড়া পুরোপুরি থামল না। বাসের প্রতিটা ঝাঁকুনিতে ভারী বুকটা শার্টের ভেতর সামনে সামনে ধাক্কা খাচ্ছিল।
সামনের দিক থেকে কেউ একজন তাকিয়ে দেখল। অন্ধকারে শুধু একটা নারী শরীরের আকৃতি টুলের উপর নড়ছে দেখা গেল। তারপর মুখ ঘুরিয়ে নিল।
বাস সোজা রাস্তায় গতি বাড়াল। ঝাঁকুনি কিছুটা কমল। তবু শিমুর বুকের ভার প্রতিবার নিশ্বাসের সঙ্গে সামান্য নড়ছিল। শার্টের কাপড় সেই নড়াচড়ার সঙ্গে টান খেত। পাছা টুলের উপর চেপে আছে, জিন্সের কাপড়ে চাপ লাগছে। আগের ঘটনার পর শরীরটা এখনও সংবেদনশীল। প্রতিটা নড়াচড়াই ব্যথার সঙ্গে মিশে যাচ্ছিল।
পেছনের দুজন এখনও চুপচাপ তাকিয়েছিল। অন্ধকারে তাদের চোখের কোনো অভিব্যক্তি বোঝা যাচ্ছিল না। শুধু শিমু টের পাচ্ছিল—তারা তার শরীরের প্রতিটা দুলুনি, প্রতিটা চাপ দেখছে। কেউ আর কথা বলল না। শুধু নীরব দৃষ্টি।
বাস রাতের অন্ধকারে এগিয়ে চলছিল। ভেতরে ম্লান আলো। আর শিমুর টুলের চারপাশে সেই নীরব, অন্ধকারাচ্ছন্ন দৃষ্টি।
শিমু নামল। হাতে ব্যাগ। দুই হাত দিয়ে শার্টের উপর থেকে বুক চেপে ধরে আছে। কালো ছাপা শার্টের বোতাম সব বন্ধ থাকলেও ৩৬ কে দুধ দুটোর ভারে কাপড় এতটাই টানটান যে নিপল দুটোর শক্ত উঁচু দাগ পরিষ্কার ফুটে আছে। জিন্স আঁটসাঁট। পাছার গোল অংশ হাঁটার সঙ্গে সামান্য দুলছিল।
সে সোজা কাউন্টারের দিকে হাঁটা শুরু করল।
প্রথম যে জিনিসটা ঘটল, তা হলো চোখ।
একজন হেলপার সিগারেট হাতে দাঁড়িয়ে ছিল। শিমুকে দেখেই হাত থেমে গেল। চোখ সোজা তার বুকের উপর গিয়ে আটকে গেল। নিপলের দাগ, দুধের ভাঁজ, শার্টের টানটান অবস্থা—কিছুই ছাড়ল না। পাশের আরেকজন টিকিট চেকার চোখ না সরিয়ে নিচু গলায় বলল,
“দেখ শালা… এত রাতে একা। শার্টের উপর এত বড় দুধ…”
আরেকজন যুবক রিকশাওয়ালা হ্যাঁচকা টান দিয়ে বলল,
“পাছাটাও দেখ। জিন্সের ভেতর দুটো গোল মাংস যেন আলাদা করে দুলছে।
শিমু সব শুনতে পাচ্ছিল। সব টের পাচ্ছিল। তাদের চোখ যেন তার বুকের উপর, পাছার উপর আগুনের মতো লাগছিল। কিন্তু সে কোনো উত্তর দিল না। ভুরু একটু কুঁচকে শুধু নিজের গতিতে হাঁটতে থাকল। বুক চেপে ধরে, মাথা সামনের দিকে রেখে।
কাউন্টারের জানালায় পৌঁছে হাত দিয়ে টোকা দিল। ভেতরের লোকটা চোখ খুলেই শিমুর দিকে তাকাল। প্রথমে মুখ, তারপর সোজা বুক। চোখ আর সরল না। শার্টের উপর দিয়ে দুধ দুটোর ফোলা ফোলা অবস্থা, নিপলের উঁচু দাগ—সব দেখে নিয়ে ধীরে ধীরে বলল,
“কোথায় যাবেন?”
শিমু সংক্ষেপে বলল, “উত্তরবঙ্গ।”
লোকটা খাতায় চোখ বুলিয়ে মাথা নাড়ল।
“সব সিট বিক্রি হয়ে গেছে। রাতের বাসগুলোর একটাও খালি নেই। সকালের আগে কোনো বাস নেই।”
শিমু এক মুহূর্ত চুপ করে রইল। ভেতরে রাগ জ্বলছিল। কিন্তু মুখ খুলল না। শুধু ব্যাগ শক্ত করে ধরে কাউন্টার থেকে সরে এল।
স্ট্যান্ডের খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে রইল। চারদিক থেকে দৃষ্টি এসে জড়ো হচ্ছিল। কেউ কেউ থেমে তাকিয়ে আছে। একদল যুবক বাসের পাশে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছিল। শিমুকে দেখে তাদের কথা থেমে গেল।
একজন সোজা বলে উঠল,
“এত রাতে একা? কোথায় যাবে?”
শিমু কোনো উত্তর দিল না। শুধু অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে নিল। কিন্তু তাদের চোখ সরছিল না।
একজন নিচু গলায় বলল,
“দেখ শার্টের উপর দিয়ে যেন ছিঁড়ে বেরিয়ে আসবে।
আরেকজন যোগ দিল,
“পাছাটা হাঁটলে দোলে। জিন্স এত আঁটসাঁট যে ভাঁজ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে।
তৃতীয়জন চাপা গলায় বলল,
“মুখটা রাগি রাগি। কিন্তু শরীরটা তো অন্য কথা বলছে। একবার যদি হাত দিতে পারতাম…”
শিমু সব শুনছিল। প্রতিটা কথা তার কানে বাজছিল। তাদের দৃষ্টি যেন তার দুধের উপর, পাছার উপর, কোমরের উপর ঘষা খাচ্ছিল। কিন্তু সে কোনো গালি দিল না। কোনো জবাব দিল না। শুধু বুক আরও শক্ত করে চেপে ধরল দুই হাত দিয়ে। নিজের গতিতে স্ট্যান্ডের এক কোণে গিয়ে দাঁড়াল।
একজন হেলপার ধীরে ধীরে তার দিকে এগোল। সিগারেট হাতে। চোখ সোজা বুকের দিকে রেখে বলল,
“বাস পাবেন না আজ রাতে। কোথায় থাকবেন? আমার পরিচিত একটা জায়গা আছে কাছেই…”
শিমু তার দিকে তাকাল। চোখে রাগ। কিন্তু মুখ খুলল না। শুধু মাথা নাড়ল নেতিবাচকভাবে। হেলপার আর একটু কাছে এসে চোখ নামিয়ে শার্টের উপর দিয়ে নিপলের দাগ দেখতে লাগল। মনে মনে গজরাল,
“এত বড় দুধ… শার্টের বোতাম বন্ধ রেখেও এত ফুলে আছে। হাত দিয়ে চেপে দেখার ইচ্ছে হচ্ছে…”
পাশ থেকে আরেকজন এসে যোগ দিল। দুজনে মিলে শিমুর শরীরটাকে চোখ দিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল। একজন বলল,
“জিন্সের ভেতর পাছা এত গোল… হাত বাড়ালেই মুঠোয় চলে আসবে।”
শিমু তাদের কথা শুনেও নড়ল না। শুধু দাঁড়িয়ে রইল। বুকের ব্যথা এখনও যায়নি। প্রতিবার নিশ্বাস নিতেই দুধ দুটো শার্টের ভেতর সামনে সামনে নড়ছিল। নিপল দুটো কাপড় ঠেলে উঁচু। সে জানত—এরা দেখছে। সব দেখছে। কিন্তু সে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাবে না। নিজের গতিতেই থাকবে।
একটু পর আরেকটা বাসের হেলপার এসে কাউন্টারের লোকের সঙ্গে কথা বলল। তারপর শিমুর দিকে তাকিয়ে চোখ বড় করে ফেলল। নিচু গলায় তার সঙ্গীকে বলল,
“ঐ যে মাগিটা… সব সিট ফুরিয়ে গেছে শুনে দাঁড়িয়ে আছে। শার্টের উপর দিয়েই সব বোঝা যাচ্ছে। এত রাতে একা…”
শিমু চোখ বন্ধ করল এক মুহূর্তের জন্য। তারপর আবার খুলল। স্ট্যান্ডের অন্য প্রান্তে একটা চায়ের দোকান জেগে আছে। সে সেদিকে পা বাড়াল। হাঁটার সময় পাছার দুলুনি, বুকের নড়াচড়া—সবকিছুই চারদিকের চোখের সামনে পরিষ্কার।
কেউ কেউ পেছন পেছন হাঁটতে শুরু করল। নিচু গলায় কথা বলতে বলতে।
“এত রাগি মুখ নিয়েও উত্তর দিচ্ছে না… শরীরটা তো চুপ করে নেই।”
“দুধ দুটো যেন ডাকছে। একবার হাত দিলে চিৎকার করবে নাকি চুপ করে সহ্য করবে?”
শিমু সব শুনছিল। সব টের পাচ্ছিল। কিন্তু পা থামাল না। চায়ের দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। দোকানদার তাকিয়ে দেখল। চোখ সোজা তার বুকের দিকে গেল। চুপচাপ এক গ্লাস চা গরম করতে লাগল।
শিমু দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। দুই হাত দিয়ে বুক চেপে ধরে। চারদিকের চোখগুলো যেন তার শরীরটাকে খুবলে খুবলে খাচ্ছিল। আর সে—রাগ নিয়েও—কোনো উত্তর না দিয়ে শুধু দাঁড়িয়ে ছিল।
রাত গভীর হচ্ছিল। বাস নেই। সিট নেই। আর চারদিকে শুধু ক্ষুধার্ত চোখ।
শিমু আবার কাউন্টারের দিকে পা বাড়াল। হাঁটার সময় দুধ দুটো শার্টের ভেতর সামনে সামনে নড়ছিল। নিপল দুটো কাপড় ঠেলে উঁচু। পাছার গোল অংশ প্রতি পদক্ষেপে সামান্য দুলছিল। সে টের পাচ্ছিল—পেছন থেকে কয়েকজনের দৃষ্টি এখনও লেগে আছে। কিন্তু কোনো দিকে না তাকিয়ে সোজা কাউন্টারের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
কাউন্টারের লোকটা তাকিয়ে দেখল। চোখ আবার তার বুকের দিকে গেল। শিমু সংক্ষেপে বলল,
“সুপারভাইজার আছে?”
লোকটা একটু অবাক হয়ে মাথা নাড়ল। ভেতর থেকে একজনকে ডাকল। একটু পর একজন মধ্যবয়সী পুরুষ বেরিয়ে এল। গায়ে অফিসিয়াল শার্ট। চোখে চশমা। বয়স পঁয়তাল্লিশের কাছাকাছি। সে শিমুর দিকে তাকাল। প্রথমে মুখ, তারপর স্বাভাবিকভাবেই চোখ একটু নিচে নামল। শার্টের টানটান অবস্থা, দুধের ভাঁজ, নিপলের দাগ—সব দেখে নিয়ে আবার মুখের দিকে তুলল।
“কী চাই?” গলাটা ব্যবসায়িক।
শিমু বলল, “উত্তরবঙ্গ যেতে হবে। সব সিট বিক্রি হয়ে গেছে শুনলাম। কোনো উপায় আছে?”
সুপারভাইজার খাতায় চোখ বুলিয়ে মাথা নাড়ল।
“রাতের বাসগুলোর সব সিট ফুরিয়ে গেছে। সকাল ছয়টার আগে কোনো বাস নেই।”
শিমু চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। সুপারভাইজার তার দিকে আবার তাকাল। চোখটা একটু বেশি সময় ধরে তার বুকের উপর থাকল। তারপর ধীরে ধীরে বলল,
“একটা উপায় আছে… যদি আপত্তি না থাকে।”
শিমু তার দিকে তাকাল। কিছু বলল না। শুধু শুনতে থাকল।
সুপারভাইজার কাছের একটা বাসের দিকে ইশারা করে বলল,
“ঐ যে শেষের বাসটা… ঢাকা থেকে সরাসরি যাচ্ছে। পেছনের সিটের সামনে একটা জায়গা আছে। ইমার্জেন্সি টুল রাখা যায়। সিট না, টুল। পেছনের সিটের ঠিক সামনে। বসে যেতে পারবেন। অন্য কোনো উপায় নেই আজ রাতে।”
সে একটু থামল। চোখ আবার শিমুর শরীরের উপর দিয়ে বুলিয়ে নিল। শার্টের উপর দিয়ে দুধ দুটোর ফোলা অবস্থা, জিন্সের আঁটসাঁট পাছা। তারপর বলল,
“যদি আপনার আপত্তি না থাকে, তাহলে আমি ব্যবস্থা করে দিতে পারি। টুলটা পেছনের সিটের সামনে রাখা হবে। জায়গাটা একটু সঙ্কুচিত। পাশের সিটে যাত্রী থাকবে। কিন্তু অন্য কোনো খালি সিট নেই।”
শিমু কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। ভেতরে রাগ আর ক্লান্তি দুটোই কাজ করছিল। বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থেকে এই সব চোখের সামনে রাত কাটানোর চেয়ে টুল-এ বসে যাওয়াই ভালো। সে মাথা নাড়ল।
“ঠিক আছে।”
সুপারভাইজার একটু হাসল। চোখটা আবার তার বুকের দিকে নামল এক মুহূর্তের জন্য। তারপর হেলপারকে ডেকে বলল,
“পেছনের সিটের সামনে টুলটা লাগিয়ে দে। এই মেমসাহেব যাবে।”
হেলপার এসে শিমুর দিকে তাকাল। চোখ সোজা বুকের উপর গিয়ে আটকে গেল। নিপলের দাগ দেখে চোখ বড় করে ফেলল। তারপর তাড়াহুড়ো করে বাসের ভেতরে ঢুকে গেল।
সুপারভাইজার শিমুর দিকে তাকিয়ে বলল,
উঠে বসে থাকবেন। বাস এক ঘণ্টার মধ্যে ছাড়বে। পেছনের দিকে গিয়ে অপেক্ষা করুন।”
শিমু মাথা নাড়ল। কোনো ধন্যবাদ বলল না। শুধু ব্যাগ শক্ত করে ধরে বাসের দিকে হাঁটা শুরু করল।
হাঁটার সময় স্ট্যান্ডের কয়েকজন যুবক আবার তাকিয়ে দেখল। একজন নিচু গলায় বলল,
“টুল-এ বসবে পেছনে… এত দুধ নিয়ে। পেছনের সিটের লোকগুলো তো মজা পাবে।”
আরেকজন যোগ দিল,
“জিন্সের পাছা টুল-এ বসলে আরও ফুলে উঠবে। শার্টের নিপল তো দেখাই যাচ্ছে…”
শিমু সব শুনছিল। সব টের পাচ্ছিল। কিন্তু কোনো দিকে না তাকিয়ে সোজা বাসের দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। হেলপার ভেতর থেকে টুল লাগিয়ে বেরিয়ে এল। চোখ আবার তার শরীরের উপর দিয়ে বুলিয়ে নিল। তারপর ইশারা করে বলল,
“উঠে যান। পেছনের দিকে টুল রাখা আছে।”
শিমু বাসে উঠল। সরু গলি দিয়ে পেছনের দিকে এগোল। বাসের ভেতর অন্ধকার। বেশিরভাগ যাত্রী ঘুমাচ্ছে। পেছনের সিটের সামনে একটা সাধারণ কাঠের টুল রাখা আছে। জায়গাটা সত্যিই সঙ্কুচিত। দুই পাশের সিটের যাত্রীদের হাঁটুর কাছাকাছি।
সে টুল-এ বসল। ব্যাগ কোলে রাখল। দুই হাত দিয়ে আবার বুক চেপে ধরল। শার্টের উপর দিয়ে নিপল দুটো এখনও উঁচু। জিন্সের আঁটসাঁট কাপড়ে পাছা টুল-এর উপর চেপে আছে।
পেছনের সিটের একজন যাত্রী চোখ খুলে তাকাল। শিমুর দিকে। চোখ সোজা তার বুকের উপর গিয়ে আটকে গেল। আরেকজন পাশ থেকে তাকাল। কেউ কিছু বলল না। শুধু দেখতে থাকল।
শিমু মাথা নিচু করে বসে রইল। বাইরে সুপারভাইজারের গলা ভেসে আসছিল হেলপারের সঙ্গে কথা বলার—
“পেছনে টুল দিয়ে দিয়েছি। দেখো ঠিকমতো যায়। এত রাতে একা… শরীরটাও তো…”
কথাটা শেষ হলো না। বাসের দরজা বন্ধ হয়ে গেল। ইঞ্জিন গর্জে উঠল।
শিমু টুল-এ বসে রইল। চারদিকের অন্ধকারে কয়েকজোড়া চোখ যেন তার শরীরের উপর এখনও আটকে আছে।
বাস ছাড়ল।
ইঞ্জিনের গর্জনের সঙ্গে স্ট্যান্ডের আলো পেছনে ফেলে রাতের অন্ধকার রাস্তায় এগিয়ে গেল। বাসের ভেতর আলো খুবই ক্ষীণ। ছাদের দু-একটা ম্লান বাল্ব জ্বলছিল। বেশিরভাগ যাত্রী ঘুমিয়ে পড়েছে। কেউ মাথা হেলান দিয়ে, কেউ জানালায় মুখ গুঁজে। অন্ধকারটা এতটাই যে মুখও পরিষ্কার বোঝা যায় না, শুধু শরীরের বড়সড় আকৃতি আর নড়াচড়া টের পাওয়া যায়।
শিমু পেছনের টুল-এ বসেছিল। কাঠের টুল শক্ত। বসবামাত্র পাছায় চাপ পড়ল। জিন্সের আঁটসাঁট কাপড়ে দুটো গোল অংশ টুলের উপর চেপে গিয়ে আরও ভারী মনে হচ্ছিল। শার্টের কাপড় বুকের উপর টানটান। প্রতিবার বাস একটু ঝাঁকুনি খেলেই ভারী বুকটা সামনে সামনে দুলত। শার্টের কাপড় সেই দুলুনির সঙ্গে টান খেত।
টুলের জায়গাটা সঙ্কুচিত। পেছনের সিটের ঠিক সামনে। পেছনের সিটে তিনজন। মাঝেরজন ঘুমাচ্ছে। দুই পাশের দুজনের চোখ খোলা। অন্ধকারে তাদের মুখ পরিষ্কার না দেখা গেলেও শিমু টের পাচ্ছিল—তারা তার দিকে তাকিয়ে আছে।
বাস গতি বাড়াতেই ঝাঁকুনি বাড়ল। শিমুর শরীর টুলের উপর সামনে-পেছনে নড়তে শুরু করল। ভারী বুকটা শার্টের ভেতর দুলছিল। কাপড় টানটান হয়ে প্রতিবার দুলুনিতে বুকের আকৃতি আরও স্পষ্ট করে তুলছিল। জিন্সের ভেতর পাছা টুলের শক্ত কাঠে ঘষা খাচ্ছিল। প্রতিটা ঝাঁকুনিতে একটু একটু করে চাপ পড়ছিল।
পেছনের একজন যাত্রী একটু সোজা হয়ে বসল। অন্ধকারে শুধু শিমুর শরীরের নড়াচড়া দেখা যাচ্ছিল—বুকের ভারী দুলুনি, টুলের উপর পাছার চাপ। সে নিচু গলায় পাশেরজনকে বলল,
“দেখ… টুলের উপর বসে কীভাবে দুলছে। এত ভারী…”
পাশেরজন মাথা নাড়ল। চোখ সরছিল না। অন্ধকারে সূক্ষ্ম কিছু বোঝার উপায় নেই, কিন্তু বুকের আকৃতি আর নড়াচড়া পরিষ্কার টের পাওয়া যাচ্ছিল। শার্টের কাপড় প্রতিবার দুলুনিতে টান খেয়ে বুকের গোল অংশকে আরও ফুটিয়ে তুলছিল।
বাস একটা বাঁক নিল। শিমুর শরীর একপাশে কাত হল। টুলের উপর পাছা সরে গিয়ে একপাশে চাপ পড়ল। শার্টের কাপড় আরও টানটান হয়ে গেল। পেছনের দুজনের শ্বাস একটু ভারী হয়ে উঠল।
একজন আবার চাপা গলায় বলল,
“এত রাতে একা… শরীরের নড়াচড়া দেখেই বোঝা যাচ্ছে কতখানি…”
আরেকজন যোগ দিল,
“টুলের উপর পাছা এভাবে চেপে আছে। হাত দিয়ে যদি…”
কথাটা শেষ হল না।
শিমু সব শুনছিল। কানের পাশ দিয়ে তাদের কথাগুলো ভেসে আসছিল। সে টের পাচ্ছিল পেছন থেকে দুজোড়া চোখ তার শরীরের উপর আটকে আছে। বুকের দুলুনি, পাছার চাপ—অন্ধকারেও তারা সেই নড়াচড়া ধরে রেখেছে। কিন্তু সে কোনোদিকে তাকাল না। মাথা সামনের দিকে রেখে ব্যাগ কোলে শক্ত করে চেপে ধরল। দুই হাত দিয়ে বুকের নিচের অংশ চেপে রাখল যাতে দুলুনি একটু কম হয়। হাতের চাপে দুধ দুটোর ব্যথা একটু বেড়ে গেল, কিন্তু নড়াচড়া পুরোপুরি থামল না। বাসের প্রতিটা ঝাঁকুনিতে ভারী বুকটা শার্টের ভেতর সামনে সামনে ধাক্কা খাচ্ছিল।
সামনের দিক থেকে কেউ একজন তাকিয়ে দেখল। অন্ধকারে শুধু একটা নারী শরীরের আকৃতি টুলের উপর নড়ছে দেখা গেল। তারপর মুখ ঘুরিয়ে নিল।
বাস সোজা রাস্তায় গতি বাড়াল। ঝাঁকুনি কিছুটা কমল। তবু শিমুর বুকের ভার প্রতিবার নিশ্বাসের সঙ্গে সামান্য নড়ছিল। শার্টের কাপড় সেই নড়াচড়ার সঙ্গে টান খেত। পাছা টুলের উপর চেপে আছে, জিন্সের কাপড়ে চাপ লাগছে। আগের ঘটনার পর শরীরটা এখনও সংবেদনশীল। প্রতিটা নড়াচড়াই ব্যথার সঙ্গে মিশে যাচ্ছিল।
পেছনের দুজন এখনও চুপচাপ তাকিয়েছিল। অন্ধকারে তাদের চোখের কোনো অভিব্যক্তি বোঝা যাচ্ছিল না। শুধু শিমু টের পাচ্ছিল—তারা তার শরীরের প্রতিটা দুলুনি, প্রতিটা চাপ দেখছে। কেউ আর কথা বলল না। শুধু নীরব দৃষ্টি।
বাস রাতের অন্ধকারে এগিয়ে চলছিল। ভেতরে ম্লান আলো। আর শিমুর টুলের চারপাশে সেই নীরব, অন্ধকারাচ্ছন্ন দৃষ্টি।
