09-14-2026, 05:28 AM
দুপুর তখন গড়িয়ে আড়াইটা। রূপগড় হাই কলেজের নবম শ্রেণীর ক্লাসরুমে চলছে পঞ্চম পিরিয়ডের ইংরেজি গ্রামার ক্লাস। ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত সাবলীল ভঙ্গিতে পড়াচ্ছেন রূপসা চক্রবর্তী। তাঁর গায়ে সেই পরিচিত শাড়ি, যা তাঁর ধবধবে ফর্সা ও সুগঠিত শরীরকে পরম মায়ায় জড়িয়ে রেখেছে। ব্ল্যাকবোর্ডে চক দিয়ে কিছু একটা লেখার সময় রূপসা ম্যাডাম যখন সামান্য বাঁকা হলেন, তখন তাঁর ৩০ ইঞ্চি ছিপছিপে কোমর আর ভারী হিপের নিখুঁত শেপ পুরো ক্লাসের ছাত্রদের নজরে এল। তাঁর ৩৬ সাইজের সুউচ্চ বক্ষযুগল সামান্য সামনে ঝুঁকে পড়ার কারণে ব্লাউজের ডিপ নেক দিয়ে বক্ষবিভাজিকার এক মোহময় ও কামুক ক্লিভেজ পরিষ্কার ফুটে উঠল। ক্লাসের প্রতিটি ছাত্রের চোখ যেন শিক্ষিকার লেখার চেয়ে তাঁর এই অপরূপ রূপ আর উদ্দাম যৌবনের দিকেই বেশি নিবদ্ধ ছিল।
প্রথম সারির বেঞ্চে বসে রাজ গভীর মনোযোগ দিয়ে ব্ল্যাকবোর্ডের দিকে তাকিয়ে থাকলেও, ম্যাডাম খুব ভালোভাবেই টের পাচ্ছিল তার পেছনের বেঞ্চগুলোর ফিসফাস । রূপসা ম্যাডাম ব্ল্যাকবোর্ডে চক দিয়ে ‘Voice Change’ এর নিয়ম লিখছেন। যখনই তিনি ব্ল্যাকবোর্ডে কিছু লিখছেন, তাঁর ৩০ ইঞ্চি ছিপছিপে কোমর ও ৩৮ ইঞ্চি হিপের নিপুণ কারুকার্য এবং শরীরের প্রতিটি ভাঁজ তাঁর পোশাক ভেদ করে কিশোর ছাত্রদের রক্তে উষ্ণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। হঠাৎ ক্লাসের এক কোণ থেকে গোলমাল শোনা গেল। ইকবাল নামের এক ছাত্র মন দিয়ে পড়া না বুঝে অন্য দিকে তাকিয়ে ছিল। রূপসার চোখ মুহুর্তের মধ্যে তার ওপর গিয়ে পড়ল। রাগে তাঁর টানাটানা চোখ দুটো আরও ধারালো হয়ে উঠল।
রূপসা কঠিন অথচ অত্যন্ত মিষ্টি ও মায়াবী গলায় বলে উঠলেন, “কী রে ইকবাল! কী হচ্ছেটা কী ক্লাসে? আমি এখানে ব্ল্যাকবোর্ডে এত গুরুত্বপূর্ণ রুল বোঝাচ্ছি, আর তোর মন কোথায়? গত পরীক্ষাতেও ইংরেজিতে সবে পাস মার্ক তুলেছিস, আর তোর এই অবহেলা চললে এ বছর তোকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। দাঁড়া, এই টেন্সের রুলটা এখনই আমাকে বোর্ডে এসে করে দেখা তো! দেখি তোর কত বিদ্যা হয়েছে! ইকবাল ভয়ে ভয়ে মাথা নিচু করে সিট থেকে উঠে দাঁড়াল। সে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে সামনে এসে কোনোমতে একটা ভুলভাল রুল লিখে ফেলল। রূপসা ভ্রু কুঁচকে একটা মৃদু ধমক দিয়ে বললেন, “ইকবাল, তোর বুদ্ধি কি একদম গোবর দিয়ে তৈরি নাকি? কতবার বলেছি বেসিক ক্লিয়ার করতে! ক্লাসে এসে শুধু এদিক-ওদিক তাকানো আর দুষ্টুমি করা ছাড়া তোর আর কোনো কাজ আছে? বস বলছি নিজের জায়গায়! বাড়ি গিয়ে ভালো করে পড়বি, না হলে তোর বাবাকে ডেকে বলে দেব।“
ম্যাডামের এই ধমক খেয়ে ইকবাল লাল হয়ে নিজের সিটে গিয়ে বসল। ক্লাসের অন্য সব ছাত্ররা তখন নিঃশব্দে ফিকফিক করে হাসছে, ক্লাস শেষ হওয়ার ঠিক দশ মিনিট আগে রূপসা ম্যাডাম খাতা দেখার জন্য যখন ডেস্কের এদিক থেকে ওদিক হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁর শাড়ির আঁচল সামান্য সরে গিয়ে তাঁর ফর্সা কোমর ও পিঠের কিছু অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়েছিল। মোমের মতো মসৃণ সেই ফর্সা ত্বক দেখে ক্লাসের বাতাস যেন হঠাৎ করেই ভারী হয়ে উঠেছিল।বেল পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই রূপসা ম্যাডাম খাতাগুলো গুছিয়ে নিয়ে একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে ক্লাস থেকে বেরিয়ে গেলেন। তিনি করিডোর দিয়ে যাওয়ার পর পরই ক্লাসের পরিবেশটা হঠাৎ করেই বদলে গেল। সাধারণত টিফিন বা ক্লাস শেষের পরে বন্ধুরা মিলে একটু হইচই করে, কিন্তু আজকের আলোচনাটা অন্য দিকে মোড় নিল।
রাজ তার বেঞ্চে গুছিয়ে বসার চেষ্টা করতেই পেছনের বেঞ্চ থেকে ডেকে উঠল সুমিত আর অনির্বাণ। —“কিরে রাজ, তোর মা প্রতিদিন এত সুন্দর সেজেগুজে ক্লাসে আসেন কেন বল তো? আজ যেভাবে ব্ল্যাকবোর্ডে ড্রয়িংয়ের নিয়ম বোঝাচ্ছিলেন, আমাদের তো গ্রামার মাথা দিয়ে বেরিয়ে শুধু উনার ফিগারটাই মাথায় ঘুরছিল!”—অনির্বাণ একটু টিটকিরির সুরে বলল। রাজ অবশ্য এসব কথায় কান দিতে পছন্দ করত না। সে গম্ভীর মুখে খাতাগুলো ব্যাগে ভরতে ভরতে বলল, “ফাজলামো করিস না তোরা, মন দিয়ে পড় না হলে স্যারের কাছে বকা খাবি।“
কিন্তু আসল সমস্যা শুরু হলো যখন ক্লাসের সবচেয়ে বকাটে ও বখাটে স্বভাবের ছেলেটি, ইকবাল, তার সঙ্গীদের নিয়ে এই কথায় যোগ দিল। ইকবাল ক্লাসে পড়াশোনায় একদম মন দিত না, সবসময় ছাত্রীদের বা অন্য বিষয় নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করাই ছিল তার কাজ। সে বেঞ্চ ছেড়ে উঠে এসে রাজের টেবিলের ঠিক পেছনে দাঁড়াল। তার মুখে একটা চটুল ও নোংরা হাসি। ইকবাল একটু উগ্র গলায় সবার উদ্দেশ্যে বলে উঠল, “দূর রাজ! তোর মা এত সেক্সি আর ফর্সা যে পড়াশোনা করার কথা মাথায় থাকে কার? কালকেই তো ক্লাসে যখন ম্যাডাম পিঠ ফিরিয়ে নোটস লিখছিলেন, উফফ... ওই ধবধবে ফর্সা পিঠ আর পিঠের ওপর ঝুলে থাকা ব্লাউজের ফিতে দেখে আমার মাথায় আগুন ধরে গেছিল। ক্লাসের বাকি দু-একজন দুষ্টু ছেলেও ইকবালের এই কথায় খিকখিক করে হেসে উঠল। রাজের রক্ত তখন মাথায় চড়ে গেছে। সে চট করে ঘুরে ইকবালের দিকে তাকিয়ে ধমকের সুরে বলল, “মুখ সামলে কথা বল ইকবাল! বেশি বাড়াবাড়ি করিস না বলছি।“
কিন্তু ইকবাল তাতে একটুও দটল না; বরং সে আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে সবার সামনে অত্যন্ত কুরুচিকর ও অশ্লীল ভাষায় রূপসাকে নিয়ে মন্তব্য করতে শুরু করল। আজকের আড্ডাটা অন্যদিনের মতো সহজ বা সরল রইল না। ক্লাসের শেষ বেঞ্চে বসা সেই বকাটে আর লাগামছাড়া ছেলেগুলো, যারা পড়াশোনায় বরাবরই পিছিয়ে থাকে এবং সবসময় আজেবাজে আড্ডায় মেতে থাকে, তারা হঠাৎ করেই মাত্রা ছাড়াতে শুরু করল। তাদের কথাবার্তার সুর পাল্টে গিয়ে এক কুৎসিত, কামুক এবং অশ্লীল রূপ নিতে শুরু করল। রাজের চোয়াল শক্ত হয়ে এল, সে বিরক্ত হয়ে অন্য দিকে তাকাতে গেল। ঠিক তখনই ইকবাল, যার চেহারা ও চালচলন বরাবরই খুব সস্তা এবং নোংরা প্রকৃতির ছিল—সে সামনের দিকে ঝুঁকে এল।
ইকবালের মুখে এক চটচটে, বিকৃত হাসি। সে তার নোংরা ভাষায় রূপসা ম্যাডামকে নিয়ে এমন সব কুরুচিকর মন্তব্য করতে শুরু করল যা কোনো শালীন পরিবেশে উচ্চারণ করা দূরের কথা, ভাবতেও ঘৃণা হয়। ইকবাল গলা নামিয়ে তার আশেপাশের বন্ধুদের উদ্দেশ্য করে বলতে শুরু করল, আর তার সেই প্রতিটা শব্দ ক্লাসের ভারী বাতাসে বিষের মতো ছড়িয়ে পড়তে লাগল।ইকবাল চোখ বড় বড় করে, জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বলে উঠল, "উফফ... তোরা কেউ খেয়াল করেছিস রূপসা ম্যাডাম যখন আজ ক্লাস থেকে বের হচ্ছিলেন? ওই ধবধবে ফর্সা পিঠটা... শাড়ির আঁচলটা একটু সরে যাওয়ার কারণে উনার ওই মোমের মতো পিঠের চামড়াটা যেভাবে দেখা যাচ্ছিল, বিশ্বাস কর, আমার দেখলেই সেক্স উঠে যায়! মানে বুকের ভেতর কেমন যেন একটা আগুন জ্বলে ওঠে!"
ইকবালের মুখে এই ধরনের নোংরা কথা শুনে রাজের টেবিলের ওপর রাখা হাতটি রাগে মুঠো পাকিয়ে গেল। সে ইকবালের দিকে রক্তিম চোখে তাকাল। কিন্তু ইকবাল তাতে আরও বেশি উৎসাহিত হয়ে পড়ল। তার কুৎসিত মুখাবয়ব আরও বিকৃত হয়ে উঠল। সে আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে এমন একটা কথা বলে বসল, যা শোনার পর রাজের কান দিয়ে যেন ভাপ বের হতে শুরু করল।
ইকবাল হাত নেড়ে, অত্যন্ত অশ্লীল ভঙ্গিতে বলতে লাগল, "আরে ধুর শুধু কী পিঠ ! সেদিন কী হয়েছিল শোন। ম্যাডাম যখন ব্ল্যাকবোর্ডে লিখছিলেন আর ক্লাস রুমের এদিক থেকে ওদিক হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন উনার শাড়ির পেট আর আঁচল বা কুঁচির মাঝখানের ওই ফাঁকা জায়গাটা দিয়ে... উফফ! ওই ফর্সা পেট আর তার ওপর দিয়ে উনার ওই ৩৬ সাইজের ফোলা দুধ দুটো যেভাবে দুলে দুলে উঠছিল না... আমার তো ওই দৃশ্য মাথা থেকে সরছেই না! বিশ্বাস করবি না তোরা, ওইদিন কলেজ থেকে বাড়ি ফিরে সোজা নিজের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়েছি। বিছানায় শুয়ে রূপসা ম্যাডামের ওই ফর্সা শরীরটার কথা ভেবে, ওই ফোলা দুধ আর কোমরটার কথা কল্পনা করে আমি সেদিন হাত মেরেছি (হ্যান্ডেল মেরেছি)! শালা, মনের সুখে ম্যাডামের কথা ভেবে মাল ফেলেছি বাড়ি গিয়ে!"
ইকবালের মুখে এই চূড়ান্ত অশালীন ও নোংরা কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে পুরো ক্লাসরুমে একটা পৈশাচিক হাসির রোল উঠল। কিছু বকাটে ছেলে ইকবালের এই কথায় সায় দিয়ে শিষ দিয়ে উঠল, কেউ কেউ আবার হাততালি দিয়ে ইকবালের সেই কল্পনার খোরাক জোগাতে লাগল। তাদের কাছে এটা একটা সস্তা বিনোদন বা টাইমপাস হতে পারে, কিন্তু যে ছেলেটির মায়ের উদ্দেশ্যে এই চরম কুরুচিকর ও যৌন আক্রমণাত্মক কথাগুলো বলা হচ্ছে, সেই রাজের মাথায় তখন রক্ত চড়ে বসেছে। এই পুরো কথার তির সোজা এসে বিঁধল রাজের বুকে।
রাজ আর এক মুহূর্তও সহ্য করতে পারল না। তার চোখের সামনে ভেসে উঠল প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ডেকে তোলা, পরম যত্নে টিফিন গুছিয়ে দেওয়া আর স্কুটির সামনে বসিয়ে কলেজে নিয়ে আসা সেই চিরচেনা রূপসার মুখখানা। নিজের মায়ের শরীর নিয়ে ক্লাসের একটা বকাটে ছেলের এমন নোংরা মানসিকতা এবং হস্তমৈথুনের মতো সস্তা শিকার বানানোর কথা শুনে রাজের সারা শরীর রাগে থরথর করে কেঁপে উঠল।যে মা তার জন্য এত যত্ন করে, যার শরীরের পবিত্রতা ও সৌন্দর্য নিয়ে রাজের নিজের মনের ভেতরেই এক অদ্ভুত, জটিল ও আবেগপ্রবণ মুগ্ধতা কাজ করে—সেই মাকে নিয়ে এমন একটা রাস্তার ছোকরার মতো ভাষা ব্যবহার করল ইকবাল?
রাজের চোখের সামনে তখন দুনিয়াটা যেন একমুহূর্তের জন্য উল্টে গেছে। সে নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। ইকবাল কী বলল? সে তার মাকে নিয়ে এমন নোংরা, অসভ্য একটা কথা সবার সামনে উচ্চারণ করল? রাজের শরীর তখন চরম উত্তেজনায় কাঁপতে শুরু করেছে। তার গাল দুটো দাউদাউ করে জ্বলে উঠল। মাথার রক্ত যেন গরম হয়ে সোজা ব্রেনে গিয়ে চড়ে বসল। লজ্জায়, অপমানে আর তীব্র আক্রোশে রাজের গলা দিয়ে কোনো শব্দ বের হচ্ছিল না। সে একদৃষ্টিতে ইকবালের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। ইকবালের মুখে তখন একটা বিকৃত জয়ের হাসি, যেন সে একটা মস্ত বড় তীর মেরেছে।
রাজ আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। ক্লাস নাইনের ওই কিশোর বয়সের সমস্ত শক্তি আর রাগ একজোট করে সে এক ঝটকায় সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। ইকবালের সামনে গিয়ে সে এমন একটা ধাক্কা মারল যে ইকবাল টাল সামলাতে না পেরে পিছনের বেঞ্চের ওপর গিয়ে পড়ল।রাজের এই হঠাৎ হিংস্র রূপ দেখে বাকি বন্ধুরা চমকে উঠে চিৎকার করে উঠল, “আরে রাজ! কী করছিস কী? শান্ত হ! ছাড় ওকে!”
কিন্তু রাজ তখন অন্ধ হয়ে গেছে। সে ইকবালের শার্টের কলার খপ করে চেপে ধরে তাকে মাটি থেকে প্রায় তুলে ফেলল। ইকবালের মুখের সেই বিকৃত হাসিটা একনিমেষে উবে গিয়ে একটা ভয়ের ছাপ ফুটিয়ে তুলল। ইকবাল ঘাবড়ে গিয়ে বলল, “কী হয়েছে রে রাজ? গায়ে হাত তুলছিস কেন? আমি তো জাস্ট এমনিই...”।“এমনিই মানে কী রে শুয়োরের বাচ্চা?” রাজের গলা কাঁপছিল, চোখের কোণ দিয়ে রাগে জল বেরিয়ে আসার উপক্রম হয়েছিল। সে দাঁতে দাঁত চেপে ফেটে পড়ল, “তোর এত বড় স্পর্ধা! তুই আমার মাকে নিয়ে এই ধরনের নোংরা কথা বলিস? তোর জিব টেনে ছিঁড়ে নেব আজ! মুখ সামলে কথা বলবি বলছি, নইলে আজ তোকে আমি এই খানেই শেষ করে দেব!”
ইকবাল কোনোমতে নিজের গলা ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে কাঁপতে কাঁপতে বলল, “ছাড়... ছাড় বলছি! আমি তো জাস্ট মজা করছিলাম...” “মজা? এটাকে মজা বলে?” রাজের হাতের খপ্পর আরও শক্ত হলো। সে ইকবালের কলার ধরে সজোরে একটা ঘুসি বসল ইকবালের চিবুকে। দুজন তখন মারামারিতে জড়িয়ে পড়েছে। বাকি বন্ধুরা ভয়ে চিৎকার করে চারদিক থেকে ছুটে এল ওদের আলাদা করার জন্য। দু’তিনজন বন্ধু মিলে কোনোমতে রাজকে টেনে দূরে সরিয়ে নিয়ে গেল। ইকবাল হাঁপাতে হাঁপাতে নিজের মুখ চেপে ধরে দূরে সরে দাঁড়িয়ে কাঁপতে লাগল।
ক্লাসরুম এ তখন চরম হুলুস্থুল কাণ্ড। রাজ হাঁপাচ্ছে, তার বুক দ্রুত ওঠানামা করছে। তার জামাকাপড় ধুলোবালি মাখা, চুলগুলো উসকোখুসকো। সে হাঁপাতে হাঁপাতে ইকবালের দিকে রক্তিম চোখে তাকিয়ে রইল। বন্ধুরা তাকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করছে, “ছাড় না রাজ, ইকবালের মাথা খারাপ, ও সবসময় ফালতু বকে, তুই অত গায়ে মাখিস না।“
কিন্তু রাজের মনের ভেতর তখন একটা বিশাল ঝড় বয়ে চলেছে। বাইরে সে ইকবালকে মেরে তার মুখের ওপর জবাব দিয়ে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু ইকবালের ওই কথাগুলো তার মনের অন্দরে একটা গভীর ক্ষত তৈরি করে দিয়েছে। মায়ের সেই ধবধবে ফর্সা শরীর, পার্লারের যত্নে গড়া নিখুঁত ত্বক, ব্লাউজের ডিপ নেক আর ফর্সা পিঠ—যেগুলো এতদিন কেবল রাজের নিজের একান্ত চোখের দেখার জিনিস ছিল, আজকে সেটাই অন্য একটা বখাটে ছেলের জঘন্য কল্পনার বস্তু হয়ে প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এই ভাবনাটা রাজকে ভেতর থেকে কুড়ে কুড়ে খেতে লাগল।

